Pages

Friday, October 26, 2012

গ্রামীণ থেকে গুগলে

গ্রামীণ থেকে গুগলে

দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীনফোন-এর প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তার পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে  সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগল ইনকরপোরেশনে যোগ দিয়েছেন কাজী মনিরুল কবির। ৫ নভেম্বর বাংলাদেশের প্রধান হিসেবে গুগল  সিঙ্গাপুর অফিসে যোগ দেবেন তিনি।

অবশ্য বর্তমানে ছুটিতে থাকা মনিরুল কবিরের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি গ্রামীণফোন। তবে ঈদের ছুটি শেষে গ্রামীণফোন তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেনা-পাওনাসংক্রান্ত হিসাবের জটিলতায় আনুষ্ঠানিক পদত্যাগের এখনো কিছুটা বাকি।

এ সম্পর্কে মনিরুল কবির বার্তা২৪ ডটনেটকে জানান, প্রায় এক মাস আগেই আমি অনুষ্ঠানিকভাবে গ্রামীনফোনে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখনো গ্রামীণফোনের কেউ কিছু জানাননি।

অপরদিকে গ্রামীনফোনের সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বাংলাদেশ নিয়ে গুগলের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মনিরুল বলেন, বাংলাদেশে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার দেখে মুগ্ধ গুগল। ইন্টারনেটের ব্যবহার বেশি হলেও কনটেন্ট খুবই কম।এ কারণেই এই বাজারটিকে খুব সম্ভাবনাময় মনে করে তারা। কনটেন্ট বৃদ্ধি পেলে ইন্টারনেটের ব্যবহারও অনেক বেড়ে যাবে বলে মনে করে গুগল।

বর্তমানে গুগলের ভারত, শ্রীলংকাসহ আশপাশের আরো কয়েকটি দেশে অফিস রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশেও সাম্প্রতিক সময়ে যাত্রা শুরু করেছে তারা।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামীণফোনে গণছাঁটাইয়ের নেপথ্যে মনিরুল কবিরের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ও সাবেক কর্মীরা। এ সম্পর্কে তার বক্তব্য জানতে চাইলে মনিরুল নিজেকে পরিস্থিতির শিকার দাবি করে বলেন, আসলে অভিযোগটি আমার বিরুদ্ধে নয়, আমার পদবির। আমি কেবল কোম্পানির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছি। শত্রু বা মিত্র হিসেবে নয়।  

২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রামীণফোনের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন মনিরুল কবির। তারপর তিন বছর দুই মাস ধরে এই পদে দায়িত্ব পালন করলেন তিনি। তার সময়েই গ্রামীণফোন বাংলাদেশের যাত্রার ১৩তম বছরে এসে প্রথমবারের মতো টেলিনর গ্রুপের বেস্ট ব্র্যান্ডে অ্যাওয়ার্ড লাভ করে।

প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে গ্রামীণফোনেই রিজিওনাল সেলস (ন্যাশনাল সেল ম্যানেজার) বিভাগের প্রধান ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ওই পদে কাজ করছিলেন তিনি। মনিরুল জানান, ওই পদে থেকে দেশের প্রায় সব উপজেলা সফরের অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। প্রতিটি সেল সেন্টারে পৌঁছার কারণে ওই সময় গ্রামীণফোন আরো প্রসারিত হয়।

গ্রামীণফোনে যোগদানের আগে এক বছর এক মাস তিনি মার্কেট অ্যাকসেস প্রোভাইডার নামে একটি কোম্পানিতে কাজ করেন। আরও আগে ছয় মাস কাজ করেন রহিম আফরোজ লিমিটেডে। বাংলাদেশে বাংলালিংকের যাত্রার সময় (২০০৫ সালের মার্চ থেকে ২০০৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত) কাজ করেন হেড অব ডাইরেক্ট সেলস ডিভিশনে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কোম্পানিতে ২০০০ সালের এপ্রিলে ক্যারিয়ার শুরু করেন মনিরুল কবির। এখানে চ্যানেল ডেভেলপ ম্যানেজার পদে কাজ করেন শুরুর ২ বছর এক মাস। পরে কাজ করেন মার্চেন্ডাইজিং অ্যান্ড প্রোমেশন ম্যানেজার এবং রিজিউওয়ানাল ট্রেড মার্কেটিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন ম্যানেজার পদে। ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো ছাড়েন তিনি।

 

বাবা-মা ছাড়া মেঘের দ্বিতীয় ঈদ

বাবা-মা ছাড়া মেঘের দ্বিতীয় ঈদ

 মাহির সারওয়ার মেঘ। নিহত সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির একমাত্র সন্তান। তার বয়স এখন ছয় বছর চার মাস। বাবা সাগর সরওয়ারের সঙ্গেই গত কোরবানির ঈদের নামাজ পড়েছিল মেঘ। কিন্তু এবার রোজার ঈদের মতো এই ঈদও তার কাটবে বাবা-মা ছাড়া।

“মেঘ এখন পুরোপুরি ভালো আছে। সে সব বোঝে। আগে সাংবাদিকরা বাসায় এসে ভিড় করলে, সে তা অপছন্দ করত। এখন কোরবানির গরু নিয়ে মজা করছে।” জানালেন মেঘের মামা নওশের রোমান।

তিনি বলেন, তেজগাঁও কলেজের ইন্দিরা রোডের ছাত্রাবাস মসজিদে মামাদের সঙ্গে এবার ঈদের নামাজ পড়বে মেঘ। এরপর আজিমপুর গোরস্থানে বাবা-মার কবর জিয়ারত করতে যাবে। কোরবানির গোস্ত কাটাকাটি দেখা শেষে নবাবপুরে দাদুবাড়িতে যাবে।  

নওশের জানান, “সারাক্ষণ মেঘের সঙ্গে পুলিশপাহারা থাকে। তাই বেশি ঘোরাঘুরি হয় না। দাদুবাড়িতেও তাকে নিয়ে যাওয়া হয় না। তবে মেঘের দাদু ফোনে তার খোঁজখবর নেন।”

“মেঘ প্রতি রাতে শোবার আগে বাবা-মার জন্য দোয়া করে। শুরুর দিকে তাকে এটি শেখানো হয়েছিল। এখন সে নিয়মিতই এ দোয়া করে ঘুমায়।” জানান তিনি।
আরেকটি খবরও জানালেন তিনি। মেঘ এখন নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহার করে। ফেসবুকে যে কেউ তাকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে পারেন। তার আইডি: www.facebook.com/mahirsarowar.megh

গত ১১ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও তার স্ত্রী এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনির ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরদিন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। থানা পুলিশের তদন্তের পর মামলাটি তদন্ত শুরু করে ডিবি। এরপর আদালতের নির্দেশে ১৮ এপ্রিল মামলার তদন্ত শুরু করে র্যাব।

এই ঘটনার পর থেকেই সাংবাদিকরা হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত ৯ অক্টোবর নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে এই মামলায় সাতজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতারের কথা জানান। কিন্তু হত্যার কারণ জানাতে না পারায় মন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিমূলক’ বলে মন্তব্য করেন সাংবাদিক নেতারা।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তানভীর নামে একজন নিহতদের পারিবারিক বন্ধু বলে জানান মন্ত্রী। কিন্তু এই নামে তাদের কোনো বন্ধুকে চেনে না বলে জানায় রুনির পরিবার।

শুক্রবার নওশের হতাশা প্রকাশ করে বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, “মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে তদন্ত কর্মকর্তা জাফরুল্লাহ স্পষ্ট কিছুই জানান না। শুধু বলেন ‘তদন্ত কাজ আগাচ্ছে’। বার বার একই বক্তব্য শুনতে কেমন লাগে।”

মিয়ানমারে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় একদিনেই নিহত ৫৬

মিয়ানমারে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় একদিনেই নিহত ৫৬

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বৌদ্ধ এবং রোহিঙ্গা মুসলমানদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় নিহতের সংখ্যা একদিনেই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬তে।

বুধবারও নিহতের সংখ্যা বলা হচ্ছিল চারজন। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুটি শহরে কারফিউ জারির পরও সহিংসতা থামানো যায়নি।

তবে নিহতদের মধ্যে কোন সম্প্রদায়ের মানুষ বেশি বা এত মানুষ কীভাবে নিহত হলো, সেটি জানা যায়নি।

খবরে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে রাথা টাউঙ শহরে সহিংসতা শুরুর পর তা কায়ুক টো শহরেও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে সহিংসতার সময় নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়।

মিয়ানমারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সহিংসতার সময় এ পর্যন্ত শত শত বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে।

গত মে মাসে একজন বৌদ্ধ নারীকে কয়েকজন মুসলমান ধর্ষণ করেছে, এ অভিযোগে বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। তারপর থেকেই সেখানে উত্তেজনা রয়েছে।

