Pages

Monday, November 12, 2012

ওসি হোসনে আরার চ্যালেঞ্জ

ওসি হোসনে আরার চ্যালেঞ্জ


তিনি চ্যালেঞ্জ ভালবাসেন। পুলিশের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ, জীবনটাকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতেই ব্যতিক্রমী চিন্তা ঠাঁই পায় তার মনে। ইচ্ছা জাগে পুলিশে যোগ দেয়ার। স্বপ্ন দেখেই থেমে থাকেননি তিনি। ১৯৮১ সালে ট্রেনিংয়ের জন্য ভর্তি হন পুলিশ ফোর্সে। দু’বছর পর প্রথম পিএসআই হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গুলশান থানায়। তারপর এসআই হিসেবে ডেমরা থানায়। ২০১০ সালে যোগ দেন জাতিসংঘ মিশনে। এরপর তিনি ইতিহাসের অংশ। বাংলাদেশের প্রথম নারী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে যোগ দেন ক্যান্টনমেন্ট থানায়। তিনি হোসনে আরা। ৫১ বছর বয়সী এ নারী এখন ভাসানটেক থানার ওসি। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের একমাত্র নারী ওসি ৩২ বছর আগে পুলিশে যোগ দিতে গিয়ে পরিবারের কাছ থেকে কোন বাধার সম্মুখীন হননি। সবসময় পরিবারই তার পাশে ছিল। মানবজমিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে হোসনে আরা তার সাফল্যের সব কৃতিত্ব দিয়েছেন পরিবারকে। গাজীপুরের পুবাইলে জন্মগ্রহণ করেছেন। বলেছেন, সাফল্যের পেছনে পরিবারের ভূমিকাই ছিল মুখ্য। তিনি বলেন, বাবা মো. আলী ও মা আনোয়ারা বেগম সকল ক্ষেত্রে আমাকে প্রেরণা দিয়েছেন।
পুলিশে যোগ দেয়ার দু’বছর পর তার পিতা মারা যান। পাঁচ বোন এবং তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। পিতৃহারা পরিবারের সকল দায়িত্ব হাসিমুখে গ্রহণ করেন এই সাহসী নারী। সংসার জীবনের কথা ভাবার সুযোগ পাননি বলে জানান তিনি। তবে সৃষ্টিকর্তার হুকুম হলে এখনও বিয়েতে আপত্তি নেই। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে ওসি হোসনে আরা বলেন, আমি দূর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবি না। বর্তমানের প্রতিটি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে চাই। তিনি বলেন, পুরুষরা পারে- নারীরাও পারবে। প্রয়োজন শুধু সাহস ও সদিচ্ছার। আশা করি শুধু আমি নই, আমার পরেও অনেক নারী এই পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোন প্রতিবন্ধকতা সম্মুখীন হতে হয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নারী হিসেবে কখনও কোন প্রতিবন্ধকতার শিকার হইনি। আমি মনে করি নারী হওয়ার কারণে অনেক ঘটনা তদন্ত করতে আমার সহজ হয়। নারী বিষয়ক ঘটনা, যেমন ধর্ষণের শিকার অথবা নির্যাতিত নারীদের সঙ্গে কথা বলে সহজেই রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়। একজন পুরুষ ওসির সঙ্গে এই ধরনের ভিকটিমরা কথা বলতে অনেক সময় দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন, যা মামলার অগ্রগতির জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে যখন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়, তখন আমার কষ্ট হয়। দায়িত্ব পালনে অনড় এই নারী জানান একজন নারী হিসেবে তার নানা অভিজ্ঞতার কথা।
হোসনে আরার প্রতিদিনের কার্যক্রমের অন্যতম থানাধীন এলাকা টহল দেয়া। রাত দুটা হোক বা তিনটাই হোক নিজেই গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন জনগণের নিরাপত্তার খোঁজখবর নিতে। তিনি বলেন, নারী হওয়াকে প্রতিবন্ধকতা না ভেবে আমি যে কোন বৈরী পরিস্থিতি উপেক্ষা করে একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে আমার যা কর্তব্য তা পালন করি। অনান্য অপরাধের চেয়ে, মাদক সংক্রান্ত অভিযানগুলোই মূলত আমার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়ে থাকে। মাসে প্রায় ১৫টি মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে থাকেন বলে জানান তিনি।
পুলিশ টিমে একজন জাতীয় গান শুটারও এই নারী। পুলিশ টিমে একজন শুটার হিসেবে রয়েছে তার আলাদা কৃতিত্ব। ২০০৯ সালে জাতীয় মহিলা পুলিশ টিমে গান শুটারে তিনি বিজয়ী হয়েছেন। প্রতি বছর এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন হোসনে আরা।
ভাষানটেক থানা এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ যাতে পুলিশকে বন্ধু ও সহযোগী ভাবতে পারে তার জন্য তাদের সঙ্গে শক্তিশালী যোগাযোগ গড়ে তুলতে চাই। জনগণ পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে ভয় পায়। যোগাযোগের মাধ্যমেই তা দূর হবে।
এ লক্ষ্যে ভাষানটেক থানায় কিছু দিনের মধ্যে একটি কমিউনিটি আলোচনার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেবেন বলে জানান তিনি। মিরপুরের ডিসি ইমতিয়াজ আহমেদ, এসবির ডিআইজি ফাতেমা আক্তার, এসবি ট্রেনিং ইনস্টিটিউশনের বর্তমান এডিশনাল ডিআইজি ইয়াসমিন গোফুর, জয়েন্ট কমিশন অব ট্রাফিকের মিলি বিশ্বাস এবং র‌্যাবের এডিশনাল ডিআইজি রওসনারা বেগমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমার পেশাগত জীবনে এ সকল মানুষের বিরাট অবদান রয়েছে। সফলতার সকল ক্ষেত্রে আমি তাদের সহযোগিতা পেয়েছি।

Sunday, November 11, 2012

জালিয়াতি করে সরকারি কাজ পেয়ে আবার জালিয়াতি: ব্যবস্থা নিচ্ছে না শ্রম মন্ত্রণালয়


