Pages

Friday, August 31, 2012

পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংককে ফেরাতে আরো এক মাস সময় পেল সরকার :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংককে ফেরাতে আরো এক মাস সময় পেল সরকার :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

 পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঋণচুক্তির মেয়াদ আরো এক মাস বাড়িয়েছে এডিবি (এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক) ও জাইকা (জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা)। বৃহস্পতিবার বিকেলে দাতা সংস্থা দুটি এই মেয়াদ বাড়ানোর অনুমতি দেয় বলে জানিয়েছেন ইআরডি’র (অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) সংশ্লিষ্ট একজন সচিব।
 
এর আগে দুপুরে এডিবি’র দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক হুয়ান মিরান্ডা’র সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত দাবি করেছেন, পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের ব্যাপারে সুখবর দিয়েছেন অর্থায়নকারী এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। মন্ত্রী বলেন, অর্থায়নের ব্যাপারে জাইকা’ও সুখবর দেবে।
 
সেতু প্রকল্পটিতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে বাংলাদেশ যথেষ্ট সহযোগিতা করছে না জানিয়ে প্রধান অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান বিশ্ব ব্যাংক গত জুনে তাদের ঋণ চুক্তি বাতিলের পর গত এডিবি ও জাইকার ঋণচুক্তির মেয়াদ ৩১ জুলাই শেষ হওয়ার কথা ছিল। তখন প্রথম দফায় চুক্তির মেয়াদ এক মাস বাড়ায় সংস্থা দুটি, এখন দ্বিতীয় দফায় আরো এক মাস বাড়ালো তারা।
 
ঋণ এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোয় বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার জন্য আরো এক মাস সময় পাবে সরকার।
 
তবে প্রকল্পটিতে দুর্নীতি তদন্তের অংশ হিসেবে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণকে যথেষ্ট মনে করছে না বিশ্ব ব্যাংক। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কয়েকটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান ও সেতু বিভাগের সাবেক সচিবকেও পদত্যাগ করতে হবে বলে অনড় অবস্থানে আছে বিশ্ব ব্যাংক। সেতু প্রকল্পটিতে প্রধান অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানটি মনে করে এরা সরকারি পদে থাকলে দুর্নীতি তদন্ত বাধাগ্রস্ত হবে।
 
সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে বাংলাদেশ সরকার সহযোগিতা করছে না জানিয়ে নিজেদের ১২০ কোটি ডলারের ঋণ বাতিল করে বিশ্বব্যাংক গত ২৯ জুন।
 
ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাংকের শর্ত মেনে আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ অভিযোগের তদ্ন্ত করতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকও সই করতেও রাজি হয়েছে সরকার। যেই দুইটি শর্তকে এর আগে ‘অসম্মানজনক’ ও দুদকের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক মর্মে প্রত্যাখান করেছিল সরকার।
 
এছাড়া বিশ্বব্যাংকের চতুর্থ শর্ত; তদন্ত চলাকালে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া- এর অংশ হিসেবে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রীকে সরিয়ে দেয়া হলেও এখনো বাকি আছেন দুজন। এদের একজন; সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভুইয়া’র ব্যাপারে আংশিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তাকে এ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষে’র চেয়ারম্যান পদে দেয়া হয়েছে। যে কারণে বিশ্ব ব্যাংক মনে করছে, সরকারি দায়িত্বে না রাখার শর্ত পালিত হয় নি।
 
বিশ্বব্যাংকের সন্দেহের তালিকায় আরো আছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। উপদেষ্টা জানিয়েছেন কেবল প্রধানমন্ত্রী চাইলেই তিনি পদত্যাগ করবেন। অন্যদিকে ন্যাম সম্মেলনে যোগ দিতে তেহরান যাবার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে গেছেন, এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রীই সিদ্ধান্ত নেবেন।
 
এদিকে দুপুরে মন্ত্রিসভার একটি কমিটির বৈঠকের পরে সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আজ সকালে এডিবির সুখবর তো আপনারা পেয়েছেন। কাল জাইকারটাও পেয়ে যাবেন।”  অর্থমন্ত্রী প্রত্যয়ের সুরে বলেন, “পদ্মা সেতু হবেই হবে’’।
 
বিশ্ব ব্যাংককে ফেরাতেও আলোচনা এখনো চলছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা একটা নাজুক দরকষাকষি (ডেলিকেট নেগোসিয়েশন) করছি। এই রকম অবস্থায় আমি কথা বলতে চাচ্ছি না।’’

এদিকে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার অর্থমন্ত্রীর বিবৃতি প্রকাশের কথা থাকলেও তা হয়নি।  ওই বিবৃতি প্রকাশ কবে হবে- জানতে চাইলে মুহিত বৃহস্পতিবার সকালেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, রোববারের আগে তা হচ্ছে না।

Monday, August 27, 2012

লক্ষ্মীপুরে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাস খাদে, ৯ লাশ উদ্ধার

লক্ষ্মীপুরে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাস খাদে, ৯ লাশ উদ্ধার

 চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ-রামগঞ্জ সীমানার কাটাখালিতে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিং ভেঙে গভীর খাদে পড়ে একই পরিবারের পাঁচজনসহ কমপক্ষে নয়জন নিহত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে পাঁচজন। চারজন সাঁতরিয়ে তীরে উঠেছে। রোববার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- জয়নাল (৪০), মেয়ে রহিমা (১০), স্ত্রী নাসিমা (৩৫), ভাগ্নি রাজিয়া (২০), আমেনা (৪০), মনোয়ারা (৫৫), তামান্না (১৩), তসলিমা (৩৫) ও নাসিমা (৪৫)। নিহতরা কনের আত্মীয়স্বজন।

ডুবন্ত মাইক্রোবাস থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাকি লাশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। মাইক্রোবাসে ড্রাইভারসহ ১৮জন যাত্রী ছিল বলে জানা গেছে।

জানা যায়, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের নাড়িকেলতলা থেকে বৌ-ভাত খেয়ে দু’টি মাইক্রোতে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের নোয়াগাঁওতে মেয়ের বাড়িতে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে একটি মাইক্রো এ দুঘর্টনায় পড়ে। তবে বর কনে ভালো আছে বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আহমেদ ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং হতাহত পরিবার সদস্যদের সমবেদনা জানান। এছাড়া সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিয়াউল হক জিয়া এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার নারিকেলতলা পাটওয়ারীর বাড়ির মরহুম মান্নান পাটওয়ারীর ছেলে মহসিন পাটওয়ারীর সঙ্গে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার নোয়াগাঁও মিজি বাড়ির হাফেজ আহমেদ মিজির মেয়ে কুসুম আক্তারের (মুক্তা) সম্প্রতি বিয়ে হয়।

এম্পায়ার স্টেটের আহতরা সবাই পুলিশের গুলিবিদ্ধ

এম্পায়ার স্টেটের আহতরা সবাই পুলিশের গুলিবিদ্ধ

দিন কয়েক আগে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শহর ইউইয়র্কের এম্পায়ার স্ট্রিটে হঠাৎ অতর্কিত গুলি চালাতে শুরু করে মাথা গরম এক ব্যক্তি। তাকে দমাতে গিয়ে কর্তব্যরত পুলিশও গণহারে গুলি বর্ষণ শুরু করে। দেশটির অন্যতম ওই পর‌্যটন এলাকাটিতে মূহুর্তের শুরু হয় লংকা কাণ্ড। পুলিশের গুলিতে ওই বন্দুকধারীসহ সহ অপর এক ব্যক্তি নিহত হয়। আহত হয় অপর ৯ জন।

শনিবার আইন শৃংখলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভয়ংকর ওই বন্দুকধারী গুলি করে কারো ক্ষতি করতে পারেনি। যে ৯ জন আহত হয়েছে তারা সবাই কোনো না কোনো ভাবে পুলিশি একশনের শিকার। ছয়জন সরাসরি পুলিশের গুলেটের শিকার হয়েছেন। বাকিরা আহত হয়েছেন বিভিন্নভাবে।
আমেরিকান পুলিশ বিভাগে কোনো উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশের গুলিবর্ষণ খুবই কদাচিত ঘটনা। ১৪ বছর আগে সর্বপ্রথম নিউ ইয়র্ক পুলিশ এধরনের সমস্য মোকাবেলায় কথিত হলো পয়েন্ট বুলেটের গুলি বর্ষণ শুরু করে।

গত শুক্রবার পুলিশের গুলিত আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি তিন জনের অবস্থা এখনও আশংকাজনক। সূত্র: রয়টার্স।

হায়দারাবাদ টেস্টে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস পরাজয়


 শেষ পর্যন্ত ইনিংস ব্যবধানেই ভারতের কাছে দুই টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে হারল সফরকারী নিউজিল্যান্ড। কেবলমাত্র বৃষ্টি অথবা কিউই ব্যাটসম্যানদের অতিমানবীয় ইনিংসই এই টেস্টে পরাজয়ের লজ্জা থেকে বাঁচাতে পারত সফরকারীদের। কিন্তু এর কোনোটাই ঘটেনি। কিউইদের বিপক্ষে রবিচন্দ্রন অশ্বিন করেছেন ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেট নেবার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও নিউজিল্যান্ডের ছয়জন ব্যাটসম্যানকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান এই স্পিনার। তার ঘূর্ণিবলে ইনিংস এবং ১১৫ রানের জয় নিয়ে দুই টেস্ট সিরিজে ভারত এগিয়ে গেল ১-০ ব্যবধানে।

প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে। মাত্র ২৬ রানে শেষ সাতটি উইকেটের পতন ঘটলে সফরকারীদের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে যায় ১৬৪ রানে। চা বিরতির সামান্য পরেই একদিনেরও বেশি সময় বাকি থাকতে জয় পায় ভারত।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অশ্বিনের বোলিংটাই একজন ভারতীয়র সেরা রেকর্ড। তিনি ৮৫ রানের বিনিময়ে ১২টি উইকেট শিকার করেন। তার আগের সেরা বোলিং ফিগার ছিল এস ভেংকটরাঘবনের। তিনি ১৪০ রানে সমসংখ্যক উইকেটের দেখা পেয়েছিলেন।

প্রথম ইনিংসে ৩১ রানে ছয় উইকেট শিকার করা তামিলনাড়ুর স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৪ রানে শিকার করেন ছয় উইকেট। আরেক স্পিনার প্রজ্ঞান ওঝাও প্রথম ইনিংসে শিকারের সমানসংখ্যক উইকেট দ্বিতীয় ইনিংসে শিকার করেন।

স্পিনারদের বিপক্ষে কিউই ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতাটা প্রকটভাবে প্রমাণিত হলেও দিনের প্রথম সেশনটায় স্বাগতিক বোলারদের হতাশ করেছিলেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন ম্যাককালাম এবং কেন উইলিয়ামসন।

