Pages

Tuesday, October 23, 2012

বায়ুদূষণ রোধ করবে জিন্স! :: পরিবেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট

বায়ুদূষণ রোধ করবে জিন্স! :: পরিবেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট
 বায়ুদূষণ রোধে চেষ্টার শেষ নেই। কলকারখানা, যানবাহন ইত্যাদির কারণে বায়ুদূষণ হচ্ছে অনবরত। দূষণ রোধে গ্রহণ করা হচ্ছে নানা ব্যবস্থা। তবে অভিনব এক পদ্ধতির কথা বলছেন বৃটেনের গবেষকরা। জিন্স কাপড়ের পোশাক পরিহিতরা স্বাভাবিক চলাফেরার মাধ্যমেই বায়ু পরিশোধনে ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে গবেষকরা দাবি করছেন।

ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ডের অধ্যাপক টনি রিয়ান ও লন্ডন কলেজ অব ফ্যাশনের অধ্যাপক হেলেন স্টোরে বলেছেন,
কাপড় ধোয়ার সময় ক্যাটালাইটিক ক্লথিং ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি সাধারণ সাবানের সঙ্গে মিশে কাপড়ে চুম্বকশক্তি জোগাবে। নাইট্রোজেন অক্সাইডসহ কিছু বায়ুদূষণকারী উপাদান কাপড়ে টেনে নেবে এই চুম্বকশক্তি।

গাড়িতে কনভার্টার যেভাবে কাজ করে সেভাবেই কাজ করবে জিন্স। আবার কাপড় ধুলে এসব উপাদান দূর হয়ে যাবে।

এ দুই গবেষক লক্ষ্য করেন, টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড নামের খনিজের সূক্ষ্ম কণা কাপড়ে ছড়িয়ে দিলে ওই কাপড় বায়ু ও আলোর সঙ্গে ক্রিয়া করে বায়ুদূষণকারী উপাদানগুলো টেনে নেয়। এ থেকেই জিন্স কিংবা অন্য কাপড়ের মাধ্যমে বায়ু পরিশোধনের চিন্তা করেন তারা। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

Monday, October 22, 2012

জীবাণু দমনে নয়া ওষুধ :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট

জীবাণু দমনে নয়া ওষুধ :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট
স্টেফিলোককাস অরেয়াস বা এমআরএসএ এক ধরনের মারাত্মক জীবাণু। ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী বলেই এর ভয়াবহতা এত বেশি।
 
সম্প্রতি নতুন অ্যান্টিবায়োটিক বাজারে এসেছে, যা এই জীবাণু দমনে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এমআরএসএ বা মাল্টিডরাগ রেজিস্ট্যান্ট জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইতে সাধারণ ওষুধপত্র একেবারেই অসহায়। প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে কাবু করা যায় না এগুলো।

এই প্রসঙ্গে বন ইউনিভার্সিটি ক্লিনিকের ইমিউনোলজি ও প্যারাসাইটোলজি বিভাগের প্রধান চিকিত্সক অ্যার্নস্ট মলিটর বলেন, এই ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের অস্ত্রের ভাণ্ডার তেমন পরিপূর্ণ নয়, যেমনটি দেখা যায় অন্যান্য জীবাণুর ক্ষেত্রে। যেসব জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী, তাদের মধ্যে এমআরএসএ অন্যতম। অনেক মানুষই এই জীবাণু বহন করে চলেছে।

ডা. মলিটর জানান, ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ নিশ্চয়তা দিয়ে বলা যায়, এই জীবাণু আমাদের নাকে ও গলবিলে অবস্থান করে। এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। তবে বিষয়টি মারাত্মক হয় তখনই, যখন এই জীবাণু থেকে ক্ষত, ফুসফুসের সংক্রমণ, রক্তদূষণ ইত্যাদির মতো রোগ ব্যাধি দেখা দেয়। সব প্রজাতির এমআরএসএ, মাল্টিড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট নয়।
 
তবে যেসব এমআরএসএ ওষুধ প্রতিরোধী, সেগুলো জড়িত হয়ে পড়লে সমস্যা দেখা দেয়। পেনিসিলিনের মতো গতানুগতিক অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া কাবু করা গেলেও এগুলোকে আয়ত্তে আনা যায় না।

ডা. মলিটর বলেন, এমআরএসএ’র রয়েছে বিশেষ ধরনের এনজাইম বা উেসচক। তাই এখন পর্যন্ত পাওয়া অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে এই ধরনের জীবাণুকে ধ্বংস করা সহজ নয়। চিকিত্সকরা যখন এই মারাত্মক ধরনের জীবাণুর অস্তিত্ব শনাক্ত করতে পারেন, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়।
 
জার্মানিতে এমআরএসএ’র সংক্রমণে প্রতিবছর কয়েক হাজার রোগী মারা যায়। তিন ভাগের এক ভাগ সংক্রমণ হাসপাতালের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে হয়ে থাকে। এই তথ্য জানা গেছে বিভিন্ন সমীক্ষা থেকে। অন্য দুই ভাগ সংক্রমণ নানা কারণে হয়ে থাকে, যা এড়ানো সহজ নয়।

অল্প কিছু বিকল্প-অ্যান্টিবায়োটিক এই ভয়ানক জীবাণুটিকে কাবু করতে পারে। তবে প্রায়ই এগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিপজ্জনক। এছাড়া এই ওষুধ শরীরের সব জায়গায় একই ধরনের কাজে লাগে না। যেমন কোনো ওষুধ ফুসফুসের সংক্রমণে কাজে লাগলেও গিঁটের সংক্রমণ ভালো করতে ব্যর্থ। তবে সম্প্রতি চিকিত্সকদের মনে আশার আলো জাগিয়েছে একটি ওষুধ। আর তা হলো ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ‘আস্ট্রাসেনেকার তৈরি ‘সিনফোরো’ নামের অ্যান্টিবায়োটিক। এটি এমআরএসএ জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 
ডা. মলিটর বলেন, এই পদার্থের ব্যাপারে আমাদের আশা হলো এটি অন্যান্য বিকল্প ওষুধের তুলনায় অনেক কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াসম্পন্ন।

আশা করা হচ্ছে, এই অ্যান্টিবায়োটিক জীবাণুর প্রতিরক্ষা শক্তিকে মোকাবিলা করতে এবং এর ভেতরের এনজাইমকে দমন করতে পারবে। ফলে ব্যাকটেরিয়াগুলো আর বিস্তার লাভ করতে পারবে না। তবে নতুন ওষুধও যে এমআরএসএ প্রতিরোধে ধন্বন্তরি তা বলা যায় না।

ডা. মলিটরের ভাষায়, জীবাণুর বিস্তার ও ওষুধ প্রস্তুত করার সম্ভাবনার মধ্যে অনবরত একটা প্রতিযোগিতা চলছে। এটা প্রায় সব ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা যায় যে, কোনো কোনো জীবাণু তার সহযোগীদের তুলনায় কিছুটা শক্তিশালী এবং ওষুধকে পাশ কাটিয়ে টিকে থাকতে সক্ষম। ব্যাকটেরিয়া টিকে থাকার কৌশলী শিল্পী। তারা অতি দ্রুত বিস্তার লাভ করতে পারে এবং নতুন নতুন পরিস্থিতিতে খাপ খাওয়াতে পারে। যত ঘন ঘন তারা মারণঘাতী ওষুধের সম্মুখীন হয়, ততই তারা ফাঁকফোকর খুঁজতে থাকে, হয়ে ওঠে ওষুধ প্রতিরোধী।

ডা. মলিটর জানান, এই মুহূর্তে তেমন নিরাশ হওয়ার কারণ নেই। এমআরএসএ দমনে নতুন ওষুধ আমাদের অতিরিক্ত নিরাপত্তা দিতে পারবে। কাল বা পরশু কেউ এমআরএসএ ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হলে কার্যকর চিকিত্সা করা যাবে। তবে গবেষকদের এমআরএসএ ও অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াকে ঘায়েল করতে হলে অনবরত নতুন নতুন অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করে যেতে হবে। কৌশলী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে এটাই একমাত্র উপায়। সূত্র : ডিডব্লিউ

Sunday, October 21, 2012

খোলামেলা বিজ্ঞাপনে ক্যামেরন :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট

হলিউড অভিনেত্রীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা ও সফলতার দিক দিয়ে অন্য অনেকের চেয়ে এগিয়ে ক্যামেরন ডিয়াজ। বিভিন্ন চলচ্চিত্রে খোলামেলা ও ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে ক্যামেরাবন্দি হয়ে অতীতে বহুবারই আলোচনায় এসেছেন তিনি। সাহসী এসব দৃশ্য করতে কখনো পিছপা হতে দেখা যায়নি এই অভিনেত্রীকে। তাই পরিচালকদের কাছেও ডিয়াজ খুব প্রিয় একটি নাম। তবে ক্যামেরন ডিয়াজ গত দুই বছর ধরে চলচ্চিত্রে অভিনয় কমিয়ে দিয়েছেন। খুব বেছে বেছে কাজ করছেন বড় প্রোডাকশনের ব্যানারে।

এদিকে সম্প্রতি একটি ছবি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। নাম না ঠিক হওয়া এই ছবিতে প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করছেন ডিয়াজ। আর নতুন খবর হলো একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করতে যাচ্ছেন তিনি। সাধারণত বিজ্ঞাপনে খুব বেশি না দেখা গেলেও দর্শকরা এবার বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে পেতে যাচ্ছেন ডিয়াজকে।

