Pages

Wednesday, October 24, 2012

ক্যারিয়ার বিষয়ে অরেঞ্জ বিডি’র সেমিনার :: সাই-টেক :: বার্তা২৪ ডটনেট

ক্যারিয়ার বিষয়ে অরেঞ্জ বিডি’র সেমিনার :: সাই-টেক :: বার্তা২৪ ডটনেট
তথ্য প্রযুক্তিতে এক ধাপ এগিয়ে থাকা অরেঞ্জ বিডি’র পক্ষ থেকে গত শনিবার ক্যারিয়ার বিষয়ে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আহসানল্লাহ্  বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েল  সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এ সেমিনারের বিষয় ছিল ‘ক্যারিয়ার ফর আইসিটি ওয়ার্ক ফোর্স ডেভেলপমেন্ট’।

সেমিনারে ওয়েব প্রোগ্রামার, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভলপার এবং জবসইনবিডি সম্পর্কিত নানা তথ্যাদি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অরেঞ্জ বিডি’র পক্ষ থেকে ওয়েব সলিউশন পরিচালক মো. হাফিজ আহমেদ বক্তব্য রাখেন। তিনি কিভাবে আইসিটিতে ক্যারিয়ার উন্নত করা যায় এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।

বিজনেস ডেভেলপমেন্টের ম্যানেজার মো. আশরাফউজ্জামান খান অরেঞ্জ বিডি এবং আইসিটি ওয়ার্ক ফোর্স ডেভেলপমেন্টের পদক্ষেপগুলো, অরেঞ্জ বিডির উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা, OSET এর পটভূমি ও উদ্দেশ্য, আইসিটি ওয়ার্ক ফোর্স’র চ্যালেঞ্ সমূহ এবং কিভাবে OSET এসব চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলায় সহায়তা করবে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন। সবশেষে মার্কেটিং এক্সিকিউটিব মাহমুদুল হাসান জবসইনবিডি নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ড. এস.এম.আবদুল্লাহ আল-মামুন ও মো. আবুল হোসাইন।

সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মো. সামিউদ্দিন মো. আরিফুর রাহমান ও মি. ববি বড়ুয়া।

শাহ্রিয়ার শাম্স তমালের সঞ্চালনায় বিকেল সাড়ে তিনটায় শুরু হয়ে একটানা দেড় ঘণ্টা চলার পর বিকেল পাঁচটায় সেমিনার সমাপ্ত হয়। এছাড়া দিনব্যাপী জবসইন বিডির ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। -বিজ্ঞপ্তি

মালালার জন্য গান :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট

মালালার জন্য গান :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট
  নারী শিক্ষা আন্দোলনের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ১৪ বছরের কিশোরী মালালা ইউসুফজাইকে নিয়ে গান লিখেছেন নন্দিত গীতিকার শহীদুল্লাহ ফরায়জী। বাংলা এবং ইংরেজি উভয় ভাষাতে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন প্রমিথিউসের বিপ্লব। ‘তুমি হৃদয়ের অনুভূতি/তুমি বিবেকের প্রতিশ্রুতি/ফিরে এসো ফিরো এসো/ প্রাণের আকুতি/পৃথিবীর আকুতি/মালালা মালালা/ নও তুমি একলা’ শীর্ষক গানটির  সুর ও সঙ্গীতায়োজন করেছেন বিপ্লব নিজেই।  গানটি শীঘ্রই শুনতে পাওয়া যাবে প্রমিথিউস ব্যান্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইটসহ দুটি ওয়েবসাইটে (www.prometheusbd.com/ www.levelzerodb.com)।
 
গীতিকার শহীদুল্লাহ ফরায়জী বলেন, “নারীদের শিক্ষার অধিকার এবং মানুষের চিন্তার অবরুদ্ধতার বিরুদ্ধে মালালা যে বিদ্রোহ করেছে তা হচ্ছে মানুষকে উন্নত চেতনায় সমৃদ্ধ করার সংগ্রাম। মালালা মানুষের চেতনায় এবং হৃদয়ে আলো বিতরণের যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, তাতে অংশগ্রহণের দায় থেকেই বাংলাদেশের পক্ষে এই গানটি লিখতে অনুপ্রাণিত হয়েছি।”
 
শিল্পী বিপ্লব বলেন, “চেতনা ও হৃদয়ের তাগিদ এবং দায়বদ্ধতা থেকে বাংলাদেশের শিল্পী সমাজের পক্ষে আমার এই গান। সব আশঙ্কাকে মিথ্যে করে দিয়ে মানুষের মাঝে আশার বাতিঘর হয়ে ফিরে আসুক মালালা, শিল্পী হিসেবে এটাই আমার কামনা।”

Tuesday, October 23, 2012

মিয়ানমারে পশু কোরবানির কঠিন শর্ত, ঈদের নামাজ অনিশ্চিত :: বিদেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট

মিয়ানমারে পশু কোরবানির কঠিন শর্ত, ঈদের নামাজ অনিশ্চিত :: বিদেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট

 নিজ বাসভূমিতে অবরুদ্ধ মিয়ানমারের মুসলমানদের আসন্ন ঈদুল আজহায় পশু কোরবানির মৌখিক অনুমতি দিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী নাসাকার স্থানীয় কমান্ডাররা। তবে শর্ত দেয়া হয়েছে- যেসব পশুর কোনো ব্যবহার উপযোগিতা রয়েছে যেমন- চাষাবাদের কাজে বা বোঝা বহনের কাজে লাগে কিংবা দুধ দেয়-এমন পশু কোরবানি করা যাবে না।

গত কয়েক মাসের মুসলিম বিরোধী সহিংসতায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট হওয়ার পর সংখ্যালঘু মুসলমানরা এখন প্রায় সর্বস্বান্ত। রাখাইন ও নাসাকা বাহিনী মুসলমানদের গরু, ছাগলসহ গবাদিপশুও কেড়ে নিয়ে গেছে। এছাড়া, সামর্থবান রোহিঙ্গা মুসলমানদের ধরে নিয়ে গিয়ে মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায় করেছে নাসাকা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

এ অবস্থায়  সেখানকার অনেক মুসলমানেরই এবার কোরবানি দেয়ার সামর্থ নেই। তারপরও যদি কেউ কোরবানি দিতে চায়, তাকে বেশি দামে পশু কিনতে হবে মগ কিংবা নাসাকা বাহিনীর কাছ থেকে। সেখানেও রয়েছে আরেক দফা বিপদ।

সর্বোপরি, সুস্থ ও তাজা পশু কোরবানির জন্য যেখানে ধর্মীয়  নির্দেশনা রয়েছে সেখানে  নাসাকা কমান্ডারের নির্দেশ মতো ব্যবহার অনুপোযোগী পশু কোরবানি জায়েজ হবে কিনা তা নিয়েও সংশয়ে রয়েছেন মুসলমানরা।

কোরবানি নিয়ে এ রকম একটি আশংকা যেমন রয়েছে- তেমনি ঈদের নামাজ পড়া যাবে কিনা বা কোথায় জামায়াত হবে তা এখনো অনিশ্চিত। তবে মংডু থেকে টেলিফোনে একজন মুসলিম নাগরিক জানালেন,  নাসাকা বাহিনী বলেছে- নামাজের বিষয়টি ঈদের দিনই জানানো হবে।

উল্লেখ্য, গত জুন মাসে মুসলিমবিরোধী সহিংসতা শুরু হওয়ার পর মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলো নাসাকা, সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র রাখাইনরা ঘিরে রেখেছে। সেখানে মসজিদ ও মক্তবগুলো রয়েছে তালাবন্ধ। আজান ও প্রকাশ্যে নামাজ পরার সুযোগ নেই মুসলমানদের।

এদিকে, মুসলিম অধ্যুষিত আকিয়াবে পূর্ব ও উত্তর পাশের চারটি থানা এলাকায় বৌদ্ধ মগদের ডাকে  শনিবার হরতাল ও বিক্ষোভ মিছিল অয়োজন করা হয়।

