‘কাহো না পেয়ার হ্যায়’খ্যাত বলিউডের এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আমিশা পাটেল ‘রেস ২’-তে সম্পূর্ণ নতুন গেটআপে হাজির হচ্ছেন। বিগত কয়েক বছর ধরেই অনেক চেষ্টা করছেন বলিউডে বাজিমাত করার। কিন্তু ‘আঁখে’ ছবির পর কোনো কাজই তাকে সেই সাফল্য এনে দিতে পারেনি। তবে কাজ করেছেন অনেকগুলো ছবিতেই। তাই মাঝে তামিল ছবিতেও নিজেকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন, এবং সেখানেও ব্যর্থ। এবার নিজেকে পুরোদস্তুর বদলে হাজির হচ্ছেন বলিউডে। সঞ্জয় দত্তর সঙ্গে ‘চতুর্সিং টু স্টার’ ছবিতে তিনি অনেক আবেদনময়ী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এখন নিজেকে যেকোনোভাবে খোলামেলায় উপস্থাপন করতে কোনো আপত্তি নেই বলে জানান। ‘রেস ২’ ছবিতে শতভাগ বিকিনি রূপে দেখা যাবে তাকে। এর আগে ‘থোরা পেয়ার থোরা ম্যাজিক’ ছবিতেও বিকিনি গেটআপ নিয়েছিলেন। তবে এই সময়ে এসে এটিকে বিকিনি বলা যায় না। তবে ‘রেস ২’-তে পুরোদস্তুর আবেদনময়ী নারী হিসেবে তাকে পাওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, তিনি আরও ৫টি নতুন ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। যার অধিকাংশতেই ভিন্ন ভিন্ন গেটআপে দেখা যাবে বলে জানান তিনি। আরও জানান, দুয়েকটি গভীর অন্তরঙ্গ দৃশ্যেও কাজ করেছেন তিনি।
Tuesday, November 20, 2012
অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ঠেকাতে ভাইরাস
অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ঠেকাতে ভাইরাস
অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো
রেজিস্ট্যান্স। আজ যে অ্যান্টিবায়োটিকটি আপনাকে সুস্থ করে তুলছে কাল সেটিই
হয়তো রেজিস্ট্যান্স হয়ে উঠবে। তখন আর ওষুধ খেয়েও কাজ হবে না। কারণ
আপনার শরীরের ব্যাক্টেরিয়াগুলো প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তুলবে
অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে। এটা বিশ্বব্যাপী একটি খুব বড় সমস্যা। কেন এই
রেজিস্ট্যান্স গড়ে ওঠে তা বলতে গেলে অনেক কথা। অ্যান্টিবায়োটিকের পুরো
কোর্স শেষ না করে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেয়া কিংবা কারণে-অকারণে
অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াÑ এসবই এর প্রধান কারণ। এ ছাড়া আরো অনেক কারণ আছে।
তো কারণ যাই থাক এটা একটা বড় রকমের সমস্যা এবং সে কারণেই এই সমস্যা দূর
করা যায় কী করে তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী নিরন্তর গবেষণা চলছে। সম্প্রতি
আমেরিকার গবেষকেরা নতুন আশার আলো দেখেছেন। তারা ভাইরাস ব্যবহার করে ফল
পেয়েছেন অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের ক্ষেত্রে। আশা করা যাচ্ছে অদূর
ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিকের এ সমস্যাটা আর থাকবে না।
আট লাখ বিনিয়োগকারীর সঞ্চয় হারানোর আশংকা
আট লাখ বিনিয়োগকারীর সঞ্চয় হারানোর আশংকা
ডেসটিনি পরিস্থিতি
++ কাজ না থাকায় বেকার ৪৮ লাখ পরিবেশক
++ কয়েক মাস বেতন পাচ্ছেন না কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
++ প্রশাসক নিয়োগ করা হবে আদালতের মাধ্যমেই
সঞ্চয়
হারানোর আশংকায় আছেন ডেসটিনির আট লাখ সাধারণ বিনিয়োগকারী। এছাড়া ৪৫ লাখ
পরিবেশক গত ছয় মাস ধরে কোন কাজ না থাকায় এক রকম বেকার জীবনযাপন করছেন। অর্থ
আত্নসাত্ ও টাকা পাচারের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আটক
হওয়ার পর থেকে সাধারণ বিনিযোগকারীদের মধ্যে এ আশংকা দেখা দিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম মুখ থুবরে পড়ায় বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগকৃত
অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত। অনেকেই সর্বস্ব বিনিয়োগ করে এখন
সর্বশান্ত। তিন বেলা খাবার কেনার মতো পয়সাও নেই অনেকের কাছে। ডেসটিনি
গ্রুপের একমাত্র বৈশাখী টেলিভিশনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সচল থাকলেও অনিয়ম ও
র্দুনীতির অভিযোগে এই গ্রুপের অন্য সব প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে
সরকার। ফলে কোন প্রকার লেনদেন করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। গত কয়েক মাস
ধরে কোন বেতন-ভাতা না পাওয়ায় এক রকম মানবেতন জীবনযাপন করছেন ডেসটিনি
গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী।
সাধারণ
বিনিয়োগকারীরা বলছেন, যদি ডেসটিনির কার্যক্রম অবৈধ হয়ে থাকে তাহলে তা
আইনের আওতায় আনা হোক। এছাড়া কারো বিরুদ্ধে অর্থ আত্নসাতের অভিযোগ প্রমানিত
হলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক কিন্তু হাজার হাজার মানুষের জীবনজীবিকা
হয় যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তা সচল রাখুক সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র
জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত আদালতের মাধ্যমেই ডেসটিনিতে প্রশাসক নিয়োগ দিতে
যাচ্ছে সরকার। বিশিষ্ট আইনজীবী ও ব্যবসায়ীদের বাঁধার মুখে সরকার কোম্পানি
আইন সংশোধন করে সরাসরি প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।
ডেসটিনি
গ্রুপের নানা অনিয়ম ও র্দুনীতি খতিয়ে দেখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত
কমিটি মোট ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার
৪৫৪ কোটি টাকা সরাসরি তছরুপ করা হয়েছে। বাকি দুই হাজার ৩৪৬ কোটি টাকার
লেনদেন অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক।
ইতিমধ্যে টাকা পাচারের অভিযোগে মানি
লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ডেসটিনি গ্রুপের এমডি, ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের
প্রেসিডেন্ট ও চেয়ারম্যানসহ প্রতিষ্ঠানের ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুটি
মামলা করেছে দুদক। এই মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন ডেসটিনি গ্রুপের
এমডি রফিকুল আমিন। জামিনে রয়েছেন ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট সাবেক
সেনা প্রধান হারুন অর রশিদ, বীরপ্রতীক।
সমপ্রতি ডেসটিনি গ্রুপের
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, অফিস খোলা থাকলেও কাজকর্ম স্থবির।
অনেক কর্মচারীই ঠিকমতো অফিসে আসেন না। কয়েক মাস ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ায়
অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একই অবস্থা ডেসটিনির পরিবেশকদেরও।
রাজধানীর
কাকরাইলে স্কাউট ভবনে ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে দেখা
যায়, অফিস প্রায় খালি! নিরবতা বিরাজ করছে। এই অফিসে ৩ হাজার ৩’শ জন
কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করেন বলে জানা গেছে। কাকরাইলে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস
কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি:-এ কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে ৩’শ জনের উপরে। এছাড়া
ট্রি প্লানটেশনে কাজ করেন ১২৫ জন। এই কর্মচারীদের সবাই গত কয়েক মাস ধরে
কোন বেতন পাচ্ছেন না। একই অবস্থা ডেসটিনি ২০০০ লি:-এর কাস্টমার সার্ভিস
সেন্টারেও।
রাজধানীর পল্টনে অবস্থিত ডেসটিনি ২০০০ লি:-এর কাস্টমার
সার্ভিস সেন্টারের জেনারেল ম্যানেজার এস এম মাহবুবুর রহমান ইত্তেফাককে
বলেন, ‘কাস্টমার সার্ভিস সেন্টারেই ৫২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন যারা
সাড়ে ৪ মাস ধরে কোন বেতন-ভাতা পান না। নগদে আমাদের কোন পণ্য বিক্রি হয় না।
ব্যাংক এ্যাকাউন্ট জব্দ থাকায় প্রায় ৮ মাস ধরে কোন পণ্য বিক্রি করা যাচ্ছে
না।’ তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে ৬৭ কোটি টাকার পণ্য আটকে আছে। শিগগির
পণ্যের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাবে। কিন্তু তা খালাস করা যাচ্ছে না।
সূত্র
জানায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বন্ধের পাশাপাশি পাঁচ মাস ধরে বাকি
রয়েছে অফিস ভাড়াও। অফিসের এসি, চেয়ার ইত্যাদি বিক্রি করে পাওনাদারদের টাকা
পরিশোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ডেসটিনি ডিস্ট্রিবিউটর ফোরামের সদস্য
শহিদুল হক বলেন, ‘আমরা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত নই, প্রতারিত হইনি। ডেসটিনি-২০০০
লি.-এর ৪৫ লাখ ক্রেতা-পরিবেশক মানবেতর জীবন-যাপন করছেন; বর্তমান অবস্থায়
আমরা আমাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে উদ্বিগ্ন।’
পরিবেশক ও
সাধারণ বিনিয়োগকারী আব্দুল্লাহ-আল মামুন বলেন, কারো বিরুদ্ধে অর্থ
আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। কিন্তু
প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডতো অবৈধ না। হাজার হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা হয় যে
প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তা সচল রাখুক সরকার।
আরেক বিনিয়োগকারী ডেসটিনি
কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদের আহবায়ক সাইফুর রহমান চৌধুরী টিপু বলেন, দেশে
মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) আইন না থাকলে সরকার আইন করুক। আমরা সেই আইন
মেনে চলবো।
ডেসটিনি গ্রুপের উপ-পরিচালক আশরাফুল আমীন ডেসটিনি
মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি. অবৈধ ব্যাংকিং করছে না দাবি করে
বলেন, সোসাইটি সদস্য ছাড়া কারো সাথে লেনদেন করে না। ডেসটিনি ২০০০ লি.-এর
যারা পরিবেশক শুধু তারাই ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি.-এর
সদস্য হতে পারবে। আর সদস্যরাই শুধু ঋণ নিতে পারবে। এছাড়া ডেসটিনি ট্রি
প্লানটেশন লি.-এর ৬ লাখ সদস্যও ডেসটিনি ২০০০ লি.-এর পরিবেশকরাই।
এক
প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডেসটিনি ২০০০ লি.-এর ৪৫ লাখ পরিবেশকের মধ্যে আট
লাখ ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি.-এর সদস্য। ডেসটিনির
কার্যক্রম এক রকম বন্ধ থাকায় এ ৪৫ লাখ পরিবেশক এখন বেকার বসে আছে।
২০০১
সালে জয়েন্ট স্টক থেকে অনুমোদন নিয়ে যাত্রা শুরু করে মাল্টিলেভেল কোম্পানি
(এমএলএম) ডেসটিনি ২০০০ লি.। বিভিন্ন পণ্য বিক্রির মধ্যে দিয়ে কোম্পানির
যাত্রা শুরু হলেও ২০০৫ সালে সমবায় অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন নিয়ে ডেসটিনি
মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি যাত্রা শুরু করে। এরপর যাত্রা শুরু করে
ডেসটিনি ট্রি প্লানটেশন। বর্তমানে এ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৭টি।
সংশ্লিষ্ট
সূত্র জানায়, ডেসটিনির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে সমালোচিত হচ্ছে
ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি ও ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশন
লিমিটেড। দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগও এ দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই বেশি।
দুর্নীতি
দমন কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, গাছ লাগানোর মাধ্যমে ডেসটিনি ট্রি
প্লান্টেশন লিমিটেড দুই হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। কিন্তু প্রকৃত
পক্ষে তারা ৮১ লাখ গাছ লাগিয়ে সংগ্রহ করে ২৯৮ কোটি টাকা। বাকি দুই হাজার ৩৬
কোটি টাকা গাছ না লাগিয়েই সংগ্রহ করেছে। অথচ যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও
ফার্মসমূহের নিবন্ধন কার্যালয় থেকে নেয়া স্মারকসংঘে বৃক্ষরোপণ বাবদ অর্থ
আদায়ের কোন কথা বলা ছিল না। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া ডেসটিনি
মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটিও অবৈধ ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে অর্থ
সংগ্রহ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সূত্র জানায়, ডেসটিনির অবৈধ
কর্মকাণ্ড নিয়ে এর কার্যক্রম চালুর শুরুর দিকেই প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিল।
২০০০ সালের ডিসেম্বরে বিনিয়োগ বোর্ডে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায়
ডেসটিনি ছাড়াও ‘জিজিএন’ ও ‘নিউওয়ে বাংলাদেশ’সহ সব এমএলএম প্রতিষ্ঠান ও
ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনের আওতায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত
নেয়া হয়।
এরপর ২০০৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ সচিবের
কাছে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি পাঠায়। পরবর্তীতে ২০০৫
সালের ৪ এপ্রিল আবারো অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু
তত্কালীন জোট সরকার ও পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা
নেয়নি।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি
ডেসটিনির নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত
কমিটি গঠন করে। গত ১১ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশকালে তত্কালীন
বাণিজ্য সচিব গোলাম হোসেন ডেসটিনির মোট তিন হাজার ৮০০ কোটি টাকার অনিয়ম
তুলে ধরেন। এর মধ্যে এক হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা সরাসরি তছরুপ করা হয়েছে। বাকি
দুই হাজার ৩৪৬ কোটি টাকার লেনদেন অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক।
তদন্ত
প্রতিবেদন প্রকাশকালে তত্কালীন বাণিজ্য সচিব সাংবাদিকদের জানান, ডেসটিনি
গ্রুপের ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৬টির কোনো না কোনোভাবে কার্যক্রম আছে।
বাকি ১৩টি প্রতিষ্ঠান নাম সর্বস্ব। এর মধ্যে ডেসটিনি ২০০০-সহ ২৬ কোম্পানির
মধ্যে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে ৪৭৩ কোটি টাকার। ডেসটিনি মাল্টিপারপাসে অনিয়ম
