Pages

Sunday, December 23, 2012

অ্যাপল, স্যামসাংকে টেক্কা দিতে গুগল'র 'এক্সফোন'

অ্যাপল, স্যামসাংকে টেক্কা দিতে গুগল'র 'এক্সফোন'

স্মার্টফোনের বাজার যেভাবে বিশ্বব্যাপী বেড়ে চলেছে, তাতে করে প্রযুক্তি বিশ্বের সকলেই ঝুঁকে পড়েছে এই স্মার্টফোন উত্পাদনের দিকে। অনলাইন সার্চ জায়ান্ট গুগলও স্মার্টফোনের রাজ্যে প্রবেশ করেছে আগেই। তাদের 'নেক্সাস' সিরিজ দিয়ে ইতোমধ্যেই বাজারে নিজেদের সরব উপস্থিতির প্রমাণ দিয়েছে। আর স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট পিসির মতো ডিভাইসগুলো তৈরিতে সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতেই তারা সাড়ে ১২ বিলিয়ন ডলারে কিনে নেয় মটোরোলাকে। তবে গুগল তাদের নেক্সাস স্মার্টফোন দিয়েও আইফোন কিংবা গ্যালাক্সি স্মার্টফোনের সাথে পাল্লা দিয়ে উঠতে পারেনি। তবে হতাশ হওয়ার পাত্র নয় গুগল। আর তাই এবারে তারা স্মার্টফোনের বাজারের দুই জায়ান্ট স্যামসাং আর অ্যাপল'র সাথে বাজারের শীর্ষস্থান দখলে নিয়ে আসতে যাচ্ছে নতুন স্মার্টফোন। আর এই ফোনের কোডনাম রাখা হয়েছে 'এক্স ফোন'। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক সংবাদে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। তারা জানিয়েছে, গুগল'র কিছু কর্তাব্যক্তির কাছেই তারা এই খবর লাভ করেছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া খবরে জানা যায়, গুগল তাদের নতুন 'এক্স ফোন'কে বাজারের যেকোনো স্মার্টফোনের চাইতে ভিন্নরূপে নিয়ে আসতে চায়। আর সে কারণেই আপাতত তারা এই ফোনে চমকপ্রদ সব ফিচার যুক্ত করার জন্য গবেষণায় সময় কাটাচ্ছেন। চমকপ্রদ এসব ফিচারের মধ্যে যেমন নমনীয় ডিসপ্লে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে গুগল'র। আবার কিছুদিন আগেই গুগল কিনে নিয়েছে 'ভিউডল' নামের একটি প্রতিষ্ঠান যারা বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসে কোনো ছবি, ইশারা বা নড়াচড়াকে সনাক্ত করতে সক্ষম। 'এক্স ফোনে' তাই জেশচার রিকগনিশনের মতো ফিচার যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। আসলে আমরা যেভাবে স্মার্টফোনকে দেখে এসেছি, স্মার্টফোনে তার থেকে একেবারেই ভিন্ন একটি অভিজ্ঞতা সবাইকে উপহার দিতেই এই ধরনের গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে গুগল এবং মটোরোলা। এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য অবশ্য পাওয়া যায়নি গুগল'র কাছ থেকে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, নেক্সাস ফোন গুগল'র জন্য মূলত ছিল একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। নেক্সাস ফোনের মাধ্যমে তারা হার্ডওয়্যার ডিভাইসে নিজেদের প্রকৃত অবস্থাকে যাচাই করে নিয়েছে। আর এবারে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিয়েই তারা আনবে 'এক্স ফোন'। এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, 'এক্স ফোন' স্মার্টফোনের যাত্রা সফল হলে 'এক্স ট্যাব' কোডনামের ট্যাবলেট পিসি বাজারে নিয়ে আসবে গুগল। গুগল-মটোরোলার এসব যৌথ উদ্যোগ অ্যাপল বা স্যামসাংয়ের জন্য কিছু হলেও চিন্তার কারণ বটে।

রংপুরে নির্বাচনোত্তর সহিংসতা, নিহত ১

রংপুরে নির্বাচনোত্তর সহিংসতা, নিহত ১

রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে পরাজিত দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ডালিম মিয়া (২৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, রংপুর সিটি করপোরেশনের  ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের পরাজিত দুই কাউন্সিলর প্রার্থী বেলাল হোসেন (বক মার্কা) ও শামছুল আলম (হাতি মার্কা) পরাজয়ের কারণ হিসেবে একে অপরকে দোষারোপ করেন। এ নিয়ে গতকাল বেলা ১২টার দিকে শামছুল আলমের সমর্থকরা কিসামত বিষু নামক স্থানে বেলাল  হোসেনের বাড়িতে হামলা করলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ডালিম মিয়া, আলমগীর হোসেন, সাদ্দাম মিয়া, রাবেয়া বেগম,  মোকলেস মিয়া, সিফাত আলী,  রোসনা বেগম, বাবু মিয়াসহ ১০ জন আহত হয়। আহত ডালিম মিয়াকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। পরে পুলিশ গিয়ে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শামছুল আলম, মোকছেদ আলী, হামিদুল ইসলাম, শাহীন মিয়া,  সেলিম মিয়াসহ ১৪ জনকে আটক করেছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে দাঙ্গা পুলিশ  মোতায়েন করা হয়েছে।
ওদিকে নির্বাচন-উত্তর উত্তাল হয়ে উঠেছে রংপুর নগর। গতকাল রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা ৯ আসনের প্রার্থী মনোয়ারা সুলতানা মলি (কলস) প্রতীকের ছেঁড়া পরিত্যক্ত সিলমারা ব্যালট পেপার উদ্ধারের ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। প্রিজাইডিং অফিসার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে অবৈধভাবে ফলাফল ঘোষণা করে প্রতিপক্ষ প্রার্থী মঞ্জুরী বেগম (ফুটবল) কে জয়ী ঘোষণা বাতিল সহ পুনরায় ভোট গণনার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সহ মানববন্ধন করেছে ২১, ২৬ ও ২৭ নং ওয়ার্ডের এলাকাবাসী। কয়েকশ’ নারী ও পুরুষ রংপুর প্রেস ক্লাব চত্বরে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, বৃহস্পতিবার রসিক নির্বাচনে নির্বাচন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে প্রতিপক্ষ প্রার্থী মঞ্জুরী বেগম (ফুটবল) অবৈধভাবে ৪ ভোটের ব্যবধানে জয়ী ঘোষিত হয়েছে। নাটকীয় ভাবে ভোট গণনার শেষে মধ্যরাতে মঞ্জুরীকে ১০৮২৫ ভোটে জয়ী ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মনোয়ারা সুলতানা মলিকে ১০৮২১ ভোটে পরাজিত  ঘোষণা করা হয়। এদিকে ওই আসনের আদর্শপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রের পাশে গতকাল কলস প্রতীকে ছেঁড়া পরিত্যক্ত সিলমারা ব্যালট পেপার উদ্ধার করে এলাকাবাসী। ফলে ভোটার ও সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মনোয়ারা সুলতানা মলি বলেন, ভোট গণনার সময় তার  পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে এ অপকর্ম করা হয়েছে। এ সময় ফজলুল হক, হারুনুর রশিদ, কাসেম, রোজিনা, সুফিয়াসহ অন্যরা বলেন, অবিলম্বে এ ফলাফল বাতিল সহ বিষয়টি তদন্ত করে পুনরায় ভোট গণনা না হলে এলাকাবাসীকে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলে রংপুর অচল সহ তোলপাড় করা হবে। আর এ পরিস্থিতির জন্য প্রশাসন দায়ী থাকবে বলে ঘোষণা করা হয়। ওদিকে একই দাবিতে নগরে বিক্ষোভ করেছে ২২ নং ওয়ার্ডের হাকিমুজ্জামান, ৯, ১০, ১১ নং ওয়ার্ডের মহিলা প্রার্থী বিভা রানী ও ৩১, ৩২, ৩৩ নং ওয়ার্ডের মহিলা প্রার্থী সহ অন্যরা।
যারা কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন
রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩৩ ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলররা হলেন- ১ নং ওয়ার্ড: রফিকুল ইসলাম, ২ নং ওয়ার্ড: আ. কাদের, ৩ নং ওয়ার্ড: আশেক আলি, ৫ নং ওয়ার্ড: মোখলেছুর রহমান, ৬ নং ওয়ার্ড: ফয়জুল হক, ৮ নং ওয়ার্ড: আবুল মনজুম, ৯ নং ওয়ার্ড: নজরুল ইসলাম নজু, ১৩ নং ওয়ার্ড: রাজু আহমেদ, ১৫ নং ওয়ার্ড: শাফিয়ার রহমান শাফি, ১৭ নং ওয়ার্ড: জহুরুল ইসলাম, ১৮ নং ওয়ার্ড: নিজামুল হাসান বাদল, ১৯ নং ওয়ার্ড: দুলাল, ২০ নং ওয়ার্ড: তৌহিদুল ইসলাম, ২১ নং ওয়ার্ড: মাহাবুবার মনজু, ২২ নং ওয়ার্ড: শাহজালাল করিম বকুল, ২৩ নং ওয়ার্ড: সেকেন্দার আলি, ২৪ নং ওয়ার্ড: হাফিজ আহম্মেদ ছুট্টু, ২৫ নং ওয়ার্ড: নুরুন্নবী ফুলু, ২৬ নং ওয়ার্ড: আ. রাজ্জাক মণ্ডল, ২৭ নং ওয়ার্ড: আকরাম হোসেন, ২৮ নং ওয়ার্ড: ইদ্রিস আলি, ২৯ নং ওয়ার্ড: মোকতার হোসেন, ৩০ নং ওয়ার্ড: জাহাঙ্গীর আলম, ৩১ নং ওয়ার্ড: আকতারুজ্জামান ভুট্টু, ৩২ নং ওয়ার্ড: আবুল কাশেম, ৩৩ নং ওয়ার্ড: সুলতান আলম। এছাড়া, ১১ আসনের সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে ঘোষিত নির্বাচিতরা হলেন- দিলারা বেগম, হাফিজা খাতুন, আঞ্জুআরা গিনি, জাফরিন আরা রিপা, হাসনা বানু, মঞ্জুরী বেগম, ফরিদা কালাম, নাজমুন্নাহার নাজমা।

বিশ্বজিত্ হত্যা: পুলিশের তদন্ত শুরু, ঘটনাস্থল পরিদর্শন

বিশ্বজিত্ হত্যা: পুলিশের তদন্ত শুরু, ঘটনাস্থল পরিদর্শন

পুরান ঢাকায় ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের নির্মম নির্যাতনে দর্জি বিশ্বজিত্ দাস হত্যার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শিগগিরই রিপোর্ট দেয়ার ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মিলি বিশ্বাসকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন:ডিএমপির যুগ্ম-কমিশনার (ডিবি) শেখ মারুফ হাসান ও ডিসি ট্রাফিক (পূর্ব) ইকবাল হোসেন। মিলি বিশ্বাস ইত্তেফাককে বলেন, শনিবার চিঠি পাওয়ার পরই তারা কাজ শুরু করেছেন। গতকাল তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আজ থেকে পুরোদমে কাজ শুরু করবেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিশ্বজিেক নির্মমভাবে পেটানোর সময় পাশেই দুইজন পুলিশ সদস্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারা কোন ভূমিকা রাখেননি। এছাড়া একজন পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাও ঘটনাস্থলের অদূরেই ছিলেন বলে কেউ কেউ জানিয়েছেন। এসব বিষয় খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি।

কমিটির সদস্যরা বলেছেন, কোন কোন পুলিশ ওই দিন ঘটনাস্থলের আশপাশে দায়িত্বে ছিলেন—তাদের সঙ্গে কথা বলা হবে। এছাড়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে আরো কথা বলে যত দ্রুত সম্ভব রিপোর্ট দেয়া হবে বলে তারা জানান।

