Pages

Friday, November 23, 2012

বিদায় কোডাক

বিদায় কোডাক

বিজ্ঞানের আবিষ্কারের মধ্যে একটি চমকপ্রদ আবিষ্কার হলো কোডাক ফিল্ম। সম্প্রতি শোনা যাচ্ছে এই বিখ্যাত কোডাকের অস্তিত্ব বিলিনের পথে। কোডাক নামটি শুনলেই কানে বাজবে ‘হ্যাভ এ কোডাক মোমেন্ট’ কথাটি। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী কোডাক কোম্পানি নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছে। কোডাক ফিল্ম আর ক্যামেরার সঙ্গে পরিচিত নন এমন মানুষ কিন্তু কমই পাওয়া যাবে। ডিজিটাল ক্যামেরা আসার আগে কোডাক এবং ফুজি ফিল্ম দখল করে রেখেছিল ফটোগ্রাফির যুগকে। পেশাগত হোক আর শৌখিন হোক, প্রতিটি ফটোগ্রাফার কোডাক ফিল্মের সঙ্গে পরিচিত। হ্যান্ড ক্যামেরার যুগে ফিল্ম কিনতে হতো। সেটা হতো হয় ফুজি নয়তো কোডাক। সেই কোডাক কোম্পানি নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছে। বিদায়ের ঘণ্টাধ্বনি বেজেছে কোডাকের। বিংশ শতাব্দীতে কোডাক ফিল্ম ছাড়া ক্যামেরার কথা ভাবাই যেত না। প্রজন্মের পর প্রজন্ম কোডাক ফিল্ম ব্যবহার করেছেন। সারা বিশ্বে কোডাক নামটি পেয়েছে পরিচিতি, কুড়িয়েছে সুখ্যাতি। নিউ ইয়র্কের বি অ্যান্ড এইচ ফটো কোম্পানির যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক হেনরি পসনার আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, ‘কোডাক ফিল্মকে আমরা ভীষণভাবে মিস করব। কোডাক ফিল্ম থাকবে না, এর প্রভাব পড়বে প্রতিটি ফটোগ্রাফারের জীবনে, পেশায়। আপনি প্রফেশনাল বা অ্যামেচার যাই হন না কেন কোডাক ফিল্মের অনুপস্থিতি আপনি অনুভব করবেনই।’ কথাটা সত্যি। ১৮৮০ সালে জর্জ ইস্টম্যান একটি স্পুলের চারপাশে একটি ফিল্ম জড়িয়ে প্রথম পরীক্ষা চালান। ১৮৯২ সালে নিউ ইয়র্কের রচেস্টারের বাজারে তিনি নিয়ে আসেন ইস্টম্যান কোডাক ফিল্ম। এই ফিল্ম বিক্রির জন্য কোম্পানি খুব কম মূল্যে বাজারে ছাড়ে বিশেষ ধরনের ক্যামেরা। নাম কোডাক ব্রাউনি। সাধারণ মানুষের জীবনে শুরু হয় ক্লিক ক্লিক, প্রতিটি আনন্দঘন মুহূর্তকে একটি ক্লিকের মাধ্যমে ধরে ফেলতে থাকে কোডাক ফিল্ম এবং কোডাক ক্যামেরা। কোডাকের বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের মধ্যে অন্যতম হলো, ‘আপনি শুধু শাটার টিপুন, বাকি কাজ আমাদের!’ বিজ্ঞাপনের এই বার্তা লুফে নিয়েছিল গোটা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স


বিজ্ঞানের অবদান আমাদের চারপাশের জগতজুড়েই রয়েছে। সেই সবকিছু আমাদের সামনে তুলে ধরা হয় সায়েন্স ফিকশন হিসেবে। আবার অনেক সময় সেই জগত্ থেকে চিন্তা নিয়ে বাস্তবে আনা হয় সেগুলোকে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। সম্প্রতি বিশেষজ্ঞরা ধারণা পোষণ করেছেন যে, চলতি বছর হবে বিজ্ঞানের এই ধারা, ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’-এর আমূল উন্নতির। এই নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন—

১৯৮৪ সালে মার্কিন চিত্রপরিচালক জেমস ক্যামেরনের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিনির্ভর ছবি ‘টার্মিনেটর’ মুক্তি পেয়েছিল। আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার অভিনীত অসম্ভব জনপ্রিয় সেই ছবিতে ক্যামেরন এমন একটি বিশেষ দৃশ্যকল্পের গল্প তুলে এনেছিলেন যেখানে দেখানো হয়েছিল, ২০১১ সাল হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জয়ের শুরু। সেখানে ২০১১ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বদৌলতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে দেখা গেছে চরিত্রটিকে। বুদ্ধিমান কৃত্রিম প্রাণীরা পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কব্জায় নেওয়ার জন্য পরিকল্পনা করে মানবজাতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার। এমনই এক প্রযুক্তিবিশ্বকে ক্যামেরন তার মুভিতে দেখিয়েছিলেন। কিন্তু ক্যামেরনের সে আশঙ্কা ফলেনি। মানবজাতির ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সেই আশঙ্কাকে দূরে ঠেলে ভালোয় ভালোয় আমরা পার করে এসেছি ২০১১ সাল। গত বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈপ্লবিক উত্থান না ঘটলেও অ্যাপল-এর নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে মানুষের সাফল্য এসেছে। এখন দেখার বিষয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে ২০১২ সালটি আমাদের জন্য কী নিয়ে অপেক্ষা করছে। ৪ অক্টোবর টেক জায়ান্ট অ্যাপল আইফোন ৪এস বাজারে আনে। এই স্মার্টফোনটির সঙ্গে নিয়ে আসে কৃত্রিম বৃদ্ধিমান ভার্চুয়াল সঙ্গী ‘সিরি’। অ্যাপল-এর ‘সিরি’ নামের এই প্রযুক্তি যদিও এখনো যথেষ্ট বুদ্ধিমান হতে পারেনি, তবে সম্ভাবনার এক অপার দুয়ার খুলে দিয়েছে বলেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মনোযোগ দিয়ে কোনোকিছু শেখার কাজটি সিরি বেশ ভালোই পারে। তবে, মানবজাতি ধ্বংস করে দেওয়ার মতো কূটবুদ্ধি আপাতত সিরির ভেতরে নেই। সিরির দেখাদেখি, টেক জায়ান্ট গুগলও ঘোষণা দিয়েছে ‘আলফ্রেড’ নামের ভার্চুয়াল সঙ্গী আনার। দেখার বিষয় ২০১২ সালে কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তার দুনিয়ায় কতদূর এগোতে পারে ভার্চুয়াল সঙ্গীরা। সম্প্রতি, সিরির একটা কাজ সবার মনোযোগ কেড়েছে। খবরে প্রকাশ, সিরিকে অহেতুক বিরক্ত করায়, ১৬ বছরের এক ব্যবহারকারীকে গালাগাল দিয়েছে সে। সিরি মেজাজ খারাপও করে ফেলছে, তার অর্থ, সিরির মধ্যে রাগ-এর সঞ্চার ঘটেছে। এগুলো মানবীয় আবেগ। এই আবেগগুলো এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় যোগ হচ্ছে। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পেয়েছিল ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা ‘এআই’ মুভিটি। এই বিজ্ঞান কল্পকাহিনিমূলক চলচ্চিত্রের পরিচালক ছিলেন স্টিভেন স্পিলবার্গ। এ ছবিতে দেখানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নতি এখনো সম্ভব না হলেও তার শুরুটা কেবল হতে পারে এ বছর। এদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন কম্পিউটার উদ্ভাবনের দাবি করে বসেছেন গবেষকরা। তবে, এ বছর এই কম্পিউটারকে পরীক্ষা দিয়ে উের যেতে হবে টিউরিং টেস্ট। এ পরীক্ষার সফল হলেই সম্ভবত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করবে প্রযুক্তিবিশ্ব। উল্লেখ্য, অ্যালান টিউরিং প্রবর্তিত টিউরিং টেস্টের মাধ্যমে মানবিক বুদ্ধিমত্তা এবং কম্পিউটারের বুদ্ধিমত্তার পার্থক্য করা যায়। মানুষ-এর বুদ্ধিমত্তা আর কম্পিউটারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যে পার্থক্য করতেই টিউরিং টেস্ট করা হয়। টিউরিং টেস্ট চালু হওয়ার পরেই এ টেস্ট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। যে, প্রশ্নটি বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে আর তা হচ্ছে মানুষের মতো বুদ্ধিমান কম্পিউটার কী আদৌ তৈরি করা সম্ভব। আর যদি তা হয়ও, তবে কম্পিউটারের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াবে। এ প্রশ্নটির উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন গবেষকরা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ সম্ভব কি না এ বছরের টিউরিং টেস্টেই হয়তো তার প্রমাণ হয়ে যাবে। কিন্তু কম্পিউটারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এখন কোন পর্যায়ে তার আপাতত একটা উত্তর গবেষকরা দিতে প্রস্তুত। কম্পিউটিং প্রযুক্তটি তৈরি হয়েছিল মানুষেরই স্বার্থে, মনুষের কাজের সুবিধা করতে। তবে এখন কেবল কাজের সুবিধার মধ্যেই কম্পিউটারের ব্যবহার সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমান প্রজন্ম এমন কম্পিউটার চান, যা কাজের পাশাপাশি, তার সঙ্গ দেবে। সমস্যার বিশ্লেষণ করে সমাধান দেবে এবং সার্বক্ষণিক বন্ধুর মতো দেখভাল করবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মানুষের সঙ্গে কম্পিউটারের যে যোগসূত্র তৈরি হয়েছে তাতে মানুষের কম্পিউটার নির্ভরশীলতা বেড়ে গেছে। মানুষ চায় তড়িত্ সমাধান আর কম্পিউটারের স্বাভাবিক জ্ঞান, যা মানুষের মতোই সহজে বুঝতে পারবে এবং শেয়ার করতে পারবে। আর এমন চাহিদা থেকেই রোবটসহ কিছু যন্ত্র তৈরির প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছেন উদ্ভাবকরা। কম্পিউটার প্রযুক্তি এখনো মানুষের ওপর নির্ভরশীল। এখনো কম্পিউটারের যেকোনো কমান্ড কোনো কাজ করার আগে বারবার আমাদেরকে জিজ্ঞেস করে নেয়, ‘আর ইউ শিওর ইউ ওয়ান্ট টু ডু দিস’ তবে, আশার কথা ইনটেল, আইবিএম-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেই নিজের সমস্যার সমাধান করতে পারে এমন চিপ তৈরির কাজ শুরু করেছে। এরপর হয়তো প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় ফাইল বা কমান্ডের কাজ কম্পিউটার নিজে থেকেও করতে সক্ষম হবে। কম্পিউটারে বড় সমস্যা হচ্ছে তথ্য চুরি হওয়া। ইতিমধ্যে টেক জায়ান্টরা পাসওয়ার্ড ব্যবস্থায় বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন অ্যাপ্লিকেশন বা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে বলেও জানা গেছে। কম্পিটারের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, এখনো নিজের সুরক্ষা নিজেকে দিতে পারে না। এই ব্যাপারেও এটি আমাদের ওপরই এখনো নির্ভরশীল। তাই বারবার পাসওয়ার্ডের শেকল পরিয়ে আমাদেরই সেই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা রক্ষা করতে হয়। শুধু কী পাসওয়ার্ড। কানেকশন পাওয়ার, কন্টেন্ট, কমিউনিকেশন—সবকিছুর জন্যই কম্পিউটার আমাদের ওপরই নির্ভরশীল। কিন্তু এ বিষয়গুলো নিয়েও কাজ চলছে। হয়তো একদিন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির মতোই বাস্তবে চলে আসবে বুদ্ধিমান কম্পিউটার।

