Pages

Monday, November 19, 2012

মিজারুল কায়েস যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার

মিজারুল কায়েস যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার

 


পররাষ্ট্রসচিব মোহাম্মদ মিজারুল কায়েস যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন।

আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা মিজারুল কায়েস ২০০৯ সালের ৮ জুলাই থেকে পররাষ্ট্রসচিব পদে দায়িত্ব পালন করছেন। পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি রাশিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং মালদ্বীপে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে কাজ করেছেন।

জেনেভা, টোকিও ও সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ মিশনে কূটনীতিক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। মহা পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন মন্ত্রণালয়ের সার্ক ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ডেস্ক এবং অর্থনৈতিক বিষয়, বহিঃপ্রচার বিভাগেও।

টক অব দ্য টাউন ওসি সিদ্ধিরগঞ্জ

টক অব দ্য টাউন ওসি সিদ্ধিরগঞ্জ

 


আবারও আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল আলম মোল্লাকে নিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে ঘুষবাণিজ্য আর দুর্নীতির কারণে আলোচিত হলেও এবার তিনি বউ পিটিয়ে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছেন। শুধু তাই নয়। আহত স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে গভীর রাতে বের করে দিয়ে বাসায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। তারা পরিবারের কারও সঙ্গে যাতে যোগাযোগ করতে না পারেন এ জন্য স্ত্রীর হাত থেকে মুঠোফোনটিও কেড়ে নিয়েছেন ওসি কামরুল। আহত স্ত্রী রেহানা পারভীন নিরুপায় হয়ে থানা কার্যালয়ের পাশে একটি চায়ের দোকানে বসে রাত পার করেন। অন্যদিকে ওসি কামরুল আলম মোল্লা গভীর রাতে অজ্ঞাত স্থানে গিয়ে রাত কাটান। যাওয়ার সময় ঘটনাটি যাতে প্রকাশ না পায় সে জন্য নজরদারি বাড়িয়ে যান। কিন্তু ওসির ন্যক্কারজনক আচরণে থানার একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা ও কনস্টেবলদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বুধবার রাতে থানা কোয়ার্টারের ভেতর ওসির এহেন ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে স্ত্রী রেহানা পারভীনের ওসি’র গোপনে আরেকটি বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন। নির্যাতিত রেহানা পারভীন বৃহস্পতিবার এসপি’র সঙ্গে দেখা করে বিস্তারিত ঘটনা জানান। এদিকে এ ঘটনার পর থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে টক অব দ্য টাউন এখন ওসি কামরুল।
ঘটনার সূত্রপাত: সূত্রমতে, ওসি কামরুল আলম মোল্লার নারীঘটিত ব্যাপারসহ নানা বিষয় নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি নেমে আসে। থানার ভেতর কোয়ার্টারে রাত যাপনের কথা বলে রাতে তিনি অন্যত্র থাকতেন। ঠিকমতো ঢাকার বাসায় যেতেন না। এমনকি গত ৪ মাস ধরে দুই ছেলেমেয়ের খরচও দিচ্ছেন না। দুই মাস আগে গোপনে মুনমুন নামে এক মহিলাকে বিয়ে করেন। এসব বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ জানান স্ত্রী রেহানা পারভীন। তাছাড়া, ওসি অসুস্থ হয়ে ৫-৬ দিন হাসপাতালে থাকলেও ছুটি কাটিয়েছেন ১৯ দিন। কিন্তু তিনি বাসায়ও ছিলেন না। এক পর্যায়ে কোরবানির ঈদের আগের দিন ঢাকার বাসা থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কার্যালয়ে গিয়ে হৈচৈ করেন রেহানা পারভীন।
থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য মানবজমিনকে জানান, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কম্পাউন্ডে অবস্থিত ওসি’র কোয়ার্টারে স্ত্রীকে বেধড়ক পিটিয়ে পুত্র সন্তানসহ বাসা থেকে বের করে বাসাটি তালাবদ্ধ করে ওসি কামরুল অজ্ঞাত স্থানে চলে যান। এর আগে স্ত্রীর মুঠোফোনটিও কেড়ে নেন। এই ঘটনায় থানায় অবস্থানরত পুলিশ সদস্য ও অন্যদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওসি’র স্ত্রী ও পুত্রের কান্না শুনে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাদের দু’জনকে নিয়ে থানার পার্শ্ববর্তী একটি চায়ের স্টলে বসান। আহত অবস্থায় ওসি’র স্ত্রী সারারাত থানা কার্যালয়ের পাশে অবস্থিত ওই চায়ের স্টলে বসে ছিলেন। সকালে নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে একজন আত্মীয় এসে তাদের দু’জনকে নিয়ে যান। শহরের একটি ক্লিনিকে রেহানা পারভীনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। তার আত্মীয় এক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা ঢাকা থেকে ঘটনাটি জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের টেলিফোনে জানান। রেহানা পারভীন মানবজমিনকে বলেন, পুলিশ পরিদর্শক কামরুল তার অমতে দুই মাস আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। এর প্রতিবাদ করায় তাকে নানা ভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে।
ওসির গোপন নিবাস: সূত্রমতে, ঢাকার রামপুরার বনশ্রীতে ওসি কামরুল জি ব্লকের ১ নং সড়কের ২৫ নং বাড়ির ৪-এ নং ফ্ল্যাটটি মাসিক ২০ হাজার টাকায় ভাড়া নেন গত ১লা আগস্ট থেকে। বাড়িওয়ালার সঙ্গে চুক্তিপত্রে তিনি নিজের নাম লিখেছেন কামরুল ইসলাম মোল্লা। পিতার নাম শামসুল আলম মোল্লা হলেও লিখেছেন তোফাজ্জল হোসেন। ওসি’র গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার ইচাখালী চুক্তিপত্রে লিখেছেন ৪৭/১, নিউ চাষাঢ়া, জামতলা, নারায়ণগঞ্জ। বর্তমান ঠিকানা লিখেছেন ৩৭ নং ঈশা খাঁ রোড, নারায়ণগঞ্জ। স্ত্রী রেহানা পারভীন কন্যা, পুত্র সহ ঢাকায় ফার্মগেট এলাকায় বসবাস করেন। ওসি কামরুল ২০১২ সালের ২৪শে আগস্ট মুনমুন নামের এক মহিলাকে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই বিয়ে করেন ১ লাখ টাকা দেনমোহরে (কাবিননামা অনুযায়ী)। মুনমুন গত ২১ থেকে ২৫শে জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে আটক ছিলেন একটি প্রতারণা মামলায়। সি আর মামলা নং-৩৭৩/১২, ধারা দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৩৮০, ১৮০। মুনমুন কারাগারে থাকাকালে ওসি কামরুল স্বামী পরিচয়ে কারাগারে জেলারের সঙ্গে দেখা করেন এবং খোঁজখবর নেন। নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও গোপালগঞ্জের লোক হওয়ায় ওসি কামরুলের বিরুদ্ধে জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা কোন কথা বলতে সাহস পান না বলে জানা গেছে। টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে ওসি কামরুল তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বুধবার রাতে স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার ঝগড়া হয়েছিল। সকালে স্ত্রী ঢাকার বাসায় চলে গেছে। স্ত্রীকে তিনি কোন নির্যাতন করেন নি। জেলা পুলিশ সুপার শেখ নাজমুল আলম বলেন, ওসি কামরুলের স্ত্রী দুপুরে আমার সঙ্গে অফিসে দেখা করেছেন। বিষয়টি পারিবারিক হওয়ায় তা দ্রুত মিটিয়ে ফেলার জন্য ওসিকে বলেছি।

Sunday, November 18, 2012

অপহরণকারীদের আস্তানা ছিল 'মামুনের গ্যারেজ

অপহরণকারীদের আস্তানা ছিল 'মামুনের গ্যারেজ

 


পরাগ অপহরণকারী চক্রের অন্যতম আস্তানা ছিল রাজধানীর জুরাইনের একটি গ্যারেজ। ওই গ্যারেজে বিভিন্ন অপরাধীর মোটরসাইকেল রাখা হতো। এসব দেখভাল করত মামুন। অপহরণকারী চক্রের সঙ্গে মামুনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থেকে শিশু পরাগ অপহরণে দুটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি মোটরসাইকেল (ঢাকা মেট্রো- ল-১০০৮১২) জুরাইনের ওই গ্যারেজ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরাগ অপহরণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার ৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এদিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পরাগ সুস্থ হয়ে উঠছে। পরাগের বাবা বিমল মণ্ডল গতকাল সন্ধ্যায় সমকালকে জানান, দু'একদিনের মধ্যে পরাগকে বাসায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলেছে, পরাগ অপহরণে জড়িত সন্দেহে পুলিশ যে মামুনকে গ্রেফতার করেছে, ওই মামুন ও জুরাইনে গ্যারেজের তত্ত্বাবধায়ক
মামুন এক ব্যক্তি নয়।
র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান সমকালকে বলেন, জুরাইনের যে গ্যারেজ থেকে পরাগ অপহরণে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি দীর্ঘদিন অপরাধীদের আস্তানা হিসেবে ব্যবহার হচ্ছিল। ওই গ্যারেজের ব্যাপারে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
পরাগ অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চারজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ইতিমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শিশুটি অপহরণের পর কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। এমনকি আমিরের অবস্থান সম্পর্কেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, রাজধানীতে শত শত রিকশা, ভ্যান ও প্রাইভেট কারের গ্যারেজ রয়েছে। মোটরসাইকেলের এ ধরনের ব্যতিক্রমী গ্যারেজ খুব কম চোখে পড়েছে। যেখান থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে অপরাধীরা ছিনতাই-ডাকাতিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করেছে। অপারেশন সম্পন্ন করে রাতেই ওই গ্যারেজে মোটরসাইকেল রাখা হতো। ওই গ্যারেজের মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের অধিকাংশ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র। শিশু পরাগকে যে মোটরসাইকেলে কেরানীগঞ্জে পেঁৗছে দেওয়া হয়েছে, সেটিও ছিল মামুনের গ্যারেজের। ওই গ্যারেজে আরও সাত-আটটি মোটরসাইকেল পাওয়া গেছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র সমকালকে জানায়, শিশু পরাগ অপহরণের ঘটনায় র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার মো. আলী রিফাত দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল। রিফাত তার বাবাকে একটি ট্যাক্সিক্যাবও কিনে দেয়। তার সঙ্গে দনিয়া কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জাহিদুলের ভালো সম্পর্ক ছিল। পরাগ অপহরণের ঘটনায় জাহিদুলকেও গ্রেফতার করে র‌্যাব। উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র হলেও জাহিদুল বেশ চাকচিক্যময় জীবন-যাপন করত। ঘটনার দিন জাহিদুল ও রিফাত একই মোটরসাইকেলে ছিল। পরাগ অপহরণ ছাড়াও তারা বিভিন্ন সময় নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল।
এদিকে পরাগ অপহরণের মূল হোতা আমিরকে এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তাকে ধরতে র‌্যাব-পুলিশের অভিযান চলছে। আমির যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারে এ ব্যাপারে বিভিন্ন বিমানবন্দরে তার ছবি পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পরপরই আমির বিদেশে পালিয়েছে কি-না এ ব্যাপারেও স্পষ্ট কিছু বলছেন না আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
গতকাল কেরানীগঞ্জের হিজলতলা এলাকায় আমিরকে দেখা গেছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে আমিরকে দেখা যাওয়ার ব্যাপারটি নাকচ করেছে স্থানীয় পুলিশ।
পরাগের বাবা বিমল মণ্ডল সমকালকে জানান, পরাগ সুস্থ হয়ে উঠছে। অপহরণের পর কী ঘটেছিল তা এখনও বলতে পারছে না পরাগ। অপহরণের পরপরই তাকে ইনজেকশন দেওয়ায় তার চেতনা ছিল না। তাই কিছুই তার মনে নেই। সবার সহায়তায় তাকে ফিরে পেয়েছি_ এটাই জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার।

শিশুর হাঁ করে ঘুমানো

শিশুর হাঁ করে ঘুমানো


অনেক সময় লক্ষ করা যায়, শিশুরা হাঁ করে বা মুখখুলে ঘুমাচ্ছে। নাক দিয়ে আমরা শ্বাস গ্রহণ করি ও শ্বাস ত্যাগ করি। নাক দিয়ে বাতাস ঢুকে তা প্রবেশ করে ন্যাসোফ্যারিংস, ল্যারিংস বা স্বরযন্ত্র হয়ে ট্রাকিয়া বা শ্বাসনালীতে। শ্বাসনালী থেকে ব্রংকাস ও ব্রনকিওল হয়ে অ্যালভিওলাই বা ফুসফুসের বায়ুথলিতে ঢোকে বাতাস। আবার শ্বাসত্যাগের সময় পুনরায় এ পথেই বাতাস বের হয়। এই বাতাস আসা-যাওয়ার পথে যদি কোনো বাধা থাকে তবে শিশু নাক দিয়ে শ্বাস না নিয়ে মুখ দিয়ে নেবে। আর সে কারণেই মুখখোলা বা হাঁ করে ঘুমাবে। এ ক্ষেত্রে শিশু ঘুমানোর সময় নাক ডাকতেও পারে।

নানা কারণে এমনটি হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছেÑ নাকের হাড় বাঁকা থাকা, নাকের মাংসল অংশ ফুলে থাকা, নাকে পলিপ থাকা, কোয়ানাল অ্যাস্ট্রেসিয়া, শিশুর টনসিল ও অ্যাডিনয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে গেলেও শিশু মুখখুলে ঘুমায় এবং এ দুটি কারণই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

টনসিলের প্রদাহ বা টনসিলাইটিস হলে টনসিল বড় হতে পারে। বারবার টনসিলাইটিস হওয়া, শিশুর গলা ব্যথা, জ্বর, সর্দি-কাশি, কান ব্যথা ইত্যাদি প্রধান লক্ষণ। এ রকম হলে অবশ্যই নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন। অনেকের ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে টনসিলাইটিস হলেই নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ সার্জন টনসিল কেটে ফেলবেন অর্থাৎ অপারেশন করবেন। কিন্তু এমনটি ভাবার কোনোই কারণ নেই। চিকিৎসা করে অসুস্থ টনসিল রেখে দিলে শিশুর হৃদযন্ত্রের অসুখ, রিউম্যাটিক হাইডিজিজ ও হার্টের ভাল্ব নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সুতরাং টনসিলাইটিসের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী অবশ্যই করাবেন।

কিছু শিশু প্রায় সারা বছর সর্দি-কাশিতে ভোগে, মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়, হাঁ করে ঘুমায়, নাক ডাকে, খাবারে অরুচি, ওজন কমে যাওয়া, ওপরের পাটির সামনের দিকের দাঁত এগিয়ে আসা ইত্যাদি অ্যাডিনয়েড গ্লান্ডের সংক্রমণ এবং বড় হয়ে যাওয়ার লক্ষণ। অ্যাডিনয়েড বড় হলে ও সংক্রমণের কারণে শিশুর কানে ব্যথা ও কানে পুঁজ হতে পারে। এ ছাড়া নাক দিয়ে রক্ত পড়া ও কথা বলতেও অসুবিধা হয়। এই অবস্থায় অবশ্যই নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রেও ওষুধ দিয়ে চিকিৎসার পাশাপাশি আপনার শিশুর স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনেই অ্যাডিনয়েড গ্লান্ড অপারেশন করে বাদ দিতে হতে পারে। অ্যাডিনয়েড বড় হলে এবং অপারেশন না করলে শিশুর কানে শোনার সমস্যা এবং বুদ্ধিমত্তা বিকাশে ব্যাহত হতে পারে।