জালিয়াতির মাধ্যমে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পে জনবল সরবরাহের কাজ পেয়েছে প্রটোকল নামের একটি প্রতিষ্ঠান। জামানত হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির জমা দেওয়া দুটি পে-অর্ডারই জাল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পে জনবল সরবরাহের পর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে লোক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছ থেকে ব্যাংক ড্রাফট নিয়েছে। প্রকল্পে সরবরাহ করা কর্মীদের বেতন থেকে টাকা কেটে রাখার অভিযোগও রয়েছে প্রটোকলের বিরুদ্ধে।
‘বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুশ্রম নিরসন (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পে’ ঘটেছে এ ঘটনা। ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে প্রটোকলের মালিক বরকত হোসেন বলেছেন, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
প্রকল্পটির পরিচালক এম এ কাশেম মাসুদ বলেছেন, জাল পে-অর্ডারের বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনো তথ্য নেই। অপর দুটি অভিযোগের বিষয়ে তাঁরা ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
প্রটোকল গত বছরের সেপ্টেম্বরে ওই প্রকল্পে ২৮ জন জনবল সরবরাহের কাজ পায়। বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসে প্রকল্প থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা পায়। এ ছাড়া সরবরাহ করা ২৮ জনের মোট বেতন দুই লাখ ২৮ হাজার ৯৬৯ টাকাও তারা তুলে কর্মীদের দেয়।
প্রটোকলের মালিক বরকত হোসেন খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। ২০১০ সালের ৩১ মে ঢাকা সিটি করপোরেশন থেকে নেওয়া তাঁর ট্রেড লাইসেন্সে ঠিকানা রয়েছে খুলনার খালিশপুর।
জাল পে-অর্ডার: নথিপত্রে দেখা যায়, জামানত হিসেবে প্রটোকল দুটি পে-অর্ডার জমা দিয়েছে। এর একটি উত্তরা ব্যাংকের এলিফ্যান্ট রোড শাখা ও অপরটি পূবালী ব্যাংকের পিলখানা শাখা থেকে করা। তবে এই দুটি পে-অর্ডারই জাল। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রটোকল ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর উত্তরা ব্যাংকের এলিফ্যান্ট রোড শাখা থেকে ৮৯০৮৬৬৪ নম্বর পে-অর্ডারের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক বরাবর এক লাখ ৩৭ হাজার ৩৮২ টাকা জমা দেয়।
তবে উত্তরা ব্যাংকের ওই শাখার প্রধান সহকারী মহাব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘৮৯০৮৬৬৪ নম্বরে আমাদের শাখা থেকে কোনো পে-অর্ডার করা হয়নি। ওই পে-অর্ডারে থাকা স্বাক্ষরও জাল।’ প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় থেকে ওই পে-অর্ডারের সত্যতা যাচাই করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনো কেউ এ ব্যাপারে জানতে চায়নি।’
প্রটোকল ২০১১ সালের ২৪ অক্টোবর ৬৫৪৯১৬৫ নম্বরের একই পরিমাণ টাকার আরেকটি পে-অর্ডার জমা দেয়। এটি ছিল পূবালী ব্যাংকের পিলখানা শাখার। ওই শাখার ব্যবস্থাপক এ কে এম আবদুর রাকিব প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই সিরিয়াল নম্বরে কোনো পে-অর্ডার আমাদের শাখা থেকে করা হয়নি। ওই পে-অর্ডারে থাকা স্বাক্ষরও জাল।’
পে-অর্ডার জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাইলে বরকত হোসেন বলেন, ‘আমি তো আর ব্যাংকে পে-অর্ডার জমা দিইনি। দিয়েছে আমার লোকজন। কাজেই আমার জানা নেই। আর সরকার বা মন্ত্রণালয়ের কেউ তো কখনো বলেনি যে এটা জাল, তা হলে আপনার এ নিয়ে এত মাথাব্যথা কেন?’
জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক বলেন, এ বিষয়ে তাঁদের কাছে তথ্য নেই। বিষয়টি সম্পর্কে তাঁরা খোঁজখবর নেবেন। জাল হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবেন।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ব্যাংক ড্রাফট: প্রটোকল শ্রম মন্ত্রণালয়ের নাম ব্যবহার করে ২০১১ সালের ৫ ডিসেম্বর এই প্রকল্পে জনবল নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে অফিস সহকারী কাম ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে ৯২ জন, চালক দুজন, এমএলএসএস কাম মেসেঞ্জার ৯২ জন, প্রহরী একজন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে একজনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়। প্রথম দুটি পদের জন্য আগ্রহী ব্যক্তিদের ২০০ টাকার ও পরের তিনটি পদের প্রার্থীদের ১০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট প্রটোকল বরাবর পাঠাতে বলা হয়। অথচ এর আগেই প্রটোকল ওই প্রকল্পে জনবল সরবরাহ করে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ওই বিজ্ঞপ্তি দেখে অনেক প্রার্থী ব্যাংক ড্রাফটসহ আবেদন করে প্রতারিত হন। এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘জনবল সরবরাহ করার পরও প্রটোকল মন্ত্রণালয়ের নাম ব্যবহার করে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অন্যায় করেছে। আমরা বিষয়টি দেখার পরপরই তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিই। যাদের কাছ থেকে তারা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে টাকা নিয়েছে, তাদের টাকা ফেরত দিতে বলেছি। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটিকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল করতে বলেছি। আমরাও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। থানায় জিডি করেছি।’
এ বিষয়ে প্রটোকলের মালিক বলেন, ‘আমি প্রকল্পে লোক নেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলাম, মন্ত্রণালয়ে লোক নেওয়ার জন্য নয়।’
বেতন থেকে অর্থ কাটার অভিযোগ: প্রটোকলের সরবরাহ করা জনবলের মধ্যে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আট হাজার ৬০৫ টাকা এবং বাকি পদে নিযুক্ত ব্যক্তিদের সাত হাজার ৭৫০ টাকা করে বেতন দিচ্ছে সরকার, যা দেওয়া হয় প্রটোকলের মাধ্যমে।
তবে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে কর্মরত এমন পাঁচজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, প্রটোকল প্রতি মাসে তাঁদের বেতন থেকে এক হাজার টাকা কেটে নিচ্ছে। চালক ও পিয়নদের বেতন থেকেও এক হাজার টাকা করে কাটা হচ্ছে। উৎসব ভাতা দেওয়া হয় না। নিয়োগপত্রও দেওয়া হয়নি। এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে চাকরি খাওয়ার ভয় দেখানো হয়।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘আমরাও এসব অভিযোগ পেয়েছি। প্রতিষ্ঠানটিকে কর্মচারীদের পূর্ণ বেতন দিতে বলেছি। কিন্তু সমস্যা হলো, আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ওই কর্মচারীদের বেতন দেয়। ফলে আমরা অনেক কিছুই করতে পারি না। ঈদ বোনাস দেওয়া হচ্ছিল না। আমি নিজে দায়িত্ব নিয়ে প্রটোকলকে বলেছি, কর্মীদের বোনাস দিতে। এরপর তারা বোনাস দিতে বাধ্য হয়েছে।’
জানতে চাইলে বরকত হোসেন বলেন, ‘আমি কারও বেতন কাটি না। এগুলো ভিত্তিহীন অভিযোগ। ইচ্ছা করে কেউ ষড়যন্ত্র করছে। আপনারা সেই ষড়যন্ত্রে যোগ দিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের কেউ তো কখনো এমন অভিযোগ করেনি।’
অভিযোগ রয়েছে, শ্রম প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) ইসহাক আলীর সঙ্গে বরকত হোসেনের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তবে ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি অস্বীকার করে ইসহাক আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বাড়ি বরিশাল। বরকত হোসেনকে আগে চিনতাম না। তবে খুলনা পলিটেকনিকে আমি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। বরকতও অনেক আগে সেখানকার ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। সেই হিসেবে তাঁর নাম জানতাম। পরে প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে আমি তাঁকে কয়েকবার দেখেছি। তাঁর বা তাঁর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’

বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় ড. ইউনূসকে দায়ী করা ঠিক নয়:মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা

বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় ড. ইউনূসকে দায়ী করা ঠিক নয়: ড্যান ডব্লিউ মজীনা

 



বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংক একটি চমত্কার প্রতিষ্ঠান। এটা আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি। গ্রামীণ ব্যাংকের এবং ড. ইউনূসের দর্শন আমি সমর্থন করি। বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় ড. ইউনূসকে দায়ী করা ঠিক নয়।’
দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আজ শনিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার পেছনে ড. ইউনূসকে দায়ী করে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত যে অভিযোগ করেছেন, এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে মজীনা এসব কথা বলেন।
মজীনা আরও বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে গ্রামীণ ব্যাংক বিশাল ভূমিকা রেখে চলেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ দরিদ্র নারীরা যেভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন, জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন, তা অভাবনীয়। ভালো কাজের জন্য বিশ্বব্যাপী গ্রামীণ ব্যাংকের অবদান স্বীকৃতি লাভ করেছে। আর এ কারণে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর প্রতিষ্ঠান নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর জামায়াত-শিবিরের হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মতপ্রকাশের অধিকার সবার আছে। কিন্তু এর নামে কোনো প্রকার সহিংসতাকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কখনোই সমর্থন করে না।
মতবিনিময়কালে বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা (পলিটিক্যাল অফিসার) আন্দ্রেই কোটন, ফিরোজ আহমেদ, ইনফরমেশন অফিসার মেরিনা ইয়াসমিন এবং রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী মিসেস গ্রেস মজীনা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে দুপুর একটায় দিনাজপুর সার্কিট হাউসে এলে জেলা প্রশাসক শামীম আল রাজী তাঁকে স্বাগত জানান। এরপর দিনাজপুর বিশপ হাউসে মধ্যাহ্নভোজ শেষে তিনি দিনাজপুরের ঐতিহাসিক কান্তজী মন্দির পরিদর্শন করেন।

হজ থেকে সৌদির আয় ১৬৫০ কোটি ডলার

হজ থেকে সৌদির আয় ১৬৫০ কোটি ডলার

সৌদি আরব এ বছর অভ্যন্তরীণ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যাওয়া হজযাত্রীদের কাছ থেকে এক হাজার ৬৫০ কোটি ডলার আয় করেছে। সৌদি পত্রিকা আল-হায়াত গত বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছে।
ধর্মীয় পর্যটন সূত্রগুলোর উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, হজের অংশ হিসেবে পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনায় এ বছর এক কোটি ২০ লাখ মুসলমান আসেন। অক্টোবরের শেষে বার্ষিক হজ হয়। এ ছাড়া বছর ধরেই অনেকে ওমরাহ করতে আসেন। ডন।

শ্রমিক নেতা আমিনুল হত্যা: সন্দেহভাজন খুনির সঙ্গে এনএসআইয়ের দুই কর্মকর্তার যোগাযোগ


