Pages

Sunday, August 26, 2012

হুমকির মুখে বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানি



 বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রা বলছে, জনশক্তি রফতানির সবচেয়ে বড় বাজার, সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

তারা বলছেন, অনানুষ্ঠানিকভাবে সে দেশের কর্মকর্তারা বায়রার সদস্যদের জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে আপাতত আর নতুন কর্মী নেয়া হবে না।

তবে বাংলাদেশ সরকার বলছে, এরকম কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।

এখনো পঞ্চাশ হাজার নতুন কর্মীর পাঠানোর অনুরোধ রয়েছে জনশক্তি রফতানিকারকদের কাছে। কিন্তু এদের ভিসা দেয়া হচ্ছে না বলে তারা জানিয়েছেন।

প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে তিন থেকে চার লাখ কর্মী আরব আমিরাতে পাঠানো হলেও জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রা বলছে, সেখানে নতুন করে কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

দেশটির কর্মকর্তারা তাদের এমনটাই জানিয়েছেন বলে বলছেন বায়রার মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী।

“গত দুদিনে আমরা যতটুকু জেনেছি, তা হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশ থেকে আর শ্রমিক নেবে না বলে আমাদের সদস্যদের জানিয়েছে”, আলী হায়দার চৌধুরী বলেন।

“ওখানকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং দূতাবাসের মাধ্যমেও আমরা জানতে পেরেছি, তারা যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি, তবে এটা আসলে অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গেছে যে, তারা আর বাংলাদেশ থেকে লোক নেবে না। তারা নতুন ভিসা দিচ্ছে না। পাসপোর্ট এবং অন্যান্য কাগজপত্রও গ্রহণ করছে না।”

সংযুক্ত আরব আমিরাতের একেকটি রাজ্যে এখন পনের লাখের বেশি বাংলাদেশী কর্মী কাজ করছেন। বায়রা বলছে, এই কর্মীদের ভিসার নবায়নও করা হচ্ছে না।

এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, বাংলাদেশে সম্প্রতি বিপুল পরিমাণ পাসপোর্ট খোয়া যাওয়া, রোহিঙ্গা ইস্যু আর সেখানে কিছু বাংলাদেশীর বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে এই ঘটনা ঘটছে।

সৌদি আরবের বাজার সীমিত হয়ে যাবার পর আরব আমিরাত বিদেশগামী কর্মীদের একটি নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সেখানেও কর্মী নিয়োগ বন্ধ হলে তা বাংলাদেশের জন্যে অনেক বড় ক্ষতির কারণ হয়ে উঠবে বলে বলছেন বায়রার কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার ছিল সৌদি আরব। তারা এখন মোট শ্রমিক চাহিদার মাত্র ২/৩ ভাগ বাংলাদেশ থেকে নিচ্ছে, আলী হায়দার চৌধুরী বলেন।

তিনি বলেন, “এখন সবচেয়ে বড় বাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত। সেটা বন্ধ হয়ে গেলে বাংলাদেশের জন্যে বড় ক্ষতির কারণ হবে। তাহলে দেশের বাইরে শ্রমিক রফতানি অনেক কমে আসবে।”

তবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলছেন, বাংলাদেশ থেকে যে আরব আমিরাতে আর কর্মী নেয়া হবে না, এরকম কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।

তিনি বলছেন, যেকোনো দেশেই তাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে কর্মী নিয়োগের কমবেশি হতে পারে। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

“আমি এখনো এই বিষয়ে কোনো কিছু জানি না। আমাদের কাছে সরকারিভাবে কোনো খবর আসেনি”, মন্ত্রী বলেন।

তিনি বলেন, “আরব আমিরাতেরও আমাদের দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ করার কোনো কারণ নেই। তাদের সঙ্গে তো আমাদের কোনো মন কষাকষি নেই।”

মন্ত্রী বলছেন, কোনো কোনো সময়ে বিদেশে কর্মী নিয়োগ অনেক বেড়ে যায়। আবার কখনো এটা কমে আসে। তিনি মনে করেন না, এটা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার দরকার আছে।

ভিসার নবায়ন প্রসঙ্গে বায়রার মহাসচিব বলেন‚ অনেকে বলেন ভিসা নবায়ন করা হচ্ছে না। কিন্তু এদের অনেকেই সেখানে গিয়েছেন স্বল্পমেয়াদী ভিসায়। সেটা তো নবায়ন করা না করা সেই দেশের ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে সরকারিভাবে কিছু করার নেই।

তবে জনশক্তি রফতানিকারকরা বলছেন, কারণ যাই হোক না কেন, এই বাজারটি বন্ধ হয়ে গেলে তা দেশের অন্যতম প্রধান বৈদেশিক আয়ের উৎস এই খাতের জন্যে অনেক বড় সমস্যার তৈরি করবে।

তাই তারা মনে করেন সে দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশ সরকারের ব্যবস্থা নেয়া দরকার। সূত্র: বিবিসি

যশোরে লাশ নিয়ে মিছিল, আটক ১


যশোরে খুন হওয়া দুই কর্মীর লাশ নিয়ে শনিবার যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ মিছিল করেছে। হত্যাকান্ডের বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় পৃথক দু’টি মামলা হয়েছে। একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আটককৃতের নাম- বিপ্লব। তিনি শহরের ঘোপ ধানপট্টি এলাকার আব্দুল আলিমের ছেলে।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের দুই কর্মীর লাশ নিয়ে শহরে মৌন মিছিল করেন। এর আগে শুক্রবার মাঝরাতেও ছাত্রলীগ মিছিল করেছিলেন। তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি গোলাম রহমান জানান, এ ঘটনায় পৃথক মামলা হয়েছে। উপশহর পার্কে বিল্লাল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বাবা চান্দু মিয়া বাদী হয়ে শুক্রবার মাঝরাতে মামলা করেছেন। পূর্ব বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

শহরের ঘোপ ধানপট্টি এলাকার বিপ্লব, সুলাইমান ও শামীমসহ অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের মামলার আসামি করা হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে বিপ্লবকে শনিবার ভোরে তার বাড়ি থেকে আটক করেছে পুলিশ।

অপরদিকে, শহরের বিমান অফিস এলাকার জামাল হোসেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বাবা আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেছেন।

শনিবার সকালে এ মামলাটি করা হয়। এ ঘটনায় এখনো কেউ আটক হয়নি।

নীল আর্মস্ট্রং আর নেই



চাঁদের মাটিতে পা রাখা প্রথম মানুষ নীল আর্মস্ট্রং আর নেই । আমেরিকান সময় শনিবার দুপুর ২:৪৫ মিনিটে ৮২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন । তার পরিবার সদস্যরা জানিয়েছেন, কগত মাসে তার কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি করা হয়েছিল ! ধারনা করা হচ্ছে সার্জারির ধকল সইতে না পেরে তার মৃত্যু হয়েছে।

নীল আর্মস্ট্রংয়ের জন্ম  ৫, আগস্ট ১৯৩০ সালে। আর্মস্টং পড়াশোনা করেন পার্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ে, এবং পরে ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়াতে। নভোচারী হওয়ার আগে আর্মস্ট্রং মার্কিন নৌবাহিনীর বৈমানিক ছিলেন। তিনি কোরীয় যুদ্ধে অংশ নেন। এর পর তিনি ড্রাইডেন ফ্লাইট রিসার্চ সেন্টারের পরীক্ষামূলক বিমান চালক হিসাবে যোগ দেন। বিভিন্ন পরীক্ষামূলক বিমান নিয়ে তিনি ৯০০ এরও অধিক বার উড্ডয়ন করেন।

তার প্রথম মহাকাশ অভিযান হয় ১৯৬৬ সালে, জেমিনি ৮ নভোযানের চালক হিসাবে। এই অভিযানে তিনি ও ডেভিড স্কট মিলে সর্ব প্রথম দুইটি ভিন্ন নভোযানকে মহাকাশে একত্রে যুক্ত করেন।

আর্মস্ট্রংয়ের পরবর্তী ও শেষ অভিযান হয় এপোলো ১১ নভোযানের অভিযান নেতা হিসাবে। এই অভিযানে তিনি ১৯৬৯ সালের জুলাই ২০ তারিখের গ্রিনেচমান সময় ১২:৩৬ পিএম-এ চাঁদে অবতরণ করেন। প্রথম মানুষ হিসেবে চাঁদে পা রাখার সময় তিনি মন্তব্য করেন: This is a small step for (a) man, but a giant leap for mankind. অর্থাৎ, এটি একজন মানুষের জন্য ক্ষুদ্র একটি পদক্ষেপ, কিন্তু মানবজাতির জন্য এক বিশাল অগ্রযাত্রা।

চাঁদে আর্মস্ট্রং ও এডুইন অল্ড্রিন জুনিয়র অবতরণ করেন ও ২.৫ ঘণ্টা কাটান।

এপোলো ১১ এর পরে আর্মস্ট্রং আর মহাকাশ অভিযানে যাননি। তিনি ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ইউনিভার্সিটি অফ সিনসিনাটির উড্ডয়ন প্রকৌশলের অধ্যাপক হিসাবে কাজ করেন।

হায়দারাবাদ টেস্ট: ফলোঅনে নিউজিল্যান্ড



 দুই টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে হায়দারাবাদে  প্রথম ইনিংসে  ভারতের  ৪৩৮ রানের সংগ্রহের জবাব দিতে নেমে ফলোঅনে পড়েছে নিউজিল্যান্ড। কিউইদের প্রথম ইনিংস ১৫৯  রানে গুটিয়ে যাবার পর ফলোঅনে নেমে তৃতীয় দিনে দিনে এক উইকেটে  ৪১ রান জমা করেছে তারা। ভারতীয় স্পিনারররা যেভাবে দাপট দেখাচ্ছেন তাতে করে কিউই ব্যাটসম্যানরা অতি মানবীয় ইনিংস না খেললে ভারতের জয় সময়ের ব্যাপার মাত্র।

স্পিনার রবিচন্দ্র অশ্বিনের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ফলোঅনে বাধ্য হয় নিউজিল্যান্ড। অশ্বিন ৩১ রানের বিনিময়ে ছয়জন কিউই ব্যাটনসম্যানের প্রাণ সংহার করেন। দ্বিতীয় দিনে পাঁচ উইকেট হারানো নিউজিল্যান্ডের তিনজন ব্যাটসম্যানকে ৪৪ রানের মধ্যে প্রজ্ঞান ওঝা এবং অশ্বিন ফিরিয়ে দিলে স্বাগতিকরা ২৭৯ রানের লিড পায়।

আম্পায়াররা খেলা বন্ধ ঘোষণার আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪১ রান তুলতেই একজন ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে পেয়েছে সফরকারীরা। ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ১৬ এবং কেন উইলিয়ামসন তিন রানে অপরাজিত ছিলেন। চা বিরতির আগে ৪৭ মিনিট খেলা বন্ধ ছিল।

পরাজয় এড়ানোর জন্য নিউজিল্যান্ডের আরো ২৩৯ রান প্রয়োজন। ‘বৃষ্টিদেবতা’ সাহায্য না করলে সফরকারীদের পক্ষে কাজটা আপাতত অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছে। রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে শনিবার বৃষ্টির কারণে দুইবার পিচ ঢেকে রাখতে হয়েছিল। ঘণ্টাখানেক মুষলধারে বৃষ্টির কারণে মাঠের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যাওয়ায় দুপুর দুটো ছাপ্পান্ন মিনিটে ম্যাচ অফিসিয়ালরা দিনের খেলা পরিত্যক্ত করতে বাধ্য হন। দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর সময়টাতে ম্যাচ আয়োজন করার জন্য অবশ্য এখন সমালোচনার মুখে পড়েছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)।