কিন্তু এবারের সহিংসতা কেন, সেটি পরিষ্কার নয়। বিবিসির ডেভিড লয়েন বলছেন, এ সহিংসতা তার কাছে জাতিগত নির্মূলের মতো বিষয় বলেই মনে হচ্ছে।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে ডেভিড লয়েন জানান, প্রথম দফা সহিংসতা যখন শুরু হয়, তখন থেকেই রোহিঙ্গা মুসলমানদের মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।

মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমান এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনার দীর্ঘ পটভূমি রয়েছে। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের সে দেশের নাগরিক বলে স্বীকার করে না।

রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বর্ণনা করে মিয়ানমার  সরকার। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার বার্মার এ দাবিকে বরাবরই খারিজ করে দিয়ে আসছে।

জাতিসংঘের মতে, রোহিঙ্গারা হচ্ছে মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় ভাষাগত এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু, যারা নিগ্রহের শিকার।সূত্র: বিবিসি।

 

ভারতীয় লবণ ব্যবহারে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়

ভারতীয় লবণ ব্যবহারে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়
 কাঁচা চামড়ায় ভারতীয় লবণ ব্যবহার না করে দেশীয় লবণ ব্যবহার করতে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা।

চামড়ায় ভারতীয় লবণ ব্যবহার করা হলে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে যায়, যা পরে কোনো কাজেই আসে না বলে জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, ভারতীয় লবণের গুণগত দেশি লবণের চেয়ে কম।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, লবণের সিন্ডিকেট এই সময়টায় বাজারে লবণের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেয়। ফলে অনেকেরই পক্ষেই চামড়ায় দেশীয় লবণ ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। এই সুযোগেই ভারতীয় কালোবাজারিরা লবণ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এ দেশ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে প্রচুর পরিমাণ অর্থ।

তাদের মতে, প্রতি বছর চামড়াশিল্পে দেড় থেকে আড়াই লাখ মেট্রিক টন লবণ প্রয়োজন হয়। আর আমাদের দেশে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদিত হয়। অথচ ঈদ-পরবর্তী সময়ে লবণের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে একটি চক্র দেশের চামড়া শিল্প ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে।

এ ব্যাপারে লালবাগ পোস্তার চামড়া ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়ার মান চিন্তা করে না। এ কারণেই তারা ভারতীয় শস্তা লবণ চামড়ায় ব্যবহার করে, যার ফলে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে যায়।

বাংলাদেশ ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ও কোহিনুর ট্যানারিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহীন আহমেদ বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, আমাদের দেশে লবণের কোনো সংকট নেই। কিন্তু এই সময়টায় একটি চক্র লবণের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেয়। এ কারণেই অনেক ব্যবসায়ী ভারতীয় লবণ চামড়ায় ব্যবহারে করে বলে তিনি জানান।
তিনি মৌসুমী ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের দেশের চামড়ার সুনাম রয়েছে। সেই সুনাম ধরে রাখার দায়িত্ব সবার। তাই চামড়া নষ্ট বা মান খারাপ না করে ভারতীয় লবণ ব্যবহার থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে এই ঈদে লবণ সিন্ডিকেট যাতে লবণের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে সেদিকে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন ট্যানারি মালিকরা।

কমেছে পশুর দাম, ক্রেতারা খুশি বিক্রেতারা হতাশ

কমেছে পশুর দাম, ক্রেতারা খুশি বিক্রেতারা হতাশ
শুরুতে কোরবানির হাটে পশুর দাম চড়া গেলেও গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই হঠাৎ করে হাটে পশুর দাম কমতে শুরু করেছে। এর ফলে পশু কিনে যেমন খুশি হচ্ছেন ক্রেতারা, অন্যদিকে চাহিদা অনুযায়ী দাম না পাওয়ায় বিক্রেতাদের মধ্যে দেখা গেছে হতাশা।

গাবতলী, ধুপখোলা, আগারগাঁও, কামরাঙ্গীরচরের বালুরমাঠ, সায়েদাবাদ, আজিমপুর, আরমানিটোলা, নয়াটোলা হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এবার হাটে ক্রেতার প্রয়োজনের চেয়ে বেশি গরু-ছাগল থাকায় ব্যাপারিরা বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করে দিয়ে নিজ গন্তব্যে ফেরত যাচ্ছেন।

গাবতলীতে বিক্রেতারা অভিযোগ করে বলেন, বৈধ হাটে গরু-ছাগল উঠালেও রাজধানীজুড়ে এবার শতাধিক অবৈধ পশুর হাট বসেছে। অবৈধ হাটে ক্রেতাকে হাশিল দেয়ার প্রয়োজন হয় না। পশুর দাম কম পড়ে। তাই ক্রেতারা নিজ নিজ এলাকার অবৈধ হাটের দিকেই ভিড় জমাচ্ছেন। ফলে হাটমুখী ক্রেতাদের আনাগোনা কমে গেছে।

অন্যদিকে আগারগাঁও হাটের ব্যাপারিরা জানান, গতকাল দুপুরেও একটি মাঝারি আকারের গরু পঁচাত্তর হাজার থেকে এক লাখ টাকায় টাকায় বিক্রি হয়েছে। আজ মাঝারি আকারের গরুর দাম পঞ্চাশ থেকে ষাট হাজার টাকার ওপরে উঠছেই না। এর ফলে এই টাকাতেই গরু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

নয়াটোলায় গরুর ব্যাপারি আব্বাস আলী আক্ষেপ করে বলেন, “এইবার হাটে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী  গরু-ছাগল বেশি এসেছে। দুই দিন আগেও ভালো দাম পাওয়া গেছে। শেষ মুহূর্তে এসে হাটগুলোতে সারা দেশ থেকে আরো পশু এসেছে। ঈদের বাকি আছে আর একদিন। তাই বাধ্য হয়ে যে যেভাবে পারছেন কমদামেই গরু বিক্রি করছেন।”

কামরাঙ্গীরচরের বালুরমাঠ হাটে গরু কিনতে ধোলাইপাড় থেকে আসা অনিক মৃধা জানান, “ দু’দিন আগেও হাটে এসেছিলাম। বেশি দাম হওয়ায় গরু কিনতে পারিনি। শেষ সময়ে কমদামে গরু পাওয়া যায়। তাই আজ কিনতে এসেছি। আশা করি, কমদামের মধ্যে ভালো গরু পেয়ে যাব।” 

কুড়িগ্রাম বঙ্গসোনাহাটকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর ঘোষণা

কুড়িগ্রাম বঙ্গসোনাহাটকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর ঘোষণা
অবশেষে কুড়িগ্রাম জেলার বঙ্গসোনাহাট শুল্ক স্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর ঘোষণা করেছে সরকার। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের স্থলবন্দর শাখা এ সম্পর্কিত একটি প্রজ্ঞাপন বৃহস্পতিবার এই ঘোষণা দেয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ আইন ২০০১ এর ধারা-৩ মোতাবেক সরকার গত ২০০৯  সালের ১১ জুন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ঘোষিত প্রজ্ঞাপনের অধিনে সোনাহাট শুল্ক স্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর ঘোষণা করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকার জনগণ সোনাহাট স্থলবন্দরের বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। সোনাহাট স্থলন্দর ঘোষণা দেয়ায় নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী ও ফুলবাড়ি উপজেলাসহ জেলার সর্বস্তরের মানুষ উল্লাসিত।

১৯৯৫ সালে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ সোনাহাট স্থল শুল্ক স্টেশন স্থাপনের প্রজ্ঞাপন জারি করে। ১৯৯৬ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বঙ্গসোনাহাটকে ল্যান্ড পোস্ট হিসাবে ঘোষণা করে।

বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দরটি কুড়িগ্রাম জেলা শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বানরকুটি সীমান্তে অবস্থিত। এটি ব্রিটিশ আমলের একটি বাণিজ্যিক বন্দর ও একটি সমৃদ্ধ শহর ছিল।

ব্রিটিশ আমলের বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের আসাম, মিজোরাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা, অরুণাচল ও মেঘালয় রাজ্যের একমাত্র প্রবেশ দ্বার ছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর এ পথগুলো বন্ধ হয়ে যায়।

ড. কামাল ও বি. চৌধুরীর উদ্যোগ শুভ নয়: আশরাফ

ড. কামাল ও বি. চৌধুরীর উদ্যোগ শুভ নয়: আশরাফ
ড. কামাল হোসেন এবং অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর জোট গঠনের উদ্যোগ শুভ নয় উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, এটি আর একটি ওয়ান ইলেভেন করার ষড়যন্ত্র।

তিনি বলেন, “গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন এবং বিকল্পধারার অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর উদ্যোগ গণতন্ত্রের পক্ষে সহায়ক হলে আওয়ামী লীগ স্বাগত জানাবে।”