উমেশ যাদব ভাঙেন ৭২ রানের এই জুটি। এরপরই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে কিউই ব্যাটিং লাইনআপ। টেস্ট ম্যাচের একদিনেরও বেশি সময় বাকি থাকতেই ৩৪.৪ ওভারে নয়টি উইকেটের পতন ঘটে।

চা বিরতির সময়ে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ছয় উইকেটে ১৪৬ রান। বিরতির পর ২৫ মিনিটের মধ্যে কিউই ব্যাটিং লাইনআপের লেজটা গুটিয়ে দেন দুই স্পিনার।

অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪-০ ব্যবধানে পরাজয় এবং রাহুল দ্রাবিড় ও ভিভিএস লক্ষ্মনের অবসরের পর নয় মাসের মধ্যে এটাই ভারতের প্রথম টেস্ট জয়।

ভারতের এই বিশাল জয়ে আম্পায়ারের ভূমিকাও কম নয়। দিনের প্রথম সেশনে কোনো সাফল্য না পাওয়া ভারতীয় শিবির মধ্যাহ্ন বিরতির পর আম্পায়ার স্টিভ ডেভিসের একটা বাজে সিদ্ধান্তে প্রথম সাফল্য পায়। উমেশ যাদবের বল ম্যাককালামের প্যাডে আঘাত করার আগে ব্যাটের কানায় লাগলেও ভারতীয় ফিল্ডারদের আবেদনে সাড়া দেন স্টিভ ডেভিস। প্যাভিলিয়নে ফিরে আসার সময় রাগে এবং অবিশ্বাসে ম্যাককালামকে মাথা নাড়তে দেখা গেছে। ম্যাককালাম এবং উইলিয়ামসন এই দুজনে ৩০.৩ ওভার পর্যন্ত ভারতীয় বোলারদের ঠেকিয়ে রেখেছিলেন।

ম্যাককালামের পর সাত রান করা অধিনায়ক রস টেলর দ্বিতীয় ইনিংসে অশ্বিনের প্রথম শিকারে পরিণত হন। আহমেদাবাদে দুই বছর আগে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি হাঁকানো উইলিয়ামসন এবং ফ্লিন একটা বড় পার্টনারশিপ গড়ার পথে এগোচ্ছিলেন। উইলিয়ামসন হাফ সেঞ্চুরি করার পর ধৈর্যহারা হয়ে প্রজ্ঞান ওঝার দ্বিতীয় শিকার হিসেবে বীরেন্দর শেবাগের তালুবন্দি হন।

পরপর দুই ওভারে ফ্লিন এবং জেমস ফ্রাংকলিনকে অশ্বিন ক্রিজছাড়া করলে ভারতের ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়াটা হয়ে দাড়ায় সময়ের ব্যাপারমাত্র। অশ্বিনকে খেলাটা ক্রমেই দুঃসাধ্য হয়ে উঠছিল। তিনি ম্যাচে নিজের দশম উইকেট হিসাবে শিকার করেন ভ্যান উইককে।

ম্যাচ জিতলেও ভারতের জন্য একটা দুঃসংবাদ আছে। এই ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান চেতেশ্বর পূজারা ফিল্ডিং করার সময়ে ডান হাঁটুতে আঘাত পেয়েছেন। একই স্থানে গত বছর লন্ডনে তার একটা অপারেশন হয়। ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতে পূজারা মাঠ ছাড়েন। তিনি আর ফিল্ডিং করতে না নামলেও ইনজুরিটা খুব বড় কিছু নয় বলে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ এখন খুবই ব্যালেন্স দল: জুনায়েদ সিদ্দিকী

বাংলাদেশ এখন খুবই ব্যালেন্স দল: জুনায়েদ সিদ্দিকী

 ঈদের ছুটির পর রোববার অনুশীলনের দ্বিতীয় দিনে নিজেদের উজাড় করে দিয়ে অনুশীলন করলেন ক্রিকেটাররা। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সকল প্রস্তুতি মূলত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য। ৩১ আগস্ট বিসিবি একাদশের অন্তরালে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা যে ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগো যাবেন চার জাতি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট খেলতে তা ওই বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্যই।

ক্রিকেটারদের অঙ্গভঙ্গি দেখে বোঝা যায় ঈদের পর ছয়দিনের শেষ প্রস্তুতিটাকে সিরিয়াসভাবেই নিয়েছেন তারা। প্রত্যেক ক্রিকেটার পুরোদস্তুর পেশাদারিত্ব দেখালেন পাইবাসের অধীনে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টানা চলে অনুশীলন পর্ব। আজও উপস্থিত প্রধান নির্বাচক আকরাম খান। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ভার্সনে এখনো অভ্যস্ত হয়ে উঠেনি বাংলাদেশ। টি২০ বিশ্বকাপে কেমন করবে বাংলাদেশ? সেটাই তো এখন বড় প্রশ্ন।

তাইতো ওপেনরা জুনায়েদ সিদ্দিকের বক্তব্যও স্পষ্ট ‘চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য আমরা শতভাগ প্রস্তুত’। তিনি অনুশীলন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, “পুরোপুরিভাবেই সেরে নিচ্ছি। আমি চেষ্টা করছি নিজের উন্নতি ঘটনোর। দলে সুযোগ পেলে অবশ্যই ভালো কিছু পারফর্ম করে জায়গা নিশ্চিত করবো।”
 
আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওপেনার হিসেবে তামিমই একমাত্র ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে যাচ্ছে। আমি মনে করি দল হিসেবে বাংলাদেশ এখন খুবই ব্যালেন্স দল। প্রত্যেকে যদি যে যার জায়গা থেকে ভালো কিছু করতে পারে তবে সাফল্য পেতে কষ্ট হবে না।”

আগামী ৩১ আগস্ট দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ হয়ে শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপের খেলা শেষ করে দেশে ফিরবে। বিশ্বকাপ ভেন্যুতেও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ অংশ নেবে ১৫ ও ১৭ সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশ বিশ্বকাপের খেলা খেলবে ২১ সেপ্টেম্বর। ‘ডি’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান এবং নিউজিল্যান্ড। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দুই পরাশক্তির যেকোনো একটিকে হারাতে পারলে দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার টিকিট মিলবে মুশফিকদের।

ইবনে সিনাকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা




পরিবেশগত ছাড়পত্র না নিয়ে ঔষধ কারখানা স্থাপন এবং উৎপাদন করার অপরাধে দি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রোববার ইবনে সিনা গ্রুপের মালিকানাধীন এ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়।

পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মো. মোস্তাফিজুর রহমান আখন্দ স্বাক্ষরিত এক সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে রোববার ওই তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৮ বছর যাবত কারখানার উৎপাদন কাজ চালু থাকলেও পরিবেশ অধিদফতরের কোনো অনুমোদন নেয়নি কর্তৃপক্ষ। রোরবার পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মো. মুনীর চৌধুরী কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পরিবেশ আইন অমান্য করার অপরাধে এ অর্থ আদায় করেন।
সম্প্রতি পরিবেশ অধিদফতরের গাজীপুর অফিসের একটি টিম কারখানায় আকস্মিক অভিযান চালালে এ ঘটনা জানতে পারে। পরিদর্শন টিম গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত কারখানায় গেলে কারখানার কর্মকর্তারা কারখানা পরিদর্শনে বাধা দেন এবং তথ্য দেয়ার ক্ষেত্রে অসহযোগিতা করেন।

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রফেসর আবু নাসের মো. আবদুজ জাহের রোববার পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট)-এর কাছে লিখিত এক আবেদনে এ ঘটনার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। কোম্পানির পক্ষে জেনারেল ম্যানেজার ও কোম্পানির সেক্রেটারি মো. শহীদ ফারুকি, প্ল্যান্ট ম্যানেজার ড. রফিকুল হক, কোয়ালিটি কন্ট্রোল ম্যানেজার আব্দুল খালেক ও ম্যানেজার (ইঞ্জিনিয়ারিং) প্রকৌশলী মমতাজুল করিম পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) এর নিকট শুনানীতে হাজির হয়ে পরিবেশ ছাড়পত্রবিহীনভাবে কারখানা নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এ সময় তারা এ ঘটনাকে নিতান্তই তাদের অজ্ঞতা বলে স্বীকার করেন।

উল্লেখ্য, ১৩ একর আয়তনের জমিতে অবস্থিত ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস-এ ১৬৮ ধরণের অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টি হিস্টামিন, অ্যান্টি আলসারেন্ট, অ্যান্টি পাইরেটিকসহ বিভিন্ন ধরণের তৈরি হয়।

এ প্রসঙ্গে পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মুনীর চৌধুরী জানান, ১৮ বছর ধরে একটি বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান বেআইনীভাবে চালানো- পরিবেশ আইন অমান্যতার এক নজিরবিহীন ঘটনা। তাই এ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হয়েছে। যাতে সবক্ষেত্রে পরিবেশ আইন প্রতিষ্ঠিত হয়।

কারখানা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তাদের উৎপাদন পরিকল্পনা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত সকল তথ্য দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পরিবেশ অধিদফতর কোনো প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করতে চায় না, কিন্তু বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে চায়। পরিবেশকে অবহেলা বা অবজ্ঞা করে বিনিয়োগ করার দিন আর নেই। পরিবেশই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়ার উপযুক্ত।

ইন্দোনেশিয়ায় বিরল প্রজাতির গণ্ডারের সন্ধান

ইন্দোনেশিয়ায় বিরল প্রজাতির গণ্ডারের সন্ধান

  ইন্দোনেশিয়ার একটি জাতীয় পার্কে  গোপন ক্যামেরা দিয়ে বিরল প্রজাতির সাতটি সুমাত্রীয় গণ্ডারের চিত্র ধারণ করা হয়েছে। সুমাত্রা দ্বীপের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত মাউন্ট লিউসার ন্যাশনাল পার্কে গত ২৬ বছরে এ প্রজাতির কোনো গণ্ডার  দেখা যায়নি এবং এ  সব গণ্ডার বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে মনে করা হয়েছিল। লিউসার ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন পরিচালিত প্রকল্পের দলনেতা তারমিজি এ কথা জানান।

গত বছরের জুন থেকে এবং চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত এ পার্কে ২৮টি ইনফ্রারেড ক্যামেরা বসানো হয়। এসব ক্যামেরায় তোলা ১০০০টি ছবিতে ছয়টি মাদী এবং একটি মর্দা সুমাত্রীয় গণ্ডার দেখা গেছে।

তারমিজি বলেন, লিউসার জাতীয় পার্কে যে সুমাত্রীয় গণ্ডার আছে তা নিয়ে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটাবে এই সব ছবি। আর এ কারণে বিরল প্রজাতির এ গণ্ডার প্রজাতি সংরক্ষণের প্রচেষ্টা আরো জোরদার হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