বা থ রু মে ফে সবু ক


এবারে বাথরুমের পর্দায় ব্যবহার করা যাবে ফেসবুক। বাথরুমের পর্দার ডিজাইন যদি সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুকের মতো হয় তবে ডিজিটাল জীবনে আরেকটু বৈচিত্র্য আসে। সম্প্রতি লন্ডনভিত্তিক গিফট ডিজাইন কোম্পানি স্পিনিং হাট বাথরুমের জন্য এক ধরনের পর্দা তৈরি করেছে, যাতে ফেসবুকের পুরোনো ডিজাইনকে পর্দার আদল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। স্পিনিং হাট-এর তৈরি করা এ পর্দার নাম ‘সোশাল শাওয়ার কারটেইন’। এ পর্দা সাধারণ পর্দার মতো হলেও পুরো অংশে ফেসবুকের পুরোনো সংস্করণের থিমটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আর প্রোফাইল ছবির স্থানটি স্বচ্ছ করে রাখা হয়েছে। বাথরুমের ফেসবুক পর্দার দাম ২৩ ডলার।

লাদেনের লাশ যেভাবে সমাহিত হলো

লাদেনের লাশ যেভাবে সমাহিত হলো


পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে গত বছর মার্কিন অভিযানে নিহত আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনের লাশ কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে সাগরে সমাহিত করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকতা সারা হয়েছে ইসলামি রীতি অনুসরণ করে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রকাশ করা ই-মেইল বার্তা থেকে এই প্রথম লাদেনের লাশ দাফনের ব্যাপারটি জানা গেছে বলে রয়টার্সের খবরে জানানো হয়।
২০১১ সালের ১ মে মার্কিন বিশেষ বাহিনী নেভি সিলের অভিযানে নিহত হন লাদেন। তাঁর লাশ তখন তারা নিয়ে যায়। এর পর থেকে লাদেনের লাশ সমাহিত করার বিষয়টি সবার কাছে অজানা ছিল।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, গত বুধবার তথ্য জানার স্বাধীনতাবিষয়ক আইনের বলে বার্তা সংস্থা এপি এসব ই-মেইল বার্তা হস্তগত করে। এর মধ্যে ‘অতিগোপনীয়’ সিলমোহর মারা একটি ই-মেইল বার্তা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। এতে নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা লাদেনের লাশ সমাহিত করার ঘটনা বর্ণনা করেন। লাশ কীভাবে গোসল করিয়ে ও সাদা কাফনে মুড়িয়ে ভারী একটি ব্যাগে ভরা হয়, ওই বার্তায় এর বর্ণনা দিয়েছেন তিনি।
আর এক বার্তায় মার্কিন জাহাজ ইউএসএস কার্ল ভিনসনের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, জাহাজের শীর্ষপর্যায়ের কজন কর্মকর্তা কেবল লাদেনের লাশ সমাহিত হওয়ার বিষয়টি জানেন। ২ মে রিয়ার অ্যাডমিরাল চার্লস গাউয়েটের বার্তায় বলা হয়, লাদেনের লাশ সমাহিত করার বেলায় ইসলামি রীতি অনুসরণ করা হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়, লাদেনের লাশ গোসল করানোর পর কাফনে জড়িয়ে একটি ব্যাগে ভরা হয়। একজন সেনা কর্মকর্তা দোয়া পাঠ করেন। পরে লাশটি একটি ভারী ব্যাগে ভরে কাঠের তক্তার সঙ্গে বেঁধে সাগরে নামিয়ে দেওয়া হয়।

ওরা গুণ্ডা আঙ্কেল পিস্তলের ভয় দেখিয়েছিল

ওরা গুণ্ডা আঙ্কেল পিস্তলের ভয় দেখিয়েছিল


ওরা গুণ্ডা আঙ্কেল। পিস্তল দেখিয়ে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিল। ওদের মোটরসাইকেলে না গেলে মেরে ফেলবে বলেছিল। তখন ভয় পেয়ে আব্বুকে ডাক দেই, সঙ্গে সঙ্গে পিস্তল দিয়ে মাথায় আঘাত করে।’ গতকাল দুপুরে ৬ বছরের ক্ষুদে শিক্ষার্থী পরাগ মণ্ডল এভাবেই তার অপহরণ ঘটনার বর্ণনা করেছে। এদিকে পরাগ অপহরণের নাটের গুরু স্থানীয় যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম ওরফে জুয়েল মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা দল। গতকাল দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা পূর্ব পাড়ার নিজ বাড়ির সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে রাজধানীর মিন্টো রোডস্থ ডিবি পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরাগ বলে, আমাকে মোটরসাইকেলে তুলে নেয়ার পর শুধু ব্যথা পেয়েছি। এরপর কিছু মনে নেই। কখনও কখনও মনে হয়েছে আমি একটি খাটের ওপর শুয়ে আছি। মাঝে-মধ্যে কারা যেন জুস খাইয়েছে। তাদের চোখে দেখিনি। ঘুম ভেঙে গেলে নড়াচড়া করতে পারিনি। হাত ও পা নড়াচড়া করতে পারিনি। কষ্ট পেলেও কাউকে ডাকতে পারিনি। আব্বু ও আম্মুকে ডাকলেও শুনতে পায়নি। আঠার মতো কিছু দিয়ে মুখ বন্ধ করেছিল। পরাগের দাদি সাবিত্রী মণ্ডল বলেন, আমার নাতি বয়সে ছোট হলেও সাহসী। গুণ্ডারা ইনজেকশন পুশ না করলে নিতে পারতো না। ও কিলঘুষি দিয়েই মোটরসাইকেল চালককে ফেলে দিতে পারতো। কিন্তু ওরা মোটরসাইকেলে চড়িয়েই পিস্তল দিয়ে কপালে জোরে আঘাত করে। পুশ করে চেতনানাশক ইনজেকশন। পরে অপহরণস্থল থেকে একটি খালি সিরিঞ্জ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তা পুলিশের কাছে দেয়া হয়। তিনি বলেন, ওই ইনজেকশন দেয়ার কিছুক্ষণ পরেই আমার নাতি অচেতন হয়ে পড়ে। তিনি যখন কথা বলছিলেন তখন পরাগ কেরানীগঞ্জের নিজ বাড়ির আঙিনায় সমবয়সী বন্ধুদের সঙ্গে ছোটাছুটি করছিল। দূর-দূরান্ত থেকে আসা নিকটজনরা নিবিড়ভাবে দেখছিল তার দুরন্তপনা। বারান্দায় দাঁড়িয়ে পরম মমতা জড়ানো নিষ্পলক দৃষ্টিপানে অবুঝ ছেলের দুষ্টুমি উপভোগ করছিলেন মাতা লিপি রানী মণ্ডল। গুলিবিদ্ধ বোন পিনাকী মণ্ডল ব্যান্ডেজ জড়ানো পা নিয়ে ভাইয়ের পিছু পিছু হাঁটছিল। দিদিমা সাবিত্রী মণ্ডল বাড়ির উঠোনে জটলা পাকানো বিভিন্ন বয়সী মহিলাদের নানা ধরনের মানতের কথা শুনছিলেন। কেউ বলছিলেন, পরাগকে উদ্ধারের জন্য মায়ের কাছে মানত করে কথা দিয়েছিলাম। উদ্ধার হলে ‘যা চাইবি মা তাই দেবো’। আরেক বৃদ্ধা বলছিলেন, তোর নাতির জন্য ঠাকুরঘরে রাত কাটিয়েছি। উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত মাথা ঠুকেছি। এসব কথা শুনে পরাগের দাদি সাবিত্রী মণ্ডল বলেন, দুনিয়ার সব মানুষই আমার নাতির জন্য দোয়া করেছেন। অশ্রু বিসর্জন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও পুলিশ থেকে শুরু করে সবাই মিলে আমার নাতিকে উদ্ধার করেছেন। গত ১১ই নভেম্বর স্কুলে যাওয়ার পথে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পশ্চিম শুভাঢ্যা এলাকায় প্রথম শ্রেণীর ছাত্র পরাগকে তুলে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এ সময় তার মা লিপি রানী মণ্ডল (৩৫), বোন পিনাকী মণ্ডল ও গাড়িচালক নজরুল ইসলামকে গুলি করে তারা। ওই রাতেই পরাগের দাদি সাবিত্রী মণ্ডল বাদী হয়ে অপহরণ মামলা করেন। অপহরণের তিনদিন পর আঁটি বাজারে নয়াবাজার এলাকার রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার হয় প্রায় অচেতন পরাগ। চিকিৎসা শেষে বুধবার তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরাগকে উদ্ধারের পরদিন এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মামুন নামে একজনকে মুন্সীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আর র‌্যাব একই দিনে জাহিদুল হাসান, মোহাম্মদ আলী ওরফে রিফাত, কালা চান, আলফাজ, রিজভী আহমেদ অনিক ও আবুল কাশেম নামে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জাহিদুল, কালা চান ও আলী ওরফে রিফাত অপহরণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন। তাদের তিনজনের বক্তব্যেই অপহরণের পরিকল্পনার ‘মূল হোতা’ হিসাবে আমিরের নাম এসেছে। গত ২১শে নভেম্বর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ফেরি ঘাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তার মোটরসাইকেল চালক আলামিন ও সহযোগী শাহিনকে। তাদের দেয়া তথ্য মোতাবেক কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের সাবেক যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম ওরফে জুয়েল মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা দল। সূত্র জানায়, হাই কোর্টের একটি আদেশ জারির পরপরই পূর্ব শুভাঢ্যার নিজের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে জুয়েলকে আটক করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, হাইকোর্টের আদেশ মোতাবেক জুয়েল মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। গত ১১ই নভেম্বর ব্যবসায়ী বিমল মণ্ডলের ছেলে অপহরণের পর এতে জুয়েলের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। তবে সংবাদ সম্মেলন করে ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন শুভাঢ্যা ইউনিয়ন যুবলীগের এই সাবেক সভাপতি।
জাহাজের মতো মোটরসাইকেলে পরাগকে নিয়ে যায়: পরাগের ঠিক দুই বছরের বড় বোন পিয়ালী মণ্ডল বলে, গুণ্ডারা সিনেমার জাহাজের মতো মোটরসাইকেল দিয়ে আমার ভাইকে তুলে নিয়েছিল। পরাগ যেতে চায়নি। বারবার বলেছে, আমি আমাদের গাড়িতে স্কুলে যাবো। তোমাদের সঙ্গে যাবো না। এ সময় ওরা পিস্তল বের করে গুলি করতে থাকে। আমি ভয় পেয়ে দৌড়ে বাড়িতে চলে আসি। পিয়ালীর দাদি সাবিত্রী মণ্ডল বলেন, পরাগ দৌড়ে বাড়ি পর্যন্ত আসতে পারেনি। তার আগেই অচেতন হয়ে রাস্তায় পড়ে গিয়েছিল। তবে তার সবকিছুই মনে আছে। কয়টি মোটরসাইকেল এসেছিল, দেখতে কেমন ছিল- সবই বলেছে আমাদের কাছে। এলাকাবাসী বলেন, অপহরণকারীরা পরাগকে তুলে নিয়ে স্থানীয় যুবলীগ নেতা জুয়েল মোল্লার বাড়ি সংলগ্ন ব্রিজের নিচের রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তা ছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ ওই সরু রাস্তা দিয়ে অপহরণকারীদের পক্ষে পালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করেন তারা। সূত্র জানায়, জমি-জমা নিয়ে বিরোধের সূত্র ধরেই শীর্ষ সন্ত্রাসী আমিরের সহায়তায় এই অপহরণ ঘটিয়েছে ওই যুবলীগ নেতা। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গতকাল পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরা হচ্ছে- স্থানীয় যুবলীগ নেতা জুয়েল মোল্লা, মামুন, আমিরের মোটরসাইকেল চালক আলামিন, শাহিন, আলফাজ, মোহাম্মদ আলী ওরফে রিফাত. কালাচাঁন, রিজভী আহমেদ অনিক, আমিরের ভগ্নিপতি আবুল কাশেম ও জাহিদুল হাসান। এখন পর্যন্ত আমিরের সন্ধান পায়নি পুলিশ ও গোয়েন্দারা। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, পলাতক আমিরের সঙ্গে আটক যুবলীগ নেতার ঘনিষ্ঠতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া আমিরের মোটরসাইকেল চালক আলামিন ও সহযোগী শাহিনের জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে এই অপহরণের নাটের গুরু হিসেবে তার নাম জানতে পারে তদন্ত কর্মকর্তা। এরপরই তাকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ। এখন আমির গ্রেপ্তার হলেই পরাগ অপহরণ রহস্য উদঘাটন হবে বলে জানান তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, অপহরণের আসল মোটিভ উদ্ধার করতেই জুয়েল মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা দল আটক করেছে। তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেলে গ্রেপ্তার করা হবে।