আগের দিনের ১০৬ রান হাতে নিয়ে ব্যাট করতে নেমে অশ্বিন-ওঝা’র ঘূর্ণিবলের সামনে মাত্র ১৯.৩ ওভার টিকতে সক্ষম হন নিউজিল্যান্ডের অবশিষ্ট পাঁচ ব্যাটসম্যান।

অশ্বিনের আগের ম্যাচসেরা বোলিং ফিগার ছিল ৪৭ রানে ছয় উইকেট। এবার সেটাকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। ১৬.৩ ওভার বল করে তিনটি মেডেন ওভারসহ ৩১ রানের বিনিময়ে ছয়টি উইকেটের দেখা পান তিনি। তৃতীয়বারের মতো এক ইনিংসে পাঁচ উইকেটের দেখা পেলেন তিনি। ২১ ওভারে ছয় মেডেনসহ ৪৪ রানে তিনটি উইকেট নিয়ে অশ্বিনকে যোগ্য সহায়তা দিয়েছেন ওঝা। এদের দাপটে মধ্যাহ্নবিরতির সময়েই ফলোঅনে বাধ্য হয় নিউজিল্যান্ড। তৃতীয় দিনে প্রথম আঘাতটা অবশ্য করেছিলেন উমেশ যাদব। ক্রুগার ভ্যান উইককে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর ডাগ ব্রেসওয়েলকে ভারতীয় স্পিনার প্রজ্ঞান ওঝা ফিরিয়ে দিলে ১৪১ রানের মাথায় নিউজিল্যান্ডের সপ্তম উইকেটের পতন ঘটে।

দিনের ষোড়শ ওভারে বল হাতে পান অশ্বিন। শুক্রবারের মতোই নিজের স্পেলের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে জিতেন প্যাটেলকে দর্শক বানিয়ে দেন তিনি।  অশ্বিনকে রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে প্যাটেল সাজঘরে ফেরত আসার সময়ে আট উইকেটে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ১৫৩ রান। অশ্বিনকে সামাল দেয়া কিউই টেল অ্যান্ডারদের পক্ষে ছিল অসম্ভব। ট্রেন্ট বোল্ট এবং ক্রিস মার্টিন পরপর দু’বলে অশ্বিনের শিকারে পরিণত হলে ২৭৯ রানের ঘাটতি নিয়ে থামে নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংস।  সফরকারিদলের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কেবলমাত্র জেমস ফ্রাংকলিন কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন। ১২২ বলের মোকাবেলায় এক বাউন্ডারি এবং এক ছক্কায় ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে অনেকটাই ডিফেন্সিভ থাকেন দুই কিউই ওপেনার মার্টিন গুপটিল এবং ডাগ ব্রেসওয়েল। প্রথম ১০ ওভারে এই দুজনের ব্যাট থেকে আসে মাত্র নয় রান। দ্বাদশ ওভারে প্রথম বাউন্ডারির দেখা পায় নিউজিল্যান্ড। উমেশ যাদবকে লেগ সাইড দিয়ে সীমানা পার করেন মার্টিন গুপটিল। এরপরের ওভারে গুপটিল অনেকটাই হাত খুলে খেলতে থাকেজন। প্রজ্ঞান ওঝাকে টানা দুইবার সীমানা ছাড়া করেন তিনি। এরপর ব্যক্তিগত ১৫ রানে একবার জীবন পান গুপটিল। দ্বিতীয় স্লিপে তার ক্যাচ ধরতে ব্যর্থ হন বিরাট কোহলি।

গুপটিল অবশ্য ‘জীবন পাওয়া’টাকে খুব একটা কাজে লাগাতে পারেননি। ওঝার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে গুপটিল ফিরলে ২৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে যায়।

খারাপ আবহাওয়ার কারণে তৃতীয় দিনের খেলাও শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হয়। সকাল থেকেই পিচ ঢাকা ছিল। নির্ধারিত সময়ের এক ঘন্টা পরে খেলা শুরু হওয়ার কারণে দিনের নির্ধারিত মোট ওভার থেকে সাত ওভার কমিয়ে দেয়া হয়। তৃতীয় দিনে কমপক্ষে  ৮৩ ওভার খেলা হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ শুক্রবার সকালেও খেলা শুরু হয়েছিল ২৬ মিনিট বিলম্বে। গ্রাউন্ডসম্যানদের পিচ ঢেকে রাখতে বলা হলেও শেষ পর্যন্ত শুক্রবার বৃষ্টি হয়নি।

আবহাওয়া বিভাগ আগামী তিনদিনে বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। এরকম কিছু ঘটলে ভারতের ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নটা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

বৃটিশ ‘সান’র প্রথম পাতায় হ্যারির নগ্ন ছবি



রয়েল পরিবারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে প্রিন্স হ্যারি’র আলোচিত নগ্ন ছবিটি প্রকাশ করেছে ‘দি সান’৷ বৃটেনের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত ট্যাবলয়েড সান’এর শুক্রবারের সংস্করণের প্রথম পাতায় হ্যারির ছবি দুটি ছাপা হয়৷

বিখ্যাত মার্কিন সেলেব্রিটি ম্যাগাজিন ‘টিএমজেড' এ ছাপা হওয়া ছবি দুটি বৃটিশ পত্রিকায় না ছাপাতে বলেছিল রয়েল পরিবার৷ এর ফলে হ্যারির প্রাইভেসি লঙ্ঘিত হবে বলে মন্তব্য করেছিল রয়েল পরিবার৷

তাই বৃহস্পতিবার বৃটিশ কোনো পত্রিকায় হ্যারির ছবি প্রকাশ করা না হলেও একদিন পরই সেগুলো ছাপানোর সিদ্ধান্ত নেয় দি সান৷

এর পক্ষে যুক্তি হিসেবে সান’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড ডিনসমোর গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছেন৷ তিনি বলেন, সারা বিশ্বের পাঠক যেখানে অনলাইনের মাধ্যমে ছবিগুলো দেখছে সেখানে বৃটেনের সবচেয়ে জনপ্রিয় পত্রিকায় সেটা থাকবে না, তা হতে পারে না৷ ডিনসমোর বলেন, বৃটিশ পত্রিকাগুলোকে ছবি প্রকাশ করতে না দেয়ার বিষয়টা ‘হাস্যকর’৷

এদিকে, প্রিন্স হ্যারির নগ্ন ছবি প্রকাশ করে সান ঠিক করেছে নাকি বেঠিক, সেটা নিয়ে অন্যান্য বৃটিশ পত্রিকা পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে৷

তবে ‘দি গার্ডিয়ান’ পত্রিকা বলেছে, এর ফলে মানুষের দুটি মৌলিক অধিকার আলোচনায় এসেছে৷ এর একটা বাকস্বাধীনতা, আর অন্যটি প্রাইভেসি বা গোপনীয়তা৷

উল্লেখ্য, লাস ভেগাসের একটি হোটেলে তোলা ছবি দুটির একটিতে দেখা যাচ্ছে যে, হ্যারি তার দুই হাত দিয়ে যৌনাঙ্গ ঢেকে রেখেছেন৷ তার হাতে ঘড়ি আর গলায় নেকলেস৷ এছাড়া শরীরের আর কোথাও কিছু নেই৷ অর্থাৎ পুরো নগ্ন৷ সঙ্গে এক নগ্ন তরুণী৷ সূত্র: এএফপি।
 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম শুরু



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১২-২০১৩ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণীতে অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

শনিবার দিবাগত রাত ১২ টা ১ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসে (প্রশাসনিক ভবনের ২য় তলা কক্ষ নং-২১৪) এই ভর্তি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সৈয়দ রেজাউর রহমান, কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশিদ, বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দফতরের পরিচালক মো. আশরাফ আলী খানসহ কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভিসি আরেফিন সিদ্দিক সাংবাদিকদের বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণত মেডিকেল বা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর পর ভর্তি কার্যক্রম শুরু করে। তবে এবার ব্যত্রিক্রম হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালই প্রথম অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করলো।”

তিনি আরো বলেন, “যেকোনো ধরনের জালিয়াতি থেকে মুক্ত থাকতে এবার বারকোর্ড ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে।”

এবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ইউনিটে ছয় হাজার ২১৯ টি সিটের বিপরীতে ছয় লক্ষ একাত্তুর হাজার ২৭৮ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করার যোগ্যতা রয়েছে। ২০১১-১২ সেশনের চেয়ে এই সেশনে দ্বিগুণ শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষা অংশ নিবে বলে আশা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ বছর ‘ক’ ইউনিটের ১৫৬৩ সিটের বিপরীতে এক লক্ষ ১৭ হাজার ৩৮৫ জন, ‘খ’ ইউনিটে ২২০০ সিটের বিপরীতে এক লক্ষ ৭৫ হাজার ৬৩৩ জন, গ ইউনিটে ১০৭৫টি সিটের বিপরীতে এক লক্ষ ৫১ হাজার ৩৬৮ জন, ঘ ইউনিটে ১২৬২টি সিটের বিপরীতে তিন লক্ষ ৬৭ হাজার ১২১ জন এবং ‘চ’ ইউনিটে ১১৯টি সিটের বিপরীতে ছয় লক্ষ ৬৭ হাজার ৫০৯ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার যোগ্যতা রয়েছে।

এ ভর্তি প্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।

গত বছরের মতো এবারও ভর্তি কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করা হবে। আবেদনকারীকে আবেদনপত্রের জন্য যেকোনো ব্যাংকে ৩৫০ টাকা জমা দিতে হবে। আবেদনকারীকে অবশ্যই ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ছবি আপলোড করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, যেসব শিক্ষার্থী ২০১২ ও ২০১১ সালে উচ্চমাধ্যমিক অথবা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে কেবল তারাই ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করতে পারবে। তবে প্রাথীকে অবশ্যই ২০০৭ বা তার পরবর্তী সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

অন্যদিকে ২০১১-২০১২ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কোনো শিক্ষার্থী বিভাগ পরিবর্তনের জন্য এবারের ভর্তি-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে চাইলে তাকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান বা ইনস্টিটিউটের পরিচালকের কাছ থেকে ভর্তি-পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য লিখিত অনুমতি নিতে হবে।

অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া: আনলাইনে আবেদন করতে আবেদনকারীকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট www.admission.univdhaka.edu প্রবেশ করে ইউনিট বাছাই করতে হবে। ওয়েবেসাইটে ‘আবেদন (Apply)’ লিংকে ক্লিক করে প্রার্থীকে উচ্চমাধ্যমিকের রোল নম্বর, শিক্ষাবোর্ড ও পাসের সন দিয়ে ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার রসিদ ডাউনলোড করে প্রিন্ট করতে হবে।

ব্যংকে টাকা জমা দেয়ার রসিদের দুটি অংশের নির্দিষ্ট স্থানে সদ্যতোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি সংযুক্ত করে এবং রসিদের দুটি অংশেই স্বাক্ষর (আবেদনকারীর) করে দেশের যেকোনো স্থানে অবস্থিত সোনালী, জনতা, অগ্রণী বা রূপালী ব্যাংকের শাখায় টাকা জমা দিতে হবে।

