Pages

Tuesday, November 13, 2012

বাংলা সাহিত্যের মহানায়কের ৬৪তম জন্মদিন আজ

বাংলা সাহিত্যের মহানায়কের ৬৪তম জন্মদিন আজ


দেশবরেণ্য কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৬৩তম জন্মদিন আজ। বাংলা সাহিত্যের এ মহানায়ক ১৯৪৮ সালের এই দিনে ময়মনসিংহের কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শুধু কথাসাহিত্যিকই নন-একাধারে নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, চলচ্চিত্র পরিচালক থেকে শুরু করে আরও নানা পরিচয় আছে তার। তাই বাংলাদেশের মিডিয়া অঙ্গনে তিনি অন্যতম শক্তিশালী একটি জায়গা দখল করে আছেন। বাবা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে তাকে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে থাকতে হয়েছে। এ কারণে তাকে স্কুল ও কলেজও পাল্টাতে হয়েছে ঘনঘন। তিনি গ্রাজুয়েশন শেষ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তারপর পলিমার ক্যামিস্ট্র্রির উপর পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যামিস্ট্রি বিভাগে শিক্ষকতার কাজে। দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত থাকার পর তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে পুরোমাত্রায় সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ করেন। তার সাহিত্যিক জীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় উপন্যাস রয়েছে। বাংলাদেশের পাঠককে ধরে রাখার ক্ষেত্রে তার যে অবদান তা সাহিত্যপ্রেমী মাত্রই বুঝতে পারেন। তার রচিত প্রতিটি বই পাঠক গ্রহণ করেছে সাদরে। তার রচিত উপন্যাস ও গল্প নিয়ে টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। বিশেষ করে হিমু, মিসির আলী আর বাকের ভাইয়ের মতো চরিত্র তৈরিতে তিনি যে লেখনির দক্ষতা দেখিয়েছেন তাতে তাকে ও তার সৃষ্টিকে আজীবন মনে রাখবে পাঠক। হিমু সিরিজের বই, মিসির আলী সিরিজের বইসহ শ্রাবণ মেঘের দিন, অপেক্ষা, রূপার পালঙ্ক, লীলাবতী, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা জ্যোস্না ও জননীর গল্পসহ অসংখ্য সুপাঠ্য বই তিনি উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য। তার বেশ বড় মাপের অবদান রয়েছে বাংলাদেশের নাট্যজগতে। তার রচিত অনেক উপন্যাস ও গল্প নিয়ে রচিত হয়েছে নাটক। এর মধ্যে অনেকগুলোই তার চিত্রনাট্যে তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্যযোগ্য এ ধারাবাহিক ও একক নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘অয়োময়’, ‘বহুব্রীহি’ ‘কোথাও কেউ নেই’ প্রভৃতি যেগুলোর কথা পাঠক চিরদিন মনে রাখবে। তার রচিত উপন্যাস অবলম্বনে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। এগুলো হচ্ছে ‘আগুনের পরশমনি’, ‘আমার আছে জল’, ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘চন্দ্রকথা’, ‘দুই দুয়ারি’, ‘দূরত্ব’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’, ‘নন্দিত নরকে’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘প্রিয়তমেষু’। হুমায়ূন আহমেদ তার অনবদ্য রচনা ও চিত্রনাট্য ও পরিচালনার জন্য অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন বিভিন্ন মাধ্যম থেকে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমী পুরস্কার, একুশে পদক, শিশু একাডেমী পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাকসাস পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার, জয়নুল আবেদীন স্বর্ণপদক প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার অন্ত্রে ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর চিকিৎসাধীন ২০১২ সালের ১৯শে জুলাই আমেরিকার নিউ ইয়র্কে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

কান চুলকানোর আড়ালে...


কান চুলকানোর আড়ালে...


নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ, মিটফোর্ড হাসপাতাল

কিছুদিন ধরে কটনবাড খুব প্রিয় হয়ে উঠেছে আপনার। কোন ড্রয়ারে, কোথায় রাখা আছে, ভালোই জানা হয়ে গেছে। কারণ, কান চুলকায়। এমনটি হয় অনেকেরই। অসুখটির নাম অটোমাইকোসিস।

কেন হয়
 রোগটা সেসব দেশেই বেশি হয়, যেখানকার আবহাওয়া উষ্ণ ও আর্দ্র। যেমন—বাংলাদেশ।
 রোগটা তাঁদেরই ভেতর বেশি হয়, যাঁরা কোনো কারণবশত দীর্ঘ সময় ধরে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করছেন।
 যাঁরা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অথবা যাঁদের রয়েছে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার অভাব।

কারা দায়ী
চুলকানি হয় ছত্রাকজাতীয় জীবাণু থেকে। এরা হচ্ছে উদ্ভিদ। দেহের অন্যত্র এটি থেকে দাদসহ নানা রোগ হয়। এদের মধ্যে অ্যাসপারজিলাস নাইজার দায়ী ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ এবং ক্যানডিডা অ্যালবিকানস দায়ী ১০ থেকে ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে। এ ছাড়া ডারমাটোফাইট ও একটিনোমাইসেসের মাধ্যমেও কখনো কখনো রোগটি হতে পারে।

উপসর্গ
 কান বন্ধ হয়ে আছে—এমন উপলব্ধি;
 কানে অস্বস্তি;
 কান থেকে ধূসর, সবুজ, হলুদ বা সাদা রঙের নিঃসরণ বেরিয়ে আসতে পারে;
 জমা হতে পারে ভেজা খবরের কাগজের মতো ময়লা।

চিকিৎসা
 কানের ময়লা পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।
 ছত্রাকবিনাশী ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। যেমন—
নাইস্টাটিন ক্রিম, ক্লোট্রিমাজল, ইকোনাজল ও জেনশিয়ান ভায়োলেট।
ওষুধগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য ক্ষেত্রে হাইড্রোকর্টিসন যুক্ত থাকলে তা ড্রাগের প্রতি টিস্যুর অতিসংবেদনশীলতা রোধ করে এবং কানে জ্বালা করার ভয় কমায়। ক্রিম বা ফোঁটা আকারে এগুলো ব্যবহার করা যায়। দুই সপ্তাহ ধরে ব্যবহার করলে রোগটি ফিরে আসার আশঙ্কা কমে যায়।
 অ্যান্টিহিস্টামিন-জাতীয় ওষুধ।
এ ছাড়া কানে যদি ব্যথা শুরু হয়, তা হলে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসাও করণীয় হয়ে পড়ে।
খুব সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা না করলে কানের পর্দায় অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। অটোমাইকোসিস রোগটি বহিঃকর্ণের। কিন্তু কানপাকা রোগীদের অর্থাৎ, মধ্যকর্ণের প্রদাহের কারণে যাদের কানের পর্দায় ছিদ্র থাকে, তাদের কানেও মিশ্র সংক্রমণ হতে পারে।

প্রতিরোধ
 চাই সাধারণ স্বাস্থ্যকুশলতা উন্নয়নের প্রয়াস এবং ভিটামিন ও পুষ্টির মান বাড়ানো;
 মাঝেমধ্যে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দেখে নেওয়া;
 ডায়াবেটিস থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা;
 নিরুৎসাহিত করা চাই কান চুলকানোয় দেশলাইয়ের কাঠি, মোড়ানো রুমাল, মুরগির পালক, চাবি ও কটনবাডের ব্যবহার।

Monday, November 12, 2012

রক্তের চর্বি নিয়ন্ত্রণ


রক্তের চর্বি নিয়ন্ত্রণ

 