Thursday, November 22, 2012

মাত্র ৩ মিনিটের ব্যায়াম ক্যান্সার প্রতিরোধ করে

মাত্র ৩ মিনিটের ব্যায়াম ক্যান্সার প্রতিরোধ করে


মাত্র ৩ মিনিটের ব্যায়াম ক্যান্সার প্রতিরোধে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। কারণ, মানুষের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে দিতে পারে সামান্য একটু শরীরচর্চা। গবেষকরা বলছেন, নিজেকে সুস্থ ও ফিট রাখতে ব্যায়ামের কোন বিকল্প নেই। যারা একবার ক্যান্সারে ভুগেছেন ও সেরে উঠেছেন, তাদের জন্যও একই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। দ্বিতীয়বার ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে না চাইলে, ব্যায়াম করতেই হবে। এটা বাধ্যতামূলক। নেব্রাস্কা ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বলছেন, প্রথমবার যাদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সমূহ ঝুঁকি রয়েছে, তারাও ক্যান্সার থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে, কেমোথেরাপি নিয়ে ক্যান্সার থেকে সেরে ওঠার পর যারা সপ্তাহে ৩ বার করে ১২ সপ্তাহ শরীরচর্চা করেছেন, তাদের শরীরের পুরো রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থাটাই পরিবর্তিত হয়ে গেছে। আগের চেয়ে আরও কার্যকর ও সক্রিয় হয়েছে রোগ-প্রতিরোগ ব্যবস্থা।

মাইক্রোসফটের বায়োগ্যাস প্রকল্প

মাইক্রোসফটের বায়োগ্যাস প্রকল্প


ডেটা সেন্টারে প্রচলিত বিদ্যুত্ ব্যবহারের পরিবর্তে শক্তির উত্স হিসেবে নিজস্ব বায়োগ্যাস প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা করেছে মাইক্রোসফট। যুক্তরাষ্ট্রের ইয়াওমং শহরে ২০১৩ সালের মার্চ মাস থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বায়োগ্যাস ব্যবহার শুরু করবে প্রতিষ্ঠানটি। কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ হিসেবে মাইক্রোসফটের এ প্রকল্প সফল হলে পরবর্তীতে অন্যান্য ডেটা সেন্টারের ক্ষেত্রেও বায়োগ্যাস ব্যবহার করবে মাইক্রোসফট। এক খবরে ইন্দো এশিয়ান নিউজ সার্ভিস এ তথ্য জানিয়েছে।
মাইক্রোসফটের বায়োগ্যাস প্রকল্পের গবেষক সিন জেমস এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, বর্জ্য ব্যবহার করে বায়োগ্যাস থেকে চলবে এ ডেটা সেন্টার যা শূন্য কার্বন নিঃসরণকারী ডেটা সেন্টার হবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী ডেটা সেন্টারের চাহিদা বাড়ছে। ডেটা সেন্টার মূলত কম্পিউটার, টেলিকমিউনিকেশন ও তথ্য সংরক্ষণ কাজে ব্যবহূত একটি কেন্দ্র। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কম কার্বন নিঃসরণ করে এমন ডেটা সেন্টার তৈরিতে বিকল্প শক্তির উত্স সন্ধান করছেন।

দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ

দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ


তুচ্ছ ঘটনায় কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আজ বুধবার কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। এতে এক সাংবাদিক ও ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টার দিকে অগ্রণী ব্যাংকের কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষার্থী টাকা জমা দিতে যান। তখন কবি নজরুল কলেজের কজন শিক্ষার্থী লাইন ভেঙে টাকা জমা দেওয়ার চেষ্টা করলে জগন্নাথের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁদের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক হয়ে কবি নজরুর কলেজের মূল ফটক ভাঙচুর করেন এবং কলেজের শিক্ষকদের ব্যক্তিগত পাঁচটি গাড়ি ও দুটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় উভয় পক্ষে দফায় দফায় সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হন। ছবি তুলতে গিয়ে আহত হন ‘সকালের খবর’ পত্রিকার আলোকচিত্রী খোরশেদ আলম।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অশোক কুমার সাহা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

অনন্য আবুল হাসান

 অনন্য আবুল হাসান



অভিষেক টেস্টে ১০ নম্বরে ব্যাট করে সেঞ্চুরি। সর্বশেষ এই কীর্তিটা গড়েছিলেন অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান রেগি ডাফ, ১৯০২ সালে। দীর্ঘ ১১০ বছর পর খুলনায় আজ বুধবার একই কীর্তির পুনরাবৃত্তি করলেন বাংলাদেশি ক্রিকেটার আবুল হাসান।
অভিষেকে ১০ নম্বরে ব্যাট করা সেঞ্চুরিয়ানদের তালিকায় আবুল হাসান দ্বিতীয়। টেস্ট ক্রিকেটের ১৩৫ বছরের ইতিহাসে ১০ নম্বরে সেঞ্চুরি করা চতুর্থ ব্যাটসম্যান তিনি। এবার এই ১০ নম্বর স্থানের আলোচনাটা বাদ দেওয়া যাক। অভিষেক টেস্টে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এর আগে সেঞ্চুরি পেয়েছেন কেবল দুজন—আমিনুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আশরাফুল। এ দিক থেকে অভিষেকে সেঞ্চুরি পাওয়া বাংলাদেশের তৃতীয় ক্রিকেটার হলেন আবুল হাসান।
খুলনা টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে আবুল ব্যক্তিগত ১০০ রানে অপরাজিত আছেন। কাল আরও বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবেন, এটা প্রত্যাশিত। অবশ্য শুধু সেঞ্চুরি দিয়ে তাঁর অবদান মূল্যায়ন করতে গেলে ভুল হবে। দুঃসাহসী এক ইনিংস খেলে তিনিই তো খুলনায় বাংলাদেশের নায়ক।
বাংলাদেশের ইনিংসটা এবার দেখুন। দলীয় ৫ রানে প্রথম উইকেটের পতন। একপর্যায়ে ১৯৩ রানে অষ্টম উইকেট হারিয়ে বসে মুশফিকুর রহিমের দল। আক্ষরিক অর্থেই খেলা থেকে ছিটকে পড়ার অবস্থায় ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছেন ২০ বছর বয়সী আবুল হাসান।
১০৮ বলে ১০০ রান। অবিস্মরণীয় এই ইনিংসে রয়েছে ১৩টি চার ও তিনটি ছয়ের মার। প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তো বটেই, গোটা ক্রিকেট-বিশ্বই আজ চমকে গেছে এই তরুণের ব্যাটিংয়ে।
আবুলকে যথার্থ সঙ্গ দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। দিন শেষে তিনি অপরাজিত আছেন ব্যক্তিগত ৭২ রানে। আবুল-মাহমুদউল্লাহর অবিচ্ছিন্ন ১৭২ রানের জুটিতে দুর্দান্তভাবে খেলায় ফিরেছে বাংলাদেশ। ৮ উইকেটে ১৯৩ রান থেকে দিনশেষে বাংলাদেশ সেই ৮ উইকেটেই ৩৬৫। নিজেদের এক যুগ পুরোনো টেস্ট ইতিহাসে এমন ঘটনা আর কতবার ঘটাতে পেরেছে বাংলাদেশ?