ইতিমধ্যে নতুন একটি অন্তর্বাস সামগ্রীর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। আর এর বিজ্ঞাপনেই ডিয়াজ কাজ করবেন অর্ধনগ্ন হয়ে। এর আগে বিজ্ঞাপনে কখনো এতোটা খোলামেলা দৃশ্যে ক্যামেরাবন্দি হননি ডিয়াজ। তাই বিষয়টি নিয়ে ডিয়াজ এবং তার ভক্তদের মধ্যে বেশ কৌতূহল বিরাজ করছে।

এদিকে এই বিজ্ঞাপনটির শুটিংয়ে চলতি মাসের শেষের দিকেই অংশ নেয়ার কথা রয়েছে ডিয়াজের। আর বিজ্ঞাপনটি অনএয়ার হবে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে।

এ বিষয়ে ক্যামেরন ডিয়াজ বলেন, অনেক দিন ধরে আমার অভিনীত নতুন ছবি মুক্তি পাচ্ছে না। আসলে বেছে বেছে কম কাজ করার ফলেই এমন হচ্ছে। তবে এবার দর্শকরা আমাকে দেখতে পাবেন একটি বিজ্ঞাপনে। এই বিজ্ঞাপনটির মাধ্যমে দর্শকদের জন্য রোমাঞ্চকর ক্যামেরনকে দেখতে পাওয়ার বিষয়টি অপেক্ষা করছে। সব মিলিয়ে বিজ্ঞাপনটির থিমও আমার অনেক পছন্দ হয়েছে। আশা করছি দর্শকদেরও ভালো লাগবে।



নারিকেল তেলে হৃদরোগের ঝুঁকি! :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট

নারিকেল তেলে হৃদরোগের ঝুঁকি! :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট
 ভারতে প্রতিবছর হৃদরোগে মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষত, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি। আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে তরুণদের হৃদরোগে আক্রান্তের হারও।

দক্ষিণ ভারতের কেরালা, তামিলনাড়ূসহ অন্যান্য রাজ্যে প্রতিদিন হৃদরোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষই নিরামিষভোজী। কিন্তু নিরামিষভোজীরাও হৃদরোগ থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না।

ভারতের গবেষকরা বলছেন, এর অন্যতম কারণ নারিকেল তেল। ভারতের বিখ্যাত রেডিওলজিস্ট ইন্ডিয়ান রেডিলজিক্যাল অ্যান্ড ইমাজিং সেন্টারের প্রেসিডেন্ট ড. হর্ষ মহাজন বলেন, “২০০৪ সালে ভারতে প্রতিবছর মোট মৃত্যুবরণকারীর ১৪ শতাংশের মৃত্যু হয় হৃদরোগজনিত কারণে। এ সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। দক্ষিণ ভারতের হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক। এখানকার অধিকাংশ মানুষ নিরামিষভোজী হওয়া সত্ত্বেও হৃদরোগের ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাচ্ছে না। নারিকেল তেলের কারণে তারা হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।”

তার মতে, ভারতে ২০২০ সাল নাগাদ প্রতিবছর ৪০ লাখ ৭৭ হাজার মানুষ হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করবে। এ ছাড়া দেশটির উত্তরাঞ্চলের জম্মু-কাশ্মির, পাঞ্জাব ও উত্তর প্রদেশে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সূত্র: জিনিউজ

নাফিসের সঙ্গে একান্তে কথা বলার সুযোগ চেয়েছেন রাষ্ট্রদূত :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

নাফিসের সঙ্গে একান্তে কথা বলার সুযোগ চেয়েছেন রাষ্ট্রদূত :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
 নিউ ইয়র্কে ফেডারেল ব্যাংক ভবনে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিসের বিষয়ে ডিপ্লোমেটি এক্সেস চেয়েছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার মধ্যরাতে ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র অধিদফতরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা এ অনুরোধ জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত একরামুল কাদের গণমাধ্যমকে জানান, বৈঠকে নাফিসের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তারা নাফিসের পাসপোর্ট ও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগপত্রের কপিও হস্তান্তর করেছেন। এ সময় দূতাবাসের পক্ষ থেকে নাফিসের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও চাওয়া হয়েছে।

একরামুল কাদের আরো বলেন, নাফিস সরকারের সহযোগিতা চাইলে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তার পাপ্য সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে।

এর আগে শুক্রবার ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. দীপু মনি তার বিষয়ে সরকারের নেয়া উদ্যোগের কথা জানান।

দীপু মনি বলেন, নাফিসের জাতীয়তার বিষয়টি নিশ্চিত হলে আমরা মার্কিন সরকারের কাছে কনস্যুলার একসেস (বন্দির সঙ্গে একজন কূটনীতিকের কথা বলার সুযোগ) চাইব।

সাংবাদিদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা তার জাতীয়তা সম্পর্কে নিশ্চিত নই। সে বাংলাদেশী হতে পারে আবার মার্কিন নাগরিকও হতে পারে। এমনকি তার দ্বৈত নাগরিকত্বও থাকতে পারে। তার নাগরিকত্বের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে সরকার।

এদিকে, নাফিসকে গ্রেপ্তারের পর তার ই-মেইল যোগাযোগের সূত্র ধরে শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো থেকে এক ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করেছে এফবিআই। মার্কিন কর্মকর্তাদের সন্দেহ ওই ব্যক্তি নাফিসের সহযোগী।

উল্লেখ্য, গত ১৮ অক্টোবর মার্কিন ফেডারেল ব্যাংক ভবন বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে নাফিসকে গ্রেফতার করে।

রাজধানীতে লেক ভরাট করে ঈদগাহ, অবশেষে বন্ধ :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

রাজধানীতে লেক ভরাট করে ঈদগাহ, অবশেষে বন্ধ :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

রাজধানীর মিরপুরে ঈদগাহ তৈরির নামে পল্লবী আরামবাগ কল্যাণ সমিতি নামের একটি প্রতিষ্ঠান রূপনগর লেক ভরাটের কাজ করছে বলে পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযোগ করেছে। তবে অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপে উদ্যেক্তারা লিখিত অঙ্গীকার করে এ ভরাট কাজ বন্ধ করেন।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঈদগাহের জন্য ভরাটকৃত স্থানের পরিমাণ দৈর্ঘ্যে ১৬০ ফুট ও প্রস্থে ৬০ ফুট যা প্রায় সাড়ে তের কাঠা। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরীর নির্দেশে একটি টিম গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনা উদ্ঘাটন করেন। আজ শনিবার ভরাটের উদ্যোক্তাদের পরিচালকের (এনফোর্সমেন্ট) দপ্তরে তলব করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ভাষ্য মতে, পল্লবী আরামবাগ কল্যাণ সমিতির পক্ষে প্রতিষ্ঠানের সদস্য আবদুল কাইয়ুম  এবং লুৎফর রহমান স্বীকার করেছেন, ভরাটকৃত স্থান রূপনগর লেকের অংশ। এর মালিকানা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের। তারা আরো বলেন, আসন্ন ঈদ-উল-আজহার নামাজ পড়ার জন্য ভরাটকৃত জমিকে তারা ঈদের নামাজ পড়ার উপযোগী করছিলেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মুনীর চৌধুরী জানান, ‘‘উদ্যোক্তাদের এ ভরাট কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সমিতির নেতৃবৃন্দ সব বেআইনি কাজ বন্ধ রাখার লিখিত অঙ্গীকার করেছেন। এ ব্যাপারে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া দখল বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের কঠোর নজরদারিও থাকবে।’’

পল্লবী আরামবাগ কল্যাণ সমিতির পক্ষে সদস্য লুৎফর রহমান টেলিফোনে  বার্তা২৪ ডটনেটকে জানান, লেকে আগে থেকেই মাটি ভরাট ছিল। আমরা শুধু ঈদগাহ তৈরির উপযোগী করে তুলছিলাম। তবে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে আপত্তি তোলায় আমরা কাজ বন্ধ রেখেছি।
 

ডেসটিনি পরিচালক দিদার গ্রেফতার :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

ডেসটিনি পরিচালক দিদার গ্রেফতার :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
 ডেসটিনি-২০০০ এর পরিচালক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা দিদারুল আলমকে মুদ্রা পাচারের মামলায় গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে মহাখালী ডিওএইচএসে নিজের ব্যবসায়িক কার্যালয় থেকে দিদারকে গ্রেফতার করা হয়।

সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের পর পাচারের অভিযোগে গত ৩১ জুলাই রাজধানীর কলাবাগান থানায় ডেসটিনির ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে দুদক। ওই মামলায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দিদারও আসামি।

উল্লেখ্য, অর্থ পাচারের ওই দুই মামলায় ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল আমীন ও চেয়ারম্যান মো. হোসেন বর্তমানে কারাবন্দি। দুই মামলায় ১৮ দিনের হেফাজতে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুদক।

ডেসটিনির প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশিদও এই দুই মামলায় কারাগারে গেলেও পরে উচ্চ আদালত তাকে জামিন দেয়।

বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় অলি আহাদ :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় অলি আহাদ :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
 কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বাদ জোহর প্রথম নামাজে জানাজা, বাদ আসর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে দ্বিতীয় নামাজে জানাজার পর প্রখ্যাত ভাষাসৈনিক ও রাজনীতিক অলি আহাদকে বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে। এ সময় তাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ও শ্রদ্ধা জানাতে  জড়ো হন নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ।

অলি আহাদের প্রথম জানাজায় অংশ নেন বিএনপির সিনিয়র নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, সাদেক হোসেন খোকা, বরকত উল্লাহ বুলু, খায়রুল কবীর খোকন, চিকিৎসক নেতা এজেডএম জাহিদ হোসেন, চাষী নজরুল ইসলাম, রাজনীতিক শফিউল আলম প্রধান, শওকত হোসেন নীলু প্রমুখ।

বাদ আসর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় তার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা।

এদিকে, তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতাসহ বিশিষ্টজনেরা।

ভাষাসৈনিক অলি আহাদ রাজধানীর পান্থপথে শমরিতা হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শনিবার সকালে ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন।) তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

বরেণ্য এই ভাষা সৈনিক গত রোববার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শমরিতায় ভর্তি হন। এছাড়া তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। কয়েকদিন ধরেই তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন। শনিবার সকাল  ৯টা ২০ মিনিটে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেয়া হয় বলে জানান তার মেয়ে ব্যারিস্টার রিমিন ফারহানা।

আজীবন রাজনীতিতে যুক্ত অলি আহাদ ছিলেন ডেমোক্রেটিক লীগের চেয়ারম্যান। তিনি ১৯৪৮ সালে ৪ জানুয়ারিতে গঠিত পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং গণতান্ত্রিক যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ভাষা আন্দোলনের জন্য সর্বপ্রথম তিনিই গ্রেফতার হয়েছিলেন।

অলি আহাদ পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকেরও দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনের মধ্য দিয়ে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর সঙ্গে ন্যাপে যোগ দেন তিনি।

বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে পরিচালিত সব সংগ্রামে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এজন্য জীবনের অনেকটা সময় তাকে কারাগারেও থাকতে হয়েছিল।

’৮০ এর দশকে সামরিক ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখিও হয়েছিলেন অলি আহাদ। স্বৈরাচারবিরোধী জনমত গঠনের জন্য তার সম্পাদনায় প্রকাশিত সাপ্তাহিক ইত্তেহাদ ওই সময় নিষিদ্ধ করা হয়।

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অলি আহাদকে ২০০৪ সালে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান স্বাধীনতা পদক দেয়া হয়।

অলি আহাদের জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়র সরাইলের ইসলামপুর গ্রামে। তার একমাত্র মেয়ে ব্যারিস্টার নমিন ফারহানা হাই কোর্টের আইনজীবী।

আদালতে জনগণের আস্থা বাড়াতে সংস্কার দরকার: আইনমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

আদালতে জনগণের আস্থা বাড়াতে সংস্কার দরকার: আইনমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
 আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেছেন, “দেশে প্রচলিত পুরনো ও সনাতন বিচার পদ্ধতিতে মামলা নিষ্পত্তিতে অনেক সময় লাগে। বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে আদালতে মামলাজটের সৃষ্টি হচ্ছে। সারাদেশের আদালতসমূহে বর্তমানে ২২ লাখ মামলা বিচারাধীন।

তিনি বলেন, “মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা হলে জনগণ হতাশাগ্রস্ত হয় এবং বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়। ফলে জনগণ আদালতমুখী হতে চায় না। বিচার বিভাগের ওপর জনগণের আস্থা বাড়াতে সনাতন বিচার পদ্ধতির সংস্কার প্রয়োজন।”

বর্তমান সরকার এক্ষেত্রে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আইনমন্ত্রী শনিবার ঢাকায় হোটেল রেডিসনে ইউএনডিপি’র অর্থায়নে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়াধীন আইন ও বিচার বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িতব্য জাস্টিস সেক্টর ফ্যাসিলিটি (জেএসএফ) প্রকল্পের প্রারম্ভিক কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসবকথা বলেন।

বাংলাদেশে বিচারিক ব্যবস্থায় সুবিচার নিশ্চিতকরণের পথে মূল অন্তরায়সমূহ এবং সেগুলোর কার্যকর সমাধান চিহ্নিতকরণের ক্ষেত্রে যোগাযোগ, সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নীতি নির্ধারক,  সরকারি কর্মকর্তা, বিচারপতি, আইনজীবী এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহের মতামত গ্রহণের উদ্দেশ্যে কর্মশালাটির আয়োজন করা হয়।

আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এটর্নি জেনারেল কার্যালয়, সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এবং বিচার বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৫০ জন প্রতিনিধি কর্মশালায় অংশ নেন।

উল্লেখ্য, জেএসএফ প্রকল্পটি প্রাথমিকভাবে তিন বছরব্যাপী নেয়া। এ প্রকল্পটি জাতীয় উন্নয়ন কর্মকৌশল এবং ক্ষেত্রভিত্তিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা নির্ধারণে সাহায্য করবে যা বিচারিক  ক্ষেত্রে কৌশলগত অগ্রাধিকারসমূহ আলোচনা এবং জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টি করবে।

জেএসএফ প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এ এস এস এম জহিরুল হকের সভাপতিত্বে কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ইউএনডিপি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টেফান প্রিজনার প্রকল্পের চিফ টেকনিক্যাল এডভাইজার ক্রিস্টিয়ান এলডন এবং আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্মসচিব সৈয়দ আমিনুল ইসলাম বক্তৃতা করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারের দীর্ঘসূত্রতা থেকে বিচারপ্রার্থী জনগণকে মুক্তি দিতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি  ব্যবস্থা বা এডিআর বাধ্যতামূলক করে এবং মামলা নিষ্পত্তির প্রতিটি স্তরে সময় নির্ধারণ করে দিয়ে দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধন করা হয়েছে। পুরনোফৌজদারি কার্যবিধিতেও মামলা নিষ্পত্তিতে অনেক সময়ে লাগছে।

তদন্তে অধিক সময় ব্যয় এবং সঠিক সময়ে সাক্ষী হাজিরে ব্যর্থতার কারণে ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা হচ্ছে। এজন্য সমন জারি, সাক্ষী হাজিরসহ মামলা নিষ্পত্তির প্রতিটি স্তরে সময় নির্ধারণ করে দিয়ে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমন জারি, সাক্ষী হাজিরে ব্যর্থতায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রমের বিধান রেখে ফৌজদারি কার্যবিধি বিল উপস্থাপন ও তা পাশ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ফৌজদারি মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত সময়ে শেষ করার প্রতি দৃষ্টি দিতে তিনি পুলিশ বিভাগের প্রতি আহবান জানান।

মন্ত্রী বলেন, দেশের কারাগারগুলোতে কয়েদিদের শতকরা ৬০ থেকে ৭০ ভাগ হলো বিচারাধীন বন্দি। এসব বিচারাধীন বন্দির পেছনে সরকারের অনেক অর্থ ব্যয় হচ্ছে। মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হলে কারাগারে বিচারাধীন বন্দির সংখ্যা কমবে। সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধিতে ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তিতে এডিআর ব্যবস্থা অনুসরণের বিধান রাখা হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আইনের সুরক্ষা দিতে সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করতে আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠায় জনগণকে দ্রুত সুবিচার দিতে তিনি বিচারক ও আইনজীবীদের আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহবান জানান  তিনি।

যুদ্ধাপরাধের বিচার জাতীয় সমঝোতার পথ উন্মুক্ত করবে: প্রধানমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

যুদ্ধাপরাধের বিচার জাতীয় সমঝোতার পথ উন্মুক্ত করবে: প্রধানমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারের মাধ্যমে ইতিহাসের একটি অপ্রিয় অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটবে এবং জাতীয় সমঝোতার পথ উন্মুক্ত করবে।

’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী বিদেশী বন্ধুদের ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইতিহাসের একটি অপ্রিয় অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটবে এবং আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। জাতীয় সমঝোতার পথ উন্মুক্ত করবে।”

শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৬১ জন বিদেশী বন্ধু বা তাদের প্রতিনিধিদের হাতে এ সস্মাননা তুলে দেন।
মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রনালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. দীপুমনি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলাম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজকর্মী জোয়ান এ ডাইন সম্মাননাপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে বক্তৃতা করেন।

সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আই কে গুজরাল ও নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গিরিজা প্রসাদ কৈরালাকে ‘বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার অনার’ এবং বাকি ৫৭ জন ও দুটি প্রতিষ্ঠানকে ‘ফ্রেন্ডস অব লিবারেশন ওয়ার অনার’ প্রদান করা হয়।

ভারতীয় হাই কমিশনার পংকজ সরণ আইকে গুজরালের পক্ষে ও গিরিজা প্রসাদ কৈরালার পক্ষে তার কন্যা সুজাতা কৈরালা সম্মাননা গ্রহণ করেন।

মন্ত্রীপরিষদ সচিব এম মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত প্রশংসাপত্র পাঠ করেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রীবর্গ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সেক্টর কমান্ডারবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, কূটনীতিক, বিচারপতি, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীসহ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপুমনি ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এবি তাজুল ইসলাম বিদেশী বন্ধু ও তাদের প্রতিনিধিদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