ডায়াবেটিস একটি মেটাবলিক বা বিপাকীয় রোগ। আর আক্রান্ত রোগীকে এ রোগ বেশ বিপাকেও (বিপদে) ফেলে দিতে পারে। ডায়াবেটিস হলে রক্তের চর্বি বা লিপিডের মাত্রা খারাপের দিকে মোড় নেয়। ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএলের পরিমাণ কমে যায় আর খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএলের মাত্রা বেড়ে যায়। রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রাও বেড়ে যায়। এ অবস্থাকে বলে ডায়াবেটিক ডিসলিপিডেমিয়া বা ডায়াবেটিসের জন্য রক্তের লিপিডের টালমাটাল অবস্থা। এতে হূদেরাগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহু গুণ বেড়ে যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে রক্তের লিপিডের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
সুতরাং, ডায়াবেটিসের কারণে হূদেরাগ ও স্ট্রোকের আশঙ্কা কমাতে হলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখে রক্তের চর্বির মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শমতো রক্তের চর্বির মাত্রা পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। এ পরীক্ষাকে বলে ‘লিপিড প্রোফাইল’।
লক্ষ্য স্থির করতে হবে এলডিএলের মাত্রা
ডায়াবেটিস হলে রক্তে এলডিএলের মাত্রা বাড়তে থাকে। রক্তে এলডিএলের মাত্রা বেশি থাকলে তা রক্তনালির দেয়ালে জমা হয়। রক্তনালির ভেতরটা সরু হয়ে যায়। এর ভেতর দিয়ে রক্ত সরবরাহ বিঘ্নিত হয়। হূৎপিণ্ডের রক্তনালি সরু হয়ে গেলে হূৎপিণ্ডের পেশি প্রয়োজনের তুলনায় কম রক্ত পায়। এতে হূদেরাগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। মস্তিষ্কের ক্ষেত্রে হলে স্ট্রোকের আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই সুস্থতার জন্য রক্তে এলডিএলের মাত্রা কমানো প্রয়োজন। প্রতি ডেসিলিটার রক্তে বা প্রতি ১০০ মিলিলিটার রক্তে এলডিএলের মাত্রা ১০০ মিলিগ্রামের কম হওয়া উচিত। ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে ৭০ মিলিগ্রামের কম থাকলেই ভালো। রক্তে এলডিএলের মাত্রা কম রাখতে পারলে হূদেরাগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি ২০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে যায়।
এইচডিএলের মাত্রা
ডায়াবেটিস হলে রক্তে এইচডিএলের মাত্রা কমতে থাকে। এইচডিএলের কাজ রক্তনালির দেয়াল থেকে জমে থাকা খারাপ কোলেস্টেরলকে সরিয়ে দেওয়া। তাতে রক্তনালির ভেতর দিয়ে সহজেই রক্ত প্রবাহিত হতে পারবে। তাই রক্তে এইচডিএলের মাত্রা কমে গেলে তা বাড়াতে হবে। পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রতি ১০০ মিলিলিটার রক্তে এইচডিএলের মাত্রা ৪০ মিলিগ্রামের বেশি আর নারীদের ক্ষেত্রে ৫০ মিলিগ্রামের বেশি থাকা প্রয়োজন। যত বেশি থাকে, তত বেশি ভালো। যদি ৬০ মিলিগ্রামের বেশি থাকে, তাহলে তা হূদেরাগ প্রতিরোধে কার্যকর বলে বিবেচনা করা হয়।
ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা
ডায়াবেটিসে রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রাও বেড়ে যায়। এর মাত্রা বেড়ে গেলে এলডিএলের মতোই তা রক্তনালির দেয়ালে জমা হয়। ফলে রক্তনালির ভেতরটা সরু হয়ে যায়। রক্তনালির দেয়াল শক্ত হয়ে যায়। সরু রক্তনালির ভেতর দিয়ে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। হূদেরাগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। সুতরাং, রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে হবে। প্রতি ১০০ মিলিলিটার রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা ১৫০ মিলিগ্রামের কম হওয়া উচিত। তাতে হূদেরাগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমবে।
কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে রক্তের লিপিডের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের উপায় হচ্ছে তিনটি মূলমন্ত্র:
শৃঙ্খলা
সব সময় কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। এর মধ্যে আছে: নিয়মিত ব্যায়াম, পরিমিত ও সময়মতো উপযুক্ত খাবার আর ওষুধের প্রয়োজন পড়লে নিয়মিত ওষুধ সেবন বা ইনসুলিন গ্রহণ।
খাবারদাবার
শাকসবজি ও ফলমূল বেশি করে খেতে হবে। আঁশসমৃদ্ধ খাবারদাবারও বেশি খাওয়া উচিত। রিফাইন্ড শর্করা কম, অরিফাইন্ড শর্করা পরিমাণমতো খেতে হবে।
ওষুধ
ওষুধের প্রয়োজন পড়লে মুখে খাওয়ার ওষুধ খেতে হবে। আর ইনসুলিন ইনজেকশন দরকার হলে ইনসুলিন নিতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শমতো। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখে রক্তের লিপিডের মাত্রা সঠিক রাখার চেষ্টার পাশাপাশি এলডিএল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমানো ও এইচডিএলের মাত্রা বাড়ানোর উপায় অবলম্বন করতে হবে। আর এসব করা যায় নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে:
খাবারে চর্বি গ্রহণে সতর্কতা
রান্নায় তুলনামূলক কম তেল-চর্বি ব্যবহার করা। কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার কম খাওয়া। স্যাচুরেটেড তেল, ট্রান্সফ্যাট কম খাওয়া; আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি খাওয়া।
নিয়মিত ব্যায়াম করা
সপ্তাহে পাঁচ দিন প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে দ্রুতলয়ে হাঁটা। বাড়িঘরের দৈনন্দিন কাজ নিজ হাতে করা। লিফটে নয়, হেঁটে সিঁড়িতে ওঠা। গন্তব্যে পৌঁছার একটু আগে রিকশা বা ট্যাক্সি থেকে নেমে বাকি পথ হেঁটে যাওয়া বা বাসা থেকে বের হয়েই রিকশা, ট্যাক্সিতে না উঠে একটু দূরে হেঁটে গিয়ে ওঠা—এসবের মাধ্যমেও বেশ ব্যায়াম হবে। ভালো কোলেস্টেরল বাড়বে, খারাপ কোলেস্টেরল কমবে।
শরীরের ওজন কমানো
ধীরে ধীরে শরীরের ওজন কমিয়ে স্বাভাবিক রাখা। এর ফলে শরীরের চর্বি কমবে, কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক থাকবে।
আঁশযুক্ত খাবার
যেমন-শাকসবজি, লাল আটা, লাল চালের ভাতজাতীয় খাবার খাদ্যতালিকায় বেশি রাখা; খাদ্যের আঁশ রক্তের চর্বির মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে খুবই কার্যকর।
ধূমপান পরিহার করা
ধূমপান না করলে তাও রক্তের চর্বির মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হবে।

দংশন করে দেশকে নীল করে ফেলেছেন


দংশন করে দেশকে নীল করে ফেলেছেন


প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সর্প আপনারা, আপনারাই দংশন করে পুরো দেশকে নীল করে ফেলেছেন। এখন আবার রামুতে টাকাপয়সা দিয়ে ওঝা হয়ে ঝাড়ার চেষ্টা করছেন।’
আজ সোমবার বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের গণমিছিল কর্মসূচি শুরুর আগে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। ‘সরকারের দুঃশাসন, দুর্নীতি ও জনদুর্ভোগের’ প্রতিবাদে ঢাকায় গণমিছিল করে ১৮-দলীয় জোট।
বিরোধী জোটের এই কর্মসূচির কারণে বেলা তিনটার পর ফকিরাপুল থেকে মগবাজার সড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এ রকম থাকে পাঁচটা পর্যন্ত। এতে চাপ পড়ে আশপাশের এলাকার রাস্তায়। মগবাজার, রামপুরা, মহাখালী, পল্টন ও এর আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে নগরবাসীকে কর্মক্ষেত্র থেকে ঘরে ফেরার সময় পড়তে হয় বাড়তি ভোগান্তিতে।
কর্মসূচি শুরুর আগে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, তেল, গ্যাস, বিদ্যুত্সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম বারবার বাড়ছে। জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। এ সরকারের ক্ষমতায় থাকার আর কোনো অধিকার নেই। তিনি সরকারকে ক্ষমতা ছেড়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত সরকারের লোকজন দুর্নীতিতে জড়িত।
মির্জা ফখরুল বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। কিন্তু তাদের মাঠেই নামতে দেওয়া হচ্ছে না। শান্তিপূর্ণ কোনো কর্মসূচি করতে দেওয়া হয় না। তিনি সরকারের কাছে জানতে চান, কোন আইনে এটি করা হচ্ছে।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে বিকেল চারটার দিকে মিছিল শুরু হয়। মূলত কর্মসূচিতে যোগ দিতে দুপুর থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে জড়ো হতে থাকেন নেতা-কর্মীরা। একপর্যায়ে বিজয়নগর, নয়াপল্টন, ফকিরাপুল পর্যন্ত রাস্তা নেতা-কর্মীদের দখলে চলে যায়। সরকারবিরোধী বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে কর্মসূচিতে যোগ দেন কয়েক হাজার নেতা-কর্মী।
মিছিলটি কাকরাইল, মৌচাক হয়ে মগবাজারের সেঞ্চুরি আর্কেডের সামনে এলে যানজটে আটকা পড়ে। প্রায় আট-দশ মিনিট মিছিলটি এখানে আটকে থাকে। পরে বিকেল পাঁচটার দিকে মগবাজার মোড়ে এসে মিছিল শেষ হয়।
মিছিলে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বাইরে ১৮-দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে জামায়াত ও এর ছাত্রসংগঠন শিবিরের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
কর্মসূচি চলাকালে নয়াপল্টন থেকে মগবাজার মোড় পর্যন্ত বিভিন্ন মোড়ে পুলিশ ও র্যাবের সদস্য মোতায়েন করা হয়।
মিছিলে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা, সদস্যসচিব আবদুস সালাম, কল্যাণ পার্টির সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জামায়াতে ইসলামীর নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার, মজিবুর রহমানসহ ১৮-দলীয় জোটের নেতারা অংশ নেন।