গত ২০ বছরে সুমাত্রীয় গণ্ডারের সংখ্যা ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে বিশ্বে এ ধরনের অনূর্ধ্ব ২০০ গণ্ডার টিকে আছে বলে মনে করা হয়।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গণ্ডার অবৈধ শিকারীদের হাতে প্রাণ হারায়। গণ্ডারের শিংসহ অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ শক্তিবর্ধক নানা কবিরাজি ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া, অবৈধভাবে বন-জঙ্গল উজাড় করায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে গণ্ডারের আবাসস্থল। সূত্র: আইআরআইবি

আজ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে দ্বিতীয় ইন্টারনেট ব্যাকআপ সংযোগ

আজ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে দ্বিতীয় ইন্টারনেট ব্যাকআপ সংযোগ

আজ সোমবার থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে নেটিজেনদের আরাধ্য দ্বিতীয় ইন্টারনেট ব্যাকআপ সংযোগ। সমুদ্রতলদেশের পর এবার এই সংযোগ রচিত হচ্ছে স্থলপথে। ভারত-বাংলাদেশ এর মধ্যবর্তী সীমান্ত পথ বেনাপোল দিয়ে আগামী মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগ।

বাংলাদেশের পক্ষে স্থলপথ ইন্টারনেট সংযোগের এই কারিগরি কাজ করছে ওয়ান এশিয়া কমিউনিকেশন (বিডি) লিমিটেড। আর অপরপ্রান্তে রয়েছে ভারতীয় ক্যাবল কোম্পানি টাটা কমিউনিকেশন। গত আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে উভয় কোম্পানির মধ্যে একটি চুক্তিও হয়েছে।

এ বিষয় জানতে চাইলে ওয়ান এশিয়া কমিউনিকেশন (বিডি) লিমিটেড নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জা মোহাম্মাদ হেলাল জানান, ইতিমধ্যেই বেনাপোল দিয়ে ক্যাবল সংযোগের কাজ শেষ হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে এসটিএম-৬৪ পয়েন্ট। সোমবার থেকে সংযোগটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। আর সব ঠিকঠাক থাকলে সেপ্টেম্বরের শেষদিকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আইটিসির মাধ্যমে ভয়েস, ভিডিও এবং তথ্য সেবা একত্রিত ভাবে প্রদান করা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় এই ইন্টারনেট ক্যাবল সংযোগে সর্বোচ্চ প্রতি সেকেন্ডে ১০ গিগাবিট সমর্থন করবে।

একই বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান জিয়া আহমেদ জানান, ‘কল সেন্টারগুলোর জন্য দেশের একমাত্র সাবমেরিন ক্যাবলের ব্যাকআপ অত্যন্ত জরুরী হয়ে গিয়েছিল। ইন্টারনেটের এই স্থলপথ সংযোগটি নিঃসন্দেহে সময়োপোযোগী ও যুগান্তকারী। এর ফলে দেশে ব্যান্ডউইথ মূল্যের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে দেশের কল সেন্টারের জন্য। একইসাথে  দেশের ব্যান্ডইউথের দাম কিছু কমে যাবে।’

এদিকে বিটিআরসি সম্প্রতি আইসিটি কোম্পানিগুলোকে ভারত, নেপাল, ভুটান ও মায়ানমারের মত পার্শ্ববর্তী দেশে ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করার অনুমোদন প্রদান করেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা।

অপরদিকে গত এপ্রিলে ভারত সরকার বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে ত্রিপুরা এবং চেন্নাইয়ের মধ্যে সংযোগ দেবার জন্য 'ভার্চুয়াল ট্রানজিট' সুবিধা প্রদানের অনুরোধ জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ এর টেলিযোগাযোগ সেবা এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক সাবমেরিন তারের মাধ্যমে বিশ্বের সাথে সংযুক্ত ছিল। ফলে সি-মি-উই ৪ এ কোনো সমস্যা দেখা দিলেই দেশের ইন্টারনেট ব্যবস্থায় ধ্বস নামত।

এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার সাবমেরিন ক্যাবলের পাশাপাশি ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি) সাথে সংযুক্ত হওয়ার জন্য ফেব্রুয়ারি মাসে আইটিসি লাইসেন্স দেয়া হয়।

অসাধারণ কিছু শিশু-কিশোর চলচ্চিত্রের কথা

অসাধারণ কিছু শিশু-কিশোর চলচ্চিত্রের কথা


বাংলাদেশে প্রতি বছর অসংখ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হয় এবং মুক্তিও পায়। কতগুলো দর্শকপ্রিয়তা পায় সেটা আলোচনার বিষয়। আমাদের দেশে শিশু-কিশোরদের নিয়ে কিংবা তাদের লক্ষ্য করে তেমন কোনো ছবি নির্মিত হয় না। পরিচালকদের প্রবল অনীহা এই বিভাগ নিয়ে কাজ করতে। তবে একেবারেই যে নির্মিত হয়নি তাও কিন্তু নয়। না না করতে করতেই অনেকগুলো উল্লেখযোগ্য ছবি নির্মিত হয়েছে। শিশু-কিশোরদের জন্যে নির্মিত অসাধারণ কিছু চলচ্চিত্রের কথা এখানে তুলে ধরা হলো।
 
ছুটির ঘণ্টা
আজিজুর রহমান পরিচালিত ও সত্য সাহার সঙ্গীত পরিচালনায় ‘ছুটির ঘণ্টা’ ছবি ১৯৮০ সালে মুক্তি পায়। অভিনয় করেছেন রাজ্জাক, শাবানা, খান আতাউর রহমান, সুজাতা ও মাস্টার সুমন। স্কুল ঈদের ছুটি হবে। খোকন ঈদের ছুটিতে এবার নানা বাড়িতে বেড়াতে যাবে। যথাসময়ে স্কুল ছুটি হলো। খোকনের গাড়ি আসতে আজ দেরি হচ্ছে। প্রকৃতির ডাকে খোকন বাথরুমে যায়। ছাত্ররা সবাই বাড়ি চলে গেছে এই ভেবে স্কুলের দফতরি বাথরুমের দরজায় তালা লাগিয়ে দেয়। অনেক চিৎকার করেও খোকন কাউকে পায় না তাকে সাহায্য করবার মতো। এরপর চোখে পানি চলে আসার মতো নানা অমানবিক ঘটনা ঘটতে থাকে। দীর্ঘ ১০ দিন পর অনাহারে কষ্ট সহ্য করে শেষ পর্যন্ত শিশুটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
 
আমার বন্ধু রাশেদ
মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ছবি আমার বন্ধু রাশেদ। ২০১১ সালে ছবিটি মুক্তি পায়। জনপ্রিয় কল্পকাহিনী লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপন্যাস অবলম্বনে আমার বন্ধু রাশেদ ছবিটি নির্মিত হয়েছে। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাওয়াতা আফনান, রাইসুল ইসলাম আসাদ, হুমায়রা হিমু, পারভেজ মুরাদ প্রমুখ শিল্পী।
 
এই ছবিটি মুক্তিযুদ্ধর পটভহতিতে নির্মিত। দেশমাতৃকাকে স্বাধীন করবার জন্য এক কিশোরের মন কিভাবে আন্দোলিত হয়েছে সেই চিত্র ফুটে উঠেছে ছবির কাহিনীতে। স্কুলের কয়েকজন ছাত্র মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। সেনাবাহিনীর হাতে বন্দি এক মুক্তিযোদ্ধাকে উদ্ধার করে। যুদ্ধ শেষ হলে একসময় সবাই টের পায় রাশেদ নেই। কিন্তু সবার অন্তরে সে অমর হয়ে রয়।
 
রামের সুমতি
১৯৮৬ সালে নির্মিত হয় রামের সুমতি। কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে নির্মিত এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন শহিদুল আমিন এবং প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ববিতা, ফারুক ও মাস্টার জয়। একটি কিশোরের দুর্দান্ত দুষ্টুমির কাহিনী নিয়ে নির্মিত হয়েছে এই ছবি। দাদা-বৌদির কাছে বড় হচ্ছে কিশোর ভাই জয়। পাড়া-পড়শির বাগান ও ক্ষেতে কোনো ফল ফলাদি থাকে না। এর বাড়িতে এটা উধাও তো ওর বাড়ি থেকে সেটা। এই করেই দিন যায় জয়ের।
 
প্রতিদিন দাদা-বৌদির কাছে গণ্ডায় গণ্ডায় নালিশ আসে। সালিশ দরবার করতে করতে তাদের জীবন অতিষ্ট। সেই দুষ্টু কিশোর ভাইটি একসময় তার ভুল বুঝতে পারে। লক্ষ্মী ছেলেতে পরিণত হয়। অভিনেত্রী ববিতা ও জয় এই ছবিতে অসাধারণ অভিনয়ের জন্যে জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেন।
 
দিপু নম্বর টু
মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত ‘দিপু নম্বর টু’ ছবিটি জনপ্রিয় কল্প কাহিনী লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালের গল্প অবলম্বনে নির্মিত। অরুন সাহা, বুলবুল আহমেদ ও ববিতা অভিনয় করেছেন। ছবিতে একটি কিশোরের মনের ভেতরে চলতে থাকা টানাপোড়েন সুন্দর করে তুলে ধরা হয়েছে। বাবার ট্রানফারের চাকরি। প্রতিবছর শিশুটিকে স্কুল পরিবর্তন করতে হয়। আর যেখানেই সে যায় বন্ধু তৈরি করে ফেলে। বন্ধুদের নিয়ে নানারকম রোমাঞ্চকর কাজে অংশগ্রহণ করে। বছর শেষে বাবা যখন আবার ট্রান্সফার হয়ে যায় তখন শিশুটির বন্ধু হারানোর ভয় মনকে ক্ষত-বিক্ষত করে তোলে। আবার নতুন পরিবেশ, আবার নতুন বন্ধু। অসাধারণ একটি শিশু-কিশোর ছবি ‘দিপু নম্বর টু’।
 
মাটির ময়না
তারেক মাসুদ পরিচালিত এবং ক্যাথরিন মাসুদ প্রযোজিত ছবি মাটির ময়না। ছবিতে অভিনয় করেছেন রোকেয়া প্রাচী, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, লামিসা রিমঝিম, শোয়েব ইসলাম, রাসেল ফরায়জি প্রমুখ। ২০০২ সালে ছবিটি মুক্তি পায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে এক শিশুর মাদ্রাসা জীবনের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। কাহিনীটি প্রয়াত পরিচালক তারেক মাসুদের জীবন থেকে নেয়া। মাদ্রাসার শিশুটির শিক্ষকের আচরণ, তার সহপাঠীদের আচরণ এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার নানা রকম সম্পর্কের ভেতর দিয়ে এগিয়ে চলে ছবিটির কাহিনী। তারেক মাসুদের ক্লাসিক একটি ছবি মাটির ময়না।
 
