Pages

Saturday, September 8, 2012

নুহাশপল্লীতে প্রকাশকদের মিলাদ


 বরেণ্য কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের স্মরণে শুক্রবার দুপুরে নুহাশ পল্লীতে কোরানখানি, মিলাদ, দোয়া ও এতিমদের আপ্যায়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশ সমিতি ও হুমায়ূন আহমেদের প্রকাশকবৃন্দ যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করেন।
 
শুক্রবার সকাল থেকে পিরুজালী ও আশপাশের এলাকা থেকে কয়েকটি এতিমখানা ও মাদ্রাসার দুই শতাধিক এতিমশিশু কোরআন খতম করে। দুপুরে প্রকাশকরা  হুমায়ূন আহমেদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এসময় তারা ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন। পিরুজালী মাহমুদ আলী হাফিজিয়া মাদ্রাসার মাওলানা আরিফুর রহমান মোনাজাত পরিচালনা করেন। পরে তারা এতিম শিশুদের আপ্যায়ন করান।
 
প্রকাশকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অন্য প্রকাশের সত্ত্বাধিকারি মাজহারুল ইসলাম, সময় প্রকাশনার ফরিদ আহমেদ, অনন্যা প্রকাশনীর মনিরুল ইসলাম, কাকলী প্রকাশনীর কেএম নাসির আহমেদ, অবসর প্রকাশনীর আলমগীর রহমান, শিখা প্রকাশনীর নজরুল ইসলাম বাহার, অনুপম প্রকাশনীর মিলন কান্তি নাথ, বাংলা প্রকাশের ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান, পার্ল পাবলিকেশন্সের হাসান জায়েদী, অন্বেষা প্রকাশনের শাহাদাৎ হোসেন, মাওলা প্রকাশনীর আহমেদ মাহমুদল হক ও সুবর্ণ প্রকাশনীর মাহফুজুল হক।
 
নুহাশ পল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, নুহাশ পল্লীতে শুক্রবারও হাজারো হুমায়ূন ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। হুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারতের জন্য সকাল আটটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর‌্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।  
 
ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে কবর জিয়ারতের চাইতে নুহাশ পল্লীতে ঘুরে বেড়া আসা লোকদের সংখ্যা বেশি। অনেকেই পরিবার-পরিজন বা বন্ধু-বান্ধব নেয় বেড়াতে আসছেন। বাসে করে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা শিক্ষাসফর ও পিকনিক করার জন্যও নুহাশ পল্লীতে আসছেন। নুহাশ পল্লী কেবলমাত্র হুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারতের জন্য খোলা থাকলেও দর্শনার্থীরা তা মানছেন না। এ নিয়ে শুক্রবার সকালে নুহাশ পল্লীর কর্মচারীদের সঙ্গে দর্শনার্থীদের কয়েকদফা কথা কাটাকাটি হয়েছে।
 
পলস্নীর ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, হুমায়ূন আহমেদ স্যারে কবর জিয়ারত করতে আসা লোকজনের জন্য আলাদা রাস্তা ও সীমানা নির্ধারণ করে তারের বেড়া দেয়া হলেও দর্শনার্থীরা পল্লীর কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ করে জোরপূর্বক ভিতরে প্রবেশ করছেন। কারো বাধা তারা মানছেন না।
 
তিনি জানান, দর্শনার্থীদের অনেকে বইরে থেকে খাবার ও পানীয় সামগ্রী এনে ভিতরের পরিবেশ নোংরা করছেন। এখানে পয়ঃনিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকলেও যত্রতত্র প্রশ্রাব পায়খানা করা হচ্ছে। কেউ কেউ এটিকে বিনোদন কেন্দ্র মনে করে প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরতে এসে এর পরিবেশ নষ্ট করছেন। হুমায়ূন আহমেদ স্যারের হাতে লাগানো অনেক গাছের ডালাপালা ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে। ভেষজ উদ্ভিদ বাগানের অনেক ক্ষতি হয়েছে।
 
সাইফুল ইসলাম বুলবুল দর্শনার্থীদের প্রতি আহবান জানান, তারা যেনো কেবলমাত্র হুমায়ূন স্যারের কবর জিয়ারত ছাড়া এবং নির্ধারিত সিমানার বাইরে অন্য কোন স্থানে না যান। এর সৌন্দর্য যেনো নষ্ট না হয়। এটি কোনো বিনোদন কেন্দ্র নয়।

মালিবাগে বন্ধু পরিবহেনের ধাক্কায় সিএনজি চালক নিহত :: জাতীয় :: বার্তা২৪

মালিবাগে বন্ধু পরিবহেনের ধাক্কায় সিএনজি চালক নিহত :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
রাজধানীর মালিবাগের চৌধুরী পাড়ায় বন্ধু পরিবহনের ধাক্কায় (ঢাকা মেট্টো ছ-১১-২০৯২) সিএনজি (ঢাকা মেট্রো দ-১২-০৪০৯) চালক ঘটনা স্থলে নিহত হয়েছে। সিএনজিতে থাকা স্বামী কামরুজ্জামান, স্ত্রী পান্না ও বাচ্চা ছেলে আয়নাল গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের তিনজনকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
উত্তেজিত জনতা বন্ধু পরিবহনের একটা গাড়ি পুড়িয়েছে।
জানা যায়, কয়েকজন ট্রাফিক সার্জেন্ট মিলে বন্ধু পরিবহন নামিয়েছে। এ কারনে এ পরিবহন বেপরোয়া ভাবে রাজধানীতে গাড়ি চালায় বলে জানা গেছে।

Friday, September 7, 2012

নোবেল পুরস্কারের ২৫ ভাগ রাষ্ট্র দাবিদার: নাঈমুল :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

নোবেল পুরস্কারের ২৫ ভাগ রাষ্ট্র দাবিদার: নাঈমুল :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

 অনেক বরেণ্য লোককে নোবেল দেয়া হয়নি। নোবেল প্রাইজ কিভাবে পেয়েছেন সেদিক না গিয়ে শুধু বলবো এই নোবেল পুরস্কারের পঁচিশ ভাগ রাষ্ট্রের পাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন আমাদের অর্থনীতি’র সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান।

শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার ইউনিটি মিলনায়তনে গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্মচারী সমিতির আয়োজনে গ্রামীণ ব্যাংক ও ৫৪ সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মালিকানা সংবাদ মাধ্যমে ড.ইউনূসের বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার এবং চাকরিচ্যুত কর্মীদের পূণর্বহাল শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি একথা বলেন।

নাঈমুল ইসলাম বলেন, “গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্যদের ৭৫ ভাগ মালিকানা এবং ২৫ ভাগ সরকারের শেয়ার থাকলেও ড. ইউনূস সরকারকে না জানিয়ে ৮৪ লাখ সদস্যদের মধ্যে শতকরা ৯৭ ভাগ শেয়ার ক্রয় দেখিয়েছেন। সরকার ও গ্রামীণ ব্যাংক দুই অংশীদার হলেও সরকারে নিকট থেকে ৯৭ ভাগ শেয়ার ক্রয় দেখিয়ে মালিকানার দাবি করছেন ৯৭ ভাগ সদস্যেদের।  ড. ইউনূস মানুষদের সুকৌশলে ফাঁকি দিচ্ছেন।”