তাদের দাবি হচ্ছে, মুসলমানদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব বাতিল, তাদেরকে শহর এলাকা থেকে সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া এবং বাংলাদেশে বৌদ্ধদের ওপর হামলার বিচার করা ও ক্ষতিপূরণ দেয়া। সূত্র: আইআরআইবি

জেলখানা পরিদর্শনের অনুমতি পাননি আহমাদিনেজাদ :: বিদেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট

জেলখানা পরিদর্শনের অনুমতি পাননি আহমাদিনেজাদ :: বিদেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট
 ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে দেশটির বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা জেলাখানা পরিদর্শনে অনুমতি দেয়নি।

রাজধানী তেহরানের উত্তর দিকে অবস্থিত ওই জেলখানায় তার একজন খুব কাছের সহযোগীকে আটক করার পর তাকে সেখানে যেতে বলা হলেও পরে তা স্থগিত করা হয়।

বিচার বিভাগ থেকে বলা হয়েছে এ মুহূর্তে জেলখানায় পরিদর্শনে যাওয়া তার জন্য সময়োপযোগী হবে না।

তার চেয়ে দেশের অর্থনীতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি তার কাছে বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে নিউ ইয়র্ক ছিলেন তখন বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা তার খুব ঘনিষ্ঠ একজন সহকারীকে আটক করে এবং জেলে পাঠায়।

গত মাসে আটক হওয়া ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ইরানের কয়েকজন নেতাকে অপমান করেছেন।

সে ঘটনার পর এ মাসের শুরুতে আহমাদিনেজাদকে জেলখানা পরিদর্শনের জন্য যেতে বলা হয়।

ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তরে অবস্থিত এই জেলখানাটি নাম এভিন জেলখানা। কুখ্যাত এভিন জেলখানা নামে সবাই চেনে।

কিন্তু এখন ওই বিচার বিভাগ থেকে বলা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট এখন ওই জেলখানা পরিদর্শনে যেতে পারবেন না যেখানে তার ঘনিষ্ঠ সহকারী আটক রয়েছেন।

বিচার বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে দেশের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে যাতে প্রেসিডেন্টের মনোযোগ দেয়া উচিত। তার মধ্যে দেশের অর্থনীতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি।

এই মুখপাত্র আরো বলেছেন, এই মুহূর্তে প্রেসিডেন্টের জেলখানা পরিদর্শনের ব্যাপারটি, তার বিবেচনা বোধের ভুল ব্যাখ্যা দাঁড় করানো হবে।

এই ঘটনা এমন এক সময় ঘটল যার আট মাস পর প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদের ক্ষমতার সময়সীমা শেষ হবে। সূত্র: বিবিসি

মামলা প্রত্যাহারে আমার দেশ সংবাদকর্মীদের আল্টিমেটাম :: মিডিয়া :: বার্তা২৪ ডটনেট

মামলা প্রত্যাহারে আমার দেশ সংবাদকর্মীদের আল্টিমেটাম :: মিডিয়া :: বার্তা২৪ ডটনেট
 ঈদুল আজহার আগে দৈনিক আমার দেশ’র সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন পত্রিকাটির সাংবাদিক-কর্মচারীরা। মামলা প্রত্যাহার করা না হলে ঈদের পর বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আমার দেশ’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।
 
সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আমার দেশ পরিবার আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে মাহমুদুর রহমান এ কথা বলেন। দৈনিকটির সব সাংবাদিকের রিমান্ড চাওয়ার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
 
মাহমুদুর রহমান বলেন, “এই ফ্যাসিবাদী সরকার আমাকে ৫৭ টি মামলা ও ১৪ দিন রিমান্ডে নিয়েছিল। আবার নতুন করে আমার দেশ’র সাংবাদিকরা আওয়ামী আক্রমণের শিকার হয়েছেন। আজকে যা চলছে পৃথিবীর ইতিহাসে এ রকম দ্বিতীয় উদাহরণ আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।”
 
তিনি বলেন, “আমার দেশ’র চার’শ সাংবাদিকের নামে মামলা দিয়েছে। নাম না জানায় তাদের সবার রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। এ মামলায় এজহারভুক্ত আসামি সাতজন। এর মধ্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের বর্তমান সেক্রেটারি সৈয়দ আবদাল হোসেনের নাম রয়েছে। গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারির রিমান্ড ও গ্রেফতারের কথা বলা হতে পারে-এর চেয়ে ধৃষ্ঠতা আর নেই। এ সরকার পৃথিবীর সব স্বৈরশাসককে হার মানিয়েছে। তাই এ সরকারকে গণতান্ত্রিক সরকার বলা যায় না।”
 
মাহমুদুর রহমান বলেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য আন্দোলনে আসিনি। আমরা আমাদের পেশার স্বাধীনতার জন্য আন্দোলনে এসেছি।”
 
তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমার সহকর্মীদের রিমান্ডে নয়, আমাকে রিমান্ডে নিন। আপনি একদিকে গণতন্ত্রের কথা বলবেন, আরেকদিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করবেন-এটা হতে পারে না।”
 
মাহমুদুর রহমান বলেন, “আজ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা বিপন্ন। তাই এই পাগলের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামতে হবে। এই সরকার মস্তিষ্ক বিকৃত সরকার। কারণ, বিভিন্নভাবে গণতন্ত্রের স্বাধীনতাকে পদদলিত করছে।”
 
সমাবেশে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দীন সবুজ বলেন, “আজ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা বিপন্ন। সরকার মিডিয়ার ওপর যে নির্যাতন করছে এটা বন্ধ করা উচিত। এভাবে চলতে পারে না। এসব হয়রানি সংবাদপত্রের ওপর নগ্ন হামলা।”
 
প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি সৈয়দ আবদাল হোসেন বলেন, “আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে সাংবাদিকরা আক্রান্ত হয়। এ পর্যন্ত ১৬ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে, এর বিচার নেই। চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে এই সরকার মিডিয়া দলন করছে।”
 
তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের নাম জানার জন্য রিমান্ডের আবেদন করা কোনো সভ্য আচরণ নয়। এ সরকারের মধ্যে সভ্য কিছু নেই বলেই অসভ্য আচরণ করছে।”
 
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস শহিদ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের কথা বলেন। আবার তিনিই সংবাদপত্রের কভারেজ বন্ধ করে কণ্ঠ রোধ করেন। এটা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। তাই এর বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে হবে।”
 
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উদ্দেশে বলেন, “পারফরমেন্স যদি দেখাতে হয় তাহলে ভালো ভালো জায়গা আছে। সেখানে পারফরমেন্স দেখিয়ে মন্ত্রিত্ব পাকাপোক্ত করতে পারেন।”
 
তিনি বলেন, “রিমান্ডের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। ২০১০ সালে আপনার সরকারের ভরা যৌবন ছিল, এখনতো বার্ধক্য পৌঁছেছেন। যদি বোধ ও মান সন্মান থাকে তাহলে এ কাজ থেকে দূরে থাকবেন। অপেক্ষা করুন আপনাদের বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হবে। তখন আপনাদের রিমান্ড নেয়া হবে।”
 
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কবি আব্দুল হাই শিকদার।
 
সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক নেতা কে এম আব্দুল্লাহ, শহীদুল ইসলাম, নুরুল আমীন রোকন, এম এ আজিজ, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, আমার দেশ’র টিম লিডার বাছির কামাল, সাংবাদিক ওলিউল্লাহ নোমান ও আলাউদ্দীন আরিফ প্রমুখ।

আমার দেশ সাংবাদিকদের রিমান্ড শুনানি ৩ ডিসেম্বর :: মিডিয়া :: বার্তা২৪ ডটনেট

আমার দেশ সাংবাদিকদের রিমান্ড শুনানি ৩ ডিসেম্বর :: মিডিয়া :: বার্তা২৪ ডটনেট
 দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ পত্রিকার অন্য সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা মামলার শুনানির জন্য আগামী ৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
 
