Pages

Tuesday, November 27, 2012

নতুন নকশার ছাতা

নতুন নকশার ছাতা


রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে প্রকৃত বন্ধু ছাতা। কিন্তু মুষলধারে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া ছাতার দফা-রফা করে ভিজিয়ে দিতে পারে আপনাকে। প্রচলিত ছাতার উপরিভাগ দেখতে গম্বুজের মতো হওয়ায় বৃষ্টির ছাঁট থেকে রক্ষা করতে পারে না। এক খবরে প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট ম্যাশেবল জানিয়েছে, সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত রেড ডট অ্যাওয়ার্ড ২০১২তে নকশাবিদ লিউ লি সিয়াং ও লিন-মিন উই মিলে ছাতার একটি অভিনব নকশা করেছেন। ‘রেইন শিল্ড’ নামের এই ছাতা প্রবল বৃষ্টি ঠেকাতে পারে।
ইস্পাতের তার ব্যবহার করে এ ছাতাকে গম্বুজ আকৃতি দিয়েছেন নকশাবিদেরা। পাশাপাশি ছাতার সঙ্গে একদিকে বৃষ্টি-রোধী কাপড় যুক্ত করে একটি বৃষ্টি প্রতিরোধক ব্যবস্থাও তৈরি করেছেন। এ অংশটি যেকোনো কোন থেকে আসা বৃষ্টির হাত থেকে এর ব্যবহারকারীকে রক্ষা করবে। ছাতাটি প্লেট আকারে ভাঁজ করলে এর আকার দাঁড়ায় মাত্র ৭ ইঞ্চি।