ফের বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম

ফের বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম

আবারও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশে তেলের দাম কম হওয়ায় এ খাতে সরকারের ভর্তুকি কমাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বিদ্যুৎ ভবনে তিনি
সাংবাদিকদের বলেন, তেলের দাম বাড়ানো হলে বাজেটে ভর্তুকির অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় করা যাবে। চলতি মাসেই তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, এখনও প্রতি লিটার ডিজেলে আমরা ১৮ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছি। বিদ্যুতের দামও আবার বাড়ানো হচ্ছে কি না জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, এটা বিইআরসির বিষয়। তবে সর্বশেষ দাম বাড়ানোর বিষয়ে বিতরণ কোম্পানিগুলো তাদের অভিযোগ বিইআরসিকে জানিয়েছে। তারা এ বিষয়ে গণশুনানি করবে।
এদিকে বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত সেমিনারে তৌফিক-ই-ইলাহী বলেন, ফুলবাড়ীতে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা কিভাবে হবে- সে বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে কোন কোম্পানিকে কয়লা উত্তোলনের কাজ দেয়া হবে না। তিনি বলেন, ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করতে গেলে ভূগর্স্থ পানির ব্যবস্থাপনা কিভাবে হবে সেটা আমরা এখনও জানি না। এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য আইডব্লিউ এম কে (ইনস্টিটিউট অব ওয়ারটার ম্যানেজমেন্ট) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আগে নিজে নিশ্চিত হতে হবে, পরে কাজ দেয়ার সিদ্ধান্ত।
ফুলবাড়ীতে এশিয়া এনার্জি কাজ পাওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে কোন চিঠি দিয়েছে কি না জানতে চাইলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক বলেন, কোন কোম্পানি কাজ করতে চাইবে- এজন্য তারা ব্যক্তিগতভাবে চিঠি দিতে পারে, তাদের সরকারের মাধ্যমেও চিঠি দিতে পারে। কিন্তু কি করা হবে সেটা আমরা বিবেচনা করব। দেশের জন্য যেটা ভাল হবে সেটাই আমরা করব।

শিবির নেতাদের ধরতে ডিবি’র কৌশল

শিবির নেতাদের ধরতে ডিবি’র কৌশল


ছাত্রশিবির নেতাদের গ্রেপ্তার করতে নয়া কৌশল নিয়েছে ডিবি। নয়া কৌশলে সফলও হয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। একই দিনে তারা গ্রেপ্তার করতে পেরেছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ২৮ নেতাকে। এক নেতাকে গ্রেপ্তার করে তার মোবাইল থেকে ফোন করে ও মেসেজ পাঠিয়ে অন্য নেতাদের ডেকে এনে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে বার বার চেষ্টা করেও মহানগর শিবির নেতাদের গ্রেপ্তার করতে সফল হতে পারছিল না গোয়েন্দা পুলিশ। শিবির ধরার নয়া কৌশলে তারা সফল হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা।
গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রশিবিরের ২৮ নেতার মধ্যে ২৭ জনকে ৩ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। পুলিশের তেজগাঁও থানার একটি মামলায় গতকাল তাদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ২৭ জনের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। একজন অসুস্থ থাকায় তার রিমান্ড আবেদন নাকচ করে আদালত। অন্যদিকে আটক জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মুক্তির দাবিতে মিছিলের প্রস্তুতিকালে গতকাল সকাল ১১টায় রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকা থেকে শিবিরের ৯ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল পর্যন্ত তাদেরকে আদালতে নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তারকৃত জামায়াতের প্রচার সম্পাদক তাসনিম আলমকে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেপ্তারে নতুন কৌশলে গোয়েন্দা পুলিশ দুই দিনে শিবিরের কেন্দ্রীয় এক নেতা, মহানগরের বিভিন্ন থানার সভাপতিসহ গুরুত্বপূর্ণ ২৮ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। এই অভিযানে গোয়েন্দা পুলিশের একজন উপ-পুলিশ কমিশনার, দুই অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, একজন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারসহ একদল চৌকস সদস্য অংশ নেন। গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াত নেতাদের সাজা হলে সারাদেশে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাবে শিবির- এমন তথ্যের ভিত্তিতে শিবির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারে নতুন করে অভিযান শুরু হয়েছে। ডিবি’র এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেপ্তার করতে নানা তৎপরতা চালালেও এতদিন বড় ধরনের সফলতা আসেনি। হার মানতে হয়েছে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের। এমন অবস্থায় নতুন করে কৌশল নিয়ে মাঠে নেমে কিছুটা সফলতা পাওয়া গেছে।
ওই কর্মকর্তা জানান, অভিযানে একজন উপ-পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে যোগ হয় ডিবি’র দু’জন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ও পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী সোয়াটের একজন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার। এরা হলেন- মশিউর রহমান, শহিদুল্লাহ ও আশিকুর রহমান। এই টিম কাজ শুরু করে ১৯শে ডিসেম্বর থেকে। ২০শে ডিসেম্বর রাজধানীসহ সারাদেশে ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের হরতালের আগের দিন গেণ্ডারিয়া থেকে তিনজনকে আটক করার পর তাদের তথ্যের ভিত্তিতে শিবিরের কেন্দ্রীয় মাদরাসা বিষয়ক সম্পাদক শাহীনুর রহমান ও নারায়ণগঞ্জ জেলা শিবিরের সভাপতি ইলিয়াস মোল্লাকে আটক করা হয়। তাদের দিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতাদের ফোন করে আনার চেষ্টা করলেও শিবিরের বেশির ভাগ নেতা বিষয়টি বুঝে যান। তাই রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি করে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি ডিবি। তবে শাহীনুর রহমানের গ্রেপ্তারের খবর জানতেন না মহানগর পশ্চিমের সভাপতি সাজ্জাদ হোসাইন। এ অবস্থায় তার মোবাইল থেকে ফোন করে তার অবস্থান শনাক্ত করে ডিবি। পরে সন্ধ্যায় আটক করা হয় সাজ্জাদকে। এরপর ডিবি পুলিশ পুরো কৌশলের প্রয়োগ করতে থাকে। সাজ্জাদের মোবাইল থেকে ফোন করে আনা হয় সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়াকে। দু’জনকে একত্র করে এর পর একে একে ফোন করা হয় পশ্চিমের ১২ থানার সভাপতি ও সেক্রেটারিকে।
ডিবি’র ওই কর্মকর্তা জানান, সাজ্জাদ ও কিবরিয়া প্রথমে অন্য নেতাদের ফোন করতে চাননি। পরে নানা কৌশলে বাধ্য করা হয় তাদের। ‘মিরপুর ১০ নম্বরে আগামীকালের কর্মসূচি নিয়ে জরুরি একটি বৈঠক আছে তাড়াতাড়ি আসো’- এমন একটি বার্তা পাঠানো হয় নেতাদের কাছে। ওই কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি টনিকের মতো কাজ করে। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ১২ থানার সভাপতি ও সেক্রেটারিসহ ২৮ জনকে আটক করে পুলিশ। তাদের নিয়ে আবার গভীর রাতে রাজধানীর বিভিন্ন মেসে তল্লাশি চালানো হয়। ডিবি’র ওই কর্মকর্তা মনে করেন কৌশলী এই ভূমিকার কারণে এক সঙ্গে শিবিরের এত নেতাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই আটকের মধ্য দিয়ে শিবিরের তৎপরতা কিছুটা হলেও কমবে। শিবিরের একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেছেন, ‘গোয়েন্দা পুলিশের কৌশলে কয়েকজন নেতা ধরা পড়েছেন এ কথা সত্য। কিন্তু তাই বলে শিবিরের তৎপরতা কমে যাবে এমনটা আমরা মনে করি না।’
তিনি জানান, রাতেই তাদের কাছে খবর আসে সাজ্জাদ গ্রেপ্তার হয়েছেন। আর বিষয়টি জানাজানি হওয়াতে কর্মীরা সতর্ক হয়ে গেছে। এখন আর ওই কৌশল কাজে লাগবে বলে তিনি মনে করেন না।
ছাত্রশিবিরের এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার এড়াতে নানারকম নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে শিবিরের একাধিক নেতাকে বাসা পাল্টানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কারও কারও মোবাইল ফোন পরিবর্তন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এমনকি পরিচিত কারও নম্বর থেকে ফোন কল এলে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের কথায় কোথাও বের না হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া, বের হওয়ার জন্য বিশেষ একটি সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহারের নির্দেশ রয়েছে। এবিষয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, আমাদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রশিবির নেতারাও গ্রেপ্তার এড়াতে কেন্দ্র সহ জেলা-উপজেলা নেতাদের জন্য বিশেষ সাংকেতিক চিহ্ন পাসওয়ার্ড পদ্ধতি চালু করেছে বলে ছাত্রশিবিরের এক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন।
ফকিরাপুলে শিবিরের ৯ কর্মী আটক
রাজধানীর ফকিরাপুল ও দৈনিক বাংলার মোড় এলাকায় ৯ শিবিরকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতাসহ মহানগরের গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীর মুক্তির দাবিতে গতকাল সকালে শিবির মিছিল বের করলে পুলিশ ওই মিছিল থেকে ওই ৯ জনকে আটক করে। আটককৃতদের থানা হাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সকাল ১১টার দিকে ফকিরাপুল থেকে শতাধিক শিবিরকর্মী একটি মিছিল বের করার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ তাদের ধাওয়া করে আটক করে। পল্টন থানার এসআই আলাউদ্দীন আলী জানান, মতিঝিল থানার ফকিরাপুল ও দৈনিক বাংলার মোড়ে গতকাল সকাল ১১টার দিকে শিবির কর্মীরা একত্রিত হয়। পুলিশ সেখানে গিয়ে জমায়েতের কারণ জানতে চাইলে শিবির কর্মীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ ধাওয়া করে ফকিরাপুল ও দৈনিক বাংলার মোড় থেকে ৯ জনকে আটক করে।

Friday, December 21, 2012

গোয়েন্দা জালে সাবেক দুই মন্ত্রী

গোয়েন্দা জালে সাবেক দুই মন্ত্রী

 পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলা তদন্তে কানাডায় টিম পাঠাচ্ছে দুদক

পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র মামলায় সন্দেহভাজনদের তালিকায় নাম থাকা সাবেক দুই মন্ত্রীর গতিবিধির উপর তীক্ষ্ন নজর রাখছেন গোয়েন্দারা। আসামি না হলেও মামলার তদন্ত চলাকালে তাদের কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখবে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদক কমিশনার বদিউজ্জামান সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, 'মামলার এজাহারে ঘটনার বিবরণে সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাই তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকবেন।'

দুদক কমিশনার আরো বলেন, মামলার অন্যতম তিন আসামি এসএনসি লাভালিনের সাবেক কর্মকর্তা রমেশ, ইসমাইল ও কেভিনের বক্তব্য নিতে তদন্ত টিম শিগগিরই কানাডায় যাবে। রমেশের ডায়েরিতে কেন ৫ ব্যক্তির নাম (ওই দুই মন্ত্রীসহ) লেখা রয়েছে- সেটা খুঁজে বের করা হবে। তবে কানাডায় যাওয়ার দিনক্ষণ সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি। দুদক কমিশনার বলেন, কিছু কাগজপত্রের ওপর নির্ভর করে এটাকে ষড়যন্ত্র মামলা বলা হচ্ছে। কিন্তু ষড়যন্ত্র যে হয়েছে সেটা প্রতিষ্ঠা করতে হলে তদন্ত কর্মকর্তাদের ওই ডায়েরি পেতে হবে। ডায়েরিতে যাদের নাম লেখা হয়েছে, তাদের সঙ্গে আসামিদের যোগাযোগ হয়েছে- এটা প্রতিষ্ঠা করা গেলে মামলা একটি জায়গায় দাঁড়াবে। এদিকে এজাহারভুক্ত বাংলাদেশের চার আসামিকে ধরতে গ্রেফতার অভিযান চলছে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে দুদক কাজ শুরু করেছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাতজনের বিরুদ্ধে গত সোমবার রাজধানীর বনানী থানায় মামলা করে দুদক। তবে এজাহারের বর্ণনায় সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর নাম থাকলেও আসামির তালিকায় তাদের নাম নেই। এই মামলায় বাংলাদেশের চার আসামি হলেন, সাবেক সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগে দরপত্র মূল্যায়নে গঠিত কমিটির সদস্য সচিব কাজী মো. ফেরদৌস, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজ আহমেদ জাবের এবং ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড প্ল্যানিং কনসালট্যান্ট লিমিটেডের (ইপিসি) উপপরিচালক মো.মোস্তফা। এছাড়া কানাডিয়ান তিন আসামি হলেন, এসএনসি লাভালিনের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহ ও কেভিন ওয়ালেস।