শেখ হাসিনা মহান মুক্তিযুদ্ধে যেসব বিদেশী বন্ধুরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘আমরা তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ এবং চিরঋণী।’’

তিনি বলেন, ‘‘আজ থেকে ৪১ বছর আগে বাঙালি জাতি যখন গণহত্যার শিকার হয়েছিল, তখন আপনারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আপনাদের সেই সমর্থন প্রমাণ করেছিল যে আমাদের সংগ্রাম ছিল ন্যায্য। ন্যায়বিচার, মর্যাদা এবং সম্মান রক্ষার আর্তি আপনাদের কাছে পৌঁছেছিল।’’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা অতীতের সেই নীতির প্রতি আমাদের অবিচল আস্থা পুনর্ব্যক্ত করছি। সমতা, গণতন্ত্র, সুষম উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন হচ্ছে আমাদের আদর্শ এবং নীতি।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের সংবিধান প্রণয়নের সময়ও এসব আদর্শকে আমরা সমুন্নত রেখেছি। আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব আদর্শের উপর ভিত্তি করেই গড়ে তুলেছি। অতীতে অপরাধ করে শাস্তি না পাওয়ার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, আমরা তার অবসান ঘটিয়েছি। যে কোনো অপকর্মের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছি।’’ সূত্র: বাসস।

Saturday, October 20, 2012

মিয়ানমারের আধা বর্গ কিলোমিটারের ‘কারাগার’ :: বিদেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট

মিয়ানমারের আধা বর্গ কিলোমিটারের ‘কারাগার’ :: বিদেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট

মিয়ানমারের আরাকান (রাখাইন) রাজ্যের রাজধানী আকিয়াব (সিতউয়ি)৷ রাজ্যটির নাম পাল্টে সংখ্যাগুরু বৌদ্ধদের অনুসারে ‘রাখাইন’ করেছে শাসক সামরিক জান্তা তারা, একইসঙ্গে পাল্টিয়েছে রাজধানীর নামও। নামে যদিও কিছু আসে যায় না অবস্থা হতে পারতো। কিন্তু শুধু নামে নয়, কাজেও তৎপর দেশটির শাসকগোষ্ঠি, রাজ্যটি থেকে রোহিঙ্গা মুসলিম নির্মূলে রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই সামরিক জান্তা সেখানে নানা প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে।
 
এই নির্মূলকরণ প্রক্রিয়ার সর্বশেষ দৃশ্যমান নজির; গত জুনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর হামলা ও  তাদের ঘরবাড়িতে আগুন দেয়া এবং হত্যা নির্যাতনের ঘটনার কয়েক মাস হয়ে গেল৷ তবে এখনও সেখানে থমথম পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷
 
আকিয়াবের একটি এলাকা ‘অং মিঙ্গালার'৷ আয়তন আধা বর্গকিলোমিটার৷ জনসংখ্যা তিন থেকে আট হাজার৷ তারা সবাই রোহিঙ্গা মুসলিম৷ পুরো এলাকাটা বাঁশ আর কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা৷ এছাড়া চারদিকে রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য৷ এই কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে ভেতরের কারও পক্ষে বাইরে যাওয়া বা বাইরে থেকে কারও ভেতরে যাওয়া বেশ কঠিন৷ ফলে ভেতরের বাসিন্দারা গত চারমাস ধরে বন্দি জীবন যাপন করছেন৷ ওই আধা বর্গকিলোমিটারের মধ্যে তাদের জীবন আটকে গেছে৷ সেখাকার সব দোকানপাট আগেই গুঁড়িয়ে দিয়েছে রাখাইন বৌদ্ধরা৷ ফলে খাবার দাবারের জন্য রোহিঙ্গাদের নির্ভর করতে হচ্ছে সরকারের দেয়া ত্রাণের ওপর৷
 
অং মিঙ্গালারের ২৮ বছরের এক যুবক মোহাম্মদ সাঈদ৷ অশ্রুসিক্ত চোখে বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘‘আমার মনে হয়, আফ্রিকার সাহারা মরুভূমিতে বাস করা এর চেয়েও অনেক ভাল৷ ইতিমধ্যে আমরা সব হারিয়েছি৷ এভাবে আর বন্দি থাকতে পারছিনা আমরা৷ আমরাও তো মানুষ৷’’
 
শুধু যে বন্দি অবস্থায় থাকা তা নয়৷ নিজেদের জীবন নিয়েও ভীত রোহিঙ্গারা৷ কেননা মাঝে মধ্যেই রাখাইন বৌদ্ধরা বেষ্টনীর বাইরে জড়ো হন৷ তারা সেখানে পাহারায় থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের গুলি চালিয়ে রোহিঙ্গাদের ভয় দেখাতে উৎসাহিত করেন৷
 
রোহিঙ্গাদের অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংস্থা ‘আরাকান প্রজেক্ট'৷ এর প্রধান ক্রিস লেওয়া বলছেন, ‘‘এই বাঁশের বেড়াগুলো রোহিঙ্গাদের মনে এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ এছাড়া সেগুলো দেখলেই মনে হয় যেন দুটো আলাদা বিশ্বকে পৃথক করে রাখা হয়েছে৷’’
 
লেওয়া বলেন, ‘‘অং মিঙ্গালারের পরিস্থিতি গত শতকের আশির দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ সময়কার পরিস্থিতির চেয়েও ভয়াবহ৷ কেননা রোহিঙ্গারা তো চলাফেরাও করতে পারছেনা৷’’
 
এদিকে আরেক সাহায্য সংস্থা ‘রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনাল' এর কর্মকর্তা সরনাতা রেনল্ডস বলছেন, ‘‘রোহিঙ্গাদের চলাফেরায় বাঁধা নিষেধ আগে থেকেই ছিল৷ তবে এখনকার পরিস্থিতি একেবারে ভয়াবহ৷’’
এই অবস্থায় অং মিঙ্গালারের বাসিন্দাদের সেখান থেকে সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার দাবি উঠছে৷ স্থানীয় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের এক নেতা নেয়া না বলছেন, ‘‘শহরের মধ্যে অং মিঙ্গালার থাকলে উত্তেজনা বাড়তেই থাকবে৷ আমি চাইনা বৌদ্ধ আর মুসলমানদের মধ্যে সংঘর্ষ হোক৷ মুসলমানদের জন্য সেখানে থাকাটা বিপজ্জনক৷’’
 
৬০ বছরের আরেক বৌদ্ধ সান উইন ফু বলেন, ‘‘রোহিঙ্গারা সেখানে থাকলে সমস্যা হবেই৷ তাই সেখান থেকে তাদের চলে যাওয়াটা ভাল হবে৷’’
 
মিয়ানমারে জাতিসংঘের প্রধান অশোক নিগম বলছেন, ‘‘উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সাময়িকভাবে অং মিঙ্গালারে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে৷ কিছুদিন পর সেখানে শান্তি ফিরে এলে, দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশ্বাসের সম্পর্ক স্থাপিত হলে বেষ্টনী সরিয়ে নেয়া হবে৷’’
 
উল্লেখ্য, পশ্চিম মিয়ানমারে প্রায় আট লক্ষ রোহিঙ্গার বাস৷ জাতিসংঘের মতে, তারা বিশ্বের সবচেয়ে অবহেলিত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়৷ গত জুন মাসের সংঘাতে রাখাইন রাজ্য জুড়ে প্রায় ৫০ হাজার মুসলমান ও ১০ হাজার বৌদ্ধকে গৃহহীণ হতে হয়েছিল৷ ওই ঘটনায় নিহত হয়েছিল অনেকে৷ সূত্র: এএফপি ও ডয়েচে ভেলে।

সাহসের জয়পতাকা উড়িয়েই ফিরে ফিরে আসেন মালালা-রা :: বিদেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট


সাহসের জয়পতাকা উড়িয়েই ফিরে ফিরে আসেন মালালা-রা :: বিদেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট
ব্রিটেনের বার্মিংহাম কুইন এলিজাবেথ হাসপাতাল থেকে কাবুলের চহ্রাই-এ-মাইওয়ান্দ-এর দূরত্ব হয়তো খুব বেশি নয়। ‘মালালা’ নামটা এই দুস্তর ব্যবধান ঘুচিয়ে দিয়েছে।

একশো বত্রিশ বছর আগে ওই মাইওয়ান্দ গ্রামের এক বীরাঙ্গনার নাম ছিল মালালা। হিজাব খুলে যিনি লড়াইয়ের ডাক দিয়েছিলেন ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে। যে লড়াইয়ে কোণঠাসা হয়ে আফগানিস্তান ছেড়ে পালায় ব্রিটিশরা।
কালক্রমে এই মালালা নামটাই সে দেশে পরিণত হয়েছে কিংবদন্তিতে! তারই সাম্প্রতিকতম সংস্করণ মালালা ইউসুফজাই। তালিবানের হুমকি অগ্রাহ্য করে পড়াশোনার অধিকারের দাবিতে সরব হওয়ার সাজা সে পেয়েছে দিন দশেক আগে। ঘাড়ে-মাথায় বিঁধেছে তালিবানের বুলেট। বার্মিংহামের হাসপাতালে এখন অন্য লড়াই লড়ছে মালালা। সেরে ওঠার লড়াই।