কাঁদছে বাংলাদেশ

কাঁদছে বাংলাদেশ


নিশ্চিন্তপুরের বাতাসে পোড়া লাশের গন্ধ। তাজরিনের ফ্লোরে ফ্লোরে গলিত লাশ। স্বজনহারাদের বুকফাটা আর্তনাদ। চারদিকে শোকের মাতম। শোকাবহ আশুরার আগের রাতে সেখানে ঘটে গেছে মহাপ্রলয়। তৈরী পোশাক শিল্পের ইতিহাসে সবচেয়ে মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি। মাত্র কয়েক ঘণ্টার আগুনে পুড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছে ১১০টি প্রাণ। তাদের সবাই সচ্ছলতার বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে গ্রাম থেকে আসা নিম্ন আয়ের মানুষ। আশুরার তাজিয়াকে ম্লান করে দিয়েছে নিশ্চিন্তপুরে এ লাশের মিছিল। মোহররমের মাতমকে হার মানিয়েছে তাজরিনের মাতম। এই মাতম স্বজন হারানোর, তাদের অঙ্গার দেহটি খোঁজার। নিশ্চিন্তপুরে কেউ খুঁজছেন মেয়েকে। কেউ ছোটাছুটি করছেন স্ত্রীর পোড়া লাশটির খোঁজে। বোনের খোঁজে গ্রাম থেকে ছুটে এসেছেন ভাই। হাজারো উৎসুক মানুষের স্রোত। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে ফেরা উদ্বিগ্ন মানুষ। সবার গন্তব্য তাজরিন ফ্যাশন ও পাশের দেওয়ান ইদ্রিস নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। দৃষ্টি অঙ্গার হওয়া স্বজনের লাশের সারিতে। রোববার সকাল থেকে প্রকাশ হতে থাকে অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতার দৃশ্য। তাজরিন ফ্যাশনের নিচ থেকে ছ’তলা পর্যন্ত কেবল লাশ আর লাশ। পুড়ে অঙ্গার সেলাই মেশিনের ফাঁকে, ফ্লোরের কোনায়, বাথরুমে ক্ষতবিক্ষত লাশ। কোনটির হাত নেই, কোনটির পা বা মাথা নেই। এখানে ওখানে বীভৎসতা ছড়াচ্ছে নিঃসঙ্গ হাত-পা অথবা ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন শরীরের অন্য কোন অঙ্গ। প্রাণহীন পোড়া শরীরগুলো যেন এক এক খণ্ড অঙ্গার। কোনটা এতটাই পুড়েছে যে চেহারা চেনার যো নেই। রোববার দুপুরেও গুমোট বাতাসে পোড়া লাশের গন্ধ, কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়া, নিভু নিভু আগুন ও তীব্র উত্তাপ ছড়ানো দেয়ালগুলো যেন শনিবার রাতের বিভীষিকারই সাক্ষ্য দিচ্ছিল। তখন উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে ফায়ার ব্রিগেড ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক আবদুল মতিন জানান, কারখানার ভেতরে বিভিন্ন তলায় পাওয়া গেছে ১০০টি লাশ। তখন বাইরে ছিল স্বজনের আহাজারি আর শোকের মাতম। কারণ, বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোতে আগে বিভিন্ন সময়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটছে। কিন্তু এত বেশি প্রাণহানি ঘটেনি কখনও। এরপর সেনাবাহিনী-ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ভবনের ভেতর থেকে এক এক করে বের করে ১১০টি লাশ। লাশগুলো রেডক্রিসেন্টের কফিন ব্যাগে করে নিয়ে রাখা হয় পাশের স্কুলের বারান্দায়। সেখানে হাত, পা, গায়ের জামার পোড়া অংশ দেখে মাত্র ৪৩ জন শ্রমিককের লাশ শনাক্ত করেছেন স্বজনরা। ৫৮টি লাশ পড়ে থাকে সেখানে। তাদের শনাক্ত করার মতো কোন চিহ্নই নেই। কিন্তু স্বজনরা তো পেতে চায় স্বজনের অন্তত লাশটি। শেষবার বুকে জড়িয়ে ধরতে, বাঁধভাঙা কান্নায় শোকের পাথর সরাতে এবং চিহ্ন ধরে রাখতে একটি কবরে। কিন্তু পুড়ে অঙ্গার হয়ে চেনার অতীত দেহগুলো চিনিয়ে দেবে কে?
২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত তুবা গ্রুপের তাজরিন গার্মেন্টে চাকরি করতেন প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক। তাদের অনেকে এখনও নিখোঁজ। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে শোকে স্তব্ধ পুরো এলাকা। এমন করুণ মৃত্যুর দীর্ঘ মিছিলের দৃশ্য শোকাচ্ছন্ন করেছে দেশবাসীকে। এমন শোকাবহ ট্র্যাজেডিতে শোকে মুহ্যমান বাংলাদেশ। অগ্নিকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। উদ্ধারকাজ শেষে তাজরিন ফ্যাশনের দগ্ধ ভবনটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। দাফন সম্পন্ন হয়েছে শনাক্ত হওয়া লাশের। শোকবাণী, ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতিও ঘোষিত হয়েছে। কিন্তু শনাক্তহীন লাশগুলো স্বজনের অপেক্ষায় ঢাকা মেডিকেলের হিমঘরে। ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে তা হস্তান্তর করা হবে স্বজনদের কাছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে উৎকণ্ঠিত অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনরা। রোববার সকাল আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর থেকে শুরু হয় সন্তান হারানো মা-বাবা, বোন হারানো ভাই ও স্ত্রী হারানো স্বামীর বিরামহীন ছোটাছুটি। জীবিত না হোক, পোড়া লাশটি অন্তত চাই। তাই নিশ্চিন্তপুর পেরিয়ে নিখোঁজ স্বজনদের দৌড় রাজধানীর আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের কার্যালয়ে। গতকাল নিশ্চিন্তপুর স্কুল থেকে ফ্যাক্টরির দিকে যেতে মোড়েই একটি কলোনি। টিনশেড সে কলোনিতে তাজরীন গার্মেন্টের বেঁচে যাওয়া কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। সেখানে আঙিনায় বসে ল্যাপটপে কাজ করছিলেন এক তরুণ। একপর্যায়ে তরুণটি যেচে নির্দেশনার ভঙ্গিতে বললেন, বাইরের বা স্থানীয় কারও বক্তব্য নেবেন না। তাজরীনের বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের বক্তব্য নেবেন। তার পরিচয় জানতে চাইলেও এড়িয়ে গেলেন। শ্রমিকরা জানান, তারাও ওই তরুণকে চেনেন না।
স্বজনের খোঁজে স্বজন: ভেতরে আটকা পড়া শ্রমিকদের স্বজনরা সারা রাত কারখানার বাইরে অপেক্ষায় থাকেন উৎকণ্ঠা নিয়ে। সকালে উদ্ধারকর্মীরা ভবনের ভেতর থেকে অগ্নিদগ্ধ লাশ বের করে জড়ো করতে থাকেন নিশ্চিন্তপুর স্কুল মাঠে। স্বজনদের আহাজারিতে এ সময় ভারি হয়ে ওঠে পরিবেশ। যখনই লাশগুলো স্কুলের বারান্দায় সারিবদ্ধ করে রাখা হয় তখনই সেখানে আপনজনদের খোঁজে আছড়ে পড়ে স্বজনরা। যারা মাঠে প্রিয়জনকে খুঁজে পাননি তারা ছুটে যাচ্ছেন ফ্যাক্টরি গেটে। হারানো স্বজনের খোঁজে অনেকে কাটিয়েছেন অনিশ্চিত সময়। কেউ কেউ তাজরিন ফ্যাশনের দগ্ধ ভবনে ঢোকার চেষ্টাও করেছেন। কণ্ঠে কান্না, চোখে অশ্রু, বুকে মাতম নিয়ে স্বজনদের এ ছোটাছুটির দৃশ্য দেখে চোখের জল ফেলেছেন অনেকেই। রংপুরের মিঠাপুকুরের আনোয়ার ইসলাম ভাগ্য ফেরাতে স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় আসেন। দু’জনই কাজ নেন আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর তাজরিন ফ্যাশনে। অগ্নিকাণ্ডের সময় আনোয়ার দ্বিতীয় ও তার স্ত্রী ষষ্ঠ তলায় কর্মরত ছিলেন। আগুন দেখে তিনি ছ’তলায় যাওয়ার চেষ্টা করলেও আশপাশের লোকজন যেতে দেয়নি। ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে গেলেও হারিয়েছেন স্ত্রীকে। একটি লাশ বের হয়, আর ওই কারখানারই শ্রমিক আনোয়ার প্রত্যেকের মুখের দিকে তাকিয়ে খোঁজেন স্ত্রী রেহানার মুখ। আনোয়ার জানান, ভবনের তিনটি সিঁড়ির একটি ছেলেদের ও দু’টি মেয়েদের। মেয়েদের সিঁড়ির দিকে আগুন লাগায় আটকে পড়েন তারা। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই ফ্যাক্টরির সামনে বসে আছেন তিনি স্ত্রীর অপেক্ষায়। পোড়া লাশগুলো যখন ফ্যাক্টরি থেকে বের করা হচ্ছিল তখন তিনি বারবার চেষ্টা করছিলেন দেখতে। স্কুলের বারান্দায় রাখা লাশের সারিতেও স্ত্রীর মুখ খুঁজে বেড়িয়েছেন। কিন্তু দিন শেষেও কাটেনি তার অপেক্ষার প্রহর, মেলেনি স্ত্রীর লাশ। আফরিন নামে আনোয়ারের এলাকার একটি তরুণী কাজ করতো তাজরিনে। অগ্নিকাণ্ডের পর খোঁজ নেই তার। বোনের খোঁজে রংপুর থেকে ছুটে এসেছেন ভাই আসাদুল ইসলাম। একবার কারখানার গেটে একবার স্কুল মাঠে ছুটছেন। কিন্তু দিনশেষে তিনিও খুঁজে পাননি বোনের লাশ। স্কুলের মাঠ থেকে নিলুফা নামের শ্রমিকের দগ্ধ লাশ নিয়ে ফিরছিলেন তার স্বামী ভ্যানচালক আবদুল হালিম। তিনি জানান, রাতে ডিউটিতে গিয়ে আর ফেরেননি নিলুফা। অগ্নিকাণ্ডের পর সারারাত বাইরে অপেক্ষার পর এখন স্ত্রীর পোড়া লাশ নিয়ে ফিরছেন বাড়িতে। শাহিদা নামের এক নারী ছোটাছুটি করছিলেন বোন সালমা আক্তারের লাশের খোঁজে। উদ্ধার কর্মীদের হাত-পা ধরে তিনি চাইছিলেন বোনের লাশ। সাতক্ষীরার বিলকিছকে রিকশায় জড়িয়ে ধরে আছেন তার এক প্রতিবেশী মহিলা। কাঁদতে কাঁদতে কণ্ঠস্বর ভেঙে গেছে। প্রতিবেশীটি জানান, মুন্নী নামে ছোট্ট একটি মেয়ে কর্মরত ছিল তাজরিনে। তার লাশ খুঁজতে খুঁজতে হয়রান হয়ে গেছেন তারা। পাশের এশিয়া নিটের শ্রমিক মাগুরার আতিয়ার রহমান রাত থেকে খুঁজে ফিরেছেন তার স্ত্রী শাহনাজ খাতুনের লাশ। ২০ বছর বয়সী শাহনাজ মাত্র একসপ্তাহ আগে তাজরিন ফ্যাশনে কোয়ালিটি অপারেটর হিসেবে যোগ দেন। অগ্নিকাণ্ডের দিনও স্বামী-স্ত্রী দুপুরে বাসায় একসঙ্গে খেয়েছেন। সেটাই তাদের শেষ দেখা। আগুন লাগার খবর পেয়ে ছুটে এসেছেন তাজরিনের সামনে। তারপর থেকে দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে রোববার দুপুরে সরিবদ্ধ লাশের মধ্যে পাগলের মতো স্ত্রীকে। শেষে ছুটে গেছেন ঢাকায় আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামে। আতিয়ার বলেন, শাহনাজ গার্মেন্টে আর কাজ করুক তা আমি চাইনি। কিন্তু সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে ও জোর করে কাজে যোগ দিয়েছে। তাকে জীবিত হয়ত পাব না, এখন লাশটি চাই। তাদের মতো হাজারো মানুষ নিশ্চিন্তপুরে অনিশ্চিত ছোটাছুটি করেছেন রোববার দিনভর। এমন বেদনাদায়ক সময়েও উদ্ধার তৎপরতা চালাতে উৎসুক স্বজনদের লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস ছুটতে হয়েছে পুলিশকে। কারণ কারখানার ভেতরে আটকা পড়া শ্রমিকদের খোঁজে দুর্ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়া স্বজনরা উদ্ধারকাজে বিলম্বের অভিযোগে সকালেই পুলিশের ওপর ঢিল ছুড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিপেটা ছাড়া উপায় ছিল না পুলিশের।
নিশ্চিত পুড়ে মরার চেয়ে বেঁচে থাকার অনিশ্চিত লাফ: নিশ্চিত পুড়ে মরার চেয়ে বেঁচে থাকতে ভবন থেকে অনিশ্চিত লাফ দিয়েছিলেন অনেকেই। ভবনের পুব দিকে একতলা টিনশেড ভবনের ওপর। তাদের কেউ হাত-পা ভেঙে, ক্ষত-বিক্ষত হয়ে বেঁচে আছেন। কেউ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন হাসপাতালে। সে অনিশ্চিত লাফেই অন্য পারে পাড়ি দিয়েছেন অন্তত ১০ জন। মিলি নামের একজন জানান, বেঁচে থাকতেই ঝুঁকি নিয়ে টিনের ওপর লাফ দিয়েছি। কেউ বেঁচেছি, কেউ মারা গেছে। যারা এলোমেলো ছোটাছুটি করেছে তাদের বের হতে দেরি হয়েছে। তিনি বলেন, কাজের চাপ কম থাকায় অন্যদিন ৫টায় বেশির ভাগ শ্রমিককে ছুটি দেয়া হলেও সেদিন অলস বসিয়ে রাখা হয়েছিল। শ্রমিকরা বলেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার দক্ষিণ-পূর্ব কোণার স্যাম্পল রুমের জানালার গ্রিল ভাঙতে না পারলে একজন শ্রমিকও জীবিত বের হতে পারতো না। তারা অভিযোগ করে বলেন, এক বছর ধরে বেতন-ভাতা নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল। আন্দোলন করেই আমাদের বেতন আদায় করতে হয়েছে। রোজার ঈদের পর একসঙ্গে ৬৩ জনকে বিনা বেতনে ছাঁটাই করা হয়েছে। ঈদুল আজহার পর তেমন কাজের চাপও ছিল না।
ভয়ার্ত কণ্ঠে দুর্যোগের বর্ণনা: তাজরিন ফ্যাশনের বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের মধ্যে এক অবর্ণনীয় আতঙ্কের ছাপ। শ্রমিক মো. লিপু জানান, শুরুতেই বেজে উঠেছিল ফায়ার এলার্ম। সচকিত শ্রমিকরা বেরিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের যান্ত্রিক ত্রুটির কথা বলে নিবৃত করেছে কর্মকর্তারা। এ সময় শ্রমিকদের বেশির ভাগই কর্মরত ছিলেন গার্মেন্টের দোতলার কাটিং, তেতলা ও চার তলার সুইং সেকশনে। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু সেখানে স্ট্রিম বা জেনারেটর বিস্ফোরণের কোন শব্দ হয়নি। তাজরিন ফ্যাশনের এক নারীকর্মী বলেছেন, আমাগো বাহির হইতে দ্যায় নাই।’ শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, এতগুলো গরিব শ্রমিক মারা গেলেও কর্মকর্তাদের কেউ হতাহত হননি। আগুনও কি একেক জনের জন্য একেক রকম আচরণ করে। নাকি তারা আমাদের আটকে রেখে নিজেরা আগে সরে গেছে। শ্রমিকরা বলেন, আগুনের লেলিহান শিখা ও দমবন্ধ কালো ধোঁয়া যখন ছড়িয়ে পড়েছে ভবনের নিচের দুই ফ্লোরে তখন জীবন বাঁচাতে প্রাণপণ ছোটাছুটি করেছেন শ্রমিকরা। কিন্তু মৃত্যুই যেন গরিবি জীবনের পরম আশ্রয়। তাই ভবনের প্রশস্ত তিনটি সিঁড়িই ছিল তালাবদ্ধ। তার ওপর সব ক’টি সিঁড়ির মুখেই আগুনের লেলিহান শিখা। সিঁড়ির মুখে দাউ দাউ আগুনের আঁচে টিকতে না পেরে মুহূর্তেই উপরমুখে ঘুরে যায় পলায়নপর শ্রমিকের মিছিল। বেড়ে যায় হুড়োহুড়ি, ধাক্কাধাক্কি। বাঁচার তাগিদে কে কার আগে উপরে যাবে তার প্রতিযোগিতা নেয় নির্মম রূপ। এ সময় পদদলিত হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা ভবনের পূর্বপাশের জানালার গ্রিল ভেঙে প্রায় ১০ফুট দূরে টিনশেড একতলা বাড়ির ওপর লাফিয়ে পড়তে শুরু করে। প্রথমে কিছু শ্রমিক আহত অবস্থায় বেঁচে গেলেও টিন খসে পড়ায় বাড়ির দেয়াল ও দুই ভবনের মধ্যবর্তী দেয়ালে আছড়ে পড়ে মৃত্যুবরণ করে। বেঁচে যাওয়া শ্রমিক নাজমুল ও মিলি জানান, কিছু শ্রমিক ভবনের দক্ষিণ-পূর্ব কোণায় ৩য় ও ৪র্থ তলার স্যাম্পল রুমের জানালার গ্রিল ভেঙে পাশের একটি নির্মাণাধীন দোতলা বাড়ির ছাদে নেমে যান। এ পথটিই বাঁচিয়ে দিয়েছে বেশির ভাগ শ্রমিকের জীবন। কিন্তু প্রতিটি ফ্লোরে হাতের কাছে থাকা ফায়ার ফাইটারগুলোও ছিল বিস্ময়করভাবে অব্যবহৃত। অথচ সিঁড়িতে যন্ত্রের নির্বাপক পদার্থ ছড়িয়ে দিলে বেরিয়ে যেতে পারতেন অনেকেই। বেঁচে যেতো আরও কিছু প্রাণ। মৃত্যুর মিছিলটি কিছুটা হ্রাস হতো। শ্রমিকরা জানান, রাতে ফায়ার সার্ভিসের পানি সঙ্কট হয়েছিল। তখন পাশের বাড়িগুলোর মোটর ছেড়ে পানির যোগান দেয়া হয়। উল্লেখ্য, গত ৫ই নভেম্বর কারখানায় অগ্নি-দুর্ঘটনাকালে করণীয় সম্পর্কে মহড়ার ব্যবস্থা করেছিল কর্তৃপক্ষ।
তারা বইছেন মানুষের দায়: শনিবার রাতভর আগুনে পোড়া তাজরিন গার্মেন্টকে তুবা গ্রুপ নামেই চেনে নিশ্চিন্তপুরবাসী। সেখান থেকে ভোর থেকেই উদ্ধারের পর গলিত-অর্ধগলিত লাশগুলো প্যাকেটে ঢোকানো হয়। তারপর পাশের দেওয়ান ইদ্রিস নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল মাঠে। স্কুলের বারান্দায় লাশগুলো সারিবদ্ধ করে রাখা হয় স্বজনদের শনাক্তের জন্য। আর কাজে নিয়োজিত ছিলেন নিশ্চিন্তপুরের স্থানীয় ভ্যানচালক রফিকুল ও তার সহযোগী শামীম। তারাই তাজরিন ফ্যাশন থেকে উদ্ধারকৃত লাশগুলো বয়ে নিয়ে যান স্কুল মাঠে। গলিত লাশগুলো যেন পড়ে না যায় তাই ধরে রাখে শামীম। আরেক ভ্যানচালক কাদের ও সহযোগী শফিক বয়েছেন ১৮টি লাশ। তারা জানেন না, লাশ বহনের ভাড়া পাবেন কিনা। কিন্তু ভাড়া নিয়ে তার মোটেই আক্ষেপ নেই। নিজের দায়িত্ব মনে করেই বয়ে নিচ্ছেন মৃতদেহগুলো। ভ্যানে করে আনার পথেই স্বজনরা দেখতে চায় প্যাকেটের ভেতরের লাশ। পিছু নেন ভ্যানের। তাদের সরিয়ে দেন শামীম। এ সময় পাথরের মতো মুখে রফিকুল জানান, ‘টাকা তো প্রতিদিন কামাই করি। লাশগুলো আত্মীয়-স্বজনের হাতে উঠলেই আমার পুষে যাবে।’ যেন তারা বয়ে নিচ্ছেন মানুষের দায়। কিছু লাশ স্থানীয়রা বয়ে এনেছেন হাতে ধরাধরি করে। স্কুল মাঠে লাশগুলোর তালিকা করে সেনাবাহিনী। অনেকে দাবি করেছেন তার প্রিয়জন এখানে কাজ করতো। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তার আর খোঁজ মিলছে না। বেঁচে থাকলে তো অবশ্যই খোঁজ পাওয়া যেত। প্রবীণ রাজনীতিক ড. কামাল হোসেন পোড়া ভবনটি ঘুরে আগুনের ভয়াবহতা দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তার কণ্ঠে বিস্ময়াভূত মন্তব্য, ‘জানের চেয়ে মালের নিরাপত্তাই তাহলে বেশি!’ যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের কাছে বলেন, সারি সারি লাশ পড়ে আছে। এতই মর্মান্তিক দৃশ্য ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এ মৃত্যু পাহাড়ের মতো ভারি।
নিশ্চিন্তপুরে শোকের মিছিল: রোববার সকাল থেকেই নিশ্চিন্তপুরে নেমেছিল উৎসুক মানুষের স্রোত। লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে বেলা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নিশ্চিন্তপুর স্টেশন থেকে নিশ্চিন্তপুর গ্রামের দু’টি সড়কে ছিল মানুষের সারি। সবার গন্তব্য তাজরিন ফ্যাশন ও দেওয়ান ইদ্রিস নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সবার চোখে মুখে বেদনার ছাপ। ঘটনার ভয়াবহতায় বিচলিত ও দুঃখভারাক্রান্ত। একেবারে প্রধান সড়ক থেকে নিশ্চিন্তপুরে পা ফেলাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। মহাসড়ক থেকে এক কিলোমিটার দূরে তাজরিন পৌঁছতে সময় লাগে আধ ঘণ্টার বেশি। বিকাল পর্যন্ত হাজারও শোকার্ত নারী-পুরুষের এ মিছিল। রাস্তায় রাস্তায় স্বজনহারাদের কান্না ও বুকফাটা আর্তনাদ। এলাকাবাসী জানায়, কখনও এত মানুষ দেখেনি নিশ্চিন্তপুরবাসী।
ট্র্যাজেডি ঘটে তবু ঘটে না বোধোদয়: তৈরী পোশাক শিল্প কারখানায় বারবার ঘটছে ট্র্যাজেটি। মর্মান্তিক সব মৃত্যুর দৃশ্যায়ন। অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে কাজ করতে আসা নিম্ন আয়ের সাধারণ নারী শ্রমিকরা বাড়ি ফিরছেন লাশ হয়ে। অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার এলার্ম বাজে কিন্তু ভবন ছাড়তে পারে না শ্রমিকরা। ভবনে বিকল্প সিঁড়ি থাকলেও তা থাকে তালাবদ্ধ। ফায়ার ফাইটার থাকলেও সেগুলোর ব্যবহার হয় না। বিজিএমইএ ও বিভিন্ন সংগঠনের দেয়া তথ্য মতেই, দুই দশকে গার্মেন্টে আগুনের ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৭০০ শ্রমিক। যদিও শ্রমিক সংগঠনের দাবি এ সংখ্যা অন্তত তিনগুণ। তাজরিন ফ্যাশনই বাংলাদেশের তৈরী পোশাক শিল্পে জানের ক্ষয়ে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। অসচেতনতা আর মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে কিছুতেই থামছে না এমন দুর্ঘটনা। বড় কোন ঘটনার পর টনক নড়ে সংশ্লিষ্টদের। গঠন করা হয় তদন্ত কমিটিও। কিন্তু মাছের মায়ের পুত্রশোক দ্রুতই হারিয়ে যায়। কেবল গার্মেন্ট মালিক প্রতিষ্ঠানের সামান্য কিছু অর্থ সাহায্যই তাদের শেষপ্রাপ্য। তুবা গ্রুপের প্রধান আমদানিকারক ওয়াল মার্ট এ প্রতিষ্ঠানকে রেখেছিল অরেঞ্জ তালিকায়। প্রশ্ন তুলেছিল পরিবেশগত ত্রুটির। কর্মস্থলের পরিবেশ অতিরিক্ত খারাপ হলে ওই প্রতিষ্ঠানকে ‘লাল’ তালিকায় রাখে তারা। পরপর দুই বছর ‘অরেঞ্জ’ রেটিং পেলেও ওই প্রতিষ্ঠান ‘লাল’ তালিকায় চলে যায়। কিন্তু সেদিকে কি নজর দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ? এখন সেগুলো কেবল প্রশ্ন আর আফসোসের কারণ। তাজরনি ফ্যাশন এখন পোড়া শ্মশান, সেখানকার ১১০জন শ্রমিক না ফেরার দেশে। শ্রমিক সংগঠনগুলো এমন মৃত্যুকে ‘স্বেচ্ছাকৃত অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড’ দাবি করলেও মালিক সংগঠন তা উড়িয়ে দিচ্ছেন স্রেফ দুর্ঘটনা বলে। কোটি কোটি টাকার সম্পদ হারানোর বেদনাই তাদের কণ্ঠে মুখ্য হয়ে ঝরছে। সে সম্পদ যাদের শ্রমে সে শ্রমিকদের প্রাণহানী নিয়ে কোন বেদনাবোধ নেই চেহারায়। নিহত শ্রমিকদের স্মরণে একদিনের শোক ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু এ শোক নিহত শ্রমিকদের ‘নুন আনতে পান্তা ফুরোয়’ পরিবারকে কি দেবে। যাদের কাছে প্রতীকী সম্মানের চেয়ে দু’বেলা দু’মুঠো অন্নের যোগানই মুখ্য।
ছয় কারণে এত প্রাণহানি: ছাদে ওঠার গেট বন্ধ থাকা, নিচে নামার একটি গেট বন্ধ করে রাখা, তিনতলার ফ্লোর গেট বন্ধ থাকা, অ্যালার্ম বাজার পরও শ্রমিকদের বেরুতে না দেয়া, আগুন লাগার এক ঘণ্টা পরও শ্রমিকদের না জানানো ও নিচে নামার দুই সিঁড়ির মাঝখানে গুদাম বানানো- তানজির ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডে এত প্রাণহানির পেছনে ওই ছয়টি কারণের কথাই উঠে এসেছে বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ করে। অগ্নিকাণ্ডের সময় ছাদে ওঠার গেটটি বন্ধ ছিল। আগুন লাগার সময় শ্রমিকরা ছাদে উঠতে পারলে ফায়ার ব্রিগেড মই দিয়ে ছাদ থেকে শ্রমিকদের নামিয়ে আনতে পারতো। এর আগে অন্যান্য জায়গায় আগুনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ছাদ থেকে লোক নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এখানে কোন শ্রমিক ছাদে যেতে পারেনি। ওই কারখানায় শ্রমিকদের নিচে বেরিয়ে আসার সিঁড়ি ২টি। দুর্ঘটনার সময় একটি সিঁড়ির কলাপসিবল গেটে তালা লাগানো ছিল। শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি শ্রমিক মারা গেছে তিনতলা ও চারতলায় অগ্নিকাণ্ডের সময়। ওই দুটি ফ্লোরের গেট বন্ধ ছিল। কোন শ্রমিক ফ্লোর থেকে বেরুতে পারেনি। যারা বেঁচে আছে তাদেরকে বেরুতে হয়েছে জানালা ভেঙে লাফিয়ে। আহত একাধিক শ্রমিক জানিয়েছেন, প্রথম ফায়ার অ্যালার্ম বাজে ৬টা ৪৫ মিনিটে। সে সময়ে শ্রমিকরা বেরুতে চাইলেও বিভিন্ন ফ্লোরের ইনচার্জ ও প্রোডাকশন ম্যানেজাররা শ্রমিকদের বেরুতে দেননি। ৬টা ৪৫ মিনিটে অ্যালার্ম বাজলেও মূল আগুন ছড়িয়ে পড়ে ৭টার দিকে। মাঝে এক ঘণ্টা সময় অনায়াসে বেরিয়ে আসতে পারতো শ্রমিকরা কিন্তু গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষ সেটা দেয়নি। নিচতলায় কর্মরত একজন শ্রমিক জানিয়েছেন, ৬টা ৪৫ মিনিটে ফায়ার অ্যালার্ম বাজলেও আসলে নিচতলার গুদামে আগুন লাগে আরও আগে, ৬টার দিকে। প্রথমে নিচতলায় কর্মরত সিকিউরিটি গার্ডরা নিজেরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তারা কারখানার কোন ফায়ার ডিস্টুংগিউসর ব্যবহার করেনি। আগুন নেভাতে না পেরে তারা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয় এবং অ্যালার্ম বাজায় কিন্তু ওপরের কোন ফ্লোরে আগুনের খবর দেয়নি। জানা গেছে, মালিকের ঢাকায় আরও ৬টি গার্মেন্ট আছে। তার সবগুলো গার্মেন্টের গুদামই এখানে। এখানে গুদাম করা হয়েছে শ্রমিকদের বেরিয়ে আসার দুটি সিঁড়ির মাঝখানে। গুদামে আগুন লাগার কারণে শ্রমিকরা বেরুতে পারেনি।

