Pages

Wednesday, December 12, 2012

খালেদা জিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হতে পারে: হানিফ

খালেদা জিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হতে পারে: হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, নাশকতার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকেও গ্রেপ্তার করতে পারে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি মনে করে, আইনের ব্যত্যয় ঘটছে; লঙ্ঘন হচ্ছে, তাহলে খালেদা জিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হতে পারে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। গত কয়েকদিনে জামায়াত-বিএনপির চোরাগোপ্তা হামলা, গাড়ি পোড়ানো ও সংঘর্ষের দায় বিরোধী দলীয় নেত্রী কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের ডাকা হরতালের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। তাঁদের সঙ্গে ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও ছিলেন। সেখানে অবস্থানের সময় বিরোধী দলের হরতাল কর্মসূচি সম্পর্কে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে হানিফ একথা বলেন।

বিরোধী জোটের ডাকা হরতালের প্রতিবাদে বরাবরের মত আজও রাজপথে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং অনুসারীদের মহড়া দিতে দেখা গেছে। সকালে আওয়ামী লীগ ও ভ্রাতৃপ্রতীম বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, গুলিস্তান, পল্টন, প্রেসক্লাব, বিজয়নগর, কাকরাইল ও মতিঝিলসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে হরতালবিরোধী মিছিল-সমাবেশ করে। তবে রবিবারের অবরোধ কর্মসূচিতে তারা যেমন মারমুখী ছিল, আজ মঙ্গলবার তেমন ছিল না। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশ ছিল বিশ্বজিতের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে।

মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, গত কয়েকদিনের সংঘর্ষ হরতাল অবরোধ ও মানুষ হত্যার মধ্য দিয়ে বিরোধী দল দেশকে পরিকল্পিতভাবে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো দলের মহাসচিবও যদি অপরাধ করেন, খুন করেন তাহলে তাঁকে কি গ্রেপ্তার করা যাবে না? সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই মির্জা ফখরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হানিফ বলেন, বিজয়ের মাসে এ ধরনের কর্মসূচি অনাকাঙ্খিত। বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা ঠেকাতে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। জনগণ হরতাল প্রত্যাখান করেছে। রাস্তায় যান চলাচল ও অফিস আদালত স্বাভাবিকভাবে চলছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। সে জন্য আমরা বারবার বিরোধী দলকে সংসদে ফেরার আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু তারা সংসদে আসেনি।

বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম ও বিএম মোজাম্মেল হক, উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা একেএম এনামুল হক শামীম; মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মহানগর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম ও হাজী মো. সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ; ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদার, সহ-সভাপতি জহিরউদ্দিন মাহমুদ লিপটন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন; ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ রাসেল, উপ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রায়হান প্রমুখ।

মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার ও পংকজ দেবনাথের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ওমর ফারুক চৌধুরী ও হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে যুবলীগ, ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ, মহানগর উত্তর ও দণি যুবলীগ, কৃষক লীগ এবং শ্রমিক লীগসহ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম বিভিন্ন সংগঠন গতকাল রাজধানীতে মিছিল-সমাবেশ করেছে।

Tuesday, December 11, 2012

উচ্চগতির ইন্টারনেটের জন্য আলোর ব্যবহার

উচ্চগতির ইন্টারনেটের জন্য আলোর ব্যবহার


ইন্টারনেট এখন সারাবিশ্বের দৈনন্দিন জীবনের এক আবশ্যক অনুষঙ্গ। আর ইন্টারনেটের গতিও দিন দিন বেড়েই চলেছে। এবারে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইবিএম তৈরি করতে যাচ্ছে এমন এক ধরনের চিপ, যা ইন্টারনেটের গতিকে বাড়িয়ে দেবে অনেকগুণ। আর এর জন্য এই চিপ প্রচলিত ইলেকট্রিক সিগন্যালের পরিবর্তে ব্যবহার করবে আলো। আইবিএম জানিয়েছে, নতুন এই চিপের ব্যবহারের ফলে বর্তমানে সার্ভারগুলোতে কম্পিউটারের প্রসেসরগুলোতে যে পরিমাণ তথ্য প্রবাহ হয়ে থাকে, তার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে তথ্য প্রবাহিত হবে। বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন এবং অন্যান্য ইন্টারনেট সার্ভিসের জন্য এটি উচ্চ কম্পিউটিং গতি প্রদানে সক্ষম হবে। আইবিএম-এর এই উদ্ভাবন নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রযুক্তি বিশ্বে সাড়া পড়েছে। বিভিন্ন থার্ড-পার্টি প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, আইবিএম-এর নতুন এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় দিক হচ্ছে এগুলো অনেক বেশি সাশ্রয়ী। আইবিএম-এর এই গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট গবেষকরা জানিয়েছেন, কম্পিউটার চিপগুলোতে ইলেকট্রিক সিগন্যালের পরিবর্তে আলোর ব্যবহারের বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। এর মাধ্যমে সার্ভার সেন্টারের বিভিন্ন অংশের মধ্যে তথ্য স্থানান্তর করা যাবে অনেক বেশি দূরত্বে এবং তাতে করে তথ্য হারানোর সম্ভাবনা থাকবে অনেক কম। আর তথ্য স্থানান্তরের গতি হবে আলোর গতির প্রায় সমান, কারণ তথ্য স্থানান্তরে এতে আলোই হবে মূল মাধ্যম। এর মধ্যেই অবশ্য ডাটা সেন্টারগুলো তামার কেবলের পরিবর্তে অপটিক্যাল কেবলের ব্যবহার শুরু করেছে। তবে আইবিএম-এর চিপ এতে যুক্ত করবে নতুন মাত্রা। অপটিক্যাল কেবল ব্যবহারের পাশাপাশি এখন আলোক এনকোডিং সিস্টেম ব্যবহার করা প্রয়োজন। সেই কাজটিই করতে সক্ষম হবে আইবিএম-এর এই নতুন চিপ। নতুন এই প্রযুক্তি সম্পর্কে আইবিএম-এর ন্যানোফোটোনিকস বিষয়ক বিজ্ঞানী ড. সলোমন আসেফা জানিয়েছেন, 'আপনি যখন ইন্টারনেটে কোনোকিছু সার্চ করে থাকেন, আপনার তথ্যগুলো কোনো একটি ডাটা সেন্টারে চলে যায়। আর আপনার প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো একটি চিপের মধ্যেই নাও থাকতে পারে। এমনকি সেগুলো একাধিক র্যাকেও থাকতে পারে। তথ্যগুলো কোনো ডাটা সেন্টারে বিশাল আয়তনের অনেক স্থান দখল করে থাকতে পারে। কাজেই এসব স্থানগুলোতে তথ্য স্থানান্তরের গতি যত বেশি হবে, আপনার ইন্টারনেট সার্চ হবে তত দ্রুত। বর্তমানে যে বিপুল পরিমাণ তথ্য নিয়ে কাজ করতে হয়, তার তুলনায় প্রচলিত প্রযুক্তি অনেকটাই ধীরগতির।' আইবিএম জানিয়েছে, তাদের নতুন তৈরি চিপের প্রতিটিতে থাকবে একাধিক চ্যানেল যার মাধ্যমে ২৫ গিগাবিট পার সেকেন্ড গতিতে তথ্য স্থানান্তর সম্ভব হবে। এসব চিপের ব্যবহারের মাধ্যমে এখনকার চাইতে শতগুণ বেশি গতিতে তথ্য স্থানান্তর সম্ভব। প্রায় এক দশক ধরে এই চিপ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে আইবিএম। আর আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই একে বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করা সম্ভব হবে বলেই জানিয়েছেন ড. সলোমন। এটি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সময়ের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন প্রযুক্তিতে পরিণত হবে বলেই আশাবাদী তিনি।