একটু পিছিয়ে যাওয়া যাক। ১৮৮০ সালের জুলাই মাসে আড়াই হাজার ব্রিটিশ সেনার সামনে দাঁড়িয়ে শাহজাদা আয়ুব খানের বাহিনী তখন কাঁপছে। ঠিক এমন এক সময়েই ধূমকেতুর মতো এলেন মালালা। মাইওয়ান্দের অতি সাধারণ গৃহবধূ পাল্টা লড়াইয়ের ডাক দিয়ে নেমে এলেন যুদ্ধক্ষেত্রে। সেই আহ্বানে নিভু নিভু আগুনটা জ্বলে উঠল আবার। দ্বিগুণ উদ্যমে ঝাঁপাল আফগান সেনা। আর তাদের ফিরে তাকাতে হয়নি। হাজারখানেক সেনার মৃতদেহ মাইওয়ান্দের মাটিতে ফেলে রেখে ভারতে ফিরে যায় ব্রিটিশ বাহিনী।

মাইওয়ান্দ গ্রামের সেই বীর রমণী মাথা থেকে হিজাব খুলে যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে সেনাবাহিনীকে উদ্দীপ্ত করলেও তাকে আজ পর্যন্ত বিধর্মী বলতে পারেনি কেউ। মৌলবাদের শাসন মুছে ফেলতে পারেনি তার ইতিহাস। আফগানিস্তানের বহু স্মৃতি-সরণি, কাব্য, লোকগাথা তাকে ঘিরে।
সে দেশের বহু কন্যার নামও তার নামে। আফগানিস্তানের নারীশক্তির এক প্রতীক হয়ে উঠেছে এই নাম। মালালা কাক্করের কথাই ধরা যাক। বহু বার মৃত্যু পরোয়ানা পেয়েও রাস্তায় দাঁড়িয়ে তালিবানের সঙ্গে লড়ে গিয়েছেন আফগানিস্তানের অত্যন্ত জনপ্রিয় এই পুলিশ অফিসার। কন্দহরে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধদমন শাখার প্রধান ছিলেন মালালা। কন্দহর পুলিশ অ্যাকাডেমির প্রথম মহিলা গ্র্যাজুয়েট শেষ পর্যন্ত ২০০৮ সালে তালিবানের হাতেই নিহত হন। কাবুলে তালিবানের প্রভাব খতম করে গণতন্ত্রের শাসন ফেরানো এবং মৌলবাদী ফতোয়া অগ্রাহ্য করে নারীমুক্তির পথে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে তার অবদান এখনও স্মরণ করেন সে দেশের মানুষ।

কার্যত মাথায় ঠেকানো বন্দুক নিয়ে বাঁচছেন আর এক মালালা। মালালা জোয়া। তালিবানি শাসনকালে কাবুলে মহিলাদের অধিকার রক্ষায় লড়াই করেছিলেন তিনিও। একাধারে লেখিকা, সমাজকর্মী এবং রাজনীতিবিদ মালালা যেমন হামিদ কারজাই সরকারের সমালোচনা করেছেন, তেমন পশ্চিমের বন্ধুদেরও কড়া কথা বলতে ছাড়েননি। জোয়াকে আফগান পার্লামেন্ট থেকে বরখাস্ত করার পর দেশ জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। তাকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে প্রেসিডেন্ট কারজাইকে চিঠি লেখেন নোয়াম চমস্কির মতো ব্যক্তিত্বরাও।

যে সোয়াট উপত্যকায় মেয়েদের শিক্ষার অধিকারের জন্য লড়তে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে আজকের মালালা ইউসুফজাই, সেই অঞ্চলের উত্তরাংশেরই একমাত্র কলেজ, ‘ভোকেশনাল ট্রেনিং কলেজ ফর উইমেন’। প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯৯২ সালে। তালিবান তা বন্ধ করে দেয় ২০০৮-এ। অধ্যক্ষা সালমা বেগমকে বেয়নেটের ডগায় দাঁড় করিয়ে তালিবান নেতারা হুকুম দিয়েছিল, মহিলাদের লেখাপড়া বন্ধ করতেই হবে। তার পর চাকরি দেওয়ার তো কোনও প্রশ্নই ওঠে না। গৃহবন্দি হয়ে যায় প্রায় ৫০০ ছাত্রী। পরে বোমা মেরে কলেজ বিল্ডিংটিকেও ধ্বংসস্তূপ বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতিতে এক বছর হল আবার চালু হয়েছে সেই বৃত্তিমূলক কলেজ। তৈরি হয়েছে নতুন বাড়ি। গত বছরই পাক সরকারের আমন্ত্রণে সেখানে গিয়ে বোঝা গিয়েছিল, একটা আশার সুর আবার বাজছে। অধ্যক্ষা সালমা বেগম জানিয়েছিলেন, “আবার সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। পুরনো ছাত্রী, যারা তিন বছর গৃহবন্দি ছিল, তারা তো ফিরে আসছেই। আরও নতুন ভর্তির জন্য লাইন পড়েছে।”

এই কলেজেই আপাতত কম্পিউটারের পাঠ্যক্রম নিচ্ছে মালালা খাতুন। গত দু’বছর বাড়ি থেকে বেরোতে পারেনি সে। এখনও ভয় আছে। তবে তার আশা, ‘‘সেনা প্রহরা পুরোপুরি উঠে যাওয়ার আগে নিশ্চয়ই সরকার এমন ব্যবস্থা করে দেবে যাতে ওরা আবার আমাদের গ্রামের দখল নিতে না পারে।” পড়া শেষ করে ফ্যাশন ডিজাইনার হওয়ার ইচ্ছে এই তরুণীর।

সাহস আর মালালা শব্দ দু’টোই যেন সমার্থক। তাদের হারানো অতই সহজ! সুত্র: ওয়েবসাইট।

পরিবেশ সুরক্ষায় নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে মোবাইল ফোনের টাওয়ার স্থাপন :: পরিবেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট

পরিবেশ সুরক্ষায় নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে মোবাইল ফোনের টাওয়ার স্থাপন :: পরিবেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট
যেখানে সেখানে মোবাইল ফোনের টাওয়ার স্থাপন করায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা৷ পরিবেশ মন্ত্রণালয়ও উদ্বিগ্ন৷ টাওয়ারের বিকিরণ কিভাবে কমিয়ে আনা যায় তা নিয়ে কাজ শুরু করছেন তারা৷

বাংলাদেশে ছয়টি মোবাইল ফোন অপারেটরের এখন গ্রাহক নয় কোটি ৫৫ লাখ৷ গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে কেন্দ্র থেকে প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে অপারেটরগুলোর বেস টাওয়ার৷ তাই সব মিলিয়ে সারা দেশে টাওয়ারের সংখ্যা এখন ৩০ হাজার৷

কিন্তু এসব টাওয়ারের অধিকাংশই বসানো হচ্ছে বাসা-বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের ছাদে৷ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য তা ক্ষতিকর বলে এর বিরোধিতা করছেন বিশেষজ্ঞরা৷

পরিবেশ ও বন মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ টাওয়ারের রেডিয়েশেনের ক্ষতির কথা স্বীকার করে তা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা আছে বলে জানান৷

তবে তিনি সঙ্গে এ-ও জানান, এখনো বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের টাওয়ার স্থাপনে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নেয়া বাধ্যতামূলক নয়৷

তিনি জানান, পরিবেশ অধিদফতর টাওয়ারের রেডিয়েশনের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে একটি বিস্তারিত জরিপ চালাবে৷

এদিকে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন ভবনের ছাদ প্রায় টাওয়ারের জঙ্গলে পরিণত হয়েছে৷ তবে এ ব্যাপারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে যাচ্ছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রাজউক৷

সংস্থার চেয়ারম্যান মো. নূরুল হুদা জানান, তারাও একটি জরিপ করবেন, দেখবেন এসব টাওয়ার পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের কী ক্ষতি করছে৷ অবশ্য এ বিষয়ে ইতিমধ্যে নতুন বিধিমালা প্রণয়নের কাজও শুরু হয়েছে৷ রাজউকের অনুমতি ছাড়া ঢাকায় কোনো ভবনের ছাদে আর মোবাইল ফোনের টাওয়ার বসানো যাবে না৷

পরিবেশ ও বনমন্ত্রী এবং রাজউক চেয়ারম্যান বলেছেন, তারা দুজনই টাওয়ার স্থাপনে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের পক্ষে৷ সূত্র: ডিডব্লিউ

অনলাইনে জমজমাট কোরবানির হাট :: সাই-টেক :: বার্তা২৪ ডটনেট

অনলাইনে জমজমাট কোরবানির হাট :: সাই-টেক :: বার্তা২৪ ডটনেট
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় জীবন আজ হয়ে উঠেছে আরো বর্ণিল। সেই পথেই ইন্টারনেট সংযোগ আমাদের আটপৌঢ়ে জীবনে দিয়েছে নতুন প্রাণ। জন্ম থেকে মৃত্যু জীবনের প্রতিটি পরতে যুক্ত এই অন্তর্জালের অন্তরঙ্গতা এখন জুড়ে গেছে মুসলমানদের আত্মোৎসর্গ আনন্দ আয়োজনেও।

তাই ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এবার ভার্চুয়াল দুনিয়াতেও বসে গেছে কোরবানির (গরু-ছাগলের) হাট। মর্তোলোকে জমে না উঠলেও ভার্চুয়াল দুনিয়ায় জমাজমাট হয়ে উঠেছে অনলাইন কোরবানির হাট।
 
