Pages

Sunday, December 16, 2012

বাংলাদেশের কাছে উদ্বেগ তুলে ধরেছেন রবার্ট ও’ব্লেক

বাংলাদেশের কাছে উদ্বেগ তুলে ধরেছেন রবার্ট ও’ব্লেক

বাংলাদেশের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গার্মেন্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অর্থনৈতিক দিক দিয়েও খারাপ অবস্থায় আছে। দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেক এসব বিষয় তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের কাছে। ১৪ই ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র প্যাট্রিক ভেনট্রেল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। তার কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান- বর্তমানে বাংলাদেশ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গার্মেন্টে অগ্নিকাণ্ডের কারণে সেখানকার অর্থনীতিও খারাপ অবস্থায়। তারা এখন ওয়াল-মার্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্য ক্রেতাদের কাছে তৈরী পোশাক রপ্তানি করতে পারে না। সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেক বাংলাদেশ সফরে গিয়েছিলেন। তার সফরের সর্বশেষ খবর কি? বাংলাদেশের এখন খুব বেশি কি প্রয়োজন- এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বা যুক্তরাষ্ট্র কি প্রস্তাব দিয়েছে? জবাবে প্যাট্রিক ভেনট্রেল বলেন, আমি নিশ্চিত আপনার এ বিষয়গুলো রবার্ট ব্লেক তার সফরের সময় বাংলাদেশের কাছে তুলে ধরেছেন।

বিকাশের ফোন নিরাপদে আছি

বিকাশের ফোন নিরাপদে আছি


একটি অপরিচিত সিটিসেল নাম্বার থেকে বিকাশের ফোন, নিরাপদে আছি। তবে সীমান্তের কাছাকাছি, অবস্থা বুঝছি, সম্ভবত দেশেই থাকবো। পরিস্থিতি বেগতিক দেখলে পাড়ি দেবো। শুক্রবার বিকাল ৫টায় বিকাশের ওই ফোনটি
আসে মিরপুর এলাকার তার এক ক্যাডারের কাছে। বিকাশের নিকট আত্মীয় ওই ক্যাডার নিজেও ছিল কাশিমপুর কারাগারের গেটে। বিকাশকে বহনকারী গাড়িটি নিরাপদে চলে গেলে ওই ক্যাডার ফিরে আসে ঢাকায়। বিকাশের জামিনে মুক্তির বিষয়টি বৃহস্পতিবারই জানাজানি হয়েছিল কাশিমপুর কারাগারে। কারাগারের সিপাহিরাও জানতো বিষয়টি, কিন্তু নিষেধ ছিল কারাগারের বাইরে কাউকে জানাতে। এর আগে ঢাকার দায়রা জজ আদালতের সংশ্লিষ্টরা জেনেছিল তার জামিনের বিষয়টি, সেখানেও কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করা হয় উপরের নির্দেশে। জেল থেকে মুক্তির জন্য বেছে নেয়া হয় সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শুক্রবারকে। সময় ঠিক করা হয় সকালে। সকাল ৭টায় জামিনের কাগজপত্র পৌঁছে যায় জেল গেটে। অতি দ্রুত কাগজপত্র ঠিকঠাক করে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে জেলগেট থেকে বেরিয়ে যায় বিকাশ। সূত্রমতে সকাল ৭টার আগেই অফিসে হাজির হয় কারা কর্তৃপক্ষ। একটি সূত্র জানায়, অত সকালে অফিসারদের অফিসে দেখে হতবাক হয়েছিলাম। সাধারণত ওনারা ওই সময়ে অফিসে আসেন না। একাধিক সূত্রে জানা গেছে বিকাশের জামিনের সঙ্গে জড়িত দুই ক্ষমতাধর রাজনীতিক। একজন আদালত থেকে গোপনে জামিনের ব্যবস্থা করেছেন, অন্যজন ম্যানেজ করেছেন পুলিশ সহ কারাকর্তৃপক্ষকে, সহায়তা করেছেন গোপনে নির্বিঘ্নে বেরিয়ে যেতে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে দু’জন জেলগেটের অদূরে অবস্থান করছিলেন। জেল গেটে ছিল দু’টি গাড়ি। দু’টি গাড়ির একটি ছিল পাজেরো, অন্যটি নোয়া মাইক্রোবাস। একটু দূরে ছিল সাদা রঙের দু’টি প্রাইভেট কার। জেল থেকে বেরিয়ে বিকাশ দ্রুত উঠে পড়ে দামি গাড়িটিতে। ওই গাড়িতে তার সঙ্গে ওঠে কালো চশমা পরা এক যুবক। সানগ্লাস পরা যুবক নিজেকে এক মন্ত্রীর ভাগনে বলে পরিচয় দেয়। এক কারারক্ষী জানান, গাড়িগুলো চলে যাওয়ার পর পুলিশ পরিচয়ের দু’জন চলে যায় রিকশায়। বিকাশের অন্য একটি সূত্র জানায়, মুক্তির সময় মিরপুর এলাকার তার ঘনিষ্ঠ লোকজন ও পরিবারের লোকেরাই ছিল, তারাই মন্ত্রীর ভাগনের পরিচয় দিয়েছে। প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সমঝোতার পরই বিকাশ মুক্তি পেয়েছে। সে ভারতে যাওয়ার উদ্যোগ নিলেও আপাতত যাচ্ছে না, তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে গ্রেপ্তার করা হবে না। সে দেশের ভেতরেই থাকবে। বর্তমানে বিকাশের নামে কোন মামলা নেই, সে সব মামলা থেকে জামিন পেয়েছে। তাদের মতে এখন বিকাশের শত্রু মিডিয়া।
বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসের উত্থান হয় ’৮৭ সালে কল্যাণপুর পুড়াবাড়ি বস্তিতে চাঁদাবাজির মাধ্যমে। তবে এক বছর পর তাকে ওই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হয় মুগদা এলাকায়। আবার এক বছর পর ফিরে আসে মিরপুরে। সে সময় বাসা নেয় আগারগাঁও তালতলা এলাকায়। সে সময় এলজিইডি অফিসের টেন্ডার নিয়ে জোড়া খুনের পর আবার চলে যায় মিরপুর এক নম্বর সেকশনের পাইকপাড়া এলাকায়। আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার নিয়ন্ত্রণে যুবলীগের রাজনীতিতে যোগ দেয় বিকাশ ও তার ভাই প্রকাশ। ছাত্রলীগের নেতা জরিপকে হত্যার পর আওয়ামী লীগের কর্মীদের রোষানলে পড়ে তারা। বর্তমানে আওয়ামী লীগের ওই সময়ের প্রভাবশালী যুবনেতার আশীর্বাদের কারণে ছাত্রলীগ নেতা হত্যার পর তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা যায়নি বলে একটি সুত্র জানায়। বিকাশ জামিনে মুক্তি পাওয়ায় মিরপুর এলাকার সন্ত্রাসীদের একটি গ্রুপ সক্রিয় হয়ে উঠলেও বিকাশ-প্রকাশের বিরোধীরা চরম মাত্রায় নাখোশ বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে অস্ত্রধারীর তাণ্ডব শোকে ভাসছে যুক্তরাষ্ট্র

 যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে অস্ত্রধারীর তাণ্ডব শোকে ভাসছে যুক্তরাষ্ট্র

 



শোকসাগরে ভাসছে যুক্তরাষ্ট্র। অস্ত্রধারী এডাম লানজা এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে একটি স্কুলের ২০ শিশুসহ কমপক্ষে ২৭ জনকে হত্যা করেছে। ওই শিশুদের বয়স ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে। এমন বেদনাবিধুর ঘটনায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পর্যন্ত কেঁদেছেন। তিনি শোক প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন, আমাদের হৃদয় আজ ভেঙে গেছে। ঘাতক যে বা যারাই হোক রাজনৈতিক বিবেচনা দূরে রেখে উচিত পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ সময় তার চোখে অশ্রু ছল ছল করে ওঠে। ওবামা হাত দিয়ে সেই অশ্রু মোছেন। তিনি এ ঘটনায় আগামী ১৮ই ডিসেম্বর সূর্যাস্ত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এক সঙ্গে এতগুলো শিশুর প্রাণহানিতে শুধু যুক্তরাষ্ট্রই শোকে আচ্ছন্ন নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নিন্দা জানানো হয়েছে। শোক প্রকাশ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশী একমাত্র ছাত্র মামনুন আহমেদ। যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে ২০ বছর বয়সী এডাম লানজা আক্রমণ চালিয়ে রক্তের হোলি ছুটিয়ে দেয়। এর আগে বাড়িতে সে নিজের মাকেও হত্যা করে। তার মা ছিলেন ওই স্কুলের শিক্ষিকা। পরে স্কুলে হামলা চালানোর পরে সে আত্মহত্যা করে। খবরে বলা হয়, এডাম লানজা স্বয়ংক্রিয় পিস্তল ও রাইফেল নিয়ে ঢুকে পড়ে ওই স্কুলে। তখন সবেমাত্র ক্লাস শুরু হয়েছে। এমন সময় সে এক একটি ক্লাসে গিয়ে পাগলের মতো গুলি ছোড়ে। শিশুরা তখন যে যেভাবে পারে পালিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। তাদের আর্তনাদে কেঁপে ওঠে ওই স্কুলের বাতাস। কিন্তু খুনির মন গলেনি। সে এই অভিযানে ওই স্কুলের কমপক্ষে ৬ জন স্টাফকেও হত্যা করে। কিন্তু কি কারণে সে এমন হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তা জানা যায়নি। তবে তদন্ত চলছে, হামলার সময় সে তার অন্য ভাই রায়ানকে সঙ্গে নিয়েছিল কিনা। ওদিকে হোয়াইট হাউজে সংক্ষিপ্ত এক সংবাদ সম্মেলন করেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন। বলেন, যেসব শিশুকে হত্যা করা হয়েছে তাদের বেশির ভাগই ছোট্ট ছোট্ট শিশু। তাদের বয়স ৫ থেকে ১০ বছর। তাদের সামনে পুরোটা জীবন পড়েছিল। তাদের জন্মদিন, গ্র্যাজুয়েশন, বিয়ে, নিজের মতো করে একটি সংসার। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষকও। তারা এসব শিশুর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে সাহায্য করছিলেন। তিনি বলেন, এসব শিশু আমাদের সন্তান। তাই আমরা সম্মিলিতভাবে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।
বাংলাদেশী ছাত্র মামনুন নিরাপদ
কানেকটিকাটে বন্দুকধারীর গুলি থেকে রক্ষা পেয়েছে ওই স্কুলে পড়া একমাত্র বাংলাদেশী ছাত্র মামনুন আহমেদ (৬)। তাকে জীবিত কাছে পেয়ে পিতামাতা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছেন। নিউ ইয়র্ক সিটি থেকে ৬০ মাইল উত্তর-পূর্বের শহর নিউ টাউনে স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে শুক্রবার সকালে যখন বন্দুকধারীর তাণ্ডব চলে, তখন বিদ্যালয়েই ছিল মামনুন। সে প্রথম গ্রেডের ছাত্র। সে বলেছে, স্কুলে একটি অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল। এরই মধ্যে সবকিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। ক্লাস টিচার আমাদের ক্লোজেটে ঢুকিয়ে চুপ হয়ে থাকতে বলেন। কিছুক্ষণ পর অন্য শিক্ষিকা ও পুলিশের সাহায্যে আমরা স্কুল থেকে বেরিয়ে আসি। এরপর আর কিছু জানি না। আমার খুব ভয় লেগেছিল। এখনও ভয় পাচ্ছি। তার মা সুরাইয়া আহমেদ বলেন, স্কুলে ৯টা ৪০ মিনিটে একটি অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। সেজন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম। এমন সময় টেলিফোন বেজে ওঠে। বলা হলো স্কুলে না যেতে। এরপর টেলিভিশনে গুলির খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন সুরাইয়া। বলেন, ছুটে যাই স্কুলের কাছে। বেলা ১২টায় দেখতে পেলাম আরও কিছু ছেলের সঙ্গে লাইন ধরে মামনুন বের হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের বড় ছেলে পড়ে কাছেরই মিডল স্কুলে। তাদের স্কুলও নিরাপত্তার কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে হামলাকারী বন্দুকধারীর নাম এডাম লানজা। তার এলোপাতাড়ি গুলিতে ২০ স্কুলশিশুসহ ২৭ জন নিহত হন। তার মা ওই স্কুলের শিক্ষিকা। তাকে হত্যার পর এডাম আত্মহত্যা করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শিবির সন্দেহে কুপিয়েছি রড দিয়ে খুঁচিয়েছি

