Pages

Wednesday, November 21, 2012

যৌন আবেদন বাড়াতে...

যৌন আবেদন বাড়াতে...

 


জিরো ফিগার চর্চার এই যুগে বলিউডের মতো জায়গায় জেরিন খান মার খেয়ে যাচ্ছিলেন তার খানিক মুটিয়ে যাওয়া নিয়ে। এ কারণে নিজেই অভিনয় থেকে খানিকটা দূরে সরে থাকেন তিনি। প্রথম ছবির দীর্ঘ সময় পর এর মধ্যে কেবল ‘হাউজফুল-২’ ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। এই ছবির শুটিং চলাকালীন সময়ের আগে থেকেই শারীরিক সৌন্দর্য ও যৌন আবেদন বাড়াতে নানা ধরনের কসরত শুরু করেন জেরিন। বিশেষ করে নিয়মিত কমপক্ষে ২ ঘণ্টা তিনি জিমে ব্যয় করছেন। এছাড়া সাঁতার কাটছেন প্রতিদিন কমপক্ষে আধা ঘণ্টা। পাশাপাশি রিচ ফুড একদমই ত্যাগ করেছেন তিনি। যার ফলাফল ‘হাউসফুল-২’ ছবিতে খানিকটা পাওয়া গেছে। প্রথম ছবির তুলনায় অনেক স্লিম জেরিনকেই এই ছবিতে আবিষ্কার করতে পেরেছেন দর্শক। তবে নতুন খবর হচ্ছে এই ছবির পর আরও চার কেজি ওজন কমিয়েছেন জেরিন। অর্থাৎ মোটমাট প্রথম ছবির পর থেকে ১২ কেজি ওজন তিনি কমিয়েছেন। বিষয়টি অবাক করার মতো হলেও সত্যি। নিজের শারীরিক এই পরবর্তনের বিষয়টি সম্প্রতি জেরিন মিডিয়াকে বেশ খুশি মনে জানান দেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হাউজফুল-২’ ছবিতে নিজেকে দেখে আসলে আমি নিজেই অবাক হয়েছিলাম। তখন আমি ৮ কেজি কমেছিলাম। এর পর আরও উৎসাহ পেয়ে যাই। নিজের শারীরিক সৌন্দর্য ও যৌন আবেদন বাড়াতে কেনা চায়! সেই চিন্তা থেকেই নিয়ম করে সব কিছু শুরু করলাম। যার ফলশ্রুতিতে এখন আমি মোট ১২ কেজি কমেছি। বর্তমানে জিরো ফিগারের প্রায় কাছাকাছি রয়েছি আমি। বিষয়টি নিয়ে আমি বেশ উত্তেজিত ও আনন্দিত। নিজেকে আয়নায় দেখতে এখন অনেক বেশি ভাল লাগছে।

সিভিল এভিয়েশনে সুন্দরীদের দাপট

সিভিল এভিয়েশনে সুন্দরীদের দাপট


সিভিল এভিয়েশনের সুন্দরীরাই স্বর্ণ চোরাচালানের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। এদের সহায়তায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে একাধিক অবৈধ স্বর্ণের চালান দেশে ঢুকেছে। সর্বশেষ সাড়ে ১৩ কেজি স্বর্ণ পাচারকালে গ্রেপ্তারকৃত ৫ জনের কাছ থেকে এ তথ্য জানতে পেরেছে তদন্তকারী সংস্থা- মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে সিভিল এভিয়েশনের সিকিউরিটি সুপারভাইজার খন্দকার নিজাম উদ্দিন, সিকিউরিটি গার্ড আবুল কালাম, চালানের বাহক মনোয়ারুল হক, স্বর্ণ আমদানিকারক দেব কুমার দাশ ওরফে দেবু ও একটি গোয়েন্দা সংস্থার ফিল্ড অফিসার আবদুল আজিজ শাহ। দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত সদস্যদের নাম বলেছে। এদের মধ্যে সিভিল এভিয়েশনের লাগেজ স্ক্যানিং মেশিন অপারেটর রেখা পারভীন ও লায়লাসহ অন্ততপক্ষে আরও ১২ জনের তথ্য দিয়েছে। বর্তমানে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাদের ধরতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করছে। সূত্র মতে, সিন্ডিকেটের মূল নিয়ন্ত্রক রেখা পারভীন ও লায়লা ভারতে পালিয়ে গেছে। তার সহযোগী আরও ৪-৫ তরুণী গ্রেপ্তার এড়াতে গা-ঢাকা দিয়েছে। এর বাইরে এ সিন্ডিকেটে জড়িত দু’টি মানি এক্সচেঞ্জ ও দু’টি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বেশির ভাগই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। স্বর্ণ পাচারে জড়িতদের তথ্য দিয়েছে। তবে সিকিউরিটি সুপারভাইজার খন্দকার নিজাম উদ্দিন গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেও আদালতের কাছে অস্বীকার করেছে। এ কারণে তাকে ফের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। গত ১০ই সেপ্টেম্বর দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টয়লেটের ফ্ল্যাশ ট্যাংকি থেকে প্রায় সাড়ে ১৩ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। ওই স্বর্ণ দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটে নিয়ে আসে মনোয়ার নামে এক চোরাকারবারি। বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকারী আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা গোপনে অভিযান চালিয়ে পলিথিনে মোড়ানো একটি প্যাকেটে ১১৭টি সোনার বার উদ্ধার করে। এর আনুমানিক মূল্য ৭ কোটি ২ লাখ টাকা। পরে মনোয়ারুল হককে আটক করে ওইদিনই বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করে এপিবিএন কর্তৃপক্ষ। মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশকে। পরে গোয়েন্দা পুলিশ ১১ই সেপ্টেম্বর মনোয়ারকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডে এনে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে। গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে মনোয়ারুল হক জানায়, স্বর্ণের মূল পাচারকারী দেব কুমার দাশ ওরফে দেবু। তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ গ্রহণ করে নির্বিঘ্নে চালান বাইরে বের করে দেয়ার দায়িত্ব পালন করে থাকে সিভিল এভিয়েশনের স্ক্যানিং মেশিন অপারেটর ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা। এদের সহায়তা করে থাকে সিভিল এভিয়েশনের সিনিয়র নিরাপত্তাকর্মী আবুল কালাম এবং গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই’র ফিল্ড অফিসার আবদুল আজিজ শাহ। এ তথ্য পাওয়ার পর গোয়েন্দা পুলিশ ওই দু’জনকেও গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, বিমানবন্দর থেকে স্বর্ণের চালানটি বাইরে বহন করার দায়িত্ব পালন করতো আবদুল আজিজ শাহ। পরে গ্রেপ্তারকৃত ওই ৪ জনই স্বর্ণ পাচারের কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। এদিকে ঘটনার পর থেকেই লাপাত্তা হয়েছে স্ক্যানিং মেশিন অপারেটর রেখা পারভীন ও লায়লাসহ ৪-৫ তরুণী। গোয়েন্দাদের ধারণা, সিন্ডিকেটের মূল নিয়ন্ত্রক রেখা পারভীন ভারতে পালিয়ে গেছে। তার সহযোগীরাও কর্মস্থলে না গিয়ে ছুটি নিয়ে পলাতক রয়েছে। ইতিমধ্যে ওই তরুণীদের স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানায় গোয়েন্দা পুলিশ একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে। গোয়েন্দারা জানান, তাদের কাছে তথ্য রয়েছে রেখা পারভীন ও লায়লাই স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের মূল নিয়ন্ত্রক। পাচারের দিন নির্ধারিত হওয়ার আগেই তারা ছুটি নিয়ে থাকে। পরে ওইদিন উপস্থিত হয়ে বিমানবন্দরের বোর্ডিং এলাকায় চলে যায়। সেখানে গিয়ে স্বর্ণের বার শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় ভরে নিরাপদে বাইরে বেরিয়ে আসে। পদে ছোট হলেও রূপ দেখিয়ে সিভিল এভিয়েশনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের নজর কাড়তে পটু তারা। তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েই বিমানবন্দরে চোরাচালানিরা নিরাপদ রুট গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে ওই তরুণীরা। এদের সঙ্গে কেবিন ক্রু ও বিমানবালাদের সম্পর্ক রয়েছে। সূত্র মতে, রেখার বাড়ি শরীয়তপুর জেলায়। সাড়ে ১৩ কেজি স্বর্ণ ধরা পড়ার পরপরই চারদিনের ছুটি নেয়। ওই ছুটি শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কাজে যোগ দেয়নি। এমনকি বাড়িতেও যায়নি। একই কায়দায় লায়লাসহ আরও ৪-৫ জন তরুণী পলাতক রয়েছে। সূত্র মতে, স্বর্ণ চোরাচালানি সিন্ডিকেটে অসাধু স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও মানি এক্সচেঞ্জ কর্মকর্তারাও জড়িত। বিভিন্ন দেশের মুদ্রা বিনিময় হার পর্যবেক্ষণ করে সুবিধাজনক লাভ বিবেচনা করে খুবই অল্প সময়ের মধ্যে অবৈধভাবে স্বর্ণ নিয়ে আসে। চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের স্বর্ণ ব্যবসায়ী দেব কুমার দাশকে গ্রেপ্তার করার পর ওই তথ্য জানতে পারে গোয়েন্দারা। তার নির্দেশনাতেই দুবাই থেকে চালানটি আনা হয়। টাকা পাঠানো হয় হুন্ডির মাধ্যমে। সে টাকায় দুবাইয়ে স্বর্ণ কিনে একদিন পরই তা নিয়ে আসে মনোয়ার। এজন্য তাকে ফ্লাইটের রিটার্ন টিকিট ছাড়াও পারিশ্রমিক হিসেবে ৩০ হাজার টাকা দেয়ার চুক্তি হয়েছিল। দেব কুমারের জন্য এভাবে প্রায়ই চালান এনেছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় মনোয়ার। গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, রেখা পারভীনের নির্দেশে বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালনকারী তরুণীরা চোরাচালানে সহায়তা করে। বিমানবন্দরের প্রবেশপথ থেকে বিমানে ওঠা পর্যন্ত প্রত্যেক স্তরে লোক দিয়ে স্বর্ণের চালানগুলো নিরাপদে পার করে দেয় তারা। এরপর সিভিল এভিয়েশনের সিটিওডি সুপারভাইজার খন্দকার নিজাম উদ্দিনের নির্দেশ মতে নিরাপত্তাকর্মী আবুল কালাম ও গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইর ফিল্ড অফিসার আবদুল আজিজ শাহ মিলে চালানগুলো বিমানবন্দরের বাইরে আসকোনা হাজী ক্যাম্প এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যায়। সেখান থেকে স্বর্ণের চালান সুবিধামতো জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। ডিবি পুলিশ উত্তরা এলাকা থেকে ১৯শে সেপ্টেম্বর দেব কুমার দাশকে গ্রেপ্তার করে। ২০শে সেপ্টেম্বর আদালত তার ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। ডিবি জিজ্ঞাসাবাদে দেব কুমার সোনা চোরাচালানের কথা স্বীকার করেন এবং তার সঙ্গে রেখা পারভীনসহ নিরাপত্তাকর্মী কালাম ও এনএসআই’র ফিল্ড অফিসার আবদুল আজিজ শাহের সম্পৃক্ততার কথা বলেন। গত ২রা অক্টোবর আদালতে এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন দেব কুমার। এর আগে ২১শে সেপ্টেম্বর ডিবি পুলিশ বিমানবন্দরের গোল চত্বর থেকে সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তাকর্মী আবুল কালামকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকেও রিমান্ডে নেয়া হয়। গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, স্বর্ণ পাচারের কাজ করিয়ে বিনিময়ে রেখা প্রতি চালানে মোটা অঙ্কের টাকা দিতো। ২৯শে সেপ্টেম্বর কালাম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। এদিকে, স্বর্ণ পাচারে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় এনএসআই কর্তৃপক্ষ ফিল্ড অফিসার আবদুল আজিজ শাহকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে ২৫শে সেপ্টেম্বর ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ডিবি হেফাজতে তিনি বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজ থেকে স্বর্ণ পাচারের কথা স্বীকার করে এবং ২৭শে সেপ্টেম্বর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, স্বর্ণ পাচারের মূল হোতা সিভিল এভিয়েশনের লাগেজ স্ক্যান অপারেটর রেখা পারভীন ও লায়লাসহ একাধিক তরুণীকে খুঁজছে পুলিশ। তাদের ধরতে পারলেই পাচারকারী চক্রের সকল সদস্যের পরিচয় উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে জানান।
কে এই রেখা: সিভিল এভিয়েশনে চাকরি নেয়ার আগে কিছুই ছিল না রেখার। চাকরি নেয়ার পরেই রাতারাতি কপাল খুলে যায় তার। পদবি- লাগেজ স্ক্যানিং অপারেটর। পদটি মানে ছোট হলেও রূপে ধরাশায়ী করতেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের। জড়িয়ে পড়ে অবৈধ সোনা চোরাচালান সিন্ডিকেটে। এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রক বনে যায়। ৪-৫ বছরের মধ্যেই বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে যায়। উত্তরায় কিনে সাড়ে ৩ কোটি টাকায় দু’টি ফ্ল্যাট। গাজীপুরে নিজের নামে ১২ কাঠার জমি কেনে। নিজে চড়ে বেড়ায় কালো একটি অ্যালিয়ন গাড়িতে। এক ছেলে ও এক মেয়ের মা রেখা পারভীন থাকে উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে। স্বর্ণের চালানটি উদ্ধারের পর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ মোবাইল ফোন প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। বর্তমানে রেখা গোয়েন্দা পুলিশের ডিজিটাল নেটওয়ার্কের বাইরে রয়েছে। অন্যদিকে নিজাম উদ্দিন ১৯৯৫ সালে দৈনিক ৩০ টাকা বেতনে চাকরি নিয়েছিলেন। ২০০৩ সালে সিকিউরিটি সুপারভাইজারের দায়িত্ব পায়। এরপর থেকেই অবৈধ সম্পদের পাড়ার গড়েন। উত্তরায় ১৮শ’ বর্গফুটের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিক তিনি। একাধিক ব্যাংকে কয়েক কোটি টাকার সঞ্চয়ী হিসাবের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। নিজামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার ঝাউতলা গ্রামে। তার পিতার নাম খন্দকার মোজাফ্‌ফর হোসেন। বর্তমানে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর রোডের ৭ নম্বর বাড়ির বি/৩ নম্বর ফ্ল্যাটে থাকতেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের মাস্টার্সের সনদপত্র সংগ্রহ করে তিনি চাকরির পদোন্নতি নিয়েছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে সরকারের ২৬ চ্যালেঞ্জ

তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে সরকারের ২৬ চ্যালেঞ্জ


তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে ২৬ চ্যালেঞ্জের মুখে সরকার। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশকে ডিজিটাল করার প্রত্যয়ে নানাভাবে ভাটা পড়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহারে যোগ্য ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব এর জন্য দায়ী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন নিয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলা হচ্ছে। আগামী নির্বাচনে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নকে অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ এরই মধ্যে নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তথ্যপ্রযুক্তির ২৬ চ্যালেঞ্জ
নিয়ে সমপ্রতি ব্যাখা দিয়েছেন। ওই সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তা তুলে ধরেছেন। গত বুধবার সংসদ অধিবেশনে এ নিয়ে লিখিত উত্তরও দিয়েছেন। তিনি বলেন, সমাজের সব ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশকে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তর করা হবে। তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে সরকারের ২৬ চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র, তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে আইন ও বিধিমালা, মাল্টিমিডিয়া শ্রেণীকক্ষ ও ডিজিটাল কনটেন্ট, কম্পিউটার ল্যাব, ডিজিটাল স্বাক্ষর, হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, ই-গভর্নেন্স, জেলা ই-সেবাকেন্দ্র, ডিজিটাল বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ড, জাতীয় ই-তথ্যকোষ, ই-বুক, লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং, অনলাইন ট্যাক্স পেমেন্টে, ট্যাক্স ক্যালকুলেটর ও অনলাইন ট্যাক্স রিটার্ন প্রস্তুত, ই-পুঁজি, মোবাইলভিত্তিক ৭ ধরনের সেবা, ই-এশিয়া, ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা, ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১২, গ্রামীণ ডাকঘরগুলোকে কমিউনিটি তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রে রূপান্তর, ইলেক্ট্রনিক মানি-অর্ডার সার্ভিস প্রবর্তন, পোস্টাল ক্যাশ কার্ডের প্রচলন, অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ স্থাপন, ২য় সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ স্থাপন ও থ্রিজি সেবা প্রবর্তন। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে মোবাইল অপারেটরদের নিয়ে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপ সমালোচনার মুখে পড়ে। বিশেষ করে থ্রিজির লাইসেন্স নিয়ে বেসরকারি মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে সরকারের স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। গত অক্টোবরে সরকার নিয়ন্ত্রিত টেলিটককে থ্রিজি সেবার সুবিধা দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অন্যান্য অপারেটরদের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে জানিয়েছেন, শিগগিরই তাদের ওই সুবিধা দেয়া হবে। এদিকে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশন (বিটিআরসি) জানিয়েছে, আগামী ২ মাসের মধ্যে তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল প্রযুক্তি (থ্রিজি) সেবা যাচ্ছে বেসরকারি অপারেটরে। এগুলো হচ্ছে- বাংলালিংক, গ্রামীণফোন, এয়ারটেল, সিটিসেল ও ওয়ারিদ। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে খসড়া নীতিমালা প্রস্তুত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির নতুন চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস মানবজমিনকে বলেন, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে সচিব থাকা অবস্থায় বেসরকারি মোবাইল অপারেটরদের থ্রিজি লাইসেন্স দেয়ার কাজ অনেক দূর এগিয়ে নেয়া হয়েছে। আশা করি আগামী বছরের প্রথম দিকে থ্রিজি লাইসেন্স প্রাইভেট সেক্টরে দেয়া যাবে। তবে নির্দিষ্ট দিনক্ষণ বলা যাবে না। বেসরকারি মোবাইল অপারেটরদের ওই লাইসেন্স দেয়াকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন বলে জানান বিটিআরসির চেয়ারম্যান। এদিকে তথ্যপ্রযুক্তির ২৬ চ্যালেঞ্জ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ স্থাপন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, দেশের ৫৬টি জেলাকে এর আওতায় আনা হয়েছে। বাকি ৮টি জেলাকে (শরীয়তপুর, মানিকগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, চাঁপাই নবাবগঞ্জ, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী ও খাগড়াছড়ি) অপটিক্যাল ফাইবার দ্বারা সংযোগের কাজ টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের শেষদিকে ২য় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের কাজ শেষ হবে। এভাবে অপর চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকার যেভাবে দেশকে ডিজিটাল করার প্রত্যয় দেখিয়েছিল, দিন শেষে তা বাস্তবায়ন হয়নি। তারা বলেন, এজন্য অনেক কারণ রয়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তির ওপর দক্ষ ও যোগ্য লোকের অভাব অন্যতম। এ ছাড়া সরকারের সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবও স্পষ্ট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. মো. হাসানুজ্জামান সমপ্রতি মানবজমিনকে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারের উচিত আরও কিছু পদক্ষেপ নেয়া। ডিজিটাল জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যবহার, ভূমির ম্যাপ ও তথ্য ডিজিটালাইজ করা। এতে করে দেশে ভূমি ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে সর্বত্র যে দুর্নীতি হয়, সেটা রোধ করা সম্ভব।

৫ বছরের জন্য স্থগিত হতে পারে মৃত্যুদণ্ড

৫ বছরের জন্য স্থগিত হতে পারে মৃত্যুদণ্ড

 



মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থানের নাটকীয় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। পাঁচ বছরের জন্য সব ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হতে পারে। এজন্য মৃত্যুদণ্ডবিরোধী আন্তর্জাতিক চুক্তিতেও স্বাক্ষর করতে পারে বাংলাদেশ। তবে কি কারণে বাংলাদেশ এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে তা স্পষ্ট নয়। এ নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জন রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যমতে বিশ্বের ১৪০টি দেশে এরই মধ্যে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশে কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন মৃত্যুদণ্ডের বিধান বিলুপ্তির জন্য আন্দোলন করে আসছে। মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা প্রসঙ্গে মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খান শুভ্র মানবজমিনকে বলেন, বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডবিরোধী কোন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। বাংলাদেশের বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ নয়। এ বিচার প্রক্রিয়ায় ভুলভাবেও অনেকের মৃত্যুদণ্ডের সুযোগ রয়ে গেছে। এ কারণে আমরা মৃত্যুদণ্ডের বিধানের পক্ষে নই। সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধানের পক্ষে আমরা। ১৯৬৬ সালের ১৬ই ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মৃত্যুদণ্ডবিরোধী ‘ইন্টারন্যাশনাল কভিন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস’ গৃহীত হয়। ১৯৭৬ সালের ২৩শে মার্চ থেকে এটি কার্যকর হয়। তবে এ চুক্তিতে স্বাক্ষরে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর কোন বাধ্যবাধকতা নেই। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী এ বছর মার্চ পর্যন্ত বিশ্বের ৭৪টি দেশ এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড। তবে নিম্ন আদালত কাউকে মৃত্যুদণ্ড দিলেই তা কার্যকর হয় না। সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের অনুমোদন ছাড়া কোন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডই কার্যকর করা যায় না। ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হয় হাইকোর্টে। এক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিজে আইনজীবী নিয়োগ না দিলেও রাষ্ট্র তার পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে থাকে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘কোন ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া যাইবে না কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেওয়া যাইবে না কিংবা কাহারও সহিত অনুরূপ ব্যবহার করা যাইবে না।’ মৃত্যুদণ্ডের শাস্তিকে অমানবিক উল্লেখ করে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছিল। হাইকোর্ট পরে ওই রিট আবেদন খারিজ করে দেয়। তবে বাংলাদেশেও সামপ্রতিক বছরগুলোতে উচ্চ আদালতে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। সামপ্রতিক অতীতে উচ্চ আদালতে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার ঘটনা ঘটছে খুবই কম। বৈশ্বিক পটভূমিতেও মৃত্যুদণ্ড নিয়ে গত বছরগুলোতে সারা দুনিয়ায় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। ২০০৩ সালের ১০ই অক্টোবর থেকে বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মৃত্যুদণ্ডবিরোধী দিবস। মৃত্যুদণ্ড সম্পর্কে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদণ্ড বিলোপের ক্ষেত্রে গত দশকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু মৃত্যুদণ্ডকে ইতিহাসের ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলতে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। ২০০৩ সালের পর থেকে ১৭টি দেশ যে কোন অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান বিলুপ্ত করেছে। এতে মৃত্যুদণ্ড বিলোপকারী দেশের সংখ্যা ১৪০-এ গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ৭০ শতাংশ দেশ এখন এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