Monday, November 26, 2012

মুম্বাইয়ে হারের শঙ্কায় ভারত

মুম্বাইয়ে হারের শঙ্কায় ভারত


মন্টি পানেসারের ঘূর্ণিতে বিপর্যস্ত ভারত মুম্বাইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে হারের শঙ্কায় পড়ে গেছে। রোববার দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় দিন শেষে ভারতের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১১৭ রান। ৩ উইকেট হাতে নিয়ে স্বাগতিকরা মাত্র ৩১ রানে এগিয়ে।

ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের ঘূর্ণি-পিচে ভারতের তারকাখচিত ব্যাটিং লাইনআপ মুখ থুবড়ে পড়লেও দুই ব্যাটসম্যানের দৃঢ়তায় ইংল্যান্ড পেয়ে গেছে ৮৬ রানের মূল্যবান লিড। অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক ও কেভিন পিটারসেন শুধু শতকই করেননি, ওয়াংখেড়েতে তৃতীয় উইকেটে রেকর্ড ২০৬ রানের জুটিও গড়েছেন।

১৩টি চার ও একটি ছক্কায় কুক করেন ১২২ রান। পিটারসেনের ১৮৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ২০টি চার ও চারটি বিশাল ছক্কা।
দুজনেরই এটি ২২তম টেস্ট শতক। সুবাদে টেস্টে ইংল্যান্ডের পক্ষে সবচেয়ে বেশি শতক করার কৃতিত্বেও ভাগ বসিয়েছেন কুক-পিটারসেন। আর একটি শতক করলেই ওয়ালি হ্যামন্ড, কলিন কাউড্রে ও জিওফ্রে বয়কটকে পেছনে ফেলবেন তারা।
৫ উইকেট নিলেও সেজন্য প্রজ্ঞান ওঝার খরচ ১৪৩ রান। টেস্টে এই বাঁহাতি স্পিনারের এটি পঞ্চম বারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট শিকার।

জবাবে ৩০ রানের উদ্বোধনী জুটি পেলেও বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ভারত ভীষণ বিপদে। শততম টেস্ট খেলতে নামা বীরেন্দর শেবাগ এবং মুম্বাইয়ে সম্ভবত শেষ টেস্ট খেলা শচীন টেন্ডুলকারকে ফিরিয়ে দেন পানেসার।

যুবরাজ সিং, মহেন্দ্র সিং ধোনি ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনকেও আউট করা পানেসারের বোলিং ফিগারটা (১৬-২-৬১-৫) দুর্দান্ত। প্রথম ইনিংসেও ৫ উইকেট নিয়েছিলেন এই বাঁহাতি স্পিনার। এ নিয়ে দ্বাদশ বারের মতো ইনিংসে ৫ ও দ্বিতীয় বারের মতো ম্যাচে ১০ উইকেট পেলেন তিনি।

ভারতের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার মাঝে একমাত্র ব্যতিক্রম গৌতম গম্ভীর। ৫৩ রানে অপরাজিত আছেন তিনি। সোমবার তার ব্যাটের দিকেই তাকিয়ে থাকবে স্বাগতিকরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

ভারত : ৩২৭ (পুজারা ১৩৫, অশ্বিন ৬৮; পানেসার ৫/১২৯, সোয়ান ৪/৭০) ও ১১৭/৭ (গম্ভীর ৫৩*, শেবাগ ৯, পুজারা ৬, টেন্ডুলকার ৮, কোহলি ৭, যুবরাজ ৮, ধোনি ৬, অশ্বিন ১১, হরভজন ১*; পানেসার ৫/৬১, সোয়ান ২/৩৯)
ইংল্যান্ড : ৪১৩ (পিটারসেন ১৮৬, কুক ১২২; ওঝা ৫/১৪৩)

ঢাকায় জাবি ছাত্রের লাশ উদ্ধার

ঢাকায় জাবি ছাত্রের লাশ উদ্ধার

  রাজধানীর বাংলা মোটরে বহুতল ভবনের পাশের একটি টিনশেড ঘরের চালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের লাশ পাওয়া গেছে।

নিহত ফয়সাল করিম নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ৩৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি মওলানা ভাসানী হলের ২১৯ নম্বর কক্ষে থাকতেন তিনি।

ফয়সাল আত্মহত্যা করেছেন, না কি হত্যাকাণ্ডের শিকার তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রোববার বিকালে বাংলা মোটরের সিআর দত্ত রোডের ১৯ তলা প্লানার্স টাওয়ারের পাশে টিনের চালের ওপর থেকে ফয়সালের লাশ উদ্ধার করে শাহবাগ থানা পুলিশ।

পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সোহেল আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তাকে কেউ ফেলে দিয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

“ফয়সাল করিমের জিন্স প্যান্ট ও টি-শার্টের গোটানো অবস্থা দেখে এ সন্দেহ হয়েছে। তদন্তের পরই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবে,” বলেন তিনি।

প্রক্টর জানান, ফয়সালের বাবা ও ভাইয়ের তত্ত্বাবধানে লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা পুলিশকে জানিয়েছে, বিকাল সোয়া ৩টার দিকে বিকট শব্দ হয়, এরপরই টিনের চালের ওপর ফয়সালকে নিসাড় অবস্থায় পাওয়া যায়।

ফয়সলের মানিব্যাগ সঙ্গে পাওয়া গেলেও তার মোবাইল ফোনটি ছিল না বলে প্রক্টর জানান।

ব্যবহার হয়নি অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র

ব্যবহার হয়নি অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র


ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। আগুনের লেলিহান শিখায় ভবন থেকে বের হওয়ার পথও বন্ধ। জীবন বাঁচাতে শ্রমিকরা যখন ছুটাছুটি করছিলেন তখন তাদের হাতের কাছেই ছিল জীবন বাঁচানোর উপকরণ। অন্তত বের হওয়ার পথে এ যন্ত্রটিতে রাখা নির্বাপক পদার্থ ছড়িয়ে দিলেই তারা বের হতে পারতেন স্বচ্ছন্দে। কিন্তুু সেদিকে তাদের কি চোখ পড়েনি। নাকি ওই যন্ত্রের ব্যবহার সম্পর্কে কোন ধারণাই ছিল না? শ্রমিকরা এই যন্ত্রের ব্যবহার জানলে আগুনে পুড়ে যাওয়া ভবনটির প্রতিটি ফোরে রাখা অগ্নিনির্বাপন যন্ত্রগুলো অক্ষত থাকে কিভাবে? এই প্রশ্ন যারা বহুতল এই ভবনটিতে প্রবেশ করেছেন তারাই করেছেন। আগুনের লেলিহান শিখায় যখন সবকিছু পুড়ে একাকার তখনও নির্বাপন যন্ত্রগুলোর অক্ষত থাকায় সংশ্লিষ্টরা বলছেন এগুলোর ব্যবহার হলে হয়তো আরও কয়টি প্রাণ বেঁচে যেতো।

নানা প্রশ্ন ঘুরছে মানুষের মুখে মুখে

নানা প্রশ্ন ঘুরছে মানুষের মুখে মুখে


অগ্নিকাণ্ডের ২৪ঘন্টা পেরিয়ে গেছে। উদ্ধারকার্য শেষে তাজরীন ফ্যাশনের দগ্ধভবনটির নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। দাফন সম্পন্ন হয়েছে সনাক্ত হওয়া লাশের। সনাক্তহীন লাশগুলো স্বজনের অপোয় ঢাকা মেডিকেলের হিমঘরে। ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে তা হস্তান্তর করা হবে স্বজনদের কাছে। এদিকে নিশ্চিন্তপুরে এখনও পোড়া লাশের গন্ধ। শোকের মাতমে ভারী পুরো পরিবেশ। তবে কমে এসেছে উৎসুক মানুষের ভীড়। কিন্তু মানুষের মুখে মুখে ফিরছে কিছু প্রশ্ন। যার কোন উত্তর মিলছে না। সেখানে কর্মরত শ্রমিক মোহাম্মদ লিপু, মিলি ও নাজমুলের ভাষ্য মতে, অগ্নিকান্ডের শুরুতেই বেজে উঠেছিল ফায়ার এলার্ম। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কথা বলে শ্রমিকদের আটকে রেখেছিল সিনিয়র কর্মকর্তারা। মানুষের প্রশ্ন, ফায়ার এলার্ম বাজার পরও কেন শ্রমিকরা গার্মেন্টস ভবন ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ পেল না। ৯তলা ভবনটিতে রয়েছে তিনটি সিড়ি। সিড়ির তালাবন্ধ গ্রিলগুলো কেন খোলা হলো না দ্রুত। কেন ছুটির টাইমিংয়ে হেরফের হলো। তাজরীন ফ্যাশনে কর্মরত ও বেঁচে যাওয়া একাধিক শ্রমিকের দাবি, ঈদুল আযহার পর থেকে কাজের চাপ ছিল কম। প্রায় দিনই ৫টার মধ্যে বেশিরভাগ শ্রমিককে ছুটি দেয়া হত। গতকাল কাজের চাপ না থাকা সত্বেও কেন শ্রমিকদের ৮টা পযর্ন্ত ডিউটিতে রাখা হল। শ্রমিকদের প্রশ্ন নীচতলার আগুন কিভাবে দ্রুতততম সময়ে ছড়িয়ে পড়ল ভবনের চারতলা পর্যন্ত। প্রতিটি সিড়িতেই কিভাবে ছড়াল আগুন। এসব প্রশ্ন এখন শ্রমিক ও আশপাশের উৎসুক মানুষের মুখে। বেঁচে যাওয়া শ্রমিকরা বলছেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার দনি-পূর্ব কোনার স্যাম্পল রুমের জানালার গ্রিল ভাঙতে না পারলে একজন শ্রমিকও জীবিত বের হতে পারতো না।
সিআইডির ফরেনসিক দলের তৎপরতা
বিকালে ঘটনাস্থলে আসেন সিআইডির ফরেনসিক টিম। তারা অগ্নিদগ্ধ ভবনের প্রতিটি ফোরের বিভিন্নস্থানের ছবি তোলেন। ধারণ করেন প্রয়োজনীয় ভিডিওচিত্র। জব্দ করেন দগ্ধ শ্রমিকদের পোড়া হাড়গোড়সহ নানা জিনিস। ভবনের মুল গেটে স্থাপিত ও দগ্ধ হয়ে যাওয়া সিসিটিভির ক্যামেরা দুটোও। কিন্তু ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের পর হাজার হাজার মানুষকে সেখানে প্রবেশের সুযোগ দেয়া ও পরে আলামত সংগ্রহ করায় প্রশাসনের প্রতি ােভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
উৎসুক মানুষের ভীড়ে লুট: আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর প্রথমেই লাশগুলো উদ্ধার করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তারপর সবার জন্য খুলে দেয়া হয় ভবন। এ সময় সাংবাদিকসহ উৎসুক মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে সেখানে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন ঘটনার ভয়াবহতায় বিচলিত ও দুঃখভারাক্রান্ত। তবে অনেকেই দগ্ধভবন থেকে এটা-ওটা সরিয়ে নেন।