শিশুর টনসিল ও অ্যাডিনয়েড অপারেশন নিয়ে ভয় পাওয়া অহেতুক। শিশুকে অজ্ঞান করে, বাইরে থেকে কোনো কাটাছেঁড়া না করে, হাঁ করে ভেতর থেকে টনসিল ও অ্যাডিনয়েড গ্লান্ড সার্জারি করে ফেলে দেয়া হয়। এতে সময়ও কম লাগে এবং মাত্র এক দিন পরই হাসপাতাল থেকে শিশুকে বাসায় নিয়ে যেতে পারবেন। শিশুর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম। বরং আগেই বলা হয়েছে, শিশুর স্বাস্থ্যগত কারণেই এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে অপারেশন করাবেন।

আর অবশ্যই মনে রাখবেন, আপনার শিশু যদি মুখখোলা বা হাঁ করে ঘুমায় কিংবা নাক ডাকে তবে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান ও পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করান।

লেখিকা : সহযোগী অধ্যাপিকা, ফার্মাকোলজি অ্যান্ড থেরাপিউটিক্স, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ।

চেম্বার : স্ট্যান্ডার্ড মেডিক্যাল সার্ভিস লিমিটেড, ২০৯/২, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা।

‘ব্যাটসম্যানদের কারণে হেরেছি’

‘ব্যাটসম্যানদের কারণে হেরেছি’

 


মুশফিকের চেহারায়ই ফুটে ওঠে দলের ব্যর্থতাচ্ছন্ন পরাজয়ের প্রতিচ্ছবি। তবে লড়াইয়ে পরাজয়ের পর তো অমন হওয়ার কথা নয়! কিন্তু মুশফিকেরা তো চেয়েছিলেন জয়; না পারলে অন্তত ড্র। কিছুই যখন পেলেন না, তখন চেহারা এমন হওয়া ছাড়া আর উপায় কী। ক্যারিবীয়দের যেভাবে পাওয়া গিয়েছিল এ ম্যাচে, এতে জয় বের না করতে পারার যন্ত্রণা অনেক দিন পর্যন্তই ভোগাবে তাদের। কিন্তু কেন এমন হলো? মুশফিক জানালেন, ‘মূলত ব্যাটিংয়ে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। বোলারেরা সুযোগ করে দিয়েছিলেন, কিন্তু ব্যাটসম্যানরা সেটি ধরে রাখতে পারেননি।’ তিনি বলেন, টপ অর্ডারে কয়েকজন দায়িত্বহীন শট খেলে আউট হয়েছেন। একজন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে আমরা এমনটি আশা করি না। সেটি না হলে অন্তত ড্র করা যেত। মুশফিক আরো বলেন, ‘ম্যাচটা হাতছাড়া হয়ে গেছে দ্বিতীয় সেশনে। ওই সেশনে পাঁচটি উইকেটের পতন হয়েছে, যা প্রথম ইনিংসের সাথে কখনই মেলানো যাবে না। এখানেই ম্যাচ হেরেছি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের আগের দিনে পরিকল্পনা ছিল সকালে যত দ্রুত সম্ভব কারিবীয়দের আউট করে দেয়া যায়। সোহাগের মারাত্মক বোলিংয়ে ওরা ১০ ওভারের বেশি খেলতে পারেনি। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৭৮ ওভার পেয়েছিলাম আমরা। ওভার যথেষ্ট ছিল। কিন্তু আমরা জুটি গড়তে পারিনি, এটিই পরাজয়ের কারণ। অনেক ব্যাটসম্যানই বিশের কোটায় গিয়ে আউট হয়েছেন।’ তিনি বলেন, এর আগে আমরা ধরেই নিয়েছিলাম ওরা ৩০০ রানের টার্গেট দেবে। কিন্তু সেখানে আমরা ওদের দ্রুতই আউট করে দিয়েছি। কারিবীয়রা ভেবেছিল ২৪৫ টার্গেট যথেষ্ট হবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টার্গেট এটিই হলো। এখানে আমাদের পরিকল্পনা সেট হতে হবে। উইকেট হারানো চলবে না। দেখেশুনে খেলতে হবে। কিন্তু প্রথম সেশনেই তো আউট দু’টি। এরপর পাঁচ। এ সময় যদি আমরা এক বা দুই উইকেট হারাতাম, তাহলে শেষ সেশনে দেখা যেত আমাদের ৫-৬ উইকেট থাকত। ফলে ড্র বা জয়ের একটি সুযোগ নেয়া যেত অলআউট খেলে।

প্রশ্ন ছিল ম্যাচে ড্রয়ের সুযোগ ছিল কি না? মুশফিক বলেন, ২৪৫ রান খুব ট্রিকি রান। আমরা প্রথম দুই সেশনে বেশি উইকেট হারাতে চাইনি। দুই সেশন শেষে আমাদের রান ১২০ হলেও শেষ সেশনে জয়ের চেষ্টা করতে পারতাম। কিন্তু ওই সেশনে বেশি উইকেট হারানোয় আর সেই চেষ্টা করা যায়নি। ড্রয়ের আশায় ব্যাট করলে এই উইকেটে টিকে থাকা অনেক কঠিন। এ জন্যই আমরা নেচারাল ব্যাটিং করতে গেয়েছি। দলের বোলারদের ক্রেডিট দিতে গিয়ে মুশফিক বারবার টেনে আনেন সোহাগ গাজীকে। ‘দারুণ বল করেছেন তিনি। দেখবেন বেশির ভাগ ডেঞ্জার ব্যাটসম্যানদের উইকেটই তুলে নিয়েছেন তিনি। আসলে ওকে যখন দলে নেয়া হয়, তখন কথা উঠেছিল। আমরা ওকে একটি মেসেজ দিয়েছিলামÑ তুমি উইকেট পাও আর না পাও; তুমি তোমার বোলিং করবে, যাতে রান চেক দেয়া যায়। তা ছাড়া কারিবীয়দের দলে ক’জন বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন, সে জন্যই সোহাগ গাজী খুবই কার্যকর হবেন ভেবেই দলে নেয়া। আল্লাহর রহমতে, আলহামদুলিল্লাহ সোহাগ খুবই ভালো করেছেন। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও দারুণ বোলিং করেছেন তিনি। তবে মুশফিক চতুর্থ ইনিংসে এমন পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য আরো বেশি ম্যাচ খেলার ওপর জোর দেন। ‘আমরা এ পরিস্থিতিতে খুব কমই পড়েছি। বেশি ম্যাচ খেললে এটি কাভার করার কৌশল আয়ত্তে আনা সম্ভব হতো।’

পুরো ম্যাচের দলের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, শেষ দুই সেশন বাদ দিলে আমরা ভালো একটি গেম খেলেছি। প্রতিটি ইনিংসেই আমরা লড়াই করেছি পরিস্থিতি অনুসারে। এটি ভালো একটি দিক।

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস : ৫২৭/৪ ডিকে. (১৪৪ ওভার)

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৫৫৬/১০ (১৪৮.৩ ওভার)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংস : ২৪৪/৬ (আগের দিনের)

রান বল ৪ ৬

সামি এলবিডব্লিউ ব সোহাগ ১৬ ২২ ১ ১

নারিন অপ: ২২ ২৯ ২ ১

রামপাল ব সোহাগ ৫ ১৭ ০ ০

বেস্ট ব সোহাগ ০ ১ ০ ০

চন্দরপল এলবিডব্লিউ ব সোহাগ ১ ৪ ০ ০

অতি: (বা-১, লেবা-৩, নো-৪) ৮

মোট (৭৪.২ ওভার অলআউট) ২৭৩

উইকেট পতন : ১/২০, ২/২০৯, ৩/২১২, ৪-২১৮, ৫/২২৫, ৬/২৪৪, ৭/২৪৯, ৮/২৬৫, ৯/২৬৫, ১০/২৭৩।

বোলিং : সোহাগ ২৩.২-২-৭৪-৬, রুবেল ১৯-৪-৫৩-২, রিয়াদ ৩-০-১২-০, শাহাদত ৭-১-৩৪-০, সাকিব ১১-২-৫৬-২, নাঈম ৮-০-২২-০, নাসির ৩-০-১৮-০।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস

তামিম ক রামদিন ব রামপাল ৫ ১৫ ০ ০

জুনায়েদ ক রামদিন ব বেস্ট ২০ ৪২ ১ ০

নাফীস ক অ্যান্ড ব বেস্ট ২৩ ৪০ ৩ ০

নাঈম এলবিডব্লিউ ব পারমাল ২৬ ৬৫ ৩ ০

সাকিব ক রামদিন ব বেস্ট ২ ৩ ০ ০

মুশফিক এলবিডব্লিউ ব বেস্ট ১৬ ৩৩ ১ ০

নাসির ব পারমাল ২১ ৩৩ ২ ০

রিয়াদ ব বেস্ট ২৯ ৫০ ২ ১

সোহাগ ক অতি: ব পারমাল ১৯ ৩৮ ২ ১

শাহাদত ক পাওয়েল ব রামপাল ৪ ২ ১ ০

রুবেল অপ: ০ ৭ ০ ০

অতি: (বা-১, নো-১) ২

মোট (৫৪.৩ ওভার অলআউট) ১৬৭

উইকেট পতন : ১/১০, ২/৪৪, ৩/৫১, ৪/৫৫, ৫/৮৫, ৬/১০৬, ৭/১১৯, ৮/১৫৫, ৯/১৫৯, ১০/১৬৭

বোলিং : রামপাল ১১-১-৩২-২, নারিন ১৮-১-৫৬-০, বেস্ট ১২.৩-২-২৪-৫, পারমল ৮-০-৩২-৩, সামি ৩-০-১৩-০, স্যামুয়েলস ২-০-৯-০।

ফল : ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭৭ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : কিরণ পাওয়েল।

সিরিজ : ১-০তে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

Saturday, November 17, 2012

লিভারের প্রদাহ ও ভাইরাল হেপাটাইটিস

 লিভারের প্রদাহ ও ভাইরাল হেপাটাইটিস 

আমাদের দেশে লিভারের নানাবিধ রোগ রয়েছে। সব সময় যে রোগটি ঘরে ঘরে দেখা যায় তা জনমুখে জণ্ডিস নামে পরিচিত। আসলে জণ্ডিস কোন রোগ নয়। এটা নানাবিধ কারণে লিভারের প্রদাহের লক্ষণ মাত্র। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণে লিভারের প্রদাহ হয়ে থাকে। যে কোন ভাইরাস দ্ব্বারা ইনফেকশন হয়ে লিভারের প্রদাহ হতে পারে। তন্মধ্যে কতগুলো ভাইরাস আছে মানব দেহে ঢুকেই যাদের লিভার কোষে বাসা বাঁধার শক্তি রয়েছে। এ জাতীয় ভাইরাসগুলোকে হেপাটাইটিস ভাইরাস হিসেবে নাম করণ করা হয়েছে। এই ভাইরাসগুলোকে একটি পরিবারের সদস্য হিসেবে গণ্য করা হয়। তাদের নাম যথাক্রমে হেপাটাইটিস ‘এ’, হেপাটাইটিস ‘বি’, হেপাটাইটিস ‘সি’, হেপাটাইসিস ‘ডি’ ও হেপাটাইটিস ‘ই’ ভাইরাস। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই এই ভাইরাসগুলো মানবদেহের লিভারকে আক্রান্ত করে। তাছাড়াও ডেঙ্গু ভাইরাস, ইয়েলো ফিবার ভাইরাস কখনো কখনো লিভারকে আক্রান্ত করতে পারে। ভাইরাস ছাড়া অন্যান্য কারণেও লিভারের প্রদাহের সৃষ্টি হতে পারে। যেমন- ওষুধের বিষক্রিয়া, আয়রণ কপার মেটাল প্রক্রিয়াজাতকরণের সমস্যা, এইচ আই ভি ইনফেকশন, মদ্যপানের অভ্যাস এবং কারণ জানা নেই এমন রোগ যেমন, অটোইমিউন হেপাটাইটিস। ব্যাক্টেরিয়া জনিত পায়োজেনিক লিভার এবসেস, হেপাটিক এমেবিয়াসিস,  হাইডাটিড ডিজিজ অব লিভার, একটিনোমাইকোসিস, টিউবারকালোসিস, সিফিলিস, লেপটোস্পাইরোসিস, রিকেটসিয়াল ইনফেকশন, সিস্টোসোমিয়াসিস, ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর, লিভার ফ্লুক্স ইত্যাদি দ্ব্বারাও লিভার আক্রান্ত
হতে পারে।
তবে আমাদের দেশে ভাইরাল হেপাটাইটিস, এমেবিক লিভার এবসেস ও হাইডাটিড ডিজিজ লিভারের রোগের অন্যতম কারণ। এ আলোচনায় ভাইরাল হেপাটাইটিস সম্পর্কে কিছু তথ্য পেশ করব।
আমরা জানি লিভার শরীরের জন্য একটি অতি প্রয়োজনীয় অঙ্গ। হেপাটাইটিস ভাইরাসের কারণে লিভারে প্রদাহ হলে আমরা তাকে হেপাটাইটিস রোগ বলি। হেপাটাইটিস রোগ স্বল্পমেয়াদী (Acute) বা দীর্ঘমেয়াদী (Chronic) দু’ ভাবেই হতে পারে।
হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ ভাইরাস স্বল্পমেয়াদী হেপাটাইটিস রোগের অন্যতম কারণ। হেপাটাইটিস ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’  ভাইরাস স্বল্পমেয়াদী  ও দীর্ঘমেয়াদী উভয় প্রকার হেপাটাইটিস রোগ সৃষ্টি করতে পারে। হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ ভাইরাস দুষিত পানীয় ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। হেপাটাইটিস ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’ ভাইরাস দূষিত রক্ত, সিরিঞ্জ, যৌন মিলন ইত্যাদির মাধ্যমে ছড়ায়। আমাদের দেশে হেপাটাইটিস ‘ই’ ও ‘এ’ ভাইরাসের কারণে স্বল্পমেয়াদী হেপাটাইটিসের প্রাদুর্ভাব বিশেষভাবে লক্ষ্য  করা যায় । আমাদের দেশের কর্মজীবী ও সাধারণ জনগন বাইরের প্রস্তুত করা খাবার গ্রহণে অভ্যস্থ বিধায় ‘ই’ ও ‘এ’ ভাইরাসটি সহজে সংক্রমিত হয়।
দীর্ঘমেয়াদী হেপাটাইটিস সৃষ্টিকারী ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বের প্রতি ১২ জনে ১ জন হেপাটাইটিস ‘বি’ বা ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত আছে। সে হিসেবে বিশ্বের প্রায় ৫২ কোটি লোক এই দুইটি ভাইরাসে আক্রান্ত। দীর্ঘমেয়াদী হেপাটাইটিস রোগের জটিলতা, যেমন- ক্রনিক হেপাটাইটিস, লিভার সিরোসিস, লিভার ফেইলিউর, লিভার ক্যান্সার দ্ব্বারা আক্রান্ত হয়ে রোগী মৃত্যু মুখে পতিত হয়। স্বল্প মেয়াদী হেপাটাইটিস আক্রান্ত রোগী সঠিক চিকিত্সার মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আরোগ্যলাভ করে কিন্তু কখনো কখনো লিভার ফেইলিওর হয়ে মারা যেতে পারে।
এই পর্যায়ে দীর্ঘ মেয়াদী হেপাটাইটিস সম্পর্কে আলোচনা করব। দীর্ঘ মেয়াদী হেপাটাইটিস এর অন্যতম কারণ হচ্ছে হেপাটাইটিস বি এবং সি ভাইরাস।
হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাস
বি ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের উপর ভিত্তি করে বিশ্বকে উচ্চ, মধ্যম ও নিম্ন আকান্ত এলাকা হিসেবে ভাগ করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ মধ্যম আক্রান্ত এলাকা। বাংলাদেশের শতকরা ৪.৪ ভাগ মানুষ এই ভাইরাস বহন করছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিদেশগামী দক্ষ/অদক্ষ শ্রমিকদের মধ্যে শতকরা ৪.৪ থেকে ৭.৫ ভাগ, গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে ৩.৫ ভাগ, বস্তিবাসী লোকদের মধ্যে ৩.৮ ভাগ, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৪.৮ ভাগ, স্কুলগামী শিশুদের মধ্যে ২.৩ ভাগ, স্বেচ্ছা রক্তদানকারীদের মধ্যে ২.৪ ভাগ লোক,  হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসে আক্রান্ত।
স্বল্পমেয়াদী হেপাটাইটিস রোগীদের শতকরা ১৯.০-৩৫.০ ভাগ, দীর্ঘ মেয়াদী লিভার রোগীদের শতকরা ৩৩.৩ - ৪০.৫ ভাগ এবং লিভার ক্যান্সার রোগীদের ক্ষেত্রে গড়ে শতকরা ৪৫.৮ ভাগ  হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে।
আমাদের দেশে হেপাটাইটিস ‘বি’ আক্রান্ত পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে শতকরা ২০.৯ ভাগ, পেশাদার রক্ত দাতাদের মধ্যে শতকরা ১৮.২-২৯.০ ভাগ, শিরাপথে ড্রাগাসক্তদের মধ্যে শতকরা ৬.২-১২.০ ভাগ, অন্যান্য ড্রাগাসক্তদের মধ্যে শতকরা ৪.৪ ভাগ, ট্রাক ড্রাইভারদের মধ্যে ৫.৯ ভাগ এবং পতিতাদের মধ্যে ৯.৭ ভাগ হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত।
কিভাবে ছড়ায়
রক্ত এবং রক্তজাত পদার্থ মূলত এই ভাইরাসের বাহক। রক্ত রস, লালা এবং বীর্যের  মাধ্যমে এই ভাইরাস এক দেহ থেকে অন্য দেহে সংক্রমিত হয়। আকুপাংচার, মুসলমানী, নাক, কান ফুঁড়ানো, সিরিঞ্জ, সূঁচ,  নাপিতের ক্ষুর ইত্যাদি ভাগাভাগি করে ব্যবহার করার মাধ্যমে হেপাটাইটিস ‘বি’ ছড়ায়। হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাস, এইডস এর ভাইরাস (এইচআইভি) এবং হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসের মতই যৌন মিলনের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। পুরুষ সমকামী এবং পতিতাদের মাধ্যমে সমাজে দ্রুত এই ভাইরাস বিস্তারলাভ করে।
এই রোগের প্রকৃতি নির্ভর করে কোন বয়সে একজন ব্যক্তি হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হলো তার উপর। গর্ভাবস্থায় মা হেপাটাইটিস ‘বি’ এর বাহক হলে পরবর্তীতে জন্মগ্রহণকারী শিশুর মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে এ ভাইরাস বিস্তার লাভ করে। অন্যদিকে বয়স্ক লোকের বেলায় এই হার মাত্র শতকরা ৫-১০ ভাগ।
হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস
বিশ্বে মোট ১৭০ মিলিয়ন লোক হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত। এশিয়া মহাদেশে আক্রান্তের হার শতকরা ০.৩ ভাগ থেকে ৪.০ ভাগ পর্যন্ত। সাধারণত রক্ত পরিসঞ্চালন, অঙ্গপ্রতিস্থাপন, ইঞ্জেকশন এবং আক্রান্ত মা থেকে শিশু ও যৌন মিলনের মাধ্যমে হেপাটাইটিস সি ভাইরাস বিস্তার লাভ করে।
বাংলাদেশের পেশাদার রক্ত দাতাদের মধ্যে শতকরা ১.২ ভাগ এই ভাইরাস বহন করে। পরিসংখ্যাণে দেখা গেছে, ১ টি বিশেষায়িত হাসপাতালে কর্মরত ১.৪৪% স্বাস্থ্যকর্মী হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত। বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে আক্রান্তের হার শতকরা ০.৫  জন।
অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে দীর্ঘ মেয়াদী লিভার রোগীদের শতকরা ৯.৬ ভাগ, রক্ত গ্রহণের পর জন্ডিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬.৮ ভাগ এবং স্বল্প মেয়াদী জন্ডিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ১.৭ ভাগ রোগী হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত।
হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোন টীকা বা প্রতিষেধক এখনও আবিস্কার হয় নাই। সুতরাং, প্রতিরোধই এ রোগ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়।
ভাইরাল হেপাটাইটিস
নিয়ন্ত্রণে করণীয়
ভাইরাল হেপাটাইটিস নিয়ন্ত্রণে সর্বাপেক্ষা জরুরী হল এ রোগ সমূহের বিস্তার ও চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা। এছাড়া প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা, হেপাটাইটিস ‘বি’ এর টিকা গ্রহণ, বিশুদ্ধ রক্ত পরিসঞ্চালণ নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ পানীয় ও খাবার গ্রহণ এবং ডিসপোজেবল নিডল্ (সুঁই) ও সিরিঞ্জ ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভাইরাল হেপাটাইটিস এর প্রাদুর্ভাব কমিয়ে আনা সম্ভব।