Tuesday, November 20, 2012

নতুন রূপে আমিশা পাটেল


‘কাহো না পেয়ার হ্যায়’খ্যাত বলিউডের এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আমিশা পাটেল ‘রেস ২’-তে সম্পূর্ণ নতুন গেটআপে হাজির হচ্ছেন। বিগত কয়েক বছর ধরেই অনেক চেষ্টা করছেন বলিউডে বাজিমাত করার। কিন্তু ‘আঁখে’ ছবির পর কোনো কাজই তাকে সেই সাফল্য এনে দিতে পারেনি। তবে কাজ করেছেন অনেকগুলো ছবিতেই। তাই মাঝে তামিল ছবিতেও নিজেকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন, এবং সেখানেও ব্যর্থ। এবার নিজেকে পুরোদস্তুর বদলে হাজির হচ্ছেন বলিউডে। সঞ্জয় দত্তর সঙ্গে ‘চতুর্সিং টু স্টার’ ছবিতে তিনি অনেক আবেদনময়ী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এখন নিজেকে যেকোনোভাবে খোলামেলায় উপস্থাপন করতে কোনো আপত্তি নেই বলে জানান। ‘রেস ২’ ছবিতে শতভাগ বিকিনি রূপে দেখা যাবে তাকে। এর আগে ‘থোরা পেয়ার থোরা ম্যাজিক’ ছবিতেও বিকিনি গেটআপ নিয়েছিলেন। তবে এই সময়ে এসে এটিকে বিকিনি বলা যায় না। তবে ‘রেস ২’-তে পুরোদস্তুর আবেদনময়ী নারী হিসেবে তাকে পাওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, তিনি আরও ৫টি নতুন ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। যার অধিকাংশতেই ভিন্ন ভিন্ন গেটআপে দেখা যাবে বলে জানান তিনি। আরও জানান, দুয়েকটি গভীর অন্তরঙ্গ দৃশ্যেও কাজ করেছেন তিনি।

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ঠেকাতে ভাইরাস

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ঠেকাতে ভাইরাস

অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো রেজিস্ট্যান্স। আজ যে অ্যান্টিবায়োটিকটি আপনাকে সুস্থ করে তুলছে কাল সেটিই হয়তো রেজিস্ট্যান্স হয়ে উঠবে। তখন আর ওষুধ খেয়েও কাজ হবে না। কারণ আপনার শরীরের ব্যাক্টেরিয়াগুলো প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তুলবে অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে। এটা বিশ্বব্যাপী একটি খুব বড় সমস্যা। কেন এই রেজিস্ট্যান্স গড়ে ওঠে তা বলতে গেলে অনেক কথা। অ্যান্টিবায়োটিকের পুরো কোর্স শেষ না করে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেয়া কিংবা কারণে-অকারণে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াÑ এসবই এর প্রধান কারণ। এ ছাড়া আরো অনেক কারণ আছে। তো কারণ যাই থাক এটা একটা বড় রকমের সমস্যা এবং সে কারণেই এই সমস্যা দূর করা যায় কী করে তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী নিরন্তর গবেষণা চলছে। সম্প্রতি আমেরিকার গবেষকেরা নতুন আশার আলো দেখেছেন। তারা ভাইরাস ব্যবহার করে ফল পেয়েছেন অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের ক্ষেত্রে। আশা করা যাচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিকের এ সমস্যাটা আর থাকবে না।

আট লাখ বিনিয়োগকারীর সঞ্চয় হারানোর আশংকা

আট লাখ বিনিয়োগকারীর সঞ্চয় হারানোর আশংকা

ডেসটিনি পরিস্থিতি
++ কাজ না থাকায় বেকার ৪৮ লাখ পরিবেশক
++ কয়েক মাস বেতন পাচ্ছেন না কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
++ প্রশাসক নিয়োগ করা হবে আদালতের মাধ্যমেই
সঞ্চয় হারানোর আশংকায় আছেন ডেসটিনির আট লাখ সাধারণ বিনিয়োগকারী। এছাড়া ৪৫ লাখ পরিবেশক গত ছয় মাস ধরে কোন কাজ না থাকায় এক রকম বেকার জীবনযাপন করছেন। অর্থ আত্নসাত্ ও টাকা পাচারের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আটক হওয়ার পর থেকে সাধারণ বিনিযোগকারীদের মধ্যে এ আশংকা দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম মুখ থুবরে পড়ায় বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত। অনেকেই সর্বস্ব বিনিয়োগ করে এখন সর্বশান্ত। তিন বেলা খাবার কেনার মতো পয়সাও নেই অনেকের কাছে। ডেসটিনি গ্রুপের একমাত্র বৈশাখী টেলিভিশনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সচল থাকলেও অনিয়ম ও র্দুনীতির অভিযোগে এই গ্রুপের অন্য সব প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে সরকার। ফলে কোন প্রকার লেনদেন করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। গত কয়েক মাস ধরে কোন বেতন-ভাতা না পাওয়ায় এক রকম মানবেতন জীবনযাপন করছেন ডেসটিনি গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী।
সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বলছেন, যদি ডেসটিনির কার্যক্রম অবৈধ হয়ে থাকে তাহলে তা আইনের আওতায় আনা হোক। এছাড়া কারো বিরুদ্ধে অর্থ আত্নসাতের অভিযোগ প্রমানিত  হলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক কিন্তু হাজার হাজার মানুষের জীবনজীবিকা হয় যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তা সচল রাখুক সরকার।  বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত আদালতের মাধ্যমেই ডেসটিনিতে প্রশাসক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে সরকার। বিশিষ্ট আইনজীবী ও ব্যবসায়ীদের বাঁধার মুখে সরকার কোম্পানি আইন সংশোধন করে সরাসরি প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।
ডেসটিনি গ্রুপের নানা অনিয়ম ও র্দুনীতি খতিয়ে দেখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি মোট ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা সরাসরি তছরুপ করা হয়েছে। বাকি দুই হাজার ৩৪৬ কোটি টাকার লেনদেন অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক।
ইতিমধ্যে টাকা পাচারের অভিযোগে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ডেসটিনি গ্রুপের এমডি, ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও চেয়ারম্যানসহ প্রতিষ্ঠানের ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে দুদক। এই মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন ডেসটিনি গ্রুপের এমডি রফিকুল আমিন। জামিনে রয়েছেন ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট সাবেক সেনা প্রধান হারুন অর রশিদ, বীরপ্রতীক।
সমপ্রতি ডেসটিনি গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, অফিস খোলা থাকলেও কাজকর্ম স্থবির। অনেক কর্মচারীই ঠিকমতো অফিসে আসেন না। কয়েক মাস ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একই অবস্থা ডেসটিনির পরিবেশকদেরও।
রাজধানীর কাকরাইলে স্কাউট ভবনে ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অফিস প্রায় খালি! নিরবতা বিরাজ করছে। এই অফিসে ৩ হাজার ৩’শ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করেন বলে জানা গেছে। কাকরাইলে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি:-এ কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে ৩’শ জনের উপরে। এছাড়া ট্রি প্লানটেশনে কাজ করেন ১২৫ জন। এই কর্মচারীদের সবাই গত কয়েক মাস ধরে কোন বেতন পাচ্ছেন না। একই অবস্থা ডেসটিনি ২০০০ লি:-এর কাস্টমার সার্ভিস সেন্টারেও।
রাজধানীর পল্টনে অবস্থিত ডেসটিনি ২০০০ লি:-এর কাস্টমার সার্ভিস সেন্টারের জেনারেল ম্যানেজার এস এম মাহবুবুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘কাস্টমার সার্ভিস সেন্টারেই ৫২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন যারা সাড়ে ৪ মাস ধরে কোন বেতন-ভাতা পান না। নগদে আমাদের কোন পণ্য বিক্রি হয় না। ব্যাংক এ্যাকাউন্ট জব্দ থাকায় প্রায় ৮ মাস ধরে কোন পণ্য বিক্রি করা যাচ্ছে না।’ তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে ৬৭ কোটি টাকার পণ্য আটকে আছে। শিগগির পণ্যের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাবে। কিন্তু তা খালাস করা যাচ্ছে না।
সূত্র জানায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বন্ধের পাশাপাশি পাঁচ মাস ধরে বাকি রয়েছে অফিস ভাড়াও। অফিসের এসি, চেয়ার ইত্যাদি বিক্রি করে পাওনাদারদের টাকা পরিশোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ডেসটিনি ডিস্ট্রিবিউটর ফোরামের সদস্য শহিদুল হক বলেন, ‘আমরা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত নই, প্রতারিত হইনি। ডেসটিনি-২০০০ লি.-এর ৪৫ লাখ ক্রেতা-পরিবেশক মানবেতর জীবন-যাপন করছেন; বর্তমান অবস্থায় আমরা আমাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে উদ্বিগ্ন।’
পরিবেশক ও সাধারণ বিনিয়োগকারী আব্দুল্লাহ-আল মামুন বলেন, কারো বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডতো অবৈধ না। হাজার হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা হয় যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তা সচল রাখুক সরকার।
আরেক বিনিয়োগকারী ডেসটিনি কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদের আহবায়ক সাইফুর রহমান চৌধুরী টিপু বলেন, দেশে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) আইন না থাকলে সরকার আইন করুক। আমরা সেই আইন মেনে চলবো।
ডেসটিনি গ্রুপের উপ-পরিচালক আশরাফুল আমীন ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি. অবৈধ ব্যাংকিং করছে না দাবি করে বলেন, সোসাইটি সদস্য ছাড়া কারো সাথে লেনদেন করে না। ডেসটিনি ২০০০ লি.-এর যারা পরিবেশক শুধু তারাই ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি.-এর সদস্য হতে পারবে। আর সদস্যরাই শুধু ঋণ নিতে পারবে। এছাড়া ডেসটিনি ট্রি প্লানটেশন লি.-এর ৬ লাখ সদস্যও ডেসটিনি ২০০০ লি.-এর পরিবেশকরাই।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডেসটিনি ২০০০ লি.-এর ৪৫ লাখ পরিবেশকের মধ্যে আট লাখ ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি.-এর সদস্য। ডেসটিনির কার্যক্রম এক রকম বন্ধ থাকায় এ ৪৫ লাখ পরিবেশক এখন বেকার বসে আছে।
২০০১ সালে জয়েন্ট স্টক থেকে অনুমোদন নিয়ে যাত্রা শুরু করে মাল্টিলেভেল কোম্পানি (এমএলএম) ডেসটিনি ২০০০ লি.। বিভিন্ন পণ্য বিক্রির মধ্যে দিয়ে কোম্পানির যাত্রা শুরু হলেও ২০০৫ সালে সমবায় অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন নিয়ে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি যাত্রা শুরু করে। এরপর যাত্রা শুরু করে ডেসটিনি ট্রি প্লানটেশন। বর্তমানে এ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৭টি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডেসটিনির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে সমালোচিত হচ্ছে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি ও ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশন লিমিটেড। দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগও এ দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই বেশি।
দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, গাছ লাগানোর মাধ্যমে ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশন লিমিটেড দুই হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে তারা ৮১ লাখ গাছ লাগিয়ে সংগ্রহ করে ২৯৮ কোটি টাকা। বাকি দুই হাজার ৩৬ কোটি টাকা গাছ না লাগিয়েই সংগ্রহ করেছে। অথচ যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধন কার্যালয় থেকে নেয়া স্মারকসংঘে বৃক্ষরোপণ বাবদ অর্থ আদায়ের কোন কথা বলা ছিল না। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটিও অবৈধ ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে অর্থ সংগ্রহ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সূত্র জানায়, ডেসটিনির অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ে এর কার্যক্রম চালুর শুরুর দিকেই প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিল। ২০০০ সালের ডিসেম্বরে বিনিয়োগ বোর্ডে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ডেসটিনি ছাড়াও ‘জিজিএন’ ও ‘নিউওয়ে বাংলাদেশ’সহ সব এমএলএম প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনের আওতায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এরপর ২০০৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ সচিবের কাছে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি পাঠায়। পরবর্তীতে ২০০৫ সালের ৪ এপ্রিল আবারো অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু তত্কালীন জোট সরকার ও পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি ডেসটিনির নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। গত ১১ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশকালে তত্কালীন বাণিজ্য সচিব গোলাম হোসেন ডেসটিনির মোট তিন হাজার ৮০০ কোটি টাকার অনিয়ম তুলে ধরেন। এর মধ্যে এক হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা সরাসরি তছরুপ করা হয়েছে। বাকি দুই হাজার ৩৪৬ কোটি টাকার লেনদেন অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক।
তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশকালে তত্কালীন বাণিজ্য সচিব সাংবাদিকদের জানান, ডেসটিনি গ্রুপের ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৬টির কোনো না কোনোভাবে কার্যক্রম আছে। বাকি ১৩টি প্রতিষ্ঠান নাম সর্বস্ব। এর মধ্যে ডেসটিনি ২০০০-সহ ২৬ কোম্পানির মধ্যে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে ৪৭৩ কোটি টাকার। ডেসটিনি মাল্টিপারপাসে অনিয়ম হয়েছে ৯৮২ কোটি টাকার। ২৬ কোম্পানির অস্বাভাবিক লেনদেন এক হাজার ২৮২ কোটি টাকার। আর মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভে সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৬২ কোটি টাকার।
তিনি বলেন, আইন লঙ্ঘনের জন্য সরকারের সাতটি সংস্থা আলাদাভাবে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। সংস্থাগুলো হলো দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও রেজসকো। এখন পর্যন্ত দুদক টাকা পাচারের অভিযোগে মামলা করেছে।