আবার অবসর চান শ্রীদেবী

আবার অবসর চান শ্রীদেবী


বেশ দীর্ঘ বছরের অবসর শেষে ‘ইংলিশ ভিংলিশ’ ছবিটি দিয়ে বলিউডে ফিরেছেন শ্রীদেবী। কিন্তু এ ছবিটির সাফল্য মুঠোবন্দি করে আবারও তিনি অবসরে যেতে চান বলে জানিয়েছেন। ‘ইংলিশ ভিংলিশ’-এর সাফল্যের পর এখন বলিউডের অনেক নির্মাতাই চাইছেন তার সঙ্গে কাজ করতে। সেই তালিকায় রয়েছেন শ্রীদেবীর স্বামী প্রযোজক বনি কাপুর এবং নির্মাতা আর বাল্কিও। তবে এদের মধ্য থেকে কাকে বেছে নেবেন শ্রীদেবী- এটি নিয়েই দ্বিধায় পড়েছেন তিনি। ‘ইংলিশ ভিংলিশ’ এর সাফল্যের পর এখন এর প্রযোজক আর বাল্কি চাইছেন এটির সিক্যুয়েল নির্মাণ করতে। অন্যদিকে বনি কাপুর চাইছেন স্ত্রীর জন্য এমন কোন একটি সিনেমা, যা তার এই সাফল্যকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এদিকে শ্রীদেবীর চাওয়া কিন্তু অন্যরকম। তিনি বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে আমি যে পরিমাণ সাক্ষাৎকার মিডিয়াগুলোকে দিয়েছি, আমার পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে এরকম কখনও হয়নি। আমার এখন চাই আবার অবসর।
সন্তান এবং স্বামীর সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে চাই আমি।

এক ওভারের আক্ষেপ

এক ওভারের আক্ষেপ


ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ব্যাট হাতে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তার পরও সেটা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। ১৯৮ রানের দুরূহ লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে শেষ পর্যন্ত জমা হয়েছে ১৭৯ রান। ওয়ানডে সিরিজ হারের পর আজ টি-টোয়েন্টিতে ১৮ রানের জয় নিয়ে বাংলাদেশ সফর শেষ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৬১ বলে ৮৮ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন তামিম ইকবাল। ৪৮ বলে ৬৪ রানে অপরাজিত মাহমুদুল্লাহ।
ম্যাচ শেষে হয়তো অনেকেরই মনে হয়েছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসের শেষ ওভারটিই আসলে গড়ে দিয়েছে ম্যাচের ভাগ্য। ১৯তম ওভার পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ১৬৮ রান। রুবেল হোসেনের শেষ ওভারে দানবীয় ব্যাটিং করে ২৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন মারলন স্যামুয়েলস ও লেন্ডি সিমন্স। সেই ওভারেই বাংলাদেশের লক্ষ্যটা দুরূহ বানিয়ে দিয়েছিলেন এই দুই উইন্ডিজ ব্যাটসম্যান। তামিম-মাহমুদুল্লাহ চমত্কার ব্যাটিং করলেও তাই শেষপর্যায়ে মনে হয়েছিল যেন অসম্ভবের পেছনে ছুটছেন তাঁরা। কিন্তু তার পরও শেষ বলটি পর্যন্ত এই দুই ব্যাটসম্যান যে রকম লড়াকু মনোভাব দেখিয়েছেন, তাতে নিশ্চয়ই মুগ্ধ হয়েছে বাংলাদেশের সমর্থকেরা।
১৯৮ রানের দুরূহ লক্ষ্য সামনে রেখে ব্যাট করতে নেমে ঝোড়ো সূচনা করে বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে প্রথম ৪ ওভারে ৪৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও এনামুল হক। পঞ্চম ওভারে কেমার রোচের শিকারে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফেরেন এনামুল। ১২ বলে ২২ রান করেছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। পঞ্চম ওভারে এনামুল সাজঘরে ফেরার পর খানিকটা কমে যায় রান সংগ্রহের গতি। দ্বিতীয় উইকেটে ১৩২ রানের জুটি গড়ে প্রাণপণ লড়ে যান তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল্লাহ।

বাংলাদেশের রেকর্ডগড়া হার

বাংলাদেশের রেকর্ডগড়া হার

 

 অনেক আশা জাগিয়েও হেরে গেল বাংলাদেশ। এ হার সাধারণ হার নয়। একেবারে রেকর্ডগড়া হার। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিহাসে আর কখনই কোন দল পরে ব্যাট করে ৯ উইকেট হাতে রেখে হারেনি। সফরের একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৯৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে তারা ২০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ১৭৯ রান। হার মানে ১৮ রানে। মনে হলো আগের দিন ওয়ানডে সিরিজ জয় পাওয়ায় বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা যেন ক্যারিবীয়দের শেষ ম্যাচে একটি জয় উপহার দিলো। আশ্চর্যজনকভাবে তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ উইকেট আগলে রেখে খেলতে 
গিয়ে রানের গতি একেবারে টেস্ট পর্যায়ে নিয়ে আসেন। ফলে ৯ উইকেট হাতে রেখে হারের লজ্জায় ডুবতে হলো বাংলাদেশকে। রান তাড়া করতে গিয়ে ১ উইকেটে ১৭৯ রান করে কোন দল হারেনি। ওপেনার তামিম ইকবাল ৮৮ আর মাহমুদুল্লাহ ৬৪ রানে অপরাজিত থাকেন। টি-টোয়েন্টির ক্যারিয়ারে দু’জনেরই সর্বোচ্চ রানের স্কোর এটি। তামিমের তৃতীয় ফিফটি হলেও ২১ ম্যাচে মাহমুদুল্লাহর এটি প্রথম। ২৩ ম্যাচে ২ ফিফটি করা তামিমের আগের সর্বোচ্চ ছিল অপরাজিত ৬৯ রান। অনেকের মন্তব্য-বিপিএলে নিজেদের দাম বাড়ানোর জন্যই উইকেট হারাতে চাননি এ দু’জন। ১২ ওভারে ১০০ করলেও পরের ৬ ওভারে ওঠে ৪৯ রান।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষেই। জোহানেসবার্গে ১৬৫ রান তাড়া করে ৬ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৯৭ রান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। এর আগে পাকিস্তান ২০০৮ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ২০৩ রান করেছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছুড়ে দেয়া ১৯৮ রানের টার্গেট তাড়া করে জয় পাওয়া ছিল অনেকটাই স্বপ্নের মতো।  কিন্তু ব্যাট করতে  নেমে প্রথম ওভারে ১ ছয় ও ২ চারে ১৭ রান করে বাংলাদেশ তা সহজই মনে করিয়ে দেয়। উদ্বোধনী জুটিতে তামিম ইকবাল ও এনামুল হক ২৬ বলে ৪৭ রানের ঝড়ো জুটি গড়লে আশান্বিত হন সবাই। পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলে কেমার রোচের বলে ড্যারেন স্যামির তালুবন্দি হন আনামুল। ৩ চার ও ১ ছয়ে ২২ রান করেন তিনি। এর পর সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহর আরেক দফা প্রমোশন। শেষ ওয়ানডেতে ৭ নম্বর ব্যাটিং পজিশন থেকে ৫ নম্বরে খেলতে নেমেছিলেন তিনি। আর গতকাল নামেন ২ নম্বর পজিশনে।  ৪০ বলে ৭ চারে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ফিফটি হাঁকান তামিম ইকবাল। শেষ পর্যন্ত এই দুই ব্যাটসম্যান ১৩২ রানের অপরাজিত দেশ-সেরা জুটি গড়েন। কিন্তু তাদের এই জুটি বাংলাদেকে জয় এনে দিতে পারেনি। মাহমুদুল্লাহ অপরাজিত থাকেন ৪৮ বলে ৬৪ রানে। তামিম ২টি হলেও ৪টি ছক্কা হাঁকান মাহমুদ।
মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টসে জিতে ৪ উইকেটে ১৯৭ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর মধ্যে শেষ ওভারেই তারা সংগ্রহ করে ২৯ রান। প্রথম দুই উইকেট পাওয়া সফল বোলার রুবেল হোসেন শেষ দুই ওভারে দেন ৪৬ রান। তার  শেষ ওভারে পরপর তিনটিসহ ৪টি ছক্কা হাঁকান, চারও মারেন একটি। ১৯ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ছিল ৪ উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের সেরা  খেলোয়াড় স্যামুয়েলস ৪৩ বলে ৮৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। অপর অপরাজিত ব্যাটসম্যান লেন্ডন সিমন্স করেন ১২ বলে ১৮। পুরো ইনিংসে ১৪টি ছক্কার মধ্যে ৯টিই আসে স্যামুয়েলসের ব্যাট থেকে। প্রথম ২ ওভারে ১৭ রান দেয়া রুবেল শেষ ২ ওভারে দেন ৪৪ রান। ব্রাভো ৪১ ও পোলার্ড ১৫ রানে আউট হন সোহাগ গাজী ও জিয়াউর রহমানের বলে।
স্কোর কার্ড
বাংলাদেশ-ও.ইন্ডিজ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ
শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম, মিরপুর, ঢাকা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংস:    রান    বল    ৪    ৬
স্মিথ ব রুবেল    ২৪    ২১    ৩    ১
গেইল ব রুবেল    ৬    ৭    ১    ০
স্যামুয়েলস অপরাজিত    ৮৫    ৪৩    ৩    ৯  
ব্রাভো ক মুশফিক ব সোহাগ    ৪১    ২৮    ৫    ২
পোলার্ড ব জিয়াউর    ১৫    ৯    ০    ২
সিমন্স অপরাজিত    ১৮    ১২    ২    ০
অতিরিক্ত: (লেব ১, ও ৭)    ৮
মোট: (৪ উইকেট; ২০ওভার) ১৯৭
উইকেট পতন: ১-২৫(গেইল, ২.৬ ওভার), ২-৩০(স্মিথ, ৪.৫ ওভার), ৩-৯৬(ব্রাভো, ১১.৫ ওভার), ৪-১২১(পোলার্ড, ১৪.৪ ওভার)।
বোলিং: সোহাগ ৪-০-৪৪-১, শফিউল ৪-০-২৬-০, রুবেল ৪-০-৬৩-২, রাজ্জাক ৩-০-৩২-০, মাহমুদুল্লাহ ১-০-১৫-০, জিয়া ৪-০-১৬-১।
বাংলাদেশ ইনিংস: (টার্গেট ১৯৮, ২০ ওভার)
তামিম অপরাজিত    ৮৮    ৬১    ১০    ২
এনামুল ক স্যামি ব রোচ    ২২    ১২    ৩    ১
মাহমুদুল্লাহ অপরাজিত    ৬৪    ৪৮    ৩    ৪
অতিরিক্ত: (ব ১, লে ব ২, ও ১, ন ব ১)    ৫
মোট: (১ উইকেট; ২০ ওভার)    ১৭৯
উইকেট পতন: ১-৪৭(এনামুল, ৪.২ ওভার)। বোলিং: স্যামি ২-০-৩০-০, রোচ ৪-০-৩৬-১, রাসেল ১-০-১৭-০, স্যামুয়েলস ৪-০-৩২-০, নারাইন ৩-০-২৭-০, গেইল ৪-০-১৮-০, স্মিথ ২-০-১৬-০।
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৮ রানে জয়ী।
টস: ওয়েস্ট ইন্ডিজ (ব্যাটিং)
ম্যান অব দ্যা ম্যাচ: স্যামুয়েলস