বাহারি ফুল দাদমর্দন


বাহারি ফুল দাদমর্দন



গ্রামে দাদমর্দনের তেমন কদর নেই। কারণ এই গাছে কোনো সুমিষ্ট ফল হয় না, কাঠও মূল্যহীন। নিতান্তই গুল্মশ্রেণীর গাছ। ময়লার ভাগাড় কিংবা পরিত্যক্ত স্থানে আপনাআপনিই জন্মে।
কিন্তু শহরে এর অনেক দাম। বিভিন্ন উদ্যানে রোপণ করা হয় পৌষ্পিক ঐশ্বর্য উপভোগ করতে, না হয় ঔষধি গাছ হিসেবে সংরক্ষণের প্রয়োজনে।
তবে, সবকিছু ছাপিয়ে এই ফুলের নজরকাড়া রূপই আমাদের মন ভরিয়ে দেয়। ইদানীং অবশ্য আলংকারিক পুষ্পবৃক্ষের জন্যই বিভিন্ন উদ্যানে রোপণ করা হচ্ছে। আপনি যদি হেমন্তের কোনো এক আলোঝলমল দিনে মিষ্টি রোদ গায়ে মাখিয়ে গ্রামের কোনো নির্জন পথে বেড়াতে যান, তাহলে হয়তো দাদমর্দনের দেখা পাবেন। খাড়া পুষ্পদণ্ডে হলুদ সোনালি রঙের অসংখ্য ফুল আপনার মনকে আলোড়িত করবে। ঢাকায় শিশু একাডেমীর বাগান ও রমনা নার্সারিতে কয়েকটি গাছ দেখা যায়।
এরা ক্যাশিয়া জাতের ফুল। আমাদের দেশে ক্যাশিয়ার আরেকটি বুনো জাতের নাম কালকাসুন্দা। পথের ধারে ও পাহাড়ে অঢেল দেখা যায়। দাদমর্দন কখনো কখনো ডোবার ধার, খেতের মধ্যবর্তী আল এবং অনাবাদি স্থানেও জন্মায়। এদের ইংরেজি নাম Ringwoৎm Bush, Ringwoৎm Shৎub, Ringwoৎm Senna ইত্যাদি।
সারা দেশে মূলত ঔষধি গাছ হিসেবেই এরা পরিচিত। বিশেষ করে চর্মরোগে এই গাছ ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। তবে দাদ ও পাঁচড়ায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহার্য। এখানে দাদের বাহ্যিক নিরাময়ের জন্য টাটকা পাতার লেই ব্যবহার করা হয়। আবার ঝলসানো পাতাও রেচক। এসব ছাড়াও যৌনরোগ চিকিৎসায় এবং বিষাক্ত পোকামাকড়ের কামড়ে এই গাছ সাধারণত টনিক হিসেবে কাজে লাগে। ব্যাপক বৃদ্ধি ও বিস্তারের ফলে বর্তমানে নিউগিনিতে আগ্রাসী প্রজাতির বৃক্ষে পরিণত হয়েছে।
দাদমর্দন দ্রুত বর্ধনশীল নরম-কাষ্ঠল গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। সাধারণত এক থেকে দুই মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। কাণ্ড পুরু ও হলদেটে। ফুল ফোটার মৌসুম সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি। ডালের আগায় ১৫ থেকে ২০ সেন্টিমিটার খাড়া ডাঁটায় হলুদ রঙের ফুল নিচ থেকে ওপরের দিকে ফোটে।

প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান যাচ্ছেন না

প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান যাচ্ছেন না


ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র আজ সোমবার সন্ধ্যায় প্রথম আলো ডটকমকে প্রধানমন্ত্রীর পাকিস্তান সফর বাতিলের খবরটি নিশ্চিত করেছে। উন্নয়নশীল আট জাতির শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে যোগ দিতে ২১ থেকে ২৩ নভেম্বর শেখ হাসিনার ইসলামাবাদ সফরের কথা ছিল।
বিস্তারিত আসছে...........

তৈরি হল অদৃশ্য পোশাক!


তৈরি হল অদৃশ্য পোশাক!



দীর্ঘদিন ধরেই গবেষকেরা এমন একটি পোশাক বা আলখাল্লা তৈরির চেষ্টা করছিলেন; যা পরলে কারো চোখে তা আর ধরা পড়বে না। এক খবরে বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের কয়েকজন গবেষক সম্প্রতি কোনো বস্তুকে আলখাল্লায় ঢেকে বস্তুকে অদৃশ্য করার পদ্ধতি উদ্ভাবনে সফল হয়েছেন।
গবেষকেদের দাবি, প্রথমবারের মতো কোনো ধরনের ফাঁকফোকর ছাড়াই এ পদ্ধতি উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে, যাতে এক সেন্টিমিটার আকৃতির সিলিন্ডারকে মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করেও দেখা সম্ভব নয়।
যুক্তরাজ্যের ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডন ও ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ২০০৬ সাল থেকে অদৃশ্য আলখাল্লা তৈরিতে কাজ করছেন। তবে প্রতিটি আলখাল্লাই কোনো না কোনো আলোর ব্যবহারে আলখাল্লার পেছনের বস্তুটিকে দৃশ্যমান করে তোলে। তাই পূর্ণাঙ্গ আলখাল্লা তৈরি করা সম্ভব হয়নি।
গবেষকেদের দাবি, তাঁদের তৈরি পদ্ধতিতে কোনো বস্তু একদিক থেকে সম্পূর্ণভাবে আড়াল করে ফেলা সম্ভব।

শাহরুখের সৌন্দর্য

শাহরুখের সৌন্দর্য

 


বলিউডের নায়িকাদের জন্য নিজেদের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার বিষয়টি নাকি ইদানীং বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে; অন্তত যখন শাহরুখের বিপরীতে তাঁদের অভিনয় করতে হয়। এমন বিস্তর কানাঘুষাও চলছে যে, শাহরুখের সঙ্গে রোমান্টিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে হলে তাঁর নায়িকাকে যথেষ্ট সুন্দর হতে হবে। কারণ, শাহরুখের সৌন্দর্যর কাছে তাঁর নায়িকাদেরও নাকি ইদানীং ম্লান দেখাচ্ছে!
সম্প্রতি এক সাক্ষাত্কারে বলিউডের অভিনেতা শাহরুখ খান জানিয়েছেন, ইদানীং তঁাকে বিভিন্ন জন তাঁর ছবির নায়িকাদের চেয়েও সুন্দর বলতে শুরু করেছেন। এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে এ প্রসঙ্গে শাহরুখ জানান, কফি আর ধূমপান ছাড়া তাঁর আর কোনো বদভ্যাস নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী ঘুম, পরিবারকে যথষ্টে সময় দেওয়া হয়। এই ৪৭ বছর বয়সেও তিনি তারুণ্য ধরে রেখেছেন। অবশ্য শারীরিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে বিশেষভাবে তেমন কোনো শরীরচর্চা করেন না তিনি। কথা প্রসঙ্গে শাহরুখ জানান, তাঁর শরীরের চেয়েও মন বেশি চঞ্চল।
প্রায় আট বছর পর যশ চোপড়া নির্মিত রোমান্টিক চলচ্চিত্র `যব তক হ্যায় জান' চলচ্চিত্রে ক্যাটরিনা কাইফ ও আনুশকা শর্মার সঙ্গে অভিনয় প্রসঙ্গে শাহরুখ জানান, নায়িকা সুন্দর হলে তবেই রোমান্টিক গল্পের চলচ্চিত্রে অভিনয় করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আট বছর খোঁজ করার পর তবে ক্যাটরিনা ও আনুশকাকে পছন্দ হয়েছে তাঁর।

১০ কোটির রেকর্ড মোবাইল সিমের

১০ কোটির রেকর্ড মোবাইল সিমের

 