শত বছরের সেরা রেকর্ড

শত বছরের সেরা রেকর্ড


ইতিহাসগড়া দিনে ইতিহাসই গড়লেন আবুল হাসান রাজু। মৌলভীবাজারের ছেলে এই বোলার পুরো জাতিকে মাতালেন ব্যাট হাতে। দলকে উদ্ধার করলেন চরম বিপর্যয়ের হাত থেকে। তার সাবলীল ব্যাটিংয়েই খুলনা তথা গোটা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মুখে হাসি ফুটেছে। না হয়, মাত্র তিন আগে শেষ হওয়া মিরপুর টেস্টে অর্জিত সব কৃতিত্বই ম্লান হয়ে যাচ্ছিল। তবে পড়ন্ত বেলায় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ আর আবুল হাসান দারুণভাবে বাংলাদেশকে খেলায় ফিরিয়ে আনেন।। খুলনায় অভিষেক টেস্টের প্রথম দিনটি এর চেয়ে স্মরণীয়ভাবে বোধহয় শেষ হতে পারতো না। নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে অনেক আশা আর আনন্দ নিয়ে মাঠ আর বাইরে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলেন হাজারো ক্রিকেটপ্রেমী নারী আর পুরুষ। কিন্তু রোদের তেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের আকাশ ভারি হয়ে উঠেছিল হতাশার কালো মেঘে। তবে দিনের আলো নিভে গেলেও স্টেডিয়ামে আলো কমতে দেননি আবুল হাসান রাজু। বাংলাদেশে যখন ‘আবুল’ নামটি রীতিমতো খলনায়কে পরিণত হচ্ছিল ঠিক তখন আবুল হাসান দেশের গর্ব হয়ে এলেন। গড়লেন শত বছরের রেকর্ড। পড়ন্ত বিকালে নবম উইকেটে ব্যাট করতে নেমে হাঁকালেন অসাধারণ এক সেঞ্চুরি। সঙ্গে সঙ্গে ছুঁয়ে ফেললেন ১১০ বছরের ইতিহাসও। ক্রিকেট ইতিহাসে টেস্ট অভিষেকে ১০ নাম্বারে ব্যাট করতে নেমে সেঞ্চুরি হাঁকানোর কৃতিত্ব তার আগে মাত্র একজনেরই ছিল। ১৯০২ সালে মেলবোর্নে আস্ট্রেলিয়ার র‌্যাগি ডাফ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টেই ১০৪ রান করেছিলেন। তবে তার সেটি ছিল দ্বিতীয় ইনিংসে। আর আবুল হাসান করেছেন ১০৮ বলে অপরাজিত ১০০ রান করেছেন প্রথম ইনিংসে। সেদিক থেকে আবুল হাসানকে অনন্যই বলতে হবে। আর চার রান হলে তিনি ১১০ বছরের রেকর্ড ভেঙে এই তালিকায় থাকবেন সবার উপরেই। বাংলাদেশের পক্ষে অভিষেক টেস্টে আমিনুল ইসলাম বুলবুল আর মোহাম্মদ আশরাফুলের পর হাসান তৃতীয় ব্যটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি হাঁকালেন। দিন শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৮ উইকেটে ৩৬৫ রান। ১৯৩ রানে অষ্টম উইকেট পতনের পর যোগ হয়েছে আরও ১৭২ রান। ৭২ রানের ইনিংস খেলে হাসানকে যোগ্য সাহচর্য দেন সহঅধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। টেস্ট ইতিহাসে নবম উইকেটে এটি চতুর্থ সেরা জুটি।
দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে আবুল হাসান বলেন, আমি আসলে সেঞ্চুরি বা রেকর্ডের জন্য খেলিনি। দলের জন্য সেই মুহূর্তে এমন একটা ইনিংস খেলা প্রয়োজন ছিল, তা-ই করেছি। অভিষেক ম্যাচে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরি করা আমিনুল ইসলাম বুলবুল এখন দেশের বাইরে। তবে দ্বিতীয় সেঞ্চুরিয়ান আশরাফুল টেস্ট দল থেকে বাদ পড়ায় ঘরে বসেই দেখেছেন আবুল হাসানের অসাধারণ এই ইনিংস। তিনি বলেন, আমি এক কথায় বলবো অসাধারণ ইনিংস। আমরা দু’জন অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করেছি ব্যাটসম্যান হিসেবে আর ও তো বোলার। সেই হিসেবে ওর সেঞ্চুরিটা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের। বলতে পারেন ওর জন্য এমন একটি ইনিংস আমাদের চেয়েও দ্বিগুণ খুশির। আর দলের জন্যও বিশেষ উপকারে এসেছে ওর সেঞ্চুরিটি। নয়তো বাংলাদেশের স্কোর বোর্ডে দিন শেষে এত রান জমা পড়তো না।’
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৯৮ রানেই ৫ উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের। এমন বিপর্যয় ভাবতেই পারেননি খুলনায় শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্ট ম্যাচ দেখতে আসা দর্শকরা। তবে তাদের হতাশা দূর করেছেন জাতীয় দলে সিলেটের নতুন সংযোজন আবুল হাসান রাজু। তাই খুলনার দর্শকরা তার নাম নিয়ে মিছিল করতে করতে স্টেডিয়াম ছাড়েন। তবে আবুল হাসানের কাছে তার ইনিংসটা হলো নিজের সাধারণ খেলার ফল। তিনি বলেন, আসলে বাজে বল যখন এসেছে তখন আমি মেরেছি।
টস জেতার আনন্দ ম্লান হতে সময় লাগেনি বেশি। দলীয় মাত্র ৫ রানে নাজিমুদ্দিনের আউট দিয়ে হতাশার দিন শুরু। মধ্যাহ্ন বিরতির আগে প্রথম সেশনে ৮৮ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এর পর দলীয় ৯৮ রানে ৫ম উইকেটের পতন। নাজিমের বিদায়ের পর তামিম ইকবাল ৩২, শাহরিয়ার নাফিসের ২৬ রানের কল্যাণে একটু ধাক্কা সামলে ওঠে দল। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ৫৯ রানের জুটি ভাঙ্গে শাহরিয়ার নাফিস আউট হলে। দলের স্কোর তখন ৬৪। দলীয় ৭৭ রানের সময় তামিম, ৯৩ রানে নাঈম ইসলাম (১৬) ও ৯৮ রানের সময় সাকিব আল হাসান ১৭ রানে আউট হলে দল চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। তবে সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও নাসির হোসেন। মুশফিক ৩৮ ও নাসির হোসেন তার তৃতীয় টেস্ট ফিফটি তুলে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন। দলীয় ১৮৫ রানের সময় ৬৮ বলে ৮টি চার ও ১ টি ছয়ের মারে ৫২ রান করা নাসির আউট হন। এরপর ১৯৩ রানে আবারো ব্যাটিং বিপর্যয় ঘটে। মুশফিকের আউটের পর সোহাগ গাজীও ফিরে যান ০ রানে। ৮ উইকেটে স্কোর ১৯৩। আর এই আশঙ্কা আর সংশয়ের ওপর দাঁড়িয়েই শুরু হয় মাহমুদুল্লাহ ও আবুল হাসানের সংগ্রাম। রবি রামপাল ইনজুরিতে খেলতে না পারায় দলে জায়গ হয়েছিল ফিদেল এডওয়ার্ডসের। কিন্তু তিনিও কম নন। দূর্দান্ত বোলিংয়ে নিয়েছেন ১৬ ওভারে ৮১ রানের খরচায় বাংলাদেশের ৫টি উইকেট। স্যামি নিয়েছেন দু’টি আর পারমল একটি। হতাশায় কেটেছে বিশ্ব কাঁপানো সুনীল নারাইনের।

বিস্মিত করল বাংলাদেশ

বিস্মিত করল বাংলাদেশ


চা বিরতির সময় বাংলাদেশ দলের বিপর্যয় দেখে যাঁরা খেলা দেখা বন্ধ করে দিয়েছিলেন, শেষ বিকেলে তাঁদের বিস্ময়ের অন্ত নেই। এ কী দেখছেন তাঁরা! ১৯৩ রানে ৮ উইকেট পড়ে যাওয়া বাংলাদেশের সংগ্রহ সেই ৮ উইকেটেই ৩৬৫!
বিস্ময়ের ওপর বিস্ময়, দশ নম্বরে ব্যাট করতে নামা ‘বোলার’ আবুল হাসান হাঁকিয়ে ফেলেছেন এক অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি! ঐতিহাসিক বলা হচ্ছে এ কারণে, আবুল যে কীর্তি করেছেন, তা টেস্ট ক্রিকেটে বিরলতম ঘটনাগুলোর একটি। অভিষেকে দশ নম্বরে কোনো ব্যাটসম্যান টেস্ট ক্রিকেটে সর্বশেষ সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন ১১০ বছর আগে, ১৯০২ সালে। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার রেগি ডাফের সেই কীর্তিরই পুনরাবৃত্তি করলেন আমাদের আবুল হাসান।
খুলনা টেস্টের প্রথম দিনের শেষ বেলাটি ছিল বিস্ময় ছড়ানো। আবুল হাসান ও মাহমুদউল্লাহর অবিচ্ছিন্ন ১৭২ রানের রেকর্ড জুটিতে ক্যারিবীয়দের নিয়ন্ত্রণ থেকে ম্যাচ বের করে আনে বাংলাদেশ। আবুল হাসানের ব্যাটিং প্রথম থেকেই ছিল বিস্ময়-জাগানিয়া। ঠেকানোর বল ঠেকিয়ে, মারার বল মেরে আবুল লজ্জা দিচ্ছিলেন বাংলাদেশের টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যানদের। মাহমুদউল্লাহও নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলি উজাড় করে দিয়ে সাহস জুগিয়ে যাচ্ছিলেন এই অভিষিক্ত তরুণকে। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে এর আগে মাত্র একটি ফিফটি হাঁকানো আবুল যে শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরিই হাঁকিয়ে ফেলবেন, তা কে ভেবেছিল? সেই বিস্ময়ই উপহার দিয়ে নিজেকে ইতিহাসের খাতায় বন্দী করে ফেললেন জাতীয় ক্রিকেট লিগে সিলেট বিভাগের পক্ষে খেলা এই তরুণ পেসার। আজকের পর থেকে আবুল হাসান নিশ্চয়ই পেসার হিসেবে পরিচিত হবেন না, আজ থেকে তিনি যে পুরোদস্তুর এক ব্যাটসম্যান; যাঁর ওপর নির্ভর করা চলে।
দিনের মধ্যভাগে দলীয় সংগ্রহ ২০০ পার হবে কি না, এই সংশয়ে থাকা বাংলাদেশের স্কোর দিনশেষে ৮ উইকেটে ৩৬৫। ইতিহাস গড়ে ব্যক্তিগত ১০০ রানে অপরাজিত থাকা আবুল হাসানের সঙ্গী হয়ে আছেন মাহমুদউল্লাহ; তাঁর সংগ্রহ ৭২ রান। দলীয় স্কোরকে ৪০০ পার করে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্নটা এখন দেখাই যায়।
আবুল হাসানের এই অনন্য কীর্তির দিনে বাংলাদেশের টপ-অর্ডার ছিল পুরোপুরি ব্যর্থ। জুনায়েদ সিদ্দিকীর পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া নাজিমউদ্দিনকে (৪) দিয়ে শুরু। শাহরিয়ার নাফীস (২৬), তামিম ইকবাল (৩২), সাকিব আল হাসান (১৭)—সবাই ব্যর্থ। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে জুটি বেঁধে নাসির দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলেছিলেন। ব্যক্তিগত ৫২ রান করে নাসির যেভাবে আউট হন, সেটা আর যা-ই হোক, কোনো টেস্ট ব্যাটসম্যানের সঙ্গে যায় না। মুশফিক ফিরে যান ৩৮ রানে। সোহাগ গাজী যখন আউট হলেন, তখন দলীয় স্কোর ২০০ হচ্ছে কি না, সেটা নিয়ে জোর আলোচনা। অথচ দিনের শেষে পুরো প্রেক্ষাপটই পরিবর্তিত হয়ে গেছে অবিস্মরণীয়ভাবে।
ফিদেল এডওয়ার্ডস মিরপুর টেস্টে খেলেননি। রবি রামপলের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া এডওয়ার্ডসই আজ বাংলাদেশ শিবিরে সবচেয়ে বড় আতঙ্কটা ছড়িয়েছেন। ১৬ ওভার বল করে ৮১ রানে তাঁর সংগ্রহ ৫ উইকেট। তিনি প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠিয়েছেন নাজিমউদ্দিন, সাকিব, নাঈম ইসলাম, মুশফিক ও সোহাগকে। দুটি উইকেট তুলে নিয়েছেন অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি। তামিম ইকবাল ও শাহরিয়ার নাফীস স্যামির শিকার। পেরমল পেয়েছেন নাসিরের উইকেটটি।
খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের টেস্ট অভিষেকটা প্রথম দিন শেষেই স্মরণীয়। সপ্তম টেস্ট ভেন্যুর মর্যাদাটা দিনশেষে অন্যমাত্রায় নিয়ে গেলেন আবুল হাসান। তাঁকে অভিনন্দন না জানালেই নয় !