আবেদনকারীর টাকা জমাদানের তিন কার্যদিবসের পর, টাকা জমা দেয়ার রসিদে উল্লেখিত ব্যক্তি পরিচিতি নম্বর (পিন নম্বর) ব্যবহার করে টাকা জমা দেয়ার রসিদে লাগানো ছবির অনুরূপ আরেকটি ছবি ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আপলোড করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। ছবি আপলোডের পর ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র প্রিন্ট করে নিতে হবে।

আবেদন ফরম পূরণে কোনো সমস্যার দেখা দিলে নিম্নোক্ত নম্বরে ৯৬৬৯৯৩৪ যোগাযোগ করতে হবে।

বিভিন্ন ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ - ক-ইউনিট: ১২ অক্টোবর ২০১২, খ-ইউনিট: ১৯ অক্টোবর ২০১২, গ-ইউনিট: ২৩ নভেম্বর ২০১২, ঘ-ইউনিট: ৯ নভেম্বর ২০১২, চ-ইউনিট: ১৬ নভেম্বর ২০১২।

গুঁড়ির চক্র জানিয়ে দিচ্ছে হাজার বছরের জলবায়ু




গুঁড়ির চক্র জানিয়ে দিচ্ছে হাজার বছরের জলবায়ু:
 গাছের কারণেই আমরা প্রকৃতিকে জানছি৷ প্রতিটা গাছের কাণ্ড কাটার পর গুঁড়ির ভেতর যে চক্র আছে তা দেখা যায়৷ আর এসব চক্রের ভেতরে লুকিয়ে আছে পরিবেশ ও জলবায়ুর নানা তথ্য৷ এমনকি দু’হাজার বছরের জলবায়ু সম্পর্কিত তথ্যও৷

প্রতিটা গাছ বেড়ে উঠে, গুঁড়ির চক্রই সেটার প্রমাণ৷ প্রতি বছর গাছগুলো বাড়ে আর নতুন করে একটি চক্রের সৃষ্টি হয়৷ কারণ প্রতি বছর গাছের ছাল বাড়ছে৷ আর সেই ছালগুলো এসব চক্রের সৃষ্টি করে৷ চক্রগুলো দেখে বোঝা যায় তাপমাত্রা সেবছর কেমন ছিল৷ আরো জানা যায় বৃষ্টিপাত, দাবানল কিংবা অগ্নুৎপাত সম্পর্কে৷ যেমন তাপমাত্রা বেশি হলে গাছের গুঁড়ির চক্রের সেই অংশটি শক্ত হবে৷ আবার বৃষ্টিপাত হবে যে বছর, সেই বছর গুঁড়িটি বেশি করে বাড়বে৷ তার মানে সে’বার গাছের ছালটি মোটা হবে৷

জার্মানির মাইন্স ইউনিভার্সিটির বৃক্ষ গবেষণা বিভাগের পরিচালক ইয়ান এসপার৷ অনেক দিন ধরেই তিনি গাছের এই বৃদ্ধি এবং তার ওপর পরিবেশের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করছেন৷ তিনি জানান, গুঁড়ির ভেতরের এই চক্রগুলোকে আরো ভালো করে বোঝা যায় যখন সেগুলো পাহাড়ি অঞ্চলে বাড়ে৷

ইয়ান এসপার’র কথায়, ‘‘উদাহরণস্বরূপ উঁচু পাহাড়ি এলাকায় খুব ঠাণ্ঠার মধ্যে গাছগুলো বেড়ে ওঠে৷ তাই স্বাভাবিকভাবেই গাছের গুঁড়ির ভেতরের চক্রগুলো খুব চিকন হয়ে থাকে৷ এবং এটা একটি নয়, পাহাড়ের গায়ে বৃক্ষের সারিগুলোর অনেক গাছের গুঁড়িতেই এই ধরনের প্যাটার্ন দেখা যায়৷”

গবেষকরা গাছের গুঁড়ির ভেতরের পার্থক্য নিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন ফিনল্যান্ডের উত্তরে, যেটা মূলত পাহাড়ি অঞ্চল এবং যেখানে খুব ঠাণ্ডা৷ এমনকি শীতকালে একটা গোটা নদীও সেখানে জমে যায়৷ আর সেখানকার সুবিধা হলো, কেবল জীবিত গাছ নয় মৃত গাছ নিয়েও তারা গবেষণা করতে পারছেন, জানালেন ইয়ান এসপার৷ বললেন, “ফিনল্যান্ডে অনেক লেক আছে৷ কোনো গাছ যখন সেই লেকে পড়ে যায়, তখন সেটা হাজার বছর ধরে সেখানে অবিকৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে পারে৷”

এই কারণে এসপার আর তার সহকারীরা এইখানকার গাছের ওপর গবেষণা করে গত দুই হাজার বছরের জলবায়ু সম্পর্কে তথ্য জানতে পেরেছেন৷ তাদের একজন মার্কুস কোখবেক, যিনি মাইন্স ইউনিভার্সিটির গবেষণাগারের প্রধান৷ তিনি একটি গাছের গুঁড়িকে করাত মেশিন দিয়ে কাটলেন৷ যন্ত্রচালিত এই করাতটি দেখতে পেন্সিলের মতো চোখা আর দেড় সেন্টিমিটার চওড়া৷ গুঁড়ির ভেতর থেকে কাটা টুকরোটা তিনি পরীক্ষা করছেন৷ তার আগে টুকরোটি মসৃণ করে নিলেন৷ গুঁড়ির টুকরোটির ভেতরের প্রতিটি চক্র মানে একেকটি করে বছর৷ চক্রগুলো বেশ স্পষ্ট৷ এবার টুকরোটিকে মাইক্রোস্কোপের নীচে রেখে পরীক্ষা করে দেখছেন৷ গুঁড়ির ভেতরের চক্রগুলোর যে বাঁক রয়েছে সেগুলো নানা তথ্য বহন করছে৷ যেমন যে বছরটি বেশি ঠাণ্ডা ছিল, সেই সময় গাছটি তুলনামূলকভাবে চিকন হয়ে বেড়েছে৷ এভাবে অনেকগুলো গাছের টুকরো তারা পরীক্ষা করে দেখলেন৷

এ ব্যাপারে মার্কুস কোখবেক বললেন, “এই যে বাঁকগুলো দেখা যাচ্ছে গুঁড়ির ভেতরে, এর ওপর ভিত্তি করে নানা বিষয় বোঝার চেষ্টা করা হয়৷ চিকন চক্রের ওপর নির্ভর করে এই বাঁকগুলোকে সুপারইম্পোজ করা হয়৷ এই পরীক্ষণ খালি চোখেও যেমন করা যায়, তেমনি গাণিতিকভাবেও করা হয়৷
এইভাবে গবেষকরা গত সাত হাজার বছরের জলবায়ুর একটি ধারণা পেয়েছেন৷ তবে ইয়ান এসপার আপাতত দুই হাজার বছরের ধারাণা দিতে চাচ্ছেন৷ তিনি গুঁড়ির ভেতরে চক্রগুলোর পাশাপাশি কাঠের ঘনত্বও পরীক্ষা করে দেখেছেন৷

তিনি জানান, গুঁড়ির চক্রের ঘনত্বের মাধ্যমে কাঠের ঘনত্ব মাপা যায়৷ আর কাঠের ঘনত্ব পরীক্ষা করে বোঝা যায় তাপমাত্রা কেমন ছিল৷ এভাবে দেখা যাচ্ছে যে, খ্রিস্টের জন্মের পর ২০ শতক পর্যন্ত প্রতি হাজার বছরে তাপমাত্রা ০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে৷ আর তারপর থেকেই গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমণ শুরু হয়েছে৷

গবেষক এসপর জানান, গত কয়েক হাজার বছর ধরে জলবায়ুতে উষ্ণায়নের পর শীতলীকরণ হয়ে আসছে৷ গাছের ওপর গবেষণার মাধ্যমে তারা ভবিষ্যতের জলবায়ু সম্পর্কেও ধারণা দেয়ার চেষ্টা করছেন৷ সূত্র: ডিডব্লিউ

টুইটারে ক্ষিপ্ত ভারত, ভারতে ক্ষিপ্ত টুইটার ব্যবহারকারীরা




 আসামের জাতিগত দাঙ্গা ভারতে আরেকটি বিতর্কের সৃষ্টি করেছে৷ আর সেটা হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগের সাইট ব্যবহারের স্বাধীনতা, তথা বাক স্বাধীনতা৷

আসামে জাতিগত দাঙ্গার প্রেক্ষিতে মুসলমানরা প্রতিশোধ নিতে পারে-সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন সাইটে এই ধরণের হুমকি পেয়ে ভারতের দক্ষিণের বিভিন্ন জেলায় থাকা উত্তর পূর্বাঞ্চলের নাগরিকরা ক’দিন আগে ঘরে ফেরা শুরু করে৷
ইতিমধ্যে, বেঙ্গালোর, মুম্বাইসহ বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৩৫ হাজার অভিবাসী তাদের নিজ এলাকায় ফিরে গেছে বলে জানা গেছে৷

এই অবস্থায় ভারত সরকার ফেসবুক, গুগল, ইউটিউব ও টুইটারে থাকা হুমকিমূলক বার্তাগুলো মুছে দিতে ওইসব সাইটের কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানায়৷ কিন্তু টুইটার এই আহ্বানে সাড়া না দেয়ায়, ২০টি টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার নির্দেশ দেয় সরকার৷ এছাড়া ভারতীয় সাংবাদিক থেকে শুরু করে বৃটেনের ডেইলি টেলিগ্রাফ, আল জাজিরাসহ অন্যান্য টেলিভিশন চ্যানেলের অনলাইন পোস্টিংয়ের ওপরও নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে৷

বলাবাহুল্য, টুইটার ব্যবহারকারীরা সরকারের এসব কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন৷ যুক্তরাষ্ট্রও বাক স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ না করতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে৷

এদিকে, ভারতের সাংবাদিক চন্দ্রকান্ত নাইড়ু  বলেছেন, বিভিন্ন ওয়েবসাইটে থাকা ‘আপত্তিকর’ বিষয়ের ওপর নজর রাখতে ভারত সরকার যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাহায্য চেয়েছে বলে খবর রয়েছে তার কাছে৷

ভারত টুইটারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে এমন গুজব সম্পর্কে নাইড়ু বলেন, ‘‘সরকার যদি সত্যি সত্যিই এমন সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে তো চীনের সঙ্গে একই কাতারে চলে যাবে ভারত৷”

তবে তিনি বলেন, ভারতে টুইটারের কোনো অফিস নেই৷ ফলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা কতটা সম্ভব সে ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেন ভারতীয় এই সাংবাদিক৷

নয়া দিল্লির গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের আনন্দ প্রধান বলেন, সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোর তথ্য নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন একটা কাজ৷ কেননা সেখানে প্রতি মিনিটে লক্ষ লক্ষ বার্তা পোস্ট করা হয়৷ তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণের চেয়ে কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে হবে সে ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করে তোলা যেতে পারে৷ এসব ক্ষেত্রে স্বেচ্ছা-নিয়ন্ত্রণ বিষয়টা বেশি কাজে লাগে৷সূত্র: ডিডাব্লিউ।