ঢাকার মহানগর হাকিম কেশব রায় চৌধুরী সোমবার এ আদেশ দেন।
 
আসামি পক্ষের আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার এ মামলার শুনানির জন্য পরবর্তী তারিখ চেয়ে আবেদন করলে বিচারক শুনানি শেষে আগামী ৩ ডিসেম্বর মামলার শুনানির দিন ধার্য করেন।
 
রোববার এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অপূর্ব হাসান দৈনিক আমার দেশের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদসহ পাঁচ সাংবাদিকের জামিন বাতিল করে একদিনের পুলিশ হেফাজতে নেয়ার আবেদন করেন।
 
এ মামলায় সোমবার আমার দেশ’র সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, নির্বাহী সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক সঞ্জীব চৌধুরী, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার আলাউদ্দিন আরিফ ও অফিস সহকারী সাইফুল ইসলামসহ সব সাংবাদিক-কর্মচারী আদালতে হাজির হন।
 
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, এ মামলায় জামিনে থাকা আসামিদের জামিননামায় শুধু আমার দেশ পত্রিকার ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের গ্রামের বা শহরের বাড়ির স্থায়ী ঠিকানা দেয়া হয়নি।
 
২০১০ সালের ১ জুন দৈনিক আমার দেশ’র সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের সময় পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে পরের দিন একটি মামলা দায়ের করে তেজগাঁও থানা পুলিশ।
 
মামলায় আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, বার্তা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক সঞ্জীব চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আলাউদ্দিন আরিফ ও অফিস সহকারি সাইফুল ইসলামের নাম এজাহারভুক্ত করে  অজ্ঞাতনামা কয়েকশ’ সাংবাদিক কর্মচারীকে আসামি করা হয়।

ঢাবি-আইসিডিডিআরবি’র মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর :: শিক্ষাঙ্গন :: বার্তা২৪ ডটনেট

ঢাবি-আইসিডিডিআরবি’র মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর :: শিক্ষাঙ্গন :: বার্তা২৪ ডটনেট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইসিডিডিআরবি-এর মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সোমবার ভিসি দফতরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এবং আইসিডিডিআরবি’র অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাহী পরিচালক ড. আববাস উদ্দিন ভূঁইয়া নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল মালেক, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন রশীদ চৌধুরী, অধ্যাপক ড. সাইয়াদ সালেহীন কাদরী, আইসিডিডিআরবি বোর্ড অব ট্রাস্টির বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি অধ্যাপক ড. সোহরাব আলী, পরিচালক ড. ফেরদৌসী কাদরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইসিডিডিআরবি যৌথভাবে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণমূলক প্রকল্প গ্রহণ করবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা আইসিডিডিআরবিতে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পাবেন এবং আইসিডিডিআরবি’র গবেষকগণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডি কোর্সে ভর্তির সুযোগ পাবেন।

ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এই চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘‘এই চুক্তি দেশের শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এর ফলে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা আইসিডিডিআরবি নয়, সমগ্র বাংলাদেশ উপকৃত হবে। গবেষণার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য গবেষকদের প্রতি আহবান জানান তিনি।’’

সোনারগাঁওয়ে বিরল প্রজাতির মেছো বাঘের বাচ্চা উদ্ধার :: পরিবেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট

সোনারগাঁওয়ে বিরল প্রজাতির মেছো বাঘের বাচ্চা উদ্ধার :: পরিবেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কোনাবাড়ি গ্রামের একটি পরিত্যাক্ত ঘর থেকে সোমবার সকালে বিরল প্রজাতির মেছো বাঘের তিনটি বাচ্চা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকালে কোনাবাড়ী গ্রামের আমির হোসেন রানার পরিত্যাক্ত ঘরে  ব্যতিক্রমী ডাক শোনা যায়। এ সময় আমির হোসেনের ছোটভাই মোশারফ হোসেন ও তার স্ত্রী সুমা আক্তার ওই ঘরের তালা খুলে ভিতরে ঢুকে বিরল প্রজাতির মেছো বাঘের তিনটি বাচ্চা দেখতে পান।

বিষয়টি জানাজানি হলে সকাল থেকে আশেপাশের হাজারো গ্রামবাসী ওই বাড়িতে ভিড় জমায়। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বাচ্চা তিনটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এ ব্যাপারে সোনারগাঁও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ জানান, আমরা অনেক বন্যপ্রাণী চিনি না। এগুলো আসলে মেছো বাঘের বাচ্চা কিনা সেটা চিড়িয়াখানার লোকজন ভাল বলতে পারবে।

সোনারগাঁও থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) হারুন অর রশিদ জানান, উদ্ধারকৃত বন্যপ্রাণীগুলো মেছো বাঘের বাচ্চা হতে পারে। উদ্ধারকৃত বাচ্চাগুলো শনাক্ত করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত হস্তান্তর করা হবে।

বায়ুদূষণ রোধ করবে জিন্স! :: পরিবেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট

বায়ুদূষণ রোধ করবে জিন্স! :: পরিবেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট
 বায়ুদূষণ রোধে চেষ্টার শেষ নেই। কলকারখানা, যানবাহন ইত্যাদির কারণে বায়ুদূষণ হচ্ছে অনবরত। দূষণ রোধে গ্রহণ করা হচ্ছে নানা ব্যবস্থা। তবে অভিনব এক পদ্ধতির কথা বলছেন বৃটেনের গবেষকরা। জিন্স কাপড়ের পোশাক পরিহিতরা স্বাভাবিক চলাফেরার মাধ্যমেই বায়ু পরিশোধনে ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে গবেষকরা দাবি করছেন।

ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ডের অধ্যাপক টনি রিয়ান ও লন্ডন কলেজ অব ফ্যাশনের অধ্যাপক হেলেন স্টোরে বলেছেন,
কাপড় ধোয়ার সময় ক্যাটালাইটিক ক্লথিং ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি সাধারণ সাবানের সঙ্গে মিশে কাপড়ে চুম্বকশক্তি জোগাবে। নাইট্রোজেন অক্সাইডসহ কিছু বায়ুদূষণকারী উপাদান কাপড়ে টেনে নেবে এই চুম্বকশক্তি।

গাড়িতে কনভার্টার যেভাবে কাজ করে সেভাবেই কাজ করবে জিন্স। আবার কাপড় ধুলে এসব উপাদান দূর হয়ে যাবে।

এ দুই গবেষক লক্ষ্য করেন, টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড নামের খনিজের সূক্ষ্ম কণা কাপড়ে ছড়িয়ে দিলে ওই কাপড় বায়ু ও আলোর সঙ্গে ক্রিয়া করে বায়ুদূষণকারী উপাদানগুলো টেনে নেয়। এ থেকেই জিন্স কিংবা অন্য কাপড়ের মাধ্যমে বায়ু পরিশোধনের চিন্তা করেন তারা। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

Monday, October 22, 2012

জীবাণু দমনে নয়া ওষুধ :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট

জীবাণু দমনে নয়া ওষুধ :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট
স্টেফিলোককাস অরেয়াস বা এমআরএসএ এক ধরনের মারাত্মক জীবাণু। ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী বলেই এর ভয়াবহতা এত বেশি।
 
সম্প্রতি নতুন অ্যান্টিবায়োটিক বাজারে এসেছে, যা এই জীবাণু দমনে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এমআরএসএ বা মাল্টিডরাগ রেজিস্ট্যান্ট জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইতে সাধারণ ওষুধপত্র একেবারেই অসহায়। প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে কাবু করা যায় না এগুলো।

এই প্রসঙ্গে বন ইউনিভার্সিটি ক্লিনিকের ইমিউনোলজি ও প্যারাসাইটোলজি বিভাগের প্রধান চিকিত্সক অ্যার্নস্ট মলিটর বলেন, এই ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের অস্ত্রের ভাণ্ডার তেমন পরিপূর্ণ নয়, যেমনটি দেখা যায় অন্যান্য জীবাণুর ক্ষেত্রে। যেসব জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী, তাদের মধ্যে এমআরএসএ অন্যতম। অনেক মানুষই এই জীবাণু বহন করে চলেছে।