শিবির সন্দেহে কুপিয়েছি রড দিয়ে খুঁচিয়েছি


‘বড় ভাইদের নির্দেশে মিছিলে গিয়েছি। শিবির সন্দেহে বিশ্বজিৎকে কুপিয়েছি। রড দিয়ে খুঁচিয়েছি।’ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিরপরাধ পথচারী বিশ্বজিৎকে হত্যার কথা এভাবেই স্বীকার করেছে গ্রেপ্তারকৃত রফিকুল ইসলাম শাকিল, রাশেদুজ্জামান শাওন ও সাইফুল ইসলাম। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে
৬টার দিকে বরগুনা জেলার বেতাগী থানার বিবিচিনি এলাকার দেশান্তরকাঠি গ্রামের কাঞ্চন মিরার বাড়ি থেকে শাকিলকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুরান ঢাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়। এর আগে শুক্রবার রাতে গোয়েন্দা পুলিশ সিলেটের জাফলং এলাকার একটি রেস্টহাউজ থেকে শনাক্ত হওয়া আসামি জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন (২৪) ও রাজধানীর উত্তরা থেকে সাইফুল ইসলাম (২৪)-কে গ্রেপ্তার করেছে। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয়ার অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশ আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এরা হচ্ছে উৎপল ও রায়হান। এদের মধ্যে রাশেদুজ্জামান শাওন ও সাইফুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে ৮ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে উৎপলকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। আজ শাকিল ও রায়হানকে আদালতে হাজির করা হবে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাশেদুজ্জামান শাওন সাংবাদিক পরিচয়ে সিলেটের জাফলংয়ের হোটেল পর্যটনের একটি রুম ভাড়া নিয়েছিল। সেখান থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। অন্যদিকে বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি রফিকুল ইসলাম শাকিল বরগুনার বেতাগী উপজেলার নানার বাড়িতে আত্মগোপন করেছিল। সেখান থেকেই শাকিল ও তার খালাতো ভাই রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, শাকিল সাদা রঙের চকচকে চাপাতি দিয়ে বিশ্বজিৎকে উপর্যুপরি কোপাচ্ছে। বার বার মিনতি করলেও বিশ্বজিৎকে ছাড়েনি। শোনেনি তার কথা। কুপিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে বীরদর্পে হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য গণমাধ্যমে ধরা পড়েছে। এদিকে পুত্রের এহেন বর্বরতার দৃশ্য দেখে শাকিলের পিতা আনসার আলী গতকাল হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। এ বিষয়ে গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল জানায়, পরিকল্পিতভাবে বিশ্বজিৎকে হত্যা করিনি। বড় ভাইদের নির্দেশে মিছিলে গিয়েছি। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তাদের তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় বিশ্বজিৎকে পিটিয়েছি। আহত বিশ্বজিৎ বাঁচার জন্য কি বলেছে সে কথাই শুনতে পাইনি। শিবির মনে করেই চাপাতি দিয়ে কুপিয়েছি। কোপানোর পরে রক্তমাখা শার্ট গায়ে দিয়েই নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছি। পরে বাসায় গিয়ে চাপাতি ও শার্ট রেখে বাইরে বেরিয়েছি। দুপুরের দিকে খবর পেয়েছি, বিশ্বজিৎ মারা গেছে। তখন থেকেই মনে ভয় ঢুকেছে। ভয়-ভীতি কাটানোর জন্য ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকে ফোন দিয়েছি। তারা ধমক দিয়ে বলেছে, কিছুই হবে না, চুপচাপ থাক। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে পালানোর নির্দেশ পেয়ে ঢাকা ছেড়েছি। শাকিলের খালাতো ভাই রায়হান জানায়, আমি কবি নজরুল ইসলাম কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ছাত্র। বাবা মানসিক বিকলাঙ্গ। ছোট একটি বোন আছে। তাই নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে বাড়িতে টাকা পাঠাই। ঘটনার পরপরই শাকিল আমাকে তার কাছে ডেকে নিয়ে যায়। বলে, আমার ভয় করছে। তুই সঙ্গে থাক। তার কথামতো দু’জনে একসঙ্গে নানা বাড়িতে অবস্থানকালে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে। সূত্র জানায়, তাদের গ্রেপ্তার করার পরপরই শাকিলের দেয়া তথ্য অনুযায়ী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম পুরান ঢাকার একটি বাড়ি থেকে চাপাতি উদ্ধার করেছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, গত ৯ই ডিসেম্বর সূত্রাপুর থানা এলাকায় বিশ্বজিৎ দাস নামে এক যুবক দুষ্কৃতকারীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হলে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত্যু ঘোষণা করেন। এ ঘটনার তদন্তে থানা পুলিশকে সহায়তা করার জন্য গোয়েন্দা পুলিশ সহযোগিতা করছে। গণমাধ্যমে ধারণকৃত ছবি এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। একই সঙ্গে তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করার একপর্যায়ে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার দেশান্তরকাঠি গ্রাম থেকে রফিকুল ইসলাম শাকিল ও তার খালাতো ভাই রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে অপর অভিযানে সিলেট জেলার জাফলং থেকে রাশেদুজ্জামান শাওন, উৎপল এবং রাজধানীর উত্তরা থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সূত্রাপুর থানার এস আই মাহবুবুল আলম আকন্দ বলেন, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার ১৩ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। এদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সূত্রমতে, শনাক্ত হওয়া আসামি সাইফুল ইসলামের পিতার নাম মো. আবদুল হাই। বাড়ি নরসিংদী জেলার মনোহরদী থানার চন্দনবাড়ি গ্রামে। সে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। পুলিশের গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য উত্তরা এলাকায় তার বন্ধুর বাসায় আশ্রয় নিয়েছিল। অপর শনাক্ত হওয়া আাসামি রাশেদুজ্জামান শাওনের পিতার নাম জি এম লুৎফর রহমান। তার পিতা-মাতা উভয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। বাড়ি খুলনা জেলার পাইকগাছা থানার নাসিরপুর গ্রামে। সে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র।
নেতারা গোয়েন্দা নজরদারিতে: বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে জড়িত একাধিক ছাত্রলীগ নেতার তথ্য পেয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ঘটনার পরপরই পলাতক আসামিরা ওই নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাদের নির্দেশনা মোতাবেক শনাক্ত হওয়া আসামিরা রাজধানীর বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান করছে। একারণে ওই ছাত্রলীগ নেতাদের গতিবিধি ও কর্মকাণ্ড গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সূত্র জানায়, জবি ছাত্রলীগ সভাপতি শরীফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের গ্রুপভিত্তিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম শাকিল, রাশেদুজ্জামান শাওন, তাহসিন কাদের ও ইউনুছ সভাপতি গ্রুপের। অন্যদিকে মাহফুজুর রহমান নাহিদ সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের।
পুত্রের কর্মকাণ্ডে পিতার মৃত্যু: এদিকে আমতলী প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকালে ঢাকার একটি গোয়েন্দা পুলিশের টিম বরিশালের বাকেরগঞ্জ ও বরগুনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বরগুনার বেতাগী উপজেলার দেশান্তরকাঠি গ্রামের কাঞ্চন মিয়ার বাড়ি থেকে রফিকুল ইসলাম শাকিলকে গ্রেপ্তার করে। তার গ্রেপ্তারের খবর শুনে তার পিতা আনসার সিকদার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে তিনি মারা যান। শাকিলের বাড়ি পটুয়াখালী শহরের ফায়ার সার্ভিস সড়কে। তার গ্রামের বাড়ি বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রি শিবপুর গ্রামে।
বিশ্বজিৎ হত্যা মামলা ডিবিতে: এদিকে বিশ্বজিৎ হত্যা মামলা সূত্রাপুর থানা পুলিশ থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল ঢাকার মহানগর পুলিশের কমিশনার বেনজীর আহমেদের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র এবং গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, মামলা তদন্তের ভার গোয়েন্দা পুলিশের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার বাদী সূত্রাপুর থানার এসআই জালাল উদ্দিন। তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন একই থানার এসআই মাহবুবুল আলম আকন্দ।
জাফলংয়ে রুম ভাড়া নেয় উৎপল ও শাওন
ওয়েছ খছরু ও মিনহাজ উদ্দিন, সিলেট থেকে জানান, জাফলংয়ের হোটেল পর্যটনে সাংবাদিক পরিচয়ে দিয়ে রুম ভাড়া নিয়েছিল উৎপল ও শাওন। এরপর তারা ঘুরে বেড়িয়েছে জাফলংয়ের পর্যটন স্পট পিয়াইন নদীতে। ঘুরেছে আদিবাসী পল্লীতে। বেশ ফুরফুরে মেজাজে তাদের ঘুরতে দেখেছেন স্থানীয় লোকজন। আর রাতে যখন তারা হোটেল কক্ষে অবস্থান করছিল তখনই ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে তাদের আটক করে। পুলিশের অভিযানে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন তাদের দেখতে ভিড় জমান পর্যটন হোটেলের সামনে। জাফলংয়ের মামার দোকান এলাকায় হোটেল পর্যটনের অবস্থান। পর্যটন স্পট বল্লাঘাটে যাওয়ার মূল রাস্তার পাশেই এ হোটেল। এর বিপরীত পাশে হোটেল প্যারিস। স্থানীয় লোকজন জানান, রাত সাড়ে এগারোটার দিকে হোটেল প্যারিসের সামনে এসে দাঁড়ায় একটি নোয়া মাইক্রোবাস। ওই মাইক্রোবাসে ছিল ৬ থেকে ৭ জন সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা পুলিশ। তারা গাড়ি থেকে নেমেই চলে যান হোটেল প্যরিসে। প্রায় ৫ মিনিট ব্যাপী তারা হোটেল প্যারিসের বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালান। এ সময় সেখানে কাউকে না পেয়ে তারা চলে আসে হোটেলের নিচে। এরপর প্যারিস হোটেলে ঠিক বিপরীত পাশের হোটেল পর্যটনে অভিযান চালানো হয়। পুলিশ পরিচয় দিয়ে হোটেলের এক রুম এক রুম করে তল্লাশিকালে ১২নং কক্ষে পাওয়া যায় উৎপল ও শাওনকে। গোয়েন্দা পুলিশ তাদের নাম জিজ্ঞেস করলে ছন্দনাম ব্যবহার করে দু’জনই। তবে পুলিশ সুনির্দিষ্ট তথ্যর ভিত্তিতেই তাদের সনাক্ত করে এবং কক্ষের ভেতরেই কালো কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে দেয়। এরপর দু’জনকে নিয়ে আসে গাড়িতে। গাড়িতে বসিয়ে হোটেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার মানিক মিয়ার সঙ্গে কথা বলেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। প্রায় ৫ মিনিট অবস্থানকালে সেখানে কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক ছুটে এলে গোয়েন্দা পুলিশ আটক দু’জনকে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেন। হোটেল পর্যটনের ম্যানেজার মানিক মিয়া অভিযানের পর মানবজমিনকে জানিয়েছেন, উৎপল ও শাওন শুক্রবার দুপুর ১২টায় তাদের হোটেলে আসে। এ সময় উৎপল নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে হোটেল কক্ষে রুম চায়। এ কারণে তাদের হোটেলের ১২নং কক্ষ বরাদ্দ দেয়া হয়। তিনি জানান, তারা বেশ স্বাভাবিক ছিল। ১২নং রুম নেয়ার পর তারা একাধিকবার নিচে নেমে গেছে। বেশ ফুরফুরে মেজাজেই দেখা গেছে তাদের। তারা রেস্টুরেন্টে গিয়ে ভাত খেয়েছে। জাফলং বল্লাঘাট পর্যটন স্পট ঘুরে বেড়িয়েছে। এদিকে, হোটেল সূত্রে জানা গেছে, উৎপল তার নিজের নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করে হোটেল কক্ষে রুম নিলেও শাওন তার ঠিকানা ভুল দেয়। এর মধ্যে উৎপল নিজেকে উৎপল দাস, পিতা চিত্তরঞ্জন দাস, থানাহাটি, রায়পুরা বলে হোটেলের রেজিস্ট্রার খাতায় নাম লেখায়। আর শাওন নিজেকে পরিচয় দেয় রাশেদ হাসান বাদল নামে। তার পিতার নাম শাহরিয়ার হাসান উল্লেখ করে ঠিকানা ব্যবহার করে ১০৪ মহসিন হল ঢাকা। এদিকে, হোটেল প্যারিসের কর্তৃপক্ষ গতকাল জানিয়েছেন, গোয়েন্দা পুলিশ তাদের হোটেলেও তল্লাশি চালিয়েছে। তবে কাউকে না পেয়ে তারা ফিরে যায়। সিলেটের পুলিশ সুপার সাখাওয়ার হোসেন অভিযানের পরপরই উৎপল ও শাওন গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ জাফলংয়ে অভিযান চালাতে জেলা পুলিশের সহায়তা চায়। এ কারণে জেলা পুলিশ থেকে তাদের সর্বাত্মক সহায়তা করা হয়েছে। অভিযানের তত্ত্বাবধানে ছিলেন গোয়াইনঘাট থানার ওসি শফিকুর রহমান ও জৈন্তাপুর থানার ওসি আবদুল জলিল। ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ উৎপল ও শাওনকে আটকের পর রাতেই তারা ঢাকা নিয়ে গেছেন বলে জানান তিনি। পুলিশ সুপার জানান, আটককৃত দু’জনকে নিয়ে সিলেটের কোথাও ঢাকার গোয়েন্দারা অবস্থান করেননি।