লিলিপুটরা বড় হবে
মইনুল আহসান সাবেরের চিত্রনাট্য এবং রাকিবুল হাসানের পরিচালনায় ‘লিলিপুটরা বড় হবে’ ছবিতে অভিনয় করেছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, আফসানা মিমি, চিত্রলেখা গুহ প্রমুখ। ছবিটি ২০০৮ সালে নির্মিত হয়। গ্রামের হাইস্কুলের এক ইংরেজি শিক্ষককে কেন্দ্র করে ছবিটির কাহিনী বিস্তৃত হয়েছে। শিক্ষকের ইংরেজি শেখানোর পদ্ধতি নিয়ে নানারকম ঝামেলা শুরু হয়। ছাত্র শিক্ষকের অম্ল মধুর সম্পর্কের নানা ঘটনা উঠে এসেছে এই ছবিতে।
 
এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী
বাদল রহমান পরিচালিত ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’ অসাধারণ একটি শিশু-কিশোর চলচ্চিত্র। অভিনয় করেছেন গোলাম মোস্তফা, শর্মিলী আহমেদ, সারা যাকের, এটিএম শামসুজ্জামান, শিশুশিল্পী মাস্টার পার্থ, টিপটিপসহ আরো এক ঝাঁক শিশু-কিশোর। শিশুরাজ্য নানা রোমাঞ্চে ভরপুর থাকে। তাদের দুর্দান্ত রোমাঞ্চকর কাহিনী ছবিতে ফুটিয়ে তুলেছেন প্রয়াত বাদল রহমান।
 
ডানপিটে ছেলে
ডানপিটে ছেলে ছবির চিত্রনাট্যকার ও গীতিকার ছিলেন খান আতাউর রহমান। ছবির নামেই বোঝা যাচ্ছে ছবির বিষয়বস্তু কি হতে পারে। ছবিটির প্রাণ দুরন্ত এক কিশোরের দুষ্টুমির কাহিনী। ছবিতে তাকে নিয়ে নানান ঘটন ও অঘটন বর্ণিত হয়েছে। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন শিশুশিল্পী শাকিল। শাকিল এ ছবিতে অভিনয় করে পুরস্কার অর্জন করেন।
 
অশিক্ষিত
প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন শিশুশিল্পী মাস্টার সুমন। আরো ছিলেন অভিনেতা রাজ্জাক, অঞ্জনা ও এটিএম শামসুজ্জামান। ছবিতে গ্রাম্য এক অশিক্ষিত মানুষের স্বাক্ষরতা লাভের হাহাকার বর্ণিত হয়েছে। শিক্ষক হিসেবে আবির্ভূত হন মাস্টার সুমন।
 
অসাধারণ একটি ছবি অশিক্ষিত। মানবিক আবেদনে ভরপুর। শেষে শিক্ষকরূপী মাস্টার সুমন মৃত্যুবরণ করে কিন্তু তার ছাত্র ততদিনে নাম স্বাক্ষর করা শিখে ফেলে।

বলিউডের তরুণদের আয়ের ফিরিস্তি

বলিউডের তরুণদের আয়ের ফিরিস্তি


রূপালি জগতের মানুষদের প্রতি সাধারণদের তুমুল কৌতূহল। আর কৌতূহল থেকেই তারা সেলিব্রেটিদের সব খুঁটিনাটি জানতে আগ্রহী হন। খুঁটিনাটির তালিকা থেকে সেলিব্রেটিদের সম্পদের পরিমাণও বাদ পড়েনা। দীর্ঘদিন ধরে যারা বলিউডে বিচরণ করছেন তাদের সম্পদের তালিকা এতোই দীর্ঘ যে তালিকা করতে দিন শেষ হয়ে যাবে।
 
সম্পদের পরিমাণের দিক দিয়ে তুখোর পারফরমেন্স দেখাচ্ছেন চল্লিশোর্ধ বয়সী অভিনয় শিল্পীরা। চল্লিশোর্ধ টপ ক্রেজদের ছবি প্রতি হিট কমছে কম ১০০ কোটি রুপি। তাদের পরবর্তী প্রজন্ম সেই তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে। অগ্রজদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে না পারলেও প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে কিন্তু সক্ষম হচ্ছেন। ক্রমেই নিজেদের পারিশ্রমিক নিয়ে যাচ্ছেন উপরের দিকে। আসুন আজ আমরা ৩০ এর নিচের বয়সী বলিউডিদের আয় রোজগারের হিসেব জেনে নিই।
 
প্রিয়াংকা চোপড়া (৩০): ছবি প্রতি পারিশ্রমিক ২-৩ কোটি রুপি। বিজ্ঞাপন প্রতি পারিশ্রমিক নেন ৬৫-৭৫ লাখ রুপি। উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপনের মধ্যে আছে নোকিয়া, ডাবর, ডাবর আমলা, গার্নিয়ার, সামসাং, নিকন, হিরো হোন্ডা ইত্যাদি। স্থাবর সম্পদের মধ্যে মুম্বাইয়ের তিনটি ফ্ল্যাট। যদিও তিনটি ফ্ল্যাটকে তিনি একটিতে পরিণত করেছেন। সেভেন সিরিজের একটি বিএমডব্লিউ এবং একটি পোর্সে গাড়ি আছে।
 
রনবীর কাপুর (২৯): দুর্দান্ত মেধাবী অভিনেতা রনবীরের ছবি প্রতি পারিশ্রমিক ৮-১০ কোটি রুপি। বিজ্ঞাপন প্রতি পারিশ্রমিক ১.৫ থেকে ২ কোটি রুপি। উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপনের মধ্যে আছে প্যানাসনিক, পেপসি, টাটা ডোকোমো, নিশান, হিরো মোটো করপ্, লেনোভো। রনবীরের স্থাবর সম্পদের পরিমাণ জানা যায়নি। গাড়ির ভেতর আছে রেড অডি আরএইট, রেঞ্জ রোভার স্পোর্টস্, ডাহোন ফোল্ডেবল সাইকেল।
 
ক্যাটরিনা কাইফ (২৮): ইন্দো-বিলেতি অভিনেত্রী ক্যাটরিনা ছবি প্রতি পারিশ্রমিক নেন ৩-৪ কোটি রুপি। বিজ্ঞাপন প্রতি পারিশ্রমিক নেন ১-১.৫ কোটি প্রতি দিন হিসেবে। উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপনের মধ্যে আছে বার্বি, চক-অন, লিঙ্ক ইউনিবল, লাক্স, নক্ষত্র, ওলে, প্যানাসনিক, প্যান্টিন, স্লাইস, টাইটান, ইয়ার্ডলি, ভিট ইত্যাদি। ক্যাটরিনার স্থাবর সম্পত্তি সব লন্ডনে। পরিমাণটা কারো জানা নেই। তিনি মুম্বাইয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকেন। ব্যবহারের জন্য একটি অডি কিউসেভেন গাড়ি আছে।
 
ইমরান খান (২৮): মেধাবী অভিনেতা ইমারানের ছবি প্রতি পারিশ্রমিকের হার ৫-৭ কোটি রুপি। বিজ্ঞাপন প্রতি নেন ১-১.৫ কোটি রুপি। উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপনের মধ্যে আছে লেভিস ও কোক। স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ অজানা। তবে প্রচণ্ড গাড়িপ্রেমিক ইমরান খান। অসংখ্য গাড়ি আছে নিজের ব্যবহারের জন্য। পোর্সে ক্যায়েন, ফেরারি ক্রালিফোর্নিয়া, ভলসওয়াগেন বিটলস্, বিএমডব্লিউ থ্রি সিরিজ।
 
দীপিকা পাড়ুকোন (২৬): ঠ্যাঙঠেঙা সুন্দরী দীপিকা ছবি প্রতি পারিশ্রমিক নেন ১-২.৫ কোটি রুপি। বিজ্ঞাপন প্রতি নেন ৫০-৭৫ লাখ প্রতি দিন হিসেবে। উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপনের মধ্যে আছে নেসক্যাফে, সনি সাইবার শট, প্যারাস্যুট, টিসট, পিয়ামা ডি উইলিস, পাইলট পেনস্, মেরিকো ইত্যাদি। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে প্রভাদেবীতে একটি ও বান্দ্রায় একটি বাড়ি আছে। ব্যবহারের জন্য একটি অডি-কিউসেভেন গাড়ি আছে।
 
আনুশকা শর্মা (২৪): মিষ্টি মেয়ে আনুশকার ছবি প্রতি পারিশ্রমিকের হার ১-১.৫ কোটি রুপি। বিজ্ঞাপন প্রতি নেন ২৫-৪০ লাখ রুপি প্রতি দিন হিসেবে। উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপন হলো- টিভিএস স্কুটি, নিভিয়া, রিলায়েন্স কমিউনিকেশন, প্যারাস্যুট, ক্যানন, গীতাঞ্জলি জুয়েলস্ ইত্যাদি। স্থাবর সম্পত্তির হিসেব জানা যায়নি। ব্যবহার করেন রেঞ্জ রোভার ও একটি অডি গাড়ি।
 
সোনাক্ষী সিনহা (২৫): বলিউডের লম্বা-চওড়া শরীরের মেয়ে ছবি প্রতি পারিশ্রমিক নেন ৭৫ লাখ থেকে এক কোটি রুপি। বিজ্ঞাপন প্রতি নেন ২৫ লাখ প্রতি দিন হিসেবে। উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপনের মধ্যে আছে ডি’ড্যামাস ফর গীতাঞ্জলি, রেড লেভেল টি, প্রোভোগ, কোলগেট, প্যান্টিন, ডাবর ফেম অব গুলাবারি ইত্যাদি। সোনাক্ষীর এখনো কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই। পরিবারের ব্যবহারের জন্য পাঁচটি গাড়ি আছে।
 
সোনম কাপুর (২৭): স্টাইল আইকন সোনম ছবি প্রতি পারিশ্রমিক নেন ৫০-৭৫ লাখ রুপি। বিজ্ঞাপন প্রতি নেন দিন হিসেবে ২৫-৫০ লাখ রুপি। উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপনের মধ্যে আছে লরিয়েল, স্পাইস মোবাইল, ইলেকট্রোলাক্স, মন্টব্লাঙ্ক, ইন্ডিয়ান জেমস্ অ্যান্ড জুয়েলর এক্সিবিশন ইত্যাদি। সোনমের স্থাবর সম্পত্তি নেই। পরিবারের ব্যবহারের জন্য পাঁচটির চেয়েও বেশি গাড়ি আছে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস্

পুরুষদের পছন্দ দুষ্টু প্রকৃতির মেয়ে, কিন্তু কেন?

পুরুষদের পছন্দ দুষ্টু প্রকৃতির মেয়ে, কিন্তু কেন?