আশুরার মাতম আশুলিয়ায়

আশুরার মাতম আশুলিয়ায়


১০ই মহরম। শোকাবহ আশুরার দিন। ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে এই দিনে কারবালার প্রান্তরের হৃদয়বিদারক ঘটনায় এই দিনে শোকের মাতম করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। প্রতিবছর ঢাকায়ও হয় তাজিয়া মিছিল। বুক চাপড়িয়ে মাতম করে মানুষ। এমন এক শোকাবহ দিনে এই ঢাকায়ই তৈরি হলো আরেক শোকের মাতম। এই মাতম স্বজন হারানোর মাতম। এই মাতম স্বজনের অঙ্গার দেহ দেখার মাতম। আশুরার মাতমের দিনে এমন মাতম দেখা গেছে আশুলিয়ায়। এ যেন আশুরার মাতম আশুলিয়ায়।
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঝরে গেছে ১১০টি তাজা প্রাণ। আগুনে পুড়ে যাওয়ায় ৫৮ টি মানুষের শরীরে নেই তার পরিচয়টুকুও। উপায় নেই চেনার। বোন হারানো ভাই, স্ত্রী হারানো স্বামী আর সন্তান হারানো বাবা মা’র মাতমে আশুলিয়া ছিল দিনভর ভারাক্রান্ত।
এমন শোকাবহ ট্রাজেডিতে শোকে মুহ্যমান গোটা দেশ। এতো মৃত্যুর করুণ দৃশ্য শোকে আচ্ছন্ন করেছে সব মানুষকে। আর তাইতো রাস্তায় আশুরার তাজিয়া-মিছিল ছাপিয়ে দীর্ঘ ছিল আশুলিয়ায় মানুষের মিছিল। স্রোতের মতো মানুষ সেখানে গিয়েছে।

আশুলিয়ায় উদ্ধারকাজ সমাপ্ত: পুলিশ বলছে, আগুনে নিহত ১১১

আশুলিয়ায় উদ্ধারকাজ সমাপ্ত

পুলিশ বলছে, আগুনে নিহত ১১১

 


ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় পোশাক কারখানা তাজরীন ফ্যাশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আজ রোববার এ পর্যন্ত ১১১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রত্যেক নিহত ব্যক্তির পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিজিএমইএ। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উদ্ধারকাজ সমাপ্ত করা হয়। এ ঘটনা তদন্তে সরকারের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিহতের সংখ্যা আসলে কত?
আগুনে পুড়ে এ পর্যন্ত কতজন পোশাককর্মী নিহত হয়েছেন, এ নিয়ে নানা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম বদরুল আলম প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ১১১টি লাশ পাওয়া গেছে। গতকাল রাত একটা পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। আর গতকাল গভীর রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত ১০১টি লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ১০১টি লাশের মধ্যে ৪৩ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঢাকার জেলা প্রশাসক শেখ ইউসুফের তত্ত্বাবধানে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। তাঁরা হলেন: কাকলি, নয়ন, আজিমুদ্দিন, রূপসা, তোফাজ্জেল, দুলাল, ফরিদা, রাশেদা, নাসরিন, মনজুরা, পলাশ, বিউটি, সুমন, মিতু, মালা, ফারুক, সাদ্দাম, দুলালি, মৌসুমী, শাহ আলম, সুমাইয়া, বুলবুলি, শিউলি, ফায়জুল, জান্নাতুল ফেরদৌস, রেহানা, রানা, আনোয়ারা, মাসুদ, রহিমা, মনিরা, করিব, মাহমুদা, মালেক, আদুরি, শিরিন, হালিমা, গোলাপী রানী, সাথী, মাহমুদ, মুন্নি, বিভাস ও রেহানা।
আর যে ৫৮টি লাশ চিহ্নিত করা যায়নি সেগুলো দাফনের জন্য বেসরকারি সংস্থা আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম নিয়ে গেছে।

ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ সকালে জানিয়েছিল, এ দুর্ঘটনায় মোট ১২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর মাহবুবুর রহমান দুপুরে জানান, কারখানার তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলা থেকে ১১৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি লাশ পাওয়া যায় তৃতীয় তলায়।

তদন্ত কমিটি
অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাইন উদ্দিন খন্দকারকে আহ্বায়ক করে সরকার চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—ঢাকা উত্তর শিল্পাঞ্চল পুলিশের মহাপরিচালক মো. আবদুস সালাম, ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (ঢাকা) মো. আবদুস সালাম ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (অগ্নি) সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার।
সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার এই কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

আর্থিক সহায়তার আশ্বাস
তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির আশুলিয়া অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী জাহানারা আকতার।
ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৫ হাজার করে টাকা পরে দেওয়া হবে বলে জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে।
যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পর্যাপ্ত সাহায্য-সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন।

উদ্ধারকাজ সমাপ্ত
গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে পোশাক কারখানা তাজরীন ফ্যাশনে আগুন লাগে। তখন থেকেই ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর দলও উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। আজ ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে আগুন নেভানো সম্ভব হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উদ্ধারকাজ সমাপ্ত করা হয় বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর মাহবুবুর রহমান।

স্বজনের অভিযোগ
সকালে লাশ বের করতে দেরি হওয়ার অভিযোগ করে নিহত ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় লোকজন ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় তারা পুলিশ ও কারখানা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার শোক
শতাধিক পোশাককর্মীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিত্সা এবং নিহত ব্যক্তিদের প্রত্যেক পরিবারকে সহায়তা হিসেবে এক লাখ টাকা করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুচিকিত্সা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।

Sunday, November 25, 2012

টমেটোর ১০ উপকারিতা

টমেটোর ১০ উপকারিতা


সবজি হিসেবে টমেটোর জুড়ি মেলা ভার। এটি যেমন কাঁচা খাওয়া যায়, ঠিক একইভাবে রান্না সুস্বাদু করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। সালাদে বা মুড়ি মাখানোর সময় টমেটো অতুলনীয়। টমেটো সসের তো কথাই নেই। শরীরকে সুস্থ-সবল রাখতে টমেটোর ভূমিকার কথা নতুন নয়। সর্বাধিক উপকার পেতে টমেটো কাঁচা খাওয়ার পরামর্শই দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। আর দামটাও অনেকটাই নাগালের মধ্যে। টমেটোতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি, সি, কে, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, লাইকোপিন, ক্রোমিয়াম ও আরও গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনসমূহ। টমেটো খাওয়ার ১০টি উপকারিতা এখানে তুলে ধরা হলো:
১) ত্বকের জন্য বিশেষভাবে উপকারী টমেটো। সৌন্দর্য সচেতন নারীরা অনেক সময় টমেটোকে ব্যবহার করেন দামী প্রসাধনীর বিকল্প হিসেবে।
২) বিশেষ কয়েক ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। এর মধ্যে পাকস্থলী, কোলোরেক্টাল ও প্রোস্টেট ক্যান্সার অন্যতম।
৩) মজবুত হাড় গঠনে সহায়তা করে টমেটো।
৪) ধূমপান ছাড়তে সহায়ক ভূমিকা পালনের সঙ্গে সঙ্গে ধূমপানের কারণে শরীরে সৃষ্ট ক্ষতি পুষিয়ে নিতেও কার্যকরী এ সবজি।
৫) টমেটো শরীরে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে যা শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে করে।
৬) হার্টের জন্যও ভালো টমেটো। কোলেস্টেরলের মাত্রা ও রক্তচাপ কমাতে সহায়ক এটি। তাই নিয়মিত টমেটো খেলে, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে আসবে।
৭) চুল ও দাঁতের জন্য উপকারী এ সবজি।
৮) কিডনিকে সুস্থ-সবল রাখতে ভূমিকা পালন করে টমেটো।
৯) টমেটোতে রয়েছে ভিটামিন এ যা দৃষ্টিশক্তিকে আরও উন্নত করে।
১০) ডায়াবেটিসের জন্য টমেটো বেশ উপকারী। এ সবজি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।

টেস্টে সাকিবের ১০০ উইকেট

টেস্টে সাকিবের ১০০ উইকেট

 


হঠাৎ গোটা স্টেডিয়াম নীরব, নিস্তব্ধ। সাকিবের সকালের আনন্দ, বিকালে দেখা দেয় দুঃখে। অথচ একটু সাবধানী হলেই সাকিব হতে পারতো ১০০-তে ১০০। টেস্ট ক্যারিয়ারে গতকালই সকালে ১০০ উইকেট শিকারীর খাতায় নাম লিখিয়েছেন সাকিব। আর বিকালে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র তিন রান দূরে পারমলের বলে সজোরে শট হাঁকালেন। মিডঅফে বল উড়ে গেল আকাশে। সেখানে ফিল্ডার টিনো বেস্ট ভুল করলেন না। ক্যাচ লুফে নিয়ে সাকিবকে দেখালেন সাজঘরের পথ। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ চতুর্থদিন মাঠ ছাড়লো ৩৫ রানে পিছিয়ে থেকে। এর আগে দুপুরে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে একশ’ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব নিজের দখলে নেন সাকিব। ৩৩ ম্যাচে ৪০.৭৬ গড়ে ১০০ উইকেট নিয়ে এতোদিন সবার উপরে ছিলেন রফিক। আর তার সেরা ৬/৭৭। নিজের ২৮তম টেস্টেই রফিককে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছেন সাকিব। সাকিব রফিকের এই রেকর্ড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ায় অনেক খুশি।
বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিন। দিনের নায়ক হয়ে উঠলেন সাকিব আল হাসান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ৪টি উইকেট নিয়ে ছুঁয়ে ফেললেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ১০০টি উইকেট দখলের ল্যান্ডমার্ক। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চতুর্থদিন ব্যাট করতে নেমে ভারতকে ছাড়িয়ে যায়। বাংলাদেশের বিপক্ষে এক ইনিংসে দলগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড এতদিন ছিল ভারতের। ২০০৭ সালে ঢাকায় ভারত ৩ উইকেটে ৬১০ রান করে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল। গতকাল খুলনা টেস্টের চতুর্থ দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯ উইকেটে ৬৪৮ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে। এই রান স্কোর আরও বড় হতে পারতো। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খুলনায় দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিন এক ওভারে দীনেশ রামদিন ও ড্যারেন স্যামিকে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে রফিকের পাশে দাঁড়ান সাকিব। পরে পরপর দুই বলে বীরাসামি পারমল ও সুনীল নারাইনকে বিদায় করা এই অলরাউন্ডার টেস্ট উইকেট এখন ১০২টি। দ্বিতীয় টেস্টের মধ্যাহ্ন-বিরতি পর্যন্ত ৩২.৫১ গড়ে এই উইকেট নিয়েছেন তিনি। এর আগে তার ম্যাচ সেরা শিকার ৯/১১৫ উইকেট। এই নিয়ে সাকিব ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে নিয়েছেন সর্বোচ্চ ২৯টি উইকেট। তার ১০২টি উইকেটের মধ্যে বাংলাদেশের মাটিতে নিয়েছেন ৬৩টি উইকেট।
অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৬১ রানের লিড তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ দল টপ অপর্ডার ও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় পড়ে চরম ব্যাটিং বিপর্য়য়ে। মাত্র ৬২ রানেই হারায় ৫ উইকেট। সেখান থেকে ৫ম উইকেটে দলের হাল ধরেন সাকিব ও নাসির হোসেন। গড়ে তোলেন ১৪৪ রানের জুটি। দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে নিয়ে যান এই দু’জন। শেষ বিকালে এক প্রান্ত আগলে রেখে সাকিব তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ১১ তম টেস্ট ফিফটি তুলে নেন। এর পর তিনি সেঞ্চুরি থেকে ৩ রান থেকে আউট হন। এর আগে তিনি টেস্টে আরও চারবার ৯০-এর ঘর পার করেছেন। কিন্ত ভাগ্য তাকে সেঞ্চুরি উপহার দেয়নি। ২০০৮ সালে ঢাকাতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯৬ রান করেন তিনি। এরপর ২০০৯ সালে দ্বিতীয় বার ৯৬ রানে অপরাজিত থাকেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই। আর ২০১০ সালে ঢাকাতেই তিনি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন ৯৬ রান। আর গতকাল তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১০টি চার ও একটি ছয়ের মারে ১১৭ বল খেলে ৯৭ রান করে আউট হন। তিনি বাংলাদেশের দলের ক্রিকেটার যিনি সর্বোচ্চ ৪ বার নার্ভাস নাইনটিজের শিকার। তার আগে ছিলেন হাবিবুল বাসার ২ বার। তার আউটের পর ৬৪ রান নিয়ে আপরাজিত আছেন নাসির হোসেন।
সাকিব আল হাসানের এই শেষ মুহূর্তে আউট হওয়া প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক স্পিনার মো. রফিক বলেন, ‘আসলে এমন সময় ওর আউট হওয়াটা কারো জন্যই সুখকর হয়নি। নিজের জন্যও না, দলের জন্যও না। ওর শেষ মুহূর্তে আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। তাহলে কাল (আজ) দল আরও ভাল অবস্থানে থাকতো। এই ১০০ উইকেটের চেয়ে এই ১০০ রান ওকে নিয়ে যেতো আরও উচ্চতায়।

