Pages

Tuesday, December 4, 2012

জামায়াতের হরতাল আজ, বিএনপির নৈতিক সমর্থন, দিনাজপুরে গুলিতে শিবিরকর্মী নিহত

জামায়াতের হরতাল আজ, বিএনপির নৈতিক সমর্থন, দিনাজপুরে গুলিতে শিবিরকর্মী নিহত



পূর্বঘোষিত সমাবেশ করতে পারেনি জামায়াত। গতকাল দেশব্যাপী তাদের পূর্ব ঘোষিত সমাবেশ করতে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে গুলিতে নিহত হয়েছে শিবির কর্মী মুজাহিদ (১৮)। এ ঘটনার পর চিরিরবন্দর থানায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় সেখানে বিজিবি নামানো হয়েছে। অপরদিকে সমাবেশের অনুমতি না দেয়ার প্রতিবাদে আজ দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে জামায়াত। গতকাল দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এ হরতালের ডাক দেন। বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে এই প্রথম এককভাবে হরতালের ঘোষণা দেয় ১৮ দলীয় জোটের শরিক জামায়াত। খেলাফত আন্দোলন এই হরতালের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এদিকে সমাবেশ করতে ব্যর্থ হয়ে বিকালে রাজধানীর নয়া পল্টন, তেজগাঁও, যাত্রাবাড়ী, কাওরান বাজারসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঝটিকা মিছিল করেছে জামায়াত-শিবির। তবে দলের পক্ষ থেকে রাজধানীর ৩০টি স্পটে মিছিল করার দাবি করা হয়। এ সময় ৪৮ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানায়। যাত্রাবাড়ীতে মিছিলকারীরা মশাল নিয়ে বের হয়। তারা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও টায়ারে আগুন লাগিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। জামায়াতের এই সমাবেশ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গতকাল সকাল থেকেই রাজধানী জুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় পুলিশ ও র‌্যাব। এছাড়া সিলেট, ফেনী, নোয়াখালী, বগুড়া, মাগুরাসহ কয়েকটি জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। তবে জামায়াতের হরতাল ঘোষণার পর গতকাল দুপুর থেকে রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি তৎপরতা দেখা যায়। জনমনেও খানিকটা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যার  আগেই কর্মস্থল থেকে ঘরে ফেরা শুরু করে মানুষ। এজন্য শেষ বিকালে রাজধানীতে বেশ যানজটও দেখা যায়। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, দলের শীর্ষ নেতাদের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে গতকাল বেলা ৩টায় বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে এই সমাবেশের ঘোষণা দেয় জামায়াত। কিন্তু পূর্বানুমতি না থাকায় এই সমাবেশ করতে দেয়া হবে না বলে রোববার সাফ জানিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। তিনি বলেন, ঢাকায় সমাবেশ অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী কোন  অনুমতি নেয়নি। তাই তাদের এ সমাবেশ হবে বেআইনি। বেআইনি সমাবেশ হতে দেবো না। তবে জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এই সমাবেশের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অনুমতি চেয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন দেয়া হয়েছে। কিন্তু সময়ের স্বল্পতার কথা বলে পুলিশ সমাবেশের অনুমতি দেয়নি। এদিকে হরতালের ঘোষণা দিয়ে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আমরা নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচির অনুমতি না পেয়ে একান্ত বাধ্য হয়েই জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধের দাবি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, সরকারের দুঃশাসন, সীমাহীন দুর্নীতি ও ইসলামী মূল্যবোধের ওপর আঘাতের প্রতিবাদে দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করার আহ্বান জানাচ্ছি। জামায়াতের সহকারী প্রচার সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের দুঃশাসনে দেশ ক্রমান্বয়ে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণের সঙ্গে করা ওয়াদা বাস্তবায়নের দিকে নজর না দিয়ে তারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আবারও ক্ষমতায় আসার চেষ্টায় লিপ্ত। সরকারের অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড ও দেশ পরিচালনায় সীমাহীন ব্যর্থতার বিরুদ্ধে যাতে বিরোধী দল কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারে সে জন্য দমননীতি চালাচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত গণতান্ত্রিক দল। আমরা বরাবরই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, শান্তিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী। কিন্তু সরকারের চার বছরের মেয়াদকালে জামায়াতকে শান্তিপূর্ণভাবে কোন গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হচ্ছে না। অথচ মিছিল, সভা-সমাবেশ করা আমাদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার ভোগ করার ব্যাপারে সরকার শুধু হয়রানি করছে না, জামায়াতের ৮ শীর্ষ নেতাসহ হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে, গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। শফিকুর রহমান বলেন, কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মিথ্যা মামলায় জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিচারের নামে প্রহসন চলছে। সরকারের এসব জুলুম-অত্যাচার মোকাবিলায় ধৈর্যসহকারে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াত। গত ২৯শে নভেম্বর জামায়াতের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষিত এ কর্মসূচি সফল করার জন্য ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশের সব মহানগরী, জেলা, উপজেলা ও থানা সংগঠন শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ ও মিছিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়। তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, সরকার গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি দেবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সমাবেশের অনুমতি তো দেয়াই হয়নি, উপরন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর মিডিয়ার সামনে অত্যন্ত কড়া ও রূঢ় ভাষায় বলেছেন, ঢাকাসহ দেশের কোথাও জামায়াতকে সমাবেশ ও মিছিল করতে দেয়া হবে না। জাতিকে বিভ্রান্ত করার জন্য তিনি বলেছেন, জামায়াত সভা ও মিছিলের অনুমতি নেয়নি এবং আবেদনও করেনি। অথচ গত ২৯শে নভেম্বরই ঢাকা মহানগর জামায়াতসহ সব শাখার পক্ষ থেকে সারা দেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সমাবেশ ও মিছিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এ সব ঘটনাপ্রবাহ থেকে প্রমাণিত হয়, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না।
দিনাজপুর: দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দর বাজারে জামায়াত-শিবির ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ এক শিবির কর্মী নিহত হয়েছেন। ওই শিবির কর্মীর নাম মুজাহিদ (১৮)। নিহতের পিতা আতাউর রহমান খানসামা উপজেলা জামায়াতের আমীর। গতকাল সন্ধ্যায় সংঘর্ষের সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে পাগলা পীর নামক স্থানে তিনি মারা যান। সংঘর্ষে থানার ওসি এবং পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ২০জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ পর্যন্ত পুলিশ শতাধিক টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। বিক্ষুব্ধ জামায়াত-শিবির কর্মীরা রানীরবন্দর বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করেছে। সংঘর্ষের সময় জামায়াত-শিবির কর্মীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করলে দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে।  এদিকে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় রানীর বাজারে পুলিশের পাশাপাশি দুই ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
সিলেট জামায়াতের ঘোষণা: হরতাল সফলে সিলেটে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। গতকাল দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা এ ঘোষণা  দেন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করতে গতকাল সিলেটে প্রস্তুত ছিল জামায়াত। এর আগে দলের পক্ষ থেকে সিলেট মহানগর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম সমাবেশের জন্য পুলিশের অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দেয়নি। এ কারণে দিনভর জামায়াতে ইসলামীর মিছিল বের করার গুজব থাকলেও শেষ পর্যন্ত মিছিল বের করেনি। তবে, সিলেট নগরীতে প্রচুর সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন ছিল। নগরীর বন্দরবাজার ও কোর্টপয়েন্ট এলাকায় বিরাজ করছিল  উত্তেজনা। এদিকে, গতকালের সংবাদ সম্মেলনে মহানগর জামায়াতের আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, সিলেটের সব ক’টি উপজেলায় জামায়াতের পক্ষ থেকে কর্মসূচি পালনের আয়োজন করায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার ছাড়াও বাসা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ধরপাকড় করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মহানগর জামায়াত নেতা হাফিজ আবদুল হাই হারুন, জেলা নেতা আনোয়ার হোসেন, মতিউর রহমান, ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সিলেটে গত এক মাসে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ৮ হাজার নেতাকর্মীকে। এর মধ্যে ২ শতাধিক নেতাকর্মী কারাগারে আছেন। জামায়াত নেতারা দাবি করেন, প্রায় ৫০ জন নিরীহ মানুষকে জামায়াত মনে করে পুলিশ আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে। কয়েকজন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করার অভিযোগ তোলেন তারা। একই সঙ্গে সিলেটের এমসি ও মদনমোহন কলেজে দুই ছাত্রকে ছাত্রলীগ পেটানোর পর পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
গাজীপুর: গাজীপুরের চান্দনায় জামায়াত-শিবিরের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপের পর ৪ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। দুপুরে চান্দনা চৌরাস্তায় তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের বাধায় জেলা শহরের মুক্তমঞ্চে নির্ধারিত সমাবেশ করতে না পেরে তারা স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে প্রতিবাদে সমাবেশ শুরু করে। এতে জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল হাশেম খান বক্তব্য রাখেন। এ সময় পুলিশ তাদের সমাবেশে বাধা দেয়। এতে সমাবেশ সংক্ষিপ্ত করে নেতাকর্মীরা চলে যান।
আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): আখাউড়ায় জামায়াত অফিস ভাঙচুর করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। গতকাল সকাল ১১টায় উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মুরাদ হোসেনের নেতৃত্বে অর্ধশত নেতাকর্মী পৌরশহরের শহীদ স্মৃতি কলেজ সংলগ্ন জামায়াতে ইসলামীর অফিস ‘আল মদিনা কমপ্লেক্সে’ হামলা চালায়। তারা অফিসের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং  বই, পত্রিকা, ম্যাগাজিন ও কাগজপত্র পুড়িয়ে দেয়। পরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শহীদ স্মৃতি কলেজ ক্যাম্পাসে জামায়াত-শিবির বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মিছিল নিয়ে শহরের সড়ক বাজারে চলে আসে। অফিস ভাঙচুর চলাকালে জামায়াতে ইসলামীর কোন নেতাকর্মী সেখানে ছিল না। তবে থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। উপজেলা জামায়াতে আমীর বিল্লাল আহমেদ বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অন্যায়ভাবে আমাদের অফিস ভাঙচুর করেছে।
রাজশাহী: রাজশাহীতেও জামায়াত-শিবিরের মিছিল-সমাবেশ ঠেকাতে সকাল থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে মহানগর পুলিশ। মহানগরের সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট, গৌরহাঙ্গা রেলগেট, শালবাগান, নওদাপাড়া, ভদ্রা স্মৃতি অম্লান চত্বর, তালাইমারী, বিনোদপুর, কাটাখালি, মালোপাড়া, লক্ষ্মীপুর, কুমারপাড়া, কোর্ট চত্বর, সিএনবির মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কগুলোতে সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ। নগরীর প্রবেশমুখগুলোতে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের কাগজপত্র তল্লাশি করেছে। পুলিশের পাশাপাশি সক্রিয় ছিল র‌্যাব।
সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জে ইমরুল কায়েস (২০) নামে এক শিবিরকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে। সকালে শহরের জামে মসজিদ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশ-জামায়াত কর্মী সংঘর্ষের ঘটনায়  পীরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর আবুল কাশেম, শিবিরকর্মী ফারুক হোসেন, নাইমুদ্দিন ও সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল ভোরে শহরের সরকারপাড়া শিবির ছাত্রাবাস ও পীরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের হাজির করা হলে আদালত তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি জাহিদুর রহমান চৌধুরী জানান, গত ৫ই নভেম্বর পুলিশের ওপর হামলা মামলার তালিকাভুক্ত আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ফেনী: ফেনীর মিজান ময়দানে গতকাল বিকাল ৩টায় ডাকা সমাবেশ করতে পারেনি জেলা জামায়াত। এ নিয়ে গত ৩ দিন ধরে জেলা ও উপজেলায় প্রচারণা চালালেও গতকাল মাঠে নামেনি তাদের নেতাকর্মীরা। প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে সমাবেশ করার বিষয়ে শহরে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছিলেন সবাই। জেলার ছাগলনাইয়া বাজারে স্থানীয় জামায়াত গতকাল সমাবেশ আহবান করলেও একই সময়ে উপজেলা যুবলীগ ও সমাবেশ ডাকে। এ পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন রোববার রাত ৯টা থেকে ১৪৪ ধারা জারি করায় কেউ সমাবেশ করতে পারেনি।
ফরিদপুর: ভাঙ্গা উপজেলার হাসপাতাল সংলগ্ন হেলিপোর্ট মাঠে জামায়েত ইসলামী ও আওয়ামী লীগ একই স্থানে সভা ডাকায় উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী মো. আসাদুজ্জামান কবির জানান, লিখিত ভাবে প্রথমে জামায়াত ও পরে আওয়ামী লীগ একই স্থানে সমাবেশের জন্য আবেদন করে। তাই কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুপুর ২টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুর শহরের আদর্শ সামাদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গতকাল বিকাল ৩টা একই সময়ে একই স্থানে জামায়াত-আওয়ামী লীগ সমাবেশ ডাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপ্রীতিকর ঘটনায় এড়াতে ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যায় ৮টা পর্যন্ত সকল ধরনের সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ। একই দিন রায়পুর উপজেলা শহরের আলীয়া মাদরাসা মাঠে বিকাল ৩টায় জামায়াত ও যুবলীগ একই সময়ে সমাবেশ ডাকায়। ওই দিন বিকাল ৩টা- সন্ধ্যায় ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  দুলাল চন্দ্র সূত্রধর।
রাজশাহী: হরতালের সমর্থনে গতকাল সন্ধ্যায় রাজশাহীতে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রশিবির। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় ৫জন আহত হয়েছে। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অন্তত ১০রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এদিকে, পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে জামায়াত-শিবিরের ১১নেতাকর্মীকে আটক করেছে।
বরিশাল: নগরীতে হরতালের সমর্থনে এক সংগে ৮টি স্পটে ঝটিকা মিছিল করেছে জামায়াত-শিবির। গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় আকস্মিক এ মিছিল বের হয়। মিছিলের পরপরই পুলিশ সক্রিয় হয়ে উঠে। তবে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এদিকে জেলার বিভিন্ন স্থারে ৭ জামায়াত শিবির কর্মীকে আটক করে পুলিশ। এর মধ্যে মুলাদীতে ৪জন, মেহেন্দিগঞ্জে ২জন এবং বাবুগঞ্জে ১জন রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর: সদর উপজেলার দালাল বাজার ও মান্দারী বাজারে জামায়াত-শিবিরের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় বক্তব্য রাখেন জামায়াতের শহর আমীর ফারুক হোসাইন নুর নবী ও সেক্রেটারি সামছুল ইসলাম, শিবিরের জেলা সভাপতি আলী হোসেন মুরাদ ও শহর সভাপতি আবদুল আউয়াল রাসেল প্রমুখ।
ফরিদপুর: হরতালের সমর্থনে সোমবার ফরিদপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা জামায়াতের নেতাকর্মীরা। বিকাল সাড়ে ৪টায় শহরের ৩টি পয়েন্ট থেকে হরতালের সমর্থনে নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। শহরের মুজিব সড়ক, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড ও টেপাখোলা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিল ও সমাবেশ থেকে পুলিশ পাঁচ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে।
বগুড়া: বগুড়ার শেরপুরে জামায়াত-শিবিরের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ ও ২ সমর্থককে গ্রেপ্তার করেছে। অপরদিকে মিছিলের প্রস্তুতিকালে দুঁপচাচিয়া থেকে ২ জামাত নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, শেরপুরের জামাত সমর্থক ধানঘরা ফাজিল মাদরাসার আরবি প্রভাষক আলতাফ হোসেন (৫০) ও  সুঘাট জামে মসজিদের ইমাম ফরিদুল ইসলাম (২৮)। শেরপুর থানা পুলিশ জানায়, জামায়াত শিবির মহাসড়কের শেরুয়া বটতলা এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা করে। থানা পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এসময় তারা পুলিশের উপর চড়াও হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। ঘটনায় জড়িত থাকায় আলতাফ হোসেন ও ফরিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