Saturday, December 15, 2012

বিজয়ের পুনর্পাঠ

বিজয়ের পুনর্পাঠ হারলে হাহাকার করো। জিতলে জোয়ারে ভেসে যাও। আমাদের ক্রীড়া-সংস্কৃতির হাওয়াটা মোটামুটি এ রকম। গত কয়েক বছরে চিন্তায় একটু আধুনিকতা এসেছে, এখন হারলে আমরা এর মধ্যে শিক্ষা খুঁজি। কেন হলো না! ভবিষ্যতে তাহলে এমন করা উচিত! অমুকের জায়গায় তমুককে চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে- ইত্যাদি। কিন্তু জয়ের ক্ষেত্রে এখনো সেই মধ্যযুগেই পড়ে। আবেগী জোয়ারে সব ভেসে গিয়ে বিষয়টা এমন দাঁড়ায় যে যা হয়েছে সব ঠিক হয়েছে। যিনি জেতা ম্যাচে শূন্য রান করেছেন তিনিও ঠিক করেছেন। বেদম ঠ্যাঙানি খাওয়া বোলারও এখানে নির্দোষ। কোনো কিছুই আর ভুল নয়। এবং ভুলটা আসলে এখানেই। জয়ের মধ্যেও শিক্ষা থাকে। সেই শিক্ষা নিতে হয়। নিলে ছোট জয় বড় জয়ের পথ তৈরি করে। এখন যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয়ের গরমটা একটু কমে এসেছে, যখন স্বপ্নে ওড়াউড়ি থেমেছে তখন একটু ফিরে গিয়ে দেখি আসলে এই বিজয় আমাদের কী শিক্ষা দিল! চলুন একটু পুনর্পাঠ হয়ে যাক।
ছোটখাটো অনেক শিক্ষা আছে। সেগুলোকে এক পাশে সরিয়ে একটু বড় করে চিন্তা করলে দেখছি শিক্ষা হচ্ছে তিনটি।
১. সাকিব-তামিম ছাড়াও বাংলাদেশ পরাক্রমশালী দলকে সিরিজে হারাতে পারে।
২. অধিনায়ক-সহঅধিনায়ক পারফরম করলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।
৩. সাফল্যের জন্য কোচের আসলে দরকারই নেই কোনো। ভারপ্রাপ্ত কোচ দিয়েই তো চলে।
প্রত্যেকটা ব্যাপার একটু সরলীকৃত। টীকা বা ব্যাখ্যা আবশ্যক। এক-এক করে একটু ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করি।
সাকিব-তামিম ছাড়াও হয়
এই উপশিরোনামের সঙ্গে অনেকেই দ্বিমত করবেন। তথ্যগত ভ্রান্তিই তো আছে। সাকিব ছিলেন না, তামিম তো ছিলেন। ছিলেন কিন্তু না থাকার মতোই তো। আমাদের আলোচ্য ওয়ানডে সিরিজে একটি বাদ দিলে বাকি চার ইনিংসে তাঁর সেই অর্থে রান নেই, তিনি ব্যর্থ, তবু দল চারটির দুটোতেই জিতেছে। মোটের ওপর সাকিবের পাঁচ ম্যাচে না থাকা এবং তামিমের প্রায় না থাকার মতো থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সিরিজ জিতেছে। জিতে দিয়েছে বড় একটা স্বস্তি। বাংলাদেশ এখন আর শুধু দুই খেলোয়াড়ের দল নয়। এর বাইরের বাংলাদেশ তৈরি হয়ে গেছে। এতটাই যে তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও সিরিজ হারিয়ে দিতে পারে।
কোনোরকম ভণিতায় না গিয়ে স্পষ্ট বলে ফেলা যাক, বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বদলেছেন সাকিব-তামিম। এর আগেও বিচ্ছিন্নভাবে বাংলাদেশ কিছু ভালো করছিল, হাবিবুল বাশার দীর্ঘদিন একা লড়াই করে বাংলাদেশকে টেস্টে টিকিয়ে রেখেছিলেন, আশরাফুল-মাশরাফিরাও নিজেদের প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটিয়ে আগমনী ধ্বনি শুনিয়েছিলেন, কিন্তু সেগুলো আগমনী ধ্বনিই। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে, বিশেষ করে ওয়ানডেতে সত্যিকারের শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা সাকিব-তামিমের মাধ্যমেই। বিশ্ব পর্যায়ের প্রতিভা তাঁরা, কিন্তু শুধু প্রতিভা বোধ হয় নয়, সঙ্গে এর যথাযথ প্রয়োগ এবং প্রতিপক্ষকে সুপার পাওয়ার না ভেবে স্রেফ প্রতিপক্ষ ধরে খেলে যাওয়ার মানসিকতা ঘটিয়েছে আমাদের ক্রিকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদলটি। সাকিব পারফরম্যান্সের বিস্ময়কর ধারাবাহিকতায় বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হয়েছেন, তামিম অবিশ্বাস্য সামর্থ্যে বিশ্বের অনেক বোলিংকে তুলোধুনো করেছেন। বাংলাদেশের মূল যে সমস্যা ছিল, প্রতিভার পারফরম্যান্সে অনূদিত না হওয়া, সেই আফসোসও দূর হয়েছে ওদের সামর্থ্যে ভর করে। আর তাতে পরের প্রজন্মে ছড়িয়েছে এই শিক্ষা। আমাদের এখানে যে বা যাঁরা সেরা তাঁরা বিশ্ব-ক্রিকেটেও সেরাদের কাতারে যেতে পারেন, যখন প্রাক সাকিব-তামিম যুগে ধরেই নেওয়া হতো আমাদের সেরারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পেছনের বেঞ্চের ছাত্রই থাকবেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাকিব-তামিম এতটাই আর এতটা যখন তখন তাঁদের ছাড়া সিরিজ জেতার মূল্য কতটা! তাঁদের ছাড়া সিরিজ জিতে বাকিদের মধ্যে এই বিশ্বাসটা তৈরি হলো যে, আমরাও পারি। ব্যক্তিগতভাবে ওদের মতো বিশ্বসেরাদের কাতারে না যেতে পারলেও মিলিত শক্তিতে আমরাও আন্তর্জাতিক স্তরের। যে কাউকে হারাতে পারি। ব্যক্তিই দলের প্রতীক হয়, দলকে উঁচু থেকে উঁচুতে নেয়, কিন্তু ব্যক্তিসর্বস্ব হয়ে থাকলে সামগ্রিক উন্নতি ঘটে না। ব্যক্তির অবর্তমানেই তো সব শেষ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় জানিয়ে গেল, সাকিব-তামিমের বাইরেও বাংলাদেশের ক্রিকেট আছে। ক্রিকেটার আছে। এই সিরিজ দিয়ে চিন্তার, বিশ্বাসের একটা পথবদলও বোধ হয় ঘটল।
অধিনায়ক-সহঅধিনায়ক যদি সামনে থাকেন
যে সাকিব-তামিম বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বদলে ছিলেন, তাঁরাই আবার আরেক দোষে দুষ্ট ছিলেন। পারফরম্যান্সগত পার্থক্যের কারণে দলের দুজন হয়েও তাঁরা ছিলেন একটু আলাদা। একটু ওপরে। সেটা প্রায় সব দলেই কেউ না কেউ থাকেন। এবং তাঁদের পারফরম করার পাশাপাশি আরেকটা দায়িত্বও থাকে। এই ব্যবধানটা স্পষ্ট হতে না দেওয়া। এমন কিছু না করা যাতে করে দলের বাকিদের মধ্যে হীনম্মন্যতা তৈরি হয়। বিশ্বকাপের সময় এবং জিম্বাবুয়ে সফরে সেটা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে, অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের সরিয়ে দিতে হয় দায়িত্ব থেকে। অপ্রিয় এবং খুবই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। অনেকেরই তখন সন্দেহ ছিল, দলের এত বড় দুজন তারকাকে দলে রেখে কে নেতৃত্ব দেবে? আদৌ সাফল্যের সঙ্গে সেটা সম্ভব হবে কি না! এশিয়া কাপে বাংলাদেশের উজ্জীবিত ছবিতে সন্দেহটা দূর হয়েছিল। মুশফিকের বাংলাদেশ হয়ে উঠেছিল সত্যিকারের এক দলের ছবি। তবু যেন কিছু বাকি ছিল। সেবার ফাইনালে উঠেও অল্পের জন্য হেরে চূড়ান্ত বিজয়টা হয়নি। অধিনায়কও সাফল্যের মিছিলের পুরোভাগে ছিলেন না। এবার হলো, দল জিতল আর একেবারে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন মুশফিক। ঠিক তাঁর পাশে পাশেই চললেন আরেকজন। সহঅধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ। যত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলুক ক্রিকেট খেলাটা আজও শেষ পর্যন্ত অধিনায়কের খেলা, সেখানে অধিনায়ক-সহঅধিনায়ক লড়াইয়ে সামনে থাকলে দল উজ্জীবিত হবেই। হতে বাধ্য। নিজে পারফরম করলে বাকিদের তাগিদ দিতে সুবিধা হয়, বলার মতো গলাও থাকে, পারফরম্যান্স না থাকলে যে শক্তিটা হারিয়ে যায়। নেতার নেতৃত্ব, ব্যক্তিত্ব এবং অভিভাবকত্ব মিলেই তৈরি হয় ক্রিকেট দলের গতিপথ। মুশফিক-মাহমুদের ব্যক্তিত্বে সংকট নেই, সতীর্থদের মধ্যে তাঁরা প্রিয় এবং শ্রদ্ধেয়। এখন দেখছি সংকট নেই তাঁদের পারফরম্যান্সেও। কাজেই আশার উজ্জ্বল আলো।
কোচ নিয়ে অকারণ বাড়াবাড়ি
রিচার্ড পাইবাসকে আনতে গিয়ে যেভাবে প্রায় নাকে খত দেওয়া হয়েছিল এবং যেভাবে প্রায় বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে তিনি গেলেন, সেটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য খুব ভালো উদাহরণ হয়নি। কয়েক সপ্তাহ আগেই এটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে প্রশ্ন তুলেছিলাম এই নিয়ে আমরা যতটা বাড়াবাড়ি করি অতটা বাড়াবাড়ির আসলে কি দরকার আছে? এই সিরিজের শিক্ষা- দরকার নেই আসলে। কারণ, এবার তো এক অর্থে বাংলাদেশ কোচ ছাড়াই খেলল। শন জার্গেনসেন দায়িত্ব পালন করেছেন, কিন্তু তিনি তো ভারপ্রাপ্ত কোচ। কেউ ছিলেন না বলে তাঁকেই...। এমন অগতির গতি দিয়ে যখন সিরিজ জিতেছি, যখন অনেক নামকরা কোচ নিয়েও লজ্জাজনক হার হয়েছে। তাতে প্রমাণিত হয়ে যাচ্ছে না যে কোচ লাগবে না কিন্তু অন্তত এটা বোঝা যাচ্ছে, কোচই সব করে দেন না। করে খেলোয়াড়রা। করে দল। সেই দলীয় সংহতি ঠিক রেখে, খেলোয়াড়দের সঙ্গে সঠিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমন্বয়টা যিনি ঠিক রাখতে পারবেন তাঁকেই আসলে দায়িত্ব দেওয়া উচিত। এখন যাঁরা বিখ্যাত কোচ তাঁদের কেউই বিশ্বসেরা খেলোয়াড় ছিলেন না, তাঁদের নামটা হয়েছে ট্যাকটিকসের সূত্রে। সেই ট্যাকটিকস ঠিকঠাকমতো প্রয়োগ করা আবার মাঠের অধিনায়কের হাতে। সেখানেই সাফল্যের ফর্মুলাটা ঠিকঠাক তৈরি হয় যেখানে কোচ-অধিনায়কের রসায়নটা ঠিক জমে। ভাষা আর সংস্কৃতিগত ঘাটতি, তারকাখ্যাতিসূত্রে কোচের উন্নাসিকতা ক্ষেত্রবিশেষে সেই জুটি তৈরির পথে বাধা। নতুন কোচ নেওয়ার আগে এসব ভাবা উচিত। তা ভাবার জন্য যথেষ্ট সময় দিয়ে গেল সিরিজ। আর এর চেয়ে বড় শিক্ষাটা হলো আমাদের জন্য ট্যাকটিশিয়ান হেড কোচের চেয়েও বেশি জরুরি হলো স্পেশালিস্ট কোচ বা এই জাতীয় কিছু। নিশ্চিতভাবেই সাকলায়েন মুশতাকের কারণে আমাদের স্পিনারদের এমন ধারালো আর বিষাক্ত দেখিয়েছে, জরুরি মুহূর্তে তাঁর দেওয়া টোটকা টনিকের মতো কাজ করেছে নিশ্চয়। অন্যান্য ক্ষেত্রেও এ রকম বিশেষজ্ঞ কোচই বোধ হয় এখন দরকার, যেমন একজন বিখ্যাত ব্যাটসম্যান এসে ব্যাটসম্যানদের ভুলের সূক্ষ্ম জায়গাগুলো ধরিয়ে দিতে পারেন। জাতীয় দলের ক্ষেত্রে হেড কোচ হিসেবে ট্যাকটিকস জানা লোকই আদর্শ, কিন্তু মনে রাখতে হবে আমাদের খেলোয়াড়রা খুব ভালো কোচিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উঠে আসেন না। মূল দলে এসেও তাই কিছু শিক্ষা, টেকনিকের কিছু বিন্যাস তাঁদের দরকার পড়ে। দরকার পড়ে ম্যাচ সিচুয়েশনের কিছু মনস্তাত্ত্বিক চাপ জেতার কৌশলও। কাজেই হেড কোচের মতো একজন ব্যাটিং কোচও বোধ হয় খুব তাড়াতাড়িই দরকার।
এর বাইরেও শিক্ষা আছে কিছু। টেস্টসহ পুরো সিরিজটাকে ধরলে আরেকটা বড় ব্যাপার হলো, আমাদের পরের প্রজন্ম খুব ভালো তৈরি হয়ে গেছে। যতই আমরা জাতীয় লিগকে হেলাফেলা করি না কেন, সেখানকার পারফরমাররা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত। নির্বাচকদের মাঠটা তাই বড় হয়ে গেল। সোহাগ-এনামুল-মমিনুলদের দেখে তাঁরা বিশ্বাসের সঙ্গেই জাতীয় লিগের যেকোনো পারফরমারকে দলে নিতে পারেন। চিন্তার বিষয় শুধু এটাই, এই পারফরমাররা শুরুর চমকটা ঠিক ধরে রাখতে পারেন না। কেন? দিকভ্রান্তিটা ঘটে ঠিক কী কারণে?
এই জয়োৎসবেও এসব নিয়ে কি একটু ভাবব! ভয় কিন্তু ওটাই। জিতলে যে আমাদের মনে হয় সবই ঠিক আছে। আমাদের কাছে জয় মানে তো জোয়ারে ভেসে যাওয়া। প্রাণঢালা সংবর্ধনা, আন্তরিক অভিনন্দন, হৃদয় নিংড়ানো আবেগ, লম্বা বক্তৃতা, বিস্তর পুরস্কার ইত্যাদি ইত্যাদি।