সৈয়দ আশরাফ বলেন, “আমরা মনে করি এ উদ্যোগ শুভ নয়। এটি আরেকটি ওয়ান ইলেভেন করার ষড়যন্ত্র। এই ধরনের অপচেষ্টা হলে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করা হবে।”

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বৃহস্পতিবার দলের সভাপতিমণ্ডলীর সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।
সৈয়দ আশরাফ আরো বলেন, বাংলাদেশের জন্য ওয়ান ইলেভেনের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। দেশবাসী দু বছর অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেছে।

ড. কামাল হোসেনকে ‘রাজনীতির উচ্ছিষ্ট মানুষ’ উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বলেন, বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বিএনপি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সে সময় তাকে অনেক নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহবান জানিয়ে সৈয়দ আশরাফ বলেন, তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই কোম্পানি আইন চূড়ান্ত হবে। প্রয়োজনে সংসদেও আলোচনা হবে।

সভায় এতে উপস্থিত ছিলেন সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, বস্ত্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, এডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, পূর্তমন্ত্রী ও দফতর সম্পাদক আবদুল মান্নান খান প্রমুখ।

সভাপতিমণ্ডলীর সভায় টাঙ্গাইল-৩ আসনের উপনির্বাচন পরিচালনার জন্য কাজী জাফর উল্লাহ এবং শেখ ফজলুল করিম সেলিমকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

এছাড়া সংগঠনকে জোরদার করার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দলের বিভিন্ন ইউনিটের সম্মেলন শেষ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সূত্র: বাসস

শেরেবাংলার ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী

শেরেবাংলার ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী
 উপমহাদেশের মানবতাবাদী রাজনীতিবিদ ও কৃষক আন্দোলনের সংগ্রামী নেতা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী আজ শুক্রবার। তিনি ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন ।
কর্মময় জীবনে তিনি ১৯১১ সালে কলকাতা হাইকোর্টে আইন পেশায় নিযুক্ত হন। কমরেড মুজফফর আহমেদের প্রস্তাবে নবযুগের প্রকাশনাতে সাহায্য করেন। কাজী নজরুলের আগুনঝরা লেখার কারণে ‘নবযুগ’-এর প্রচারসংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। ব্রিটিশ সরকার ব্রিটিশবিরোধী লেখার জন্য ‘নবযুগ’ পত্রিকা বাজেয়াপ্ত করে।

শেরেবাংলা ১৯১২ সালে কলকাতায় কেন্দ্রীয় মুসলিম শিক্ষা সমিতি নামে একটি শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি মুসলমানদের শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন। এরপর তিনি বরিশাল পৌরসভার কমিশনার পদে নির্বাচন করে নির্বাচিত হন। ১৯১৩ সাল বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯১৪ সালে ঢাকায় আহসানুল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল প্রাঙ্গণে এক অবিস্মরণীয় ভাষণ দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন স্যার সলিমুল্লাহ। এ দিন ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে তিনি প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় মুসলিম লীগের যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯১৫ সালে পুনরায় ঢাকা বিভাগ থেকে বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯১৩-১৬ সাল পর্যন্ত তিনি এ পরিষদের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯১৮ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনে তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯১৯ সালে তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগের প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হন। ১৯২০ সালে তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগ ও খেলাফত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন।

১৯২২ সালে তিনি খুলনা উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হন। ১৯২৪ সালে খুলনা অঞ্চল থকে তিনি পুনরায় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় বাংলার গভর্নর লিটন ফজলুল হককে বাংলার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। ১৯২৪ সালের ১ আগস্ট ফজলুক হক মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেন। যুক্ত হন কৃষক রাজনীতি সাথে। সংগঠিত করেন কৃষকদের। ১৯২৯ সালেই নিখিল বঙ্গ প্রজা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় কলকাতায়। ঢাকায় প্রজা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৩৪ সালে। এই সম্মেলনে ফজলুক হক সর্বসম্মতিক্রমে নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। ভারতের ভবিষ্যৎ শাসনতন্ত্রের রূপরেখা নির্ধারণের জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার ম্যাকডোনাল্ড একটি গোলটেবিল বৈঠক আহ্বা করেন। ১৯৩০-৩১ সালের প্রথম গোলটেবিল বৈঠকে ফজলুল হক বাংলা এবং পাঞ্জাবের মুসলমানদের জন্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিনিধিত্ব দাবি করেন।

১৯৩৫ সালে কলকাতা সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। ১৯৩৭ সালের মার্চে বঙ্গীয় আইন পরিষদের নির্বাচনে কৃষক প্রজা পার্টি ৩৯ টি আসন ও মুসলীম লীগ ৩৮ টি আসন লাভ করে। এই নির্বাচনে মুসলিম লীগের সথে সমঝোতায় গিয়ে ফজলুক হক ১১ সদস্যবিশিষ্ট যুক্ত মন্ত্রীপরিষদ গঠন করেন। বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেরেবাংলা। তিনি দরিদ্র কৃষকের উপরে কর ধার্য না করে সারা বাংলায় প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন করেন। ‘বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ’ তার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। তার উদ্যোগেই ১৯৩৮ সালের ১৮ আগস্ট বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন সংশোধনী পাস হলে জমিদারদের লাগামহীন অত্যাচার চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৩৯ সালে মুসলমানদের জন্য শতকরা ৫০ ভাগ চাকরি নির্দিষ্ট রাখার ব্যবস্থা করেন তিনি। ওই বছর ‘চাষী খাতক আইনে’ সংশোধনী এনে ঋণ সালিশি বোর্ডকে শক্তিশালী করেন। কৃষি আধুনিকায়নের জন্য ঢাকা, রাজশাহী এবং খুলনার দৌলতপুরে কৃষি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। পাটচাষীদের নায্যমূল্য পাওয়ার লক্ষ্যে ১৯৩৮ সালে ‘পাট অধ্যাদেশ’ জারিতে তার ভূমিকা ছিল প্রধান। তিনি নারী শিক্ষার প্রতিও ব্যাপক গুরুত্ব প্রধান করেন।

১৯৪০ সালে ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলীম লীগের অধিবেশনে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের উপস্থাপক ছিলেন ফজলুক হক। ১৯৪১ সালের ১২ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো তিনি মন্ত্রীপরিষদ গঠন করেন। শরৎচন্দ্র বসু ও হিন্দু মহাসভার সহ-সভাপতি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির সঙ্গে প্রগতিশীল যুক্ত পার্টি গঠন করে তিনি সেই দলের নেতা হয়েছিলেন। ১৯৪৬ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গীয় আইন পরিষদের নির্বাচনে বরিশাল অঞ্চল ও খুলনার বাগেরহাট অঞ্চল থেকে প্রার্থী হয়ে তিনি নির্বাচিত হন। কিন্তু দলীয়ভাবে পরাজিত হওয়ার কারণে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মন্ত্রিসসভা গঠন করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই নির্বাচনের পর ফজলুল হক মুসলিম লীগে যোগ দেন।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়ার পর তিনি ঢাকা হাইকোর্টে পুনরায় ওকালতি শুরু করেন। তিনি ঢাকা হাইকোর্ট বারের প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৫১ সালে তিনি পূর্ব-পাকিস্তানের এটর্নি জেনারেল নিযুক্ত হন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ফজলুক হক সমর্থন দেন। ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত তিনি এই পদে ছিলেন। ১৯৫৩ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের সময় তার বাসভবনে কৃষক-প্রজা পার্টির কর্মীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে দলের নাম থেকে প্রজা শব্দটি বাদ দিয়ে ‘কৃষক শ্রমিক পার্টি’ গঠন করা হয়। এই পার্টির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন ফজলুক হক।

১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর শেরেবাংলা, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে নিয়ে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট। ১৯৫৪ সালের ১০ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রীপরিষদ গঠিত হয় ১৫ মে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন ফজলুল হক। ১৯৫৫ সালের ৫ জুন পুনরায় গণপরিষদের নির্বাচন মাধ্যমে কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয়। মুসলিম লীগের চৌধুরী মোহাম্মদ আলী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরিষদ গঠন করেন। ফজলুক হক হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন বিরোধী দলের নেতা।

১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র গৃহীত হুয়। ২৩ মার্চ তা কার্যকরী হয়। এ সময় ফজলুক হক পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ত্যাগ করে চলে আসেন। ১৯৫৬ সালের ২৪ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সালের ১ এপ্রিল পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকার তাকে গভর্নরের পদ থেকে অপসারণ করে। তখন তাঁর হয়েছিলো ৮৫ বছর। এরপর তিনি আর রাজনীতিতে জড়িত হননি। ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

কর্মসূচি

শেরেবাংলার জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে প্রয়াত নেতার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভা।

জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ শেরেবাংলার জন্মবার্ষিকীতে সকাল ৯টায় তার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট এ উপলক্ষে এ কে ফজলুল হকের মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেছে।

চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে আজ ঈদ

চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে আজ ঈদ
সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে দেশের প্রচলিত নিয়মের একদিন আগেই আজ ২৬ অক্টোবর চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা।

জানা গেছে, গত ৮৪ বছর ধরে সরকারি নিয়ম না মেনে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে দেশের একদিন আগে ঈদ ও রোজা পালন করে আসছেন চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।  গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাচনমেঘ, বিঘা, উভারামপুর, বাজপাড়া, খিলা, ওটতলী, বালিথুবা, শোল্লা, রূপসার একাংশ, গোলভাওর, নোয়াহাট, বাশারা, তেলিসাইর, পৌনসাই, কামতা, সুরঙ্গচাইল, পাইকপাড়ার একাংশ, মূলপাড়া, মুন্সিরহাঁট ও কইতাড়া গ্রাম; মতলব উপজেলার মহনপুর, এখলাসপুর, দশানী, নায়েরগাঁও, বেলতলীসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম; হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল, শ্রীপুর, মনিহার, বরকুল, অলীপুর, বেলচোঁ, রাজারগাঁও, জাকনি, কালচোঁ, মেনাপুর ও সাদ্রা।

বাড়ির পথে জনস্রোত, টার্মিনালে ভোগান্তি

বাড়ির পথে জনস্রোত, টার্মিনালে ভোগান্তি
রাজধানী ছেড়ে বাইরে যাওয়ার মূল মহাসড়কগুলোতে বৃহস্পতিবারের মতো  শুক্রবারও সকাল থেকেই হাজারো মানুষের ভিড়। যানজটের কারণে টার্মিনালে বাস আসতে দেরি হওয়ায় আজও ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বহু মানুষ।

ঈদের কারণে রাজধানীর পথঘাট ইতিমধ্যেই অনেক ফাঁকা হয়ে এলেও শহর থেকে বের হওয়ার পথগুলোতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ছিল জনস্রোত। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ঘরমুখী মানুষের ঢল কিছুটা হালকা হয়। সন্ধ্যার পর থেকে আবার বাস, লঞ্চ ও  রেলস্টেশনগুলোতে দেখা যায় মানুষ আর মানুষ।

ঢাকা ছেড়ে যাওয়াদের একটা বড় অংশ ছিলেন নিম্নবিত্ত শ্রেণীর। বিশেষ করে রাজধানীর তৈরি পোশাকশিল্প কারখানা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সন্ধ্যার পর এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

বৃহস্পতিবার রাত থেকেই গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাসস্ট্যান্ড, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল আর কমলাপুর রেলস্টেশনে ছিল উপচেপড়া ভিড়। শুক্রবার ভোর থেকে এখনো শ্যামলী থেকে কল্যাণপুর হয়ে গাবতলী পর্যন্ত রাস্তায় রয়েছে জনতার স্রোত। সবার হাতে-কাঁধে ব্যাগ আর চোখে-মুখে সময়মতো বাড়ি পৌঁছানোর আকুতি।

অন্যদিকে রাজধানীর বেশির ভাগ সড়কের চেহারা ছিল ভিন্ন। মূল সড়ক ও অলিগলিগুলোতে যানবাহন ও মানুষের চলাচল ছিল বেশ কম। গতকাল মহাসড়কগুলোতেও যানজট কমে আসে। তবে গাবতলী ও আশপাশে অসংখ্য গরুবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের চাপের কারণে জট লেগেই ছিল। গাবতলী থেকে বাসগুলোর আমিনবাজার পেরোতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা লেগে যাচ্ছিল। উল্টো পথেও প্রায় এক অবস্থা। এ কারণে গতকাল গাবতলী থেকে বেশির ভাগ বাস দুই থেকে তিন ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে। গ্রামের বাড়িতে আনন্দের ঈদ উদযাপন করতে যাওয়ার পথে এই বিড়ম্বনা কষ্ট দিয়েছে বহু মানুষকে। বিশেষ করে যারা শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে বাসের অপেক্ষায় থেকেছেন, তাদের কষ্টের মাত্রা ছিল বেশি। তবে গত পরশুর চেয়ে যানজট কিছুটা কম ছিল বলে জানিয়েছেন যাত্রী ও গাড়িচালকেরা।

রংপুরে যাওয়ার জন্য বেলা সোয়া একটায় গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায় লাভলী  ও তার ছোট ভাই তালেবকে। দুপুর সাড়ে ১২টায় ছাড়বে এমন আশ্বাসের ভিত্তিতে গোল্ডেন লাইন কোম্পানির বাসের টিকিট কেটে বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখেন গাড়ির খবর নেই। এক থেকে দুই ঘণ্টা দেরি হতে পারে বলে আশ্বাস দেন কাউন্টারের ব্যবস্থাপক।

এসবি কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা মিথুন এ সময় জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্দেশে ভোর ছয়টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত তাদের মোট ৫০টি বাস ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সকাল ছয়টা থেকে ১০টা পর্যন্ত যে বাসগুলো ছেড়ে গেছে, তার বেশির ভাগই দুই থেকে তিন ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে উল্লেখ করে মিথুন বলেন, মহাসড়কে তেমন যানজট না থাকলেও গরুর  ট্রাকের কারণে বাইরে থেকে বাসগুলো অনেক দেরিতে পৌঁছাচ্ছে।

স্ত্রীকে নিয়ে বেসরকারি কোম্পানির কর্মকর্তা হারুন অপেক্ষা করছিলেন বাসের জন্য। তিনি জানান, গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীতে যাওয়ার উদ্দেশে এক ঘণ্টা ধরে বসে আছেন। এখনো টিকিট মেলেনি। চেষ্টা চলছে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে টিকিট কেনার। আরেক যাত্রী গোলাম কাদের বলেন, “যত কষ্ট আর অর্থদণ্ড যাক, ঈদে গ্রামের বাড়িতে যাব। বছরে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করার এই একটাই সুযোগ। এটা হাতছাড়া করতে চাই না।”

বাংলাদেশ সফর চ্যালেঞ্জিং: গেইল

বাংলাদেশ সফর চ্যালেঞ্জিং: গেইল
 অভিজ্ঞ ওপেনিং ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইল মনে করছেন যে, ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেট দলের আসন্ন বাংলাদেশ সফরটা হবে চ্যালেঞ্জিং। আগামি ৩ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুটো টেস্ট পাঁচটি ওডিআই এবং একটি টি২০ ম্যাচ খেলার জন্য বাংলাদেশ সফর করবে ক্যারিবিয়ান দল। এই সফরের জন্য গত শনিবার ঘোষিত ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে আছেন গেইল। টি২০ বিশ্বকাপ জয়ের পর বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সিরিজে আত্মতুষ্টিতে না ভুগে সতর্ক থাকা উচিত বলে মনে করছেন এই ক্যারিবিয়ান ওপেনার।

তিনি বলেছেন, সফরটা খুবই চ্যালেঞ্জিং। কারণ নিজেদের মাটিতে বাংলাদেশ কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে সেটা আমাদের জানা আছে। হালকাভাবে নেয়ার মতো দল বাংলাদেশ নয়। তারপরও ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান দলের  অধিকাংশ সদস্যই বাংলাদেশের কন্ডিশন সম্পর্কে জানে বিধায়, এটা দলকে এগিয়ে রাখবে বলে মনে করছেন ৯৩টি টেস্ট, ২৩৪টি ওডিআই এবং ৩০টি আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন গেইল।

সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান অধিনায়ক বলেছেন, দলের বেশিরভাগ সদস্য এর আগে বাংলাদেশে টেস্ট এবং ওডিআই সিরিজ খেলেছে। অধিকাংশেরই বাংলাদেশে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। কাজেই সিরিজটা আকর্ষণীয় হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সফরে গিয়ে রান পাওয়া খুব সহজ নয়। কন্ডিশন সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। সেই যাতে যত দ্রুত সম্ভব এর সাথে মানিয়ে নেয়া চাই। কন্ডিশনের সাথে তাল মেলাতে পারলে অবশ্যই ভালো করা সম্ভব।

আসন্ন সিরিজের জন্য ঘোষিত ১৫ সদস্যের স্কোয়াডের অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি, ক্লার্ক এডওয়ার্ডস, ড্যারেন ব্র্যাভো, শিবনারায়ন চন্দরপল, কিরণ পাওয়েল, মারলন স্যামুয়েলস, কেমার রোচ, রবি রামপল এবং দীনেশ রামদিন গত বছর বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। সেবার ক্যারিবিয়ানরা তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজ জেতে ২-১ ব্যবধানে। দুই টেস্টের সিরিজে জয় পায় ১-০তে।