পেটেন্ট আইন লঙ্ঘন: স্যামসংকে ১০৫ কোটি ডলার জরিমানা

পেটেন্ট আইন লঙ্ঘন: স্যামসংকে ১০৫ কোটি ডলার জরিমানা:

 পেটেন্ট আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে স্যামসং ১০৫ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেবে অ্যাপলকে। আমেরিকার একটি আদালত শুক্রবার এই আদেশ দিয়েছে। স্যামসংয়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে এটা অ্যাপলের বড় বিজয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আদালতের বিবেচনায় জনপ্রিয় আইফোন ও আইপ্যাডের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য নকল করেছে কোরিয়ান কোম্পানি স্যামসং, যে সফটওয়্যারের পেটেন্ট অ্যাপলের নেয়া। আর এক্ষেত্রে স্যামসংয়ের যুক্তি আদালত গ্রহণ করেনি।

বিশ্বে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট কম্পিউটারের বাজারের অর্ধেকই আমেরিকা ও কোরিয়ার এই দুটি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে। আর এই দুই কোম্পানির মধ্যে রেশারশি চলছে বেশ কয়েক বছর ধরে।

অ্যাপলের অভিযোগ, তাদের আইফোন প্রায় নকল করে বাজারে স্মার্ট ফোন এনেছে স্যামসং।

এ নিয়ে তাদের আপত্তির মুখে শুক্রবারই দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত স্যামসংয়ের পক্ষে রায় দিয়ে বলেছে, কোরিয়ান কোম্পানিটি পেটেন্ট বা মেধাসত্ত্ব আইন লঙ্ঘন করেনি।

তবে একই দিন বিপরীত রায় দিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার আদালত বলল, স্যামসং মেধাসত্ত্ব আইন লঙ্ঘন করেছে।

অ্যাপল ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২৫০ কোটি ডলার দাবি করলেও তাদের সব যুক্তি আদালত গ্রহণ করেনি। ফলে আদেশ হয়েছে ১০৫ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়ার।

আদালত বলেছে, গ্যালাক্সি এস ফোর-জিসহ স্যামসংয়ের কয়েকটি হ্যান্ডসেট আপলের আইফোনের আদলে তৈরি হয়েছে এবং এর পরিচালনা পদ্ধতিও আইফোনের মতোই।

আদালতের আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করেছে অ্যাপল। তবে স্যামসং বলেছে, এটা আমেরিকার ভোক্তাদের জন্য দুঃসংবাদ বয়ে আনবে।

মোবাইল ব্যাংকিং চালু করলো এয়ারটেল

মোবাইল ব্যাংকিং চালু করলো এয়ারটেল

 আনুষ্ঠানিকভাবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করলো এয়ারটেল বাংলাদেশ লিমিটেড। ফলে এখন থেকে এয়ারটেলের সব গ্রাহক ডাচ বাংলা ব্যাংকের মোবাইল একাউন্ট খোলার মাধ্যমে ক্যাশ ইন, ক্যাশ আউট, রেমিটেন্স, টাকা পাঠানো, স্যালারি ডিসবার্সমেন্ট এবং মোবাইল টপ আপের মত সেবাও গ্রহণ করতে পারবেন।

শনিবার নগরীর কাঁচকুড়ায় উত্তরখান ইউনিয়নে অবস্থিত তথ্য সেবা কেন্দ্র (ইউ.আই.এস.সি) প্রাঙ্গণে এ সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী ঘোষণা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড: আতিউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের মাননীয় সচিব এন আই খান এবং বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. জিয়া আহমেদ পিএসসি।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডাচ বাংলা ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ কমিটি চেয়ারম্যান সায়েম আহমেদ, ম্যানেজিং ডিরেক্টর কে শামসি তাবরেজ, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এ কে এম শিরীন, এয়ারটেল বাংলাদেশ লিমিটেডের সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্রিস টবিট, সিএসও এবং হেড অফ এম-কমার্স রুবাবা দৌলা।

ইউ.আই.এস.সি সরকারের তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি বিশেষ কার্যক্রম, যেখানে তরুণ উদ্যোক্তারা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা দেন। এযাবৎ ৯০০২ জন তরুণ উদ্যোক্তা দেশজুড়ে ৪৫০১টি ইউ.আই.এস.সি-তে সেবা দিচ্ছে। এয়ারটেল নিজস্ব এজেন্ট নেটওয়ার্ক ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে অবস্থিত ইউ.আই.এস.সি-এর মাধ্যমে ডিবিবিএল মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা প্রদান করছে। আজ থেকে দেশের ৬৪টি জেলার অধিকাংশ এয়ারটেল এজেন্টদের কাছে এই সেবাটি পাওয়া যাবে।

অনুষ্ঠানে ড. আতিউর রহমান ব্যাংকিং এবং টেলিকম সহযোগীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের যারা এখনও ব্যাংকিং সেবার আওতার বাইরে মোবাইল ব্যাংকিং কর্যক্রমের মাধ্যমে তাদেরও অচিরেই এই সেবার আওতায় আনা যাবে।

এসময় ক্রিস টবিট ক্রিস টবিট বলেন, ডিবিবিএল এর সহায়তায় এয়ারটেল তার গ্রাহকদের জন্য মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধাদি নিয়ে আসতে আগ্রহী। দেশের সবচেয়ে অভিনব টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান হিসেবে এয়ারটেল মোবাইল ব্যাংকিং ছাড়াও অদূর ভবিষ্যতে আরও এমন অনেক সেবা নিয়ে আসবে যা গ্রাহকদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে যথেষ্ট সহায়তা করবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রণীত মোবাইল ফিনানসিয়াল গাইডলাইন ২০১১-এর আওতায় ডাচ বাংলা ব্যাংক তাদের নিজস্ব পলাটফর্মে এ সার্ভিসটি চালু করে। এরপর ওই বছরই ডাচ বাংলা ব্যাংকের সাথে একটি চুক্তির আলোকে এয়ারটেল তার গ্রাহকদের জন্য এ সার্ভিসটি চালু করেছে।

ফেসবুকের বিরুদ্ধে আইডিয়া চুরির অভিযোগ

 

ফেসবুকের বিরুদ্ধে আইডিয়া চুরির অভিযোগ

 

 আইডিয়া চুরির দায়ে এবার আইনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে অনলাইনে সবচেয়ে বড় সামাজিক নেটওয়ার্ক ফেসবুক। ফেসবুক’র প্রোফাইল ডিজাইন ‘টাইমলাইন’ নতুন কোনো উদ্ভাবন নয় বলে দাবি করেছে চীনের ওয়েব কোম্পানি কিউবিক নেটওয়ার্ক।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ২০০৮ সালে এই ‘টাইমলাইন’ বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করেছে তারা। আর তাই ২০১১ সালে ফেসবুক তাদের প্রোফাইল ডিজাইনে এটি যুক্ত করলেও আদতে এটা অনলাইন দুনিয়ায় ‘একেবারেই নতুন’ বলাটা নেহায়েত মিথ্যাচার। আর আইডিয়া চুরি করে এ ধরনের মিথ্যাচারের জবাবে ফেসবুকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন কিউবিক নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠাতা জিওন ওয়ানলি।

তিনি জানান, ফেসবুক’র বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য পেটেন্ট ভঙ্গের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০০৮ সালে জিওন ওয়ানলি স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘টাইমলাইন’র বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। আর ওই আলোচনায় আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই’র পেক্ষ ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ উপস্থিত ছিলেন।

ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনা শোনার পর থেকেই এই আইডিয়া নিয়ে কাজ শুরু করেন জুকারবার্গ। ২০১১ সালে ফেসবুকের বার্ষিক ডেভেলপারদের সম্মেলন এফ৮-এ টাইমলাইনের ঘোষণা দেয়া হয়।
এ সময় ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ বলেছিলেন, অনেক মানুষ প্রতিদিন তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো ফেসবুকে শেয়ার করে থাকেন যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রোফাইল পাতা থেকে আড়ালে চলে যায়। সারা বছর কাজ করে ফেসবুক এই নতুন টাইমলাইন চালু করেছে যাকে তারা বলছে নিজের জীবনের গল্প বলার একটি সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতি আর এই ‘সম্পূর্ণ নতুন’ কথাটি নিয়ে সবচেয়ে বড় আপত্তি চীনা প্রতিষ্ঠান কিউবিক নেটওয়ার্কের।

৫০ বছর পর ফেসবুকে মা-মেয়ের পুনর্মিলন

৫০ বছর পর ফেসবুকে মা-মেয়ের পুনর্মিলন:

  সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ফেসবুকের মাধ্যমে দীর্ঘ ৫০ বছর পর পুনর্মিলন ঘটল মা-মেয়ের। স্টেফানি ফিলিপস তার মা জোয়ান ওয়েহরমেয়ারকে খুঁজে পান ফেসবুকে। ১৯৬০ এর দশকে মায়ের সঙ্গে শেষবার দেখা হয়েছিল স্টেফানির। তখন তিনি শিশু ছিলেন। স্টেফানির বয়স এখন ৪৮ বছর। আর তার মা জোয়ানের বয়স ৬৭ বছর।

আমেরিকার পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ওয়েনেসবার্গে বসবাস করেন স্টেফানি। মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎকে তিনি স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো অনুভূতি হিসেবে বর্ণনা করেন।

একটি শীর্ষস্থানীয় একটি সংবাদপত্রকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টেফানি বলেন, “যখন আমি বড় হচ্ছিলাম, তখন কোনো প্রশ্ন করার অধিকার ছিল না আমার।”

স্টেফানি কয়েক বছর তার স্বামী রডনিকে সঙ্গে নিয়ে মাকে খুঁজে বেড়িয়েছেন। কিন্তু আশার কোনো আলো তারা দেখতে পাননি। একের পর এক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তা সত্ত্বেও হাল ছাড়েননি। রডনি তার মরিয়া স্ত্রী স্টেফানিকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যেভাবেই হোক তার মাকে খুঁজে বের করবেন।

অবশেষে একদিন একটি সুযোগ এলো। মায়ের ডাকনাম জানতেন না স্টেফানি। এক প্রবীণ আত্মীয়াকে পরিচর্যার সময় তার মায়ের ডাকনাম, বয়স ও ঠিকানা জানতে পারলেন। তারপরই বসে পড়লেন ফেসবুকে।

সৌভাগ্যক্রমে মা জোয়ান ফেসবুকে কোরচেন ডাকনামটি দিয়েই অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত স্বামী রডনি ফেসবুকে তার স্ত্রীর মায়ের নাম খুঁজে পেলেন। ফেসবুকে কয়েকটি মেসেজ পাঠানোর পর ১৮ই জুন স্টেফানি তার মায়ের কাছ থেকে উত্তর পেলেন। এভাবেই দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতাব্দী পর পুনর্মিলিত হলেন মা-মেয়ে। তারা গত মঙ্গলবার ডিরফিল্ড বিচের টু জর্জেস রেস্টুরেন্টে মিলিত হন। ফেসবুকে মিলিত হওয়ার এক মাস পর পুনর্মিলিত হলেন মা-মেয়ে।