মেগাসিটি ঢাকার ৪০ ভাগ লোকের বাস বস্তিতে

মেগাসিটি ঢাকার ৪০ ভাগ লোকের বাস বস্তিতে

মেগাসিটি ঢাকার মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশই বাস করে বস্তিতে। অন্যান্য দেশের মেগাসিটির বাসিন্দারা নানা নাগরিক সুবিধা পেলেও ঢাকার অধিকাংশ বাসিন্দা রয়েছে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার বাইরে। বিশ্লেষকরা বলছেন, চরিত্রের দিক থেকে ঢাকা মেগাসিটি নয়। এখানে শুধু লোকসংখ্যা বাড়ছে। নাগরিক সুবিধাদি বাড়েনি। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ঢাকা নগরীর বস্তিগুলোতে যে ৪০ শতাংশ মানুষ বাস করে, তাদের অধিকাংশই অশিক্ষিত। বস্তির ১৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক পড়তে এবং লিখতে পারেন। এদের ১৯ শতাংশ পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করে-ছেন। বস্তির পুরুষদের ৪০ শতাংশ দিনমজুর। ভিক্ষাবৃত্তির সাথে জড়িত আছেন ১৬ শতাংশ, ১১ শতাংশ পরিবহন শ্রমিক। আর বস্তির নারীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ ভিক্ষুক, ২৩ শতাংশ গৃহকর্মী, রাস্তাঘাটে দোকান করছেন ৯ শতাংশ। এছাড়া ৮ শতাংশ মহিলা যৌন শ্রমিক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর একেএম নুরুন্নবী বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি ভালো নয় বলেই ঢাকা শহরে দিন দিন বস্তিবাসীর সংখ্যা বাড়ছে। বস্তিবাসীরা নিম্ন আয়ের মানুষ। এদের শিক্ষা নেই, কাজ নেই, খাবার নেই। চাষাবাদে টিকে থাকতে না পেরে এরা ছুটে আসছেন রাজধানীতে। ডক্টর নুরুন্নবীর মতে, সাধারণ মানুষের স্থান বদল বেড়ে গেলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য ভালো। কিন্তু বাংলাদেশে যে কারণে স্থান বদল বাড়ছে, তাতে উপকারের চেয়ে ক্ষতি হচ্ছে বেশি। এদের বেশিরভাগ লোক নিঃস্ব হয়ে গ্রামে কিছু না করতে পেরে শহরে আসছে।

ব্র্যাক পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, রাজধানীর নিঃস্ব ও নিম্নআয়ের লোকজনের মধ্যে ২০ শতাংশই গত ১০ বছর ধরে রাস্তায় ঘুমাচ্ছেন। সবচে ভয়াবহ তথ্য হল-নিম্নআয়ের যেসব মানুষ রাস্তায় ঘুমাচ্ছেন তাদের মধ্যে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশি (নারী ৩০ শতাংশ, পুরুষ ১৮ শতাংশ)। জরিপে

দেখা গেছে, ফুটপাতে নারীর অবস্থান গড়ে ৯ বছর। আর পুরুষের ক্ষেত্রে এ গড় ছয় বছর। ফুটপাতবাসী ৭১ শতাংশ মহিলা বলেছেন, দারিদ্র্যের কারণে তারা ফুটপাতে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া পরিবারের নানা ঝামেলার কারণে ১২ শতাংশ ফুটপাতে বাস করছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, লোকজনের স্থান বদলের সাথে একটি দেশের উন্নয়নের বিষয়টি জড়িত। কিন্তু বাংলাদেশের লোকেরা যে স্থান বদল করছে, তাতে উপকার কিছুই হচ্ছে না। ডক্টর নুরুন্নবী এ বিষয়ে বলেন, যারা ঢাকা শহরের দিকে ছুটছেন তাদের অধিকাংশই নিঃস্ব হয়ে এখানে আসছেন। আমাদের হাতে বিকল্প শহর নেই, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যা আছে। ৭০-এর দশকে অনেকে জেলা শহরে বাস করেছেন। এখন যুগ পাল্টেছে। সবাই রাজধানীমুখী। মানুষ মনে করে, এখানে সুযোগ-সুবিধা বেশি। ঢাকামুখো জনস্রোত ঠেকানোর কৌশল সম্পর্কে তার মত হচ্ছে, এটিও এখন শক্ত কাজ। প্রতিবছর ১৮ থেকে ২০ লাখ লোক নতুন করে ঢাকার বাসিন্দাদের সাথে যুুক্ত হচ্ছেন। আবার কৃষি জমি কমছে এক শতাংশ হারে।

এদিকে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে ঢাকা শহরের পরিবেশ বিপন্ন হতে চলেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। অধ্যাপক নুরুন্নবীর মতে, অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে ঢাকার দুটি সমস্যা প্রকট হচ্ছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য সমস্যা অন্যতম। এছাড়া শহরে দারিদ্র্যের হার বেড়ে যাচ্ছে। ধনী এবং গরীবের বৈষম্য অনেক বাড়ছে।

ঢাকা শহরে শুধু যে বস্তিবাসীই বাড়ছে তা নয়, যেসব শিক্ষিত শ্রেণী চাকরি নিয়ে ঢাকার বাইরে যান, তারাও সেখানে থাকতে চান না। সরকারি চাকরিজীবীরাও ঢাকার বাইরে যেতে চান না বললেই চলে। অনেকে গেলেও আবার ফিরে আসেন ঢাকায়। এর ফলেও ঢাকাতে জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে। অধ্যাপক নুরুন্নবী বলেন, আমাদের দেশে প্রশাসনের বিকেন্দ ীকরণ করা না হলে এ সমস্যা চলতেই থাকবে। যারা ঢাকার বাইরে চাকরি করেন, তাদের যদি সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা না দেয়া হয় তাহলে সেখানে তারা থাকবেন কেন? উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে একজন সরকারি কর্মকর্তার গাড়ি নষ্ট হলে তিনি সেখানে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা সারাতে পারেন না। তাকে কেন্দে র দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। এসব কারণে অনেকে মফস্বলে যেতে চান না। আর সন্তানদের লেখাপড়ার কথা চিন্তা করে অনেকে গ্রামে যেতে চান না।

১৩ সদস্যের ছাত্রলীগের হাতে জিম্মি দেড় হাজার শিক্ষার্থী:পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

১৩ সদস্যের ছাত্রলীগের হাতে জিম্মি দেড় হাজার শিক্ষার্থী:পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের ১৩ সদস্যের বর্তমান কমিটির হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ছাত্রাবাসে সিট দখল, ডাইনিংয়ে অবৈধ সুবিধা আদায়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মিছিলে যেতে বাধ্য করা, ভাঙচুর, এমনকি নিয়োগ বাণিজ্যেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে শিক্ষকদের একটি অংশের প্রশ্রয় রয়েছে বলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গবন্ধু পরিষদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রনমি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হারুন অর রশীদকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবিতে ক্যাম্পাসে মিছিল করে ছাত্রলীগ। এ সময় তারা শিক্ষক সমিতির সদ্য নির্বাচিত সভাপতি ও কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক আ ক ম মোস্তফা জামানের বাসভবনে ইটপাটকেল ছোড়ে এবং ক্যাম্পাসের প্রবেশপথে আগুন জ্বালায়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রলীগকর্মীরা তিনটি ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের জোর করে মিছিলে নিয়ে যায়।
হামলার কথা অস্বীকার করে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি কামরুজ্জামান সোহাগ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'হারুন অর রশীদ স্যার যোগ্য। তাই তাঁকেই ভিসি হিসেবে আমরা দেখতে চাই। সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছায় মিছিলে এসেছে। মিছিলের মধ্য থেকেই কেউ হয়তো জামান স্যারের বাসায় ইটপাটকেল ছুড়ে থাকতে পারে। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগ জড়িত নয়।'
অধ্যাপক হারুন অর রশীদ বলেন, 'ছাত্রলীগ আমাকে উপাচার্য হিসেবে চাইছে_এটা তাদের দাবি। এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।

'আবুল হোসেন কেঁচো!'

'আবুল হোসেন কেঁচো!' 

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়ে আলোচনায় সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে কেঁচোর সঙ্গে তুলনা করেছেন প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মূসা। তিনি বলেছেন, 'কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসতে পারে!' গত বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাভিশনের টক শো 'নিউজ এন্ড ভিউজ'-এর আলোচক এবিএম মূসা এভাবেই অভিমত ব্যক্ত করেন। মোস্তফা ফিরোজের সঞ্চালনায় টক শোর অন্য আলোচক ছিলেন ট্রান্সপারেন্সি অব বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
আবুল হোসেন দোষী কি নির্দোষী- বিষয়টি আদালতে প্রমাণ না করে সরকার কেন তাঁকে রক্ষার ব্যাপারে গো ধরল- সঞ্চালকের এমন আলাপের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'এ বিষয়টি অবশ্যই সরকারের ভাবমূর্তির জন্য ভালো হয়নি। যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা, মামলা হওয়া তার মানে সে অপরাধী তা কিন্তু নয়। আমার যদি আত্মবিশ্বাস থাকে আমি তো অনিয়ম করিনি, তাহলে বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাব।'
এ সময় এবিএম মূসা বলেন, 'এটা আমার যা মনে হয়, আবুল হোসেন কেঁচো। কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে যায়। এ কারণে কেঁচোটাকে (সৈয়দ আবুল হোসেন) ধরা হচ্ছে না। মাটি খুঁড়ে কেঁচো বের করা হচ্ছে না, কারণ সাপ বেরিয়ে আসতে পারে। যারা সাপুড়ে তারা ইচ্ছে করেই গর্তে হাত দিচ্ছে না। কারণ গর্তে হাত দিয়ে কেঁচো খুঁড়ে বের করতে গেলে সাপে কামড় দিতে পারে।'
পদ্মা সেতু নিয়ে সরকার অস্বস্তিতে রয়েছে- এমন আলাপের পরিপ্রেক্ষিতে এবিএম মূসা বলেন, 'একটু অশালীন গ্রাম্য ভাষায় বলতে হয়, তাহলো সরকার ফাটা বাঁশে আটকে গেছে।'
সরকার যদি পদ্মা সেতু প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করে অন্যদিকে মনোযোগ দেয়, তাহলে কী ক্ষতি হবে- মোস্তফা ফিরোজের এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'এখন সরকারের জন্য এটা দুই দিকেই নেতিবাচক বা বিপদ। এটা এখন পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, যে পর্যায় এসেছে তাতে বিশ্বব্যাংক বা অন্য দাতা সংস্থা আবার নতুন করে পদ্মা সেতুতে আসবে এটা কঠিন। কারণ এখানে মূল জায়গায় এক বা একাধিক ব্যক্তিকে রক্ষা করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যা করছে তা বিতর্কিত হচ্ছে।' তিনি আরো বলেন, 'এটা বাংলাদেশের মধ্যে একটি বড় প্রকল্প। মানুষের মধ্যে একটা আশার সৃষ্টি হয়েছিল। পদ্মা সেতু হলে শুধু দক্ষিণবঙ্গের মানুষেরই লাভ হতো না, সারা দেশের লাভ হতো। এমন একটি পর্যায়ে পদ্মা সেতু প্রকল্প এসেছে এখন এটাকে ছেড়ে দিলেও বিপদ আর এভাবে ধরে রাখলেও বিপদ।'
পদ্মা সেতুর ভাগ্যে কী আছে এমন আলাপের পরিপ্রেক্ষিতে এবিএম মূসা বলেন, 'পদ্মা সেতুর ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেছে। চার বছরে পদ্মা সেতুর বিষয়টির সুরাহা হলো না। এ সরকার যদি সত্যিকার অর্থে নির্বাচন করে, তাহলে আর যে সময় আছে এই সরকারের হাতে তাহলো ১০ মাস। যে কাজ চার বছরে হয়নি সে কাজ ১০ মাসে হবে তা পাগলেও বিশ্বাস করে না। এই একটি বিষয়ে এই সরকারের সব স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেখানে একটা প্রশ্ন সবাই বারবার সামনে নিয়ে আসছে তাহলো আবুল (সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন) দোষী কি নির্দোষ? এটা সঠিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে না। সৈয়দ আবুল হোসেনের ব্যাপারে সঠিক তদন্ত হচ্ছে না।' পদ্মা সেতুর দুর্নীতিতে সৈয়দ আবুল হোসেনের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে তাঁর নিজ দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার উদ্ধৃতি দিয়ে এবিএম মূসা বলেন, 'সৈয়দ আবুল হোসেন সৎ ও দেশপ্রেমিক। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি (সৈয়দ আবুল হোসেন) পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।' তিনি আরো বলেন, 'এই পদ্মা সেতু করতে গিয়ে এই সরকার অনেক বেকায়দায় পড়েছে। এখন আমার মনে হয় না এই গ্যাঁড়াকল থেকে সরকার বেরোতে পারবে।'