চট্টগ্রামে ফ্লাইওভারের গার্ডার ভেঙে নিহত ৫

চট্টগ্রামে ফ্লাইওভারের গার্ডার ভেঙে নিহত ৫


চট্টগ্রাম থেকে: চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের দু’টি গার্ডার ভেঙে ঘটনাস্থলে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত ৩০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতায় সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে। আহত বেশির ভাগকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নগরীর বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের অফিসে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। উদ্ধার কাজে আসতে দেরি হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজন জানান, গতকাল হঠাৎ করেই বহদ্দারহাটের ওই ফ্লাইওভারের খাজা রোডের অংশের দু’টি গার্ডার ভেঙে পড়ে। গার্ডার দুটি এই সময় ফ্লাইওভারের নিচে সরগরম থাকা একটি কাঁচাবাজারের লোকজনের ওপর পড়ে তাদের চাপা দেয়। মুহূর্তেই সেখানে আহত মানুষের চিৎকারে আশপাশের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। আহত মানুষদের উদ্ধারে লোকজন এগিয়ে আসে। এদের মধ্যে বেশির ভাগকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী মাইক্রোবাস চালক ফকরুদ্দিন ঘটনার বিবরণ দিয়ে মানবজমিনকে বলেন, আমরা কয়েকজন বাসচালক ওই ফ্লাইওভারের দক্ষিণ দিকে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। তারপর দেখলাম সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দু’টি বড় বড় গার্ডার উপর থেকে নিচে ধসে পড়লো। এরপর মানুষের আওয়াজ শুনে এগিয়ে গিয়ে দেখি তারা আর্তনাদ করছে। অনেকে চাপা পড়ে আল্লারে ডাকছে।
খাজা রোডের পুকুরপাড় নামক এলাকায় এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন জহির আহমেদ নামের আরও এক সবজি ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, দু’টি বড় বড় পিলার চাপা দিয়েছে। এর নিচে অনেক মানুষ। ওদেরকে টেনে বের করেছি।’ চট্টগ্রাম নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এসএম তানভীর আরাফাত মানবজমিনকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও অনেক মানুষ চাপা পড়েছে।
এর আগেও একইভাবে চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের আরও বেশ কয়েকটি গার্ডার ভেঙে পড়ে। তখন একজন রিকশাচালকের মৃত্যু হয় ঘটনাস্থলে। এরপর চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে তদন্ত কমিটি করলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ইতিপূর্বে লোকজন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ এনেছিল।’

পবিত্র আশুরা আজ

পবিত্র আশুরা আজ

নীল সিয়া আসমান, লালে লাল দুনিয়া/ আম্মাগো লাল তেরি খুন কিয়া খুনিয়া /কাঁদে কোন ক্রন্দসী কারবালা ফোরাতে/ সে  কাঁদনে আঁসু আনে সীমারের ছোরাতে। আজ ১০ই মহররম। পবিত্র  আশুরা। ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম হৃদয়বিদারক ও মর্মস্পর্শী ঘটনার দিন। বিশ্ব ইতিহাসেও দিনটি স্বীকৃত নির্মমতার জন্য। আজকের দিনে ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে পৃথিবীর নির্মমতম ঘটনার অবতারণা হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.) মাত্র ৭২ জন সহযোগী নিয়ে এজিদের বিশাল বাহিনীর সঙ্গে জিহাদ করে শহীদ হন। তার আগে এজিদ বাহিনীর ঘাতকরা একে একে হত্যা করে ইমাম হোসেন (রা.)-এর স্ত্রী, পুত্র ও সকল নিকটাত্মীয়কে। মুসলিম জাহানের তৎকালীন স্বঘোষিত খলিফা ইয়াজিদ দায়িত্ব তুলে দেয়ার কথা বলে কুফা নগরীতে আমন্ত্রণ জানায় হযরত ইমাম হোসেন (রা.)-কে। পথে কারবালা প্রান্তরে অবরুদ্ধ করা হয় তাদের। তৃষ্ণার্ত ইমাম হোসেন (রা.)-কে ফোরাত নদীর পানি পর্যন্ত পান করতে দেয়া হয়নি। তার সব সঙ্গী ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হওয়ার পর নির্মম সীমারের হাতে শহীদ হন ফাতেমা (রা.)-র পুত্র মহানবীর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসেন (রা.)। এজিদ ঘোষিত পুরস্কারের লোভে সীমার এ বর্বরোচিত হত্যা ঘটায়। কারবালার ঘটনা ছাড়াও আরও অনেক কারণে ১০ই মহররম মুসলিম বিশ্বে তাৎপর্যমণ্ডিত। ইসলামের ইতিহাসে এদিনে অনেক ঘটনা ঘটেছিল। এদিনেই আল্লাহতায়ালা এ পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং এদিনেই পৃথিবী ধ্বংস করবেন। এদিনে অনেক নবী রাসুল জন্মগ্রহণ করেন। আদিপিতা হযরত আদম আ.-এর তওবা এদিন আল্লাহতায়ালা কবুল করেন। এদিনই হযরত নুহ আ. ও তার সঙ্গীরা ভয়াবহ প্লাবন থেকে মুক্তি পান। হযরত ইউনুস আ. মাছের পেট থেকে মুক্তি পান। প্রায় ১৪শ’ বছর ধরে সারা বিশ্বের মুসলমানরা ১০ই মহররমের শোককে শক্তিতে পরিণত করতে রোজা রাখেন। দোয়া, মহররমের মর্সিয়া আর মাতমের মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এদিনটি পালন করে থাকেন। এদিনটি তাই একদিকে মুসলমানদের জন্য শোকাবহ, অন্যদিকে তাৎপর্যমণ্ডিত। সারা বিশ্বের মতো এ দেশেও নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাজিয়া মিছিল ও মাতম করে গায়ের রক্ত ঝরান শিয়া সমপ্রদায়। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচির মধ্যে আছে তাজিয়া মিছিল, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল। আজ সকালে রাজধানীর হোসনি দালান থেকে বের করা হবে সবচেয়ে বড় তাজিয়া মিছিল। এছাড়া মোহাম্মদপুর থেকেও বের করা হবে মিছিল। দিবসটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট তার বাণীতে বলেন, পবিত্র আশুরা সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য এক তাৎপর্যময় শোকাবহ দিন। সত্য প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে হযরত ইমাম হোসেন (রা.) ও তার ঘনিষ্ঠ সহচরবৃন্দ এদিনে ইয়াজিদের সৈন্যদের হাতে কারবালায় শহীদ হন।  তার এই আত্মত্যাগ মানব ইতিহাসে চিরভাস্কর হয়ে আছে। কারবালার শোকাবহ ঘটনার স্মৃতিতে ভাস্বর পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী তাই আমাদেরকে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে উদ্বুদ্ধ করে এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার প্রেরণা যোগায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, পবিত্র আশুরা মানব ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। বিভিন্ন কারণে এ দিনটি বিশ্বের মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। ১০ই মহররম মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.) ও তার পরিবারবর্গ কারবালা প্রান্তরে শাহাদাৎবরণ করেন। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের এ আত্মত্যাগ মুসলিম উম্মাহর জন্য এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। আমাদের জাতীয় জীবনে সকল অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আশুরার মহান শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে আমি সবার প্রতি আহ্বান জানাই। বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার বাণীতে বলেন, ১০ই মহররম সারা বিশ্বে মুসলমানের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। সমাজ ও রাষ্ট্র সত্য ও ন্যায়ের জন্য ইমাম হোসেন রা.-এর ত্যাগ বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলমানদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। তিনি বলেন, অন্যায়-অবিচার, অন্যায্য ও অবৈধ অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়া মানুষের কর্তব্য।

Saturday, November 24, 2012

টেস্টের মেজাজটা এত দিনে ধরতে পেরেছেন বোলাররা

টেস্টের মেজাজটা এত দিনে ধরতে পেরেছেন বোলাররা

বাংলাদেশ দলের ব্যাটিংকেন্দ্রিক চিন্তায় বোলাররা, বিশেষ করে পেসাররা বরাবরই অবহেলিত। ইদানীং যেন আরো বেশি। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজেই যেমন টানা দুই টেস্টে তাঁদের প্রতিকূল উইকেটে বোলিং করার চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছে। গতি আর বুদ্ধির মিশেলে সে চ্যালেঞ্জ গ্রহণও করা রুবেল হোসেন প্রশ্নটা শুনে নিরুপায়ের হাসি হাসলেন প্রথমে। 'এমন উইকেটে বোলিং করতে কেমন লাগে?'- এ প্রশ্নের জবাবে আরো বেশি অনন্যোপায় মনে হলো ইনজুরি কাটিয়ে চলতি সিরিজ দিয়েই এক বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা এ পেসারকে, 'আমি যেহেতু বোলার, কাজেই অবশ্যই চাইব আমাদের বোলারদের জন্য যেন উইকেটে একটু সহায়তা থাকে। কিন্তু আমাদের তো দলের কথা চিন্তা করেই সব সিদ্ধান্ত হয়।'
কে না জানেন যে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে স্বাগতিক দলের মনমতো উইকেট তৈরি করে নেওয়ার সুযোগ থাকে। বাংলাদেশও কখনো সে সুযোগটা হেলায় হারায়নি। এবার অবশ্য স্পিন-সহায়ক উইকেট তৈরির চিন্তা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে। কারণ ক্যারিবীয় দলে সুনীল নারিনের উপস্থিতি এবং একই সঙ্গে কিছুদিন আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ হাই পারফরম্যান্স দলের বাংলাদেশ সফর থেকে সাফল্য নিয়ে ফেরা বাঁহাতি স্পিনার বীরাস্বামী পেরমল। হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কায় এবার নতুন চিন্তার ফল দেখেছেন ঢাকায় সিরিজের প্রথম টেস্টেই। সেখানে নিজেদের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৫৫৬ রান করায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের শ্রীলঙ্কান কিউরেটর গামিনি ডি সিলভাকে এমনকি খুলনায় উড়িয়ে আনার প্রস্তাবও করেছিলেন কেউ কেউ। ব্যাটসম্যানরা যেহেতু রান করছেন কাজেই...।
কিন্তু ব্যাটসম্যানদের নিজেদের ভুলে সেখানেই এখন বিপাকে বাংলাদেশ। শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের উইকেটে ক্যারিবীয়দের রান-পাহাড় আরো উঁচু হওয়ার অপেক্ষা। সেখানে সারা দিন ক্লান্তিহীন বোলিং করে গেছেন বোলাররা। দুই পেসার রুবেল ও আবুল হাসান মারলন স্যামুয়েলসদের নানাভাবে ভুলের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করেছেন। কখনো কখনো অল্পের জন্য সাফল্যের মুখ দেখেননি। ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করা স্যামুয়েলস তো পরাস্ত হয়েছেন বেশ কয়েকবারই। ২৮ ওভার বোলিং করে আটটি মেডেনসহ ৭৫ রানে দুই উইকেট নেওয়া রুবেল যেমন বলছিলেন, 'এ উইকেটে বোলিংয়ে বৈচিত্র্য না আনলে আসলে ফল পাওয়া কঠিন। আবুল হাসান স্লোয়ার দিয়ে খুব ভালো চেষ্টা করেছে। বাউন্সারের পাশাপাশি আমিও স্লোয়ারে ওদের ভুল করানোর চেষ্টা করে গেছি।'
স্পিনাররাও চেষ্টা করে গেছেন সাধ্যমতো। ফলের খাতায় নম্বর অবশ্য খুব বেশি যোগ করতে পারেননি। তাতেও হাল না ছাড়ার মানসিকতার প্রকাশকেও প্রাপ্তি হিসেবে ধরা যায়। এ সিরিজ শুরুর আগে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও এ জায়গাটায় উন্নতির লক্ষ্যের কথা বলেছিলেন। প্রতিপক্ষ রান-পাহাড় তুলে ফেলার পর বোলারদের শরীরী ভাষায় যেন সব কিছু ছেড়ে-ছুড়ে না দেওয়াটা ফুটে ওঠে। সেটা ফুটিয়ে তুলতে পারছেন বলেই দাবি করলেন রুবেলও, 'একঘেয়ে লাগে না। বল করাই তো আমার কাজ। বোলিংটাই করতে হবে।' করতে গিয়ে এখন শুধু তিনি একা নন, অন্য বোলাররাও উদ্যোগী বলে জানালেন, 'আমরা বোলাররা এখন টেস্ট ক্রিকেটের মেজাজটা অনেক বেশি ধরতে পারছি। এমন নয় যে শুধু আমাদের বিপক্ষেই এত এত রান হচ্ছে। অন্যান্য জায়গাতেও তো হয়। তাই বলে চেষ্টা থামিয়ে দিলে হয় না। এ জন্য আজ (গতকাল) সারা দিনে আমরা কিন্তু কম চেষ্টা করিনি।'
লাফিয়ে ওঠা বলে যেমন অপ্রস্তুত করে দিয়েছিলেন স্যামুয়েলসকে। আর তাতে ক্যারিয়ারে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করা ওই জ্যামাইকানের ট্রিপল সেঞ্চুরির স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছেন। কাল সারা দিনে ওই একটাই সাফল্য পাওয়া রুবেলের বাউন্সার দেওয়ায়ও ছিল চিন্তার ছাপ, 'এই উইকেটে বাউন্সার দেওয়াও কঠিন। সব সময় বল ওঠে না। এর একটা সুবিধাও আছে। যেসব উইকেটে সহজে বাউন্সার দেওয়া যায়, সেখানে ব্যাটসম্যানদের কাজটাও সহজ। আরামে মাথা নামিয়ে ছেড়ে দেয়। কিন্তু এ উইকেটে বল সব সময় ওঠে না বলে ব্যাটসম্যানও বোঝার ভুলে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে সুযোগ থাকে।' বোলিংয়ের গতি নিয়ে তাঁর কথা, 'আপনারা জানেন, এটা ব্যাটিং উইকেট। আমি তাই চেষ্টা করেছি ভালো জায়গায় বল করতে এবং ব্যাটসম্যানকে পরাস্ত করতে। আর ইনজুরি থেকে যেহেতু এক বছর পর ফিরেছি, চেয়েছি আস্তে আস্তে আমার গতিটা বাড়াতে। আজ সকাল থেকে আরেকটু ছন্দ পাওয়াতে গতিটা আরো বেড়েছে।' নিষ্প্রাণ উইকেটে বহুবার ব্যাটসম্যানকে পরাস্ত করেও সাফল্য না পাওয়ার হতাশাও অবশ্য রুবেলের সঙ্গী হয়ে থেকেছে, 'যখন দেখছি ব্যাটসম্যান বিট হচ্ছে কিন্তু উইকেট পাচ্ছি না, তখন অসহায়ই লাগে।'
নিঃস্ব হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে ব্যাটিং উইকেটে বোলিং করতে নামা রুবেলরা তবুও হাল ছাড়েন না। ক্যারিবীয়দের রান-পাহাড়ও যে প্রাপ্তিকে আড়াল করতে পারছে না!

ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কৌশল বদল: বাহন প্রাইভেট কার, হস্তান্তর হোটেলে

ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কৌশল বদল:
বাহন প্রাইভেট কার, হস্তান্তর হোটেলে 

ইয়াবা বাণিজ্যের কৌশল বদলেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। এখন গাদা বা বাহক ব্যবহার না করে নিজেরাই গাড়িতে করে বড় চালান পৌঁছে দিচ্ছে রাজধানীতে। কক্সবাজারের চিহ্নিত ইয়াবা সিন্ডিকেটের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে ইয়াবা পৌঁছে দিচ্ছে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়। কিছুদিন পরপর হাজার হাজার ইয়াবা একসঙ্গে পাঠাচ্ছে তারা। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ইয়াবার চালান ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ জেলায় যাচ্ছে। আর রাজধানীর আবাসিক হোটেলে বসে এসব ইয়াবার চালান হাতবদল হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে কয়েকটি চালান ধরা পড়ার পর মাদক ব্যবসায়ীদের এ কৌশল ধরা পড়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ নভেম্বর রাতে রাজধানীর কমলাপুর এলাকায় একাটি প্রাইভেট কারে পাওয়া যায় ৪৫ হাজার পিস ইয়াবা। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয় ছয় যুবককে। ইয়াবার এই চালানটি এযাবৎকালে রাজধানীতে পুলিশের হাতে আটক হওয়া সবচেয়ে বড় চালান। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ফকিরাপুলের একটি আবাসিক হোটেল থেকে চার হাজার ইয়াবার চালানসহ গ্রেপ্তার করা হয় ছয়জনকে। গত ৬ অক্টোবর খিলগাঁও উড়াল সড়কের কাছে একটি মাইক্রোবাসে সাত হাজার পিস ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিটি সার্ভিস) মাসুদুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, সাধারণত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা বাহক দিয়ে রাজধানীতে ইয়াবার চালান পাঠায়। অতীতে কক্সবাজার বা টেকনাফ থেকে আসা চালানসহ আটক হওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের বহনকারী বলেই পরিচয় দিয়েছে। তাই ব্যবসায়ী বা পাইকারি বিক্রেতা চক্রের মূলে যেতে পারত না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এসব বহনকারী চতুর না হওয়ার কারণে প্রায়ই ধরা পড়ে। তাই সম্প্রতি কৌশল বদলেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। এখন নিজেরা নিজস্ব গাড়িতে করে ইয়াবা ঢাকায় নিয়ে আসছে। সে কারণে তারা ঝুঁকি নিয়ে একই সঙ্গে অনেক ইয়াবা নিয়ে আসছে। এ তৎপরতার কারণে ঢাকা মহানগর পুলিশ নজরদারি জোরদার করেছে। একের পর এক চালানও ধরা পরছে। ৪৫ হাজার ইয়াবার চালানটি রাজধানীতে পুলিশের হাতে আটক হওয়া সবচেয়ে বড় চালান।
ডিএনসিসির ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের উপপরিচালক আলী আসলাম বলেন, 'মাদক ব্যবসায়ীরা ইয়াবা নিয়ে আসে না নিজেরাই। একবারে অল্প পরিমাণ ইয়াবার চালান পাঠায় তারা, এ প্রবণতা পুরনো। এখন দেখা যাচ্ছে, ঝুঁকি নিয়ে বড় আকারের চালান পাঠাচ্ছে তারা। তাই চট্টগ্রাম রুটের দিকে আমাদের বিশেষ নজরদারি আছে।'
গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ১৯ নভেম্বর রাতে প্রাইভেট কারে করে পাচারের সময় কমলাপুরে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয় শামসুল হুদা, শামছুল আলম, শাহীন ওরফে জুয়েল, সৈয়দ আলম, আবদুল খালেক ও গাড়িচালক আবদুল গফুর। ডিবির মাদক উদ্ধার দল পুলিশ সদর দপ্তরের একটি দলের সহযোগিতায় ওই বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানকালে একটি এক্স করল্লা প্রাইভেট কারে (ঢাকা মেট্রো: গ-২৩-৮৪৭০) রাখা ৪৫ হাজার পিস ইয়াবার চালান আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানায়, কক্সবাজারের টেকনাফ থানার নীলা এলাকার ইয়াবা ব্যবসায়ী নূরুল হুদার কাছ থেকে চালানটি নিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসে তারা। নূরুল হুদা তার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়ই চালানটি পাঠায়। এসব ইয়াবা আজিমপুর এলাকার ইয়াবা ব্যবসায়ী জুয়েল, খিলগাঁও এলাকার রমজান ও বনশ্রী এলাকার আসমার কাছে বিক্রি করার কথা ছিল।
পুলিশ কর্মকর্র্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া শামসুল হুদা ইয়াবা ব্যবসায়ী নূরুল হুদার ছোট ভাই। ঘটনার দুই দিন আগে জেল থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে ছোট ভাইসহ সঙ্গীদের দিয়ে রাজধানীতে ইয়াবার চালানটি পাঠায় নূরুল। আটক করা প্রাইভেট কারটি নূরুলের বলেই প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নূরুল হুদা ও শামসুল হুদা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। গ্রেপ্তার হওয়ার পর শামসুল হুদা জানায়, ইয়াবার চালানটির কিছু অংশ হেলাল ও বোরহান নামের দুই মাদক ব্যবসায়ীর। এদের সহায়তায় রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থেকে ইয়াবা বিক্রি করেন শামসুল।
ডিবির সহকারী কমিশনার (এসি) মাহফুজুল ইসলাম জানান, গত ১৮ অক্টোবর ফকিরাপুল বাজারের হোটেল আলীজার পঞ্চম তলার ৫০১ নম্বর কক্ষে অভিযান চালিয়ে তিন হাজার ৯৩০টি ইয়াবা, ছয় লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ টাকাসহ ছয়জনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সারোয়ার কামাল, মুক্তার হোসেন, মঞ্জুর আলী, নাছিম, কামাল ওরফে হৃদয় নামের পাঁচজনের বাড়ি কক্সবাজারে। আবদুল জব্বার নামের অপর ব্যক্তির বাড়ি বরিশালে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা টেকনাফ থেকে কৌশলে ইয়াবা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে। রাজধানীতে হোটেলে বসে চালান হাতবদল করে তারা।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর খিলগাঁও উড়াল সড়কের কাছে একটি মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালিয়ে সাত হাজার পিস ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আয়েজ, ইলিয়াস ও গাড়িচালক নুর মোহাম্মদের বাড়ি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার নীলাবাজার এলাকায়। আমিনুল ইসলাম ওরফে আমিন নামের অন্যজনের বাড়ি কক্সবাজার সদরে। তারা টেকনাফ থেকে বিভিন্ন কৌশলে ইয়াবা ট্যাবলেট চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি হিসেবে সরবরাহ করত। রাজধানীতে ইয়াবা আনার জন্য তারা মাইক্রোবাস ভাড়া করে। গ্রেপ্তার হওয়া আমিন জানায়, টেকনাফে খালেক নামের একজন তাকে ইয়াবার চালানটি দেয় রাজধানীতে নিয়ে আসার জন্য। গাড়িচালক নুর মোহাম্মদ জানায়, একবার চালান নিয়ে ঢাকায় এলে ৩৫ হাজার টাকা পায় সে। গ্রেপ্তার হওয়ার আগের মাসেও একটি চালান নিয়ে আসে নূর মোহাম্মদ।
ডিএনসিসির পরিদর্শক রাজু আহমেদ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে ফকিরাপুলের আলীজা আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে চারজনকে এক হাজার ৪০০টি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো সেলিনা আক্তার, হাবিবা, মাহবুব আলম ও শাহাবুদ্দিন। তারা কক্সবাজার থেকে মাইক্রোবাসে ইয়াবার চালানটি নিয়ে ঢাকায় আসে। চারজন স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আলীজা হোটেলের ৪০৮ ও ৪০৯ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেয়। তবে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গী ছাড়া তাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। হোটেল থেকেই চালানটি খুচরা বিক্রেতাদের সরবরাহ করার কথা ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া নারী হাবিবা রোহিঙ্গা। তারা সবাই ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম আনোয়ার পাশা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'অভিযানে ইয়াবাসহ ধরা পড়া বেশির ভাগই বাহক। স্থানীয় ভাষায় এদের গাদা বলা হয়। এদের গ্রেপ্তার করা হলেও কারবারি পর্যন্ত যাওয়া যায় না। দু-একজন ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করতে পারলে সিন্ডিকেটের খবর জানা যাবে।'

ঢাকা যেন ডাস্টবিন

ঢাকা যেন ডাস্টবিন

শাহবাগ মোড় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার প্রবেশপথে শাহবাগ থানার পাশেই মূল সড়কের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। পাশের ডাস্টবিন থেকে ময়লা উপচে পড়েছে রাস্তায়। ফুটপাতের ওপর ছড়িয়ে থাকা আবর্জনার দুর্গন্ধে এই পথ দিয়ে চলাফেরা করা রীতিমতো 'শ্বাসরুদ্ধকর'। নাক চেপে ধরে চলতে হয়।
শাহবাগ মোড়ের ভাই ভাই ফ্লাওয়ার মিলের কর্মচারী বিজয় রায় জানান, প্রায়ই ময়লা ফেলে ফেলে রাস্তার অর্ধেকটা বন্ধ করে ফেলা হয়। সব সময়ই আবর্জনার তীব্র গন্ধ থাকে। বাধ্য না হলে এখান দিয়ে কেউ হাঁটে না।
এই পথে যাতায়াতকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ভাস্কর্য বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আহমেদ তারেক জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, শাহবাগ থানা ও জাতীয় জাদুঘর_এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রস্থলে এমন ময়লার ভাগাড় থাকা খুবই দুঃখজনক।
কেবল এখানে নয়, রাজধানীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়কেরই এমন হাল। রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। অলিগলির অবস্থা আরো খারাপ। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি সড়ক ঘুরে যে চিত্র দেখা গেছে তা কোনো রাজধানী শহরের সঙ্গে একেবারেই মানানসই নয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মৌচাক মার্কেট থেকে বসুন্ধরা আবাসিক
এলাকার প্রগতি সরণি যেন সিটি করপোরেশনের ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। সড়কের দুই পাশেই ময়লা-আবর্জনা ফেলার কনটেইনার থাকায় জনসাধারণের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব কনটেইনার থেকে রাতের বেলা ময়লা অপসারণের কথা থাকলেও সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সেগুলো সময়মতো পরিষ্কার করে না। অনেক ক্ষেত্রে দিনের বেলায়ও ময়লা অপসারণ করতে দেখা যায়। ময়লার গাড়িও
দিনের বেলা চলতে দেখা যায় ব্যস্ত রাজপথে। যানজটের ভেতরে পড়লে তখন দুর্গন্ধে ভোগান্তির শেষ থাকে না। মালিবাগ থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা পর্যন্ত অন্তত ১৫টি স্থানের অবস্থা বেশ খারাপ। বিশেষ করে রামপুরা বাজার ও বাড্ডা এলাকার রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখার দৃশ্য নিয়মিতই চোখে পড়ে।
মধ্য বাড্ডা আবুল হোটেলের উত্তর পাশ, মধ্য বাড্ডা রাস্তার পূর্ব পাশে হাজী মার্কেটের সামনে, বাড্ডা উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে ও সুবাস্তু টাওয়ারের পশ্চিম পাশে রাস্তার ওপরে প্রায়ই ময়লা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। এলাকাবাসী জানায়, সিটি করপোরেশনকে বারবার জানানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। এমনকি প্রতিদিন সকাল হওয়ার আগে ময়লা পরিষ্কারের নিয়ম থাকলেও কাজ চলে দুপুর পর্যন্ত। অভিযোগ পাওয়া গেছে, যে সংখ্যক ট্রিপ দিয়ে আবর্জনা পরিষ্কার করার কথা, বর্জ্যবাহী যানবাহনের অসাধু চালকরা ওই সংখ্যক ট্রিপও দেয় না। ফলে আবর্জনা থেকেই যায়।
হাজী মার্কেটের দোকানি আরশাদ আলম জানান, প্রতিদিন সকালে নাক চেপে দোকানে যেতে হয়। দুপুরে বের হওয়ার সময়ও একই অবস্থা। ময়লা যত্রতত্র পড়ে থাকার কারণে রাস্তা সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। এতে সব সময় যানজট লেগেই থাকে।
রোকেয়া সরণির শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে বাজারের সামনের সড়কের অবস্থাও বেহাল। কনটেইনার উপচে আশপাশেও ছড়িয়ে পড়েছে বর্জ্য। তা থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের ঢুকতে হচ্ছে নাক চেপে ধরে। কোলাহলপূর্ণ ওই পয়েন্টে বাসগুলো থামে। ওঠা-নামার সময় যাত্রীদের পড়তে হয় বিপাকে। দিনের পর দিন চলছে এই অবস্থা।
শাহবাগ, প্রগতি সরণি বা শেওড়াপাড়ার মতো ময়লা-আবর্জনায় শ্রীহীন হয়ে পড়েছে নগরীর বেশির ভাগ এলাকা। যত্রতত্র পড়ে থাকা বর্জ্যের উৎকট গন্ধে বিষিয়ে উঠছে নগরজীবন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরান ঢাকার রসুলপুর-কোম্পানীঘাটের সংযোগ সড়কের দুই পাশেই আবর্জনার স্তূপ। প্রতিদিন কয়েক লাখ মানুষকে নাকে রুমাল চেপে এ পথে চলাচল করতে হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দারা ডায়রিয়াসহ জীবাণুবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পাশে বুড়িগঙ্গা শাখা-নদীর তীরঘেঁষে কামরাঙ্গীরচর লোহার ব্রিজ এলাকা পর্যন্ত দুই পার থেকে ময়লা-আবর্জনা নদীতে ফেলা হচ্ছে। কাপ্তানবাজার এলাকায় ময়লার স্তূপের চিত্র সার্বক্ষণিক। এসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শুষ্ক মৌসুমের ধুলোবালি। বর্তমানে নির্মাণকাজের মৌসুম চলায় অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে। অনেকে নির্মাণসামগ্রী রাস্তার ওপরই ফেলে রাখছেন। যানবাহনের চলাচলে তা ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। মোহাম্মদপুর, মিরপুর, শ্যামলী, রামপুরাসহ বিভিন্ন স্থানে চলছে নির্মাণযজ্ঞ। সামান্য বৃষ্টি হলে এসব ময়লা-আবর্জনা একাকার হয়ে অসহনীয় অবস্থার সৃষ্টি হয়। আর রোদ হলে ধুলোবালিতে একাকার হয়ে যায় পুরো এলাকা।