আড়াই লাখের বেশি সরকারি পদ খালি

আড়াই লাখের বেশি সরকারি পদ খালি


সরকারি চাকরির ১৩ লাখ ৭০ হাজার পদের মধ্যে আড়াই লাখেরও বেশি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিতে সাধারণ কোটা বাড়ানো বা বয়স বাড়ানোর কোন পরিকল্পনা নেই সরকারের। গতকাল সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এ তথ্য জানান। সংসদ কার্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম লিখিত জবাবে সংসদকে জানান, সরকার কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি ও আত্মকর্মসংস্থান- তিনটিকেই অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। তার পক্ষে অপু উকিলের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মতিয়া চৌধুরী বলেন, আংশিকভাবে সত্যতা আছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে সত্যতার অভাব রয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ উঠলে গায়ের জোরে পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয় না। তখন ঘটনা তদন্ত করতে হয়। কমিটি গঠন করতে হয়। সে ক্ষেত্রে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিলম্ব হয়ে যায়। তিনি বলেন, আমরা শুদ্ধতার দিকে এগোতে চাই। কারও স্বার্থে কিছু করতে চাই না। অপু উকিলের প্রশ্নটি ছিল- নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে অযথা বিলম্ব করা হয়। এতে দীর্ঘদিন পর্যন্ত পদ শূন্য পড়ে থাকে। এ বিষয়ে সরকার কোন প্রতিকার নেবে কিনা- সে প্রশ্ন রাখেন তিনি। মন্ত্রী জানান, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩২ বছর করার কোন পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই। তিনি জানান, সরকারি চাকরিতে সাধারণ কোটা বাড়ানোর কোন পরিকল্পনা নেই সরকারের। মন্ত্রী জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ১৯৯৭ সালের ১৭ই মার্চ সরকারি চাকরিতে কোটা সম্পর্কে পরিপত্র জারি করা হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পদের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন ধরনের কোটার শতকরা হার হচ্ছে- মেধা কোটা (জেলা কোটা বহির্ভূত) ৪৫ শতাংশ, জেলা কোটা (জনসংখ্যার ভিত্তিতে জেলাওয়ারী বণ্টন) ৫৫ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ, মহিলা ১০ শতাংশ, উপজাতীয় ৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট (জেলার সাধারণ প্রার্থীদের জন্য) ১০ শতাংশ। তাছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পদে এতিমখানা নিবাসী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী (জেলা কোটা বহির্ভূত) ১০ শতাংশ, জেলা কোটা (জনসংখ্যার ভিত্তিতে জেলাওয়ারী বন্টন) ৯০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ, মহিলা ১৫ শতাংশ, উপজাতীয় ৫ শতাংশ, আসনার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা সদস্য ১০ শতাংশ এবং অবশিষ্ট (জেলার সাধারণ প্রার্থীদের জন্য) ৩০ শতাংশ। তিনি আরও জানান, সংবিধানের ২৯(৩) অনুচ্ছেদের আলোকে সরকার সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা নির্ধারণ করে থাকে। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে সাধারণ কোটা বাড়ানোর কোন পরিকল্পনা সরকারের নেই। মন্ত্রী জানান, ৩৩তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোন দালিলিক ডকুমেন্টস আজ পর্যন্ত কারও কাছ থেকে পিএসসি পায়নি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপারে সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশের পর পিএসসি লিখিত পরীক্ষা স্থগিত করে। ফাঁস হওয়া প্রশ্ন কোন নাগরিকের হাতে থাকলে তার কপি ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত চক্র সম্পর্কে তথ্য পিএসসিকে দেয়ার জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। মন্ত্রী আরও জানান, পত্রপত্রিকায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের এবং জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসনের জন্য কমিশন গত ৭ই অক্টোবর থেকে ১৮ই অক্টোবর পর্যন্ত আবশ্যিক ও একটি পদসংশ্লিষ্ট বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা স্থগিত করে। বিএনপির অনুপস্থিত সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয়েছে। তার নাম আ ত ম ফজলুল করিম। উল্লেখ্য, তিনি কবি আবু করিম হিসেবে পরিচিত।

সমুদ্র এলাকায় ৩ নং সতর্কসঙ্কেত অব্যাহত

সমুদ্র এলাকায় ৩ নং সতর্কসঙ্কেত অব্যাহত

পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপ পশ্চিম দিকে সামান্য সরে গিয়ে আজ সোমবার সকাল নয়টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮০ কিলোমিটার দণি-পশ্চিমে এবং মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। এটি পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসে একটানা গতিবেগ ঘন্টায় ৫১ কিলোমিটার যা দমকা ঝড়োহাওয়ার আকারে ৬১ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাগর মাঝারী ধরনের উত্তাল রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মংলা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতাসঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমুহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি অন্ধকারে ছিলাম, আলোর দেখা পেয়েছি : দুদক চেয়ারম্যান

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি

অন্ধকারে ছিলাম, আলোর দেখা পেয়েছি : দুদক চেয়ারম্যান

 


পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের প্রতিবেদন ডিসেম্বরে দাখিল করবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান টিম। আজ সন্ধ্যায় দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমাদের অনুসন্ধানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আগামী মাসের (ডিসেম্বর) প্রথম সপ্তাহেই দুদকের অনুসন্ধানী দল প্রতিবেদন জমা দেবে।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমরা অন্ধকারে ছিলাম, আলোর দেখা পেয়েছি। সবকিছু ঠিকঠাক মতো চলছে। ডিসেম্বরে বিশ্বব্যাংকের দ্বিতীয় প্যানেল ঢাকায় আসছে বলেও ইঙ্গিত করেন তিনি।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপনের পর উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল জাহিদকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি অনুসন্ধানী দল গঠন করে দুদক। অনুসন্ধানী দলের অন্য সদস্যরা হলেন- উপ-পরিচালক জয়নুল আবেদিন শিবলী, উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী ও উপ-পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম।
গত ৩ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষ করে দুদক। পদ্মা সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে এ পর্যন্ত ৩১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ও পদ্মা সেতু প্রকল্পের ইন্টিগ্রিটি অ্যাডভাইজর ড. মসিউর রহমান, সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ নূরে আলম চৌধুরীর ভাই নিক্সন চৌধুরী, সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলাম, আবুল হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সেতু ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান আক্তার প্রমুখ।
বিশ্বব্যাংকের দেয়া শর্ত অনুসারে ইতোমধ্যেই পদ্মা সেতুতে পরামর্শক নিয়োগের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। আর বিশ্বব্যাংকের গঠিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল বাংলাদেশ সফর করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক প্রধান আইনজীবী লুই গ্যাব্রিয়েল মোরেনো ওকাম্পোর নেতৃত্বে দলটি গত ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশে আসে। তারা দুদক কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করে কিছু গাইডলাইন দেন। সেই গাইডলাইন অনুযায়ী দুদক আবারও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

Monday, November 19, 2012

দুর্গন্ধখেকো পোশাক

দুর্গন্ধখেকো পোশাকগায়ের দুর্গন্ধ নিয়ে সবারই কমবেশি অস্বস্তি তো লাগেই। আর দুর্গন্ধ দূর করতে আমরা নানা ধরনের পারফিউম ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু পোশাকের নিচে জমে থাকা ঘাম যে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে তা কি আর কেবল পারফিউম দিয়ে যায়? ফলে দুর্গন্ধ থাকে, থাকে অস্বস্তি। কিন্তু যদি এমন হয়, গায়ে তৈরি হওয়া দুর্গন্ধ ওই পোশাকই নির্মূল করে দেবে, তাহলে? সম্প্রতি জাপানের সেইরিন নামে একটি টেঙ্টাইল কম্পানি এমন এক ধরনের অন্তর্বাস তৈরি করছে, যা গায়ের দুর্গন্ধ খেয়ে ফেলবে। অন্তর্বাসের নিচে জমে থাকা ঘাম থেকে সৃষ্ট দুর্গন্ধ নির্মূল করবে ওই বিশেষ ধরনের অন্তর্বাস। শুধু তা-ই নয়, এই অন্তর্বাস দুর্গন্ধ খেয়েই ক্ষান্ত হবে না, মনোমুঙ্কর সুগন্ধিও ছড়াবে। কম্পানিটি মনে করছে, এই অন্তর্বাস জাপানের ব্যবসা-বাণিজ্যে দারুণ সুফল বয়ে আনবে। এটি নারী-পুরুষ উভয়েই ব্যবহার করতে পারবে। এরই মধ্যে এ ধরনের অন্তর্বাস বাজারজাত শুরু করেছে কম্পানিটি।
এ পোশাকে ব্যবহার করা হয়েছে মৃৎশিল্প বা চীনামাটির বাসনে ব্যবহার করা এক ধরনের সুগন্ধি। এই অন্তর্বাসকে আবহাওয়া উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে, যা আবহাওয়া বুঝেই কাজ করবে। এমনকি স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে চিকিৎসকের পরামর্শও।
সেইরিন কম্পানির নামি ইয়াসিদা নামে এক মুখপাত্র জানান, এ অন্তর্বাস কয়েক বছর ধরে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই পোশাক দৈনন্দিন জীবনে মানুষকে দুর্গন্ধমুক্ত রাখবে এবং সুগন্ধি ছড়াবে। প্রথমে আমরা এ অন্তর্বাস হাসপাতালে বিক্রি করার চিন্তা করেছিলাম। কিন্তু পরে মানুষের সাড়া পেয়ে অবাক হয়েছি। এখন আমরা মানুষকে দুর্গন্ধমুক্ত রাখতে বাজারজাত শুরু করেছি।

