Pages

Tuesday, December 25, 2012

সিন্ডিকেটের কবলে পিয়াজ

সিন্ডিকেটের কবলে পিয়াজ


বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠকে ব্যবসায়ীরা জানালেন, সিন্ডিকেটের থাবায় পিয়াজের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। বাজারে পিয়াজের অভাব নেই। তারপরও সিন্ডিকেটের কারণে দাম নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। অবশ্য ব্যবসায়ীরা সচিবকে আশ্বস্ত করেছেন দাম দিনে দিনে কমে যাবে। বাণিজ্য সচিব পিয়াজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং মূল্য যাতে কোনভাবে অস্বাভাবিক পর্যায়ে না ওঠে সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন
। তিনি বলেন, কেউ বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শ্যামবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী নেতা বলেছেন, খুচরা ব্যবসায়ীরাই দ্বিগুণ লাভে বিক্রি করে। সরকারের উচিত তাদের প্রতি আরও কঠোর হওয়া। বর্তমানে আমদানি করা পিয়াজ প্রকৃত মূল্যের চেয়েও দ্বিগুণ দামে বিক্রি করা হচ্ছে খুচরা বাজারে। আমদানি করা পিয়াজের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য কেজি ২৪ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও রাখা হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। বর্তমানে খুচরা প্রতি কেজি পিয়াজের দাম রাখা হচ্ছে দেশী নতুন ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। আর পুরাতন ৭০ থেকে ৮০ টাকা। কাওরান বাজারের একাধিক পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, গত বছর এই সময়ে দেশী নতুন পিয়াজ ১২ থেকে ২০ টাকার মধ্যে ছিল। এ বছর এই পিয়াজের দাম বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তারা বলেন, লেবার খরচ, সার ও ওষুধের দাম বেশি।
পিয়াজের ‘অস্বাভাবিক’ মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বৈঠকের আয়োজন করে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পিয়াজের যৌক্তিক দামের বিষয়টি উপস্থাপন করেন ট্যারিফ কমিশনের নিত্যপণ্য (বাজার মনিটরিং) গবেষণা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। বৈঠকে ব্যবসায়ীদের বক্তব্য অনুযায়ী পিঁয়াজের দাম আস্তে আস্তে কমানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ট্যারিফ কমিশন প্রতিকেজি পিয়াজ আমদানিকৃত ২৪ টাকা নির্ধারণ করার কথা তুলে ধরেছে।

রাজউকের ৫ হাজার কোটি টাকার শতাধিক বাড়ি ও প্লট বেহাত

রাজউকের ৫ হাজার কোটি টাকার শতাধিক বাড়ি ও প্লট বেহাত


রাজধানীতে ৪০ বছরে রাজউকের পাঁচ হাজার কোটি টাকার শতাধিক বাড়ি ও প্লট বেহাত হয়ে গেছে। জালিয়াতির মাধ্যমে রাজউকের আরো ৩৮টি বাড়ি আত্মসাতের চেষ্টা করছে সংঘবদ্ধ সরকারি ভূমি দখলকারী সিন্ডিকেট। চক্রটি অতিসমপ্রতি শত কোটি টাকা মূল্যের ধানমন্ডি ১ নম্বর সড়কের ১৩৯/১(এ) নম্বরের একটি সরকারি বাড়ি হাতিয়ে নিয়েছে। রাজউক এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এসব বাড়ি রক্ষায় তেমন কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজউক ও মন্ত্রণালয়ের এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা বরং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরকারি বাড়ি দখলকারীদের নানাভাবে সহায়তা করছে । কিন্তু রাজউক ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, প্রতিটি বাড়ি রক্ষায় কর্তৃপক্ষ আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ভূমি জালিয়াত চক্র ভুয়া দলিলপত্র বানিয়ে আদালতের শরণাপন্ন নিয়ে আইনি জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নূরুল হুদা ইত্তেফাককে বলেছেন, 'সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে আইনি লড়াই চলছে। ইতিমধ্যে শত কোটি টাকা মূল্যের পাঁচটি সরকারি বাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। বেহাত হওয়া অন্যান্য সরকারি সম্পদ রক্ষার প্রাণপণ চেষ্টা চলছে।'

গুলশান, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল, মহাখালী, দিলকুশা ও উত্তরার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রাজউকের মূল্যবান সম্পত্তি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করে নেয়া হয়েছে। দখলকৃত প্লটে বাড়িঘর করে বসবাসও চলছে। এসব প্লট ও বাড়ির আয়তন দুই বিঘা পর্যন্ত। রাজউক এবং গৃহায়ণ এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন থেকেই এসব তথ্য জানা গেছে। বেহাত হওয়া সরকারি প্লটগুলো উদ্ধারে রাজউকের পক্ষ থেকে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও রাজউকের যৌথ উদ্যোগে উচ্চ পর্যায়ের একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, বেহাত হওয়া প্লটগুলোর অধিকাংশই এককালে পাকিস্তানি নাগরিকদের নামে বরাদ্দ দিয়েছিল তত্কালীন ডিআইটি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা বাংলাদেশ ছেড়ে চলে গেলে প্লটগুলো বেদখল হয়ে যায়। এরকম শতাধিক প্লট ও বাড়ির তালিকা করে রাজউক সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দখলকারীরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় রাজউক তাদের সঙ্গে পেরে উঠছে না। সংঘবদ্ধ ভূমি জালিয়াত চক্র মামলা-মোকদ্দমা ফেঁদে দখল স্থায়ী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজউক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান বাজারে এসব বেহাত হওয়া প্লট ও বাড়ির মূল্য পাঁচ হাজার কোটি টাকারও অধিক।

রাজউকের চলমান উদ্ধার তালিকায় ৩৮টি প্লট ও বাড়ির নাম রয়েছে যার বর্তমান বাজার মূল্য আড়াই হাজার কোটি টাকারও অধিক। গত ৪০ বছরে রাজউকের আরো ১০৮টি বাড়ি ও প্লট হাতছাড়া হয়ে গেছে। সেগুলো উদ্ধারে এক রকম হাল ছেড়েই দিয়েছে রাজউক।

রাজউকের একাধিক সূত্র জানায়, বরাদ্দপ্রাপ্তরা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর একেকটি প্লটের মালিকানা দাবি করে একই নামের একাধিক ব্যক্তি রাজউকের শরণাপন্ন হয়। জাল দলিলপত্র তৈরি করে তারা মালিকানা দাবি করছেন। অনেকে আদালতের একতরফা রায় কিংবা ভুয়া রায়ের কপি দেখিয়েও সরকারি প্লট আত্মসাত্ করেছে। কিন্তু রাজউক তাদের নামে প্লট ও বাড়িগুলোর নামজারি করেনি। এক পর্যায়ে পেশি শক্তির মাধ্যমে প্রভাবশালীরা দখল নিশ্চিত করে। রাজউকের কিছু সংখ্যক অসাধু কর্মকর্তাকে হাত করে রাখায় দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।

রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নূরুল হুদা ইত্তেফাককে বলেন, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। সে মোতাবেক রাজউক সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, গুলশান, বনানী ও বারিধারায় এ ধরনের বেশ কিছু প্লট ও বাড়ি রাজউকের রয়েছে। কিন্তু সেগুলো সম্পূর্ণ রাজউকের দখলে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। আইনি জটিলতার কারণে এসব প্লট ও বাড়ি নিলামে বিক্রি করে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য আপাতত রাজউকের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বাড়িগুলো নিয়ে এমন কিছু না করার জন্য যাতে করে দখলদাররা সুবিধা পায়। তবে বাড়িগুলো উদ্ধারে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। যেকোন মূল্যে সরকারের এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রক্ষা করা হবে।

রাজউক চেয়ারম্যান আরো বলেন, একই নামের একাধিক ব্যক্তি এসে একটি প্লটের মালিকানা দাবি করেন। অথচ আমরা বুঝতে পারি, তাদের কেউই ওই প্লটের মালিক নন। এ ধরনের কিছু প্লট বেহাতও হয়ে গেছে। সেগুলো এখন আর উদ্ধার করা হয়তো সম্ভব নয়। অবশিষ্ট প্লটগুলো কিভাবে রক্ষা করা যায়, সে চেষ্টাই করছে রাজউক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজউকের এক কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এ ধরনের ১৮টি প্লট ও বাড়ি পানির দামে রাজউক বিক্রি করে দেয়। এ ঘটনায় মামলা হলে রাজউকের তত্কালীন চেয়ারম্যান শহিদ আলমসহ ডজনখানেক কর্মকর্তা জেলে যান। এরপরও রাজউকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী জাল দলিলকারীদের সহযোগিতা করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। সরকারের উচ্চ মহল থেকেও এ ব্যাপারে তদবির আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গুলশানের ১৪ নম্বর রোডের ৪ নম্বর বাড়িটি প্রায় দুই বিঘা আয়তনের। এ প্লটের পশ্চিম অংশে রয়েছে একটি তিনতলা আবাসিক ভবন। সামনে এক বিঘার মতো জায়গা ফাঁকা। সেখানে শিশুদের জন্য পার্কের আঙ্গিকে খেলার উপকরণ। আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বাহারি ফুল ও ফলের গাছ। বাড়ির চারপাশে উঁচু সীমানা প্রাচীর। তত্কালীন ডিআইটি এ প্লটটি ফাতেমা জোহরাকে বরাদ্দ দিয়েছিল। রাজউকের নথিতেও জাল দলিল করে দখলদার হিসেবে ফাতেমা জোহরার নামটি আছে। তবে বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী আকরাম জানান, বাড়িটি রংপুর এলাকার জাতীয় পার্টির নেতা করিম উদ্দিন ভরসার। তার পরিবার-পরিজন দীর্ঘদিন ধরে এখানেই বাস করছেন।