পুলিশের বিরুদ্ধে অর্থ লুটের অভিযোগ

পুলিশের বিরুদ্ধে অর্থ লুটের অভিযোগ

রাজধানীর শাহজাহানপুরের একটি বাড়িতে অভিযানের নামে পুলিশ কর্তৃক অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ উঠেছে। লুটের পর পরিবারের ৭ সদস্যকে মাদক ও চুরির মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে একরাত থানায় আটকে রেখে শুক্রবার সকালে আদালতে চালান করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে শাহজাহানপুর থানার উপ-পরিদর্শক নূরুল ইসলাম পুলিশ নিয়ে তল্লাশির উদ্দেশ্যে শাহজাহানপুরের পার্কওয়ে হাসপাতাল গলির অমিত এ্যাপার্টমেন্টের দ্বিতীয় তলার বি-১ নম্বর ফ্ল্যাটে যায়। পুলিশ ওই বাড়ি থেকে টাকা-পয়সা মালামাল লুণ্ঠন করে বলে পরিবারের তরফ থেকে গ্রেফতারকৃত মাফিয়ার ছেলে রনির অভিযোগ। রনি আরও অভিযোগ করেন, গ্রেফতারকৃতদের ছেড়ে দেয়ার শর্তে ১০ লাখ টাকা দাবি করে পুলিশ কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে থানার এসআই নূরুল ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তাঁদের ছাড়া হবে বলে জানান। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় পুলিশ তাঁদের কোর্টে চালান করে দেয়। সেই ভয়ে থানায় যাচ্ছেনা বলে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন।
পুলিশ লুণ্ঠনের পর মাফিয়া বেগম (৭০), তার দুই বোন সোনিয়া আক্তার ও তানিয়া আক্তার এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্য হালিমা বেগম, ইয়াসিন, মানিক ও কাজের বুয়া নিলাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এর পর শুক্রবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এ ব্যাপারে পুলিশ কর্মকর্তা নূরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জনকণ্ঠের কাছে দাবি করেন, গত ২৮ অক্টোবর শহীদবাগের ৯০৫ নম্বর ডোম ইনোর সি-২ নম্বর ড. আলাউদ্দিনের বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনা তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ১ নবেম্বর মনির নামে একজনকে আটক করা হয়। মনিরের তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ওই বাড়ি থেকে ৭টি চোরাই মোবাইল ফোন, ২ লাখ সাড়ে ৮২ হাজার টাকা, ৯টি ডিজিটাল ক্যামেরা, এক ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, ৪ কেজি ওজনের সিটি গোল্ডের অলঙ্কার উদ্ধার হয়। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে বেশ কিছু মালামাল ড. আলাউদ্দিনের বাড়ি থেকে খোয়া যাওয়া বলে শনাক্ত করা হয়। এ সময় ৭ জনকে আটক করা হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, রনিকেও খোঁজা হচ্ছে। রনির মা মাফিয়া চুন্নী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ৭২টি মামলা রয়েছে। তারা প্রায় এক লাখ টাকা ভাড়ায় বসবাস করে। ঢাকায় মাফিয়া চুন্নীর ৩টি বাড়ি রয়েছে। মূলত সে একজন অপরাধী। অনেক টাকার মালিক বিধায় ছেলের মাধ্যমে মিথ্যা অভিযোগ করে আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে পড়ার চেষ্টা করছে। ১০ লাখ টাকা দাবি করার বিষয়টি মিথ্যা বলেও তিনি দাবি করেন।

সৌদি আরবের নারীরা প্রযুক্তির নজরদারিতে

সৌদি আরবের নারীরা প্রযুক্তির নজরদারিতে

পুরুষ অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ করার অনুমতি নেই সৌদি আরবের নারীদের, গাড়ি চালানোও তাঁদের জন্য নিষিদ্ধ। এবার আরও এক ধাপ নিরাপত্তার জালে আবদ্ধ হয়েছেন ইসলামী শরিয়াভিত্তিক দেশটির নারীরা। নারীদের চলাফেরা নজরদারিতে (মনিটর) রাখার জন্য নতুন এক ইলেকট্রনিক সিস্টেম চালু করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
এর ফলে গত সপ্তাহ থেকে সৌদি নারীদের পুরুষ অভিভাবকরা মোবাইলফোনে এসএমএস পাচ্ছেন তাঁদের নারীদের চলাফেরার ব্যাপারে। মেসেজে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে, তাদের তত্ত্বাবধানে থাকা নারীরা দেশ ছেড়ে যাচ্ছেন কিনা। এমনকি সঙ্গে অভিভাবক থাকলেও তার মোবাইলে এ মেসেজ আসবে।
এক দম্পতির কাছ থেকে এসব তথ্য জানতে পেরে টুইটারে দ্রুত ছড়িয়ে দেন মানাল আল-শেরিফ, যিনি ২০১১ সালে সৌদি নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্ন সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
ঐ স্বামী তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যাওয়ার সময় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্বামীর মোবাইলে একটি এসএমএস আসে, যাতে জানানো হয়, তাঁর স্ত্রী রিয়াদ বিমানবন্দর ত্যাগ করেছেন।
সৌদি আরবের নিয়মানুযায়ী, পুরুষ অভিভাবকের লিখিত অনুমতি ছাড়া সৌদি নারীরা দেশত্যাগ করতে পারেন না।
প্রখ্যাত কলামিস্ট বদ্রিয়া আল-বিশর এ ব্যাপারে বলেছেন, ‘কর্তৃপক্ষ নারীদের মনিটর করার জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।’ তিনি রক্ষণশীল দেশটিতে নারীদের পরিস্থিতিকে দাসত্বের সঙ্গে তুলনা করে এর তীব্র প্রতিবাদ করেন।
নারীদের ওপর নজরদারি করার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ নিন্দার ঝড় তুলেছে সামাজিক যোগাযোগ সাইট টুইটারে। এই সিদ্ধান্তকে ব্যঙ্গ করে আসছে একের পর এক টুইট।
একটি টুইটে লেখা হয়েছে, ‘হ্যালো তালেবান, এখানে তোমরা সৌদি ই-সরকারের কাছ থেকে কিছু টিপস পেতে পারো!’
আরেক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘তোমরা তোমাদের নারীদের পায়ে বেড়ি পরাচ্ছো না কেন?’
হিশাম নামে অপর ব্যক্তি টুইট করেছেন, ‘আমার স্ত্রী সৌদি আরব ছাড়ছে কিনা সেটা জানার জন্য যদি আমার এসএমএস দরকার হয়, তাহলে হয় আমি ভুল নারীকে বিয়ে করেছি কিংবা আমাকে পাগলের ডাক্তার দেখানো দরকার।’
কলামিস্ট বিশর তাঁর টুইটে বলেন, ‘নারীদের বন্দী করে রেখে পেছনে ফিরে যাওয়ার জন্য এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, কঠোরভাবে শরিয়ত আইনের অনুসারী সৌদি আরবই পৃথিবীর একমাত্র দেশ, যেখানে নারীদের গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ।
২০১১ সালে সক্রিয় নারী কর্মীরা এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জন্য সভা-সমাবেশ করেছিলেন, যার ফলে অনেক নারীকে গ্রেফতার করে তাদের দিয়ে ‘আর কখনও গাড়ি চালাব না’ মর্মে একটি প্রার্থনায় সই নেয়া হয়। যদিও নারীদের গাড়ি চালানোর বিষয়ক সরাসরি কোন নিষেধাজ্ঞা সৌদি আইনে নেই, তারপরও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্যোগে ১৯৯০ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ হয়।
২০১১ সালে সৌদি বাদশা আব্দুল্লাহ প্রথমবারের মতো সৌদি নারীদের ভোটাধিকার প্রদান করেন ও ২০১৫ সালে পৌর নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ দেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশটির শরিয়া আইন কার্যকরী করার প্রধান মাধ্যম পুলিশ বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় শেখ আব্দুল্লাতিফ আব্দেল আজিজ আল-শেখকে। তিনি পুলিশ বাহিনীর সৌদি নারীদের হয়রানি করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
এরকম কঠোর বাধা-নিষেধের কারণে দেশটিতে ক্রমে নারী বেকারত্ব বাড়ছে, যা বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।

আগামী বছর থেকে মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষা হবে না:স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিত

আগামী বছর থেকে মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষা হবে না:স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিত

আগামী বছর থেকে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে আর ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে না। এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএর ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়া হবে। এমন সিদ্ধান্তেরই ইঙ্গিত দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আ ফ ম রুহুল হক। শুক্রবার মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনকালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি তাদের এই ঝামেলা (ভর্তি পরীক্ষা) থেকে মুক্তি দিতে চাই। তবে সবার সঙ্গে আলোচনার পরেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দেশের ২৩টি কেন্দ্রে এক ঘণ্টার এমসিকিউ পরীক্ষা হয়। আট হাজার ৪৯৩টি আসনের বিপরীতে ৫৮ হাজার ৭২৩ জন শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেন। এ বছর দেশের ২২টি সরকারী মেডিক্যাল কলেজে দুই হাজার ৮১১টি এবং ৫৩টি বেসরকারী মেডিক্যালে চার হাজার ২৪৫টি আসনে এমবিবিএস কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। আর নয়টি সরকারী ডেন্টাল কলেজ ও মেডিক্যাল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটের ৫৬৭টি আসন এবং ১৪টি বেসরকারী ডেন্টাল ইনস্টিটিউটের ৮৭০টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে বিডিএস কোর্সে। শুক্রবার পরীক্ষা চলাকালে প্রতিটি কেন্দ্রে মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ শতাধিক কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দল তদারকি করেছেন।
ভর্তি পরীক্ষা পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন’ পরিদর্শক দল দেশের প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্র ঘুরে দেখেছেন। কোথাও অনাকাক্সিক্ষত কিছু ঘটার সংবাদ পাওয়া যায়নি বলে জানান মন্ত্রী।
এদিকে, প্রতি বছর মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে সরকারের বাড়তি মনোযোগ থাকলেও এবার ভর্তি পদ্ধতি সংস্কারের উদ্যোগ ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং নকল ঠেকাতে পরীক্ষার হলে ঘড়ি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের কারণে আলোচনা নতুন মাত্রা পায়। পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি পরিবর্তন নিয়েও বেশ আলোচনা হয়। গত ১২ আগস্ট স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএর ভিত্তিতে মেডিকেল ও ডেন্টালে শিক্ষার্থী ভর্তির ঘোষণা দিলে সারা দেশে আন্দোলন শুরু করে মেডিক্যাল ভর্তিচ্ছুরা। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতেও গড়ায়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার। গত ১০ সেপ্টেম্বর আদালত পরীক্ষা নিয়ে মেডিক্যাল ও ডেন্টালে শিক্ষার্থী ভর্তির নির্দেশনা দিলে সরকার ২৩ নবেম্বর পরীক্ষার দিন রাখে।