১০ কোটির রেকর্ড স্পর্শ করলো মোবাইল সিম। অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি বছরে সিম বিক্রি হয়েছে রেকর্ড পরিমাণে। প্রায় সবগুলো অপারেটর মাত্র এক মাসেই কমপক্ষে ১০ লাখ গ্রাহক বাড়িয়েছে। প্রায় অপরিবর্তিত আছে রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটকের গ্রাহক। সমপ্রতি থ্রিজি সিস্টেমের কারণে গ্রাহকসংখ্যা দ্রুত বাড়বে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। উল্টো কমেছে দেশের সবচেয়ে পুরনো অপারেটর সিটিসেলের গ্রাহক। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি সমপ্রতি তাদের এক হিসাবে দেখিয়েছে অতীতের যে কোন মাসের তুলনায় গত সেপ্টেম্বরে মোবাইল ফোনের সিম সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। এ সময়ে গ্রাহক বেড়েছে ২৯ লাখ ৩৮ হাজার জন। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত পাওয়া রেকর্ড অনুযায়ী গ্রাহক বৃদ্ধির এ সংখ্যা অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে একবার ২০ লাখ ২৪ হাজার গ্রাহক বৃদ্ধি পেয়েছিল। বিটিআরসি ২০০৭ সালের মে থেকে ছয় মোবাইল ফোন অপারেটরের মাসওয়ারী গ্রাহক সংখ্যার হিসাব প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে দেশে মোবাইল সিমের সংখ্যা ৯ কোটি ৮৪ লাখ ৬৬ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের মাস আগস্টে এর পরিমাণ ছিল ৯ কোটি ৫৫ লাখ ২৮ হাজার। সংশ্লিষ্টরা জানান, অক্টোবর ও নভেম্বর মিলে ওই সংখ্যা ১০ কোটির রেকর্ড স্পর্শ করেছে। বিটিআরসির হিসাবে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক বৃদ্ধি পেয়েছে গ্রামীণফোনের। এ সময়ে তারা ১১ লাখ ৫১ হাজার গ্রাহক বাড়িয়েছে। বাংলালিংক একই সময়ে বাড়িয়েছে ১০ লাখ ৩২ হাজার গ্রাহক। তৃতীয় গ্রাহকসেবা অপারেটর রবির গ্রাহক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৫৭ হাজার। সেখানে এয়ারটেল বাড়িয়েছে এক লাখ তিন হাজার গ্রাহক। সেপ্টেম্বরে এত বেশি গ্রাহক বাড়লেও আগস্টে ছয় অপারেটর মিলে গ্রাহক বাড়াতে পেরেছিল মাত্র ৮ লাখ ১৪ হাজার। সে তুলনায় সেপ্টেম্বরে এসে সাড়ে তিন গুণ গ্রাহক বেড়েছে। এর আগে জুলাই মাসে গ্রাহক বৃদ্ধি পায় ৯ লাখ ২৬ হাজার। সংশ্লিষ্টরা জানান, মোবাইল সিম ১০ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করলেও মূল গ্রাহক আরও কম। এ সংখ্যা কমপক্ষে ৮ কোটি হতে পারে। ওদিকে সমপ্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিফোন অপারেটর থ্রিজি সিস্টেম চালু করায় গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়ছে। একই সঙ্গে সিম বিক্রির পরিমাণও বেড়ে চলেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ৯শ’ টাকা মূল্যের থ্রিজি সংযোগ দিয়ে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে ইন্টারনেট ব্যবহারসহ ভিডিও কল করা, মোবাইল ফোনে টেলিভিশন দেখা, ভিডিও স্ট্রিমিং, রিয়েল টাইম গেমিং, অডিও ভিডিও চ্যাটিং সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী হবে। প্রথম পর্যায়ে ১২ থেকে ১৫ হাজার নতুন সিম বিক্রি করা হবে। এখন পর্যন্ত নেটওয়ার্ক তৈরির কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় সীমিত সংখ্যায় সিম বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়েছে। গ্রাহকরা এখন কেবল রাজধানীতে থ্রিজি সেবা পাবেন। পর্যায়ক্রমে ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম ও জানুয়ারিতে সিলেটে থ্রিজি সেবা দেয়া হবে। টেলিটক আশা করছে, প্রাথমিক পর্যায়ে রাজধানীর চার লাখ গ্রাহক পাবেন এ সেবা। টেলিটক জানিয়েছে, ভিডিও কলের দাম একটু বেশি হলেও ব্যান্ডউইথ বিকোবে পানির দামে। ৫১২ কিলোবাইট গতির ১০ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ বান্ডেলের দাম এক হাজার টাকা। ভিডিও এবং ভয়েস কল দু’টির সঙ্গেই থাকছে দশ সেকেন্ডের পালস। তারা জানায়, এত কম দামে এশিয়ার কোথাও ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ বিক্রি হয় না। গ্রাহক বাড়লে তারা আরও কমে ব্যান্ডউইথ বিক্রি করবেন।

ডন-এর সম্পাদকীয়: বাংলাদেশের কাছে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে পাকিস্তানকে

ডন-এর সম্পাদকীয়: বাংলাদেশের কাছে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে পাকিস্তানকে

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংঘটিত নৃশংসতার জন্য ঢাকার কাছে গ্রহণযোগ্য ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত পাকিস্তানের। ওই সময়ে যে গণহত্যা ও নৃশংসতা সংঘটিত হয়েছে অবশ্যই পাকিস্তানকে তা স্বীকার করতে হবে। গতকাল পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডন-এর সম্পাদকীয়তে এসব কথা বলা হয়েছে। ‘দ্য অ্যাপোলজি ইস্যু’ শীর্ষক ওই সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ১৯৭১ সালে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাদের কর্মকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশের অনেকেরই গভীর ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রব্বানি খারের ডি-৮ সম্মেলনে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। এটা একটি ভাল লক্ষণ। এই সম্মেলন এ মাসে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ওই যুদ্ধের সময় ব্যাপক হারে বাংলাদেশীদের হত্যার ঘটনায় ঢাকা পাকিস্তান সরকারের তরফ থেকে একটি যথাযথ ক্ষমার আহ্বান প্রত্যাশা করে। সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ ২০০২ সালে ওই হত্যাকাণ্ডে দুঃখ প্রকাশ করেন। কিন্তু তা ঢাকাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবের মতে, এখনও দু’দেশের মধ্যে অনিষ্পন্ন বেশ কিছু বিষয় আছে। তিনি বলেন, হিনা রব্বানি খার বলেছেন- পাকিস্তান বিভিন্নভাবে তার দুঃখ প্রকাশ করেছে। এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা। এক্ষেত্রে দু’পক্ষের শিক্ষাবিদ ও আলোচকদের মধ্যে বিতর্ক চলতেই থাকবে। স্বাধীনতা যুদ্ধে কেউ কেউ বলেন হাজার হাজার মানুষ, কেউ বলেন লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এর প্রকৃত সংখ্যা কত তা নিয়ে বিতর্ক-লড়াই চলতেই থাকবে। তবে যে কথা অস্বীকার করা যাবে না তাহলো- পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাংলাদেশের স্বাধীনতাপন্থি, বুদ্ধিজীবী, সাধারণ সমর্থকদের ওপর নিষ্ঠুরতা চালিয়েছিল। নির্যাতিতরা ছিলেন একীভূত পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। পরিণামে ভারতীয়রা মাঠে নামে এবং বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়। এজন্য পাকিস্তানকে তার ভুল স্বীকার করতেই হবে। তা করলে পাকিস্তান অন্য দেশ ও প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পাবে, যারা ঐতিহাসিক ভুল স্বীকার করার সাহস দেখিয়েছে, তাদের দু’পক্ষকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ করে দিয়েছে। ক্রুসেডের সময় কনস্টানটিনোপলের ওপর হামলা ও ক্যাথলিক নয় এমন ব্যক্তিদের হত্যা করেছিল ক্যাথলিকরা। এজন্য ভ্যাটিক্যান ক্ষমা চেয়েছে। যুদ্ধকালীন আগ্রাসনের জন্য কোরিয়ানদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে জাপান। এখন পাকিস্তানের জন্য সময় এসেছে তার অতীতকে অতিক্রম করে সমঝোতার পথে এগিয়ে যাওয়ার।