বায়ুদূষণে বাড়ে মস্তিষ্কের বয়স

বায়ুদূষণে বাড়ে মস্তিষ্কের বয়স

আপনি যদি উচ্চমাত্রায় বায়ুদূষণের শিকার হন তা হলে আপনার মস্তিষ্কের বর্তমান বয়স আরো তিন বছর বেড়ে যাবে। ফলে কমে যাবে আপনার চিন্তা করার ক্ষমতা। এই প্রথমবারের মতো এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষণায়। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চমাত্রার বায়ুদূষণযুক্ত এলাকায় বাস করা বয়স্ক মানুষের চিন্তা করার ক্ষমতা তুলনামূলক মুক্ত বায়ুতে বসবাসরত লোকজনের চেয়ে খারাপ হয় বলে গবেষণায় দাবি করা হয়েছে।
গবেষক জেনিফার এইলশায়ার পঞ্চাশোর্ধ্ব ১৪ হাজার ৭৯৩ জন নারী-পুরুষের ওপর জরিপ চালিয়ে এমন প্রমাণ পেয়েছেন। তিনি জানান, 'বয়সজনিত কারণে এমনিতেই স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে থাকে। তার ওপর বায়ুদূষণের শিকার হলে তাঁদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা আরো ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। বায়ুদূষণের কারণে বয়স্কদের হৃদযন্ত্র, শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অকাল মৃত্যুর আশঙ্কাও বেড়ে যায়।'
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বায়ুদূষণের মাত্রার পার্থক্যের কারণে ব্যক্তির চিন্তাভাবনার ক্ষমতায় পার্থক্য দেখা দেয়। তবে প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই মস্তিষ্কের বয়স বৃদ্ধির পরিমাণ তিন বছর।
গবেষণায় বায়ুদূষণের মাত্রার সঙ্গে ব্যক্তির বয়স, ধূমপানের অভ্যাস, হৃদযন্ত্র ও শ্বসনতন্ত্রের অবস্থা, গোষ্ঠী এমনকি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকেও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

ক্ষমা কার?

ক্ষমা কার?

এটা সত্য প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমানই ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ২১ আসামিকে ক্ষমা করেছেন। কিন্তু কার পরামর্শে প্রেসিডেন্ট এতটা ক্ষমাশীল হলেন সে প্রশ্ন এখন সর্বত্র। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ বলছে, একমাত্র প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগদান ব্যতীত আর সব কাজই প্রেসিডেন্ট করবেন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী। এ অনুচ্ছেদ বহাল থাকা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া প্রেসিডেন্টের কাউকে ক্ষমা করার সুযোগ নেই। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ক্ষমা সম্পর্কিত পরিসংখ্যান গত বুধবার সংসদে প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। মন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী ১৯৭২ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ২৫ ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ক্ষমা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৭২ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ক্ষমা করা হয়েছে মাত্র চারজনকে। আর ২০০৯ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ক্ষমা করা হয়েছে ২১ জনকে। প্রেসিডেন্টের ক্ষমা নিয়ে চারদিকে বিতর্ক যখন তুঙ্গে তখন শনিবার আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। কিন্তু সংবিধান ও হাইকোর্টের অন্তত একটি রায় আইনমন্ত্রীর এ বক্তব্যকে সমর্থন করে না। ক্ষমা কি প্রেসিডেন্ট না প্রধানমন্ত্রী করেন- গতকাল আইনমন্ত্রীর কাছে এ প্রশ্ন করা হলে তিনি মানবজমিনকে বলেন, প্রেসিডেন্ট সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমা করেন। তবে এ ব্যাপারে তিনি আর বিস্তারিত কিছু বলেননি। প্রেসিডেন্টের ক্ষমা নিয়ে গত ২৫শে এপ্রিল একটি রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই রায় দিয়েছিল। সে রায়ে বলা হয়, সরকার বা প্রেসিডেন্ট কর্তৃক সাজা কমিয়ে দেয়া বা বাতিল করে দেয়ার ক্ষমতা চর্চার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও সম-অধিকারের নীতি অবলম্বন করতে হবে। রাজনৈতিক বিবেচনায় ক্ষমা তাই ক্ষমতার অপব্যবহার। এ বিষয়ে একটি বিধিমালা থাকা উচিত বলেও রায়ে অভিমত ব্যক্ত করা হয়। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্ট্রপতি তাঁহার সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য সম্পাদন করিবেন। তবে শর্ত থাকে যে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আদৌ কোন পরামর্শ দান করিয়াছেন কি না এবং করিয়া থাকিলে কি পরামর্শ দান করিয়াছেন, কোন আদালত সেই সম্পর্কে কোন প্রশ্নের তদন্ত করিতে পারিবেন না।’ যদিও সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ বলছে, ‘কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করিবার এবং যে কোন দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করিবার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকিবে।’ সংবিধান বিশেষজ্ঞ মাহমুদুল ইসলাম তার কনস্টিটিউশনাল ল’ অব বাংলাদেশ গ্রন্থে লিখেছেন, শান্তি ও ন্যায়বিচারের জন্য সংবিধানে ক্ষমার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের সরকারগুলো রাজনৈতিক বিবেচনায় ক্ষমা করে এ বিধানের অপব্যবহার করেছে।

মিজারুল কায়েস যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার

মিজারুল কায়েস যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার

 


পররাষ্ট্রসচিব মোহাম্মদ মিজারুল কায়েস যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন।

আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা মিজারুল কায়েস ২০০৯ সালের ৮ জুলাই থেকে পররাষ্ট্রসচিব পদে দায়িত্ব পালন করছেন। পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি রাশিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং মালদ্বীপে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে কাজ করেছেন।

জেনেভা, টোকিও ও সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ মিশনে কূটনীতিক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। মহা পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন মন্ত্রণালয়ের সার্ক ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ডেস্ক এবং অর্থনৈতিক বিষয়, বহিঃপ্রচার বিভাগেও।

টক অব দ্য টাউন ওসি সিদ্ধিরগঞ্জ

টক অব দ্য টাউন ওসি সিদ্ধিরগঞ্জ

 


আবারও আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল আলম মোল্লাকে নিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে ঘুষবাণিজ্য আর দুর্নীতির কারণে আলোচিত হলেও এবার তিনি বউ পিটিয়ে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছেন। শুধু তাই নয়। আহত স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে গভীর রাতে বের করে দিয়ে বাসায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। তারা পরিবারের কারও সঙ্গে যাতে যোগাযোগ করতে না পারেন এ জন্য স্ত্রীর হাত থেকে মুঠোফোনটিও কেড়ে নিয়েছেন ওসি কামরুল। আহত স্ত্রী রেহানা পারভীন নিরুপায় হয়ে থানা কার্যালয়ের পাশে একটি চায়ের দোকানে বসে রাত পার করেন। অন্যদিকে ওসি কামরুল আলম মোল্লা গভীর রাতে অজ্ঞাত স্থানে গিয়ে রাত কাটান। যাওয়ার সময় ঘটনাটি যাতে প্রকাশ না পায় সে জন্য নজরদারি বাড়িয়ে যান। কিন্তু ওসির ন্যক্কারজনক আচরণে থানার একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা ও কনস্টেবলদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বুধবার রাতে থানা কোয়ার্টারের ভেতর ওসির এহেন ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে স্ত্রী রেহানা পারভীনের ওসি’র গোপনে আরেকটি বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন। নির্যাতিত রেহানা পারভীন বৃহস্পতিবার এসপি’র সঙ্গে দেখা করে বিস্তারিত ঘটনা জানান। এদিকে এ ঘটনার পর থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে টক অব দ্য টাউন এখন ওসি কামরুল।
ঘটনার সূত্রপাত: সূত্রমতে, ওসি কামরুল আলম মোল্লার নারীঘটিত ব্যাপারসহ নানা বিষয় নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি নেমে আসে। থানার ভেতর কোয়ার্টারে রাত যাপনের কথা বলে রাতে তিনি অন্যত্র থাকতেন। ঠিকমতো ঢাকার বাসায় যেতেন না। এমনকি গত ৪ মাস ধরে দুই ছেলেমেয়ের খরচও দিচ্ছেন না। দুই মাস আগে গোপনে মুনমুন নামে এক মহিলাকে বিয়ে করেন। এসব বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ জানান স্ত্রী রেহানা পারভীন। তাছাড়া, ওসি অসুস্থ হয়ে ৫-৬ দিন হাসপাতালে থাকলেও ছুটি কাটিয়েছেন ১৯ দিন। কিন্তু তিনি বাসায়ও ছিলেন না। এক পর্যায়ে কোরবানির ঈদের আগের দিন ঢাকার বাসা থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কার্যালয়ে গিয়ে হৈচৈ করেন রেহানা পারভীন।
থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য মানবজমিনকে জানান, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কম্পাউন্ডে অবস্থিত ওসি’র কোয়ার্টারে স্ত্রীকে বেধড়ক পিটিয়ে পুত্র সন্তানসহ বাসা থেকে বের করে বাসাটি তালাবদ্ধ করে ওসি কামরুল অজ্ঞাত স্থানে চলে যান। এর আগে স্ত্রীর মুঠোফোনটিও কেড়ে নেন। এই ঘটনায় থানায় অবস্থানরত পুলিশ সদস্য ও অন্যদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওসি’র স্ত্রী ও পুত্রের কান্না শুনে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাদের দু’জনকে নিয়ে থানার পার্শ্ববর্তী একটি চায়ের স্টলে বসান। আহত অবস্থায় ওসি’র স্ত্রী সারারাত থানা কার্যালয়ের পাশে অবস্থিত ওই চায়ের স্টলে বসে ছিলেন। সকালে নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে একজন আত্মীয় এসে তাদের দু’জনকে নিয়ে যান। শহরের একটি ক্লিনিকে রেহানা পারভীনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। তার আত্মীয় এক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা ঢাকা থেকে ঘটনাটি জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের টেলিফোনে জানান। রেহানা পারভীন মানবজমিনকে বলেন, পুলিশ পরিদর্শক কামরুল তার অমতে দুই মাস আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। এর প্রতিবাদ করায় তাকে নানা ভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে।
ওসির গোপন নিবাস: সূত্রমতে, ঢাকার রামপুরার বনশ্রীতে ওসি কামরুল জি ব্লকের ১ নং সড়কের ২৫ নং বাড়ির ৪-এ নং ফ্ল্যাটটি মাসিক ২০ হাজার টাকায় ভাড়া নেন গত ১লা আগস্ট থেকে। বাড়িওয়ালার সঙ্গে চুক্তিপত্রে তিনি নিজের নাম লিখেছেন কামরুল ইসলাম মোল্লা। পিতার নাম শামসুল আলম মোল্লা হলেও লিখেছেন তোফাজ্জল হোসেন। ওসি’র গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার ইচাখালী চুক্তিপত্রে লিখেছেন ৪৭/১, নিউ চাষাঢ়া, জামতলা, নারায়ণগঞ্জ। বর্তমান ঠিকানা লিখেছেন ৩৭ নং ঈশা খাঁ রোড, নারায়ণগঞ্জ। স্ত্রী রেহানা পারভীন কন্যা, পুত্র সহ ঢাকায় ফার্মগেট এলাকায় বসবাস করেন। ওসি কামরুল ২০১২ সালের ২৪শে আগস্ট মুনমুন নামের এক মহিলাকে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই বিয়ে করেন ১ লাখ টাকা দেনমোহরে (কাবিননামা অনুযায়ী)। মুনমুন গত ২১ থেকে ২৫শে জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে আটক ছিলেন একটি প্রতারণা মামলায়। সি আর মামলা নং-৩৭৩/১২, ধারা দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৩৮০, ১৮০। মুনমুন কারাগারে থাকাকালে ওসি কামরুল স্বামী পরিচয়ে কারাগারে জেলারের সঙ্গে দেখা করেন এবং খোঁজখবর নেন। নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও গোপালগঞ্জের লোক হওয়ায় ওসি কামরুলের বিরুদ্ধে জেলার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা কোন কথা বলতে সাহস পান না বলে জানা গেছে। টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে ওসি কামরুল তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বুধবার রাতে স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার ঝগড়া হয়েছিল। সকালে স্ত্রী ঢাকার বাসায় চলে গেছে। স্ত্রীকে তিনি কোন নির্যাতন করেন নি। জেলা পুলিশ সুপার শেখ নাজমুল আলম বলেন, ওসি কামরুলের স্ত্রী দুপুরে আমার সঙ্গে অফিসে দেখা করেছেন। বিষয়টি পারিবারিক হওয়ায় তা দ্রুত মিটিয়ে ফেলার জন্য ওসিকে বলেছি।