হয়েছে ৯৮২ কোটি টাকার। ২৬ কোম্পানির অস্বাভাবিক লেনদেন এক হাজার ২৮২ কোটি
টাকার। আর মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভে সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৬২
কোটি টাকার।
তিনি বলেন, আইন লঙ্ঘনের জন্য সরকারের সাতটি সংস্থা
আলাদাভাবে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। সংস্থাগুলো হলো
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়,
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও
রেজসকো। এখন পর্যন্ত দুদক টাকা পাচারের অভিযোগে মামলা করেছে।
আড়াই লাখের বেশি সরকারি পদ খালি
আড়াই লাখের বেশি সরকারি পদ খালি
সরকারি চাকরির ১৩ লাখ ৭০ হাজার পদের মধ্যে আড়াই লাখেরও বেশি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিতে সাধারণ কোটা বাড়ানো বা বয়স বাড়ানোর কোন পরিকল্পনা নেই সরকারের। গতকাল সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এ তথ্য জানান। সংসদ কার্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম লিখিত জবাবে সংসদকে জানান, সরকার কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি ও আত্মকর্মসংস্থান- তিনটিকেই অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। তার পক্ষে অপু উকিলের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মতিয়া চৌধুরী বলেন, আংশিকভাবে সত্যতা আছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে সত্যতার অভাব রয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ উঠলে গায়ের জোরে পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয় না। তখন ঘটনা তদন্ত করতে হয়। কমিটি গঠন করতে হয়। সে ক্ষেত্রে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিলম্ব হয়ে যায়। তিনি বলেন, আমরা শুদ্ধতার দিকে এগোতে চাই। কারও স্বার্থে কিছু করতে চাই না। অপু উকিলের প্রশ্নটি ছিল- নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে অযথা বিলম্ব করা হয়। এতে দীর্ঘদিন পর্যন্ত পদ শূন্য পড়ে থাকে। এ বিষয়ে সরকার কোন প্রতিকার নেবে কিনা- সে প্রশ্ন রাখেন তিনি। মন্ত্রী জানান, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩২ বছর করার কোন পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই। তিনি জানান, সরকারি চাকরিতে সাধারণ কোটা বাড়ানোর কোন পরিকল্পনা নেই সরকারের। মন্ত্রী জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ১৯৯৭ সালের ১৭ই মার্চ সরকারি চাকরিতে কোটা সম্পর্কে পরিপত্র জারি করা হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পদের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন ধরনের কোটার শতকরা হার হচ্ছে- মেধা কোটা (জেলা কোটা বহির্ভূত) ৪৫ শতাংশ, জেলা কোটা (জনসংখ্যার ভিত্তিতে জেলাওয়ারী বণ্টন) ৫৫ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ, মহিলা ১০ শতাংশ, উপজাতীয় ৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট (জেলার সাধারণ প্রার্থীদের জন্য) ১০ শতাংশ। তাছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পদে এতিমখানা নিবাসী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী (জেলা কোটা বহির্ভূত) ১০ শতাংশ, জেলা কোটা (জনসংখ্যার ভিত্তিতে জেলাওয়ারী বন্টন) ৯০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ, মহিলা ১৫ শতাংশ, উপজাতীয় ৫ শতাংশ, আসনার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা সদস্য ১০ শতাংশ এবং অবশিষ্ট (জেলার সাধারণ প্রার্থীদের জন্য) ৩০ শতাংশ। তিনি আরও জানান, সংবিধানের ২৯(৩) অনুচ্ছেদের আলোকে সরকার সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা নির্ধারণ করে থাকে। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে সাধারণ কোটা বাড়ানোর কোন পরিকল্পনা সরকারের নেই। মন্ত্রী জানান, ৩৩তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোন দালিলিক ডকুমেন্টস আজ পর্যন্ত কারও কাছ থেকে পিএসসি পায়নি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপারে সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশের পর পিএসসি লিখিত পরীক্ষা স্থগিত করে। ফাঁস হওয়া প্রশ্ন কোন নাগরিকের হাতে থাকলে তার কপি ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত চক্র সম্পর্কে তথ্য পিএসসিকে দেয়ার জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। মন্ত্রী আরও জানান, পত্রপত্রিকায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের এবং জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসনের জন্য কমিশন গত ৭ই অক্টোবর থেকে ১৮ই অক্টোবর পর্যন্ত আবশ্যিক ও একটি পদসংশ্লিষ্ট বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা স্থগিত করে। বিএনপির অনুপস্থিত সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয়েছে। তার নাম আ ত ম ফজলুল করিম। উল্লেখ্য, তিনি কবি আবু করিম হিসেবে পরিচিত।
সমুদ্র এলাকায় ৩ নং সতর্কসঙ্কেত অব্যাহত
সমুদ্র এলাকায় ৩ নং সতর্কসঙ্কেত অব্যাহত
পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর
নিম্নচাপ পশ্চিম দিকে সামান্য সরে গিয়ে আজ সোমবার সকাল নয়টায় চট্টগ্রাম
সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর
থেকে ৭৮০ কিলোমিটার দণি-পশ্চিমে এবং মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪০ কিলোমিটার
দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। এটি পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসে একটানা গতিবেগ ঘন্টায় ৫১ কিলোমিটার যা দমকা ঝড়োহাওয়ার আকারে ৬১ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাগর মাঝারী ধরনের উত্তাল রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মংলা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতাসঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমুহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসে একটানা গতিবেগ ঘন্টায় ৫১ কিলোমিটার যা দমকা ঝড়োহাওয়ার আকারে ৬১ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাগর মাঝারী ধরনের উত্তাল রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মংলা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতাসঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমুহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি অন্ধকারে ছিলাম, আলোর দেখা পেয়েছি : দুদক চেয়ারম্যান
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি
অন্ধকারে ছিলাম, আলোর দেখা পেয়েছি : দুদক চেয়ারম্যান
পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের প্রতিবেদন ডিসেম্বরে দাখিল করবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান টিম। আজ সন্ধ্যায় দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমাদের অনুসন্ধানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আগামী মাসের (ডিসেম্বর) প্রথম সপ্তাহেই দুদকের অনুসন্ধানী দল প্রতিবেদন জমা দেবে।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমরা অন্ধকারে ছিলাম, আলোর দেখা পেয়েছি। সবকিছু ঠিকঠাক মতো চলছে। ডিসেম্বরে বিশ্বব্যাংকের দ্বিতীয় প্যানেল ঢাকায় আসছে বলেও ইঙ্গিত করেন তিনি।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপনের পর উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল জাহিদকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি অনুসন্ধানী দল গঠন করে দুদক। অনুসন্ধানী দলের অন্য সদস্যরা হলেন- উপ-পরিচালক জয়নুল আবেদিন শিবলী, উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী ও উপ-পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম।
গত ৩ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষ করে দুদক। পদ্মা সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে এ পর্যন্ত ৩১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ও পদ্মা সেতু প্রকল্পের ইন্টিগ্রিটি অ্যাডভাইজর ড. মসিউর রহমান, সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ নূরে আলম চৌধুরীর ভাই নিক্সন চৌধুরী, সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলাম, আবুল হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সেতু ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান আক্তার প্রমুখ।
বিশ্বব্যাংকের দেয়া শর্ত অনুসারে ইতোমধ্যেই পদ্মা সেতুতে পরামর্শক নিয়োগের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। আর বিশ্বব্যাংকের গঠিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল বাংলাদেশ সফর করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক প্রধান আইনজীবী লুই গ্যাব্রিয়েল মোরেনো ওকাম্পোর নেতৃত্বে দলটি গত ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশে আসে। তারা দুদক কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করে কিছু গাইডলাইন দেন। সেই গাইডলাইন অনুযায়ী দুদক আবারও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
Monday, November 19, 2012
দুর্গন্ধখেকো পোশাক
দুর্গন্ধখেকো পোশাকগায়ের
দুর্গন্ধ নিয়ে সবারই কমবেশি অস্বস্তি তো লাগেই। আর দুর্গন্ধ দূর করতে আমরা
নানা ধরনের পারফিউম ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু পোশাকের নিচে জমে থাকা ঘাম
যে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে তা কি আর কেবল পারফিউম দিয়ে যায়? ফলে দুর্গন্ধ
থাকে, থাকে অস্বস্তি। কিন্তু যদি এমন হয়, গায়ে তৈরি হওয়া দুর্গন্ধ ওই
পোশাকই নির্মূল করে দেবে, তাহলে? সম্প্রতি জাপানের সেইরিন নামে একটি
টেঙ্টাইল কম্পানি এমন এক ধরনের অন্তর্বাস তৈরি করছে, যা গায়ের দুর্গন্ধ
খেয়ে ফেলবে। অন্তর্বাসের নিচে জমে থাকা ঘাম থেকে সৃষ্ট দুর্গন্ধ নির্মূল
করবে ওই বিশেষ ধরনের অন্তর্বাস। শুধু তা-ই নয়, এই অন্তর্বাস দুর্গন্ধ খেয়েই
ক্ষান্ত হবে না, মনোমুঙ্কর সুগন্ধিও ছড়াবে। কম্পানিটি মনে করছে, এই
অন্তর্বাস জাপানের ব্যবসা-বাণিজ্যে দারুণ সুফল বয়ে আনবে। এটি নারী-পুরুষ
উভয়েই ব্যবহার করতে পারবে। এরই মধ্যে এ ধরনের অন্তর্বাস বাজারজাত শুরু
করেছে কম্পানিটি।
এ পোশাকে ব্যবহার করা হয়েছে মৃৎশিল্প বা চীনামাটির বাসনে ব্যবহার করা এক ধরনের সুগন্ধি। এই অন্তর্বাসকে আবহাওয়া উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে, যা আবহাওয়া বুঝেই কাজ করবে। এমনকি স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে চিকিৎসকের পরামর্শও।
সেইরিন কম্পানির নামি ইয়াসিদা নামে এক মুখপাত্র জানান, এ অন্তর্বাস কয়েক বছর ধরে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই পোশাক দৈনন্দিন জীবনে মানুষকে দুর্গন্ধমুক্ত রাখবে এবং সুগন্ধি ছড়াবে। প্রথমে আমরা এ অন্তর্বাস হাসপাতালে বিক্রি করার চিন্তা করেছিলাম। কিন্তু পরে মানুষের সাড়া পেয়ে অবাক হয়েছি। এখন আমরা মানুষকে দুর্গন্ধমুক্ত রাখতে বাজারজাত শুরু করেছি।
এ পোশাকে ব্যবহার করা হয়েছে মৃৎশিল্প বা চীনামাটির বাসনে ব্যবহার করা এক ধরনের সুগন্ধি। এই অন্তর্বাসকে আবহাওয়া উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে, যা আবহাওয়া বুঝেই কাজ করবে। এমনকি স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে চিকিৎসকের পরামর্শও।
সেইরিন কম্পানির নামি ইয়াসিদা নামে এক মুখপাত্র জানান, এ অন্তর্বাস কয়েক বছর ধরে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই পোশাক দৈনন্দিন জীবনে মানুষকে দুর্গন্ধমুক্ত রাখবে এবং সুগন্ধি ছড়াবে। প্রথমে আমরা এ অন্তর্বাস হাসপাতালে বিক্রি করার চিন্তা করেছিলাম। কিন্তু পরে মানুষের সাড়া পেয়ে অবাক হয়েছি। এখন আমরা মানুষকে দুর্গন্ধমুক্ত রাখতে বাজারজাত শুরু করেছি।
বায়ুদূষণে বাড়ে মস্তিষ্কের বয়স
বায়ুদূষণে বাড়ে মস্তিষ্কের বয়স
আপনি যদি উচ্চমাত্রায় বায়ুদূষণের শিকার হন তা হলে আপনার মস্তিষ্কের বর্তমান বয়স আরো তিন বছর বেড়ে যাবে। ফলে কমে যাবে আপনার চিন্তা করার ক্ষমতা। এই প্রথমবারের মতো এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষণায়। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চমাত্রার বায়ুদূষণযুক্ত এলাকায় বাস করা বয়স্ক মানুষের চিন্তা করার ক্ষমতা তুলনামূলক মুক্ত বায়ুতে বসবাসরত লোকজনের চেয়ে খারাপ হয় বলে গবেষণায় দাবি করা হয়েছে।
গবেষক জেনিফার এইলশায়ার পঞ্চাশোর্ধ্ব ১৪ হাজার ৭৯৩ জন নারী-পুরুষের ওপর জরিপ চালিয়ে এমন প্রমাণ পেয়েছেন। তিনি জানান, 'বয়সজনিত কারণে এমনিতেই স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে থাকে। তার ওপর বায়ুদূষণের শিকার হলে তাঁদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা আরো ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। বায়ুদূষণের কারণে বয়স্কদের হৃদযন্ত্র, শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অকাল মৃত্যুর আশঙ্কাও বেড়ে যায়।'
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বায়ুদূষণের মাত্রার পার্থক্যের কারণে ব্যক্তির চিন্তাভাবনার ক্ষমতায় পার্থক্য দেখা দেয়। তবে প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই মস্তিষ্কের বয়স বৃদ্ধির পরিমাণ তিন বছর।
গবেষণায় বায়ুদূষণের মাত্রার সঙ্গে ব্যক্তির বয়স, ধূমপানের অভ্যাস, হৃদযন্ত্র ও শ্বসনতন্ত্রের অবস্থা, গোষ্ঠী এমনকি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকেও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
ক্ষমা কার?