১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে ১৪০ কোটি ডলার পাচার

১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে ১৪০ কোটি ডলার পাচার

ঘুষ, দুর্নীতি, কর ফাঁকি, ভুল চালানসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ২০০১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ১৪০ কোটি ডলারেরও বেশি পাচার হয়েছে। এর পরিমাণ ১৪ দশমিক ০৫৯ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের চালানে বেশি-কম দেখিয়ে পাচার করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫৯৭ বিলিয়ন ডলার। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবাহবিষয়ক এক রিপোর্টে এসব কথা বলেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক গ্লোবাল ফাইন্যান্স ইন্টিগ্রিটি। সমপ্রতি ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ অর্থপাচারকারী দেশগুলোর তালিকায় ১৪৩টি উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে ৪৪তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। আর দক্ষিণ এশিয়ায় এক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান এক নম্বরে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। এতে বলা হয়- অপরাধ, দুর্নীতি, কর ফাঁকি সহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলো ২০০১ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে প্রতি বছর মোট ৫ লাখ ৮৬ হাজার কোটি ডলার হারিয়েছে। সবচেয়ে বেশি পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে যথাক্রমে চীন, মেক্সিকো, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব ও রাশিয়া থেকে। এছাড়া, মোট পাচারকৃত অর্থের ৬১ শতাংশই পাচার হয়েছে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে। এমনকি তালিকার প্রথম দশটি দেশের পাঁচটিই এশিয়ার। সেগুলো হলো- চীন, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া। জিএফআই জানায়, এ সময়ে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর গড়ে পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ ১৪০ কোটি ডলারের বেশি। সর্বোচ্চ পাচার হয়েছে ২০০৬-০৭ অর্থবছরে। এর পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি ডলার। তবে ২০১০ সালে এ পাচারের হার উল্লেখযোগ্য হারে নেমে আসে। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ২০০১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর উন্নয়নশীল দেশগুলোর মোট বার্ষিক উন্নতির পরিমাণ প্রায় আট হাজার ৮০০ কোটি ডলার।  মোট বার্ষিক অর্থপাচার এর অন্তত ১০ গুণ। উন্নত দেশগুলোতে এই বিপুল অর্থ পাচারের হার কমানোর জন্য অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার পরামর্শ দিয়েছে জিএফআই।

অতিরিক্ত লবণাক্ততায় মরে যাচ্ছেটেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের গাছ

অতিরিক্ত লবণাক্ততায় মরে যাচ্ছেটেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের গাছ


দীর্ঘদিন সাগরের জোয়ার-ভাটার আওতায় থাকায় লবণাক্ততায় টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ এলাকার গাছপালা মরে যাচ্ছে। মরছে রাস্তার ধারের ও সাগর তীরের নারিকেল ও সুপারি গাছ। এভাবে গাছপালা মরে যাওয়ায় এলাকার লোকজনের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠা দেখা দিয়েছে। মূলত এ এলাকার বেড়িবাঁধের দুই কিলোমিটার অংশ গত জুনের জলোচ্ছ্বাসে ভেঙ্গে যায়। এখান দিয়ে পানি ঢুকে গাছপালার মৃত্যুসহ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।

শাহপরীর দ্বীপের বেড়িবাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত ওই দুই কিলোমিটার অংশ সংস্কারে পানি উন্নয়ন বোর্ড দীর্ঘসূত্রতা করছে। এদিকে গত মাসে শুরু হয়েছে লবণ চাষাবাদের মৌসুম। কিন্তু একটি রিং বাঁধের অভাবে ঠিক সময়ে চাষিরা লবণ চাষাবাদে নামতে পারেনি। প্রতিদিন জোয়ার-ভাটার সময় টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়কে পানি উঠে। লবণ পানিতে রাস্তার পাশের গাছগুলো মরে যাচ্ছে। এছাড়া সমুদ্র তীরবর্তী শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়ার বেশকিছু সুপারি বাগানে লেগেছে মড়ক। কী কারণে মড়ক লেগেছে তা বলতে পারছে না এলাকার লোকজন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ ইছমাইল জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতি বছর অসময়ে কাজ শুরু করে। যথাযথভাবে কাজ না করায় বার বার বাঁধ ভেঙ্গে যায়। আর এ সবের খেসারত দিতে হয় শাহপরীর দ্বীপবাসীকে। চলতি মাসে রিং বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করলেও মূল বাঁধ নির্মাণের কোন খবর নেই। পাউবো কর্মকর্তারা বছরের পর বছর টেকসই বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দিলেও উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নির্মিত বাঁধগুলোও ক্রমান্বয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজারের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় বেড়িবাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত দুই কিলোমিটার অংশ সংস্কারের জন্য ১০৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। ২৪ ডিসেম্বর পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে এটি অনুুমোদিত হলে চলতি শুষ্ক মৌসুমে টেকসই বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।

বন্দুকযুদ্ধে নিহত নোয়াখালীর নিজাম ডাকাত

বন্দুকযুদ্ধে নিহত নোয়াখালীর নিজাম ডাকাত


র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নোয়াখালীর আলোচিত নিজাম ডাকাত নিহত হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৩টায় সুবর্ণচরের সেন্টার বাজারের মানিকের বাড়ির পাশে একটি বাগানে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশী বন্দুক, ইতালির তৈরী পিস্তল ও ছয়টি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে ৮ জনকে। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে জয়নুল বাহিনী (৩৮), ফয়েজ কেরানী (৫০), সিরাজ বাহিনী (৪০), আকবর খাঁ (৪৫)। বাকিদের নাম পাওয়া যায়নি। চর জব্বার থানার ওসি মোশাররফ হোসেন তরফদার ও হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন তরফদার বলেন, নিজাম ডাকাত শুধু হাতিয়া নয়, সে পুরো উপকূলের ত্রাস। তার বিরুদ্ধে হাতিয়া, চরজব্বর, মনপুরা, সন্দ্বীপ, ভোলা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন থানায় প্রায় ৫০টির মতো মামলা আছে। ১৩টি মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব ১১-এর লে. কর্নেল নওরোজ এহসানের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় তাদের উদ্দেশ্য করে পাল্টা গুলি ছোড়ে নিজাম ডাকাত। গুলি বিনিময়ের এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে বন ও জলদস্যু সম্রাট নিজাম ডাকাত নিহত হয়। পরে র‌্যাব সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর থানায় নিয়ে আসে। সেখানে তার সুরতহাল তৈরি করা হয়। এরপর তার লাশ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ সময় তার এক স্ত্রী উপস্থিত ছিল। হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোক্তার হোসেন বলেন, নিজাম ডাকাত হাতিয়ার চরাঞ্চল ও মেঘনার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। সে নদীতে ডাকাতি, চরাঞ্চলের ভূমিহীনদের ভূমি দখল, ধর্ষণ, লুটপাট, অপহরণসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড করে আসছিল দীর্ঘ চার বছর ধরে। তার নিয়ন্ত্রণে ছিল একদল সুসংগঠিত জল ও বনদস্যু বাহিনী। তিনি বলেন, ‘ইতিপূর্বেও তার আস্তানায় র‌্যাব-পুলিশ-কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করেছে। কিন্তু সে সময় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এদিকে হাতিয়ার মাছ ব্যবসায়ী ও জেলেরা জানান, নদীতে মাছ শিকারে গেলে তাদের নিজাম ডাকাত বাহিনীর আতঙ্কে থাকতে হতো। এ বাহিনীর হামলা, লুটপাট, অপহরণসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ ছিলেন তারা। নিজাম ডাকাত লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী গ্রামের মৃত রুহুল আমিনের ছেলে।
ভূমিহীনদের স্বস্তি, আনন্দ মিছিল: এদিকে নিজাম ডাকাতের মৃত্যুতে চরাঞ্চলে স্বস্তি নেমে এসেছে। স্থানীয় ভূমিহীনরা একত্রিত হয়ে নিজাম ডাকাতের দলের লোকজনকে ধাওয়া করে গণধোলাই দিচ্ছে। এ সময় ভূমিহীনরা চরের বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল করেছে।
নিজাম ডাকাতের স্থলাভিষিক্ত বাহার কেরানী: অপরদিকে নিজাম ডাকাত নিহত হওয়ার পর তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দলের সদস্যরা নিজাম ডাকাতের সেকেন্ড-ইন কমান্ড বাহার কেরানীকে নির্বাচিত করেছে। চরাঞ্চলের শীর্ষ জলদস্যু বাশার মাঝি নিহত হওয়ার পর তার স্থান দখল করে নেয় নাসির কেরানী। কিন্তু তার সঙ্গে হাতিয়ার স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার চাঁদা নিয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। পরে ওই নেতার ছত্রচ্ছায়ায় নাসির কেরানীকে হটিয়ে সেই স্থান দখল করে নেয় নিজাম ডাকাত। পরবর্তীকালে নিজাম ডাকাতের রাজত্ব চলাকালে তার একান্ত কর্মকাণ্ডে বিশ্বস্ত হয়ে ওঠে বাহার কেরানী। নিজামের অনুপস্থিতিতে তার বাহিনীর সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ করতো সে। চাঁদাবজি, অপহরণ, মুক্তিপণ, হত্যা, ধর্ষণসহ সকল কাজের নেতৃত্ব দিতো। নিজাম বাহিনী মেঘনা থেকে জেলেদের নৌকাসহ অপহরণ করে তার আস্তানায় নিয়ে গেলে সমঝোতার দায়িত্ব ছিল বাহার কেরানীর ওপর। এসব অপরাধে তার বিরুদ্ধে হাতিয়া, মনপুরা, সুবর্ণচরসহ কয়েকটি থানায় হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণসহ ৬ ডজন মামলা হয়েছে।
কে এই বাহার কেরানী? হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৭নং পশ্চিম সোনাদিয়া গ্রামের মৃত পাটোয়ারী সরদারের ছেলে বাহার কেরানী। বর্তমানে ক্যারিংচরের বাথানখালী গ্রামে তার বাড়ি। সে কখনও লোকালয়ে আসে না। এমনকি নিজ বাড়ি হাতিয়াতেও প্রকাশ্যে তাকে দেখা যায়নি। বাহার কেরানী বাশার মাঝির হিসাব রক্ষকের (কেরানী) দায়িত্ব পালন করতো। একাধিক মামলার পলাতক এ আসামি পরবর্তীকালে চরাঞ্চলের নিজাম ডাকাতের সেকেন্ড ইন-কমান্ড হিসেবে কাজ করে। নিজাম ডাকাতের রেখে যাওয়া ভারি অস্ত্রও তার কাছে রয়েছে। এ ব্যাপারে হাতিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যাপক মো. ওয়ালী উল্লাহ বলেন, নিজাম ডাকাত নিহত হয়েছে। এতে এমন কোন সুসংবাদের কিছুই নেই- যতক্ষণ পর্যন্ত না তার গড়ফাদারকে চিহ্নিত না করে বিচারের আওতায় আনা হবে। এটা না করতে পারলে আরেক নিজামের উত্থান ঘটবে। একই ধরনের কথা বললেন স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম। তিনি বলেন, নিজাম ডাকাত দেশের উপকূলের ত্রাস। বহুবার র‌্যাব-পুলিশ পাঠিয়েও তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। সে স্থানীয় এক নামধারী নেতার ছত্রচ্ছায়ায় থেকে এত দিন দ্বীপের মানুষের ওপর তাণ্ডব চালিয়ে আসছিল। ফজলুল আজিম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যদি নিজাম ডাকাতের গড়ফাদারকে গ্রেপ্তার করা না হয় তাহলে আরেক নিজামের সৃষ্টি হবে।