তিনি বলেন, “ড ইউনুস নোবেল লরিয়েট নামে আরেকটা ইউনূস সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন।  ইউনূস সেন্টার আসলে কী? ইউনূস সেন্টারের জন্য গ্রামীণ গরীবদের মালিকানা বিনাভাড়ায় নেবেন কেন। তিনি কোনো কিছুই সরাসরি করেন না, সব কিছু জঠিল করেন। গ্রামীণ ব্যাংক একটা অনুস্মরণীয় প্রতিষ্ঠান হয় তাহলে কেন এই সব অনিয়ম এবং দুর্নীতি “

গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক মহাপরিচালক শেখ লিয়াকত আলী বলেন, “ আগামী দশ দিনের মধ্যে সার্চ কমিটি গঠন না করা হলে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে আমরা গ্রামীণ সেন্টার ঘেরাও করবো।” অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এ কে এম শহীদুল হক।

মিথ্যা অপবাদ নিয়ে পদত্যাগ করবো না: মসিউর

 প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে বলেছেন, “আমি পদত্যাগ করলে যদি বিশ্বব্যাংক সহায়তা দেয়, তাহলে আমি ১০ বার পদত্যাগ করবো। কিন্তু মিথ্যা অপবাদ নিয়ে পদত্যাগ করবো  না।“
 
শুক্রবার ভারত সফর শেষে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মসিউর রহমান সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

মসিউর রহমান বলেন, “আমার দল এবং আমি এই মিথ্যা অপবাদ নিয়ে যাব না। এটা অন্যায় ও আইনগর্হিত কাজ। বিশ্বব্যাংক ওই লোকগুলোকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে দিয়ে দিক। যদি ওয়াশিংটনে তারা আইন ভঙ্গ করে থাকে, তাহলে ওয়াশিংটন সরকারকে তারা জানাবে।” এ সময় তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা গওহর রিজভী ছিলেন।

ব্যাংক কর্তাদের গাড়ি বাড়ি দিয়েছে হলমার্ক :: রাজনীতি :: বার্তা২৪ ডটনেট

ব্যাংক কর্তাদের গাড়ি বাড়ি দিয়েছে হলমার্ক :: রাজনীতি :: বার্তা২৪ ডটনেট
হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ ৫০ কোটি টাকার গাড়ি ও বাড়ি দিয়েছে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের। এর মধ্যে রয়েছে ৪২টি আরএভি ফোর গাড়ি, ঢাকার প্রাণ কেন্দ্রে একটি বিলাস বহুল বাড়ি ও উচ্চ মূল্যে অর্ধশত কোরবানীর গরু।
 
সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে অবৈধ জমি দখল করার কাজে সহায়তাকারীরাও ভোগ করেছেন অবৈধ অর্থের সুবিধা। সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা ছাড়াও ওপরমহলের লোকদের আনাগোনা ছিল তানভিরের বাড়িতে।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে ঋণ নেয়ার জন্য সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের উপহার দিতে গত বছর (২০১১ সালে) রোজার ঈদে হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান তানভীর মাহমুদ উত্তরা ও কাকরাইলের কয়েকটি গাড়ির দোকান থেকে ৪০টি গাড়ি  কিনেছে। যার প্রতিটি গাড়ি ছিল র‌্যাভ ফোর। যার প্রতিটির মূল্য ছিল ৮০ লাখ টাকা। সে হিসেবে প্রায় ৩২ কেটি টাকার গাড়ি কিনেছেন। ওই গাড়িগুলোর মধ্যে ১২টি গাড়ি সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জন্য উপহার হিসেবে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এদের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখার তখনকার সিনিয়র অফিসার (এসও) উজ্বল কিশোর ধর ও তুষার কান্তি দাস গাড়ি প্রকাশ্যে ব্যবহারও করতেন।
 
এছাড়া সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখার সাবেক এমডি হুমায়ুন কবির, বন ও জরিপ অফিসের কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন আহমেদের পরিবার ওই গাড়ি উপহার হিসেবে পেয়েছে।
 
অপরদিকে জমি বন্ধক রেখে ঋণ নেয়ার টার্গেটে কাফরুল এলাকার অল্পমূল্যের জমি জোর দখল করে কিনে তা অধিক মূল্যে কেনার প্রমাণ দলিল করার জন্য স্থানীয় সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন তানভীর। একারণে র‌্যাব ফোর গাড়ি গুলোর বেশ কয়েকটি গাড়ি ওই সব সন্ত্রাসীদের দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
 
এদিকে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মন রক্ষা করতে ২০১১ সালে কোরবানি ঈদে গড়ে ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের ৮৫টি গরু কেনে হলমার্ক গ্রুপের মালিক তানভির। এসব গরুর ৩০টি তানভীরের নিজস্ব কোরবানীর জন্য রাখা হয়। বাকী গরুগুলো উপহার হিসেবে পাঠানো হয় তানভীরের অবৈধ কাজে সহযোগিতা করার জন্য বিভিন্ন মহলের লোকের কাছে।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোকেয়া স্মরণির পশ্চিম কাফরুল এলাকায় হলমার্ক গ্রুপের তত্ত্বাবধায়নে ২০৪ হোল্ডিং নম্বর চার কাঠা জমির ওপর নির্মাণাধীন বাড়িটি সোনালী ব্যাংকের এক কর্মকর্তার জন্য তৈরি করা হচ্ছে। জমিটির বর্তমান মূল্য প্রতি কাঠা দুই কোটি থেকে আড়াই কোটি টাকা। কিন্তু জায়গাটির দলিলে এর থেকে বেশি দাম দেখানো হয়েছে। যার একমাএ উদ্দেশ্য ব্যাংক থেকে বেশি দামে লোন নেয়া।
 
হলমার্কের এক কর্মকর্তার সূত্রে জানা যায়, গত মে মাসে হলমার্কের অফিসের কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য ১৫টি প্রোডো গাড়ি কেনা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সেগুলো বিভিন্ন মহলে উপহার হিসেবে পাঠানো হয়।

প্রস্তুতি ম্যাচে ৫৯ রানে টোবাগোকে হারিয়েছে বিসিবি একাদশ

প্রস্তুতি ম্যাচে ৫৯ রানে টোবাগোকে হারিয়েছে বিসিবি একাদশ
চারজাতি টুর্নামেন্টের আগে ভলোই প্রস্তুতি সেরে নিয়েছে পাইবাসের শিষ্যরা। একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে ৫৯ রানে টোবাগোকে হারিয়েছে বিসিবি একাদশ।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে জিয়াউর রহমানের ৩৪, জুনায়েদ সিদ্দিকীর ২৭ ও মোহাম্মদ আশরাফুলের ২৪ রানের সুবাদে ৮ উইকেটে ১৬৯ রান করে বিসিবি একাদশ।

জবাবে ৯ উইকেটে ১১০ রানেই থেমে যায় টোবাগোর ইনিংস। শফিউল ইসলাম দুই উইকেট নেন ১৩ রানে।

২৮ রানে আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকার পর বল হাতে ৯ রানে ১ উইকেট নেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। তিনিই ম্যাচসেরা মনোনীত হন।

ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে ‘এশিয়া বনাম ক্যারিবিয়ান’ চারজাতি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌঁনে দুইটায় পোর্ট অব স্পেনে বার্বাডোজের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে খেলবে বিসিবি একাদশ।

অভাবনীয় জয় দিয়ে মিশন শুরু সালমাদের

অভাবনীয় জয় দিয়ে মিশন শুরু সালমাদের
চেনা মাঠে দুর্দান্ত রূপে নিজেদের উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ প্রমিলা ক্রিকেট দল। আজ মিরপুরে অতিথি শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকা প্রমিলা ক্রিকেট দলকে ২ উইকেটে হানিয়ে চমক দেখিয়েছে সালমারা। এক কথায় বলা যায়, অভাবনীয় জয় দিয়ে মিশন শুরু করেছে সালমা বাহিনী।

মিরপুরে উইকেটে আজ প্রথম ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকার মেয়েরা বাংলাদেশের মেয়েদের কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছে। ম্যাচে অতিথি দলের মেয়েদের হারিয়েছে ২ উইকেট ও ৭৫ বল হাতে রেখেই। কোবরা-রুমানার ঘূর্ণি বলের বিষের পর লতার ৩১ রানের ইনিংসে চেপে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। এ যেন বাংলাদেশের মেয়েদের নতুন উত্থানের ধ্বনি। দারুণ এই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখার সঙ্গে আজকের ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার প্রত্যয় অধিনায়কের কণ্ঠে। একই মাঠে কাল দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল। এই ম্যাচে সালমারা জিতে গেলে ৩ ম্যাচের সিরিজ জয় নিশ্চিত হবে তাদের।

মার্চে এশিয়া কাপের পর আর কোনো ম্যাচ হয়নি হোম অব ক্রিকেটে। এতদিন পর উইকেট কেমন আচরণ করবে তা নিয়ে সংশয়ে ছিলেন খোদ কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা। সকালে সালমার টস হারে, আগে ব্যাটিং না বোলিং- তা নিয়ে আর সিদ্ধান্ত নিতে হয়নি বাংলাদেশকে। এমনকি দিনশেষে প্রোটিয়াস অধিনায়কের আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত এসেছে সালমা বাহিনীর পক্ষেই। নিজেদের সেরা অস্ত্র ‘স্পিন’কে কাজে লাগিয়েই মিরপুরের বাইশ গজে দক্ষিণ আফ্রিকার মেয়েদের সমাধি নির্মাণ করেছেন বাংলার মেয়েরা। কোবরা-রুমানার ৩ উইকেটের সঙ্গে সালমা, তাজিয়া দখল করেন ১ উইকেট করে। দলের একমাত্র উইকেট পাওয়া পেসার জাহানারার শিকার ১ উইকেট।

তবে মাত্র ৭৫ রানে বেধে রেখেও ঘাম ঝড়িয়েই জিততে হয়েছে লাল-সবুজ পতাকাধারীদের। দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে প্রথমবারের দ্বৈরথে এমন জয়ে তাই দলের ব্যাটিং নিয়ে সন্তুষ্ট নন সালমা খাতুন। তাই তো ম্যাচ শেষে বলেন, ‘আমরা দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পরে গিয়েছিলাম। তবে ওদের পেস অ্যাটাক নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তা থাকলেও সেটা আমরা ভালোভাবেই সামাল দিতে পেরেছি।’

আর ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার হাতে লতা মন্ডলের কথায়ও অধিনায়কের প্রতিধ্বনি করলেন। তিনি বলেন, ‘বোলাররা আমাদের যে সুযোগ এনে দিয়েছিলেন তাতে আমাদের আরো সহজভাবে জেতা উচিত ছিল। কিন্তু উইকেটের সুবিধা নিয়ে ওদের স্পিনাররাও ভালো বল করেছে। আর দ্রুত দুই উইকেট হারানোটা ঠিক হয়নি আমাদের।’

প্রয়োজন মাত্র ছিল ৭৬ রান। ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব শুধু মাটি আকড়ে ক্রিজে পরে থাকা। কিন্তু সহজ এ কাজটাকেই দলের জন্য কঠিন বানিয়ে দিলেন দুই ওপেনার। সাত রান যোগ করে অধিনায়ক সালমা (২) বিদায় নিলে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর শুকতারা-লতা মিলে প্রাথমিক সে ধাক্কা সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। ম্যাচের অষ্টম ওভারে লং অন দিয়ে বলকে সীমানাছাড়া করে প্রথম বাংলাদেশের ইনিংসের প্রথম বাউন্ডারি উপহার দেন লতা। কিন্তু ততক্ষণে মিরপুরের পিচের সুবিধা আদায় করে নিতে শুরু করেছেন প্রোটিয়াস স্পিনাররা।

ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে সহজ ক্যাচ দিয়ে জীবন ফেরত পাওয়া শুকতারা রহমান (৫) শেষ পর্যন্ত ফিরেছেন সুনিতি লবসারের স্পিনে। তবে প্রান্ত আগলে সাবলীলভাবেই খেলতে থাকেন লতা। লবসারের পরের ওভারে দলকে ৩৯ রানে রেখে চতুর্থ উইকেট হিসেবে বিদায় নেন রুমানা (২)। ক্রিজে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন লতা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে ফিরিয়ে সফরকারীদের ম্যাচে ফেরান ইসমাইল। লতা তার ৫৪ বলে ৩১ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন চারটি বাউন্ডারিতে।
 
জয়ের জন্য বাংলাদেশের মেয়েদের তখনো প্রয়োজন আরো ২০ রান। হাতে আছে পাঁচ পাঁচটি উইকেট। কিন্তু ৬০ রানের মাঝে আরো দুই উইকেট ফেলে দিয়ে ম্যাচ জমিয়ে ফেলে প্রোটিয়াস মহিলারা। তবে ৩৭তম ওভারের তৃতীয় বলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন রিতু মনি (১২)। ২ উইকেট ও ৭৫ বল হাতে রেখে শ্বাসরুদ্ধকর এ জয়ের সাক্ষী হয়ে রইলেন অল্পকিছু দর্শক।
 
এর আগে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৫ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে সফরকারিরা। চতুর্থ উইকেটে মারিজান্নে কাপের (১১) সঙ্গে অধিনায়ক মিগনন ডু প্রিজের (২৪) ৩৭ রানের জুটি ধাক্কা সামাল দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বাংলাদেশের মেয়েদের ঘূর্ণিতে ৩৪.৪ ওভারে মাত্র ৭৫ রানেই গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা মহিলা দলের ইনিংস।
 
বাংলাদেশের লতা মন্ডল ম্যাচসেরার পুরস্কার পান।

প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণে বিটিআরসির তিন প্রস্তাব

প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণে বিটিআরসির তিন প্রস্তাব

দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা সংস্থানের আবেদন জানিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি স্বতন্ত্র কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব দিয়ে বিকল্প তিনটি প্রস্তাব সমন্বিত একটি চিঠি তৈরি করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সমন্বিত চিঠিতি বৃহস্পতিবার চিঠিটি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

