হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ ৫০ কোটি টাকার গাড়ি ও
বাড়ি দিয়েছে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের। এর মধ্যে রয়েছে ৪২টি আরএভি ফোর
গাড়ি, ঢাকার প্রাণ কেন্দ্রে একটি বিলাস বহুল বাড়ি ও উচ্চ মূল্যে অর্ধশত
কোরবানীর গরু।
সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে অবৈধ জমি দখল করার কাজে
সহায়তাকারীরাও ভোগ করেছেন অবৈধ অর্থের সুবিধা। সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা
ছাড়াও ওপরমহলের লোকদের আনাগোনা ছিল তানভিরের বাড়িতে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে ঋণ নেয়ার জন্য সোনালী ব্যাংকের
কর্মকর্তা ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের উপহার দিতে গত বছর (২০১১
সালে) রোজার ঈদে হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান তানভীর মাহমুদ উত্তরা ও
কাকরাইলের কয়েকটি গাড়ির দোকান থেকে ৪০টি গাড়ি কিনেছে। যার প্রতিটি গাড়ি
ছিল র্যাভ ফোর। যার প্রতিটির মূল্য ছিল ৮০ লাখ টাকা। সে হিসেবে প্রায় ৩২
কেটি টাকার গাড়ি কিনেছেন। ওই গাড়িগুলোর মধ্যে ১২টি গাড়ি সোনালী ব্যাংকের
কর্মকর্তাদের জন্য উপহার হিসেবে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এদের মধ্যে সোনালী
ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখার তখনকার সিনিয়র অফিসার (এসও) উজ্বল কিশোর ধর ও
তুষার কান্তি দাস গাড়ি প্রকাশ্যে ব্যবহারও করতেন।
এছাড়া সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখার সাবেক এমডি হুমায়ুন কবির, বন ও জরিপ
অফিসের কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন আহমেদের পরিবার ওই গাড়ি উপহার হিসেবে
পেয়েছে।
অপরদিকে জমি বন্ধক রেখে ঋণ নেয়ার টার্গেটে কাফরুল এলাকার অল্পমূল্যের জমি
জোর দখল করে কিনে তা অধিক মূল্যে কেনার প্রমাণ দলিল করার জন্য স্থানীয়
সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন তানভীর। একারণে র্যাব ফোর গাড়ি গুলোর বেশ
কয়েকটি গাড়ি ওই সব সন্ত্রাসীদের দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মন রক্ষা করতে ২০১১ সালে কোরবানি ঈদে
গড়ে ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের ৮৫টি গরু কেনে হলমার্ক গ্রুপের মালিক তানভির।
এসব গরুর ৩০টি তানভীরের নিজস্ব কোরবানীর জন্য রাখা হয়। বাকী গরুগুলো উপহার
হিসেবে পাঠানো হয় তানভীরের অবৈধ কাজে সহযোগিতা করার জন্য বিভিন্ন মহলের
লোকের কাছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোকেয়া স্মরণির পশ্চিম কাফরুল এলাকায় হলমার্ক
গ্রুপের তত্ত্বাবধায়নে ২০৪ হোল্ডিং নম্বর চার কাঠা জমির ওপর নির্মাণাধীন
বাড়িটি সোনালী ব্যাংকের এক কর্মকর্তার জন্য তৈরি করা হচ্ছে। জমিটির বর্তমান
মূল্য প্রতি কাঠা দুই কোটি থেকে আড়াই কোটি টাকা। কিন্তু জায়গাটির দলিলে এর
থেকে বেশি দাম দেখানো হয়েছে। যার একমাএ উদ্দেশ্য ব্যাংক থেকে বেশি দামে
লোন নেয়া।
হলমার্কের এক কর্মকর্তার সূত্রে জানা যায়, গত মে মাসে হলমার্কের অফিসের
কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য ১৫টি প্রোডো গাড়ি কেনা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে
সেগুলো বিভিন্ন মহলে উপহার হিসেবে পাঠানো হয়।




