পোশাকশ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামের (৪১) সন্দেহভাজন খুনির সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) দুই কর্মকর্তার যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছেন এ ঘটনার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর সূত্র ধরে তাঁরা এনএসআইয়ের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদও করেছেন।
৩ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাঞ্চল্যকর মামলা তদারকি সেলের ৭১তম সভায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এ তথ্য উপস্থাপন করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর এতে সভাপতিত্ব করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এনএসআইয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আমিনুল ইসলাম বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির (বিসিডব্লিউএস) সংগঠক ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের নেতা ছিলেন। গত ৪ এপ্রিল আশুলিয়া থেকে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন তাঁর ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাসূত্র জানায়, পুলিশের প্রতিবেদনে সন্দেহভাজন খুনির সঙ্গে এনএসআই কর্মকর্তাদের যোগাযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে এনএসআই কর্মকর্তারা আমিনুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়নি। এতে বলা হয়, আমিনুল খুন হওয়ার আগে ও পরে তাঁর সন্দেহভাজন খুনি মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে এনএসআইয়ের দুই কর্মকর্তা মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেন। ওই মুঠোফোন নম্বর দুটি ব্যবহার করেন এনএসআইয়ের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ ও মাঠ কর্মকর্তা লুৎফর রহমান।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মোস্তাফিজ পলাতক। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পরিদর্শক হুমায়ুন কবির আকন্দ এ ঘটনায় এনএসআইয়ের প্রধান কার্যালয়ের অনুমতি নিয়ে ওই দুই কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার হাফিজ আক্তার জিজ্ঞাসাবাদের কথা স্বীকার করেন। তবে এই দুই কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, সদর দপ্তরের অনুমতি ছাড়া তিনি কোনো কথা বলবেন না।
টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ জানায়, বেওয়ারিশ হিসেবে আমিনুলের লাশ উদ্ধারের পর ঘাটাইল থানার উপপরিদর্শক শাহীন মিয়া অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। পরে আমিনুলের ভাই রফিকুল ইসলাম এ ঘটনায় সন্দেহভাজন মোস্তাফিজুর রহমান ও বোরকা পরিহিত অজ্ঞাতনামা এক নারীকে আসামি করে ঘাটাইল থানায় আরেকটি এজাহার দেন।
ওই এজাহারটি পুলিশের করা হত্যা মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি।
আমিনুল খুনের ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তৈরি পোশাক ক্রয়কারী ইউরোপ, আমেরিকা ও কানাডার ১২টি সংগঠন প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ব্যাপারে চিঠিও দেয়। বিসিডব্লিউএসের নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এনএসআইয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত।
আমিনুলের সহকর্মী বাবুল আক্তার অভিযোগ করেন, এর আগে ২০১০ সালের ১৮ জুন রাজধানীর রমনা এলাকা থেকে আমিনুলকে তুলে নিয়ে যায় এনএসআই। ওই দিন তাদের হাত থেকে কৌশলে পালিয়ে আসেন তিনি। এরপর চলতি বছরের ৯ মার্চ বিসিডব্লিউএসের অফিস থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে ধরে নিয়ে যায় শিল্প পুলিশ। তখন শিল্প পুলিশের শ্রীপুরের কার্যালয় থেকে মুচলেকা দিয়ে আমিনুলকে ছাড়িয়ে আনেন বাবুল আক্তার। মুচলেকায় লেখা ছিল, ১২ মার্চ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আমিনুলকে শিল্প পুলিশের কার্যালয়ে বসে থাকতে হবে। ১২ মার্চ বিএনপির মহাসমাবেশে আমিনুল ১০ হাজার লোক দেবেন, এনএসআইয়ের এমন খবরের ভিত্তিতে শিল্প পুলিশ তাঁকে আটকে রাখে বলে বাবুল আক্তার জানান। তিনি বলেন, বরাবরই গোয়েন্দা সংস্থা থেকে আমিনুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছিল, শ্রমিকদের দাবির নামে তিনি পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করছেন।
আমিনুল হত্যা তদন্তে গত ১৬ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাইন উদ্দিন খন্দকারকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হয়। কমিটির প্রতিবেদনে মোস্তাফিজুরকে সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, ‘তাঁর মোবাইল ফোনের কল-তালিকা পরীক্ষা করলে অনেক তথ্য বের হয়ে আসতে পারে।’
প্রথম আলোর মাগুরা প্রতিনিধি কয়েক দিন আগে মোস্তাফিজুরের গ্রামের বাড়ি শ্রীপুর উপজেলার রাধানগরের কাধিরপাড়া গ্রামে গেলে মোস্তাফিজুরের সত্তরোর্ধ্ব বাবা শমসের মল্লিক বলেন, ‘বেশ কিছুদিন আগে মোস্তাফিজুর গ্রামের বাড়িতে এসেছিল। কয়েক দিন থেকে চলে গেছে।’ ঢাকায় মোস্তাফিজ কোথায় থাকেন, বিয়ে করেছেন কি না, এসব খবর জানেন না তাঁর বাবা। মোস্তাফিজুরের খোঁজে পুলিশের দলও একাধিকবার এলাকায় যায়। স্থানীয় থানাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার হাফিজ আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, আমিনুল হত্যা মামলা তদন্ত করতে গিয়ে জেলা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানতে পারেন, সন্দেহভাজন মোস্তাফিজুর রহমান ছিলেন এনএসআইয়ের সোর্স। এনএসআই কর্মকর্তারাও প্রথম আলোর কাছে তা স্বীকার করেন। পলাতক থাকা অবস্থায় মোস্তাফিজুর এনএসআইয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা জানতে পারেন, মোস্তাফিজ কুইন্স সাউথ নামে একটি কারখানা থেকে ২০০৯ সালে চাকরি হারান। এরপর কোথাও চাকরি করেননি। বেপজার মেডিকেল সেন্টারের কর্মী হিসেবে তিনি বেতন পেতেন।
জানতে চাইলে বেপজার মহাব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মোস্তাফিজুর বেপজার মেডিকেল সেন্টারে দৈনিক বেতনভূক কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। মাঝেমধ্যে তিনি বিভিন্ন কারখানার গোপন খবর তাঁকে জানাতেন।
আমিনুল নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাঁর স্ত্রী হোসনে আরা ফাহিমা দাবি করে আসছিলেন, সরকারি কোনো সংস্থার গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন তাঁর স্বামী।
জানতে চাইলে এনএসআইয়ের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, আমিনুল হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনমতো কথা বলার জন্য পুলিশকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করার জন্য এনএসআই কর্মকর্তাদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরকীয়া: সিআইএ প্রধানের পদত্যাগ


বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কথা স্বীকার করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ডেভিড পেট্রাউস।
বারাক ওবামা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার তিনদিন পরেই মি: পেট্রাউস এ পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন। অনেকটা আকস্মিকভাবেই দেশটির গোয়েন্দা প্রধানের পদত্যাগের এই খবর এলো।

গত দুই দশকে আমেরিকায় সবচেয়ে দক্ষ সামরিক কর্মকতাদের মধ্যে একজন হিসেবে মনে করা হয় মি: পেট্রাউসকে।

এক বিবৃতিতে মি: প্রেট্রাউস জানিয়েছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাছে তার পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন।
একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবে তার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ককে অগ্রহণযোগ্য বলে বর্ণনা করেন মি: প্রেট্রাউস। ২০১১ সালে মি. প্রেট্রাউস সিআইএ প্রধানের পদে যোগ দেন।

এর আগে তিনি ইরাক এবং আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক বাহিনীর প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ২০০১ সালে আমেরিকায় টুইন টাওয়ারে হামলার পর মি.পেট্রাউস ছিলেন অন্যতম সর্বোচ্চ সামরিক কর্মকর্তা।

ইরাকে তার রণকৌশল এবং আফগানিস্তানে জঙ্গিবাদ বিরোধী কৌশল প্রণয়নের জন্য তিনি বেশ প্রশংসিত হয়েছিলেন।
নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করে মি: পেট্রাউস যে বিবৃতি দিয়েছেন, সেটি ছিল অনুতাপ এবং অনুশোচনায় পরিপূর্ণ।

তিনি বলেন, সাইত্রিশ বছর বিবাহিত জীবনের পর, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে তিনি অবিবেচকের মতো কাজ করেছেন।

প্রেট্রাউস বলেন একজন স্বামী হিসেবে এবং আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবে তার এই কাজ মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে মি: প্রেট্রাউস বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টি কেন প্রকাশ করলেন কিংবা এটি ফাঁস হয়েছিল কিনা সে বিষয়টি এখনও পরিষ্কার নয়।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিআইএ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকা বলছে, মি: প্রেট্রাউস যখন পদত্যাগপত্র জমা দেন তখন প্রেসিডেন্ট ওবামা খানিকটা বিস্মিত হয়েছেন।

মি: প্রেট্রাউসের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করতে প্রেসিডেন্ট ওবামা একদিন সময় নেন এবং তা গ্রহণ করার বিষয়টি শুক্রবার টেলিফোনে মি: পেট্রাউসকে জানান।

এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেছেন মি: পেট্রাউস গত কয়েক দশক ধরে তার কাজের মাধ্যমে আমেরিকার অসাধারণ সেবা করেছেন।

মি: প্রেট্রাউস তার কাজের মাধ্যমে আমেরিকাকে আরো অনেক নিরাপদ এবং শক্তিশালী করেছেন বলে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন।

মি: পেট্রাউসের বিদায়ের পর সিআইএ-র ডেপুটি ডিরেক্টর মাইকেল মোরেল এখন ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন।

এরই মধ্যে সংস্থাটির নতুন একজন প্রধান নিয়োগ করবেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। প্রেসিডেন্টের সেই নিয়োগ দেশটির সিনেটে অনুমোদিত হতে হবে। সূত্র: বিবিসি।