আবর্জনা থেকে ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ও ৯ লাখ টন সার উৎপাদন হবে

আবর্জনা থেকে ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ও ৯ লাখ টন সার উৎপাদন হবে


আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ ও জৈব সার উৎপাদন প্রকল্প নির্মাণকাজ আগামী মার্চের মধ্যে শুরু হবে। ঢাকা শহরের মাতুয়াইল ও আমিনবাজারে দুটি বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হবে। প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা হবে ৫০ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এ জন্য প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার টন আবর্জনা প্রয়োজন হবে। বিদ্যুতের পাশাপাশি আবর্জনা থেকে জৈব সারও উৎপাদিত হবে। জৈব সার হবে বছরে ৯ লাখ টন। শাক-সবজি, ধানসহ কৃষি উৎপাদনে এই জৈব সার ব্যবহৃত হবে। ইতালির একটি কোম্পানির সঙ্গে ডিসেম্বরেই চুক্তি স্বাক্ষর হবে। পৃথক চুক্তি হবে ঢাকা সিটি করপোরেশন এবং ডিপিডিসি, ডেসকো’র সঙ্গে। এই সংস্থা দুটো বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ইতালির কোম্পানির কাছ থেকে ইউনিট প্রতি ৮ টাকা করে বিদ্যুৎ কিনে নেবে। এই বিদ্যুৎ তারা সিটি করপোরেশনের কাছে বিক্রি করবে। সিটি করপোরেশন এই বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে রাজধানীর সড়কগুলোতে আলোকবাতি জ্বালাতে। দু’টি বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনে ব্যয় হবে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে চারশ’ কোটি টাকা ব্যয় হবে আবর্জনা ফেলার স্থান প্ল্যান্ট স্থাপন উপযোগী করতে। মাটির নিচে একশ’ ফুট গভীর থেকে প্ল্যান্টের গাঁথুনি দেয়া হবে। নির্মাণ ব্যয়ের পুরোটাই তারা ব্যবহার করবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিক্রি করে তারা বিশ বছরে মুনাফাসহ বিনিয়োজিত অর্থ তুলে নেবে। বিশ বছর পর্যন্ত উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে তারাই থাকবে। বিশ বছর পর প্ল্যান্ট সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে। ঢাকা শহরে দৈনিক সাত হাজার টন ময়লা আবর্জনা জমে। জাইকা ডিসিসিকে একশ’টি ট্রাক দিয়েছে। এগুলো দিয়ে দৈনিক সর্বোচ্চ দৈনিক চার হাজার টন আবর্জনা অপসারণ করা হয়। বাকি তিন হাজার টন থেকে যায়। দুটি প্ল্যান্টের প্রতিটির দৈনিক ৫০ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা থাকলেও প্রথম পর্যায়ে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে প্রতিটি প্ল্যান্ট থেকে। পর্যায়ক্রমে উৎপাদন ক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। সরকার প্রথম পর্যায়ে মাতুয়াইলে একটি প্ল্যান্ট নির্মাণ করবে। একটি প্ল্যান্ট স্থাপনে সময় লাগবে আঠার মাস। সরকার চেয়েছিল তার মেয়াদকালেই অন্তত বিশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। কিন্তু তা সম্ভব হচ্ছে না। প্ল্যান্ট দুটো পুরো ক্ষমতায় উৎপাদনে গেলে দৈনিক সাত হাজার টন আবর্জনা লাগবে। এতে বছরে উৎপাদিত নয় লাখ টন জৈব সার ডিসিসি কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে বিক্রি করবে। এ প্রকল্পে প্রায় ৪ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। রাজধানীর পথশিশুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে মাসিক মজুরির ভিত্তিতে।