সনদ দিচ্ছেন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীরা

সনদ দিচ্ছেন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীরাঢাকা মহানগরীর দক্ষিণ ভাগের বাসিন্দাদের নাগরিকত্বসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সনদ দিচ্ছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীরা। এত দিন কেবল কাউন্সিলর ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের এসব সনদ দেওয়ার এখতিয়ার ছিল। সম্প্রতি এ ক্ষমতা তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদেরও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনেই চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। তারা বলছে, তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী দিয়ে কোনো সনদ ইস্যুর নজির কোথাও নেই। ডিএসসিসি এই নজির স্থাপন করে নগরবাসীকে অপমান করছে। যাঁরা এসব সনদ দিয়ে নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করছেন, ভবিষ্যতে তাঁদেরও বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডিএসসিসির সচিব মো. মাহবুব হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'যাঁরা আগে সনদ ইস্যুর দায়িত্ব পালন করতেন, তাঁরা আর পেরে উঠছিলেন না। সনদ পেতেও অনেক সময় দেরি হচ্ছিল। তখন চিন্তা করা হলো- কিভাবে নাগরিকদের ভোগান্তি কমিয়ে তাড়াতাড়ি সনদ দেওয়া যায়। তাই এই আদেশ জারি করা হয়েছে।' জানা গেছে, ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) বিভক্তির আগে কেবল ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ডিসিসির প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তারাই এসব সনদে স্বাক্ষর করতেন। বিভক্তির পর মেয়র ও কাউন্সিলরদের বাদ দিয়ে দুই সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে নগরবাসীকে নানা ধরনের সনদ নিতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। বিড়ম্বনা এড়াতে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী প্রকৌশলী, বিভাগীয় প্রধান, সমাজকল্যাণ কর্মকর্তাসহ নির্দিষ্ট কিছু প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের হাতে সনদ দেওয়ার ক্ষমতা অর্পণ করা হয়। কিন্তু গত ১০ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সচিব মাহবুব হোসেন একটি অফিস আদেশ জারি করেন। আদেশে দেখা যায়, এসব কর্মকর্তার পাশাপাশি সহকারী সমাজকল্যাণ কর্মকর্তাদেরও জন্ম নিবন্ধন, নাগরিকত্ব, ওয়ারিশানসহ বিভিন্ন সনদ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, সহকারী সমাজকল্যাণ কর্মকর্তারা দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা হলেও যাঁরা দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের মধ্যে অঞ্চল-৩-এ দায়িত্ব পালনকারী মো. রোকনুজ্জামানের মূল পদ কেয়ারটেকার। তাঁকেই দেওয়া হয়েছে ভারপ্রাপ্ত সহকারী সমাজকল্যাণ কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব। তিনি এখন সনদ দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে অঞ্চল-৫-এর আফজালুল আজম রেজাও কেয়ারটেকার। তিনিও ভারপ্রাপ্ত সহকারী সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা হিসেবে সনদ দিয়ে যাচ্ছেন। অঞ্চল-১-এ দায়িত্ব পালন করছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু নাসের কচি। ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ এ দায়িত্ব না দিলেও অঞ্চল-১-এর নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা তাঁকে এই দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন বলে সূত্রে জানা যায়। অবশ্য সেলিম রেজা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমি আসার আগে থেকেই কচি সনদ ইস্যু করে যাচ্ছেন। আগের কোনো কর্মকর্তা তাঁকে এ দায়িত্ব দিয়ে গেছেন।'
এ ছাড়া অঞ্চল-৪-এর মেহেদি হাসান ও অঞ্চল-২-এর সহকারী সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলীও কিছুদিন আগে কেয়ারটেকারই ছিলেন। পরে তাঁদের সহকারী সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ দুজন ছাড়া অন্যরা সবাই এখনো তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী।
ডিএসসিসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের সনদ ইস্যুর ক্ষমতা দেওয়ার ক্ষেত্রে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ আইন শাখা বা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়েরও কোনো অনুমতি নেয়নি। এতে যেমন আইনের বরখেলাপ হয়েছে, তেমনি তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের দিয়ে সনদ ইস্যু করে নগরবাসীকেও অপমান করা হচ্ছে। আইনগতভাবে এসব সনদ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ফলে যারা এসব সনদ গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার করছে, ভবিষ্যতেও তারা নানাবিধ সমস্যায় পড়বে।
ডিএসসিসির সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, 'আইন শাখার কোনো মতামত নেওয়া না হলেও মন্ত্রণালয়ের মৌখিক অনুমতি নেওয়া হয়েছে। তবে তৃতীয় শ্রেণীর এসব কর্মচারীর স্বাক্ষর করা সনদ তো ব্যবহৃত হচ্ছে। এ নিয়ে কেউ সমস্যায় পড়েছে- এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। এর পরও আপনি বিষয়টি আমাদের গোচরে এনেছেন। এখন পর্যালোচনা করে দেখব কী করা যায়।'

Friday, December 14, 2012

শেষ মুহূর্তে আবুল হোসেনকেআসামি করার সিদ্ধান্ত

শেষ মুহূর্তে আবুল হোসেনকেআসামি করার সিদ্ধান্ত

প্রতিবেদন পুনঃপর্যালোচনা, আসামি করা হচ্ছে ৯ জনকে


সবকিছু চূড়ান্ত করেও মামলায় যেতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে আসামি করা নিয়ে শেষ মুহূর্তে বিপাক বাধে দুদক কমিশনারদের মধ্যে। অবশেষে নিক্সন চৌধুরীকে বাদ দিয়ে সৈয়দ আবুল হোসেন, আবুল হাসান চৌধুরীকে মামলার আসামি করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন দুদকের দুই কমিশনার এবং চেয়ারম্যান গোলাম রহমান। তাদের নাম এজাহারে সন্দেহভাজন আসামি হিসাবে উপস্থাপন করা হবে বলে নির্ভরযোগ্যসূত্র জানিয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের কাছে দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ প্রমাণ করতেই শেষ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। একইসাথে বৃহস্পতিবার মামলার দিনক্ষণ পিছিয়ে সোমবারই এ দুজনসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছে দুদক।

দুদকের একটি সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান, দুই কমিশনার মো: বদিউজ্জামান, মো. সাহাবউদ্দিন চুপ্পু ও মহাপরিচালক (আইন) কামরুল হোসেন মোল্লা মামলার বিষয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকেই সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসানকে মামলায় এজাহারভুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। এদিকে পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার মামলা হবে বলে গত বুধবার জোর দিয়ে বলেছিলেন দুদক কমিশনার মো:সাহাবউদ্দিন চুপ্পু। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়েও তাই গণমাধ্যম কর্মীদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। শেষ পর্যন্ত মামলার দিনক্ষণ পেছায় দুদক।

দুদকের একটি সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে দুদককে বার বার বলা হয়েছিল পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির সঙ্গে আবুল হোসেনসহ কয়েকজনের ভূমিকা ছিল। তাকে ছাড়া ব্যবস্থা নিলে তা দুদকের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। বিশ্বব্যাংকও জানতে পেরেছে আবুলকে ছাড়া মামলা করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে দুদক। তাই গত রবিবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়, সুষ্ঠু প্রতিবেদন না হলে এ প্রকল্পে অর্থায়ন করবে না কমিশন। এ কারণে দুদকের এক কমিশনার আবুল হোসেন ও আবুল হাসানকে মামলার আসামি করার ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নেন। তার কারণেই বৃহস্পতিবার মামলার তারিখ পরিবর্তন করে আগামী সোমবার মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

বিশ্বজিত্ হত্যা :আরো ৬ জন গ্রেফতার

বিশ্বজিত্ হত্যা :আরো ৬ জন গ্রেফতার

এদের নিয়ন্ত্রণ করেন কিছু ছাত্রনেতা



১৮ দলীয় জোটের অবরোধ চলাকালে পুরনো ঢাকায় নিরীহ পথচারী বিশ্বজিত্ দাস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার আরও ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম হোতা মাহফুজুর রহমান নাহিদকে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়ালো ৭-এ ।

এদিকে বিশ্বজিত্ হত্যার ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাহিদসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা করেছেন এক আইনজীবী। গতকাল বৃহস্পতিবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার মাহমুদ আদনান বাদির জবানবন্দি গ্রহণ করেন। তিনি সূত্রাপুর থানায় একই ঘটনায় দায়ের করা মামলার সাথে আইনজীবীর আর্জি যুক্ত করে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

গতকাল ডিবি পুলিশ নাহিদ তাদের হেফাজতে রয়েছে বলে হাইকোর্টকে জানিয়েছে। এর আগে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করে ২৪ ঘন্টার মধ্যে হাইকোর্টকে জানানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান, এই হত্যাকাণ্ডে এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রেফতারের বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তির কোন অবকাশ নেই। প্রথমে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে ৮ জন এবং পরে আরও ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তবে গতকাল পর্যন্ত গ্রেফতারকৃত ৭ জন ব্যতীত অপর ৪ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। প্রকৃতপক্ষে ৭ জনকেই গ্রেফতার হয়েছে বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, গ্রেফতার ১১ জন হলেও অপর ৪ জনের ব্যাপারে যাচাই-বাচাই চলছে। আটক ৭ জনের মধ্যে এইচএম কিবরিয়া ও কাইয়ূম মিয়া টিপুকে গতকাল মগবাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়। কিবরিয়ার বাড়ি বরিশাল আগৈঝাড়া উপজেলায়। সে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মনোবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র। টিপু একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র বলে পুলিশ জানায়। গ্রেফতারকৃত নাহিদ, কিবরিয়া ও টিপুকে আজ শুক্রবার সিএমএম আদালতে হাজির করা হবে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ ।

ডিসি (ডিবি, দক্ষিণ) মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃত ওই ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে। পলাতকদের গ্রেফতার করতে একাধিক ডিবির টিম মাঠে রয়েছে বলে তিনি জানান।

৪ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে

এদিকে জেলহাজতে থাকা ৪ জনকে বিশ্বজিত্ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন গতকাল সিএমএম আদালত মঞ্জুর করেছে। সূত্রাপুর থানা ওই আবেদন করে। এরা হলেন- মামুনুর রশীদ, ফারুক হোসেন, নাহিদুজ্জামান তুহিন ও মোসলেহ উদ্দিন। তারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে পুলিশ জানায়। এর মধ্যে মামুনের বাসা রাজধানীর দক্ষিণখানের ২৯ মধুবাগে, তার পিতার নাম হারুন অর রশিদ। ফারুকের বাসা দক্ষিণখানের পূর্বপাড়ার ২ এয়ারপোর্ট লেনে, তার পিতার নাম ওয়াকিল উদ্দিন। তুহিনের বাসা ডেমরার সারুলিয়ায়, তার পিতার নাম শামসুজ্জামান এবং মোসলেমের বাসা মধ্য বাড্ডায়, তার পিতার নাম মজিবুল হক।

বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণে এরা বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা সকলেই 'ছাত্রলীগের ক্যাডার' বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এরা পুরনো ঢাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে বলে জানান কয়েকজন ব্যবসায়ী। তবে তারা বলেন, এরা রাজনীতি নয়, নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। যে সরকার ক্ষমতায় আসে সেই সরকারের দলীয় ছত্রচ্ছায়ায় এরা অপরাধ করে বেড়ায়। ছাত্রলীগের এক শ্রেণীর সাবেক নেতা এদের নিয়ন্ত্রণ করে। প্রতিমাসে ওই নেতারা লাখ লাখ টাকার চাঁদার ভাগ পান বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।

হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় আরো কয়েকজন !