ওসি হোসনে আরার চ্যালেঞ্জ

ওসি হোসনে আরার চ্যালেঞ্জ


তিনি চ্যালেঞ্জ ভালবাসেন। পুলিশের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ, জীবনটাকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতেই ব্যতিক্রমী চিন্তা ঠাঁই পায় তার মনে। ইচ্ছা জাগে পুলিশে যোগ দেয়ার। স্বপ্ন দেখেই থেমে থাকেননি তিনি। ১৯৮১ সালে ট্রেনিংয়ের জন্য ভর্তি হন পুলিশ ফোর্সে। দু’বছর পর প্রথম পিএসআই হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গুলশান থানায়। তারপর এসআই হিসেবে ডেমরা থানায়। ২০১০ সালে যোগ দেন জাতিসংঘ মিশনে। এরপর তিনি ইতিহাসের অংশ। বাংলাদেশের প্রথম নারী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে যোগ দেন ক্যান্টনমেন্ট থানায়। তিনি হোসনে আরা। ৫১ বছর বয়সী এ নারী এখন ভাসানটেক থানার ওসি। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের একমাত্র নারী ওসি ৩২ বছর আগে পুলিশে যোগ দিতে গিয়ে পরিবারের কাছ থেকে কোন বাধার সম্মুখীন হননি। সবসময় পরিবারই তার পাশে ছিল। মানবজমিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে হোসনে আরা তার সাফল্যের সব কৃতিত্ব দিয়েছেন পরিবারকে। গাজীপুরের পুবাইলে জন্মগ্রহণ করেছেন। বলেছেন, সাফল্যের পেছনে পরিবারের ভূমিকাই ছিল মুখ্য। তিনি বলেন, বাবা মো. আলী ও মা আনোয়ারা বেগম সকল ক্ষেত্রে আমাকে প্রেরণা দিয়েছেন।
পুলিশে যোগ দেয়ার দু’বছর পর তার পিতা মারা যান। পাঁচ বোন এবং তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। পিতৃহারা পরিবারের সকল দায়িত্ব হাসিমুখে গ্রহণ করেন এই সাহসী নারী। সংসার জীবনের কথা ভাবার সুযোগ পাননি বলে জানান তিনি। তবে সৃষ্টিকর্তার হুকুম হলে এখনও বিয়েতে আপত্তি নেই। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে ওসি হোসনে আরা বলেন, আমি দূর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবি না। বর্তমানের প্রতিটি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে চাই। তিনি বলেন, পুরুষরা পারে- নারীরাও পারবে। প্রয়োজন শুধু সাহস ও সদিচ্ছার। আশা করি শুধু আমি নই, আমার পরেও অনেক নারী এই পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোন প্রতিবন্ধকতা সম্মুখীন হতে হয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নারী হিসেবে কখনও কোন প্রতিবন্ধকতার শিকার হইনি। আমি মনে করি নারী হওয়ার কারণে অনেক ঘটনা তদন্ত করতে আমার সহজ হয়। নারী বিষয়ক ঘটনা, যেমন ধর্ষণের শিকার অথবা নির্যাতিত নারীদের সঙ্গে কথা বলে সহজেই রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়। একজন পুরুষ ওসির সঙ্গে এই ধরনের ভিকটিমরা কথা বলতে অনেক সময় দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন, যা মামলার অগ্রগতির জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে যখন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়, তখন আমার কষ্ট হয়। দায়িত্ব পালনে অনড় এই নারী জানান একজন নারী হিসেবে তার নানা অভিজ্ঞতার কথা।
হোসনে আরার প্রতিদিনের কার্যক্রমের অন্যতম থানাধীন এলাকা টহল দেয়া। রাত দুটা হোক বা তিনটাই হোক নিজেই গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন জনগণের নিরাপত্তার খোঁজখবর নিতে। তিনি বলেন, নারী হওয়াকে প্রতিবন্ধকতা না ভেবে আমি যে কোন বৈরী পরিস্থিতি উপেক্ষা করে একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে আমার যা কর্তব্য তা পালন করি। অনান্য অপরাধের চেয়ে, মাদক সংক্রান্ত অভিযানগুলোই মূলত আমার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়ে থাকে। মাসে প্রায় ১৫টি মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে থাকেন বলে জানান তিনি।
পুলিশ টিমে একজন জাতীয় গান শুটারও এই নারী। পুলিশ টিমে একজন শুটার হিসেবে রয়েছে তার আলাদা কৃতিত্ব। ২০০৯ সালে জাতীয় মহিলা পুলিশ টিমে গান শুটারে তিনি বিজয়ী হয়েছেন। প্রতি বছর এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন হোসনে আরা।
ভাষানটেক থানা এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ যাতে পুলিশকে বন্ধু ও সহযোগী ভাবতে পারে তার জন্য তাদের সঙ্গে শক্তিশালী যোগাযোগ গড়ে তুলতে চাই। জনগণ পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে ভয় পায়। যোগাযোগের মাধ্যমেই তা দূর হবে।
এ লক্ষ্যে ভাষানটেক থানায় কিছু দিনের মধ্যে একটি কমিউনিটি আলোচনার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেবেন বলে জানান তিনি। মিরপুরের ডিসি ইমতিয়াজ আহমেদ, এসবির ডিআইজি ফাতেমা আক্তার, এসবি ট্রেনিং ইনস্টিটিউশনের বর্তমান এডিশনাল ডিআইজি ইয়াসমিন গোফুর, জয়েন্ট কমিশন অব ট্রাফিকের মিলি বিশ্বাস এবং র‌্যাবের এডিশনাল ডিআইজি রওসনারা বেগমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমার পেশাগত জীবনে এ সকল মানুষের বিরাট অবদান রয়েছে। সফলতার সকল ক্ষেত্রে আমি তাদের সহযোগিতা পেয়েছি।

Sunday, November 11, 2012

জালিয়াতি করে সরকারি কাজ পেয়ে আবার জালিয়াতি: ব্যবস্থা নিচ্ছে না শ্রম মন্ত্রণালয়


জালিয়াতির মাধ্যমে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পে জনবল সরবরাহের কাজ পেয়েছে প্রটোকল নামের একটি প্রতিষ্ঠান। জামানত হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির জমা দেওয়া দুটি পে-অর্ডারই জাল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পে জনবল সরবরাহের পর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে লোক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছ থেকে ব্যাংক ড্রাফট নিয়েছে। প্রকল্পে সরবরাহ করা কর্মীদের বেতন থেকে টাকা কেটে রাখার অভিযোগও রয়েছে প্রটোকলের বিরুদ্ধে।
‘বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুশ্রম নিরসন (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পে’ ঘটেছে এ ঘটনা। ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে প্রটোকলের মালিক বরকত হোসেন বলেছেন, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
প্রকল্পটির পরিচালক এম এ কাশেম মাসুদ বলেছেন, জাল পে-অর্ডারের বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনো তথ্য নেই। অপর দুটি অভিযোগের বিষয়ে তাঁরা ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
প্রটোকল গত বছরের সেপ্টেম্বরে ওই প্রকল্পে ২৮ জন জনবল সরবরাহের কাজ পায়। বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসে প্রকল্প থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা পায়। এ ছাড়া সরবরাহ করা ২৮ জনের মোট বেতন দুই লাখ ২৮ হাজার ৯৬৯ টাকাও তারা তুলে কর্মীদের দেয়।
প্রটোকলের মালিক বরকত হোসেন খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। ২০১০ সালের ৩১ মে ঢাকা সিটি করপোরেশন থেকে নেওয়া তাঁর ট্রেড লাইসেন্সে ঠিকানা রয়েছে খুলনার খালিশপুর।
জাল পে-অর্ডার: নথিপত্রে দেখা যায়, জামানত হিসেবে প্রটোকল দুটি পে-অর্ডার জমা দিয়েছে। এর একটি উত্তরা ব্যাংকের এলিফ্যান্ট রোড শাখা ও অপরটি পূবালী ব্যাংকের পিলখানা শাখা থেকে করা। তবে এই দুটি পে-অর্ডারই জাল। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রটোকল ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর উত্তরা ব্যাংকের এলিফ্যান্ট রোড শাখা থেকে ৮৯০৮৬৬৪ নম্বর পে-অর্ডারের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক বরাবর এক লাখ ৩৭ হাজার ৩৮২ টাকা জমা দেয়।
তবে উত্তরা ব্যাংকের ওই শাখার প্রধান সহকারী মহাব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘৮৯০৮৬৬৪ নম্বরে আমাদের শাখা থেকে কোনো পে-অর্ডার করা হয়নি। ওই পে-অর্ডারে থাকা স্বাক্ষরও জাল।’ প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় থেকে ওই পে-অর্ডারের সত্যতা যাচাই করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনো কেউ এ ব্যাপারে জানতে চায়নি।’
প্রটোকল ২০১১ সালের ২৪ অক্টোবর ৬৫৪৯১৬৫ নম্বরের একই পরিমাণ টাকার আরেকটি পে-অর্ডার জমা দেয়। এটি ছিল পূবালী ব্যাংকের পিলখানা শাখার। ওই শাখার ব্যবস্থাপক এ কে এম আবদুর রাকিব প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই সিরিয়াল নম্বরে কোনো পে-অর্ডার আমাদের শাখা থেকে করা হয়নি। ওই পে-অর্ডারে থাকা স্বাক্ষরও জাল।’
পে-অর্ডার জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাইলে বরকত হোসেন বলেন, ‘আমি তো আর ব্যাংকে পে-অর্ডার জমা দিইনি। দিয়েছে আমার লোকজন। কাজেই আমার জানা নেই। আর সরকার বা মন্ত্রণালয়ের কেউ তো কখনো বলেনি যে এটা জাল, তা হলে আপনার এ নিয়ে এত মাথাব্যথা কেন?’
জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক বলেন, এ বিষয়ে তাঁদের কাছে তথ্য নেই। বিষয়টি সম্পর্কে তাঁরা খোঁজখবর নেবেন। জাল হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবেন।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ব্যাংক ড্রাফট: প্রটোকল শ্রম মন্ত্রণালয়ের নাম ব্যবহার করে ২০১১ সালের ৫ ডিসেম্বর এই প্রকল্পে জনবল নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে অফিস সহকারী কাম ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে ৯২ জন, চালক দুজন, এমএলএসএস কাম মেসেঞ্জার ৯২ জন, প্রহরী একজন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে একজনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়। প্রথম দুটি পদের জন্য আগ্রহী ব্যক্তিদের ২০০ টাকার ও পরের তিনটি পদের প্রার্থীদের ১০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট প্রটোকল বরাবর পাঠাতে বলা হয়। অথচ এর আগেই প্রটোকল ওই প্রকল্পে জনবল সরবরাহ করে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ওই বিজ্ঞপ্তি দেখে অনেক প্রার্থী ব্যাংক ড্রাফটসহ আবেদন করে প্রতারিত হন। এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘জনবল সরবরাহ করার পরও প্রটোকল মন্ত্রণালয়ের নাম ব্যবহার করে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অন্যায় করেছে। আমরা বিষয়টি দেখার পরপরই তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিই। যাদের কাছ থেকে তারা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে টাকা নিয়েছে, তাদের টাকা ফেরত দিতে বলেছি। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটিকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল করতে বলেছি। আমরাও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। থানায় জিডি করেছি।’
এ বিষয়ে প্রটোকলের মালিক বলেন, ‘আমি প্রকল্পে লোক নেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলাম, মন্ত্রণালয়ে লোক নেওয়ার জন্য নয়।’
বেতন থেকে অর্থ কাটার অভিযোগ: প্রটোকলের সরবরাহ করা জনবলের মধ্যে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আট হাজার ৬০৫ টাকা এবং বাকি পদে নিযুক্ত ব্যক্তিদের সাত হাজার ৭৫০ টাকা করে বেতন দিচ্ছে সরকার, যা দেওয়া হয় প্রটোকলের মাধ্যমে।
তবে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে কর্মরত এমন পাঁচজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, প্রটোকল প্রতি মাসে তাঁদের বেতন থেকে এক হাজার টাকা কেটে নিচ্ছে। চালক ও পিয়নদের বেতন থেকেও এক হাজার টাকা করে কাটা হচ্ছে। উৎসব ভাতা দেওয়া হয় না। নিয়োগপত্রও দেওয়া হয়নি। এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে চাকরি খাওয়ার ভয় দেখানো হয়।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘আমরাও এসব অভিযোগ পেয়েছি। প্রতিষ্ঠানটিকে কর্মচারীদের পূর্ণ বেতন দিতে বলেছি। কিন্তু সমস্যা হলো, আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ওই কর্মচারীদের বেতন দেয়। ফলে আমরা অনেক কিছুই করতে পারি না। ঈদ বোনাস দেওয়া হচ্ছিল না। আমি নিজে দায়িত্ব নিয়ে প্রটোকলকে বলেছি, কর্মীদের বোনাস দিতে। এরপর তারা বোনাস দিতে বাধ্য হয়েছে।’
জানতে চাইলে বরকত হোসেন বলেন, ‘আমি কারও বেতন কাটি না। এগুলো ভিত্তিহীন অভিযোগ। ইচ্ছা করে কেউ ষড়যন্ত্র করছে। আপনারা সেই ষড়যন্ত্রে যোগ দিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের কেউ তো কখনো এমন অভিযোগ করেনি।’
অভিযোগ রয়েছে, শ্রম প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) ইসহাক আলীর সঙ্গে বরকত হোসেনের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তবে ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি অস্বীকার করে ইসহাক আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বাড়ি বরিশাল। বরকত হোসেনকে আগে চিনতাম না। তবে খুলনা পলিটেকনিকে আমি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। বরকতও অনেক আগে সেখানকার ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। সেই হিসেবে তাঁর নাম জানতাম। পরে প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে আমি তাঁকে কয়েকবার দেখেছি। তাঁর বা তাঁর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’

বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় ড. ইউনূসকে দায়ী করা ঠিক নয়:মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা

বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় ড. ইউনূসকে দায়ী করা ঠিক নয়: ড্যান ডব্লিউ মজীনা

 



বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংক একটি চমত্কার প্রতিষ্ঠান। এটা আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি। গ্রামীণ ব্যাংকের এবং ড. ইউনূসের দর্শন আমি সমর্থন করি। বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় ড. ইউনূসকে দায়ী করা ঠিক নয়।’
দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আজ শনিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার পেছনে ড. ইউনূসকে দায়ী করে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত যে অভিযোগ করেছেন, এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে মজীনা এসব কথা বলেন।
মজীনা আরও বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে গ্রামীণ ব্যাংক বিশাল ভূমিকা রেখে চলেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ দরিদ্র নারীরা যেভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন, জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন, তা অভাবনীয়। ভালো কাজের জন্য বিশ্বব্যাপী গ্রামীণ ব্যাংকের অবদান স্বীকৃতি লাভ করেছে। আর এ কারণে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর প্রতিষ্ঠান নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর জামায়াত-শিবিরের হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মতপ্রকাশের অধিকার সবার আছে। কিন্তু এর নামে কোনো প্রকার সহিংসতাকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কখনোই সমর্থন করে না।
মতবিনিময়কালে বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা (পলিটিক্যাল অফিসার) আন্দ্রেই কোটন, ফিরোজ আহমেদ, ইনফরমেশন অফিসার মেরিনা ইয়াসমিন এবং রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী মিসেস গ্রেস মজীনা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে দুপুর একটায় দিনাজপুর সার্কিট হাউসে এলে জেলা প্রশাসক শামীম আল রাজী তাঁকে স্বাগত জানান। এরপর দিনাজপুর বিশপ হাউসে মধ্যাহ্নভোজ শেষে তিনি দিনাজপুরের ঐতিহাসিক কান্তজী মন্দির পরিদর্শন করেন।

হজ থেকে সৌদির আয় ১৬৫০ কোটি ডলার

হজ থেকে সৌদির আয় ১৬৫০ কোটি ডলার

সৌদি আরব এ বছর অভ্যন্তরীণ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যাওয়া হজযাত্রীদের কাছ থেকে এক হাজার ৬৫০ কোটি ডলার আয় করেছে। সৌদি পত্রিকা আল-হায়াত গত বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছে।
ধর্মীয় পর্যটন সূত্রগুলোর উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, হজের অংশ হিসেবে পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনায় এ বছর এক কোটি ২০ লাখ মুসলমান আসেন। অক্টোবরের শেষে বার্ষিক হজ হয়। এ ছাড়া বছর ধরেই অনেকে ওমরাহ করতে আসেন। ডন।

শ্রমিক নেতা আমিনুল হত্যা: সন্দেহভাজন খুনির সঙ্গে এনএসআইয়ের দুই কর্মকর্তার যোগাযোগ