ক্ষমা কার?
এটা সত্য প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমানই ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ২১ আসামিকে
ক্ষমা করেছেন। কিন্তু কার পরামর্শে প্রেসিডেন্ট এতটা ক্ষমাশীল হলেন সে
প্রশ্ন এখন সর্বত্র। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ বলছে, একমাত্র প্রধানমন্ত্রী
এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগদান ব্যতীত আর সব কাজই প্রেসিডেন্ট করবেন
প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী। এ অনুচ্ছেদ বহাল থাকা অবস্থায়
প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া প্রেসিডেন্টের কাউকে ক্ষমা করার সুযোগ নেই।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ক্ষমা সম্পর্কিত পরিসংখ্যান গত বুধবার সংসদে
প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। মন্ত্রীর দেয়া
তথ্য অনুযায়ী ১৯৭২ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ২৫ ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত
আসামিকে ক্ষমা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৭২ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ক্ষমা
করা হয়েছে মাত্র চারজনকে। আর ২০০৯ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ক্ষমা করা
হয়েছে ২১ জনকে। প্রেসিডেন্টের ক্ষমা নিয়ে চারদিকে বিতর্ক যখন তুঙ্গে তখন
শনিবার আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, প্রেসিডেন্টের
ক্ষমা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। কিন্তু সংবিধান ও হাইকোর্টের অন্তত
একটি রায় আইনমন্ত্রীর এ বক্তব্যকে সমর্থন করে না। ক্ষমা কি প্রেসিডেন্ট না
প্রধানমন্ত্রী করেন- গতকাল আইনমন্ত্রীর কাছে এ প্রশ্ন করা হলে তিনি
মানবজমিনকে বলেন, প্রেসিডেন্ট সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমা করেন। তবে এ ব্যাপারে
তিনি আর বিস্তারিত কিছু বলেননি। প্রেসিডেন্টের ক্ষমা নিয়ে গত ২৫শে এপ্রিল
একটি রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি শেখ
হাসান আরিফের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই রায় দিয়েছিল। সে রায়ে বলা হয়, সরকার বা
প্রেসিডেন্ট কর্তৃক সাজা কমিয়ে দেয়া বা বাতিল করে দেয়ার ক্ষমতা চর্চার
ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও সম-অধিকারের নীতি অবলম্বন করতে হবে।
রাজনৈতিক বিবেচনায় ক্ষমা তাই ক্ষমতার অপব্যবহার। এ বিষয়ে একটি বিধিমালা
থাকা উচিত বলেও রায়ে অভিমত ব্যক্ত করা হয়। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদে বলা
আছে, ‘সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫
অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত
রাষ্ট্রপতি তাঁহার সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য
সম্পাদন করিবেন। তবে শর্ত থাকে যে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আদৌ কোন
পরামর্শ দান করিয়াছেন কি না এবং করিয়া থাকিলে কি পরামর্শ দান করিয়াছেন, কোন
আদালত সেই সম্পর্কে কোন প্রশ্নের তদন্ত করিতে পারিবেন না।’ যদিও সংবিধানের
৪৯ অনুচ্ছেদ বলছে, ‘কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক
প্রদত্ত যে কোন দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করিবার এবং যে কোন
দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করিবার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকিবে।’ সংবিধান
বিশেষজ্ঞ মাহমুদুল ইসলাম তার কনস্টিটিউশনাল ল’ অব বাংলাদেশ গ্রন্থে
লিখেছেন, শান্তি ও ন্যায়বিচারের জন্য সংবিধানে ক্ষমার ব্যবস্থা রাখা
হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের সরকারগুলো রাজনৈতিক বিবেচনায় ক্ষমা করে এ
বিধানের অপব্যবহার করেছে।
মিজারুল কায়েস যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার
মিজারুল কায়েস যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার
পররাষ্ট্রসচিব মোহাম্মদ মিজারুল কায়েস যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন।
আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা মিজারুল কায়েস ২০০৯ সালের ৮ জুলাই থেকে পররাষ্ট্রসচিব পদে দায়িত্ব পালন করছেন। পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি রাশিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং মালদ্বীপে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে কাজ করেছেন।
জেনেভা, টোকিও ও সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ মিশনে কূটনীতিক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। মহা পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন মন্ত্রণালয়ের সার্ক ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ডেস্ক এবং অর্থনৈতিক বিষয়, বহিঃপ্রচার বিভাগেও।
টক অব দ্য টাউন ওসি সিদ্ধিরগঞ্জ
টক অব দ্য টাউন ওসি সিদ্ধিরগঞ্জ
আবারও আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল আলম মোল্লাকে নিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে ঘুষবাণিজ্য আর দুর্নীতির কারণে আলোচিত হলেও এবার তিনি বউ পিটিয়ে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছেন। শুধু তাই নয়। আহত স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে গভীর রাতে বের করে দিয়ে বাসায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। তারা পরিবারের কারও সঙ্গে যাতে যোগাযোগ করতে না পারেন এ জন্য স্ত্রীর হাত থেকে মুঠোফোনটিও কেড়ে নিয়েছেন ওসি কামরুল। আহত স্ত্রী রেহানা পারভীন নিরুপায় হয়ে থানা কার্যালয়ের পাশে একটি চায়ের দোকানে বসে রাত পার করেন। অন্যদিকে ওসি কামরুল আলম মোল্লা গভীর রাতে অজ্ঞাত স্থানে গিয়ে রাত কাটান। যাওয়ার সময় ঘটনাটি যাতে প্রকাশ না পায় সে জন্য নজরদারি বাড়িয়ে যান। কিন্তু ওসির ন্যক্কারজনক আচরণে থানার একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা ও কনস্টেবলদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বুধবার রাতে থানা কোয়ার্টারের ভেতর ওসির এহেন ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে স্ত্রী রেহানা পারভীনের ওসি’র গোপনে আরেকটি বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন। নির্যাতিত রেহানা পারভীন বৃহস্পতিবার এসপি’র সঙ্গে দেখা করে বিস্তারিত ঘটনা জানান। এদিকে এ ঘটনার পর থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে টক অব দ্য টাউন এখন ওসি কামরুল।
ঘটনার সূত্রপাত: সূত্রমতে, ওসি কামরুল আলম মোল্লার নারীঘটিত ব্যাপারসহ নানা বিষয় নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি নেমে আসে। থানার ভেতর কোয়ার্টারে রাত যাপনের কথা বলে রাতে তিনি অন্যত্র থাকতেন। ঠিকমতো ঢাকার বাসায় যেতেন না। এমনকি গত ৪ মাস ধরে দুই ছেলেমেয়ের খরচও দিচ্ছেন না। দুই মাস আগে গোপনে মুনমুন নামে এক মহিলাকে বিয়ে করেন। এসব বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ জানান স্ত্রী রেহানা পারভীন। তাছাড়া, ওসি অসুস্থ হয়ে ৫-৬ দিন হাসপাতালে থাকলেও ছুটি কাটিয়েছেন ১৯ দিন। কিন্তু তিনি বাসায়ও ছিলেন না। এক পর্যায়ে কোরবানির ঈদের আগের দিন ঢাকার বাসা থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কার্যালয়ে গিয়ে হৈচৈ করেন রেহানা পারভীন।
থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য মানবজমিনকে জানান, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কম্পাউন্ডে অবস্থিত ওসি’র কোয়ার্টারে স্ত্রীকে বেধড়ক পিটিয়ে পুত্র সন্তানসহ বাসা থেকে বের করে বাসাটি তালাবদ্ধ করে ওসি কামরুল অজ্ঞাত স্থানে চলে যান। এর আগে স্ত্রীর মুঠোফোনটিও কেড়ে নেন। এই ঘটনায় থানায় অবস্থানরত পুলিশ সদস্য ও অন্যদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওসি’র স্ত্রী ও পুত্রের কান্না শুনে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাদের দু’জনকে নিয়ে থানার পার্শ্ববর্তী একটি চায়ের স্টলে বসান। আহত অবস্থায় ওসি’র স্ত্রী সারারাত থানা কার্যালয়ের পাশে অবস্থিত ওই চায়ের স্টলে বসে ছিলেন। সকালে নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে একজন আত্মীয় এসে তাদের দু’জনকে নিয়ে যান। শহরের একটি ক্লিনিকে রেহানা পারভীনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। তার আত্মীয় এক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা ঢাকা থেকে ঘটনাটি জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের টেলিফোনে জানান। রেহানা পারভীন মানবজমিনকে বলেন, পুলিশ পরিদর্শক কামরুল তার অমতে দুই মাস আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। এর প্রতিবাদ করায় তাকে নানা ভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে।
ওসির গোপন নিবাস: সূত্রমতে, ঢাকার রামপুরার বনশ্রীতে ওসি কামরুল জি ব্লকের ১ নং সড়কের ২৫ নং বাড়ির ৪-এ নং ফ্ল্যাটটি মাসিক ২০ হাজার টাকায় ভাড়া নেন গত ১লা আগস্ট থেকে। বাড়িওয়ালার সঙ্গে চুক্তিপত্রে তিনি নিজের নাম লিখেছেন কামরুল ইসলাম মোল্লা। পিতার নাম শামসুল আলম মোল্লা হলেও লিখেছেন তোফাজ্জল হোসেন। ওসি’র গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার ইচাখালী চুক্তিপত্রে লিখেছেন ৪৭/১, নিউ চাষাঢ়া, জামতলা, নারায়ণগঞ্জ। বর্তমান ঠিকানা লিখেছেন ৩৭ নং ঈশা খাঁ রোড, নারায়ণগঞ্জ। স্ত্রী রেহানা পারভীন কন্যা, পুত্র সহ ঢাকায় ফার্মগেট এলাকায় বসবাস করেন। ওসি কামরুল ২০১২ সালের ২৪শে আগস্ট মুনমুন নামের এক মহিলাকে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই বিয়ে করেন ১ লাখ টাকা দেনমোহরে (কাবিননামা অনুযায়ী)। মুনমুন গত ২১ থেকে ২৫শে জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে আটক ছিলেন একটি প্রতারণা মামলায়। সি আর মামলা নং-৩৭৩/১২, ধারা দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৩৮০, ১৮০। মুনমুন কারাগারে থাকাকালে ওসি কামরুল স্বামী পরিচয়ে কারাগারে জেলারের সঙ্গে দেখা করেন এবং খোঁজখবর নেন। নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও গোপালগঞ্জের লোক হওয়ায় ওসি কামরুলের বিরুদ্ধে জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা কোন কথা বলতে সাহস পান না বলে জানা গেছে। টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে ওসি কামরুল তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বুধবার রাতে স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার ঝগড়া হয়েছিল। সকালে স্ত্রী ঢাকার বাসায় চলে গেছে। স্ত্রীকে তিনি কোন নির্যাতন করেন নি। জেলা পুলিশ সুপার শেখ নাজমুল আলম বলেন, ওসি কামরুলের স্ত্রী দুপুরে আমার সঙ্গে অফিসে দেখা করেছেন। বিষয়টি পারিবারিক হওয়ায় তা দ্রুত মিটিয়ে ফেলার জন্য ওসিকে বলেছি।
Sunday, November 18, 2012
অপহরণকারীদের আস্তানা ছিল 'মামুনের গ্যারেজ
অপহরণকারীদের আস্তানা ছিল 'মামুনের গ্যারেজ
