চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ের পিতা রাজা ত্রিদিব রায়কে (৮০) মৃত্যুর দশ দিন পর পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে দাহ করা হয়েছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পরলোক গমন করেন। তার মৃত্যুর পর চাকমা রাজপরিবার এবং বিশিষ্ট পাহাড়ি নাগরিকদের পক্ষ থেকে মরদেহ বাংলাদেশে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়। সরকার তার মরদেহ বাংলাদেশে আনার অনুমতি দিলেও মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বিরোধিতা করায় একটি মহল তার মরদেহ প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়।
অন্যদিকে শনিবার পাহাড়ি-বাঙালি সংঘাতের কারণে পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকূল না থাকায় তার মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়নি। অনেকটা ক্ষোভে-অভিমানে চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ও পাকিস্তান যাননি। তবে রাজমাতা আরতি রায়সহ পরিবারের অন্য সদস্যরা ধর্মীয় কার্যাবলি সম্পাদন করতে পাকিস্তান গেছেন।
সামাজিক ওয়েবসাইট ফেইসবুকে চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় তার পিতার লাশ বাংলাদেশে আনতে না পারায় তার পিতার শুভাকাঙ্ক্ষীসহ সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। পাশাপাশি আগামী ৪ অক্টোবর রাজবাড়িতে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সাবেক চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় ১৯৩৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা রাজা নলিনাক্ষ রায়ের মৃত্যুর পর ১৯৫৪ সালে চাকমা সার্কেলের চিফ নিযুক্ত হন।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তিনি পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করেন। এ কারণে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তার বির্তকিত ভূমিকার জন্য বাংলাদেশ ছেড়ে পাকিস্তান চলে যান। সেখানে তিনি পাকিস্তানের পক্ষে বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ কূটনীতিকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে আমৃত্যু ত্রিদিব রায় পাকিস্তানে অবস্থান করেন।
Friday, September 28, 2012
প্রয়াত চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়কে পাকিস্তানে দাহ :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
প্রয়াত চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়কে পাকিস্তানে দাহ :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
আতাউস সামাদ, গণতন্ত্রের বার্তাবাহক ছিলেন যিনি :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
আতাউস সামাদ, গণতন্ত্রের বার্তাবাহক ছিলেন যিনি :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
আতাউস সামাদ তার সাংবাদিকতার সবচেয়ে কর্মমুখর সময়ে; সেই পাকিস্তানি
শাসনামল থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশে সামরিক শাসক এরশাদের স্বৈরশাসনে
বিরুপ পরিস্থিতির মধ্যে গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গী থেকে প্রতিবেদক ও লেখকের
ভূমিকা রেখেছেন বেতার ও সংবাদপত্রে, এমনকি ভিনদেশ ভারতেও এক জরুরি অবস্থার
কালে নানা প্রতিকূলতার সময়ে তিনি সাহসী সাংবাদিকতা করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ছাত্রাবস্থায় ফজলুল হক হল ছাত্র সংসদের প্রচার সম্পাদক ছিলেন তিনি। দৈনিক সংবাদে কাজ শুরু করারও আগে ৫০ এর দশকে 'সচিত্র সন্ধানী'তে কাজ শুরু করার মাধ্যমে সংবাদমাধ্যম জগতে পা রাখেন তিনি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর ১৯৫৯ সালে দৈনিক সংবাদে পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। বিভিন্ন সংবাদপত্র, রেডিও ও টেলিভিশনে কাজ করেছেন তিনি।
সংবাদের পর, আজাদ পাকিস্তান অবজার্ভারে কাজ করেন তিনি। ১৯৬৫ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান অবজারভারের প্রধান প্রতিবেদকের দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত ভারতের নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) বিশেষ সংবাদদাতা ছিলেন।
১৯৮২ সাল থেকে টানা এক যুগেরও বেশি সময়ের কর্মক্ষেত্র বিবিসি ছাড়ার পর সাপ্তাহিক 'এখন' নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন তিনি। একইসঙ্গে নম্বইয়ের দশক থেকেই বিভিন্ন সাপ্তাহিক ও দৈনিকে কলাম লেখা অব্যাহত রেখেছিলেন। এসব কলামেও গণতন্ত্র ও জনকল্যাণের রাজনীতির পথ ধরে জাতীয় ঐক্যের কথাই লিখে আসছিলেন বরেণ্য এই লেখক।
সর্বশেষ গত ২০০৪ সাল থেকে দৈনিক আমার দেশের উপদেষ্টা সম্পাদকের দায়িত্বে
ছিলেন। পালন করে আসছিলেন বেসরকারি টিভি চ্যানেল এনটিভি'র প্রধান নির্বাহীর
দায়িত্ব।
পেশাদার সাংবাদিকই শুধু নন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্বপালন করেন তিনি। ১৯৬৯ থেকে ৭০ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়নের (ইপিইউজে) সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, এছাড়া জাতীয় প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য ছিলেন তিনি।
গত বছর বিবিসি'র বাংলা বিভাগের জন্য তিনি লিখেছিলেন তার এই সাংবাদিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা, ''চাপ আর বাধার মধ্যে কাজ করার দুর্ভাগ্য আমার বরাবরের। আমি যখন প্রথম কোন দৈনিক সংবাদপত্রে (সংবাদ) কাজ শুরু করি (১৯৫৯) তখন জেনারেল আইয়ুব খানের সামরিক শাসন চলছিল। ১০ বছর শাসন চালিয়ে আইয়ুব খান যখন বিদায় নিলেন তখন তাঁর জায়গা দখল করলেন আরেক সেনাশাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান। এ লোক তো যুদ্ধ ও গণহত্যা চালিয়ে দিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার বিশেষ সংবাদদাতার চাকরি নিয়ে গেলাম ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লী। সেখানে থাকতে থাকতেই মিসেস ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর গদি রক্ষার জন্য ১৯৭৫-এ জারি করলেন জরুরি অবস্থা। সেই সাথে প্রয়োগ করলেন কঠোর সেন্সরশিপ।''
''১৯৭৬-এর আগস্টে যখন দেশে ফিরলাম তখন এখানে চলছে আবারও সামরিক আইনের শাসন। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২’র মার্চ পর্যন্ত স্বাভাবিক আইনে দেশ চলছিল, একটা নির্বাচিত সরকারও ছিল দেশে কিন্তু সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা দখল করলেন ঐ মাসে এবং সামরিক শাসন জারি করলেন। তিনি দেশের উপর বসে থাকলেন ১৯৯০-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত। আর আমি বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস নিউজ-এর জন্য সংবাদদাতা হিসাবে ঢাকায় কাজ শুরু করি ১৯৮২ সালের অক্টোবর থেকে অর্থাৎ মার্শাল ল’র মধ্যে। অর্থাৎ যুদ্ধ, সেন্সরশিপ, সামরিক শাসন ও অগণতান্ত্রিক জরুরি আইনের শাসনের মধ্যে দিয়ে কেটেছে আমার রিপোর্টার জীবনের প্রায় সবটা সময়।''
বুধবার রাতে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে রাত নয়টা ২৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানালেন, আতাউস সামাদ আর নেই। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে গত কদিন ধরে যখন হাসপাতালে এই কিংবদন্তী সাংবাদিক জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন, আরো অনেকের মতো তখন সেখানে বুধবার রাতে ছুটে গিয়েছিলেন তার সমকালের আরেক প্রখ্যাত সাংবাদিক শফিক রেহমান।
নব্বইয়ের দশকে স্বৈরশাসক এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময়ে বিবিসি'র বাংলাদেশ সংবাদদাতা হিসেবে যখন আতাউস সামাদের কন্ঠের অপেক্ষায় থাকতো দেশবাসী, তখন একই সঙ্গে অপেক্ষা ছিল শফিক রেহমান সম্পাদিত সাপ্তাহিক যায়যায়দিনের ।
বুধবার রাতে হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে জনাব রেহমান বার্তা২৪ ডটনেটকে বললেন, ''আতাউস সামাদের ব্যাপারে আমি সবকিছুর আগে বলবো শেষ পর্যন্ত তিনি ছিলেন একজন নিখুঁত প্রতিবেদক। একটা গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গী থেকে তিনি প্রতিবেদন করতেন, তথ্য ও শৈলীর দিক থেকে সাফল্যের সঙ্গে চেষ্টা করতেন সেই প্রতিবেদনটিকে পূর্ণাঙ্গ করে তুলতে।''
তিনি বলেন, এরশাদের শাসনামলে দেশে আত্মগোপনে থেকেই বিবিসি'র বাংলাদেশ সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আতাউস সামাদ এদেশে সাহসী সাংবাদিকতার বিরাট নজির তৈরি করেছেন।
শফিক রেহমান বলেন, ''তারওপর আমাদের এখানে যেটা সাংবাদিকদের মধ্যে দুর্লভ, সেই ইংরেজির ওপর চূড়ান্ত দখল ছিল তার। সাংবাদিকতার ভাষা হিসেবে ইংরেজিতে তিনি দক্ষ ছিলেন।''
জনাব রেহমান বললেন, কলাম লেখক হিসেবে বাংলাদেশে এখন খ্যাতিমান প্রায় সবার মতো আতাউস সামাদও শুরু করেছিলেন সাপ্তাহিক যায়যায়দিন দিয়েই। 'এ কালের বয়ান' ও 'আটলান্টিকের দুই তীরে' নামে দুটি কলামে নিয়মিত লিখতেন তিনি।
পঁচাত্তর বছর বয়সে বুধবার রাতে ইন্তেকাল হলো বরেণ্য সাংবাদিক ও লেখক
আতাউস সামাদের, ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ১৯৩৭ সালের ১৬
নভেম্বর বৃহত্তর ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জের সাতদরিয়া গ্রামে যেই জীবনের শুরু,
বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় এক কিংবদন্তির সাফল্য নিয়ে সেই জীবন-অভিযাত্রার
সমাপ্তি ঘটলো।
তার সমকালীন বিখ্যাত সাংবাদিকদের একজন; শফিক রেহমান শোকার্ত কন্ঠে এই প্রতিবেদককে জানালেন, সাংবাদিকতার যেই ব্যাপারটি অন্য যে কারো থেকে তাকে উঁচুতে নিয়ে গেছে- তা হলো চরম প্রতিকূল সব পরিস্থিতিতেও গণতান্ত্রিক প্রচেষ্টা ও মানুষের রাজনৈতিক অধিকারের দৃষ্টিভঙ্গী থেকেই সংবাদ পরিবেশন করতেন তিনি। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক বার্তাবাহকের দায়িত্ব সাফল্যের সঙ্গে ও নিখুঁতভাবে তিনি পালন করেছেন।
বিশেষত, নব্বইয়ের দশকে সামরিক স্বৈরশাসক এইচএম এরশাদের আমলে যখন দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ছিলনা- তখন বিবিসি'র বাংলাদেশ সংবাদদাতা হিসেবে তার কন্ঠস্বরই ছিল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের খবর জানতে নিরুপায় মানুষের একমাত্র ভরসা।
লেখক ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন অন্য এক দিকে। তিনি বার্তা২৪ ডটনেটকে বললেন, আতাউস সামাদ হচ্ছেন বাংলাদেশের সেই কমসংখ্যক প্রথিতযশা সাংবাদিকদের একজন- যারা কিনা একইসঙ্গে সংবাদপত্র, বেতার ও টেলিভিশনে নানা উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে কাজ করেছেন।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব শওকত মাহমুদ বললেন, “তিনি থাকবেন না, কিন্তু বাংলাদেশ চলবে-এটি ভাবতে পারি না। তিনি সব সময় তরুণ সাংবাদিকদের পরামর্শ দিতেন। তিনি ছিলেন একজন সফল সাংবাদিক। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সূচনা তার হাত দিয়েই হয়েছিল। সব মিলিয়ে জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।”
তরুণ লেখক ও দৈনিক সমকালের সহকারি সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ বললেন, ''তিনি যে কোনো লেখালিখির ব্যাপারে খুবই নিখুঁত হতে প্রাধান্য দিতেন। আমাদের এখানে বা যেকোনো জায়গায় কলাম লিখতেন তিনি- সবখানেই পত্রিকা প্রেসে পাঠানোর আগেও দীর্ঘক্ষণ ফোনে বলতেন যে, কিভাবে তার লেখাটিতে আরো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়।''