ডা. মলিটর জানান, ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ নিশ্চয়তা দিয়ে বলা যায়, এই জীবাণু আমাদের নাকে ও গলবিলে অবস্থান করে। এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। তবে বিষয়টি মারাত্মক হয় তখনই, যখন এই জীবাণু থেকে ক্ষত, ফুসফুসের সংক্রমণ, রক্তদূষণ ইত্যাদির মতো রোগ ব্যাধি দেখা দেয়। সব প্রজাতির এমআরএসএ, মাল্টিড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট নয়।
 
তবে যেসব এমআরএসএ ওষুধ প্রতিরোধী, সেগুলো জড়িত হয়ে পড়লে সমস্যা দেখা দেয়। পেনিসিলিনের মতো গতানুগতিক অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া কাবু করা গেলেও এগুলোকে আয়ত্তে আনা যায় না।

ডা. মলিটর বলেন, এমআরএসএ’র রয়েছে বিশেষ ধরনের এনজাইম বা উেসচক। তাই এখন পর্যন্ত পাওয়া অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে এই ধরনের জীবাণুকে ধ্বংস করা সহজ নয়। চিকিত্সকরা যখন এই মারাত্মক ধরনের জীবাণুর অস্তিত্ব শনাক্ত করতে পারেন, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়।
 
জার্মানিতে এমআরএসএ’র সংক্রমণে প্রতিবছর কয়েক হাজার রোগী মারা যায়। তিন ভাগের এক ভাগ সংক্রমণ হাসপাতালের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে হয়ে থাকে। এই তথ্য জানা গেছে বিভিন্ন সমীক্ষা থেকে। অন্য দুই ভাগ সংক্রমণ নানা কারণে হয়ে থাকে, যা এড়ানো সহজ নয়।

অল্প কিছু বিকল্প-অ্যান্টিবায়োটিক এই ভয়ানক জীবাণুটিকে কাবু করতে পারে। তবে প্রায়ই এগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিপজ্জনক। এছাড়া এই ওষুধ শরীরের সব জায়গায় একই ধরনের কাজে লাগে না। যেমন কোনো ওষুধ ফুসফুসের সংক্রমণে কাজে লাগলেও গিঁটের সংক্রমণ ভালো করতে ব্যর্থ। তবে সম্প্রতি চিকিত্সকদের মনে আশার আলো জাগিয়েছে একটি ওষুধ। আর তা হলো ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ‘আস্ট্রাসেনেকার তৈরি ‘সিনফোরো’ নামের অ্যান্টিবায়োটিক। এটি এমআরএসএ জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 
ডা. মলিটর বলেন, এই পদার্থের ব্যাপারে আমাদের আশা হলো এটি অন্যান্য বিকল্প ওষুধের তুলনায় অনেক কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াসম্পন্ন।

আশা করা হচ্ছে, এই অ্যান্টিবায়োটিক জীবাণুর প্রতিরক্ষা শক্তিকে মোকাবিলা করতে এবং এর ভেতরের এনজাইমকে দমন করতে পারবে। ফলে ব্যাকটেরিয়াগুলো আর বিস্তার লাভ করতে পারবে না। তবে নতুন ওষুধও যে এমআরএসএ প্রতিরোধে ধন্বন্তরি তা বলা যায় না।

ডা. মলিটরের ভাষায়, জীবাণুর বিস্তার ও ওষুধ প্রস্তুত করার সম্ভাবনার মধ্যে অনবরত একটা প্রতিযোগিতা চলছে। এটা প্রায় সব ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা যায় যে, কোনো কোনো জীবাণু তার সহযোগীদের তুলনায় কিছুটা শক্তিশালী এবং ওষুধকে পাশ কাটিয়ে টিকে থাকতে সক্ষম। ব্যাকটেরিয়া টিকে থাকার কৌশলী শিল্পী। তারা অতি দ্রুত বিস্তার লাভ করতে পারে এবং নতুন নতুন পরিস্থিতিতে খাপ খাওয়াতে পারে। যত ঘন ঘন তারা মারণঘাতী ওষুধের সম্মুখীন হয়, ততই তারা ফাঁকফোকর খুঁজতে থাকে, হয়ে ওঠে ওষুধ প্রতিরোধী।

ডা. মলিটর জানান, এই মুহূর্তে তেমন নিরাশ হওয়ার কারণ নেই। এমআরএসএ দমনে নতুন ওষুধ আমাদের অতিরিক্ত নিরাপত্তা দিতে পারবে। কাল বা পরশু কেউ এমআরএসএ ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হলে কার্যকর চিকিত্সা করা যাবে। তবে গবেষকদের এমআরএসএ ও অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াকে ঘায়েল করতে হলে অনবরত নতুন নতুন অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করে যেতে হবে। কৌশলী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে এটাই একমাত্র উপায়। সূত্র : ডিডব্লিউ

Sunday, October 21, 2012

খোলামেলা বিজ্ঞাপনে ক্যামেরন :: এন্টারটেইনমেন্ট :: বার্তা২৪ ডটনেট

হলিউড অভিনেত্রীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা ও সফলতার দিক দিয়ে অন্য অনেকের চেয়ে এগিয়ে ক্যামেরন ডিয়াজ। বিভিন্ন চলচ্চিত্রে খোলামেলা ও ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে ক্যামেরাবন্দি হয়ে অতীতে বহুবারই আলোচনায় এসেছেন তিনি। সাহসী এসব দৃশ্য করতে কখনো পিছপা হতে দেখা যায়নি এই অভিনেত্রীকে। তাই পরিচালকদের কাছেও ডিয়াজ খুব প্রিয় একটি নাম। তবে ক্যামেরন ডিয়াজ গত দুই বছর ধরে চলচ্চিত্রে অভিনয় কমিয়ে দিয়েছেন। খুব বেছে বেছে কাজ করছেন বড় প্রোডাকশনের ব্যানারে।

এদিকে সম্প্রতি একটি ছবি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। নাম না ঠিক হওয়া এই ছবিতে প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করছেন ডিয়াজ। আর নতুন খবর হলো একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করতে যাচ্ছেন তিনি। সাধারণত বিজ্ঞাপনে খুব বেশি না দেখা গেলেও দর্শকরা এবার বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে পেতে যাচ্ছেন ডিয়াজকে।

ইতিমধ্যে নতুন একটি অন্তর্বাস সামগ্রীর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। আর এর বিজ্ঞাপনেই ডিয়াজ কাজ করবেন অর্ধনগ্ন হয়ে। এর আগে বিজ্ঞাপনে কখনো এতোটা খোলামেলা দৃশ্যে ক্যামেরাবন্দি হননি ডিয়াজ। তাই বিষয়টি নিয়ে ডিয়াজ এবং তার ভক্তদের মধ্যে বেশ কৌতূহল বিরাজ করছে।

এদিকে এই বিজ্ঞাপনটির শুটিংয়ে চলতি মাসের শেষের দিকেই অংশ নেয়ার কথা রয়েছে ডিয়াজের। আর বিজ্ঞাপনটি অনএয়ার হবে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে।

এ বিষয়ে ক্যামেরন ডিয়াজ বলেন, অনেক দিন ধরে আমার অভিনীত নতুন ছবি মুক্তি পাচ্ছে না। আসলে বেছে বেছে কম কাজ করার ফলেই এমন হচ্ছে। তবে এবার দর্শকরা আমাকে দেখতে পাবেন একটি বিজ্ঞাপনে। এই বিজ্ঞাপনটির মাধ্যমে দর্শকদের জন্য রোমাঞ্চকর ক্যামেরনকে দেখতে পাওয়ার বিষয়টি অপেক্ষা করছে। সব মিলিয়ে বিজ্ঞাপনটির থিমও আমার অনেক পছন্দ হয়েছে। আশা করছি দর্শকদেরও ভালো লাগবে।



নারিকেল তেলে হৃদরোগের ঝুঁকি! :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট

নারিকেল তেলে হৃদরোগের ঝুঁকি! :: স্বাস্থ্য :: বার্তা২৪ ডটনেট
 ভারতে প্রতিবছর হৃদরোগে মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষত, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি। আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে তরুণদের হৃদরোগে আক্রান্তের হারও।

দক্ষিণ ভারতের কেরালা, তামিলনাড়ূসহ অন্যান্য রাজ্যে প্রতিদিন হৃদরোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষই নিরামিষভোজী। কিন্তু নিরামিষভোজীরাও হৃদরোগ থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না।

ভারতের গবেষকরা বলছেন, এর অন্যতম কারণ নারিকেল তেল। ভারতের বিখ্যাত রেডিওলজিস্ট ইন্ডিয়ান রেডিলজিক্যাল অ্যান্ড ইমাজিং সেন্টারের প্রেসিডেন্ট ড. হর্ষ মহাজন বলেন, “২০০৪ সালে ভারতে প্রতিবছর মোট মৃত্যুবরণকারীর ১৪ শতাংশের মৃত্যু হয় হৃদরোগজনিত কারণে। এ সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। দক্ষিণ ভারতের হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক। এখানকার অধিকাংশ মানুষ নিরামিষভোজী হওয়া সত্ত্বেও হৃদরোগের ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাচ্ছে না। নারিকেল তেলের কারণে তারা হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।”

তার মতে, ভারতে ২০২০ সাল নাগাদ প্রতিবছর ৪০ লাখ ৭৭ হাজার মানুষ হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করবে। এ ছাড়া দেশটির উত্তরাঞ্চলের জম্মু-কাশ্মির, পাঞ্জাব ও উত্তর প্রদেশে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সূত্র: জিনিউজ

নাফিসের সঙ্গে একান্তে কথা বলার সুযোগ চেয়েছেন রাষ্ট্রদূত :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

নাফিসের সঙ্গে একান্তে কথা বলার সুযোগ চেয়েছেন রাষ্ট্রদূত :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
 নিউ ইয়র্কে ফেডারেল ব্যাংক ভবনে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিসের বিষয়ে ডিপ্লোমেটি এক্সেস চেয়েছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার মধ্যরাতে ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র অধিদফতরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা এ অনুরোধ জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত একরামুল কাদের গণমাধ্যমকে জানান, বৈঠকে নাফিসের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তারা নাফিসের পাসপোর্ট ও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগপত্রের কপিও হস্তান্তর করেছেন। এ সময় দূতাবাসের পক্ষ থেকে নাফিসের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও চাওয়া হয়েছে।

একরামুল কাদের আরো বলেন, নাফিস সরকারের সহযোগিতা চাইলে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তার পাপ্য সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে।

এর আগে শুক্রবার ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. দীপু মনি তার বিষয়ে সরকারের নেয়া উদ্যোগের কথা জানান।

দীপু মনি বলেন, নাফিসের জাতীয়তার বিষয়টি নিশ্চিত হলে আমরা মার্কিন সরকারের কাছে কনস্যুলার একসেস (বন্দির সঙ্গে একজন কূটনীতিকের কথা বলার সুযোগ) চাইব।

সাংবাদিদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা তার জাতীয়তা সম্পর্কে নিশ্চিত নই। সে বাংলাদেশী হতে পারে আবার মার্কিন নাগরিকও হতে পারে। এমনকি তার দ্বৈত নাগরিকত্বও থাকতে পারে। তার নাগরিকত্বের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে সরকার।

এদিকে, নাফিসকে গ্রেপ্তারের পর তার ই-মেইল যোগাযোগের সূত্র ধরে শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো থেকে এক ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করেছে এফবিআই। মার্কিন কর্মকর্তাদের সন্দেহ ওই ব্যক্তি নাফিসের সহযোগী।

উল্লেখ্য, গত ১৮ অক্টোবর মার্কিন ফেডারেল ব্যাংক ভবন বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে নাফিসকে গ্রেফতার করে।

রাজধানীতে লেক ভরাট করে ঈদগাহ, অবশেষে বন্ধ :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

রাজধানীতে লেক ভরাট করে ঈদগাহ, অবশেষে বন্ধ :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

রাজধানীর মিরপুরে ঈদগাহ তৈরির নামে পল্লবী আরামবাগ কল্যাণ সমিতি নামের একটি প্রতিষ্ঠান রূপনগর লেক ভরাটের কাজ করছে বলে পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযোগ করেছে। তবে অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপে উদ্যেক্তারা লিখিত অঙ্গীকার করে এ ভরাট কাজ বন্ধ করেন।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঈদগাহের জন্য ভরাটকৃত স্থানের পরিমাণ দৈর্ঘ্যে ১৬০ ফুট ও প্রস্থে ৬০ ফুট যা প্রায় সাড়ে তের কাঠা। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরীর নির্দেশে একটি টিম গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনা উদ্ঘাটন করেন। আজ শনিবার ভরাটের উদ্যোক্তাদের পরিচালকের (এনফোর্সমেন্ট) দপ্তরে তলব করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ভাষ্য মতে, পল্লবী আরামবাগ কল্যাণ সমিতির পক্ষে প্রতিষ্ঠানের সদস্য আবদুল কাইয়ুম  এবং লুৎফর রহমান স্বীকার করেছেন, ভরাটকৃত স্থান রূপনগর লেকের অংশ। এর মালিকানা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের। তারা আরো বলেন, আসন্ন ঈদ-উল-আজহার নামাজ পড়ার জন্য ভরাটকৃত জমিকে তারা ঈদের নামাজ পড়ার উপযোগী করছিলেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মুনীর চৌধুরী জানান, ‘‘উদ্যোক্তাদের এ ভরাট কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সমিতির নেতৃবৃন্দ সব বেআইনি কাজ বন্ধ রাখার লিখিত অঙ্গীকার করেছেন। এ ব্যাপারে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া দখল বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের কঠোর নজরদারিও থাকবে।’’

পল্লবী আরামবাগ কল্যাণ সমিতির পক্ষে সদস্য লুৎফর রহমান টেলিফোনে  বার্তা২৪ ডটনেটকে জানান, লেকে আগে থেকেই মাটি ভরাট ছিল। আমরা শুধু ঈদগাহ তৈরির উপযোগী করে তুলছিলাম। তবে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে আপত্তি তোলায় আমরা কাজ বন্ধ রেখেছি।
 

ডেসটিনি পরিচালক দিদার গ্রেফতার :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

ডেসটিনি পরিচালক দিদার গ্রেফতার :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
 ডেসটিনি-২০০০ এর পরিচালক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা দিদারুল আলমকে মুদ্রা পাচারের মামলায় গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে মহাখালী ডিওএইচএসে নিজের ব্যবসায়িক কার্যালয় থেকে দিদারকে গ্রেফতার করা হয়।

সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের পর পাচারের অভিযোগে গত ৩১ জুলাই রাজধানীর কলাবাগান থানায় ডেসটিনির ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে দুদক। ওই মামলায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দিদারও আসামি।

উল্লেখ্য, অর্থ পাচারের ওই দুই মামলায় ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল আমীন ও চেয়ারম্যান মো. হোসেন বর্তমানে কারাবন্দি। দুই মামলায় ১৮ দিনের হেফাজতে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুদক।

ডেসটিনির প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশিদও এই দুই মামলায় কারাগারে গেলেও পরে উচ্চ আদালত তাকে জামিন দেয়।

বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় অলি আহাদ :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় অলি আহাদ :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
 কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বাদ জোহর প্রথম নামাজে জানাজা, বাদ আসর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে দ্বিতীয় নামাজে জানাজার পর প্রখ্যাত ভাষাসৈনিক ও রাজনীতিক অলি আহাদকে বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে। এ সময় তাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ও শ্রদ্ধা জানাতে  জড়ো হন নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ।