পরাগ অপহরণকারী চক্রের অন্যতম আস্তানা ছিল রাজধানীর জুরাইনের একটি গ্যারেজ। ওই গ্যারেজে বিভিন্ন অপরাধীর মোটরসাইকেল রাখা হতো। এসব দেখভাল করত মামুন। অপহরণকারী চক্রের সঙ্গে মামুনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থেকে শিশু পরাগ অপহরণে দুটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি মোটরসাইকেল (ঢাকা মেট্রো- ল-১০০৮১২) জুরাইনের ওই গ্যারেজ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরাগ অপহরণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে র্যাবের হাতে গ্রেফতার ৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এদিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পরাগ সুস্থ হয়ে উঠছে। পরাগের বাবা বিমল মণ্ডল গতকাল সন্ধ্যায় সমকালকে জানান, দু'একদিনের মধ্যে পরাগকে বাসায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলেছে, পরাগ অপহরণে জড়িত সন্দেহে পুলিশ যে মামুনকে গ্রেফতার করেছে, ওই মামুন ও জুরাইনে গ্যারেজের তত্ত্বাবধায়ক
মামুন এক ব্যক্তি নয়।
র্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান সমকালকে বলেন, জুরাইনের যে গ্যারেজ থেকে পরাগ অপহরণে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি দীর্ঘদিন অপরাধীদের আস্তানা হিসেবে ব্যবহার হচ্ছিল। ওই গ্যারেজের ব্যাপারে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
পরাগ অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চারজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ইতিমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শিশুটি অপহরণের পর কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। এমনকি আমিরের অবস্থান সম্পর্কেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, রাজধানীতে শত শত রিকশা, ভ্যান ও প্রাইভেট কারের গ্যারেজ রয়েছে। মোটরসাইকেলের এ ধরনের ব্যতিক্রমী গ্যারেজ খুব কম চোখে পড়েছে। যেখান থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে অপরাধীরা ছিনতাই-ডাকাতিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করেছে। অপারেশন সম্পন্ন করে রাতেই ওই গ্যারেজে মোটরসাইকেল রাখা হতো। ওই গ্যারেজের মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের অধিকাংশ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র। শিশু পরাগকে যে মোটরসাইকেলে কেরানীগঞ্জে পেঁৗছে দেওয়া হয়েছে, সেটিও ছিল মামুনের গ্যারেজের। ওই গ্যারেজে আরও সাত-আটটি মোটরসাইকেল পাওয়া গেছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র সমকালকে জানায়, শিশু পরাগ অপহরণের ঘটনায় র্যাবের হাতে গ্রেফতার মো. আলী রিফাত দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল। রিফাত তার বাবাকে একটি ট্যাক্সিক্যাবও কিনে দেয়। তার সঙ্গে দনিয়া কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জাহিদুলের ভালো সম্পর্ক ছিল। পরাগ অপহরণের ঘটনায় জাহিদুলকেও গ্রেফতার করে র্যাব। উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র হলেও জাহিদুল বেশ চাকচিক্যময় জীবন-যাপন করত। ঘটনার দিন জাহিদুল ও রিফাত একই মোটরসাইকেলে ছিল। পরাগ অপহরণ ছাড়াও তারা বিভিন্ন সময় নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল।
এদিকে পরাগ অপহরণের মূল হোতা আমিরকে এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তাকে ধরতে র্যাব-পুলিশের অভিযান চলছে। আমির যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারে এ ব্যাপারে বিভিন্ন বিমানবন্দরে তার ছবি পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পরপরই আমির বিদেশে পালিয়েছে কি-না এ ব্যাপারেও স্পষ্ট কিছু বলছেন না আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
গতকাল কেরানীগঞ্জের হিজলতলা এলাকায় আমিরকে দেখা গেছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে আমিরকে দেখা যাওয়ার ব্যাপারটি নাকচ করেছে স্থানীয় পুলিশ।
পরাগের বাবা বিমল মণ্ডল সমকালকে জানান, পরাগ সুস্থ হয়ে উঠছে। অপহরণের পর কী ঘটেছিল তা এখনও বলতে পারছে না পরাগ। অপহরণের পরপরই তাকে ইনজেকশন দেওয়ায় তার চেতনা ছিল না। তাই কিছুই তার মনে নেই। সবার সহায়তায় তাকে ফিরে পেয়েছি_ এটাই জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার।
শিশুর হাঁ করে ঘুমানো
শিশুর হাঁ করে ঘুমানো
অনেক সময় লক্ষ করা যায়, শিশুরা হাঁ করে বা মুখখুলে ঘুমাচ্ছে। নাক দিয়ে আমরা শ্বাস গ্রহণ করি ও শ্বাস ত্যাগ করি। নাক দিয়ে বাতাস ঢুকে তা প্রবেশ করে ন্যাসোফ্যারিংস, ল্যারিংস বা স্বরযন্ত্র হয়ে ট্রাকিয়া বা শ্বাসনালীতে। শ্বাসনালী থেকে ব্রংকাস ও ব্রনকিওল হয়ে অ্যালভিওলাই বা ফুসফুসের বায়ুথলিতে ঢোকে বাতাস। আবার শ্বাসত্যাগের সময় পুনরায় এ পথেই বাতাস বের হয়। এই বাতাস আসা-যাওয়ার পথে যদি কোনো বাধা থাকে তবে শিশু নাক দিয়ে শ্বাস না নিয়ে মুখ দিয়ে নেবে। আর সে কারণেই মুখখোলা বা হাঁ করে ঘুমাবে। এ ক্ষেত্রে শিশু ঘুমানোর সময় নাক ডাকতেও পারে।
নানা কারণে এমনটি হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছেÑ নাকের হাড় বাঁকা থাকা, নাকের মাংসল অংশ ফুলে থাকা, নাকে পলিপ থাকা, কোয়ানাল অ্যাস্ট্রেসিয়া, শিশুর টনসিল ও অ্যাডিনয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে গেলেও শিশু মুখখুলে ঘুমায় এবং এ দুটি কারণই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
টনসিলের প্রদাহ বা টনসিলাইটিস হলে টনসিল বড় হতে পারে। বারবার টনসিলাইটিস হওয়া, শিশুর গলা ব্যথা, জ্বর, সর্দি-কাশি, কান ব্যথা ইত্যাদি প্রধান লক্ষণ। এ রকম হলে অবশ্যই নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন। অনেকের ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে টনসিলাইটিস হলেই নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ সার্জন টনসিল কেটে ফেলবেন অর্থাৎ অপারেশন করবেন। কিন্তু এমনটি ভাবার কোনোই কারণ নেই। চিকিৎসা করে অসুস্থ টনসিল রেখে দিলে শিশুর হৃদযন্ত্রের অসুখ, রিউম্যাটিক হাইডিজিজ ও হার্টের ভাল্ব নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সুতরাং টনসিলাইটিসের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী অবশ্যই করাবেন।
কিছু শিশু প্রায় সারা বছর সর্দি-কাশিতে ভোগে, মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়, হাঁ করে ঘুমায়, নাক ডাকে, খাবারে অরুচি, ওজন কমে যাওয়া, ওপরের পাটির সামনের দিকের দাঁত এগিয়ে আসা ইত্যাদি অ্যাডিনয়েড গ্লান্ডের সংক্রমণ এবং বড় হয়ে যাওয়ার লক্ষণ। অ্যাডিনয়েড বড় হলে ও সংক্রমণের কারণে শিশুর কানে ব্যথা ও কানে পুঁজ হতে পারে। এ ছাড়া নাক দিয়ে রক্ত পড়া ও কথা বলতেও অসুবিধা হয়। এই অবস্থায় অবশ্যই নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রেও ওষুধ দিয়ে চিকিৎসার পাশাপাশি আপনার শিশুর স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনেই অ্যাডিনয়েড গ্লান্ড অপারেশন করে বাদ দিতে হতে পারে। অ্যাডিনয়েড বড় হলে এবং অপারেশন না করলে শিশুর কানে শোনার সমস্যা এবং বুদ্ধিমত্তা বিকাশে ব্যাহত হতে পারে।
শিশুর টনসিল ও অ্যাডিনয়েড অপারেশন নিয়ে ভয় পাওয়া অহেতুক। শিশুকে অজ্ঞান করে, বাইরে থেকে কোনো কাটাছেঁড়া না করে, হাঁ করে ভেতর থেকে টনসিল ও অ্যাডিনয়েড গ্লান্ড সার্জারি করে ফেলে দেয়া হয়। এতে সময়ও কম লাগে এবং মাত্র এক দিন পরই হাসপাতাল থেকে শিশুকে বাসায় নিয়ে যেতে পারবেন। শিশুর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম। বরং আগেই বলা হয়েছে, শিশুর স্বাস্থ্যগত কারণেই এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে অপারেশন করাবেন।
আর অবশ্যই মনে রাখবেন, আপনার শিশু যদি মুখখোলা বা হাঁ করে ঘুমায় কিংবা নাক ডাকে তবে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান ও পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করান।
লেখিকা : সহযোগী অধ্যাপিকা, ফার্মাকোলজি অ্যান্ড থেরাপিউটিক্স, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ।
চেম্বার : স্ট্যান্ডার্ড মেডিক্যাল সার্ভিস লিমিটেড, ২০৯/২, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা।
‘ব্যাটসম্যানদের কারণে হেরেছি’
‘ব্যাটসম্যানদের কারণে হেরেছি’
মুশফিকের চেহারায়ই ফুটে ওঠে দলের ব্যর্থতাচ্ছন্ন পরাজয়ের প্রতিচ্ছবি। তবে লড়াইয়ে পরাজয়ের পর তো অমন হওয়ার কথা নয়! কিন্তু মুশফিকেরা তো চেয়েছিলেন জয়; না পারলে অন্তত ড্র। কিছুই যখন পেলেন না, তখন চেহারা এমন হওয়া ছাড়া আর উপায় কী। ক্যারিবীয়দের যেভাবে পাওয়া গিয়েছিল এ ম্যাচে, এতে জয় বের না করতে পারার যন্ত্রণা অনেক দিন পর্যন্তই ভোগাবে তাদের। কিন্তু কেন এমন হলো? মুশফিক জানালেন, ‘মূলত ব্যাটিংয়ে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। বোলারেরা সুযোগ করে দিয়েছিলেন, কিন্তু ব্যাটসম্যানরা সেটি ধরে রাখতে পারেননি।’ তিনি বলেন, টপ অর্ডারে কয়েকজন দায়িত্বহীন শট খেলে আউট হয়েছেন। একজন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে আমরা এমনটি আশা করি না। সেটি না হলে অন্তত ড্র করা যেত। মুশফিক আরো বলেন, ‘ম্যাচটা হাতছাড়া হয়ে গেছে দ্বিতীয় সেশনে। ওই সেশনে পাঁচটি উইকেটের পতন হয়েছে, যা প্রথম ইনিংসের সাথে কখনই মেলানো যাবে না। এখানেই ম্যাচ হেরেছি আমরা।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের আগের দিনে পরিকল্পনা ছিল সকালে যত দ্রুত সম্ভব কারিবীয়দের আউট করে দেয়া যায়। সোহাগের মারাত্মক বোলিংয়ে ওরা ১০ ওভারের বেশি খেলতে পারেনি। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৭৮ ওভার পেয়েছিলাম আমরা। ওভার যথেষ্ট ছিল। কিন্তু আমরা জুটি গড়তে পারিনি, এটিই পরাজয়ের কারণ। অনেক ব্যাটসম্যানই বিশের কোটায় গিয়ে আউট হয়েছেন।’ তিনি বলেন, এর আগে আমরা ধরেই নিয়েছিলাম ওরা ৩০০ রানের টার্গেট দেবে। কিন্তু সেখানে আমরা ওদের দ্রুতই আউট করে দিয়েছি। কারিবীয়রা ভেবেছিল ২৪৫ টার্গেট যথেষ্ট হবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টার্গেট এটিই হলো। এখানে আমাদের পরিকল্পনা সেট হতে হবে। উইকেট হারানো চলবে না। দেখেশুনে খেলতে হবে। কিন্তু প্রথম সেশনেই তো আউট দু’টি। এরপর পাঁচ। এ সময় যদি আমরা এক বা দুই উইকেট হারাতাম, তাহলে শেষ সেশনে দেখা যেত আমাদের ৫-৬ উইকেট থাকত। ফলে ড্র বা জয়ের একটি সুযোগ নেয়া যেত অলআউট খেলে।