জোয়ান বিয়ে করেছিলেন রিচার্ড বোটউইনকে। কিন্তু এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। স্টেফানিকে তার পিতার কাছে রেখে সংসার ছাড়েন জোয়ান। তিনি বলেন, এছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা ছিল না তার সামনে। স্টেফানি তার পিতার সঙ্গে নিউ জার্সিতে বসবাস করতে শুরু করেন। আর তার মা জোয়ান চলে যান দক্ষিণ ফ্লোরিডায়। সেখানেই আবার বিয়ে করেন। ওই সংসারে একটি সন্তানের মা হন তিনি ও আরেকটি সন্তান দত্তক নেন। বর্তমানে তিনি থাকেন কোরাল স্প্রিং এলাকায়। সূত্র: ওয়েবসাইট

 

মস্তিষ্কের তথ্য কথা জোগাতে পারে বোবাকেও

মস্তিষ্কের তথ্য কথা জোগাতে পারে বোবাকেও:

 লু গেরিগ রোগের কারণে স্টিফেন হকিংকে ‘কথা’ বলতে হয় লিখে। তার ঠোঁট ও চোখের সামান্য নড়াচড়া থেকেই তার ভাবনাকে লেখায় রূপান্তরিত করে দেয় এক বিশেষ যন্ত্র। আরও এক ধাপ এগিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার একদল বিজ্ঞানী এবার কথা জোগাতে চান মূক ব্যক্তির মুখেও। এবং সেই লক্ষ্যে তারা বেশ খানিকটা এগিয়েছেন। কথা বলতে গেলে মস্তিষ্কে কী কী পরিবর্তন হয়, তা জানতে পেরেছেন বলে সম্প্রতি দাবি করেছেন ওই গবেষকরা। এখন তাদের লক্ষ্য হল সেই পরিবর্তনকে শব্দে পরিণত করা। অর্থাৎ মস্তিষ্কের ওই তথ্যই এবার উল্টো পথে কাজে লাগাতে চান তারা।


গবেষক দলটির অন্যতম সদস্য ইঝাক ফ্রায়েডের বক্তব্য, “এই রূপান্তর ঘটানো সম্ভব হলে পক্ষাঘাতে বোবা হয়ে পড়া ব্যক্তিকেও কথা বলতে সাহায্য করবে, এমন একটা যন্ত্র তৈরি করা খুব সহজ হয়ে যাবে।” ইঝাকদের এই গবেষণা ‘নেচার কমিউনিকেশন’ নামে বিজ্ঞান পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
ওই বিজ্ঞানীরা ১১ জন মৃগী রোগীর মস্তিষ্কে ইলেকট্রোড লাগিয়ে কথা বলার সময়ে তার বিভিন্ন অংশ কিভাবে কাজ করে, সেই তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। তা বিশ্লেষণ করে ইঝাকরা দেখতে পান, শব্দ উচ্চারণের সময়ে মস্তিষ্কের দু’টি অংশে কিছু পরিবর্তন হয়। ফ্রন্টাল লোবের সুপিরিয়র টেম্পোরাল জাইরাস এবং মিডিয়াল ফ্রন্টাল লোবের একটি অংশ। মানুষ যা শোনে তা মনে রাখার কাজ করে থাকে দ্বিতীয় অংশটি। মস্তিষ্কের এই দুই অঞ্চলের আলোড়ন তথা পরিবর্তনগুলিকেই শব্দে রূপান্তরিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন ইঝাকরা। এটা সম্ভব হলে পরের ধাপ হবে ছোট একটি যন্ত্র তৈরি করা, যা মস্তিষ্কের কোষগুলির (নিউরোন) পরিবর্তনের সঙ্গে তাল রেখে শব্দ তৈরি করবে। ভবিষ্যতের সেই যন্ত্রটিকে মস্তিষ্কের সংশ্লিষ্ট অংশের সঙ্গে জুড়ে দিলেই ‘কথা’ বলে উঠবেন সেই সব মানুষেরা, কোনো রকম অসুখবিসুখে যারা সেই ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলেন।

তখন নিজের কানেই শোনা যাবে স্টিফেন হকিংদের মনের কথা!সূত্র: ওরেবসাইট।

মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগে অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের শাস্তি

মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগে অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের শাস্তি:
মোবাইল তৈরিতে একে অপরের প্যাটেন্ট নকল করার দায়ে ইলেক্ট্রনিকস সামগ্রী নির্মাণ প্রতিষ্ঠান অ্যাপেলের দু’টি এবং স্যামসাংয়ের একটি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত। আদালতের এই রায়ের ফলে দেশটিতে উভয় প্রতিষ্ঠান তাদের বেশ কিছু পণ্য বিক্রি করতে পারবেনা। আদালতের ভাষ্যমতে, আমেরিকা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অ্যাপেল স্যামসাংয়ের দু’টি প্যাটেন্ট (প্রযুক্তিগত ও বাহ্যিক নমুনা) নকল করেছে। অপর দিকে স্যামসাং অ্যাপেলের একটি প্যাটেন্ট নকল করে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছে অ্যাপেলের মোবাইল সেট আইফোন ৩জিএস ও আইফোন৪। এই দু’টি ফরমেটের টেবলেট আইপেড ও আইপেড২ও নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। অন্যদিকে স্যামসাংয়ের মোবাইল ফোন গ্যালাক্সি এস১ ও এস২ এবং এর টেবলেট গ্যালাক্সি টেব ১০.১ পিসি। এ ধরণের দুর্নীতির জন্য আদালত অ্যাপেলকে স্যামসাংয়ের কাছে ৪০ মিলিয়ন সাউথ কোরিয়ান উন বা ৩৫ হাজার আমেরিকান ডলার এবং স্যামসাংকে ২৫ মিলিয়ন উন জরিমান দেয়ার আদেশ দেয়।

ডেভিড বেকহামের প্রেম নিয়ে টুইটারে আলোড়ন

ডেভিড বেকহামের প্রেম নিয়ে টুইটারে আলোড়ন:
গত কয়েকদিন ধরে সেলিব্রেটি ফুটবল খেলোয়াড় ডেভিড বেকহামকে নিয়ে টুইটারে একটি বার্তা তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করে চলেছে। বার্তাটা হলো- ওয়েলসের ৩২ বছর বয়সী ক্লাসিকাল সঙ্গীত শিল্পী ক্যাথরিন জেনকিনস্ এর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন বেকহাম এবং এর জের ধরে বেকহাম তার স্ত্রী স্পাইস গার্ল খ্যাত ভিক্টোরিয়াকে ত্যাগ করেছেন। সেলিব্রেটিদের নিয়ে মিডিয়া স্পেকুলেশন বা রিউমার কতটা মহামারি আকার ধারণ করতে পারে বিষয়টা হয়তো বেকহাম জানেন। তাইতো মুখ সেঁটে নিশ্চিন্তে বসে আছেন তিনি। কিন্তু মুখ খুলেছেন ক্যাথরিন। টুইটারে জানালেন, ডিয়ার ফ্রেন্ডস্ আমি আপনাদের অবগতির জন্যে জানাতে চাই ডেভিড বেকহামের সঙ্গে আমার কোনোরকমের প্রেমের সম্পর্ক নেই। এ ধরনের অসত্য গুজবে আমি খুবই আহত হয়েছি এবং আইনজীবীর পরামর্শে খুব শিগগিরিই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। টুইটারে ক্যাথরিন আরো জানিয়ে দিলেন বেকহামের সঙ্গে তিনি দুইবার সাক্ষাত করেছেন কিন্তু সেটা একাকী নয়। একবার ২০১০ সালের মিলিটারি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্টানে ও আরেকবার ২০১২ সালে ওয়েস্ট এন্ডের নাইট আউটে। অন্যান্য সাধারণ ভক্তদের মতোই ছিল সেই সাক্ষাত। বেকহামের তার স্ত্রী ভিক্টোরিয়াকে ছেড়ে যাওয়ার কথাও রিউমার বলে উড়িয়ে দিলেন ক্যাথরিন। অভিযোগ ওঠে গত ফেব্রুয়ারিতে বেকহাম যে কালবের হয়ে বর্তমানে খেলছেন সেখানের এক পার্টিতে ক্যাথরিন হাজির হন। প্রিন্স হ্যারিও সেই পার্টিতে কিছুক্ষণ থেকে চলে আসেন। সেখানে এই দুই সেলিব্রেটি একান্তে সময় কাটিয়েছেন। তবে পার্টি শেষে দুজনকে আলাদাভাবে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। ক্যাথরিন তার ও বেকহামকে নিয়ে সব গুজব অস্বীকার করেন এবং জানান তার ছেলে বন্ধু আছে। ডান্সার ডেরেক হগের সঙ্গে তিনি ডেটিং করছেন। সূত্র: হিন্ধুস্তান টাইমস্।

বিয়ে করছেন কোয়েল মল্লিক

বিয়ে করছেন কোয়েল মল্লিক:
কোয়েল মল্লিক বিয়ে করতে যাচ্ছেন। ডাকসাইটে অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিককে কে না চেনেন! আবার রঞ্জিত কন্যা টালিউড হার্টথ্রব অভিনেত্রী কোয়েলকে চেনেন না এমন বাঙালিও খুব কমই আছেন। সুন্দরীদের নিয়ে সাধারণত যেটা হয়, তাদের বিয়ের চিন্তাতে পাড়া পড়শির ঘুম আসেনা, কনে কিংবা কনের অভিভাবক যাকেই পান তাদের কান ঝালাপালা করে ফেলেন। নইলে যে আইবুড়ো হয়ে যাবে মেয়ে! বাবা মায়ের যেহেতু সুন্দরী মেয়েদের নিয়ে কোনো চিন্তা নেই তখন পাড়া-পড়শিই ভরসা। কিন্তু পাড়া-পড়শিকে পাত্র ঠিক করার সুযোগ দিলেন না কোয়েল। কোয়েল নিজেই পাত্র রেডি করে ফেলেছেন। পাত্র অবাঙালি প্রযোজক নিসপাল রানে। অসম্ভব হ্যান্ডসাম চেহারার স্মার্ট একজন ছেলে নিসপাল। ধনী তো বটেই। কোয়েল-নিসপালের মধ্যে মন দেয়ানেয়ার সম্পর্ক চাওর হয়েছে মাত্র কিছুদিন আগে। অথচ এই লাভবার্ড গত পাঁচ বছর ধরে প্রেম করে আসছেন। এই ডিজিটাল যুগে একজন সেলিব্রেটি হয়েও অসাধারণ সাফল্যের সঙ্গে কোয়েল ও নিসপাল নিজেদের প্রেম আড়াল করতে সক্ষম হয়েছেন। সিনে-ইন্ডাস্ট্রিতে এই জুটিকে নিয়ে কোনোরকম রিউমার ছড়ানোর সুযোগ করে দেননি তারা দুজনেই। ব্রাভো! সাম্প্রতিক সময়ে কোয়েল মিডিয়ায় নিজের বিয়ের বিষয় নিয়ে টুকটাক কথা বলছেন। সিনেমায় নয় বাস্তব জীবনে খুব শিগগিরই তাকে কনের বেশে দেখা যাবে সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন। মজা করে বলেছিলেন আগামী বছরের জানুয়ারি হতে পারে বিয়ের মোক্ষম সময়। কিন্তু মজাটাকেই এখন সত্যি বলে ধারণা করছেন সবাই। কারণ কোয়েল ইতোমধ্যে বিয়ের কেনাকাটা শুরু করে দিয়েছেন। দুজন দুজনকে সময় দিচ্ছেন। কখনো বা নিসপালের বিএমডব্লিউ কিংবা নিজের মার্সিডিজে করে লং ড্রাইভে বেড়িয়ে পড়ছেন কোয়েল। এসব নিয়ে এখন একদমই লুকোচুরি করছেন না। অতএব সানাই বাজতে আর দেরি নেই। অভিনন্দন হবু এই দম্পতিকে। সূত্র: ওয়েবসাইট