গুলশানের ১০৯ নম্বর রোডের ৪ নম্বর বাড়িটি প্রায় দুই বিঘার প্লটে ছিমছাম একটি ডুপ্লেক্স ভবন। সামনে ফুলের বাগান। ফটকের পাশের দেয়ালে লেখা দারুল ইমাম। রাজউকের নথিতে এ প্লটের আগের বরাদ্দপ্রাপ্ত ও দখলকারী হিসাবে মো. শাহাবুদ্দিনের নাম রয়েছে।

গুলশানের ১১ নম্বর রোডের ৩ নম্বর প্লটের আয়তন অন্তত এক বিঘা। ভেতরে কিছু ঘরবাড়ি। আর বেশকিছু প্রাইভেট কার পরিত্যক্ত পড়ে আছে। ঘরবাড়িতে বসবাস করছেন শাহজাহান বেপারীসহ চার-পাঁচজন। শাহজাহান বেপারী ইত্তেফাককে বলেন, বাড়িটি সরকারি। কিন্তু সরকারের দখলে নেই। অন্য লোকেরা দেখাশোনা করার জন্য তাকে চাকরি ও থাকতে দিয়েছেন। আর গুলশান থানায় গাড়ি রাখার জায়গা নেই বলে আটক করা গাড়িগুলো এখানে রাখা হয়েছে। রাজউকের নথিতে জায়গাটির মালিক ও জাল দলিলকারীর নাম সৈয়দ আহমেদ হাসমী।

বনানীর ব্লক জি-৩, রোড-৭, বাড়ি ৩১-এ গিয়ে দেখা যায়, চারপাশে সীমানা প্রাচীর দেয়া বাড়িটির ফটকের একাংশের সামনে ইয়াকুব নামের এক ব্যক্তি পান-চা-সিগারেটের দোকান বসিয়েছেন। ভেতরে টিনশেড একটি ঘরে মমতাজ মিয়া সপরিবারে বসবাস করেন। আরেক অংশ ভাড়া দেয়া হয়েছে একটি পানীয় কোম্পানির কাছে। তারা সেখানে বোতল রাখার গুদাম বানিয়েছে। ইয়াকুব জানান, বাড়ির মালিক একজন সুফি। তিনি এখানে খানকা শরিফ বানাবেন। তার হয়ে দেখাশোনা করেন মমতাজ মিয়া। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, অনেকদিন আগে মাওলানা শামসুল হকের মাধ্যমে জায়গাটা কেনা হয়েছিল খানকা শরিফ নির্মাণের জন্য। শিগগিরই ওই জায়গায় খানকা শরিফের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। রাজউকের তালিকায় এ জায়গাটির মালিক ও জাল দলিলকারী হিসাবে নাম আছে সাইদ নূরুল গনির।

রাজউকের তালিকা

রাজউকের তৈরি গুলশান-বনানী ও বিভিন্ন এলাকার বিতর্কিত নথির তালিকায় আছে গুলশানের ৯৩ রোডের ১৫/সি প্লটটি। এটি জাল দলিল করে দখল করেছেন এম এম জলিল খান, ৯৬/৯৩ রোডের ১৯ নম্বর প্লট দখল করেছেন মো. ওহীদুল নবী। একইভাবে রোড ১০১/১০৩, প্লট ১৩ নেছার মোহাম্মদ খান, রোড ১০৮, প্লট ১৪ টি এ খান, রোড ১০৮/১১২, প্লট ১ আরিফুল হাসান, রোড ১০৯, প্লট ৪ মো. শাহাবুদ্দিন, রোড ১১৫, প্লট ১০ হারুন নেছা, রোড ১১৬, প্লট ৯ বিলকিস বানু, রোড ১১৭/গ, প্লট ৮০ নীঘাত পারভিন, রোড ৪৯/ক প্লট ১ আসাদুজ্জামান ও শওকত আলী চৌধুরী, রোড ৪৯ প্লট ১ এস এম এ তাকী ও শাহীন কোরাইশী, রোড ৪৭/৪৮, প্লট ২ রৌশন আরা বেগম, রোড ৪১, প্লট ৬ হাবিব সুলতানা জায়েদী, রোড ৪৪, প্লট ৩০/এ মোক্তার আহম্মদ আনসারী, রোড ৪৪/গ, প্লট ৩০/এ হোসনে আরা বেগম, রোড ৪৫/গ, প্লট ১১৩ এস কে রেজা চৌধুরী, রোড গ, প্লট ১০৫ মুস্তারী বেগম, রোড গ, প্লট ৭৯ আবদুল্লাহ ভাই, রোড ১৬/২১, প্লট ৬ শামসুল হক, রোড ৩, প্লট ৭২ মো. কেরামত আলী, রোড ৭১/৭৪, প্লট ৯ ইউসুফ আলী খান, রোড ৮৭, প্লট ৪ নম্বর এম এ ছাত্তার, রোড ৫৯, প্লট ১৯ হাফিজা বেগম, রোড ৫৪, প্লট ১৩ আবদুল মালেক, রোড ৫৩, প্লট ১২ মাহবুব আনাম, রোড ৫০, প্লট ১৯ মোস্তফা হায়দার, রোড গ-১১, প্লট ৩৫ আফসার উদ্দিন, রোড ১১, প্লট ৩ সৈয়দ আহমেদ হাসমী, রোড ১৪, প্লট ৪ নম্বর ফাতেমা জোহরা, রোড ২/১, প্লট ২ রওশন আরা বেগম গং ও রোড ৪৬/৫২, প্লট ২৭ নম্বর মো. নাঈম জাল দলিল করে দখল করেছেন।

বনানীর সি-ব্লকের ৬ নম্বর সড়কের ৬ নম্বর বাড়ি জাল দলিল করে দখল করেছেন মো. নেহাল উদ্দিন। ডি-ব্লকের ১৩ নম্বর রোডের ২৫ নম্বর বাড়ি জাল দলিল করে দখল করেছেন আবসার আলম ওসমানী, ই-ব্লকের ১৭/এ, ১২ নম্বর সড়কের ১২ নম্বর বাড়ি মো. আইয়ুব আনসারী, আই-ব্লকের ৩ নম্বর রোডের ২৮ নম্বর বাড়ি ওয়াহিদুর রহমান, জি-ব্লকের ৭ নম্বর রোডের ৩১ নম্বর বাড়ি সাইদ নূরুল গনি।

এছাড়া ২২ দিলকুশার প্লট জাল দলিল করে দখল করেছেন আবদুল জলিল ও ৫৪ মহাখালীর প্লটটি জাল দলিল করে দখলে রেখেছে ইউনাইটেড ট্রেডিং করপোরেশন। একইভাবে দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায় ১ বিঘা ১৭ কাঠা আয়তন বিশিষ্ট ৩৭ নং প্লটটি হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে একটি চক্র। রাজউকের এ তালিকার শেষে বিশেষ দ্রষ্টব্য দিয়ে লেখা উপরোক্ত প্লটগুলোর লিজ গ্রহীতারা পাকিস্তানের নাগরিক। বর্তমানে বিভিন্ন ব্যক্তি উক্ত নাম ধারণ করে প্লটগুলো হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে।