Sunday, November 18, 2012

অপহরণকারীদের আস্তানা ছিল 'মামুনের গ্যারেজ

অপহরণকারীদের আস্তানা ছিল 'মামুনের গ্যারেজ

 


পরাগ অপহরণকারী চক্রের অন্যতম আস্তানা ছিল রাজধানীর জুরাইনের একটি গ্যারেজ। ওই গ্যারেজে বিভিন্ন অপরাধীর মোটরসাইকেল রাখা হতো। এসব দেখভাল করত মামুন। অপহরণকারী চক্রের সঙ্গে মামুনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থেকে শিশু পরাগ অপহরণে দুটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি মোটরসাইকেল (ঢাকা মেট্রো- ল-১০০৮১২) জুরাইনের ওই গ্যারেজ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরাগ অপহরণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার ৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এদিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পরাগ সুস্থ হয়ে উঠছে। পরাগের বাবা বিমল মণ্ডল গতকাল সন্ধ্যায় সমকালকে জানান, দু'একদিনের মধ্যে পরাগকে বাসায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলেছে, পরাগ অপহরণে জড়িত সন্দেহে পুলিশ যে মামুনকে গ্রেফতার করেছে, ওই মামুন ও জুরাইনে গ্যারেজের তত্ত্বাবধায়ক
মামুন এক ব্যক্তি নয়।
র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান সমকালকে বলেন, জুরাইনের যে গ্যারেজ থেকে পরাগ অপহরণে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি দীর্ঘদিন অপরাধীদের আস্তানা হিসেবে ব্যবহার হচ্ছিল। ওই গ্যারেজের ব্যাপারে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
পরাগ অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চারজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ইতিমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শিশুটি অপহরণের পর কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। এমনকি আমিরের অবস্থান সম্পর্কেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, রাজধানীতে শত শত রিকশা, ভ্যান ও প্রাইভেট কারের গ্যারেজ রয়েছে। মোটরসাইকেলের এ ধরনের ব্যতিক্রমী গ্যারেজ খুব কম চোখে পড়েছে। যেখান থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে অপরাধীরা ছিনতাই-ডাকাতিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করেছে। অপারেশন সম্পন্ন করে রাতেই ওই গ্যারেজে মোটরসাইকেল রাখা হতো। ওই গ্যারেজের মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের অধিকাংশ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র। শিশু পরাগকে যে মোটরসাইকেলে কেরানীগঞ্জে পেঁৗছে দেওয়া হয়েছে, সেটিও ছিল মামুনের গ্যারেজের। ওই গ্যারেজে আরও সাত-আটটি মোটরসাইকেল পাওয়া গেছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র সমকালকে জানায়, শিশু পরাগ অপহরণের ঘটনায় র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার মো. আলী রিফাত দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল। রিফাত তার বাবাকে একটি ট্যাক্সিক্যাবও কিনে দেয়। তার সঙ্গে দনিয়া কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জাহিদুলের ভালো সম্পর্ক ছিল। পরাগ অপহরণের ঘটনায় জাহিদুলকেও গ্রেফতার করে র‌্যাব। উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র হলেও জাহিদুল বেশ চাকচিক্যময় জীবন-যাপন করত। ঘটনার দিন জাহিদুল ও রিফাত একই মোটরসাইকেলে ছিল। পরাগ অপহরণ ছাড়াও তারা বিভিন্ন সময় নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল।
এদিকে পরাগ অপহরণের মূল হোতা আমিরকে এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তাকে ধরতে র‌্যাব-পুলিশের অভিযান চলছে। আমির যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারে এ ব্যাপারে বিভিন্ন বিমানবন্দরে তার ছবি পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পরপরই আমির বিদেশে পালিয়েছে কি-না এ ব্যাপারেও স্পষ্ট কিছু বলছেন না আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
গতকাল কেরানীগঞ্জের হিজলতলা এলাকায় আমিরকে দেখা গেছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে আমিরকে দেখা যাওয়ার ব্যাপারটি নাকচ করেছে স্থানীয় পুলিশ।
পরাগের বাবা বিমল মণ্ডল সমকালকে জানান, পরাগ সুস্থ হয়ে উঠছে। অপহরণের পর কী ঘটেছিল তা এখনও বলতে পারছে না পরাগ। অপহরণের পরপরই তাকে ইনজেকশন দেওয়ায় তার চেতনা ছিল না। তাই কিছুই তার মনে নেই। সবার সহায়তায় তাকে ফিরে পেয়েছি_ এটাই জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার।

শিশুর হাঁ করে ঘুমানো

শিশুর হাঁ করে ঘুমানো


অনেক সময় লক্ষ করা যায়, শিশুরা হাঁ করে বা মুখখুলে ঘুমাচ্ছে। নাক দিয়ে আমরা শ্বাস গ্রহণ করি ও শ্বাস ত্যাগ করি। নাক দিয়ে বাতাস ঢুকে তা প্রবেশ করে ন্যাসোফ্যারিংস, ল্যারিংস বা স্বরযন্ত্র হয়ে ট্রাকিয়া বা শ্বাসনালীতে। শ্বাসনালী থেকে ব্রংকাস ও ব্রনকিওল হয়ে অ্যালভিওলাই বা ফুসফুসের বায়ুথলিতে ঢোকে বাতাস। আবার শ্বাসত্যাগের সময় পুনরায় এ পথেই বাতাস বের হয়। এই বাতাস আসা-যাওয়ার পথে যদি কোনো বাধা থাকে তবে শিশু নাক দিয়ে শ্বাস না নিয়ে মুখ দিয়ে নেবে। আর সে কারণেই মুখখোলা বা হাঁ করে ঘুমাবে। এ ক্ষেত্রে শিশু ঘুমানোর সময় নাক ডাকতেও পারে।

নানা কারণে এমনটি হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছেÑ নাকের হাড় বাঁকা থাকা, নাকের মাংসল অংশ ফুলে থাকা, নাকে পলিপ থাকা, কোয়ানাল অ্যাস্ট্রেসিয়া, শিশুর টনসিল ও অ্যাডিনয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে গেলেও শিশু মুখখুলে ঘুমায় এবং এ দুটি কারণই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

টনসিলের প্রদাহ বা টনসিলাইটিস হলে টনসিল বড় হতে পারে। বারবার টনসিলাইটিস হওয়া, শিশুর গলা ব্যথা, জ্বর, সর্দি-কাশি, কান ব্যথা ইত্যাদি প্রধান লক্ষণ। এ রকম হলে অবশ্যই নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন। অনেকের ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে টনসিলাইটিস হলেই নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ সার্জন টনসিল কেটে ফেলবেন অর্থাৎ অপারেশন করবেন। কিন্তু এমনটি ভাবার কোনোই কারণ নেই। চিকিৎসা করে অসুস্থ টনসিল রেখে দিলে শিশুর হৃদযন্ত্রের অসুখ, রিউম্যাটিক হাইডিজিজ ও হার্টের ভাল্ব নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সুতরাং টনসিলাইটিসের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী অবশ্যই করাবেন।

কিছু শিশু প্রায় সারা বছর সর্দি-কাশিতে ভোগে, মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়, হাঁ করে ঘুমায়, নাক ডাকে, খাবারে অরুচি, ওজন কমে যাওয়া, ওপরের পাটির সামনের দিকের দাঁত এগিয়ে আসা ইত্যাদি অ্যাডিনয়েড গ্লান্ডের সংক্রমণ এবং বড় হয়ে যাওয়ার লক্ষণ। অ্যাডিনয়েড বড় হলে ও সংক্রমণের কারণে শিশুর কানে ব্যথা ও কানে পুঁজ হতে পারে। এ ছাড়া নাক দিয়ে রক্ত পড়া ও কথা বলতেও অসুবিধা হয়। এই অবস্থায় অবশ্যই নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রেও ওষুধ দিয়ে চিকিৎসার পাশাপাশি আপনার শিশুর স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনেই অ্যাডিনয়েড গ্লান্ড অপারেশন করে বাদ দিতে হতে পারে। অ্যাডিনয়েড বড় হলে এবং অপারেশন না করলে শিশুর কানে শোনার সমস্যা এবং বুদ্ধিমত্তা বিকাশে ব্যাহত হতে পারে।

শিশুর টনসিল ও অ্যাডিনয়েড অপারেশন নিয়ে ভয় পাওয়া অহেতুক। শিশুকে অজ্ঞান করে, বাইরে থেকে কোনো কাটাছেঁড়া না করে, হাঁ করে ভেতর থেকে টনসিল ও অ্যাডিনয়েড গ্লান্ড সার্জারি করে ফেলে দেয়া হয়। এতে সময়ও কম লাগে এবং মাত্র এক দিন পরই হাসপাতাল থেকে শিশুকে বাসায় নিয়ে যেতে পারবেন। শিশুর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম। বরং আগেই বলা হয়েছে, শিশুর স্বাস্থ্যগত কারণেই এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে অপারেশন করাবেন।