উল্লেখ্য, আসন্ন সিরিজের জন্য ঘোষিত অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা গায়ানার বাঁহাতি স্পিনার বীরাস্বামী পারমল

বিদায় নীললোহিত :: বিদেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট

বিদায় নীললোহিত :: বিদেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট
 মানুষের সঙ্গে জীবনের পরতে পরতে কাটানো অভিজ্ঞতা থেকেই সংগ্রহ করতেন তাঁর অনন্য সাহিত্য, কবিতা সৃষ্টির রসদ। তাঁর শেষ যাত্রায় সেই সাধারণ মানুষের আবেগ যেন ভেঙে পড়ল। বিশিষ্ট সাহিত্যিক তথা কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে, ভালবাসার ঝুলি উজাড় করে দিলেন আজীবন মানুষকে ভালবেসেছেন। চেষ্টা করতেন মানুষের সঙ্গে থাকার। মানুষের সঙ্গে জীবনের পরতে পরতে কাটানো অভিজ্ঞতা থেকেই সংগ্রহ করতেন তাঁর অনন্য সাহিত্য, কবিতা সৃষ্টির রসদ। তাঁর শেষ যাত্রায় সেই সাধারণ মানুষের আবেগ যেন ভেঙে পড়ল। বিশিষ্ট সাহিত্যিক তথা কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ভালবাসার ঝুলি উজাড় করে দিলেন কবির গুনমুগ্ধ পাঠকরা।

বৃহস্পতিবার সকালে পিস হাভেনের বাইরের ভিড়ই জানান দিচ্ছিল কবিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামবে। আনন্দবাজার পত্রিকার দফতর হয়ে শববাহী শকট রবীন্দ্রসদনে পৌঁছনোর পর সেই ছবিটাই বাস্তব রূপ পেল। প্রায় একঘণ্টার বেশি সময় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের নিথর দেহ শায়িত ছিল সেখানে। একে একে যখন রাজনীতিক, কবি, সাহিত্যিকসহ বিশিষ্টজনেরা শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, তখন বাইরে লম্বা লাইনে অপেক্ষমান অগুনতি সাধারণ মানুষ।

আক্ষরিক অর্থেই বাংলা সাহিত্যের একটি যুগের নাম সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। তাই তাঁর মৃত্যুতে বাস্তবিকই শেষ হল সেই যুগের। গত শতাব্দীর ছয়ের দশকের হাংরি জেনারেশনের পৃষ্ঠপোষক থেকে আটের দশকের অস্থির সময়। পরবর্তী আরও তিন দশকেও সুনীলের সাহিত্যে হাজারো নতুন বাঁক। তিনি চলে গেলেন ঠিকই, রেখে গেলেন অর্ধশতাব্দীর অনন্য দলিল, যার সাহিত্যমূল্য আবিষ্কর করে বিস্মিত হবে পরবর্তী অনেক প্রজন্মই। পরবর্তী অনেক প্রজন্মই। জন্ম বাংলাদেশের ফরিদপুরে। স্বাধীনতার সময় বয়স তেরো। খুব কাছ থেকে অনুভব করেছেন দেশভাগের যন্ত্রণা।

১৯৪৬-৪৭ দাঙ্গায় তাঁর মন বিধ্বস্ত। শুরু হয় তাঁর লেখালেখি। কবিতাই প্রথম প্রেম। কিছুটা কল্লোলের কবিদের মতন করে রবীন্দ্রনাথকে অস্বীকার করে এগোনর চেষ্টা। কৃত্তিবাস হল সেই স্ফুলিঙ্গ ছড়ানোর প্ল্যাটফর্ম। ছয়ের দশকে মলয় রায়চৌধুরী, সমীর রায়চৌধুরী নেতৃত্বে যে ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা হয়েছিল সেখানেও সুনীল। নকশাল আন্দোলনে উত্তাল সাতের দশক। সেই উত্তাল সময়েও স্বতন্ত্র সুনীল। তখন তিনি দাঁড়াও সুন্দর বা মন ভালো নেই-এর মতো কাব্যগ্রন্থ লিখছেন। সূত্র: জিনিউজ।

টক শোতে শাজাহান খান ও মিডিয়া :: মিডিয়া :: বার্তা২৪ ডটনেট

টক শোতে শাজাহান খান ও মিডিয়া :: মিডিয়া :: বার্তা২৪ ডটনেট
গত সোমবার মধ্যরাতে আরটিভির একটি টক শোতে বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার চোখ উপড়ে ফেলার হুমকি দেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান । আলোচনার এক পর্যায়ে মন্ত্রী নিজ চেয়ার থেকে ওঠে হাতের আস্তিন গুটিয়ে বিরোধীদলের নেতাকে মারতে উদ্যত হয়ে বলেন, “আমি এর আগেও অনেকের চোখ উপড়ে ফেলেছি, শাজাহান খান সবই পারে।” টক শোর বিষয় ছিল ‘ঈদ-পূজায় নিরাপদে ঘরে ফেরা’ ।

অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছিল। তবে এ ঘটনায় আরটিভি কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে সরাসরি সম্প্রচার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। এ টক শো তেজগাঁও শিল্প এলাকায় আরটিভির নবনির্মিত স্টুডিও থেকে সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছিল।

এই ঘটনায় গত দু দিন ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সমালোচনার ঝড় বইছে। সরকারের ভেতরে-বাইরে থেকেও সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হচ্ছেন এই প্রভাবশালী মন্ত্রী। গণমাধ্যমগুলোও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ছাপছে। বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন বিষয়টি নিয়ে লিড নিউজ করেছে। শিরোনাম দিয়েছে ‘ফের বিতর্কে মন্ত্রী শাজাহান খান’।

এছাড়া ঘটনার পর রফিকুল ইসলামের প্রতিক্রিয়াকেও গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ছেপেছে দৈনিক পত্রিকাগুলো। প্রথম আলো’র সপ্তম পৃষ্ঠায় সিঙ্গেল কলামে শিরোনাম- ‘মন্ত্রীরাও সন্ত্রাসী আচরণ শুরু করেছেন।’ একই শিরোনামে ছেপেছে আমার দেশ তৃতীয় পৃষ্ঠায় তিন কলাম।

বুধবারও এই ঘটনায় ফলাওভাবে সংবাদ ছেপেছে দৈনিকগুলো। ইত্তেফাকের প্রথম পাতায় সিঙ্গেল কলামে শিরোনাম দিয়েছে- ‘টিভি টক শোতে মল্লযুদ্ধ হওয়ার উপক্রম’।আমার দেশের প্রথম পাতায় তিন কলামের বক্স করে শিরোনাম দেয়া হয় ‘টক শোতে ভিন্ন দৃশ্য: হাত থাকতে মুখে কী?’। পত্রিকাটির সম্পাদকীয় পাতায় এই বিষয়ে সিরাজুর রহমানের কলাম ছাপা হয়েছে। শিরোনাম ছিল- ‘ভাষার শালীনতা এবং মন্ত্রিত্বের যোগ্যতা’। কালের কন্ঠের দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় দুই কলামের শিরোনাম- ‘টকশোতে নৌমন্ত্রী চোখ তুলে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন: ব্যারিস্টার রফিকুল’।

ঘটনার বিস্তারিত
আরটিভির নিয়মিত মধ্যরাতের টক শো 'আওয়ার ডেমোক্রেসি'র অনুষ্ঠানেই সেদিন বৃহৎ পরিসরে অনেকটা গোলটেবিল ধাঁচে আয়োজন করা হয় 'ঈদ-পূজায় নিরাপদে ঘরে ফেরা' শীর্ষক আলোচনা। বক্তব্য শুরু করেন নৌমন্ত্রী মো. শাজাহান খান। নৌপথের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বলেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, বিগত জোট সরকারের আমলে নৌপরিবহন খাতের কোনো উন্নয়ন হয়নি। তখন চাঁদাবাজি আর দুর্নীতি হয়েছে এ খাতে। মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় টার্মিনালে চাঁদাবাজি করেছেন।

তার এ বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি নেতা সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, 'আমাদের সময় দুর্নীতি আর চাঁদাবাজি হয়েছে, এখন কি এসব বন্ধ হয়ে গেছে? সে সময় বেশি চাঁদাবাজি হয়েছে, নাকি এখন বেশি হচ্ছে- সেই হিসাব দেন। এখন তো লোকজন আপনাদের চোর বলছে।' এ সময় শাজাহান খান কিছুটা উত্তেজিত হয়ে বলেন, 'আপনি চুপ করুন। আমার বলা শেষ হলে আপনি বলবেন।' জবাবে রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, 'এ অনুষ্ঠানে আমাকে দাওয়াত দেওয়ার সময় বলা হয়েছিল যে, কোনো রকম আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেয়া হবে না। কিন্তু এখন দেখছি শুধু আমাদের আমলের বদনাম করা হচ্ছে।'