রাজউকের বেহাত হওয়া অন্যান্য প্লট হচ্ছে সিইএন (এ) ১৫/সি, রোড ৯৩, পরিমাণ ৬ কাঠা, সিইএন (বি) ১৭, রোড-৯৯, পরিমাণ ১৮ কাঠা ১২ ছটাক, সিইএন (ডি) ২০, রোড ১০১/১০৩, পরিমাণ ২০ কাঠা ১০ ছটাক, সিইএন (জি) ১৬/বি, রোড-১০৮/১১২, পরিমাণ ১৫ কাঠা ১০ ছটাক, সিইএন (এইচ) ৪, রোড ১০৯, পরিমাণ ১৩ কাঠা ৬ ছটাক, সিইএন (এইচ) ৩২, রোড ১১৫, পরিমাণ-১৪ কাঠা ১ ছটাক, সিইএস (এ) ৪৭, রোড ১১৬, পরিমাণ ১৩ কাঠা ১০ ছটাক, সিইএস (এফ) ২ রোড বি/এ গুলশান এভিনিউ, পরিমাণ ১৯ কাঠা ৮ ছটাক, সিডব্লিউএন (এ) ০১ রোড ৪৯/কেএ পরিমাণ ২৭ কাঠা ৮ ছটাক, সিডব্লিউএন (এ) ২, রোড-৪৯, পরিমাণ ২১ কাঠা ৯ ছটাক, সিডব্লিউএন (এ) ১৮/৬/৫, রোড ৪৭/৪৮, পরিমাণ ১৯ কাঠা ১৩ ছটাক, সিডব্লিউএন (এ) ৪৩, রোড ৪১, পরিমাণ ১৭ কাঠা ১২ ছটাক, সিডব্লিউএন (বি) ৬, রোড ৪৪, পরিমাণ ৯ কাঠা ১৫ ছটাক, সিডব্লিউএন (বি) ২৮, রোড ৪৪, গুলশান এভিনিউ, পরিমাণ ১৩ কাঠা, সিডব্লিউএন (বি) ৩৪, রোড-গুলশান এভিনিউ, পরিমাণ ১৯ কাঠা ৪ ছটাক, সিডব্লিউএন (সি) ৩, রোড-গুলশান এভিনিউ, পরিমাণ ১৮ কাঠা ১২ ছটাক, সিডব্লিউএন (এ) ৮, রোড-গুলশান এভিনিউ, পরিমাণ ১৯ কাঠা ৮ ছটাক, সিডব্লিউএন (সি) ৫, রোড ১৬/২১, পরিমাণ ২৫ কাঠা, এনই (বি) ১/এ, রোড ৭১/৭৪, পরিমাণ ৩৯ কাঠা ৩ ছটাক, এনই (এস) ৪, রোড ৮৭, পরিমাণ ৮ কাঠা ১২ ছটাক, এনডব্লিউ (ই) ২ রোড ৫৯, পরিমাণ ১৭ কাঠা ১২ ছটাক, (এনডব্লিউআই) ৩ রোড ৫৩, পরিমাণ ২৪ কাঠা ৮ ছটাক, এনডব্লিউ (কে) ১১ রোড ৫০, পরিমাণ ১৮ কাঠা ১২ ছটাক, এসডব্লিউ (এ) ২৯, রোড ১১, গুলশান এভিনিউ, পরিমাণ ১৭ কাঠা ৮ ছটাক, এসডব্লিউ (এ) ৩০, রোড-১১, গুলশান এভিনিউ, পরিমাণ ১১ কাঠা ১২ ছটাক, এসডব্লিউ (সি) ১৩, রোড ১৪, পরিমাণ ১২ কাঠা ৩ ছটাক, এসডব্লিউ (এইচ) ৭, রোড ২/১, পরিমাণ ২০ কাঠা ১০ ছটাক, জিএনসি (এ) ৪৫, রোড ৪৬/৫২, পরিমাণ ৬ কাঠা ১৪ ছটাক, সিএনডব্লিউ (বি) ৩৪, পরিমাণ ১৪ কাঠা, এসডব্লিউ (সি) ১৩, পরিমাণ ১২ কাঠা ৯ ছটাক, এনডব্লিউ (স) ১ বিঘা ১ ছটাক, সিডব্লিউএন (বি) ৩, পরিমাণ ১১ কাঠা ২ ছটাক, সিডব্লিউএন (এ) ১, পরিমাণ ১ বিঘা ২ ছটাক, সিইএস (এ) ৪৭, পরিমাণ ১৭ কাঠা ১১ শতাংশ, সিডব্লিউএন (সি) ৩, পরিমাণ ১ বিঘা ২ শতাংশ, সিডব্লিউএন (বি) ১-এ, পরিমাণ ১ বিঘা ১৯ শতাংশ, সিডব্লিউএন (এ) ২, পরিমাণ ১ বিঘা ২ শতাংশ।

রাজউকে ২৫ কোটি টাকার টেন্ডার ছিনতাই

রাজউকে ২৫ কোটি টাকার টেন্ডার ছিনতাই


পুলিশের উপস্থিতিতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ভবনে আবদুল মোনেম লিমিটেড নামের এক নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ২৫ কোটি টাকার টেন্ডার ডকুমেন্ট ছিনতাই করা হয়েছে। দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সন্ত্রাসীরা এ কাজটি করেছে বলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েক জন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন। এদের মধ্যে যুবলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের আগের কমিটির সদস্য
আজাদ, মতিঝিল থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল ও ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ধারী শাহীন মোল্লা, সোহাগ আলীম ও রাজের নেতৃত্বে শতাধিক বহিরাগত ছিল। তারা সকাল থেকেই টেন্ডার পাহারা দিয়ে এ কর্মকাণ্ড ঘটায়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, একডি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর ভাগ্নে পরিচয় দিয়ে থাকেন। রাজউক ভবনে তিনিই এখন টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। মোনেম লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এম এ কালাম ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, রাজউকের উত্তরা তৃতীয় পর্ব প্রকল্পে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ব্রিজ নির্মাণের টেন্ডারে অংশ নেয়ার জন্য তারা সকাল ১১টার দিকে রাজউক ভবনে যান। তাদের কাছে টেন্ডারের শিডিউল জমা দেয়ার পুরো ডকুমেন্ট ফাইল আকারে ছিল। রাজউক ভবনের লিফট দিয়ে ওঠার সময় দু’জন অপরিচিত লোক লিফটের ভেতরেই ডকুমেন্ট ফাইল নিয়ে টানাটানি শুরু করেন। তারা তিন তলায় নামতে চাইলেও তাদের জোর করে চার তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। লিফটের ওই দু’জনের সঙ্গে আরও চার-পাঁচ জন যোগ দিয়ে টেন্ডার ডকুমেন্ট ফাইল ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়। পরে তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শাখাকে মৌখিকভাবে অবহিত করেন। তিনি জানান, বিষয়টি চেয়ারম্যানকে অবহিত করার জন্য চেয়ারম্যানের দপ্তরে গিয়ে জানতে পারি রাজউকে বোর্ড মিটিং চলছে। চেয়ারম্যান সহ সব কর্মকর্তা ওই বৈঠকে রয়েছেন। গতকাল ছিল শিডিউল জমা দেওয়ার শেষ দিন। সর্বশেষ সময় ছিল বেলা সাড়ে ১২টা। বোর্ড মিটিং চলে ১২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত। ইঞ্জিনিয়ার এম এ কালাম জানান, বোর্ড সভা শেষে রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য রাজউক ভবনের বাইরে চলে যান। কালাম বলেন, আমরা এ এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করবো এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করে আবার টেন্ডার আহ্বানের আবেদন জানাবে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ঠিকাদার ও রাজউকের কর্মচারীরা জানান, সকাল ১০টা পর থেকেই খোলা জিপে করে একদল যুবক রাজউক ভবনের গেটের বাইরে অবস্থান করছিল। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মোনেম লিমিটেডের কর্মকর্তাদের গাড়ি রাজউক ভবনে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে জিপ থেকে পাঁচ-ছয় জন যুবক নেমে তাদের অনুসরণ করতে থাকে। প্রায় ২০ মিনিট পর ওই পাঁচ-ছয় জন যুবক সেই খোলা জিপে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। রাজউকের একাধিক ঠিকাদার এবং কর্মচারী জানান, রাজউকে কয়েক মাস ধরে ‘খোলা জিপ’ বাহিনী একটি আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে কোন টেন্ডার হলেই তারা এসে হাজির হয়। খোলা জিপ বাহিনী রাজউকে মানিক বাহিনী নামেও পরিচিত। এই ছিনতাই এর ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে মনিকো লিমিটেড নামে অপর একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও ডকুমেন্ট জমা না দিয়ে রাজউক ভবন ত্যাগ করেন বলেও জানান একাধিক ঠিকাদার। ওদিকে বেলা ১২টায় চেয়ারম্যানের দপ্তরে গেলে জানানো হয় বোর্ড মিটিং চলছে। বেলা ১২টা ৪০ মিনিটে বোর্ড মিটিং শেষ হওয়ার পরও দফায় দফায় একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন চেয়ারম্যান। পরে বেলা দেড়টায় চেয়ারম্যান উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে উত্তরা তৃতীয় পর্বের প্রকল্প এলাকায় একটি ব্রিজ নির্মাণের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। তবে টেন্ডার ছিনতাই কোন ঘটনা তারা জানেন না। তখন পর্যন্ত কেউ তার কাছে এ নিয়ে লিখিত অভিযোগও করেননি। তিনি বলেন, রাজউকের টেন্ডার প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হয় এবং কোন ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। টেন্ডার প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে করার জন্য পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয় বলেও তিনি জানান। খোলা জিপ বাহিনী এবং সালাম খান সম্পর্ক জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোন বাহিনী কিংবা ব্যক্তি সম্পর্কে তার জানা নেই। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মোনেম লিমিটেডসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান শিডিউল জমা দিতে ব্যর্থ হলেও বেলা আড়াইটায় টেন্ডার খোলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় বলে জানা যায়।

Monday, December 24, 2012

ব্র্যাড পিটের মতো চাই বিপাশার বর

ব্র্যাড পিটের মতো চাই বিপাশার বর


বলিউডের অন্যতম আবেদনময়ী অভিনেত্রী বিপাশা বসু অনেক আগে থেকেই ফিটনেসের বিষয়ে বেশ সতর্ক। এর আগে একাধিক ফিটনেস বিষয়ক ডিভিডিও বের করেছেন তিনি, এমনকি ইয়োগার জন্য নিজস্ব একটি জিমও খুলেছেন বিপাশা বসু। সম্প্রতি বিপাশা বসু এই ফিটনেস বিষয়ক নতুন আরও একটি ডিভিডি প্রকাশ করে পুনরায় আলোচনা আসেন। এই ডিভিডির পর আরও একটি কথার কারণে ব্যাপক হারে আলোচিত হন বিপাশা। আর তা হলো ব্র্যাড পিট। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বিপাশা জানান, ব্র্যাড পিটের মতো স্মার্ট, হ্যান্ডসাম এবং পারফেক্ট কোনো পুরুষ পেলে জীবনসঙ্গী করতে এক মুহূর্তও দেরি করবেন না তিনি। উল্লেখ্য, জন আব্রাহামের সঙ্গে বিপাশার ছাড়াছাড়ির বয়স প্রায় দেড় বছর হলো। এরপর থেকেই বিপাশা একা আছেন। তবে মাঝে কয়েকজনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের গুঞ্জন উঠলেও আদতে কোনোটাই সত্য ছিল না বলে জানান বিপাশা। আর এসব জানাতে গিয়েই বিপাশা ব্র্যাড পিটের মতো সুদর্শন পুরুষ চাওয়ার কথা জানান। বিপাশা আরও জানান, খুব আকর্ষণীয় না হলেও চলবে, তবে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। ভালোবাসতে জানতে হবে। বিয়ের মণ্ডপে ওয়াদা করে পরে ভুলবে না এমন একজন। ব্র্যাড পিটের মতো হলেই হবে।'