আর অবশ্যই মনে রাখবেন, আপনার শিশু যদি মুখখোলা বা হাঁ করে ঘুমায় কিংবা নাক ডাকে তবে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান ও পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করান।

লেখিকা : সহযোগী অধ্যাপিকা, ফার্মাকোলজি অ্যান্ড থেরাপিউটিক্স, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ।

চেম্বার : স্ট্যান্ডার্ড মেডিক্যাল সার্ভিস লিমিটেড, ২০৯/২, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা।

‘ব্যাটসম্যানদের কারণে হেরেছি’

‘ব্যাটসম্যানদের কারণে হেরেছি’

 


মুশফিকের চেহারায়ই ফুটে ওঠে দলের ব্যর্থতাচ্ছন্ন পরাজয়ের প্রতিচ্ছবি। তবে লড়াইয়ে পরাজয়ের পর তো অমন হওয়ার কথা নয়! কিন্তু মুশফিকেরা তো চেয়েছিলেন জয়; না পারলে অন্তত ড্র। কিছুই যখন পেলেন না, তখন চেহারা এমন হওয়া ছাড়া আর উপায় কী। ক্যারিবীয়দের যেভাবে পাওয়া গিয়েছিল এ ম্যাচে, এতে জয় বের না করতে পারার যন্ত্রণা অনেক দিন পর্যন্তই ভোগাবে তাদের। কিন্তু কেন এমন হলো? মুশফিক জানালেন, ‘মূলত ব্যাটিংয়ে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। বোলারেরা সুযোগ করে দিয়েছিলেন, কিন্তু ব্যাটসম্যানরা সেটি ধরে রাখতে পারেননি।’ তিনি বলেন, টপ অর্ডারে কয়েকজন দায়িত্বহীন শট খেলে আউট হয়েছেন। একজন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে আমরা এমনটি আশা করি না। সেটি না হলে অন্তত ড্র করা যেত। মুশফিক আরো বলেন, ‘ম্যাচটা হাতছাড়া হয়ে গেছে দ্বিতীয় সেশনে। ওই সেশনে পাঁচটি উইকেটের পতন হয়েছে, যা প্রথম ইনিংসের সাথে কখনই মেলানো যাবে না। এখানেই ম্যাচ হেরেছি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের আগের দিনে পরিকল্পনা ছিল সকালে যত দ্রুত সম্ভব কারিবীয়দের আউট করে দেয়া যায়। সোহাগের মারাত্মক বোলিংয়ে ওরা ১০ ওভারের বেশি খেলতে পারেনি। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৭৮ ওভার পেয়েছিলাম আমরা। ওভার যথেষ্ট ছিল। কিন্তু আমরা জুটি গড়তে পারিনি, এটিই পরাজয়ের কারণ। অনেক ব্যাটসম্যানই বিশের কোটায় গিয়ে আউট হয়েছেন।’ তিনি বলেন, এর আগে আমরা ধরেই নিয়েছিলাম ওরা ৩০০ রানের টার্গেট দেবে। কিন্তু সেখানে আমরা ওদের দ্রুতই আউট করে দিয়েছি। কারিবীয়রা ভেবেছিল ২৪৫ টার্গেট যথেষ্ট হবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টার্গেট এটিই হলো। এখানে আমাদের পরিকল্পনা সেট হতে হবে। উইকেট হারানো চলবে না। দেখেশুনে খেলতে হবে। কিন্তু প্রথম সেশনেই তো আউট দু’টি। এরপর পাঁচ। এ সময় যদি আমরা এক বা দুই উইকেট হারাতাম, তাহলে শেষ সেশনে দেখা যেত আমাদের ৫-৬ উইকেট থাকত। ফলে ড্র বা জয়ের একটি সুযোগ নেয়া যেত অলআউট খেলে।

প্রশ্ন ছিল ম্যাচে ড্রয়ের সুযোগ ছিল কি না? মুশফিক বলেন, ২৪৫ রান খুব ট্রিকি রান। আমরা প্রথম দুই সেশনে বেশি উইকেট হারাতে চাইনি। দুই সেশন শেষে আমাদের রান ১২০ হলেও শেষ সেশনে জয়ের চেষ্টা করতে পারতাম। কিন্তু ওই সেশনে বেশি উইকেট হারানোয় আর সেই চেষ্টা করা যায়নি। ড্রয়ের আশায় ব্যাট করলে এই উইকেটে টিকে থাকা অনেক কঠিন। এ জন্যই আমরা নেচারাল ব্যাটিং করতে গেয়েছি। দলের বোলারদের ক্রেডিট দিতে গিয়ে মুশফিক বারবার টেনে আনেন সোহাগ গাজীকে। ‘দারুণ বল করেছেন তিনি। দেখবেন বেশির ভাগ ডেঞ্জার ব্যাটসম্যানদের উইকেটই তুলে নিয়েছেন তিনি। আসলে ওকে যখন দলে নেয়া হয়, তখন কথা উঠেছিল। আমরা ওকে একটি মেসেজ দিয়েছিলামÑ তুমি উইকেট পাও আর না পাও; তুমি তোমার বোলিং করবে, যাতে রান চেক দেয়া যায়। তা ছাড়া কারিবীয়দের দলে ক’জন বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন, সে জন্যই সোহাগ গাজী খুবই কার্যকর হবেন ভেবেই দলে নেয়া। আল্লাহর রহমতে, আলহামদুলিল্লাহ সোহাগ খুবই ভালো করেছেন। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও দারুণ বোলিং করেছেন তিনি। তবে মুশফিক চতুর্থ ইনিংসে এমন পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য আরো বেশি ম্যাচ খেলার ওপর জোর দেন। ‘আমরা এ পরিস্থিতিতে খুব কমই পড়েছি। বেশি ম্যাচ খেললে এটি কাভার করার কৌশল আয়ত্তে আনা সম্ভব হতো।’

পুরো ম্যাচের দলের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, শেষ দুই সেশন বাদ দিলে আমরা ভালো একটি গেম খেলেছি। প্রতিটি ইনিংসেই আমরা লড়াই করেছি পরিস্থিতি অনুসারে। এটি ভালো একটি দিক।

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস : ৫২৭/৪ ডিকে. (১৪৪ ওভার)

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৫৫৬/১০ (১৪৮.৩ ওভার)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংস : ২৪৪/৬ (আগের দিনের)

রান বল ৪ ৬

সামি এলবিডব্লিউ ব সোহাগ ১৬ ২২ ১ ১

নারিন অপ: ২২ ২৯ ২ ১

রামপাল ব সোহাগ ৫ ১৭ ০ ০

বেস্ট ব সোহাগ ০ ১ ০ ০

চন্দরপল এলবিডব্লিউ ব সোহাগ ১ ৪ ০ ০

অতি: (বা-১, লেবা-৩, নো-৪) ৮

মোট (৭৪.২ ওভার অলআউট) ২৭৩

উইকেট পতন : ১/২০, ২/২০৯, ৩/২১২, ৪-২১৮, ৫/২২৫, ৬/২৪৪, ৭/২৪৯, ৮/২৬৫, ৯/২৬৫, ১০/২৭৩।

বোলিং : সোহাগ ২৩.২-২-৭৪-৬, রুবেল ১৯-৪-৫৩-২, রিয়াদ ৩-০-১২-০, শাহাদত ৭-১-৩৪-০, সাকিব ১১-২-৫৬-২, নাঈম ৮-০-২২-০, নাসির ৩-০-১৮-০।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস

তামিম ক রামদিন ব রামপাল ৫ ১৫ ০ ০

জুনায়েদ ক রামদিন ব বেস্ট ২০ ৪২ ১ ০

নাফীস ক অ্যান্ড ব বেস্ট ২৩ ৪০ ৩ ০

নাঈম এলবিডব্লিউ ব পারমাল ২৬ ৬৫ ৩ ০

সাকিব ক রামদিন ব বেস্ট ২ ৩ ০ ০

মুশফিক এলবিডব্লিউ ব বেস্ট ১৬ ৩৩ ১ ০

নাসির ব পারমাল ২১ ৩৩ ২ ০

রিয়াদ ব বেস্ট ২৯ ৫০ ২ ১

সোহাগ ক অতি: ব পারমাল ১৯ ৩৮ ২ ১

শাহাদত ক পাওয়েল ব রামপাল ৪ ২ ১ ০

রুবেল অপ: ০ ৭ ০ ০

অতি: (বা-১, নো-১) ২

মোট (৫৪.৩ ওভার অলআউট) ১৬৭

উইকেট পতন : ১/১০, ২/৪৪, ৩/৫১, ৪/৫৫, ৫/৮৫, ৬/১০৬, ৭/১১৯, ৮/১৫৫, ৯/১৫৯, ১০/১৬৭

বোলিং : রামপাল ১১-১-৩২-২, নারিন ১৮-১-৫৬-০, বেস্ট ১২.৩-২-২৪-৫, পারমল ৮-০-৩২-৩, সামি ৩-০-১৩-০, স্যামুয়েলস ২-০-৯-০।

ফল : ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭৭ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : কিরণ পাওয়েল।