 প্রেম, ভালোলাগা কিংবা মন্দ লাগা মানুষ মনের ভেতর বিভিন্নভাবে অনুভব করে। প্রতিটা মানুষ স্বতন্ত্র বৈশিষ্টের অধিকারী। সুতরাং একজনের যা অসাধারণ সৌন্দর্য্যমণ্ডিত সেটা অন্য জনের কাছে নাও হতে পারে। তারপরেও গড়পড়তা বলে একটা ব্যাপারতো থেকেই যায়। চলুন আজ সিম্পল একটা বিষয় ‘পুরুষ কেন দুষ্টু প্রকৃতির মেয়ে পছন্দ করে’ নিয়ে আলোচনা করলে কেমন হয়! নিশ্চয়ই পুরুষদের কাছ থেকে পরস্পর বিরোধী নানারকম তথ্য পাওয়া যাবে।

ওকে! আলোচনার আগে আপনাকে একটু খেই ধরিয়ে দেই, আপনি কি জানেন! গুডি গুডি টাইপ মেয়েরা শুধু স্বর্গে যেতে পারে আর দুষ্টু প্রকৃতির মেয়েরা সবখানে যেতে পারে। এখানেই লুকিয়ে থাকতে পারে কোনো রহস্য। এবার তবে সেই কারণগুলো মন থেকে উগড়ে দিন। অতলষ্পর্শীকে আবিস্কার করার নেশাতুর আগ্রহ তো সবারই অদম্য। জানিয়ে দিন তবে রহস্যটা কি!

কোনো একটা অজানা কারণে পুরুষেরা দুষ্টু প্রকৃতির মেয়েদের পছন্দ করে থাকে। ব্যাপারটা আসলে সেই আবিস্কার হেতু! পুরুষের এই দুষ্টু মেয়ে কেন্দ্রীক ব্যাপার-স্যাপার নিয়ে সম্প্রতি জরিপ কাজ পরিচালনা করেছে জিনিউজ। পুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া নানা রকম তথ্য খণ্ডিয়ে গড়পড়তা ছয়টি কারণকে উল্লেখযোগ্য বলে ধারণা করা হয়েছে। চলুন চোখ রাখি।

সম্পর্কের গভীরতা চেয়ে ব্যস্ত হন না: দুষ্টু প্রকৃতির মেয়েরা একটু সতন্ত্র ও স্বাধীনচেতা হয়ে থাকে আর সেকারণেই তারা দীর্ঘকালীন একটি সম্পর্কে নিজেকে আবদ্ধ করে রাখতে চায় না। সম্পর্কের গভীরতার বিষয়টি তাদের কাছে গৌণ। বাবা-মায়ের মাথার বোঝা হয়ে থাকতে নারাজ ওই মেয়েরা পুরুষের নোংরা মানসিকতাকে হেলায় ঠেলে দিতে কখনো পিছপা হয়না। পুরুষরা মেয়েদের বোল্ড মাইন্ড পছন্দ করে।

আকর্ষণীয় পোশাক: দুষ্টু প্রকৃতির মেয়েরা তাদের নিজস্ব স্বভাব গুণেই পুরুষদের চোখে নিজেদের আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। উল্লেখযোগ্য কারণ হলো পোশাক পরিচ্ছদ। তারা নিঃর্দ্বিধায় পুরুষদের চোখে আকর্ষণীয় সব উদ্দীপক পোশাক পড়তে পারে। পুরুষদের চোখে হাই হিল, সর্ট স্কার্ট ও সিস্নভলেস পোশাকের থেকে আকর্ষণীয় তো কিছু হতে পারে না।

অসাধারণ সেন্স অব হিউমার: পুরুষদের আসরে জুসি ল্যঙ্গোয়েজ আর ডার্টি জোকস্ থাকবেনা সেটা কি ভাবা যায়! এই পরিস্থিতিতে দুষ্টু প্রকৃতির মেয়েদের অসাধারণ সেন্স অব হিউমার প্রকাশ পায়। হাস্যরসের খানিকটা তাদেরও তো জানা। সুতরাং পাল্টা জুসি ল্যাঙ্গোয়েজ দিয়ে তারাও আসর জমাতে সক্ষম। নিজেকে যে কোনো পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা তাদের মধ্যে দুর্দান্ত।

এটা দরকার, এটা চাই: দুষ্টু প্রকৃতির মেয়েরা কখনোই বলবে না মিউজিকটা উচ্চস্বরে হয়েছে, ক্ষুধা লেগেছে অথবা তাদের ঠাণ্ডা কিংবা গরম লাগছে। তারা কথা বলে অথবা ব্যাখ্যা দিয়ে সময় নষ্ট করতে পছন্দ করেন না। তারা উঠবে- রেডিওটা বন্ধ করবে, নিজের জন্য স্যান্ডউইচের ব্যবস্থা করবে, হ্যাঙ্গার থেকে নিজের জন্য জ্যাকেট নামিয়ে নেবে।

চিন্তাশীলতায় সমমনা: দুষ্টু প্রকৃতির মেয়েরা মানসিক দিক দদিয়ে পুরুষের অনেক কাছাকাছি চলে আসতে পারে। তারা পুরুষের প্রতিপক্ষ হতে পছন্দ করেন না। পুরুষরাও তাদের সঙ্গে নিজের মানসিকতাকে সম্পৃক্ত করতে অনেক সহজবোধ করেন। পুরুষরা তাদের কেবলমাত্র ভালোবাসার উপাদান হিসেবে নয় প্রকৃত বন্ধু হিসেবে পায়।

স্ত্রী হিসেবে অনন্য: বেশির ভাগ পুরুষের কাছে দুষ্টু মেয়েরা স্ত্রী হিসেবে বিছানাতেও খুব দুষ্টু হিসেবে স্বীকৃত হয়েছেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনের একান্ত সময়কে গুণগত মানসম্পন্ন করে তুলতে দুষ্টু প্রকৃতির মেয়ে কখনো কুন্ঠিত কিংবা লজ্জিত হন না।

অন্তহীন এক রেস

অন্তহীন এক রেস

 রেস-এ একবার নামলে কি আর পিছিয়ে আসা যায়? যায় না। সেটাই তো স্বাভাবিক। তখন থেমে যাওয়ার ফুরসত কোথায়? আর থেমে যাওয়া মানে তো তখন হেরে যাওয়া। নীল রক্তের কোনো জাতকের পক্ষে রেস-এ থেমে যাওয়া আর সম্মান খোওয়ানো তাই একই ব্যাপার।

পাশাপাশি, আরেকটা দিকও আছে অন্তহীন রেস-এর! রেস-এ এগিয়ে থাকার জন্য একবার দু’হাতে রক্ত মাখলে ধুয়ে ফেললেও সেই দাগ যায় না। তখন শোণিতে তর্পণই একমাত্র পথ ও পন্থা। কাজে কাজেই প্রথমবার রেস-এ জিতে গিয়ে সাইফ আলি খান যে আবার ফিরে আসবেন প্রতিযোগিতায় হিস্যা নিতে- তাতে আর আশ্চর্য কি?

আশ্চর্য এখানে নয়। স্বাভাবিক নিয়মেই যে ছবি ভালো ব্যবসার মুখ দেখিয়েছে, তার সিক্যুয়েল বানিয়ে আরো মুনাফা ঘরে তোলার একটা চাহিদা তো থাকেই। চাপও থাকে অবশ্য প্রযোজক এবং ভক্তদের। সেই দাবি মেনে নিয়ে সেফ খেলার জন্য সাইফ আগ্রহ দেখাতেই পারেন আব্বাস-মস্তানের ‘রেস ২’ ছবি নিয়ে। আশ্চর্যের ব্যাপারটা হলো- নানান পরিকল্পনা করে করেও কিছুতেই ঠিক হচ্ছে না ‘রেস ২’-এর অভিনেতা তালিকা।

‘রেস’ ছবি যখন দুর্দান্তভাবে বাণিজ্যিক সাফল্য পেল, লোকের মুখে মুখে যখন ‘রেস’ ছবির ট্যুইস্ট ও টার্ণের কথা, সাইফ-বিপাশার ধোঁওয়া-ওঠা শরীর রসায়নের কথা- তখনই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে গিয়েছিল যে, বাজারে এরপর দাখিল হবে সিক্যুয়েল ছবি। রণবীর সিং ওরফে সাইফ, ইন্সপেক্টর রবার্ট ডি’কস্টা ওরফে অনিল কাপূর- প্রধান এই দুই চরিত্রকে সিক্যুয়েলে ছেঁটে ফেলার কোনো মানেই হয় না। তাছাড়া এই চরিত্রদুটোই তো ‘রেস’ ছবির ভরকেন্দ্র। অতএব, তারা সগৌরবে থাকলেন। কিন্তু ভারতীয় সিক্যুয়েলের হিসাব মেনে বাদ গেল দুটো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।

এখন, ভারতীয় সিক্যুয়েল কারে কয়? যে সিক্যুয়েল ছবির শুধু নাম এবং নায়ক এক; বাদ বাকি পুরোটাই নয়া- তাই ভারতীয় সিক্যুয়েল। আর এই হিসেবে সবসময়েই চোটটা গিয়ে পড়ে নায়িকাদের ওপর। ভারতীয় বাণিজ্যিক ছবির নায়িকারা এখনও নেহাত লীলাসহচরী; তাতে যত নতুনত্ব আসে, ততই তো ভালো। ফলে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হওয়া সত্ত্বেও সিক্যুয়েলে বদলে যাচ্ছে রণবীর আর ডি’কস্টার নারীরা।

ডি’কস্টার বিপরীতে গেল বার সামীরা রেড্ডিকে দেখা গেলেও এবারে সেই জায়গায় আসছেন আমিশা প্যাটেল। বেশ কথা। জামার মতো নারী বদলানো ডি’কস্টার স্বভাব; কাজেই এতে তেমন ক্ষতি নেই। কিন্তু সনিয়া? রণবীরের প্রেম? বিপাশা বসু ছাড়া সিক্যুয়েল হলেও রেস জমতে পারে নাকি?