Thursday, December 20, 2012

দুধ : প্রতিদিন দুই কাপ

দুধ : প্রতিদিন দুই কাপ দুধকে বলা হয় সুষম খাবার। শিশু মায়ের বুকের দুধ ছাড়ার পর পরিমাণ মতো গরুর দুধ খেলে শরীরের হাড় ও পুষ্টি বিকাশে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু 'পরিমাণ' মানে কতটুকু তা এত দিন পর্যন্ত নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। গবেষকরা বলছেন, প্রতিদিন দুই কাপ গরুর দুধ ভালো স্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা দেয়। কানাডার সেন্ট মাইকেল হাসপাতালের শিশুরোগ চিকিৎসকরা ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তাঁদের কাছে চিকিৎসা নিতে আসা এক হাজার ৩০০ স্বাস্থ্যবান শিশুর ওপর গবেষণা চালিয়ে এ সিদ্ধান্তে পেঁৗছেন।
সঠিক পরিমাণ জানা না থাকার কারণে অনেকে মনে করেন, যত বেশি দুধ খাওয়ানো যাবে ততই শিশুর পুষ্টি বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, অধিক পরিমাণে দুধ পানের কারণে শরীরে লৌহের
(আয়রন) পরিমাণ উল্টো কমতে থাকে। গঠনগত কারণে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা শরীরে বেড়ে গেলে তা লৌহের পরিমাণ কমাতে থাকে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, দুই কাপ সমপরিমাণ গরুর দুধ প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকলে শিশু প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন, ক্যালসিয়াম ও আয়রন পেতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সব উপাদান সুষমভাবে শরীরে বজায় থাকে। গবেষকরা জানিয়েছেন, শীতকালে শিশুর ত্বকে তুলনামূলক কালচে রং দেখলে বুঝতে হবে, তার শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।
গবেষকদলের প্রধান শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ড. জোনাথন মেগুর জানিয়েছেন, কী পরিমাণ গরুর দুধ দরকার সে সম্বন্ধে মায়েদের যেমন অগুনতি জিজ্ঞাসা থাকে, তেমনি পেশাদার চিকিৎসকরাও সঠিক পরিমাণ বলতে পারেন না। শিশুর শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি ও আয়রনের স্থিতি মাপার জন্য তাঁরা এ গবেষণা চালিয়েছেন বলে তিনি জানান।

বিচারকদের জন্য প্রধান বিচারপতির সতর্ক বার্তা

বিচারকদের জন্য প্রধান বিচারপতির সতর্ক বার্তা


বিচারকদের জন্য সতর্ক বার্তা উচ্চারণ করেছেন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন। বলেছেন, আমি বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সংযত আচরণ প্রত্যাশা করি। অতীতে আপনারা দেখেছেন, সংযত আচরণ না করায় বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আমরা পিছপা হবো না। এটা অত্যন্ত স্পষ্ট করেই বলছি। গতকাল সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে জেলা জজ ও সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেয়া অভিভাষণে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, কোন কোন জেলা জজের সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের অভাবে কয়েকটি জজশিপ ও ম্যাজিস্ট্রেটশিপে কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটছে- যা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব ঘটনায় বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে আমি ব্যথিত ও মর্মাহত হয়েছি। তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে, বিচার বিভাগ জনগণের শেষ আশ্রয়স্থল। যুগ যুগ ধরে জনগণ বিচার বিভাগের প্রতি তাদের আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করে অন্য বিভাগ থেকে আলাদা মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। আমি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে নৈতিকতা নিয়ে যেসব কথা বলি, কেতাবি কথা সবারই জানা আছে। আমি মনে করি, এখনও বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। তাকে কিছু ব্যক্তি-বিশেষের ভুল-ভ্রান্তির জন্য ভূলুণ্ঠিত হতে দেয়া যায় না। আমি বিচারকদের সৎ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন দেখতে চাই। বিচারে আপনারা হবেন দৃঢ় এ নির্ভীক। জনগণও এটা প্রত্যাশা করে। প্রধান বিচারপতি বলেন, সাংবিধানিক বিদ্যমান বিধান ও মাসদার হোসেন মামলার নির্দেশনা অনুসারে অধঃস্তন সকল আদালত ও ট্রাইব্যুনালের ওপর সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধায়ন ও নিয়ন্ত্রণ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আমাদের আলোচনার প্রেক্ষিতে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। অত্যন্ত উচ্চমহল থেকেই দিয়েছেন। আশা করি অতি শিগগিরই বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করে আমরা সুপ্রিম কোর্ট থেকে আইন ও সংবিধান অনুসারে আমাদের যথাযথ দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হবো। এ বিষয়ে সকল বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাগণ স্ব স্ব অবস্থান থেকে যথাযথভাবে কাজ করে যাবেন বলে আমি প্রত্যাশা করি।

কান টানলে মাথা আসে, তাই আবুলরা বাদ

কান টানলে মাথা আসে, তাই আবুলরা বাদ


কান টানলে মাথা আসে বলেই পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ঘটনায় আবুলদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বলেছেন, আপনারা সরকারের কাছে একবার জানতে চান কেন পদ্মা সেতু হলো না? কেন আবুলদের বিরুদ্ধে মামলা হয় না। আসলে আবুলদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি কারণ কান টানলে মাথা আসে। তাদের টান দিলেই মাথা চলে আসবে। রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা ও সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। খালেদা জিয়া বলেন, পদ্মা সেতুর কাজ শুরুর আগেই সরকারের লোকজন বিদেশে ঘুষ আদান-প্রদান করেছে। তাই দীর্ঘদিন টালবাহানার পর সরকার বিশ্বব্যাংককে শর্ত দিয়েছে টাকা দিলে আবুলদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। সরকারের এ শর্তেই প্রমাণ হয় দুর্নীতি হয়েছে এবং সরকারই তা স্বীকার করে নিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার ব্যস্ত কমিশন নিয়ে ও চোরদের বাঁচাতে। সরকারের ডানে চোর, বাঁয়ে চোর। মন্ত্রী, এমপি, উপদেষ্টা, আত্মীয়-স্বজনসহ সরকার নিজেই চোর। হলমার্ক, সোনালী ব্যাংক লুটপাট করেছে সরকারের লোকজন। আওয়ামী লীগ শেয়ারবাজার লুটের মাধ্যমে দেড় কোটি মানুষকে নিঃস্ব করেছে। প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়-স্বজন ভিওআইপি ব্যবসার মাধ্যমে দেশকে লুটেপুটে খাচ্ছে। বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ২৫ হাজার নেতাকর্মীকে কারাবন্দি করেছে সরকার। কিন্তু মামলা ও গ্রেপ্তার করে আন্দোলন দমানো যাবে না। একদল গ্রেপ্তার হলে আন্দোলনে আরেক দল যোগ হবে। এখন যোগ হওয়ার সময়।
বিরোধী নেতা বলেন, মানচিত্র বদলে দেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তাই সীমান্তে আমাদের ভাইদের হত্যা করা হচ্ছে। ফেলানীদের হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। কিন্তু সরকার প্রতিবাদ করছে না। তিনি বলেন, বিদেশী ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে আমরা সমমর্যাদার ভিত্তিতে বন্ধুত্ব চাই। মাথা উঁচু করে থাকতে চাই। মাথা নিচু করে, হাত জোড় করে নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ দেশের মানুষকে যেভাবে পদানত করে রেখেছে ঠিক তেমনি তারা বিদেশে মাথা নত করে রয়েছে। এর মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় দীর্ঘস্থায়ী হতে চায়। খালেদা জিয়া বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম আওয়ামী লীগের অতীত ইতিহাস সম্পর্কে জানে না। মুক্তিযোদ্ধাদের উচিত তরুণ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধ ও আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের ইতিহাস তুলে ধরা। ’৭১-’৭৩ সালে আওয়ামী লীগ নেতারা লুটপাটে ব্যস্ত ছিল। আওয়ামী লীগের লোকজনই পাকিস্তানিদের ফেলে যাওয়া সম্পত্তি ও হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করেছে। ব্যাংক লুট করেছে। তারা তাদের নেতার কথাও শোনেননি। তাই শেখ মুজিব বলেছিলেন, সবাই পায় সোনার খনি, আমি পেলাম চোরের খনি। চোর কি করে মুক্তিযোদ্ধা হয়? আওয়ামী লীগ হচ্ছে সেই চোরের দল। তিনি বলেন, ’৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ কি জবাব দেবে? যুদ্ধের পর তো প্রচুর বৈদেশিক সাহায্য এসেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের লোকজন সেগুলো বিদেশে পাচার করে পকেট ভারি করেছিল। আওয়ামী লীগ মানেই দুর্ভিক্ষ, খুন, লুটপাট ও চুরির শাসন। তিনি সরকারের কৃষিনীতির সমালোচনা করে বলেন, সরকার কৃষকদের কাছে ধান কিনছে না। তারা কমিশনের জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদনের নিরুৎসাহী করে তুলছে। একই ভাবে কলকারখানায় উৎপাদন নেই। সেখানে সরকার গ্যাস, বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না। বিদেশী বিনিয়োগ তো নেই-ই। কিন্তু বিদ্যুতের কথা বলে সরকার কুইক রেন্টালের নামে নিজেদের পকেট ভারি করেছে।
বিশ্বজিৎ হত্যার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিরোধী নেতা বলেন, বিশ্বজিতের মতো তরুণকে কেন রাজপথে প্রাণ দিতে হলো? তারপরও প্রধানমন্ত্রী কেন মিথ্যা বলছেন? কারণ ছাত্রলীগকে ধরলে তারা বলবে, আমাদের কি দোষ? আমরা তো ওইখান থেকে নির্দেশ পেয়ে কেবল নির্দেশ পালন করেছি। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের পর ৪০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছে। যারা এ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে তাদেরও বিচার হওয়া উচিত। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আমাদের আন্দোলনের দাবি সুনির্দিষ্ট। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। এ দেশের কোন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। আওয়ামী লীগ দেশে গণতন্ত্র আনেনি, তারা বারবার গণতন্ত্র হত্যা করেছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন আপনারা দলমত নির্বিশেষে সকল মুক্তিযোদ্ধা জালিম সরকারের পতন ও দেশ রক্ষার এ সংগ্রামে শরিক হোন।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বিজয়ের মাসে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ করতে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে সরকার। শেষ পর্যন্ত এ হলে অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়েছে। আমরা বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান করতে চাইলেও অনুমতি দেয়া হয়নি। দেখে-শুনে মনে হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে তারা পৈতৃক সম্পত্তি মনে করছে। তবে এদেশকে কারও পৈতৃক সম্পত্তি বানাতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন, আপনাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধ শেষে আপনাদের মতোই নিজের জায়গায় ফিরে গেছেন। আপনারাই সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা। রণাঙ্গনে দেশকে স্বাধীন করেছেন। সীমান্ত পাড়ি দিলেই মুক্তিযোদ্ধা হয় না। খালেদা জিয়া বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে নাম কাটার হুমকি দিয়েছে সরকার। ভাতা বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে। যদি নাম কাটা হয় ভবিষ্যতে সে নাম যোগ হবে, ভাতাও দেয়া হবে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, আমিই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলাম। ভবিষ্যতে সে মন্ত্রণালয়ে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে দায়িত্ব দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক মূল্যায়ন করা হবে। মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের চিকিৎসার জন্য একটি উন্নত হাসপাতাল তৈরি করবো।
মুক্তিযোদ্ধারা কোন দলের সম্পদ নয়
এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে মুক্তিযোদ্ধাদের উচিত খালেদা জিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে দেশরক্ষার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়া। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, জাতিসংঘ নাকি শেখ হাসিনার শান্তির মডেল গ্রহণ করেছে। তারা যদি জানতেন তিনি দেশে কি রকম অশান্তির ও দুর্নীতির মডেল বাস্তবায়ন করছেন তাহলে দুর্নীতির একটি পুরস্কার দিতো। বিএনপি স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধ একটি চলমান প্রক্রিয়া। যখন গুমের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে, খুনে রাজপথ রঞ্জিত হচ্ছে, সরকার লুটপাটে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তখন সে চলমান প্রক্রিয়াকে ফের যুদ্ধে পরিণত করতে হবে। কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মে. জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক বলেন, ২৫শে মার্চ রাতেই জিয়াউর রহমান তার অধীনস্থ সৈন্যদের নিয়ে বিদ্রোহ করেন। সেদিন এত উন্নত গণমাধ্যম ছিল না বলেই তা ইতিহাসে লেখা নেই। তবে সেটাই সত্য। তিনি মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হেলাল মোর্শেদ খানের উদ্দেশে বলেন, ’৯৬ সালে আপনার উল্টাপাল্টা কাজের জন্য অনেক মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছে। এখন উল্টাপাল্টা করবেন না, জবাব দিতে হবে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ৭১-এর ৩রা মার্চ ঢাকায় সংসদ বসলে শেখ মুজিব হতেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনিই শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানিদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠক করেছেন, আপস করেছেন। আমরা ভাসানীর নেতৃত্বে যুদ্ধ করেছি, দেশবাসী জিয়ার ডাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আগে রাজনীতি করেছি আমরা, যুদ্ধও করেছি। কিন্তু এখন তা সম্পদ হয়ে গেল আওয়ামী লীগের। অতীতে অনেক কোয়ার্টার-সেমিফাইনাল খেলেছি, এবার ফাইনাল খেলতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জয়নাল আবেদিন এমপি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নাম কাটার এখতিয়ার হেলাল মোর্শেদ খানদের কে দিয়েছে? ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্যের জন্য তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হবে। সংবর্ধনা সমাবেশের আহ্বায়ক মেজর (অব.) শাহজাহান ওমর বীরউত্তম বলেন, প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া মুক্তিযোদ্ধাদের অভিনন্দন জানাই। সেই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হেলাল মোর্শেদের পদত্যাগ দাবি করছি। ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালামের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, মে. জেনারেল (অব.) আইনউদ্দিন বীরপ্রতীক, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি অধ্যক্ষ সোহবারউদ্দিন, ক্যাপ্টেন (অব.) শাহজাহান মিয়া, ইশতিয়াক আহমেদ উলফাত, প্রজন্ম দলের সভাপতি শামা ওবায়েদ, ইসমাঈল হোসেন বেঙ্গল, মেজর (অব.) ড. রেজা প্রমুখ। বক্তৃতায় মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি হেলাল মোর্শেদ সারা দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের চিঠি দিয়ে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে না আসার অনুরোধ জানান। তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা কোন ব্যক্তি বা দলের নয়, তারা দেশের সম্পদ। ৭১ দেশের স্বাধীনতার জন্য একবার মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। এবার দেশের গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখার জন্য আরেকবার মুক্তিযুদ্ধ করতে হবে।
এর আগে সকাল ১০টা থেকেই সারা দেশের ৭৫টি সাংগঠনিক জেলা থেকে মুক্তিযোদ্ধারা মহানগর নাট্যমঞ্চের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থল কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। বিজয়ের ৪১তম বার্ষিকীতে দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করার জন্য বিরোধী দল বিএনপি মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনার অয়োজন করে।