হরতালে নৈতিক সমর্থন বিএনপি’র
জামায়াত আহূত আজকের হরতালে নৈতিক সর্মথন দিয়েছে বিএনপি। গত রাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে দলের পক্ষ থেকে এ নৈতিক সর্মথন ঘোষণা করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের প্রচলিত আইনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামিকে তাদের শান্তিপূর্ণ জনসভা অনুষ্ঠানে সরকার অন্যায়ভাবে বাধা দিয়েছে। সরকারের এই বেআইনি ও স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের প্রতিবাদে তাদের ডাকা আজকের হরতাল কর্মসূচি যৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক। জামায়াতের কর্মসূচি বানচালের জন্য পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে ছাত্রলীগ-যুবলীগকর্মীদের মাঠে নামানোর ন্যক্কারজনক আহ্বানের মাধ্যমে দেশকে রাজনৈতিক সংঘাতের পথে ঠেলে দিচ্ছে সরকার। এতে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী জনগণ দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে শঙ্কিত। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি আহূত হরতাল কর্মসূচির প্রতি বিএনপি নৈতিক সমর্থন ঘোষণা করছে। উল্লেখ্য, আজকের হরতালের প্রতি আরও সমর্থন জানিয়েছে শফিউল আলম প্রধানের নেতৃত্বাধীন জাগপা ও খেলাফত আন্দোলন।

নাখোশ বিশ্বব্যাংক, মামলা না হলে গুডবাই

নাখোশ বিশ্বব্যাংক, মামলা না হলে গুডবাই


নাখোশ বিশ্বব্যাংক। দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা না হলে গুডবাই জানাবেন তারা। অবশ্য আজ পদ্মা সেতুর ভাগ্যনির্ধারণী বৈঠক বসছে দুদকে। এটাই হতে পারে শেষ বৈঠক। রোববার দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এমন কঠোর মনোভাবই ব্যক্ত করেছে বিশ্বব্যাংক বিশেষজ্ঞ প্যানেল। বৈঠকে বারবার তারা দুদকের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দৃশ্যমান অগ্রগতির দিকগুলো জানতে চেয়েছেন। সেগুলো না দেখে হতাশ ও নাখোশ হয়েছেন। বিশ্বব্যাংক প্যানেলের কাছে দৃশ্যমান অগ্রগতি মানে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের। দুদক সূত্র বলছে, তাদের দীর্ঘ অনুসন্ধানে এখনও তারা মামলা করার মতো অবস্থানে যেতে পারেননি, তেমন কোন দালিলিক প্রমাণ পাননি। দুদকের আইন উপদেষ্টা এডভোকেট আনিসুল হকও বলেছেন, মামলা করার মতো প্রমাণাদি তাদের হাতে নেই। গত ২রা ডিসেম্বর দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সন্তোষ প্রকাশ করেননি বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দল। ওই বৈঠক সম্পর্কে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেছেন, বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধিরা মোটামুটি সন্তুষ্ট। তিনিও পুরো সন্তোষের কথা বলতে পারেননি। তবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, তদন্ত ও পদ্মা সেতুর কাজ এক সঙ্গে চলবে। দুদকের মামলার দু’টি স্তর। একটি অনুসন্ধান, অন্যটি তদন্ত। এখানে অনুসন্ধান হয় মামলা দায়ের করার আগে। তদন্ত হয় মামলা করার পরে। অর্থমন্ত্রীর কথা সঠিক হলে মামলা হচ্ছে দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে। গতকাল সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে দ্বিতীয়বার জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে পদ্মা সেতুর দুর্নীতিতে দুদকের অনুসন্ধান। দুদক সূত্রে জানা গেছে, আজ জমা হতে পারে অনুসন্ধানের প্রতিবেদন। প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর মামলা করার সিদ্ধান্ত হলে বা মামলা করার গ্রিন সিগন্যাল পাওয়া গেলে মামলা দায়েরের অনুমতি দেবে দুদক। মামলার অনুমোদন হলে আগামী ৫ই বা ৬ই ডিসেম্বর মামলা দায়ের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে। সূত্রমতে, মামলা হতে পারে ৫ জনের বিরুদ্ধে। ওই ৫ জন হচ্ছেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশররাফ হোসেন ভূঁইয়া, পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক রফিকুল ইসলাম, জাতীয় সংসদের হুইপ লিটন চৌধুরীর ভাই নিক্সন চৌধুরী ও সাবেক পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী। অন্য একটি সূত্র বলছে, মামলায় অভিযুক্তর সংখ্যা আরও দু’জন বাড়তে পারে। তাদের একজন এসএনসি লাভালিনের স্থানীয় প্রতিনিধি, তার মাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের দরবার হয়েছিল। অন্যজন মূল্যায়ন কমিটির, এসএনসি লাভালিনকে কাজ দেয়ার পেপারে তিনি স্বাক্ষর করেছিলেন।
একটি সূত্র জানিয়েছে, মামলা দায়ের হলেই পদ্মা সেতুতে বিশ্ব্যাংক অর্থায়ন শুরু করবে- এমন কোন নিশ্চয়তা এখনও পাওয়া যায়নি। নাকি মামলা দায়ের করার পর আবার নতুন কোন শর্ত দেবে বিশ্বব্যাংক সেটাও নিশ্চিত বলতে পারছেন না কেউ। সে কারণে একটি মহল চিন্তা করছে- মামলাও হলো, আবার সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হলো- কিন্তু পদ্মা সেতুর অর্থ পাওয়া গেল না- এমনটা হলে সরকারের ক্ষতি দু’দিকে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে মামলা করে কি লাভ? মামলা দায়ের হলে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি সামনে চলে আসবে। গ্রেপ্তার না হলে সরকারের সামনে আরেক বিপদ এসে দাঁড়াবে। ওইসব বিষয় চিন্তা করে দ্বিধা আছে মামলা দায়ের নিয়ে। সূত্রমতে, সরকারেরই একটি মহল মামলা দায়েরে অতি আগ্রহী- অন্যরা ততটা নয়। সূত্র জানায়, মামলা দায়ের করার আগে পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এখনও সেটা পরিষ্কার হয়নি। কিন্তু বিশ্বব্যাংক পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির বিষয়ে মামলাসহ কার্যকর ব্যাবস্থা গ্রহণে দুদককে অব্যাহতভাবে চাপ দিলেও এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির বিষয়ে কোন ডকুমেন্ট সরবরাহ করেনি। কানাডিয়ান রয়েল পুলিশের উদ্ধার করা ডায়েরির মালিক রমেশ সাহার সঙ্গেও এখনও কথা বলতে পারেনি দুদক। পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের কাছে নালিশ গিয়েছিল বাংলাদেশ থেকে। বাংলাদেশে ব্যবহৃত একটি মেইল থেকে দুর্নীতির কাহিনী পাঠানো হয়েছিল বিশ্বব্যাংকে। এখনও দুদককে ওই ই-মেইল পাঠিয়েছিল তার সন্ধান করতে পারেনি। দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশে আসা বিশ্বব্যাংক গঠিত বিশেষজ্ঞ প্যানেলের তিন সদস্য তাদের প্রধান
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-এর সাবেক প্রধান প্রসিকিউটর লুই গাব্রিয়েল ওকাম্পো ও হংকং-এর দুর্নীতিবিরোধী স্বাধীন কমিশনের সাবেক কমিশনার টিমোথি টং এবং যুক্তরাজ্যের দুর্নীতি দমন কার্যালয়ের সাবেক পরিচালক রিচার্ড অল্ডারম্যান আজ তৃতীয়বারের মতো বৈঠকে বসবেন দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে। ওই তিন জনের সঙ্গে থাকবেন বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি এ্যালেন গোল্ডস্টেইন। সূত্রমতে, আজকের বৈঠকেই চূড়ান্ত হয়ে যেতে পারে পদ্মা সেতুর ভাগ্য। হয়তো মামলা না হলে গুডবাই জানাবে বিশ্বব্যাংক- এমনটিই বলছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

Monday, December 3, 2012

কণ্ঠ দিয়েই চেনা যাবে মোবাইল ব্যবহারকারী

কণ্ঠ দিয়েই চেনা যাবে মোবাইল ব্যবহারকারী


মোবাইল ফোন এখন বিশ্বব্যাপী মানুষের হাতে হাতে। আর নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটিতে প্রতিনিয়তই যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন সব ফিচার। মোবাইল ফোনের ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে সাথে এতে যুক্ত হওয়া নতুন নতুন সেবার সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি মোবাইল ফোনে ব্যক্তিগত তথ্য গোপন ও সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি নিয়েও সচেতনতা বেড়েছে। মোবাইল ফোনের তথ্যকে সুরক্ষিত রাখার জন্য পাসওয়ার্ড, ছবির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এই ধরনের নানা ধরনের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে এবারে বাইদু এবং ইন্সটিটিউট অব ইনফোকম রিসার্চ যৌথভাবে উদ্ভাবন করেছে এমন একটি প্রযুক্তি যার মাধ্যমে কণ্ঠস্বরকে মানুষের পরিচয় চিহ্নিত করার অনন্য একটি বৈশিষ্ট্য হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। বর্তমানেও বাজারে বিভিন্ন মোবাইল ফোনের জন্য নানা ধরনের ভয়েস রিকগনিশন সফটওয়্যারের ব্যবহার রয়েছে। তবে এদের সবার চাইতে নতুন এই অ্যাপ্লিকেশনটি সম্পূর্ণ আলাদা। নতুন এই ফিচারটি সম্পর্কে উদ্ভাবকদের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্পিকার ভেরিফিকেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে যেকোনো অনুমোদিত ব্যক্তি ফোনকে আনলক করতে পারবে। এর জন্য তাকে ফোনের সামনে কিছু একটা বললেই হবে। কোনো ধরনের পিন, পাসওয়ার্ড, হাতের স্পর্শ কিছুই লাগবে না। লেনোভোর এ৫৮৬ স্মার্টফোনের মাধ্যমে সর্বপ্রথম এই সফটওয়্যারটি যাত্রা শুরু করেছে। ১.২ গিগাহার্জ ডুয়েল কোর প্রসেসর এবং অ্যানড্রয়েড ৪.০ অপারেটিং সিস্টেমে চালিত লেনোভোর এই স্মার্টফোন চীনের বাজারে যাত্রা শুরু করবে চলতি ডিসেম্বরের ১২ তারিখ থেকে। মোবাইল ফোন লক রাখার জন্য আমরা এখন যেমন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে থাকি, লেনোভোর এই ফোনকে তেমনি আনলক করার জন্য ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট কোনো বাক্য বা শব্দ নির্বাচন করে দিতে পারবে। এরপর মূল ব্যবহারকারী এই শব্দ বা বাক্য উচ্চারণ করলেই ফোনটি আনলক হবে। এই সফটওয়্যারটি মানুষের কণ্ঠস্বর থেকেই মানুষকে সনাক্ত করতে পারবে বলেই জানিয়েছেন উদ্ভাবকরা। উল্লেখ্য, চীনের অনলাইন জায়ান্ট বাইদু এবং সিঙ্গাপুরের ইন্সটিটিউট অব ইনফোকম রিসার্চ যৌথভাবে যাত্রা শুরু করে চলতি জুলাইয়ে। মাত্র ৬ মাসের মাথাতেই তারা এই ভয়েস রিকগনিশন প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছে। বাইদুর ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং মেংকিউ এর আগেই এই প্রযুক্তিটি সম্পর্কে সকলকে প্রাথমিক ধারণা দিয়েছিলেন। পাশাপাশি একে বাইদুর উয়ি মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমে যুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

