খালেদা জিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হতে পারে: হানিফ
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, নাশকতার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকেও গ্রেপ্তার করতে পারে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি মনে করে, আইনের ব্যত্যয় ঘটছে; লঙ্ঘন হচ্ছে, তাহলে খালেদা জিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হতে পারে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। গত কয়েকদিনে জামায়াত-বিএনপির চোরাগোপ্তা হামলা, গাড়ি পোড়ানো ও সংঘর্ষের দায় বিরোধী দলীয় নেত্রী কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের ডাকা হরতালের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। তাঁদের সঙ্গে ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও ছিলেন। সেখানে অবস্থানের সময় বিরোধী দলের হরতাল কর্মসূচি সম্পর্কে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে হানিফ একথা বলেন।
বিরোধী জোটের ডাকা হরতালের প্রতিবাদে বরাবরের মত আজও রাজপথে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং অনুসারীদের মহড়া দিতে দেখা গেছে। সকালে আওয়ামী লীগ ও ভ্রাতৃপ্রতীম বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, গুলিস্তান, পল্টন, প্রেসক্লাব, বিজয়নগর, কাকরাইল ও মতিঝিলসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে হরতালবিরোধী মিছিল-সমাবেশ করে। তবে রবিবারের অবরোধ কর্মসূচিতে তারা যেমন মারমুখী ছিল, আজ মঙ্গলবার তেমন ছিল না। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশ ছিল বিশ্বজিতের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে।
মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, গত কয়েকদিনের সংঘর্ষ হরতাল অবরোধ ও মানুষ হত্যার মধ্য দিয়ে বিরোধী দল দেশকে পরিকল্পিতভাবে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো দলের মহাসচিবও যদি অপরাধ করেন, খুন করেন তাহলে তাঁকে কি গ্রেপ্তার করা যাবে না? সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই মির্জা ফখরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হানিফ বলেন, বিজয়ের মাসে এ ধরনের কর্মসূচি অনাকাঙ্খিত। বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা ঠেকাতে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। জনগণ হরতাল প্রত্যাখান করেছে। রাস্তায় যান চলাচল ও অফিস আদালত স্বাভাবিকভাবে চলছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। সে জন্য আমরা বারবার বিরোধী দলকে সংসদে ফেরার আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু তারা সংসদে আসেনি।
বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম ও বিএম মোজাম্মেল হক, উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা একেএম এনামুল হক শামীম; মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মহানগর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম ও হাজী মো. সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ; ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদার, সহ-সভাপতি জহিরউদ্দিন মাহমুদ লিপটন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন; ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ রাসেল, উপ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রায়হান প্রমুখ।
মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার ও পংকজ দেবনাথের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ওমর ফারুক চৌধুরী ও হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে যুবলীগ, ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ, মহানগর উত্তর ও দণি যুবলীগ, কৃষক লীগ এবং শ্রমিক লীগসহ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম বিভিন্ন সংগঠন গতকাল রাজধানীতে মিছিল-সমাবেশ করেছে।