সূত্রমতে, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে নিয়োজিত অর্থ উৎক্ষেপণ পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে উঠে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর সে লক্ষেই প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে সুনির্দিষ্ট তিনটি খাত উল্লেখ করে বিকল্প তিনটি প্রস্তাবনা তৈরি করেছে বিটিআরসি।

প্রস্তাব তিনটির প্রথমটিতে সরকারের নিজস্ব উৎস থেকে প্রকল্পের অর্থসংস্থানের ক্ষেত্রে অর্থের জোগান দিতে নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে। দ্বিতীয় প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আর্থিক সংস্থার কাছ থেকে অপেক্ষাকৃত কম সুদে ঋণ (সফট লোন) গ্রহণ এবং সর্বশেষ বিকল্পে সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটের আওতায় অর্থ সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এদিকে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য এরই মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) কাছে কক্ষেপথের ১০২ ডিগ্রি পূর্বে স্লট চেয়েছে বিটিআরসি।

দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণে চলতি বছরের ২৯ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনালের (এসপিআই) সঙ্গে চুক্তি করে বিটিআরসি। চুক্তি অনুযায়ী, সফলভাবে স্যাটেলইট উৎক্ষেপনের জন্য এসপিআইকে দিতে হচ্ছে প্রায় ৯০ কোটি টাকা।

প্রকল্পের পরামর্শক বিটিআরসি’র তত্ত্ববধানে পরামর্শকবিষয়ক প্রকল্প কার্যালয়ে কাজ করছেন বিদেশী পরামর্শক দলের ২৫ জন এবং বাংলাদেশের ছয়জন। চুক্তি স্বাক্ষেরের সময় থেকে তিন বছর পর্যন্ত কাজ করবে এসপিআই।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে দেশের স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল, ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ভি-স্যাট এবং রেডিওগুলো বিদেশী উপগ্রহ ব্যবহার করছে। বিদেশী স্যাটেলাইট ভাড়া বাবদ প্রতি বছর ৬০ লাখ ডলার ভাড়া পরিশোধ করছে তারা। আগামীতে এ ভাড়া বেড়ে দাঁড়াবে ১ কোটি ১০ লাখ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলারে। নিজস্ব স্যাটেলাইট স্থাপন করা হলে এ টাকা দেশেই রাখা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে স্যাটেলাইটের অব্যবহৃত তরঙ্গ নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, শ্রীলংকাসহ আরো কয়েকটি দেশকে ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেও দারুণ ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বের সবচেয়ে আবেদনময়ী নারী কারিনা

বিশ্বের সবচেয়ে আবেদনময়ী নারী কারিনা
বৃটেন ভিত্তিক এডাল্ট ম্যাগাজিন ম্যাক্সিমের দৃষ্টিতে বিশ্বের সবচেয়ে যৌনাবেদনময়ী নারী নির্বাচিত হয়েছেন বলিউড সেনসেসন কারিনা কাপুর। ইতিমধ্যে সবচেয়ে উত্তেজক নারী হিসেবেও ম্যাক্সিমের কভার পেজে ঠাঁই হয়েছে তার।

সম্প্রতি বিশ্বের সবচেয়ে সেরা যৌনাবেদনময়ী নির্বাচনে এক জরিপ পরিচালনা করে। ওই জরিপেই বলিউড বেবো ঠাঁই পেয়েছেন এই এডাল্ট ম্যাগাজিনের নাম্বার ওয়ান লিস্টে।

এ ব্যপারে কারিনা বলেন, “নিজেকে হট এবং যৌনাবেনময়ী অনুভব করা সত্যিই খুব দারুন বিষয়। এবং যখন এটি আসবে ম্যাক্সিমের মত ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে যা সত্যিকার অর্থেই একজন নারীকে উত্তেজক হিসেবে স্বীকৃতি দেবে।”

আসলে উত্তেজক বা হটনেস বলেতে কি বোঝেন তা জিজ্ঞেস করা হলে বোবো বলেন, “একজন নারী কিভাবে তার নিজেকে ধারণ করছে হটনেস হলো তাই। এটি শুধুমাত্র চিকন কোমড় কিংবা লম্বা পা নয়। বরং হটনেস হলো পুরোপুরি একটা প্যাকেজ। আমি খুশি যে সবাই আমাকে হট হিসেবে খুঁজে বের করেছে এবং আমি অবশ্যই এটিকে খুব বড় প্রশংসা হিসেবে নিয়েছি।” সূত্র: টিওআই

ড্রেসিং রূমে নতুন টয়লেট চাই ম্যাডোনার

ড্রেসিং রূমে নতুন টয়লেট চাই ম্যাডোনার
পপ স্টারদের চাহিদার তালিকায় কী কী থাকতে পারে? ভালো পানীয়, আরামদায়ক রেস্ট হাউজ, প্রচুর অর্থ। চাহিদার তালিকায় আর কী আসতে পারে? নিরাপত্তা, জাকজমকপূর্ণ মঞ্চ, ভালো সাউন্ড সিস্টেম।

কিন্তু সময়ের সাড়া জাগানো পপস্টার ম্যাডোনা নিজের চাহিদার তালিকায় আরো একটি নতুন জিনিস যোগ করেছেন। প্রতিটি স্টেজ শো’র পাশে তার যে ড্রেসিং রূমটি থাকবে সেখানে টয়লেট সিটটি হতে হবে একেবারেই নতুন।

বৃহস্পতিবার ৫৪ বছর বয়সী এই পপ গায়িকা আমেরিকার ম্যাসাচুসেট অঙ্গরাজ্যের বোস্টনে অবস্থিত ব্যাংকনর্থ গার্ডেনে একটি কনসার্টে হাজির হন। সেখানে তার লোকজন জানায় গায়িকার এই চাহিদার কথা। তারা আয়োজকদেরকে ম্যাডেনা অনুষ্ঠানস্থলে আসার আগেই ড্রেসিং রূমের টয়লেটটি পরিবর্তন করতে বলে।

ম্যাডোনার চাহিদার কথা জানিয়ে যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত দৈনিক ‘ডেইলি স্টার’ শিরোনাম করে, ‘ইয়েস, নিউ টয়লেট সিট এগাইন।’ ‘হ্যাঁ আরেকটি নতুন টয়লেট চাই।’

কনসার্টে তারকাদের নতুন টয়লেট সিটের চাহিদার রহস্যটি স্পষ্ট নয়। তবে শুধু ম্যাডনা নন। সিঙ্গার ম্যারি জে. ব্লিজও নাকি এমন দাবি করে বসেছেন। সূত্র: আইএএনস ও জিনিউজ।

ফোবিয়াঃ কিভাবে ভালো থাকবেন

ফোবিয়াঃ কিভাবে ভালো থাকবেন

 ‘ফবস’ একটি গ্রিক শব্দ, যার অর্থ ভয়।জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা অনেক কিছু বা পরিস্থিতি বা ব্যক্তিকে ভয় পাই যা একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। কিন্তু এই ভীতি বা ভয়ের কারণে জীবন যখন অচল হয়ে পড়ে তখনই কেবল এটাকে ডিসঅর্ডার বলা যাবে।