জমতে পারে না বলেই ‘রেস ২’ ছবিতে কেবলমাত্র দুটি-একটি দৃশ্যে মুখ দেখিয়েই বিদায় নেবেন বিপাশা। আর তাঁর জায়গায় শরীর দেখাবেন দীপিকা পাড়ুকোন। সেই কৃষ্ণাঙ্গ সুন্দরী, শুধু ভাইটালস্ট্যাটিস্টিকে তফাত! তাছাড়া বেশ কয়েকটি ছবির দৌলতে এখন সাইফ-দীপিকা জনপ্রিয় জুটি; কাজেই কারিনা আর প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে টপকে এই ছবিতে সাইফের নায়িকা হচ্ছেন দীপিকা। আর সাইফের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এই ছবিতে সম্ভবত দেখা যেতে পারে জন আব্রাহামকে।

কিন্তু ‘রেস’ ছবিতে এক শ্বেতাঙ্গিনী সুন্দরীও তো থাকতে বাধ্য ফর্মুলা মেনে! ক্যাটরিনা কাইফের জায়গায় সিক্যুয়েলে সেই জায়গা ভরাট করবেন কে? কানাঘুঁষোয় শোনা যাচ্ছে, এবারে সেই জায়গায় এন্ট্রি নিচ্ছেন জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ। তবে এ নেহাতই সম্ভাবনা মাত্র; পাকা কথার এখনও ঢের দেরি।

বোঝাই যাচ্ছে, আগের বারেরটা হিট হয়ে যাওয়ায় এইবার ‘রেস ২’ নিয়ে প্রত্যাশার পারদ ভালোমতো উপরের দিকে! তাই হয়তো অভিনেতা বাছাইয়ে এত খুঁতখুঁতানি; বারবার এগিয়ে-পিছিয়ে আসা। এদিকে ছবি মুক্তির সম্ভাব্য তারিখ তো ঠিক করা হয়েছে ২০১৩ সালের ২৫ জানুয়ারি! সে তো এসে গেল বলে! এর মাঝে ছবি তৈরি হয়ে যাবে তো? না গেলেও ভরপুর মশলা ছবির জন্য দর্শক যে অপেক্ষা করতে করতে বিরক্ত হবেন না, তা তো পরিচালক-প্রযোজকের হেলদোলই বলে দিচ্ছে। সূত্র: ওয়েবসাইট।

সানি কাহিনী


সানি কাহিনী



 `বিগ বস ৫` -এর অন্যতম হাউসমেট। আর তারপরই একেবারে মহেশ ভাট ক্যাম্পের `জিসম ২` দিয়ে বলিউডে আত্মপ্রকাশ। টিনসেল টাউনে এমন স্বপ্নের পদার্পণ তারকা পুত্র-কন্যাদের ভাগ্যেও জোটে কিনা সন্দেহ। আর তাই পর্নস্টার থেকে বলিউড বেব-এ উত্তরণ হওয়া সানি লিওন এখন অনেকেরই চক্ষুশূল। কিন্তু বলিউডে আসার আগে কেমন ছিল সানির জীবন? কেমন ছিল পর্নফিল্মে তার দীর্ঘ যাত্রাপথ? ক্যামেরার পিছনেই বা কেমন ছিল তার জীবন যাত্রা? সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় বিনোদন ওয়েবসাইটে নিজের জীবনের সেই গল্পই শুনিয়েছেন সানি। কীভাবে কারেন মালহোত্রা থেকে সানি লিওন হয়ে উঠলেন এই ইন্দো-কানাডিয়ান পর্নস্টার।

নিতান্তই কিশোরী বয়সে প্রথম পর্ন ফিল্মের ডিভিডি দেখেছিলেন সানি। কিন্তু, চালানোর সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কানাডার রক্ষণশীল পাঞ্জাবি বাড়িতে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে ডিভিডিটি সযত্নে লুকিয়ে ফেলেন তক্ষুনি। প্রথম অভিজ্ঞতার বেশ কয়েক বছর পর ১৯ বছর বয়সে বন্ধুদের সঙ্গে আবার পর্ন ফিল্ম দেখেন সানি। সেই অভিজ্ঞতার কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে সানি বলেছেন, `একটি ঘরের মধ্যে একদল নগ্ন ছেলেমেয়ের একসঙ্গে দৌড়দৌড়ি করার মজাই আলাদা। ইট ওয়াজ কুল`!

সেইসময়ই নিজের হাতখরচ চালাতে একটি বেকারিতে কাজ করতে শুরু করেন সানি। কাজ করেন একটি ট্যাক্স অ্যান্ড রিটায়ারমেন্ট ফার্মেও। এরপর পরিবারের সঙ্গে আমেরিকা পাড়ি দেন তিনি। দুই বছর কলেজে পড়ার পর ২০০৩ সালে নির্বাচিত হন পেন্টহাউস পেট অফ দ্য ইয়ার। প্রচুর মডেলিংয়ের অফার আসতে থাকে সানির ঝুলিতে। তার মধ্যেই হঠাত্ই এক এজেন্টের মাধ্যমে পর্ন ফিল্মের অফার পান সানি। রাতারাতি বদলে যায় জীবন।

প্রচুর অর্থের হাতছানি সানির জীবেন সূচনা করে এক নতুন অধ্যায়ের। প্রথম দিকে লাগাতার সহবাস তাকে কিছুটা অস্বস্তিতে রাখলেও ধীরে ধীরে কারেন থেকে নাম বদলে সানি হয়ে ওঠেন তিনি। পেন্টহাউস ম্যাগাজিনের প্রাক্তন সম্পাদকের কথামতো মালহোত্রা সরিয়ে নামের পিছনে লিওন পদবী জোড়েন।

সচেত ভাবে এই পেশাকে বেছে নেয়া সানি দুনিয়ার পরোয়া কোনোদিনই করেননি। চিন্তা শুধু ছিল মা-বাবাকে নিয়ে। বাড়িতে জানানোর পর প্রথমে মেনে নিতে পারেননি তারা। কিন্তু কোনোদিনই মেয়েকে ত্যাগ করেননি। এমনকি তার সঙ্গে যোগযোগও বন্ধ করেননি। কিছুদিন পর সানির সিদ্ধান্ত মেনে নেন তারা। তবে নিজের আমেরিকার বাড়িতে নিজের একটিও ডিভিডি রাখেননি সানি। তার বাড়িতে গেলে কেউ বুঝতেই পারবেন না তার জীবনধারণের উপায়। সূত্র: জিনিউজ।

ত্বক সুরক্ষায় সবুজ চা


ত্বক সুরক্ষায় সবুজ চা

  সবুজ চা ত্বককে রোদে পোড়া থেকে রক্ষা করে এবং ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি ধ্বংস করে। এর ভেতর যে ভেষজ উপাদান রয়েছে তা ত্বককে সুরক্ষা করতে পারে। এমনটিই দাবি করেছেন আমেরিকার একদল গবেষক।

গবেষণায় দেখা যায়, সবুজ চায়ে গোল্ডেন ফার্ন (ফিলবোডিয়াম অ্যারিয়াম বা পোলিপডিয়াম লিউকাটোমোস) এবং আসিয়ান জিনসেং (পানাক্স জিনসেং) জাতীয় ভেষজ উপাদান বেশি থাকে, যা সূর্যের আলো থেকে ত্বক সুরক্ষা করে। ফলে সবুজ চা পান করলে দেহে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির কার্যকারিতা হ্রাস পায় এবং আলোকরশ্মির ফলে সৃষ্ট ত্বক ক্যানসার রোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। পর্যাপ্ত উচ্চমাত্রার সবুজ চা পান করলে সূর্যের আলো থেকে ত্বক সুরক্ষা হয়।

গবেষক মেরি অ্যান লিবার্টের প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ত্বক সুরক্ষার নিবন্ধনটি প্রমাণসহ প্রকাশিত হওয়ার পর বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সূত্র: এএনআই

মুক্তিযোদ্ধাদের খতমের শপথ দেন মুজাহিদ: শাহরিয়ার কবির


মুক্তিযোদ্ধাদের খতমের শপথ দেন মুজাহিদ: শাহরিয়ার কবির

 মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির তার জবানবন্দি পেশ করেছেন ট্রাইব্যুনাল-২এ।
 
শাহরিয়ার কবির বলেছেন, ১৯৭১ সালে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত আলবদর বাহিনীতে রূপান্তরিত হয়েছিল। আর বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে আলবদর বাহিনী জড়িত।
 
ওই সময় তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে আমি একটি  উদাহরণ দিতে পারি। ১৯৭১ সালের ৭ নভেম্বর বদর দিবস পালন উপলক্ষে আর বদরদের এক সমাবেশে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ তার ভাষায় পাকিস্তান, ইসলামের দুশমনদের ও ভারতীয় এজেন্ডাদের খতম করার শপথ পরিচালনা করেছিলেন। ওই সময় মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের তথা মুক্তিযোদ্ধাদের তারা বলতো দুষ্কৃতিকারী, ইসলামের শক্রু, ভারতের এজেন্ড, নমরুদ ও জারজ সন্তান প্রভৃতি।”
 
তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে অধ্যাপক গোলাম আযম, নিজামী ও মুজাহিদ প্রমুখ শীর্ষ নেতারা বলেছেন, পাকিস্তান হচ্ছে আল্লাহর ঘর, পাকিস্তানকে রক্ষা করতে জেহাদ করতে হবে। জামায়াতের নেতারা পাকিস্তানিদের সঙ্গে যোগসাজসে গণহত্যা ও মানবতাববেরোধী অপরাধের সহযোগিতা করায় তাদের নৃশংসতা এতটা বিস্তৃত হয়েছিল।”
 
রোববার ট্রাইব্যুনাল-২এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে তিনি তার জবানবন্দি পেশকালে এসব কথা বলেন।
 
সাক্ষী শাহরিয়ার কবির আরো বলেনম  “সেই সময় পাকিস্তান প্রাদেশিক ইসলামী ছাত্র সংঘের প্রধান ছিলেন মতিউর রহমান নিজামী, সংঘের সভাপতি ছিলেন এই মামলার আসামি আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। এছাড়া ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন জামায়াতের অন্যতম নেতা কামারুজ্জামান ও মীর কাশেম আলী ছিলেন ছাত্র সংঘ ও আলবদর কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতা।”
 
তিনি বলেন, “৭১ সালের ৫ নভেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আলবদর বাহিনীর ঘাতকেরা তালিকা করে হাজার হাজার বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের হত্যা করেছে। যার মধ্যে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিকিৎসকসহ দেশসেরা মানুষেরা।”
 
তিনি আরো বলেন, তার চাচাতো ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সেলিম মনসুর খানের লেখা ‘আলবদর’ বই ও অন্যান্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য মতে বলতে পারি ‘৭১ সালে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ‘ইসলামী ছাত্রসংঘ’ তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত আলবদর বাহিনীতে রূপান্তরিত হয়েছিল। আর এ বাহিনীর নেতা হিসেবে নিজামী, মুজাহিদ কী করেছেন তার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায় ৭১ সালের জামায়াতের মুখপাত্র দৈনিক সংগ্রামসহ অন্যান্য সংবাদপত্রে।
 
তিনি বলেন, শান্তি কমিটির  ওপর জামায়াত ইসলামীর নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব ছিল। নিজেদের একটি ঘাতক বাহিনী গঠন করার প্রয়োজনে তারা আল-বদর ও রাজাকার বাহিনী গঠন করেছিল। এই দুটির ভেতরে আল বদর বাহিনী গঠন করা হয়েছিল জামায়াতের অঙ্গসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতাদের দ্বারা। যে নেতাদের ভেতরে আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ অন্যতম।”
 
শাহরিয়ার কবির আরো বলেন, “বাংলাদেশের এই সংগঠনগুলো যে অপরাধ করেছে এবং যে কারণে এই অপরাধগুলো করেছে  সেই রাজনীতি সেই আদর্শ তারা এখনো অনুসরণ করছে।”
 
তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ২৫ মার্চ থেকে শুরু করে ২ মে পর্যন্ত আমি মহাখালীর বাড়ীতে ছিলাম। এর পরে আমি ভারতে চলে যাই। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে আমি দেশে ফিরে আসি।”
 