দেশের ইতিহাসে প্রথম এই অনলাইন কোরবানির হাট বসেছে http://amardesheshop.com/index.php/qurbani/ ঠিকানায়। এখানে রয়েছে কোরবানি উপলক্ষে বিক্রির অপেক্ষায় থাকা গরু ও ছাগলের ছবি, কোড নম্বর, দাম এবং কোনো কোনে ক্ষেত্রে এর ভিডিও। অনলাইনে বুকিং দেয়ার পাশাপাশি ব্রাকব্যাংক ও ডাচ বাংলা ব্যাংকের ই ক্যাশ, বি-ক্যাশ কিংবা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে পছন্দের পশু কিনতে পারছেন ক্রেতারা।

অর্থাৎ কোরবানির গরু কিনতে এখন আর প্রয়োজন নেই এ হাটে, ও হাটে ঘোরাঘুরি কিংবা কোরবানির পশু কিনে রশি টানাতে টানতে বাসায় আনার গলদঘর্ম কসরৎ। অনলাইন এই কোরবানির হাট থেকে এখন চাইলেই ঘরে বসে পছন্দের গরু নির্বাচন করতে পারছেন ক্রেতারা। একইভাবে গোয়াল থেকেই ঈপ্সিত মূল্যে পালিত কোরবানির পশু বিক্রি করতে পারছেন চাষী বা খামারীরা।
 
আর কোরবানির পশু ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে এই সেতুবন্ধন তৈরি করেছে অনলাইনে কেনা-বেঁচার হাট আমারদেশ-ই-শপ। আমার দেশে আমার গ্রাম প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এই ই-কমার্স সাইটটিতে কোরবানি উপলক্ষে আয়োজিত গরু-ছাগল ক্রয়-বিক্রয় আয়োজন শুরু হয়েছে চলতি মাসের ৬ তারিখ থেকে। অবশ্য শুরুর দিকে প্রথম দশ দিন অন লাইনের এই কোরবানির হাট ছিল ক্রেতাশূন্য। তবে দর্শনার্থী ছিল উল্লেখ কারার মতো। প্রতি দিনই একই সময়ে অনলাইনে এই কোরবানির হাটে ঘোরাঘুরি করছেন দেড়শ’ থেকে দুইশ’ দর্শণার্থী।

গত ১৫ অক্টোবর প্রথম বুকিং দেন নেদারল্যান্ড প্রবাসী মোমেন আহমেদ। ঈদের এক দিন আগে আগামী ২৬ অক্টোবর দেশে ফিরবেন মোমেন। তাই এবার ঈদ করবেন ঢাকার মহাখালীতে। কোরবানিও দেবেন এমহাখালী রেলগেট সংলগ্ন বাসার সামনের এক চিলতে খোলা জায়গায়। তাই আগে ভাগেই অনলাইন থেকে তিনটি গরু কিনেছেন তিনি। গরু তিনটির দাম পড়েছে এক লাখ ২৬ হাজার টাকা। দেশের বাইরে থেকেও সহজেই কোরবানির পশুর বন্দোবস্ত করতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত মোমেন।

তিনি বলেন, “অনলাইনেই কোরবানির পশু কিনতে পেরে সত্যি খুবই খুশি। এখন নিজেকে খুবই নির্ভার মনে হচ্ছে। গরুর হাটের বিড়ম্বনা ছাড়াই প্রথম পর্ব শেষ করলাম। এবার বাকি থাকলো কষাই পর্ব। এটাও যদি অনলাইনে কন্টাক্ট করতে পারতাম দারুণ হতো!”
 
অনলাইন এই কোরবানির হাট সম্পর্কে হাটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদিকা হাসান সেঁজুতি বার্তা২৪ ডটনেটকে জানান, আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইনে বুকিং নেয়া অব্যাহত থাকবে। ২৪ অক্টোবর থেকে শুরু হবে হোম ডেলিভারির কাজ। ডেলিভারির জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা চার্জ ধরা হচ্ছে। কোরবানির গরু হওয়ায় ছয় শতাংশ সার্ভিস চার্জ বাদে বিক্রির পুরো টাকাই চাষী বা খামারীকে দেয়া হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এবার ছোট পরিসরে শুরু করা হলেও আগামীতে এর আকার আরো বাড়ানো হবে। ঢাকার বাইরেও এই সেবা চালু করা হবে। প্রাথমিকভাবে এবার মোট ২০০টির মতো গরু-ছাগল বিক্রি করা হবে। ইতিমধ্যেই ২০টির মতো বিক্রি হয়েছে বলে তিনি জানান।

সেঁজুতি বলেন, “কোরবানির পশু সংগ্রহের জন্য ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে সাতটি ই-সেন্টার করা হয়েছে। সেন্টরগুলো রয়েছে মংলা, নরসিংদী, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, রংপুর এবং সিলেট। ফলে মধ্যসত্বভোগীদের বেড়াজাল এড়িয়ে ক্রেতা এবং বিক্রেতারা নির্ঝঞ্চাটভাবে কোরবানির পশু পেয়ে যাচ্ছেন ঘরে। এ জন্য সময়, শ্রম এবং অর্থ তিনই বাঁচছে। আমরা শুধু পরিবহ এবং ব্যাংক চার্জ ও অনন্য ব্যয়গুলোর জন্য নামমাত্র সার্ভিস চার্জ নিচ্ছি।”

অনলাইন কোরবানির হাটটি ঘুরে এবং ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে মিল পাওয়া গেলো সেঁজুতির কথার। প্রতিবেদনটি লেখার সময় পর্যন্ত অনলাইনে কোরবানির এই হাটে বিক্রির অপেক্ষায় থাকা গুরুর দাম ছিল ৩২ হাজার ৫০০টাকা থেকে ৮২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। তবে প্রথম পেজে প্রদর্শিত মোট নয়টি গরুর মধ্যে সাতটিই বিক্রি হয়ে যেতে দেখা গেছে। ছাগলের কোনো ছবি দেখা যায়নি। তবে সেঁজুতি জানিয়েছেন, শুক্রবারের মধ্যে কোরবানির ছাগলও অনলাইনে (হাটে) চলে আসবে।
 

ফিল্মি চটক নয়, দিল্লিতে খানদানি দাওয়াত :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট

ফিল্মি চটক নয়, দিল্লিতে খানদানি দাওয়াত :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট
 বলিউডি বিয়েতে দিল্লি ঘরানার রিসেপশন!

মানে, বলিউডের দুই তারকার বিয়ের আসর। কিন্তু ফিল্মি লোকজনের ভিড় কই? বরং রাজধানীর বড় বড় অনুষ্ঠানে যাদের দেখা যায়, সেই মুখগুলোই বেশি! যাকে বলে দিল্লি ক্রাউড!

রাজনীতির জগতের কথাই ধরুন! সব শিবিরের লোকজনই এসেছেন। কংগ্রেস-বিজেপি-বাম। সোনিয়া গান্ধী অবশ্য আসেননি। রাহুল গান্ধী এলেন। মনমোহন সিংহ আসেননি, এলেন মনমোহন-পত্নী গুরশরণ কাউর। সঙ্গে মন্টেক সিংহ অহলুওয়ালিয়া। শীলা দীক্ষিত, প্রফুল্ল পটেল, শশী তারুর। বিজেপির বসুন্ধরা রাজে, অরুণ জেটলি, রবিশঙ্কর প্রসাদ। সিপিএমের সীতারাম ইয়েচুরি।

ক্রীড়াজগৎ থেকে কপিল দেব, আব্বাস আলি বেগ, বিশেন সিংহ বেদি। শিল্পপতি সুব্রত রায়। সরোদিয়া আমজাদ আলি খান সস্ত্রীক। চিত্রশিল্পী পরেশ মাইতি, জয়শ্রী বর্মন।

কিন্তু বলিউড কোথায়? দু’দিন আগে মুম্বাইয়ের তাজ হোটেলের পার্টিতে ভেঙে পড়েছিল বি-টাউন। আমির খান অবশ্য সেই পার্টিতেও ছিলেন না। এদিন সকালে রাজধানীতে এসেছিলেন একটি অনুষ্ঠানে। কিন্তু বিকেলেই ফিরে গেলেন। দাওয়াতে থাকেননি। এসেছিলেন পরিচালক মধুর ভান্ডারকর, ইমতিয়াজ আলি, অভিনেত্রী নন্দিতা দাশ। বাকি যারা, তারা তো বর-কনের ঘরের লোক।

সোনালি শাড়িতে শর্মিলা, কালো শেরওয়ানিতে সাইফ আর লাল লেহঙ্গা-গোলাপি ব্রোকেডের টপ পরিহিতা কারিনা। সোহার পরনে সোনালি ঘারারা। সন্ধে সাতটা কুড়ি নাগাদ শর্মিলা একবার বাইরে এলেন। ৩১ নম্বর আওরঙ্গজেব রোডের সামনে ভিড় করা জনতাকে বললেন, “জাঁকজমকটা বড় কথা নয়। নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করেছি। আমি খুব খুশি।”

খুশির হাওয়াটা সকাল থেকেই রাজধানীর আওরঙ্গজেব রোডে বইছিল। মগরা ফুল আর রজনীগন্ধার মিষ্টি গন্ধ মাখা হাওয়া। চার দিকে থিকথিক করছে নিরাপত্তারক্ষী। শয়ে শয়ে সাংবাদিক। ওবি ভ্যান। কিন্তু রক্ষীর ঘেরাটোপ পেরিয়ে যেন বাতাসেরও প্রবেশ নিষেধ।

রক্ষীদের চোখে ধুলো দিয়ে ঢোকার উপায় নেই। জোর করে ঢুকতে চাইলে ওরা খুব নরম গলাতেই চলে যেতে বলবেন। সে কথার নড়চড় হবে না। কিন্তু কখন যে কোথা থেকে সাহস আসে! এবার যেমন এলো ছোট্ট ছেলেটার রূপ ধরে!