গ্রেফতারকৃত মাহফুজুর রহমান নাহিদ এবং পলাতক রফিকুল ইসলাম শাকিল, ইমদাদুল হক, মীর নূরে আলম লিমন ও ওবাইদুল কাদের তাওসীন সরাসরি বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন। এরমধ্যে শাকিল চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে বিশ্বজিতের মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এছাড়া ছাত্রলীগের 'ক্যাডার গ্রুপে'র সক্রিয় সদস্য জুনায়েদ, ইউনুস, মেহেদী (কালোগেঞ্জি), রাজন ও আল আমিনও বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন বলে জানা গেছে। তবে এরা তাদের কমিটির কোন সদস্য নয় বলে দাবি করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শরীফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কোতোয়ালী ও সুত্রাপুর থানায় এক মাস আগে একটি তালিকা দেয়া হয়েছে বলে ওই দুই নেতা জানান।

যে ১০ জনের নামে মামলা

কোর্ট রিপোর্টার জানান, এই হত্যার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল আলম দুলাল যে ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন তারা হলেন: মাহফুজুর রহমান নাহিদ, রফিকুল ইসলাম শাকিল, মো. এমদাদুল হক, ওবায়দুল কাদের, মীর মোহাম্মদ নুরে আলম লিমন, ইউনুছ, তাহসিন, জনি, শিপলু ও কিবরিয়া। আসামিরা সবাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং কবি নজরুল ইসলাম কলেজের ছাত্র। এছাড়া মামলায় ওই ১০ জন ছাড়াও অজ্ঞাতনামা প্রায় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হযেছে।

গত রবিবার অবরোধ চলাকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে 'ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হাতে নির্মমভাবে খুন হন টেইলারিং ব্যবসায়ী বিশ্বজিত্ দাস। তার গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর মশুরা গ্রামে। রাতে অজ্ঞাতনামা ২৫ জনের বিরুদ্ধে সুত্রাপুর থানায় মামলা করেন সংশ্লিষ্ট থানার উপ-পরিদর্শক জালাল আহমেদ। একই থানার উপ-পরিদর্শক মাহবুবুল আলমকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ


শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ। ১৯৭১ সালের এ দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আলবদর-রাজাকার বাহিনীর সহযোগিতায় এদিন নারকীয়ভাবে হত্যা করেছিল এ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের ঠিক দুই দিন আগে দিশাহারা হানাদার বাহিনী পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে দেশকে মেধাশূন্য করার পরিকল্পনা নিয়ে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড চালায়। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে
দেশ হারিয়েছিল তার শ্রেষ্ঠ শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিল্পীদের। আজ পুরো জাতি শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করবে সেসব সূর্যসন্তানকে; যাদের আত্মত্যাগে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ, আমরা পেয়েছি স্বাধীন মানচিত্র। লাল-সবুজের পতাকা। ১৪ই ডিসেম্বর চারদিকে যখন পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের রব, ঠিক তখনই পাকিস্তানি ঘাতকরা মুনীর চৌধুরী, জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, সন্তোষ ভট্টাচার্য, শহীদুল্লাহ কায়সার, সিরাজুদ্দিন হোসেন, আবুল খায়ের, গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, মনিরুজ্জামান, আনোয়ার পাশা, নিজাম উদ্দিন আহমেদ, রশিদুল হাসান, সিরাজুল হক খান, ডা. আলীম উদ্দিন, ডা. ফজলে রাব্বি, নাজমুল হক, খন্দকার আবু তালেব, ডা. আমির উদ্দিন, সাইদুল হাসান প্রমুখ বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে। এছাড়া আরও অনেক বুদ্ধিজীবীকে তুলে নিয়ে যায় হানাদাররা। চালানো হয় পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ। দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থানরত বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করার পরিকল্পনা ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর। তবে পরাজয়ে বাধ্য হওয়ায় তারা সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। স্বাধীনতার ৪১ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবার ভিন্ন আঙ্গিকে পালিত হবে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারও মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে শহীদ বুদ্ধিজীবী কৃতী সন্তানদের অবনত চিত্তে শ্রদ্ধা জানানো হবে। সকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। দিবসটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করবে। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান তার বাণীতে বলেন, জাতির সূর্যসন্তান বুদ্ধিজীবীরা দেশের বিভিন্ন সঙ্কটে জাতিকে বুদ্ধি ও পরামর্শ দিয়ে কাণ্ডারীর ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের সৃষ্টিশীলতা ও অসামপ্রদায়িক চিন্তা-চেতনা আমাদের দৃপ্ত প্রত্যয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখায়। জাতির বিবেক হিসেবে খ্যাত আমাদের বুদ্ধিজীবীরা মহান মুক্তিযুদ্ধকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু জাতির দুর্ভাগ্য, বিজয়ের প্রাক্কালে হানাদার বাহিনী পরিকল্পিতভাবে এদেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিল্পীসহ বহু গুণীজনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। জাতিকে মেধাহীন করাই ছিল তাদের হীন উদ্দেশ্য। এ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়। তিনি বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে নতুন প্রজন্ম একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে এগিয়ে আসবে বলে আমার বিশ্বাস। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস বাঙালি জাতির মহান মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর অধ্যায়। পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর এই পরিকল্পিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞের উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করা। এই ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের ফলে জাতি হারায় তার মেধাবী সন্তানদের।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি হামলা চালিয়েছে মুক্তমনা শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক ও রাজনীতিকদের ওপর। এসব হত্যাকাণ্ড ও যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে। বাংলার মাটিতে তাদের অপকর্মের বিচার হবেই। শহীদ বুদ্ধিজীবীরা তাঁদের কর্ম, আদর্শ ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে জাতির জীবনে চিরদিন অম্লান হয়ে বেঁচে থাকবেন। তাঁদের আত্মত্যাগ জাতি কখনওই বিস্মৃত হবে না। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আজ মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সকাল ৮টায় প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান এবং পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এ সময় গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে শহীদ পরিবারের সদস্যরা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। তাদের প্রস্থানের পর সকাল ৭টায় সর্বসাধারণের জন্য স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি: শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সূর্যোদয়ের ক্ষণে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশের সংগঠনের কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ। এরপর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন। সকাল সোয়া ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সকাল ৮টায় রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ। বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে দলের কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে দলের সব শাখা, সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা, কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

Thursday, December 13, 2012

২১শে ডিসেম্বর ধ্বংস হবে পৃথিবী! চীনে পাগলপারা মানুষ

২১শে ডিসেম্বর ধ্বংস হবে পৃথিবী! চীনে পাগলপারা মানুষ

আগামী ২১শে ডিসেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হবে! এমন এক গুজবে চীনাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা যেখানে যা পায় তা-ই সংগ্রহ করে কাছে রাখছে। ফলে মোমবাতি, ম্যাচসহ দরকারি বিভিন্ন জিনিসপত্র হট কেকের মতো বিক্রি হচ্ছে। মায়া ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী ২১শে ডিসেম্বর পৃথিবীর শেষদিন। গুজব ছড়িয়ে পড়েছে এর পরের টানা তিন দিন সারা পৃথিবী অন্ধকারে ঢেকে থাকবে। এমন গুজবে কান দিয়ে সিচুয়ান প্রদেশের শুয়াংলিউ ও লংচাং অঞ্চলে মানুষের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে। তারা ছুটছেন দোকানে দোকানে। সেখান থেকে দরকারি জিনিসপত্র কিনে মজুত করছেন। গতকাল এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা আইএএনএস। এতে বলা হয়, ওই গুজব চীনের ক্ষুদ্র বার্তার ওয়েবসাইট ঝরহধ ডবরনড়’র মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এই সুযোগ লুফে নিচ্ছে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও অনলাইন ব্যবসায়ীরা। তারা পণ্যের স্পেশাল সব প্যাকেজ ঘোষণা দিয়েছে। নিজেকে নিজে কিভাবে সাহায্য করা যায় তার প্যাকেজ দিয়েছে। এমনকি শেষ সময়ে কিভাবে সাজতে হবে তার জন্যও পণ্যের বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে। জিংসু প্রদেশের ইয়াং জোংফু ঘটিয়ে ফেলেন তুলকালাম কাণ্ড। তিনি নবী নূহ (আ.)-এর মতো করে নৌকা তৈরি করছেন। স্টেইনলেস স্টিলের বিশাল বল আসলে তার নৌকা। পৃথিবী শেষ হওয়ার সময় এতে জীবিতদের আশ্রয় দেয়া যাবে। এমন বলের তরী তিনি বিক্রি করেছেন ৮ লাখ ডলারে। শানসি’র এক ব্যক্তি এরকম ১৫টি ডিভাইস অর্ডার দিয়েছেন। অর্ডার এসেছে নিউজিল্যান্ড থেকেও। এক নারী তার সহায় সম্পত্তি বন্ধক রেখেছেন। এই অর্থ তিনি এতিমদের জন্য দান করবেন। বাকি অর্থ দিয়ে পৃথিবী শেষ হওয়ার আগে মজা করে কাটাতে চান। আবার অনেকে ওই দিনের আগেই বিয়ে সেরে নিতে চান। সিয়ান, হেফেই, গুয়াংঝু ও শাংহাইয়ের বিবাহ রেজিস্ট্রি অফিসগুলো ২১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত বুক হয়ে আছে। তবে চীনের লুনার অরবিটার প্রজেক্টের প্রধান বিজ্ঞানী ওয়াং জিয়ুয়ান বলেছেন, মায়া ক্যালেন্ডার নিয়ে ভুল ধারণা ছড়ানো হচ্ছে। ২১শে ডিসেম্বর আসলে একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ দিন হবে। 

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কলেজ ছাত্র খুন

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কলেজ ছাত্র খুন


নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকায় রফিউল আলম (১৮) নামে বাংলাদেশি এক কলেজ ছাত্র খুন হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় ভারতীয় বংশোদ্ভুত তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। নিহত রফিউল নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স কমিউনিটি কলেজের ছাত্র। তার বাসা কুইন্সের জ্যামাইকার ১৭৩ স্ট্রিট ও ৯০ এভিনিউতে। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ৮টার দিকে রফিউল বাসার কাছে একটি হালাল চাইনিজ রেস্টুরেন্টের সামনে দাঁড়িয়েছিল। হঠাত্ তিন যুবক এসে তাকে গালমন্দ শুরু করে। এ সময় তার সঙ্গে ওই যুবকদের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে যুবকরা তাকে বেধড়ক মারপিট শুরু করে। তাদের মধ্যে একজন হঠাত্ মাথায় আঘাত করলে অচেতন হয়ে রাস্তায় পড়ে যায় রফিউল। লোকজন পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে রফিউলকে জ্যামাইকা হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে কোমায় চলে যায় সে। এরপর আর জ্ঞান ফেরেনি তার। স্থানীয় সময় সোমবার দুপুরে চিকিত্সকেরা রফিউলকে মৃত ঘোষণা করে। নিউইয়র্ক পুলিশ এ ঘটনায় তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।

নিহত রফিউলের গ্রামের বাড়ি ঢাকা জেলায়। তিন ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। অনেক আগে রফিউল বাবা-মায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিল।

বিশ্বজিত্ হত্যা :ছাত্রলীগ নেতার বাসা থেকে নাহিদ গ্রেফতার

বিশ্বজিত্ হত্যা :ছাত্রলীগ নেতার বাসা থেকে নাহিদ গ্রেফতার


বিশ্বজিত্ দাস হত্যায় জড়িত মাহফুজুর রহমান নাহিদকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গত মঙ্গলবার গভীর রাতে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থেকে গ্রেফতার করেছে। সিঙ্গাইর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রমিজউদ্দিনের গ্রামের বাড়ি পৌর এলাকার আজিমপুরে লুকিয়ে ছিল নাহিদ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরো চারজনকে গ্রেফতারে পুলিশ রাজধানী ও তাদের গ্রামের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে। এদিকে গতকাল বুধবার ভোরে ডিবি আশুলিয়া থেকে শাকিল নামে একজনকে আটক করে। তবে বিশ্বজিত্ হত্যায় এই শাকিল জড়িত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহ গ্রেফতারকৃত আটজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে পুলিশ জানায়।

অন্যদিকে বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল কোতয়ালী ও সূত্রাপুর থানা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহী উদ্দীন খান আলমগীর গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে ছাত্রলীগ জড়িত নয়। ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারীরা এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডে জড়িত। বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে জড়িত যেই হউক কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে তিনি জানান।

জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে ডিবির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মনিরুল ইসলামের নির্দেশে একাধিক টীমকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সহকারী পুলিশ কমিশনার ছানোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি ও র্যাব গত মঙ্গলবার রাতে সিঙ্গাইর উপজেলার আজিমপুর গ্রাম ঘেরাও করে। রাত ১২টা পর্যন্ত গ্রামের অধিকাংশ ঘরে তল্লাশি চালিয়েও নাহিদকে পাওয়া যায়নি। পরে ডিবি ও র্যাব জানতে পারে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রমিজউদ্দিন এবং তার ভাই সিঙ্গাইর সরকারি কলেজের ভিপি ও ছাত্রলীগ নেতা সমিজের বাসায় নাহিদ লুকিয়ে আছে। রমিজ ও সমিজকে পুলিশ আটক করে সিঙ্গাইর থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা স্বীকার করে, নাহিদ তাদের ঘরে লুকিয়ে ছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নাহিদকে আরেক ছাত্রলীগ নেতা মোহসীনের বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। দুইভাইকে সঙ্গে নিয়ে মোহসীনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে রাত ১টায় পুলিশ নাহিদকে গ্রেফতার করে। নাহিদকে ঢাকায় ডিবি অফিসে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা জানান তিনি ডিবিকে। ৯ ডিসেম্বর ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের নাম ঠিকানা বলে দেন তিনি। তাদের কেউ কেউ নাহিদের সঙ্গে সিঙ্গাইরে আশ্রয় নিতে চাইলে নাহিদ তাদের সঙ্গে করে আনেননি। নাহিদের গ্রামের বাড়ি ভোলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুর রহমান।

আমাদের সিঙ্গাইর প্রতিনিধি জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দলীয় সূত্রে নাহিদের সঙ্গে রমিজের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা। আর এ কারণেই রমিজের গ্রামের বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি।

হাতিয়া সংবাদদাতা জানান, বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ওবাইদুল কাদের তাওসীনের বাবা মাওলানা মহিউদ্দীন ইত্তেফাককে নিজের ছেলের আসল পরিচয় না দিয়ে বলেছেন, তার ছেলের নাম মাহফুজুর রহমান নাহিদ। মাওলানা মহিউদ্দিন আজহারুল হক সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও স্থানীয় জামায়াত নেতা। তাওসীনের বড় ভাই তাফসীর উদ্দিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হল শাখা শিবিরের সভাপতি। ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি। তিনি সেই থেকে পলাতক।