তবে দেশের বিদ্যমান আর্থ-রাজনৈতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তার সাম্প্রতিক বছরগুলোর কলামে প্রায়ই হতাশা ও আশঙ্কার কথা থাকতো; এমনটি খেয়াল করেছিলেন তরুণ লেখক ও সাংবাদিক খোমেনী ইহসান। দৈনিক আমার দেশ পাঠকমেলার কেন্দ্রীয় পরিচালক জনাব খোমেনী বললেন, ''একজন কনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে তাকে কাছ থেকে দেখেছি বিগত সাড়ে তিন বছর। সারল্য, বিনয় ও রসবোধের সমন্বয়ে ব্যক্তিত্বের অধিকারী আতাউস সামাদ সাহেবের সাংবাদিক জীবনের যেই মহান সফলতা ও বাংলাদেশের শাসক শ্রেণীর মধ্যে তার যে অবস্থান তৈরি হয়েছিল তা মিলিয়ে তার হতাশ হওয়ার কোন কারণই নেই। কিন্তু স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের একজন অসামান্য সৈনিক হিসেবে তিনি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। তার শেষের দিকের কলামগুলোতে তিনি সেই হতাশাকে চেপে রাখতে পারেন নি। বাংলাদেশের বিরাজমান পরিস্থিতি সব জ্যেষ্ঠ নাগরিককেই হতাশ করে নিশ্চয়।''
তার সমকালীন বিখ্যাত সাংবাদিকদের একজন; শফিক রেহমান শোকার্ত কন্ঠে এই প্রতিবেদককে জানালেন, সাংবাদিকতার যেই ব্যাপারটি অন্য যে কারো থেকে তাকে উঁচুতে নিয়ে গেছে- তা হলো চরম প্রতিকূল সব পরিস্থিতিতেও গণতান্ত্রিক প্রচেষ্টা ও মানুষের রাজনৈতিক অধিকারের দৃষ্টিভঙ্গী থেকেই সংবাদ পরিবেশন করতেন তিনি। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক বার্তাবাহকের দায়িত্ব সাফল্যের সঙ্গে ও নিখুঁতভাবে তিনি পালন করেছেন।
বিশেষত, নব্বইয়ের দশকে সামরিক স্বৈরশাসক এইচএম এরশাদের আমলে যখন দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ছিলনা- তখন বিবিসি'র বাংলাদেশ সংবাদদাতা হিসেবে তার কন্ঠস্বরই ছিল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের খবর জানতে নিরুপায় মানুষের একমাত্র ভরসা।
লেখক ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন অন্য এক দিকে। তিনি বার্তা২৪ ডটনেটকে বললেন, আতাউস সামাদ হচ্ছেন বাংলাদেশের সেই কমসংখ্যক প্রথিতযশা সাংবাদিকদের একজন- যারা কিনা একইসঙ্গে সংবাদপত্র, বেতার ও টেলিভিশনে নানা উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে কাজ করেছেন।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব শওকত মাহমুদ বললেন, “তিনি থাকবেন না, কিন্তু বাংলাদেশ চলবে-এটি ভাবতে পারি না। তিনি সব সময় তরুণ সাংবাদিকদের পরামর্শ দিতেন। তিনি ছিলেন একজন সফল সাংবাদিক। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সূচনা তার হাত দিয়েই হয়েছিল। সব মিলিয়ে জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।”
তরুণ লেখক ও দৈনিক সমকালের সহকারি সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ বললেন, ''তিনি যে কোনো লেখালিখির ব্যাপারে খুবই নিখুঁত হতে প্রাধান্য দিতেন। আমাদের এখানে বা যেকোনো জায়গায় কলাম লিখতেন তিনি- সবখানেই পত্রিকা প্রেসে পাঠানোর আগেও দীর্ঘক্ষণ ফোনে বলতেন যে, কিভাবে তার লেখাটিতে আরো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়।''
তবে দেশের বিদ্যমান আর্থ-রাজনৈতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তার সাম্প্রতিক বছরগুলোর কলামে প্রায়ই হতাশা ও আশঙ্কার কথা থাকতো; এমনটি খেয়াল করেছিলেন তরুণ লেখক ও সাংবাদিক খোমেনী ইহসান। দৈনিক আমার দেশ পাঠকমেলার কেন্দ্রীয় পরিচালক জনাব খোমেনী বললেন, ''একজন কনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে তাকে কাছ থেকে দেখেছি বিগত সাড়ে তিন বছর। সারল্য, বিনয় ও রসবোধের সমন্বয়ে ব্যক্তিত্বের অধিকারী আতাউস সামাদ সাহেবের সাংবাদিক জীবনের যেই মহান সফলতা ও বাংলাদেশের শাসক শ্রেণীর মধ্যে তার যে অবস্থান তৈরি হয়েছিল তা মিলিয়ে তার হতাশ হওয়ার কোন কারণই নেই। কিন্তু স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের একজন অসামান্য সৈনিক হিসেবে তিনি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। তার শেষের দিকের কলামগুলোতে তিনি সেই হতাশাকে চেপে রাখতে পারেন নি। বাংলাদেশের বিরাজমান পরিস্থিতি সব জ্যেষ্ঠ নাগরিককেই হতাশ করে নিশ্চয়।''
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ছাত্রাবস্থায় ফজলুল হক হল ছাত্র সংসদের প্রচার সম্পাদক ছিলেন তিনি। দৈনিক সংবাদে কাজ শুরু করারও আগে ৫০ এর দশকে 'সচিত্র সন্ধানী'তে কাজ শুরু করার মাধ্যমে সংবাদমাধ্যম জগতে পা রাখেন তিনি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর ১৯৫৯ সালে দৈনিক সংবাদে পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। বিভিন্ন সংবাদপত্র, রেডিও ও টেলিভিশনে কাজ করেছেন তিনি।
সংবাদের পর, আজাদ পাকিস্তান অবজার্ভারে কাজ করেন তিনি। ১৯৬৫ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান অবজারভারের প্রধান প্রতিবেদকের দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত ভারতের নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) বিশেষ সংবাদদাতা ছিলেন।
১৯৮২ সাল থেকে টানা এক যুগেরও বেশি সময়ের কর্মক্ষেত্র বিবিসি ছাড়ার পর সাপ্তাহিক 'এখন' নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন তিনি। একইসঙ্গে নম্বইয়ের দশক থেকেই বিভিন্ন সাপ্তাহিক ও দৈনিকে কলাম লেখা অব্যাহত রেখেছিলেন। এসব কলামেও গণতন্ত্র ও জনকল্যাণের রাজনীতির পথ ধরে জাতীয় ঐক্যের কথাই লিখে আসছিলেন বরেণ্য এই লেখক।
পেশাদার সাংবাদিকই শুধু নন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্বপালন করেন তিনি। ১৯৬৯ থেকে ৭০ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়নের (ইপিইউজে) সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, এছাড়া জাতীয় প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য ছিলেন তিনি।
গত বছর বিবিসি'র বাংলা বিভাগের জন্য তিনি লিখেছিলেন তার এই সাংবাদিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা, ''চাপ আর বাধার মধ্যে কাজ করার দুর্ভাগ্য আমার বরাবরের। আমি যখন প্রথম কোন দৈনিক সংবাদপত্রে (সংবাদ) কাজ শুরু করি (১৯৫৯) তখন জেনারেল আইয়ুব খানের সামরিক শাসন চলছিল। ১০ বছর শাসন চালিয়ে আইয়ুব খান যখন বিদায় নিলেন তখন তাঁর জায়গা দখল করলেন আরেক সেনাশাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান। এ লোক তো যুদ্ধ ও গণহত্যা চালিয়ে দিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার বিশেষ সংবাদদাতার চাকরি নিয়ে গেলাম ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লী। সেখানে থাকতে থাকতেই মিসেস ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর গদি রক্ষার জন্য ১৯৭৫-এ জারি করলেন জরুরি অবস্থা। সেই সাথে প্রয়োগ করলেন কঠোর সেন্সরশিপ।''
''১৯৭৬-এর আগস্টে যখন দেশে ফিরলাম তখন এখানে চলছে আবারও সামরিক আইনের শাসন। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২’র মার্চ পর্যন্ত স্বাভাবিক আইনে দেশ চলছিল, একটা নির্বাচিত সরকারও ছিল দেশে কিন্তু সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা দখল করলেন ঐ মাসে এবং সামরিক শাসন জারি করলেন। তিনি দেশের উপর বসে থাকলেন ১৯৯০-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত। আর আমি বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস নিউজ-এর জন্য সংবাদদাতা হিসাবে ঢাকায় কাজ শুরু করি ১৯৮২ সালের অক্টোবর থেকে অর্থাৎ মার্শাল ল’র মধ্যে। অর্থাৎ যুদ্ধ, সেন্সরশিপ, সামরিক শাসন ও অগণতান্ত্রিক জরুরি আইনের শাসনের মধ্যে দিয়ে কেটেছে আমার রিপোর্টার জীবনের প্রায় সবটা সময়।''
বুধবার রাতে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে রাত নয়টা ২৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানালেন, আতাউস সামাদ আর নেই। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে গত কদিন ধরে যখন হাসপাতালে এই কিংবদন্তী সাংবাদিক জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন, আরো অনেকের মতো তখন সেখানে বুধবার রাতে ছুটে গিয়েছিলেন তার সমকালের আরেক প্রখ্যাত সাংবাদিক শফিক রেহমান।
নব্বইয়ের দশকে স্বৈরশাসক এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময়ে বিবিসি'র বাংলাদেশ সংবাদদাতা হিসেবে যখন আতাউস সামাদের কন্ঠের অপেক্ষায় থাকতো দেশবাসী, তখন একই সঙ্গে অপেক্ষা ছিল শফিক রেহমান সম্পাদিত সাপ্তাহিক যায়যায়দিনের ।
বুধবার রাতে হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে জনাব রেহমান বার্তা২৪ ডটনেটকে বললেন, ''আতাউস সামাদের ব্যাপারে আমি সবকিছুর আগে বলবো শেষ পর্যন্ত তিনি ছিলেন একজন নিখুঁত প্রতিবেদক। একটা গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গী থেকে তিনি প্রতিবেদন করতেন, তথ্য ও শৈলীর দিক থেকে সাফল্যের সঙ্গে চেষ্টা করতেন সেই প্রতিবেদনটিকে পূর্ণাঙ্গ করে তুলতে।''
তিনি বলেন, এরশাদের শাসনামলে দেশে আত্মগোপনে থেকেই বিবিসি'র বাংলাদেশ সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আতাউস সামাদ এদেশে সাহসী সাংবাদিকতার বিরাট নজির তৈরি করেছেন।
শফিক রেহমান বলেন, ''তারওপর আমাদের এখানে যেটা সাংবাদিকদের মধ্যে দুর্লভ, সেই ইংরেজির ওপর চূড়ান্ত দখল ছিল তার। সাংবাদিকতার ভাষা হিসেবে ইংরেজিতে তিনি দক্ষ ছিলেন।''
জনাব রেহমান বললেন, কলাম লেখক হিসেবে বাংলাদেশে এখন খ্যাতিমান প্রায় সবার মতো আতাউস সামাদও শুরু করেছিলেন সাপ্তাহিক যায়যায়দিন দিয়েই। 'এ কালের বয়ান' ও 'আটলান্টিকের দুই তীরে' নামে দুটি কলামে নিয়মিত লিখতেন তিনি।
স্ত্রীর বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ব্যাবসায়ীর :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
স্ত্রীর বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ব্যাবসায়ীর :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
দ্বিতীয় স্ত্রী মৌসুমি আক্তার মৌ ও তাদের প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার বাবুল
মিলে আল আজাদ মাসুদ নামে ব্যবসায়ীর আড়াই কেটি টাকা আত্মসাত করেছেন বলে
অভিযোগ করেছেন ওই ব্যবসায়ী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ ক্র্যাইম রিপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েসনে (ক্র্যাব) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।
গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মাসুদ জানান, প্রথম স্ত্রীর সন্তান না হওয়ায় তার অনুমতি নিয়ে মৌকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের ছয় বছরের একটি ছেলে ও চার বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। কিন্তু ম্যানেজার বাবুলের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পরেন মৌ। তারা পরস্পর মিলে ব্যাংকের সই জাল করে ও বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন একাউন্ট থেকে আড়াই কোটি টাকা নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এ ব্যপারে উত্তরা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, ম্যানেজার বাবুল, মৌসহ অন্যরা কয়েকবার তাকে অপহরণের চেষ্টা চালান ও হত্যার দেন। এ কারণে তিনি ও তার প্রথম স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ ক্র্যাইম রিপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েসনে (ক্র্যাব) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।
গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মাসুদ জানান, প্রথম স্ত্রীর সন্তান না হওয়ায় তার অনুমতি নিয়ে মৌকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের ছয় বছরের একটি ছেলে ও চার বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। কিন্তু ম্যানেজার বাবুলের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পরেন মৌ। তারা পরস্পর মিলে ব্যাংকের সই জাল করে ও বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন একাউন্ট থেকে আড়াই কোটি টাকা নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এ ব্যপারে উত্তরা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, ম্যানেজার বাবুল, মৌসহ অন্যরা কয়েকবার তাকে অপহরণের চেষ্টা চালান ও হত্যার দেন। এ কারণে তিনি ও তার প্রথম স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
পদ্মা প্রকল্প নিয়ে স্বাধীন অনুসন্ধান হচ্ছে: দুদক :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
পদ্মা প্রকল্প নিয়ে স্বাধীন অনুসন্ধান হচ্ছে: দুদক :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন বলেছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির
অভিযোগের ব্যাপারে আলাদা টিম গঠন করে স্বাধীনভাবে অনুসন্ধান কাজ চালানো
হচ্ছে। এই তদন্তের তথ্য শেয়ারের প্রশ্নে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে
বিষয়গুলো ঠিক করা হবে বলেও বলা হচ্ছে।
একই সঙ্গে কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের আইনের ভেতর থেকেই এই তদন্ত বা সব কিছু করতে হবে।
অন্যদিকে দুর্নীতি বিরোধী বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি
ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ শাখা বা টিআইবি বলেছে, বিশ্ব ব্যাংকের বিশেষজ্ঞ
দলের সাথে সহায়তার ভিত্তিতে এবং স্বচ্ছভাবে তদন্ত করা হলে তখন তা
গ্রহণযোগ্য হবে।
দ্বিতীয় দফায় দেয়া বিশ্ব ব্যাংকের বিবৃতিতে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির
অভিযোগ তদন্তের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। অর্থায়ন প্রশ্নে বিশ্বব্যাংকের
শর্ত ছিল, বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে অভিযোগের তদন্ত করতে হবে।
একই সঙ্গে এই তদন্তের সব তথ্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বিশেষজ্ঞদের নিয়ে
গঠিত একটি প্যানেলের কাছে দিতে হবে। আর এই প্যানেল গঠন করবে বিশ্ব ব্যাংক।
বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান অবশ্য বলেছেন,
কমিশন আলাদা টিম গঠন করেই অভিযোগে অনুসন্ধান করছে। এছাড়া তদন্ত টিম এবং
আন্তর্জাতিক প্যানেলের কার্যপরিধিও বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে আগেই ঠিক হয়ে
রয়েছে।
এরপরও বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি দল শিগগিরই ঢাকায় আসছে এবং তখন বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরো বলেছেন, ‘তদন্ত, অনুসন্ধান যাই হোক না কেন, তা বাংলাদেশের আইনের আওতায় হতে হবে।’
তবে দুর্নীতি বিরোধী বেসরকারি সংস্থা টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক
ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, দুর্নীতি দমন কমিশন এখন যেভাবে তদন্ত করছে, তাতে
প্রশ্ন বা সন্দেহ থাকতে পারে।
তিনি বলেছেন, পদ্মা সেতুর বিষয় ছাড়াও বড় কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে
রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে দুদক তদন্ত করতে পারবে। এমন অবস্থানের
ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে।
ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাব অনুযায়ী আন্তর্জাতিক
প্যানেলের সঙ্গে সহায়তার মাধ্যমে তদন্ত হলে, তখন তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান অবশ্য দাবি করেছেন, তাদের
তদন্ত প্রভাব মুক্তভাবে এবং স্বচ্ছ ও স্বাধীনভাবে চলছে। একই সঙ্গে তিনি
উল্লেখ করেছেন, প্রয়োজনে তদন্তের জন্য নতুন টিম গঠনের সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, যে সব সরকারি কর্মকর্তা বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে,
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের ছুটিতে পাঠাতে হবে। এটি ছিল বিশ্বব্যাংকের
বড় শর্ত। ইতিমধ্যে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন পদত্যাগ
করেছেন। কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাকেও ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।
টিআইবির ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, পদে থেকে তদন্ত প্রভাবিত করার সুযোগ
বেশি থাকে। সে কারণে সরিয়ে দেয়ার শর্ত এসেছে। এটা আন্তর্জাতিকভাবে
গ্রহণযোগ্য বলে তিনি মনে করেন।
কিন্তু ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেছেন, দুর্নীতি হয়নি বা প্রমাণ হয়নি বলে
বিশ্ব ব্যাংক আবার ফিরে এসেছে, এ ধরনের নানান বক্তব্য সরকারের শীর্ষসহ
বিভিন্ন পর্যায় থেকে আসছে।
এগুলো ভুল নির্দেশনা দিচ্ছে এবং সে কারণে বিশ্বব্যাংক দ্বিতীয় দফা বিবৃতি দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেছেন, শর্ত পূরণের পাশাপাশি সরকারের আন্তরিকতার বিষয়ও তুলে ধরতে হবে। সূত্র: বিবিসি
প্রেস ক্লাবে আতাউস সামাদের শেষ জানাজা ও শ্রদ্ধা :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
প্রেস ক্লাবে আতাউস সামাদের শেষ জানাজা ও শ্রদ্ধা :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
বরেণ্য সাংবাদিক ও লেখক আতাউস সামাদের দ্বিতীয় ও শেষ নামাজে জানাজা
অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে। বিকেল সাড়ে তিনটায় এ জানাজায়
তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী, অনুজপ্রতীম সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেন।
পরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা
জানানো হয়।
গুলশানের আজাদ মসজিদে প্রথম জানাজা শেষে বিকেল তিনটার দিকে তার মরদেহ নিয়ে আসা হয় জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়নতের মঞ্চে। প্রেস ক্লাব নেতারাসহ কয়েকজন সাংবাদিক এ সময় মরহুমকে স্মরণ করে সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণ করেন।
জানাজা শেষে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সাংবাদিক সংগঠনসহ রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের তরফে তার কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এখান থেকে তার মরদেহ দাফনের জন্য আজিমপুর কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হবে।
৭৫ বছর বয়সে গত বুধবার ইন্তেকাল করার আগে বরেণ্য এই সাংবাদিক সর্বশেষ দৈনিক আমার দেশে উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
দৈনিক আমার দেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার স্মরণে আগামী তিনদিন পত্রিকাটির কারওয়ান বাজার কার্যালয়ে শোক বই খোলা থাকবে।
গুলশানের আজাদ মসজিদে প্রথম জানাজা শেষে বিকেল তিনটার দিকে তার মরদেহ নিয়ে আসা হয় জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়নতের মঞ্চে। প্রেস ক্লাব নেতারাসহ কয়েকজন সাংবাদিক এ সময় মরহুমকে স্মরণ করে সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণ করেন।
জানাজা শেষে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সাংবাদিক সংগঠনসহ রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের তরফে তার কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এখান থেকে তার মরদেহ দাফনের জন্য আজিমপুর কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হবে।
৭৫ বছর বয়সে গত বুধবার ইন্তেকাল করার আগে বরেণ্য এই সাংবাদিক সর্বশেষ দৈনিক আমার দেশে উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
দৈনিক আমার দেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার স্মরণে আগামী তিনদিন পত্রিকাটির কারওয়ান বাজার কার্যালয়ে শোক বই খোলা থাকবে।
ঋণ নয় পুরোপুরি জালিয়াতি: কাশেম হুমায়ুন :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
ঋণ নয় পুরোপুরি জালিয়াতি: কাশেম হুমায়ুন :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
সোনালী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের সদস্য কাশেম হুমায়ুন বলেছেন, “হলমার্ক গ্রুপ রূপসী বাংলা হোটেল শাখা থেকে যে টাকা নিয়েছে, তা কোনো ঋণ নয়, পুরোপুরি জালিয়াতি। ওই টাকা ব্যাংকের আন্তর্জাতিক বিভাগ থেকে নেয়া হয়েছে।”
সোনালী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের সদস্য কাশেম হুমায়ুন বলেছেন, “হলমার্ক গ্রুপ রূপসী বাংলা হোটেল শাখা থেকে যে টাকা নিয়েছে, তা কোনো ঋণ নয়, পুরোপুরি জালিয়াতি। ওই টাকা ব্যাংকের আন্তর্জাতিক বিভাগ থেকে নেয়া হয়েছে।”
বৃহস্পতিবার সকালে দুদক কার্ালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, “ব্যাংকের নিয়মানুয়ী বছরে দুই বার ব্যাংক অডিট করার কথা থাকলেও ওই শাখা দেড় বছরে একবারও অডিট হয়নি।”
দুদকের সিনিয়র উপপরিচালক মীর জয়নুল আবদিন শিবলির নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি
অনুসন্ধান দল তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তারা হলেন: মো. শহীদুল মিয়া ও
কাশেম হুমায়ূন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়।
তবে আজকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হলেও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান
কাজী বাহারুল ইসলাম অপারগতা প্রকাশ করে সময় চেয়ে আবেদন করেছেন বলে
জানিয়েছে দুদক।
আর সোনালী ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ কুমার দত্ত দুদকে সশরীরে না এসে লিখিত বক্তব্য পাঠিয়েছেন।
দুদক জানায়, হলমার্ক গ্রুপের অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সোনালী ব্যাংকের
পরিচালানা পর্ষদের কোনো প্রভাব আছে কিনা তাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার ঋণপত্র জালিয়াতির ঘটনায় সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ
পরিচালনা পর্ষদের ১১ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস পাঠায় দুদক।
বুধবার পরিচালনা পর্ষদের ছয় সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।
মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নালিশ দিলেন লাঞ্ছিত এমপি লতিফ :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নালিশ দিলেন লাঞ্ছিত এমপি লতিফ :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
দ্বিতীয় দফায় দলীয় কর্মীদের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার পর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দলের অপর নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর
বিরুদ্ধে নালিশ করেছেন চট্টগ্রামের সরকারদলীয় সাংসদ ও চেম্বার অব কমার্সের
সাবেক প্রেসিডেন্ট এম এ লতিফ।