ভিড়ের মধ্যেই হঠাৎই উদয় হল সে। আড় চোখে চুপিসাড়ে বলল, “ও দিক দিয়ে যান, ঢুকে যেতে পারবেন। কেউ আটকাবে না। দেখবেন আমরা কেমন সাজিয়েছি ভিতরটা।” “তুমি যাবে সঙ্গে?” “না, ম্যাডাম। কুছ নেহি হোগা। আচ্ছা চলুন, আমি আপনাকে ভিতর অবধি নিয়ে যাচ্ছি!” গুটিগুটি পায়ে তার দেখানো পথে এগোতেই একেবারে রক্ষীর মুখোমুখি। কোথায় যাচ্ছেন? একটু কথা কাটাকাটি। কাকুতিমিনতি। বরফ গলে। “ছবি নেবেন না কিন্তু!”

রাজি। আর তার পরেই পা বাড়িয়ে ঢুকে পড়া এক অন্য পৃথিবীতে! সেখানে রাজকীয় সিলমোহর তো আছেই। তার সঙ্গেই এমন একটা আভিজাত্য, যেটা একই সঙ্গে খুব সমসাময়িকও। এক সাহেব তো আস্ত একটা বইই লিখছেন সাইফ-কারিনার বিয়ে নিয়ে।
চারধারে গাছগাছালিতে ছাওয়া এক বিশাল প্রাঙ্গণ। অন্তত পাঁচ থেকে ছয় রকমের আলো! মূলত সোনালি আর সাদা রঙের। গাছের ডাল থেকে ঝুলছে। গাছের সবুজের সঙ্গে আলোর রোশনাইয়ে মাখামাখি গোটা চত্বর। ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা নিউ ভ্যারাইটি ডেকরেটরের এক কর্তার সঙ্গে আলাপ হলো। বিনয়ী স্বরে বললেন, “এ তো কিছুই না...!” ওর সংস্থা কোন কোন বিয়েতে কীভাবে সাজিয়েছে, তার একটা ফিরিস্তি তখনই শুনিয়ে দিলেন আমাকে।

এই বাড়িতে এক সময় থাকতেন প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি ভৈরোঁ সিংহ শেখাওয়াত। এখন ফাঁকা। দিল্লিতে এ রকম কিছু সরকারি ভবন ইচ্ছে করেই ফাঁকা রেখে দেয়া হয়, বললেন এক সূত্র। দাওয়াত শেষে পদোতি প্যালেসে চলে যান সাইফরা। একটা ছোট্ট পারিবারিক অনুষ্ঠানও হবে।

তারপর? মধুচন্দ্রিমা কবে? শোনা যাচ্ছে, সাইফ-কারিনা আগে শেষ করবেন জমে থাকা শু্যটিং। তারপরই নাকি, শীত পড়লে সোজা সুইৎজারল্যান্ড! ফোন করা গেল সুইস আল্পস-এর পাদদেশের বিখ্যাত স্টাড প্যালেস হোটেলে। সাইফ-কারিনার নামে বুকিং আছে কি? রিসেপশনিস্ট জানালেন, “ওরা আগে আমাদের এখানে এসেছেন। হোটেল খুলবে ১৬ ডিসেম্বরের পর। কিন্তু অতিথিদের নামের তালিকা জানাতে পারব না।”

সাইফ-কারিনা স্টাডের অতিথি হচ্ছেন কি না, ক’দিন পরেই বোঝা যাবে। আপাতত সাইফ-কারিনার অতিথিরা কোথায় বসছেন? কয়েক পা এগোতেই একটা আঁকাবাঁকা লন। তারই বাঁ দিকে অতিথিদের বসার জায়গা। অনেকটা বড় ড্রইং রুমের মতো। সার দেয়া চমৎকার সব সোফা। প্রাচুর্যের ছাপ সর্বত্রই ছড়িয়ে আছে, কিন্তু কোথাও এতটুকু রুচির গরমিল নজরে পড়ে না। এখানেই কি তবে নবদম্পতি অতিথিদের অভ্যর্থনা জানাবেন? এক মহিলা ভয়েস টেস্টে ব্যস্ত। কোনও উত্তর দিলেন না। ভেসে আসছে রাজস্থানি লোকগান... ‘কেসরিয়া বালম’। লোকসঙ্গীতের কোনও আসর বসবে কি? না। অল্প দূরেই তো স্যাক্সোফোনের মতো একটা যন্ত্র বার করছেন এক বাদক। খুব একটা রিপোর্টার-সুলভ অনুসন্ধিৎসু হওয়ার মতো সময় নেই। যেকোনও মুহূর্তে শুনব, এ বার চলে যান! তার চেয়ে একটু আলাপ জমানোর চেষ্টা করা ভাল। গায়িকা বললেন, “আমি সোনাল কালরা। জ্যাজ শিল্পী। তবে আজ কেসরিয়া বালমও গাইব।” ফিউশন!

দূরে কার্পেটে মোড়া আর একটি চত্বর। সেখানে টকটকে লাল রঙের খানদানি জৌলুস। একটার নীচে আর একটা মোমবাতির সারি ঝুলছে। গাছ থেকে উঁকি মারছে গুচ্ছ গুচ্ছ গোলাপের তোড়া। খাবার জায়গাটা বোধহয় আরও সুন্দর। প্রত্যেকটা টেবিলের মাঝখানে মোগলি ছাঁদের আলো। শ্যাম্পেন গ্লাসগুলো আলোয় ঠিকরে উঠছে। ওয়েটাররা প্লেট সাফ-সুতরো করছেন, ন্যাপকিন গুছিয়ে রাখছেন। রাতের মেনুতে চার-পাঁচ রকমের বিরিয়ানি, তন্দুর কাবাব থেকে শুরু করে মুগ ডালের হালুয়া, কালা জামুন, শাহি টুকরা, কেসরিয়া জিলাবি...।

বেরনোর সময় সেই একই রক্ষী মাথা নেড়ে বললেন, “ছবি তোলেননি তো?” হাসলাম। মনে পড়ে গেল, শর্মিলার বলা সেই ‘নায়ক’ ছবির সংলাপ। ‘মনে রেখে দেব।’ সুত্র: ওয়েবসাইট।

বিশ্বব্যাপী স্থূলতা বাড়ছেই :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট

বিশ্বব্যাপী স্থূলতা বাড়ছেই :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট
 বিশ্বব্যাপী স্থূলতা ক্রমেই বাড়ছে। স্থূলতার হার সবচেয়ে বেশি উত্তর আমেরিকার দেশগুলোয়। ওই অঞ্চলে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৬ শতাংশ বাস করলেও পৃথিবীর মানুষের মোট ওজনের এক-তৃতীয়াংশের বাস উত্তর আমেরিকার দেশগুলোয়।

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে এসব তথ্য। লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের গবেষকদের ওই প্রতিবেদন বায়োমেড সেন্ট্রাল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

এতে বলা হয়, বিশ্বের মোট মানুষের ওজন ২৮৭ মিলিয়ন টন। বিশ্বে প্রতিটি মানুষের ওজন গড়ে ৬৩ কেজি করে; কিন্তু উত্তর আমেরিকায় প্রতিটি মানুষের গড় ওজন ৮০ দশমিক ৭ কেজি।

অন্যদিকে এশিয়ায় প্রতিটি মানুষের গড় ওজন ৫৭ দশমিক ৭ কেজি। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৬১ শতাংশের বাস এশিয়ায়; কিন্তু বিশ্বের মোট স্থূলকায় মানুষের ১৩ শতাংশের বাস এশিয়ায়। স্থূলতার শীর্ষ সারিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি আরব দেশও।

গবেষক-অধ্যাপক ইয়ান রবার্টস বলেন, স্থুলতা নিয়ে আমাদের সবার মধ্যে একটি ধারণা হচ্ছে-আমরা মনে করি, এটি আমার ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, আমরা সবাই আসলে স্থূল হচ্ছি। যদিও এ হার উত্তর আমেরিকায় বেশি। যদি প্রতিটি রাষ্ট্র নিজ নিজ নাগরিকের স্থূলতা নিয়ে সচেতন হয়, তবে এ সমস্যার সমাধান সহজ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সূত্র: বিবিসি

বেডরুম না হোক শহরেতো নিরাপত্তা দেয়া যায়: মকসুদ :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

বেডরুম না হোক শহরেতো নিরাপত্তা দেয়া যায়: মকসুদ :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, “বেডরুমে নিরাপত্তা দেয়া না যেতে পারে কিন্তু শহর বা জনপদেতো নিরাপত্তা দেয়া যায়। রামু’তে বৌদ্ধবিহারে সহিংসতার আশঙ্কার কথা আগেই প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তবুও প্রশাসন নির্লিপ্ত ছিল। বর্তমান সরকারের জন্য এর চেয়ে লজ্জার কিছু আর হতে পারে না।”