Sunday, December 2, 2012

প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ

প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ


প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং ভিআইপি ঘোষিত দেশী বা বিদেশী অতিথিদের অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারের সচিব বা রাষ্ট্রীয় যে কোন অনুষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত ভিআইপি অতিথিরাও অনুষ্ঠান প্রবেশকালে মোবাইল ফোন নিয়ে ঢুকতে পারবেন না। এ বিষয়ে কঠোর হয়েছে প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্টসহ ভিভিআইপিদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সরকারের বিশেষ একটি ফোর্স। মোবাইল সদৃশ পিস্তলের কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোন না নিয়ে আসতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে মোবাইল সদৃশ পিস্তল দেখা যাচ্ছে। এ পিস্তলের কথা বিভিন্ন গণমাধ্যমে কয়েক দিন ধরে প্রকাশিত হচ্ছে। এটা ভিভিআইপিদের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ধরনের মোবাইল সদৃশ পিস্তলের কারণে প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টসহ সরকারের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন তারা। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের কাছে দেয়া চিঠিতে তারা বলেছেন, এসব পিস্তল নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। তাই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যথাসম্ভব মোবাইল ফোন আনা থেকে বিরত রাখতে হবে। বিশেষ বাহিনী তাদের চিঠিতে বলেছে, রাষ্ট্রের ভিভিআইপি ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় কাজ করছে আমাদের বাহিনী। সমপ্রতি তারা মোবাইল ফোনের মতো বিভিন্ন ধরনের পিস্তল দেখতে পাচ্ছেন- যা ভিভিআইপিদের নিরাপত্তার জন্য ব্যাপক হুমকিস্বরূপ। এতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন ভিভিআইপির নিরাপত্তায় বিশেষ বাহিনীটি কাজ করে যাচ্ছে। তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকির কারণ হয় এমন সব জিনিসপত্র বা যন্ত্রপাতি নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করা ঠিক নয়। এতে নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েতে পারে। চিঠিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করা একান্তই প্রয়োজন মনে করলে আগে থেকে ফোন ব্যবহারকারীর নাম, মোবাইল নম্বর এবং ব্যবহারের কারণ সম্পর্কে বিশেষ ফোর্সকে জানাতে হবে। এতে সার্বিক বিষয়ে নজরে রাখা সম্ভব হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টকে অতিথি করে ছাপানো আমন্ত্রণপত্রে বর্তমানে মোবাইল ফোন, ব্যাগসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নিয়ে প্রবেশ না করার জন্য অনুরোধ করা হয়। এটা কোন কোন ক্ষেত্রে শিথিল করা হয়। আয়োজনকারী কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের দেখা যায় প্রয়োজনের খাতিরে তারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্টের বিশেষ ফোর্সের সদস্যরা কোন ধরনের বাধা দিতেন না। তবে মোবাইল সদৃশ পিস্তলের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর এ বিষয়ে কঠোর হয়েছে সরকার। এখন থেকে কোন অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে যাতে বিষয়টি কঠোরভাবে লেখা থাকে এজন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বিশেষ বাহিনীর ওই চিঠিতে।

Saturday, December 1, 2012

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দিয়ে স্বপ্নের মতো জয়

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দিয়ে স্বপ্নের মতো জয়

ক্রিস গেইল যেন তামিম ইকবালে ভর করলেন! বাংলাদেশের ওপেনার বল মারলেন একদিকে কিন্তু গেল অন্যদিকে। তবে এমন জোরে মারলেন যে সেটি শেষ পর্যন্ত ছক্কাই হয়ে গেল। আইপিএল কিংবা বিপিএলে গেইলের ব্যাটে এমন কত ছক্কা হতে দেখেছেন নিশ্চয়ই! গায়ের জোরে মিস হিটেও বল বাতাসে ভেসে সীমানাছাড়া হওয়ার ঘটনা গেইলের ব্যাটেই রচিত হতে দেখবেন বলে প্রস্তুতি ছিল পরম বাংলাদেশ-ভক্তেরও। আর বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের শারীরিক শক্তির অভাব নিয়ে হাহাকারের মধ্যে গেইলের জোরটা কিনা উল্টো ক্ষণিকের জন্য চলে এলো তামিমেই!
খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ওলট-পালটের বিশাল ও বিস্তৃত ছবির এটি একটি সামান্য খণ্ডচিত্র মাত্র। বাংলাদেশের বিপক্ষেই যেসব ঘটবে বলে অনুমান ছিল, এর বেশির ভাগই ঘটল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্ষেত্রে। এই যেমন টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসার ঘটনায় সমালোচনা হয়েছে খুব। পরিস্থিতির দাবি বুঝে ব্যাটিং করার অক্ষমতার জন্য তাঁদের শূলে চড়ানোই বাকি ছিল কেবল। অথচ কাল ম্যাচের শেষে ঠিক এ কাজটাই করার জন্য নিজ দলের ব্যাটসম্যানদের কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সহ-অধিনায়ক কিয়েরন পোলার্ড। উল্টো ঘটনার শেষ এখানেই নয়, আরো আছে।
নতুন নিয়মে ওয়ানডের ফিল্ডিং বাধ্যবাধকতার খৰ বাংলাদেশের ওপরই বেশি পড়বে বলেই মত ছিল সর্বাধিক। বাংলাদেশ যেহেতু স্পিন-নির্ভর দল, কাজেই তাদের স্পিনারদের ওপর দিয়ে ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা ঝড় বইয়ে দেবেন বলেও মনে করেছিলেন অনেকে। কিন্তু বাস্তবে ঘটল ঠিক বিপরীত। আশঙ্কার 'নন-পাওয়ার প্লে' ওভারেই বরং বাংলাদেশ শেষ করে দিল ক্যারিবীয়দের। দিলেন স্পিনাররাই। প্রতিপক্ষের ১০ উইকেটের আটটিই তো তুলে নিয়েছেন তাঁরা। সব মিলিয়ে অলআউট হওয়ার আগে ক্যারিবীয়রা ১৯৯ রান করেছেন বটে, কিন্তু তাঁদের সব উইকেটই পড়েছে নন-পাওয়ার প্লের ৩১.৫ ওভারে। তাও আবার মাত্র ১১২ রানে। এত কিছু উল্টে-পাল্টে যখন যায়, তখন অনুমানের ফলটাও ওল্টাতে বাধ্য। বাংলাদেশও তাই ৭ উইকেটের অনায়াস জয় দিয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আনন্দে ডুবল না শুধু, নিউজিল্যান্ডকে টপকে এই প্রথমবারের মতো আইসিসির ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের আট নম্বরেও উঠে গেল!
সাতসকালে ক্যারিবীয় অধিনায়ক ড্যারেন সামি টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার পর আশঙ্কার মেঘ জমছিল আরো। তাঁরা না আবার সাড়ে তিন শ-চার শ করে ফেলে! কিন্তু ম্যাচ শুরু হতেই দেখা মিলতে লাগল ভিন্ন সব চিত্রের। ম্যাচ শেষে যে বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম জয়ের ভিত্তি গড়ে দেওয়ার কৃতিত্বটা দলের দুই পেসারকে দিচ্ছিলেন, সেটা তো আর এমনি এমনি দেননি। সকালে মাশরাফি বিন মর্তুজা আর অভিষিক্ত আবুল হাসান মিলে কেমন বোলিং করছিলেন, সেটি প্রথম ৩ ওভারে স্কোরবোর্ডে ক্যারিবীয়দের ৩ রান জমা হওয়াতেই পরিষ্কার। প্রথম পাওয়ার প্লেতে অবশ্য তাঁদের দুজনের খরুচে ওভারও আছে। মাশরাফির ১ ওভার থেকে দুটো বাউন্ডারি আর ছক্কায় গেইল তুলেছিলেন ১৪ রান। হাসানের আরেক ওভার থেকে ১৬। এ দুটো বাদ দিলে প্রথম পাওয়ার প্লের বাকি ৮ ওভারে তাঁরা দিয়েছেন মোটে ১৭ রান!
এ সময়ের মধ্যে হাসানের বলে ওপেনার লেন্ডল সিমন্স জীবন ফিরে পেয়েছেন একাধিকবার। পরাস্ত হয়েছেন আরো বহুবার। সেই সিমন্সকে (১৩) এলবিডাবি্লউ করে ক্যারিবীয়দের প্রতি প্রথম আঘাতটা হানেন মাশরাফিই, যাঁর প্রথম স্পেলটা এখানে না তুলে দিলে হচ্ছেই না : ৭-২-২৪-১!
আক্রমণে এসে দ্বিতীয় বলেই আঘাত হানেন সোহাগ গাজীও। টেস্টে দুবার এ অফ স্পিনারের বলে আউট হওয়া গেইল (৩৫) এবারও তাঁর শিকার। লং অনের ওপর দিয়ে তুলে মারতে যাওয়া মারকাটারি ব্যাটসম্যান সীমানা দড়ির ঠিক আগে তামিমের অসাধারণ এক ক্যাচ হয়েছেন। যে ধরনের ক্যাচ নেওয়ার সুখ্যাতি তামিমের নেই বললেই চলে। পরের ওভারে মারলন স্যামুয়েলসকে (০) স্লিপে মাহমুদ উল্লাহর ক্যাচ বানিয়ে সোহাগ ক্যারিবীয়দের ওপর চেপে বসার পথ খুলে দেন আরো। ১৬ বলের মধ্যে ২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা ক্যারিবীয়দের বিপদ আরো বাড়তে থাকে বাঁহাতি স্পিনার আবদুর রাজ্জাক আক্রমণে আসতেই। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতেই থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর গেইল-স্যামুয়েলসদের ব্যর্থতার দিনে দলের ত্রাতা হতে ব্যর্থ পোলার্ড-আন্দ্রে রাসেলরাও। তাঁদের দুজনকে ফেরানো রাজ্জাক ৩৯ রান খরচায় নিয়েছেন ৩ উইকেট। তবে টেস্টের পর ওয়ানডে অভিষেকেও সবাইকে ছাড়ানো পারফরম্যান্স সোহাগ গাজীর। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রুবেল হোসেনের ৩৩ রানে ৪ উইকেট নেওয়াই এত দিন ওয়ানডে অভিষেকে কোনো বাংলাদেশির সেরা বোলিং ছিল। কাল ২৯ রানে ৪ উইকেট নেওয়ার পথে সোহাগ ফিরিয়েছেন 'পথের কাঁটা' হয়ে থাকা সুনীল নারিনকেও (৩৬); ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংসে যিনি দলকে প্রায় ২০০ ছোঁয়া স্কোরে নিয়ে যেতে রেখেছেন সবচেয়ে বড় ভূমিকা। না হলে ১৩৩ রানে ৮ উইকেট খুইয়ে বসা ক্যারিবীয়দের তো আরো আগেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা।
লক্ষ্য যখন সাধ্যের মধ্যে, তখন একটু উচ্চাভিলাষী হতেও খুব একটা বাধা নেই। তামিম তাই চালাতে শুরু করলেন। কেমার রোচের বলে যেমন একদিকে মেরে অন্যদিকে ছক্কা পেলেন। ৪৬ বলে ফিফটিতে পেঁৗছে যাওয়া এ বাঁহাতি ওপেনার শেষ পর্যন্ত ৫১ বলে ৫৮ করে আউট হওয়ার সময় বাংলাদেশের সহজ জয়ের ভিত গড়া হয়ে গেছে। বিসিবি একাদশের হয়ে জাতীয় দল এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটো প্রস্তুতি ম্যাচে বড্ড নড়বড়ে দেখানো এনামুল হকও (৪১) অভিষেকে দারুণ সঙ্গ দিলেন তামিমকে। ওপেনিংয়েই তাই ৮৮ উঠে যাওয়ার পর অন্যদের কাজটা ছিল সাবধানে বাকি পথটা পেরোনোর। নাসির হোসেনের (২৮) বিদায়ের পর তিন নম্বরে ব্যাট করা নাঈম ইসলাম (৫০*) আর অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম (১৬*) মিলে নিরাপদেই গন্তব্যে পেঁৗছে দিয়েছেন দলকে।
এরপর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে ম্যাচ সেরার প্রতীকী চেক হাতে সোহাগ গাজী! ওলট-পালটের সবচেয়ে বড় ছবিও বোধ হয় দিনের শেষে এটাই!