পরে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম।  তাকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি ঢাকা ইউনিভাসির্টিতে কোন বিষয়ে অনার্স মাস্টার্স করেছেন? জবাবে সাক্ষী বলেন, আমি ঢাকা ইউনিভাসির্টি থেকে বাংলায় অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণে আর পড়ালেখা করিনি।
 
পরে মামলার কার্যক্রম আগামী ৩০ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করে দেন আদালত।

রাজধানীতে গার্মেন্টসকর্মীকে ধর্ষণ : মামলা তুলে নিতে চাপ


রাজধানীতে গার্মেন্টসকর্মীকে ধর্ষণ : মামলা তুলে নিতে চাপ

রাজধানীর হাজারীবাগে কাজ শেষে রাতে বাসায় ফেরার পথে এক গার্মেন্টস কর্মীকে তুলে নিয়ে একটি বাসায় আটকে রাতভর যৌন নির্যাতন চালিয়েছে পেশাদার সন্ত্রাসীরা।

ওই গার্মেন্টসকর্মী তাদের চিনতে পারলেও পুলিশ দু’সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার না করে ওই বাসার দারোয়ানকে গ্রেফতার করে। অন্যদিকে ধর্ষকদের একজন ট্যানারী এসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন ওরফে ট্যানারী শাহীনের ভাগ্নে হওয়ায় ধর্ষণ মামলা তুলে নিতে নির্যাতিতের পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নির্যাতিত গার্মেন্টসকর্মী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি গার্মেন্টস শেষে বাসায় ফিরছিলেন। এরপর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী জল্লাত শাহীন ও মাহতাব হোসেন তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জোরপূর্বক নিলাম্বর সাহা রোডের ২৩/১ নম্বর বাসায় নিয়ে যায়। পরে দারোয়ান ফারুকের সহায়তায় রাতভর নির্যাতন চালানো হয় তার ওপর। সকালে তাকে বাসা থেকে বের করে দিয়ে ঘটনা প্রকাশ না করতে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। পরে ওই তরুণী আহতাবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হন।

হাজারীবাগ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, ধর্ষনের অভিযোগে শাহীন, মাহতাব ও ফারুকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষক জল্লাত শাহীন সেভেন মার্ডার মামলার আসামী এবং একটি খুনের মামলায় মাহতাব যাবৎজীবন কারাদন্ড প্রাপ্ত আসামি। পরে উচ্চ আদালতে আপিল করে এক মাস আগে জামিনে মুক্ত আছেন তিনি।

৪১ শতাংশ শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


৪১ শতাংশ শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রহুল হক বলেন, “শিশু পুষ্টি দক্ষিণ এশিয়ার দেশ সমুহে একটি মারাত্মক সমস্যা। বৈশ্ব্যিক প্রেক্ষাপটে এ অঞ্চলের  শিশুরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ অঞ্চলে ৪১ শতাংশ শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।”

রোববার মহাখালিস্থ আইসিডিডিআরবি মিলনায়তনে সাউথ এশিয়ান ইনফ্যান্ট রির্সাচ নেটওর্য়াক (এসএআইএফআরএন)’র পাঁচদিন ব্যাপী ৭ম আঞ্চলিক বৈঠকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এসএআইএফআরএন কয়েক দফায় বাংলাদেশ নেপাল, শ্রীলংকা ও ভারতের জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্য জরিপ স্বাস্থ্য জরিপ পরিচালনা করেছে। এতে দেখা যায়, এই চারটি দেশ শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সুষম খাদ্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় লক্ষ্য মাত্রায় পৌছাতে পারেনি। যা সহস্রাব্দের উন্নয় লক্ষ্য মাত্রা অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এজন্য এসএআইএফআরএন  ক্যাপাসিটি বিল্ডিং উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তাতে সম্ভাবনার ক্ষেত্র উন্মোচন হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার মাতৃবান্ধব হাসপাতাল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে ছয়’শ হাসপাতালের চার’শ ৯৯টি উন্নত চিকিৎসা সেবার আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনার জন্য ৫০লাখ মার্কিন ডলার বরাব্ধ দেয়া হয়েছে । তিনি দক্ষিণ এশিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণারত সংস্থাগুলোর উদ্দেশ্য বলেন, শিশু স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক গবেষণালব্ধ জ্ঞান নিজ নিজ দেশের সরকার ও অন্যদেশে বিজ্ঞানীদের সঙ্গে শেয়ার করতে হবে। 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মেডিকেল কলেজে ভর্তি ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের অপেক্ষা রয়েছি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর প্রবনতা আশাতীত হারে বাড়ছে। এটা একটি সুখবর। ২০০৭ সালে ৪৩শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১১সালে ৬৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটা ক্রমেই বেড়ে চলছে। পুষ্টিহীনতা সর্ম্পকে বলা হয়, ২০০৭ সালের ৪৩ শতাংশ থেকে কিছুটা হ্রাস পেয়ে ২০১১ সালে ৩৯ শতাংশে নেমেছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা.মজিবুর রহমান ফকির ও ঢাকায় নিযুক্ত অষ্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার গ্রেগ উইলকক। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান, ভারত ও শ্রীলংকার বিজ্ঞানী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ সদস্যদের লভ্যাংশ দেয় গ্রামীণ ব্যাংক: নূরজাহান

 
  “গ্রামীণ ব্যাংক বরাবর শেয়ারহোল্ডারের লভ্যাংশ দিয়ে এসেছে। প্রত্যেকে সদস্যকে তার লভ্যাংশ প্রতি বছর   পৌঁছে দেয়া হয়,” গ্রামীণ ব্যাংক তার সদস্যদের কোনো লভ্যাংশ দেয় না মর্মে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে এ কথা জানালেন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নূরজাহান বেগম।

রোববার দেয়া এক বিবৃতিতে নুরজাহান বেগম বলেন, এপর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংক সরকারকে এক কোটি ২০ লক্ষ টাকার শেয়ারের বিনিময়ে দু’কোটি ৫২ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংককে প্রত্যেকে ৩০ লাখ টাকার শেয়ারের বিনিময়ে ৬৩ লাখ টাকা লভ্যাংশ দেয়া হয়েছে।

আর সদস্যরা ৫৫ কোটি টাকার শেয়ারের বিনিময়ে ৭৭ কোটি টাকা লভ্যাংশ পেয়েছেন (সদস্যরা তুলনামূলকভাবে কম পেয়েছেন, যেহেতু ২০০৬ সালের পরবর্তী সময়ে যারা শেয়ার কিনেছেন তারা অপেক্ষাকৃত কম সময়ের মেয়াদে লভ্যাংশ পেয়েছেন)। প্রত্যেক সদস্যকে প্রতি বছর লভ্যাংশ তার কাছে পৌছে দেয়া হয়।

গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানার হিসাব উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রত্যেক সদস্য যে কোনো সময় ১০০ টাকা দিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের একটি শেয়ার কিনতে পারেন। ৮৪ লাখ ঋণ গ্রহীতাদের মধ্যে ৫৫ লাখ ঋণ গ্রহীতা এ পর্যন্ত শেয়ার কিনেছেন। এর মাধ্যমে তারা ৫৫ কোটি টাকার শেয়ার কিনে ৯৭ শতাংশ মূলধনের মালিক হয়েছেন। সরকার ও সরকারি ব্যাংক ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার শেয়ার কিনে ৩ শতাংশ শেয়ারের মালিক।

নুরজাহান বেগম আরো বলেন, “আইন মন্ত্রী ব্যরিস্টার শফিক আহমেদের বক্তব্য শুনে সংবাদ মাধ্যমের পাঠকদের মনে ভুল ধারণার সৃষ্টি হতে পারে। একারণে আমি প্রকৃত তথ্য তুলে ধরছি। আমি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রথম দিন থেকে, যেদিন ১৯৭৬ সালে প্রফেসর ইউনূস জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রথম জোবরা গ্রামে ঋণ দিয়েছিলেন, সেদিন থেকে ১৪ই আগস্ট, ২০১১ তারিখ পর্যন্ত মোট ৩৫ বছর ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পূর্বে তার প্রারম্ভিক কার্যক্রমে এবং গ্রামীণ ব্যাংকে কর্মরত ছিলাম। প্রফেসর ইউনূস যেদিন পদত্যাগ করেছেন সেদিন তার হাত থেকে আমি ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছিলাম এবং গত বছর ওই পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেছি।”

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে বাৎসরিক হিসাব অনুমোদন করার সময় বছরের অর্জিত মুনাফা কীভাবে বন্টন করা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মুনাফার কী পরিমাণ অংশ লভ্যাংশ হিসেবে শেয়ার মালিকদের কাছে বন্টন করা হবে সে বিষয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয়।

শুরু থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ব্যাংকের মুনাফার পরিমাণ লভ্যাংশ দেয়ার মত পর্যাপ্ত না থাকায় লভ্যাংশ দেয়া হয়নি। ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সরকারের দেয়া শর্ত পূরণের জন্য লভ্যাংশ দেয়া হয় নি।

লভ্যাংশ না দিয়ে সব মুনাফা পুনর্বাসন তহবিলে দেয়ার শর্তে সরকার গ্রামীণ ব্যাংককে আয়কর অব্যাহতি দেয়, এজন্য বোর্ড লভ্যাংশ দিতে পারেনি। ২০০৬ সাল থেকে সরকারের এই শর্ত রহিত হওয়ার পর বোর্ড ২০০৬ সালে ১০০%, ২০০৭ সালে ২০% এবং ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০ সালে প্রতিবছর ৩০% হারে লভ্যাংশ দিয়েছে। মুনাফার পরিমাণ কম হলে গ্রামীণ ব্যাংক যাতে একই হারে মুনাফা বন্টন করতে পারে সেজন্য ‘মুনাফা সমতা আনয়ন তহবিল’ গঠন করেছে। ২০১০ পর্যন্ত এই তহবিলে ৬৯ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা জমা আছে।

আল বদর বাহিনীতে ছিলাম না: ব্যারিস্টার রাজ্জাক


আল বদর বাহিনীতে ছিলাম না: ব্যারিস্টার রাজ্জাক


 জামায়াত নেতা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন শীর্ষ জামায়াত নেতাদের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, রোববার ট্রাইব্যুনালে জামায়াত আমির নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের স্বাক্ষী মিজবাহুর রহমান চৌধুরী তাকে জড়িয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সত্য নয়। সাক্ষীর জবানবন্দীর পরপরই ব্যারিস্টার রাজ্জাক ট্রাইব্যুনাল ভবনের সামনে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন।

রাজ্জাক বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধকালে তিনি আল বদর বাহিনীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ট্রাইব্যুনালে নিজামীর বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিতে গিয়ে রাজ্জাককে বদর বাহিনীর সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেন মিজবাহুর।

তিনি বলেন, “জনাব মিজবাহুর রহমান ধান বানতে এসে শিবের গীত গেয়েছেন। নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে  সাক্ষ্য দিতে এসে তিনি আমার বিরুদ্ধে লম্বা বক্তব্য দিয়েছেন। আর নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে মাত্র দুটি বাক্য বলেছেন।  তিনি আমার বিরুদ্ধে  এ নিয়ে যতবার বক্তব্য দিয়েছেন প্রতিবার ভিন্ন ভিন্ন গল্প হাজির করেছেন। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশে এবং ডিফেন্স টিমের প্রধান হিসেবে আমাকে আমার পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্ত করার জন্য তাকে দিয়ে এ ধরনের বক্তব্য দেয়ানো হতে পারে। লন্ডনে যে স্থানের নাম তিনি বলেছেন এরকম কোনো জায়গার নাম আমার জানা নেই। আমাকে জড়িয়ে লন্ডনে বৈঠক সম্পর্কে মিছবাহুর রহমান চৌধুরী যা বলেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

তিনি আরো বলেন, “মিজবাহুর রহমান তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে জবানবন্দী দিয়েছেন সেখানে আমার নাম তিনি একবারও উচ্চারণ করেননি। আরো মজার বিষয় হলো তিনি ২০০৮ এবং ২০০৯ সালেও আমার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের কাছে বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানেও তিনি আমার বিরুদ্ধে লন্ডন বৈঠকের গল্প বলেননি। আমি যদি লন্ডন বৈঠকে নিজেকে আলবদর সদস্য স্বীকার করে কোনো বক্তব্য দিতাম তা তিনি কেন গত ৩৮ বছরে একবারও বলেননি। ২০০৮ এবং ২০০৯ সালে কেন বলেননি ?”