Wednesday, December 19, 2012

আজ বাংলা ব্লগ দিবস

আজ বাংলা ব্লগ দিবস

'বাক স্বাধীনতা, বাকদায়িত্বশীলতা' এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ দেশে চতুর্থবারের মতো 'বাংলা ব্লগ দিবস' পালিত হচ্ছে। ২০০৯ থেকে দিনটি পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে বিকেল পাঁচটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের আরসি মজুমদার মিলনায়তনে ১৪টি ব্লগের অংশগ্রহণে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে থাকবেন শিক্ষাবিদ ড. আনিসুজ্জামান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম।
সামহোয়্যার ইন ব্লগের পরিচালক সৈয়দা গুলশান ফেরদৌস জানা বলেন, ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে সামহোয়্যার ইন ব্লগের মাধ্যমে দেশে প্রথম বাংলা কমিউনিটি ব্লগের যাত্রা শুরু হয়। সৃষ্টি হয় ইন্টারনেটে বাংলা ভাষাভাষীদের নিজের কথা ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়ে তিনি বলেন, ব্লগ তার জন্মলগ্ন থেকেই বাক্স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করছে। এ স্বাধীনতা তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন বাক্দায়িত্বশীলতা তৈরি হবে। এ বিষয় নিয়েই এবার ব্লগ দিবসে আলোচনা হবে।
তিনি জানান, এবার সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ও দিবসটি উদ্যাপন করবে। আর রাজশাহীর ব্লগারদের উদ্যোগে পদ্মাপাড়ে হবে বিশেষ আয়োজন। খুলনা ও রংপুরেও আনন্দ-আলোচনার আয়োজন করছেন স্থানীয় ব্লগাররা।

ওয়াল-মার্টের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

ওয়াল-মার্টের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ


নিজেদের কার্যপরিধি বৃদ্ধির জন্য তৈরী পোশাকের বড় ক্রেতা ওয়াল-মার্ট স্টোরস ইনকরপোরেশনের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান মেক্সিকোর কর্মকর্তাদের বিপুল অঙ্কের ঘুষ দিয়েছে। তারা নিজেদের পছন্দমতো স্থানে নতুন নতুন স্টোর খোলার জন্য এ ঘুষ দিয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে সোমবার। এতে বলা হয়, মেক্সিকোতে এরকম ১৯টি স্টোর খোলার জন্য ওয়াল-মার্টের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ওয়ালমেক্স স্থানীয় কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়েছে। গত এপ্রিলে নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রথম রিপোর্ট করে যে, ওয়ালমেক্সের এ রকম দুর্নীতির একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত আন্তর্জাতিকভাবে বাধাগ্রস্ত করে ওয়াল মার্ট। গত মাসের শেষের দিকে মেক্সিকোর দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা বলে যে, তারা মেক্সিকোতে ওয়াল-মার্টের অনুমোদন পাওয়ার পেছনে কোন অনিয়ম খুঁজে পায়নি। কিন্তু তখনও দুটি অডিট চলছিল। নিউ ইয়র্ক টাইমস তার নতুন রিপোর্টে ওয়াল মেক্সের অর্থ দেয়ার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ওয়াল মেক্স মেক্সিকোতে নতুন স্টোর খোলার জন্য আইনি বিষয় ও পরিবেশগত ছাড়পত্র পেতে অর্থ দিয়েছে। তবে বেশির ভাগ দৃষ্টি পড়েছে মেক্সিকো শহরের উত্তরে প্রাচীন শহর তোতিহুয়াকানের কাছে একটি স্টোর নির্মাণের দিকে। ওই শহর থেকে এক মাইলেরও কম দূরত্বে একটি ওয়ারহাউজ নির্মাণের পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছিল ওয়ালমেক্স ২০০৪ সালে। তখন এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ হয়। ওদিকে সোমবার রাতে ওয়াল-মার্টের মুখপাত্র ডেভিড তোভার একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তাতে তিনি বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তারা যাচাই-বাছাই করছেন। তিনি বলেন, এ অভিযোগ নিয়ে আমরা এখনও তদন্ত করছি। এখনও তা শেষ হয়নি। ওয়াল-মার্ট এ জন্য আইন মন্ত্রণালয়, সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সঙ্গে কাজ করছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয়, সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতারা ও মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ আলাদা আলাদাভাবে তদন্ত করছে। ওদিকে মেক্সিকোর এটর্নি জেনারেল অফিস থেকে বলা হয়েছে, নিউ ইয়র্ক টাইমসে গত এপ্রিলে প্রথম এ বিষয়ক রিপোর্ট দেখার পর একটি তদন্ত করা হয়েছে। কিন্তু প্রসিকিউটররা এতে অভিযোগ গঠন করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ হাতে পাননি। ওই তদন্ত কয়েক মাস আগে বন্ধ হয়ে গেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস ঘুষের অভিযোগে রিপোর্ট করলেও মোট কি পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে তা জানাতে পারেনি। তবে তারা কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরেছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত শহর তোতিহুয়াকানের কাছে একটি স্টোর নির্মাণ করতে ওয়াল-মার্ট ২ লাখ ২১ হাজার ডলার ঘুষ দিয়েছে বলে অভিযোগ আছে। বাসিলিকা ডি গুয়াডালুপেতে একটি স্টোর প্রতিষ্ঠায় ৩ লাখ ৪১ হাজার ডলার ঘুষ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

কী আছে পদ্মা সেতুর ভাগ্যে

কী আছে পদ্মা সেতুর ভাগ্যে


পদ্মা সেতুর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের ওপর। তারা এখন দুদকের মামলার নথি পর্যালোচনা করবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান স্বচ্ছ ও পরিপূর্ণ হয়েছে_ এ মর্মে বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষক দলের ইতিবাচক প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের পথে অগ্রসর হবে বিশ্বব্যাংক। পদ্মা সেতুর দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দুদকের মামলা করার পর গতকাল এক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকাস্থ কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালেন গোল্ডস্টেইন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করেই পদ্মা সেতুর দুর্নীতির মামলা করেছে দুদক। এ সরকারের আমলে সেতুর কাজ শুরু হবে বলে আশাবাদী তিনি। অন্যদিকে পদ্মা সেতুর ভাগ্য নিয়ে অনেকেই উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে বলেছেন, পদ্মা সেতুর ভাগ্যে কী আছে, তা বিধাতাই জানেন।
জানা গেছে, পদ্মা সেতুর সর্বশেষ অবস্থান নিয়ে আলোচনার জন্য বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালেন গোল্ডস্টেইন অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়েছেন। আজকালের মধ্যেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
পদ্মা সেতুর দুর্নীতি মামলার একদিন পর দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান সাংবাদিকদের বলেন, অনুসন্ধান স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়েছে, কারও চাপে এ মামলা করা হয়নি। অন্যদিকে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রীকে দুর্নীতির মামলা থেকে বাদ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন দুদক সচিব ফয়জুর রহমান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির ঘটনায় আবুল হোসেনের ভূমিকা 'ইররিগুলার হলেও ইলিগ্যাল নয়'। গতকাল পদ্মা সেতুর দুর্নীতির মামলার প্রধান আসামি সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে ওএসডি করেছে সরকার। এ ছাড়া পদ্মা সেতুর দুর্নীতির গভীরতা অনুসন্ধানের জন্য চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে দুদক।
এদিকে, দুদকের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালেন গোল্ডস্টেইন এক লিখিত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, 'আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষক প্যানেল দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলার এজাহার পর্যালোচনার পর একটি প্রতিবেদন দেবে। পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের বিষয়টি প্যানেলের ওই প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভর করবে।' সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্নীতির
মামলা বিষয়ে প্যানেল দলের পর্যালোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, তাদের মূল্যায়নের ওপরই নির্ভর করছে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন এবং বাস্তবায়ন।
অর্থনীতিবিদ ও সুশীল সমাজ সমকালের কাছে প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, তদন্ত ও মামলা নিয়ে বিশ্বব্যাংক সন্তুষ্ট না হলে আবারও জটিলতায় পড়তে পারে পদ্মা সেতু প্রকল্প।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক প্যানেল পদ্মা সেতুর দুর্নীতির বিষয়ে তাদের প্রতিবেদন খুব শিগগির বিশ্বব্যাংকের কাছে জমা দেবে। তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে পৃথক একটি বিবৃতিও দেবে প্যানেল দল। দুদক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল পদ্মা সেতুর দুর্নীতির এজাহার কপি বিশ্বব্যাংক প্যানেলের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের নিযুক্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক প্রসিকিউটর লুই গাব্রিয়েল মোরেনো ওকাম্পোর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক প্যানেল দুদকের তদন্ত পর্যবেক্ষণে দুই দফা ঢাকা সফর করে। সর্বশেষ গত ১ ডিসেম্বর প্যানেল দল ঢাকায় আসে। দুদকের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকের পর আলোচনা এক পর্যায়ে ভেঙে যায়। মূলত সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনকে দুর্নীতির মামলায় আসামি করা হবে, কি হবে না_ এ নিয়ে দুদকের সঙ্গে মতভেদের কারণে আলোচনা সফল হয়নি।
গত ৫ ডিসেম্বর ঢাকা ছাড়ে প্যানেল দল। এর পরপরই বিশ্বব্যাংক কড়া ভাষায় একটি বিবৃতি দেয়। ওই বিবৃতিতে সংস্থাটি সরকারকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, 'কেবল পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থায়নে অগ্রসর হবে।' বিশ্বব্যাংক আরও মনে করিয়ে দেয়, তারা দুর্নীতির বিষয়ে যথেষ্ট পরিমাণে সাক্ষ্য-প্রমাণও দিয়েছে সরকারকে। এরপরই দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে তারা মামলা করে বিশ্বব্যাংকের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাঠাবে। সে অনুযায়ী, সোমবার মামলা করল দুদক। তবে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রীকে বাদ দিয়ে মামলা করায় বিষয়টি বিশ্বব্যাংক ভালোভাবে দেখেনি বলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস সূত্রে জানা গেছে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির বিষয়ে তারা কোনো আপস করবে না। কারণ, একটি দুর্নীতিমুক্ত সেতুর বিষয়ে আগে থেকেই সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে আসছে তারা। কাজেই ভবিষ্যতে এ ইস্যুতে বিশ্বব্যাংকের অবস্থান একই থাকবে বলে ওই সূত্র জানায়।
কানাডীয় কোম্পানি এসএনসি-লাভালিনের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠার পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে ২৯১ কোটি ডলারের পদ্মা সেতু প্রকল্পে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি স্থগিত করে বিশ্বব্যাংক। দুদক এরপর তদন্ত শুরু করলেও সরকার এবং তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন দুর্নীতির অভিযোগ নাকচ করে অনড় থাকেন। এই প্রেক্ষাপটে গত জুন মাসে ঋণচুক্তি বাতিল করে বিশ্বব্যাংক। এরপর আবুল হোসেনের পদত্যাগ, প্রকল্পের ইন্টেগ্রিটি অ্যাডভাইজর ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মসিউর রহমান এবং সেতু বিভাগের তৎকালীন সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে ছুটিতে পাঠানোসহ সরকারের নানামুখী তৎপরতায় বিশ্বব্যাংক প্রকল্পে ফেরার ঘোষণা দেয়। তাদের দেওয়া শর্ত অনুযায়ী, ওকাম্পোর নেতৃত্বে তিন সদস্যের পর্যবেক্ষক প্যানেল দুদকের তদন্ত পর্যবেক্ষণে ঢাকায় আসে। তারা চলে যাওয়ার ১২ দিনের মাথায় সোমবার দুদক যে মামলা করেছে তাতে প্রধান আসামি করা হয়েছে সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে। তবে আলোচনায় থাকা সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে এ মামলায় আসামি করা হয়নি। তবে সন্দেহভাজনের তালিকায় রয়েছে। এখন সব কিছু নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের ওপর।