বাইরে স্বাস্থ্য কেন্দ্র ভেতরে শূন্য

বাইরে স্বাস্থ্য কেন্দ্র ভেতরে শূন্য

অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও ডাক্তার-কর্মচারীদের অবহেলা, নানা অব্যবস্থাপনা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে চলছে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা। জেলা সিভিল সার্জন দুলাল দত্ত সততা স্বীকার করে বলেন, ইতিপূর্বে বন্দর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিদর্শক করতে গিয়ে অব্যবস্থাপনা প্রমাণিত হয়ায় ৭ জনকে শোকজ এবং ৪ জনের বেতন বন্ধ করা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি হাসপাতালের নানা অব্যবস্থাপনার করুণ চিত্র। গত শনিবার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের কেউ নেই।  সেবার জন্য অপেক্ষায় বসে রয়েছেন কয়েক একজন রোগী। আউটডোরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন অসংখ্য শিশুসহ নারী-পুরুষ। টিকিট কাউন্টারের চেয়ারশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। রোগীরা টিকিট নেয়ার মতো কাউকে খুঁজে পাচ্ছেন না। এরই মধ্যে গিয়াস উদ্দিন নামের এক কর্মচারীকে দেখা যায়, গেটের বাইরে এক মহিলার সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছে। প্যাথলজি ও এক্সরে  বিভাগ ছিল তালা বন্ধ। এক্সরে বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মহিউদ্দিনের সঙ্গে করে নিয়ে এক্সরে বিভাগের ভেতরে ঢুকলে সেখান থেকে বের হচ্ছে দুর্গন্ধ। এতে বোঝা যাচ্ছিল কক্ষটি বেশ ক’দিন বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে মহিউদ্দিনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ওখানে নিয়মিত এক্সেরে করা হয়। তবে এক্সরে রেজিস্টার দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মহিউদ্দিন হাসপাতাল শুরু থেকেই এক্সরে বিভাগে কর্মরত। তিনি  হাসপাতালে এক্সরে ফ্লিম নেই বলে রোগীদের পাঠিয়ে দেন তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান বন্দর বাজারস্থ আল রাজি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। দন্ত বিভাগের ডা. সাহারা আক্তার সপ্তাহে একদিন রোগী দেখেন। সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. আবুল হাসনাত অবসর সময় কাটাচ্ছেন। কারণ, এ হাসপাতালে সার্জারি বিভাগ এখনও চালু করা হয়নি। দেখা যায়, একটি পরিত্যক্ত কক্ষে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না করা হয় রোগীদের খাবার। ওদের নেই নিজস্ব বাবুর্চি। রান্না করা হচ্ছে বহিরাগত এক মহিলাকে দিয়ে। রোগী থাকার দুটি ওয়ার্ডে পুরুষ ৫-৬ জন এবং মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডে ৪ জন রোগী রয়েছে। বাকি শয্যাগুলো নোংরা অবস্থায় পড়ে আছে। দুজন নার্স বসে তাদের কক্ষে আড্ডা দিচ্ছেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের সঙ্গে আলাপ করলে তারা জানান, ভর্তি হওয়ার পর, থেকে ডাক্তাররা কোনই খোঁজখবর নিচ্ছেন না। তাই বাধ্য হয়ে রোগীরা ২-৩ দিন পরই স্বেচ্ছায় চলে যায়। আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফরিদুল হাসান কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে না থেকে তিনি ঢাকায় থাকেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রমেশ চন্দ্র সাহা তিনিও সপ্তাহে এক-দু দিন হাসপাতালে থাকলে বাকি সময় বাইরেই থাকেন। এ সময় ডা. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে দেখা হয়। তবে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি। উল্টো সাংবাদিকদের হাসপাতালে প্রবেশের অনুমতি নিয়েছে কিনা তা তিনি জানতে চান। ডায়রিয়া রোগী বিজয়ের মা রুমি আক্তার জানান, হাসপাতালের পরিবেশ নোংরা, বেড কভার নোংরা, টয়লেটে সব সময় ময়লা-আর্বজনা জমে থাকে বলেই ওয়ার্ডে সর্বক্ষণ দুর্গন্ধ লেগেই থাকে। রোগী আছিয়া জানান, প্রতিদিন দুপুরে পাঙ্গাশ মাছ ছাড়া আর কোন মাছ দেয়া হয় না। নার্স আসমা জানান, ৩১ শয্যা বিশিষ্ট কমপ্লেক্সে অতিরিক্ত ৮টিসহ সর্ব মোট ৩৯টি বেড রয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি বেডই অকেজো। ৫টি মেরামত করলে ব্যবহার করা যাবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রমেশ চন্দ্র সাহাকে সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি তার অফিস পাওয়া না গেলেও তিনি ট্রেনিংয়ে আছেন বলে জানা গেছে। তার পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডা. আ. কাদেরকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে অফিস প্রধান আবুল হাশেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, টিএসআই স্যার ফিল্ডে আছেন। ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১ জন নার্স ও ১০ ডাক্তার কর্মরত থাকলেও তারা নিয়মিত আসেন না বলে এমন অভিযোগও করেন রোগী ও এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জন দুলাল দত্তের মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ইতিপূর্বে বন্দর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিদর্শনের গিয়ে অব্যবস্থাপনা ও নানা সমস্যা অবহেলা দেখে ৭ জনকে শোকজ করেছি এবং ৪ জনের বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে।

মাইক্রোসফটের নতুন অপারেটিং সিস্টেম ‘উইন্ডোজ ব্লু’

মাইক্রোসফটের নতুন অপারেটিং সিস্টেম ‘উইন্ডোজ ব্লু’


উইন্ডোজ ৮ অপারেটিং সিস্টেম বাজারে আনার পর আগামী বছরেই নতুন আরেকটি অপারেটিং সিস্টেম বাজারে আনতে পারে মাইক্রোসফট। এক খবরে প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট দ্য ভার্জ জানিয়েছে, ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে ‘উইন্ডোজ ৮.১’ বা ‘উইন্ডোজ ব্লু’ নামের নতুন সফটওয়্যার আনতে পারে বিশ্বের বৃহত্তম সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, পণ্য বাজারে আনার পরিকল্পনায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে মাইক্রোসফট কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে উইন্ডোজ সফটওয়্যারের দ্রুত আপডেট আনবে প্রতিষ্ঠানটি। উইন্ডোজ ৮ বাজারে আনার পরপরই ‘ব্লু’ নামের নতুন অপারেটিং সিস্টেম তৈরির কাজ শুরু করেছে মাইক্রোসফট। ‘উইন্ডোজ ৮.১’ বা ‘উইন্ডোজ ব্লু’ নামের নতুন এ অপারেটিং সিস্টেমটি উইন্ডোজ ডেস্কটপ ও উইন্ডোজ ফোন অপারেটিং সিস্টেমের জন্য তৈরি করা হবে। উইন্ডোজ ৮ ও উইন্ডোজ ফোন ৮ অপারেটিং সিস্টেমের ক্ষেত্রে আলাদা নাম ব্যবহারের পরিবর্তে একত্রে ‘উইন্ডোজ ব্লু’ নামটি রাখতে পারে মাইক্রোসফট। ‘উইন্ডোজ ব্লু’ বিনামূল্যেই আপডেট করার সুযোগ দিতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।
উইন্ডোজের পরবর্তী সংস্করণ নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্লেষকেদের ধারণা সম্পর্কে মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

রাজধানীতে ক্লিনিকের ভেতরে চিকিৎসক খুন

রাজধানীতে ক্লিনিকের ভেতরে চিকিৎসক খুন

 রাজধানীর দক্ষিণখানে এক নারী চিকিৎসককে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। তার নাম সাদিয়া আফরিন ইভা (২৬)। গত বৃহস্পতিবার রাতে সাদিয়ার কর্মস্থল ক্লিনিকের মধ্যেই শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ওই চিকিৎসককে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। নিহত চিকিৎসক দক্ষিণখানের আমতলির ব্র্যাক ক্লিনিকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর থেকে ক্লিনিকের কেয়ারটেকার ফয়সাল পলাতক রয়েছেন। তবে চিকিৎসক খুনের ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এদিকে, খিলক্ষেত এলাকায় রওশন আরা বেগম (৬৮) নামের এক বৃদ্ধার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ডা. সাদিয়া আফরিন দক্ষিণখানের কাওলা এলাকায় মা হাসিনা বেগম ও ছোটবোন নাদিয়া আফরিন ইমনকে নিয়ে বসবাস করতেন। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ব্র্যাক ক্লিনিক থেকে একজন প্রসূতি অপারেশনের জরুরি ডাক আসে। তিনি ক্লিনিকে গিয়ে অপারেশন শেষ করে তৃতীয় তলায় চিকিৎসকদের কক্ষে বিশ্রাম নিতে যান। গতকাল সকালে ক্লিনিকের একজন নার্স তাকে কয়েক দফা মোবাইল করে না পেয়ে তৃতীয় তলার ওই কক্ষে গিয়ে তাকে ফ্লোরে শায়িত ও অচেতন অবস্থায় দেখেন। পরে তার চিৎকারে অন্য সহকর্মীরা গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় আবিষ্কার করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশ জানায়, ডা. সাদিয়া আফরিনকে শ্বাসরোধের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। তার গালে খামচির দাগ, চোখের ওপর আঘাতের চিহ্ন ও কপালে কাটা দাগ রয়েছে। এছাড়া ওই কক্ষের একটি প্লাস্টিকের চেয়ারের পায়া ভাঙ্গা অবস্থায় ছিল। পুলিশের ধারণা, রাতের ডিউটি করার সময় কেউ তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় ডা. সাদিয়া আফরিন বাধা দিলে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
ডিএমপি’র উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) নিসারুল আরিফ জানান, প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ফয়সাল জড়িত রয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক রয়েছে। তাকে ধরতে পারলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
জানা গেছে, নিহত ডা. সাদিয়া আফরিনের বাবা মনিরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত। সিলেট মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করার পর ডা. সাদিয়া আফরিন রাজধানীর সোহ্‌রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে এফসিপিএস পড়ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ব্র্যাক ক্লিনিকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের বালিথুবায়।

তাজরীন ও বহদ্দারহাট: নিহতদের পরিবারকে দুই লাখ টাকা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

তাজরীন ও বহদ্দারহাট:

নিহতদের পরিবারকে দুই লাখ টাকা দেবেন প্রধানমন্ত্রী


সাভারের নিশ্চিন্তপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ও চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন উড়ালসড়কের গার্ডার ভেঙে নিহত ব্যক্তিদের প্রত্যেক পরিবারকে দুই লাখ করে টাকা দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই দুই ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা পাবেন ৫০ হাজার টাকা। খবর ইউএনবির।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (গণমাধ্যম) মাহবুবুল হক শাকিল আজ শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তাজরীন ফ্যাশনস লিমিটেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে যাঁরা নিহত হয়েছেন এবং যাঁদের শনাক্ত করা গেছে, তাঁদের প্রত্যেক পরিবারকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অগ্নিকাণ্ডে আহত ব্যক্তিদের ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
এ ছাড়া চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন উড়ালসড়কের গার্ডার ভেঙে নিহত ১৩ জনের প্রত্যেক পরিবারকে দুই লাখ টাকা ও ওই ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের ৫০ হাজার টাকা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে।
গত ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় আশুলিয়ার পোশাক কারখানা তাজরীনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সরকারি হিসাবে ১১১ জনের প্রাণহানি হয়। ওই দিনই চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন উড়ালসড়কের গার্ডার ভেঙে মারা যায় ১৩ জন।