রক্তের ভাসমান চর্বি থেকে হার্টের সমস্যা

 রক্তের ভাসমান চর্বি থেকে হার্টের সমস্যা 

রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ে কথা হলেই সবাই প্রথমে মাথায় আনেন ভালো কোলেস্টেরল এইচডিএল অথবা খারাপ কোলেস্টেরল এলডিএল। তবে যুক্তরাষ্টের হিউস্টনের বেলর কলেজ অব মেডিসিনের অধ্যাপক ড: পিটার এইচ জোনস এমডি এর অভিমত: হার্ট ভালো রাখতে হলে রক্তের ট্রাইগিসারাইড অবশ্যই ১৫০ অথবা এর নীচে রাখা দরকার। অনেক ক্ষেত্রে রক্তের এই ভাসমান চর্বি হার্টের রক্তনালীতে জমা হয়ে হার্টের সমস্যা করতে পারে। এমনকি অনেক বিশেষজ্ঞও মনে করেন ভালো কোলেস্টেরল এইচডিএল ঠিক থাকা এবং খারাপ কোলেস্টেরল এলডিএল কম থাকলেই চলে। হার্ট ডিজিজ ও ডায়াবেটিস এর ক্ষেত্রে রক্তে ভাসমান চর্বি হিসাবে পরিচিত ট্রাইগিসারাইড বেশী ঝুঁকির্পূণ। তাই রক্তের
ট্রাইগিসারাইড ১৫০ মাত্রার নীচে নামিয়ে রাখতে হবে। কোন প্রকার ওষুধ ছাড়াই রক্তের এই ক্ষতিকর ট্রাইগিসারাইড ৩০ থেকে ৫০ শতাংশে হ্রাস করতে পারেন। আর এটা সম্ভব যদি আপনি আপনার খাবারের তালিকা থেকে স্যাসুরেটেড ফ্যাট বা সম্পৃক্ত চর্বি যেমন: গরুর মাংস, লালমাংস, মাখন, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল, কালো চকলেট, ডিম, চিপস ইত্যাদি বাদ দেন অথবা এ ধরণের চর্বি খাওয়ার পরিমাণ একেবারেই কমিয়ে দেন। পাশাপাশি শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে পারেন। এতে আপনার হ্নদরোগ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি ২০ থেকে ৩০ ভাগ কমেযাবে।  এছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুষম খাদ্য তালিকা অনুসরণ করলেও রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

 

ঢাবি ক্যাম্পাস ময়লার ভাগাড়ে পরিণত

ঢাবি ক্যাম্পাস ময়লার ভাগাড়ে পরিণত


রাস্তার দু’পাশে ময়লার স্তূপ। ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে রাস্তার ওপরও। তা নিয়ে কাক-কুকুরের কাড়াকাড়ি। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র এটি। ক্যাম্পাসের ফুলার রোড, রোকেয়া হল, জিয়া হল, বিজয় ৭১ হল, মুহসীন হল, টিএসসি, মল চত্বর, মধুর ক্যান্টিন, ভিসি চত্বরের আশপাশসহ প্রায় প্রতিটি স্থানই ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় স্তূপ জমে আছে স্থানগুলোতে। ময়লার দুর্গন্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সঙ্গে পথচারীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়লেও তাতে মাথাব্যথা নেই কর্তৃপক্ষের। উপরন্তু চরম উদাসীনতার ভূমিকা পালন করছে সিটি করপোরেশন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাছাড়া ময়লা ফেলার জন্য ভ্রাম্যমাণ ডাস্টবিনেরও স্বল্পতা রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা অনিচ্ছা সত্ত্বেও যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন। ক্যাম্পাসের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত নয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ময়লার ডিপো পরিষ্কার করার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। তারা নিয়মিত দায়িত্বে অবহেলা করে থাকে। যার ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করেন ময়লা-আবর্জনা বৃদ্ধির পেছনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যথেষ্ট অবহেলা রয়েছে। ক্যাম্পাস পরিষ্কার রাখার জন্য কয়েক শ’ কর্মী নিয়োজিত রয়েছে। তারা নিয়মিত তাদের দায়িত্ব পালন করে কি না এ বিষয়ে প্রশাসনের কোন মাথাব্যথা নেই। এ ব্যাপারে মুহসীন হলের আবাসিক ছাত্র আলাউদ্দিন বলেন, আবর্জনার কারণে মশার উৎপাত বেড়েছে। যার কারণে শিক্ষার্থীরা ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষার্থে তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এস এম হলের ছাত্র আসাদ বলেন, দুর্গন্ধের কারণে রাস্তা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারি না। তিনি হতাশ কণ্ঠে বলেন, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এ অব্যবস্থাপনা সত্যিই দুঃখজনক।
এদিকে সামান্য বৃষ্টির কারণে ক্যাম্পাসের অধিকাংশ স্থানেই পানি জমে যায়। বৃষ্টির পানিতে ময়লা মিশে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন স্থানে। এতে ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও সৌন্দর্য মারাত্মক হুমকির মুখে। অপরিচ্ছন্নতার দরুন বেড়ে গেছে মশার উৎপাত। মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ আবাসিক শিক্ষার্থীরা। কয়েল জ্বালিয়েও নিস্তার পাওয়া যাচ্ছে না। রাত-দিন মশারি টাঙ্গিয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। মশার কামড় এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অবস্থান করার কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটছে। পরীক্ষার ফলাফলও খারাপ হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে অন্যদিকে দেশের উচ্চ শিক্ষার হারেও ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে। রোকেয়া হলের আবাসিক ছাত্রী প্রিয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে অপরিচ্ছন্নতা যেন আমাদের নিত্য সঙ্গী হয়ে গেছে। অপরিচ্ছন্নতার কারণে মশার উৎপাত এতই বেড়ে গেছে যে, কয়েল জ্বালিয়েও এর থেকে নিষ্কৃতি পাচ্ছি না। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার জন্য প্রয়োজন সুন্দর পরিবেশ। ক্যাম্পাসে সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে তিনি কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান। বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক ছাত্র জাহিদ বলেন, ক্যাম্পাসে আসতে হলে নাকে রুমাল দিতে হয়। তিনি বলেন, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভাল না হওয়ায় বর্ষা মওসুমে অনেক বেশি কষ্ট হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এম আমজাদ এ বিষয়ে বলেন, ক্যাম্পাসের পরিবেশ রক্ষা আমাদের একার পক্ষে সম্ভব না। নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা ফেললে ক্যাম্পাস অপরিষ্কার হওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকে না। ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখতে সবার সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত এর প্রতিকারে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে চাপ দেবেন ওবামা