টেস্ট ক্রিকেটকেই আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি: পাপন


বিসিবিতে আজ ছিল আনন্দময় একটি দিন। এই দিনে এক যুগ আগে বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেট দরবারে মাথা উঁচু করে নিজেদের উপস্থিতি বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ঘোষণা করেছিল। অভিষেক টেস্ট খেলা বাংলাদেশ আজ ১২ বছর পার করেছে। সে কারণেই আজ বিসিবি অভিষেক টেস্টের সদস্যদের নিয়ে কেক কেটে আনন্দময় কিছুসময় অতিবাহিত করেন বোর্ড কর্মকর্তারা।

টেস্ট সার্টিফিকেট প্রাপ্তির একযুগ পূর্তি উৎসবে ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন কেক কাটা অনুষ্ঠানে মিডিয়াকে বলেছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটই এখন থেকে সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে। সাবেক অধিনায়ক ও খেলোয়াড়দের পরামর্শ, সহায়তা নিয়ে বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটেও বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করা হবে।’

মিরপুর স্টেডিয়ামে টেস্ট ম্যাচে যুগ পূর্তি অনুষ্ঠানে কেক কাটার অনুষ্ঠানে নাজমুল হাসান বলেন, ‘টেস্ট মর্যাদাই ক্রিকেটে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেকের প্রচেষ্টায় আজকে এই পর্যায়ে এসেছে। যতবেশি খেলোয়াড়-সংগঠককে ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে ততই ভালো হবে। টেস্ট ক্রিকেটকেই আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। অন্য ফরম্যাটে আমরা বেশ উন্নতি করলেও টেস্টে এখন পর্যন্ত তেমন কিছু করতে পারিনি। বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে ভালো করলে অন্য দুই ফরম্যাটেও ভালো করার সম্ভব বলে এই ফরম্যাট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি ভাবছি।’

বিসিবি সভাপতি এদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে সাবেক অধিনায়ক ও খেলোয়াড়, ক্রীড়া সাংবাদিক, প্রিমিয়ার লিগ, প্রথম বিভাগের ক্লাব কর্তৃপক্ষ ও স্পন্সরদের সঙ্গে শিগগির আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। কেক কাটার পর বিসিবি সভাপতি ২০০০ সালের অভিষেক টেস্টের অধিনায়ক নাইমুর রহমানকে কেক খাইয়ে দেন। এবং নাইমুর সভাপতির মুখে একইভাবে কেক তুলে দেন।

সভাপতি আরো বলেন, ‘আমার বর্তমান সূচিতে বছরে ১৮০/১৯০ দিন স্থানীয় ক্রিকেট খেলা থাকে। এর মধ্যেই খেলোয়াড়দের কী করে আরো বেশি বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচ দেযা যায় তা ভেবে বের করার জন্য সাবেক অধিনায়কদের অনুরোধ জানাবো।’

প্রথম টেস্টের অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয় অভিষেক টেস্টের একযুগ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানে বলেন, ‘দুয়েকটা প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলেই আমরা প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেছিলাম। তারপর আমাদের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট এসেছে। বছরে ক্রিকেটাররা অন্তত ৭/৮টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু আমাকে বলতেই হবে, প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট এখনো অবহেলিত। একে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিতে হবে। টেস্টে ভালো করতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই।’

প্রথম টেস্টের কোচ সারোয়ার ইমরান বলেন, ‘আমাদের মূল সমস্যা কিন্তু মাঠ আর উইকেট। আমাদের আরো অনেক মাঠ লাগবে। এর মধ্যে মিরপুরের এই স্টেডিয়ামটি ছাড়া আর কোনো স্টেডিয়াম পাইনি। আমাদের প্রাণবন্ত উইকেটে বেশি ম্যাচ খেলতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।’

২০০০ সালের ১০ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের খেলোয়াড় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সেই সময়ের নির্বাচকরাও। বর্তমান ক্রিকেটারদের মধ্যে এসেছিলেন সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালরা।

বাংলাদেশ দেশের মাটিতে বিপজ্জনক দল: ক্রিস গেইল

বাংলাদেশ দেশের মাটিতে বিপজ্জনক দল: ক্রিস গেইল


ক্রিজ গেইল বিশ্ব ক্রিকেটে তারকাদের তারকার নাম। সেই গেইল এখন ঢাকায় সিরিজ খেলতে এসেছেন। আর আজই প্রথম তিনি সিরিজের আগে অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন । ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে গেইল আছেন সেখানে ক্রিকেট ভক্তরা অন্য কারো কথা শুনতে চাইবে না। এটাই স্বাভাবিক। তবে বিশ্ব ক্রিকেটের এই তারকার কথা শুনতে এদেশে তার ভক্তদের একটু সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

ক্রিস গেইল গত এক দশক ধরেই এদেশের ক্রিকেটকে কাছ থেকে দেখেছেন। বাংলাদেশ দলে অনেক নতুন এবং ভালো খেলোয়াড় উঠে আসায় বাংলাদেশের ক্রিকেটে উন্নতিই দেখছেন গেইল। আজ মিরপুরে অনুশীলন শেষে তিনি এমন মন্তব্যই করেছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নতির বেশ কিছু জায়গা এখনো রয়েছে, পারফরম্যান্সে উত্থান-পতন রয়েছে। এর আগে এই একই পরিস্থিতিতে আমরাও ছিলাম এবং সেখান থেকে উঠে এসেছি। তাদের অনেক নতুন ও প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে এসেছে এসেছে। দলে অনেক পরিবর্তন এসেছে, এটা ভালো ব্যাপার।

বাংলাদেশ দেশের মাটিতে বিপজ্জনক দল। গত বছর এখানে সিরিজ জিতে ফিরলেও তাদের বেশ কয়েকজন ভালো খেলোয়াড় রয়েছে। দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার মতো একজন অধিনায়ক তাদের রয়েছে।’ বাংলাদেশের বিপক্ষে গেইলের লক্ষ্য কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শুরুটা ভালো করতে চাই। আমাদের সামনে দীর্ঘ সিরিজ, আশা করছি শুরুটা ভালো হবে। প্রস্ত্ততি ম্যাচটি খেলতে চেয়েছিলাম আমরা, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটি হলো না। তবে টেস্ট সিরিজের জন্য আমরা ভালো প্রস্ত্ততি নিয়েছি।’

অনেকদিন পর টেস্ট ক্রিকেটে খেলতে নামা প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটা আমার জন্য নতুন নয়। টেস্ট থেকে ওয়ানডে খেলার সময় আমি প্রয়োজনীয় পরিবর্তনগুলো করে নেই। কয়েকটি ব্যাপার একটু ঝালিয়ে নিতে হয়। ব্যাপারটি এমন, উইকেটে গিয়ে মানিয়ে নিয়ে এগিয়ে। তবে এবার আমাদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। বিশ্বকাপ দলের সদস্য হিসেবে আমি গর্বিত, এটা দারুণ এক অনুভূতি। এটা একটা মাইলফলক। তবে বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচেও ভালো করতে চাই, এটাই আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে পাচ নম্বরে উঠে আসার লক্ষ্য ঠিক করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখতে চাই। হ্যাঁ, আমরা র্যাংকিংয়ে পাঁচ নম্বরে উঠে আসতে চাই। এতে অবশ্যই আমি অবদান রাখতে চাই। আমার কাজ হবে যে দলকে ভালো সূচনা এনে দেয়া। ড্যারেন স্যামি গত দুই বছর ধরে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, এটা সহজ নয়। আমরা সিনিয়র খেলোয়াড়রা তাকে সহয়তা করছি। গত কয়েক বছরে তিনি অনেক উন্নতি করেছেন। ব্যাটিং ও বোলিংয়েও ভালো করছেন। আশা করছি ভবিষ্যতে তিনি আরো ভালো অধিনায়ক হয়ে উঠবেন, স্যামির নেতৃত্ব সম্পর্কে বলেন গেইল।’

ক্ষমতায় গেলে রামুতে হামলার বিচার হবে: খালেদা :: রাজনীতি :: বার্তা২৪ ডটনেট

ক্ষমতায় গেলে রামুতে হামলার বিচার হবে: খালেদা :: রাজনীতি :: বার্তা২৪ ডটনেট
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রামুতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উপাসনালয় ও বসতবাড়িতে হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’’ শনিবার বিকেল সোয়া তিনটায় কক্সবাজারের রামুতে পৌঁছে বৌদ্ধদের প্রধান উপাসনালয় সীমা বিহার পরিদর্শনকালে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের স্থানীয় লোকজনকে তিনি এ আশ্বাস দেন। সীমা বিহারে পৌঁছে প্রথমে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী লোকজনের কথা শোনেন খালেদা জিয়া। এরপর তিনি তাদের ধৈরর‌্য ধারনের পরামর্শ দেন। রামুর বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের হতাশ না হওয়ার আহবান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় এলে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ বসতি ও স্থাপনা সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।” বিরোধী দলীয় নেতা আরো বলেন, সরকারের ইন্ধনে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। কারণ হামলার সময় সরকার সম্পূর্ণ নীরব ছিল। ঘটনার এতোদিন পরও সরকার দোষীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আববাস, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতা সুকমোল বড়ুয়া, সুশীল বড়ুয়া প্রমুখ খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন।