নিজের উপর হামলা এবং চেম্বার ভবনের ভাঙচুরের বিচার চেয়ে বিদেশে অবস্থানরত দলীয় প্রধানের কাছেও ফোন করেছেন বলে সাংবাদিকদের জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে হামলার ঘটনার পরপরই চেম্বার কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন লতিফ। এতে চেম্বারের বর্তমান সভাপতি জাতীয় পার্টি নেতা মোর্শেদ মুরাদ ইব্রাহিম, সহ-সভাপতি মাহবুবুল আলম, চেম্বার পরিচালক ওয়াহিদ সিরাজ স্বপন, মাহফুজুল হক শাহ, সৈয়দ ছগির আহম্মদ, এস এম শফি উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত চেম্বার সভাপতি মোর্শেদ মুরাদ জানান, হামলার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যেই স্বরাস্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে ।
সংবাদ সম্মেলনে লতিফ হামলা এবং ভাঙচুরের জন্য মহিউদ্দিনের অনুসারী ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে দায়ী করেছেন। এ সময় পুলিশের নীরব ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি।
সাংসদ লতিফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন। সেখানেও তাকে এ ঘটনার বিষয়ে ওয়াকিবহাল করার ব্যবস্থা করেছি।
তিনি বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী আমার বিরুদ্ধে, ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ-যুবলীগের কিছু সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়েছেন। তাদের ব্যবহার করে মহিউদ্দিন দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।
সমাবেশে হামলার জন্য পুলিশের সমালোচনা করে সাংসদ বলেন, “আমরা যখন শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করছিলাম, তখন দেখেছি কিছু লোক হাতে লাঠি নিয়ে মাথায় লাল হলুদ কাপড় বেঁধে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। আমরা ব্যবসায়ীরা ভদ্রলোক। পুলিশ আমাদের মতো ভদ্রলোকদের সরে যেতে বলেছে আর লাঠিয়াল বাহিনীকে চেম্বারের সামনে আসার সুযোগ করে দিয়েছে।”
দেশটা আজ মগের মুল্লুক হয়ে গেছে মন্তব্য করে লতিফ বলেন, মহিউদ্দিনের লেলিয়ে দেয়া মাস্তান বাহিনী ব্যবসায়ীদের উপর কিভাবে হামলা করেছে সেটি সবাই দেখেছেন। তিনি দুটি মামলা করেছেন। আমরা আদালতে সব অভিযোগের জবাব দেব।
এর আগে সকালে চেম্বার ভবনের সামনে ১৪ দলের সমাবেশে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইনামুল হক দানু কর্তৃক সাংসদ লতিফকে দলের সব কর্মকাণ্ডে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা প্রসঙ্গে লতিফ বলেন, “আমাকে অবাঞ্ছিত করার ক্ষমতা মহিউদ্দিন কিংবা দানুর নেই। প্রধানমন্ত্রী আমাদের দলের সভানেত্রী। সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।”
নিজের উপর হামলা এবং চেম্বার ভবনের ভাঙচুরের বিচার চেয়ে বিদেশে অবস্থানরত দলীয় প্রধানের কাছেও ফোন করেছেন বলে সাংবাদিকদের জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে হামলার ঘটনার পরপরই চেম্বার কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন লতিফ। এতে চেম্বারের বর্তমান সভাপতি জাতীয় পার্টি নেতা মোর্শেদ মুরাদ ইব্রাহিম, সহ-সভাপতি মাহবুবুল আলম, চেম্বার পরিচালক ওয়াহিদ সিরাজ স্বপন, মাহফুজুল হক শাহ, সৈয়দ ছগির আহম্মদ, এস এম শফি উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত চেম্বার সভাপতি মোর্শেদ মুরাদ জানান, হামলার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যেই স্বরাস্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে ।
সংবাদ সম্মেলনে লতিফ হামলা এবং ভাঙচুরের জন্য মহিউদ্দিনের অনুসারী ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে দায়ী করেছেন। এ সময় পুলিশের নীরব ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি।
সাংসদ লতিফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন। সেখানেও তাকে এ ঘটনার বিষয়ে ওয়াকিবহাল করার ব্যবস্থা করেছি।
তিনি বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী আমার বিরুদ্ধে, ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ-যুবলীগের কিছু সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়েছেন। তাদের ব্যবহার করে মহিউদ্দিন দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।
সমাবেশে হামলার জন্য পুলিশের সমালোচনা করে সাংসদ বলেন, “আমরা যখন শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করছিলাম, তখন দেখেছি কিছু লোক হাতে লাঠি নিয়ে মাথায় লাল হলুদ কাপড় বেঁধে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। আমরা ব্যবসায়ীরা ভদ্রলোক। পুলিশ আমাদের মতো ভদ্রলোকদের সরে যেতে বলেছে আর লাঠিয়াল বাহিনীকে চেম্বারের সামনে আসার সুযোগ করে দিয়েছে।”
দেশটা আজ মগের মুল্লুক হয়ে গেছে মন্তব্য করে লতিফ বলেন, মহিউদ্দিনের লেলিয়ে দেয়া মাস্তান বাহিনী ব্যবসায়ীদের উপর কিভাবে হামলা করেছে সেটি সবাই দেখেছেন। তিনি দুটি মামলা করেছেন। আমরা আদালতে সব অভিযোগের জবাব দেব।
এর আগে সকালে চেম্বার ভবনের সামনে ১৪ দলের সমাবেশে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইনামুল হক দানু কর্তৃক সাংসদ লতিফকে দলের সব কর্মকাণ্ডে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা প্রসঙ্গে লতিফ বলেন, “আমাকে অবাঞ্ছিত করার ক্ষমতা মহিউদ্দিন কিংবা দানুর নেই। প্রধানমন্ত্রী আমাদের দলের সভানেত্রী। সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।”
সবার জন্য মাতৃভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে: প্রতিমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
সবার জন্য মাতৃভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে: প্রতিমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
প্রাথমিক পর্যায়ে সকল জাতিগোষ্ঠীর শিশুদরে জন্যে মাতৃভাষায় শিক্ষার
ব্যবস্থা করা হবে উল্লেখ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো.
মোতাহের হোসেন বলেছেন, ‘‘সকল জাতি গোষ্ঠীর শিশুদের জন্যে প্রাথমিক পর্যায়ে
মাতৃভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। এটা আমাদের জাতীয় শিক্ষানীতিতেও
স্বীকৃত হয়েছে। আর এ কাজে সবার সহযোগিতা দরকার।’’
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভ এবং ব্র্যাক আয়োজিত ‘অ্যাসেসমেন্ট অব সাপ্লিমেন্টারী ম্যাটেরিয়ালস্ অব ব্র্যাক এডুকেশন ফর এথনিক চিরড্রেন’ এর গবেষণার সার সংক্ষেপ উপস্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘‘আমাদের একটা ধারণা আছে সরকার একাই সবকিছু করবে। আমাদের এ ধারণার পরিবর্তন হওয়া দরকার। সমাজের উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকার একা সবকিছু করতে পারবে না। আমাদের সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘আমরা সকলের ভোটেই ক্ষতায় এসেছি। সকল জাতিগোষ্ঠীর জন্যেই আমাদের কাজ করতে হবে। কোন একটি নির্দিষ্ট আদিবাসী বা নৃ-গোষ্ঠী নয়; আমাদের সবাইকেই একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।’’
এসময় এতোদিন ধরে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার গতানুগতিক ধারার পরিবর্তন আনা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শ্যামল কান্তি ঘোষ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব(ভারপ্রাপ্ত) এম এম নিয়াজ উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ড. মাহবুব হোসেন ও ব্র্যাকের এডকেশন প্রোগ্রাম পরিচালক ড. শফিকুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভ এবং ব্র্যাক আয়োজিত ‘অ্যাসেসমেন্ট অব সাপ্লিমেন্টারী ম্যাটেরিয়ালস্ অব ব্র্যাক এডুকেশন ফর এথনিক চিরড্রেন’ এর গবেষণার সার সংক্ষেপ উপস্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘‘আমাদের একটা ধারণা আছে সরকার একাই সবকিছু করবে। আমাদের এ ধারণার পরিবর্তন হওয়া দরকার। সমাজের উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকার একা সবকিছু করতে পারবে না। আমাদের সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘আমরা সকলের ভোটেই ক্ষতায় এসেছি। সকল জাতিগোষ্ঠীর জন্যেই আমাদের কাজ করতে হবে। কোন একটি নির্দিষ্ট আদিবাসী বা নৃ-গোষ্ঠী নয়; আমাদের সবাইকেই একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।’’
এসময় এতোদিন ধরে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার গতানুগতিক ধারার পরিবর্তন আনা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শ্যামল কান্তি ঘোষ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব(ভারপ্রাপ্ত) এম এম নিয়াজ উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ড. মাহবুব হোসেন ও ব্র্যাকের এডকেশন প্রোগ্রাম পরিচালক ড. শফিকুল ইসলাম।
অতিকথন পদ্মা সেতুর সর্বনাশ আনতে পারে: যোগাযোগমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
অতিকথন পদ্মা সেতুর সর্বনাশ আনতে পারে: যোগাযোগমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পদ্মা সেতুর কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু
হবার আগে এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না। বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি দল
বাংলাদেশে আসছে। এ মুহুর্তে স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাই না। অতিকথন
সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে।
বৃহস্পতিবার সকালে ফেনী সার্কিট হাউজে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর ভ্রাতাপ্রতিম দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজ আহম্মদ চৌধুরী মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন।
যোগাযোগমন্ত্রী আরো বলেন, “পদ্মা সেতুর অর্থায়নে বিশ্বব্যাংক ফিরে এসেছে।” এবং বর্তমান সরকারের আমলে পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে পুনরায় আশা প্রকাশ করেন। তিনি এ প্রসঙ্গে দলীয় নেতাদের বাকসংযম করার আহবান জানান।
আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে ওবায়দুর কাদের, “প্রধানমন্ত্রী চাইলে আগাম নির্বাচন হতে পারে। তা না হলে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে।”এ জন্য তিনি নেতাকর্মীদের মানসিক ও সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত থাকার আহবান জানান।
ওবায়দুল কাদের বিরোধিদলের আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেন, “জনগণের চাওয়া-পাওয়া আকাশ কুসুম নয়। আমরা যদি বিদ্যুৎ, আইনশৃঙ্খলা, রাস্তাঘাট ও দ্রব্যমূল্য কাঙ্খিত পর্যায়ে রাখতে পারি তাহলে বিরোধিদলের অন্দোলনে সরকারের কিছু হবে না।”
তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের হুশিয়ার করে বলেন, “সব উন্নয়ন কাঙ্খিত পর্যায়ে করার পরও যদি কর্মীদের আচরণে মানুষ কষ্ট পায় তবে তারা আমাদের ভোট দেবে না। জনগণ অসন্তুষ্ট হলে সময়মতো ব্যালট পেপারে জবাব দেবে। বিগত সময়ে আমাদের কিছু নেতাকর্মীর আচরণের কারণে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলো।”
বৃহস্পতিবার সকালে ফেনী সার্কিট হাউজে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর ভ্রাতাপ্রতিম দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজ আহম্মদ চৌধুরী মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন।
যোগাযোগমন্ত্রী আরো বলেন, “পদ্মা সেতুর অর্থায়নে বিশ্বব্যাংক ফিরে এসেছে।” এবং বর্তমান সরকারের আমলে পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে পুনরায় আশা প্রকাশ করেন। তিনি এ প্রসঙ্গে দলীয় নেতাদের বাকসংযম করার আহবান জানান।
আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে ওবায়দুর কাদের, “প্রধানমন্ত্রী চাইলে আগাম নির্বাচন হতে পারে। তা না হলে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে।”এ জন্য তিনি নেতাকর্মীদের মানসিক ও সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত থাকার আহবান জানান।
ওবায়দুল কাদের বিরোধিদলের আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেন, “জনগণের চাওয়া-পাওয়া আকাশ কুসুম নয়। আমরা যদি বিদ্যুৎ, আইনশৃঙ্খলা, রাস্তাঘাট ও দ্রব্যমূল্য কাঙ্খিত পর্যায়ে রাখতে পারি তাহলে বিরোধিদলের অন্দোলনে সরকারের কিছু হবে না।”
তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের হুশিয়ার করে বলেন, “সব উন্নয়ন কাঙ্খিত পর্যায়ে করার পরও যদি কর্মীদের আচরণে মানুষ কষ্ট পায় তবে তারা আমাদের ভোট দেবে না। জনগণ অসন্তুষ্ট হলে সময়মতো ব্যালট পেপারে জবাব দেবে। বিগত সময়ে আমাদের কিছু নেতাকর্মীর আচরণের কারণে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলো।”
‘সন্দেহ হলে হানাদার বাহিনী কাউকেই রেহাই দিতো না’ :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
‘সন্দেহ হলে হানাদার বাহিনী কাউকেই রেহাই দিতো না’ :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াত নেতা আলী আহসান
মুহাম্মাদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দ্বিতীয় সাক্ষী মুক্তিযোদ্ধা
জহির উদ্দিন জালাল বলেছেন, ৭১’র ২৫ মার্চের পর কিশোর, তরুণ এবং যুবকদের
তল্লাশী করা হতো। সন্দেহ শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত কেউই তাদের হাতে নিরাপদ
ছিল না।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী মুক্তিযুদ্ধকালে গেরিলা বাহনীর সদস্য জহির উদ্দিন জালাল ওরফে বিচ্চু জালাল (৫৭) আসামিপক্ষের জেরার জবাবে এ কথা বলেন।
আসামিপক্ষের জেরায় এক প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, “মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভূক্তি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিভিন্ন সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধাদের ভিন্ন ভিন্ন তালিকা হয়েছে। এখনো মুক্তিযোদ্ধা তালিকা যাচাই-বাছাই চলছে। এই প্রক্রিয়ায় রাজধানীর রমনা এলাকায় ৪৮ জন মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকাভূক্ত হয়েছে।”
তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহর পর্যন্ত ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক হত্যাযজ্ঞসহ তৎকালীন পরিস্থিতি আমি ঘুরে ঘুরে স্বচক্ষে দেখেছি।”
জেরাকালে সাক্ষী বলেন, ৭১ সালে ২৭ মার্চ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কার্ফু তুলে নেয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও রাস্তাঘাটে সামরিক বাহনীর লোকেরা অস্ত্র হাতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল।
তিনি বলেন, কারফিউ শিথিলকালীন সাংবাদিকসহ অন্যান্য লোকদের যেসব এলাকায় হত্যাযজ্ঞ হয়েছিল সেসব এলাকায় ছবি তোলা ও খবর সংগ্রহ করার চেষ্টা করলে পাকসেনা তাদের ধরে ক্যান্টমেন্ট নিয়ে যেত। ওই সময় শাহবাগ রেডিও অফিস, টিএসসি মোড়, রমনা কালি মন্দির এলাকায় সেনা বাহিনীকে টহল দিতে দেখেছি। তবে পরিবাগ শাহ সাহেবের মাজারের পশ্চিমের রেল লাইন এলাকায় সেনা বাহিনী ছিল না।
তিনি বলেন, ২৭ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ঘুরে শত শত মানুষের লাশ আমি স্বচক্ষে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি। টিএসসি মোড়ে পাক সেনারা শত শত লোককে থামিয়ে মুসলমান না হিন্দু তা চেক (যাচাই)করতো।
জেরায় এক প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন জালাল বলেন, “২৭ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত সার্কিট হাউসের বাসাতেই ছিলাম। তবে পাকিস্তানি দালালদের ভয়ে মাঝে মাঝে লুকিয়ে পুরান ঢাকায় আমার চাচার বাসায় যেতাম। সেখানে আমার চাচার বাসা এবং প্রতিবেশীদের বাসায় অবস্থান পরিবর্তন করে রাত কাটাতাম। দিনে এক বাসায় আবার রাতে আরেক বাসায় লুকিয়ে থাকতাম।”
আসামীপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান আজ বৃহস্পতিবার তাকে জেরা করেন। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
এর আগে সাক্ষী জহির উদ্দিন জালাল গত ২০ সেপ্টেম্বর মুজাহিদের বিরুদ্ধে জবানবন্দি পেশ করেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশনের প্রথম সাক্ষী শাহরিয়ার কবীর গত ২৬ আগস্ট জবানবন্দি পেশ করেন। জবানবন্দি শেষে তাকে জেরা শুরু করে আসামিপক্ষ।
গত ২১ জুন মুজাহিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট সাতটি ঘটনায় ৩৪টি অভিযোগে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। এর আগে একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন মুজাহিদকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরের ২ আগস্ট এক আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী মুক্তিযুদ্ধকালে গেরিলা বাহনীর সদস্য জহির উদ্দিন জালাল ওরফে বিচ্চু জালাল (৫৭) আসামিপক্ষের জেরার জবাবে এ কথা বলেন।
আসামিপক্ষের জেরায় এক প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, “মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভূক্তি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিভিন্ন সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধাদের ভিন্ন ভিন্ন তালিকা হয়েছে। এখনো মুক্তিযোদ্ধা তালিকা যাচাই-বাছাই চলছে। এই প্রক্রিয়ায় রাজধানীর রমনা এলাকায় ৪৮ জন মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকাভূক্ত হয়েছে।”
তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহর পর্যন্ত ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক হত্যাযজ্ঞসহ তৎকালীন পরিস্থিতি আমি ঘুরে ঘুরে স্বচক্ষে দেখেছি।”
জেরাকালে সাক্ষী বলেন, ৭১ সালে ২৭ মার্চ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কার্ফু তুলে নেয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও রাস্তাঘাটে সামরিক বাহনীর লোকেরা অস্ত্র হাতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল।
তিনি বলেন, কারফিউ শিথিলকালীন সাংবাদিকসহ অন্যান্য লোকদের যেসব এলাকায় হত্যাযজ্ঞ হয়েছিল সেসব এলাকায় ছবি তোলা ও খবর সংগ্রহ করার চেষ্টা করলে পাকসেনা তাদের ধরে ক্যান্টমেন্ট নিয়ে যেত। ওই সময় শাহবাগ রেডিও অফিস, টিএসসি মোড়, রমনা কালি মন্দির এলাকায় সেনা বাহিনীকে টহল দিতে দেখেছি। তবে পরিবাগ শাহ সাহেবের মাজারের পশ্চিমের রেল লাইন এলাকায় সেনা বাহিনী ছিল না।
তিনি বলেন, ২৭ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ঘুরে শত শত মানুষের লাশ আমি স্বচক্ষে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি। টিএসসি মোড়ে পাক সেনারা শত শত লোককে থামিয়ে মুসলমান না হিন্দু তা চেক (যাচাই)করতো।
জেরায় এক প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন জালাল বলেন, “২৭ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত সার্কিট হাউসের বাসাতেই ছিলাম। তবে পাকিস্তানি দালালদের ভয়ে মাঝে মাঝে লুকিয়ে পুরান ঢাকায় আমার চাচার বাসায় যেতাম। সেখানে আমার চাচার বাসা এবং প্রতিবেশীদের বাসায় অবস্থান পরিবর্তন করে রাত কাটাতাম। দিনে এক বাসায় আবার রাতে আরেক বাসায় লুকিয়ে থাকতাম।”
আসামীপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান আজ বৃহস্পতিবার তাকে জেরা করেন। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
এর আগে সাক্ষী জহির উদ্দিন জালাল গত ২০ সেপ্টেম্বর মুজাহিদের বিরুদ্ধে জবানবন্দি পেশ করেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশনের প্রথম সাক্ষী শাহরিয়ার কবীর গত ২৬ আগস্ট জবানবন্দি পেশ করেন। জবানবন্দি শেষে তাকে জেরা শুরু করে আসামিপক্ষ।
গত ২১ জুন মুজাহিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট সাতটি ঘটনায় ৩৪টি অভিযোগে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। এর আগে একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন মুজাহিদকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরের ২ আগস্ট এক আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।
আমরা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি: জাবেদ আলী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
আমরা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি: জাবেদ আলী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
নির্বাচন কমিশনার জাবেদ আলী বলেছেন, “আমরা মিছিল-মিটিং করতে নির্বাচন
কমিশনে আসিনি। আমরা এসেছি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে। এ দায়িত্ব কতটা
নিখুঁতভাবে পালন করা যায় তা নিয়েও আমরা বসেছি।”
বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
গাজীপুর-৪ উপনির্বাচন সম্পর্কে এ সময় তিনি বলেন, ‘‘শুক্রবার রাত ১২টার মধ্যে নির্বাচনী এলাকা থেকে বহিরাগতদের বের হয়ে যাওয়ার শেষ সময়। সুতরাং এর পর বহিরাগতদের সেখানে অবস্থান না করাই উত্তম। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে স্থানীয় আইনশৃংখলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’’
এ উপনির্বাচনে বিএনপি কোন প্রার্থী দেয়নি। তাই স্থানীয় বিএনপি নেতারা দলীয় ব্যক্তিদের ভোট না দেয়ার জন্য প্রভাবিত করছে বলে সংবাদপত্রে একাধিক প্রতিবেন এসেছে।
এ বিষয়ে কমিশন কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘বিষয়টি আমরাও পত্রপত্রিকায় দেখেছি। কোনো দলেরই এটা করা উচিৎ নয়। ভোটদান গণতান্ত্রিক অধিকার। কাউকে প্রভাবিত করে ভোট দেয়া থেকে বিরত রাখা অন্যায়। এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’’
সরকারি দল মনোনীত প্রার্থী সিমিন হোসেন রিমি তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধা দিচ্ছেন ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন বলে গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, “এ সংবাদ আমাদের কাছেও এসেছে। কেইসটি নিয়ে দুই একদিনের মধ্যে কমিশন বসবে। কমিশন বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও মত দেন জাবেদ আলী।”
বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
গাজীপুর-৪ উপনির্বাচন সম্পর্কে এ সময় তিনি বলেন, ‘‘শুক্রবার রাত ১২টার মধ্যে নির্বাচনী এলাকা থেকে বহিরাগতদের বের হয়ে যাওয়ার শেষ সময়। সুতরাং এর পর বহিরাগতদের সেখানে অবস্থান না করাই উত্তম। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে স্থানীয় আইনশৃংখলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’’
এ উপনির্বাচনে বিএনপি কোন প্রার্থী দেয়নি। তাই স্থানীয় বিএনপি নেতারা দলীয় ব্যক্তিদের ভোট না দেয়ার জন্য প্রভাবিত করছে বলে সংবাদপত্রে একাধিক প্রতিবেন এসেছে।
এ বিষয়ে কমিশন কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘বিষয়টি আমরাও পত্রপত্রিকায় দেখেছি। কোনো দলেরই এটা করা উচিৎ নয়। ভোটদান গণতান্ত্রিক অধিকার। কাউকে প্রভাবিত করে ভোট দেয়া থেকে বিরত রাখা অন্যায়। এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’’
সরকারি দল মনোনীত প্রার্থী সিমিন হোসেন রিমি তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধা দিচ্ছেন ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন বলে গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, “এ সংবাদ আমাদের কাছেও এসেছে। কেইসটি নিয়ে দুই একদিনের মধ্যে কমিশন বসবে। কমিশন বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও মত দেন জাবেদ আলী।”