চিকিৎসকদের মতে ফোবিক ডিসঅর্ডারের চারটি বৈশিষ্ট্য হলো-ভয় বা ভীতি পরিস্থিতি/পরিবেশ তুলনায় অনেক বেশি মাত্রায় যেমন, আরশোলা দেখলে অনেকে ভয় পায় কিংবা আরশোলা দেখে চিৎকার করা এবং সেটা না মারা পর্যন্ত সব কিছু স্থগিত রাখা হচ্ছে ফোবিক ডিসঅর্ডার।

এই ধরনের নানা ভয় জনিত অবস্থায় অনেক সময় রোগীকে যুক্তিতর্ক বা সহজভাবে বোঝালেও ভয় দূর হয় না।যদিও নিজস্ব আয়ত্তের বাইরে অর্থাৎ ইচ্ছা করলে এটা দমন করা সম্ভব নয়।

আসলে এর নির্দিষ্ট কোনো প্রতিকারও নেই। সবচেয়ে ভালো উপায় হলো যে বিষয়টি/পরিস্থিতি ভয়ের উদ্রেক করে সেটা এড়িয়ে চলা।যেমন- লিফটে উঠতে ভয় লাগে অতএব লিফটে ওঠা বন্ধ।

শারীরিক ডিসঅর্ডার নানা ধরনের হয় যেমন নির্দিষ্ট কোনো বস্তু বা পোকামাকড় অথবা উঁচু জায়গা ইত্যাদি।ভয় বা ভীতি এক ধরনের অস্থিরতার প্রকাশ এবং এ অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ হয় শারীরিক ও মানসিক উপসর্গ দিয়ে।

ভয় পেলে আমাদের শারীরিক যেসব উপসর্গ হয় তা হলো- বুক ধড়ফড় করা, শ্বাসকষ্ট, বুকের মাঝে চাপ অনুভব, পেটের মাঝে অস্বস্তি বোধ, হাত-পা কাঁপা, মুখ শুকিয়ে আসা, মাথা ঘুরানো বা ব্যথা, ঘুমের সমস্যা ইত্যাদি।

অন্যদিকে ভয়ের মানসিক উপসর্গ হচ্ছে-অহেতুক আতঙ্কিত হওয়া, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, যে বিষয় বা পরিস্থিতি ভয়ের উদ্রেক করে তা এড়িয়ে চলা।

মনোবিদরা জানান, ফোবিয়া সাধারণত মহিলাদের বেশি হয় এবং কিশোর বয়সে এর শুরু।অনেক মানসিক রোগের লক্ষণ হিসেবে ভয় বা আতঙ্ক দেখা দিতে পারে যেমন প্যানিক ডিসঅর্ডার।

ফোবিক ডিসঅর্ডারের চিকিৎসা প্রধানত সাইকোলজিক্যাল যেমন রিলাক্সেশনে ট্রেনিং, ডিসেনসেটাইজেশন, কগনেটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি ইত্যাদি।সূত্র: ইন্টারনেট

প্রেমে পরিবারের বকুনি, মুগদায় স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা

প্রেমে পরিবারের বকুনি, মুগদায় স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা
রাজধানীর মুগদা এলাকায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। তার নাম শান্তা মনি (১৫)। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে লাশ ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠায় পুলিশ।
নিহতের মা আনোয়ারা বেগম জানান, স্বপরিবারে তারা রাজধানীর মুগদা মানিকনগর এলাকার ওয়াসা রোডের ৬/২/বি নম্বর বাসায় থাকেন তারা।

টিকাটুলি শহীদ নবী উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়তেন শান্তা। সম্প্রতি স্থানীয় একটি বখাটের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে শান্তা মনি। এ নিয়ে পরিবারের সবাই তাকে গালমন্দ করে।

পরে বুধবার রাতের যেকোনো সময় তার শয়ন কক্ষের ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। সকালে দরজা ভেঙ্গে শান্তাকে ফ্যানের সাথে ঝুলতে দেখা যায়।

মুগদা থানা পুলিশকে খবর দিলে তারা ময়না তদন্তের  জন্য মর্গে পাঠায়।

পরিবারে নির্যাতিত দেশের প্রায় ৯০ ভাগ প্রবীণ: গবেষণা

পরিবারে নির্যাতিত দেশের প্রায় ৯০ ভাগ প্রবীণ: গবেষণা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে করা এক গবেষণায় বলা হয়েছে,  দেশের প্রায় ৯০ ভাগ বয়স্ক লোক পরিবারের নানা ধরণের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। নিজ সন্তান, পুত্রবধূ, জামাতা, নাতি-নাতনী এমনকি জীবনসঙ্গীর হাতেই তাদের প্রতিনিয়ত বঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগ এবং হেল্প এজ ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের উদ্যোগে জরিপ চালিয়ে তার ফলাফলের ভিত্তিতে এ গবেষণা করা হয় বলে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এ গবেষণাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়টির সিনেট ভবনে আয়োজিত সেমিনারে  পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. একেএম নূর-উন-নবী মূল গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

‘ঢাকা শহরের গরিব পরিবারগুলোতে প্রবীণদের নির্যাতন’ শীর্ষক প্রবন্ধে জানানো হয়, ঢাকা শহরের ৩টি আবাসিক এলাকায় জরিপ চালিয়ে এই গবেষণা ফলাফল প্রস্তুত করা হয়েছে।

পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের চেয়ারপারসন মোহাম্মদ বেল্লাল হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে হেল্প এজ ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মিজ নির্ঝরিনী হাসান এবং সংস্থাটিরর পলিসি ম্যানেজার শাশ্বতী বিপ্লব বক্তৃতা করেন। এছাড়া উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, এনজিও, দাতা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি, গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা।

ড. একেএম নূর-উন-নবী জানান, ‘‘দেশের ৮৮.৪ ভাগ বয়স্ক ব্যক্তি মানসিক নির্যাতন, ৮৩.৩ ভাগ লোক অবহেলা এবং ৫৪.৪ ভাগ লোক অর্থনৈতিক প্রবঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। বয়স্ক নারী-পুরুষ উভয়ই পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হলেও পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি অপদস্থ হচ্ছেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশে ৬০ বছরের উর্ধ্বে বয়স্ক লোকের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি, যা মোট জনসংখ্যার ৬.৫ ভাগ। যে হারে বয়স্ক লোকের সংখ্যা বাড়ছে তা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালে এই সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি। এই বিপুল সংখ্যক বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, তাহলে বয়স্কদের নির্যাতনের হার কমবে, জিডিপি বাড়বে এবং দেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটবে।

দক্ষিণাঞ্চলে আরো একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হবে: প্রধানমন্ত্রী

দক্ষিণাঞ্চলে আরো একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হবে: প্রধানমন্ত্রী

 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আরো একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।”

বৃহস্পতিবার সাভারে ছয়টি পরমাণু গবেষণাগার উদ্বোধন করে এ কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনার সেখানে যাওয়া উপলক্ষে সাভার ও আশুলিয়ার জনপথে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নিরাপত্তার কাজে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছেন। ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা চৌকি বসিয়ে তল্লাশি চলছে।