ফখরুলের গ্রেপ্তারে ব্লেকের উদ্বেগ

ফখরুলের গ্রেপ্তারে ব্লেকের উদ্বেগ


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের গ্রেপ্তারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সফররত মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও’ব্লেক। কি অভিযোগে তাকে
গ্রেপ্তার করা হয়েছে সে বিষয়ও জানতে চেয়েছেন তিনি। গত রাতে বিরোধী দলের নেতা, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার বাসভবনে বৈঠকে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। তিনি বলেন, বৈঠকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ব্লেকের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। রবার্ট ব্লেক আগামীতে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে বসার তাগিদ দেন। খালেদা জিয়া মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, নির্বাচন নিয়ে সংলাপে বসার জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হয়নি। বৈঠকে রবার্ট ব্লেক ছাড়াও বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনাও উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির পক্ষে খালেদা জিয়া ছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, চেয়ারপরসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ ও রিয়াজ রহমান উপস্থিত ছিলেন।
নারীদের জীবনমান উন্নয়নে ক্ষুদ্রক্ষণের অবদান যুগান্তকারী- ও’ব্লেক: আমাদের কূটনৈতিক রিপোর্টার জানান, ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রবার্ট ও’ব্লেক বলেছেন, দেশের ৮৩ লাখ অতিদরিদ্র নারীর জীবনে গ্রামীণ ব্যাংক আশা জাগিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এ দেশের নারীদের জীবন-মান উন্নয়নে ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছে। রাজধানীতে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী দক্ষিণ এশীয় নারী উদ্যোক্তা সম্মেলনের সমাপনী বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। হোটেল রূপসী বাংলায় গতকাল সন্ধ্যায় সাউথ এশিয়ান উইমেন এন্টারপ্রিনারশিপ সিম্পোজিয়ামের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনাসহ বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ মিশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনের সিম্পোজিয়ামে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কূটনীতিক রবার্ট ও’ব্লেক বলেন, এ অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য দেশগুলোর স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। এখানকার নারীরা তাদের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। অংশ নেয়া নারী উদ্যোক্তাদের ‘সফল’ আখ্যা দিয়ে ব্লেক বলেন, এখানে সমবেত নারীরা অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সমর্থ হয়েছেন। এ জীবনে আপনারা যা অর্জন করেছেন তার সুফল আপনাদের অব্যবহিত পরের নারীরা তো পাবেই, আমার বিশ্বাস অনাগত নারী শিশুরাও এর সুফল পাবে।
শাবিতে উগ্র চিন্তাধারা পরিবর্তনে এগিয়ে আসার আহ্বান: এদিকে আমাদের শাবি প্রতিনিধি জাবেদ ইকবাল জানান, মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও’ব্লেক বলেছেন, উগ্র চিন্তাধারা পরিবর্তনে বন্ধু ও সহপাঠীদের এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া আর্থ-সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ও দরিদ্রতা দূর করতে হবে। এসব সামাজিক অসঙ্গতি সহিংতা ও উগ্র মনোভাবের দিকে চালিত করে। গতকাল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশের মধ্যে হিংসাত্মক চরমপন্থা প্রতিহত বিষয়ক সংলাপ’ শীর্ষক উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে তিনি এসব বলেন। এ সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল ও সুশাসন নিশ্চিত করতে বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপ ও সমঝোতার প্রয়োজন। বেলা তিনটায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক ভবনের গ্যালারিতে সংলাপের আয়োজন করা হয়। সংলাপে প্রশ্নোত্তর পর্বে মডারেটর ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জায়েদা শারমিন সাথী।
ওদিকে গোলাপগঞ্জ থেকে চেরাগ আলী জানান, গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফুলবাড়ী আজিরিয়া সিনিয়র আলীয়া মাদরাসা পরিদর্শনকালে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও’ব্লেক বলেছেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আগের তুলনায় অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা ইংরেজি শিক্ষা লাভে আগ্রহী হওয়ায় নিজেরা যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে। তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সব সময় সহযোগিতা করতে চায়। বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সকাল ১১টায় উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন এ ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যান রবার্ট ও’ব্লেক। তার সফরসঙ্গী ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা। মাদরাসায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) সাহাব উদ্দিন খান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম মুনির উদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার গোপাল চক্রবর্তী, ফুলবাড়ি মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আতিকুর রহমান, পরিচালনা কমিটির সদস্য এনাম আহমদ চৌধুরী, মাদরাসা শিক্ষক ফজর আলী, মাওলানা জিয়াউর রহমান, ফুলবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসান শাহান, গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি আবদুল আহাদ, সেক্রেটারি মাহফুজ আহমদ চৌধুরী, ইংরেজি প্রশিক্ষক বদরুন নেছা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঘাতকদের উল্লাসনৃত্য

ঘাতকদের উল্লাসনৃত্য

এ দৃশ্য বড় নির্মম। একই সঙ্গে অভিনবও। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর লাশের ওপর উল্লাসনৃত্য বাংলাদেশে নতুন কিছু নয় । কিন্তু রোববার পুরান ঢাকায় যা ঘটে গেল তা একেবারেই অভিনব। রাজনীতির সঙ্গে কোন যোগ ছিল না বিশ্বজিৎ দাসের। তিনি ছাত্রশিবির করতেন না, ছাত্রদলও করতেন না। ছিলেন নিরীহ এক দর্জি দোকানি। ছাত্রলীগের সঙ্গে তার কোন শত্রুতা ছিল না। কিন্তু তারপরও ছাত্রলীগের উন্মত্ত আক্রমণের শিকার হলেন তিনি। কোন আক্রোশ না থাকলেও তার ওপর আক্রোশ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লো ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। চাপাতি দিয়ে কোপানো হলো তাকে। যাদের হাতে চাপাতি ছিল না তারা এগিয়ে এলো লাঠি হাতে। পিটিয়ে হত্যা করা হলো নিরপরাধ এক যুবককে। খুনিদের হাত থেকে বাঁচতে বিশ্বজিতের আকুতি হৃদয় এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়েছে সবার। নিজের ধর্ম পরিচয় দিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি। কারা সেই ঘাতক পত্রিকায় পরিচয়সহ তাদের ছবি ছাপা হয়েছে। টিভি পর্দায়ও দিনভর দেখা গেছে তাদের। কিন্তু মামলা দায়েরের সময় পুলিশ কোন আসামির নাম খুঁজে পায়নি। আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের। এ রিপোর্ট যখন লেখা হচ্ছে তখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়নি কাউকে। বিশ্বজিৎ দাসের খুনিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। শিবির দমনে কঠোর তিনি। পুলিশের ওপর নির্ভর না করে যুবলীগ, ছাত্রলীগকে তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন শিবির দমনের। কার নির্দেশে বেপরোয়া ছাত্রলীগ সে প্রশ্নও আবার উঠেছে। আইন ও বিচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ প্রায়ই কিছু কমন কথা বলেন। ক্ষমার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার ডাক দেন তিনি। অথচ ক্ষমার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের সময় ইতিহাসে সবচেয়ে বিরল। ৪০ বছরে সর্বমোট ২৫ ফাঁসির আসামি ক্ষমা পেয়েছেন। এর ২১ জনই ক্ষমা পেয়েছেন বর্তমান সরকারের আমলে। সংবিধান প্রেসিডেন্টকে এ ক্ষমার অধিকার দিয়েছে। তবে এ ক্ষমার পেছনে আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ যে প্রধান ভূমিকা রেখেছে তাতে সন্দেহ সামান্যই। বিশ্বজিতের খুনিরাও কি তবে ক্ষমা পেয়ে যাবেন। বাংলাদেশে দলভিত্তিক ক্যাডারদের নির্মমতার বিচারের নজির খুবই কম। লাশের ওপর উল্লাসনৃত্যের দৃশ্য সম্ভবত সর্বপ্রথম দেখা গিয়েছিল ২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবর। সেদিন রাজধানীর পল্টনে লগি-বৈঠার নির্মমতার শিকার হয়েছিলেন জামায়াত-শিবিরের ছয় নেতাকর্মী। লাশের ওপর দাঁড়িয়ে উল্লাসনৃত্য করেছিল হত্যাকারীরা। সে ঘটনা নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। অক্টোবরের খুনিদের বিচার তো দূরের কথা, সে ঘটনায় দায়ের করা মামলাও প্রত্যাহার করে নিয়েছে বর্তমান সরকার। বর্তমান মহাজোট জমানাতেই নাটোর উপজেলা চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ বাবুকে পিটিয়ে হত্যা করেও উল্লাস প্রকাশ করা হয়েছে। রাষ্ট্রবিনাশী এ উল্লাসনৃত্য চলছেই। রাজনৈতিক শিকার ছেড়ে এখন অরাজনৈতিক শিকারে মন দিয়েছে খুনিরা। সব ধরনের যুক্তি ত্যাগ করেছে তারা। ক্ষোভ নয়, প্রতিশোধ নয়, শুধুমাত্র সন্দেহের বশেই মানুষ হত্যা করছে তারা। তবে বিশ্বজিৎ দাসের হত্যা একটি পুরনো প্রশ্ন নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে, আমরা কোথায় যাচ্ছি?

Friday, December 7, 2012

ইমন ওর শাস্তি পেয়ে গেছে

ইমন ওর শাস্তি পেয়ে গেছে

মাত্র কয়েকদিন আগেই অভিযোগের চূড়ান্ত ছিল শওকত আলী ইমন-এর বিরুদ্ধে। এরপর সেই মেয়ের অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলার কারণে ইমন গ্রেফতার হলো। ধর্ষণ মামলায় এই গ্রেফতারের বিষয়টিই ছিল গত দুইদিনের শোবিজ জগতের টক অব দ্য টাউন। আর গতকাল এর জের ধরে সেই মেয়ে জিনাত কবীর-এর সাথে বিয়ে হলো সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমনের। এই সব নানান জটিলতা বা সম্পর্কের এই বিষয়গুলোকেই পাঠকের কাছে স্পষ্ট করতে বিনোদন প্রতিদিন-এর মুখোমুখি হয়েছেন শওকত আলী ইমনের সদ্য বিবাহিত স্ত্রী নৃত্যশিল্পী জিনাত কবীর।


কেমন আছেন?