পদ্মা সেতু পর্যটন শিল্প বিকাশে ভূমিকা রাখবে: ফারুক খান :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
পদ্মা সেতু পর্যটন শিল্প বিকাশে ভূমিকা রাখবে: ফারুক খান :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী কর্নেল অব. ফারুক খান বলেছেন, “পদ্মা সেতু দেশের পর্যটনশিল্প বিকাশে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।”
বৃহস্পাতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০১২ উপেলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। পর্যটন ও টেকসই জ্বালালি: টেকসই উন্নয়নের নিয়ামকহ শীর্ষক বৈঠকের আয়োজন করে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।
ফারুক খান বলেন, “কালই পর্যটন শিল্পকে বিকাশ হয়ে যাবে এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। তবে সরকার এ শিল্পের বিকাশে সম্ভব সব ধরণের সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে।”
পর্যটন শিল্পে সবাইকে উৎসাহিত করতে সরকার সোলার প্যানেল এবং ব্যায়ো-টারবাইনের ওপর থেকে কর প্রত্যাহার করেছে এবং এ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানে স্বীকৃতি স্বরুপ ওটুরিজম অ্যাওয়ার্ডহ প্রদান করা হবে বলেও জানান তিনি।
এই খাতকে আরো আকর্ষণীয় করতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব পণ্য কেনার ক্ষেত্রে ঋণ দেয়া হচ্ছে। ঋণ পেতে কোনো সমস্যা হলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।”
বেসামরিক বিমানমন্ত্রী বলেন, “সরকার পরিবেশ বান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া গ্রহণ করছে। ৩০টি বায়োটার্বাইনের মাধ্যমে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।”
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান খান কবির, পর্যটন বোর্ডের চেয়ারম্যান মাকসুদুল হাসান খান, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী প্রমুখ।
বৃহস্পাতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০১২ উপেলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। পর্যটন ও টেকসই জ্বালালি: টেকসই উন্নয়নের নিয়ামকহ শীর্ষক বৈঠকের আয়োজন করে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।
ফারুক খান বলেন, “কালই পর্যটন শিল্পকে বিকাশ হয়ে যাবে এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। তবে সরকার এ শিল্পের বিকাশে সম্ভব সব ধরণের সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে।”
পর্যটন শিল্পে সবাইকে উৎসাহিত করতে সরকার সোলার প্যানেল এবং ব্যায়ো-টারবাইনের ওপর থেকে কর প্রত্যাহার করেছে এবং এ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানে স্বীকৃতি স্বরুপ ওটুরিজম অ্যাওয়ার্ডহ প্রদান করা হবে বলেও জানান তিনি।
এই খাতকে আরো আকর্ষণীয় করতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব পণ্য কেনার ক্ষেত্রে ঋণ দেয়া হচ্ছে। ঋণ পেতে কোনো সমস্যা হলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।”
বেসামরিক বিমানমন্ত্রী বলেন, “সরকার পরিবেশ বান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া গ্রহণ করছে। ৩০টি বায়োটার্বাইনের মাধ্যমে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।”
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান খান কবির, পর্যটন বোর্ডের চেয়ারম্যান মাকসুদুল হাসান খান, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী প্রমুখ।
সাংবাদিকতায় সাহসের মাইলফলক হয়ে থাকবেন আতাউস সামাদ :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
সাংবাদিকতায় সাহসের মাইলফলক হয়ে থাকবেন আতাউস সামাদ :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
সমতল থেকে হাত দুয়েক উঁচু লাল ইটের কবরটির দেয়ালে সাদা সিরামিকের ফলকে কালো কালিতে লেখা- আবদুস সামাদ, ১ এপ্রিল ১৮৯৯- ৯ মে ১৯৬৬।
রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানের এই কবরে মিশে আছে পিতা আবদুস সামাদের জীবনের অবশেষ, এই কবরেই বৃহস্পতিবার বিকেলে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন পুত্র প্রখ্যাত সাংবাদিক ও লেখক আতাউস সামাদ।
নব্বইয়ের দশকে সামরিক স্বৈরশাসক এইচএম এরশাদের আমলে যখন দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ছিলনা- তখন বিবিসি’র বাংলাদেশ সংবাদদাতা হিসেবে তার কণ্ঠস্বরই ছিল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের খবর জানতে নিরুপায় মানুষের একমাত্র ভরসা। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি জটিলতায় ভুগে বুধবার রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে ইন্তেকাল হয় তার।
তার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়াসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সাংবাদিক সংগঠনগুলো ও নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া দৈনিক আমার দেশের কারওয়া বাজারস্থ কার্যালয়ে আগামী তিনদিন মরহুমের স্মরণে শোকবই খোলা থাকবে।
সর্বশেষ তিনি দৈনিক আমার দেশ-এর উপদেষ্টা সম্পাদক ছিলেন। এর আগে ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকায় বিবিসির সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন। পরে কিছুকাল তিনি বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভি’র প্রধান নির্বাহীর দায়িত্বও পালন করেন। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন।
গত রাতে ইন্তেকালের পর হাসপাতালের হিমঘরে রাখা ছিল তার মরদেহ। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার কিছু পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে আসেন বারিধারা আবাসিক এলাকার বাড়িতে। জোহরের নামাজ শেষে তার প্রথম জানাজা হয় গুলশানের আজাদ মসজিদে। এতে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজারো মানুষ অংশ নেন।
এদিকে জাতীয় প্রেস ক্লাব আঙিনায় তার অপেক্ষায় ছিলেন দীর্ঘদিনের সহকর্মীরাসহ অনুজপ্রতীম সাংবাদিকরা, বেশ কজন মন্ত্রীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা। বেলা আড়াইটার দিকে তার মরদেহ বহনকারী হিমগাড়ি প্রবেশ করে প্রেস ক্লাব চত্বরে।
শত শত সাংবাদিকের অংশগ্রহণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বিকেল পৌনে চারটার দিকে শেষ বারের মতো জাতীয় প্রেস ক্লাব আঙিনা ছেড়ে যান আতাউস সামাদ। ক্লাব মিলনায়তনে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের তরফে তার মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে আলিফ পরিবহনের হিমগাড়িতে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় আজিমপুর কবরস্থানে।
বিকেল সোয়া চারটার একটু আগে যখন আতাউস সামাদের মরদেহ কবরে শুইয়ে দিচ্ছিলেন ছেলে আশিকুস সামাদ ও ভাই আতিকুস সামাদসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা, তখন দৈনিক আমার দেশের বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরীসহ তার অন্য শোকার্ত সহকর্মীরা তাদের সাহায্য করছিলেন। শহরের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকাও এসময় উপস্থিত ছিলেন।
দেশের প্রায় সবকটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের ক্যামেরার চোখের সামনে যখন শোকার্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়, সাংবাদিক সহকর্মীরা ধীরে ধীরে মুঠি মুঠি মাটি দিচ্ছিলেন কবরে তখন সবার মুখে নিচু স্বরে- ‘মিনহা খালাকনাকুম, ওয়া ফিহা নুয়িদিকুম, ওয়া মিনহা নুখরিজুকুম তারাতান উখরা’। অর্থাৎ ‘এই (মাটি) থেকেই তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে, এখানে তোমাদের ফিরে আসতে হবে, এবং এখান থেকেই আরো একবার তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।’
সেই ফেরার অপেক্ষায় এখন বাবা আবদুস সামাদের কবরের মাটিতে ধীরে ধীরে মিশে যাবেন পুত্র আতাউস সামাদ, কিন্তু বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় সাহস ও কর্মদক্ষতার মাইলফলক হিসেবে তিনি সব সংবাদকর্মীর দিশা হয়ে থাকবেন।
মরহুমের সমকালীন অপর বিখ্যাত সাংবাদিক শফিক রেহমান গতরাতে বার্তা২৪ ডটনেটকে যেমনটি বলছিলেন, ‘‘সাংবাদিকতার যেই ব্যাপারটি অন্য যে কারো থেকে তাকে উঁচুতে নিয়ে গেছে- তা হলো চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও গণতান্ত্রিক প্রচেষ্টা ও মানুষের রাজনৈতিক অধিকারের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই সংবাদ পরিবেশন করতেন তিনি। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক বার্তাবাহকের দায়িত্ব সাফল্যের সঙ্গে ও নিখুঁতভাবে তিনি পালন করেছেন।’’
সাংবাদিকতায় নিবেদিত এক জীবন
১৯৩৭ সালের ১৬ নভেম্বর ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন আতাউস সামাদ। তার স্ত্রী কামরুন নাহার তথ্য অধিদফরের কর্মকর্তা হিসেবে অবসর নিয়েছেন। তাদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ছাত্রাবস্থায় ফজলুল হক হল ছাত্র সংসদের প্রচার সম্পাদক ছিলেন তিনি। দৈনিক সংবাদে কাজ শুরু করারও আগে ৫০ এর দশকে 'সচিত্র সন্ধানী'তে কাজ শুরুর মাধ্যমে সংবাদমাধ্যম জগতে পা রাখেন তিনি।
পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর ১৯৫৯ সালে দৈনিক সংবাদে পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। বিভিন্ন সংবাদপত্র, রেডিও ও টেলিভিশনে কাজ করেছেন তিনি।
সংবাদের পর, আজাদ ও পাকিস্তান অবজার্ভারে কাজ করেন তিনি। ১৯৬৫ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান অবজারভারের প্রধান প্রতিবেদকের দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত ভারতের নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) বিশেষ সংবাদদাতা ছিলেন।
১৯৮২’তে যোগ দেন বিবিসিতে। তারপর থেকে জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনের সময় তার সাহসী সাংবাদিকতা বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি আত্মগোপনে থেকে বিবিসির জন্য খবর পাঠাতেন। বিবিসিতে তার এমনসব বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদনের জন্য ১৯৮৭ সালে সামরিক সরকার আতাউস সামাদকে কারাবন্দি করেছিল।
১৯৯৫ পর্যন্ত টানা এক যুগেরও বেশি সময়ের কর্মক্ষেত্র বিবিসি ছাড়ার পর সাপ্তাহিক 'এখন' নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন তিনি। একইসঙ্গে নম্বইয়ের দশক থেকেই বিভিন্ন সাপ্তাহিক ও দৈনিকে কলাম লেখা অব্যাহত রেখেছিলেন। এসব কলামেও গণতন্ত্র ও জনকল্যাণের রাজনীতির পথ ধরে জাতীয় ঐক্যের কথাই লিখে আসছিলেন বরেণ্য এই সাংবাদিক।
Thursday, September 27, 2012
রাজাপুরে নদীতে বিষ দিয়ে মাছ নিধন, হুমকিতে দেশী মাছ :: পরিবেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট
রাজাপুরে নদীতে বিষ দিয়ে মাছ নিধন, হুমকিতে দেশী মাছ :: পরিবেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় নদীতে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের ঘটনা বেড়েছে। এতে
দেশী প্রজাতির অর্ধশতাধিক মাছ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে মনে করছে
বিশেষজ্ঞরা। এদিকে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের ঘটনা বাড়লেও মৎস্য কর্মকর্তার
বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, গত রোববার সন্ধ্যায় উপজেলা সদরের ধানসিঁড়ি ও জাঙ্গালিয়া
নদীতে বিষ ঢেলে মাছ শিকার করে দুর্বৃত্তরা। এতে রাতেই নানা প্রজাতির দেশীয়
পোনামাছ মরে পানিতে ভেসে ওঠে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে একইভাবে দুটি নদীতেই
বিষ ঢেলে মাছ শিকার করে স্থানীয়রা।
এর আগে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে উপজেলার বাদুরতলায় বিষখালির শাখানদীতে,
মনোহরপুর এলাকার নদীতে, সাতুরিয়া নদী ও চাড়াখালি নদীতে বিষ প্রয়োগে মাছ
শিকারের ঘটনা ঘটেছে।
একের পর এক অবৈধ উপায়ে এভাবে মাছ শিকার করলেও উপজেলা মৎস্য অফিসের কোনো তৎপরতা নেই বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, বিষ প্রয়োগে মৎস্য শিকার সম্পূর্ণ
অবৈধ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। নদীতে বিষ প্রয়োগে মাছের ডিম থেকে শুরু করে
পোনা মাছ পর্যন্ত মরে যায়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফণি ভূষণ পাল জানান, বিষয়টি তার অজানা। এছাড়া বিষ
প্রয়োগের সময় হাতেনাতে ধরা না গেলে এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব নয়।
চিড়িয়াখানায় ঢুকে বাঘ শিকার! :: পরিবেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট
চিড়িয়াখানায় ঢুকে বাঘ শিকার! :: পরিবেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট
নিরাপত্তার বেড়াজালকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কলকাতা চিড়ায়াখানায় ঢুকে
বাঘ মেরে গেল চোরা-শিকারিরা। সোমবার রাতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই
চোরা-শিকারিরা চিড়িয়াখানার মধ্যে ঢুকে এই অপকর্মটি করে।
জানা যায়, চোরা-শিকারিরা কলকাতা চিড়িয়াখানায় একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে খুব কাছ থেকে পরপর তিনটি গুলি করে হত্যা করে। তারপরে যেমন নির্বিঘ্নে তারা চিড়িয়াখানায় ঢুকেছিল তেমনই বেরিয়েও যায়।
ঘটনার গতিপ্রকৃতি দেখে পুলিশ প্রাথমিক অনুমান করছে যে, এর সঙ্গে চিড়িয়াখানার ভেতরের লোক জড়িত আছে।
এ বিষয়ে পশ্চিবঙ্গের প্রধান মুখ্য বনপাল তথা বন ও পরিবেশ দফতরের প্রধান সচিব বি এস সাজওয়ান জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। এরপরই গুলির শব্দ পেয়ে রক্ষীরা তল্লাশিতে নামেন। এ সময় তারা আবিষ্কার করেন খাঁচার মধ্যে অনি নামে এক বাঘিনী রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অবশ্য তার চামড়া ও দেহাংশ অক্ষত ছিল।
এ বিষয়ে রাজ্যের উপ-বন সংরক্ষক পি রিংগু জানান, ২০০৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর এই চিড়িয়াখানাতেই অনির জন্ম। বুধবার ময়না তদন্তে দেখা গিয়েছে, তার মাথায় তিনটি বুলেটের ক্ষত রয়েছে।
পুলিশ ও ডাক্তারদের অনুমান, ছোট বোরের রাইফেল ব্যবহার করে বাঘিনীটিকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে।এছাড়া বাঘটির তলপেটের নিচে ধারাল অস্ত্রের আঘাত থাকলেও, দেহাংশ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়নি।
রাজ্যের বন কর্মকর্তাদের মতে, হয়তো পুরুষ বাঘ মারতে গিয়ে ভুলবশত বাঘিনী মেরে ফেলেছিল শিকারিরা। পুরুষ বাঘ মেরে তার পুরুষাঙ্গ চড়া দামে বিক্রি হয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে।
এর আগে ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কলকাতা চিড়িয়াখানায় তিনটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ও একটি চিতাবাঘকে বিষ দিয়ে মারা হয়েছিল। সূত্র: বিবিসি
জানা যায়, চোরা-শিকারিরা কলকাতা চিড়িয়াখানায় একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে খুব কাছ থেকে পরপর তিনটি গুলি করে হত্যা করে। তারপরে যেমন নির্বিঘ্নে তারা চিড়িয়াখানায় ঢুকেছিল তেমনই বেরিয়েও যায়।
ঘটনার গতিপ্রকৃতি দেখে পুলিশ প্রাথমিক অনুমান করছে যে, এর সঙ্গে চিড়িয়াখানার ভেতরের লোক জড়িত আছে।
এ বিষয়ে পশ্চিবঙ্গের প্রধান মুখ্য বনপাল তথা বন ও পরিবেশ দফতরের প্রধান সচিব বি এস সাজওয়ান জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। এরপরই গুলির শব্দ পেয়ে রক্ষীরা তল্লাশিতে নামেন। এ সময় তারা আবিষ্কার করেন খাঁচার মধ্যে অনি নামে এক বাঘিনী রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অবশ্য তার চামড়া ও দেহাংশ অক্ষত ছিল।
এ বিষয়ে রাজ্যের উপ-বন সংরক্ষক পি রিংগু জানান, ২০০৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর এই চিড়িয়াখানাতেই অনির জন্ম। বুধবার ময়না তদন্তে দেখা গিয়েছে, তার মাথায় তিনটি বুলেটের ক্ষত রয়েছে।
পুলিশ ও ডাক্তারদের অনুমান, ছোট বোরের রাইফেল ব্যবহার করে বাঘিনীটিকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে।এছাড়া বাঘটির তলপেটের নিচে ধারাল অস্ত্রের আঘাত থাকলেও, দেহাংশ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়নি।
রাজ্যের বন কর্মকর্তাদের মতে, হয়তো পুরুষ বাঘ মারতে গিয়ে ভুলবশত বাঘিনী মেরে ফেলেছিল শিকারিরা। পুরুষ বাঘ মেরে তার পুরুষাঙ্গ চড়া দামে বিক্রি হয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে।
এর আগে ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কলকাতা চিড়িয়াখানায় তিনটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ও একটি চিতাবাঘকে বিষ দিয়ে মারা হয়েছিল। সূত্র: বিবিসি
ব্রাজিলের গুগল প্রধানকে গ্রেফতারের নির্দেশ :: সাই-টেক :: বার্তা২৪ ডটনেট
ব্রাজিলের গুগল প্রধানকে গ্রেফতারের নির্দেশ :: সাই-টেক :: বার্তা২৪ ডটনেট
ব্রাজিলে গুগলের প্রধান ফেবিও জোসে সিলভা কোয়েলহোকে গ্রেফতারের নির্দেশ
দিয়েছে দেশটির একটি আঞ্চলিক আদালত। মহানবীকে কটাক্ষ করে আমেরিকায় নির্মিত
চলচ্চিত্রটি গুগলের ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউব থেকে বাদ না দেয়ায় দেশটির
মাতো গ্রোসো দো সোল রাজ্য আদালতের বিচারক ফেবিও পেরেন তাকে গ্রেফতারের
নির্দেশ দেন।
জানা যায়, গত সপ্তাহে আদালত ইউটিউব থেকে ওই বিতর্কিত ভিডিওটি মুছে ফেলতে
গুগলকে নির্দেশ দিলেও গুগল তাতে অস্বীকৃতি জানায়। এ বিষয়ে আদালত বলেছে
ভিডিওটি রাজ্যের অনুষ্ঠিতব্য মেয়র নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারণায় প্রভাব
ফেলছে। যা দেশের নির্বাচন আইন লঙ্ঘনের শামিল।
এ বিষয়ে বিশ্বখ্যাত সার্চ ইঞ্জিন কোম্পানিটি বলেছে, এই ভিডিওটি ইউটিউবে
পোস্ট করার জন্য কোম্পানি দায়ী নয়। তাই তারা আদালতের নির্দেশের বিপক্ষে
আপিল করবেন।
এদিকে ইউটিউবে বিতর্কিত ওই ভিডিওটি নিয়ে ব্রাজিলের মাতো গ্রোসো দো সোল
রাজ্যে অনুষ্ঠিতব্য মেয়র নির্বাচনের প্রার্থীদের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি
হয়েছে। মেয়র প্রার্থীরা বলছেন কলঙ্কিত এই ভিডিওটি তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন
করছে। তারা অবিলম্বে ইসলামবিরোধী ভিডিওটি ইউটিউব থেকে মুছে ফেলার জন্য
গুগলকে আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র: রয়টার্স/বিবিসি
আরাধ্যাই এখন সব, মাতৃত্ব উপভোগ করছি: ঐশ্বর্য :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট
আরাধ্যাই এখন সব, মাতৃত্ব উপভোগ করছি: ঐশ্বর্য :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট
এইডস এবং এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে জাতিসংঘের কর্মসূচি ‘ইউনেডস’-এর নতুন দূত হয়েছেন ভারতের এই অভিনেত্রী। এই কাজের সঙ্গে নিজেকে জড়ানোর পাশাপাশি দশ মাসের ছোট্ট আরাধ্যার সঙ্গে দিনগুলো কী ভাবে কাটছে, সেটাও জানালেন সংবাদমাধ্যমকে।
৩৮ বছরের অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী বললেন, “মা হওয়ার অভিজ্ঞতা এতই স্পেশ্যাল যে ফিল্মের দিনগুলো আর মিস করি না।” আরাধ্যাকে পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করেন। মেয়েই তার বাকি জীবনটা পূর্ণ করে তুলবে, আশা মায়ের।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গেই বচ্চন-বধূ ভাগ করে নিলেন তার সামাজিক দায়িত্বের কথাও। দশ বছর আগে জাতিসংঘের তরফে কাজ করার জন্যআবেদন এসেছিল। তখন আবেদনে সাড়া দেয়া হয়নি। এখন ঐশ্বর্যার বক্তব্য, “আজ মনে হচ্ছে ‘ইউনেডস’-এর কাজ করতে পারব। মা হয়ে ক্যারিয়ার’র বাইরে অনেকটা সময় পেয়েছি। সেটাই কাজে লাগাব।”
সিনেমায় অভিনয় করতে পারছেন না বলে কোনো আফসোস নেই, অকপটে বললেন ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন। জানালেন, মাতৃত্ব চুটিয়ে উপভোগ করছেন।
এইডস এবং এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে জাতিসংঘের কর্মসূচি ‘ইউনেডস’-এর নতুন দূত হয়েছেন ভারতের এই অভিনেত্রী। এই কাজের সঙ্গে নিজেকে জড়ানোর পাশাপাশি দশ মাসের ছোট্ট আরাধ্যার সঙ্গে দিনগুলো কী ভাবে কাটছে, সেটাও জানালেন সংবাদমাধ্যমকে।
৩৮ বছরের অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী বললেন, “মা হওয়ার অভিজ্ঞতা এতই স্পেশ্যাল যে ফিল্মের দিনগুলো আর মিস করি না।” আরাধ্যাকে পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করেন। মেয়েই তার বাকি জীবনটা পূর্ণ করে তুলবে, আশা মায়ের।
তার কথায়, “মাতৃত্ব আশীর্বাদ। এর তুলনা হয় না।” মাতৃত্বের সংজ্ঞা তিনি
জানেন না, “এটা অদ্ভুত, সুন্দর, দারুণ। আমি জানি না মাতৃত্ব বর্ণনার জন্য
সঠিক বিশেষণটা কী!”
প্রায় দু’বছর হতে চলল তিনি ফিল্ম দুনিয়া থেকে দূরে। মধুর ভান্ডারকরের
সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘হিরোইন’-এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল
ঐশ্বর্যারই। যাতে পরে অভিনয় করেন করিনা কাপুর। কিন্তু অ্যাশ মা হতে
চলেছেন, এই খবর চাউর হতেই গত বছর ওই ছবির কাজ কিছু দূর এগিয়েও বন্ধ হয়ে
যায়। সে সব এখন অতীত।
ফিল্ম-কেরিয়ারে ছেদ পড়ায় এতটুকু আক্ষেপ নেই আরাধ্যার মায়ের। কারণ মা
হওয়ার পরে ব্যস্ততা বাড়ায়, দিনগুলো এখন অত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না। তার
সাফ কথা, “কী ভাবে সময় চলে যাচ্ছে, টেরই পাচ্ছি না। যেকোনো মা জানেন, এখন
দিন বা রাতের খেয়াল থাকে না। দশটা মাস কী ভাবে পেরিয়ে গেল, জানি না। সব
সময় মনে হয় মেয়ের সঙ্গে থাকি। ও আমার ছোট্ট পরী।”
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গেই বচ্চন-বধূ ভাগ করে নিলেন তার সামাজিক দায়িত্বের কথাও। দশ বছর আগে জাতিসংঘের তরফে কাজ করার জন্যআবেদন এসেছিল। তখন আবেদনে সাড়া দেয়া হয়নি। এখন ঐশ্বর্যার বক্তব্য, “আজ মনে হচ্ছে ‘ইউনেডস’-এর কাজ করতে পারব। মা হয়ে ক্যারিয়ার’র বাইরে অনেকটা সময় পেয়েছি। সেটাই কাজে লাগাব।”
সেবাকাজের সঙ্গে ফিল্মের বিরোধ নেই বলে মনে করেন তিনি। বিশ্বসুন্দরী হবেন
কি না জানতেন না, হতে চেয়েছিলেন ডাক্তার। স্বাস্থ্য পরিষেবা বরাবরই
গুরুত্বের বিষয় ঐশ্বর্যার কাছে। ভারতে মহিলা এবং শিশুদের স্বাস্থ্য
সম্পর্কে প্রচুর কাজ দরকার বলে মনে করেন তিনি। বললেন, “ভারতে মহিলারা
ক্ষমতাশালী হলেও সামাজিক ভাবে অনেকেই পিছিয়ে।” সূত্র: আনন্দবাজার
পুরুষের দীর্ঘায়ু লাভের রহস্য উন্মোচন!
পুরুষের দীর্ঘায়ু লাভের রহস্য উন্মোচন!
পুরুষের দীর্ঘায়ু লাভের রহস্য উন্মোচন করেছেন বিজ্ঞানীরা। কোরিয়ার
বিজ্ঞানীদের দাবি, পুরুষের ‘সেক্স হরমোন’ দীর্ঘায়ু বা স্বল্পায়ু লাভে
প্রভাব ফেলে।
কিন্তু তারা বলছেন, যে প্রক্রিয়ায় দীর্ঘায়ু লাভ করা সম্ভব তা অনেক কষ্টকর!