প্রশ্ন ছিল ম্যাচে ড্রয়ের সুযোগ ছিল কি না? মুশফিক বলেন, ২৪৫ রান খুব ট্রিকি রান। আমরা প্রথম দুই সেশনে বেশি উইকেট হারাতে চাইনি। দুই সেশন শেষে আমাদের রান ১২০ হলেও শেষ সেশনে জয়ের চেষ্টা করতে পারতাম। কিন্তু ওই সেশনে বেশি উইকেট হারানোয় আর সেই চেষ্টা করা যায়নি। ড্রয়ের আশায় ব্যাট করলে এই উইকেটে টিকে থাকা অনেক কঠিন। এ জন্যই আমরা নেচারাল ব্যাটিং করতে গেয়েছি। দলের বোলারদের ক্রেডিট দিতে গিয়ে মুশফিক বারবার টেনে আনেন সোহাগ গাজীকে। ‘দারুণ বল করেছেন তিনি। দেখবেন বেশির ভাগ ডেঞ্জার ব্যাটসম্যানদের উইকেটই তুলে নিয়েছেন তিনি। আসলে ওকে যখন দলে নেয়া হয়, তখন কথা উঠেছিল। আমরা ওকে একটি মেসেজ দিয়েছিলামÑ তুমি উইকেট পাও আর না পাও; তুমি তোমার বোলিং করবে, যাতে রান চেক দেয়া যায়। তা ছাড়া কারিবীয়দের দলে ক’জন বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন, সে জন্যই সোহাগ গাজী খুবই কার্যকর হবেন ভেবেই দলে নেয়া। আল্লাহর রহমতে, আলহামদুলিল্লাহ সোহাগ খুবই ভালো করেছেন। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও দারুণ বোলিং করেছেন তিনি। তবে মুশফিক চতুর্থ ইনিংসে এমন পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য আরো বেশি ম্যাচ খেলার ওপর জোর দেন। ‘আমরা এ পরিস্থিতিতে খুব কমই পড়েছি। বেশি ম্যাচ খেললে এটি কাভার করার কৌশল আয়ত্তে আনা সম্ভব হতো।’
পুরো ম্যাচের দলের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, শেষ দুই সেশন বাদ দিলে আমরা ভালো একটি গেম খেলেছি। প্রতিটি ইনিংসেই আমরা লড়াই করেছি পরিস্থিতি অনুসারে। এটি ভালো একটি দিক।
বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস : ৫২৭/৪ ডিকে. (১৪৪ ওভার)
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৫৫৬/১০ (১৪৮.৩ ওভার)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংস : ২৪৪/৬ (আগের দিনের)
রান বল ৪ ৬
সামি এলবিডব্লিউ ব সোহাগ ১৬ ২২ ১ ১
নারিন অপ: ২২ ২৯ ২ ১
রামপাল ব সোহাগ ৫ ১৭ ০ ০
বেস্ট ব সোহাগ ০ ১ ০ ০
চন্দরপল এলবিডব্লিউ ব সোহাগ ১ ৪ ০ ০
অতি: (বা-১, লেবা-৩, নো-৪) ৮
মোট (৭৪.২ ওভার অলআউট) ২৭৩
উইকেট পতন : ১/২০, ২/২০৯, ৩/২১২, ৪-২১৮, ৫/২২৫, ৬/২৪৪, ৭/২৪৯, ৮/২৬৫, ৯/২৬৫, ১০/২৭৩।
বোলিং : সোহাগ ২৩.২-২-৭৪-৬, রুবেল ১৯-৪-৫৩-২, রিয়াদ ৩-০-১২-০, শাহাদত ৭-১-৩৪-০, সাকিব ১১-২-৫৬-২, নাঈম ৮-০-২২-০, নাসির ৩-০-১৮-০।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস
তামিম ক রামদিন ব রামপাল ৫ ১৫ ০ ০
জুনায়েদ ক রামদিন ব বেস্ট ২০ ৪২ ১ ০
নাফীস ক অ্যান্ড ব বেস্ট ২৩ ৪০ ৩ ০
নাঈম এলবিডব্লিউ ব পারমাল ২৬ ৬৫ ৩ ০
সাকিব ক রামদিন ব বেস্ট ২ ৩ ০ ০
মুশফিক এলবিডব্লিউ ব বেস্ট ১৬ ৩৩ ১ ০
নাসির ব পারমাল ২১ ৩৩ ২ ০
রিয়াদ ব বেস্ট ২৯ ৫০ ২ ১
সোহাগ ক অতি: ব পারমাল ১৯ ৩৮ ২ ১
শাহাদত ক পাওয়েল ব রামপাল ৪ ২ ১ ০
রুবেল অপ: ০ ৭ ০ ০
অতি: (বা-১, নো-১) ২
মোট (৫৪.৩ ওভার অলআউট) ১৬৭
উইকেট পতন : ১/১০, ২/৪৪, ৩/৫১, ৪/৫৫, ৫/৮৫, ৬/১০৬, ৭/১১৯, ৮/১৫৫, ৯/১৫৯, ১০/১৬৭
বোলিং : রামপাল ১১-১-৩২-২, নারিন ১৮-১-৫৬-০, বেস্ট ১২.৩-২-২৪-৫, পারমল ৮-০-৩২-৩, সামি ৩-০-১৩-০, স্যামুয়েলস ২-০-৯-০।
ফল : ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭৭ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : কিরণ পাওয়েল।
সিরিজ : ১-০তে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
Saturday, November 17, 2012
লিভারের প্রদাহ ও ভাইরাল হেপাটাইটিস
লিভারের প্রদাহ ও ভাইরাল হেপাটাইটিস
আমাদের দেশে
লিভারের নানাবিধ
রোগ রয়েছে। সব সময় যে রোগটি ঘরে ঘরে দেখা যায় তা জনমুখে জণ্ডিস নামে
পরিচিত। আসলে জণ্ডিস কোন রোগ নয়। এটা নানাবিধ কারণে লিভারের প্রদাহের লক্ষণ
মাত্র। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণে লিভারের প্রদাহ হয়ে থাকে। যে কোন
ভাইরাস দ্ব্বারা ইনফেকশন হয়ে লিভারের প্রদাহ হতে পারে। তন্মধ্যে কতগুলো
ভাইরাস আছে মানব দেহে ঢুকেই যাদের লিভার কোষে বাসা বাঁধার শক্তি রয়েছে। এ
জাতীয় ভাইরাসগুলোকে হেপাটাইটিস ভাইরাস হিসেবে নাম করণ করা হয়েছে। এই
ভাইরাসগুলোকে একটি পরিবারের সদস্য হিসেবে গণ্য করা হয়। তাদের নাম যথাক্রমে
হেপাটাইটিস ‘এ’, হেপাটাইটিস ‘বি’, হেপাটাইটিস ‘সি’, হেপাটাইসিস ‘ডি’ ও
হেপাটাইটিস ‘ই’ ভাইরাস। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই এই ভাইরাসগুলো মানবদেহের
লিভারকে আক্রান্ত করে। তাছাড়াও ডেঙ্গু ভাইরাস, ইয়েলো ফিবার ভাইরাস কখনো
কখনো লিভারকে আক্রান্ত করতে পারে। ভাইরাস ছাড়া অন্যান্য কারণেও লিভারের
প্রদাহের সৃষ্টি হতে পারে। যেমন- ওষুধের বিষক্রিয়া, আয়রণ কপার মেটাল
প্রক্রিয়াজাতকরণের
সমস্যা, এইচ আই ভি ইনফেকশন, মদ্যপানের অভ্যাস এবং কারণ জানা নেই এমন রোগ
যেমন, অটোইমিউন হেপাটাইটিস। ব্যাক্টেরিয়া জনিত পায়োজেনিক লিভার এবসেস,
হেপাটিক এমেবিয়াসিস, হাইডাটিড ডিজিজ অব লিভার,
একটিনোমাইকোসিস,
টিউবারকালোসিস,
সিফিলিস, লেপটোস্পাইরোসিস,
রিকেটসিয়াল
ইনফেকশন, সিস্টোসোমিয়াসিস,
ম্যালেরিয়া,
কালাজ্বর, লিভার ফ্লুক্স ইত্যাদি দ্ব্বারাও লিভার আক্রান্ত
হতে
পারে।
তবে
আমাদের দেশে ভাইরাল হেপাটাইটিস, এমেবিক লিভার এবসেস ও হাইডাটিড ডিজিজ
লিভারের রোগের অন্যতম কারণ। এ আলোচনায় ভাইরাল হেপাটাইটিস সম্পর্কে কিছু
তথ্য পেশ করব।
আমরা
জানি লিভার শরীরের জন্য একটি অতি প্রয়োজনীয় অঙ্গ। হেপাটাইটিস ভাইরাসের
কারণে লিভারে প্রদাহ হলে আমরা তাকে হেপাটাইটিস রোগ বলি। হেপাটাইটিস রোগ
স্বল্পমেয়াদী (Acute)
বা দীর্ঘমেয়াদী (Chronic)
দু’ ভাবেই হতে পারে।
হেপাটাইটিস
‘এ’ এবং ‘ই’ ভাইরাস স্বল্পমেয়াদী হেপাটাইটিস রোগের অন্যতম কারণ। হেপাটাইটিস
‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’ ভাইরাস স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী উভয় প্রকার
হেপাটাইটিস রোগ সৃষ্টি করতে পারে। হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ ভাইরাস দুষিত
পানীয় ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। হেপাটাইটিস ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’ ভাইরাস দূষিত
রক্ত, সিরিঞ্জ, যৌন মিলন ইত্যাদির মাধ্যমে ছড়ায়। আমাদের দেশে হেপাটাইটিস
‘ই’ ও ‘এ’ ভাইরাসের কারণে স্বল্পমেয়াদী হেপাটাইটিসের প্রাদুর্ভাব বিশেষভাবে
লক্ষ্য করা যায়
। আমাদের দেশের কর্মজীবী ও সাধারণ জনগন বাইরের প্রস্তুত করা খাবার গ্রহণে
অভ্যস্থ বিধায় ‘ই’ ও ‘এ’ ভাইরাসটি সহজে সংক্রমিত হয়।
দীর্ঘমেয়াদী
হেপাটাইটিস
সৃষ্টিকারী
‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী
বিশ্বের প্রতি ১২ জনে ১ জন হেপাটাইটিস ‘বি’ বা ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত আছে।
সে হিসেবে বিশ্বের প্রায় ৫২ কোটি লোক এই দুইটি ভাইরাসে আক্রান্ত।
দীর্ঘমেয়াদী হেপাটাইটিস রোগের জটিলতা, যেমন- ক্রনিক হেপাটাইটিস, লিভার
সিরোসিস, লিভার ফেইলিউর, লিভার ক্যান্সার দ্ব্বারা আক্রান্ত হয়ে রোগী
মৃত্যু মুখে পতিত হয়। স্বল্প মেয়াদী হেপাটাইটিস আক্রান্ত রোগী সঠিক
চিকিত্সার মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আরোগ্যলাভ করে কিন্তু কখনো কখনো লিভার
ফেইলিওর হয়ে মারা যেতে পারে।
এই
পর্যায়ে দীর্ঘ মেয়াদী হেপাটাইটিস সম্পর্কে আলোচনা করব। দীর্ঘ মেয়াদী হেপাটাইটিস এর অন্যতম কারণ হচ্ছে হেপাটাইটিস বি এবং সি ভাইরাস।
হেপাটাইটিস
‘বি’ ভাইরাস
বি
ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের উপর ভিত্তি করে বিশ্বকে উচ্চ, মধ্যম ও নিম্ন আকান্ত
এলাকা হিসেবে ভাগ করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ মধ্যম আক্রান্ত এলাকা।
বাংলাদেশের শতকরা ৪.৪ ভাগ মানুষ এই ভাইরাস বহন করছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে
দেখা যায়, বিদেশগামী দক্ষ/অদক্ষ শ্রমিকদের মধ্যে শতকরা ৪.৪ থেকে ৭.৫ ভাগ,
গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে ৩.৫ ভাগ, বস্তিবাসী লোকদের মধ্যে ৩.৮ ভাগ,
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৪.৮ ভাগ, স্কুলগামী শিশুদের মধ্যে ২.৩ ভাগ,
স্বেচ্ছা রক্তদানকারীদের মধ্যে ২.৪ ভাগ লোক, হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসে
আক্রান্ত।
স্বল্পমেয়াদী
হেপাটাইটিস
রোগীদের শতকরা ১৯.০-৩৫.০ ভাগ, দীর্ঘ মেয়াদী লিভার রোগীদের শতকরা ৩৩.৩ -
৪০.৫ ভাগ এবং লিভার ক্যান্সার রোগীদের ক্ষেত্রে গড়ে শতকরা ৪৫.৮ ভাগ
হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসের
কারণে হয়ে থাকে।
আমাদের
দেশে হেপাটাইটিস ‘বি’ আক্রান্ত পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে শতকরা
২০.৯ ভাগ, পেশাদার রক্ত দাতাদের মধ্যে শতকরা ১৮.২-২৯.০ ভাগ, শিরাপথে
ড্রাগাসক্তদের মধ্যে শতকরা ৬.২-১২.০ ভাগ, অন্যান্য ড্রাগাসক্তদের মধ্যে
শতকরা ৪.৪ ভাগ, ট্রাক ড্রাইভারদের মধ্যে ৫.৯ ভাগ এবং পতিতাদের মধ্যে ৯.৭
ভাগ হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত।
কিভাবে
ছড়ায়
রক্ত
এবং রক্তজাত পদার্থ মূলত এই ভাইরাসের বাহক। রক্ত রস, লালা এবং বীর্যের
মাধ্যমে এই ভাইরাস
এক দেহ থেকে অন্য দেহে সংক্রমিত হয়। আকুপাংচার, মুসলমানী, নাক, কান
ফুঁড়ানো, সিরিঞ্জ, সূঁচ, নাপিতের ক্ষুর ইত্যাদি ভাগাভাগি করে ব্যবহার
করার মাধ্যমে হেপাটাইটিস ‘বি’ ছড়ায়। হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাস, এইডস এর
ভাইরাস (এইচআইভি) এবং হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসের মতই যৌন মিলনের মাধ্যমে
ছড়াতে পারে। পুরুষ সমকামী এবং পতিতাদের মাধ্যমে সমাজে দ্রুত এই ভাইরাস
বিস্তারলাভ করে।
এই
রোগের প্রকৃতি নির্ভর করে কোন বয়সে একজন ব্যক্তি হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে
আক্রান্ত হলো তার উপর। গর্ভাবস্থায় মা হেপাটাইটিস ‘বি’ এর বাহক হলে
পরবর্তীতে জন্মগ্রহণকারী শিশুর মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে এ ভাইরাস
বিস্তার লাভ করে। অন্যদিকে বয়স্ক লোকের বেলায় এই হার মাত্র শতকরা ৫-১০ ভাগ।
হেপাটাইটিস
‘সি’ ভাইরাস
বিশ্বে
মোট ১৭০ মিলিয়ন লোক হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত। এশিয়া মহাদেশে
আক্রান্তের হার শতকরা ০.৩ ভাগ থেকে ৪.০ ভাগ পর্যন্ত। সাধারণত রক্ত
পরিসঞ্চালন, অঙ্গপ্রতিস্থাপন,
ইঞ্জেকশন এবং আক্রান্ত মা থেকে শিশু ও যৌন মিলনের মাধ্যমে হেপাটাইটিস সি
ভাইরাস বিস্তার লাভ করে।
বাংলাদেশের
পেশাদার রক্ত দাতাদের মধ্যে শতকরা ১.২ ভাগ এই ভাইরাস বহন করে। পরিসংখ্যাণে
দেখা গেছে, ১ টি বিশেষায়িত হাসপাতালে কর্মরত ১.৪৪% স্বাস্থ্যকর্মী
হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত। বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে
আক্রান্তের হার শতকরা ০.৫ জন।
অন্য
একটি গবেষণায় দেখা গেছে দীর্ঘ মেয়াদী লিভার রোগীদের শতকরা ৯.৬ ভাগ, রক্ত
গ্রহণের পর জন্ডিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬.৮ ভাগ এবং স্বল্প মেয়াদী
জন্ডিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ১.৭ ভাগ রোগী হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসে
আক্রান্ত।
হেপাটাইটিস
‘সি’ ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোন টীকা বা প্রতিষেধক এখনও আবিস্কার হয় নাই। সুতরাং, প্রতিরোধই এ রোগ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়।
ভাইরাল
হেপাটাইটিস
নিয়ন্ত্রণে
করণীয়
ভাইরাল
হেপাটাইটিস
নিয়ন্ত্রণে
সর্বাপেক্ষা
জরুরী হল এ রোগ সমূহের বিস্তার ও চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা
সৃষ্টি করা। এছাড়া প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা, হেপাটাইটিস ‘বি’