সরকার বিএনপিকে ধ্বংসের চক্রান্ত করছে, অভিযোগ খালেদার



সরকার বিএনপিকে ধ্বংস করার চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, “সরকার দেশকে একদলীয় শাসনব্যবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সারা দেশে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে। বিরোধী দলের সভা-সমাবেশে পুলিশ দিয়ে হামলা করছে, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের ঘরছাড়া করছে।”

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের রামুতে যাওয়ার পথে চকরিয়া পৌরসভার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের এসব ষড়যন্ত্রের জবাব দিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না বলে আবারো স্পষ্ট ঘোষণা দেন বিরোধী দলীয় নেতা।

এ সময় তিনি সরকারের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কথাও উল্লেখ করেন।

চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে জনসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান ও কক্সবাজারের সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বক্তব্য রাখেন।

বেলা সাড়ে তিনটায় খালেদা জিয়া রামু পৌঁছে গত ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর হামলার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ মন্দির ও বসতবাড়ি পরিদর্শন করবেন।

পরে রামু খিজারী আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বিএনপি আয়োজিত ‘সম্প্রীতি সমাবেশে’ ভাষণ দেবেন। রোববার খালেদা জিয়ার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

সরকার জামায়াতকে কাছে টানার চেষ্টা করছে: খালেদা



আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সরকার জামায়াতে ইসলামীকে কাছে টানার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত দলীয় সম্প্রীতি সমাবেশে তিনি এ এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘‘৮৬ সালে জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে এরশাদ নির্বাচন করেছেন। আবার ৯৬ সালে তত্তাবধায়ক সরকারের দাবিতে জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করেছিল আওয়ামী লীগ।”

তিনি আরো বলেন, “সে সময় নিজামীকে পাশে বসিয়ে হাসিনা আমাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন কর্মসূচি দিয়েছেন। তখন তারা যুদ্ধাপরাধী ছিল না? সেই সময়ের মতো এবারও নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতকে কাছে টানার চেষ্টা করছে সরকার।”

জামায়াত এখন সন্ত্রস্ত উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, “সরকার চেষ্টা করছে জামায়াতের সঙ্গে আপস করে তাদের নিয়ে কীভাবে নির্বাচন করা যায়। সে কারণেই তাদের ওপর নির্যাতন বাড়িয়ে দিয়েছে।’’

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘‘আমরাও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। তবে সে বিচার হতে হবে নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের।’’

জনগণের টাকা লুটপাট করে তারা এখন মোটাতাজা হচ্ছে মন্তব্য করে খালেদা জিয়া সরকারের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের নৌকার তলা ফুটো হয়ে গেছে। পালাতে পারবেন না।’’

এ সময় রামুতে ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সহায়তা দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, “রামুর ঘটনায় জড়িতদের বিচার না করলে আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাদের বিচার করা হবে। দেশে তৈরি করা সম্ভব না হলে প্রয়োজনে বিদেশ থেকে মূর্তি এনে ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ বিহারে স্থাপন করা হবে।”

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করারও আহবান জানান তিনি।

রামু উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহমদুল হকের সভাপতিত্বে সম্প্রীতি সমাবেশে আরো বক্তৃতা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আববাস, জামায়াতের শামসুল ইসলাম এমপি, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতা ড. সুকোমল বড়ুয়া, শুদ্ধানন্দ মহাথেরো প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ফেসবুকে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে গত ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও চট্টগ্রামের পটিয়ায় বৌদ্ধ বসতি ও মন্দিরে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় স্থানীয় উগ্রপন্থীরা।

এ ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করলেও এর ৪১ দিন পরে রামুর বৌদ্ধপল্লী পরিদর্শন করতে আসেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

এ সময় সরকারের বিভিন্ন অনিয়ম, ডেসটিনি, হল-মার্কসহ নানা দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন তিনি।

এর আগে কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক জনসভায় বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, সরকার বিএনপিকে ধ্বংস করার চক্রান্ত করছে। চট্টগ্রাম শহর থেকে কক্সবাজারের রামুতে যাওয়ার পথে শনিবার বেলা দেড়টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল মাঠে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় তিনি বক্তব্য দেন।

শুক্রবার বিকেলে রামুর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন বিএনপি চেয়ারপারসন। যাত্রাপথে ফেনী জেলা সার্কিট হাউজে বিরতি দিয়ে রাতে চট্টগ্রামে সার্কিট হাউজে অবস্থান করেন তিনি।

খালেদা জিয়ার ফেনী ত্যাগের পর যুবদলের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোণ ঘটে। এতে পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়।

গোপালগঞ্জের পরিচয়ে রাজধানীতে জমি দখলের চেষ্টা, আহত ৭



রাজধানীর মিরপুরের রুপনগর এলাকায় গেপালগঞ্জের লোক পরিচয়ে জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে দূর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় সাত জন আহতের ঘটনা ঘটেছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

শনিবার সকাল ১০ টার দিকে রুপনগর আবাসিক এলাকার ২৩ নম্বর সড়কের ২৭ নম্বর প্লটে এ ঘটনা ঘটে।

প্রতক্ষদর্শী ও রুপনগর থানা সূত্র জানায়, রুপনগর আবাসিক এলাকার ২৭ নম্বর প্লটের ভবন নির্মানের জন্য কাজ শুরু করেন মসিউর রহমান। তাদের কাছে গোপালগঞ্জের লোক পরিচয়ে বুলবুল নামের একজন সাত লাখ টাকা চাদা দাবি করেন। তাদের দাবি অনুযাই টাকা না দেয়ায় সকাল ১০ টার দিকে বুলবুল, রাজু, জুয়েল, রানা, জববার, আরমান, সাঈদসহ স্থানীয় চিহ্নিত ৪৫-৫০ জন সন্ত্রাসী জমি দখল করার চেষ্টা চালায়।

এ সময় ওই জমির রক্ষনাবেক্ষনের দ্বায়িত্বে থাকা আবু সাইদ, ফারুক, মোহাম্মদ আলী ও খোকনসহ সাত জন আহত হয়। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

খবর পেয়ে রুপনগর থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে আসে। তবে অজ্ঞাত কারনে পুলিশ নিষ্কৃয় ভুমিকা পালন করে। সন্ত্রাসীরা নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত প্রায় আড়াই টন লোহার রডসহ অন্য মালামাল লুট করে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রপলিটন পুলিশের মিরপুর অঞ্চলের উপ-পুলিশ কমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদ ঘটনার সত্যতার কথা স্বীকার করে বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে রুপনগর থানা পুলিশ গিয়েছে। ভিকটিমদের মামলা করার জন্য বলা হয়েছে।”

শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় স্মরণ গণতন্ত্রের শহীদকে


দেশের গণতন্ত্র অব্যাহত ও গণতন্ত্র বিরোধীদের রুখে দেয়ার অঙ্গিকারে শ্রদ্ধা-ভালোবাসার মধ্যে দিয়ে পালিত হচ্ছে শহীদ নূর হোসেন দিবস। শনিবার সকালে রাজধানীর গুলিস্তানের জিরো পয়েন্টে শহীদ নূর হোসেন চত্বরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ১৯৮৭ সালের এই দিনে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিতে রাজধানীর ‘জিরো পয়েন্টে’ পুলিশের গুলিতে নিহত হন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের কর্মী নূর হোসেন। সেদিন তার বুকে লেখা ছিল ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ পিঠে লেখা ছিল ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীরের নেতৃত্বে দলের পক্ষ থেকে নূর হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, আইন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মতিন খসরু, উপ-দফতর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কেন্দ্রীয় নেতা ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি একেএম এনামুল হক শামীম, সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর নেতৃত্বে বিএনপির শীর্ষ নেতারা ছাড়াও সহযোগী সংগঠন যুবদল ও ছাত্রদলের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়ার নেতৃত্বে ফুল দেয় জাসদ।

ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিকের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

শহীদ নূর হোসেনের সংগঠন যুবলীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা লীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্র মৈত্রী, যুব মৈত্রী, জাতীয় শ্রমিক লীগ ছাড়াও আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিভিন্ন সংগঠন, শহীদ নূর হোসেনের পরিবার, ও সামাজিক সংগঠন শহীদ নূর হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগ সব সময় গণতন্ত্রের জন্য কাজ করে গেছে। বর্তমান সরকারের আমলে গণতন্ত্রের সুবাতাস বৈছে। গণতন্ত্র আজ প্রতিষ্ঠিত।’’ স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সবসময় একই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘নূর হোসেন একটি জীবন্ত পোস্টার। তিনি যে কারণে জীবন দিয়ে গেছেন, তা আজও আমরা বাস্তবায়ন করতে পারিনি।’’

Saturday, November 10, 2012

‘ঘরে বসে আয়’-এর নামে প্রতারণার ফাঁদ!