এদিকে, এক সপ্তাহ পূর্ব থেকেই আনবিক শক্তি কমিশনের ভেতর লোকদের যাতায়াত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আশুলিয়া যাওয়া উপলক্ষে গোটা সাভারে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-কালিয়াকৈর মহাসড়ক এবং আনবিক শক্তি কমিশনে ব্যানার, ফেষ্টুন, তোড়ন নির্মানসহ নানা বর্নিল সাজে সাজানো হয়েছে । আর স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে মহাসড়কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছে।

এছাড়া মহাসড়কের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, ডিভাইডার ও বিভিন্ন আইল্যান্ডে রং করে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজও শেষ হয়েছে।

সচিবালয়ে ককটেল মামলার স্থগিতে হাই কোর্টে ফখরুলের আবেদন

সচিবালয়ে ককটেল মামলার স্থগিতে হাই কোর্টে ফখরুলের আবেদন

 হরতালে সচিবালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অধস্তন বিচারিক আদালতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফখরুলের একটি আবেদন খারিজের বিরুদ্ধে আপিলে এই আবেদন করা হয়।

বৃহস্পতিবার ফখরুল ইসলামের পক্ষে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন হাই কোর্ট বিভাগে এ আবেদন করেন।

পরে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোন বার্তা২৪ ডটনেটকে জানান, বিচারিক আদালতে মামলাটি আমলে না নেয়ার বিষয়ে ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আবেদন খারিজের আদেশ বাতিলের আরজি জানানো হয়েছে আবেদনটিতে।

তিনি বলেন, সচিবালয় ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় অজ্ঞাতনামা ২ জনসহ মোট ২৯ জনকে আসামি করা হয়।  যার মধ্যে বিএনপি মহাসচিবসহ অনেক নেতাকে আসামি করা হয়।

ব্যারিস্টার খোকন বলেন, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে দেয়া এই অভিযোগপত্র ত্রুটিপূর্ণ। কারণ অভিযোগপত্রে মূল আসামিদের সনাক্ত না করে সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আইনে মামলার মূল আসামিদের সনাক্ত না করে সহযোগীদের সাজা দেয়া যায় না।

এ মামলাকে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত মামলা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে মামলা করা হয়েছে।”

হরতালের সময় সচিবালয়ে হাতবোমা বিস্ফোরণের বিএনপি নেতাদের আসামি করে গত ২৯ এপ্রিল রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা হয়। এতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফখরুল ছাড়াও ২৭ জনকে আসামি করা হয়।

গত ২৬ অগাস্ট মহানগর স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক জহুরুল হক অভিযোগ আমলে না নিতে মির্জা ফখরুলের করা আবেদন খারিজ করে মামলাটি আমলে নেন।

২৬টি ব্যাংকের অর্থ হাতিয়েছে হলমার্ক

২৬টি ব্যাংকের অর্থ হাতিয়েছে হলমার্ক

 হলমার্ক গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারি শুধু সোনালী ব্যাংকের একটিমাত্র শাখা থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা অনিয়ম করে হাতিয়ে নেয়ার মধ্যেই সীমিত নয়। দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে এই বাণিজ্যিক গ্রুপটির মোট হাতিয়ে নেয়া অর্থের পরিমাণ আরো কয়েকগুণ বেশি। কেলেঙ্কারি তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের ৬ সদস্যের অনুসন্ধাণ দল ও ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

নিয়মের অবাধ্য হওয়া এ ব্যাংকগুলোর মধ্যে আছে রাষ্ট্রায়ত্ব জনতা ও অগ্রণী ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর সহযোগিতায় হলমার্কের প্রতারণার শিকার হয়েছে ২৬ টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক।

শুধুই ঋণ দিয়ে নয়, ব্যাক টু ব্যাক এলসির মালামাল সরবরাহের নিশ্চয়তাপত্র দিয়েছে সোনালী ব্যাংকের রুপসী শাখা। |এই নিশ্চয়তাপত্রের ভিত্তিতে অন্য  সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো গ্রুপটির নানা প্রতিষ্ঠানের বিল কিনেছে। প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই, অথচ ঋণ দেয়া হয়েছে। এবং এই ঋণ নেয়ার সময় উৎপাদন চলছে বলে সোনালী ব্যাংক নিশ্চয়তাপত্র দিয়েছিল। সোনালী ব্যাংকের গুলশান ও আগারগাঁও শাখা, জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখা ও স্থানীয় কার্যালয় (লোকাল অফিস ) এবং অগ্রনী ব্যাংকের প্রধান শাখা এসব কেলেঙ্কারিতে জড়িত।

এর ফলে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক,  আল ফালাহ, বেসিক ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ওরিয়েন্টাল ব্যাংক,আইএফআইস ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিউচাল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যায়ান্ড কমার্স ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, সিটিব্যাংক এনএ, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড ব্যাংক ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া’র কাছ থেকে নানাভাবে অর্থ হাতিয়ে নিতে পেরেছে হলমার্ক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ ও দুদক কর্মকর্তারা ২০০৯-১০-১১ অর্থবছরের হলমার্ক গ্রুপের এলসির কাগজপত্র খতিয়ে দেখছেন|

হলমার্ক গ্রুপভুক্ত কোম্পানিগুলোর বাইরেও ব্যবসায়িকভাবে সম্পৃক্ত নানা ভুয়া কোম্পানির নামেও ঋণ নিয়েছেন গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তানভীর মাহমুদ।

আনোয়ারা স্পিনিং মিলস, স্টার স্পিনিং মিলস, ম্যাক্স স্পিনিং মিলস ও সেঞ্চুরি স্পিনিং মিলসের নামে বারবার ঋণ নেয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখায় আনোয়ারা স্পিনিং মিলস ও ম্যাক্স স্পিনিং মিলের নামে দুটি হিসাব খোলা হয় ২০১১ সালের ৮ জুন। নথি অনুযায়ী, আনোয়ারা স্পিনিং মিলের মালিক জাহাঙ্গীর আলম এবং ম্যাক্সের মালিক মীর জাকারিয়া। এই দুই হিসাবের পরিচয়দানকারী হচ্ছেন হলমার্ক গ্রুপের এমডি ও ববি স্পিনিং মিলের মালিক তানভীর মাহমুদ। জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখা GB  দুই স্পিনিং মিলের নামে হিসাব খোলার পরপরই তাদের বিল কেনা শুরু করে।

বিলে দেখানো হয়েছে, হলমার্ক ফ্যাশনসহ এই গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান স্থানীয়ভাবে সুতা আমদানির জন্য আনোয়ারা ও ম্যাক্স স্পিনিংয়ের অনুকূলে সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখায় স্থানীয় ঋণপত্র করে। জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখা এই বিল কিনে নেয় এবং সেই পরিমাণ অর্থ আনোয়ারা ও ম্যাক্স স্পিনিং মিলের হিসাবে জমা দিয়ে দেয়। এভাবে ওই দুই প্রতিষ্ঠান তুলে নেয় ৮৩ কোটি ৬৭ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। প্রকৃতপক্ষে কোনো সুতাই কেনাবেচা হয়নি। বাস্তবে প্রতিষ্ঠান দুটির কোনো অস্তিত্বই নেই।