১৫ কোটি মানুষ জন্ম নিবন্ধনের আওতায়

১৫ কোটি মানুষ জন্ম নিবন্ধনের আওতায়

সরকারের জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম সাফল্যের পথে। ইতিমধ্যে দেশের প্রায় ১৫ কোটি মানুষ জন্মনিবন্ধনের আওতায় চলে এসেছে। আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে দেশের সকল নাগরিক জন্মনিবন্ধনের আওতায় চলে আসবে বলে আশা করছে সরকার।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত দেশে ১৪ কোটি ৯৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৯৭ জন জন্মনিবন্ধনের আওতায় এসেছে। ইতিমধ্যে ১১ কোটি ৫৭ লাখেরও বেশি নাগরিককে জন্মসনদ প্রদান করা হয়েছে। আর আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে দেশের সকল নাগরিক জন্মনিবন্ধনের আওতায় চলে আসবে।
সূত্র মতে, ২০০৫ সালে দেশের মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ, ২০০৬ সালে ১৫ দশমিক ১৬ শতাংশ, ২০০৭ সালে ৪৯ দশমিক ৯০ শতাংশ, ২০০৮ সালে ৮৭ দশমিক ৭০ শতাংশ, ২০০৯ সালে ৯২ দশমিক ৪১ শতাংশ, ২০১০ সালে ৯৪ দশমিক ১১ শতাংশ, ২০১১ সালে ৯৭ দশমিক ৩১ শতাংশ ও ২০১২ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ৯৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ লোক জন্মনিবন্ধনের আওতায় এসেছে।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন অনুযায়ী দেশে মোট ১৬টি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এ সনদ জরুরি। ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি, জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তি, পাসপোর্ট, বিবাহনিবন্ধন, বিদ্যালয়ে ভর্তি, নিয়োগ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ব্যাংক হিসাব খোলা, আমদানি ও রফতানির লাইসেন্স, গ্যাস-পানি-টেলিফোন ও বিদ্যুত সংযোগ, বাড়ির নকশা অনুমোদন, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ইত্যাদি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এ সনদ কাজে লাগবে।
২০০৪ সালে দেশে জš§ ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন প্রণীত হয় ২০০৬ সালের জুলাই থেকে তা কার্যকর হয়। কিন্তু জনসচেতনতার অভাবে এখনও অনেকেই নিয়মানুসারে জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্মনিবন্ধন করেন না। জন্মনিবন্ধন আইন অনুযায়ী কোন শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যেই জন্মনিবন্ধন করতে হবে। এ ছাড়া ১৮ বছরের নিচে বয়সীদের ক্ষেত্রে বিনা ফি’তে জন্মনিবন্ধন করা যাবে। তবে ১৮ বছরের উর্ধে জন্মনিবন্ধন করতে হলে ৫০ টাকা ফি দিতে হবে। দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড অফিস থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ নেয়া যাবে।
বর্তমানে সারাদেশে সরাসরি জন্মনিবন্ধনের পাশাপাশি অনলাইনেও জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। দেশের ৫৫টি জেলা ও বিদেশে ১৭টি দূতাবাসের মাধ্যমে অনলাইনে জš§নিবন্ধন চলছে। ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে জন্মনিবন্ধন করা হচ্ছে। অনলাইন জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম চলমান এলাকাগুলো দেশের ৫৫টি জেলার খুলনা, যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, কক্সবাজার, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, জামালপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, গাজীপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, রাজবাড়ী, চাঁদপুর, ফেনী, মৌলভীবাজার, মাদারীপুর, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, নরসিংদী, শরীয়তপুর, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী, মেহেরপুর ও বগুড়ার সব ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা। অবশিষ্ট ৯ জেলার সব পৌরসভা, দেশের সব কয়টি ক্যান্টনমেন্ট ও সিটি কর্পোরেশনে অনলাইন জš§নিবন্ধন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
অপরদিকে বাংলাদেশের বাইরে কানাডার অটোয়া, গ্রীসের এথেন্স, কুয়েতের কুয়েত সিটি, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, ওমানের মাস্কাট, কাতারের দোহা, সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা, সিঙ্গাপুরের সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই, যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম, লন্ডন ও ম্যানচেস্টার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি ও ওয়শিংটন ডিসি ইত্যাদি শহরে অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে।
সূত্র মতে, ১৮৭৩ সালের ২ জুলাই তদানীন্তন ব্রিটিশ সরকার অবিভক্ত বাংলায় জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত আইন জারি করে। কালের পরিক্রমায় ১১৮ বছরে ভৌগোলিক, রাজনৈতিক ও আইনের নানা পরিবর্তন সত্ত্বেও দেশের সব মানুষ জন্মনিবন্ধনের আওতায় আসেনি। সে কারণে ২০০১-২০০৬ সালে ইউনিসেফ-বাংলাদেশ এর সহায়তায় পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ২৮টি জেলায় ও ৪টি সিটি কর্পোরেশনে জন্মনিবন্ধনের কাজ নতুনভাবে আরম্ভ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮৭৩ সালের আইন রোধ করে সরকার ২০০৪ সালের ৭ ডিসেম্বর জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ প্রবর্তন করে। আইনটি ২০০৬ সালের ৩ জুলাই হতে কার্যকর হয়। ২০০১-২০০৬ সালের পাইলট প্রকল্পের শেষে বর্তমান প্রকল্পটি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়) নামে ২০০৭ সালে শুরু হয়। জানুয়ারি ২০০৭ থেকে ডিসেম্বর ২০১০ মেয়াদি প্রকল্পের আর্থিক সহায়তাকারী ইউনসেফ-বাংলাদেশ যার মোট বরাদ্দ ৫৮৬৩ দশমিক ৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অংশ ২৯৬ দশমিক ৩ লাখ টাকা ও প্রকল্প সাহায্য ৫৫৬৭ দশমিক শূন্য লাখ টাকা। প্রকল্পটির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরে গত ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়া চলছে।

অপরাধ জগতে বেপরোয়া নারী

অপরাধ জগতে বেপরোয়া নারী


রাজধানীতে বেপরোয়াগতিতে বাড়ছে নারী অপরাধীর সংখ্যা। সচিবালয় থেকে শুরু করে বস্তি এলাকা পর্যন্ত অবাধ বিচরণ তাদের। নানা রকম অপরাধ করেও সহজে পার পেয়ে যাচ্ছে এরা। দাপটের সঙ্গে আবার ঘটিয়ে চলছে অঘটন। ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি, অপহরণ, প্রতারণা, অস্ত্র বহন, মাদক বিক্রি, মাদক বহন, মানুষকে অজ্ঞান করে সর্বস্ব কেড়ে নেয়া, তদবির বাণিজ্য, ম্যারেজ মিডিয়ার প্রতারণা, যৌন আবেদন দেখিয়ে প্রতারণা, পকেটমার, জাল টাকা বহন সহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ঙ্কর সব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে নারী। নারীকে দিয়ে অপরাধ সংঘটন অনেকটা সহজ বলে দিনে দিনে বেশি মাত্রায় নারীদের টানা হচ্ছে অপরাধ জগতে। পুলিশের অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে সামপ্রতিক সময়ে রাজধানীতে হাই সোসাইটির সুন্দরী মেয়েদের বেশি করে আগমন ঘটছে অপরাধ জগতে। এদেরকে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রতারণা করে বিত্তবানদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়ার কাজে। তবে ওই সব নারীর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ পুরুষচক্র সক্রিয় আছে।
সামপ্রতিক সময়ে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া বেশ কয়েকটি নারী অপরাধীর কাছ থেকে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে তাদের টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়া সহ খুনের মতো অপরাধে জড়িত ওই সব নারী। তাদের আছে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। অপরাধ করেও ছাড়া পাওয়ার মতো শক্ত খুঁটি আছে তাদের, যোগাযোগ আছে প্রশাসনের প্রভাবশালী কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে। ধরা পড়ার পরও এরা সহজে বেরিয়ে আসে।
ফরিদপুরের গ্রামের মেয়ে লিপি। জেলা শহরের একটি কলেজে পড়ার সময় মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় ঢাকার জুরাইন এলাকার এক যুবকের সঙ্গে। পরিচয় থেকে গভীর প্রেম। পরিবারের অজান্তে গোপনে বিয়ে করে লিপি। শেষে জড়িয়ে পড়ে অপরাধ জগতের জালে। রাজধানীতে স্বামীকে সঙ্গে করে প্রবাসী পাত্রীর জন্য পাত্র যোগাড়ের ম্যারেজ মিডিয়া খুলে শুরু করে প্রতারণার ব্যবসা। প্রবাসী পাত্রী সেজে নিজেই কুড়িখানেক পাত্রের সঙ্গে বিয়ের অভিনয় করে, কোন কোন পাত্রের সঙ্গে অল্পদিনের জন্য সংসারও করে। পাত্রকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দেয় পাত্রের কাছ থেকে। অবশেষে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে আছে। গত আগস্ট মাসে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে রাজধানীর এক নারী অপরাধী চক্রের সদস্য। পুরুষ সহযোগী সহ ওই নারী অপরাধীর মূল টার্গেট ছিল সমাজের বিত্তবান লোকদেরকে ফাঁদে ফেলে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়া। সুন্দরী এ নারীর টিমে দেখা গেছে একাধিক ক্যামেরাম্যান, ভিডিও ক্যামেরা সহ সংলাপ ধারণের জন্য উচ্চমানের ডিজিটাল টেপরেকর্ডার। ওই চক্রটি সমাজের উপর তলার লোকদের মোবাইল ফোন যোগাড় করে তাদের সঙ্গে প্রেমালাপের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ হয়। তারপর যৌন কর্মের প্রস্তাব দিয়ে তাদের আস্তানায় নিয়ে জোর করে পুরুষ লোকটির নানা ধরনের আপত্তিকর ছবি তুলে, ভিডিও চিত্র ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করে। ওই চক্রটির খপ্পরে পড়ে কোটি টাকা খোয়াতে হয়েছে দেশব্যাপী পরিচিত এক ব্যবসায়ী নেতাকে। বিপুল পরিমাণ টাকা খুইয়েও তিনি চেপে গেছেন লোকলজ্জার ভয়ে। দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে নির্বাচিত জাতীয় পার্টির একজন এমপিও পড়েছিলেন ওই নারী চক্রের খপ্পরে। তাকেও গুনতে হয়েছে বড় অঙ্কের টাকা। সামপ্রতিক সময়ে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু বলে পরিচিত স্থানে সরকারের একজন পদস্থ ব্যক্তি এক সুন্দরী নারী তদবিরকারকের খপ্পরে পড়ে তার অনেক অবৈধ কাজ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে গুঞ্জন আছে। ঢাকা শহরের কমপক্ষে আটটি স্পটে নারী ছিনতাইকারীদের দাপটের কথা জানে রাজধানীর মানুষ। প্রকাশ্যে বোরকা পরে ওই সব ছিনতাইকারীকে রুখতে পারছে না পুলিশ। বরং উল্টো পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে তাদেরকে সহযোগিতা করার। তাদের দাপটের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন ডিএমপি’র একজন পুলিশ কর্মকর্তা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত এক বছরে রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে নারী ছিনতাইকারীদের সংখ্যা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ঢাকা শহরে যে পরিমাণ মাদক প্রবেশ করে তার নব্বই ভাগের বহনকারী নারী, একই ভাবে মাদক বিক্রির ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হচ্ছে তাদের। গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত এলাকা গলিয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা আগ্নেয়াস্ত্রের বেশির ভাগের বাহক নারী। অর্থের বিনিময়ে এরা আগ্নেয়াস্ত্র বহন করে পৌঁছে দেয় গন্তব্যে। রাজধানী শহরে পুলিশের গোয়েন্দা তালিকায় আছে কয়েক ডজন মোস্ট ওয়ানটেড সুন্দরীর নাম। এদের আসল কাজ বিয়ে বাণিজ্য। কাঁচা টাকার মালিক বিত্তবানদের ব্ল্যাকমেইল করে বড় অঙ্কের টাকার কাবিন করে শেষে নানা অজুহাতে ঝগড়া বাধিয়ে কাবিননামার টাকা আদায় করা এদের কাজ। ওই চক্রটির একাধিক সুন্দরী কাজ করে শোবিজে। একজনকে ছেড়ে প্রতারণার মাধ্যমে আরেকজনকে বিয়ে করে আবার কাবিননামায় উল্লেখ করা টাকা হাতিয়ে নেয় এরা। সামপ্রতিককালে ইউনিপেটুইউ নামের প্রতারক প্রতিষ্ঠানের এমডি মুনতাসীর ইমন এমনি এক বিয়ে প্রতারক সুন্দরীর খপ্পরে পড়ে খুইয়েছেন প্রায় আট কোটি টাকা।
রাজধানী শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ডাকাতি ও স্বর্ণ চুরির অপরাধী চক্র ব্যবহার করছে বাসা বাড়ির বুয়াদের। ওই সব বুয়া বাসা বাড়িতে কাজ নেয় আসলে বাড়িতে ডাকাতি করার উদ্দেশে। এরা কাজ করার ফাঁকে খোঁজ নেয় বাড়ির কোন কোন স্থানে স্বর্ণ সহ নগদ টাকা রাখা হয়। কাজের বুয়া হিসেবে মালিকের বিশ্বস্ততা অর্জন করে লুকিয়ে বাসার চাবি সাবানের ওপর ছাপ দিয়ে বাইরে এনে তৈরি করে ডুপ্লিকেট চাবি। বাসার মালিক বাইরে গেলে সুযোগ বুঝে পুরুষ সহযোগীদের খবর দিয়ে এনে ডাকাতি করে বাড়িতে। ইতিপূর্বে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে জাল টাকা বহনকারী একাধিক নারী। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি জাল টাকার চক্রের সঙ্গে জড়িত আছে একাধিক নারী সদস্য। এছাড়া পুরুষ পকেটমারের মতোই এখন রাজধানীতে বিচরণ করছে কয়েক ডজন নারী পকেটমার। তবে ঈদ সহ বাজারে বেশি জনসমাগমের পার্বণগুলোতে বেশি মাত্রায় সক্রিয় হয়ে ওঠে নারী পকেটমার।
সামপ্রতিক সময়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নারীদের বেশি মাত্রায় জড়িত হওয়ার বিষয়ে ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন শাখার ডিসি মাসুদুর রহমান বলেন, নারীদেরকে সাধারণত কেউ তেমন সন্দেহ করে না বলেই একটি চক্র নারীদেরকে অপরাধ জগতে টেনে আনছে, যাতে তাদেরকে দিয়ে নির্বিঘ্নে অপরাধ ঘটানো যায়। তবে তিনি নারী অপরাধী বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেননি। তিনি বলেন, জাল টাকার বাহক সহ পকেটমার, মাদক বিক্রি সহ অন্য কিছু অপরাধের ক্ষেত্রে রাজধানীতে নারী সদস্যরা সক্রিয় আছে।