এর টিকা গ্রহণ, বিশুদ্ধ রক্ত পরিসঞ্চালণ নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ পানীয় ও খাবার
গ্রহণ এবং ডিসপোজেবল নিডল্ (সুঁই) ও সিরিঞ্জ ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে
ভাইরাল হেপাটাইটিস এর প্রাদুর্ভাব কমিয়ে আনা সম্ভব।
রক্তের ভাসমান চর্বি থেকে হার্টের সমস্যা
রক্তের ভাসমান চর্বি থেকে হার্টের সমস্যা
রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ে কথা হলেই সবাই প্রথমে মাথায় আনেন ভালো
কোলেস্টেরল এইচডিএল অথবা খারাপ কোলেস্টেরল এলডিএল। তবে যুক্তরাষ্টের
হিউস্টনের বেলর কলেজ অব মেডিসিনের অধ্যাপক ড: পিটার এইচ জোনস এমডি এর
অভিমত: হার্ট ভালো রাখতে হলে রক্তের ট্রাইগিসারাইড অবশ্যই ১৫০ অথবা এর নীচে
রাখা দরকার। অনেক ক্ষেত্রে রক্তের এই ভাসমান চর্বি হার্টের রক্তনালীতে জমা
হয়ে হার্টের সমস্যা করতে পারে। এমনকি অনেক বিশেষজ্ঞও মনে করেন ভালো
কোলেস্টেরল এইচডিএল ঠিক থাকা এবং খারাপ কোলেস্টেরল এলডিএল কম থাকলেই চলে।
হার্ট ডিজিজ ও ডায়াবেটিস এর ক্ষেত্রে রক্তে ভাসমান চর্বি হিসাবে পরিচিত
ট্রাইগিসারাইড বেশী ঝুঁকির্পূণ। তাই রক্তের
ট্রাইগিসারাইড ১৫০
মাত্রার নীচে নামিয়ে রাখতে হবে। কোন প্রকার ওষুধ ছাড়াই রক্তের এই ক্ষতিকর
ট্রাইগিসারাইড ৩০ থেকে ৫০ শতাংশে হ্রাস করতে পারেন। আর এটা সম্ভব যদি আপনি
আপনার খাবারের তালিকা থেকে স্যাসুরেটেড ফ্যাট বা সম্পৃক্ত চর্বি যেমন: গরুর
মাংস, লালমাংস, মাখন, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল, কালো চকলেট, ডিম, চিপস
ইত্যাদি বাদ দেন অথবা এ ধরণের চর্বি খাওয়ার পরিমাণ একেবারেই কমিয়ে দেন।
পাশাপাশি শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে পারেন। এতে আপনার হ্নদরোগ ও ডায়াবেটিসে
আক্রান্ত হবার ঝুঁকি ২০ থেকে ৩০ ভাগ কমেযাবে। এছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম এবং
সুষম খাদ্য তালিকা অনুসরণ করলেও রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
ঢাবি ক্যাম্পাস ময়লার ভাগাড়ে পরিণত
ঢাবি ক্যাম্পাস ময়লার ভাগাড়ে পরিণত
রাস্তার দু’পাশে ময়লার স্তূপ। ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে রাস্তার ওপরও। তা নিয়ে কাক-কুকুরের কাড়াকাড়ি। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র এটি। ক্যাম্পাসের ফুলার রোড, রোকেয়া হল, জিয়া হল, বিজয় ৭১ হল, মুহসীন হল, টিএসসি, মল চত্বর, মধুর ক্যান্টিন, ভিসি চত্বরের আশপাশসহ প্রায় প্রতিটি স্থানই ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় স্তূপ জমে আছে স্থানগুলোতে। ময়লার দুর্গন্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সঙ্গে পথচারীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়লেও তাতে মাথাব্যথা নেই কর্তৃপক্ষের। উপরন্তু চরম উদাসীনতার ভূমিকা পালন করছে সিটি করপোরেশন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাছাড়া ময়লা ফেলার জন্য ভ্রাম্যমাণ ডাস্টবিনেরও স্বল্পতা রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা অনিচ্ছা সত্ত্বেও যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন। ক্যাম্পাসের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত নয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ময়লার ডিপো পরিষ্কার করার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। তারা নিয়মিত দায়িত্বে অবহেলা করে থাকে। যার ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করেন ময়লা-আবর্জনা বৃদ্ধির পেছনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যথেষ্ট অবহেলা রয়েছে। ক্যাম্পাস পরিষ্কার রাখার জন্য কয়েক শ’ কর্মী নিয়োজিত রয়েছে। তারা নিয়মিত তাদের দায়িত্ব পালন করে কি না এ বিষয়ে প্রশাসনের কোন মাথাব্যথা নেই। এ ব্যাপারে মুহসীন হলের আবাসিক ছাত্র আলাউদ্দিন বলেন, আবর্জনার কারণে মশার উৎপাত বেড়েছে। যার কারণে শিক্ষার্থীরা ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষার্থে তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এস এম হলের ছাত্র আসাদ বলেন, দুর্গন্ধের কারণে রাস্তা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারি না। তিনি হতাশ কণ্ঠে বলেন, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এ অব্যবস্থাপনা সত্যিই দুঃখজনক।
এদিকে সামান্য বৃষ্টির কারণে ক্যাম্পাসের অধিকাংশ স্থানেই পানি জমে যায়। বৃষ্টির পানিতে ময়লা মিশে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন স্থানে। এতে ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও সৌন্দর্য মারাত্মক হুমকির মুখে। অপরিচ্ছন্নতার দরুন বেড়ে গেছে মশার উৎপাত। মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ আবাসিক শিক্ষার্থীরা। কয়েল জ্বালিয়েও নিস্তার পাওয়া যাচ্ছে না। রাত-দিন মশারি টাঙ্গিয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। মশার কামড় এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অবস্থান করার কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটছে। পরীক্ষার ফলাফলও খারাপ হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে অন্যদিকে দেশের উচ্চ শিক্ষার হারেও ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে। রোকেয়া হলের আবাসিক ছাত্রী প্রিয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে অপরিচ্ছন্নতা যেন আমাদের নিত্য সঙ্গী হয়ে গেছে। অপরিচ্ছন্নতার কারণে মশার উৎপাত এতই বেড়ে গেছে যে, কয়েল জ্বালিয়েও এর থেকে নিষ্কৃতি পাচ্ছি না। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার জন্য প্রয়োজন সুন্দর পরিবেশ। ক্যাম্পাসে সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে তিনি কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান। বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক ছাত্র জাহিদ বলেন, ক্যাম্পাসে আসতে হলে নাকে রুমাল দিতে হয়। তিনি বলেন, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভাল না হওয়ায় বর্ষা মওসুমে অনেক বেশি কষ্ট হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এম আমজাদ এ বিষয়ে বলেন, ক্যাম্পাসের পরিবেশ রক্ষা আমাদের একার পক্ষে সম্ভব না। নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা ফেললে ক্যাম্পাস অপরিষ্কার হওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকে না। ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখতে সবার সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত এর প্রতিকারে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে চাপ দেবেন ওবামা
রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে চাপ দেবেন ওবামা
পূর্ব এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে মিয়ানমার সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা বলবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট থেইন সিয়েন এবং বিরোধী দলের নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে। এছাড়া বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিষয়ে কোন আলোচনা হবে কি-না সে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া না গেলেও প্রেসিডেন্টের আলোচনায় রোহিঙ্গা সমস্যার একটি সামগ্রিক সমাধানকে গুরুত্ব দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক মিডিয়া মুখপাত্র ম্যারেন পাইন হোমস। বাংলাদেশের রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোন অনুরোধ আছে কি-না এবং থাকলে এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টের আসন্ন সফরে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা আছে কি-না জানতে চাইলে মুখপাত্র ‘যুক্তরাষ্ট্র সব সময় রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে একটি সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগকে প্রাধান্য দেয়’ বলে মন্তব্য করে জানান প্রেসিডেন্টের আলোচনার বিষয়টি আমার এখতিয়ার বহির্ভূত, তবে এ বিষয়ে আপনার প্রশ্নটি হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টের সফর সংশ্লিষ্ট আমার সহকর্মীর কাছে পাঠানো হয়েছে। গতকালের কার্যদিবসের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এ বিষয়ে আর কিছু জানা সম্ভব হয়নি।
এদিকে গত বুধবার অস্ট্রেলিয়ার পার্থে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ওবামার ঐতিহাসিক মিয়ানমার সফরে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে মুসলিম ও বৌদ্ধদের মধ্যে চলমান জীবনঘাতী সামপ্রদায়িক সংঘাতের বিষয়টি আলোচনার এজেন্ডায় রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা সব সময় এ সংঘাতের নিন্দা জানিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক উপায়ে সমস্যার মূল কারণের একটি আইনসঙ্গত সমাধানের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছি। ধারণা করা যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের বার্মার নাগরিক স্বীকার করার পক্ষে প্রয়োজনীয় আইন সংস্কারের বিষয়টি প্রেসিডেন্টের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদে আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রথম পরীক্ষাটি হয়েছে চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের পুনর্নির্বাচনে। এ নির্বাচনে পশ্চিম ইউরোপ এ অন্যান্য গ্রুপের তিনটি আসনের জন্য জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, গ্রিস ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় এবং নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র হেরে যেতে পারে বলেও নির্বাচনের আগের দিন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সব মিডিয়ায় সংবাদ পরিবেশিত হয়। কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারির ব্যক্তিগত নজরদারি, সম্ভাব্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে থাকা এবং জাতিসংঘ কূটনীতিতে ওবামার পরম নির্ভরতার প্রতীক সুসান রাইসের দক্ষতায় শেষ পর্যন্ত অনেকটা ওবামা স্টাইলে যুক্তরাষ্ট্র এ গ্রুপে সর্বোচ্চ ১৩১ ভোটে প্রথম স্থান পেয়ে নির্বাচিত হয়। নির্বাচনোত্তর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এ তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নিবাচনে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থনকারী সব সদস্যরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান এবং মানবাধিকার পরিষদের ভবিষ্যৎ কাজকর্মে ইসরাইলের প্রতি অতিমাত্রিক নেতিবাচক মনোযোগ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের বিজয়ের ফলে পররাষ্ট্রনীতিতে মূলত জয় দিয়েই ওবামা তার দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করলেন। আর এ রকমই আরেকটি জয়ের সম্ভাবনা মাথায় রেখে সর্বপ্রথম ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আগামী সপ্তাহে মিয়ানমার সফর করছেন ওবামা। ইতিপূর্বে বিশ শতকের প্রথম দশকে প্রেসিডেন্ট হার্ভার্ট হুভার ও প্রেসিডেন্ট ইউলায়সেস গ্রান্ট যখন মিয়ানমার সফর করেন তখন তারা ক্ষমতাসীন ছিলেন না। এছাড়া প্রেসিডেন্ট নিক্সনও ১৯৫৩ সালে প্রথমবার এবং ১৯৮৫ সালে শেষবারের মতো মিয়ানমার সফর করেন। সমগ্র এশিয়াজুড়ে এমনকি এশিয়া থেকে পশ্চিমের দেশগুলোতে মানুষ ও পণ্যের যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে প্রাচীনকাল থেকেই মিয়ানমারের সুখ্যাতি। তদুপরি ভারত মহাসাগরের কোলজুড়ে আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারত ও উঠতি বিশ্বশক্তি চীনের মাঝখানে কৌশলগত ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে প্রেসিডেন্ট ওবামার পররাষ্ট্রনীতির মূল চালিকাশক্তি ‘এশিয়া পিভট’ এর অপরিহার্য অংশীদারে পরিণত হয়েছে মিয়ানমার। সমপ্রতি মিয়ানমার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে যথেষ্ট ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা গ্রহণ করেছে। ফলে এতদিন অব্যবহৃত বাণিজ্য সম্ভাবনার সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পেপসি, কোকাকোলা, ভিসা কার্ড, মাস্টার কার্ড, জেনারেল ইলেকট্রিকের মতো মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। দেশটিতে ওবামার জনপ্রিয়তা তার নিজদেশ আমেরিকার চেয়েও অনেক বেশি।