পোশাকশ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামের (৪১) সন্দেহভাজন খুনির সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) দুই কর্মকর্তার যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছেন এ ঘটনার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর সূত্র ধরে তাঁরা এনএসআইয়ের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদও করেছেন।
৩ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাঞ্চল্যকর মামলা তদারকি সেলের ৭১তম সভায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এ তথ্য উপস্থাপন করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর এতে সভাপতিত্ব করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এনএসআইয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আমিনুল ইসলাম বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির (বিসিডব্লিউএস) সংগঠক ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের নেতা ছিলেন। গত ৪ এপ্রিল আশুলিয়া থেকে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন তাঁর ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাসূত্র জানায়, পুলিশের প্রতিবেদনে সন্দেহভাজন খুনির সঙ্গে এনএসআই কর্মকর্তাদের যোগাযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে এনএসআই কর্মকর্তারা আমিনুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়নি। এতে বলা হয়, আমিনুল খুন হওয়ার আগে ও পরে তাঁর সন্দেহভাজন খুনি মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে এনএসআইয়ের দুই কর্মকর্তা মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেন। ওই মুঠোফোন নম্বর দুটি ব্যবহার করেন এনএসআইয়ের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ ও মাঠ কর্মকর্তা লুৎফর রহমান।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মোস্তাফিজ পলাতক। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পরিদর্শক হুমায়ুন কবির আকন্দ এ ঘটনায় এনএসআইয়ের প্রধান কার্যালয়ের অনুমতি নিয়ে ওই দুই কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার হাফিজ আক্তার জিজ্ঞাসাবাদের কথা স্বীকার করেন। তবে এই দুই কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, সদর দপ্তরের অনুমতি ছাড়া তিনি কোনো কথা বলবেন না।
টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ জানায়, বেওয়ারিশ হিসেবে আমিনুলের লাশ উদ্ধারের পর ঘাটাইল থানার উপপরিদর্শক শাহীন মিয়া অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। পরে আমিনুলের ভাই রফিকুল ইসলাম এ ঘটনায় সন্দেহভাজন মোস্তাফিজুর রহমান ও বোরকা পরিহিত অজ্ঞাতনামা এক নারীকে আসামি করে ঘাটাইল থানায় আরেকটি এজাহার দেন।
ওই এজাহারটি পুলিশের করা হত্যা মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি।
আমিনুল খুনের ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তৈরি পোশাক ক্রয়কারী ইউরোপ, আমেরিকা ও কানাডার ১২টি সংগঠন প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ব্যাপারে চিঠিও দেয়। বিসিডব্লিউএসের নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এনএসআইয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত।
আমিনুলের সহকর্মী বাবুল আক্তার অভিযোগ করেন, এর আগে ২০১০ সালের ১৮ জুন রাজধানীর রমনা এলাকা থেকে আমিনুলকে তুলে নিয়ে যায় এনএসআই। ওই দিন তাদের হাত থেকে কৌশলে পালিয়ে আসেন তিনি। এরপর চলতি বছরের ৯ মার্চ বিসিডব্লিউএসের অফিস থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে ধরে নিয়ে যায় শিল্প পুলিশ। তখন শিল্প পুলিশের শ্রীপুরের কার্যালয় থেকে মুচলেকা দিয়ে আমিনুলকে ছাড়িয়ে আনেন বাবুল আক্তার। মুচলেকায় লেখা ছিল, ১২ মার্চ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আমিনুলকে শিল্প পুলিশের কার্যালয়ে বসে থাকতে হবে। ১২ মার্চ বিএনপির মহাসমাবেশে আমিনুল ১০ হাজার লোক দেবেন, এনএসআইয়ের এমন খবরের ভিত্তিতে শিল্প পুলিশ তাঁকে আটকে রাখে বলে বাবুল আক্তার জানান। তিনি বলেন, বরাবরই গোয়েন্দা সংস্থা থেকে আমিনুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছিল, শ্রমিকদের দাবির নামে তিনি পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করছেন।
আমিনুল হত্যা তদন্তে গত ১৬ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাইন উদ্দিন খন্দকারকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হয়। কমিটির প্রতিবেদনে মোস্তাফিজুরকে সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, ‘তাঁর মোবাইল ফোনের কল-তালিকা পরীক্ষা করলে অনেক তথ্য বের হয়ে আসতে পারে।’
প্রথম আলোর মাগুরা প্রতিনিধি কয়েক দিন আগে মোস্তাফিজুরের গ্রামের বাড়ি শ্রীপুর উপজেলার রাধানগরের কাধিরপাড়া গ্রামে গেলে মোস্তাফিজুরের সত্তরোর্ধ্ব বাবা শমসের মল্লিক বলেন, ‘বেশ কিছুদিন আগে মোস্তাফিজুর গ্রামের বাড়িতে এসেছিল। কয়েক দিন থেকে চলে গেছে।’ ঢাকায় মোস্তাফিজ কোথায় থাকেন, বিয়ে করেছেন কি না, এসব খবর জানেন না তাঁর বাবা। মোস্তাফিজুরের খোঁজে পুলিশের দলও একাধিকবার এলাকায় যায়। স্থানীয় থানাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার হাফিজ আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, আমিনুল হত্যা মামলা তদন্ত করতে গিয়ে জেলা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানতে পারেন, সন্দেহভাজন মোস্তাফিজুর রহমান ছিলেন এনএসআইয়ের সোর্স। এনএসআই কর্মকর্তারাও প্রথম আলোর কাছে তা স্বীকার করেন। পলাতক থাকা অবস্থায় মোস্তাফিজুর এনএসআইয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা জানতে পারেন, মোস্তাফিজ কুইন্স সাউথ নামে একটি কারখানা থেকে ২০০৯ সালে চাকরি হারান। এরপর কোথাও চাকরি করেননি। বেপজার মেডিকেল সেন্টারের কর্মী হিসেবে তিনি বেতন পেতেন।
জানতে চাইলে বেপজার মহাব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মোস্তাফিজুর বেপজার মেডিকেল সেন্টারে দৈনিক বেতনভূক কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। মাঝেমধ্যে তিনি বিভিন্ন কারখানার গোপন খবর তাঁকে জানাতেন।
আমিনুল নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাঁর স্ত্রী হোসনে আরা ফাহিমা দাবি করে আসছিলেন, সরকারি কোনো সংস্থার গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন তাঁর স্বামী।
জানতে চাইলে এনএসআইয়ের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, আমিনুল হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনমতো কথা বলার জন্য পুলিশকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করার জন্য এনএসআই কর্মকর্তাদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরকীয়া: সিআইএ প্রধানের পদত্যাগ


বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কথা স্বীকার করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ডেভিড পেট্রাউস।
বারাক ওবামা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার তিনদিন পরেই মি: পেট্রাউস এ পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন। অনেকটা আকস্মিকভাবেই দেশটির গোয়েন্দা প্রধানের পদত্যাগের এই খবর এলো।

গত দুই দশকে আমেরিকায় সবচেয়ে দক্ষ সামরিক কর্মকতাদের মধ্যে একজন হিসেবে মনে করা হয় মি: পেট্রাউসকে।

এক বিবৃতিতে মি: প্রেট্রাউস জানিয়েছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাছে তার পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন।
একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবে তার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ককে অগ্রহণযোগ্য বলে বর্ণনা করেন মি: প্রেট্রাউস। ২০১১ সালে মি. প্রেট্রাউস সিআইএ প্রধানের পদে যোগ দেন।

এর আগে তিনি ইরাক এবং আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক বাহিনীর প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ২০০১ সালে আমেরিকায় টুইন টাওয়ারে হামলার পর মি.পেট্রাউস ছিলেন অন্যতম সর্বোচ্চ সামরিক কর্মকর্তা।

ইরাকে তার রণকৌশল এবং আফগানিস্তানে জঙ্গিবাদ বিরোধী কৌশল প্রণয়নের জন্য তিনি বেশ প্রশংসিত হয়েছিলেন।
নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করে মি: পেট্রাউস যে বিবৃতি দিয়েছেন, সেটি ছিল অনুতাপ এবং অনুশোচনায় পরিপূর্ণ।

তিনি বলেন, সাইত্রিশ বছর বিবাহিত জীবনের পর, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে তিনি অবিবেচকের মতো কাজ করেছেন।

প্রেট্রাউস বলেন একজন স্বামী হিসেবে এবং আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবে তার এই কাজ মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে মি: প্রেট্রাউস বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টি কেন প্রকাশ করলেন কিংবা এটি ফাঁস হয়েছিল কিনা সে বিষয়টি এখনও পরিষ্কার নয়।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিআইএ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকা বলছে, মি: প্রেট্রাউস যখন পদত্যাগপত্র জমা দেন তখন প্রেসিডেন্ট ওবামা খানিকটা বিস্মিত হয়েছেন।

মি: প্রেট্রাউসের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করতে প্রেসিডেন্ট ওবামা একদিন সময় নেন এবং তা গ্রহণ করার বিষয়টি শুক্রবার টেলিফোনে মি: পেট্রাউসকে জানান।

এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেছেন মি: পেট্রাউস গত কয়েক দশক ধরে তার কাজের মাধ্যমে আমেরিকার অসাধারণ সেবা করেছেন।

মি: প্রেট্রাউস তার কাজের মাধ্যমে আমেরিকাকে আরো অনেক নিরাপদ এবং শক্তিশালী করেছেন বলে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন।

মি: পেট্রাউসের বিদায়ের পর সিআইএ-র ডেপুটি ডিরেক্টর মাইকেল মোরেল এখন ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন।

এরই মধ্যে সংস্থাটির নতুন একজন প্রধান নিয়োগ করবেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। প্রেসিডেন্টের সেই নিয়োগ দেশটির সিনেটে অনুমোদিত হতে হবে। সূত্র: বিবিসি।

টেস্ট ক্রিকেটকেই আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি: পাপন


বিসিবিতে আজ ছিল আনন্দময় একটি দিন। এই দিনে এক যুগ আগে বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেট দরবারে মাথা উঁচু করে নিজেদের উপস্থিতি বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ঘোষণা করেছিল। অভিষেক টেস্ট খেলা বাংলাদেশ আজ ১২ বছর পার করেছে। সে কারণেই আজ বিসিবি অভিষেক টেস্টের সদস্যদের নিয়ে কেক কেটে আনন্দময় কিছুসময় অতিবাহিত করেন বোর্ড কর্মকর্তারা।

টেস্ট সার্টিফিকেট প্রাপ্তির একযুগ পূর্তি উৎসবে ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন কেক কাটা অনুষ্ঠানে মিডিয়াকে বলেছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটই এখন থেকে সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে। সাবেক অধিনায়ক ও খেলোয়াড়দের পরামর্শ, সহায়তা নিয়ে বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটেও বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করা হবে।’

মিরপুর স্টেডিয়ামে টেস্ট ম্যাচে যুগ পূর্তি অনুষ্ঠানে কেক কাটার অনুষ্ঠানে নাজমুল হাসান বলেন, ‘টেস্ট মর্যাদাই ক্রিকেটে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেকের প্রচেষ্টায় আজকে এই পর্যায়ে এসেছে। যতবেশি খেলোয়াড়-সংগঠককে ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে ততই ভালো হবে। টেস্ট ক্রিকেটকেই আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। অন্য ফরম্যাটে আমরা বেশ উন্নতি করলেও টেস্টে এখন পর্যন্ত তেমন কিছু করতে পারিনি। বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে ভালো করলে অন্য দুই ফরম্যাটেও ভালো করার সম্ভব বলে এই ফরম্যাট নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি ভাবছি।’