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে চাপ দেবেন ওবামা


পূর্ব এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে মিয়ানমার সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা বলবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট থেইন সিয়েন এবং বিরোধী দলের নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে। এছাড়া বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিষয়ে কোন আলোচনা হবে কি-না সে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া না গেলেও প্রেসিডেন্টের আলোচনায় রোহিঙ্গা সমস্যার একটি সামগ্রিক সমাধানকে গুরুত্ব দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক মিডিয়া মুখপাত্র ম্যারেন পাইন হোমস। বাংলাদেশের রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোন অনুরোধ আছে কি-না এবং থাকলে এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টের আসন্ন সফরে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা আছে কি-না জানতে চাইলে মুখপাত্র ‘যুক্তরাষ্ট্র সব সময় রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে একটি সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগকে প্রাধান্য দেয়’ বলে মন্তব্য করে জানান প্রেসিডেন্টের আলোচনার বিষয়টি আমার এখতিয়ার বহির্ভূত, তবে এ বিষয়ে আপনার প্রশ্নটি হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টের সফর সংশ্লিষ্ট আমার সহকর্মীর কাছে পাঠানো হয়েছে। গতকালের কার্যদিবসের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এ বিষয়ে আর কিছু জানা সম্ভব হয়নি।
এদিকে গত বুধবার অস্ট্রেলিয়ার পার্থে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ওবামার ঐতিহাসিক মিয়ানমার সফরে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে মুসলিম ও বৌদ্ধদের মধ্যে চলমান জীবনঘাতী সামপ্রদায়িক সংঘাতের বিষয়টি আলোচনার এজেন্ডায় রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা সব সময় এ সংঘাতের নিন্দা জানিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক উপায়ে সমস্যার মূল কারণের একটি আইনসঙ্গত সমাধানের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছি। ধারণা করা যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের বার্মার নাগরিক স্বীকার করার পক্ষে প্রয়োজনীয় আইন সংস্কারের বিষয়টি প্রেসিডেন্টের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদে আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রথম পরীক্ষাটি হয়েছে চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের পুনর্নির্বাচনে। এ নির্বাচনে পশ্চিম ইউরোপ এ অন্যান্য গ্রুপের তিনটি আসনের জন্য জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, গ্রিস ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় এবং নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র হেরে যেতে পারে বলেও নির্বাচনের আগের দিন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সব মিডিয়ায় সংবাদ পরিবেশিত হয়। কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারির ব্যক্তিগত নজরদারি, সম্ভাব্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে থাকা এবং জাতিসংঘ কূটনীতিতে ওবামার পরম নির্ভরতার প্রতীক সুসান রাইসের দক্ষতায় শেষ পর্যন্ত অনেকটা ওবামা স্টাইলে যুক্তরাষ্ট্র এ গ্রুপে সর্বোচ্চ ১৩১ ভোটে প্রথম স্থান পেয়ে নির্বাচিত হয়। নির্বাচনোত্তর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এ তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নিবাচনে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থনকারী সব সদস্যরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান এবং মানবাধিকার পরিষদের ভবিষ্যৎ কাজকর্মে ইসরাইলের প্রতি অতিমাত্রিক নেতিবাচক মনোযোগ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের বিজয়ের ফলে পররাষ্ট্রনীতিতে মূলত জয় দিয়েই ওবামা তার দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করলেন। আর এ রকমই আরেকটি জয়ের সম্ভাবনা মাথায় রেখে সর্বপ্রথম ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আগামী সপ্তাহে মিয়ানমার সফর করছেন ওবামা। ইতিপূর্বে বিশ শতকের প্রথম দশকে প্রেসিডেন্ট হার্ভার্ট হুভার ও প্রেসিডেন্ট ইউলায়সেস গ্রান্ট যখন মিয়ানমার সফর করেন তখন তারা ক্ষমতাসীন ছিলেন না। এছাড়া প্রেসিডেন্ট নিক্সনও ১৯৫৩ সালে প্রথমবার এবং ১৯৮৫ সালে শেষবারের মতো মিয়ানমার সফর করেন। সমগ্র এশিয়াজুড়ে এমনকি এশিয়া থেকে পশ্চিমের দেশগুলোতে মানুষ ও পণ্যের যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে প্রাচীনকাল থেকেই মিয়ানমারের সুখ্যাতি। তদুপরি ভারত মহাসাগরের কোলজুড়ে আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারত ও উঠতি বিশ্বশক্তি চীনের মাঝখানে কৌশলগত ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে প্রেসিডেন্ট ওবামার পররাষ্ট্রনীতির মূল চালিকাশক্তি ‘এশিয়া পিভট’ এর অপরিহার্য অংশীদারে পরিণত হয়েছে মিয়ানমার। সমপ্রতি মিয়ানমার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে যথেষ্ট ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা গ্রহণ করেছে। ফলে এতদিন অব্যবহৃত বাণিজ্য সম্ভাবনার সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পেপসি, কোকাকোলা, ভিসা কার্ড, মাস্টার কার্ড, জেনারেল ইলেকট্রিকের মতো মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। দেশটিতে ওবামার জনপ্রিয়তা তার নিজদেশ আমেরিকার চেয়েও অনেক বেশি।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কারনির মতে, ‘প্রেসিডেন্টের এশিয়া সফরে অনেক ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা হবে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, চাকরির সুযোগ সৃষ্টি, ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্বালানি ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় বর্ধিত অংশীদারিত্ব, মানবাধিকার, সমমূল্যবোধ এবং অন্যান্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয়ে সম-অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা হবে।’
পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পুরনো সামরিক মিত্র থাইল্যান্ড থেকে সফর শুরু করবেন ওবামা। যুক্তরাষ্ট্র-থাইল্যান্ড কূটনৈতিক সম্পর্কের ১৮০ বছর উদযাপন উপলক্ষে থাই প্রধানমন্ত্রী ইন্‌গ্লাক সিনাওয়াত্রার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রেসিডেন্ট ওবামা এবং ট্রান্স-প্যাসিফিক স্ট্রেটেজিক ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্টে স্বাক্ষর করার জন্য থাইল্যান্ডকে অনুরোধ জানাবেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হবে।
এরপর মিয়ানমার সফর করে শেষ ধাপে কম্বোডিয়া যাবেন ওবামা। কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে ওবামা মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক সংগঠন ‘আশিয়ান’-এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেবেন। এই সুযোগে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এদিকে স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও হোয়াইট হাউসের সূত্রগুলো বলছে, ওবামার মিয়ানমার সফর নিয়ে প্রথম থেকেই অং সান সু চির নীরবতা ছিল। মাসখানেক আগে কর্মকর্তারা এ সফর বিষয়ে সুচির মতামত জানতে চাইলে সুচি কর্মকর্তাদের কাছে অনেক প্রশ্নের উত্তর জানতে চান। বার্মায় রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি, রাজনৈতিক ও মানবাধিকার বাস্তবায়নের ধীরগতি ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় এখনই বার্মা সফরকে ‘অনেক তাড়াতাড়ি’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কূটনীতিবিদরা বলছেন সুচির মন্তব্যে কখনও মনে হয়নি যে তিনি এ সফরের বিরুদ্ধে। এক পর্যায়ে সুচি ওবামার সফরকে বার্মায় গণতন্ত্রের পক্ষে সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর দিকে নজর দেন। সফরে প্রেসিডেন্ট ওবামা যেন মিয়ানমারের নয়া রাজধানী ন্যায়পায়ডো ভ্রমণে না যান সে বিষয়েও সুচি ওবামা প্রশাসনকে অনুরোধ করেন এবং মিয়ানমারে গণতন্ত্রের উত্তরণ বিষয়ে এখনই খুব বেশি আশাবাদী না হতে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়কে পরামর্শ দেন। এদিকে হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ওবামা রেঙ্গুন সফর করবেন। কিন্তু তিনি নয়া রাজধানী ন্যায়পায়ডো সফর করবেন কি-না তা জানা যায়নি। অসমর্থিত সূত্রে জানা যায়, প্রেসিডেন্ট ওবামা মিয়ানমার প্রেসিডেন্ট থেন সিয়েন এবং বিরোধী নেত্রী অং সান সু চি উভয়ের সঙ্গেই সাক্ষাৎ করবেন। আবার কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, নিরাপত্তা বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ওবামার মিয়ানমার সফর বাতিলও হতে পারে। মিয়ানমার পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, প্রেসিডেন্ট ওবামার সফরকালীন মিয়ানমারে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র। মিয়ানমার সরকার তাই মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের হাতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা অর্পণ করেছে। মিয়ানমার মার্কিন দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রেসিডেন্ট ওবামা ১৯শে নভেম্বর সোমবার সকালে রেঙ্গুনে অবতরণ করছেন বলা হলেও নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি কোথায় উঠছেন তা জানানো হয়নি। উল্লেখ করা যেতে পারে, ১৯৮৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট চুন দো হুয়ানের মিয়ানমার সরকারি সফরে উত্তর কোরিয়ার পরিকল্পনায় ও নির্দেশে এক বোমা হামলায় দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি কর্মকর্তাসহ ২১ জন নিহত হন।

মুক্তিপণের টাকায় গাজীপুরে চলছিল পার্টির আয়োজন

মুক্তিপণের টাকায় গাজীপুরে চলছিল পার্টির আয়োজন


ঢাকার পার্শ্ববর্তী গাজীপুরে গেট টুগেদার করতে চেয়েছিল পরাগের অপহরণকারীরা। মুক্তিপণের টাকা ভাগাভাগি ও ‘সফল অপারেশন’ উপলক্ষে পার্টি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল শীর্ষ সন্ত্রাসী আমির। বৃহস্পতিবার সকালেই অপহরণকারীদের নিয়ে ফুর্তি করতে চেয়েছিল। কিন্তু তার আগের রাতেই র‌্যাব সদস্যদের হাতে অপহরণকারীরা গ্রেপ্তার হলে ওই পরিকল্পনা ভণ্ডুল হয়ে যায়। এরপরই ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায় আমির ও তার সহযোগীরা। এতে মুক্তিপণের একটি টাকাও তাদের ভাগ্যে জোটেনি। গতকাল মামলার তদন্ত ও মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে দেয়া জবানবন্দি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ৬ জনের মধ্যে তিন আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। অপহরণে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। বাকি তিন আশ্রয়দাতাকে ১০ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া আগেই গ্রেপ্তার হওয়া অন্য আসামি মামুনকে ৭ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। আদালতে দেয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে অপহরণকারী জাহিদুল ইসলাম, কালাচান ও মোহাম্মদ আলী ওরফে রিফাত জানিয়েছে, টাকার লোভে আমিরের নির্দেশে তারা পরাগ অপহরণের ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। অপহরণে সহায়তা করেছিল। এরপর তারা দল বিচ্ছিন্ন হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় লুকিয়ে থাকে। একপর্যায়ে ঢাকার বাইরে গাজীপুরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। বুধবার রাতে জুরাইনের ১/২ নম্বর মেডিকেল রোডের একটি বাড়ি থেকে ৬ অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এদের মধ্যে রিফাত, জাহিদ ও কালাচান অপহরণকারী। আবুল কাশেম (৩৬), রিজভী আহমেদ অনিক (১৯), আলফাজ হোসেন ও মাসুদ (২৩) ওই অপহরণকারীদের আশ্রয়দাতা। র‌্যাব তাদের গ্রেপ্তার করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের গডফাদারের তথ্য জানতে পেরেছে। একইসঙ্গে অপহরণে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। সূত্র জানায়, বুধবার রাতে আমির ফোন করে রিফাতের নম্বরে। টাকার ভাগ-বাটোয়ারা ও আত্মগোপনের কৌশল নিয়ে আলোচনার জন্য গাজীপুর যেতে বলে। সেখানে গিয়ে ওই নম্বরে ফোন দিয়ে তার আস্তানার লোকেশন জেনে নেয়ার পরামর্শ দেয়। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, র‌্যাব আগেই গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করে মূল হোতাদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। বিষয়টি মিডিয়াতে প্রচার না করলেও হয়তো মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হতো। সূত্রমতে, পরাগ অপহরণের নেপথ্যে স্থানীয় যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম ওরফে জুয়েল মোল্লা, শীর্ষ সন্ত্রাসী আমিরসহ কেরানীগঞ্জ ও জুরাইনের ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজনের কানেকশন খুঁজে পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ইয়াছিন, নুরুল ইসলাম ও সঞ্জয়ের নাম অপহরণকারীদের তালিকায় উঠে আসে। অপহরণের সময় দুই মোটরসাইকেলের একটিতে আমির ও অন্যটিতে সঞ্জয় প্রধান শুটারের দায়িত্ব পালন করেছে। যুবলীগ নেতার পরিকল্পনায় সরকার দলীয় একাধিক অঙ্গসংগঠনের ক্যাডারদের সহায়তায় আমির বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও চুরির মামলাসহ অন্ততপক্ষে ১২টি মামলা রয়েছে। সে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, ডেমরা ও কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের তালিকা ভুক্ত সন্ত্রাসী। এছাড়া যাত্রাবাড়ী আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী হত্যা মামলায় এই আমিরের সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। সূত্রমতে, জুরাইন ও কেরানীগঞ্জের উঠতি সন্ত্রাসীদের মধ্যে আমির ছিল ভয়ঙ্কর। তার সঙ্গে সরকারদলীয় বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও পুলিশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। স্থানীয় লোকজনের কাছে সে টুণ্ডা ওরফে ল্যাংড়া আমির হিসাবেই পরিচিত।
মুক্তিপণের তথ্য দেয় দোকানদার: অপহরণের কয়েকদিন আগে থেকেই সন্ত্রাসীরা চাঁদা দাবি করেছিল পরাগের পিতা বিমল মণ্ডলের কাছে। প্রাণের ভয়ে বিষয়টি গোপন করেছিলেন তিনি। গোপনে অল্প টাকায় রফা করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কাজ হয়নি। এ তথ্য ওই পরিবার কাছ থেকে ফাঁস হয়ে যায়। আশপাশের চা ও পানের দোকানে আলোচনার বিষয় বস্তু হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে পরাগ অপহরণের পরপরই পাশের একটি পানের দোকানদারের কাছ থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। ওই তথ্য পাওয়ার পর পরাগের পিতা বিমলের কাছে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন। এরপরই তার কাছ থেকে চাঁদাদাবিকারী ব্যক্তির ফোন নম্বর সংগ্রহ করে পরাগ অপহরণকারী চক্রের পরিচয় উদঘাটন করে।