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, “১৯৭১ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত দীর্ঘ ৪০  বছরে একমাত্র  মিজবাহুর রহমান চৌধুরী ছাড়া আমার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের কোনো একজন ব্যাক্তি এ ধরনের কোনো অভিযোগ করেননি। মুক্তিযুদ্ধের ওপর শত শত বই  লেখা হয়েছে। তার কোথাও আমার নাম নেই।”

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, “মিজবাহুর রহমান চৌধুরীর একটি ভাঙ্গা রেকর্ড আছে। সেটি তিনি মাঝে মাঝে বাজান। তিনি কি ছিলেন এবং তার চরিত্র কি তা দেশের মানুষ জানে। আমি বলতে চাই না।  আমি একটি সফল ডিফেন্স টিম গঠন করেছি। সেটা যাতে চালাতে না পারি সেজন্য আমার ভাব মর্যাদা ক্ষুন্ন করার জন্য উদ্দেশ্য মূলকভাবে আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের বক্তব্য দেয়া হয়েছে। আমাকে জড়িয়ে তার এ ধরনের মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্যর তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

রাজ্জাক সম্পর্কে যা বলেছেন মিজবাহুর
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মিজবাহুর রহমান চৌধুরী লন্ডনে চলে যান। এরপর তিনি লন্ডনে স্কুলে এবং কলেজে পড়াশুনা করেন। তিনি লন্ডনে থাকা অবস্থায় ইয়াং মুসলিম অর্গানাইজেশনের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি হন। এ সংগঠন করার সময় একদিন ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক (তখন ব্যারিস্টার হননি) আমার সাথে এসে সাক্ষাৎ করেন। উনি আমাকে ইসলাম পছন্দ লোকদের একটি বৈঠকে যোগ দেয়ার অনুরোধ করেন। আমি এবং তৎকালীন  ইয়াং মুসলিম অর্গানাইজেশনের সভাপতি (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ জেড শাহ) তার অনুরোধে বৈঠকে যাই। বৈঠকের ঠিকানা বলেন, ৫৭+২।  গিয়ে দেখি সেখানে অধ্যাপক গোলাম আযম, তৎকালীন পাকিস্তান জামায়াতের আমীর মিয়া তোফায়েল, কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী চৌধুরী মঈনুদ্দীন সেখানে উপস্থিত। এ ধরনের একটি বৈঠকে আমাদের ডাকার জন্য আমি ব্যারিস্টার রাজ্জাকের ওপর মনোক্ষুন্ন হই। সেখানে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের কিছু  বক্তব্যে জানতে পারি তিনি নিজে  ১৯৭১ সালে আলবদর সদস্য ছিলেন। ব্যারিস্টার রাজ্জাক আলবদর সদস্য হিসেবে ১৯৭১ সালের  ডিসেম্বর পর্যন্ত তার প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন।  পাকিস্তানি সৈনিকদের সহায়তা করেন। এরপর ভারত-নেপাল   হয়ে পাকিস্তানের পাসপোর্ট নিয়ে তিনি লন্ডনে চলে যান।

ব্যারিস্টার রাজ্জাকও মানবতাবিরোধী অপরাধী: রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী

ব্যারিস্টার রাজ্জাকও মানবতাবিরোধী অপরাধী: রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী


 বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকও ‘যুদ্ধাপরাধী এবং স্বাধীনতা বিরোধী’, রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজামীর বিরুদ্ধে জবানবন্দিতে এ দাবি করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের প্রধান মিজবাহুর রহমান৷ তবে দুটি ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন জামায়াত নেতাদের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক এই বক্তব্যকে ভিত্তিহীন ও নিজামীর মামলার সঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করেছেন৷

নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ এ ট্রাইবুনালে মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে গিয়ে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা মিছবাহুর রহমান দাবি করেন মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজামীর নেতৃত্বে গঠিত আল বদর বাহিনীর সদস্য ছিলেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক৷

তবে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এটি অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়৷ তাদের আইনি লড়াইকে দুর্বল করার জন্যই এসব কথা বলা হচ্ছে৷ সাক্ষীর জবানবন্দীর পরপরই ব্যারিস্টার রাজ্জাক ট্রাইব্যুনাল ভবনের সামনে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন।

রাজ্জাক সম্পর্কে ট্রাইব্যুনালে যা বলেছেন মিজবাহুর
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মিজবাহুর রহমান চৌধুরী লন্ডনে চলে যান। এরপর তিনি লন্ডনে স্কুলে এবং কলেজে পড়াশুনা করেন। তিনি লন্ডনে থাকা অবস্থায় ইয়াং মুসলিম অর্গানাইজেশনের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি হন। এ সংগঠন করার সময় একদিন ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক (তখন ব্যারিস্টার হননি) আমার সাথে এসে সাক্ষাৎ করেন। উনি আমাকে ইসলাম পছন্দ লোকদের একটি বৈঠকে যোগ দেয়ার অনুরোধ করেন। আমি এবং তৎকালীন  ইয়াং মুসলিম অর্গানাইজেশনের সভাপতি (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ জেড শাহ) তার অনুরোধে বৈঠকে যাই। বৈঠকের ঠিকানা বলেন, ৫৭+২।  গিয়ে দেখি সেখানে অধ্যাপক গোলাম আযম, তৎকালীন পাকিস্তান জামায়াতের আমীর মিয়া তোফায়েল, কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী চৌধুরী মঈনুদ্দীন সেখানে উপস্থিত। এ ধরনের একটি বৈঠকে আমাদের ডাকার জন্য আমি ব্যারিস্টার রাজ্জাকের ওপর মনোক্ষুন্ন হই। সেখানে ব্যারিস্টার রাজ্জাকের কিছু  বক্তব্যে জানতে পারি তিনি নিজে  ১৯৭১ সালে আলবদর সদস্য ছিলেন। ব্যারিস্টার রাজ্জাক আলবদর সদস্য হিসেবে ১৯৭১ সালের  ডিসেম্বর পর্যন্ত তার প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন।  পাকিস্তানি সৈনিকদের সহায়তা করেন। এরপর ভারত-নেপাল   হয়ে পাকিস্তানের পাসপোর্ট নিয়ে তিনি লন্ডনে চলে যান।

প্রতিবাদে সাংবাদিকদের যা বললেন রাজ্জাক
রাজ্জাক বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধকালে তিনি আল বদর বাহিনীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ট্রাইব্যুনালে নিজামীর বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিতে গিয়ে রাজ্জাককে বদর বাহিনীর সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেন মিজবাহুর।

তিনি বলেন, “জনাব মিজবাহুর রহমান ধান বানতে এসে শিবের গীত গেয়েছেন। নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে  সাক্ষ্য দিতে এসে তিনি আমার বিরুদ্ধে লম্বা বক্তব্য দিয়েছেন। আর নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে মাত্র দুটি বাক্য বলেছেন।  তিনি আমার বিরুদ্ধে  এ নিয়ে যতবার বক্তব্য দিয়েছেন প্রতিবার ভিন্ন ভিন্ন গল্প হাজির করেছেন। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশে এবং ডিফেন্স টিমের প্রধান হিসেবে আমাকে আমার পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্ত করার জন্য তাকে দিয়ে এ ধরনের বক্তব্য দেয়ানো হতে পারে। লন্ডনে যে স্থানের নাম তিনি বলেছেন এরকম কোনো জায়গার নাম আমার জানা নেই। আমাকে জড়িয়ে লন্ডনে বৈঠক সম্পর্কে মিছবাহুর রহমান চৌধুরী যা বলেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

তিনি আরো বলেন, “মিজবাহুর রহমান তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে জবানবন্দী দিয়েছেন সেখানে আমার নাম তিনি একবারও উচ্চারণ করেননি। আরো মজার বিষয় হলো তিনি ২০০৮ এবং ২০০৯ সালেও আমার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের কাছে বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানেও তিনি আমার বিরুদ্ধে লন্ডন বৈঠকের গল্প বলেননি। আমি যদি লন্ডন বৈঠকে নিজেকে আলবদর সদস্য স্বীকার করে কোনো বক্তব্য দিতাম তা তিনি কেন গত ৩৮ বছরে একবারও বলেননি। ২০০৮ এবং ২০০৯ সালে কেন বলেননি ?”

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, “১৯৭১ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত দীর্ঘ ৪০  বছরে একমাত্র  মিজবাহুর রহমান চৌধুরী ছাড়া আমার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের কোনো একজন ব্যাক্তি এ ধরনের কোনো অভিযোগ করেননি। মুক্তিযুদ্ধের ওপর শত শত বই  লেখা হয়েছে। তার কোথাও আমার নাম নেই।”

ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, “মিজবাহুর রহমান চৌধুরীর একটি ভাঙ্গা রেকর্ড আছে। সেটি তিনি মাঝে মাঝে বাজান। তিনি কি ছিলেন এবং তার চরিত্র কি তা দেশের মানুষ জানে। আমি বলতে চাই না।  আমি একটি সফল ডিফেন্স টিম গঠন করেছি। সেটা যাতে চালাতে না পারি সেজন্য আমার ভাব মর্যাদা ক্ষুন্ন করার জন্য উদ্দেশ্য মূলকভাবে আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের বক্তব্য দেয়া হয়েছে। আমাকে জড়িয়ে তার এ ধরনের মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্যর তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”