তবে কী সেই প্রক্রিয়া? মোগল আমলে মোগল সম্রাটদের হেরেমের নারীদের
ফুট-ফরমায়েশ খাটার জন্য একদল লোক নিয়োগ দেয়া হতো। বিশেষ পদ্ধতিতে তাদের
পুরুষত্ব নষ্ট করে ফেলা হতো। তাদের বলা হতো খোজা।
বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছেন, খোজা পুরুষ অনেক বছর বেশি বাঁচে। সাধারণ
পুরুষদের চেয়ে তাদের বেঁচে থাকার হার ১৪ থেকে ১৯ বছর পর্যন্ত বেশি হয়।
কোরিয়ার বর্তমান খোজা পুরুষ (যারা ইচ্ছাকৃত বা কুকুরের কামড়ের কারণে
পুরুষত্ব হারিয়েছে) ও কয়েক শতাব্দীর খোজাদের ইতিহাস পর্যালোচনা করে তারা
এমন সিদ্ধান্তে এসেছেন।
অধ্যাপক কিয়োং-জিন মিনের নেতৃত্বে ইনহা ইউনিভার্সিটির একদল বিজ্ঞানী গবেষণাটি সম্পন্ন করেন। সূত্র: ডেইলি মেইল
বিশ্বব্যাংকের নয়া বিবৃতি অর্থায়নে প্রভাব ফেলবে না: অর্থমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
বিশ্বব্যাংকের নয়া বিবৃতি অর্থায়নে প্রভাব ফেলবে না: অর্থমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
সিলেট, ২৬ সেপ্টেম্বর: বিশ্বব্যাংকের বিবৃতি পদ্মা সেতুর অর্থায়নে কোনো
প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
বুধবার সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমাবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “দুর্ভাগ্যবশত বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন বাতিল করেছিল। অর্থায়নের বিষয়ে পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করায় তারা আবার পদ্মায় ফিরেছে।”
পদ্মা সেতু প্রকল্পটি অনেক বড় উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, “এর বাস্তবায়নে নানা সমস্যা ও জটিলতা আছে।”
মুহিত জানান, আগামী মাসের ১ তারিখে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে আসবেন। ফেব্রুয়ারির মধ্যে আনুসাঙ্গিক বড় বড় চুক্তি সম্পন্ন হবে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে বিশ্বব্যাংকের অবস্থানের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। শর্তপূরণ হলেই কেবল বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করবে।
বুধবার সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমাবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “দুর্ভাগ্যবশত বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন বাতিল করেছিল। অর্থায়নের বিষয়ে পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করায় তারা আবার পদ্মায় ফিরেছে।”
পদ্মা সেতু প্রকল্পটি অনেক বড় উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, “এর বাস্তবায়নে নানা সমস্যা ও জটিলতা আছে।”
মুহিত জানান, আগামী মাসের ১ তারিখে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে আসবেন। ফেব্রুয়ারির মধ্যে আনুসাঙ্গিক বড় বড় চুক্তি সম্পন্ন হবে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে বিশ্বব্যাংকের অবস্থানের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। শর্তপূরণ হলেই কেবল বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করবে।
পরিচালনা পর্ষদ নয়, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দায়ী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
পরিচালনা পর্ষদ নয়, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দায়ী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
হলমাকের্র ঋণ জালিয়াতিতে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নয়; ব্যবস্থাপনা
কর্তৃপক্ষ দায়ী বলে মন্তব্য করেছে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদ্য
বিদায়ী পরিচালক সুভাস সিংহ রায় ও জান্নাত আরা হেনরী।
বুধবার ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এএসএম নাঈমসহ সদ্য বিদায়ী পরিচালনা পর্ষদের ৫ পরিচালককে তলব করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সুভাষ ও হেনরী ছাড়াও অপর ৩ পরিচালক হলেন কেএম জামান রোমেল, অ্যাডভোকেট সত্যেন্দ্র চন্দ্র ভক্ত ও আনোয়ার জাহিদ।
সকাল দশটায় সুভাষের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। বেলা ১২টায় তার জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয়। হেনরীর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয় এগারটায়, শেষ হয় দেড়টায়। দুপুর একটা থেকে রোমেল এবং নাঈমের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। রোমেলের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয় দু`টায়।
দুদকের উপ-পরিচালক জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের অনুসন্ধান দল তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে।
দুই ঘণ্টা টানা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সুভাষ সিংহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘হলমার্ককে যে ঋণ দেওয়া হয়েছে তা হাই রিস্কের ঋণ। এতে আমাদের এখতিয়ার নেই।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘ব্যাংকিং নিয়ম লঙ্ঘন করে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ হলমার্ক গ্রুপের ঋণ মঞ্জুর করেছে। অডিটে একাধিকবার সর্তক করার পরও ওই বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’’
সরকার শত্রুর সঙ্গে বসবাস করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘‘সর্ষের মধ্যে ভূত আছে। এ ভূতকে বের করতে হবে।’’
দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জান্নাত আরা হেনরী ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে বলেন, ‘‘আইবিপির (ইনল্যান্ড বিল পার্সেস্ট) মাধ্যমে কাজটি করা হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদকে জানানোর কথা নয়।’’
ম্যানেজমেন্ট এ ব্যাপার পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা করেনি বলেও তিনি জানান।
হলমার্ক কেলেঙ্কারির দায়ভার পরিচালনা পর্ষদের ওপর বর্তায় না মন্তব্য করে হেনরী বলেন, ‘‘টোটাল দায়ভার ম্যানেজমেন্টের, আমাদের (পরিচালনা পর্ষদ) কোনো দায়-দায়িত্ব নেই।’’
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোমেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘হলমার্কের তদন্তের বিষয়ে দুদক আমাদের কাছে কিছু তথ্য উপাত্ত জানতে চেয়েছে। আমরা তাদেরকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি।’’
‘‘হলমার্কের কিছু অডিট আপত্তি এসেছিল। কিন্তু ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এটি আমাদের কাছে যথাযথভাবে উপস্থাপন না করায় বিষয়টি আমাদের নজরে আসেনি’’ বলেন রোমেল।
“হলমার্কের অনেক রেকর্ডপত্র সঠিক ছিল না” বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘রূপসী বাংলা (সাবেক শেরাটন) শাখা বোর্ডের কোনো অনুমোদন ছাড়াই বিপুল পরিমাণ ঋণ দেয় হলমার্ককে।”
হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় মঙ্গলবার সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদ্য বিদায়ী ও বর্তমানসহ মোট ১১ পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দেয় দুদক।
যাদের জিজ্ঞাসাবাদের নোটিশ দেওয়া হয় তারা হচ্ছেন, সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং চেয়ারম্যান কাজী বাহারুল ইসলাম, পরিচালক মো: শহিদুল্লাহ মিঞা, সুভাষ সিংহ রায়, জান্নাত আরা হেনরী, কাশেম হুমায়ূন, মো: আনওয়ার শহীদ, এএসএম নাঈম, কেএম জামান রোমেল, সাইমুম সরওয়ার কমল, সত্যেন্দ্র চন্দ্র ভক্ত ও প্রদীপ কুমার দত্ত।
এদিকে দুপুর সোয়া দুইটায় সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন দুদকের কমিশনার মোঃ বদিউজ্জামান। তিনি বলেন, ‘‘যদি পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে তবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে।’’
সূত্র জানায়, মাত্র চারজন পরিচালক নিয়ে চলছে ব্যাংকটির বর্তমান পর্ষদ। সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান কাজী বাহারুল ইসলাম, পরিচালক মো: শহিদুল্লাহ মিঞা, এএসএম নাঈম ও প্রদীপ কুমার দত্ত বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। বাকিদের মেয়াদ চলতি মাসের বিভিন্ন সময়ে শেষ হয়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে হলমার্কসহ ৫টি প্রতিষ্ঠান ৩ হাজার ৬০৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে হলমার্ক সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা হোটেল (সাবেক শেরাটন) শাখা থেকে ২ হাজার ৬৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা দেশি-বিদেশি ২৬টি ব্যাংকের ৫৮টি হিসাবে পাচার করে আত্মসাৎ করেছে।
বুধবার ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এএসএম নাঈমসহ সদ্য বিদায়ী পরিচালনা পর্ষদের ৫ পরিচালককে তলব করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সুভাষ ও হেনরী ছাড়াও অপর ৩ পরিচালক হলেন কেএম জামান রোমেল, অ্যাডভোকেট সত্যেন্দ্র চন্দ্র ভক্ত ও আনোয়ার জাহিদ।
সকাল দশটায় সুভাষের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। বেলা ১২টায় তার জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয়। হেনরীর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয় এগারটায়, শেষ হয় দেড়টায়। দুপুর একটা থেকে রোমেল এবং নাঈমের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। রোমেলের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয় দু`টায়।
দুদকের উপ-পরিচালক জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের অনুসন্ধান দল তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে।
দুই ঘণ্টা টানা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সুভাষ সিংহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘হলমার্ককে যে ঋণ দেওয়া হয়েছে তা হাই রিস্কের ঋণ। এতে আমাদের এখতিয়ার নেই।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘ব্যাংকিং নিয়ম লঙ্ঘন করে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ হলমার্ক গ্রুপের ঋণ মঞ্জুর করেছে। অডিটে একাধিকবার সর্তক করার পরও ওই বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’’
সরকার শত্রুর সঙ্গে বসবাস করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘‘সর্ষের মধ্যে ভূত আছে। এ ভূতকে বের করতে হবে।’’
দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জান্নাত আরা হেনরী ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে বলেন, ‘‘আইবিপির (ইনল্যান্ড বিল পার্সেস্ট) মাধ্যমে কাজটি করা হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদকে জানানোর কথা নয়।’’
ম্যানেজমেন্ট এ ব্যাপার পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা করেনি বলেও তিনি জানান।
হলমার্ক কেলেঙ্কারির দায়ভার পরিচালনা পর্ষদের ওপর বর্তায় না মন্তব্য করে হেনরী বলেন, ‘‘টোটাল দায়ভার ম্যানেজমেন্টের, আমাদের (পরিচালনা পর্ষদ) কোনো দায়-দায়িত্ব নেই।’’
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোমেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘হলমার্কের তদন্তের বিষয়ে দুদক আমাদের কাছে কিছু তথ্য উপাত্ত জানতে চেয়েছে। আমরা তাদেরকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি।’’
‘‘হলমার্কের কিছু অডিট আপত্তি এসেছিল। কিন্তু ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এটি আমাদের কাছে যথাযথভাবে উপস্থাপন না করায় বিষয়টি আমাদের নজরে আসেনি’’ বলেন রোমেল।
“হলমার্কের অনেক রেকর্ডপত্র সঠিক ছিল না” বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘রূপসী বাংলা (সাবেক শেরাটন) শাখা বোর্ডের কোনো অনুমোদন ছাড়াই বিপুল পরিমাণ ঋণ দেয় হলমার্ককে।”
হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় মঙ্গলবার সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদ্য বিদায়ী ও বর্তমানসহ মোট ১১ পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দেয় দুদক।
যাদের জিজ্ঞাসাবাদের নোটিশ দেওয়া হয় তারা হচ্ছেন, সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং চেয়ারম্যান কাজী বাহারুল ইসলাম, পরিচালক মো: শহিদুল্লাহ মিঞা, সুভাষ সিংহ রায়, জান্নাত আরা হেনরী, কাশেম হুমায়ূন, মো: আনওয়ার শহীদ, এএসএম নাঈম, কেএম জামান রোমেল, সাইমুম সরওয়ার কমল, সত্যেন্দ্র চন্দ্র ভক্ত ও প্রদীপ কুমার দত্ত।
এদিকে দুপুর সোয়া দুইটায় সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন দুদকের কমিশনার মোঃ বদিউজ্জামান। তিনি বলেন, ‘‘যদি পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে তবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে।’’
সূত্র জানায়, মাত্র চারজন পরিচালক নিয়ে চলছে ব্যাংকটির বর্তমান পর্ষদ। সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান কাজী বাহারুল ইসলাম, পরিচালক মো: শহিদুল্লাহ মিঞা, এএসএম নাঈম ও প্রদীপ কুমার দত্ত বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। বাকিদের মেয়াদ চলতি মাসের বিভিন্ন সময়ে শেষ হয়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে হলমার্কসহ ৫টি প্রতিষ্ঠান ৩ হাজার ৬০৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে হলমার্ক সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা হোটেল (সাবেক শেরাটন) শাখা থেকে ২ হাজার ৬৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা দেশি-বিদেশি ২৬টি ব্যাংকের ৫৮টি হিসাবে পাচার করে আত্মসাৎ করেছে।
Subscribe to:
Posts (Atom)