Friday, November 16, 2012

খোশ আমদেদ হিজরি নববর্ষ


আগামীকাল পহেলা মহররম, হিজরি নববর্ষের প্রথম দিন। হিজরি নববর্ষকে খোশ আমদেদ জানাই। হূদয়ের সব উষ্ণতা দিয়ে তোমাকে গ্রহণ করি। তুমি কেবলই যুগে যুগে নয় শতাব্দীর পর শতাব্দী বিশ্বমুসলিমকে নতুন প্রেরণায় উদ্দীপ্ত করে আসছো। তোমাকে আমরা স্মরণ করি। তুমি এলে আমরা আত্মসচেতন হই। নিজেদের অস্তিত্ব খুঁজে পেতে চেষ্টা করি। দেখতে না দেখতেই আমাদের মাঝ থেকে কালের গর্ভে হারিয়ে গেল ১৪৩৩ হিজরি। চলে এলো ১৪৩৪ হিজরি। আমরা জানি হযরত ঈসা (আ.) এর তিরোধানের পর হতে খ্রীষ্টাব্দ গণনা করা হয়ে থাকে। আর মুহাম্মদ (স.) এর মক্কা হতে মদীনায় হিজরতের দিন অর্থাত্-৬২২ খ্রীষ্টাব্দ থেকেই হিজরি সালের গণনা করা হয়। হিজরি সালের ক্যালেন্ডার রসূল (স.) এর সময় হতে প্রচলিত না হলেও তাঁর খলিফা আমিরুল মুমেনীন হযরত ওমর (রা.) এর শাসনামলে ১৭ হিজরি বা রসূলের ইন্তেকালের সাত বছর পর হতে এই হিজরি সনের প্রচলন করা হয়। সে সময় হযরত ওমর (রা.) অর্ধ পৃথিবীর শাসনকর্তা ছিলেন। তখন রাজ্যের বিভিন্নস্থানে চিঠিপত্র প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়। তাই তিনি সমসাময়িক সাহাবায়ে কেরামদের পরামর্শক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেন। পৃথিবীতে আজ নানারকম আগ্রাসনে অসহায় মানুষ দিশাহারা। ধর্মগত, ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত প্রভাবে উন্নত দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ফেলেছে। তা থেকে বের হয়ে আসার কোন উপায় যেন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। যার কারণে হিজরি নববর্ষ নিয়ে কোন সাড়া-শব্দ নেই। মহররম আসে আমাদের পুরাতন বছরের জরাজীর্ণতাকে মুছে দিয়ে নতুনরূপে, নতুন স্বপ্নে ডানা মেলে, নতুন প্রত্যাশার ভেলায় চড়ে আজানাকে জানার, অচেনাকে চেনার ও দুরন্ত সাহসীকতার পথে নির্ভীক পথ চলার কল্যাণময় শুভ বার্তা নিয়ে। গভীরভাবে লক্ষ্য করুন যদি এই নববর্ষ নিরবে নি:শব্দে চলে যায় তাহলে আমরা কিভাবে নতুন শপথ ও প্রত্যয় নিয়ে পথ চলবো? সবচেয়ে বড় কথা হলো- হিজরি সনের যে প্রেক্ষাপট তা যে কোন মুমিন মুসলামান হূদয়ে নবী প্রেমের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও যশোগাঁথা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা কি হয়? হয় না তার কারণ আমরা হিজরি সনের মর্মকথা পটভূমি ও প্রেক্ষাপট জানি না, জানার চেষ্টাও করি না। সে দিন ছিল ১২ সেপ্টেম্বর ৬২২ খ্রীষ্টাব্দ। হযরত মুহাম্মদ (স.) মক্কা হতে মদীনায় হিজরত করেছিলেন আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে। কারণ পৃথিবীতে যত নবী রসূল এসেছিলেন সকল নবীও রসূলেরা নির্যাতিত হয়েছেন। অনেকেই হিজরত করতে বাধ্য হয়েছেন। তেমনিভাবে হযরত মুহাম্মদ (স.) ৬১০ খ্রীষ্টাব্দে নবুওয়াত পাওয়ার পর আল্লাহ অস্বীকারকারীদেরকে এক আল্লাহর দিকে আহ্বান করেছিলেন তখন তাঁর সবচেয়ে প্রিয় মানুষেরা বিরোধীতা শুরু করেছিল। গোপনে গোপনে তিন বছর দাওয়াত দিয়েছিলেন। এর পর আল্লাহর নির্দেশে সাফা পাহাড়ে প্রাকশ্যে এক আল্লাহর ওপর ঈমান আনয়নের ঘোষণা করেছিলেন। তখন থেকেই আরম্ভ হয়েছিল নির্যাতন। পথে প্রান্তে তাকে অপমানিত লাঞ্চিত করা হতো। নামাজরত অবস্থায় উটের নাড়ী ভুড়ি তাঁর পিঠের ওপর চাপিয়ে দেয়া হতো। গমনা-গমনের পথে কাটা বিছিয়ে রাখা হতো। শিয়াবে আবু তালিব নামক শিবিরে দীর্ঘদিন বন্দি করে রাখা হয়েছিল। এরপর তার সঙ্গি সাথী সাহাবীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন করা হচ্ছিল। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হযরত খাব্বাব (রা.), তালহা (রা.), আবদুর রহমান বিন আউফ (রা.), হযরত বেলাল (রা.) আম্মার ইয়াছির ও সুমাইয়া। হযরত বেলাল (রা.)কে তো মুরুভূমির উত্তপ্ত বালুকারাশির ওপর চিত্ করে শোয়ায়ে বুকের ওপর পাথর চাপা দিয়ে রাখা হতো। এই অবস্থায় অত্যাচারী উমাইয়া বিন খলফের চাবুকের প্রচন্ড আঘাতে তার গোটা শরীর জর্জরিত হয়ে যেত। হযরত আম্মার ইয়াছির, সুমাইয়া এদের ওপরও এই নির্যাতনের ষ্টিম রোলার চালানো হয়েছে। কাফেরেরা নবীজীকে শারীরিক নির্যাতনে যখন দ্বীনের দাওয়াত থেকে স্তব্ধ করতে পারলোনা তখন মানুষিক নির্যাতন দেয়ার জন্য নানা রকম ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করতে লাগলো। তারা তাকে পাগল, কবি, জাদুকর ইত্যাদি বলে অপপ্রচার করতে থাকলো। কিন্তু কিছুতেই কোন কাজ হলো না। বরং মুহাম্মদ (স.) তাঁর মিশন সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকলেন। একদিন তারা নদওয়া নামক তাদের মন্ত্রণাগৃহে সকল গোত্র পতিদের একটি বৈঠক করলো। সেখানে তারা সিদ্ধান্ত নিল যে, “আমরা নানা রকম কৌশল করে মুহাম্মদ (স.) কে ঠেকাতে চেয়েছি। কিন্তু সে তো থেমে থাকার লোক নয় বরং তার চেয়ে আমরা মুহাম্মদ (স.) কে দুনিয়া হতে সরিয়ে দেই”। সকলে এই সিদ্ধান্তের ওপর সমর্থন করলো, তারা সকল গোত্র হতে শক্তিশালী যুবকদের বাছাই করলো। তাদেরকে ঘোষণা দিল, ‘যে মুহাম্মদ (স.) এর জীবন্ত অথবা মৃত দেহ এই নদওয়া গৃহে হাজির করতে পারবে। তাকে একশত উট পুরস্কার দেয়া হবে।” যেই কথা সেই কাজ। মক্কার সকল গোত্র হতে শক্তিশালী পাহলোয়ান যুবকেরা একত্রিত হয়ে শপথ নিয়ে বের হলো হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর বাড়ী ঘেরাও করে আজ রাতেই তাঁর জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটাবে। এদিকে আল্লাহতায়ালা তাঁর প্রিয় হাবিবকে নির্দেশ করলেন হে নবী মক্কার মানুষ আপনাকে চায় না। মদীনার মানুষেরা আপনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। আপনি মদীনায় হিজরত করে চলে যান। মহানবী (স.) আল্লাহতায়ালার এই ঘোষণা পাওয়ার পর রাতের অন্ধকারে নিজ বিছানায় হযরত আলী (রা.) কে শায়িত রেখে মদীনার পথে রওনা দিলেন। সাথী হিসেবে বন্ধু আবু বকর (রা.) কে সঙ্গে নেয়ার জন্য তাঁর বাড়ীর সামনে গিয়ে, আবু বকর! বলে একবার ডাক দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে আবু বকর (রা.) বেরিয়ে এলেন। এত তাড়াতাড়ি কিভাবে এলে? জিজ্ঞাসা করলেন হযরত (স.)। আবু বকর (রা.) বললেন, ইয়া রসূলুল্লাহ (স.)! যেদিন আপনি আমাকে বলেছিলেন, ‘ হে আবুবকর মক্কার কাফেরেরা বড়ই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। কবে কখন হয়ত মক্কা হতে মদীনায় হিজরত করতে হতে পারে। সেদিন হতে একটি রাতের জন্যও আমি বালিশে মাথা রেখে ঘুমাই নাই। কারণ আমি আরাম করে ঘুমিয়ে থাকবো আর কাফেরেরা আপনাকে ধাওয়া করবে আপনি আমাকে ডেকে ডেকে পাবেন না। কাফেরেরা আপনাকে আঘাত করবে, যখম করবে। আমি আবু বকর এটা সইতে পারবো না। মহানবী (স.) বললেন আবু বকর! চলো আর নয় এখানে। কারণ আল্লাহর নির্দেশ মদীনায় হিজরতে যাওয়ার।’ তারা চললেন মদীনা অভিমুখে। চলতে চলতে রাত শেষ হয়ে সুবহে সাদিক হয়ে গেল। রসূল (স.) ও আবু বকর (রা.) তখন মক্কার অনতি দূরে সওর নামক পর্বতের সন্নিকটে। তারা ভাবলেন কাফেরেরা হয়ত তাকে বাড়ীতে না পেয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়বে। সুতরাং এখানে রাতে আত্মগোপন করে থাকা যাক। তারপর তারা কিছুটা নিবৃত হলে আবার রওনা দেওয়া যাবে। সে হিসেবে সওর পর্বতের একটি গুহার মধ্যে ঢুকলেন। এই গুহায় বিষধর সাপ ছিল। হযরত আবু বকরকে সাপে দংশন করেছিল। মহানবী (স.) তাঁর মুখের থুথু বা লালা আবু বকরের ক্ষত স্থানে লাগিয়ে দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে বিষ চলে গেল। এদিকে সকাল পর্যন্ত কাফেরেরা রসূল (স.)-এর বাড়ীর চুতুষ্পার্শ্বে ঘিরে থেকে তাকে বের হতে না দেখে বাড়ীতে ঢুকে পড়লো। তারা রসূল (স.)-এর ঘরে হযরত আলী (রা.)-কে পেয়ে তাকেই জিজ্ঞাসা করলো -বল! মুহাম্মদ (স.) কোথায়? হযরত আলী (রা.) বললেন, মুহাম্মদ (স.) কোথায় সেটা তোমরা দেখ, আমি কি বলবো? এমতাবস্থায় কাফেরেরা সিদ্ধান্ত নিল-মুহাম্মদ (স.) হয়ত মক্কা হতে মদীনার পথে রওনা দিয়েছে। সুতরাং আর কালক্ষেপন না করে এখনই চলো তা না হলে আমাদের শিকার হাতছাড়া হয়ে যাবে। তারা পথে প্রান্তে না পেয়ে ভাবছে মুহাম্মদ (স.) নিশ্চয়ই মক্কার আশে পাশে কোন গুহা অথবা অন্য কোন স্থানে আত্মগোপন করে আছে বিধায় কেবলমাত্র পথ নয় পাহাড়-পর্বত এর মাঝে গর্ত গুহা থাকলে সবই খুঁজতে হবে। এসময় কাফেরেরা রসূল (স.) ও আবুবকর যে গুহায় ছিলেন সেদিকে আসছিল। দূর হতে তাদের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছিল। হযরত আবু বকর (রা.) ভয় পাচ্ছিলেন। আর বলছিলেন, ‘হে মুহাম্মদ (স.)! ঐ দেখুন শত্রুদের পদধ্বনি শোনা যায়। তারা হয়ত আমাদের ধরে ফেলবে।’ মহানবী (স.) তাকে সান্তনা দিয়ে বললেন, ‘ভয় পেওনা আবুবকর! আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।’ কুরআনে আল্লাহতায়ালা এই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আয়াত নাজিল করেছেন, “ইজহুমা ফিল গারে, ইজ ইয়াকুলু লিসাহিবিহি লা তাহঝান ইন্নাল্লাহা মাআনা” অর্থাত্ হে নবী (স.) সেই সময়ের কথা স্মরণ করুন। যখন আপনি ও আপনার সাহাবী গুহার মধ্যে ছিলেন আর আপনার সাহাবী বলছিলেন, ঐ দেখুন শত্রু আমাদের ধরে ফেললো! তখন আপনি বলেছিলেন ভয় পেওনা, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন’। তারপর আল্লাহ কি করলেন? ঐ গুহায় মাকড়সা পাঠিয়ে দিলেন। তারা মুহূর্তের মধ্যে পুরা গুহার মুখ জাল বুনে ঘিরে ফেললো। একটি কবুতর পাঠিয়ে দিলেন। যে ডিম পেড়ে গুহার মুখে’তা দিতে থাকল। কাফেরেরা যখন ঐ গুহার পাশে এলো তখন একজন বললো, দেখ দেখ এই গুহাটিও দেখ। কারণ এখানেও তো তিনি থাকতে পারেন। অন্য একজন বললো, এই গুহায় যে মুহাম্মদ (স.)নেই তা আমি নিশ্চিত বলতে পারি। কারণ গতরাতেই যারা এসেছে তারা যদি এই গুহায় ঢুকতো তাহলে মাকড়সার জাল ছেড়া থাকতো। আর যে গুহায় লোক থাকে তার মুখে কবুতর ডিমে তা দেয় কেমন করে? সুতরাং অন্যদিকে চলো। এরপর কাফেরেরা মক্কা থেকে মদীনায় যাওয়ার সকল পথে পাহারাদার নিযুক্ত করলো। কিন্তু মহানবী (স.) এই গুহায় তিনদিন তিন রাত থাকার পর অচেনা-অজানা পথে লোহিত সাগরের তীর দিয়ে মদীনার উদ্দেশ্যে চলতে থাকলেন। পথে আরবের বড় বীর সুরাকা মহানবী (স.)কে হত্যা করতে এসে নিজেই মুসলমান হয়ে গিয়েছিল। বারিদা নামক অন্য আরেকজন পুরস্কারলোভী ডাকাত ৭০ জন দুর্ধর্ষ যোদ্ধাদের নিয়ে পথে দাঁড়িয়েছিল। তারাও মুসলমান হয়ে গিয়েছিল। এরপর মদীনায় পৌঁছলেন। মদীনার আবাল, বৃদ্ধ, বনিতা সকলে মহানবী (স.)-কে স্বাগতম জানালেন। তাকে মদীনার মানুষেরা নেতা মেনে নিলেন। তিনি মদীনা রাষ্ট্রের অধিপতি হলেন। অনেকগুলি যুদ্ধ-বিগ্রহ হলো। সবশেষ মক্কা বিজয় হলো। সমগ্র আরব ভূ-খন্ডে ইসলামের আদর্শ, কুরআনের আলো প্রজ্বলিত হলো এবং তাঁর ইন্তেকালের পর খলিফা হযরত ওমর (রা.) এর খেলাফতকালে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা হতে মরক্কোর রাবাত পর্যন্ত মুসলমানদের করতলগত হলো। এরপর ইসলামের মহিমা সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ল। যা কেয়ামত অবধি টিকে থাকবে। রসূলুল্লাহর (স.)-এর হিজরতের এই প্রেক্ষাপট, পটভূমি যদি হিজরি নববর্ষে স্মরণ করা হয় তাহলে প্রতিটি মুমিন হূদয়ে নবী প্রেমের বীজ বপিত হবে।

৪ দিন ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হবে

৪ দিন ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হবে 

আগামী ৪ দিনের জন্য ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হবে। সাব মেরিন ক্যাবল মেরামতের জন্য এ দুর্ভোগ পোহাতে হবে  গ্রাহকদের। তবে  দেশের একমাত্র সাবমেরিন ক্যাবল সিমইউ ফোরের মালিক বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) থেকে বলা হয়েছে তারা বিকল্প রেখেছেন।
গতকাল রাতে বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার  হোসেন জানিয়েছেন, সব ধরনের বিকল্প রেখেই এ মেরামত কাজ হচ্ছে। তবে মেরামত চলাকালীন সময়ে ইন্টারনেটের গতি আংশিক ধীর হতে পারে। তিনি জানান, গত বুধবার রাত ২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ল্যান্ডিং স্টেশনের পাওয়ার রিকনফিগারেশনের কারণে সকল সার্কিট তিন ঘণ্টার জন্য ব্যাহত ছিল। তবে স্যাটেলাইট ও ভিস্যাটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক  সংযোগ চালু ছিল।
মনোয়ার হোসেন জানান, আজ শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে  ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত ৪ দিন পূর্ব প্রান্তের (সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া) সব সার্কিট ব্যাহত হবে। তবে পশ্চিম প্রান্তের মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকার সব ভয়েস ও ইন্টারনেট সার্কিট চালু থাকবে। থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার মধ্যের সেকশনে একটি রিপিটার প্রতিস্থাপনের জন্য এ ইন্টারেপশন হচ্ছে এবং ব্যান্ডউইথের শূন্যতা পূরণের জন্য বিএসসিসিএল বিকল্প পথে সার্কিট চালু ও অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ আমদানির ব্যবস্থা করেছে। তিনি আশা করছেন এ ব্যবস্থায় আপদকালীন সময় পার করা সম্ভভ হবে।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ইসলাম