অপমান সইতে না পেরে রাজধানীতে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

অপমান সইতে না পেরে রাজধানীতে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

 বখাটে যুবক রনিকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও তার পরিবারের সদস্যদের অপমান সহ্য করতে না পেরে অপহরণ থেকে উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী সাদিয়া আক্তার পিংকি আত্মহত্যা করেছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মুগদা এলাকার মান্ডায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বাসা থেকে পিংকির লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে।

পিংকি'র বাবা বাবুল মিয়া জানান, তার বাসা মাণ্ডা ছাতা মসজিদের পাশে। পিংকি যাত্রাবাড়ীর ধলপুর সিটি কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী। পিংকি চলতি বছর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। কয়েকমাস যাবত্ তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল স্থানীয় বখাটে যুবক রনি। তার প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় গত ২৮ নভেম্বর স্কুল থেকে ফেরার পথে পিংকিকে অপহরণ করে রনি। পরে এ বিষয়ে তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানা পুলিশের সহায়তায় তার মেয়েকে উদ্ধার করে। গ্রেফতার করে রনিকে। এ ঘটনার পর থেকে রনির পরিবার তাকে ও তার মেয়েকে প্রায়ই হুমকি দিতো। একইসঙ্গে মামলা তুলে না নিলে বাবা-মেয়েকে হত্যার হুমকি দিতো। অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গতকাল দুপুরে আদালতে রনির জামিন নাকচ করে দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

পিংকির পারিবারিকসূত্র জানায়, রনিকে কারাগারে পাঠানোর খবরে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে তার পরিবারের সদস্যরা। গতকাল সন্ধ্যায় রনির বোনসহ কয়েকজন স্বজন পিংকির বাসায় গিয়ে পিংকি এবং তার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। রনির পরিবারের সদস্যদের এ অপমান সইতে না পেরে পিংকি নিজের ঘরে ঢুকে গলায় ফাঁস দেয়। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে পিংকির কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙ্গে পিংকিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।

মুগদা থানা পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে রাত ১০টার দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পিংকির পরিবারের পক্ষ থেকে কোন মামলা হয়নি।

গণধর্ষণ : উত্তাল ভারত

গণধর্ষণ : উত্তাল ভারত


দিল্লিতে ধর্ষণের ঘটনা যে খুব বিরল, তা মোটেই নয়। বরং বেশিরভাগ ধর্ষিতাই মিডিয়ার পাদপ্রদীপের অন্ধকার-তলে কাঁদে নীরবে। তবে গত সপ্তাহে দিল্লির চলন্ত বাসের ভেতরে এক ছাত্রী-ধর্ষণ ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারত। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ত্রিপুরাতেও একটি গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় গত সপ্তাহজুড়েই দেশটির সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে সুশীল সমাজ, সংবাদমাধ্যম, এমন কি রাজনীতিকরাও ফেটে পড়েন প্রতিবাদে। দিল্লির গণধর্ষণ-ঘটনার প্রতিবাদে গত শনিবার রাজধানীর ইন্ডিয়া গেটের সামনে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হলে পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিপেটার শিকার হন আন্দোলনকারীরা।

ছাত্রী-ধর্ষণের এই ঘটনাটি ঘটে গত ১৬ ডিসেম্বর রবিবার রাতে। ভারতের বিভিন্ন সংবাদ সংস্থায় প্রকাশিত ঘটনার আদ্যোপান্ত থেকে জানা যায়, সে রাতে দিল্লিতে বাস নিয়ে বেরনোর আগে ছোটখাটো একটা পার্টি করেছিল বাসের চালক রাম সিং ও তার সঙ্গীরা। তারপর বাস নিয়ে শহর ঘুরতে বেরোয় তারা। পবন আর বিনয় নামে আরো দু'জন যোগ দেয় তাদের সঙ্গে। প্রত্যেকেই তখন মদ্যপ অবস্থায় ছিল। পরিকল্পনা ছিল আরো হৈ-হুল্লোড়ের। এই হৈ-হুল্লোড়ের টাকা জোগাতে তারা সিদ্ধান্ত নেয় যাত্রী তোলার। রাত সোয়া ন'টা নাগাদ ওই বাসে ওঠেন প্যারামেডিক্যালের এক ছাত্রী (২৩) ও তার বন্ধু (২৮)। বাসে ওঠার কিছুক্ষণ পর থেকেই ওই ছাত্রীকে লক্ষ্য করে অশালীন মন্তব্য করতে থাকে তারা। ছাত্রীর বন্ধুর জবানবন্দি থেকে জানা যায়, তারা দু'জন অত রাতে বাড়ির বাইরে কেন, এখানে কী করছিলেন, ইত্যাদি প্রশ্ন করে তাদের বিরক্ত করছিল তারা। স্বাভাবিকভাবেই এর প্রতিবাদ করেন ছাত্রীর বন্ধু। তারপরই কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে লোহার রড দিয়ে ছেলেটিকে পেটাতে শুরু করে বখাটেরা। বাধা দিতে গিয়ে রোষের মুখে পড়েন ওই তরুণী। প্রথমে রড দিয়ে মার, তার পরে পিছনের সিটে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় তাকে। ধর্ষণ করে, জামা-কাপড় ছিঁড়ে তাদের দু'জনকে উড়ালপুলের ওপর বাস থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় তারা। তবে এরপরের ঘটনাও সমান বিস্ময়কর। এমন নৃশংস অপরাধের পরও নিশ্চিন্তে দৈনন্দিন জীবনে ফিরে গিয়েছিল অভিযুক্তরা। তাই সোমবার সকালে প্রতিদিনকার মতোই কাজে বেরোয় পবন ও বিনয়। রাম সিং আর তার ভাই মুকেশ অবশ্য খানিক লুকোচুরির চেষ্টা করেছিল। একপর্যায়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যায় তারা।

ধর্ষণের পরে প্রায় নগ্ন করে মেয়েটি ও তার বন্ধুকে ফেলে দেয়ার পরিকল্পনা রামের ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, রাম জানিয়েছে যে সে প্রমাণ লোপাটের জন্য পুরো বাসটিকে ধুয়ে ফেলে। কোনোভাবেই যাতে অসহায় ওই দু'টি ছেলেমেয়ে কোনো সাহায্য চাইতে না পারে, সেজন্য ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল তাদের মোবাইল ফোনও। সাঙ্গ-পাঙ্গদের নির্দেশ দিয়েছিল, পুরো বিষয়টি নিয়ে কাউকে কিছু না বলতে। কেউ যেন কিছু না জানতে পারে। রাম সিংকে ইতিমধ্যেই পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজতে দেয়া হয়েছে। অন্য আর এক অভিযুক্ত, অক্ষয় ঠাকুরকে এদিন পুলিশ বিহারের ঔরঙ্গাবাদ থেকে আটক করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের কারো মধ্যেই কোনো অনুশোচনা ছিল না। বরং তারা যে সে রাতে মদ্যপ অবস্থায় 'মজা লুটে' বেশ খোশ মেজাজেই ছিল, সে কথাই বেরিয়ে এসেছে।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা অপরাধ স্বীকার করলেও শনাক্তকরণ প্যারেডে যেতে চায়নি পবন ও বিনয়। একমাত্র মুকেশ রাজি। মূল অভিযুক্ত, বাসচালক রাম সিং, প্রথমে অবশ্য দাবি করেছিল, সে কিছুই জানে না। শনাক্তকরণ প্যারেডে যেতে রাজি হয়নি সেও। পরে অবশ্য জেরার মুখে সব স্বীকার করে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সে জানিয়েছে, মেয়েটিকে নাকি 'উচিত শিক্ষা' দিতে চেয়েছিল সে। পুলিশ জানিয়েছে, এর আগে রাম সিংকে ডাক্তারী ছাত্রীটি যেভাবে হোক রুখতে গিয়ে প্রথমে চড় মারেন। হাতে কামড় দেন। তাতেই নাকি মাথায় রক্ত চড়ে যায় রামের। সে তখন তার আরও পাঁচ সঙ্গীকে নিয়ে মেয়েটিকে 'শিক্ষা দেয়ার জন্য' লোহার রড দিয়ে নির্মমভাবে মারতে থাকে। তবে গ্রেফতারের পর আদালতে অকপট স্বীকারোক্তিতে ধর্ষক পবন বলেছে, সে একটা ঘৃণ্য অপরাধ করেছে। আর তার একমাত্র শাস্তি ফাঁসি। কাজেই তার ফাঁসিই হওয়া উচিত। ধর্ষিতা মেয়েটির অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। এ পর্যন্ত মোট পাঁচটি অস্ত্রোপচার হয়েছে। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, মেয়েটির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সারা জীবনের জন্য নষ্ট হয়ে গেছে। বাদ দেয়া হয়েছে অন্ত্রের অধিকাংশ। এখনও রয়েছেন ভেন্টিলেটরে। তরুণী যখন শোনেন যে দুষ্কৃতকারীরা ধরা পড়েছে, তার মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