এখন খুব ভালো আছি। এই মাত্র কোর্ট থেকে এলাম। আশা করছি ওর জামিন হয়ে যাবে খুব শিগগিরই।

আপনাদের প্রেমের শুরুটা একটু বলবেন।

এটা তো সবাই এখন জানে। আপনারা তো সবই প্রকাশ করেছে। তবু বলি। ফেসবুকেই ওর সাথে আমার পরিচয়। আমি তখন কলকাতা একটি কলেজে জার্নালিজমে পড়াশোনা করতাম। ইমন তখন নিজের একাকিত্বের কথা বলত। তার আগের স্ত্রী সম্পর্কে নানা ধরনের বাজে মন্তব্য করে বলত, সেই স্ত্রী তার জীবনে কতটা কষ্ট দিয়েছে। সেই কথা শুনেই আমি আসলে ইমনের মায়ায় পড়ে যাই। এরপর সে-ই আমাকে বলে, কলকাতা একা থেকে কী করবে, ঢাকায় চলে এস। আমি ঢাকায় বাবা-মাকে না বলেই ওর সাথে দেখা করি। এরপর স্টুডিওতে দেখা, পরে ওর বাসায়। এইতো। এরপর থেকেই নিজেদের সংসার বা বিয়ের জন্য বারবার বলতে শুরু করি। কিন্তু শোনেনি। এর পরের ঘটনা তো জানেনই। ওর বিরুদ্ধে এখন বাকি অভিযোগগুলো আর বলতে চাই না। আর আমার আর ইমনের সম্পর্কের কারণে বাবা-মাও আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

তাহলে ক'দিন আগেই যার বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগের অন্ত ছিল না। তাকেই এখন নিজের করা মামলা থেকে রেহায় দেওয়ার জন্য বিয়ে করলেন?

তো আর কী করব বলুন? মানুষ তো আর বারবার বিয়ে করে না। আর ইমন যেহেতু এখন অনুতপ্ত। তাই ওকে মাফ করাই যায়। আর ওর পাপ অনুযায়ী বরং বেশিই শাস্তি পেয়ে গেছে। ওর মানসম্মান তো গেছেই। ক্যারিয়ারও প্রায় শেষ। তাই মাফ করে দিয়েছি।

তাহলে এখন আপনি ইমনকে শতভাগ বিশ্বাস করেন?

এটা বলা যাচ্ছে না। দেখা যাক কী হয়?

কিন্তু এই 'দেখা যাক কী হয়'-এর ভেতরেই বিয়ের মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন? কোনো দ্বিধা কাজ করল না? এই বিয়ের প্রস্তাব কে আগে দিয়েছিল? সিদ্ধান্তটা কীভাবে এল?

ইমনের পরিবার থেকেই বলা হচ্ছিল। এ ছাড়া তো ওর জামিনের কোনো উপায় নেই। ও আমার মানসম্মান খুইয়ে দিতে চেয়েছিল। এখন তো সে নিজেই মানসম্মান ধুলোয় লুটিয়েছে।

থানায় দেখা হলে কী কথা বললেন?

প্রথমে অনেকক্ষণ গালাগালি করলাম। চিত্কার করলাম। কী বলেছি, অত মনে নেই।

আর আপনার বাবা-মা পরিবারের অবস্থা?

আমার বাবা তো দেশের বাইরে থাকেন। ইমনের সাথে এই সম্পর্ক হওয়ার পর থেকে বাবা-মা কেউই আমার সাথে কথা বলে না। বাবা মাসের খরচটা পাঠায় আমার ক্রেডিট কার্ডে। তাই তাকে জানানো হয়নি। ভয় পাচ্ছি। আর আমার বোন এই সময় প্রেগনেন্ট। ওকে জানিয়েছি, সেও খুব টেনশন করছে। মা দেশের বাইরে গেছে। মনে হয় আমার বোন মারফত খবরটা পেয়ে গেছে। মাও আমার সাথে অনেকদিন কথা বলে না।

তাহলে আপনি এখনও পরিবারের বিরুদ্ধে থেকেও ইমনকে ভালোবাসেন?

ভালোবাসি, তবে এখন আর আগের মতো ভালোবাসি না। আসলে নিয়তি আমার সাথে অনেক খেলা করেছে। তাই দেখতে চাই, এর শেষ কোথায়?

বিয়ের ব্যাপারে আপনাকে কে বুঝিয়েছে?

আমি নিজের সম্মতিতেই বিয়ে করেছি। ওকে অনুতপ্ত দেখে খারাপ লেগেছে।

বিয়ের সময় কে কে ছিল?

কবির বকুল ভাই, ইমনের বড় বোনসহ আরও আত্মীয়-স্বজন ছিল। এ ছাড়া আমার আঙ্কেল-আন্টি ছিল।

এখন আপনার আগামী দিনগুলোর পরিকল্পনা কী?

পরিকল্পনা আপাতত কিছু নেই। দেখি ও আগে বের হয়ে আসুক। এরপর নতুনভাবে সংসারের প্রস্তুতি নেব। মানুষ ভুল করলে, সুযোগ দেওয়া উচিত, তাই দিলাম।

১০ লাখ পরিবারে পৌঁছলো গ্রামীণ শক্তির সৌর বিদ্যুৎ

১০ লাখ পরিবারে পৌঁছলো গ্রামীণ শক্তির সৌর বিদ্যুৎ


দেশের ১০ লাখ পরিবারে পৌঁছেছে গ্রামীণ শক্তির সৌর বিদ্যুৎ। পরিবার পর্যায়ে এটা এখন বিশ্বের সর্ববৃহৎ সৌর বিদ্যুৎ কর্মসূচি। নোবেল বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস-এর উদ্যোগে নবায়নযোগ্য শক্তি প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা এবং গ্রামীণ জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালে গ্রামীণ শক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। গ্রামীণ মানুষের কাছেও যে সৌর বিদ্যুৎ পৌঁছানো সম্ভব, তা গ্রামীণ শক্তি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে প্রমাণ করলো। বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য দাতাদের সহায়তায় পরিচালিত সরকারি প্রতিষ্ঠান ইডিসিওএল-এর অর্থায়নে গ্রামীণ শক্তি সফলভাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত করছে। বর্তমানে প্রতিদিন ১০০০-এরও অধিক সৌর বিদ্যুৎ সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের গ্রাম আলোকিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত এই বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে ৮০ লাখ মানুষ সুফল ভোগ করছে। ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের উন্মেষ ঘটেছে। মসজিদ, গ্রামীণ হাসপাতাল আলোকিত হয়েছে। কাজের সময় বৃদ্ধি পেয়েছে। দোকানপাট, মুদি দোকান, ফার্মেসি, দর্জির দোকান, সেলুন অধিক রাত পর্যন্ত খোলা রাখা সম্ভব হচ্ছে। ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধিসহ জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে। গ্রামীণ শক্তির ব্যাপক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে গড়ে ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আগামী চার বছরের মধ্যে গ্রামীণ শক্তি আরও ১০ লাখ সৌর বিদ্যুৎ সিস্টেম স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

Wednesday, December 5, 2012

উন্নত প্রযুক্তির প্লাস্টিক বাল্ব উদ্ভাবন

উন্নত প্রযুক্তির প্লাস্টিক বাল্ব উদ্ভাবন


যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী ড. ডেভিড ক্যারোল বর্তমানে প্রচলিত ইলেকট্রিক বাল্বের চেয়ে উন্নত প্রযুক্তির বাল্ব উদ্ভাবনের কথা জানিয়েছেন। প্লাস্টিকের কয়েকটি লেয়ারের সমন্বয়ে তৈরি নতুন বাল্বটি ফ্লুরোসেন্ট বাল্বের চেয়ে দ্বিগুণ কার্যক্ষম বলে দাবি করেছেন উদ্ভাবকরা। খবর বিবিসির।

প্লাস্টিক বাল্বটির আবিষ্কারক ড. ক্যারোল ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়েক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটির পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক। তিনি বলেন, বাল্বটি যে কোনো আকারে বানানো সম্ভব এবং বর্তমানে জনপ্রিয় কম্প্যাক্ট ফ্লুরোসেন্ট বাল্ব (সিইউএফএ)-এর তুলনায় এটি বেশি উজ্জ্বল ও কম্পন বিহীন। সিইউএফএল বাল্ব মানুষের চোখের উপযোগী নয়। এর কম্পনের কারণে অনেকে মাথাব্যথায় ভোগেন।

নতুন আবিষ্কৃত ফিল্ড-ইনডিউস্ড পলিমার ইলেক্ট্রোলিউমিনেসেন্ট (ফিপেল) টেকনোলজিতে তৈরি বাল্বটির হোয়াইট-এমিটিং পলিমারের তিনটি স্তরের ভেতরের ন্যানোম্যাটেরিয়াল দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে তা আলো উৎপাদন করে।