ঘরে বসে ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে বিপুল পরিমাণ টাকা উপার্জনের স্বপ্ন দেখিয়েছিল ‘অ্যাফারি ট্র্যাক লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এতে সাড়া দেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা আমিরুল কবির। তাঁর দাবি, নিবন্ধন ফি হিসেবে তিনি সেখানে সাত লাখ টাকা দেন। কিছুদিনের মধ্যেই সব টাকা নিয়ে কার্যালয় বন্ধ করে দিয়ে পালিয়ে যান প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের চাকরিজীবী আমিরুল প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটু সচ্ছলতার আশায় জীবনের সঞ্চিত সব টাকা বিনিয়োগ করেছিলাম। এখন আমার সব শেষ হয়ে গেছে।’
অ্যাফারি ট্র্যাকের মতো ডোলেন্সার, স্কাইল্যান্সার ও বিডিএস ক্লিক নামের প্রতিষ্ঠানগুলোতে সদস্য হয়ে এখন অনেকই হতাশ।
২০ জনের মতো সদস্য প্রথম আলোর কাছে অভিযোগ করেন, এসব প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকটি যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয় থেকে নিবন্ধন নিয়েছে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগ থেকে নিয়েছে ‘ট্রেড লাইসেন্স’। ‘সরকারি অনুমোদন’ হিসেবে দেখিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করে প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।
জানতে চাইলে যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয়ের নিবন্ধক বিজন কুমার বৈশ্য প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠান আবেদন করলে তা নিবন্ধন করতে আমরা আইনগতভাবে বাধ্য। যদি কেউ প্রতারণার আশ্রয় নেয়, তাহলে তা বাতিল করার এখতিয়ার আমাদের নেই।’
ঢাকা সিটি করপোরেশনের (দক্ষিণ) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, লাখ লাখ ট্রেড লাইসেন্সধারীর মধ্যে কে শর্ত অনুযায়ী ব্যবসা করছে, তা তদারক করা কঠিন।
অ্যাফারি ট্র্যাকের কয়েকজন সদস্য জানান, গত জানুয়ারিতে রাজধানীর পান্থপথে একটি ভবনের কার্যালয়ে ‘অ্যাফারি ট্র্যাক লিমিটেডের’ কার্যক্রম শুরু হয়। বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি বহুধাপ বিপণন পদ্ধতিতে (এমএলএম) আউটসোর্সিংয়ের কাজ করবে। প্রতিষ্ঠানে একটি নিবন্ধনের মাধ্যমে ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে মাসে আয় করা যাবে প্রায় দুই হাজার টাকা। একজন একাধিক নিবন্ধন করতে পারবেন। প্রতি নিবন্ধনের ফি আট হাজার টাকা। প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৫ হাজার নিবন্ধন হয়। প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে গিয়ে টাকা দিয়ে নিবন্ধন করেন অনেকেই। কথা ছিল, প্রতি মাসের অর্জিত টাকা কার্যালয় থেকে দেওয়া হবে। কিন্তু গত জুনে কার্যালয় বন্ধ করে পালিয়ে যান কর্মকর্তারা।
সম্প্রতি রাজধানীর পান্থপথে অ্যাফারি ট্র্যাকের কার্যালয়ে গিয়েও তা বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় লোকজন জানান, তিন-চার মাস আগে কার্যালয়টি বন্ধ করে কর্মকর্তারা চলে গেছেন। এ ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে অ্যাফারি ট্র্যাকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইশরাক কবীরের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ভাঙচুর, বিক্ষোভ, মামলা: ইতিমধ্যে ডোলেন্সার, স্কাইল্যান্সার ও বিডিএস ক্লিক নামের তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন সদস্যরা। সদস্যদের অভিযোগ ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, এ প্রতিষ্ঠান তিনটির কর্মকর্তারা প্রায় ৯০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রতারণার অভিযোগে সম্প্রতি কলাবাগানে স্কাইল্যান্সারের কার্যালয়ে ভাঙচুরও করেছেন সদস্যরা। পুলিশ প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। পরে জামিনে তাঁরা বের হন।
ডোলেন্সার ও বিডিএস ক্লিকের কার্যালয় ছিল ধানমন্ডিতে। ডোলেন্সারের স্বত্বাধিকারী রোকন ইউ আহমেদ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছেন বলে সদস্যদের অভিযোগ। এ অভিযোগে চলতি বছরের ২৩ জুলাই থেকে বেশ কয়েক দিন মিরপুরের মধ্য পীরেরবাগে রোকনের শ্বশুরবাড়িও ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন সদস্যরা। সদস্যরা মিরপুর ও ধানমন্ডি থানায় মামলাও করেছেন। একই অভিযোগে বিডিএস ক্লিকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়। বিডিএসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখার আহমেদসহ অন্য কর্মকর্তারা পলাতক।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ডোলেন্সার ও বিডিএস ক্লিকের কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
কলাবাগান থানার ওসি এনামুল হক বলেন, শিগগিরই ডোলেন্সারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।
একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবদুল মোমিন বলেন, ‘পরিবার থেকে প্রায় এক লাখ টাকা নিয়ে স্কাইল্যান্সারের সদস্য হয়েছিলাম। এখন পরিবার থেকেও বেশ চাপে আছি।’
সৈয়দপুরের বাসিন্দা মোসাম্মৎ নাজনীন জানান, তাঁর আশ্বাসে প্রায় ৮০০ জন ডোলেন্সারের সদস্য হয়েছিলেন। বিনিয়োগ করা টাকা হারিয়ে একদিকে তিনি যেমন সর্বস্বান্ত, অন্যদিকে সদস্যদের হুমকির মুখে দিশেহারা।
প্রতারণার কৌশল: প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা সরকারি অনুমোদন দেখিয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেন। বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, প্রচারপত্র বা পোস্টারের মাধ্যমে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের প্রচার চালান। আবার অনেক সময় কর্মকর্তারা নিজেরাই বিভিন্ন ব্যক্তিদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে সদস্য হতে উৎসাহিত করেন। তবে সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্সে ব্যবসার ধরন হিসেবে যা উল্লেখ করা হয়, তা বাস্তবে দেখা যায় না।
অ্যাফারি ট্র্যাকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্সে ব্যবসার ধরনে সফটওয়্যার আমদানি, রপ্তানি ও সরবরাহকারীর কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু কর্মকর্তারা তা না করে বরং আউটসোর্সিংয়ের নামে এমএলএম ব্যবসা শুরু করেন। অন্য অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে একই চিত্র দেখা যায়।
সতর্কতা: অনলাইন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে অনলাইন আউটসোর্সিং ও এমএলএম নিয়ে কোনো নীতিমালা না থাকায় অনেকেই সহজে প্রতারণার আশ্রয় নিতে পারছেন।
ফ্রিল্যান্সার রাসেল আহমেদ বলেন, আউটসোর্সিং হচ্ছে বাইরের কোনো দেশের কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজ করে দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা। এ কাজ হতে পারে ওয়েবসাইট উন্নয়ন, গ্রাফিকস ডিজাইন প্রভৃতি। এ ক্ষেত্রে কাউকে অগ্রিম টাকা দিতে হয় না।
ফ্রিল্যান্সার জাকারিয়া চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের দেশে আউটসোর্সিংয়ের ধারণাটি এতটা স্পষ্ট নয়। আবার অনেকেরই ইন্টারনেট সম্পর্কে তেমন একটা ধারণা নেই। ফলে অনেকেই না বুঝেই প্রতারিত হচ্ছেন।’

৭৫০ কোটি রুপির নবাব?



চোখ কপালে উঠে যাওয়ারই কথা। ছোটে নবাব সাইফ আলী খান উত্তরাধিকার সূত্রেই নাকি পাচ্ছেন ৭৫০ কোটি রুপির সম্পত্তি। আর তাঁর নিজের আয়ের কথা তো বাদই গেল। ‘সাইফের বাবা পতৌদির নবাব মনসুর আলী খান রেখে গেছেন প্রচুর সম্পত্তি।’ জানিয়েছে এক সূত্র।
বোন সোহা আর সবার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েও সাইফের থাকবে অনেক কিছুই। এর মধ্যে আছে বিশাল একটি বাড়ি। সাইফকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেন, ‘আমার মনে হয় না এই সম্পত্তির এত দাম হবে। সঠিক অঙ্কটা আমি জানি না। তবে শুনে তো বেশিই মনে হচ্ছে। তা পূর্বপুরুষের সম্পত্তি। দামাদামির ঊর্ধ্বে এসব।’
আসল দাম যা-ই হোক। একদম পাক্কা নবাবই বলা যায় তা হলে সাইফকে। জি-নিউজ ব্যুরো।

উচ্চপ্রযুক্তির শৌচাগার!