অভিনব হরতাল

অভিনব হরতাল


এ এক অভিনব হরতাল হয়ে গেল রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে। হঠাৎই বদলে গেলেন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। প্রতিটি হরতালে যাদের ব্যস্ত দেখা যেতো পিকেটার দমনে গতকাল ইউটার্ন নিলেন তারা। স্বল্প সংখ্যক পিকেটারকে কোন বাধাই দেয়া হলো না। উল্টো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পিকেটারের ভূমিকায় দেখা গেল পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের। রাস্তায় ব্যারিকেড আর কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে হরতাল পালন করলেন তারা। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন হরতাল আর কোন দিন দেখা যায়নি। হরতালের আহ্বায়ক ছিল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। যাদের সংসদে আসন নেই, কোনকালে ছিলও না। তাদের পিকেটারদের গানবাজনা করতে দেখা গেছে হরতালের সময়। এ হরতালের প্রধান দাবি দু’টো। যুদ্ধাপরাধের বিচার ত্বরান্বিত করা এবং জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা। হরতাল সফলে আগের রাতেই প্রস্তুতি নেয়া হয় সরকারের তরফে। মালিকদের জানিয়ে দেয়া হয়েছিল রাস্তায় বাস নামানো যাবে না। সরকারি সিদ্ধান্তে বিআরটিসির কোন বাসও রাস্তায় নামেনি। যদিও আগের হরতালগুলোতে বিআরটিসির বাসই দেখা যেতো সবচেয়ে বেশি। রাস্তায় নিজের প্রাইভেট গাড়ি চালাতে গিয়েও অনেকে পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। গাড়ি ঘুরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। কারণ জানতে চাওয়া হলে অজুহাত দেখানো হয়েছে নিরাপত্তার। পরিবহন না পেয়ে পায়ে হেঁটে চলতে হয়েছে হাজার হাজার মানুষকে। মজার ব্যাপার হলো এতে নাকি তাদের কোন কষ্টই হয়নি। দিন শেষে হরতাল আয়োজনকারীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। অভিযুক্ত পক্ষ ছাড়া যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে কেউই কোন আপত্তি জানায়নি। দেশের প্রায় সব মানুষই এ বিচার চান। এ বিচার ত্বরান্বিত করার দাবিতে পালিত হরতালে সরকারের সমর্থনে একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে, তাহলে কি যুদ্ধাপরাধের দ্রুত বিচার নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মনে কোন সংশয় আছে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পর্যবেক্ষকরা। এমন এক সময়ে এ দাবি উত্থাপিত হলো যখন সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামের কথা বলা আছে। এমনকি পঞ্চদশ সংশোধনীতে এটিকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো হিসেবেও গণ্য করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, ভারতের মতো ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে যেখানে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি চালু আছে সেখানে বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবির যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। হরতালের প্রতি সাধারণ মানুষের আকর্ষণ নষ্ট করে দেয়ার জন্যই সরকারি আয়োজনে এমন হরতাল পালনের গুঞ্জন এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।
হরতালে পুলিশের সহায়তা!
বাম রাজনৈতিক দলগুলোর ডাকা হরতাল চলাকালে হরতালকারীদের সহায়ক হিসেবে দেখা গেছে পুলিশকে। শান্তিপূর্ণ হরতাল চলাকালে রাজধানীতে যানবাহনের সংখ্যা ছিল কম। বিআরটিসিসহ অন্যান্য পরিবহনের বাস রাস্তায় না নামায় ছোট যানবাহনই ছিল যাত্রীদের ভরসা। কিন্তু রাস্তার মোড়ে মোড়ে এসব যানবাহনও আটকে দিতে দেখা গেছে পুলিশকে। কোন কোন রাস্তায় অস্থায়ী ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখে পুলিশ। রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক বাংলামোটরে পুলিশকে দেখা যায় যানবাহন আটকে দিতে। দুপুর দেড়টায় দু’টো অ্যাম্বুলেন্স শাহবাগের দিকে যেতে চাইলে তাতেও বাধা দেয়া হয়। পুলিশ যানবাচনকে বিকল্প পথে মগবাজার হয়ে গন্তব্যে যেতে বলে।
শাহবাগ পয়েন্টকে কেন্দ্র করে পুলিশ বাংলামোটর, এলিফ্যান্ট রোড, মৎস্য ভবন এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। পল্টন পয়েন্টকে কেন্দ্র করে প্রেস ক্লাব, কাকরাইল, দৈনিক বাংলা, গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট দিয়ে পল্টনমুখী রাস্তায় যানবাহন বন্ধ করে দেয়া হয়। মতিঝিল পয়েন্টে যানবাহন বন্ধ করার প্রবেশমুখগুলোতে বাধা দেয়া হয়। কোথাও কোথাও রাস্তা বন্ধ করে মাঝখানে দাঁড়িয়ে পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। এদিকে রাজধানী ডিআরএইউতে একটি অনুষ্ঠানে আজ আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম হরতালে সরকারের সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, অহিংস হরতালে সরকার বাধা দেবে না। হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার। নৈরাজ্য না হলে সরকার হরতাল পালনে সহযোগিতা করবে।
পল্টনে অবস্থান
হরতাল চলাকালে সকাল থেকেই পল্টন মোড়ে সিপিবি ও বাসদ এবং গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার নেতা-কর্মীরা অবস্থান করেন। তারা সেখানে রাস্তায় মিছিল ও সংগীত পরিবেশন করেন। এ সময় পুলিশ আশপাশের রাস্তায় অবস্থান করে। সকাল থেকেই দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খান, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বাম মোর্চার সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মীরাও সেখানে জড়ো হয়ে মিছিল এবং সমাবেশ করেন। তাদের হাতে ছিল লাল পতাকা। জাতীয় পতাকাও বহন করেন কর্মীরা।
প্রেস ক্লাব এলাকায় দিনভর গণসংগীত
হরতালে মৎস্য ভবন, হাইকোর্ট এলাকায় সকাল থেকে গাড়ি চলাচল ছিল বন্ধ। প্রেস ক্লাবের সামনে সকাল থেকেই নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেন। বন্ধ করে দেয়া হয় উভয় পাশের রাস্তা। কোন যানবাহনই চলতে দেয়া হয়নি প্রেস ক্লাব থেকে পল্টন যাওয়ার রাস্তা দিয়ে। এই এলাকায় হরতাল পালিত হয়েছে শান্তিপূর্ণ। নিরাপত্তায় ব্যাপক পুলিশ র‌্যাব নিয়োজিত থাকলেও রাস্তায় বসে দাঁড়িয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। প্রেস ক্লাব, হাইকোর্ট ও সচিবালয় এলাকায় সিপিবি, বাসদ, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, প্রগতিশীল ছাত্র জোট, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ব্যানারে খণ্ড খণ্ড মিছিল হয়েছে সকাল থেকেই। প্রেস ক্লাবের উল্টো পাশের সামনের রাস্তায় উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী অস্থায়ী মঞ্চ বানিয়ে হরতালের সমর্থনে সংগীত পরিবেশন করে। দুপুর দুইটার পর হাইকোর্ট মৎস্যভবন এলাকা দিয়ে কিছু গণপরিবহন চললেও যাত্রী ছিল কম।
শাহবাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মিছিল সমাবেশ
সকাল থেকে শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হরতাল পালিত হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে। ভোর ছ’টা থেকে বাম ঘরানার ছাত্র সংগঠনগুলোর কর্মীরা টিএসসি ও আশপাশ এলাকায় জড়ো হয়। কিছুক্ষণ পর টিএসসি এলাকায় মিছিল শেষে তারা শাহবাগ এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখানে তারা পুলিশের ব্যবহার করা কাঁটাতারের ব্যারিকেড, বাঁশ-কাঠ দিয়ে পথ আটকে চারপাশের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। তারপর প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ব্যানারে এ এলাকায় দফায় দফায় মিছিল করে কর্মীরা। বাস, সিএনজিসহ অন্যান্য যানবাহন এ এলাকায় চলাচল না করলেও রাস্তাঘাটে যথেষ্ট পরিমাণ রিকশা চলাচল করে। শাহবাগ মোড়ের অস্থায়ী মঞ্চে ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশন ও ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
ঢাবিতে ক্লাস ও পরীক্ষা হয়নি
হরতালের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা হয়নি। এর আগে সব হরতালে ক্লাস ও পরীক্ষা হয়েছিল। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল না। ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন বিভাগের অফিসগুলো বন্ধ। বিভাগে শিক্ষকদের উপস্থিতি ছিল না। তবে প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রতিদিনের মতো সচল ছিল। এদিকে বামদলগুলোর ছাত্র সংগঠন প্রগতিশীল ছাত্র জোট হরতাল উপলক্ষে শাহবাগ মোড়ে সমাবেশ করেছে।
হরতাল সফল: সিপিবি-বাসদ
বিকালে হরতাল সফল বলে দাবি করেন সিপিবি ও বাসদ নেতারা। হরতালকে সফল উল্লেখ করে একে নতুন মাত্রার গণতন্ত্রের রাজনীতি হিসেবে বর্ণনা করেন তারা বলেন, এ হরতালে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ফিরে এসেছে। জনগণের ন্যায্য দাবি উত্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। বিকাল ৪টায় রাজধানীর মুক্তিভবনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম অভিযোগ করে বলেন, হরতালে দেশের বিভিন্ন স্থানে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও পুলিশ হরতাল সমর্থনকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের ১৫ জন নেতা-কর্মীকে আহত করেছে। পুলিশ আটক করেছে ২০ জন নেতা-কর্মীকে। বিশেষ করে বরিশাল, সুনামগঞ্জ, যশোর, গাজীপুর, নরসিংদী, মৌলভীবাজারে মিছিলে হামলা করেছে শাসক গোষ্ঠীর সন্ত্রাসী ও পুলিশ বাহিনী। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এই হরতাল ব্যতিক্রম ছিল। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিয়েছে। মানুষ দেশে এখন একটা বিকল্প পথ খুঁজছে। আর এই বিকল্প রাজনৈতিক শক্তিকে এগিয়ে নিতে প্রতিটি জাতীয় ইস্যুতে রাজপথে থাকবে তাদের সংগঠন। সরকারের মন্ত্রীরা যুদ্ধাপরাধীদের রায়ের বিষয়ে আগেই মন্তব্য করছেন। তারিখ উল্লেখ করছেন। এটা ঠিক নয়। দেশে বিদেশে এই বিচার নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। অহেতুক কালবিলম্ব করে বিচার ঠেকাতে মদতদাতাদের সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। এই বিচার বানচাল করতে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচের অভিযোগ করেন সিপিবির সভাপতি। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের ‘কার স্বার্থে হরতাল’ এ বক্তব্যের জবাবে সেলিম বলেন, আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের স্বার্থ রক্ষার জন্য তারা হরতাল করেননি। একই দাবিতে আগামী ২৮শে ডিসেম্বর বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মিছিল-সমাবেশ, ৩রা থেকে ৭ই জানুয়ারি জাগরণ অভিযান নামে দেশব্যাপী ঝটিকা সফর কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এতে ২৬টি জনসভা, ৫১টি সমাবেশ ও বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজ্জাদ জহির চন্দন, লক্ষ্মী চক্রবর্তী, বাসদের বজলুর রশিদ ফিরোজ প্রমুখ।