অগ্নিদগ্ধ শ্রমিকদের জয় উৎসর্গ

অগ্নিদগ্ধ শ্রমিকদের জয় উৎসর্গ


ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দুটি ম্যাচে হারের মুখ দেখলেও ওয়ানডে সিরিজের শুরুটা চমত্কারভাবে করেছে বাংলাদেশ। খুলনায় আজ সফরকারীদের ৭ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা। টেস্টে ব্যর্থতার পর আত্মবিশ্বাস ফেরানো এ জয়টি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা উত্সর্গ করেছেন ২০০৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ক্রিকেটার মানজারুল ইসলাম রানা ও আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া পোশাকশ্রমিকদের উদ্দেশে। স্মরণকালের ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১১১ জন শ্রমিক।
ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে আজ চমৎকার দলীয় পারফরমেন্স উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। দলের অন্যতম প্রধান ভরসা সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতিতেও ৭ উইকেটের জয়টা সত্যিই খুব আশাব্যঞ্জক। প্রথমে বল হাতে সোহাগ গাজী ও আবদুর রাজ্জাকের দারুণ পারফরমেন্সে ভর করে উইন্ডিজকে মাত্র ১৯৯ রানে আটকে দেয় বাংলাদেশ। পরে ব্যাট হাতেও দর্শকদের মন কেড়ে নিয়েছেন টাইগাররা। তামিম ইকবাল, নাঈম ইসলাম, অভিষিক্ত ওপেনার এনামুল হকের বিবেচনাপ্রসূত ব্যাটিংয়ের ফলে ১০ ওভার হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। ম্যাচ শেষে দলের পারফরমেন্স নিয়ে কিছু বলার আগে মুশফিক বলেছেন, ‘আপনারা সবাই জানেন যে ২০০৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন মানজারুল ইসলাম রানা। বিসিবি তাঁর স্মৃতি স্মরণে রেখে একটি স্ট্যান্ডের নামকরণ করেছে বলে আমরা খুবই খুশি। আমরা আজকের এই জয়টা উত্সর্গ করছি তাঁর ও ঢাকায় অগ্নিকাণ্ড ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারানো গার্মেন্টস শ্রমিকদের উদ্দেশে।’
টেস্ট সিরিজে দুটি ম্যাচেই হারের পর ওয়ানডে সিরিজটা জয় দিয়ে শুরু করতে পারায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুশফিকুর রহিম। সেই সঙ্গে চমৎকার বোলিং করার জন্য স্পিনারদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নিজেদের সর্বশক্তি দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে, সেটা মাথায় রেখে সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘টেস্টে আমরা বেশ কিছু ব্যক্তিগত সাফল্য দেখেছি। কিন্তু দলগতভাবে সমন্বিত পারফরমেন্স সেভাবে ছিল না। আজ আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত পারফরমেন্সটাই দেখাতে পেরেছি। সেটার জন্য আমি খুবই খুশি। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়ানোর জোর চেষ্টা করবে। ফলে আমাদেরও সেটা মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিতে হবে।’ ২ ডিসেম্বর খুলনায় সিরিজের দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচ হবে।

বাংলাদেশের সহজ জয়

বাংলাদেশের সহজ জয়


সোহাগ গাজী ও আবদুর রাজ্জাকের ঘূর্ণিজাদু, এরপর তামিম-এনামুল-নাঈমদের ব্যাটিং-ঝড়। বলে-ব্যাটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে আজ শুক্রবার খুলনায় অনেকটা হেসেখেলে ৭ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।
পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে সকালে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু বাংলাদেশি বোলারদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা। ৪৬.৫ ওভারে দলীয় ১৯৯ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সোহাগ গাজী সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন। আবদুর রাজ্জাক শিকার করেন তিনটি উইকেট। এ ছাড়া মাশরাফি ও মাহমুদউল্লাহ একটি করে উইকেট নেন।
জয় পেতে প্রয়োজন ২০০ রান। এ লক্ষ্যে খেলতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতেই ৮৮ রানের দেখা পায় বাংলাদেশ। ৫৮ রানের নজরকাড়া এক ইনিংস খেলে সবার আগে সাজঘরে ফেরেন তামিম ইকবাল। তাঁর ৫১ বলের ইনিংসে ছিল আটটি চার ও দুটি ছয়ের মার। আরেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান এনামুল হক ফেরেন ব্যক্তিগত ৪১ রানে। নাসির হোসেন আউট হন ব্যক্তিগত ২৮ রানে।
বাংলাদেশ জয়ের দেখা পায় ৪০.২ ওভার খেলে। বড় জয় নিশ্চিত করে নাঈম ইসলাম ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন। তাঁর সঙ্গে ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।
প্রথমে ব্যাট করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলীয় ৪৮ রানে প্রথম উইকেট হারায়। ৫০ রানের মধ্যে পতন ঘটে আরও দুটি উইকেট। ইনিংসের গোড়ার দিকে পাওয়া এই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেননি ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা। নবম উইকেটে নারাইন ও রামপলের ৫৭ রানের জুটিটা না হলে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ আরও কম হতে পারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ সংগ্রহ সুনীল নারাইনের (৩৬)। ক্রিস গেইল ও ড্যারেন ব্রাভো দুজনেরই সংগ্রহ ৩৫ রান। রবি রামপল করেন ২৫ রান।
আইসিসির ‘ব্যাটসম্যান-বান্ধব’ নতুন নিয়মের কারণে ওয়ানডে ম্যাচ এখন বোলারদের জন্য বলতে গেলে অগ্নিপরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় বাংলাদেশি বোলাররা উতরে গেছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুর্দান্ত এ জয়ের পর কথাটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আইসিসির নতুন নিয়মে এখন ম্যাচের ৫০ ওভারই বলতে গেলে পাওয়ার প্লে! ম্যাচের প্রথম ১০ ওভার বাধ্যতামূলক পাওয়ার প্লেতে দুজন ফিল্ডার ৩০ গজি বৃত্তের বাইরে থাকতে পারবেন। ব্যাটিং পাওয়ার প্লের ৫ ওভারে সর্বোচ্চ তিনজন। বাকি ৩৫ ওভারে বাউন্ডারি ঠেকাতে চারজনের বেশি বৃত্তের বাইরে রাখা যাবে না। ওয়ানডের এই নতুন নিয়ম এ মাসের শুরুতে শ্রীলঙ্কা-নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়ে চালু হয়েছে। তবে এই নিয়মে আজই প্রথম খেলছেন বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা।
সাড়ে চার বছর পর সাকিব আল হাসানকে ছাড়া ওয়ানডে খেলল বাংলাদেশ। শিনবোনে চোট পাওয়ায় পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটিতে রাখা হয়নি এই অলরাউন্ডারকে।
সাকিবের অনুপস্থিতিতে আজ দলে অভিষেক হয়েছে মমিনুল হকের। অভিষিক্ত হয়েছেন আরও তিনজন—এনামুল হক, সোহাগ গাজী ও আবুল হাসান। এক ম্যাচে চার ক্রিকেটারের অভিষেক! ২০০০ সালে বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর এমন ঘটনা এই প্রথম।
এর আগে বাংলাদেশ দলে চার বা এর বেশি খেলোয়াড়ের এক ম্যাচে অভিষেকের উদাহরণ পেতে ফিরে যেতে হবে ১৭ বছর আগে। তখনকার প্রেক্ষাপট অবশ্য ভিন্ন ছিল। বাংলাদেশ ওয়ানডে খেলার জন্য তখন তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে থাকত এশিয়া কাপের দিকে। সেটি কখনো দুই বছর পর আসত, কখনো পাঁচ বছর পর। ১৯৯৫ সালে শারজা এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলে পাঁচজনের অভিষেক তাই স্বাভাবিক ব্যাপারই ছিল। আজ বাংলাদেশের অসাধারণ জয়ের মধ্য দিয়ে একসঙ্গে চার ক্রিকেটারের অভিষেকের মুহূর্তটা স্মরণীয় হয়ে রইল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৯৯/১০ (৪৬.৫ ওভার)
নারাইন ৩৬, গেইল ৩৫, ব্রাভো ৩৫
সোহাগ ৪/২৯, রাজ্জাক ৩/৩৯
বাংলাদেশ: ২০১/৩ ( ৪০.২ ওভার)
তামিম ৫৮, নাঈম ৫০*, এনামুল ৪১
ফল: বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী।

Friday, November 30, 2012

জেনারেল মোটরসের গাড়িতে অ্যাপলের সিরি

জেনারেল মোটরসের গাড়িতে অ্যাপলের সিরি

অ্যাপলের ভয়েস কন্ট্রোল ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন 'সিরি' সুবিধা দিয়ে গাড়ি তৈরি করবে জেনারেল মোটরস। ফলে অ্যাপলের আইফোন ব্যবহারকারীরা কণ্ঠের মাধ্যমে গাড়ি চালানোর বেশ কিছু কাজ সম্পাদন করতে পারবে।
জেনারেল মোটরস জানিয়েছে, রাস্তা না দেখে গাড়িতে থাকা টিভি স্ক্রিনের মাধ্যমে গাড়ি চালানো, মোবাইল কল রিসিভ করা, আইটিউনস থেকে সরাসরি গান ও রেডিও শোনা এবং আইফোন বা আইপডে থাকা গানও চালু করা যাবে সিরি অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে।
জেনারেল মোটরস আরো জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক গাড়ি প্রদর্শনী মেলায় সিরি প্রযুক্তি সংবলিত শেভ্রলেট স্পার্ক, সনিক এলটিজেড এবং আরএস মডেলের গাড়ি দেখানো হবে। আইফোনে আইওএস সিক্স সংস্করণের অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীরা এসব গাড়িতে বসে সিরি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে পারবে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে গাড়ির জন্য বিশেষভাবে সিরি অ্যাপ্লিকেশন তৈরির কথা বলেছিল অ্যাপল।

হাসপাতালে রোগী ফেলে ভোট উৎসব

হাসপাতালে রোগী ফেলে ভোট উৎসব

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় দেখা যায় রোগীদের ভিড়। কেউ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, কেউ অপলক চোখে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে। সামনে একের পর এক চিকিৎসকের কক্ষ। কোনোটির দরজা তালাবদ্ধ, কোনোটির দরজা খোলা থাকলেও ভেতরে চিকিৎসক নেই। হাসপাতালে তখন সব মিলিয়ে হাতে গোনা কয়েকজন চিকিৎসক কেবল উপস্থিত। ডাক্তার কম, অথচ রোগী আসছে তো আসছেই।
ডেমরা থেকে আসা রোগী নাহার অনেকক্ষণ বসে থাকার পর হঠাৎ ঝিমুনি কাটিয়ে চেঁচিয়ে ওঠেন, 'হাসপাতাল খোলার দিন রোগী হালাইয়া ওনারা একখান ভোট পাতছে, এতোই যদি ভোট করন লাগে, তাইলে ডাক্তারি ছাইর‌্যা হেরা রাজনীতি করলেই তো পারে।'
কমবেশি এ রকম চিত্রই গতকাল দেখা গেছে সাধারণ মানুষের ভরসাস্থল দেশের বড় হাসপাতালগুলোতে। আর এ রকম অবস্থা সৃষ্টি হয় চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। গতকাল ছিল এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। বিএমএ নির্বাচনকে ঘিরে গতকাল ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনাসহ সারা দেশেই দেখা গেছে হাসপাতাল ফাঁকা করে, রোগী ফেলে রেখে চিকিৎসকরা মেতে উঠেছেন ভোটের উৎসবে। সারা দেশে প্রায় ৩৩ হাজার চিকিৎসক ভোটার হিসেবে ছিলেন। এর মধ্যে ঢাকার ভোটার সর্বোচ্চ_১৩ হাজার ৩৩২ জন। ফলে ঢাকার হাসপাতালগুলোতেই সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে ওঠে।
সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর তোপখানা রোডে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনের সামনে একজন নামকরা চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা হতেই বললেন, 'এই যে ভোট দিয়ে এলাম।' কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি চলে যান। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনকেন্দ্রের চারপাশে ভোটার অর্থাৎ চিকিৎসকদের ভিড় বাড়তে থাকে। বেশির ভাগই আসেন হাসপাতালে রোগী ফেলে রেখে। কেউ বা মেডিক্যাল শিক্ষার ক্লাস ফেলে। সবাই আসেন ভোট দিতে। প্রেসক্লাবের সামনে রাস্তার এক পাশ আটকে দিয়ে চলে ভোটের কাজ। তাতে দেখা দেয় ভয়াবহ যানজট।
চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির কারণে রোগীদের ভোগান্তির কথা জানিয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একজন সিনিয়র নার্স নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এই হাসপাতালের প্রভাবশালী কর্মকর্তা নিজেই একজন বড় প্রার্থী। তাইলে অন্য চিকিৎসকরা কী করবেন? শুধু তো ভোট দিয়ে ফিরে আসলে হবে না, ভোটের জন্য কেন্দ্রে উপস্থিত থাকাটাও তো তাঁদের কাছে খুব জরুরি। তাই হয়তো ভোট বাদ দিয়ে রোগী দেখতে আসার মতো সাহস অনেকেই পাননি।'
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রোগীদের ভিড় দেখা যায় অন্য দিনের চেয়ে কিছুটা কম। আবার অনেকে এসে নির্দিষ্ট চিকিৎসক না পেয়ে ফিরে গেছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিয়মিত চিকিৎসকের পরিবর্তে আরেকজন চিকিৎসা দিয়েছেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল মজিদ ভূইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা আগেই পরিস্থিতি বুঝতে পেরে বহির্বিভাগের চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনের পালা নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম। তাই কোনো সমস্যা হয়নি। তবে অন্য দিনের চেয়ে রোগীর সংখ্যা অর্ধেক ছিল।'
জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক রাশেদুল হাসান বলেন, 'পালা করে চিকিৎসকরা ভোট দিতে গেছেন। তবু কিছুটা ভোগান্তি হয়েছে। বন্ধের দিনে ভোট করতে পারলে এমন সমস্যা হতো না।'
শুধু সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালেই নয়, বেসরকারি হাসপাতালেও ছিল প্রায় একই ধরনের চিত্র। বিকেল ৪টায় কালের কণ্ঠের সাংবাদিক মাসুদুল আলম তুষার কাকরাইল এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হলে তাঁকে নেওয়া হয় হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে। সে সময় ওই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ছিলেন মাত্র একজন চিকিৎসক। তিনি রোগীর পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেকটাই হিমশিম খান। তুষারের তাৎক্ষণিক অর্থোপেডিক চিকিৎসকের দরকার হলেও এমন কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি। ফোন করে চিকিৎসকদের খোঁজ জানতে চাইলে সবাই বলেন_ভোট তো, একটু ব্যস্ত!
সকাল সাড়ে ৮টায় বারডেমের গেটের কাছে বসে ছিলেন নুরুল হক নামের এক বয়স্ক রোগী। বললেন, 'যেই স্যারের কাছে আইছি, হ্যায় নাহি ভোডে গেছে। কুনসুম আয় না আয় কইতে পারি না। এহন কী করমু হেইডা চিন্তা করতে আছেলাম।'
হাসপাতাল ছেড়ে বড়-ছোট সব চিকিৎসকই গতকাল ভিড় জমান জাতীয় প্রেসক্লাবের উল্টো দিকে বিএমএ কার্যালয়ের সামনে। এর রোগীদের যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তাতে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। হাসপাতাল ও অফিস খোলার দিনে চিকিৎসকদের মতো পেশাজীবীরা রাজপথ বন্ধ করে জনদুর্ভোগ তৈরি করে ভোট উৎসবে মেতে ওঠায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক_সুজনের সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, 'পুরো বিষয়টি উদ্ভট লাগছে। চিকিৎসকদের কাছ থেকে এমন দায়িত্বহীন আচরণ আশা করা যায় না। বিশেষ করে যাঁরা সরকারি চাকরি করেন, তাঁদের এভাবে ভোটের নামে রাজনীতির লেজুড়বৃত্তি করা আইনগতভাবেও অন্যায়। আর চিকিৎসক হিসেবে হাসপাতালের রোগী দেখার দায়িত্ব ফেলে রেখে সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত থাকা চিকিৎসানীতিরও পরিপন্থী।'
সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী এবং সরকার সমর্থক চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক নিজেও গতকালের পরিস্থিতি নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, 'আসলেই ব্যাপারটি ভালো হয়নি। খোলার দিনে এ ভোটের আয়োজন না করে বন্ধের দিনে করলেই ভালো হতো।'
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী ভোটের তারিখ ও স্থান ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিএমএ কর্তৃপক্ষের অদূরদর্শিতার কথা স্বীকার করে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমি চিকিৎসক হয়েও এমন অবস্থার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। এমনভাবে এটা আয়োজন করা ঠিক হয়নি। অন্য কোনো ভেন্যুতে খুব সহজেই এটা করা যেত, যেখানে চিকিৎসকদেরও ভোট দিতে সুবিধা হতো। আবার সাধারণ মানুষেরও ভোগান্তি হতো না।'
বিএমএর সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ ই মাহবুব বলেন, 'আগে ভোটারসংখ্যা কম ছিল, তাই এত ব্যাপক আয়োজন ছিল না। তবে বর্তমান আয়োজকদের এ বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত ছিল। এত উচ্চ মর্যাদার পেশাজীবী সংগঠনের কোনো আয়োজনে যদি মানুষের দুর্ভোগ হয় সেটা দুঃখজনক।'
এদিকে ভোটকেন্দ্রে বেশি সময় লাগায় চিকিৎসকদের কর্মস্থলে ফিরতে অনেকটা দেরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন অনেক চিকিৎসক।
বাংলাদেশ অর্থোপেডিক সোসাইটির মহাসচিব ডা. আব্দুল গণি মোল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ব্যালট যেভাবে করা হয়েছে, তাতে প্রার্থী খুঁজে খুঁজে ভোট দিতে একেকজন ভোটারের দীর্ঘ সময় নষ্ট হয়েছে।'
রোগী ও জনসাধারণের ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে বিএমএর বর্তমান মহাসচিব (বিদায়ী কমিটির) অধ্যাপক ডা. মো. সারফুদ্দিন আহম্মেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আগামীতে যাতে এমন পরিস্থিতি দেখা না দেয়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবার আসলেই বিষয়টি বুঝে ওঠা যায়নি।'