‘আমি ঢাকার ভানু’

‘আমি ঢাকার ভানু’
ঢাকা থেকে কলকাতায় চলে এসে বদলেই গেল দেশ অন্ত প্রাণ এক ‘সাম্যময়’ ছেলের জীবন। পরবর্তীতে ‘বাঙাল’ ভাষাকে নিজের শিল্প-জীবন দিয়ে খ্যাতির অসীম উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। হাস্যকৌতুক শিল্পে নতুন এক ঘরানার জন্মও হয়েছিল তার হাত ধরে। মঞ্চ-চলচ্চিত্র-শ্রুতিনাট্য- স্বরক্ষেপণই জানিয়ে দিত তার উজ্জ্বল উপস্থিতি। আজ ২৬ আগস্ট তার জন্মদিন। শিল্পী ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা। বাঙালি নাকি ‘স্ত্রী লিঙ্গ’! তা হলে শব্দটির লিঙ্গান্তর করলে কী হবে? কেন ‘বাঙাল’! ‘জনপ্রিয়’ এই ব্যাখ্যাটি বঙ্গ জীবনে হাস্যরসের মোড়কে যিনি পেশ করেছিলেন তার নাম সাম্যময় বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু কী বাঙালি-বাঙাল! ‘মাসীমা মালপো খামু’, ‘টিনের বাক্সে বারো টাকা’, ‘নাগো মিনু আমাগো থার্মোমিটারও নাই, বার্নলও নাই’, ‘দ্রিমু য্রখন ত্রখন স্রব ত্রাইতেই দ্রিমু’... এমন হাজারো সংলাপ বাঙালির মুখে মুখে ফিরত তখন! ফিরত কেন, এখনও তো নানা হাস্য-আলোচনায় ঘুরে ফিরে আসে এই সব সংলাপ। ভাবছেন, এ সবের স্রষ্টা হিসেবে খ্যাত মানুষটির নাম তো ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়! ঠিকই, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোশাকি নাম ছিল সাম্যময়। তার পরিবার কমিউনিজমে বিশ্বাসী ছিল। তাই, মাতামহ যোগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের দেওয়া ‘সাম্যময়’ নাম নিয়ে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘রসিকতা’ ছিল— that I am communist, I bear it in my name. বাংলাদেশের বিক্রমপুরে ১৯২০ সালের ২৬ অগস্ট ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম। অনেক প্রথিতযশা ব্যক্তির জন্ম হয়েছিল এই জেলায়। তার বাবা ছিলেন জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, মা সুনীতি বন্দ্যোপাধ্যায়। ভানুবাবুর প্রাথমিক শিক্ষা পোগোস বিদ্যালয়ে, পরের ধাপগুলিতে জর্জস হাইস্কুল, জগন্নাথ কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ছোটবেলা থেকেই কৌতুক ছিল তার অত্যন্ত প্রিয় বিষয়। আর সে কারণেই বাংলা মঞ্চ-চলচ্চিত্র-শ্রুতিনাট্যে হাস্যকৌতুকের সংজ্ঞাটাই পাল্টে দিতে পেরেছিলেন তিনি। অভিনয় জীবনে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু কৌতুকশিল্পী ছিলেন এমন নয়, ‘সিরিয়াস’ অভিনয়েও তিনি ছিলেন অনবদ্য। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কলকাতায় কাটালেও নিজেকে ঢাকার ‘পোলা’ হিসেবে পরিচয় দিতে তিনি গর্ব বোধ করতেন। দেশপ্রেমী বাবা জিতেন্দ্রনাথ ছিলেন ঢাকার নবাব এস্টেটের সদর মোক্তার ও মা সুনীতিদেবী ব্রিটিশ সরকারের শিক্ষা দফতরে কাজ করতেন। বাবা-মা সরকারি কর্মচারী ছিলেন বলে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধাচরণ নিষেধ ছিল বাড়িতে। তা সত্ত্বেও ১২ বছরের ভানু লুকিয়ে স্বদেশি আন্দোলনে যোগ দিলেন। ম্যাট্রিক পাশ করার পরে জগন্নাথ কলেজ থেকে ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে আইএ পাশ করার পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএ পড়েন তিনি। বুদ্ধিমান এই ছাত্রটিকে সব অধ্যাপকেরা ভালোবাসতেন। মোহিতলাল মজুমদার, ড. শহীদুল্লাহ ও আচার্য সত্যেন্দ্রনাথ বসুর স্নেহধন্য ছিলেন তিনি। নিজের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বেশির ভাগ সময়ে ভানুবাবু সত্যেন্দ্রনাথ বসুর ক্লাসে গিয়ে পড়া শুনতেন। ১৯৪০ সালে যখন বেশির ভাগ অনুশীলন সঙ্ঘের বিপ্লবীরা আরএসপি নামে বামপন্থী দল গঠন করলেন তখন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই দলের সঙ্গে যুক্ত হলেন। তিরিশের দশকের শেষের দিকে ছাত্রনেতা ভানু আন্দামান থেকে রাজনৈতিক বন্দিদের ফিরিয়ে আনা এবং তাদের মুক্তি আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করলেন। বিপ্লবী দীনেশ গুপ্তের সহচর ও স্বদেশি আন্দোলনে যুক্ত থাকায় রাজরোষে পড়ে ঢাকা ছাড়তে বাধ্য হলেন ভানু। বিয়াল্লিশের ভারত ছাড়ো আন্দোলনেও তিনি ছিলেন সক্রিয়। দীনেশ গুপ্ত ছাড়াও তিনি বিনয় বসু, কেদারেশ্বর সেনগুপ্ত, রমেশ আচার্যের সংস্পর্শে আসেন। ১৯৪৬-এ বিপ্লবী অনন্ত সিংহের সান্নিধ্যে এসে তার আদর্শ ও চিন্তাধারায় গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। ঢাকা থেকে ‘পালিয়ে’ দেশভাগের অনেক আগেই ঢাকা থেকে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় চলে এলেন। তখন ১৯৪১ সাল। এসেই কর্মজীবনে ঢুকে পড়লেন, অফিসের নাম-আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানি। ঢাকা থেকে কলকাতায় এসে প্রথম দু’ বছর তিনি অশ্বিনী দত্ত রোডে দিদির বাড়ি থাকলেও, পরে টালিগঞ্জের ৪২ নম্বর চারু অ্যাভিনিউতে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত পাকাপাকি ভাবে বসবাস। দিদির বাড়ি থাকাকালীন একটি ঘটনা ঘটে। তার ভগ্নিপতি শ্রীবাদল গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন অত্যন্ত রাশভারী ও মেজাজি মানুষ। দিদির বাড়িতে নিয়ম খাওয়ার টেবলে সবাইকে একটি নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত থাকতে হবে। প্রায় দিনই ভানুবাবুর সময়ের এ দিক ও দিক হয়ে যেত। এক দিন এত দেরি হয়ে গেল যে, এসে দেখলেন, বাড়ির আবহাওয়া থমথমে। সবাই খেয়েছে কি না জানতে চাইলে কোনও উত্তর পাওয়া গেল না। দেখা গেল রান্নাঘরে শেকল তোলা। খবর নিয়ে জানতে পারলেন, আড্ডা থেকে ফিরতে দেরি করায় সকলের খাওয়া বন্ধ করে শেকল তুলে দিতে বলেছেন গৃহকর্তা। এই কথা শুনে তিনি চুপিচুপি শেকল খুলে খাওয়াদাওয়া সেরে আবার আড্ডায় বেরিয়ে পড়লেন। এই কথা জানাজানি হওয়ার পর ভগ্নিপতি তো হতাশ! যার জন্য আদেশ দিয়েছিলেন সে বাদে বাকি সবাই শাস্তি পেল! বিয়ে ও মুখোমুখি ক্যামেরা ১৯৪৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সঙ্গীতশিল্পী নীলিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিয়ে হয়। ‘সর্বহারা’ চলচ্চিত্রে ভানুবাবু অভিনয় করেছিলেন আর ওই একই ছবিতে গান গেয়েছিলেন নীলিমাদেবী। বন্দ্যোপাধ্যায় দম্পতির অভিনয়-সঙ্গীতের এমন ‘যুগলবন্দি’ সেই প্রথম। শুধু কী তাই, স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে যে ছবিটি প্রথম দেখেছিলেন তার নামও ‘সর্বহারা’। বিয়ের ঠিক তিন দিন পর ২৬ ফেব্রুয়ারি চলচ্চিত্রের শ্যুটিং-এ প্রথম বার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন ভানু। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৪৭-এ মুক্তি পাওয়া ‘জাগরণ’ চলচ্চিত্র দিয়ে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিনয় জীবনের শুরু। এ ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনা করেন সুধীরলাল চক্রবর্তী। আর ভানুবাবু অভিনয় করেছিলেন দুর্ভিক্ষপীড়িতের চরিত্রে। পরে অভিনয়ের কারণেই চাকরি জীবন থেকে নিজেকে ‘মুক্ত’ করেছিলেন ভানু। সেই বছরই ‘অভিযোগ’ নামে অন্য একটি ছবি মুক্তি পায়। এর পর ছবির সংখ্যা বাড়তে থাকে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘মন্ত্রমুগ্ধ’ (১৯৪৯), ‘বরযাত্রী’ (১৯৫১), ‘পাশের বাড়ি’ (১৯৫২) ইত্যাদি। ১৯৫৩ সালে মুক্তি পেল ‘সাড়ে চুয়াত্তর’। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়কে তার অভিনয় গুণের কারণে চিনে ফেলল আপামর বাঙালি। এ ছবিরই সেই বিখ্যাত সংলাপ- মাসীমা মালপো খামু। পরের বছর মুক্তি পায় ‘ওরা থাকে ওধারে’- ঘটি-বাঙালের চিরন্তন ‘ঠেস’ নিয়ে এই ছবি এবং সেখানে ভানুর অভিনয় চিরস্মরণীয়। অভিনেতার নামে চলচ্চিত্র ও চরিত্রের নাম বাংলা চলচ্চিত্র-ইতিহাসে বোধহয় ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলিতেই রয়েছে- ‘ভানু পেল লটারি’ ও ‘ভানু গোয়েন্দা জহর অ্যাসিসট্যান্ট’। রেকর্ড থেকে মঞ্চ ১৯৪৩-এ ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম গ্রামোফোন রেকর্ড-এ কৌতুক নকশা বের হয়। নাম ছিল ‘ঢাকার গাড়োয়ান’। শোনা যায়, এই শ্রুতিনাট্যের প্রেরণা তিনি ঢাকার গাড়োয়ানদের কাছ থেকেই পেয়েছিলেন। তার বিখ্যাত শ্রুতি নাটকের সংখ্যা অনেক- যেখানে বাঙাল ভাষাকে ব্যবহার করে হাস্যরসের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন। তেমনই সংলাপ- ভানু: আমি ত বাঙাল। আপনে কি? চরিত্র: আমি আবার কি? বাঙালি। ভানু: তাইলে কি খাড়াইল? চরিত্র: কি আবার খাড়াইল? ভানু: কথাডারে ব্যাকরণে ফেলান। আমি হইলাম বাঙাল আর আপনে হইলেন বাঙালি। তার মানে আমি হইলাম পুং লিঙ্গ আর আপনে হইলেন স্ত্রী লিঙ্গ। মঞ্চ নাটকেও তিনি ছিলেন সফল অভিনেতা। সহজ জীবনের স্বাভাবিক হাস্যরসটুকু নিখুঁত, নিপাটভাবে তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন আমজনতার মধ্যে। এই নিখাদ হাসির ক্যানভাসে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় অনন্য। তার উল্লেখযোগ্য নাটক-‘মন্ত্রশক্তি’, ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’, ‘লালদিঘির দিনরাত্রি’, ‘শ্যামলী’ ইত্যাদি। ‘রণবীর’ নামের একটি নাটকে তিনি প্রথম অভিনয় করেন। তখন ভানু ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। অপেশাদার হিসেবে পাড়াতে অভিনয় করেছিলেন ‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটকে, ‘চাণক্য’ চরিত্রে। এ নাটকে ‘চন্দ্রগুপ্ত’ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সাহিত্যিক হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়। ১৯৪৮ সালে ‘উত্তরসাথী’ ব্যানারে ‘নতুন ইহুদি’ নাটক মঞ্চস্থ হয়। নাটকটি প্রথম অভিনয় হয়েছিল ‘কালিকা’ হলে। অভিনয়ে ছিলেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়, সুশীল মজুমদার, বাণী গঙ্গোপাধ্যায়, কানু বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। তবে পেশাগত ভাবে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম নাটক ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’- ১৯৫০-এ। ১৯৭০-এ সুনীল নাট্য সংস্থা কিনে নিয়ে ‘সুনীল নাট্য কোম্পানি’ প্রতিষ্ঠা করেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৭৪-এ আরও একটি যাত্রা দল গঠন করেন-‘মুক্তমঞ্চ’। এই দল নিয়েই গ্রামে গঞ্জের মাঠে মাঠে যাত্রা করে বেড়াতেন। ১৯৭৮ পর্যন্ত এই দুই দল নিয়ে ‘গোপাল ভাঁড়’, ‘বৈকুন্ঠের উইল’, ‘যমালয়ে জীবন্ত মানুষ’, ‘ভৈরব মন্ত্র’, ‘শ্রীযুক্ত আলিবাবা’ ইত্যাদি পালায় মাতিয়ে তুলেছিলেন গ্রামবাংলা, রাতের পর রাত। ‘রঙ্গনা’য় ১৯৮০ সালে ‘জয় মা কালী বোর্ডিং’-এ অভিনয় করেন। পরে রঙমহলেও নাটকটি হয়েছিল। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ চলচ্চিত্র ‘শোরগোল’। ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৮৪ সালে। এর কিছু দিন আগেই, ৪ মার্চ, ১৯৮৩- উনি প্রয়াত হয়েছিলেন। আজীবন আপামর বাঙালিকে হাসিয়ে নিজের শেষযাত্রায় উনি সবাইকে কাঁদিয়ে চিরবিদায় নিলেন। ব্যক্তি জীবনে খুবই গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ ছিলেন, যদিও রসবোধ ছিল ষোলআনা। সে জন্যই হয়তো মানুষকে আনন্দ দেয়ার একটা সহজাত প্রতিভা তার ছিল। তবে বাঙালি যত দিন থাকবে, বাংলা চলচ্চিত্রের গগনে এই ভানু যে থাকবেন স্বমহিমায় তাতে কোনো সন্দেহ নেই! শিল্পী ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় ৩০০-র মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: • যমালয়ে জীবন্ত মানুষ • পার্সোনাল অ্যাসিস্টেন্ট • মৃতের মর্ত্যে আগমন • ৮০-তে আসিও না • মিস প্রিয়ংবদা • ভানু গোয়েন্দা জহর অ্যাসিন্ট্যান্ট • ওরা থাকে ওধারে • লেডিস সীট • ভানু পেল লটারি • নির্দিষ্ট শিল্পীর অনুপস্থিতিতে প্রকাশিত বই: রসরচনা ‘চাটনি’, ১৯৫৫।