এ ঘটনা প্রকাশের পর ভারতের সংসদ থেকে রাজপথ, একটাই সুর— অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। ওই রবিবারের গণধর্ষণের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে এতটাই প্রভাব ফেলেছে যে, এদিন দিল্লি হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি মামলা করে। পুলিশকে ভর্ত্সনা করে আদালত দু'দিনের মধ্যে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে। বিচারকের প্রশ্ন, 'সেদিন রাতে ওই বাসটি অন্তত পাঁচটি পুলিশ চেকপোস্ট পেরিয়েছে। এই বর্বর ঘটনা কারো নজরে কেন পড়ল না? পুলিশ কি মজা দেখছিল?' মঙ্গলবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত হাইকোর্টকে অনুরোধ করেছিলেন, ধর্ষণের বিচারের ক্ষেত্রে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের অনুমোদন দিতে। হাইকোর্ট সবমিলিয়ে পাঁচটি কোর্টের অনুমোদন দিয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার শিন্ডে এদিন লোকসভায় এই মামলা সংক্রান্ত অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট পেশ করেন। সেখানে বলা হয়েছে, নারীদের নিরাপত্তার জন্য সরকার বেশ কিছু ব্যবস্থা নিচ্ছে। রাতে পুলিশ প্রহরা বাড়ানো হবে। সব এলাকাতেই চলবে টহলদারি। ধর্ষণ রুখতে এসবের পাশাপাশি বখাটেদের মানসিক বোধোদয় তৈরির ব্যবস্থাও সমান জরুরি বলে মনে করেন মনোবিদরা। অর্থাত্ গলদ রয়েছে অসংখ্য জায়গায়, যার সবটুকু চোখে দেখা যায় না।

উত্তাল ভারতের সংসদ

দিল্লিতে চলন্ত বাসে এক ছাত্রীর গণধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীনভাবে উত্তাল হয়ে ওঠে দেশটির সংসদের দুই কক্ষ। দল নির্বিশেষে নারী সাংসদেরা গত সপ্তাহে এই ঘটনার নিন্দায় ফেটে পড়েন। ট্রেজারি বেঞ্চে বসে বিরোধী সাংসদ তো বটেই, এমনকি নিজের দলের সাংসদদেরও ধিক্কার শুনতে হয় ভারতের কেন্দ ীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীলকুমার শিন্দেকে। ধর্ষণের জন্য ফাঁসির দাবি তোলেন বিরোধী নেত্রী সুষমা স্বরাজ। দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় সামাল দিতে এই ঘটনার তদন্ত ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে হবে বলে সংসদে বিবৃতি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিকে, ওই ঘটনার মূল অভিযুক্ত বাসচালক রাম সিংকে পাঁচদিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও তিনজনকে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার শিন্ডে, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত ও জাতীয় নারী কমিশনের চেয়ারপার্সন মমতা শর্মার সঙ্গে কথা বলেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। রাতে হাসপাতালে গিয়ে আহত তরুণীকে দেখে আসেন তিনি। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর রেকর্ড থেকে জানা যায়, গোটা ভারতেই উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে ধর্ষণের ঘটনা। ভারতে এ মুহূর্তে ধর্ষণের অমীমাংসিত মামলার সংখ্যা ৭৯ হাজার ৪৭৬টি।

ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড দাবি

ধর্ষকদের নির্বীজকরণ করা হোক, এমন দাবি জানাল ভারতের জাতীয় নারী কমিশন। কমিশনের সভাপতি মমতা শর্মা বলেছেন, চরম শাস্তি ধার্য না করা হলে কমানো সম্ভব নয় ধর্ষণের মতো অপরাধ। দিল্লি গণধর্ষণের অপরাধীদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের দাবি তুলেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তাঁর পরামর্শ, শাস্তি হিসাবে নির্বীজকরণ করা হোক ধর্ষকদের। তাঁর কথায়, 'ওই অপরাধীদের নির্বীজকরণ করা হোক। সারাজীবন যেন তারা সেই শাস্তি মনে রাখে, প্রায়শ্চিত্ত করে।' সামগ্রিকভাবে ধর্ষণ ও নারীদের প্রতি অত্যাচারের ক্ষেত্রে আইন কড়া করাটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন মমতা। তাঁর মতে, আইনী পথে সাহায্য না এলে নারীরা নিরাপদ বোধ করবেন না। শুধুমাত্র রঙিন কাঁচে নিষেধাজ্ঞা বসিয়ে আর প্রহরা কড়া করে এই অপরাধের মোকাবিলা করা যাবে না। ধর্ষণ ও নির্যাতনের তদন্তের ক্ষেত্রে পুলিশের কাছ থেকে আরও সংবেদনশীল ব্যবহারেরও দাবি করেন মমতা। 'হত্যার ক্ষেত্রে তো আক্রান্তের সমস্যা থাকে না। তবে একজন ধর্ষিতার জন্য আসল সমস্যা শুরু হয় ঘটনার পর থেকে।' বলছেন মমতা। তাঁর দাবি, রাজনীতি দূরে সরিয়ে রেখে নির্যাতিতাকে প্রকৃত ন্যায় দেয়ার প্রক্রিয়াটা শুরু হওয়া সবার আগে দরকার।

রাষ্ট্রপতিকে চিঠি শিশুদের

ধর্ষণ শব্দের অর্থ বোঝার মতো বয়স হয়নি তাদের অনেকেরই, তবু দিল্লির ধর্ষণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীকে একটি চিঠি লিখেছে শিশুরা। দিল্লির শিশু অধিকার রক্ষাকারী এক বেসরকারি সংস্থার শিশুরা এ চিঠি লেখে। তাদের ছোট্ট মনে ঘটনার প্রভাব এতটাই তীব্র যে তারা চায় না অভিযুক্তদের ফাঁসি হোক। বরং একটা ছোট ঘরে যদি তাদের আজীবন আটকে রাখা হয়, তবেই তারা অনুভব করবে তাদের অন্যায়ের নৃশংসতা। ধর্ষিতা 'দিদি'র সঙ্গে হওয়া অন্যায় ভবিষ্যতে বন্ধ করার জন্য রাতের রাস্তায় বেশি আলো,পুলিশি প্রহরা ও রাতঅবধি সরকারি বাস চালানোর অনুরোধও জানিয়েছে। হিংসা ছড়ানো সিনেমা বা ইন্টারনেট গেমের বিরুদ্ধেও সরব তারা। পরিবর্তন এত সহজে না হলেও আপাতত দোষীদের শাস্তির অপেক্ষায় খুদেরা।