বর্তমানে আলো উৎপাদনে ব্যবহৃত আরেকটি উন্নত প্রযুক্তি হচ্ছে, লাইট এমিটিং ডায়োড (এলইডি) ও অর্গানিক এলইডি (ওএলইডি)। এ প্রযুক্তির বাল্বের আলো কম হয় এবং এগুলোর উজ্জ্বলতা বেশিদিন থাকে না। তবে নতুন উদ্ভাবিত ফিপেল বাল্ব এসব অসুবিধা দূর করবে, বলেন ড. ক্যারোল। এ প্রযুক্তির বাল্ব তাপ উৎপাদন না করেই আলো দেবে এবং এগুলো আগের বাল্বের তুলনায় সস্তা ও প্রায় ১০ বছর স্থায়ী হবে বলে দাবি করেন আবিষ্কারক। ২০১৩ সালেই এ প্রযুক্তির বাল্ব উৎপাদন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ড. ক্যারোল।

পৃথিবীর বিদ্যুৎ শক্তির প্রায় ১৯ ভাগ আলো জ্বালাতে ব্যবহার হয়। অল্প শক্তিসম্পন্ন বাল্ব ব্যবহার করলে পৃথিবীর প্রায় ৬শ’ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমান পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব।

একুশ ডিসেম্বর মহাপ্রলয়ঘটবে না বলে জানিয়েছেযুক্তরাষ্ট্র সরকার

একুশ ডিসেম্বর মহাপ্রলয়ঘটবে না বলে জানিয়েছেযুক্তরাষ্ট্র সরকার


২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের এমন একটি আশঙ্কাকে নিছক গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। গত সোমবার ইন্টারনেট ব্লগে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এই বক্তব্য পোস্ট করা হয়।

এতে বলা হয় নাসার বিজ্ঞানীরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এই মর্মে লাখ লাখ চিঠি পেয়েছে যে আগামী ২১ ডিসেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। একটি প্রাচীন মায়ান ক্যালেন্ডারকে ভিত্তি করে ভুল বুঝাবুঝির কারণে এই গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

এই ক্যালেন্ডারের ওপর ভিত্তি করে অনেকেই মনে করেন, বিরাট একটা ধূমকেতু ওইদিন পৃথিবীতে আঘাত আনবে। অন্য একটা গ্রহের সঙ্গে পৃথিবীর সংঘর্ষ হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে কেউ কেউ। নাসার এক বিজ্ঞানী বলেন, তিনি তরুণদের কাছ থেকে বহু চিঠি পেয়েছেন, যেগুলোতে তারা ভয়ানক কোন বিপর্যয় ঘটার আগেই আত্মহত্যার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছে।

এ বছরের গোড়ার দিকে নাসা এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, মায়ান ক্যালেন্ডারে প্রকৃত পক্ষে ২১ ডিসেম্বর পৃথিবীতে মহাপ্রলয় ঘটার কথা বলা হয়নি এবং নিবিরু নামে একটি গ্রহ পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে বলে যে আশঙ্কা করা হচ্ছে তাও সত্যি নয়। এমন কোন গ্রহের অস্তিত্ব বিজ্ঞানীরা দেখতে পাননি। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি রাশিয়াও তাদের জনগণকে আশ্বস্ত করেছে যে এদিন মহাপ্রলয় ঘটার কোনো আশংকা নেই।

অভিনয়ের জন্য রাজি নয় কারিনা

অভিনয়ের জন্য রাজি নয় কারিনা


রকাশ ঝা পরিচালিত নতুন ছবি 'সত্যগ্রহ'-তে সম্প্রতি চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন কারিনা কাপুর। সব ঠিকই ছিল, ঝামেলাটা বাঁধল শুটিংয়ের কয়েকদিন আগে। যদিওবা এখনও শুটিং শুরু হয়নি। এই ছবিতে কারিনার চরিত্র একজন সাংবাদিকের। আর সেখানেই কারিনার যত আপত্তি। এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য কারিনাকে কাটতে হবে চুল। কিন্তু খুব যত্ন করে চুলগুলো গড়েছেন কারিনা। এই চুল মোটেও কাটবেন না তাই। কারিনা বলেন, 'আমি ছবিটিতে একজন সাংবাদিকের ভূমিকায় কাজ করতে যাচ্ছি। দুঃসংবাদ হলো চরিত্রের প্রয়োজনে আমাকে চুল কাটতে হবে। কিন্তু আমি মোটেও চুল কাটব না। আমি নিজের থেকে বেশি পছন্দ করি আমার চুলকে, যত্নও করি বেশ। এই চুল আমি মোটেও কাটছি না। চরিত্রের জন্য আমি প্রকাশকে বলেছি চুল বড় থাকলে তো কোনো সমস্যা নেই। সেই জায়গা থেকে যদি একেবারেই না হয়, তাহলে আমি কাজটি করতে পারব না।' উল্লেখ্য, আগামী বছরের শুরুর দিকে এই চলচ্চিত্রের শুটিং শুরু হবে।

২২২ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়ে গেল নকিয়ার সদর দপ্তর

২২২ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়ে গেল নকিয়ার সদর দপ্তর


আলোচনা চলছিল অনেকদিন থেকেই। অক্টোবরের শুরুর দিকে নকিয়ার পক্ষ থেকেই জানানো হয়, নানা ধরনের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তারা তাদের নন-কোর অ্যাসেট বা অপ্রধান সম্পদগুলো বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই অপ্রধান সম্পদের মধ্যে তাদের ফিনল্যান্ডের এসপোতে স্থাপিত সদর দপ্তরটিকেও তালিকাভুক্ত করে তারা। বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত কাঁচ আর ইস্পাতের তৈরি এই নয়নাভিরাম সদর দপ্তরটি অবশেষে বিক্রি করে দিয়েছে নকিয়া। ফিনল্যান্ডের রিয়েল এস্টেট কোম্পানি এক্সিলিয়ন ২২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১৭০ মিলিয়ন ইউরোতে কিনে নিচ্ছে এই ভবন। অবশ্য এটাতে ঠিক বিক্রি বলে অভিহিত করছে না নকিয়া। তারা জানিয়েছে, 'দীর্ঘ মেয়াদে' এই ভবনটি এক্সিলিয়নের কাছে 'লিজ' দেওয়া হচ্ছে। তবে শেষ বিচারে এটি বিক্রিই হয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, নকিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষতির মুখে রয়েছে। অ্যানড্রয়েড এবং আইওএস-এর দাপটে নকিয়ার নিজস্ব সিমবিয়ান প্ল্যাটফর্ম এখন বাজারে বিলুপ্তপ্রায়। শুধু তাই নয়, মাইক্রোসফটের সাথে তারা যে উইন্ডোজ ফোনগুলো বাজারে এনেছে, সেগুলোও আশানুরূপ সাড়া ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারছে না নকিয়া। কিছুদিন আগে তারা কর্মীও ছাটাই করে। তাতেও কুলিয়ে উঠতে পারেনি নকিয়া। শেষ পর্যন্ত সদর দপ্তরটি বিক্রি করে বড় অংকের টাকা হাতে আসল তাদের।