এ পর্যায়ে উপস্থাপক বলেন, 'জনাব রফিকুল ইসলাম মিয়া, আপনাকে বলার সুযোগ দেওয়া হবে, আপনি তখন বলবেন।' কিন্তু তাতে কর্ণপাত না করে তিনি শাজাহান খানের কথার পিঠে কথা বলে যাচ্ছিলেন। আর এতেই প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন নৌমন্ত্রী। 'আপনি' থেকে হঠাৎ 'তুমি' সম্বোধন শুরু করেন তিনি।

মন্ত্রী উত্তেজিত স্বরে বলেন, 'আপনার কথা বলার অধিকার আছে। আমার কথার মধ্যে কেন বলছেন? রফিক সাহেব, আপনি আমাকে ধমক দিলেন, আমি শুনে গেলাম, এইটা মনে করার কোনো কারণ নেই। আমি শাজাহান খান আপনার চাইতে কোনো অংশে কম নই, এইটা মনে রাইখেন। আপনি বেশি কথা বলবেন না। রফিক সাহেব, আমি শাজাহান খান কাউকে তোয়াক্কা করি না, এইটা মনে রাইখেন। আপনি কী মনে করেছেন? বেয়াদবের মতো কথা বলেন।... বেয়াদবের হাড্ডি।'

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় সঞ্চালক রোবায়েত ফেরদৌস প্রযোজক ও ক্যামেরাম্যানদের উদ্দেশে বলেন, 'বন্ধ করো', 'ব্রেকে যাও', 'বর্তমান প্রজন্ম তাদের কাছে কী শিখছে', 'টকশো বন্ধ করো'। কিন্তু তাতেও থামছিলেন না শাজাহান খান। ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া টেবিল চাপড়ে বলতে থাকেন, 'স্টপ ইট'। অন্যদিকে মন্ত্রী শাজাহান খান চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতাকে শাসাতে থাকেন। একপর্যায়ে অনুষ্ঠানের অন্যতম আলোচক চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন চেয়ার ছেড়ে টক শো থেকে বেরিয়ে যেতে উদ্যত হন। এ সময় টকশো বন্ধ হয়ে যায়।

কিন্তু তাতেও থামছিলেন না দুই নেতা। চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ান দুজনই। শাজাহান খান হুঙ্কার দিয়ে বলে ওঠেন, 'হারামজাদা, তুমি জানো না একজন মন্ত্রীর সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়! তোমাকে আজ জুতাপেটা করব।' মন্ত্রীর এসব কথায় একেবারেই হতভম্ব হয়ে যান রফিকুল ইসলাম মিয়া। তিনি মাথা নিচু করে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন স্টুডিও থেকে। এ সময় তার দিকে তেড়ে যান মন্ত্রী শাজাহান খান। বলে ওঠেন, 'রফিক, তুমি শাজাহান খানকে চেনো না। আজ, এখন তোমার চোখ তুলে ফেলব। মারামারি করতে চাইলে চলো ফিল্ডে নামি।'

এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি ইসরাফিল আলমও নৌমন্ত্রীর পক্ষ নিয়ে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে বকাঝকা করতে থাকেন। তবে বাকি সবাই নীরবে দেখতে থাকেন সেই দৃশ্য। এমনকি অপর দুই এমপি গোলাম মওলা রনি ও রাশেদা বেগম হীরাও নিজ নিজ আসনে বসে ছিলেন চুপচাপ।

একপর্যায়ে রফিকুল ইসলাম মিয়া স্টুডিও থেকে বেরিয়ে যান। উঠে দাঁড়ান ইলিয়াস কাঞ্চনসহ অন্যরা। কিন্তু আরটিভির স্টাফদের অনুরোধে তারা আবার চেয়ারে বসেন। এ পর্যায়ে রাশেদা বেগম হীরা চেয়ার থেকে উঠে বেরিয়ে যান। এ সময় আওয়ামী লীগের এমপি ইসরাফিল আলম তাকে উদ্দেশ করে বলেন, 'আপনি আবার কোথায় যাচ্ছেন।' জবাবে রাশেদা বেগম হীরা বলেন, 'আমি প্রচণ্ড ভয় পেয়েছি। তাই আর বসতে চাই না।'

কিছুক্ষণ পর দেখা যায়, আরটিভির কর্মকর্তারা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও রাশেদা বেগম হীরাকে আবার স্টুডিওতে ফিরিয়ে এনেছেন। তাদের অংশগ্রহণেই কয়েক মিনিট পর আবার শুরু হয় অনুষ্ঠানটি এবং সরাসরি সম্প্রচার করা হয় বাকি অংশ। টকশোর শেষ অংশের আলোচনায় আর তেমন উত্তাপ-উত্তেজনা ছিল না। অনুষ্ঠান শেষে আরটিভি কর্মীদের অনুরোধে মন্ত্রী শাজাহান খান স্টুডিও থেকে বের হওয়ার পথে হাত মেলান ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার সঙ্গে।

মন্ত্রী হওয়ার পর শাজাহান খান বহুবার বিতর্কের সৃষ্টি করলেও এবারের ঘটনাটি যেন পেছনের সব ঘটনাকেই ছাপিয়ে গেছে। পরীক্ষা ছাড়াই সাড়ে ২৭ হাজার ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ এবং 'গরু-ছাগল চিনতে পারে' এমন চালকদের লাইসেন্স দেওয়ার প্রস্তাব করে গত বছর বিতর্কের সৃষ্টি করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন শাজাহান খান। তার উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের চেয়ারম্যান নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের ছবি পদদলিত করার ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

২০১১ সালের ২ জুন ও ১২ জুলাই দুই দফায় নৌমন্ত্রী ২৭ হাজার ৩৮০ জন অদক্ষ চালককে ভারী ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার সুপারিশ করেন বিআরটিএ'র কাছে। মিডিয়ার বিরুদ্ধে কথা বলেও তিনি বিতর্কে আসেন।

টক শোতে এমন ঘটনার পর বিএনপি সরকার আমলের সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেছেন, “কোনো সভ্য মানুষ এ ধরনের ভাষায় কথা বলতে পারে না।” তবে মন্ত্রী শাজাহান খান সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমি রাগের মাথায় কী বলেছি মনে নেই। উনার অসদাচরণ সহ্যের মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।”

বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ে বিতর্ক :: পরিবেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট

বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ে বিতর্ক :: পরিবেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট

বিশ্বের উষ্ণায়ন নিয়ে বিতর্ক বহু দিন ধরেই চলছে। এতে নানা মুনির নানা মত। নাসার নেত্বত্ব মনে করে যে, এটা হলো মানুষের বাঁচার জন্য করা কাজকর্মের পরিণাম। কিন্তু এর সঙ্গে একমত নন নাসার অন্যান্য কর্মীরা। ৪৯ জন মহাকাশচারী ও নাসা কর্মী একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন, যাতে তাঁরা বিশ্বের উষ্ণায়নের বিষয়ে মানুষের কাজকর্ম দায়ী বলে স্বীকার করতে চান নি।

অন্যদিকে উষ্ণায়ন যে বিশ্বে আরও চরম হচ্ছে, তাতে মানুষের দোষ নিশ্চয়ই রয়েছে, এরকম মনে করে বিশ্ব বন্যপ্রাণী তহবিলের ‘আবহাওয়া ও শক্তি উত্পাদন’ প্রকল্পের রুশ পরিচালক আলেক্সেই ককোরিন। তার মতে, মানুষের আবহাওয়ার উপরে প্রভাব এখন অন্যান্য কারণকে ছাপিয়ে উঠছে। আশা করব মানবসমাজ আবহাওয়ার উপরে প্রভাব কমাবে।

আলেক্সেই ককোরিন মনে করেন, মানুষ আবহাওয়াকে পাল্টাতে পারে না কিন্তু সেই গ্রিন হাউস এফেক্ট, যা সৌর সক্রিয়তার প্রভাবের সঙ্গে একই রকমের শক্তিশালী, তা মানুষ তৈরি করতে পেরেছে। আর এটাই আবহাওয়া ব্যবস্থাকে টলিয়ে দিয়েছে। এই বিশেষজ্ঞ মনে করেন, কম করে হলেও আগামী অর্ধশতক আমাদের আবহাওয়ার অনিয়মের মধ্যেই বাঁচতে হবে ও তা মানিয়েও নিতে হবে।