নারী নির্যাতন বেড়েছে

নারী নির্যাতন বেড়েছে


২০১২ সালে নারী নির্যাতনের চিত্র ছিল ভয়াবহ। নারী নির্যাতনের আওতায় ইভটিজিং ছিল অন্যতম আলোচিত বিষয়। আত্মহত্যা, হত্যা, ধর্ষণসহ নানা ঘটনাই ছিল গত ২০১২ সালে।
২০১১ সালে পুলিশ সদর দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী সারা দেশে নারী নির্যাতনের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৩৪৪ জন, যা ২০১২ সালে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত যার সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ১০,০২৯। এর মধ্যে যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৩৪৪৮ জন নারী। এসিড আক্রমণের শিকার হয়েছে ৪৯ জন নারী। অপহরণ হয়েছে ২০৭৭ জন। ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৮৬৯ জন এবং ধর্ষণের পর খুন হয়েছে ১৩ জন। এছাড়া বিভিন্ন কারণে খুন হয়েছে ১১৬ জন নারী এবং অনান্য ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছে ২৩৯৪ জন।
এদিকে, বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের তথ্য অনুযায়ী ২০১২ সালের ১১ মাসে ৭৭১ জন নারী যৌতুকের সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে ২৫৮ জনকে হত্যা করা হয়েছে এবং ৪৮৫ জনকে বিভিন্নভাবে অত্যাচার নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে ।
নারী ও শিশু অধিদপ্তরের আওতাধীন নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের তথ্য মতে, ২০১২ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের ৬টি বিভাগ থেকে নির্যাতিত নারীদের ২৩৩০টি আবেদন জমা হয়েছেন সেলে। এর মধ্যে ২৩০০টি মামলা নিষ্পিত্তি হয়েছে। দেনমোহর ও খোরপোষ বাবদ টাকা আদায় হয়েছে ৯২ লাখ, ৩৫ হাজার ৫০ টাকা। ২০১২ সালের নারী নির্যাতনের মধ্যে আলোচিত ঘটনাগুলো হলো-
প্রেমিকের হাতে ২৬ টুকরা রুমি:
রাজধানীর হাতিরপুলে ১৪তলা নাহার প্লাজার ১৩তলায় সুস্মিতা ওরফে রুমির (১৭) ২৬ টুকরা লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। ২রা জুন নাহার প্লাজার ১৩তলার ১৩০৮ নম্বর কক্ষে রুমির প্রেমিক এবং সোনালী ট্রাভেল্‌সের মালিক সাইদুজ্জামান ওরফে বাচ্চু (৩০) এই নৃশিংসতম হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ঘটনার এক দিন পর এলাকার লোকজনের চোখে খণ্ড খণ্ড মাংস ও হাড়ের টুকরা পাওয়া পর রমনা থানা পুলিশ আসলে প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসে। প্রেমিক বাচ্চুকে আটক করে ৪ দিনের রিমান্ডে নিলে সো মুখ খোলে। বাচ্চু তার জাবানবন্দিতে বলে, রুমির সঙ্গে তার এক বছর আগে পরিচয় হয় ফোনে। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পহেলা জুন শুক্রবার বাচ্চু রুমিকে নাহার প্লাজার ওই অফিসে নিয়ে আসে। এরপর তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক করার পর শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেন। এরপর বঁটি, ছুরি দিয়ে তার শরীরের প্রতিটি অঙ্গের হাড় থেকে মাংস ছাড়িয়ে মাংসগুলো বাথরুমে ফ্লাশ করে দেয়। এবং হাড়গুলো বিভিন্নস্থানে ফেলে দেয়। কিন্তু বাথরুমের ফ্লাশ করা মাংস ও নাড়ী-ভুঁড়ি পাইপে আটকে গেলে পাইপ জ্যোম হয়ে যায়। এছাড়া ওই বিল্ডিংয়ের অন্য কক্ষের বাথরুমেও ভেসে উঠে রক্ত। ঘটনার দিন সকালেই হাড় ও মাংস এলাকার বাসিন্দাদের চোখে পড়লে ধরা পরে বাচ্চু। এরপর উক্ত এলাকা ও কক্ষ থেকে রুমির লাশের ২৬ টুকরা উদ্ধার করে রমনা থানার পুলিশ।
ধর্ষণের পর মুখ থেঁতলিয়ে ড্রেনে লাশ ফেলে দেয় প্রেমিক: প্রেমিকের আসল চেহারা প্রকাশ পাওয়ায় সম্পর্ক ছিন্ন করায় নিশৃংসভাবে হত্যার শিকার হয় পপি আক্তার (১৬)। মিরপুর ১৪ নাম্বার এলাকার কচুক্ষেত বালুর ঘাট এলাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিনের মেয়ে পপি। ২০১২ সালের ১৬ই জুন ওই এলাকার ঝটপট্টি এলাকা থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় ঘাতক প্রেমিক রিপন ও তার সাঙ্গুপাঙ্গরা এরপর ওই এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে গিয়ে রাতভর ধর্ষণ করে রিপন এবং তার বন্ধু গাইট্টা বাবু, সুমন, বিল্লাল, হাসান, শামীম, রুবেল ওরফে চান্দু এবং আরিফ। এরপর শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে পপিকে। পরিচয় গোপন রাখতে ঘাতক দল হাতুড়ি দিয়ে থেঁতলিয়ে দেয় পপির চেহারা। এরপর তার লাশ ঝুট কাপড়ের বস্তায় ভরে পরিত্যক্ত ড্রেনে ফেলে দেয়। পরের দিন পুলিশ বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য হস্তান্তর করে। এরপর আসামিদের গ্রেপ্তার করেন মিরপুর থানা পুলিশ ।
নবীগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূর হাত-পা বেঁধে নির্যাতন: যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ কাকলী আক্তার চৌধুরীর হাত-পা বেঁধে নির্যাতন চালায় স্বামী ইছহাক ও তার পরিবার। ২০১২ এর ২৫শে মে এ নিয়ে তোলপাড় চলে নবীগঞ্জের দিনারপুর পরগনায়। ২০০৯ সালে দীঘলবাগ ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত সিরাজুল ইসলামের মেয়ে কাকলীর সঙ্গে বিয়ে হয় গজনাইপুর ইউনিয়নের সাতাইহাল গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল কাদিরের ছেলে ইছহাকের সঙ্গে। বিয়ের পর বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন চালায় তারা। এক পর্যায়ে কাকলী নির্যাতন সইতে না পেরে বাবার বাড়ি চলে যায় । কিন্তু নানা খেসারত করে স্বামী ইছহাক তাকে বাবার বাড়ি থেকে এনে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন চালায়।উক্ত এলাকার বাসিন্দারা কাকলীর পরিবারকে খবর জানালে তারা কাকলীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। গ্রামের চেয়ারম্যান এ বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে নিষ্পিত্তি করেছেন বলে জানা গিয়েছিল।
ভালবাসায় ধর্ম বাধা হওয়ায় তন্নির আত্মাহুতি: প্রেমিককে বিয়ে না করতে পারায় ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর ছাত্রী বিনা সুলতানা তন্নির আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাএ অম্লান সাহার সঙ্গে ছিল প্রেম। কিন্তু সেই ভালবাসার মাঝে এসে দাঁড়ায় ধর্মের ভিন্নতা। মুসলমান পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করার ক্ষেত্রে রাজি হবে না পরিবার, তাই পিছু হেঁটেছিল অম্লান। কিন্তু ভালবাসার মানুষটিকে ফিরে পেতে অপ্রাণ চেষ্টায় অবশেষে প্রাণ বিসর্জন দিল তন্নি। ২৪শে এপ্রিল রাজধানীর বনানীর বি ব্লকের ৫ নাম্বার বাসার একটি কক্ষ থেকে তন্নির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে রামপুরা থানা পুলিশ। আত্বহত্যার পূর্বে তন্নি দেড় পাতার একটি চিঠি লিখেন, যেখানে তিনি তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কথা লিখেছেন। পুলিশ হত্যার কোন আলামত না পেলেও তন্নির পরিবার ঘটনাটি হত্যা বলে দাবি করেছিলেন। এদিকে প্রেমিক অম্লানকে আটক করে ৩ দিনের রিমান্ডে তন্নির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়ার কথা স্বীকার করে অম্লান। তিনি জানিয়েছিলেন ঘটনার দিন তন্নি তার ওই ফ্লাটে আসলে বিয়ে করা নিয়ে তাদের মধ্যে অনেক ঝগড়া চলে। এক পর্যায়ে তন্নি ওই ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর অম্লান তার বন্ধু টিটুর রুমে গিয়ে পড়াশুনা করতে থাকে। রাত ১০টায় বই নেয়ার উদ্দেশে দরজা খুলতে বললেও তন্নির কোন সাড়া না পেলে অম্লান ও তার বন্ধু টিটু দরজা ভেঙে তন্নির ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায় ।
ধর্ষণে বাধা দেয়ায় কেয়ারটেকারের হাতে ডা. ইভা খুন: ধর্ষণে বাধা দেয়াই শ্বাসরোধে খুন হন ডাক্তার সাদিয়া আফরিন ইভা (২৭)। ২৯শে নভেম্বর রাত ১২টায় দক্ষিণাস্থ আমতলার ব্র্যাক ক্লিনিকের ঘটনা ছিল এটি। কেয়াটেকার ফয়সাল (২৩) আটক হওয়ার পর ডিবি হেডকোয়ার্টারের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সামনে ডা. ইভার হত্যার চিত্র তুলে ধরেন। ওই দিন নাইট ডিউটিতে ছিলেন ডা: ইভা। রাত ১২টায় ফয়সাল তার কক্ষের দরজায় নক করেন। দরজা খোলার পরপর ঘাতক ফয়সাল ঝাঁপিয়ে পড়ে ডা. ইভার ওপর। আত্মরক্ষায় চিৎকার করেন ডা. ইভা। এক পর্যায় লাথি মেরে ফ্লোরে ফেলে দেন তিনি ঘাতক ফয়সালকে। এরপর ফয়সাল আবার উঠে বসে ডা. ইভার বুকের উপর। ডা. ইভা আবার চিৎকার করার চেষ্টা করলে তার মুখ ও গলা চেপে ধরে ফয়সাল। এর পর নিস্তেজ হয়ে পরেন তিনি। ডা. ইভার মৃত্যু নিশ্চিত করার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় ঘাতক। এরপর ফয়সালকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরস্থ তার নানা বাড়ি থেকে আটক করেন পুলিশ।
ডা. ইভা ঘটনার ১৫ দিন আগেই ওই ক্লিনিকে চাকরিতে যোগ দেন। জাবনবন্দিতে ফয়সাল জানায়, ওই ক্লিনিকে ৫ মাস যাবৎ সে কাজ করছিল। এই ঘটনা দক্ষিণখান থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছিল।
ফতোয়ার শিকার চট্টগ্রামের গৃহবধূ আসমা:
চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের যৌন হয়রানির মামলা করায় ফতোয়ার শিকার হয়েছিলেন গৃহবধূ আসমা আক্তার (৩০)। আর তাই তার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেন ওই এলাকার মেম্বার ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হক জুনু। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীর সাথে পারিবারিক কলহ চলছিল প্রবাসী আনোয়ারা ইসলামের স্ত্রী আসমার। ২৭শে জুলাই ওই ওয়ার্ডের আবদুল রশিদ পণ্ডিতের বাড়ির বাসিন্দা নুরুল আফসার (৪৮), আবদুল্লা (৫০),আবুল কাশেম (৩৮) এবং নুর নবী (৪৫) তাকে সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে ওই বাড়ির একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। এরপর প্রায় ১ ঘণ্টা পর অন্য প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করেন। এ সময় জুনু মেম্বারসহ আরও অনেকেই উপস্থিত থাকলেও তারা ছিলেন নীরব। এ ঘটনায় আসমা বাদী হয়ে ২৯শে জুলাই মীরসরাই থানায় ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। দফায় দফায়া আসমা মামলা করলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন জুনু মেম্বার। ২রা অক্টেবর স্থানীয়া ফোরকানিয়া মাদরাসায় দু’ঘণ্টার এক বৈঠকে জুনু মেম্বার আসমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন উস্কানিমূলক ফতোয়া জারি করেন। ফতোয়ায় জুনু মেম্বার বলেছিলেন আসমা আক্তারের সাথে যৌন হয়রানির কথা তিনি নিজেই শিকার করেছেন। এ ধরনের অপরাধে শরিয়তের বিধান রয়েছে বিবাহিত নারীদের বুক পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে রেখে পাথর নিক্ষেপ করার। কিন্তু যদি আসমা গ্রামের সব মুরব্বির কাছে ক্ষমা চায় এবং অপরাধ স্বীকার করে তাহলে তাকে গ্রামে থাকতে দেয়া হবে। মামলা করার অপরাধে ফতোয়া জারির পাশাপাশি আসমাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কুষ্টিয়ায় ৯ দিন আটকিয়ে রেখে মা ও মেয়েকে নির্যাতন: কুষ্টিয়ায় মা আলেয়া বেগমকে ও মেয়েকে ৯ দিন আটক রেখে নির্যাতন চালিয়েছিল পুলিশ। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৯ই সেপ্টেম্বর রাত ৯টায় কুষ্টিয়ার রাজবাড়ি বেড়াডাঙ্গা এলাকায় বাড়ি থেকে চরমপন্থির কানেকশন সন্দেহে কুষ্টিয়া খোকশা কুমারখালী থানা ও ডিবি পুলিশের ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য তাদের আটক করেছিল। এরপর তাদের খোকশা কুমারখালী থানায় দু’দিন রেখে কারেন্ট শক দিয়ে নির্যাতন চালায়। এর দু’দিন পরে রাতে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় পুলিশ লাইনের ডিবি অফিসে। সেখানেও তাদের ওপর চলে নানা নির্যাতন। আলেয়া বেগম জানিয়েছিলেন, তাদের যেখানে আটক করা হয়েছিল সেখান থেকে তার মেয়েকে প্রতি রাতে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালিয়েছে পুলিশ। প্রায় ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর মেয়েকে তারা তার মায়ের কাছে দিয়ে যেত বলে জানিয়েছিলেন তিনি। ডিবির এসআই মাসুদসহ আরও কয়েক জন পুলিশ তাদের আটকে রেখে ক্রসফায়ারে নিহত সন্ত্রাসী মোতালেবের স্ত্রী শীলার সন্ধান চাইতো বলে জানান তিনি। এদিকে নির্যাতন ও লাঞ্ছনার কারণে মানসিকভাবে ভেফু পড়েছিলেন আলেয়া এবং তার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে। আর তাই আটক অবস্থায় থেকেই বহু বার আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছিলেন তারা ।
এদিকে এ ব্যাপারে রাজবাড়ী থানার পুলিশ ইনচার্জ এবং খোকশা থানার অফিসার্স ইনচার্জ হরেন্দ্র নাথ সরকার একে অপরকে দোষারোপ করেন। এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদিন গুরুত্বপূর্ণ ওপারেশনে থাকার অজুহাতে এড়িয়ে যান ঘটনাটি।