Wednesday, November 21, 2012

পটিয়ায় বায়োগ্যাসে রান্না জ্বলছে বাতিও

পটিয়ায় বায়োগ্যাসে রান্না জ্বলছে বাতিও

চট্টগ্রামের পটিয়ায় দু'ভাই সেলিম ও জসিমের বায়োগ্যাসে এখন পাড়াগাঁ আলোকিত হচ্ছে। তাদের প্লান্টের গ্যাসের ওপর নির্ভর করে পশ্চিম হাইদগাঁও গ্রামে রান্নাবান্না চলছে। জ্বলছে বাতিও। দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙ্কট উত্তরণে বায়োগ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা। উপজেলার পশ্চিম হাইদগাঁও গ্রামের প্রয়াত সামছুদ্দীন মাস্টারের দুছেলে সেলিম ও জসিমের উদ্যোগে বায়োগ্যাসের দুটি প্লান্ট স্থাপন হয়েছে। প্লান্ট থেকে বাঁধা নলের সাহায্যে পাড়া থেকে পাড়ায় গ্যাস চলে গেছে। বায়োগ্যাসের কারণে এখন গ্রামগুলোয় রান্নাবান্নায় কাঠ পুড়তে হচ্ছে না। ২০০৯ সালে ছোট ভাই জসিম উদ্দিনের উদ্যোগে পটিয়া পূবালী ব্যাংকের অর্থায়নে ২৪ একর জায়গাজুড়ে দৈনিক আড়াই হাজার ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা হয়। দু'বছরের মাথায় বড় ভাই সেলিম উদ্দিনও জুট মিলের মহাব্যবস্থাপকের চাকরি ছেড়ে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে যোগ দিয়ে ২০১১ সালে ৫ হাজার ঘনফুট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন আরেকটি গ্যাস প্লান্ট স্থাপন করেন। এখানেও পূবালী ব্যাংক অর্থায়ন করেছে। তারা দুই প্লান্টে এ পর্যন্ত ৭৫ পরিবারে গ্যাস সংযোগ দিয়েছেন। যা থেকে মাসিক ৪৫ হাজার টাকা আয় হয়। গ্যাস প্লান্ট সংলগ্ন তাদেরই মালিকানাধীন পোল্ট্রি ফার্ম। মুরগির বিষ্ঠা বায়োগ্যাস প্লান্টের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার হয়। প্লান্টের গ্যাস থেকেই তাদের পোল্ট্রি খামার লোডশেডিং মুক্ত থাকে। স্থানীয় মোহাম্মদ ফয়সাল ও শহীদুল ইসলাম জুলু নামের দু'যুবক তাদের বিপণন কাজে সহযোগিতা করছেন। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের 'ফিক্সড ডোম' প্রযুক্তির সাহায্যে বায়োগ্যাস প্লান্ট দু'টি স্থাপন করা হয়েছে। এতে কারিগরি সহায়তা দিয়েছেন বগুড়ার মাসুদ বায়োগ্যাস কনসালট্যান্ট ফার্ম। বায়োগ্যাস ব্যবহারকারী রোজিনা আকতার জানান, প্রাকৃতিক গ্যাসের চেয়ে এ গ্যাসের চাপ একটু কম হলেও স্বাভাবিক সব রান্নাবান্না করা যায়। লাকড়ির (জ্বালানি কাঠ) চেয়ে অনেক সাশ্রয়ী। স্থানীয় জাহাঙ্গীর আলম নামের আরেক গ্রাহক জানান, পাড়াগাঁয়ে গ্যাস পাওয়া দুরূহ হলেও জসিম ও সেলিমের বায়োগ্যাস অনেকের উপকারে আসছে। লিজা পোল্ট্রি ফার্ম অ্যান্ড বায়োগ্যাস প্লান্টের স্বত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন জানান, প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পেলে আরো অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন প্লান্ট বসিয়ে পুরো গ্রামে গ্যাস সংযোগ দেয়া যাবে। এসএসপোল্ট্রি অ্যান্ড বায়োগ্যাস প্লান্টের পরিচালক সেলিম উদ্দিন জানান, গ্রামের চাহিদা মিটিয়ে তাদের বায়োগ্যাস দিয়ে বেকারির ওভেন স্থাপন করবেন। প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ঋণ দিয়ে গ্রাম পর্যায়ে বায়োগ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে সরকার পদক্ষেপ নিলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের যুবকরা এ ধরনের প্লান্ট স্থাপনে উৎসাহী হবে।

ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেনি বাংলাদেশ

ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেনি বাংলাদেশ


পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশ ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেনি। ক্ষমা চাওয়ার ইস্যুতে নয়, নিজের অসুস্থতার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাকিস্তান সফরে যেতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এ দাবি করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রব্বানী খার। কয়েক দিন আগে তিনি বাংলাদেশ সফর করেন। সে সময় ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু হিনা রব্বানী খার তাতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে অনুরোধ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাতে অস্বীকৃতি জানান। এর পরই খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, পাকিস্তান ক্ষমা না চাওয়ার জন্য শেখ হাসিনা পাকিস্তানের ওই সম্মেলনে যাওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ ধরনের খবর প্রত্যাখ্যান করেছেন হিনা রব্বানী খার। তবে তিনি কোথায় এসব কথা বলেছেন তা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় নি। গতকাল এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই। এতে বলা হয়, আগামীকাল থেকে ইসলামাবাদে শুরু হচ্ছে ডি-৮ সম্মেলন। এ সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য শেখ হাসিনাকে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন হিনা রব্বানী খার। তখন বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেনি। হিনা রব্বানীর গত ৯ই নভেম্বরের সফরের সময় বাংলাদেশের নেতারা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, পাকিস্তানকে ক্ষমা চাওয়ার যেসব দাবির কথা বলা হচ্ছে তা পুরোপুরি ভুল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চোখে কিছুটা সমস্যা ছিল। তাই তার চিকিৎসকরা তাকে সফরে না যেতে পরামর্শ দিয়েছেন। ওদিকে পাকিস্তানের মিডিয়ায় খবর প্রচারিত হয়েছে যে, ১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমানে বাংলাদেশ) পাকিস্তানি বেসামরিক কর্মকর্তা ও সামরিক কর্মকর্তারা যে যুদ্ধাপরাধ করেছেন তার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু পাকিস্তান তাতে অস্বীকৃতি জানানোয় শেখ হাসিনা ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ না দেয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছেন। তবে হিনা রব্বানী খার বলেন, ওই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন মিশরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুসিলো বামবাং ইয়োধইয়োনো, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ, নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট গুডলাক ইবেলি জোনাথান, তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তায়েপ এরদোগান। এতে মালয়েশিয়া তার উপ-প্রধানমন্ত্রীকে এবং বাংলাদেশ থেকে একজন বিশেষ প্রতিনিধি যোগ দিতে পারেন। এই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। সভাপতিত্বও করবেন তিনি। এ সম্মেলন থেকে পরবর্তী দুই বছরের জন্য ডি-৮-এর চেয়ারম্যান করা হবে পাকিস্তানকে।

ইসরাইলের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সাইবার যুদ্ধ

ইসরাইলের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সাইবার যুদ্ধ


ইসরাইল গাজায় হামলা শুরু করার পর থেকে দেশটির সরকারি ওয়েবসাইটগুলোতে ৪ কোটি ৪০ লাখ বার হ্যাকিং করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। ইসরাইল সরকারের প্রকাশ করা তথ্যে দেখা যায় এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হ্যাকিংয়ের চেষ্টা করা হয়েছে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সাইটগুলোতে। এপি জানিয়েছে, এক কোটি বার হ্যাকিংয়ের চেষ্টা করা হয়েছে ইসরাইলের প্রেসিডেন্টের ওয়েবসাইটে, ৭০ লাখ বার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ও ৩০ লাখ বার প্রধানমন্ত্রীর ওয়েবসাইটে। ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এসব চেষ্টায় কেবল একবার সফলতা পেয়েছে হ্যাকাররা। তবে কোন সাইটটিতে হ্যাকিংয়ে সফল হয়েছে হ্যাকাররা সেটা উল্লেখ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক হ্যাকার গ্রুপ এনোনেইমাস ৭শ’টি ইসরাইলি সাইট উল্লেখ করে বলেছে, গাজায় নতুন হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে তারা এসব সাইটে হামলা করার চেষ্টা করেছে। এর মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামের সাইটটির ডাটাবেজ ওলটপালট করার দাবি করেছে এনোনেইমাস। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি ইসরাইল সরকার ও তাদের সামরিক বাহিনীর মালিকানাধীন ওয়েবসাইটগুলো হ্যাক করার জন্য হ্যাকারদেরকে আহ্বান জানিয়েছে। এর মধ্যে ইসরাইলের কাদিমা পার্টি ও ব্যাংক অব জেরুজালেমের ওয়েবসাইট হ্যাক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