কিন্তু মানব সমাজকে শুধু গরমের সঙ্গেই নয়, ঠাণ্ডার সঙ্গেও টক্কর দিতে হবে, যা এখনই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এরকম কথা জোর দিয়ে বলেছেন বিশ্ব নিয়ে বিজ্ঞানের সংযুক্ত সভার সভাপতি ড. নিকোলাই দবরেত্সভ। তার অভিমত, “গত তিন বছরের ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে যে, ভেনিসের খালগুলোতে পানি জমে গিয়েছিল, স্পেনে আঙ্গুর গাছ শীতে জমে গিয়েছিল, আর মস্কো শহর এবং ইউরোপের অনেক জায়গাজুড়েই ছিল শীতল বসন্ত কাল, যা প্রমাণ করেছে যে, সাময়িক ভাবে ঠাণ্ডা হওয়াও শুরু হয়েছে। আর্কটিক অঞ্চলে বরফের সঙ্গেও এই রকম ঘটছে। সব চেয়ে কম বরফ ছিল ২০০৭ সালে, ২০০৮ ছিল সেই রকমই। আর ২০০৯, ২০১০ ও ২০১১ সালে এবং এই বছরের শুরুতে আবার বরফের পরিমাণ বাড়তে শুরু করেছে”।
তবে যখন বিশেষজ্ঞরা এসব বিতর্কে ব্যস্ত, তখন বিশ্বের বেশির ভাগ লোকের জন্য সবচেয়ে বেশি চিন্তার বিষয় হয়েছে বাস্তব সব প্রশ্ন: খরা ও বন্যা কত বেশি প্রভাব ফেলবে, বন্যা ও ঝঞ্ঝা থেকে জিনিসের দাম কত বাড়বে? কারণ এর সঙ্গে তার খাদ্য উৎপাদনের বিষয়টি গভীরভাবে জড়িত। সূত্র: ওয়েবসাইট।

সঙ্গীতে বর্ষসেরা নারী কেটি পেরি

সঙ্গীতে বর্ষসেরা নারী কেটি পেরি

রক-পপ সঙ্গীতাঙ্গনে নবাগত জনপ্রিয় তারকাদের অন্যতম কেটি পেরির ২৮তম জন্মবার্ষিকী৷ মার্কিন এই তারকা বিগত কয়েক বছরে তার সঙ্গীত জীবনে পেয়ে আসছেন সাফল্য, খ্যাতি এবং স্বীকৃতি৷
২০০৮ সালে ‘ওয়ান অফ দ্য বয়েজ' অ্যালবামের মধ্য দিয়ে বিশ্ব পপসঙ্গীতের অঙ্গনে গীতিকার, সুরকার, বাদক ও গায়িকা কেটি পেরির আত্মপ্রকাশ৷ আমেরিকাসহ বিশ্বের বহু দেশে হিট গানের তালিকায় প্রথম দিকে স্থান অধিকার করে এই অ্যালবাম৷ ‘আই কিসড আ গার্ল' বছরের শ্রেষ্ঠ গান হিসেবে গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়৷

তৃতীয় অ্যালবাম ‘টিনএজ ড্রিম' তাকে এনে দেয় বিরাট সাফল্য৷ এই অ্যালবামের পাঁচটি গান বিখ্যাত বিলবোর্ড সঙ্গীত তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে নেয়৷ মাইকেল জ্যাকসন ছাড়া সঙ্গীত-ইতিহাসে তিনিই প্রথম নারী শিল্পী যিনি এই মাইলফলক অর্জন করতে পেরেছেন৷

তার আসল নাম ক্যাথরিন এলিজাবেথ হাডসন৷ জন্ম ১৯৮৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্টা বারবারা শহরে, এক রক্ষণশীল পরিবারে৷ গসপেল সঙ্গীতের মধ্য দিয়েই শুরু হয় তার সঙ্গীতচর্চা৷ ১৩ বছর বয়স থেকে গিটারে তার স্বশিক্ষা৷ এ সময় বিখ্যাত ব্রিটিশ রক সঙ্গীতগোষ্ঠী ‘কুইন'-এর একটি অ্যালবাম শোনার পর থেকেই এই গোষ্ঠীর কর্ণধার ফ্রেডি মার্কারির গভীর অনুরাগী হয়ে ওঠেন তিনি৷ ১৭ বছর বয়সে পরিবারের কঠোর নিয়মানুবর্তিতার বেড়া পেরিয়ে তিনি চলে আসেন লস অ্যাঞ্জেলেসে৷ এখানে তাঁর পরিচয় হয় প্রযোজক ও গীতিকার গ্লেন ব্যালার্ডের সাথে৷ তারই সহযোগিতায় ২০০৭ সালে ক্যাপিটাল রেকর্ডের সাথে চুক্তিবদ্ধ হোন কেটি৷ সেই থেকেই শুরু হয় তাঁর সফল সঙ্গীত জীবন৷

বিশ্বব্যাপী সাত কোটিরও বেশি অ্যালবাম বিক্রি হয়েছে তার৷ স্বতঃস্ফূর্ত সুরেলা কণ্ঠে, রক ও গসপেল সংগীতের ছোঁয়ায় এক নতুন স্বাদের পপ সংগীত উপহার দিয়েছেন তাঁর অসংখ্য অনুরাগীদের৷ এ বছর সেপ্টেম্বর মাসে বিলবোর্ড সঙ্গীত ম্যাগাজিনের ২০১২ সালের ‘উওমেন অফ দ্য ইয়ার' হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি৷ ২০০৯ সালে ‘শ্রেষ্ঠ আন্তর্জাতিক নবাগত সঙ্গীত শিল্পী' হিসেবে ব্রিটসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন প্রতিভাবান সঙ্গীত শিল্পী কেটি পেরি৷সূত্র: ডয়েচে ভেলে।

ঈদে যানজট, দুর্ভোগ ও চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করলেন যোগাযোগমন্ত্রী

ঈদে যানজট, দুর্ভোগ ও চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করলেন যোগাযোগমন্ত্রী
 কোরবানির ঈদে সড়ক ও মহাসড়কে যানজট, দুর্ভোগ ও চাঁদাবাজি অনেক কমেছে বলে দাবি করেছেন যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তবে একই সাথে কিছু সড়ক ও মহাসড়কে যে দীর্ঘদিন ধরে যানজট ও চাঁদাবাজি রয়েছে তা স্বীকার করে জাতির কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

যাত্রীর তুলনায় যানবাহনের কম সক্ষমতা, সড়ক-মহাসড়কের আইন না মানার প্রবণতা, রাস্তার উপর গরুর হাট বসানো, গরুবাহী গাড়ির ধীরগতি ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি যানজটের অন্যতম কারণ বলে দাবি করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনা রোধে প্রতিটি সড়কে প্রয়োজনীয় রেকার রাখা হয়েছে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন মহাসড়কে টিম রয়েছে। এছাড়া আজ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত পেট্রোল পাম্প খেলা থাকবে।

তিনি বলেন, যানজট কমানোর জন্য আমরা বঙ্গবন্ধু সেতুর মেরামত কাজ আট দিন বন্ধ রেখেছি, যাতে করে ঈদে মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারেন।

জনাব কাদের বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার ঈদে সড়ক ও মহাসড়কগুলো বেশি চলাচল উপযোগী রয়েছে। মহাসড়ক বেহাল অবস্থায় রয়েছে এমন অভিযোগ এবার নেই।

রাস্তায় যানজট ও চাঁদাবাজি বন্ধে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, হাইওয়ে পুলিশ এবং র‌্যাব একযোগে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, এবার ঈদে বিআরটিসি মোট ৮৪০টি বাস রাস্তায় নামিয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা থেকে ৪৫০টি, অন্যান্য ডিপো থেকে ৩৯০টি এবং সার্বক্ষণিকভাবে রাখা হয়েছে ৩০টি বাস এবং ভারত থেকে আরো ২৯০টি বাস পেয়েছি। এর মধ্যে এসি বাসগুলো আসবে আগামী ডিসেম্বর।

ভুয়া ক্রেতাদের খপ্পরে কুরবানির পশুর দাম চড়া :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট

ভুয়া ক্রেতাদের খপ্পরে কুরবানির পশুর দাম চড়া :: জাতীয় :: বার্তা২৪ ডটনেট
 ব্যবসায়ীদের নিযুক্ত দালালরা ক্রেতা সেজে রাজধানীতে কুরবানির পশুর দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার গাবতলীতে কুরবানির পশুর হাটে গিয়ে দেখা গেল, ট্রাক থেকে গরু নামানোর আগেই বাজারে চালু দামের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে গরু কিনে নিচ্ছে একদল লোক। সেখানে দাঁড়িয়ে অসহায়ের মত তা দেখছিলেন ফার্মগেট থেকে আসা ক্রেতা ফজলে আবেদ। জনাব আবেদ বললেন,  এরা গরু ব্যবসায়ী নয়, ক্রেতাও নয়।  এরা মৌসুমি দালাল। বাজারে আসা সব গরুই যেহেতু এখন এদের হাতে পড়ছে, তাই আমরা এদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছি।