তাপে আয়ু বাড়বে ফ্ল্যাশ মেমোরি চিপের

তাপে আয়ু বাড়বে ফ্ল্যাশ মেমোরি চিপের


কম্পিউটারের ব্যবহার যেভাবে বিশ্ববাপী বাড়ছে, তার সাথে পাল্লা দিয়েই বেড়ে চলেছে বহনযোগ্য স্টোরেজ এবং মেমারির ব্যবহার। ইউএসবি হার্ডডিস্ক, পেনড্রাইভ, মোবাইলসহ নানা ধরনের ডিভাইসে ব্যবহূত হয়ে যাচ্ছে এই ফ্ল্যাশ মেমোরি চিপ। তবে ফ্ল্যাশ মেমোরির অন্যতম একটি সীমাবদ্ধতা হচ্ছে, ১০ হাজারবার রিড-রাইট সাইকেল সম্পন্ন করার পর ফ্ল্যাশ মেমোরির কর্মদক্ষতা অনেকখানি কমে যায়। তবে এই সীমাবদ্ধতা দূর করার একটি উপায় উদ্ভাবন করেছেন গবেষকরা। তাপের মাধ্যমে তারা ফ্ল্যাশ মেমোরির কর্মদক্ষতাকে অনেকগুণ বাড়িয়ে নেওয়ার পদ্ধতির সন্ধান পেয়েছেন। ইলেকট্রনিক কোম্পানি ম্যাক্রোনিক্সের গবেষকরা জানিয়েছেন, তাপের মাধ্যমে ফ্ল্যাশ মেমোরির রিড-রাইট সাইকেলের পরিমাণ বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব ১০০ মিলিয়নে। এর আগেও গবেষকরা তাপকে ফ্ল্যাশ মেমোরির আয়ু বাড়াতে ব্যবহার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। কিছু মাত্রায় সেই কাজ করেও দেখিয়েছেন। তবে বৃহত্ আকারে সেই গবেষণাগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব ছিল না। তবে মাইক্রোনিক্সের গবেষকরা তাদের গবেষণার মাধ্যমে নতুন করে ডিজাইন করেছেন ফ্ল্যাশ মেমোরিকে। এই নতুন ডিজাইনে তারা ফ্ল্যাশ মেমোরি ম্যাটেরিয়ালের পাশাপাশি একটি হিটার সংযোজন করে দিয়েছেন। এই হিটারটি ছোট ছোট মেমোরি কোষগুলোকে নির্দিষ্ট সময় পর পর তাপ প্রদান করবে। ৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপ প্রদান করা হলে ক্ষতিগ্রস্ত মেমোরি সেলগুলো পুনরায় পূর্ণ শক্তিতে কর্মক্ষম হয়ে উঠবে। তবে ৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত মেমোরি সেলগুলোকে উত্তপ্ত করা হলেও তা মানুষের জন্য ক্ষতিকর হবে না। গবেষকরা জানিয়েছেন, খুব ক্ষুদ্র এলাকাজুড়ে মাত্র কয়েক মিলিসেকেন্ড সময় ধরে তাপ প্রদান করা হবে। আর এই প্রক্রিয়াতে শক্তি খরচও হবে অত্যন্ত কম। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ নিরাপদ বলেই দাবী গবেষককদের। আবার বহনযোগ্য ডিভাইসগুলোর চার্জও এতে খুব একটা খরচ হবে না বলে জানান তারা। মাইক্রোনিক্সে যে পরীক্ষামূলক গবেষণা চালানো হয়েছে, তাতে ১০০ মিলিয়ন সাইকেল পর্যন্ত ফ্ল্যাশ মেমোরিকে কর্মক্ষম রাখা গেছে। তবে এই সাইকেলের পরিমাণ আরও কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব বলেই আশাবাদী গবেষকরা। আপাতত সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে মাইক্রোনিক্স। তবে তারা কবে নাগাদ এই নতুন প্রযুক্তির স্টোরেজ ডিভাইস বাজারে আনবে, তা সম্পর্কে কিছু জানায়নি তারা।

বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের লড়াই আজ

বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের লড়াই আজ

২-০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ। এই পরিসংখ্যানটা বাংলাদেশের জন্য স্বপ্নের মত। কাল আরেকবার সিরিজের এই পরিসংখ্যানের কথা মনে করিয়ে দিতে নিজেই যেন একটু থমকে গেলেন মোমিনুল হক। বাংলাদেশের হয়ে তৃতীয় ওয়ানডে খেলতে যাচ্ছেন আজ বুধবার। আর এমন একটা সময় তিনি দলের এগারজনের একজন যখন সিরিজ জেতা থেকে বাংলাদেশ মাত্র একটি ম্যাচ পেছনে। তাই আগের দুই ম্যাচ নিয়ে ভাবতে চান না তরুণ এই ক্রিকেটার। শুধু আজকের ম্যাচ জিততে চান তিনি। তবে এই চাওয়া তার একার নয়, পুরো জাতি আজ মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দিকে তাকিয়ে থাকবে। দিবা-রাত্রি এই ম্যাচে অনেক স্বপ্ন, অনেক আশা নিয়ে ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামবে মুশফিকরা। তাদের সাথে থাকবে কোটি কোটি দর্শকের প্রার্থনা।

পাঁচ ম্যাচ সিরিজের একদিকে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের হাতছানি অন্যদিকে ওয়েষ্ট ইন্ডিজের জন্য অস্থিত্ব রক্ষার লড়াই। সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে তারা। ১৯৯৩ সালের পর একসাথে চারটি টেস্ট ম্যাচও জিতেছে তারা এ বছর। আর এরপরই ঘটেছে অঘটন। প্রথম দুই ওয়ানডে হেরে তাদের অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে। এসব হিসাব-নিকাশ করতে গিয়ে ড্যারেন স্যামিকেও কঠিন ভাবনার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। সমীকরণ অনেক কঠিন তবে এই সমীকরণের কথা প্রতিপক্ষকে জানাবেন না বলেই কাল হরতালের কারণে অনুশীলনে আসেননি তারা। হোটেল বন্দি হয়ে নিজেদের মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আসলেই কি মানসিক চাপ কমেছে?

এই দিক থেকে নির্ভার থাকার চেষ্টা করছে স্বাগতিকরা। এখনো তিনটি ম্যাচ আছে, সিরিজ জেতার ভালো সম্ভাবনাও রয়েছে তাদের। তবে সাকিব আল হাসানের মত ওয়ানডে সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোতে মুশফিকরা পাচ্ছে না পেসার আবুল হাসানকে। ইনজুরির কারণে তিনি দলের বাইরে, তার জায়গায় আজ খেলতে পারেন অলরাউন্ডার জিয়াউর রহমান। সেরা একাদশে ঠাঁই হলে বাংলাদেশের আরেক খেলোয়াড়ের ওয়ানডে অভিষেক হয়ে যাবে আজ। সাকিবের অনুপস্থিতি যেমন দলকে বুঝতে দেয়নি, আবুলের অনুপস্থিতিও কোন সমস্যা হবে না এমনটি মনে করছে টিম ম্যানেজম্যান্ট। কাল সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মুশফিকুরের কণ্ঠে তাই দৃঢ় শব্দটি উচ্চারিত হয়েছে, 'আমরা ধারাবাহিকভাবে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে ফলাফল আমাদের পক্ষেই আসবে'। অর্থাত্ বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসের পারদটা এখন অনেক উঁচুতে।

খুলনার জয় থেকে মুশফিকদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে ঠিকই তবে আড়ালে দুশ্চিন্তাও ভর করছে স্বাগতিকদের। খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম যদি বাংলাদেশের জন্য 'পয়মন্ত' ভেন্যু ঠিক বিপরীত হবে মিরপুর স্টেডিয়াম। হোম অব ক্রিকেট যাকে ধরা হয়, সেই মিরপুর স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৫১টি ম্যাচ খেলেছে। মাত্র ২১টি জয় পেয়েছে তারা বাকি ৩০টি ম্যাচে হারতে হয়েছে তাদের। আরো ভয়ংকর পরিসংখ্যানও রয়েছে বাংলাদেশের জন্য। এই মাঠে সর্বশেষ ১৫টি ম্যাচে মাত্র তিনটি জয় পেয়েছে তারা। সঙ্গে যোগ হয়েছে সন্ধ্যার কুয়াশার যন্ত্রণা। কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা তো কাল বলেই ফেলেছেন, যেভাবে কুয়াশা পড়ছে তাতে পরে বল করা দলের বেশ সমস্যা হতে পারে। অর্থাত্ টসে জিতে বাংলাদেশকে আগে বল করতে হবে। আশার কথা হচ্ছে, কিউরেটর জানিয়েছেন এই মাঠে তিনশ রানও অসম্ভব নয়।

আর এই অসম্ভবকে সম্ভব করতে প্রস্তুত তামিম ইকবালও। দায়িত্বটা তার উপরই বেশি তবে এনামুল হক বিজয়ের মত একজন যোগ্য ওপেনারকে পেয়ে আড়ালে নিশ্চয়ই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন বাঁ-হাতি এই ওপেনার। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরি পাওয়া এনামুলের সামনে আজও নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ। তরুণ ক্রিকেটার মোমিনুলের সামনেও দারুণ সুযোগ। তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে বাংলাদেশ আজ পাড়ি দিতে চায় স্বপ্নের দেশে। যেখানে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি রয়েছে ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে উপরে যাওয়ার সুযোগ। আর দুটি ম্যাচ জিতলে র্যাংকিংয়ে সাত নম্বর জায়গায় উঠে আসবে তারা।

বাংলাদেশ দলে এখন তিন পেসার। সঙ্গে যোগ হয়েছে পেস নির্ভর অলরাউন্ডার জিয়াউর রহমান জিয়া। টিমের কম্বিনেশন কি হবে তা বলতে পারেননি অধিনায়ক মুশফিক, আজ দুপুরে উইকেট দেখে কম্বিনেশন ঠিক করা হবে বলে জানালেন তিনি। বাংলাদেশের ১৫তম সিরিজ জয়ের সুযোগ, ২০১০ সালের অক্টোবর ও ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর আর কোন সুযোগ আসেনি বাংলাদেশের। তাই সেই সুযোগের অপেক্ষায় স্বাগতিকরা।

পরিণীতাকে দেখতে এসে!