দিল্লি বিরোধিতা কমিয়ে নতুন কৌশল খালেদার

দিল্লি বিরোধিতা কমিয়ে নতুন কৌশল খালেদার


তিস্তার পানি বণ্টন ও সীমান্ত প্রটোকল চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়ায় ভারতের সঙ্গে হাসিনা সরকারের টানাপড়েন স্পষ্ট। একই সময়ে দিল্লির বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার বৈঠক এবং দেশে ফিরে খালেদা জিয়ার ভারত নিয়ে নয়া কৌশল নিয়ে নানা আলোচনা সকল মহলেই। ঢাকা সফরে আসা আনন্দবাজারের দিল্লি প্রতিনিধি অগ্নি রায় আরও লিখেছেন:
জনশ্রুতি আছে, বেগম খালেদা জিয়া যে কোন রাজনৈতিক সমাবেশে এক ঘণ্টা বক্তৃতা দিলে সাধারণত তার মধ্যে ৩০ মিনিট ব্যয় করেন ভারত-বিরোধিতায়!
সেই খালেদা জিয়া গত ১৮ই নভেম্বর ভারত সফর সেরে ফিরে আসার পর এক মাস কেটে গেছে। এখন পর্যন্ত চারটি জনসভা করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। কক্সবাজার, উখিয়া, ঢাকা ও বরিশালে। এ দেশের রাজনীতির কারবারিরা সবিস্ময়ে লক্ষ্য করছেন, ভারত শব্দটাই তার অভিধান থেকে যেন উধাও হয়ে গেছে! বাংলাদেশে ভোটের আগে বিএনপির এই পরিবর্তিত অবস্থান যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিষয়টি এমন নয় যে, খালেদার দল বিএনপি রাতারাতি নিজেদের অবস্থান বদলে মনমোহন সিংহ সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে। বরং দলীয় সূত্রের খবর, ভারত সম্পর্কে খালেদা জিয়ার এ নরম অবস্থান তার নিজের দলের ভিতরেই প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। গত সপ্তাহে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ভারত সম্পর্কে খালেদার এই নয়া নীতি নিয়ে তার দলের অনেক নেতাই দ্বিমত পোষণ করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে, একদিকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে নতুন যুগের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে দলের ভারত নীতিতে কোন পরিবর্তন না আনার কথাও বলা হচ্ছে। বিষয়টি পরস্পরবিরোধী। খালেদা পরিবারের ব্যক্তিগত বন্ধু এবং রাজনৈতিক পরামর্শদাতা মাহমুদুর রহমান এ নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার বক্তব্য, এ পরস্পরবিরোধিতা কি ভোটের আগে দলের হাসিনা-বিরোধিতাকে সর্বাঙ্গীণভাবে লঘু করে দেবে না?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক কারবারিদের মতে, ভারত সম্পর্কে খালেদার এ তুলনামূলক নরম অবস্থান নিছকই কৌশলগত কারণে। সামনাসামনি উগ্র ভারত বিরোধিতা না করে জামায়াতের মতো জোটসঙ্গীদের দিয়ে সেই কাজটা চালিয়ে যাচ্ছেন খালেদা। এটা ঘটনা যে, ভারতের সঙ্গে তিস্তা ও সীমান্ত চুক্তি এখনও রূপায়ণ না করতে পারার প্রশ্নে যথেষ্ট কোণঠাসা হয়ে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রশ্ন উঠছে, তার ভারত-বন্ধুত্বের ফল নিয়ে। আওয়ামী লীগের একটি অংশও মনে করছে, এ দু’টি চুক্তির বিষয় নিয়ে প্রচার এতটা উচ্চগ্রামে নিয়ে যাওয়াটা হয়তো ঠিক হয়নি। আওয়ামী লীগের এক নেতার কথায়, ‘তিস্তা চুক্তি হলে সরাসরি রাজশাহী এলাকা উপকৃত হবে এবং পদ্মায় পলি পড়ার হার কমে তা সচল হবে। একথা ঠিকই। কিন্তু গোটা দেশজুড়ে তিস্তা নিয়ে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তা প্রায় জাতীয় ইস্যুর সমান!’ ফলে প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ বেড়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ওই দুই চুক্তি না হওয়ার ফলে দেশের অভ্যন্তরে যে ভারত-বিরোধী আবেগ তৈরি হয়েছে, তাকে সুকৌশলে কাজে লাগাচ্ছে জামায়াত।
বাংলাদেশের বক্তব্য, মুখে ভারত-বিরোধী কোন বিবৃতি না দিলেও খালেদা জিয়া পেছন থেকে গোটা পরিস্থিতিকে কাজে লাগাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের এমপি আবদুর রহমানের কথায়, ‘পাকিস্তানের হাতে তামাক খেয়ে ভারতকে যতটা সম্ভব চাপে রাখতে জামায়াত প্রবলভাবে সক্রিয়। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ভারতকে সবসময় অস্বস্তিতে রাখতে পারলে বেশ কিছু গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধি হয়। এ কাজে পশ্চিম এশিয়ার কিছু দেশ টাকাও ঢালছে।’ হাসিনা শিবিরের বক্তব্য, বৃহত্তর ভূ-রাজনীতির কথা মাথায় রেখে (মার্কিন-পাকিস্তান সম্পর্ক ইত্যাদি) বেগম জিয়া কৌশলগতভাবে প্রকাশ্যে ভারত বিরোধিতা বন্ধ রেখেছেন ঠিকই- কিন্তু ক্ষমতায় এলেই তিনি ফের পুরনো অবস্থানে ফিরবেন। ভোট যত এগিয়ে আসবে, জামায়াতকে কাজে লাগিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরির কাজটিও এগোবে।
তবে ঘটনা হলো- শুধুমাত্র ভারত-বিরোধিতা দিয়ে যে ভোটের কিস্তিমাত করা যাবে না, তা বিলক্ষণ জানে বিরোধী জোট। তিস্তা বা সীমান্ত চুক্তি রূপায়ণে ব্যর্থতা (যদিও দীপু মনি এখনও বলছেন, তারা আশাবাদী, এই দু’টি চুক্তি সই করেই ভোটে যেতে পারবে হাসিনা সরকার) নির্বাচনী প্রচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি, পদ্মায় সেতু নির্মাণে দুর্নীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশছোঁয়া দামসহ অনেক বিষয়ই গুরুত্ব পাবে বিরোধীদের প্রচারে।
তবে বিরোধীদের ভোট প্রচারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেতে চলেছে ভোটের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গড়তে না-চাওয়া নিয়ে সরকারের যুক্তি- যা উড়িয়ে দিচ্ছে সরকার-পক্ষ। দীপু মনির কথায়, ‘বিএনপির কাছে প্রচারের অন্য কোন হাতিয়ার নেই। তাই তারা এই ধুয়ো তুলেছে। আমরা যেভাবে নির্বাচনী সংস্কার করেছি, তা যথেষ্ট স্বচ্ছ। কমিশনও এখন যথেষ্ট শক্তিশালী।’ তাদের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও শক্তিশালী করার জন্য খালেদা জিয়া যদি কোন প্রস্তাব নিয়ে আসেন, তাহলে অবশ্যই আলোচনায় রাজি সরকার।

Tuesday, December 18, 2012

চীনকে সার্কভুক্ত করতে বিশেষজ্ঞদের আহ্বান

চীনকে সার্কভুক্ত করতে বিশেষজ্ঞদের আহ্বান

চীনকে সার্ক-এর সদস্য করতে মত দিয়েছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশেষজ্ঞরা। গতকাল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগে হেকাপ প্রজেক্টের অধীনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তারা বলেন, চীন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর প্রধান ব্যবসা সহযোগী। উন্নয়ন সাহায্যেও চীন দ্রুত এগিয়ে আসছে। চীনের সঙ্গে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তানের সরাসরি সীমান্ত রয়েছে। বাংলাদেশেরও নিকট প্রতিবেশী চীন। চীন বর্তমানে সার্ক-এর পর্যবেক্ষক সদস্য। আশিয়ানে যেমন পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ দেশ সদস্য হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্য, শান্তি, উন্নয়ন ইত্যাদি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্বের কারণে চীনকে সার্ক সদস্য করার ব্যাপারে মত দিয়েছেন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিশেষজ্ঞরা। ‘এশিয়ান স্টাডিজ’ শিরোনামের উক্ত সেমিনারে ‘ইভলভিং পাকিস্তান-ইন্ডিয়া-চায়না ট্রায়াঙ্গুলার রিলেশনশিপ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মনিস আহমের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ইমতিয়াজ আহমেদ উপস্থান করেন ‘কনটিনিউটি অ্যান্ড চেঞ্জ ইন দ্য রিলেশনশিপ বিটুইন বাংলাদেশী অ্যান্ড নেইভারস ইন দ্য কনটেক্স অব রাইস অব চায়না’ শিরোনামের প্রবন্ধ। সেমিনারের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম আরিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভিসি প্রফেসর মো. আলাউদ্দিন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক ভিসি প্রফেসর আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন, প্রফেসর আসমা সিরাজুদ্দীন, ড. মাহমুদুল হক, ড. ভূঁইয়া মনোয়ার কবির, ড. আনোয়ারা বেগম, ড. মাহফুজ পারভেজ প্রমুখ।   