মানুষের আদিমতম সমস্যাগুলোর মধ্যে শৌচাগার (টয়লেট) একটি। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, পৃথিবীর ২৫০ কোটি মানুষের কাছে এখনো পয়োনিষ্কাশনের সুবিধা পৌঁছায়নি। এ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসেছে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। তাদের লক্ষ্য, মানুষের ঘরে ঘরে উচ্চপ্রযুক্তির এমন শৌচাগার গড়ে তোলা, যা হবে পরিবেশবান্ধব। এতে পরিবেশ দূষিত তো হবেই না, বরং বর্জ্য থেকে পাওয়া গ্যাস অন্য কাজেও ব্যবহার করা যাবে।
সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, পয়োনিষ্কাশনের সুবিধা না থাকায় যে ধরনের রোগব্যাধি ছড়ায়, তাতে প্রতিবছর ১৫ লাখ শিশুর মৃত্যু ঘটে। এর সঠিক সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন। পয়োনিষ্কাশনের সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি কেবল মানবিক কাজ নয়, বরং এতে আছে ব্যবসার অনেক সুযোগ।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে উন্নত পয়োনিষ্কাশনের সুবিধা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে ৬৬০ কোটি ডলার বাঁচানো যাবে। এতে প্রতি ডলার ব্যয়ে নয়গুণ পর্যন্ত আর্থিক উন্নতি ঘটে। স্বাস্থ্যের উন্নতি হলে উত্পাদনের ক্ষেত্রে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
শৌচাগারে পানির ব্যবহারের ইতিহাস অনেক পুরোনো। খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীর ইন্দুস ভ্যালি সভ্যতায় এর প্রমাণ পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। বর্তমান সভ্যতায় শৌচাগারে ফ্ল্যাশ পদ্ধতিতে প্রচুর পানি খরচ হয়, যা মানুষের প্রতিদিনের পানির চাহিদার ১০ গুণ পর্যন্ত হতে পারে। দরিদ্র ও পানির সুবিধাবঞ্চিত দেশগুলোর জন্য এটি মোটেও সুখকর নয়। গুরুত্বপূর্ণ অথচ আকর্ষণহীন এই বিষয়টির সমাধান করতে এগিয়ে এসেছেন বিশ্বের অন্যতম বিজ্ঞানীরা। তাঁরা প্রযুক্তিজ্ঞান ও উদ্ভাবন দিয়ে এ সমস্যার সমাধান করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
২০১১ সালে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে টয়লেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, টেকসই ও কার্যকর প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য ‘রিইনভেন্ট দ্য টয়লেট চ্যালেঞ্জ’ নামে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত উদ্ভাবকদের ৩২ লাখ ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। প্রতিযোগিতার শর্ত ছিল বেশ কঠিন। প্রতিযোগিতায় এমন শৌচাগারের নকশা করতে বলা হয়, যার পরিবেশ হতে হবে জীবাণুমুক্ত, টয়লেট হতে হবে টেকসই, টয়লেট তৈরিতে খরচ হতে হবে কম। পানি, বিদ্যুত্ বা পয়োনিষ্কাশনের সুবিধার আওতার বাইরে থেকে কাজ চালানোর মতো হতে হবে এই শৌচাগারের নকশা।
চলতি বছরের আগস্ট মাসে বিল গেটসের কাছ থেকে শৌচাগারের নকশা করে প্রথম পুরস্কার হিসেবে এক লাখ মার্কিন ডলার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষক মাইকেল হফম্যান। তাঁর গবেষক দলটি সৌরশক্তিনির্ভর টয়লেটের নকশা করেছে। এ টয়লেটে ব্যবহূত হবে ইলেকট্রোকেমিক্যাল রিঅ্যাক্টর, যা বর্জ্যকে সার ও হাইড্রোজেন গ্যাসে রূপান্তরিত করতে সক্ষম। পরবর্তী সময় বৈদ্যুতিক জ্বালানি হিসেবে পুনরায় ব্যবহার করা যাবে হাইড্রোজেন গ্যাসকে। টয়লেটে ব্যবহূত পানি পরিশোধন প্রক্রিয়ায় আবারও ফ্ল্যাশ হিসেবে বা জমিতে সেচ দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা যাবে। সৌরশক্তির ব্যবহারে টয়লেটে বাতি জ্বলবে এবং সৌরশক্তি ব্যাটারিতে ধরে রাখা যাবে, যা দিনরাত কাজ করবে।
বিল গেটস ফাউন্ডেশনের কাছ থেকে ৬০ হাজার মার্কিন ডলারের দ্বিতীয় পুরস্কার জিতেছেন যুক্তরাজ্যের লাফবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। তাঁরা মানববর্জ্য ব্যবহার করে জ্বালানি কয়লা, পুষ্টিকর পানি তৈরির পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। তাঁদের উদ্ভাবিত প্রক্রিয়াটি উচ্চচাপে রান্না করার মতো একটি পদ্ধতি, যার নাম ‘কন্টিনিউয়াস হাইড্রোথার্মাল কার্বনাইজেশন’।
শৌচাগারে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করার ক্ষেত্রে যে খরচ, তা কি উন্নয়নশীল দেশগুলোর সীমিত আয়ের মানুষের পক্ষে বহন করা সম্ভব? গবেষকেরা জানিয়েছেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা পর্যায়ে এখন খরচ অনেক বেশি হলেও পরে খুব অল্প খরচেই এ ধরনের শৌচাগার বসানো যাবে।
লাফবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সোহায়িল খান জানিয়েছেন, পয়োনিষ্কাশনের সুবিধা বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ব্যবসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিল গেটস এ প্রসঙ্গে বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ ও শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে উন্নত প্রযুক্তির পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা উদ্ভাবন করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

ক্রেডিট কার্ডে কি-বোর্ড, ডিসপ্লে!


এলসিডি ডিসপ্লে ও কি-বোর্ডযুক্ত ক্রেডিট কার্ড তৈরি করছে মাস্টারকার্ড। আগামী বছরের জানুয়ারি মাস থেকে সিঙ্গাপুরে এ কার্ডের ব্যবহার শুরু হবে। পরে অন্যান্য দেশেও আসবে অনলাইনে যোগাযোগ প্রযুক্তি সুবিধার এ কার্ড। খবর বিবিসির।
মাস্টারকার্ডের এ ক্রেডিট কার্ডে রয়েছে টাচ প্রযুক্তির বোতাম, যার মাধ্যমে প্রতিবার আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড তৈরি করা সম্ভব। এ কার্ড ব্যবহারে অনলাইন ব্যাংকিং সহজ হবে। ভবিষ্যতে কার্ডের ডিসপ্লে ব্যবহার করে অ্যাকাউন্টের তথ্য জানা সম্ভব হবে।
অনলাইন ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে যাবতীয় সমস্যা দূর করতেই এ ক্রেডিট কার্ড তৈরির পরিকল্পনা করেছে মাস্টারকার্ড। এ পদ্ধতিটি প্রচলিত ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ডের চেয়ে বেশি নিরাপদ হবে। মাস্টারকার্ড ছাড়াও একই ধরনের কার্ড তৈরিতে কাজ করছে ভিসা।
এদিকে, স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) প্রযুক্তির স্মার্টফোন বাজারে এনে তা ক্রেডিট কার্ডের বিকল্প তৈরি করতে আগ্রহী।

সিলেটে গৃহবন্দী চিকিৎসককে উদ্ধার - প্রথম আলো

সিলেটে গৃহবন্দী চিকিৎসককে উদ্ধার - প্রথম আলো

 