জানা যায়, উত্তেজিত কর্মীদের তাওসীনই বোমা নিক্ষেপকারী হিসাবে দেখিয়ে দেয়। তাওসীন হাতিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে আলীম পাস করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞানে ভর্তি হয়। হাতিয়া থাকাকালে তাওসীন শিবিরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তাওসীনের ছোট বোন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের মহিলা কর্মী বলে পুলিশ নিশ্চিত।

গতকাল ইমদাদুল হকের গ্রামের বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলার পাঁচকাঘরায় পুলিশ তল্লাশি চালায়। এএসআই রেজাউল হক মুন্সীকে ইমদাদুল হকের ছোট ভাই জাকির হোসেন জানান, গত মঙ্গলবার তার ভাই দুইবার বাড়িতে ফোন করেছে। জাকির জানায়, ইমদাদ বাড়িতে নিজেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পরিচয় দিতো। টিভি দেখে ইমদাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। জাকির কৃষিকাজ করেন। তাদের বাবা আকরাম আলী বেঁচে নেই। মা জোহরা বেগমকে নিয়ে জাকির গ্রামের বাড়িতে থাকে। তার ভাই দ্রুত বড় লোক হওয়ার কারণে ছাত্রলীগ করে বলে জাকির পুলিশকে জানায়।

পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত রফিকুল ইসলাম শাকিলের পটুয়াখালীর ফায়ার সার্ভিস রোডস্থ বাসায় তল্লাশী চালিয়েছে পুলিশ। গতকাল বেলা ১১টায় পটুয়াখালী সদর সার্কেল এএসপি আনছার উদ্দিনের নেতৃত্বে থানা পুলিশ এই তল্লাশী অভিযান চালানো হয়। এসময় বাসায় শাকিলের বড় ভাবী ও গৃহপরিচালিকা ছাড়া কোন পুরুষ সদস্য পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন মিডিয়ায় শাকিলের পরিচয় প্রকাশিত হওয়ার পর তার বাবা ও ভাই গা ঢাকা দিয়েছে। তার পিতা আনসার আলী আয়কর বিভাগের একজন চতুর্থ শ্রেণীর (এমএলএসএস) অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। শাকিল ৩ ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট। তার বড় ভাই সফিকুল ইসলাম শাহিন ওরফে ট্যাক্স শাহিন পটুয়াখালী শহর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ।

আনসার মিয়া আয়কর বিভাগের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী হলেও তার রয়েছে পটুয়াখালী শহরের ফায়ার সার্ভিস রোডে চারতলা বিশিষ্ট সুরম্য অট্টালিকা। তার গ্রামের বাড়ি বাকেরগঞ্জেও রয়েছে বিশাল সানসৈকত সম্পন্ন বাড়ি। সে চার বছর আগে আয়কর বিভাগের চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

রংপুর থেকে ওয়াদুদ আলী এবং আমিনুল ইসলাম জুয়েল জানান, দরিদ্র পরিবারের ছেলে মীর মোঃ নূরে আলম লিমন ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে বড় নেতা ও ধন-সম্পদের মালিক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলো। এ কারণে একের পর এক অপরাধ এবং অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিলো। তার বাড়ি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের শুল্লিপাড়া।

গতকাল বুধবার এলাকায় গিয়ে জানা যায়, শুল্লিপাড়া গ্রামের মীর মোঃ নুরুল ইসলামের পুত্র মীর মোঃ নূরে আলম লিমন গত ১২/১৩ বছর আগে মা নূরবানুর সঙ্গে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় পাড়ি জমান। স্বামী-স্ত্রীর বনিবনা না হওয়ায় মা নূরবানু ঢাকায় গিয়ে আশ্রয় নেন আগারগাঁও এলাকায়। পরে লিমনের বাবা মীর মোঃ নুরুল ইসলাম ঢাকায় গিয়ে স্বামী-স্ত্রী মিলে গার্মেন্টসে কাজ শুরু করেন। রংপুরের পীরগাছা থেকে ঢাকা যাওয়ার আগে লিমন ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়তো। পরে সে ঢাকায় গিয়ে আবার স্কুলে ভর্তি হয়। মাঝে-মধ্যে এলেও রংপুর মহানগরে নেতাকর্মীদের সঙ্গ দিতেন। গ্রামে তাদের কোন বাড়ি-ঘর নেই। মাত্র ৫ কাঠা পৈত্রিক ভিটা রয়েছে। অথচ রংপুর এলে সে একাধিক দামি মোবাইল ফোন ব্যবহারসহ রাজকীয় হালে চলাফেরা করতো। ২ বোন ও ১ ভাইয়ের মধ্যে লিমন সবার ছোট। স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় লিমনের পিতা মীর মোঃ নূরুল ইসলাম গত ৮ মাস আগে ঢাকা ছেড়ে আবার এলাকায় এসে হাট-বাজারে মসলা বিক্রি শুরু করেন।

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-শৃঙ্খলা কমিটি ও প্রক্টোরিয়াল বডির জরুরি সভায় বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন ছাত্রকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং দুইজনের সনদ বাতিল করা হয়। প্রাথমিকভাবে মাহফুজুর রহমান নাহিদ, ইমদাদুল হক, রফিকুল ইসলাম শাকিল, মীর মো. নূরে আলম ও মো. ওবাইদুল কাদের তাওসীনের বিরুদ্ধে বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকায় প্রমাণ পায় প্রক্টোরিয়াল বডি। ২০০৮-২০০৯ শিক্ষাবর্ষে বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পাস করে মাহফুজুর রহমান নাহিদ ও একই শিক্ষাবর্ষে দর্শন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পাস করে ইমদাদুল হকের সনদ বাতিল করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে ইসলামের ইতিহাসের চতুর্থ ব্যাচের ছাত্র রফিকুল ইসলাম শাকিল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রথম ব্যাচের ছাত্র নূরে আলম লিমন ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের ছাত্র মো. ওবাইদুল কাদের তাওসীনকে বহিষ্কার করা হয়

আমিনীর জানাজায় লাখো মানুষের ঢল

আমিনীর জানাজায় লাখো মানুষের ঢল


ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনীর জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নামে। গতকাল বেলা সাড়ে ৩টায় রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ্‌ মাঠে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তার দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোগী ও সহপাঠী মাওলানা আবদুল হাই। প্রায় ২১ মাস গৃহবন্দি থাকা মুফতি আমিনী মঙ্গলবার রাতে পুলিশ পাহারাতেই রাজধানীর একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। প্রয়াত এ নেতার জানাজায় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এমকে আনোয়ার, তরিকুল ইসলাম, মির্জা আব্বাস, বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, মাওলানা শাহ্‌ আহমাদুল্লাহ আশরাফসহ দেশের প্রায় সব ইসলামী রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। জানাজায় জড়ো হওয়া লক্ষাধিক লোকের জমায়েত জাতীয় ঈদগাহ্‌ মাঠ ও সংলগ্ন রাজপথ ছাপিয়ে উত্তরে মৎস্য ভবন, পূর্বে জাতীয় প্রেস ক্লাব, পশ্চিমে দোয়েল চত্বর দক্ষিণে শিক্ষাভবন পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে। জানাজায় সমবেত লোকের ভিড়ের কারণে শাহবাগ থেকে দোয়েল চত্বর ও দৈনিক বাংলা মোড় পর্যন্ত পুরো রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে জানাজা শেষে জাতীয় ঈদগাহ্‌ ময়দান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় কওমি মাদ্‌রাসার বেশকিছু ছাত্র আমিনীর মৃত্যুর জন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী করে সরকারবিরোধী নানা স্লোগান দেয়। তারা দাবি করেন- সরকারের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণেই মুফতি আমিনীর মৃত্যু ত্বরান্বিত হয়েছে। অবশ্য জানাজার আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ আমিনীর দীর্ঘ বন্দি জীবনের জন্য সরকারের সমালোচনা করেন। সরকারের পতন এবং আমিনীর রাজনৈতিক আদর্শ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না বলে শপথ নেন। এতে জানাজা এক রকম প্রতিবাদ সমাবেশে রূপলাভ করে।
দেশবরেণ্য আলেম, সংগ্রামী রাজনীতিক, বাংলাদেশ কওমি মাদ্‌রাসা শিক্ষা বোর্ডের সহ-সভাপতি, লালবাগ জামেয়া ও বড় কাটারা মাদ্‌রাসার প্রিন্সিপাল, সাবেক এমপি, মুফতি ফজলুল হক আমিনী মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রাজধানীর লালবাগের বাসায় হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে দ্রুত তাকে ধানমন্ডি ইবনে সিনা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গভীর রাতে তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর দেশে ও বহির্বিশ্বে ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। ধানমন্ডি ইব্‌নে সিনা হাসপাতালে ও লালবাগ মাদ্‌রাসায় আলেম-উলামা ও সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মানুষ ছুটে যান। ইসলামী আন্দোলন ও কওমি মাদ্‌রাসা অঙ্গনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা রাতেই লালবাগ মাদ্‌রাসায় ভিড় করেন। ফজরের আগেই গোসল দিয়ে দর্শনার্থীদের জন্য তার লাশ লালবাগের দারুল হাদীসে রাখা হয়। হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘ কাতারবান্দি হয়ে তার লাশ দেখেন। ১৮ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা মুফতি আমিনী প্রায় ২১ মাস ধরে গৃহবন্দি ছিলেন। এই সময়ে তিনি নিয়মিত হাদিসের ক্লাস, ইসলাহী মজলিস ও বিভিন্ন্ন অঞ্চল থেকে আগত রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতেন। সরকারি নিয়ন্ত্রণের কারণে মাঠে ময়দানে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কোন ধরনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারতেন না। ইন্তেকালের দিন মাগরিবের পর বুখারী শরীফের হাদিসের দরস দেন। এশার পর লালবাগ শাহী মসজিদে একটি জানাজা নামাজের ইমামতিও করেন। মাদ্‌রাসার ক্যাম্পাসে কিছুক্ষণ পায়চারি করেন। রাতে বাসায় যাওয়ার পর হৃদরোগে আক্রান্ত হন। ৬৭ বছর বয়স্ক মুফতি আমিনী আগে থেকেই ছিলেন ডায়বেটিস রোগে আক্রান্ত। ২০০৭ সালে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছুদিন শয্যাশায়ী ছিলেন। গতকাল জাতীয় ঈদগাহে নামাজে জানাজা শেষে তার মরদেহ লালবাগ শাহী মসজিদের সংরক্ষিত কবরস্থানে দাফন করা হয় ।
১৯৪৫ সালের ১৫ই নভেম্বর বি-বাড়িয়া জেলার আমীনপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে মুফতি ফজলুল হক আমিনীর জন্ম। পিতা-আলহাজ মরহুম ওয়ায়েজ উদ্দীন, মাতা- মোছা. ফুলবানুন্নেছা। বি. বাড়িয়া জামেয়া ইউনুসিয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষে মুফতি আমিনী মুন্সীগঞ্জ জেলাধীন বিক্রমপুরের মোস্তফাগঞ্জ মাদ্‌রাসায় তিন বছর পড়াশুনা করেন। তারপর উচ্চশিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে ১৯৬১ সালে রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ মাদ্‌রাসায় ভর্তি হন। এখানে তিনি হযরত মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী ও হযরত হাফেজ্জী হুজুর, হযরত মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ, আরেফ বিল্লাহ মাওলানা সালাহ উদ্দীন, হযরত মাওলানা আবদুল মজীদ ঢাকুবী এবং শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা আজিজুল হকের বিশেষ তত্ত্বাবধানে ইসলামী শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসের সনদ লাভ করেন। ১৯৬৯ ইংরেজি সালে আল্লামা ইউসুফ বিন্নুরীর কাছে হাদিস ও ফিকাহ্‌ তথা ইসলামী আইনের উপর উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের উদ্দেশে পাকিস্তান করাচি নিউ টাউন মাদ্‌রাসায় গমন করেন। সেখানে তিনি উলুমুল হাদিস ও ইসলামী আইনের উপর বিশেষ ডিগ্রি অর্জন করে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন।
কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৭০ সালে। প্রথমে মাদরাসা-ই-নূরীয়া কামরাঙ্গীরচরে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ওই বছরই তিনি হজরত হাফেজ্জী হুজুরের কন্যার সঙ্গে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৭২ সালে মাত্র নয় মাসে তিনি সম্পূর্ণ কোরআন শরীফ হেফ্‌জ করেন। এ সময় তিনি ঢাকার আলু বাজারে একটি মাদ্‌রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। একই সঙ্গে আলু বাজার মসজিদের খতিবের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৭৫ সালে তিনি জামেয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ মাদ্‌রাসার শিক্ষক ও সহকারী মুফতি নিযুক্ত হন। ১৯৮৪ সালে তিনি লালবাগ জামেয়ার ভাইস প্রিন্সিপ্যাল ও প্রধান মুফতির দায়িত্ব পান। ১৯৮৭ সালে হযরত হাফেজ্জী হুজুরের ইন্তেকালের পর থেকে তিনি লালবাগ জামেয়ার প্রিন্সিপ্যাল ও শায়খুল হাদীসের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ সালে বড়কাটারা হোসাইনিয়া আশরাফুল উলুম মাদ্‌রাসার প্রিন্সিপ্যাল ও মুতাওয়াল্লির দায়িত্ব পান। ইন্তেকালের আগ পর্যন্তই এই দু’টি মাদ্‌রাসার প্রিন্সিপ্যালের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাশাপাশি ঢাকার কাকরাইল, দাউদকান্দির গৌরীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু মাদ্‌রাসার প্রধান অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
রাজনৈতিক ভূমিকা: ইসলামী আইন ও আদর্শের বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে ছিল মুফতি আমিনীর সরব পদচারণা। দুই যুগ ধরে আলেম সমাজের প্রতিনিধিত্বশীল সরব ও সোচ্চার কণ্ঠ হিসাবে তাকে বিবেচনা করা হয়। ১৯৮১ সালে খেলাফত আন্দোলন গঠিত হলে তিনি মনোনীত হন এ সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল। হযরত হাফেজ্জী হুজুর এর ইন্তেকালের পর তিনি দেশে অধিকাংশ ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ১৯৯২ সালে বাবরী মসজিদ লংমার্চসহ, ১৯৯৪ সালে নাস্তিক-মুরতাদ বিরোধী আন্দোলনের তিনি ছিলেন অন্যতম সংগঠক। বর্তমানে তিনি ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান, ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির আমীর, উলামা কমিটি বাংলাদেশ-এর উপদেষ্টা ও খেলাফতে ইসলামী বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান। তিনি ছিলেন দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা চারদলীয় জোটের অন্যতম প্রধান রূপকার ও শীর্ষ নেতা।
২০০১ সালে হাইকোর্ট থেকে ‘সব ধরনের ফতোয়া অবৈধ’- সংক্রান্ত কোরআন-হাদীস বিরোধী রায় ঘোষিত হওয়ার পর তিনি প্রথম গর্জে উঠেছিলেন। রায় প্রদানকারী দুই বিচারপতিকে শরীয়তের আলোকে তিনি মুরতাদ ঘোষণা করেছিলেন। আান্দোলন তুঙ্গে উঠলে তিনি আওয়ামী দুঃশাসনের কোপানলে পড়ে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন। দীর্ঘ চার মাস তিনি কারা নির্যাতন ভোগ করেন। ২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চারদলীয় ঐক্যজোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বি. বাড়িয়া-২ [সরাইল ও সদরের আংশিক] নির্বাচনী আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন।
বেশ কয়েকবার হজ-ওমরাহ্‌ পালনসহ তিনি লন্ডন, সিরিয়া, ভারত, কুয়েত ও পাকিস্তান সফর করেছেন। ইরান-ইরাক ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধ বন্ধে ১৯৮৪ ইং সালে তিনি হযরত হাফেজ্জী হুজুরের শান্তি মিশনের সদস্য ছিলেন। আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে মুফতি আমিনী ছিলেন হযরত হাফেজ্জী হুজুর এর ‘মুজাযে সুহবত’। পরবর্তী সময়ে তাকে হযরত হাফেজ্জী হুজুরের অন্যতম খলিফা হযরত মাওলানা আবদুল কবীরসহ হযরত হাফেজ্জী হুজুর-এর আরও কয়েকজন বিশিষ্ট খলিফা বাইয়াত করার অনুমতি প্রদান করেন।
মুফতি আমিনীর আকস্মিক মৃত্যুতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ, বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মসজিদ মিশনের সভাপতি মাওলানা যইনুল আবেদীন, সেক্রেটারি ড. খলিলুর রহমান মাদানী, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী, মিরশরাই পীর মাওলানা আবদুল মোমেন নাছেরী শোক প্রকাশ করেন।