তারা সবাই ফ্যাটি সেলিব্রেটি

তারা সবাই ফ্যাটি সেলিব্রেটি:
আন্তর্জাতিক পরিধিতে নিজেদের সেলিব্রেটিতে পরিণত করেছেন এমন অনেকেই ছিলেন দুর্দান্ত মোটাতাজা গড়নের। অনেকে এখনো তেমনই মোটাতাজা আছেন মাশাল্লাহ। কর্মক্ষেত্রে তাদের এই স্ট্যাটাস থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। যাইহোক আজ আমরা এমন কয়েকজনকে আপনাদের সামনে হাজির করবো যারা কঠোর অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে ফ্যাটি ইমেজ থেকে বের হয়ে এসেছেন, এখন তাদের অসাধারণ শরীরি কাঠামো দেখে কারো কল্পনাতেও আসবেনা যে কষ্মিনকালে তাদের গোলগাল আলুমার্কা চেহারা ছিল। অপরাহ্ উইনফ্রে: কিংবদন্তী টক শো’ উপস্থাপিকা অপরাহ্ উইনফ্রে। তিনি বিশ্বের ১০ জন ধনী ব্যক্তির একজন সেইসঙ্গে ফোর্বসের জরিপে ১১ তম ক্ষমতাবান নারী। বর্ণবৈষম্যের দেশে তিনি নিজেকে কোথায় থেকে কোথায় নিয়ে গেছেন। সেটা কিন্তু মোটেও চেহারার গুণে নয়। নান্দনিক অথবা গ্যামারাস বলতে যা বোঝায় তার কোনোটাই মেদবহুল অপরাহ্র নেই। অথচ পৃথিবীর আনাচে কানাচে সর্বত্র পরিচিত এক মুখ অপরাহ্ উইনফ্রে। কুইন লতিফা: আমেরিকান পপসিঙ্গার, মডেল ও অভিনেত্রী কুইন লতিফা। মেদবহুল শরীর নিয়েও স্টেডিয়াম পরিপূর্ণ দর্শক-শ্রোতাদের সামনে জাঁকিয়ে স্টেজ পারফর্মেন্স করেন তিনি। গোল্ডেন গ্লোব ও গ্র্যামী অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী কুইন লতিফা। ক্রমাগত বাড়ন্ত ওজন নিয়ে লতিফার কোনো মাথা ব্যথা নেই। ওজন অথবা চেহারায় কি এসে যায়! মস্তিষ্ক ঠিক থাকাটাই জরুরি। কুইন লতিফার ক্ষেত্রে কথাটা সত্যিই খাটে। সোনাক্ষী সিনহা: অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ শত্রুঘ্ন সিনহার ২৫ বছর বয়সী কন্যা সোনাক্ষী সিনহা। জাঙ্ক ফুড ছিল সোনাক্ষীর প্রধান খাদ্যাভ্যাস। আর এরই ফলে সোনাক্ষী হয়ে উঠেছিলেন ছোটখাট মনস্টার। সালমান খান ২০১০ সালে তার ছবি দাবাংয়ে সোনাক্ষীকে কাস্ট করেন। কিন্তু শর্ত জুরে দেন ওজন কমাতে হবে। ফলে ওজনের সঙ্গে উঠে পড়ে লেগে মোট ৩০ কে.জি কমিয়ে ছবিতে অভিনয় করেন সোনাক্ষী। ৩০ কে.জি কমানোর পরেও সোনাক্ষী বলিউডের সবথেকে ফ্যাটি নায়িকা। বোঝেন কি অবস্থা! কারিনা কাপুর: বলিউডের অভিষেক পেতে কারিনা কাপুরকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে। কারণ হলো তার অতি ওজন। বোন কারিশমা কিছুতেই চাননি কারিনা মোটাতাজা ইমেজ নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হন। সুতরাং আঁটঘাট বেধে ওজন কমানোর প্রজেক্টে নামতে হয়েছিল কারিনাকে। কারিনার প্রথম ছবি রিফিউজি দেখলেই সবার মনে পড়ে যাবে। রিফিউজির পরেও স্থুল শরীর নিয়ে অনেক ছবিতে কাজ করেছেন কারিনা। হঠাৎ করেই তাশান ছবির মাধ্যমে জিরো ফিগার ধারণ করেন কারিনা। বলিউডবাসিদের চোখ তো ছানাবড়া! ভড়কে যান সমসাময়িক নায়িকারা। জিরো ফিগারের বিকিনি বডি জাতীয় হিস্টিরিয়াতে পরিণত হয়। বলিউড দর্শকরাও নায়িকাদের জিরো ফিগার দেখতে উদ্বুদ্ধ হন সেইসঙ্গে অন্যান্য নায়িকাদের উদ্বিগ্নতা বাড়িয়ে দেন। সোনম কাপুর: ৯৫ কে.জি ওজনের মালিক ছিলেন অনিল কাপুর কন্যা সোনম কাপুর। কারণ ঐ একই জাঙ্ক ফুড গ্রহণ। মা সুনিতা কাপুর সোনমকে ৩৫ কে.জি ওজন কমাতে টার্গেট বেধে দেন । সোনম তার টার্গেট পূরণ করেছেন। বলিউডের এখনকার সবথেকে স্টাইলিশ মেয়ে হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন সোনম। আদনান সামী: আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগীতশিল্পী আদনান সামী। ‘ভিগি ভিগি রাতও মে, ফির তুম আও না, এয়সি বারসাতও মে, আও না’ গানটির কথা মনে আসলেই চোখে ভাসে ভীষণ মিষ্টি চেহারার নাদুস নুদুস এক শিল্পীর মুখ। সামীর ওজন গিয়ে ঠেকেছিল ২০৬ কে.জিতে। ডাক্তার আল্টিমেটাম দিয়ে দিয়েছিলেন তড়িঘড়ি ওজন না কমালে সামী আর ছয় মাসও টিকবেন না। তাকে মরতে হবে। সুতরাং কি আর করা। বেচারা! ক্র্যাশ ডায়েট ও সার্জারির মাধ্যমে সামী ১০৬ কে.জি ওজন কমাতে সক্ষম হলেন। এখন দেখলে আগের চেহারা কল্পনাও করা যায় না। রাণী মুখার্জি: আলুর দম’য়ের সঙ্গে রাণী মুখার্জির দারুণ একটা মিল ছিল। এমনিতেই বামনাকৃতি উচ্চতা তার ওপরে আবার রাজ্যের ভার! ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’ ছবিতে রাণীকে দেখে সবাই ভীষণ হতাশ হয়েছিলেন। শুধু একটা সম্পদ ছিল পরিপূর্ণ। সেটা নিয়েই রাণী মুখার্জি পরবর্তীতে বলিউডের রাণীতে পরিণত হয়েছিলেন। সেটা হলো দিগন্ত বিন্তির্ণ মোহময়ী হাসি। ওজনটা যদিও কমিয়ে এনেছিলেন ক্যারিয়ারের স্বার্থেই। অর্জুন কাপুর: ১৭০ কে.জি ওজনধারী অর্জুন প্রযোজক-পরিচালক বনি কাপুরের পূত্র। সালমান খান সবার জন্যেই ত্রানকর্তা হিসেবে আবির্ভুত হন। সালমানের পরামর্শেই অর্জুন ওজন কমাতে উদ্যোগী হন এবং ইশকজাদে ছবির মাধ্যমে বলিউডে ক্যারিয়ার শুরু করেন। দিলরুবা খান: বাংলাদেশের চিরতরুণ মুখশ্রীর গায়িকা দিলরুবা খান। ‘পাগল মন মন রে, মন কেন এত কথা বলে’ অথবা ‘রেললাইন বহে সমান্তারাল’ গান গেয়ে শ্রোতাদের মনে চিরস্থায়ী আসন দখল করেছেন। ব্যতিক্রমি মাধুর্য্যমণ্ডিত সুরের জাদু তার কন্ঠে অনন্য হয়ে ওঠে। দিলরুবা খান যবে থেকে সেলিব্রেটি হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন তখন থেকে এখন পর্যন্ত ঠিক একই রকম স্থুলকায় আছেন। কোনো নড়চড় হয়নি। তাতে কি! তিনি আমাদের অতি প্রিয় এক শিল্পী। স্থুল শরীরেই তিনি ভক্ত শ্রোতাদের কাছে দুর্দান্ত সুন্দরী।