সাধারণ থেকে অন্ধকার দুনিয়ায়!

সাধারণ থেকে অন্ধকার দুনিয়ায়!


নিজের সাবলীল অভিনয় ও পারফরমেন্সের গুণে ইতিমধ্যে হলিউডের অন্যতম নির্ভরযোগ্য অভিনেত্রীতে পরিণত হয়েছেন মেগান ফক্স। এছাড়া অন্য অভিনেত্রীদের তুলনায় মেগানের বিরুদ্ধে অভিযোগও তুলনামূলক অনেক কম। কেবলমাত্র কাজ নিয়েই সব সময় ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করেন তিনি। এর বাইরে পরিবারকে সময় দিতেই বেশি ভালবাসেন এই অভিনেত্রী। ইতিমধ্যে বিভিন্ন চরিত্রেই অভিনয় করেছেন মেগান ফক্স। তবে এবার একেবারেই ভিন্ন একটি চরিত্রে দর্শকরা দেখতে পাবেন মেগানকে। তিনি এবার অভিনয় করছেন সাধারণ থেকে অন্ধকার দুনিয়ায় প্রবেশ করা এক তরুণীর চরিত্রে। ছবিতে দেখা যাবে মেগান একজন সাধারণ ঘরের তরুণী, যে কিনা পরবর্তীতে অর্থনৈতিক দুরবস্থার মুখোমুখি হয়ে বার ড্যান্সার হিসেবে কাজ শুরু করেন। বার ড্যান্সার হিসেবে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের ঘটনার শিকার হতে হয় তাকে। শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য নানা রকম চাপ প্রয়োগ করা হয় তার ওপর। এখান থেকেই এক সময় বেরিয়ে আসেন মেগান। এরকম একটি চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে মেগান বেশ কিছু বিছানার দৃশ্যে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন তরুণ অভিনেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যেও কাজ করেছেন। মূলত মেগানকে কেন্দ্র করেই ছবিটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ছবিটি প্রযোজনা করছে ওয়ার্নার ব্রস ইন্টারন্যাশনাল। এই ছবিতে অভিনয় প্রসঙ্গে সম্প্রতি মেগান মিডিয়াকে জানান, আসলে প্রতিদিনই অনেক ছবির প্রস্তাব থাকে। তবে আমি সব সময়ই বেছে বেছে ভাল কিছু ছবি করার পক্ষে। এ কারণে আমার ছবির সংখ্যাও কম। সেদিক থেকে অনেক দিন পর এই নতুন ছবির কাজ শুরু করলাম। ছবিটির কাহিনী অনেক চমৎকার। আর এখানে আমার চরিত্রটিও অনেক ভিন্নধর্মী। এখানে দেখা যাবে সাধারণ তরুণী থেকে অন্ধকারের দুনিয়ায় প্রবেশের পর নানান ঘটনা ঘটতে থাকে আমার সঙ্গে। এরকম চরিত্রে এই প্রথমবারের মতো কাজ করছি। আশা করছি ভাল কিছুই হবে।

সর্বোৎকৃষ্ট সুইজারল্যান্ড

সর্বোৎকৃষ্ট সুইজারল্যান্ড

বিশ্বে শিশু জন্মের স্থান হিসেবে ২০১৩ সালে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট স্থানের জায়গা দখল করেছে সুইজারল্যান্ড। দি ইকোনমিস্টের সহযোগী কোম্পানি দি ইকোনমিস্ট ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী শিশুরা সবচেয়ে সুখী হিসেবে গণ্য হবে। সেই সঙ্গে তারা সম্পদ, স্বাস্থ্য আর সরকারি সংস্থার ওপর আস্থার প্রশ্নে সবচেয়ে উন্নত জীবন যাপনের সুযোগ পাবে। সবচেয়ে উন্নত জীবনের তালিকাসূচির শীর্ষ পাঁচে নরওয়ে, সুইডেন এবং ডেনমার্কের মতো স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশগুলোও স্থান করে নিয়েছে। আগামী বছরে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা আর উন্নত জীবন যাপনের জন্য কোন দেশ সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিশ্চিত করতে পারে সেটার প্রেক্ষিতেই ইআইইউ এ তালিকা তৈরি করে থাকে। জীবনযাপনের ব্যাপারে মানুষের সন্তুষ্টির জরিপের ফলাফলও এ তালিকাসূচি নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে সম্পদকে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে বিবেচনা করা হলেও অপরাধ, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থা এবং পারিবারিক জীবনের অবস্থার মতো বিষয়ও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এমন আরও ১১টি নিয়ামককে বিবেচনায় রেখে প্রতি বছর এ তালিকা তৈরি করা হয়। এ তালিকার শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে রয়েছে সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, কানাডা এবং হংকং। এ তালিকাতে যুক্তরাষ্ট্র ১৬তম এবং চীন ৪৯তম অবস্থানে রয়েছে।

মাহি জানতো না পকেটে কাঁচি রাখতে নেই

মাহি জানতো না পকেটে কাঁচি রাখতে নেই 


স্কুল বন্ধ থাকায় গতকাল বাড়িতেই ছিল দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র মাহি (৮)। কাঁচি আর কাগজ নিয়ে ঘরে বসেই খেলছিল কাটাকুটি। সকাল ১১টার দিকে ফোন এলো মায়ের মোবাইলে। হাতের কাঁচিটা বুক পকেটে রেখে মোবাইল সেটটা হাতে নিয়েই দেখল বিদেশ থেকে ফোন করেছেন বাবা। বাবার সঙ্গে কথা বলতে বলতে মাকে খুঁজতে লাগল সে। আশপাশে দেখতে না পেয়ে বুঝল মা নিচতলার রান্নাঘরে। সিঁড়ি দিয়ে নিচে ছুটল মাহি। কিন্তু ফোনালাপে ব্যস্ত থাকায় পা পিছলে গেল বেখেয়ালে। পকেটের কাঁচিটা ঢুকে গেল ছোট্ট মাহির পেটে। তবু সাহস হারাল না মাহি। নিজেই পেট থেকে টেনে বের করল কাঁচি। ফিনকি দিয়ে ছুটল রক্তের ধারা। তার আর্তচিৎকার শুনে ছুটে এলেন মা। কিন্তু এই ছোট্ট দেহে আর কতটা ধকল সয়। তাই হাসপাতালে নিতে নিতেই ঝরে পড়া রক্তের সঙ্গে ঝরে গেল ছোট্ট মাহির প্রাণও।
গতকাল বুধবার রাজশাহী নগরীর আসাম কলোনি এলাকায় ঘটেছে এই দুর্ঘটনা। রাজপাড়া থানার বহরমপুর এলাকার প্রবাসী মিঠুন হোসেন মিঠুর ছেলে মাহি।
মাহির মা বিথী বেগম সাংবাদিকদের জানান, মাহিকে নিয়ে তিনি তাঁর বাবার বাড়ি নগরীর আসাম কলোনি এলাকায় থাকেন। গতকাল সকাল ১১টার দিকে মাহি ঘরে বসে খেলছিল। তিনি ছিলেন নিচতলার রান্নাঘরে। হঠাৎ মাহির চিৎকার শুনে সিঁড়ি কাছে ছুটে গিয়ে দেখেন মাহি মেঝেতে পড়ে আছে। তার পেট থেকে রক্ত ঝরছে। এরপর তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই কথাগুলো জানায় মাহি। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে। মাহি মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

আরব আমিরাতে তিন বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডাদেশ

আরব আমিরাতে তিন বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডাদেশ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে সহকর্মীকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত তিন বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন সেখানকার সর্বোচ্চ আদালত। আজ বৃহস্পতিবার দুবাইভিত্তিক বার্তা সংস্থা আমিরাত ২৪/৭ এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

আমিরাত ফেডারেল সুপ্রিম কোর্ট (এফএসসি) জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ওই তিন বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কাগজপত্র অনুমোদনের জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বার্তা সংস্থাটি জানায়, অভিযুক্ত তিন বাংলাদেশির সঙ্গে কাজ করতেন ওই নিহত ব্যক্তি। তাদের কাছ থেকে ওই ব্যক্তি ১০০ দিরহাম ধার নিয়েছিলেন। কিন্তু ওই টাকা ফেরত না দেওয়ায় ২০০৯ সালে অভিযুক্তরা তাঁকে হত্যা করে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।

অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবী আদালতকে বলেন, বিবাদীরা তাদের পাওনা টাকা চেয়ে ওই ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি দিতে চেয়েছিল, হত্যার কোনো উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। কিন্তু আদালত আইনজীবীর আরজি খারিজ করে দিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান রয়েছে। প্রতিবেদনটিতে ওই তিন বাংলাদেশি ও নিহতের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