অলি আহাদের প্রথম জানাজায় অংশ নেন বিএনপির সিনিয়র নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, সাদেক হোসেন খোকা, বরকত উল্লাহ বুলু, খায়রুল কবীর খোকন, চিকিৎসক নেতা এজেডএম জাহিদ হোসেন, চাষী নজরুল ইসলাম, রাজনীতিক শফিউল আলম প্রধান, শওকত হোসেন নীলু প্রমুখ।

বাদ আসর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় তার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা।

এদিকে, তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতাসহ বিশিষ্টজনেরা।

ভাষাসৈনিক অলি আহাদ রাজধানীর পান্থপথে শমরিতা হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শনিবার সকালে ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন।) তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

বরেণ্য এই ভাষা সৈনিক গত রোববার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শমরিতায় ভর্তি হন। এছাড়া তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। কয়েকদিন ধরেই তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন। শনিবার সকাল  ৯টা ২০ মিনিটে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেয়া হয় বলে জানান তার মেয়ে ব্যারিস্টার রিমিন ফারহানা।

আজীবন রাজনীতিতে যুক্ত অলি আহাদ ছিলেন ডেমোক্রেটিক লীগের চেয়ারম্যান। তিনি ১৯৪৮ সালে ৪ জানুয়ারিতে গঠিত পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং গণতান্ত্রিক যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ভাষা আন্দোলনের জন্য সর্বপ্রথম তিনিই গ্রেফতার হয়েছিলেন।

অলি আহাদ পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকেরও দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনের মধ্য দিয়ে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর সঙ্গে ন্যাপে যোগ দেন তিনি।

বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে পরিচালিত সব সংগ্রামে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এজন্য জীবনের অনেকটা সময় তাকে কারাগারেও থাকতে হয়েছিল।

’৮০ এর দশকে সামরিক ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখিও হয়েছিলেন অলি আহাদ। স্বৈরাচারবিরোধী জনমত গঠনের জন্য তার সম্পাদনায় প্রকাশিত সাপ্তাহিক ইত্তেহাদ ওই সময় নিষিদ্ধ করা হয়।

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অলি আহাদকে ২০০৪ সালে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান স্বাধীনতা পদক দেয়া হয়।

অলি আহাদের জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়র সরাইলের ইসলামপুর গ্রামে। তার একমাত্র মেয়ে ব্যারিস্টার নমিন ফারহানা হাই কোর্টের আইনজীবী।

আদালতে জনগণের আস্থা বাড়াতে সংস্কার দরকার: আইনমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

আদালতে জনগণের আস্থা বাড়াতে সংস্কার দরকার: আইনমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
 আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেছেন, “দেশে প্রচলিত পুরনো ও সনাতন বিচার পদ্ধতিতে মামলা নিষ্পত্তিতে অনেক সময় লাগে। বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে আদালতে মামলাজটের সৃষ্টি হচ্ছে। সারাদেশের আদালতসমূহে বর্তমানে ২২ লাখ মামলা বিচারাধীন।

তিনি বলেন, “মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা হলে জনগণ হতাশাগ্রস্ত হয় এবং বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়। ফলে জনগণ আদালতমুখী হতে চায় না। বিচার বিভাগের ওপর জনগণের আস্থা বাড়াতে সনাতন বিচার পদ্ধতির সংস্কার প্রয়োজন।”

বর্তমান সরকার এক্ষেত্রে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আইনমন্ত্রী শনিবার ঢাকায় হোটেল রেডিসনে ইউএনডিপি’র অর্থায়নে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়াধীন আইন ও বিচার বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়িতব্য জাস্টিস সেক্টর ফ্যাসিলিটি (জেএসএফ) প্রকল্পের প্রারম্ভিক কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসবকথা বলেন।

বাংলাদেশে বিচারিক ব্যবস্থায় সুবিচার নিশ্চিতকরণের পথে মূল অন্তরায়সমূহ এবং সেগুলোর কার্যকর সমাধান চিহ্নিতকরণের ক্ষেত্রে যোগাযোগ, সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নীতি নির্ধারক,  সরকারি কর্মকর্তা, বিচারপতি, আইনজীবী এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহের মতামত গ্রহণের উদ্দেশ্যে কর্মশালাটির আয়োজন করা হয়।

আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এটর্নি জেনারেল কার্যালয়, সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এবং বিচার বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৫০ জন প্রতিনিধি কর্মশালায় অংশ নেন।

উল্লেখ্য, জেএসএফ প্রকল্পটি প্রাথমিকভাবে তিন বছরব্যাপী নেয়া। এ প্রকল্পটি জাতীয় উন্নয়ন কর্মকৌশল এবং ক্ষেত্রভিত্তিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা নির্ধারণে সাহায্য করবে যা বিচারিক  ক্ষেত্রে কৌশলগত অগ্রাধিকারসমূহ আলোচনা এবং জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টি করবে।

জেএসএফ প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এ এস এস এম জহিরুল হকের সভাপতিত্বে কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ইউএনডিপি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টেফান প্রিজনার প্রকল্পের চিফ টেকনিক্যাল এডভাইজার ক্রিস্টিয়ান এলডন এবং আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্মসচিব সৈয়দ আমিনুল ইসলাম বক্তৃতা করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারের দীর্ঘসূত্রতা থেকে বিচারপ্রার্থী জনগণকে মুক্তি দিতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি  ব্যবস্থা বা এডিআর বাধ্যতামূলক করে এবং মামলা নিষ্পত্তির প্রতিটি স্তরে সময় নির্ধারণ করে দিয়ে দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধন করা হয়েছে। পুরনোফৌজদারি কার্যবিধিতেও মামলা নিষ্পত্তিতে অনেক সময়ে লাগছে।

তদন্তে অধিক সময় ব্যয় এবং সঠিক সময়ে সাক্ষী হাজিরে ব্যর্থতার কারণে ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা হচ্ছে। এজন্য সমন জারি, সাক্ষী হাজিরসহ মামলা নিষ্পত্তির প্রতিটি স্তরে সময় নির্ধারণ করে দিয়ে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমন জারি, সাক্ষী হাজিরে ব্যর্থতায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রমের বিধান রেখে ফৌজদারি কার্যবিধি বিল উপস্থাপন ও তা পাশ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ফৌজদারি মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত সময়ে শেষ করার প্রতি দৃষ্টি দিতে তিনি পুলিশ বিভাগের প্রতি আহবান জানান।

মন্ত্রী বলেন, দেশের কারাগারগুলোতে কয়েদিদের শতকরা ৬০ থেকে ৭০ ভাগ হলো বিচারাধীন বন্দি। এসব বিচারাধীন বন্দির পেছনে সরকারের অনেক অর্থ ব্যয় হচ্ছে। মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হলে কারাগারে বিচারাধীন বন্দির সংখ্যা কমবে। সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধিতে ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তিতে এডিআর ব্যবস্থা অনুসরণের বিধান রাখা হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আইনের সুরক্ষা দিতে সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করতে আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠায় জনগণকে দ্রুত সুবিচার দিতে তিনি বিচারক ও আইনজীবীদের আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহবান জানান  তিনি।

যুদ্ধাপরাধের বিচার জাতীয় সমঝোতার পথ উন্মুক্ত করবে: প্রধানমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

যুদ্ধাপরাধের বিচার জাতীয় সমঝোতার পথ উন্মুক্ত করবে: প্রধানমন্ত্রী :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারের মাধ্যমে ইতিহাসের একটি অপ্রিয় অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটবে এবং জাতীয় সমঝোতার পথ উন্মুক্ত করবে।

’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী বিদেশী বন্ধুদের ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইতিহাসের একটি অপ্রিয় অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটবে এবং আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। জাতীয় সমঝোতার পথ উন্মুক্ত করবে।”

শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৬১ জন বিদেশী বন্ধু বা তাদের প্রতিনিধিদের হাতে এ সস্মাননা তুলে দেন।
মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রনালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. দীপুমনি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলাম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজকর্মী জোয়ান এ ডাইন সম্মাননাপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে বক্তৃতা করেন।

সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আই কে গুজরাল ও নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গিরিজা প্রসাদ কৈরালাকে ‘বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার অনার’ এবং বাকি ৫৭ জন ও দুটি প্রতিষ্ঠানকে ‘ফ্রেন্ডস অব লিবারেশন ওয়ার অনার’ প্রদান করা হয়।

ভারতীয় হাই কমিশনার পংকজ সরণ আইকে গুজরালের পক্ষে ও গিরিজা প্রসাদ কৈরালার পক্ষে তার কন্যা সুজাতা কৈরালা সম্মাননা গ্রহণ করেন।

মন্ত্রীপরিষদ সচিব এম মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত প্রশংসাপত্র পাঠ করেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রীবর্গ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সেক্টর কমান্ডারবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, কূটনীতিক, বিচারপতি, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীসহ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপুমনি ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এবি তাজুল ইসলাম বিদেশী বন্ধু ও তাদের প্রতিনিধিদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

শেখ হাসিনা মহান মুক্তিযুদ্ধে যেসব বিদেশী বন্ধুরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘আমরা তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ এবং চিরঋণী।’’

তিনি বলেন, ‘‘আজ থেকে ৪১ বছর আগে বাঙালি জাতি যখন গণহত্যার শিকার হয়েছিল, তখন আপনারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আপনাদের সেই সমর্থন প্রমাণ করেছিল যে আমাদের সংগ্রাম ছিল ন্যায্য। ন্যায়বিচার, মর্যাদা এবং সম্মান রক্ষার আর্তি আপনাদের কাছে পৌঁছেছিল।’’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা অতীতের সেই নীতির প্রতি আমাদের অবিচল আস্থা পুনর্ব্যক্ত করছি। সমতা, গণতন্ত্র, সুষম উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন হচ্ছে আমাদের আদর্শ এবং নীতি।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের সংবিধান প্রণয়নের সময়ও এসব আদর্শকে আমরা সমুন্নত রেখেছি। আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব আদর্শের উপর ভিত্তি করেই গড়ে তুলেছি। অতীতে অপরাধ করে শাস্তি না পাওয়ার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, আমরা তার অবসান ঘটিয়েছি। যে কোনো অপকর্মের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছি।’’ সূত্র: বাসস।

Saturday, October 20, 2012

মিয়ানমারের আধা বর্গ কিলোমিটারের ‘কারাগার’ :: বিদেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট

মিয়ানমারের আধা বর্গ কিলোমিটারের ‘কারাগার’ :: বিদেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট

মিয়ানমারের আরাকান (রাখাইন) রাজ্যের রাজধানী আকিয়াব (সিতউয়ি)৷ রাজ্যটির নাম পাল্টে সংখ্যাগুরু বৌদ্ধদের অনুসারে ‘রাখাইন’ করেছে শাসক সামরিক জান্তা তারা, একইসঙ্গে পাল্টিয়েছে রাজধানীর নামও। নামে যদিও কিছু আসে যায় না অবস্থা হতে পারতো। কিন্তু শুধু নামে নয়, কাজেও তৎপর দেশটির শাসকগোষ্ঠি, রাজ্যটি থেকে রোহিঙ্গা মুসলিম নির্মূলে রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই সামরিক জান্তা সেখানে নানা প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে।
 
এই নির্মূলকরণ প্রক্রিয়ার সর্বশেষ দৃশ্যমান নজির; গত জুনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর হামলা ও  তাদের ঘরবাড়িতে আগুন দেয়া এবং হত্যা নির্যাতনের ঘটনার কয়েক মাস হয়ে গেল৷ তবে এখনও সেখানে থমথম পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷
 
আকিয়াবের একটি এলাকা ‘অং মিঙ্গালার'৷ আয়তন আধা বর্গকিলোমিটার৷ জনসংখ্যা তিন থেকে আট হাজার৷ তারা সবাই রোহিঙ্গা মুসলিম৷ পুরো এলাকাটা বাঁশ আর কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা৷ এছাড়া চারদিকে রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য৷ এই কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে ভেতরের কারও পক্ষে বাইরে যাওয়া বা বাইরে থেকে কারও ভেতরে যাওয়া বেশ কঠিন৷ ফলে ভেতরের বাসিন্দারা গত চারমাস ধরে বন্দি জীবন যাপন করছেন৷ ওই আধা বর্গকিলোমিটারের মধ্যে তাদের জীবন আটকে গেছে৷ সেখাকার সব দোকানপাট আগেই গুঁড়িয়ে দিয়েছে রাখাইন বৌদ্ধরা৷ ফলে খাবার দাবারের জন্য রোহিঙ্গাদের নির্ভর করতে হচ্ছে সরকারের দেয়া ত্রাণের ওপর৷
 
অং মিঙ্গালারের ২৮ বছরের এক যুবক মোহাম্মদ সাঈদ৷ অশ্রুসিক্ত চোখে বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘‘আমার মনে হয়, আফ্রিকার সাহারা মরুভূমিতে বাস করা এর চেয়েও অনেক ভাল৷ ইতিমধ্যে আমরা সব হারিয়েছি৷ এভাবে আর বন্দি থাকতে পারছিনা আমরা৷ আমরাও তো মানুষ৷’’
 
শুধু যে বন্দি অবস্থায় থাকা তা নয়৷ নিজেদের জীবন নিয়েও ভীত রোহিঙ্গারা৷ কেননা মাঝে মধ্যেই রাখাইন বৌদ্ধরা বেষ্টনীর বাইরে জড়ো হন৷ তারা সেখানে পাহারায় থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের গুলি চালিয়ে রোহিঙ্গাদের ভয় দেখাতে উৎসাহিত করেন৷
 
রোহিঙ্গাদের অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংস্থা ‘আরাকান প্রজেক্ট'৷ এর প্রধান ক্রিস লেওয়া বলছেন, ‘‘এই বাঁশের বেড়াগুলো রোহিঙ্গাদের মনে এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ এছাড়া সেগুলো দেখলেই মনে হয় যেন দুটো আলাদা বিশ্বকে পৃথক করে রাখা হয়েছে৷’’
 
লেওয়া বলেন, ‘‘অং মিঙ্গালারের পরিস্থিতি গত শতকের আশির দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ সময়কার পরিস্থিতির চেয়েও ভয়াবহ৷ কেননা রোহিঙ্গারা তো চলাফেরাও করতে পারছেনা৷’’
 
এদিকে আরেক সাহায্য সংস্থা ‘রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনাল' এর কর্মকর্তা সরনাতা রেনল্ডস বলছেন, ‘‘রোহিঙ্গাদের চলাফেরায় বাঁধা নিষেধ আগে থেকেই ছিল৷ তবে এখনকার পরিস্থিতি একেবারে ভয়াবহ৷’’
এই অবস্থায় অং মিঙ্গালারের বাসিন্দাদের সেখান থেকে সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার দাবি উঠছে৷ স্থানীয় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের এক নেতা নেয়া না বলছেন, ‘‘শহরের মধ্যে অং মিঙ্গালার থাকলে উত্তেজনা বাড়তেই থাকবে৷ আমি চাইনা বৌদ্ধ আর মুসলমানদের মধ্যে সংঘর্ষ হোক৷ মুসলমানদের জন্য সেখানে থাকাটা বিপজ্জনক৷’’
 
৬০ বছরের আরেক বৌদ্ধ সান উইন ফু বলেন, ‘‘রোহিঙ্গারা সেখানে থাকলে সমস্যা হবেই৷ তাই সেখান থেকে তাদের চলে যাওয়াটা ভাল হবে৷’’
 
মিয়ানমারে জাতিসংঘের প্রধান অশোক নিগম বলছেন, ‘‘উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সাময়িকভাবে অং মিঙ্গালারে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে৷ কিছুদিন পর সেখানে শান্তি ফিরে এলে, দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশ্বাসের সম্পর্ক স্থাপিত হলে বেষ্টনী সরিয়ে নেয়া হবে৷’’
 