অন্ধকারে আটকে আছে বাংলাদেশ

অন্ধকারে আটকে আছে বাংলাদেশ


অন্ধকারে আটকে আছে বাংলাদেশ। বৃটেনের প্রভাবশালী ম্যাগাজিন দি ইকোনমিস্ট ১৯শে নভেম্বর তার অনলাইন সংস্করণে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তার শিরোনাম ‘বাংলাদেশ এভার মার্কিয়ার’। ব্যানিয়ান নামের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে যুদ্ধাপরাধ আদালতের বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের ঢাকায় আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়েছিলেন বিবাদীপক্ষের এক সাক্ষী। আদালতে প্রবেশের আগেই তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। এ থেকে কি বোঝা যায়? ওই সাক্ষীর নাম সুখরঞ্জন বালি। তাকে ওই আদালতের গেটের খুব কাছ থেকে পাঁজাকোলা করে নিয়ে যাওয়া হয়। এই আদালতেই হচ্ছে পাকিস্তানের কাছ থেকে ১৯৭১ সালে রক্তপাতের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা যুদ্ধে বিপুল সংখ্যক মানুষকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত কয়েক জনের বিচার। সরকারের হিসাবে ওই যুুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়। ইকোনমিস্ট লিখেছে, গত ৫ই নভেম্বর বিবাদী পক্ষ ও তাদের সাক্ষী আদালতে পৌঁছামাত্র সুখরঞ্জন বালিকে তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়। তাদেরকে নিজেদের গাড়ি থেকে নেমে পরিচয় দিতে বলা হয়। বিবাদীপক্ষের এক আইনজীবী হাসানুল বান্না সোহাগ বলেন, ওই দলের চার সদস্য নিজেদের পুলিশের গোয়েন্দা শাখার লোক বলে দাবি করেন। তাদের একজন সুখরঞ্জন বালিকে আমার হাত থেকে কেড়ে নেন এবং তাকে বাধ্য করেন তাদের সাদা গাড়িতে উঠতে। এরপরই ওই পুলিশ ভ্যান ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ওই সাক্ষীর যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় সাক্ষ্য দেয়ার কথা ছিল। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামীর যে ৭ সদস্যের বিচার হচ্ছে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী তাদের একজন। তিনি মানবতাবিরোধী, গণহত্যা, হত্যা, ধর্মীয় বিচার ও আরও ১৬টি অভিযোগে অভিযুক্ত। তবে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুখরঞ্জন বালি মূলত রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ছিলেন। তার এক ভাইকে ১৯৭১ সালে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নির্দেশে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি সাক্ষ্য দিয়েছেন। কিন্তু তিনি কখনও আদালতে আসেন নি ওই সাক্ষ্য দিতে। তিনি তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে তার ভাইকে হত্যার ওই সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে বলা হয়েছে। বিবাদীপক্ষের এক আইনজীবী বলেন, উল্টো সুখরঞ্জন বালি আদালতে যাচ্ছিলেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে। তিনি আদালতকে বলতে চেয়েছিলেন সাঈদী নন, পাকিস্তানি সেনারা তার ভাইকে হত্যা করেছে। এতে সাঈদী জড়িত নন। বিবাদীপক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, জোর করে সাক্ষ্য আদায়ের ঘটনা এটাই একমাত্র নয়। তিনি বলেন, প্রসিকিউশন সাক্ষীদের আদালতে না তোলার কৌশল নিয়েছে, যাতে আদালতে তাদের মৌখিক সাক্ষ্যের পরিবর্তে লিখিত সাক্ষ্যকে প্রমাণ হিসেবে নেয়া হয়। আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, তারা সুখরঞ্জন বালিকে তুলে নিয়েছে। কারণ, সরকার দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ফাঁসিতে ঝোলানোর পরিকল্পনা করছে। ১৪ই নভেম্বর প্রসিকিউশন তার মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই বিচার প্রক্রিয়া পরিচালনার মূলে রয়েছে নির্বাচিত রাজনৈতিক পক্ষ। কেউ ভাবতে পারেন যে, সেই রাজনৈতিক পক্ষ এখন দেখাতে চেষ্টা করছে যে আইনি প্রক্রিয়া হাস্যকর অবস্থার দিকে যাচ্ছে না। কিন্তু দিনের আলোতে প্রকাশ্যে একজন সাক্ষীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি যে প্রতিক্রিয়া তা বিশ্বাস করা কঠিন। আদালত এ বিষয়টি দেখার জন্য প্রসিকিউশনকে নির্দেশ দেন। তারা আদালতকে দেখায় যে, ওই অপহরণের ঘটনা সাজানো। এ ঘটনায় মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায় পুলিশ। ১১ই নভেম্বর বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেল হাইকোর্টে একটি হেবিয়াস করপাস আবেদনের ওপর সাক্ষ্য দেন। তিনি দাবি করেন যে, আদালতের সুনাম নষ্ট করতে বিবাদী পক্ষ ওই অপহরণের ঘটনা সাজিয়েছে। ইকোনমিস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এই আদালতে সর্বোচ্চ মানদণ্ড মেনে বিচার করা হচ্ছে- এর পক্ষে এর কোন ঘটনাই প্রমাণ হতে পারে না। যে সব পর্যবেক্ষক এর ওপর তীক্ষ্ন নজর রেখেছেন তারা বলছেন, বিচার প্রক্রিয়া তাড়াহুড়ো করে শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের জন্য এক বছরের সামান্য বেশি সময় বাকি আছে। এর আগেই এ বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেয়া হয়ে থাকতে পারে। বিবাদীপক্ষের সাক্ষীদের সংখ্যা কমিয়ে আনার যে সিদ্ধান্ত আদালত নিয়েছে তাতে তা-ই ইঙ্গিত করে। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় ২৮ থেকে ৪৬ জন সাক্ষীকে সাক্ষ্য দিতে অনুমতি দেয়া হয় নি। ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর প্রধান ছিলেন গোলাম আযম। পাকিস্তানপন্থিদের হয়ে ডেথ স্কোয়াড গঠনের জন্য তিনি অভিযুক্ত। তার সাক্ষীর সংখ্যা ১০-এ সীমিত করে দেয়া হয়েছে। গোলাম আযম যে ডেথ স্কোয়াড গঠন করেছিলেন তাতে অনেক মানুষকে স্বাধীনতা যুদ্ধের ৯ মাসে হত্যা ও অনেক নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। এই বিচার প্রক্রিয়া সব সময়ই চলছে বিব্রতকর অবস্থার মধ্য দিয়ে। এক্ষেত্রে বিবাদীপক্ষের কৌশল, যেমন তারা গোলাম আযমের মামলায় ২০০০ সাক্ষীর একটি তালিকা দিয়েছে, তা সব সময়ই তাদের সহায়তা করছে না। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় যে সমস্যা তা হলো- এই যুদ্ধাপরাধের মূল হোতা সাবেক পশ্চিম পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের আদালতে তোলা হয় নি। তারা রয়েছে পাকিস্তানে। পাকিস্তানের সেনারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যেসব অপরাধ সংঘটিত করেছে তার জন্য বাংলাদেশ এ মাসে পাকিস্তানকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু যথারীতি পাকিস্তান সরকার ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সম্ভবত এর ফলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামাবাদ সফরের পাকিস্তানি আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

স্যান্ডি দুর্গতদের জন্য ম্যাডোনা

স্যান্ডি দুর্গতদের জন্য ম্যাডোনা


নিউ ইয়র্কে বেশ খোলামেলাভাবে নেচে স্যান্ডি দুর্গতদের জন্য ৬০ হাজার ডলার আয় করলেন ম্যাডোনা। সেখানে নিজের পশ্চাৎদেশ প্রদর্শন করে ওই অর্থ উঠাতে সক্ষম হন তিনি। একটি গণমাধ্যম জানায়, ৫৮ বছর বয়সী এ পপ তারকা সবাইকে স্যান্ডিতে ক্ষতিগ্রস্ত এবং গৃহহারাদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে বলেন। স্যান্ডি দুর্গতদের জন্য সবাই মঞ্চে টাকা ছুঁড়ে দেন। ম্যাডোনা ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে সবার উদ্দেশ্যে বলেন, আমি স্যান্ডি দুর্গতদের জন্য আমার বিবসনা পশ্চাৎদেশ প্রদর্শন করছি। সেখানে উপস্থিত একজন জানান, এক ব্যক্তি বিশ ডলার ছুঁড়ে মারলে ম্যাডোনা সেটি ফেরত দিয়ে বলেন, ১০০ ডলার চাই। তিনি চিৎকার করে বলেন, ‘আমার পশ্চাৎদেশের মূল্য কি এতোই কম’! তবে শেষে সব মিলিয়ে স্যান্ডি দুর্গতদের জন্য ষাট হাজার ডলার একত্র করতে সক্ষম হন এই পপ তারকা।

যৌন আবেদন বাড়াতে...

যৌন আবেদন বাড়াতে...