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। বৌদ্ধবিহারে হামলার প্রতিবাদে বিকেলে নাগরিক সংহতি ও প্রতিবাদ সমাবেশে সূচনা বক্তব্য রাখেন মকসুদ। ‘অসাম্প্রদায়িক ও জাতিগত বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ চাই’ নামক একটি সংগঠন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি ভোরে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের বাসার শয়নকক্ষ থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও তার স্ত্রী এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনি’র লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “দুই সাংবাদিককে নিজেদের ঘরে মারা হয়েছে। সরকারের পক্ষে কারো বেডরুম পাহারা দেয়া সম্ভব নয়।” ২৩ ফেব্রুয়ারি গণভবনে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলা সদরে দুষ্কৃতিকারীদের একাধিক দল বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের শত বছরের পুরানো ১২টি বৌদ্ধবিহার ও মন্দিরে আগুন লাগায়। পুড়িয়ে দেয় বৌদ্ধপল্লীর ৪০টির মতো বসতবাড়ি। শতাধিক ঘরবাড়িও ভাঙচুর করে তারা। বৌদ্ধধর্মাবলম্বী এক তরুণের ফেসবুকে পবিত্র কোরআন শরিফের অবমাননাকর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে- এমন অভিযোগে গভীর রাতে ওই হামলা চালানো হয়। রামুর ঘটনার পর টেকনাফ, উখিয়া, পটিয়ায় বেশ কয়েকটি বৌদ্ধবিহার ও বাড়ি এবং একটি হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট চালায় দুষ্কৃতকারীরা।

শুক্রবার প্রতিবাদ সমাবেশে সৈয়দ মকসুদ বলেন, “রামুর ঘটনা তদন্ত করতে ১৮ দিন লাগে না। এক দিনেই এটি সম্ভব।”

রামুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা ‘সন্তোষজনক নয়’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রশাসনের লোকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন আবুল মকসুদ।

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শামসুজ্জামান সেলিম, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা, আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং প্রমুখ।

টিআইবি প্রতিবেদনে সঠিক তথ্য না থাকলে ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

টিআইবি প্রতিবেদনে সঠিক তথ্য না থাকলে ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে দেয়া টিআইবি’র রিপোর্ট প্রশ্নে বলেছেন, টিআইবিসহ আন্তর্জাতিক যেকোনো সংস্থা কারো বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশের আগে নিশ্চয় সেটা চিন্তা-ভাবনা করেই করেছে। প্রতিবেদনে সঠিক তথ্য থাকলে সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে আর সঠিক তথ্য না থাকলে বিআইবির বিরুদ্ধে কার্যকরি পদক্ষেপ নেয়া হবে।
 
শুক্রবার বেলা ১১ টায় তার নির্বাচনী এলাকা কুষ্টিয়ার মিরপুরের তালবাড়িয়ায় পদ্মা নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
 
এছাড়াও তথ্যমন্ত্রী নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শনকালে এ এলাকার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করতে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
 
এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওবাইদুর রহমান, জাতীয় নারী জোটের আহ্বায়ক আফরোজা হক রিনা, কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম স্বপনসহ দলীয় নেতারা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
 
পরে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু তার নির্বাচনী এলাকা মিরপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পথসভায় যোগ দেন।

হলমার্কের দুটি ডকুমেন্ট দেখাতে পারি: ব্যারিস্টার খোকন :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

হলমার্কের দুটি ডকুমেন্ট দেখাতে পারি: ব্যারিস্টার খোকন :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
 বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন বলেন দুদক যদি চায় আমি হলমার্কের দুটি ডকুমেন্ট দেখাতে পারি।

শুক্রবার বিকেলে ফটোজার্নলিস্ট অ্যাসোসিয়েশনে মানবাধিকার সমিতি আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দুদকের চেয়ারম্যান হলমার্কের কোনো ডকুমেন্ট খুঁজে পান না। কারণ হচ্ছে এর সাথে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকজনের যোগাযোগ রয়েছে।

খোকন প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি সকালে গণতন্ত্রের ও মানবাধিকারের কথা বলছেন আবার তিনিই বিকেলে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করছেন।

দেশে যদি গণতন্ত্র থাকে তাহলে কেন জামায়াত অফিসে তালা ঝুলছে, বিএনপি অফিস তিন দিন পুলিশ আটকে রাখবে। বিরোধী দলেরও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। বাংলাদেশের মানবাধিকারের এ অবস্থা যদি এরিস্টটল, সক্রেটিস দেখতেন তাহলে তারা নিশ্চিত আত্মহত্যা করতেন বলে মন্তব্য করেন খোকন।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেন, দেশে যখন দানবের শাসন চলতে থাকে তখন আর মানবাধিকার আশা করা যায় না।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। আজকে সেই স্বাধীনতা বিপন্ন। তাই আবার একটি প্রতিরোধ যুদ্ধের মাধ্যমে জনগণের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষ অবদানের জন্য ১০ জনকে সম্মাননা দেয়া হয়।

সমিতির চেয়ারম্যান মঞ্জুর হোসেন ঈসার সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার হায়দার আলী, মার্গুব মোর্শেদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ড. মোস্তাফিজুর রহমার ইরান এবং সংগঠনের মহাসচিব মিলন মল্লিক।

নাফিস ষড়যন্ত্রের শিকার, দাবি পরিবারের :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

নাফিস ষড়যন্ত্রের শিকার, দাবি পরিবারের :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
নিউ ইয়র্কে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ভবন বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করার অভিযোগে গ্রেফতার বাংলাদেশী তরুণ কাজী রেজোয়ানুল আহসান নাফিস (২১) ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। নাফিস অনেকটা নিরীহ প্রকৃতির বলেও দাবি করে তার পরিবার।

নাফিসের পরিবার বলছে, তাকে কোনোভাবে ফাঁসানো হয়েছে। কিন্তু কেন, কী কারণে, কারা তাকে ফাঁসালো, তা স্পষ্ট নয় পরিবারের কাছে।

রাজধানীর উত্তর যাত্রাবাড়ীতে রেজওয়ানুল আহসানের মা-বাবা থাকেন। এটি রেজওয়ানুলের নানাবাড়ি। এখানেই তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। তার বাবা কাজী মোহাম্মদ আহসানউল্লাহ ন্যাশনাল ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, মা রোকেয়া সিদ্দিকী গৃহিণী। দুই ভাইবোনের মধ্যে রেজওয়ানুল ছোট। বোন চিকিৎসক।

বাবা আহসানউল্লাহ জানান, রেজওয়ানুল ২০০৬ সালে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে ঢাকা কলেজে ভর্তি হন। এইচএসসিতে জিপিএ ৪ দশমিক ৮৮ পান তিনি। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ভর্তি হন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে রেজওয়ানুল ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকম প্রকৌশল বিভাগে ভর্তি হন। আট সেমিস্টার শেষ করে ২০১১ সালের ফল সেমিস্টার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তিনি আর যোগাযোগ করেননি।

আহসানউল্লাহ বলেন, “রেজওয়ানুল পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন। কিন্তু কখনো কোনো মৌলবাদী বা উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। খুবই অন্তর্মুখী ছিলেন, সারা দিন ঘরে বসে কম্পিউটারে গেমস খেলতেন।”

পরিবারের সদস্যরা জানান, এ বছরের ৮ জানুয়ারি পড়াশোনার জন্য আমেরিকায় যান নাফিস। অর্ধেক শিক্ষাবৃত্তিতে ভর্তি হন মিসৌরি স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে পড়ছিলেন তিনি। সেখানে একটি বাঙালি পরিবারের সঙ্গে থাকতেন তিনি। প্রথম কয়েক মাস পড়াশোনার জন্য দেশ থেকে অর্থ পাঠাতে হয়েছে। সেখানে এক সেমিস্টার শেষ করেই রেজওয়ানুল আরেকটি কোর্স করার জন্য নিউ ইয়র্কে যান। ৯ অক্টোবর থেকে ক্লাস শুরু হয়। সেখানে ‘মুসলিম পিৎজা হাউস’ নামের একটি রেস্তোরাঁয় সম্প্রতি কাজ পেয়েছিলেন রেজওয়ানুল।

রেজওয়ানুলের বাবার দাবি, তার ছেলে এমন কাজ করতেই পারেন না। তাঁকে অবশ্যই কোনো একটি পক্ষ ফাঁসিয়েছে। তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

অপরদিকে, নাফিসের এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নাফিসকে তারা ভালো বলেই জানে। নাফিস কারো সঙ্গে কোনোদিন খারাপ আচরণ করেছে বলেও কেউ উল্লেখ করতে পারেনি। এলাকাবাসীও মনে করে নাফিস কোনো ষড়যন্ত্রের শিকার।

এদিকে, নাফিসের খবর পাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও এ ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহে তৎপর রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত তারা নাফিসের ব্যাপারে নেতিবাচক কোনো তথ্য পাননি বলে সূত্রে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, বুধবার আমেরিকার নিউইয়র্কে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ভবন বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করার অভিযোগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হন বাংলাদেশী তরুণ কাজী রেজোয়ানুল আহসান নাফিস।