আজ শুক্রবার পুলিশ এক ‘গৃহবন্দী’ নারী চিকিৎসককে তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে। ওই চিকিৎসক অভিযোগ করেছেন, তাঁর স্বামী তাঁকে ঘরে তালাবদ্ধ করে বাইরে পাহারাদার রেখে এক মাস আগে হজে গেছেন। সিলেট নগরের মীরের ময়দান এলাকার কেওয়াপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের তিলপাড়ার বাসিন্দা চিকিৎসক নন্দিতা সিনহা আহমেদ ১৯৮৬ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করেন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হূদরোগ বিশেষজ্ঞ জুলফিকার আহমেদকে। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। নন্দিতা সিলেটের বেসরকারি হাসপাতাল জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক। নগরের মীরের ময়দান এলাকার কেওয়াপাড়ার নাবিদ ভিলার (পড়শী-২০৯) দ্বিতীয় তলায় তাঁরা থাকতেন।
নন্দিতার ভাই বিজিত সিনহা সিলেট কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন, তাঁর বোনকে নিজ বাড়িতে বন্দী করে রেখে ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে রাখা হয়েছে। যেকোনো সময় তিনি মারা যেতে পারেন। এ অভিযোগ পেয়ে বেলা তিনটায় সিলেট কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ মো. মুবাশ্বিরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ কেওয়াপাড়ায় ওই বাসায় গেলে তালাবদ্ধ ফটকে নিয়োজিত পাহারাদার বাধা দেন। এ সময় দোতলা থেকে নন্দিতা নিজের পরিচয় দিয়ে তাঁর বন্দী থাকার বিষয়টি পুলিশকে জানান। তাঁকে অনবরত ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে রাখা হয়েছে বলে চিৎকার করে বাবার বাড়ি যাওয়ার আকুতি জানান। এ সময় পুলিশ চিকিৎসক জুলফিকারের আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশের ভাষ্য, আত্মীয়রা এ ব্যাপারে কোনো সহায়তা করতে রাজি হননি। পরে পুলিশ স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল খালিককে খবর দিয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। কাউন্সিলরের মধ্যস্থতায় বিকেল সাড়ে চারটায় নন্দিতাকে ঘরের তালা খুলে মুক্ত করা হয়।
চিকিৎসক নন্দিতা অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী সম্প্রতি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এ বিয়ের প্রতিবাদ জানানোয় তাঁকে প্রায় ছয় মাস ধরে মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে।
নন্দিতা প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, বাসার মূল ফটক ও সিঁড়ির ফটকে দুটো তালা দিয়ে শোবার ঘরের দরজায়ও আরেকটি তালা মেরে রাখা ছিল। খাবার দেওয়ার সময় ফটকে নিয়োজিত দুজন পাহারাদার সঙ্গে নিয়ে তাঁর স্বামীর আত্মীয়রা ঘরে ঢুকতেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিনি জানালা দিয়ে প্রতিবেশী একজনকে তাঁর ভাইয়ের নাম-ঠিকানা দিলে তিন ভাই পুলিশকে নিয়ে বাসায় আসেন। নন্দিতা বলেন, ‘আমি একজন চিকিৎসক। আমার স্বামী আমাকে পরিকল্পিতভাবে মানসিক রোগী বানানোর চেষ্টা করছেন। অযথা ঘুমের ওষুধ খাইয়ে আমাকে এক ধরনের ঘোরের মধ্যে রাখা হয়েছিল।’
চিকিৎসক জুলফিকারের ভগ্নিপতি পরিচয়দানকারী আ ন ম জাকির সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা জানি না কেন বন্দী করে রাখা হয়েছে। তবে কোনো কারণ নিশ্চয় আছে। না হলে চিকিৎসক দম্পতির ক্ষেত্রে এ ঘটনা ঘটত না।’ জাকির অবশ্য স্বীকার করেন, জুলফিকার হজে গেছেন এবং দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল খালিক বলেন, ‘দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে ওই পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্বের বিষয়টি জানি। নন্দিতা আমার কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেছেন, তাঁর স্বামী তাঁকে প্রায়ই ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নির্যাতন করেন। হজে যাওয়ার আগে এভাবে স্ত্রীকে বাসায় বন্দী করে যাওয়াটা আসলেই একটি অমানবিক ঘটনা।’
কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ মো. মুবাশ্বির প্রথম আলোকে জানান, বাসায় থাকা নন্দিতার ছেলেমেয়ের ব্যাপারে তাঁর স্বামী এলে সিদ্ধান্ত হবে। এ ব্যাপারে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। তাঁরা (নন্দিতার বাবার পরিবার) চাইলে যেকোনো আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।

এখন থেকে পুলিশ আর নীরব থাকবে না

এখন থেকে পুলিশ আর নীরব থাকবে না

 



পুলিশ কয়েক দিন ধরে চরম ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেছেন, পুলিশ আর নীরব থাকবে না।
সারা দেশে যুদ্ধাপরাধী জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আজ শুক্রবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে যুবলীগ এ সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশের প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা দেশের সাধারণ মানুষের ওপর সন্ত্রাস চালাচ্ছে, পুলিশের ওপর হামলা করছে, তাদের দেশের আইন অনুযায়ী দমন করতে হবে।
সাম্প্রদায়িক কোনো শক্তি যেন দেশে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে সে জন্য দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, জামায়াত-শিবির বা সাম্প্রদায়িক শক্তির কাউকে দেখলে তাদের ধরে পুলিশে সোপর্দ করবেন।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্যই বিএনপি পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও ধ্বংসাত্মক রাজনীতির মদদ দিচ্ছে। সময় এসেছে তাদের রুখে দাঁড়ানোর।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। তিনি বলেন, একের পর এক সাম্প্রদায়িক হামলা হচ্ছে, সাংবাদিক মারা যাচ্ছেন কিন্তু পুলিশের ভূমিকা জনগণের কাছে স্পষ্ট নয়। পুলিশের মধ্যে লুকিয়ে থাকা বাবর বাহিনী কি আবার সক্রিয় হতে শুরু করেছে? সবাইকে এসব ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।
যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তির কোনো স্থান নেই বাংলাদেশে। আর তাই দেশে কোনো অরাজক পরিস্থিতি হলে কঠোর হাতে দমন করতে হবে।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের সমাবেশ
বিকেলে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সমাবেশেও একই কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, জামায়াত-শিবির নামধারী দুর্বৃত্তদের যেখানে দেখা যাবে, সেখানেই তাদের পাকড়াও করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করুন। প্রতিটি জেলা, থানা, পাড়া ও মহল্লায় ওদের খুঁজে বের করুন।
রাজধানীর রাসেল স্কয়ারে ওই বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উত্তরের সভাপতি মোবাশ্বের চৌধুরী। বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবু কাওছার, সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ প্রমুখ। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল রাসেল স্কয়ার থেকে শুরু করে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। স্বেচ্ছাসেবক লীগ ছাড়াও জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে মহিলা আওয়ামী লীগ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।

টেস্টে বাংলাদেশের একযুগ পূর্ণ হবে কাল


২০০০ সালের ১০ নভেম্বর বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে ঐতিহাসিক একটি দিন। সে দিন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল নেমে ছিল অভিষেক টেস্ট খেলতে। প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। কালও ১০ নভেম্বর, তবে সালটা ২০১২।
টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ এক যুগ পূর্ণ হবে কাল। এই সময়ে বাংলাদেশ খেলেছে ৭৩টি টেস্ট ম্যাচ। তাতে জয় ৩টি, হার ৬৩টি আর ড্র হয়েছে ৭টি। ২০১১ সালে খেলা শেষ টেস্টে ছিল প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। এক যুগ পার করে ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশ খেলতে ৭৪ম টেস্ট
ম্যাচ। তাতে প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

সেদিনের সেই বাংলাদেশ আর এই বাংলাদেশ পার্থক্য অনেক। এখনকার দলে আছেন তামিম, সাকিব, মুশফিকরা। আর সেদিন বাংলাদেশ দলের তারকা ছিলেন আকরাম খান, হাবিবুল বাশার। আর নাইমুর রহমান ছিলেন অধিনায়ক। ২০০০ সালের সে দলের
সদস্য আকরাম খান আর হাবিবুল বাশার এখন জাতীয় ক্রিকেট দলের নির্বাচক পদে আসীন। তবে নাইমুর রহমান অতিতে নির্বাচক পদে থাকলেও ক্রিকেট থেকে এখন নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তাই এক যুগ পূর্তি উপলক্ষে তাদের স্মরণ করা হবে এটাই তো
স্বাভাবিক নিয়ম।

সেদিন ছিল ক্রিকেটার আর আজ নির্বাচক, তাই তাদের স্মৃতিচারণই আজকের ক্রিকেটের সোনালী ভবিষ্যত। ২০০০ সালে অভিষেক টেস্টের স্মৃতিচারণ করতে বলা হলে প্রধান নির্বাচক আকরাম খান বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, ‘তখন ছিলাম ক্রিকেটার আর এখন জাতীয় দলের নির্বাচক। মাঝে অনেকটা সময় পার হয়ে গেছে। আমার কাছে তো মনে হয় এই তো সেদিনের কথা। যখন ভাবি এদেশের টেস্ট ক্রিকেটের অভিষেক দিনে আমি ছিলাম তখন অন্যরকম একটি অনুভূতি হয়। সেটা বলে বোঝানো যাবে না। ১০ নভেম্বর ২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নামছি সে মুহুর্তের কথা কোনো দিন ভুলে যাবার নয়। সেদিনের অভিষেক টেস্টের ভিত্তি থেকেই তো আজকের বাংলাদেশ ক্রিকেট। দেশের হয়ে প্রথম বার বিশ্বকাপে অংশ নেয়া আর প্রথম টেস্টের সদস্য হওয়া
এটা যে জীবনে কত বড় অর্জন তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। ভাবি সেদিন গুলো ছিল আমার ক্যারিয়ারের সোনালী অধ্যায়।’

২০০০ সালে অভিষেক টেস্টের আরেক সদস্য আর বর্তমান নির্বাচক হাবিবুল বাশার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘প্রথম টেস্ট তো অবশ্যই অন্যরকম। পৃথিবীতে মানুষের কাছে জীবনের প্রথম সব কিছুতেই অন্যরকম একটি বিষয় থাকে। তাই অভিষেক টেস্টে আর আমার প্রথম টেস্টর এক হওয়াতে এর স্বাদ অন্যরকম হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর আমি তো অভিষেক টেস্টে তো অনেক যুদ্ধ করে দলে এসেছি। তাই অভিষেক টেস্ট-এর অভিজ্ঞতা আমার কাছে অনেক বড় বিষয়। আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারে স্মরণীয় দিন।’