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কারনির মতে, ‘প্রেসিডেন্টের এশিয়া সফরে অনেক ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা হবে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, চাকরির সুযোগ সৃষ্টি, ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্বালানি ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় বর্ধিত অংশীদারিত্ব, মানবাধিকার, সমমূল্যবোধ এবং অন্যান্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয়ে সম-অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা হবে।’
পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পুরনো সামরিক মিত্র থাইল্যান্ড থেকে সফর শুরু করবেন ওবামা। যুক্তরাষ্ট্র-থাইল্যান্ড কূটনৈতিক সম্পর্কের ১৮০ বছর উদযাপন উপলক্ষে থাই প্রধানমন্ত্রী ইন্গ্লাক সিনাওয়াত্রার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রেসিডেন্ট ওবামা এবং ট্রান্স-প্যাসিফিক স্ট্রেটেজিক ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্টে স্বাক্ষর করার জন্য থাইল্যান্ডকে অনুরোধ জানাবেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হবে।
এরপর মিয়ানমার সফর করে শেষ ধাপে কম্বোডিয়া যাবেন ওবামা। কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে ওবামা মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক সংগঠন ‘আশিয়ান’-এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেবেন। এই সুযোগে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এদিকে স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও হোয়াইট হাউসের সূত্রগুলো বলছে, ওবামার মিয়ানমার সফর নিয়ে প্রথম থেকেই অং সান সু চির নীরবতা ছিল। মাসখানেক আগে কর্মকর্তারা এ সফর বিষয়ে সুচির মতামত জানতে চাইলে সুচি কর্মকর্তাদের কাছে অনেক প্রশ্নের উত্তর জানতে চান। বার্মায় রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি, রাজনৈতিক ও মানবাধিকার বাস্তবায়নের ধীরগতি ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় এখনই বার্মা সফরকে ‘অনেক তাড়াতাড়ি’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কূটনীতিবিদরা বলছেন সুচির মন্তব্যে কখনও মনে হয়নি যে তিনি এ সফরের বিরুদ্ধে। এক পর্যায়ে সুচি ওবামার সফরকে বার্মায় গণতন্ত্রের পক্ষে সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর দিকে নজর দেন। সফরে প্রেসিডেন্ট ওবামা যেন মিয়ানমারের নয়া রাজধানী ন্যায়পায়ডো ভ্রমণে না যান সে বিষয়েও সুচি ওবামা প্রশাসনকে অনুরোধ করেন এবং মিয়ানমারে গণতন্ত্রের উত্তরণ বিষয়ে এখনই খুব বেশি আশাবাদী না হতে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়কে পরামর্শ দেন। এদিকে হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ওবামা রেঙ্গুন সফর করবেন। কিন্তু তিনি নয়া রাজধানী ন্যায়পায়ডো সফর করবেন কি-না তা জানা যায়নি। অসমর্থিত সূত্রে জানা যায়, প্রেসিডেন্ট ওবামা মিয়ানমার প্রেসিডেন্ট থেন সিয়েন এবং বিরোধী নেত্রী অং সান সু চি উভয়ের সঙ্গেই সাক্ষাৎ করবেন। আবার কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, নিরাপত্তা বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ওবামার মিয়ানমার সফর বাতিলও হতে পারে। মিয়ানমার পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, প্রেসিডেন্ট ওবামার সফরকালীন মিয়ানমারে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র। মিয়ানমার সরকার তাই মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের হাতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা অর্পণ করেছে। মিয়ানমার মার্কিন দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রেসিডেন্ট ওবামা ১৯শে নভেম্বর সোমবার সকালে রেঙ্গুনে অবতরণ করছেন বলা হলেও নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি কোথায় উঠছেন তা জানানো হয়নি। উল্লেখ করা যেতে পারে, ১৯৮৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট চুন দো হুয়ানের মিয়ানমার সরকারি সফরে উত্তর কোরিয়ার পরিকল্পনায় ও নির্দেশে এক বোমা হামলায় দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি কর্মকর্তাসহ ২১ জন নিহত হন।
মুক্তিপণের টাকায় গাজীপুরে চলছিল পার্টির আয়োজন
মুক্তিপণের টাকায় গাজীপুরে চলছিল পার্টির আয়োজন
ঢাকার পার্শ্ববর্তী গাজীপুরে গেট টুগেদার করতে চেয়েছিল পরাগের অপহরণকারীরা। মুক্তিপণের টাকা ভাগাভাগি ও ‘সফল অপারেশন’ উপলক্ষে পার্টি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল শীর্ষ সন্ত্রাসী আমির। বৃহস্পতিবার সকালেই অপহরণকারীদের নিয়ে ফুর্তি করতে চেয়েছিল। কিন্তু তার আগের রাতেই র্যাব সদস্যদের হাতে অপহরণকারীরা গ্রেপ্তার হলে ওই পরিকল্পনা ভণ্ডুল হয়ে যায়। এরপরই ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায় আমির ও তার সহযোগীরা। এতে মুক্তিপণের একটি টাকাও তাদের ভাগ্যে জোটেনি। গতকাল মামলার তদন্ত ও মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে দেয়া জবানবন্দি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ৬ জনের মধ্যে তিন আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। অপহরণে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। বাকি তিন আশ্রয়দাতাকে ১০ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া আগেই গ্রেপ্তার হওয়া অন্য আসামি মামুনকে ৭ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। আদালতে দেয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে অপহরণকারী জাহিদুল ইসলাম, কালাচান ও মোহাম্মদ আলী ওরফে রিফাত জানিয়েছে, টাকার লোভে আমিরের নির্দেশে তারা পরাগ অপহরণের ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। অপহরণে সহায়তা করেছিল। এরপর তারা দল বিচ্ছিন্ন হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় লুকিয়ে থাকে। একপর্যায়ে ঢাকার বাইরে গাজীপুরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। বুধবার রাতে জুরাইনের ১/২ নম্বর মেডিকেল রোডের একটি বাড়ি থেকে ৬ অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এদের মধ্যে রিফাত, জাহিদ ও কালাচান অপহরণকারী। আবুল কাশেম (৩৬), রিজভী আহমেদ অনিক (১৯), আলফাজ হোসেন ও মাসুদ (২৩) ওই অপহরণকারীদের আশ্রয়দাতা। র্যাব তাদের গ্রেপ্তার করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের গডফাদারের তথ্য জানতে পেরেছে। একইসঙ্গে অপহরণে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। সূত্র জানায়, বুধবার রাতে আমির ফোন করে রিফাতের নম্বরে। টাকার ভাগ-বাটোয়ারা ও আত্মগোপনের কৌশল নিয়ে আলোচনার জন্য গাজীপুর যেতে বলে। সেখানে গিয়ে ওই নম্বরে ফোন দিয়ে তার আস্তানার লোকেশন জেনে নেয়ার পরামর্শ দেয়। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, র্যাব আগেই গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করে মূল হোতাদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। বিষয়টি মিডিয়াতে প্রচার না করলেও হয়তো মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হতো। সূত্রমতে, পরাগ অপহরণের নেপথ্যে স্থানীয় যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম ওরফে জুয়েল মোল্লা, শীর্ষ সন্ত্রাসী আমিরসহ কেরানীগঞ্জ ও জুরাইনের ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজনের কানেকশন খুঁজে পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ইয়াছিন, নুরুল ইসলাম ও সঞ্জয়ের নাম অপহরণকারীদের তালিকায় উঠে আসে। অপহরণের সময় দুই মোটরসাইকেলের একটিতে আমির ও অন্যটিতে সঞ্জয় প্রধান শুটারের দায়িত্ব পালন করেছে। যুবলীগ নেতার পরিকল্পনায় সরকার দলীয় একাধিক অঙ্গসংগঠনের ক্যাডারদের সহায়তায় আমির বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও চুরির মামলাসহ অন্ততপক্ষে ১২টি মামলা রয়েছে। সে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, ডেমরা ও কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের তালিকা ভুক্ত সন্ত্রাসী। এছাড়া যাত্রাবাড়ী আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী হত্যা মামলায় এই আমিরের সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। সূত্রমতে, জুরাইন ও কেরানীগঞ্জের উঠতি সন্ত্রাসীদের মধ্যে আমির ছিল ভয়ঙ্কর। তার সঙ্গে সরকারদলীয় বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও পুলিশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। স্থানীয় লোকজনের কাছে সে টুণ্ডা ওরফে ল্যাংড়া আমির হিসাবেই পরিচিত।
মুক্তিপণের তথ্য দেয় দোকানদার: অপহরণের কয়েকদিন আগে থেকেই সন্ত্রাসীরা চাঁদা দাবি করেছিল পরাগের পিতা বিমল মণ্ডলের কাছে। প্রাণের ভয়ে বিষয়টি গোপন করেছিলেন তিনি। গোপনে অল্প টাকায় রফা করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কাজ হয়নি। এ তথ্য ওই পরিবার কাছ থেকে ফাঁস হয়ে যায়। আশপাশের চা ও পানের দোকানে আলোচনার বিষয় বস্তু হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে পরাগ অপহরণের পরপরই পাশের একটি পানের দোকানদারের কাছ থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। ওই তথ্য পাওয়ার পর পরাগের পিতা বিমলের কাছে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন। এরপরই তার কাছ থেকে চাঁদাদাবিকারী ব্যক্তির ফোন নম্বর সংগ্রহ করে পরাগ অপহরণকারী চক্রের পরিচয় উদঘাটন করে।
Friday, November 16, 2012
খোশ আমদেদ হিজরি নববর্ষ