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ইসলাম

বর্তমানে নারীদের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, ইভটিজিং, যৌতুকের কারণে নির্যাতনসহ তাদের সামাজিক ও পারিবারিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। বর্তমান নারীদের প্রতি বর্বর নির্যাতন দেখে মনে হয় আমরা একটি আধুনিক জাহেলিয়াত পেয়েছি। সে যুগে কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করলে জীবন্ত কবর দেয়া হতো। আর বর্তমানে ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে কন্যাভ্রƒণ ধ্বংস করা হচ্ছে। চীন, ভারত, পশ্চিমা দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গর্ভপাতকে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কন্যা সন্তানের পিতা যৌতুক ও নারী নির্যাতনের নির্মম বলি থেকে ভবিষ্যতে মেয়ে সন্তানকে রেহাই দেয়ার জন্য ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় জেনে কন্যাভ্রƒণকে আগেই হত্যা করছে। আর সেখানে প্রচার করা হচ্ছে। ‘Pay 500 rupees and save 500000!’ এফবিআইর ক্রাইম রিপোর্টের এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, প্রতি বছর ১৫ হাজার আমেরিকান মহিলা তাদের স্বামী, পূর্বস্বামী ও বয়ফ্রেন্ডের পৈশাচিক নির্যাতনে প্রাণ হারায়। দেশটিতে অপমৃত্যুর শিকার নারীদের ৩৪ শতাংশ নিহত হয় স্বামীদের নির্যাতনে। নির্যাতিত নারীদের ১০ শতাংশ অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ওই নির্মম অবস্থার শিকার হয়। (সূত্র : ড. মু: ইব্রাহীম খলিলÑ ইসলামে সামাজিক ব্যবস্থা ও পরিবার কল্যাণ পৃ: ১৭৩)
বাংলাদেশেও নারী নির্যাতনের হার কম নয়। আমাদের দেশে নারী নির্যাতনের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের প্রতিবেদন মতে, গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ৩৪৫ জন নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে আত্মহত্যা করেছেন ১৭ জন, নিহত ১ জন, আহত ৩৫ জন, লাঞ্ছিত ৫৯ জন, অপহরণ ৮ জন, ধর্ষণের অপচেষ্টার শিকার ৯ জন। নারীর প্রতি যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে ১০৫ জন পুরুষ সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭ জন বখাটে বা তাদের পরিবারের সদস্যদের আক্রমণে নিহত ও ৯৮ জন আহত হয়েছেন। এ সময়কালে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে বখাটের হাতে ২৩ জন নারী আহত ও ১ জন নারী লাঞ্ছিত হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, একই সময়ে ২৯৭ জন নারী ও মেয়েশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০৩ জন নারী, ১৯১ জন মেয়েশিশু ও  তিনজনের বয়স জানা যায়নি। ওই ১০৩ জন নারীর মধ্যে ৩৫ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ও ৫৭ জন গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ১৯১ জন মেয়েশিশুর মধ্যে ১৯ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং ৫০ জন গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের কারণে চার নারী ও সাতজন শিশু আত্মহত্যা করেছে। এ সময়কালে একজন শিশু ও একজন নারী যথাক্রমে আনসার ও সেনাবাহিনী সদস্যের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। (আমার দেশ ২২ জুলাই, ২০১১)।
দৃষ্টিশক্তি নিয়ন্ত্রণ ও লজ্জাস্থানের হিফাজত করা : ইসলাম চায় নারী নির্যাতনের সব পথ বন্ধ করতে। শয়তানের প্রথম ফাঁদ দৃষ্টি শক্তি দ্বারা নর-নারীকে আকৃষ্ট করা এবং ব্যভিচারের দিকে নিয়ে যাওয়া। এ জন্য ইসলাম এ ব্যাপারে আগেই সতর্ক করে দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে ও তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে।’ (সূরা : নূর-৩০) শুধু পুরুষ নয়, মহিলাদেরও চু এবং লজ্জাস্থানের হিফাজত করতে হবে। অপর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন দৃষ্টিকে সংযত করে ও তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে।’ (সূরা : নূর-৩১)
এ ছাড়া হাদিসে এসেছে, ‘হজরত বুরাইদা কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা:) একদা আলী (রা:)-কে বললেন, হে আলী! পর নারীর প্রতি (হঠাৎ) একবার দৃষ্টি পড়লে দ্বিতীয়বার আর দৃষ্টিপাত করো না। কারণ প্রথমবার দৃষ্টিপাতের জন্য গুনাহগার না হলেও ইচ্ছাকৃতভাবে পুনরায় দৃষ্টিপাত করলে গুনাহ হবে।’ (তিরমিজি)
সৌন্দর্য প্রকাশ না করা : বর্তমানে ইভটিজিং ও ধর্ষণের অন্যতম কারণ হচ্ছেÑ নারীদের বেপর্দা চলাফেরা করা। এ ব্যাপারে সতর্ক করে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘মুমিন নারীরা যেন সাধারণত প্রকাশ থাকে তা ব্যতীত তাদের আভরণ প্রদর্শন না করে, তাদের গলা এবং বুক যেন মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে।’ (সূরা নূর : ৩১) ‘জাহিলিয়া যুগের মতো সাজসজ্জা করে রাস্তায় বের হয়ো না।’ (সূরা : আহজাব-৩৩)
হাদিসে এসেছে, ‘ওই সব নারী যারা হবে পোশাক পরিহিতা অথচ নগ্না। যারা পর পুরুষকে আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও আকৃষ্ট হবে। তাদের মাথাগুলো হবে বড় বড় হেলে যাওয়া উটের কুঁজের ন্যায়। এসব নারী জান্নাতে প্রবেশ তো করতে পারবেই না, এমনকি জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না।’ (আল-হাদিস)
অশ্লীলতা প্রসারের সব পথ বন্ধ রাখা : দুনিয়াতে যারা অশ্লীলতা প্রচার ও প্রসারের কাজে নিয়োজিত তাদের লক্ষ্য করে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা কামনা করে, তাদের জন্য আছে দুনিয়া ও আখিরাতে কঠিন শাস্তি।’ (সূরা : ১৯)
ধর্ষণ অপরাধের শাস্তি : বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ধর্ষণ প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই অপকর্ম বৃদ্ধির মূল কারণÑ অপরাধীদের শাস্তির বিধান যথাযথভাবে কার্যকর না করা। পশ্চিমা দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্ষণের উপযুক্ত বিচার না থাকায় সেখানে ধর্ষণ কমাতে পারেনি, সেখানে আরো ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের দেশে অনেক ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়, ধর্ষণের শাস্তিস্বরূপ ধর্ষকের সাথে ধর্ষিতার বিয়ে দিয়ে দেয়া হচ্ছে, আবার কোথায়ও উভয়কেই শাস্তি দেয়া হচ্ছেÑ যা ইসলামে নিষিদ্ধ এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। কেননা, এ কাজ সংঘটিত হয় পুরুষ কর্তৃক জোরপূর্বক। এ জন্য অপরাধী ধর্ষক, ধর্ষিতা নয়। ইসলাম এই কথাটিরই সমর্থন করে। ইসলাম বলেÑ কাজটি যদি নারীর অমতে হয়, তাকে যদি এ কাজে বাধ্য করা হয় এবং সাক্ষী প্রমাণের ভিত্তিতে নারীর অসহায়ত্ব ও অমত সুস্পষ্ট ধরা পড়ে তাহলে এ জন্য নারী কোনো শাস্তি পাবে না। বরং এ জন্য ধর্ষক পুরুষই শাস্তি পাবে। সে অবিবাহিত হলে তাকে এক শত কশাঘাত করা হবে। আর সে বিবাহিত হলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে নারীর অব্যাহতি প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘যে তাদেরকে ব্যভিচারে বাধ্য করে তাহলে তাদের জবরদস্তির পর আল্লাহ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সূরা নূর : ৩৩)
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘জনৈক ক্রীতদাস এক ক্রীতদাসীর সাথে জোরপূর্বক ব্যভিচার করল। এই বিচার হজরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা:)-এর আদালতে পেশ করা হলো। তিনি ঘটনা তদন্ত করে ক্রীতদাসীকে বেকসুর খালাস দিলেন।’ (সহিহ আল বুখারি)
যৌতুক প্রতিরোধ : বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারী নির্যাতনের নেপথ্য যৌতুক প্রথার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে বেশির ভাগ নারীরা নির্যাতিত হয় যৌতুকের কারণে। বিশেষত যৌতুক প্রথা এসেছে হিন্দু ধর্ম থেকে। এটা প্রথমাবস্থায় হিন্দু ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কালের আবর্তনে ধীরে ধীরে এই নিষ্ঠুর প্রথাটি মুসলিমসমাজে অনুপ্রবেশ করে, যা বর্তমানে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশে যৌতুকবিরোধী আইন থাকার পরও তা যথাযথ বাস্তবায়ন না থাকার কারণে দিন দিন এটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই নিষ্ঠুর এবং অমানবিক কাজ থেকে মুক্তি পেতে হলে ইসলামি বিধান মান্য করা ব্যতীত বিকল্প পথ বা মত কোনোটাই হতে পারে না। কেননা, ইসলাম বলে কোনো পুরুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না হলে বিয়ে করতে পারবে না, আর যেহেতু বেশির ভাগ পুরুষ যৌতুক নেয় আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান হওয়ার জন্য। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যাদের বিয়ের সামর্থ্য নেই, আল্লাহ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে অভাব মুক্ত না করা পর্যন্ত তারা যেন সংযম অবলম্বন করে।’ (সূরা : নূর, ৩৩)
আবার ইসলাম বিয়ের সময় নারীকে মহর প্রদান করে নারীর মর্যাদা এবং যৌতুকের পথ রুদ্ধ করেছে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্ত্রীদের মহর দিয়ে দাও।’ (সূরা : নিসা, ৪)

বিজ্ঞানময় ইসলাম

বিজ্ঞানময় ইসলাম


আপাতবিরোধপূর্ণভাবে, ইসলামের বিজ্ঞান শাস্ত্রের সংগঠন ও ধরনের ব্যাপারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার বিষয়টি প্রতিভাত হয় তখন, যখন এ শিক্ষা বিদ্যমান ছিল না। এ ঘটনাটি ঘটে রাসূল সা:-এর সময়ে কুরআনিক ওহির যুগে। রাসূল মুহাম্মদ সা: তাঁর জনগণের মধ্যে বসবাসের সময়েই ওহি পেয়েছিলেন। এ জনগণের কেউ কেউ তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সাথী হয়েছিলেন। রাসূল সা: যে ২৩ বছর ধরে ওহি লাভ করেছিলেন তা বিবেচনা করলে যে-কেউ সহজেই সেই মর্মস্পর্শী আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় শিক্ষার পর্যায়গুলো উপলব্ধি করতে পারে। রাসূল সা: বা তাঁর সাহাবিদের কেউ ইসলামী বিজ্ঞান বা কোনো বিশেষীকরণের সুযোগ পাননি। তাঁরা আল্লাহর কাছ থেকে শিক্ষা পেয়েছেন। সেই বাণী দ্বারা বিধৌত হয়েছেন, যা তাদের ধারণাকে গভীরতর এবং বিশ্ব সম্পর্কে জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করেছে; আর এভাবেই তারা তাদের ব্যক্তি ও সম্প্রদায়ের বন্ধনের প্রকৃতিকে এক আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করেছেন।

আল্লাহর তরফ থেকে প্রাপ্ত চেতনাবোধ থেকে স্পষ্ট ও ব্যাপক উপলব্ধির ভিত্তিতে তারা আচরণ করেছেন ও রাসূল সা:-এর শিক্ষার ওপর নির্ভর করে কাজ করেছেন, যা ছিল দীর্ঘ ২৩ বছরের শিক্ষা, যা ছিল নীরবতা ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের, শান্তি ও সংগ্রামের, জয় ও পরাজয়ের এবং কখনো কখনো মৃত্যুর সাথী। আল্লাহর মনোনীত মানুষ এসেছেন তাঁর মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিতে, সতর্ক করিয়ে দিতে, পাশাপাশি সমগ্র মানবজাতিকে, যিনি মানুষ ছাড়া ভিন্ন কিছু ছিলেন না, যাঁর ছিল মহান গুণাবলি, কিন্তু আমরা যেমন, তেমনই মরণশীল মানুষ। পূর্ববর্তী ওহিগুলোর মধ্যে কুরআনের মধ্যেই আমরা পয়গম্বরির তিনটি প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য দেখতে পাই। এগুলো হলোÑ ক. আল্লাহর বার্তাবাহক হওয়ার গুণাবলি, যাঁকে আল্লাহর অস্তিত্ব সমগ্র মানবজাতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। খ. এ বার্তাবাহক হবেন একজন মানুষ ও পথপ্রদর্শক আর অবশেষে গ. সবচেয়ে উত্তম আচরণ ও নৈতিক গুণাবলি দিয়ে গড়া একটি আদর্শ।

‘আমি তো তোমাকে সমগ্র মানবজাতির প্রতি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি; কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ জানে না কত মহান তিনি যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন, যাতে সে বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারে।

বলো, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করবেন।

বলো, ‘আমি তো তোমাদেরই মতোই একজন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের ইলাহ একমাত্র ইলাহ। সুতরাং যে তার প্রতিপালকের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার প্রতিপালকের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।’

তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখিরাতকে ভয় করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।

তুমি অবশ্যই মহান চরিত্রে অধিষ্ঠিত।

মানুষকুলের মধ্যে সদ গুণাবলির আধার হিসেবে মনোনীত একজন নবী ও রাসূল রূপে তাঁর কর্তব্য এক আল্লাহর ইবাদতের জন্য আহ্বান জানানোর সাথে একটি নতুন পথে গমনের অনুমতি দেয়া, যা মহাবিশ্ব তথা সমগ্র সৃষ্টিকে এবং উপাদানগুলোকে বিবেচনায় আনে। ওই সব হৃদয়ের উদ্দেশে প্রথম আয়াত ও সূরাগুলো নাজিল হয়েছিল, নতুনভাবে যা পূর্ণ হয়েছিল ঈমানের দ্বারা, এগুলোর উদ্দেশ্য ছিল সঙ্কীর্ণ দৃষ্টির মানুষকে পুরোপুরি সংশোধন ও বিগলিত করা। সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল বিশ্বকে এবং সর্বোপরি তাদের নিজেদের সম্পূর্ণ বদলে দেয়ার কাজ :

‘পাঠ করো তোমার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেনÑ সৃষ্টি করেছেন মানুষকে ‘আলাক’ থেকে। পাঠ করো, আর তোমার প্রতিপালক মহামহিমান্বিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেনÑ শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে, যা সে জানত না।’ (সূরা আলাক : ১-৫)

তাঁর আয়াতের ভেতর থেকে এর বাইরে তাঁর সৃষ্টি থেকে তাওহিদ তথা আল্লাহর একাত্মকে উপলব্ধির পথে প্রাথমিক প্রবেশ একটি নতুন ও গভীর অন্তর্দৃষ্টি দান করেছিল। বিশ্বকে পর্যবেক্ষণ এবং এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে চিন্তা করার জন্য ঈমানদারকে উৎসাহিত করা হতো।

‘আমি তাদের জন্য আমার নিদর্শনাবলি ব্যক্ত করব বিশ্ব জগতে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে; ফলে তাদের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, তা-ই সত্য। এটা কি যথেষ্ট নয় যে, তোমার প্রতিপালক সর্ববিষয়ে অবহিত?’

আল্লাহর হুকুমে এ বিশ্বই (আল কিতাব আল মানসুর) সত্য ওহির প্রথম সমর্থন ও নিশ্চয়তার (আল কিতাব আল মাসতুর) কথা বলে তথা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের কথা বলে। পুরো কুরআনে এ বিষয়টি বিভিন্ন আয়াতে বিধৃত হয়েছে। এর মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর ওপর ঈমান এনে নতুন একটা জগতে প্রবেশ করতে পারে।

‘সপ্ত আকাশ, পৃথিবী এবং তাদের অন্তর্বর্তী সব কিছু তাঁরই পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং এমন কিছু নেই যা তাঁর সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে না; কিন্তু তাদের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা তোমরা অনুধাবন করতে পারো না।’

এটিই আসলে এক আল্লাহর ওপর ঈমান, এটিই গভীরতম আধ্যাত্মিকতা। যারা আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছে তাদের কাছেই এ আধ্যাত্মিকতার দ্বার খুলে গিয়েছে। তারা আল্লাহর সৃষ্টিকে নতুনভাবে দেখে :

‘সূর্য ও চন্দ্র আবর্তন করে নির্ধারিত কক্ষপথে, তৃণলতা ও বৃক্ষাদি মেনে চলে তাঁরই বিধান।’

বাস্তব ও দৃশ্যমান হওয়ার কারণে বুদ্ধি দ্বারা গ্রহ-নক্ষত্রের পরিভ্রমণের পথকে বোঝা যায় : উপর্যুক্ত আয়াতের প্রথম অংশটি থেকে আমরা আমাদের প্রশ্নের জবাব পাই। আয়াতের দ্বিতীয় অংশটি আমাদের অন্তরের ভেতরের অবস্থানকে বর্ণনা করে, আমাদের মনের কথা বলে। এর মাধ্যমে আমরা বৃক্ষরাজি ও নক্ষত্রমণ্ডলীকে অবিরাম সিজদারত দেখতে পাই। ঈমান বা বিশ্বাস হলো নতুন বাস্তবতার একটি বিশেষ পথ, যার মাধ্যমে মানুষ আপাত অস্তিত্বহীন আর অপ্রকৃতের (ঁহৎবধষ) কাছে পৌঁছে যায়। আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে কুরআনের বাণী যা হচ্ছে আর যা অনুমিত হতে পারে তার পুরো বিপরীত।

তারা কি দেশ ভ্রমণ করেনি? তাহলে তারা জ্ঞানবুদ্ধিসম্পন্ন হৃদয় ও শ্রুতিশক্তিসম্পন্ন শ্রবণের অধিকারী হতে পারত। বস্তুত চু তো অন্ধ নয়, বরং অন্ধ হচ্ছে বক্ষস্থিত হৃদয়।