বিসিবি সভাপতি এদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে সাবেক অধিনায়ক ও খেলোয়াড়, ক্রীড়া সাংবাদিক, প্রিমিয়ার লিগ, প্রথম বিভাগের ক্লাব কর্তৃপক্ষ ও স্পন্সরদের সঙ্গে শিগগির আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। কেক কাটার পর বিসিবি সভাপতি ২০০০ সালের অভিষেক টেস্টের অধিনায়ক নাইমুর রহমানকে কেক খাইয়ে দেন। এবং নাইমুর সভাপতির মুখে একইভাবে কেক তুলে দেন।

সভাপতি আরো বলেন, ‘আমার বর্তমান সূচিতে বছরে ১৮০/১৯০ দিন স্থানীয় ক্রিকেট খেলা থাকে। এর মধ্যেই খেলোয়াড়দের কী করে আরো বেশি বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচ দেযা যায় তা ভেবে বের করার জন্য সাবেক অধিনায়কদের অনুরোধ জানাবো।’

প্রথম টেস্টের অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয় অভিষেক টেস্টের একযুগ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানে বলেন, ‘দুয়েকটা প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলেই আমরা প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেছিলাম। তারপর আমাদের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট এসেছে। বছরে ক্রিকেটাররা অন্তত ৭/৮টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু আমাকে বলতেই হবে, প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট এখনো অবহেলিত। একে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিতে হবে। টেস্টে ভালো করতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই।’

প্রথম টেস্টের কোচ সারোয়ার ইমরান বলেন, ‘আমাদের মূল সমস্যা কিন্তু মাঠ আর উইকেট। আমাদের আরো অনেক মাঠ লাগবে। এর মধ্যে মিরপুরের এই স্টেডিয়ামটি ছাড়া আর কোনো স্টেডিয়াম পাইনি। আমাদের প্রাণবন্ত উইকেটে বেশি ম্যাচ খেলতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।’

২০০০ সালের ১০ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের খেলোয়াড় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সেই সময়ের নির্বাচকরাও। বর্তমান ক্রিকেটারদের মধ্যে এসেছিলেন সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালরা।

বাংলাদেশ দেশের মাটিতে বিপজ্জনক দল: ক্রিস গেইল

বাংলাদেশ দেশের মাটিতে বিপজ্জনক দল: ক্রিস গেইল


ক্রিজ গেইল বিশ্ব ক্রিকেটে তারকাদের তারকার নাম। সেই গেইল এখন ঢাকায় সিরিজ খেলতে এসেছেন। আর আজই প্রথম তিনি সিরিজের আগে অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন । ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে গেইল আছেন সেখানে ক্রিকেট ভক্তরা অন্য কারো কথা শুনতে চাইবে না। এটাই স্বাভাবিক। তবে বিশ্ব ক্রিকেটের এই তারকার কথা শুনতে এদেশে তার ভক্তদের একটু সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

ক্রিস গেইল গত এক দশক ধরেই এদেশের ক্রিকেটকে কাছ থেকে দেখেছেন। বাংলাদেশ দলে অনেক নতুন এবং ভালো খেলোয়াড় উঠে আসায় বাংলাদেশের ক্রিকেটে উন্নতিই দেখছেন গেইল। আজ মিরপুরে অনুশীলন শেষে তিনি এমন মন্তব্যই করেছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নতির বেশ কিছু জায়গা এখনো রয়েছে, পারফরম্যান্সে উত্থান-পতন রয়েছে। এর আগে এই একই পরিস্থিতিতে আমরাও ছিলাম এবং সেখান থেকে উঠে এসেছি। তাদের অনেক নতুন ও প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে এসেছে এসেছে। দলে অনেক পরিবর্তন এসেছে, এটা ভালো ব্যাপার।

বাংলাদেশ দেশের মাটিতে বিপজ্জনক দল। গত বছর এখানে সিরিজ জিতে ফিরলেও তাদের বেশ কয়েকজন ভালো খেলোয়াড় রয়েছে। দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার মতো একজন অধিনায়ক তাদের রয়েছে।’ বাংলাদেশের বিপক্ষে গেইলের লক্ষ্য কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শুরুটা ভালো করতে চাই। আমাদের সামনে দীর্ঘ সিরিজ, আশা করছি শুরুটা ভালো হবে। প্রস্ত্ততি ম্যাচটি খেলতে চেয়েছিলাম আমরা, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটি হলো না। তবে টেস্ট সিরিজের জন্য আমরা ভালো প্রস্ত্ততি নিয়েছি।’

অনেকদিন পর টেস্ট ক্রিকেটে খেলতে নামা প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটা আমার জন্য নতুন নয়। টেস্ট থেকে ওয়ানডে খেলার সময় আমি প্রয়োজনীয় পরিবর্তনগুলো করে নেই। কয়েকটি ব্যাপার একটু ঝালিয়ে নিতে হয়। ব্যাপারটি এমন, উইকেটে গিয়ে মানিয়ে নিয়ে এগিয়ে। তবে এবার আমাদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। বিশ্বকাপ দলের সদস্য হিসেবে আমি গর্বিত, এটা দারুণ এক অনুভূতি। এটা একটা মাইলফলক। তবে বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচেও ভালো করতে চাই, এটাই আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে পাচ নম্বরে উঠে আসার লক্ষ্য ঠিক করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখতে চাই। হ্যাঁ, আমরা র্যাংকিংয়ে পাঁচ নম্বরে উঠে আসতে চাই। এতে অবশ্যই আমি অবদান রাখতে চাই। আমার কাজ হবে যে দলকে ভালো সূচনা এনে দেয়া। ড্যারেন স্যামি গত দুই বছর ধরে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, এটা সহজ নয়। আমরা সিনিয়র খেলোয়াড়রা তাকে সহয়তা করছি। গত কয়েক বছরে তিনি অনেক উন্নতি করেছেন। ব্যাটিং ও বোলিংয়েও ভালো করছেন। আশা করছি ভবিষ্যতে তিনি আরো ভালো অধিনায়ক হয়ে উঠবেন, স্যামির নেতৃত্ব সম্পর্কে বলেন গেইল।’

ক্ষমতায় গেলে রামুতে হামলার বিচার হবে: খালেদা :: রাজনীতি :: বার্তা২৪ ডটনেট

ক্ষমতায় গেলে রামুতে হামলার বিচার হবে: খালেদা :: রাজনীতি :: বার্তা২৪ ডটনেট
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রামুতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উপাসনালয় ও বসতবাড়িতে হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’’ শনিবার বিকেল সোয়া তিনটায় কক্সবাজারের রামুতে পৌঁছে বৌদ্ধদের প্রধান উপাসনালয় সীমা বিহার পরিদর্শনকালে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের স্থানীয় লোকজনকে তিনি এ আশ্বাস দেন। সীমা বিহারে পৌঁছে প্রথমে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী লোকজনের কথা শোনেন খালেদা জিয়া। এরপর তিনি তাদের ধৈরর‌্য ধারনের পরামর্শ দেন। রামুর বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের হতাশ না হওয়ার আহবান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় এলে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ বসতি ও স্থাপনা সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।” বিরোধী দলীয় নেতা আরো বলেন, সরকারের ইন্ধনে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। কারণ হামলার সময় সরকার সম্পূর্ণ নীরব ছিল। ঘটনার এতোদিন পরও সরকার দোষীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আববাস, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতা সুকমোল বড়ুয়া, সুশীল বড়ুয়া প্রমুখ খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন।

সরকার বিএনপিকে ধ্বংসের চক্রান্ত করছে, অভিযোগ খালেদার



সরকার বিএনপিকে ধ্বংস করার চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, “সরকার দেশকে একদলীয় শাসনব্যবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সারা দেশে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে। বিরোধী দলের সভা-সমাবেশে পুলিশ দিয়ে হামলা করছে, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের ঘরছাড়া করছে।”

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের রামুতে যাওয়ার পথে চকরিয়া পৌরসভার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের এসব ষড়যন্ত্রের জবাব দিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না বলে আবারো স্পষ্ট ঘোষণা দেন বিরোধী দলীয় নেতা।

এ সময় তিনি সরকারের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কথাও উল্লেখ করেন।

চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে জনসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান ও কক্সবাজারের সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বক্তব্য রাখেন।

বেলা সাড়ে তিনটায় খালেদা জিয়া রামু পৌঁছে গত ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর হামলার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ মন্দির ও বসতবাড়ি পরিদর্শন করবেন।

পরে রামু খিজারী আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বিএনপি আয়োজিত ‘সম্প্রীতি সমাবেশে’ ভাষণ দেবেন। রোববার খালেদা জিয়ার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।