আগামীকাল পহেলা মহররম, হিজরি নববর্ষের প্রথম দিন। হিজরি নববর্ষকে খোশ আমদেদ জানাই। হূদয়ের সব উষ্ণতা দিয়ে তোমাকে গ্রহণ করি। তুমি কেবলই যুগে যুগে নয় শতাব্দীর পর শতাব্দী বিশ্বমুসলিমকে নতুন প্রেরণায় উদ্দীপ্ত করে আসছো। তোমাকে আমরা স্মরণ করি। তুমি এলে আমরা আত্মসচেতন হই। নিজেদের অস্তিত্ব খুঁজে পেতে চেষ্টা করি। দেখতে না দেখতেই আমাদের মাঝ থেকে কালের গর্ভে হারিয়ে গেল ১৪৩৩ হিজরি। চলে এলো ১৪৩৪ হিজরি। আমরা জানি হযরত ঈসা (আ.) এর তিরোধানের পর হতে খ্রীষ্টাব্দ গণনা করা হয়ে থাকে। আর মুহাম্মদ (স.) এর মক্কা হতে মদীনায় হিজরতের দিন অর্থাত্-৬২২ খ্রীষ্টাব্দ থেকেই হিজরি সালের গণনা করা হয়। হিজরি সালের ক্যালেন্ডার রসূল (স.) এর সময় হতে প্রচলিত না হলেও তাঁর খলিফা আমিরুল মুমেনীন হযরত ওমর (রা.) এর শাসনামলে ১৭ হিজরি বা রসূলের ইন্তেকালের সাত বছর পর হতে এই হিজরি সনের প্রচলন করা হয়। সে সময় হযরত ওমর (রা.) অর্ধ পৃথিবীর শাসনকর্তা ছিলেন। তখন রাজ্যের বিভিন্নস্থানে চিঠিপত্র প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়। তাই তিনি সমসাময়িক সাহাবায়ে কেরামদের পরামর্শক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেন। পৃথিবীতে আজ নানারকম আগ্রাসনে অসহায় মানুষ দিশাহারা। ধর্মগত, ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত প্রভাবে উন্নত দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ফেলেছে। তা থেকে বের হয়ে আসার কোন উপায় যেন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। যার কারণে হিজরি নববর্ষ নিয়ে কোন সাড়া-শব্দ নেই। মহররম আসে আমাদের পুরাতন বছরের জরাজীর্ণতাকে মুছে দিয়ে নতুনরূপে, নতুন স্বপ্নে ডানা মেলে, নতুন প্রত্যাশার ভেলায় চড়ে আজানাকে জানার, অচেনাকে চেনার ও দুরন্ত সাহসীকতার পথে নির্ভীক পথ চলার কল্যাণময় শুভ বার্তা নিয়ে। গভীরভাবে লক্ষ্য করুন যদি এই নববর্ষ নিরবে নি:শব্দে চলে যায় তাহলে আমরা কিভাবে নতুন শপথ ও প্রত্যয় নিয়ে পথ চলবো? সবচেয়ে বড় কথা হলো- হিজরি সনের যে প্রেক্ষাপট তা যে কোন মুমিন মুসলামান হূদয়ে নবী প্রেমের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও যশোগাঁথা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা কি হয়? হয় না তার কারণ আমরা হিজরি সনের মর্মকথা পটভূমি ও প্রেক্ষাপট জানি না, জানার চেষ্টাও করি না। সে দিন ছিল ১২ সেপ্টেম্বর ৬২২ খ্রীষ্টাব্দ। হযরত মুহাম্মদ (স.) মক্কা হতে মদীনায় হিজরত করেছিলেন আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে। কারণ পৃথিবীতে যত নবী রসূল এসেছিলেন সকল নবীও রসূলেরা নির্যাতিত হয়েছেন। অনেকেই হিজরত করতে বাধ্য হয়েছেন। তেমনিভাবে হযরত মুহাম্মদ (স.) ৬১০ খ্রীষ্টাব্দে নবুওয়াত পাওয়ার পর আল্লাহ অস্বীকারকারীদেরকে এক আল্লাহর দিকে আহ্বান করেছিলেন তখন তাঁর সবচেয়ে প্রিয় মানুষেরা বিরোধীতা শুরু করেছিল। গোপনে গোপনে তিন বছর দাওয়াত দিয়েছিলেন। এর পর আল্লাহর নির্দেশে সাফা পাহাড়ে প্রাকশ্যে এক আল্লাহর ওপর ঈমান আনয়নের ঘোষণা করেছিলেন। তখন থেকেই আরম্ভ হয়েছিল নির্যাতন। পথে প্রান্তে তাকে অপমানিত লাঞ্চিত করা হতো। নামাজরত অবস্থায় উটের নাড়ী ভুড়ি তাঁর পিঠের ওপর চাপিয়ে দেয়া হতো। গমনা-গমনের পথে কাটা বিছিয়ে রাখা হতো। শিয়াবে আবু তালিব নামক শিবিরে দীর্ঘদিন বন্দি করে রাখা হয়েছিল। এরপর তার সঙ্গি সাথী সাহাবীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন করা হচ্ছিল। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হযরত খাব্বাব (রা.), তালহা (রা.), আবদুর রহমান বিন আউফ (রা.), হযরত বেলাল (রা.) আম্মার ইয়াছির ও সুমাইয়া। হযরত বেলাল (রা.)কে তো মুরুভূমির উত্তপ্ত বালুকারাশির ওপর চিত্ করে শোয়ায়ে বুকের ওপর পাথর চাপা দিয়ে রাখা হতো। এই অবস্থায় অত্যাচারী উমাইয়া বিন খলফের চাবুকের প্রচন্ড আঘাতে তার গোটা শরীর জর্জরিত হয়ে যেত। হযরত আম্মার ইয়াছির, সুমাইয়া এদের ওপরও এই নির্যাতনের ষ্টিম রোলার চালানো হয়েছে। কাফেরেরা নবীজীকে শারীরিক নির্যাতনে যখন দ্বীনের দাওয়াত থেকে স্তব্ধ করতে পারলোনা তখন মানুষিক নির্যাতন দেয়ার জন্য নানা রকম ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করতে লাগলো। তারা তাকে পাগল, কবি, জাদুকর ইত্যাদি বলে অপপ্রচার করতে থাকলো। কিন্তু কিছুতেই কোন কাজ হলো না। বরং মুহাম্মদ (স.) তাঁর মিশন সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকলেন। একদিন তারা নদওয়া নামক তাদের মন্ত্রণাগৃহে সকল গোত্র পতিদের একটি বৈঠক করলো। সেখানে তারা সিদ্ধান্ত নিল যে, “আমরা নানা রকম কৌশল করে মুহাম্মদ (স.) কে ঠেকাতে চেয়েছি। কিন্তু সে তো থেমে থাকার লোক নয় বরং তার চেয়ে আমরা মুহাম্মদ (স.) কে দুনিয়া হতে সরিয়ে দেই”। সকলে এই সিদ্ধান্তের ওপর সমর্থন করলো, তারা সকল গোত্র হতে শক্তিশালী যুবকদের বাছাই করলো। তাদেরকে ঘোষণা দিল, ‘যে মুহাম্মদ (স.) এর জীবন্ত অথবা মৃত দেহ এই নদওয়া গৃহে হাজির করতে পারবে। তাকে একশত উট পুরস্কার দেয়া হবে।” যেই কথা সেই কাজ। মক্কার সকল গোত্র হতে শক্তিশালী পাহলোয়ান যুবকেরা একত্রিত হয়ে শপথ নিয়ে বের হলো হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর বাড়ী ঘেরাও করে আজ রাতেই তাঁর জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটাবে। এদিকে আল্লাহতায়ালা তাঁর প্রিয় হাবিবকে নির্দেশ করলেন হে নবী মক্কার মানুষ আপনাকে চায় না। মদীনার মানুষেরা আপনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। আপনি মদীনায় হিজরত করে চলে যান। মহানবী (স.) আল্লাহতায়ালার এই ঘোষণা পাওয়ার পর রাতের অন্ধকারে নিজ বিছানায় হযরত আলী (রা.) কে শায়িত রেখে মদীনার পথে রওনা দিলেন। সাথী হিসেবে বন্ধু আবু বকর (রা.) কে সঙ্গে নেয়ার জন্য তাঁর বাড়ীর সামনে গিয়ে, আবু বকর! বলে একবার ডাক দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে আবু বকর (রা.) বেরিয়ে এলেন। এত তাড়াতাড়ি কিভাবে এলে? জিজ্ঞাসা করলেন হযরত (স.)। আবু বকর (রা.) বললেন, ইয়া রসূলুল্লাহ (স.)! যেদিন আপনি আমাকে বলেছিলেন, ‘ হে আবুবকর মক্কার কাফেরেরা বড়ই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। কবে কখন হয়ত মক্কা হতে মদীনায় হিজরত করতে হতে পারে। সেদিন হতে একটি রাতের জন্যও আমি বালিশে মাথা রেখে ঘুমাই নাই। কারণ আমি আরাম করে ঘুমিয়ে থাকবো আর কাফেরেরা আপনাকে ধাওয়া করবে আপনি আমাকে ডেকে ডেকে পাবেন না। কাফেরেরা আপনাকে আঘাত করবে, যখম করবে। আমি আবু বকর এটা সইতে পারবো না। মহানবী (স.) বললেন আবু বকর! চলো আর নয় এখানে। কারণ আল্লাহর নির্দেশ মদীনায় হিজরতে যাওয়ার।’ তারা চললেন মদীনা অভিমুখে। চলতে চলতে রাত শেষ হয়ে সুবহে সাদিক হয়ে গেল। রসূল (স.) ও আবু বকর (রা.) তখন মক্কার অনতি দূরে সওর নামক পর্বতের সন্নিকটে। তারা ভাবলেন কাফেরেরা হয়ত তাকে বাড়ীতে না পেয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়বে। সুতরাং এখানে রাতে আত্মগোপন করে থাকা যাক। তারপর তারা কিছুটা নিবৃত হলে আবার রওনা দেওয়া যাবে। সে হিসেবে সওর পর্বতের একটি গুহার মধ্যে ঢুকলেন। এই গুহায় বিষধর সাপ ছিল। হযরত আবু বকরকে সাপে দংশন করেছিল। মহানবী (স.) তাঁর মুখের থুথু বা লালা আবু বকরের ক্ষত স্থানে লাগিয়ে দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে বিষ চলে গেল। এদিকে সকাল পর্যন্ত কাফেরেরা রসূল (স.)-এর বাড়ীর চুতুষ্পার্শ্বে ঘিরে থেকে তাকে বের হতে না দেখে বাড়ীতে ঢুকে পড়লো। তারা রসূল (স.)-এর ঘরে হযরত আলী (রা.)-কে পেয়ে তাকেই জিজ্ঞাসা করলো -বল! মুহাম্মদ (স.) কোথায়? হযরত আলী (রা.) বললেন, মুহাম্মদ (স.) কোথায় সেটা তোমরা দেখ, আমি কি বলবো? এমতাবস্থায় কাফেরেরা সিদ্ধান্ত নিল-মুহাম্মদ (স.) হয়ত মক্কা হতে মদীনার পথে রওনা দিয়েছে। সুতরাং আর কালক্ষেপন না করে এখনই চলো তা না হলে আমাদের শিকার হাতছাড়া হয়ে যাবে। তারা পথে প্রান্তে না পেয়ে ভাবছে মুহাম্মদ (স.) নিশ্চয়ই মক্কার আশে পাশে কোন গুহা অথবা অন্য কোন স্থানে আত্মগোপন করে আছে বিধায় কেবলমাত্র পথ নয় পাহাড়-পর্বত এর মাঝে গর্ত গুহা থাকলে সবই খুঁজতে হবে। এসময় কাফেরেরা রসূল (স.) ও আবুবকর যে গুহায় ছিলেন সেদিকে আসছিল। দূর হতে তাদের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছিল। হযরত আবু বকর (রা.) ভয় পাচ্ছিলেন। আর বলছিলেন, ‘হে মুহাম্মদ (স.)! ঐ দেখুন শত্রুদের পদধ্বনি শোনা যায়। তারা হয়ত আমাদের ধরে ফেলবে।’ মহানবী (স.) তাকে সান্তনা দিয়ে বললেন, ‘ভয় পেওনা আবুবকর! আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।’ কুরআনে আল্লাহতায়ালা এই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আয়াত নাজিল করেছেন, “ইজহুমা ফিল গারে, ইজ ইয়াকুলু লিসাহিবিহি লা তাহঝান ইন্নাল্লাহা মাআনা” অর্থাত্ হে নবী (স.) সেই সময়ের কথা স্মরণ করুন। যখন আপনি ও আপনার সাহাবী গুহার মধ্যে ছিলেন আর আপনার সাহাবী বলছিলেন, ঐ দেখুন শত্রু আমাদের ধরে ফেললো! তখন আপনি বলেছিলেন ভয় পেওনা, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন’। তারপর আল্লাহ কি করলেন? ঐ গুহায় মাকড়সা পাঠিয়ে দিলেন। তারা মুহূর্তের মধ্যে পুরা গুহার মুখ জাল বুনে ঘিরে ফেললো। একটি কবুতর পাঠিয়ে দিলেন। যে ডিম পেড়ে গুহার মুখে’তা দিতে থাকল। কাফেরেরা যখন ঐ গুহার পাশে এলো তখন একজন বললো, দেখ দেখ এই গুহাটিও দেখ। কারণ এখানেও তো তিনি থাকতে পারেন। অন্য একজন বললো, এই গুহায় যে মুহাম্মদ (স.)নেই তা আমি নিশ্চিত বলতে পারি। কারণ গতরাতেই যারা এসেছে তারা যদি এই গুহায় ঢুকতো তাহলে মাকড়সার জাল ছেড়া থাকতো। আর যে গুহায় লোক থাকে তার মুখে কবুতর ডিমে তা দেয় কেমন করে? সুতরাং অন্যদিকে চলো। এরপর কাফেরেরা মক্কা থেকে মদীনায় যাওয়ার সকল পথে পাহারাদার নিযুক্ত করলো। কিন্তু মহানবী (স.) এই গুহায় তিনদিন তিন রাত থাকার পর অচেনা-অজানা পথে লোহিত সাগরের তীর দিয়ে মদীনার উদ্দেশ্যে চলতে থাকলেন। পথে আরবের বড় বীর সুরাকা মহানবী (স.)কে হত্যা করতে এসে নিজেই মুসলমান হয়ে গিয়েছিল। বারিদা নামক অন্য আরেকজন পুরস্কারলোভী ডাকাত ৭০ জন দুর্ধর্ষ যোদ্ধাদের নিয়ে পথে দাঁড়িয়েছিল। তারাও মুসলমান হয়ে গিয়েছিল। এরপর মদীনায় পৌঁছলেন। মদীনার আবাল, বৃদ্ধ, বনিতা সকলে মহানবী (স.)-কে স্বাগতম জানালেন। তাকে মদীনার মানুষেরা নেতা মেনে নিলেন। তিনি মদীনা রাষ্ট্রের অধিপতি হলেন। অনেকগুলি যুদ্ধ-বিগ্রহ হলো। সবশেষ মক্কা বিজয় হলো। সমগ্র আরব ভূ-খন্ডে ইসলামের আদর্শ, কুরআনের আলো প্রজ্বলিত হলো এবং তাঁর ইন্তেকালের পর খলিফা হযরত ওমর (রা.) এর খেলাফতকালে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা হতে মরক্কোর রাবাত পর্যন্ত মুসলমানদের করতলগত হলো। এরপর ইসলামের মহিমা সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ল। যা কেয়ামত অবধি টিকে থাকবে। রসূলুল্লাহর (স.)-এর হিজরতের এই প্রেক্ষাপট, পটভূমি যদি হিজরি নববর্ষে স্মরণ করা হয় তাহলে প্রতিটি মুমিন হূদয়ে নবী প্রেমের বীজ বপিত হবে।
Subscribe to:
Posts (Atom)