গভীরভাবে ঈমানকে উপলব্ধি করা আর সৃষ্টিকর্তার নৈকট্যকে বোঝার জন্য প্রয়োজন বিশ্ব ও নিজেকে জানা আর সৃষ্টির উদ্দেশ্যকে চিন্তা করা। রাসূল সা:-এর অশ্রুসিক্ত বিনিদ্র রজনীর এটিই ছিল কারণ। রাসূলের সাথী বিলাল ফজরের সময় বিশ্বাসীদের সালাতে ডাকার জন্য আজান দিতে এলেন। তিনি দেখলেন অন্ধকারে রাসূল সা: বসে শুধু কাঁদছেন। রাসূল সা:-এর কাছে বিলাল কান্নার কারণ জানতে চাইলেন। তিনি সা: বললেন, ‘আমি কি কাঁদবো না, সপ্ত-আকাশমণ্ডলী থেকে এ আয়াত আমার ওপর নাজিল হয়েছে?’ এ বলে রাসূল সা: তিলাওয়াত করলেন : আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, দিবস ও রাত্রির পরিবর্তনে নিদর্শনাবলি রয়েছে বোধশক্তিসম্পন্ন লোকদের জন্য।

তিনি আরো বললেন, ‘দুঃখ তার জন্য, যে এ আয়াত শোনেনি আর যে এ আয়াতের বিষয়ে চিন্তা করে না।’ কোনো দুর্বিপাকের কারণে বা কোনো শাস্তির ভয়ে তিনি কেঁদেছেন তা নয়, বরং সমস্ত সৃষ্টির পেছনে যে পবিত্র ও সত্যিকারের একটা অর্থ রয়েছে, যা লালিত হয়েছে দৃশ্যমান আয়াত ও আল্লাহর প্রতি সৃষ্টির পূর্ণ আনুগত্য স্বীকারের মাধ্যমে। সৃষ্টিকর্তার এ বিষয়টি তারই জন্য যার দেখার, শোনার ও অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করার ক্ষমতা আছে। সংক্ষেপে বলতে গেলে যারা সত্যকে স্বীকার করে না তাদের জন্য এই গুণাবলির বিষয়গুলো কল্পনা করা যাবে না।

‘তাদের হৃদয় আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা উপলব্ধি করে না, তাদের চু আছে তা দিয়ে দেখে না এবং তাদের কর্ণ আছে তা দিয়ে শ্রবণ করে না।’

এটি অন্তর্ভেদী শিক্ষার প্রথম ধাপ : সব কিছুই আল্লাহর উপস্থিতির সাক্ষ্য বহন করে। আর এর মাধ্যমেই মানুষ চরম তাকওয়ার দিকে পৌঁছে যেতে পারে এবং ঈমানদারের হৃদয়ে কুরআনের সত্য সুপ্রতিষ্ঠা করতে পারে।

‘এটা সেই কিতাব; এতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকিদের জন্য পথনির্দেশ।’

এ স্বর্গীয় কিতাবকে অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করতে হবে আর মনের সব প্রশ্নের উত্তর এখান থেকে খুঁজতে হবে। আদম আ: থেকে রাসূল সা: পর্যন্ত মানবজাতির দীর্ঘ ইতিহাস, তাঁর সাহাবিদের ইতিহাস আমাদের জানতে হবে।

এভাবেই আল্লাহর ওহি ইতিহাসের ওপর নতুনভাবে আলোকপাত করে আর আমাদের বিশ্বাস ও আল্লাহ ভীরুদের মাধ্যমে আমাদের চার পাশের এবং তার বাইরের জগৎ সম্পর্কে আমাদেরকে চিন্তা করা সুযোগ করে দেয়। অতীতের মধ্যে ডুবে গিয়ে আমরা একটা নতুন প্রেক্ষাপট, নতুন ধরনের একটি অদৃশ্যমান জগৎ সম্পর্কে জানতে পারি। এ জগৎ সৃষ্টির সময়ে আমরা ছিলাম না বা এটিকে আমরা দেখিওনি, আল্লাহ তার আকাশমণ্ডলী আর পৃথিবী সৃষ্টির ব্যাপারে আমাদেরকে সাক্ষ্য হিসেবেও রাখেননি, এমনকি আমাদের সৃষ্টির বেলাতেও কোনো রূপ সাক্ষ্য রাখা হয়নি। আল্লাহর ওহি আমাদের সময়কে অতিক্রম করে যায়। এটি মানুষ সৃষ্টিরও আগের বিষয় :

স্মরণ করো, যখন তোমার প্রতিপালক ফিরিশতাদের বললেন : …‘আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি সৃষ্টি করছি।’

এবং আমরা তাঁর সৃষ্টির প্রথম প্রভাতটি অবলোকন করলাম :

‘এবং তিনি আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিলেন, তৎপর সে সমুদয় ফিরিশতাদের সম্মুখে প্রকাশ করলেন এবং বললেন, এ সমুদয়ের নাম আমাকে বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। তারা বলল, ‘আমাদেরকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের তো কোনো জ্ঞানই নেই। বস্তুত আপনি জ্ঞানময় ও প্রজ্ঞাময়।’

প্রথম নবী আদম আ:-এর ঘটনার সাথে সাথে আল্লাহর ওহি দিয়ে ঈমানদারকে জ্ঞানময় অতীতের আর মহাবিশ্বের অভিজ্ঞতা দান করেছেন যার সম্পর্কে মানুষের কোনো জ্ঞানই ছিলো নাÑ ‘এ জ্ঞান ছিল মানুষের অতীত অভিজ্ঞতারও বাইরে।’ এটি মহাবিশ্বের এমন একটি স্থান যেখানে আল্লাহর ফিরিশতারা বসবাস করে, যারা প্রতি ঘণ্টা, মিনিট, মুহূর্তে অবিরাম সর্বশক্তিমান আল্লাহর গুণগান করে। এটি অদৃশ্য এক জগৎ, জৈবিক অনুভূতির বাইরের জগৎ। এ জগতের ওপরই বিজ্ঞানী বা যুক্তিবাদীরা, বিশ্লেষণী দর্শন গবেষণা করে থাকে : এখানে মানুষ অনুভূতির স্পর্শ পায়, মানুষের গভীর বিশ্বাস জন্মে, আধ্যাত্মিক সত্তা ও শক্তির বিষয়ে মানুষ চিন্তা করতে পারে। জন্মের পর মৃত্যুর, বিশ্বজগৎ সৃষ্টির উদ্দেশ্য, আল্লাহর ওপর ঈমানের বিষয়কে মানুষ হৃদয়ঙ্গম করতে পারে। মানুষের এ ঈমান হবে আদি ও অনন্তের প্রারম্ভিক পদ্ধতির ওপর, যা এ সময়ে মানুষের মধ্যে মজবুত হবে ও আরো বেশি করে ঈমান বৃদ্ধি পাবে।

এ প্রেক্ষাপটকে নিয়ে নতুন আলোকে মানুষের ইতিহাস অধ্যয়ন করা হয়ে থাকে। এর আলো মানুষের চিন্তার সব দিকে আলোকিত করে। এ এক অর্থবহ আলো, এটি আমাদের জানা কাহিনী ও ঘটনাপ্রবাহের বাইরের ইতিহাসের একটি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট আমাদের সম্মুখে প্রকাশ করে। আদমের পর শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের কাছে যত নবী-রাসূল এসেছেন তাঁরা সবাই মানুষকে এক আল্লাহর ওপর ঈমান আনার বিষয়টি শিক্ষা দিয়েছেন। (চলবে)

অনুবাদক : এম রুহুল আমিন

লেখক : ১৯৬২ সালে তারিক রমাদান জেনেভায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আল আজহার থেকে অ্যারাবিক অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজে ডক্টরেট করেছেন। বর্তমানে বিশ্বের ইসলামী পুনর্জাগরণে বিশেষ করে পাশ্চাত্য এবং সমকালীন বিশ্বে ইসলাম সম্পর্কিত তর্কবিতর্কে লেখা ও বক্তৃতার মাধ্যমে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন

‘রেস-২’ ছবিতে অর্ধনগ্ন জ্যাকুলিন

‘রেস-২’ ছবিতে অর্ধনগ্ন জ্যাকুলিন

 


ব্যাপক খোলামেলা হয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছেন বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। এর আগে এতটা খোলামেলা পোশাকে কখনও দেখা যায়নি তাকে। ‘রেস-২’ ছবিতে দর্শকরা জ্যাকুলিনের এই খোলামেলা রূপ উপভোগ করতে পারবেন। ছবিটির শুটিং বর্তমানে শেষের দিকে। ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকায় অভিনয় করছেন তিনি। এদিকে এই ছবির একটি গানে অনেকটাই অর্ধনগ্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে জ্যাকুলিনকে। বর্তমানে এই গানটির প্রমো বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হয়ে বেশ আলোচিত-সমালোচিত হচ্ছেন তিনি। ‘মার্ডার-২’ ছবিতে ইমরান হাশমির বিপরীতে অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয় জ্যাকুলিনের। এই ছবিতে বেশ রগরগে কিছু দৃশ্যে ক্যামেরাবন্দি হয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর পরই তিনি ‘রেস-২’ ছবির শুটিংয়ে অংশ নেন। এই ছবির শুটিংয়ের পর পরিচালক সাজিদ খানের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান জ্যাকুলিন। বর্তমানে সাজিদ ছাড়া অন্য কারও ছবিতে অভিনয় করছেন না তিনি। তাই সাজিদের বাইরের কোন পরিচালকের ছবিতে ‘রেস-২’ হতে পারে জ্যাকুলিনের সর্বশেষ কাজ। কারণ খুব শিগগিরই বিয়ের পিঁড়িতেও বসতে যাচ্ছেন সাজিদ-জ্যাকুলিন। এদিকে জানা গেছে ‘রেস-২’ ছবিতে জ্যাকুলিনের করা অর্ধনগ্ন দৃশ্যের গানটি বাদ দেয়ার সব ধরনের চেষ্টাই করেছেন সাজিদ। কিন্তু প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কোন প্রকার ছাড় দিতে রাজি নয়। তাই কোনভাবেই গানটি আটকাতে সমর্থ হননি সাজিদ। অবশেষে গানটির প্রমো প্রচার শুরু হয়েছে। খুব শিগগিরই গানটি ইউটিউবেও প্রকাশ করা হবে বলেও জানা গেছে। এদিকে এই ছবিতে অভিনয় ও অর্ধনগ্ন দৃশ্যে কাজ করা বিষয়ে জ্যাকুলিন জানিয়েছেন, ‘রেস-২’ ছবিটির কাহিনী অনেক চমৎকার। এখানে আমার চরিত্রটিও বেশ মজার। মূলত আমি এখানে অ্যাকশন একটি চরিত্রে কাজ করেছি। এ কারণেই আসলে বেশ কিছু খোলামেলা দৃশ্যে পারফরম করতে হয়েছে। এটা একদমই বাড়তি কিছু মনে হবে না। আশা করছি ছবিটি দর্শকরা খুব উপভোগ করবেন।

২৫ নভেম্বর পবিত্র আশুরা

২৫ নভেম্বর পবিত্র আশুরা

বাংলাদেশের আকাশে আজ বৃহস্পতিবার ১৪৩৪ হিজরি সনের পবিত্র মুহাররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামীকাল শুক্রবার পবিত্র মুহাররম আরবী নববর্ষ ১৪৩৪ হিজরি সন গণনা শুরু হবে। আজ সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সদস্য সচিব সামীম মোহাম্মদ আফজাল।
সভায় পবিত্র মুহাররম মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে ১৪৩৪ হিজরি সনের পবিত্র মুহাররম মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে।
এর ফলে ২৫ নভেম্বর রোবববার পবিত্র আশুরা উদযাপন করা হবে।

নিষিদ্ধ সিরাপ ফেনসিডিল

নিষিদ্ধ সিরাপ ফেনসিডিল

(ডা: ফারজানা চৌধুরী)
মানুষ যখন ভূমি চাষ, আগুনের ব্যবহার আয়ত্তে এনেছে, তখন থেকেই তামাকপাতা ও আফিম ফল মস্তিষ্কে যে এক বিশেষ অনুভূতির সৃষ্টি করে তাও আবিষ্কার করে ফেলেছে। সেসব নেশাই কয়েক দশক ধরে সমাজকে গ্রাস করছে। সারা পৃথিবীতে অস্ত্রের পরপরই বড় ব্যবসা হচ্ছে মাদকদ্রব্যের। মাদকদ্রব্য হচ্ছে সেগুলোই, যেগুলো মস্তিষ্কের ওপর কাজ করে এবং আচরণের অনাকাক্সিত পরিবর্তন ঘটায়। এগুলোর মধ্যে আছেÑ
১. স্নায়ু নিস্তেজক মাদকদ্রব্য, যেমনÑ আফিম, মরফিন, হেরোইন, প্যাথেডিন, কোডেইন, গার্ডিনাল, ডায়াজিপাম, মদজাতীয় দ্রব্য ইত্যাদি।
২. স্নায়ু উত্তেজক মাদকদ্রব্য : যেমন গাঁজা, ভাং, চরস, সিদ্ধি, মারিজুয়ানা, কোকেন ইত্যাদি।
৩. মায়াবিভ্রমকারী বা হেলোসিনেজিক মাদকদ্রব্য : যেমন এলএসডি।
৪. অন্য মাদকদ্রব্যের মধ্যে তামাক, নিকোটিন, নাকে শুঁকার দ্রব্য ও যন্ত্রণা নিবারক ওষুধ।
কিন্তু আমাদের দেশের তরুণেরা তাদের তারুণ্যের প্রকাশ ঘটাচ্ছে ধ্বংসাত্মকরূপে। বিভিন্ন আর্থসামাজিক কারণে তাদের গঠনমূলক প্রবণতাগুলো বিকশিত হচ্ছে না। ফলে সহজলভ্যতা ও সেবনের সহজ পদ্ধতির কারণে তারা আকৃষ্ট হচ্ছে ফেনসিডিলের প্রতি। এই ফেনসিডিলে আছে (এক চামচে) প্রোমিথাজিন হাইড্রোকোরাইড ৩.৬ গ্রাম, কোডিন ফসপেট ৯ মি.গ্রাম এবং ইফিড্রিন ৭.২ মি. গ্রাম। বর্তমানে এ ওষুধটি নিষিদ্ধ। তার পরও নানাভাবে এ ওষুধটি বাজারে আসছে।
আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্থবিরতা, নিরাপদ পরিবেশ ও সুস্থ চিত্তবিনোদনের অভাব, জীবনের উদ্দেশ্যবিহীনতা, পিতামাতার সন্তানের প্রতি অবহেলা, পরিবারে মাদকের প্রভাব, বিষণœতা, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও মারাত্মক মানসিক রোগের কারণে, বন্ধুদের প্ররোচনা, অত্যাধুনিক হওয়ার প্রবণতা, রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা লাভের আকাক্সা, মানসিকভাবে দুর্বলচিত্ত, পারিবারিক দ্বন্দ্বে তরুণেরা ফেনসিডিলে আসক্ত হয়। এই নিষিদ্ধ ওষুধটি তরুণদের মারাত্মক ক্ষতি করছে। তরুণদের বুদ্ধিবৃত্তি ও চিন্তাশক্তি হ্রাস করছে। স্মৃতিবৈকল্য ও স্মৃতিভ্রংশতা দেখা দিচ্ছে। এ ছাড়া স্নায়ুতন্ত্রের আরো অস্বাভাবিকতা দেখা দিচ্ছে। এ ছাড়া স্নায়ুতন্ত্রের আরো অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটছে। তরুণের জগৎ ও জীবন সম্পর্কে উদাসীন হয়ে পড়ে, ফলে কোনো কাজ সুষ্ঠুভাবে করে না। নিস্পৃহ ও নির্লিপ্ত হয়ে যায়। মুখে কথা জড়িয়ে আসে। হাত-পা কাঁপতে থাকে। চোখ লাল ও বড় হয়ে থাকে। ফেনসিডিলের ওপর নির্ভরতা বেড়ে যায়, যাকে বলে ড্রাগ ডিপেনডেনস।  ফলে নেশার টাকা জোগাড়ের জন্য সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত হয়।
একটানা এ মাদকদ্রব্য খাওয়ার ফলে দেহে সৃষ্টি হয় নানা রোগ। যেমনÑ জন্ডিস, কিডনির রোগ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও জটিল লিভারের রোগ।
তরুণদের এই ফেনসিডিল বা মাদকদ্রব্যের আসক্তি থেকে বাঁচানোর দায়িত্ব কেবল সমাজ ও সরকারের নয়Ñ অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এ ছাড়া তরুণেরা হতাশ হলে চলবে না। মাদকাসক্তির ক্ষতিকর দিকগুলো ভাবতে হবে। ভাবতে হবে পরিবার, সমাজ ও জাতির কথা।