উল্লেখ্য, পশ্চিম মিয়ানমারে প্রায় আট লক্ষ রোহিঙ্গার বাস৷ জাতিসংঘের মতে, তারা বিশ্বের সবচেয়ে অবহেলিত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়৷ গত জুন মাসের সংঘাতে রাখাইন রাজ্য জুড়ে প্রায় ৫০ হাজার মুসলমান ও ১০ হাজার বৌদ্ধকে গৃহহীণ হতে হয়েছিল৷ ওই ঘটনায় নিহত হয়েছিল অনেকে৷ সূত্র: এএফপি ও ডয়েচে ভেলে।

সাহসের জয়পতাকা উড়িয়েই ফিরে ফিরে আসেন মালালা-রা :: বিদেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট


সাহসের জয়পতাকা উড়িয়েই ফিরে ফিরে আসেন মালালা-রা :: বিদেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট
ব্রিটেনের বার্মিংহাম কুইন এলিজাবেথ হাসপাতাল থেকে কাবুলের চহ্রাই-এ-মাইওয়ান্দ-এর দূরত্ব হয়তো খুব বেশি নয়। ‘মালালা’ নামটা এই দুস্তর ব্যবধান ঘুচিয়ে দিয়েছে।

একশো বত্রিশ বছর আগে ওই মাইওয়ান্দ গ্রামের এক বীরাঙ্গনার নাম ছিল মালালা। হিজাব খুলে যিনি লড়াইয়ের ডাক দিয়েছিলেন ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে। যে লড়াইয়ে কোণঠাসা হয়ে আফগানিস্তান ছেড়ে পালায় ব্রিটিশরা।
কালক্রমে এই মালালা নামটাই সে দেশে পরিণত হয়েছে কিংবদন্তিতে! তারই সাম্প্রতিকতম সংস্করণ মালালা ইউসুফজাই। তালিবানের হুমকি অগ্রাহ্য করে পড়াশোনার অধিকারের দাবিতে সরব হওয়ার সাজা সে পেয়েছে দিন দশেক আগে। ঘাড়ে-মাথায় বিঁধেছে তালিবানের বুলেট। বার্মিংহামের হাসপাতালে এখন অন্য লড়াই লড়ছে মালালা। সেরে ওঠার লড়াই।

একটু পিছিয়ে যাওয়া যাক। ১৮৮০ সালের জুলাই মাসে আড়াই হাজার ব্রিটিশ সেনার সামনে দাঁড়িয়ে শাহজাদা আয়ুব খানের বাহিনী তখন কাঁপছে। ঠিক এমন এক সময়েই ধূমকেতুর মতো এলেন মালালা। মাইওয়ান্দের অতি সাধারণ গৃহবধূ পাল্টা লড়াইয়ের ডাক দিয়ে নেমে এলেন যুদ্ধক্ষেত্রে। সেই আহ্বানে নিভু নিভু আগুনটা জ্বলে উঠল আবার। দ্বিগুণ উদ্যমে ঝাঁপাল আফগান সেনা। আর তাদের ফিরে তাকাতে হয়নি। হাজারখানেক সেনার মৃতদেহ মাইওয়ান্দের মাটিতে ফেলে রেখে ভারতে ফিরে যায় ব্রিটিশ বাহিনী।

মাইওয়ান্দ গ্রামের সেই বীর রমণী মাথা থেকে হিজাব খুলে যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে সেনাবাহিনীকে উদ্দীপ্ত করলেও তাকে আজ পর্যন্ত বিধর্মী বলতে পারেনি কেউ। মৌলবাদের শাসন মুছে ফেলতে পারেনি তার ইতিহাস। আফগানিস্তানের বহু স্মৃতি-সরণি, কাব্য, লোকগাথা তাকে ঘিরে।
সে দেশের বহু কন্যার নামও তার নামে। আফগানিস্তানের নারীশক্তির এক প্রতীক হয়ে উঠেছে এই নাম। মালালা কাক্করের কথাই ধরা যাক। বহু বার মৃত্যু পরোয়ানা পেয়েও রাস্তায় দাঁড়িয়ে তালিবানের সঙ্গে লড়ে গিয়েছেন আফগানিস্তানের অত্যন্ত জনপ্রিয় এই পুলিশ অফিসার। কন্দহরে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধদমন শাখার প্রধান ছিলেন মালালা। কন্দহর পুলিশ অ্যাকাডেমির প্রথম মহিলা গ্র্যাজুয়েট শেষ পর্যন্ত ২০০৮ সালে তালিবানের হাতেই নিহত হন। কাবুলে তালিবানের প্রভাব খতম করে গণতন্ত্রের শাসন ফেরানো এবং মৌলবাদী ফতোয়া অগ্রাহ্য করে নারীমুক্তির পথে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে তার অবদান এখনও স্মরণ করেন সে দেশের মানুষ।

কার্যত মাথায় ঠেকানো বন্দুক নিয়ে বাঁচছেন আর এক মালালা। মালালা জোয়া। তালিবানি শাসনকালে কাবুলে মহিলাদের অধিকার রক্ষায় লড়াই করেছিলেন তিনিও। একাধারে লেখিকা, সমাজকর্মী এবং রাজনীতিবিদ মালালা যেমন হামিদ কারজাই সরকারের সমালোচনা করেছেন, তেমন পশ্চিমের বন্ধুদেরও কড়া কথা বলতে ছাড়েননি। জোয়াকে আফগান পার্লামেন্ট থেকে বরখাস্ত করার পর দেশ জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। তাকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে প্রেসিডেন্ট কারজাইকে চিঠি লেখেন নোয়াম চমস্কির মতো ব্যক্তিত্বরাও।

যে সোয়াট উপত্যকায় মেয়েদের শিক্ষার অধিকারের জন্য লড়তে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে আজকের মালালা ইউসুফজাই, সেই অঞ্চলের উত্তরাংশেরই একমাত্র কলেজ, ‘ভোকেশনাল ট্রেনিং কলেজ ফর উইমেন’। প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯৯২ সালে। তালিবান তা বন্ধ করে দেয় ২০০৮-এ। অধ্যক্ষা সালমা বেগমকে বেয়নেটের ডগায় দাঁড় করিয়ে তালিবান নেতারা হুকুম দিয়েছিল, মহিলাদের লেখাপড়া বন্ধ করতেই হবে। তার পর চাকরি দেওয়ার তো কোনও প্রশ্নই ওঠে না। গৃহবন্দি হয়ে যায় প্রায় ৫০০ ছাত্রী। পরে বোমা মেরে কলেজ বিল্ডিংটিকেও ধ্বংসস্তূপ বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতিতে এক বছর হল আবার চালু হয়েছে সেই বৃত্তিমূলক কলেজ। তৈরি হয়েছে নতুন বাড়ি। গত বছরই পাক সরকারের আমন্ত্রণে সেখানে গিয়ে বোঝা গিয়েছিল, একটা আশার সুর আবার বাজছে। অধ্যক্ষা সালমা বেগম জানিয়েছিলেন, “আবার সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। পুরনো ছাত্রী, যারা তিন বছর গৃহবন্দি ছিল, তারা তো ফিরে আসছেই। আরও নতুন ভর্তির জন্য লাইন পড়েছে।”

এই কলেজেই আপাতত কম্পিউটারের পাঠ্যক্রম নিচ্ছে মালালা খাতুন। গত দু’বছর বাড়ি থেকে বেরোতে পারেনি সে। এখনও ভয় আছে। তবে তার আশা, ‘‘সেনা প্রহরা পুরোপুরি উঠে যাওয়ার আগে নিশ্চয়ই সরকার এমন ব্যবস্থা করে দেবে যাতে ওরা আবার আমাদের গ্রামের দখল নিতে না পারে।” পড়া শেষ করে ফ্যাশন ডিজাইনার হওয়ার ইচ্ছে এই তরুণীর।

সাহস আর মালালা শব্দ দু’টোই যেন সমার্থক। তাদের হারানো অতই সহজ! সুত্র: ওয়েবসাইট।