এই দালালরা গরু কিনলেও, অন্য এক ধরনের দালাল দেখা গেল- যারা কিনছেন না, তবে ক্রেতাদের কাছে গরুর দাম বেশি বলে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

আফতাবনগর বাজারের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বললেন, এদেরকে আমাদের অনেক ব্যবসায়ীরা টাকা দিয়ে রেখেছেন। এদের কাজ শুধু ক্রেতাদের কাছে গিয়ে বেশি দাম বলা।

এই ধরনের কত লোক রয়েছে জানতে চাইলে বলেন, এটাতো এক একটা গ্রুপের লোক। কোনো গ্রুপে কত আছে বলা যাচ্ছে না। তবে এক একটা বাজারে পাঁচশতের বেশি লোক কাজ করে।

Thursday, October 25, 2012

সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা পাচার ডেসটিনির এমডি ও চেয়ারম্যানের স্বীকার

সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা পাচার ডেসটিনির এমডি ও চেয়ারম্যানের স্বীকার
ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিন ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন অর্থ আত্মসাতের পর পাচারের অভিযোগ স্বীকার করে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মহানগর হাকিম সাইফুর রহমান ও হারুন অর রশীদ তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

দুদক জিআরও জানিয়েছে, তারা মামলার অভিযোগের সব বক্তব্য সমর্থন করে দুই মামলাতেই মুদ্রা স্থানান্তরের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

১৮ দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই জবানবন্দি এমএলএম কোম্পানি ডেসটিনির এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তা জবানবন্দি দিলেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগে দুদকের করা দুটি মামলায় গত ১১ অক্টোবর ঢাকার সিনিয়র  বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে তা নাকচ করে ডেসটিনির এই দুই কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত। সেদিনই জ্ঞিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের হেফাজতে নেয়ার আবেদন করা হয়।

গত ১৪ অক্টোবর ওই আবেদনের শুনানি শেষে দুই মামলায় নয় দিন করে প্রত্যেককে ১৮ দিনের হেফাজতে নেয়ার আদেশ দেন ঢাকার মহানগর হাকিম এরফানউল্লাহ।

সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের পর পাচারের অভিযোগে গত ৩১ জুলাই রাজধানীর কলাবাগান থানায় এই দুই জনসহ ডেসটিনির ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে দুদক।

ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেশন (এমএলএম) ও ট্রি-প্লান্টেশেন প্রকল্পের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থ পাচারের ‘প্রমাণ’ পেয়ে দুদকের উপপরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার ও সহকারি পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা দুটি দায়ের করেন।

বাংলাদেশের ক্রিকেটকে গ্রাস করেছে রাজনীতি: পাইবাস :: স্পোর্টস :: বার্তা২৪ ডটনেট

বাংলাদেশের ক্রিকেটকে গ্রাস করেছে রাজনীতি: পাইবাস :: স্পোর্টস :: বার্তা২৪ ডটনেট
 বাংলাদেশের জাতীয় দলের প্রধান কোচ রিচার্ড পাইবাস জানিয়েছেন, তিনি দায়িত্ব পালনের জন্য আর বাংলাদেশে ফিরছেন না।

ইএসপিএন ক্রিকইনফো-কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে রিচার্ড পাইবাস বাংলাদেশের ক্রিকেট কর্তৃপক্ষের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “তার পক্ষে আর কোচের দায়িত্ব পালনের কোনো সুযোগ নেই।”

রিচার্ড পাইবাস বলেন, “কোনো চুক্তি ছাড়াই গত পাঁচ মাস ধরে তিনি সরল বিশ্বাসে তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সবার ধৈর্যেরই একটা সীমা আছে। বাংলাদেশের কোচ হিসেবে তার দায়িত্ব পালন একবারে অসম্ভব করে তোলা হয়েছে।”

রিচার্ড পাইবাস জানান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এ বছরের শুরু থেকে তাকে তিনবার হেড কোচ হওয়ার প্রস্তাব দেন। তিনি দুবার এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। কারণ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এই দায়িত্ব পালনের জন্য তাকে যতটা সময় দেয়ার জন্য বলছিলেন, ততটা সময় দেয়া তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। কারণ তার নিজের পরিবারকে যদি সময় দিতে হয়, বাংলাদেশে তার পক্ষে এতটা সময় কাটানো সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, “এরপর তৃতীয়বার যখন তাকে আবারো ওই প্রস্তাব দেয়া হয়, তখন তিনি শর্ত দেন যে বাংলাদেশ দলের বিভিন্ন সফরের ফাঁকে ফাঁকে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় তার পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চান। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাতে রাজী হয়। কিন্তু তারা কখনোই এই বিষয়টি লিখিত চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেনি। ফলে তিনি ওই চুক্তি সই করতে অস্বীকৃতি জানান।”

এর পর তিনি বিষয়টি সুরাহার জন্য ছয় দফা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি। এ কারণেই তিনি বাংলাদেশে ফিরে যাবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রিচার্ড পাইবাস বলেন, “বাংলাদেশ দলকে যেন তিনি বোর্ডের পরিচালকদের হস্তক্ষেপ ছাড়া পরিচালনা করতে পারেন তার নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন। বোর্ডের প্রেসিডেন্ট মোস্তফা কামাল তাকে সেই আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে সেটা কখনোই ঘটেনি।”
 
ক্রিকেট বোর্ড বার বার তার কাজে হস্তক্ষেপ করেছে। এদের কেউ কেউ শুধু তার কাজে বাধাই সৃষ্টি করেনি, ক্রিকেট সম্পর্কে তারা ছিল একেবারে অজ্ঞ।

রিচার্ড পাইবাস বলেন, “বাংলাদেশ দল যখন সফরে যায়, তখন বোর্ড সদস্যরা ট্যুর ডেলিগেশনের প্রধানের মতো আচরণ করেন। অথচ এটা তো টিম ম্যানেজারের কাজ। তারা টিম মিটিং এ থাকতে চান, টিম বাসে চড়তে চান, এমনকি ড্রেসিং রুমেও নাক গলাতে চান।”

রিচার্ড পাইবাস বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রশংসা করে বলেন, “তাদের আসলেই কিছু ভালো খেলোয়াড় আছে। মুশফিকুর রহিম, সাকিব, তামিম—এরা খুবই ভালো খেলোয়াড়। ক্রিকেট ভালোবাসেন এমন কিছু নিবেদিত ক্রিকেট কর্মকর্তাও আছেন। কিন্তু রাজনীতি সবকিছুকে গ্রাস করেছে। সূত্র: বিবিসি।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা: মিয়ানমারে কারফিউ :: বিদেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা: মিয়ানমারে কারফিউ :: বিদেশ :: বার্তা২৪ ডটনেট

 মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে আরো দুটি শহরে বৌদ্ধ এবং রোহিঙ্গা মুসলমানদের মধ্যে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে মঙ্গলবার রাতে ওই সাম্প্রদায়িক সংঘাত মিন বায়া ও ম্রাউক নামে দুটি শহরে ছড়িয়ে পড়ে।
এই শহর দুটিতে আরো পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিবিসির মিয়ানমার বিভাগ বলছে বুধবারের সহিংসতায় ম্রাউক শহরে অন্তত একজন নিহত হয়েছে।

গত রোববার থেকে বৌদ্ধ এবং রোহিঙ্গা মুসলমানদের মধ্যে শুরু হওয়া এই সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় এখনও পর্যন্ত চারজন নিহত এবং এক হাজারের বেশি বাড়ি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।
রাখাইন রাজ্যের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সহিংসতা চলছে এবং বাড়িঘরে আগুণ ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে।
সেই মুখপাত্র জানান, আগুন নেভানোটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং কর্তৃপক্ষ সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

গত মে মাসে একজন বৌদ্ধ মহিলাকে কয়েকজন মুসলমান ধর্ষণ করেছে, এমন খবরে বৌদ্ধ এবং রোহিঙ্গা মুসলমানদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়।

তারপর থেকেই সেখানে এক ধরনের উত্তেজনা রয়েছে। কিন্তু এবারের সহিংসতা কেন শুরু হলো সেটি পরিষ্কার নয়। যদিও উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ পরস্পরকে দোষারোপ করছে।
তবে এই সহিংসতা এমন এক সময়ে শুরু হলো যার কয়েক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশের কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ মন্দির এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

মিয়ানমার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমান এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনার দীর্ঘ এক পটভূমি রয়েছে। মিয়ানমারে সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের সে দেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়না।

রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বর্ণনা করে মিয়ানমার সরকার। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমার এ দাবিকে বরাবরই খারিজ করে দিয়ে আসছে।

জাতিসংঘের মতে রোহিঙ্গারা হচ্ছে মিয়ানমার পশ্চিমাঞ্চলীয় ভাষা-গত এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু যারা নিগ্রহের শিকার।