 


জিরো ফিগার চর্চার এই যুগে বলিউডের মতো জায়গায় জেরিন খান মার খেয়ে যাচ্ছিলেন তার খানিক মুটিয়ে যাওয়া নিয়ে। এ কারণে নিজেই অভিনয় থেকে খানিকটা দূরে সরে থাকেন তিনি। প্রথম ছবির দীর্ঘ সময় পর এর মধ্যে কেবল ‘হাউজফুল-২’ ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। এই ছবির শুটিং চলাকালীন সময়ের আগে থেকেই শারীরিক সৌন্দর্য ও যৌন আবেদন বাড়াতে নানা ধরনের কসরত শুরু করেন জেরিন। বিশেষ করে নিয়মিত কমপক্ষে ২ ঘণ্টা তিনি জিমে ব্যয় করছেন। এছাড়া সাঁতার কাটছেন প্রতিদিন কমপক্ষে আধা ঘণ্টা। পাশাপাশি রিচ ফুড একদমই ত্যাগ করেছেন তিনি। যার ফলাফল ‘হাউসফুল-২’ ছবিতে খানিকটা পাওয়া গেছে। প্রথম ছবির তুলনায় অনেক স্লিম জেরিনকেই এই ছবিতে আবিষ্কার করতে পেরেছেন দর্শক। তবে নতুন খবর হচ্ছে এই ছবির পর আরও চার কেজি ওজন কমিয়েছেন জেরিন। অর্থাৎ মোটমাট প্রথম ছবির পর থেকে ১২ কেজি ওজন তিনি কমিয়েছেন। বিষয়টি অবাক করার মতো হলেও সত্যি। নিজের শারীরিক এই পরবর্তনের বিষয়টি সম্প্রতি জেরিন মিডিয়াকে বেশ খুশি মনে জানান দেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হাউজফুল-২’ ছবিতে নিজেকে দেখে আসলে আমি নিজেই অবাক হয়েছিলাম। তখন আমি ৮ কেজি কমেছিলাম। এর পর আরও উৎসাহ পেয়ে যাই। নিজের শারীরিক সৌন্দর্য ও যৌন আবেদন বাড়াতে কেনা চায়! সেই চিন্তা থেকেই নিয়ম করে সব কিছু শুরু করলাম। যার ফলশ্রুতিতে এখন আমি মোট ১২ কেজি কমেছি। বর্তমানে জিরো ফিগারের প্রায় কাছাকাছি রয়েছি আমি। বিষয়টি নিয়ে আমি বেশ উত্তেজিত ও আনন্দিত। নিজেকে আয়নায় দেখতে এখন অনেক বেশি ভাল লাগছে।

সিভিল এভিয়েশনে সুন্দরীদের দাপট

সিভিল এভিয়েশনে সুন্দরীদের দাপট


সিভিল এভিয়েশনের সুন্দরীরাই স্বর্ণ চোরাচালানের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। এদের সহায়তায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে একাধিক অবৈধ স্বর্ণের চালান দেশে ঢুকেছে। সর্বশেষ সাড়ে ১৩ কেজি স্বর্ণ পাচারকালে গ্রেপ্তারকৃত ৫ জনের কাছ থেকে এ তথ্য জানতে পেরেছে তদন্তকারী সংস্থা- মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে সিভিল এভিয়েশনের সিকিউরিটি সুপারভাইজার খন্দকার নিজাম উদ্দিন, সিকিউরিটি গার্ড আবুল কালাম, চালানের বাহক মনোয়ারুল হক, স্বর্ণ আমদানিকারক দেব কুমার দাশ ওরফে দেবু ও একটি গোয়েন্দা সংস্থার ফিল্ড অফিসার আবদুল আজিজ শাহ। দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত সদস্যদের নাম বলেছে। এদের মধ্যে সিভিল এভিয়েশনের লাগেজ স্ক্যানিং মেশিন অপারেটর রেখা পারভীন ও লায়লাসহ অন্ততপক্ষে আরও ১২ জনের তথ্য দিয়েছে। বর্তমানে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাদের ধরতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করছে। সূত্র মতে, সিন্ডিকেটের মূল নিয়ন্ত্রক রেখা পারভীন ও লায়লা ভারতে পালিয়ে গেছে। তার সহযোগী আরও ৪-৫ তরুণী গ্রেপ্তার এড়াতে গা-ঢাকা দিয়েছে। এর বাইরে এ সিন্ডিকেটে জড়িত দু’টি মানি এক্সচেঞ্জ ও দু’টি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বেশির ভাগই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। স্বর্ণ পাচারে জড়িতদের তথ্য দিয়েছে। তবে সিকিউরিটি সুপারভাইজার খন্দকার নিজাম উদ্দিন গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেও আদালতের কাছে অস্বীকার করেছে। এ কারণে তাকে ফের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। গত ১০ই সেপ্টেম্বর দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টয়লেটের ফ্ল্যাশ ট্যাংকি থেকে প্রায় সাড়ে ১৩ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। ওই স্বর্ণ দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটে নিয়ে আসে মনোয়ার নামে এক চোরাকারবারি। বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকারী আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা গোপনে অভিযান চালিয়ে পলিথিনে মোড়ানো একটি প্যাকেটে ১১৭টি সোনার বার উদ্ধার করে। এর আনুমানিক মূল্য ৭ কোটি ২ লাখ টাকা। পরে মনোয়ারুল হককে আটক করে ওইদিনই বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করে এপিবিএন কর্তৃপক্ষ। মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশকে। পরে গোয়েন্দা পুলিশ ১১ই সেপ্টেম্বর মনোয়ারকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডে এনে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে। গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে মনোয়ারুল হক জানায়, স্বর্ণের মূল পাচারকারী দেব কুমার দাশ ওরফে দেবু। তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ গ্রহণ করে নির্বিঘ্নে চালান বাইরে বের করে দেয়ার দায়িত্ব পালন করে থাকে সিভিল এভিয়েশনের স্ক্যানিং মেশিন অপারেটর ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা। এদের সহায়তা করে থাকে সিভিল এভিয়েশনের সিনিয়র নিরাপত্তাকর্মী আবুল কালাম এবং গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই’র ফিল্ড অফিসার আবদুল আজিজ শাহ। এ তথ্য পাওয়ার পর গোয়েন্দা পুলিশ ওই দু’জনকেও গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, বিমানবন্দর থেকে স্বর্ণের চালানটি বাইরে বহন করার দায়িত্ব পালন করতো আবদুল আজিজ শাহ। পরে গ্রেপ্তারকৃত ওই ৪ জনই স্বর্ণ পাচারের কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। এদিকে ঘটনার পর থেকেই লাপাত্তা হয়েছে স্ক্যানিং মেশিন অপারেটর রেখা পারভীন ও লায়লাসহ ৪-৫ তরুণী। গোয়েন্দাদের ধারণা, সিন্ডিকেটের মূল নিয়ন্ত্রক রেখা পারভীন ভারতে পালিয়ে গেছে। তার সহযোগীরাও কর্মস্থলে না গিয়ে ছুটি নিয়ে পলাতক রয়েছে। ইতিমধ্যে ওই তরুণীদের স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানায় গোয়েন্দা পুলিশ একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে। গোয়েন্দারা জানান, তাদের কাছে তথ্য রয়েছে রেখা পারভীন ও লায়লাই স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের মূল নিয়ন্ত্রক। পাচারের দিন নির্ধারিত হওয়ার আগেই তারা ছুটি নিয়ে থাকে। পরে ওইদিন উপস্থিত হয়ে বিমানবন্দরের বোর্ডিং এলাকায় চলে যায়। সেখানে গিয়ে স্বর্ণের বার শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় ভরে নিরাপদে বাইরে বেরিয়ে আসে। পদে ছোট হলেও রূপ দেখিয়ে সিভিল এভিয়েশনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের নজর কাড়তে পটু তারা। তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েই বিমানবন্দরে চোরাচালানিরা নিরাপদ রুট গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে ওই তরুণীরা। এদের সঙ্গে কেবিন ক্রু ও বিমানবালাদের সম্পর্ক রয়েছে। সূত্র মতে, রেখার বাড়ি শরীয়তপুর জেলায়। সাড়ে ১৩ কেজি স্বর্ণ ধরা পড়ার পরপরই চারদিনের ছুটি নেয়। ওই ছুটি শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কাজে যোগ দেয়নি। এমনকি বাড়িতেও যায়নি। একই কায়দায় লায়লাসহ আরও ৪-৫ জন তরুণী পলাতক রয়েছে। সূত্র মতে, স্বর্ণ চোরাচালানি সিন্ডিকেটে অসাধু স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও মানি এক্সচেঞ্জ কর্মকর্তারাও জড়িত। বিভিন্ন দেশের মুদ্রা বিনিময় হার পর্যবেক্ষণ করে সুবিধাজনক লাভ বিবেচনা করে খুবই অল্প সময়ের মধ্যে অবৈধভাবে স্বর্ণ নিয়ে আসে। চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের স্বর্ণ ব্যবসায়ী দেব কুমার দাশকে গ্রেপ্তার করার পর ওই তথ্য জানতে পারে গোয়েন্দারা। তার নির্দেশনাতেই দুবাই থেকে চালানটি আনা হয়। টাকা পাঠানো হয় হুন্ডির মাধ্যমে। সে টাকায় দুবাইয়ে স্বর্ণ কিনে একদিন পরই তা নিয়ে আসে মনোয়ার। এজন্য তাকে ফ্লাইটের রিটার্ন টিকিট ছাড়াও পারিশ্রমিক হিসেবে ৩০ হাজার টাকা দেয়ার চুক্তি হয়েছিল। দেব কুমারের জন্য এভাবে প্রায়ই চালান এনেছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় মনোয়ার। গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, রেখা পারভীনের নির্দেশে বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালনকারী তরুণীরা চোরাচালানে সহায়তা করে। বিমানবন্দরের প্রবেশপথ থেকে বিমানে ওঠা পর্যন্ত প্রত্যেক স্তরে লোক দিয়ে স্বর্ণের চালানগুলো নিরাপদে পার করে দেয় তারা। এরপর সিভিল এভিয়েশনের সিটিওডি সুপারভাইজার খন্দকার নিজাম উদ্দিনের নির্দেশ মতে নিরাপত্তাকর্মী আবুল কালাম ও গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইর ফিল্ড অফিসার আবদুল আজিজ শাহ মিলে চালানগুলো বিমানবন্দরের বাইরে আসকোনা হাজী ক্যাম্প এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যায়। সেখান থেকে স্বর্ণের চালান সুবিধামতো জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। ডিবি পুলিশ উত্তরা এলাকা থেকে ১৯শে সেপ্টেম্বর দেব কুমার দাশকে গ্রেপ্তার করে। ২০শে সেপ্টেম্বর আদালত তার ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। ডিবি জিজ্ঞাসাবাদে দেব কুমার সোনা চোরাচালানের কথা স্বীকার করেন এবং তার সঙ্গে রেখা পারভীনসহ নিরাপত্তাকর্মী কালাম ও এনএসআই’র ফিল্ড অফিসার আবদুল আজিজ শাহের সম্পৃক্ততার কথা বলেন। গত ২রা অক্টোবর আদালতে এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন দেব কুমার। এর আগে ২১শে সেপ্টেম্বর ডিবি পুলিশ বিমানবন্দরের গোল চত্বর থেকে সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তাকর্মী আবুল কালামকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকেও রিমান্ডে নেয়া হয়। গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, স্বর্ণ পাচারের কাজ করিয়ে বিনিময়ে রেখা প্রতি চালানে মোটা অঙ্কের টাকা দিতো। ২৯শে সেপ্টেম্বর কালাম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। এদিকে, স্বর্ণ পাচারে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় এনএসআই কর্তৃপক্ষ ফিল্ড অফিসার আবদুল আজিজ শাহকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে ২৫শে সেপ্টেম্বর ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ডিবি হেফাজতে তিনি বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজ থেকে স্বর্ণ পাচারের কথা স্বীকার করে এবং ২৭শে সেপ্টেম্বর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, স্বর্ণ পাচারের মূল হোতা সিভিল এভিয়েশনের লাগেজ স্ক্যান অপারেটর রেখা পারভীন ও লায়লাসহ একাধিক তরুণীকে খুঁজছে পুলিশ। তাদের ধরতে পারলেই পাচারকারী চক্রের সকল সদস্যের পরিচয় উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে জানান।
কে এই রেখা: সিভিল এভিয়েশনে চাকরি নেয়ার আগে কিছুই ছিল না রেখার। চাকরি নেয়ার পরেই রাতারাতি কপাল খুলে যায় তার। পদবি- লাগেজ স্ক্যানিং অপারেটর। পদটি মানে ছোট হলেও রূপে ধরাশায়ী করতেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের। জড়িয়ে পড়ে অবৈধ সোনা চোরাচালান সিন্ডিকেটে। এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রক বনে যায়। ৪-৫ বছরের মধ্যেই বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে যায়। উত্তরায় কিনে সাড়ে ৩ কোটি টাকায় দু’টি ফ্ল্যাট। গাজীপুরে নিজের নামে ১২ কাঠার জমি কেনে। নিজে চড়ে বেড়ায় কালো একটি অ্যালিয়ন গাড়িতে। এক ছেলে ও এক মেয়ের মা রেখা পারভীন থাকে উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে। স্বর্ণের চালানটি উদ্ধারের পর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ মোবাইল ফোন প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। বর্তমানে রেখা গোয়েন্দা পুলিশের ডিজিটাল নেটওয়ার্কের বাইরে রয়েছে। অন্যদিকে নিজাম উদ্দিন ১৯৯৫ সালে দৈনিক ৩০ টাকা বেতনে চাকরি নিয়েছিলেন। ২০০৩ সালে সিকিউরিটি সুপারভাইজারের দায়িত্ব পায়। এরপর থেকেই অবৈধ সম্পদের পাড়ার গড়েন। উত্তরায় ১৮শ’ বর্গফুটের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিক তিনি। একাধিক ব্যাংকে কয়েক কোটি টাকার সঞ্চয়ী হিসাবের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। নিজামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার ঝাউতলা গ্রামে। তার পিতার নাম খন্দকার মোজাফ্‌ফর হোসেন। বর্তমানে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর রোডের ৭ নম্বর বাড়ির বি/৩ নম্বর ফ্ল্যাটে থাকতেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের মাস্টার্সের সনদপত্র সংগ্রহ করে তিনি চাকরির পদোন্নতি নিয়েছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে সরকারের ২৬ চ্যালেঞ্জ

তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে সরকারের ২৬ চ্যালেঞ্জ


তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে ২৬ চ্যালেঞ্জের মুখে সরকার। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশকে ডিজিটাল করার প্রত্যয়ে নানাভাবে ভাটা পড়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহারে যোগ্য ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব এর জন্য দায়ী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন নিয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলা হচ্ছে। আগামী নির্বাচনে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নকে অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ এরই মধ্যে নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তথ্যপ্রযুক্তির ২৬ চ্যালেঞ্জ
নিয়ে সমপ্রতি ব্যাখা দিয়েছেন। ওই সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তা তুলে ধরেছেন। গত বুধবার সংসদ অধিবেশনে এ নিয়ে লিখিত উত্তরও দিয়েছেন। তিনি বলেন, সমাজের সব ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশকে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তর করা হবে। তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে সরকারের ২৬ চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র, তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে আইন ও বিধিমালা, মাল্টিমিডিয়া শ্রেণীকক্ষ ও ডিজিটাল কনটেন্ট, কম্পিউটার ল্যাব, ডিজিটাল স্বাক্ষর, হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, ই-গভর্নেন্স, জেলা ই-সেবাকেন্দ্র, ডিজিটাল বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ড, জাতীয় ই-তথ্যকোষ, ই-বুক, লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং, অনলাইন ট্যাক্স পেমেন্টে, ট্যাক্স ক্যালকুলেটর ও অনলাইন ট্যাক্স রিটার্ন প্রস্তুত, ই-পুঁজি, মোবাইলভিত্তিক ৭ ধরনের সেবা, ই-এশিয়া, ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা, ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১২, গ্রামীণ ডাকঘরগুলোকে কমিউনিটি তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রে রূপান্তর, ইলেক্ট্রনিক মানি-অর্ডার সার্ভিস প্রবর্তন, পোস্টাল ক্যাশ কার্ডের প্রচলন, অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ স্থাপন, ২য় সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ স্থাপন ও থ্রিজি সেবা প্রবর্তন। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে মোবাইল অপারেটরদের নিয়ে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপ সমালোচনার মুখে পড়ে। বিশেষ করে থ্রিজির লাইসেন্স নিয়ে বেসরকারি মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে সরকারের স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। গত অক্টোবরে সরকার নিয়ন্ত্রিত টেলিটককে থ্রিজি সেবার সুবিধা দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অন্যান্য অপারেটরদের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে জানিয়েছেন, শিগগিরই তাদের ওই সুবিধা দেয়া হবে। এদিকে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশন (বিটিআরসি) জানিয়েছে, আগামী ২ মাসের মধ্যে তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল প্রযুক্তি (থ্রিজি) সেবা যাচ্ছে বেসরকারি অপারেটরে। এগুলো হচ্ছে- বাংলালিংক, গ্রামীণফোন, এয়ারটেল, সিটিসেল ও ওয়ারিদ। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে খসড়া নীতিমালা প্রস্তুত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির নতুন চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস মানবজমিনকে বলেন, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে সচিব থাকা অবস্থায় বেসরকারি মোবাইল অপারেটরদের থ্রিজি লাইসেন্স দেয়ার কাজ অনেক দূর এগিয়ে নেয়া হয়েছে। আশা করি আগামী বছরের প্রথম দিকে থ্রিজি লাইসেন্স প্রাইভেট সেক্টরে দেয়া যাবে। তবে নির্দিষ্ট দিনক্ষণ বলা যাবে না। বেসরকারি মোবাইল অপারেটরদের ওই লাইসেন্স দেয়াকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন বলে জানান বিটিআরসির চেয়ারম্যান। এদিকে তথ্যপ্রযুক্তির ২৬ চ্যালেঞ্জ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ স্থাপন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, দেশের ৫৬টি জেলাকে এর আওতায় আনা হয়েছে। বাকি ৮টি জেলাকে (শরীয়তপুর, মানিকগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, চাঁপাই নবাবগঞ্জ, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী ও খাগড়াছড়ি) অপটিক্যাল ফাইবার দ্বারা সংযোগের কাজ টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের শেষদিকে ২য় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের কাজ শেষ হবে। এভাবে অপর চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকার যেভাবে দেশকে ডিজিটাল করার প্রত্যয় দেখিয়েছিল, দিন শেষে তা বাস্তবায়ন হয়নি। তারা বলেন, এজন্য অনেক কারণ রয়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তির ওপর দক্ষ ও যোগ্য লোকের অভাব অন্যতম। এ ছাড়া সরকারের সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবও স্পষ্ট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. মো. হাসানুজ্জামান সমপ্রতি মানবজমিনকে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারের উচিত আরও কিছু পদক্ষেপ নেয়া। ডিজিটাল জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যবহার, ভূমির ম্যাপ ও তথ্য ডিজিটালাইজ করা। এতে করে দেশে ভূমি ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে সর্বত্র যে দুর্নীতি হয়, সেটা রোধ করা সম্ভব।

৫ বছরের জন্য স্থগিত হতে পারে মৃত্যুদণ্ড

৫ বছরের জন্য স্থগিত হতে পারে মৃত্যুদণ্ড

 



মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থানের নাটকীয় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। পাঁচ বছরের জন্য সব ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হতে পারে। এজন্য মৃত্যুদণ্ডবিরোধী আন্তর্জাতিক চুক্তিতেও স্বাক্ষর করতে পারে বাংলাদেশ। তবে কি কারণে বাংলাদেশ এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে তা স্পষ্ট নয়। এ নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জন রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যমতে বিশ্বের ১৪০টি দেশে এরই মধ্যে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশে কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন মৃত্যুদণ্ডের বিধান বিলুপ্তির জন্য আন্দোলন করে আসছে। মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা প্রসঙ্গে মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খান শুভ্র মানবজমিনকে বলেন, বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডবিরোধী কোন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। বাংলাদেশের বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ নয়। এ বিচার প্রক্রিয়ায় ভুলভাবেও অনেকের মৃত্যুদণ্ডের সুযোগ রয়ে গেছে। এ কারণে আমরা মৃত্যুদণ্ডের বিধানের পক্ষে নই। সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধানের পক্ষে আমরা। ১৯৬৬ সালের ১৬ই ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মৃত্যুদণ্ডবিরোধী ‘ইন্টারন্যাশনাল কভিন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস’ গৃহীত হয়। ১৯৭৬ সালের ২৩শে মার্চ থেকে এটি কার্যকর হয়। তবে এ চুক্তিতে স্বাক্ষরে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর কোন বাধ্যবাধকতা নেই। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী এ বছর মার্চ পর্যন্ত বিশ্বের ৭৪টি দেশ এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড। তবে নিম্ন আদালত কাউকে মৃত্যুদণ্ড দিলেই তা কার্যকর হয় না। সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের অনুমোদন ছাড়া কোন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডই কার্যকর করা যায় না। ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হয় হাইকোর্টে। এক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিজে আইনজীবী নিয়োগ না দিলেও রাষ্ট্র তার পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে থাকে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘কোন ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া যাইবে না কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেওয়া যাইবে না কিংবা কাহারও সহিত অনুরূপ ব্যবহার করা যাইবে না।’ মৃত্যুদণ্ডের শাস্তিকে অমানবিক উল্লেখ করে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছিল। হাইকোর্ট পরে ওই রিট আবেদন খারিজ করে দেয়। তবে বাংলাদেশেও সামপ্রতিক বছরগুলোতে উচ্চ আদালতে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। সামপ্রতিক অতীতে উচ্চ আদালতে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার ঘটনা ঘটছে খুবই কম। বৈশ্বিক পটভূমিতেও মৃত্যুদণ্ড নিয়ে গত বছরগুলোতে সারা দুনিয়ায় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। ২০০৩ সালের ১০ই অক্টোবর থেকে বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মৃত্যুদণ্ডবিরোধী দিবস। মৃত্যুদণ্ড সম্পর্কে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদণ্ড বিলোপের ক্ষেত্রে গত দশকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু মৃত্যুদণ্ডকে ইতিহাসের ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলতে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। ২০০৩ সালের পর থেকে ১৭টি দেশ যে কোন অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান বিলুপ্ত করেছে। এতে মৃত্যুদণ্ড বিলোপকারী দেশের সংখ্যা ১৪০-এ গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ৭০ শতাংশ দেশ এখন এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।