এ যেন অন্য এক ছক্কা নাঈম

এ যেন অন্য এক ছক্কা নাঈম


নাঈম আসলে যখনই জাতীয় দলে খেলেছেন, বেশির ভাগই ৬ অথবা ৭ এ করেছেন ব্যাটিং। এবার একেবারে চারে উঠে আসার কারণটা জানান দেন তিনি নিজেই। ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ হাই পারফরম্যান্স দলের বিরুদ্ধে যখন খেলি, তখন আকরাম ভাই (প্রধান নির্বাচক) বলেছিলেন, জাতীয় ক্রিকেটে চার নাম্বারে ব্যাটিং করতে। তখনই একটা ইঙ্গিত পাই। ভালো করলে জাতীয় দলে ফিরব এবং টপ অর্ডারে ব্যাটিং করব। হাই পারফরম্যান্সের পর জাতীয় লিগেও ভালো করার পরই জাতীয় দলে ফেরা এবং চার নাম্বারে ব্যাটিংয়ের এ সুযোগ। এখানে ব্যাটিং করার ব্যাপারে মানসিক প্রস্তুতিটা আগেরই ছিল।’ নাঈমের নাম রয়েছে আরো একটা। বন্ধুরা তাকে ছক্কা নাঈম বলেও ডাকেন। একবার তার অনবরত ছক্কাতেই ম্যাচ জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই নাঈম গতকাল ১৩৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি করবেন এটা তো কল্পনাতীত। সেঞ্চুরি করেছেন ২২৮ বল মোকাবেলা করে ৩১৬ মিনিট ক্রিজে থেকে। ইনিংসে কোনো ছক্কা নেই। ১৭টি বাউন্ডারি শুধু। অন্য নাঈমকেই তো দেখা! ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ ওটিস গিবসনও প্রশংসা করেন তার। ‘দীর্ঘক্ষণ ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করেছেন তিনি।’

মৃদুভাষী নাঈম জানালেন, ‘আসলে শর্টার ভার্সনের ম্যাচে স্ট্রোক খেলি। কিন্তু লংগার ভার্সন ম্যাচে দেখবেন আমি ধীরেই ব্যাটিং করে থাকি।’ তিনি বলেন, ‘ক্রিজে আমি সব সময় আমার খেলাটাই খেলার চেষ্টা করি। আর এ ম্যাচেও আমার প্ল্যান ছিল তেমন। আমার জোনে বল পড়লে শট খেলব নতুবা না। সেটাই করেছি।’ নাঈম দলের টার্গেট সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা যতক্ষণ ধরে ব্যাটিং করতে পারি সেটাই মূলত চেষ্টা। দিনের শুরু থেকেই যা ছিল, দেখবেন রিয়াদ নাসিরও সেই রোলটাই প্লে করেছে। তবে ম্যাচের এখনো বাকি দুই দিন। এুনি কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা যতক্ষণ পারি ব্যাটিং করব।’ নাঈম সাকিব-তামিম সম্পর্কে বলতে যেয়ে বলেন, ‘আসলে সাকিব-তামিম চমৎকার ব্যাটিং করেন। আমার সৌভাগ্য যে তাদের সাথে ব্যাটিং করেছি। কাছ থেকে দেখেছি। অনেক কিছু শেখারও আছে সে থেকে।’

নাঈমের ফেরাটা এবার একটু অন্যরকমই! নাঈম মানেই ৬ বা ৭ এ ব্যাটিং করা। মোটামুটি একটা স্কোর করেই আউট। সাবেক কোচ জেমি সিডন্সের প্রিয়পাত্র বলেই দলে চান্স তার, শুনতে হয়েছে এমন কথাও। গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেও দলে ছিলেন। কিন্তু (প্রথম টেস্ট ৩৬ ও ব্যাট করেননি। দ্বিতীয় টেস্টে ৪৫ ও ৩) এ ছিল দুই টেস্টের পারফরম্যান্স। এ জন্যই পাকিস্তানের সাথে সিরিজে স্থান হয়নি তার। তবে এ সিরিজে ফিরতে কিছুটা দৃঢ়তাই ছিল বৈকি তার! চলমান জাতীয় ক্রিকেট লিগের দুই ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স তার। দুই ম্যাচে যথাক্রমে ১৩৭ ও ৪৪ এবং দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচে ১২৭ ও ৩ করেই আবার ফিরলেন টেস্ট স্কোয়াডে। এর আগে ‘এ’ দলের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ হাই পারফরম্যান্স দলের সাথেও ভালো খেলেছিলেন নাঈম। ওই ধারাবাহিকতায়ই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধেও চমৎকার পারফরম্যান্স করে তার ফলও পেয়েছেন। সেঞ্চুরি। ব্যাটসম্যানদের স্বপ্নের ওই স্কোর। এর আগে ৬ টেস্টের ১১ ইনিংসে সর্বোচ্চ ছিল অপরাজিত ৫৯ রান এ মিরপুরে। হাফ সেঞ্চুরি বলতেও ছিল ওটাই। কাল একেবারে সেঞ্চুরি করেই থেমেছেন এ টপ অর্ডার। সকালে আগের দিনে ২৭ রান নিয়ে খেলতে নেমে ১০৮ করে যখন আউট হন ততক্ষণে শুধুই তার সেঞ্চুরিই নয়, দলকেও সম্মানজনক এক ড্র করার স্বপ্ন দেখিয়ে রেখে গেছেন। যদিও ওটা বলার সময় আসেনি এখনো তবুও ম্যাচ কন্ডিশন এমনই একটা ইঙ্গিত দিচ্ছে। আসলে ম্যাচের এমন চিত্র আঁকার ব্যাপারে নাঈম, সাকিবের রয়েছে অসাধারণ অবদান। তাদেরই চতুর্থ উইকেট জুটিতে বাংলাদেশ রেকর্ড ১৬৭ রানের পার্টনারশিপটাই পাল্টে দেয় সব চিত্র। সাকিব ব্যর্থ হলেও সে থেকে শিক্ষা নিয়ে নাঈম ঠিকই পৌঁছে যান ওই লক্ষ্যে। ফাস্ট বোলার টিনো বেস্টের করা লেগ স্ট্যাম্পের ওপর রাখা বলটি ফাইন লেগ দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে পৌঁছে যান ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির মার্কে। এটা বাংলাদেশের ২৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি।

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ

টস : ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস : ৫২৭/৪ ডিকে.

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : আগের দিনের ১৬৪/৩ (৩৬ ওভার) তামিম ৭২, জুনায়েদ ৭, নাফীস ৩১।

রান বল ৪ ৬

নাঈম ক রামদিন ব সামি ১০৮ ২৫৫ ১৭ ০

সাকিব ক ফুদাদিন ব রামপাল ৮৯ ১৪৩ ১০ ১

মুশফিক ক অ্যান্ড ব পারমাল ৪৩ ৯৭ ৭ ১

নাসির ব্যাটিং ৩৩ ৭৫ ১ ১

রিয়াদ ব্যাটিং ৪২ ৭৯ ৩ ১

অতি: (বা ৮, লেবা ১১, ও ৩, নো ৮) ৩০

মোট (১২৬ ওভার ৬ উই.) ৪৫৫

ব্যাট করেননি : সোহাগ, শাহাদত ও রুবেল।

উইকেট পতন : ১/২৫, ২/৮৮, ৩/১১৯, ৪/২৮৬, ৫/৩৬২, ৬/৩৬৮।

বোলিং : রামপাল ২৬-২-১০১-৩, বেস্ট ২০-৩-৬৮-০, সামি ২৩-৩-৮৩-২, নারিন ২১-৫-৮৯-০, পারমাল ২৭-৭-৬০-১, গেইল ৩-০-১৪-০ ও স্যামুয়েলস ৬-০-২১-০।

Thursday, November 15, 2012

নিজ রাজ্যকে দেশ থেকে পৃথক করতে আড়াই লাখ মার্কিনীর সই!

নিজ রাজ্যকে দেশ থেকে পৃথক করতে আড়াই লাখ মার্কিনীর সই! 

রিপাবলিকান মিট রমনিকে হারিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন বারাক ওবামা। তার বিজয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ছে ডেমোক্র্যাট সমর্থকরা। আর মিট রমনি তাকে জানিয়েছেন অভিনন্দন। কিন্তু সবাই ওবামাকে অভিনন্দন জানাতে  পারেননি। লাখ লাখ মার্কিনি কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ওবামার শাসন থেকে নিজ নিজ রাজ্যকে পৃথক করতে চাইছেন! এই দাবিতে দিয়েছেন গণস্বাক্ষরও। হোয়াইট হাউসের ‘উই দ্য পিপল’ ওয়েবসাইটে এ নিয়ে ২০টিরও বেশি রাজ্য থেকে আবেদন জমা পড়েছে, যাতে সমর্থন দিচ্ছেন ‘স্বাধীন’ রাজ্য পেতে ইচ্ছুক এই নাগরিকরা। স্বাক্ষর দিয়েছে আড়াই লাখের বেশি লোক। তারা ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ দেশ থেকে পৃথক হতে চান। কেবল টেক্সাস থেকেই স্বাক্ষর পড়েছে ২৩ হাজার লোকের। মার্কিন আইন অনুযায়ী, যেকোনো আবেদনে ২৫ হাজার লোকের স্বাক্ষর পড়লে তা প্রশাসনের বিশেষজ্ঞ কমিটিতে বিবেচনার জন্য পাঠানো যেতে পারে। ডেইলি মেইল এক রিপোর্টে একথা জানায়।
হোয়াইট হাউসের এই ওয়েবসাইটে মার্কিন নাগরিকেরা দেশের বিভিন্ন ইস্যুতে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে আবেদন করতে পারে। কোনো প্রস্তাব ২৫ হাজারের বেশি সমর্থন পেলে তা গোচরে নিয়ে নীতি নির্ধারকদের কাছে পাঠানো হবে বলে ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে। টেক্সাসের আলাদা হয়ে যাওয়ার পক্ষে সবচে বেশি মার্কিনি সমর্থন দিয়েছেন। বিচ্ছিন্ন হতে চাওয়ার বেশিরভাগ আবেদনেই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণার একটি অংশের উদাহরন টানা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে নাগরিকদের সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তন করা বা তা ভেঙে দিয়ে নতুন সরকার গঠন করার অধিকার আছে। এছাড়াও পৃথক হওয়ার পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি দেখিয়েছে রাজ্যগুলো। সবচেয়ে বেশি সমর্থন পাওয়া টেক্সাসের আবেদনে বলা হয়েছে, সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ব্যয় ব্যবস্থার সংস্কার না করায় যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়ছে। টেক্সাস বিশ্বের পঞ্চদশ বৃহত্তম অর্থনীতি। আলাদা হয়ে দিব্যি চলতে পারবে রাজ্যটি। আর এর মাধ্যমে নাগরিকদের জীবনযাপনের মানও রক্ষা করা যাবে। তবে টেক্সাসের গর্ভনর রিক পেরি জানিয়ে দিয়েছেন তিনি এ আবেদনকে সমর্থন করেন না।
ওরেগন বলছে, ফেডারেল সরকারের আকার এত বড় হয়ে গেছে যে এটি রাজ্যের সংবিধান লঙ্ঘন করছে এবং অসংবিধানিক আইন নাগরিকদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। একই বক্তব্য ইউসকনসিনকে পৃথক করার আবেদনেও রয়েছে। ওহাইওকে পৃথক করার জন্য দুটি আবেদনের একটিতে বলা হয়েছে, রাজ্যটির জনসংখ্যা আর অর্থনীতি সুইজারল্যান্ডের চেয়েও বড়। তাই তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সর্ম্পক রেখে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে চলতে পারবে! উল্লেখ্য, নাগরিকদের আবেদনের এই অধিকার মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে দেয়া হয়েছে। এ অধিকার নিশ্চিত করতেই ওয়েবসাইটটি খোলা হয়েছে বলে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ ধরনের আবেদনের এই ঘটনাও নতুন কিছু না।

 

রুদ্ধশ্বাস ৪০ মিনিট

রুদ্ধশ্বাস ৪০ মিনিট 

অপহরণকারীদের চাহিদামত মঙ্গলবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে দেয়া হয়েছে টাকা। কিন্তু ফেরত পাওয়া যায়নি আদরের নিধিকে। শেষ পর্যন্ত ১২টা ২০ মিনিটে ছেলে পরাগকে ফিরে পান বিমল মন্ডল। টাকা দেয়া থেকে ছেলেকে ফিরে পাওয়ার এই ৪০ মিনিট ছিল বিমলের কাছে এক শ্বাসরুদ্ধকর সময়। এর আগের এক ঘন্টা কঠিন সময় পার করেছেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ছেলেকে যে ফিরে পেয়েছেন তাতেই সন্তুষ্ট কেরানি-গঞ্জের এই ব্যবসায়ী।
গত রবিবার সকালে বিমলের স্ত্রী, মেয়ে ও গাড়ি চালককে গুলি করে ছেলে  পরাগকে অপহরণ করে সন্ত্রাসী গ্রুপটি। পুরো দুইদিন অন্ধকারে ছিলেন বিমল। মঙ্গলবার সকালে প্রথম বিমলকে ফোন করে অপহরণকারীরা। দাবি করে ২ কোটি টাকা। দিনব্যাপী চলে দেনদরবার। শেষ পর্যন্ত রফা হয় ‘৫০ লাখ টাকায়’।
অপহরণকারীদের কথামতো মঙ্গলবার রাতেই ‘৫০ লাখ টাকা’ নিয়ে বিমল প্রথমে একটি সিএনজি অটোরিক্সায় আমিনবাজার পার হয়ে তুরাগ সেতুর কাছে যান। সেখান থেকে তাকে মুগরার বাজারের আওয়াল মার্কেটের কাছে যেতে বলা হয়। ওই সময় তিনি একটি ব্যাগে করে টাকা নিয়ে একটি কাঁচা রাস্তায় ঢুকে পড়েন। এরপর রাস্তায় মোবাইল ফোনের আলো ফেলে কিছুদূর যাওয়ার পর দু’জন সন্ত্রাসী এসে পেছন থেকে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকাভর্তি ব্যাগটি নিয়ে যায়। তখন তিনি ছেলেকে ফেরত চাইলে তারা বলেন, সময়মত জানানো হবে।
তখন ঠিক রাত ১১টা ৪০ মিনিট। টাকা দেয়ার পর পুরোটাই অন্ধকারে ছিলেন বিমল। টাকা গেল এবার যদি ছেলেকে না পান তাহলে সব শেষ। ঠিক ২০ মিনিট পরে বিমলকে ফোন করে অপহরণকারীরা বছিলা সেতু পার হয়ে আঁটি নয়াবাজারে যেতে বলে। আরো ২০ মিনিট পর সেখানেই রাত ১২টা ২০ মিনিটে অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেল পরাগ মন্ডলকে। অবশ্য এক নৈশ্যপ্রহরী পরাগকে আবিষ্কার করে বিমলকে ফোন করেন। ডিবি পুলিশের সঙ্গে বিমল সেখানে গিয়ে ছেলেকে পান। সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে যান স্কয়ার হাসপাতালে। এখনও যেখানে চিকিত্সাধীন আছে পরাগ।