মদপানে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি

মদপানে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি:
প্রাচ্যের নিন্দনীয় পশ্চিমের জনপ্রিয় মদ বা অ্যালকোহলের প্রতি যদি থাকে আকর্ষণ, থাকে যদি নিয়মিত পানের অভ্যাস তবে জেনে রাখুন আছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। খারাপ ছাড়া ভালো কিছু নেই সুরাপানে। মদ পানের ক্ষতিকর দিকগুলো সঠিকভাবে জানলে অনেকেই হয়তো সুরাসক্তি থেকে সরে আসবেন। কি না হয় মদ পানের কারণে? পা থেকে মস্তিষ্ক পর্যন্ত সারা দেহই আক্রান্ত হয় মদের কুপ্রভাবের দ্বারা। অ্যালকোহল শরীরে বিপাকের মূল অঙ্গ লিভার। মদপানে এই লিভারের বারোটা বেজে যায়। ফ্যাটি লিভার, জন্ডিস, লিভার বড় হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে লিভার সিরোসিস নামের ভয়ঙ্কর রোগ পর্যন্ত হতে পারে। লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হলে অকালে মৃত্যুবরণের আশঙ্কা বেড়ে যায় অনেকখানি। হতে পারে লিভার ক্যানসার যার ফলাফল নিশ্চিত মৃত্যু। বুকজ্বালা, গ্যাস্ট্রিক আলসারের সমস্যা বেড়ে যায়, অগ্নাশয়ে হতে পারে প্যানক্রিয়াটাইটিস বা আগ্নাশয়ের প্রদাহ যা খুব মারাত্মক। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করলে এটা রোগীর জীবনাবসান করাতে পারে। মুখগহবর, শ্বাসনালী ও খাদ্যনালি, কোলন বা বৃহদান্ত্রের ক্যানসারেও মদিরার ভূমিকা আছে। কিডনির আকার বাড়িয়ে দেয়া, কাজের ব্যাঘাত ঘটিয়ে কিডনির হরমোনের ব্যালান্স নষ্ট করা, কিডনি বিকলে ভূমিকা রাখার মতো দুষ্টু কাজে মদের ভূমিকা রয়েছে।অতিরিক্ত মদপানের কারণে হৃদরোগের সমস্যা হতে পারে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়, উচ্চ রক্তচাপের আশঙ্কা বাড়ে। ওজন বাড়তে পারে, হৃদপেশি বিকল হয়ে হার্টফেইলর বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়াও বন্ধ হতে পারে। হতে পারে মস্তিস্কে স্ট্রোক, ডিমেনশিয়া বা স্মৃতি ভ্রষ্টতা। মদপানকারীর মানসিক স্বাস্থ্যেরও বেশ অবনতি ঘটে। বিষণ্ণতা, দুশ্চিন্তা, মানসিক অস্থিরতা, অনিদ্রা, কাজে একাগ্রতার অভাব সবকিছু মিলিয়ে একজন সুরাসক্ত মানুষ মনের দিক থেকে খুবই অশান্তিতে থাকেন। গর্ভবতী মা যদি মদ পান করেন তবে আগত সন্তানের মারাত্মক জন্মগত ত্রুটি দেখা দেয়। শিশুর শারীরিক গঠনে অস্বাভাবিকতা থাকে, মস্তিষ্কের স্বাভাবিক পরিবর্ধন ও পরিবর্তন হয় না এবং এসব সমস্যার কোনো সমাধান নেই। যারা অল্প সময়ে প্রচুর অ্যালকোহল গ্রহণ করেন তাদের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ সমস্যা দেখা দেয়, বাংলাতে যাকে আমরা মাতলামি বলতে পারি। মাতাল ব্যক্তি তার নিজের ওপরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন, চলাফেরা ও কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখা যায়। মানসিকভাবে উত্তেজিত হয়ে অপরের সঙ্গে ঝগড়া, মারামারি করতে পারেন। মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় অনেকেই মারা যায়। আমাদের দেশে বাস-ট্রাক ড্রাইভারদের অতিরিক্ত অ্যাক্সিডেন্টের অন্যতম কারণ এই মদাসক্তি। অনেকে অ্যালকোহলের বিষক্রিয়ায় মারাও যেতে পারেন। যেসব পুরুষ মদ পান করেন সাময়িকভাবে তাদের মাঝে যৌন চাহিদা বাড়লেও পরবর্তীতে তাদের যৌন ক্ষমতা হ্রাস পায়। টেস্টেরোন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকেরা। মহিলাদের ক্ষেত্রে অ্যালকোহলের ক্ষতিকারক দিক পুরুষদের থেকে বেশি। মহিলাদের ব্রেস্ট ক্যানসারের একটা অন্যতম কারণ হিসেবে মদপানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। হাড় ক্ষয় বা অস্টিওপরোসিসের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা অ্যালকোহলিক নারীদের মাঝেই বেশি দেখা যায়। মদ, মদিরা, সুরা, ব্রানডি, বিয়ার, শ্যাম্পেন, হুইস্কি, রাম ইত্যাদি যে নামেই ডাকি না কেন এসব পানীয়তে রয়েছে অ্যালকোহল। সাময়িক আনন্দ, ফুর্তি, স্বস্তির স্বাদ পেতে মদের পথে ছুটে যান অনেকে, ফেরার পথে শরীরে নিয়ে আসেন মারাত্মক সব রোগব্যাধি। তাই আজ থেকে মদ পরিহার করুন। সুস্থ দেহে সুস্থ মন নিয়ে বেঁচে থাকুন অনেক দিন।

সাগর-রুনি হত্যা: সন্দেহভাজনদের ডিএনএ নমুনা নেবে র‌্যাব

সাগর-রুনি হত্যা: সন্দেহভাজনদের ডিএনএ নমুনা নেবে র‌্যাব
সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা সংশ্লিষ্ট রাসায়নিক ও ডিএনএ পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি পাওয়া যেতে পারে বলে র‌্যাব সূত্র উদ্ধৃত করে খবর বের হবার পর শুক্রবার এ বিষয়ে মুখ খুলেছে পুলিশের এ অভিজাত বাহিনীটি। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার এম সোহায়েল শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাসায়নিক ও একটি ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল আসার পর সাগর-রুনির খুনিদের শনাক্ত করতে মাঠে নামবেন তারা। তার আগে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করার কাজ শুরু হচ্ছে। কমান্ডার এম সোহয়েল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে মিলিয়েই অপরাধী শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে। প্রথম শ্রেণীর একজন কর্মকর্তাকে এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আরও তিনজন কর্মকর্তাকে তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করছেন। শুক্রবার দৈনিক প্রথম আলো তাদের ছাপা সংস্করণে খবর দেয় যে র‌্যাবের একাধিক কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে জানান, অপরাধস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত পরীক্ষার পর তারা মনে করছেন, পেশাদার খুনির হাতে এ দম্পতি খুন হতে পারেন। খুনের সময় সাগরের মতো রুনিকেও নির্যাতন করা হয়েছে। রুনির কপালে চাকুর গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার মাথার চুলও কাটা পাওয়া গেছে। মৃতদেহের আশপাশে এসব চুল পড়ে ছিল। এ ছাড়া রুনির কাপড় ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি-বঁটিতেও চুল লেগে ছিল। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এসব নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য দুই দফায় যুক্তরাষ্ট্রের রাসায়নিক ও ডিএনএ পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। এরপর গত ১২ জুন প্রথম দফায় পাঠানো হয় হত্যাকা-- ব্যবহূত একটি ছুরি, ছুরির বাঁট, সাগরের মোজা, একটি কম্বল, সাগরের পরনের প্যান্ট, রুনির পরনের প্যান্ট ও অন্য কাপড়ের নমুনা। গত ১৭ জুলাই দ্বিতীয় দফায় পাঠানো হয় হত্যাকান্ডের সময় যে কাপড় দিয়ে সাগরের হাত ও পা বাঁধা হয়েছিল, সেই কাপড় এবং রুনির টি-শার্ট। র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষাগার থেকে তাদের জানানো হয়েছে, বেশির ভাগ নমুনাতেই একাধিক ব্যক্তির ছাপ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রুনির টি-শার্ট থেকে একজনের পূর্ণাঙ্গ প্রোফাইল পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকান্ডের সময় যে ধস্তাধস্তি হয়েছে, তাতেই রুনির টি-শার্টে ওই ব্যক্তির চুল ও হাতের ছাপ লেগে যায়। সাগরের হাত ও পা বাঁধা হয়েছিল যে কাপড় দিয়ে, তার নমুনা থেকে অন্য কারো ডিএনএ শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। র‌্যাব সূত্র জানায়, এ মামলার প্রত্যক্ষদর্শী সাগর-রুনির সন্তান মেঘের কাছ থেকে মনোরোগ চিকিৎসকদের সহায়তা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে তিন দফা মেঘের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষা সম্পর্কে ন্যাশনাল প্রোফাইলিং ডিএনএ ফরেনসিক ল্যাবরেটরির প্রধান শরীফ আখতারুজ্জামান বলেন, ডিএনএ (ডি অক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড) জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নির্দেশ করে। এটি জিনের একটি উপাদান। মানুষের সব বৈশিষ্ট্য বহন করে ডিএনএ। হাতের ছাপ, চুল, কফ, থুতু, রক্তসহ শরীরের যেকোনো উপাদান থেকেই ডিএনএ পরীক্ষা করা যায়। এই ডিএনএ থেকে ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব। প্রসঙ্গত, গত ১১ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন খুনিদের গ্রেফতারে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। এরপর পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার ‘প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি’র কথা বলেন। কিন্তু এর পরও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় গত ১৮ এপ্রিল মামলার তদন্ত সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ আদালতে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নেয়। এরপর উচ্চ আদালত র‌্যাবকে মামলার তদন্ত করার নির্দেশ দেন। তদন্তভার পাওয়ার পর গত ২৬ এপ্রিল ভিসেরা আলামতের জন্য দুজনের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। ভিসেরা পরীক্ষায় সাগর-রুনির শরীরে বিষক্রিয়ার কোনো আলামত মেলেনি। তদমত্ম শুরুর পর এখনো এ মামলায় কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। তবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে চারজনকে অন্য মামলায় গ্রেফতার করে। গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত পর্যায়ে ৪০ জনকে এবং র‌্যাব এখন পর্যন্ত ৯৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।