Wednesday, December 12, 2012

না'গঞ্জ বগুড়ায় আওয়ামী লীগের সশস্ত্র মিছিল

না'গঞ্জ বগুড়ায় আওয়ামী লীগের সশস্ত্র মিছিল


গতকাল মঙ্গলবার ১৮ দলীয় জোটের হরতাল চলাকালে বগুড়া শহর ও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সশস্ত্র মিছিল করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পুলিশের সামনেই রামদা, ছুরি ও লাঠি হাতে নিয়ে তারা মহড়া দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় এলাকাবাসীর মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। হরতালে ফতুল্লায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও বগুড়ায় হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশ ও সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সংর্ঘষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানো গ্যাস ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় তিন পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে হরতাল চলাকালে সকালের দিকে নারায়ণগঞ্জ শহর ও সিদ্ধিরগঞ্জে পিকেটাররা কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে। এ সময় ইটের আঘাতে পথচারী এনামুলসহ অন্তত ৩ জন আহত হন। পুলিশ শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ৮ জনকে আটক করেছে। এছাড়া দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জে পিকেটিংয়ের ছবি তুলতে গেলে দুইজন সিনিয়র ফটো সাংবাদিককে মারধর করে পুলিশ এবং তাদের প্রায় দেড় ঘণ্টা থানায় আটকে রাখে। পরে সাংবাদিকরা বিক্ষোভ করলে অভিযুক্ত এসআইকে ক্লোজ করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফতুল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ একটি হরতালবিরোধী মিছিল বের করে। মিছিলে ৫০-৬০ জন নেতাকর্মী অংশ নেন। এসময় অনেকের হাতে ধারালো রাম দা, ছুরিসহ বিভিন্ন দেশিয় অস্ত্র দেখা গেছে। হরতালবিরোধী শ্লোগান দিয়ে মিছিলটি সাইনবোর্ড এলাকায় ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়লেও কোন ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। ভোর সাড়ে ৬টার দিকে হরতালের সমর্থনে শহর বিএনপির নেতাকর্মীরা উকিলপাড়া এলাকা থেকে একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি চাষাঢ়া নূর মসজিদের সামনে এলে পুলিশ মিছিল থেকে শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালসহ ৮ জনকে আটক করে।

অন্যদিকে সকাল পৌনে ৭টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির নেতাকর্মীরা অধ্যাপক মামুন মাহমুদের নেতৃত্বে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় এলাকা থেকে একটি মিছিল বের করে। এসময় তারা ইটপাটকেল ছুঁড়ে ৭-৮টি যানবাহন ভাংচুর করে। পরে পুলিশ এসে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনার ছবি তুলতে গেলে পুলিশ ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার ও নিউএজের দুই ফটো সাংবাদিক এমরান হোসেন ও সৌরভ লস্করকে পেটানো শুরু করে। পরে তাদের থানায় নিয়ে আটকে রাখে। খবর পেয়ে শতাধিক সাংবাদিক সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সামনে এসে বিক্ষোভ শুরু করলে তাদের ছেড়ে দেয়া হয় এবং অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক (এস আই) মামুনকে ক্লোজ করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার শেখ নাজমুল আলম।

বগুড়া প্রতিনিধি জানান, হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের মধ্যদিয়ে বগুড়ায় হরতাল পালিত হয়েছে। হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশ ও সরকারি দলের নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সকালে শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া বাজারে হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে হরতাল সমর্থকদের ধাওয়া করে। এসময় হরতাল সমর্থকদের হামলায় ওয়াজেদ ও জাহিদসহ তিন পুলিশ আহত হন। পুলিশ হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দেড় শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও অর্ধশতাধিক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস সেল নিক্ষেপ করে।

অন্যদিকে বেলা ১২টার দিকে শহরের সাতমাথা থেকে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লাঠি ও চেলাকাঠ হাতে নিয়ে হরতালবিরোধী মিছিল বের করে। মিছিলটি ফতেহ আলী মোড়ে পৌঁছলে হরতাল সমর্থকরা তাদের ধাওয়া করে। এসময় মিছিলকারীরা পিছু হটলে ধাওয়াকারীরা কবি নজরুল ইসলাম সড়কে এসে বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। পুলিশ তাদের পিছন থেকে ধাওয়া করলে তারা সামতাথা চত্বরে গিয়ে উপর্যুপুরি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ সেখানেও রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস সেল নিক্ষেপ করে।

অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, ট্রেনে হামলা

হরতাল সমর্থকরা বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের নওদাপাড়ায় পিকেটিং করার সময় রংপুর থেকে বগুড়া অভিমুখী একটি অ্যাম্বুলেন্সে হামলা চালায়। রোগী ও তার স্বজনদের নামিয়ে দিয়ে পিকেটাররা তা ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পিকেটাররা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। এসময় পুলিশ তিন শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও অর্ধশতাধিক কাঁদানে গ্যাস সেল নিক্ষেপ করে পিকেটারদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

বগুড়া রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার বেনজুরুল ইসলাম জানান, সকালে শহরের কড়িতলা এলাকায় বোনারপাড়া অভিমুখী একটি ট্রেনের যাত্রীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এছাড়া সান্তাহার অভিমুখী একটি ট্রেন বগুড়া স্টেশন ছেড়ে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের তিনমাথা এলাকা অতিক্রম করার সময় পিকেটাররা লাইনের ওপরে আগুন ধরিয়ে দিলে ট্রেনটি বেশকিছু সময় আটকে থাকে। এছাড়া হরতাল চলাকালে শেরপুর ও শাজাহানপুরে বেশ কয়েকটি পত্রিকার গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাইটের সব তথ্য উধাও

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাইটের সব তথ্য উধাও:উপমহাদেশে তুমুল সাইবারযুদ্ধ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাইট হ্যাক্‌ড্‌- খবরটি জানা গিয়েছিল গতকাল সোমবার। এ প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে তখনো স্বাভাবিক হয়নি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট। পাকিস্তানের হ্যাকাররা সাইটটিকে হ্যাক করে লিখে দেয় : পাকিস্তান জিন্দাবাদ। তারা সেই সঙ্গে বার্তা দেয়: This is a Payback From Pakistan Cyber Army. This is not a game you kidz. Don�t play with fire.

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাইটের ঠিকানা : www.mofa.gov.bd. আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটে সাইটটিতে ঢুকে দেখা যায় সাইটটি উ্দ্ধার করা সম্ভব হলেও নেই কোনো তথ্য। সাদা পৃষ্ঠায় শুধু লেখা: Under Maintennace

hackread.com সাইটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে গত কয়েকদিন সাইবারযুদ্ধ ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। ৯ ডিসেম্বরের পৃথক দুটি খবরে বলা হয় বাংলাদেশের ২৬টিরও বেশি সাইট এবং ভারতেরও ৩ শ‌রও বেশি সাইটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে পাকিস্তানি হ্যাকাররা। ওদিকে পাকিস্তানে সরকারি সাইটসহ আড়াই শয়েরও বেশি সাইট হ্যাক হয়েছে ভারতীয় হ্যাকারদের হাতে।

বিশ্বজিতের হত্যাকারীরা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত কর্মী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্বজিতের হত্যাকারীরা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত কর্মী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গত রবিবারে ১৮ দলীয় জোটের ডাকা রাজপথ অবরোধ কর্মসূচিতে রাজধানীর পুরান ঢাকায় বিশ্বজিৎ দাস হত্যার সঙ্গে জড়িতরা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী নয় দাবি করে আজ মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, ইতিমধ্যে বিশ্বজিতের হত্যাকারী সন্দেহে পুলিশ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এরা কেউই ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী না, বহিষ্কৃত কর্মী। এই ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও আজকের মধ্যেই (মঙ্গলবার) গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান তিনি।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি মিলনায়তনে ডিজিটাল বাংলাদেশ ফোরাম আয়োজিত "যুদ্ধাপরাধের বিচার ও জামায়াত বিএনপির নৈরাজ্য প্রতিরোধে করণীয়" শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অপরাধের স্বর্গরাজ্য নয়। এখানে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। সবাইকেই বিচারের আওতায় আনা হবে। বিশ্বজিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনা হবে। বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে অন্যের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে দেবো না। বিএনপি-জামায়াত গণতন্ত্রের কথা বলে মানুষ হত্যা করে, এই দুই শক্তি যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে চায়। বিএনপি জামায়াতকে দেশ, স্বাধীনতা ও জনগণের শত্রু। এ ছাড়া বিএনপি শাসনামলে দেশজুড়ে সংঘটিত হত্যা ও নৈরাজ্যসহ সকল অপরাধের বিচার করা হবে বলে অঙ্গীকার করেন তিনি।

বিশ্বজিতের ঘাতকদের গ্রেপ্তারে হাইকোর্টের নির্দেশ

বিশ্বজিতের ঘাতকদের গ্রেপ্তারে হাইকোর্টের নির্দেশ

রবিবারের অবরোধে পুরান ঢাকায় বিশ্বজিত দাস নামের এক যুবককে হত্যায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই ঘটনার পর গণমাধ্যমে দোষী হিসাবে যাদের নাম এসেছে তারাসহ দায়ী কেউ যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারে সে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিশ্বজিতের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশনা চেয়ে করা একটি আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি ফরিদ আহমেদের বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।

সাপ্তাহিক সপ্তবর্ণা নামে এক পত্রিকার সম্পাদক নাজিম আহমেদেরে পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ ফৌজদারি কার্যবিধিতে হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদনটি দাখিল করেন।

একটি দৈনিকের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ওই আবেদনে বিশ্বজিত হত্যায় জড়িত হিসাবে রফিকুল ইসলাম, মীর মো. নূরে আলম, মাহফুজুর রহমান, ওবায়দুল কাদের, এমদাদুল হকের নাম উল্লেখ করা হয়। এদের সঙ্গে অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের আর্জিও জানানো হয় আবেদনে।