জনতা ব্যাংকের কাছে প্রতিষ্ঠান দুটি সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হলে তারা তা দিতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হলমার্ক গ্রুপ পুরো অর্থ সুকৌশলে হাতিয়ে নিয়েছে। এই অর্থ আত্মসাতে জন্য জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখার ব্যবস্থাপক আবদুস সালাম আজাদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যাংকের কর্মচারী জড়িত ছিল।

জনতা ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয় প্রায় একইভাবে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ করে দিয়েছে সোহেল স্পিনিং মিল নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে। এ ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ছিল সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখা ও হলমার্ক গ্রুপ। হলমার্ক গ্রুপকে পণ্য রফতানির নামে অর্থ তুলে নেয়ার সুযোগ দেয়া হলেও বাস্তবে কোনো পণ্য রফতানি হয়নি। জনতা ব্যাংক যাচাই-বাছাই ছাড়াই সোহেল স্পিনিং মিলকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ায় আটকা পড়েছে ২৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখা সোহেল স্পিনিং মিল পরিদর্শন করা হয়েছে বলে একটি প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দিয়েছে। সেখানে প্রতিষ্ঠানটি চালু আছে বলা হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল সেটি বন্ধ দেখে এসেছে।

সেনাবাহিনীতে শীর্ষ তিন কর্মকর্তার পদোন্নতি

সেনাবাহিনীতে শীর্ষ তিন কর্মকর্তার পদোন্নতি

 বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ তিনজন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পদে পাঁচজন কর্মকর্তাকে রদবদল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সেনাসদর দপ্তরের এক প্রজ্ঞাপনে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা

যে তিনজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে সেনাসদর দপ্তরের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেখ মোহাম্মদ আমান হাসানকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মহাপরিচালক করা হয়েছে। সেনাসদর দপ্তরের পূর্ত পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল কাদিরকে অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরের কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে। এ ছাড়া নন কমিশন অফিসার্স একাডেমির (এমসিও) কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম আব্দুর রহমানকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে সেনাসদরের সামরিক সচিব নিয়োগ করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ পাঁচ কর্মকর্তাকে রদবদল করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সেনাবাহিনীর স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দিকে নবম পদাতিক ডিভিশনে জেনারেল অফিসার্স কমান্ড্যান্ট (জিওসি) করা হয়েছে। নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি কে এম মমিনুর রহমানকে সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) করা হয়েছে। বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরের কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল আবুল হোসেনকে মিরপুরে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে। রংপুরের ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল সাব্বির আহমেদকে চট্টগ্রামের ২৪ পদাতিকের জিওসি করা হয়েছে।

এ ছাড়া সেনাসদরের সামরিক সচিব মেজর জেনারেল সালাহউদ্দিন নিয়াজিকে রংপুরের ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

বাণিজ্য সুবিধার চেয়ে গ্রামীণ ব্যাংকে জোর আমেরিকার

বাণিজ্য সুবিধার চেয়ে গ্রামীণ ব্যাংকে জোর আমেরিকার

সফররত বাংলাদেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে বৈঠকে আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম জে বার্নস জোর দিয়েছেন গ্রামীণ ব্যাংক ও অন্যান্য সুশাসন ইস্যুর ওপর। ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় বুধবার এক ঘন্টাব্যাপী বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন দুই মন্ত্রী।
 
বৈঠকে গ্রামীণ ব্যাংক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বার্নস বলেন, আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ-সহযোগিতা রুপরেখা চুক্তি (টিকফা) সই হলে দেশটির বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
 
ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও ঢাকায় অবস্থিত আমেরিকার দূতাবাসের পৃথক দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার এসব তথ্য  জানানো হয়।
 
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আমেকিরায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের, আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রবার্ট ও’ব্লেকসহ দুই দেশের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা।
 
আমেরিকার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নস বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সক্রিয় সুশীল সমাজ ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কথা উল্লে­খ করে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করেন।  
 
এর প্রেক্ষিতে গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান বার্নসকে ব্যাখ্যা করেন দীপু মনি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নোবেল বিজয়ী প্রতিষ্ঠানটির অনেক নারী ঋণগ্রহীতার স্বার্থ সংরক্ষণে বদ্ধপরিকর। গ্রামীণ ব্যাংক বর্তমানে সংস্থাটির আইন ও বিধি অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
 
আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে দীপু মনি বলেন, আমেরিকার বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার বাংলাদেশসহ এশিয়ার স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
 
জবাবে বার্নস বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টিকফা চুক্তিটি দ্রুত সম্পাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
 
তিনি বলেন, এ চুক্তির আওতায় আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের উচ্চশুল্ক হারের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা সম্ভব হতে পারে।
 
এছাড়া মাসের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ-আমেরিকা অংশীদারি সংলাপের সফলতার ব্যাপারেও জোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন দুই মন্ত্রী।
 
তিন দিনের সফর শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বৃহস্পতিবার কাতারের দোহা হয়ে চীন যাবেন।

কম কথা বলতে বলা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী

কম কথা বলতে বলা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী

  অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘আমি কথা বলব না। আমাকে কম কথা বলতে বলা হয়েছে।’ বৃহস্পতিবার রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে একটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বেরিয়ে যাবার সময় সাংবাদিকেরা তাকে প্রশ্ন করতে গেলে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি।

সেখানে দেশের প্রথম ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান বিডি ভেঞ্চার লিমিটেডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এসময় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে বাংলাদেশের যাত্রা অনেক আগের থেকে শুরু হলেও আশ্চার্যজনকভাবে এই প্রথম বাংলাদেশে কোনো ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানির যাত্রা শুরু হলো।’’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি অভাবনীয় সফলতা পেয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তানেও এধরনের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি সফলতা পেয়েছে।’’

পরে বেরিয়ে যাবার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

এর আগে গত মঙ্গলবার এক গোলটেবিল অনুষ্ঠানে সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারি নিয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘ব্যাংকিং খাতে আমরা ৪০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিই। এর মধ্যে মাত্র তিন বা চার হাজার কোটি টাকা নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। এটা কোনো বড় অঙ্কের অর্থ নয়। এ নিয়ে হৈচৈ করারও কিছু নেই।’

পরে  অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে গতকাল বুধবার সংসদে বক্তব্য দেন সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি। সেখানে তিনি মন্ত্রীকে কথা কম বলার অনুরোধ জানান।

অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করে শেখ সেলিম বলেন, ‘‘অর্থমন্ত্রীর কথাবার্তায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ওনার বয়েস হয়েছে, বুঝি। ওনার কথা কম বলা ভালো। এত বড় ঘটনা, ওনার কাছে চার হাজার কোটি টাকা বড় ব্যাপার না। কিন্তু মানুষের কাছে বড় ব্যাপার। এক টাকা হোক, ১০ টাকা হোক, যে টাকা লুট করবে, তার বিচার করতে হবে। আমি অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি, তিনি যেন এ ধরনের কথাবার্তা না বলেন। তার জন্য সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।’’

হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে সংসদে মাফ চাইলেন অর্থমন্ত্রী

হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে সংসদে মাফ চাইলেন অর্থমন্ত্রী

 হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় সংসদে মহাজোট সরকারের সিনিয়র এমপিদের তোপের মুখে পড়ে অবশেষে মাফ চাইতে বাধ্য হয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এ কেলেঙ্কারি নিয়ে দেশে বিরাট আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি নিজেকে এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি বলে দোষ স্বীকার করেন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ‘অবিলম্বে খুলনা উন্নয়ন ব্যাংক স্থাপন করা হোক’ সম্বলিত সংসদ সদস্য নূর আফরোজ আলীর সিদ্ধান্ত প্রস্তাব বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের সূত্র ধরে তারা এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এর আগে হলমার্ক নিয়ে সংসদে সরকার দলীয় সিনিয়র এমপিদের তোপের মুখে পড়েছে অর্থমন্ত্রী। এ সময় তারা বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগকে এ ঘটনায় দায়ী করে বক্তব্য দেন। এত বড় কেলেঙ্কারির পরেও কেন সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে অপসারণ করা হয়নি, তার কারণ জানতে চান তারা। ২০১০ সালে এ ঘটনার শুরু হলেও এতদিন কেন অর্থমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে চুপ ছিল তার কারণও জানতে চান তারা। একই বিষয়ে দোষীদের স্পষ্ট বিবৃতি জাতির সামনে উপস্থাপনের দাবি জানানো হয়।

তোফায়েল আহমেদ একই বিষয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘‘হলমার্ক কেলেঙ্কারি নিয়ে জনগণ যে মতামত দিচ্ছে তারও মূল্যায়ন করতে হবে। আমরা যখন আমাদের নির্বাচনী এলাকায় যাই মানুষ আমাদের প্রশ্ন করে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা কি করছি।’’

তিনি বলেন, ‘‘যে মুহূর্তে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো, সে সময়ে একটি কেলেঙ্কারি নিয়ে যে লেখালেখি হচ্ছে তার নিরসন হওয়া উচিত। যে ব্যাংকটি নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। সেখানকার পরিচালনা পর্ষদ তার দায় এড়াতে পারে না। ব্যাংক থেকে বলা হয়েছে দোষী ব্যক্তি আস্তে আস্তে জামানত ফিরিয়ে দিবেন। আমি মনে করি যে ব্যাংক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তার চেয়ারম্যানকে কেন রাখা হয়েছে? কেন তাকে অপসারণ করা হয়নি?’’

অপর এমপি মজিবুল হক চুন্নু  বলেন, ‘‘এতবড় ঘটনার পরেও সরকার কেন চুপ। যে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উপ-পরিচালকের সহযোগিতায় এটা হয়েছে এখনো কেনো তার মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়া হয়নি। কেন তাকে সরিয়ে নিরপেক্ষ লোক বসিয়ে তদন্ত করা হয়নি। দেশবাসী তা জানতে চায়।’’

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘‘এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ দেখিনি আমি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের স্পষ্ট বিবৃতি দিতে হবে।

আব্দুল জলিল বলেন, ‘‘আমি ব্যক্তিগতভাবে একটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে জড়িত। আমার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি উপরের মহলের সহযোগিতা ছাড়া এতবড় দূর্নীতি সম্ভব নয়। পুরো বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। ধামাচাপা দেয়া চলবে না।’’

এর আগে অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘‘হলমার্ক কেলেঙ্কারি নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। জালিয়াতির সুযোগে ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অনেক টাকা পাচার করা হয়েছে। দায়ীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় সাক্ষ্য নেয়া হচ্ছে। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিৎ। একই সঙ্গে জড়িতদের এমন শাস্তি দেয়া উচিত যাতে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে দেশে আর না ঘটে।

তিনি বলেন, ‘‘এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের ধরার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে আমরা দুইজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করেছি। ১৭ জনকে শোকজ করেছি। এ ধরনের শাস্তি অতীতে এদেশে আর কেউ দেখেছে বলে আমার জানা নেই।’’

তিনি বলেন, ‘‘হলমার্ককে আমরা মোটামুটি হলমার্ক কেলেঙ্কারি বলি। এটা ২০১০ সালে ধরা পড়ে। ২০১১ সালে সোনালী ব্যাংক দু’টি প্রতিবেদন দাখিল করে। কিন্তু পরে দেখা যায় এ দু’টি প্রতিবেদন অন্যায়ভাবে দাখিল করা হয়। এ হলমার্ক ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়। কিন্তু ঋণের নামে তারা অনেক টাকা পাচার করে। এটা তারা অন্যায় করেছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি অডিট পরিচালনা করে। তাদের অডিটেও হলমার্কের কেলেঙ্কারি ধরা পড়ে। তাদের প্রতিবেদনে তারা হলমার্কের ঘটনার সঙ্গে কিছু দুষ্টু লোক জড়িত বলে অভিযোগ করে। একই সঙ্গে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলে।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমরা ঘটনাটি তদন্তকারী সব প্রতিষ্ঠানকে বলেছি সুষ্ঠুভাবে তদন্তটি চালিয়ে নেয়ার জন্য। ইতিমধ্যে আমরা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছি। ঘটনার প্রেক্ষিতে লোকাল এলসি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন বিধান জারি করেছে। দুই দিনের মধ্যেই টাকা জমা দিতে হবে। আগে অনেক দিন পর টাকা জমা দিতে পারতো।’’

তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারি মালিকানাধীন চারটি বিশেষায়িত, ৩০টি বেসরকারি ও বিদেশি নয়টি ব্যাংক মিলিয়ে মোট ৪৭টি ব্যাংক কাজ করছে। শিগগিরই আরো চারটি ব্যাংক এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এছাড়া আরো দু‘টি বিশেষ ব্যাংক আছে। এগুলো কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক।’’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘বাংলাদেশে বর্তমানে মাত্র ৪০ শতাংশ মানুষকে ব্যাংক সেবা প্রদান করতে পারছে। সেবা বাড়াতে ব্যাংকের সংখ্যা আরো বাড়ানো দরকার।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমরা দেশে ক্ষুদ্র ঋণের প্রসারসহ কৃষি ও পল্লী উন্নয়নে কাজ করছি। এ নীতিমালায় আমাদের উন্নয়ন হয়েছে ও অর্থনীতির গতি সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের মুদ্রার মান ও প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ। রেমিট্যান্সও সন্তোষজনক। অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য সম্পূর্ণ ভালো আছে। তাই অর্থনীতি নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই।

তিনি বলেন, ‘‘নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ ও নওগাঁয় জেলা ব্যাংক গঠনের প্রস্তাব আমাদের কাছে এসেছে। আমরা এগুলো ভেবে দেখবো। তবে এ মুহূর্তে করা সম্ভব নয়।’’

এ বিষয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আব্দুল মতিন খসরু বলেন, ‘‘অর্থমন্ত্রী আজ কেন এ বিষয়ে কথা বলছেন। হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনা গত দুই বছর ধরে চলছে। ব্যাংক থেকে হাতিয়ে নেয়া টাকা কোথায় গেলো জাতি জানতে চায়। যেখানে তিন হাজার টাকা চুরি গেলে জেল হয়। সেখানে এত বড় কেলেঙ্কারির কি বিচার হবে আমরা দেখতে চাই।’’