জেলা পরিষদের প্রশাসকরা জীবনের নিরাপত্তা চান

জেলা পরিষদের প্রশাসকরা জীবনের নিরাপত্তা চান

রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম এবং জামায়াত-শিবিরের সহিংস আক্রমণসহ নানা কারণে জীবনের নিরাপত্তা চান জেলা পরিষদের প্রশাসকরা। এ জন্য  জেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে একজন গানম্যান, দুই জন সশস্ত্র পুলিশ এবং দুই জন সশস্ত্র আনসার সংবলিত নিরাপত্তা দল চান তারা। অনেক জেলা পরিষদের প্রশাসক দিনের আলো নেভার পর আর ঘর থেকে বেরুচ্ছেন না। ইতিমধ্যে পাঁচ জেলা পরিষদের প্রশাসক এ সংক্রান্ত চিঠি স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে পাঠিয়েছেন। এখন বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্তের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তা পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের এক সিনিয়র কর্মকর্তা মানবজমিনকে জানিয়েছেন, জেলা পরিষদের প্রশাসকদের চিঠির ভিত্তিতে অক্টোবর থেকে কাজ চলছে। আশা করছি সরকার তাদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পরিষদের প্রশাসকরা তাদের চিঠিতে নিজেদের ওপর আক্রমণের সম্ভাব্য নানা কারণের বর্ণনা দিচ্ছেন। চিঠিতে তারা বলছেন, প্রতিদিনের অফিসিয়াল কার্যক্রম, বিভিন্ন সভা বা সমাবেশে অংশ নেয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকে প্রায়ই অনেক রাত পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলাফেরা করতে হয়। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে প্রশাসক হিসেবে নিরাপত্তা বিধানের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। ওদিকে রাজনৈতিক সহিংস ঘটনা বাড়ার পর থেকেই এসব চিঠি প্রায় প্রতিদিনই স্থানীয় সরকার বিভাগে আসছে। চাঁদপুরের জেলা পরিষদের প্রশাসক লে. কর্নেল (অব.) মো. আবু ওসমান চৌধুরী তার চিঠিতে বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের আট নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে আমাকে প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। কারণ বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থির পরিস্থিতি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কিত কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে সহিংস অবস্থা শুরু হয়েছে। একটি ঘটনার উল্লেখ করে চিঠিতে তিনি বলেছেন, ১৯৯০-৯১ সালে চাঁদপুর জেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যানকে কিছু দুষ্কৃতকারী শারীরিকভাবে নির্যাতনের উদ্দেশে তার অফিস ও বাসভবনে আক্রমণ করে ভাঙচুর করে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখেছিল। আবু ওসমান চৌধুরীর এ চিঠির ভিত্তিতে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবু ওসমান চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা চেয়ে একটি চিঠি স্থানীয় সরকার বিভাগে দিয়েছি। তারা ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত চেয়ে বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছেন। মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক আজিজুর রহমান মনে করেন, গানম্যান বা কঠিন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা কখনও চিন্তা করিনি। মৌলভীবাজারে জামায়াত-শিবির ছাড়া আমরা সবাই একতাবদ্ধ। তাই কোন সমস্যা হবে বলে মনে করছি না। এর আগে স্থানীয় সরকার কাঠামোকে শক্তিশালী করা ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গতিশীলতা আনার জন্য দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে একজন করে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও বর্তমান সরকারের আস্থাভাজন হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেই প্রশাসকদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে শুরু থেকেই প্রশাসকদের নিরাপত্তার জন্য কোন গানম্যান নিয়োগ দেয়া হয়নি। স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পরিষদের ইতিহাস ২০০ বছরের। পাকিস্তান আমলে ১০ বছর ছাড়া এ পর্যন্ত নির্বাচিত কোন প্রতিনিধি দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাননি পরিষদে। এরশাদ সরকারের সময় ১৯৮৮ সালে প্রথম জেলা পরিষদ আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু কার্যকর করা হয়নি। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ২০০০ সালে নতুন করে জেলা পরিষদ আইন করে। তখনও তা গেজেট দ্বারা আইনের কার্যকারিতার সময় উল্লেখ করার কথা বলা হয়। কিন্তু কার্যকর করা হয়নি। নির্বাচিত জেলা পরিষদ ছাড়াই ২২ বছর পার হয়ে গেছে। ১৯৮৮ সাল থেকে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা জেলা পরিষদ পরিচালনা করে আসছেন। এখনও দলীয় বিবেচনায় অনির্বাচিত জেলা পরিষদের প্রশাসকরা দায়িত্ব পালন করছেন। ওদিকে বর্তমানে বেশির ভাগ জেলা পরিষদ নিজস্ব আয় দিয়ে চলে। এমনকি বেতন-ভাতাও জেলা পরিষদের তহবিল থেকে নির্বাহ করা হয়। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ জেলা পরিষদের বার্ষিক আয় কয়েক কোটি টাকা। এছাড়া, অন্য সব জেলা পরিষদের গড়ে আয় ৫৭ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার মধ্যে। জমি রেজিস্ট্রির শতকরা ১ ভাগ টাকা জেলা পরিষদের বড় আয়। এর বাইরে রাস্তা-ঘাট, পুকুর ও মার্কেট ইজারা থেকে আয় হয়। জেলা পরিষদ সৃষ্টির পর এখন পর্যন্ত নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এর দায়িত্ব নেননি। বর্তমানে উপ-সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি রয়েছেন অনির্বাচিত জেলা পরিষদের প্রশাসকরা।

Thursday, November 29, 2012

ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের রিপোর্ট: সিভিল জাস্টিসে বাংলাদেশের অবস্থা খুবই নাজুক

ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের রিপোর্ট: সিভিল জাস্টিসে বাংলাদেশের অবস্থা খুবই নাজুক

 


সিভিল জাস্টিসের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান খুবই নাজুক। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এ বছর বেশ ভাল করেছে। গত বছর বাংলাদেশের (সিভিল জাস্টিস সিস্টেমে) অবস্থান ছিল ৬২-তে। গত বছরের পর্যালোচনা ছিল ৬৬ দেশের মধ্যে। এবার সে সংখ্যা বেড়ে ৯৭ হয়েছে। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশে সিভিল জাস্টিসের সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক স্বাধীন ও অলাভজনক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘দ্য ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট’র ‘আইনের শাসন ইনডেক্স-১২’র বার্ষিক রিপোর্টে এ তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে। এটি হচ্ছে সংস্থাটির তৃতীয় বার্ষিক রিপোর্ট। ৯৭ দেশে আইন-বিচার-মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেছেন এমন ২৫ সহস্রাধিক অভিজ্ঞ ব্যক্তি এবং ৯৭ সহস্রাধিক সচেতন নাগরিকের সাক্ষাৎকার/মতামতের ভিত্তিতে এ রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে এবং তা গতকাল ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রকাশ হয়। এ রিপোর্টে আইনের শাসনের ইনডেক্স নির্র্ধারণে ৮টি বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হয়। এগুলো হচ্ছে সরকারের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতি, নিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার, মুক্ত শাসন ব্যবস্থা, আইনের প্রয়োগ, সিভিল জাস্টিস এবং ক্রিমিনাল জাস্টিস। এ রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রশাসনিক জবাবদিহির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সবচেয়ে নিম্নে অর্থাৎ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। সারাবিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এক্ষেত্রে ৮৩ এবং স্বল্প আয়ের দেশের মধ্যে দ্বাদশ। গতবার এ ইনডেক্স ছিল ৪৭ এবং স্বল্প আয়ের দেশের মধ্যে তৃতীয়। অর্থাৎ এক্ষেত্রেও কোন উন্নতি ঘটেনি বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সরকারের প্রশাসনিক সংস্থা এবং বিচার ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। সিভিল জাস্টিসের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে সারাবিশ্বে সর্বনিম্নে অর্থাৎ এর চেয়ে বাজে অবস্থায় আর কোন দেশ নেই। মোকদ্দমা বছরের পর বছর ধরে আদালতে ঝুলে থাকা এবং বিচার ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকায় এহেন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করা হয় ওই রিপোর্টে। মানবাধিকার লংঘন এবং পুলিশি নির্যাতনের ঘটনাবলিও বাংলাদেশের অন্যতম একটি সমস্যা বলে মন্তব্য করা হয়েছে এই রিপোর্টে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নাগরিকের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ তুলনামূলক ভাল করেছে বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৭২ এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে নবম। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অপরাধের হার অনেক কম। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। রিপোর্ট অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় আইনের শাসনের ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। সিভিল জাস্টিসের ক্ষেত্রে ভারতের র‌্যাঙ্ক হচ্ছে ৭৮। ভারতে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার অনন্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। আইনের শাসনের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান হচ্ছে ৩৭ নম্বরে এবং নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয়। স্বাধীন বিচার বিভাগ, বাক-স্বাধীনতা রক্ষা এবং সরকারের উদারনীতির সূচকে ভারতের অবস্থান সারাবিশ্বে পঞ্চম এবং নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের মধ্যে চতুর্থ। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে কতটা সজাগ এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী ভারতের অবস্থান হচ্ছে ৭৯। পাকিস্তানে আইনের শাসন বলতে তেমন কিছু নেই বলে মন্তব্য করা হয়েছে এ রিপোর্টে। আইনের শাসনের যে ৮টি ক্যাটিগরি চিহ্নিত করা হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বাজে অবস্থানের ৩ দেশের একটি হচ্ছে পাকিস্তান। নাগরিকের নিরাপত্তা এবং মৌলিক অধিকারের ব্যাপারেও পাকিস্তানের অবস্থা নাজুক। দক্ষিণ এশিয়ার অপর যে কোন দেশের চেয়ে পাকিস্তানে আইনের শাসন ব্যবস্থা দুর্বল এবং জবাবদিহি-স্বচ্ছতার কোন বালাই নেই বলে মন্তব্য করা হয়েছে এ রিপোর্টে। শ্রীলঙ্কায় আইনের শাসন খুবই কার্যকর। তবে নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকারের ক্ষেত্রে এখনও দুর্বলতা রয়েছে। ক্রিমিনাল জাস্টিসে শ্রীলঙ্কার অবস্থান দ্বিতীয়, মুক্ত সরকার ব্যবস্থায় তৃতীয়, আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে তৃতীয় স্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। তবে দুর্নীতি অনেক কম বলে মন্তব্য করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় দাঙ্গা-হাঙ্গামার ঘটনা অব্যাহত থাকায় মানবাধিকার প্রশ্নে দেশটির অবস্থানে কোন হেরফের হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ রিপোর্ট প্রকাশ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা উইলিয়াম এইচ নিউকম বলেছেন, ‘আইনের শাসনের ক্ষেত্রে পুরোপুরি সফলতা অর্জনের বিষয়টি সবার জন্যই বড় একটি চ্যালেঞ্জ। তবে আশার কথা হচ্ছে, সব দেশেই কিছু না কিছু অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে। আমরা কোন দেশের কী অবস্থা তার ইনডেক্স প্রকাশ করছি দেশগুলোকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য নয়, ‘এটি করা হচ্ছে দেশগুলোর সংশোধনের পথ সুগম করার অভিপ্রায়ে।’