সিরিজ : ১-০তে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

Saturday, November 17, 2012

লিভারের প্রদাহ ও ভাইরাল হেপাটাইটিস

 লিভারের প্রদাহ ও ভাইরাল হেপাটাইটিস 

আমাদের দেশে লিভারের নানাবিধ রোগ রয়েছে। সব সময় যে রোগটি ঘরে ঘরে দেখা যায় তা জনমুখে জণ্ডিস নামে পরিচিত। আসলে জণ্ডিস কোন রোগ নয়। এটা নানাবিধ কারণে লিভারের প্রদাহের লক্ষণ মাত্র। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণে লিভারের প্রদাহ হয়ে থাকে। যে কোন ভাইরাস দ্ব্বারা ইনফেকশন হয়ে লিভারের প্রদাহ হতে পারে। তন্মধ্যে কতগুলো ভাইরাস আছে মানব দেহে ঢুকেই যাদের লিভার কোষে বাসা বাঁধার শক্তি রয়েছে। এ জাতীয় ভাইরাসগুলোকে হেপাটাইটিস ভাইরাস হিসেবে নাম করণ করা হয়েছে। এই ভাইরাসগুলোকে একটি পরিবারের সদস্য হিসেবে গণ্য করা হয়। তাদের নাম যথাক্রমে হেপাটাইটিস ‘এ’, হেপাটাইটিস ‘বি’, হেপাটাইটিস ‘সি’, হেপাটাইসিস ‘ডি’ ও হেপাটাইটিস ‘ই’ ভাইরাস। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই এই ভাইরাসগুলো মানবদেহের লিভারকে আক্রান্ত করে। তাছাড়াও ডেঙ্গু ভাইরাস, ইয়েলো ফিবার ভাইরাস কখনো কখনো লিভারকে আক্রান্ত করতে পারে। ভাইরাস ছাড়া অন্যান্য কারণেও লিভারের প্রদাহের সৃষ্টি হতে পারে। যেমন- ওষুধের বিষক্রিয়া, আয়রণ কপার মেটাল প্রক্রিয়াজাতকরণের সমস্যা, এইচ আই ভি ইনফেকশন, মদ্যপানের অভ্যাস এবং কারণ জানা নেই এমন রোগ যেমন, অটোইমিউন হেপাটাইটিস। ব্যাক্টেরিয়া জনিত পায়োজেনিক লিভার এবসেস, হেপাটিক এমেবিয়াসিস,  হাইডাটিড ডিজিজ অব লিভার, একটিনোমাইকোসিস, টিউবারকালোসিস, সিফিলিস, লেপটোস্পাইরোসিস, রিকেটসিয়াল ইনফেকশন, সিস্টোসোমিয়াসিস, ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর, লিভার ফ্লুক্স ইত্যাদি দ্ব্বারাও লিভার আক্রান্ত
হতে পারে।
তবে আমাদের দেশে ভাইরাল হেপাটাইটিস, এমেবিক লিভার এবসেস ও হাইডাটিড ডিজিজ লিভারের রোগের অন্যতম কারণ। এ আলোচনায় ভাইরাল হেপাটাইটিস সম্পর্কে কিছু তথ্য পেশ করব।
আমরা জানি লিভার শরীরের জন্য একটি অতি প্রয়োজনীয় অঙ্গ। হেপাটাইটিস ভাইরাসের কারণে লিভারে প্রদাহ হলে আমরা তাকে হেপাটাইটিস রোগ বলি। হেপাটাইটিস রোগ স্বল্পমেয়াদী (Acute) বা দীর্ঘমেয়াদী (Chronic) দু’ ভাবেই হতে পারে।
হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ ভাইরাস স্বল্পমেয়াদী হেপাটাইটিস রোগের অন্যতম কারণ। হেপাটাইটিস ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’  ভাইরাস স্বল্পমেয়াদী  ও দীর্ঘমেয়াদী উভয় প্রকার হেপাটাইটিস রোগ সৃষ্টি করতে পারে। হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ ভাইরাস দুষিত পানীয় ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। হেপাটাইটিস ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’ ভাইরাস দূষিত রক্ত, সিরিঞ্জ, যৌন মিলন ইত্যাদির মাধ্যমে ছড়ায়। আমাদের দেশে হেপাটাইটিস ‘ই’ ও ‘এ’ ভাইরাসের কারণে স্বল্পমেয়াদী হেপাটাইটিসের প্রাদুর্ভাব বিশেষভাবে লক্ষ্য  করা যায় । আমাদের দেশের কর্মজীবী ও সাধারণ জনগন বাইরের প্রস্তুত করা খাবার গ্রহণে অভ্যস্থ বিধায় ‘ই’ ও ‘এ’ ভাইরাসটি সহজে সংক্রমিত হয়।
দীর্ঘমেয়াদী হেপাটাইটিস সৃষ্টিকারী ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশী। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বের প্রতি ১২ জনে ১ জন হেপাটাইটিস ‘বি’ বা ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত আছে। সে হিসেবে বিশ্বের প্রায় ৫২ কোটি লোক এই দুইটি ভাইরাসে আক্রান্ত। দীর্ঘমেয়াদী হেপাটাইটিস রোগের জটিলতা, যেমন- ক্রনিক হেপাটাইটিস, লিভার সিরোসিস, লিভার ফেইলিউর, লিভার ক্যান্সার দ্ব্বারা আক্রান্ত হয়ে রোগী মৃত্যু মুখে পতিত হয়। স্বল্প মেয়াদী হেপাটাইটিস আক্রান্ত রোগী সঠিক চিকিত্সার মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আরোগ্যলাভ করে কিন্তু কখনো কখনো লিভার ফেইলিওর হয়ে মারা যেতে পারে।
এই পর্যায়ে দীর্ঘ মেয়াদী হেপাটাইটিস সম্পর্কে আলোচনা করব। দীর্ঘ মেয়াদী হেপাটাইটিস এর অন্যতম কারণ হচ্ছে হেপাটাইটিস বি এবং সি ভাইরাস।
হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাস
বি ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের উপর ভিত্তি করে বিশ্বকে উচ্চ, মধ্যম ও নিম্ন আকান্ত এলাকা হিসেবে ভাগ করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ মধ্যম আক্রান্ত এলাকা। বাংলাদেশের শতকরা ৪.৪ ভাগ মানুষ এই ভাইরাস বহন করছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিদেশগামী দক্ষ/অদক্ষ শ্রমিকদের মধ্যে শতকরা ৪.৪ থেকে ৭.৫ ভাগ, গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে ৩.৫ ভাগ, বস্তিবাসী লোকদের মধ্যে ৩.৮ ভাগ, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৪.৮ ভাগ, স্কুলগামী শিশুদের মধ্যে ২.৩ ভাগ, স্বেচ্ছা রক্তদানকারীদের মধ্যে ২.৪ ভাগ লোক,  হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসে আক্রান্ত।
স্বল্পমেয়াদী হেপাটাইটিস রোগীদের শতকরা ১৯.০-৩৫.০ ভাগ, দীর্ঘ মেয়াদী লিভার রোগীদের শতকরা ৩৩.৩ - ৪০.৫ ভাগ এবং লিভার ক্যান্সার রোগীদের ক্ষেত্রে গড়ে শতকরা ৪৫.৮ ভাগ  হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে।
আমাদের দেশে হেপাটাইটিস ‘বি’ আক্রান্ত পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে শতকরা ২০.৯ ভাগ, পেশাদার রক্ত দাতাদের মধ্যে শতকরা ১৮.২-২৯.০ ভাগ, শিরাপথে ড্রাগাসক্তদের মধ্যে শতকরা ৬.২-১২.০ ভাগ, অন্যান্য ড্রাগাসক্তদের মধ্যে শতকরা ৪.৪ ভাগ, ট্রাক ড্রাইভারদের মধ্যে ৫.৯ ভাগ এবং পতিতাদের মধ্যে ৯.৭ ভাগ হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত।
কিভাবে ছড়ায়
রক্ত এবং রক্তজাত পদার্থ মূলত এই ভাইরাসের বাহক। রক্ত রস, লালা এবং বীর্যের  মাধ্যমে এই ভাইরাস এক দেহ থেকে অন্য দেহে সংক্রমিত হয়। আকুপাংচার, মুসলমানী, নাক, কান ফুঁড়ানো, সিরিঞ্জ, সূঁচ,  নাপিতের ক্ষুর ইত্যাদি ভাগাভাগি করে ব্যবহার করার মাধ্যমে হেপাটাইটিস ‘বি’ ছড়ায়। হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাস, এইডস এর ভাইরাস (এইচআইভি) এবং হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসের মতই যৌন মিলনের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। পুরুষ সমকামী এবং পতিতাদের মাধ্যমে সমাজে দ্রুত এই ভাইরাস বিস্তারলাভ করে।
এই রোগের প্রকৃতি নির্ভর করে কোন বয়সে একজন ব্যক্তি হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হলো তার উপর। গর্ভাবস্থায় মা হেপাটাইটিস ‘বি’ এর বাহক হলে পরবর্তীতে জন্মগ্রহণকারী শিশুর মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে এ ভাইরাস বিস্তার লাভ করে। অন্যদিকে বয়স্ক লোকের বেলায় এই হার মাত্র শতকরা ৫-১০ ভাগ।
হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস
বিশ্বে মোট ১৭০ মিলিয়ন লোক হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত। এশিয়া মহাদেশে আক্রান্তের হার শতকরা ০.৩ ভাগ থেকে ৪.০ ভাগ পর্যন্ত। সাধারণত রক্ত পরিসঞ্চালন, অঙ্গপ্রতিস্থাপন, ইঞ্জেকশন এবং আক্রান্ত মা থেকে শিশু ও যৌন মিলনের মাধ্যমে হেপাটাইটিস সি ভাইরাস বিস্তার লাভ করে।
বাংলাদেশের পেশাদার রক্ত দাতাদের মধ্যে শতকরা ১.২ ভাগ এই ভাইরাস বহন করে। পরিসংখ্যাণে দেখা গেছে, ১ টি বিশেষায়িত হাসপাতালে কর্মরত ১.৪৪% স্বাস্থ্যকর্মী হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত। বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে আক্রান্তের হার শতকরা ০.৫  জন।
অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে দীর্ঘ মেয়াদী লিভার রোগীদের শতকরা ৯.৬ ভাগ, রক্ত গ্রহণের পর জন্ডিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬.৮ ভাগ এবং স্বল্প মেয়াদী জন্ডিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ১.৭ ভাগ রোগী হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসে আক্রান্ত।
হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোন টীকা বা প্রতিষেধক এখনও আবিস্কার হয় নাই। সুতরাং, প্রতিরোধই এ রোগ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়।
ভাইরাল হেপাটাইটিস
নিয়ন্ত্রণে করণীয়
ভাইরাল হেপাটাইটিস নিয়ন্ত্রণে সর্বাপেক্ষা জরুরী হল এ রোগ সমূহের বিস্তার ও চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা। এছাড়া প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা, হেপাটাইটিস ‘বি’ এর টিকা গ্রহণ, বিশুদ্ধ রক্ত পরিসঞ্চালণ নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ পানীয় ও খাবার গ্রহণ এবং ডিসপোজেবল নিডল্ (সুঁই) ও সিরিঞ্জ ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভাইরাল হেপাটাইটিস এর প্রাদুর্ভাব কমিয়ে আনা সম্ভব।

রক্তের ভাসমান চর্বি থেকে হার্টের সমস্যা

 রক্তের ভাসমান চর্বি থেকে হার্টের সমস্যা 

রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ে কথা হলেই সবাই প্রথমে মাথায় আনেন ভালো কোলেস্টেরল এইচডিএল অথবা খারাপ কোলেস্টেরল এলডিএল। তবে যুক্তরাষ্টের হিউস্টনের বেলর কলেজ অব মেডিসিনের অধ্যাপক ড: পিটার এইচ জোনস এমডি এর অভিমত: হার্ট ভালো রাখতে হলে রক্তের ট্রাইগিসারাইড অবশ্যই ১৫০ অথবা এর নীচে রাখা দরকার। অনেক ক্ষেত্রে রক্তের এই ভাসমান চর্বি হার্টের রক্তনালীতে জমা হয়ে হার্টের সমস্যা করতে পারে। এমনকি অনেক বিশেষজ্ঞও মনে করেন ভালো কোলেস্টেরল এইচডিএল ঠিক থাকা এবং খারাপ কোলেস্টেরল এলডিএল কম থাকলেই চলে। হার্ট ডিজিজ ও ডায়াবেটিস এর ক্ষেত্রে রক্তে ভাসমান চর্বি হিসাবে পরিচিত ট্রাইগিসারাইড বেশী ঝুঁকির্পূণ। তাই রক্তের
ট্রাইগিসারাইড ১৫০ মাত্রার নীচে নামিয়ে রাখতে হবে। কোন প্রকার ওষুধ ছাড়াই রক্তের এই ক্ষতিকর ট্রাইগিসারাইড ৩০ থেকে ৫০ শতাংশে হ্রাস করতে পারেন। আর এটা সম্ভব যদি আপনি আপনার খাবারের তালিকা থেকে স্যাসুরেটেড ফ্যাট বা সম্পৃক্ত চর্বি যেমন: গরুর মাংস, লালমাংস, মাখন, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল, কালো চকলেট, ডিম, চিপস ইত্যাদি বাদ দেন অথবা এ ধরণের চর্বি খাওয়ার পরিমাণ একেবারেই কমিয়ে দেন। পাশাপাশি শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে পারেন। এতে আপনার হ্নদরোগ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি ২০ থেকে ৩০ ভাগ কমেযাবে।  এছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুষম খাদ্য তালিকা অনুসরণ করলেও রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।