পরিণীতাকে দেখতে এসে!


প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার বোন বলে নয়, 'ইশাকজাদে' চলচ্চিত্র দিয়েই পরিণীতা চোপড়া বলিউডে বেশ আলোচিত হয়েছেন। তার আগে আবার 'লেডিস ভার্সেস রিকে বেল'ও করেছেন তিনি। সেখানেও প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। আর সুনিপুণ অভিনয়ের গুণেই বোধহয় নতুন ব্যস্ত বলিউডি অভিনেত্রীদের মধ্যে তিনি একজন। নতুন তিনটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি, যার দুইটির শুটিং এরইমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। একটির পরিচালনা করছেন 'রাবনে বানা দি জোড়ি' ও 'ব্যান্ড বাজা বারাত'খ্যাত পরিচালক মনীষ শর্মা। এই ছবিটির নাম এখনো ঠিক হয়নি। অন্য দুইটি ছবির নাম 'বেশরম' ও 'থুপ্পাকি'। মনীষ শর্মার চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের প্রয়োজনেই সম্প্রতি বিশাল ট্রাফিক জ্যামের সৃষ্টি হয়। শুটিং রাস্তার মাঝে না হলেও শুটিং দেখতে আসা দর্শকরা আশপাশের সড়কসহ প্রধান সড়ক বন্ধ করে দেয়।

Tuesday, December 4, 2012

একটি কাঁচা মরিচ বনাম একটি আপেল

একটি কাঁচা মরিচ বনাম একটি আপেল

ভিটামিন সি হচ্ছে একটি কার্যকর এন্টি-অক্সিডেন্ট। শরীরের বিভিন্ন প্রয়োজনে এই খাদ্য অত্যন্ত জরুরি। ত্বকের ক্ষত সারানো, শরীর, রক্তনালী ও তরুণাস্থি গঠনে ভিটামিন সি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। শরীরের জন্য এটিপি ডোপামিন ও পেপটাইড হরমোন তৈরিতেও এই ভিটামিনটি অবদান রাখে। এছাড়া ক্যান্সার নিরাময় ও মানসিক অবসাদ কমাতেও ভিটামিন সি'র ভূমিকা কম নয়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে শুধুমাত্র কাঁচা মরিচ ও লাল মরিচেই রয়েছে অন্যান্য যে কোন খাবারের চেয়ে বেশি ভিটামিন সি। পানিতে দ্রবণীয় এই ভিটামিনটি স্যুপ, কারি ও সস-এর মধ্যে ব্যবহূত হয়। অনেকে আবার সালাদ তৈরিতেও কাঁচা মরিচ ব্যবহার করেন। শুধু একটি মাত্র কাঁচা মরিচে থাকে ১০৯ দশমিক ১৩ মিলিগ্রাম (১৮২%) ভিটামিন সি। একই ভাবে লাল মরিচে প্রতিটিতে থাকে ৬৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি (১০৮%)। প্রতি ১০০ গ্রাম সার্ভিং পরিমাণের মধ্যে থাকে ৪০ খাদ্যশক্তি। চর্বি, কোলেস্টেরল সোডিয়ামের পরিমাণ থাকে শূন্য শতাংশ। শর্করা ৩%, খাদ্য আঁশ ৬%, ভিটামিন এ ২৪%, ভিটামিন সি ৪০৪%, ক্যালসিয়াম ২%, আয়রণ ৭%, ভিটামিন ই ৩%, ভিটামিন কে ১৮%, থায়ামিন ৬%, রায়বোফ্লভিন ৫%, নিয়াসিন ৫%, প্যান্টোথেনিক এসিড ৫%, ভিটামিন বি-৬ ১৪%, ফলিক এসিড ৬%, পটাশিয়াম ১০% এবং মাঙ্গানিজ ১২% ইত্যাদি। তাই প্রতিদিন আপনার খাদ্য তালিকায় অন্তত ১টি কাঁচা বা লাল মরিচ রাখুন এবং শরীরের জন্য অতি প্রয়োজনীয় এন্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই ভিটামিনটির অভাব পূরণ করুন। আঙ্গুর, নাশপাতি, আপেলের মত বিদেশী ফল অপেক্ষা একটা ছোট্ট কাঁচা মরিচ হতে পারে আপনার সুস্বাস্থ্যের সঙ্গী। আর একটি মিডিয়াম আপেলের ২ থেকে আড়াই ইঞ্চি পরিমাণ টুকরায় থাকে মাত্র ৮ মিলিগ্রাম পরিমাণ ভিটামিন সি। অবশ্য আপেলের অন্যান্য গুণাগুণ বেশি।

৩রা ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু

৩রা ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু

আগামী ৩রা ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। ৩রা ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ই মার্চ পর্যন্ত তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা হবে। ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হবে ৬ই মার্চ। পরীক্ষার্থীরা সাধারণ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে। এছাড়া পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে তারা নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে পারবে। কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি বা পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনতে পারবে না। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ১লা ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ১লা ও ২রা ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবার হওয়ায় তা ৩রা ফেব্রুয়ারি থেকে অনুষ্ঠিত হবে।

কারিনার অবাক করা ঘটনা

কারিনার অবাক করা ঘটনা


সব সময়ই বলিউডের তিন খানকে নিজের অভিনয়ের অন্যতম আদর্শ মানেন কারিনা কাপুর। আমির খান, সালমান খান ও শাহরুখ খানের বিপরীতে ইতিমধ্যে অভিনয় করে নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছেন এ অভিনেত্রী। সম্প্রতি আমির ও কারিনা জুটির ‘তালাশ’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। অন্যদিকে সালমান খান অভিনীত ২১শে ডিসেম্বর মুক্তি পেতে যাওয়া ‘দাবাং-২’ ছবির ‘ফেভিকল’ শীর্ষক আইটেম গানে পারফর্ম করেছেন কারিনা। এ গানটি বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচার হয়ে ইতিমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। কিন্তু সম্প্রতি একটি অবাক করা ঘটনা ঘটিয়েছেন কারিনা। সালমান খানের মন রক্ষা করতে গিয়ে আমির খানের মন ভাঙলেন তিনি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া আমিরের ‘তালাশ’ ছবির প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না কারিনা। ব্যাপারটি অবাক করার মতো হলেও সত্যি। এ ছবির প্রিমিয়ারে আমির, রানীসহ অন্যরা উপস্থিত থাকলেও কারিনা ছিলেন না। বরং আমিরের এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থেকে কারিনা সোজা চলে যান সালমান খানের উপস্থাপনার ‘বিগ বস’ রিয়্যালিটি শোর সেটে। এই শোর নতুন পর্বের শুটিংয়ে অংশ নেন কারিনা। এখানে ‘দাবাং-২’ ছবির প্রচারণায় অংশ নেন তিনি। এদিকে ‘তালাশ’-এর প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে সবাই কারিনার অপেক্ষা করলেও শেষ পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্যও উপস্থিত হননি তিনি। জানা গেছে, সালমানকে আগে থেকেই ওয়াদা করে রেখেছিলেন কারিনা। আর সে কারণেই ‘তালাশ’-এর প্রিমিয়ারে উপস্থিত থাকেননি তিনি। এ বিষয়ে কারিনার সাফ ভাষ্য হলো, আসলে আমি অসুস্থবোধ করছিলাম আগে থেকেই। তাই প্রিমিয়ারে উপস্থিত থাকতে পারিনি। আর সালমানের ‘বিগ বস’-এ অংশ নেয়ার কথা আগে থেকেই ছিল। তাকে ওয়াদা করেছিলাম আমি। সেই ওয়াদা রাখতেই আসলে সেদিন এই শোর শুটিংয়ে অংশ নিয়েছি। এছাড়া অন্য কিছু নয়।