সালতামামি ২০১২: পদক্ষেপ বহু বাস্তবে নেই

সালতামামি ২০১২: পদক্ষেপ বহু বাস্তবে নেই


ফুলে ফেঁপে ওঠা পুঁজিবাজারে ২০১০ সালের ৮ই ডিসেম্বর বড় ধরনের ধস নামে। এর পর আর থেমে থাকেনি দরপতন। এরই ধারাবাহিকতায় হতাশার মধ্যদিয়ে গত একটি বছর পার করলো বিনিয়োগকারীরা। বাজার স্থিতিশীল করতে সরকার ও সংশ্লিষ্টরা বহু পদক্ষেপ নিলেও বাস্তবে কোন পদক্ষেপই কাজে আসেনি। অন্যদিকে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা একগুচ্ছ প্রণোদনা ঘোষণা করেন। তিনটি ধাপে এসব প্রণোদনা বাস্তবায়নের কথা হয়েছে। স্বল্প মেয়াদি, মধ্য মেয়াদি ও দীর্ঘ মেয়াদি প্রণোদনা। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য আইপিও কোটা এবং মার্জিন ঋণের সুদ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এসবের মাঝে বাজারের হাল ধরার দায়িত্ব নেন ডিএসই সভাপতি রকিবুর রহমান। তাতেও আশানুরূপ স্থিতিশীল বাজার পাননি বিনিয়োগকারীরা। বরং, দেশের স্টক এক্সচেঞ্জের মূল্যসূচক নিম্নগামী হচ্ছেই। সে সঙ্গে প্রতিদিনের লেনদেনের পরিমাণ হাজার কোটি টাকা থেকে কমে ২০০ কোটি টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, এসইসিতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তির অভাবেই বাজার ধারাবাহিক দরপতনের দিকে এগিয়েছে। এসইসি বাজারের দিকে না তাকিয়ে এসইসি গঠনের দিকে বেশি কাজ করছে। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে।
বাজার চিত্র: বাজারে বিপর্যয়ের নামার আগের দিন অর্থাৎ ২০১০ সালের ৭ই ডিসেম্বর একদিনে যেখানে ডিএসইতে ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল; সেখানে গত বৃহস্পতিবার ছিল মাত্র ১৭৬ কোটি টাকায়।
সূচক: ডিএসইর মূল্যসূচক ছিল ৮ হাজার ৯১৮ পয়েন্টে। বর্তমানে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সূচক এসে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৮ পয়েন্টে।
বাজার মূলধন: বাজার মূলধন ছিল ৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আর গত বৃহস্পতিবার তা এসে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৪ কোটি টাকায়।
আইপিও: গত এক বছরে দেশের পুঁজিবাজারে নতুন ১৪টি কোম্পানি এবং ৯টি মিউচুয়াল ফান্ড তালিকাভুক্তি হয়েছে। এর পরও ডিএসইর সাধারণ সূচক ৮ হাজার ৯১৮ পয়েন্ট থেকে নেমে ৪ হাজার ৮৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এ সময়ের ৪৭২ কার্যদিবসের মধ্যে ২৬২ দিনই সূচকের পতন হয়েছে।
এসইসির মহাপরিকল্পনা: গত অক্টোবর মাসে ১০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা ৭টি ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় এসইসি। যার মধ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া এর মধ্যে ৮৫টি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। চলতি বছর থেকে শুরু হওয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ২০২২ সাল পর্যন্ত ধরা হয়। এর মধ্যে মার্জিন লোনের অনুপাত ৩ ধাপে বাস্তবায়ন করবে এসইসি। যেমন: ১লা জুলাই ২০১৪-এ অনুপাত দাঁড়াবে ১:০.৫। অর্থাৎ প্রতিবছর দশমিক ৫% করে হ্রাস হবে।
বিও একাউন্ট: পুঁজিবাজার পতনের ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলেও আসন্ন আইপিওকে কেন্দ্র করে বেনিফিশিয়ারি একাউন্ট (বিও) খোলার প্রবণতা বেড়েছে। গত এক মাসে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার বিও বেড়েছে। নভেম্বর মাসের ১২ তারিখে বিও একাউন্ট ছিল ২৪ লাখ ৪১ হাজার ৮৩৩টি। বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ২৪ লাখ ৫৯ হাজার ৪৫৩টিতে। মোট বিওর মধ্যে ১৮ লাখ ২৭ হাজার ২৮৪টি পুরুষ, ৬ লাখ ২৩ হাজার ৪১৭টি মহিলা এবং ৮ হাজার ৭৫২টি কোম্পানি একাউন্ট রয়েছে। বর্তমানে দেশের মধ্যে থাকা নাগরিকের ২৩ লাখ ১৭ হাজার ৬৪২টি ও প্রবাসীদের ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৯টি বিও একাউন্ট রয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন: মাহা ধসের মাস কয়েক পরেই সরকার পক্ষ থেকে এ কারসাজিদের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্ন্‌িত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ড. খন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এসইসির তৎকালীন সদস্য একজন নির্বাহী পরিচালক বাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নতুন করে এসইসিকে পুনঃগঠন করে সরকার। নতুন এসইসির চেয়াম্যান হিসেবে ১৫ই মে ২০১১ সালে দায়িত্ব নেন ড. এম খায়রুল হোসেন। চারজন সদস্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দায়িত্ব দিয়ে এসইসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে সংবাদ মাধ্যমকে বলেছিলেন, আগামী তিন মাসের মধ্য পুঁজিবাজারের সব সমস্যা সমাধান করবো। বাজার স্থিতিশীল করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ হবে। কিন্তু তিন মাসের কথা বলে দেড় বছর পার হলেও বাজার ঠিক হয়নি। বরং, এসসির চেয়ারম্যান তার সুর পাল্টে বলেন, বাজার ঠিক রাখা আমার কাজ আমার নয়। আমি আইন সংস্কার, বাজারে তারল্য সঙ্কট নিরসনের জন্য কাজ করছি।
প্রণোদনা প্যাকেজ: এরপরও যখন বাজার স্থিতিশীল হচ্ছে না। প্রতিদিনই যখন দরপতন চলছে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নামে। ঠিক তখনি গত বছর ২৩শে নভেম্বর সরকার পক্ষ থেকে নেয়া হয় স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘ মেয়াদি ২০ দফার পরিকল্পনা। কিন্তু এক বছর পার হলেও প্রণোদনার কোন সুফল পায়নি বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োকারীদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা বলা হলেও এক বছরে বেশি সময় পার হলেও তা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে না। মার্চেন্ট ব্যাংকার্সরা বলছে তাদের কাছে টাকা নেই। ব্রোকারেজ হাউসগুলো এখনও এগিয়ে আসছে না। এমন পরিস্থিতিতে দু’বছর ধরে থেকে থেমে চলতে থাকা দরপতনের ফলে নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাজার হাজার বিনিয়োগকারী।
বাজার বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের কথা: এসইসির সাবেক চেয়ারম্যান মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, এসইসিতে দক্ষ ও স্বচ্ছ ব্যক্তির অভাবের কারণে বাজারে ধাবাবাহিক দরপতনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসইসির বাজারে দিকে না তাকিয়ে এসইসি গঠনের দিকে বেশি কাজ করছে। তিনি বলেন, গত দু’বছরে পতন ঠেকাতে প্রণোদনা প্যাকেজ, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনাস্বরূপ বিশেষ স্কিম, ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের ৫ হাজার কোটি টাকার ফান্ড গঠনের ঘোষণা, বাংলাদেশ ফান্ড নামে বিশাল আকারের ফান্ড গঠন এমন অনেক পদক্ষেপই ছিল। কিন্তু এর কোনটিই কাজ দেয়নি। কারণ এসব পদক্ষেপ সুচিন্তিত ছিল না বা সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
এসইসির অপর সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, দীর্ঘ দু’বছরেও সঙ্কটের মূল অনুধাবন করতে না পারায় এ সময়ে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তার প্রায় সবই ছিল অপরিপক্ব, অদূরদর্শী ও অকার্যকর। তিনি বলেন, মুদ্রা বাজারের তারল্য সঙ্কটের কারণে শেয়ারবাজারে পর্যাপ্ত তারল্য আসছে না। এ কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বিশেষত বেসরকারি ব্যাংকগুলো নতুন করে বিনিয়োগে আসছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, দরপতনের প্রধান কারণ হচ্ছে পুঁজিবাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিচার না করা। ইব্রাহিম খালেদের প্রতিবেদন অনুসারে পুঁজিবাজার পরিচালনা করা। তিনি বলেন, বর্তমানে বেশির ভাগ কর্মকর্তা পুঁজিবাজার সম্পর্কে কিছুই বুঝেন না। দু-একজন কিছু জানেন, তারা আবার নিজেদের স্বার্থে কাজ করছেন।

চাপাতির কোপ খুঁজে পায়নি ফরেনসিক বিভাগ

চাপাতির কোপ খুঁজে পায়নি ফরেনসিক বিভাগ


পুলিশের পথ অনুসরণ করেছে হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও এবং স্থিরচিত্রে হামলাকারীরা শনাক্ত হলেও পুলিশের রিপোর্টে তারা ছিল ‘অজ্ঞাত’। ঠিক একই ভাবে রড, লাঠি দিয়ে পেটানো ও চাপাতি দিয়ে কোপানোর দৃশ্য দেখা গেলেও হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা নিহত বিশ্বজিতের শরীরে ওইসব অস্ত্রের কোন আঘাত খুঁজে পাননি। ধরা পড়েনি কিল-ঘুষি ও লাথির জখম। বিস্ময়কর হলেও এমন প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন মিটফোর্ড হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের একজন চিকিৎসক। অথচ ভিডিও চিত্রে অসংখ্যবার দেখা গেছে, চাপাতি শাকিল উপর্যুপরি কোপাচ্ছিল বিশ্বজিতের শরীরে। রাশেদুজ্জামান শাওন পেটাচ্ছিল রড দিয়ে। তার সঙ্গে ছিল মাহফুজুর রহমান নাহিদ, নূরে আলম লিমন, রাজন, ওবায়দুল কাদের, তাহসিন কাদের ও ইউনুছ। তাদের সবাইকে রড ও লাঠি হাতে বিশ্বজিৎকে পেটানোর দৃশ্য গণমাধ্যমে ধরা পড়েছে। এছাড়া শনাক্ত হওয়া বেশির ভাগ আসামি গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রড, লাঠি দিয়ে পেটানো ও চাপাতি দিয়ে কোপানোর কথা স্বীকার করেছে। কিন্তু চিকিৎসকের পোর্স্টমর্টেম রিপোর্টে সেই শাকিলের চাপাতির আঘাত খুঁজে পাওয়া যায়নি। মিটফোর্ড হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের একজন চিকিৎসক বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে বিশ্বজিতের শরীরের ২০-২৫ জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। রক্তাক্ত ক্ষত স্থানসহ অসংখ্য ফোলা-জখমের দাগ ছিল লাশের দেহে। এ সংক্রান্তে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। এছাড়া লাশ কাটায় নিয়োজিত কর্মচারীরা (ডোম) বিশ্বজিতের শরীরে পৃথক অস্ত্রের পৃথক আঘাত শনাক্ত করেছিলেন। কিন্তু ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকের চূড়ান্ত ময়না তদন্তের প্রতিবেদনে তা গোপন করা হয়েছে। তার ধারণা, হামলাকারীদের বাঁচাতেই এমন তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। গতকাল মিটফোর্ড হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের পোস্টমর্টেম রিপোর্টের নথিপত্র অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, বিশ্বজিৎ দাসের ময়না তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছেন ডা. মাকসুদুর রহমান। রিপোর্ট নম্বর ৪৬৭/১২। রিপোর্ট তৈরির তারিখ ১৫ই ডিসেম্বর/২০১২। রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন, পিঠের ডান পাশে ৩ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও দেড় ইঞ্চ প্রস্থের একটি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বাম পা থেঁতলে গেছে। মৃত্যুর কারণ অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ। এর বাইরে আর কোন তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিটফোর্ড হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাকসুদুর রহমান কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে কয়েক দফায় মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ‘পরে কথা বলবো’ বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এ প্রসঙ্গে ওই হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক বলেন, চাঞ্চল্যকর যতগুলো হত্যাকাণ্ডের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে এগুলোর মধ্যে বিশ্বজিতের প্রতিবেদনটি সবচেয়ে সংক্ষিপ্ততম। এ রিপোর্টে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। রিপোর্টের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদারক কর্মকর্তা ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, ময়না তদন্তের রিপোর্ট মাত্র হাতে পেয়েছি। রিপোর্টে উল্লেখ করা বিষয়গুলো এখন নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সূত্রমতে, শুরু থেকেই হামলাকারীদের বাঁচাতে বিশেষ মহল মরিয়া। ঘটনাস্থলের অল্প দূরেই লালবাগ জোনের ডিসি হারুন-অর রশীদ তার পুলিশ বাহিনী নিয়ে উপস্থিত থাকলেও হামলাকারীদের হাত থেকে বিশ্বজিতের প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে যাননি। গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত বিশ্বজিৎকে যখন এক রিকশাচালক হাসপাতালে নিয়ে যান, তখনও চিকিৎসকরা কার্যকর চিকিৎসাসেবা দেননি। এর প্রতিবাদে জড়িত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, নিহতের স্বজনদের ফিরিয়ে দিয়ে মামলার বাদী হন সূত্রাপুর থানা পুলিশের কর্মকর্তা। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে আসামিদের সবাই চিহ্নিত হলেও পুলিশের এজাহারে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। অজ্ঞাত হিসাবে ২০-২৫ সংখ্যা উল্লেখ করেন। সর্বশেষ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে কর্মরত চিকিৎসকদের মনগড়া রিপোর্ট নিয়ে এখন তোলপাড় শুরু হয়েছে। মামলার বাদী সূত্রাপুর থানার এসআই জালাল উদ্দিন বলেন, বিশ্বজিতের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কাটা ও ফোলা জখমসহ অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন ছিল। সুরতহাল প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী মামলার এজাহার লেখা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন এসআই জাহেদুল হক। তিনি বলেন, লাশের সুরত (চেহারা) যেমন দেখেছি তেমনই রিপোর্টে উল্লেখ করেছি। নিহতের সারা শরীর ছিল রক্তাক্ত। মাথা, হাত, পা ও পিঠসহ সারা শরীরেই অসংখ্য ফোলা ও কাটা জখমের দাগ ছিল।