জানি, কে বিমানবন্দরে ধরা পড়েছিল

জানি, কে বিমানবন্দরে ধরা পড়েছিল


বিরোধী দলের আন্দোলন দমনে সরকার জরুরি অবস্থা জারির পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। নয়াপল্টনে লাখো জনতার সমাবেশে তিনি বলেছেন, ফিসফাস শোনা যায়- সরকার কার্ফু জারি বা জরুরি অবস্থা দেবে। সরকারের উদ্দেশে পরিষ্কার বলতে চাই, এ দেশের মানুষ ইমার্জেন্সি পছন্দ করে না। ইমার্জেন্সিতে কাজ হবে না, দেশের মানুষ কোন কিছুই মানবে না। এ রকম অবস্থায় তারা জরুরি অবস্থা দিলে সব কিছু ব্রেক করে রাজপথে নেমে আসবে। কারণ জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তেমন কিছু করা হলে সেটা সরকারের জন্যই কাল হবে। তিনি বলেন, সরকারি দলের লোকজন দেশকে দেউলিয়া করে লুটপাটের অর্থ দেশেও রাখেনি, বিদেশে পাচার করেছে। তবে কে কোথায় কত টাকা পাচার করেছে এবং কে পাচার করতে গিয়ে বিমানবন্দরে ধরা পড়েছিল, সব তথ্যই আমাদের কাছে আছে। সময় অনুযায়ী তা প্রকাশ করা হবে। বিএনপি নেত্রী বলেন, কোন দল বা পরিবারের কথায় নয়, জনগণের কথায় এ দেশ চলবে। এ দেশে গণতন্ত্র আমরাই এনেছি। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। এ দেশের মাটিতে আমরা অন্য কিছু দেখতে চাই না। সরকারকে বলতে চাই- গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে যথাসময়ে সংসদ ভেঙে দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে ১৮ দল আয়োজিত স্মরণকালের বৃহৎ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ থেকে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ৯ই ডিসেম্বর থানা থেকে মহানগর পর্যায়ে রাজপথ অবরোধসহ মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন খালেদা জিয়া। সেই সঙ্গে সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকার বাধা দিলে হরতাল-অবরোধসহ সব কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। তিনি প্রয়োজনে লাগাতার হরতালে যাওয়ার হুমকি দিয়ে নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে সে প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা দেন। আশুলিয়া ও চট্টগ্রামে দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে ১৮ দলের সমাবেশে খালেদা জিয়াসহ উপস্থিত লাখো মানুষ দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
খালেদা জিয়া রাজনৈতিক মহলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ১৮ দলের বাইরে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি- আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ব্যর্থ ও দুর্নীতিবাজ এ সরকারের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করি, দেশকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাই। সেই সঙ্গে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনারা আর কত চোখের পানি ফেলবেন? আর কত নির্যাতন সহ্য করবেন? আসুন এ জুলুমবাজ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, মহাজোট সরকার ৪ বছরে দেশকে কিছুই দিতে পারেনি। অর্থনৈতিক উদ্যোক্তারা বলছেন, তারা মেশিন এনে ফেলে রেখেছেন, গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে কারখানা চালু করতে পারছেন না। ব্যবসায়ী নেতা এ কে আজাদ বিএনপির লোক নয়, তিনিই বলেছেন- দেশে ৩৮টি ব্যাংক আছে কিন্তু বিনিয়োগের জন্য টাকা পাওয়া যায় না। অথচ সরকারের লোকজনকে অনেকগুলো ব্যাংক দেয়া হয়েছে। জনগণের প্রশ্ন, তারা ব্যাংক করার এত টাকা কোথায় পেলেন? একদিন এর হিসাব দিতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের সুযোগ দিন। দেশকে স্বাবলম্বী করে তুলবো। দেশের চেহারা পাল্টে দেবো। সেটা না পারলে যে শাস্তি দেবেন, তা মেনে নেবো। তবে বিএনপি অতীতেও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সফল হয়েছে, ভবিষ্যতেও করতে পারবে। বিরোধী নেতা বলেন, এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মানুষ শান্তিতে নেই। হয় খুন করা হচ্ছে, নয় দুর্ঘটনা ঘটছে। ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরকারের উচিত নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে সরে যাওয়া। যদি তারা ভাল কাজ করে, সে নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোট দেয়, তাহলে আমরা মেনে নেবো। তবে নির্বাচন হতে হবে অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। আওয়ামী লীগের অধীনে দেশে কোন নির্বাচন হবে না। হতে দেয়া হবে না।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, এ সরকারের মন্ত্রীদের দুর্নীতির জন্য পদ্মা সেতু হলো না। বিশ্বব্যাংকসহ সব আন্তর্জাতিক দাতা প্রতিষ্ঠান অর্থায়নে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সরকার এখন জনগণের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পদ্মা সেতুতে দু’টিসহ প্রয়োজনীয় আরও বহু সেতু নির্মাণ করা হবে। আমরা আঞ্চলিকতায় বিশ্বাসী নই, তাই প্রথমে মাওয়া ও পরে দৌলতদিয়া দিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ হবে। খালেদা জিয়া বলেন, সরকার কুইক রেন্টালের নামে কুইক টাকা বানিয়েছে। জনগণ কুইক বিদ্যুৎ না পেলেও তারা কুইক বড়লোক হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন সরকারের পদলেহী হিসেবে কাজ করছে। তারা এখন মিথ্যাবাদী কমিশনে পরিণত হয়েছে। সরকারের লোক হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করছে, তাদের ধরছে না কিন্তু বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এখন দুদকের কথা জনগণ বিশ্বাস করে না, কারণ সরকার যা বলে তারা তাই করে।
খালেদা জিয়া বলেন, দেশের তরুণ সমাজ শিক্ষিত হচ্ছে। কিন্তু তারা চাকরি পাচ্ছে না। দেশে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। সরকার অঙ্গীকার করেও তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেনি। সরকার যুবসমাজের হাতে ফেনসিডিল তুলে দিচ্ছে। শোনা যায়, এ সরকারের উঁচু পর্যায়ের কেউ কেউ নাকি ফেনসিডিল খায়।
বিরোধী নেতা বলেন, দলীয় লোক ও অযোগ্যদের ভারে প্রশাসন স্থবির হয়ে পড়েছে। পুলিশ এখন ছাত্রলীগ-যুবলীগের সঙ্গে মিলে বিরোধী দলের ওপর হামলা করছে। সরকারি দলের কর্মীদের বিচারকরা মুক্তি দেয়। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের জামিনও দেয় না। এ সরকার ২১ জন ফাঁসির আসামিকে মুক্তি দিয়েছে। তিনি বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা এ দেশের নাগরিক। দেশের মানুষ যেন ন্যায়বিচার পায়, সেভাবে বিচারকাজ পরিচালনা করুন। সরকারের আদেশ-নির্দেশে অন্যায় বা একতরফা বিচার করবেন না।
খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সন্ত্রাস দমন করবে, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ছাত্রলীগ-যুবলীগের হাতে কেন অস্ত্র তুলে দেয়া হয়েছে, পুলিশ থাকতেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন তাদের বিরোধী দল দমনের নির্দেশ দিয়েছেন তার জবাব দেয়া-নেয়া হবে।
বিরোধী নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে ও সংসদের বাইরে প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করেন। সত্য বলার সাহস উনার নেই। সংসদে প্রতিনিয়ত নোংরামি ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেন। আমাদের পক্ষে এত নোংরামি সম্ভব নয়। তিনি বলেন, এ সরকার নামফলক বসাতে জানে, কাজ করতে পারে না। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলা কমপ্লেক্স থেকে ভিত্তিপ্রস্তর ভেঙে নতুন ভিত্তিপ্রস্তর লাগানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এ মিথ্যা নামফলক থাকবে না। খালেদা জিয়া বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস নোবেল বিজয় করে দেশের মান উজ্জ্বল করেছেন। কিন্তু ঈর্ষান্বিত হয়ে সরকার তাকে হেনস্তা ও গ্রামীণ ব্যাংক থেকে বের করে দেয়ার সব কাজ করেছে। তারা আসলে ভাল কাজ করতেও পারে না, কেউ করলে সহ্যও করতে পারে না। বক্তব্যের শুরুতে তিনি আশুলিয়ায় গার্মেন্ট ও চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার দুর্ঘটনায় নিহতদের মাগফিরাত কামনা ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে খালেদা জিয়া ১৮ দলের পক্ষে আগামী মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ৬ই ডিসেম্বর সারাদেশে গণতন্ত্র মুক্তি দিবস, ৯ই ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে থানা থেকে মহানগর পর্যায়ে রাজপথ অবরোধ, ১১ থেকে ১৯শে ডিসেম্বর বিজয় দিবসের নানা কর্মসূচি, ২৩শে ডিসেম্বর সরকারের দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে সারাদেশে গণবিক্ষোভ, ২৬শে ডিসেম্বর ঢাকায় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ও সারাদেশে ১৮ দলের গণসংযোগ। কর্মসূচি ঘোষণা করে খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সরকার বাধা দিলে হরতাল-অবরোধসহ সব কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। তিনি জোটের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, প্রয়োজনে আমরা লাগাতার হরতালে যাব, আপনাদের ঘরে ঘরে সে প্রস্তুতি নিতে হবে।
অন্য নেতারা যা বলেছেন : এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, যৌবনে আমরা জিয়াউর রহমানের আহ্বানে ও নেতৃত্বে যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। এখন যারা যুবক তাদের সমৃদ্ধ দেশের জন্য খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ব্যর্থ সরকারকে হটিয়ে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ভারতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কোন দলের সঙ্গে নয় সম্পর্ক গড়তে হবে খালেদা জিয়ার সঙ্গে, দেশে কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে। তিনিই হবেন আগামীর প্রধানমন্ত্রী। এ সময় কোকো পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার ব্যাপারে দুদকের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, জনগণ জানে বিদেশ থেকে কোকোর নামে টাকা আনা হচ্ছে। আসলে তা শেয়ারবাজার, ডেসটিনি, সোনালী ব্যাংক ও হলমার্কের লুটের টাকা। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মজিবুর রহমান স্বরাষ্ট্র ও আইন প্রতিমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, পুলিশ দিয়ে জামায়াত-শিবির দমন করা যাবে না। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে জিয়া পরিবারকে হয়রানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা বলে দিতে চাই, রাজপথেই সরকারকে মোকাবিলা করা হবে। তরিকুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিকভাবে শুধু টাকা বানানোর জন্য চট্টগ্রামে উড়াল সেতু করা হয়েছে। শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন বলে এই কাজ তাড়াহুড়ো করে শেষ করা হচ্ছিল। ফলে সেখানকার মৃত্যু রাজনৈতিক মৃত্যু, এ মৃত্যুর দায় সরকারের। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এ সরকার শুধু মানি লন্ডারিং নয়, দেশটিই লন্ডারিং করে ফেলেছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্রিগেডিয়ার (অব.) আসম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, খেলাফত মজলিশের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইসহাক, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বক্তব্য দেন। এছাড়াও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, জোটের শরিক দলের নেতা ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, এনপিপি চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, এনডিপি সভাপতি খন্দকার গোলাম মুর্তজা, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ন্যাপের সভাপতি জেবেল রহমান গাণি, মুসলিম লীগের সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান খান, ইসলামিক পার্টির সভাপতি আবদুল মবিন, ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি শেখ আনোয়ারুল হক, জমিয়তে উলামা ইসলামীর মহাসচিব মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনিসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াত-শিবিরের শোডাউন: ১৮দলীয় জোটের সমাবেশে বরাবরের মতোই ব্যাপক শোডাউন করেছে জামায়াত-শিবির। সমাবেশ শুরুর আগেই সভাস্থলের পশ্চিমাংশ জুড়ে অবস্থান নেয় তাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী। বেলা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে তাদের উপস্থিতি। পর্যায়ক্রমে সভামঞ্চের পশ্চিম অংশ থেকে বিজয়নগর মোড় পর্যন্ত দখলে নেয় তারা। এছাড়া ফকিরাপুল এলাকায়ও অবস্থান নেয় কিছু নেতাকর্মী। এ সময় তাদের হাতে শোভা পায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক দলের শীর্ষ নেতাদের ছবি ও তাদের মুক্তির স্লোগান সংবলিত বিভিন্ন ধরনের ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড। মঞ্চের সামনে উড়ানো বেলুনেও নেতাদের ছবি শোভা পায়। এছাড়া মঞ্চে নেতাদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। সরকারবিরোধী গণসংগীত পরিবেশন করে শিবিরের সহযোগী সংগঠন সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠী। শিবিরের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা, সব কয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের নেতাকর্মীরা সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন। টার্গেট ছিল ৪০-৪৫ হাজার লোক জড়ো করার। সে টার্গেটের চেয়ে বেশি নেতাকর্মী উপস্থিত হয়েছেন।
রাজধানীতে পথে পথে বাধা: গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপি আহূত সমাবেশে আসার পথে বেশ কিছু স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাধা দিয়েছে পুলিশ। এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা। রাজধানী শহরের প্রবেশ পথগুলোতে পুলিশ যাত্রীবাহী পরিবহনে তল্লাশি চালিয়েছে। আগত লোকদের রাজনৈতিক পরিচয় পেলে তাদের বাস থেকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি স্থানে বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছ থেকে সমাবেশের ব্যানার কেড়ে নিয়েছে পুলিশ। জানা গেছে, ঢাকার কামরাঙ্গীরচর, কেরানীগঞ্জ, সূত্রাপুর, গাবতলী, কাঁচপুর ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী ও বুড়িগঙ্গা সেতু দিয়ে আসার পথে বাসে তল্লাশি চালিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করেছে পুলিশ। রাজধানীর যাত্রীবাহী পরিবহনে তল্লাশির কারণে দীর্ঘ যানজট ও ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদর: ১৮ দলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সকাল থেকেই ফকিরাপুল থেকে নাইটেঙ্গেল মোড় পর্যন্ত বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। সমাবেশমঞ্চের আশপাশে পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অবস্থান নেন। পুরো মঞ্চ মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে সার্চ করা হয়। রাজধানীর প্রতিটি পয়েন্টে পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা নিরাপত্তার দেয়াল তৈরি করেন।
সাভার থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, ১৮ দলের জনসভাকে কেন্দ্র করে সাভারের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী সন্দেহ হলেই তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। গতকাল সকাল থেকে রাজধানীর প্রবেশপথ আমিনবাজার, হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড, রাজফুলবাড়িয়া, সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড ও রেডিও কলোনিতে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহর তল্লাশি চালায় পুলিশ। সন্দেহভাজন যানবাহনকে তার গন্তব্যে যেতে না দিয়ে ঘুরিয়ে দেয়া হয়। বিএনপি কর্মী সন্দেহে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। ওদিকে মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, নয়াপল্টনের জনসভাকে কেন্দ্র করে গতকাল সকাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের করিডোর মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে লঞ্চ, স্পিডবোট চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যে কোন মুহূর্তে ফেরি পারাপার বন্ধ করে দেয়া হতে পারে। মাওয়া থেকে কম সংখ্যক ফেরি কাওড়াকান্দি ঘাটে আসতে দেখা গেছে। এতে ঢাকামুখী বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ যাত্রীরাও চরম ভোগান্তির শিকার হন।