আওয়ামী লীগের আপত্তিতে নির্বাচন কমিশনে অস্বস্তি:সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ

আওয়ামী লীগের আপত্তিতে নির্বাচন কমিশনে অস্বস্তি:সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ


জাতীয় সংসদের সীমানা পুনঃনির্ধারণ নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সবকিছু ঠিকঠাক করে গুছিয়ে আনলেও শেষমুহূর্তে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সীমানা পুনঃনির্ধারণের বিপক্ষে অবস্থান নেয়ায় এখন সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে ইসি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে আর সর্বোচ্চ ১০ মাস সময় থাকলেও এখনো মূল কাজ অর্থাত্ সীমানা পুনঃনির্ধারণের বিষয়ে কোনো নীতিমালা স্পষ্ট করেনি ইসি। ১৯৭৬ সালের সীমানা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ অনুযায়ী আদমশুমারির প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংসদের সীমানা পুনঃনির্ধারণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যদিও আওয়ামী লীগ এই আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ২০১৮ সালের পর সীমানা পুনঃনির্ধারণ করতে ইসির কাছে দাবি জানিয়েছে।

দেশের সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, এনজিও প্রতিনিধি এবং বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল সংবিধান অনুযায়ী সীমানা পুনঃনির্ধারণের দাবি জানালেও নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে এখনও কার্যত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের অবস্থান প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশনে ধীর গতি চলে আসে। প্রথম দিকে হাঁকডাক করে সীমানা পুনঃনির্ধারণের কাজে মনোযোগী দেখানো হলেও এখন কমিশন যে সেই অবস্থায় নেই—তা যথেষ্টই স্পষ্ট।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো ঃ জাবেদ আলী গতকাল রবিবার ইত্তেফাককে বলেন, বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শেষে সীমানা পুনঃনির্ধারণের কাজ চলছে। দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে ৩০০ সংসদীয় আসনের এ সংক্রান্ত খসড়া প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় ৫ মাস লাগতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সীমানা পুনঃনির্ধারণের বিষয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সুশীল সমাজ, ১০ অক্টোবর গণমাধ্যম প্রতিনিধি, ২২ নভেম্বর এনজিও প্রতিনিধি এবং গত ২৬ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসে কমিশন। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি অংশ না নিলেও নিবন্ধিত ৩৮টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২৮টি দল সংলাপে অংশ নেয়। গত ৫ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সংলাপে অংশ নিয়ে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গঠিত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ২০০৮ সালে প্রণীত নির্বাচনী সীমানায় দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে মত দেয়। সংলাপে অংশ নেয়া রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কেবল আওয়ামী লীগই সীমানা পুনঃনির্ধারণের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।

এখনো ২৮টি দলের সংলাপের সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করা হয়নি। অধিকাংশ দলই সীমানা পুনঃনির্ধারণের পাশাপাশি ঢাকার আসন কমানোর পক্ষে প্রস্তাব দেয়। কিন্তু সে বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোন নির্দেশনাও দেয়া হয়নি।

এদিকে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংলাপের দরকার ছিল না মন্তব্য করে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এটিএম শামসুল হুদা ইত্তেফাককে বলেন, 'একই ইস্যু নিয়ে আমরাও গত বছর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেছিলাম। সেই সংলাপের ভিত্তিতেই সীমানা পুনঃনির্ধারণের বিষয়ে আইনের খসড়ার প্রস্তাবও করেছিলাম। কিন্তু কমিশন সেই প্রস্তাবকে ভিত্তি ধরে এগুলে ভালো করতো। কারণ সীমানা পুনঃনির্ধারণের আগে ১৯৭৬ সালের আইনের সংশোধন প্রয়োজন। আইন সংশোধন না করে সীমানা পুনঃনির্ধারণ করা হলে নির্বাচন নিয়ে আইনি জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। ওই আইনে জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বিন্যাসের কথা রয়েছে। এক্ষেত্রে ঢাকার আসন আরো বাড়বে। এজন্য কমিশনের ঢাকার আসন পুনঃনির্ধারণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে আসা প্রয়োজন।'

তিনি বলেন, ম্যানুয়াল পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় তাহলে আগামী ১০ বছরেরও সীমানা পুনঃনির্ধারণের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না। তবে জিআইএস পদ্ধতি অনুসরণ করলে ৪ মাসের মধ্যে তা করা সম্ভব বলে জানান তিনি।

ইসি সূত্র জানায়, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের সার সংক্ষেপ না হলেও সীমানা পুনঃনির্ধারণের বিষয়ে পরিকল্পনার কথা ফের জানিয়েছে ইসি। সীমানা পুনঃনির্ধারণ করে খসড়া প্রকাশ, তার ওপর আপত্তি শুনানি করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে প্রায় চার মাস সময় লাগবে। এক্ষেত্রে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে সংসদীয় সীমানার খসড়া তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। খসড়ার উপর আপত্তির জন্য সময় দেয়া হবে এক মাস। এরপর বিভাগীয় শহরগুলোতে শুনানি শেষে এপ্রিল মাসে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ সম্ভব হবে।

সংবিধান অনুযায়ী আগামী বছরের ২৬ অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে আগামী দশম সংসদ নির্বাচন। এ জন্য কমিশনের হাতে আর সময় রয়েছে ১০ মাস। অথচ এই স্বল্প সময়ের মধ্যে সীমানা পুনঃনির্ধারণসহ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা অর্জনের কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে ইসির সামনে।

উল্লেখ্য, জনসংখ্যার ভিত্তিতে ২০০৮ সালের সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসে ঢাকা জেলায় ৭টি, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, নেত্রকোনা ও গাজীপুরে ১টি করে আসন বেড়ে যায়। অন্যদিকে, ১২টি জেলার আসন কমাতে হয়েছিল নির্বাচন কমিশনকে। এর ফলে ১৩০টি আসনের সীমানা ওলটপালট হয়ে যায়। সারাদেশে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। সীমানা পুনঃবিন্যাস চেয়ে কমিশনের অসংখ্য আবেদন পড়ে।

আমরা হীরক রাজার অদ্ভুত রাজ্যে বাস করছি :তরিকুল

আমরা হীরক রাজার অদ্ভুত রাজ্যে বাস করছি :তরিকুল


গতকাল রাজধানীতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের এক গণবিক্ষোভে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম বলেছেন, দেশবাসী এক স্বেচ্ছাচারী 'হীরক রাজার অদ্ভুত রাজ্যে বাস করছে। তবে ২৬ ডিসেম্বর গণসংযোগের পর থেকে ধাপে ধাপে আন্দোলন কঠিনতর হবে। আর এতেই এই হীরক রাজার পতন হবে। হীরক রাজার রশিতে দাও টান, রাজা হবে খান খান।' গতকাল রবিবার বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই গণবিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা পুন:প্রবর্তন, বর্তমান সরকারের দুর্নীতি, দুঃশাসন ও জনদুর্ভোগের বিরুদ্ধে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নেতাদের মুক্তির দাবিতে ঢাকা মহানগর ১৮ দলের আয়োজনে এ গণবিক্ষোভ হয়।

ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালামের সভাপতিত্বে এ গণবিক্ষোভে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মজিবর রহমান, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, জামায়াতের ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক জাফরুল হাসান, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, ছাত্রদল সভাপতি আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল প্রমুখ।

যোগ্যতার প্রমাণ দিতে বিশ্বজিৎকে খুন করেছি- শাকিল, শাওন ও নাহিদের জবানবন্দি

যোগ্যতার প্রমাণ দিতে বিশ্বজিৎকে খুন করেছি- শাকিল, শাওন ও নাহিদের জবানবন্দি


বিশ্বজিৎ হত্যার পর ছাত্রলীগের হাইকমান্ডের সহায়তায় দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছিলাম। কেবল আমরা তিন জনই নয় আরও কমপক্ষে ১৫ জন ছিল আমাদের সঙ্গে। ছাত্রলীগের ভাল পদ পেতে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য বেপরোয়া ছিলাম আমরা। সে যোগ্যতার প্রমাণ দিতে বিশ্বজিৎকে খুন করেছি। বিশ্বজিৎকে খুনের পরও নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল।
আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে এমনভাবেই স্বীকারোক্তি দিয়েছে ৩ খুনি। স্বীকারোক্তিতে তারা বলে, বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে আমরা নিজেরা সরাসরি অংশ নিয়েছি। অন্যদেরও অংশ নিতে দেখেছি। হত্যাকাণ্ডের পর ছাত্রলীগের হাইকমান্ডের সহায়তায় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। দরজি দোকানি বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষ হওয়া ৩ আসামি পৃথকভাবে গোয়েন্দা পুলিশ এবং আদালতকে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব কথা উল্লেখ করেছে। গতকাল মহানগর মুখ্য হাকিমের আদালতে যারা জবানবন্দি দিয়েছেন তারা হলো- ছাত্রলীগ কর্মী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত ছাত্র রফিকুল ইসলাম শাকিল, জিএম রাশেদুজ্জামান শাওন ও মাহফুজুর রহমান নাহিদ। ৮ দিনের রিমান্ডে তারা গোয়েন্দাদের জানিয়েছে, ছাত্রলীগের সামনের কমিটিতে ভাল পদ নেয়ার প্রত্যাশা ছিল তাদের। এ কারণে তাদের মধ্যে তাগিদ ছিল কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে নিজেদের পারফরম্যান্স শো করার। এ ক্ষেত্রে হরতালকেই তারা বড় অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছিল। তারা জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ক্ষমতাধর নেতাদের সঙ্গে তাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ছিল। ওই নেতারা তাদের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সে অনুযায়ীই তারা কাজ করছিল। তারা বলেছে, ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতারা শাকিলকেই বেশি শেল্টার দিচ্ছিল। প্রত্যেকেই ভারত যাওয়ার চেষ্টা করছিল। শাকিল যে রাতে গ্রেপ্তার হয় সে রাতেই সে বরিশালের বেতাগী দিয়ে নৌপথে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। আদালতে জবানবন্দি দেয়া প্রত্যেকেই নিজেদের ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে বলেছে, আবেগপ্রবণ হয়েই বিশ্বজিতের ওপর হামলে পড়েছিলাম। হাইলাইটে আসতে এ ধরনের কাজ করেছি। বুঝতে পারিনি, বিশ্বজিৎ মারা যাবে। ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে শাকিল বলেছে, জীবন বাঁচাতে বিশ্বজিৎ আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। ভিক্টোরিয়া পার্কের পাশে দোতলার একটি দোকানে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছিল। আমি চাপাতি হাতে নিয়ে দ্রুত দোতলায় উঠে তাকে কোপাতে থাকি। শাওন বলেছে, আমি রড দিয়ে পিটিয়েছি বিশ্বজিৎকে। নাহিদ তার স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করেছে, লাঠি দিয়ে আঘাত করে আমি বিশ্বজিতের মৃত্যু নিশ্চিত করেছি।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ছানোয়ার হোসেন মানবজমিনকে জানিয়েছেন, জবানবন্দি আদায় করতে ৩ আসামিকে রোববার দুপুরে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করা হয়। প্রায় ৩ ঘণ্টা সময় নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় মহানগর হাকিম এরফান উল্লাহ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আসামিদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। তিনি বলেন, কারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, জড়িতরা কিভাবে বিশ্বজিৎকে হত্যা করেছে এসব বিষয়ে বিস্তারিত জবানবন্দি দিয়েছে আসামিরা। আদালতের অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমানও নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় আসামিদের ৮ দিন করে রিমান্ডে নেয় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রিমান্ড শেষ হওয়ায় আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক তাজুল ইসলাম জবানবন্দি নেয়ার জন্য আবেদন করেন।
উল্লেখ্য, গত ৯ই ডিসেম্বর বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে দরজি দোকানি বিশ্বজিৎকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের কর্মীরা। ওইদিনই সূত্রাপুর থানায় ২৫ জন অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন থানার এসআই জালাল আহমেদ। একই থানার এসআই মাহবুবুল আলম মামলাটি তদন্ত করছেন। ১৩ই ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী ঢাকার সিএমএম আদালতে আরেকটি মামলা করেন। আদালতে করা মামলায় ১০ আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এরা হলো মাহফুজুর রহমান নাহিদ, রফিকুল ইসলাম শাকিল, এমদাদুল হক, ওবায়দুল কাদের, মীর মোহাম্মদ নুরে আলম লিমন, ইউনূছ, তাহসিন, জনি, শিপলু ও কিবরিয়া। এছাড়া মামলায় আরও অজ্ঞাত শতাধিক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়। আসামিরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও কবি নজরুল ইসলাম কলেজের ছাত্র। আদালতে মামলা দায়েরের পর ডিবি পুলিশ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। ১২ই ডিসেম্বর বিশ্বজিৎ হত্যায় জড়িত রফিকুল ইসলাম শাকিল, মীর মোহাম্মদ নুরে আলম লিমন ও ওবায়দুল হককে স্থায়ী বহিষ্কার এবং মাহফুজুর রহমান নাহিদ ও এমদাদুল হকের সনদ বাতিল করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২১শে ডিসেম্বর কাইয়ুম মিয়া টিপু, রাজন তালুকদার, সাইফুল ইসলাম এবং জি এম রাশেদুজ্জামান শাওনকেও বহিষ্কার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক তাজুল ইসলাম জানান, রিমান্ডে নেয়া ৬ আসামির মধ্যে ৫ জনের রিমান্ডের মেয়াদ শনিবার শেষ হয়। ৮ দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার পরও কিবরিয়া এবং কাইয়ুম স্বীকারোক্তিমূলক জবানন্দি না দেয়ায় গতকাল আবারও ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত তাদের আরও ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। অপর আসামি সাইফুলে রিমান্ডের মেয়াদ আরও ২দিন বাকি আছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বজিৎ হত্যার সঙ্গে জড়িত আরও প্রায় ১৫ জনকে তারা শনাক্ত করতে পেরেছে। তারাও একই সংগঠনের। অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তার সম্ভব বলে তারা জানান।

Sunday, December 23, 2012

সিটবেল্ট

সিটবেল্ট

গাড়ির চালক এবং এর যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য সিটবেল্ট এর উপকারিতার কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। বিশেষ করে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সিটবেল্টের অবদান এতোটাই অনস্বীকার্য যে বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই রীতিমতো আইন করে চালক ও যাত্রীদের সিটবেল্ট পড়ার নিয়ম চালু রয়েছে। যদিও প্রথম দিককার প্রাইভেট কার বা অন্যান্য নানা ধরনের গাড়িতে সিটবেল্ট নামে কোনো অংশের বালাই ছিল না। এ বাস্তবতায় গাড়ির মাঝে এ ধরনের একটি অনুষঙ্গের প্রয়োজনীয়তার কথা প্রথম যিনি উল্লে¬খ করেন তিনি হলেন আমেরিকার নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের এডওয়ার্ড জে. ক্লেগহর্ন নামের এক ব্যক্তি। ১৮৮৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি এই ক্লেগহর্নই সর্বপ্রথম তার এক প্যাটেন্ট আবেদনে গাড়ির মাঝে এ ধরনের একটি অংশ সংযোজনের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। প্যাটেন্টের জন্য তার করা আবেদনে সিটবেল্টের বর্ণনা দিতে যেয়ে ক্লেগহর্ন বলেছিলেন, 'এটি হচ্ছে এমন একটি সামগ্রী যা একজন ব্যক্তিকে অন্য একটি স্থায়ী কাঠামোর সাথে হুক এবং বেল্টের মাধ্যমে সংযুক্ত রেখে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।' যদিও সে সময়ে বেশ কিছু গাড়িতে সংযুক্ত করা ক্লেগহর্নের উদ্ভাবিত সিটবেল্টটি ঠিক আজকের দিনের সিটবেল্টের মতো ছিল না। বরং এগুলো ছিল এক ধরনের 'টু-পয়েন্ট' সিটবেল্ট বা পরবর্তী সময়ের ল্যাপবেল্টের মতো যা একজন ব্যক্তির শুধুমাত্র কোমর বা পেটের অংশকে গাড়ির সিটের সাথে আবদ্ধ রাখতো। এ ধরনের সিটবেল্টের সীমাবদ্ধতা ছিল এই যে, বড় ধরনের দুর্ঘটনায় এটি আরোহীকে গাড়ির সিটের সাথে আটকে রাখতে পারলেও তার শরীরের সামনের অংশ ঝুঁকে পড়ে গাড়ির অন্য কোনো অংশের সাথে আঘাত লাগবার সম্ভাবনা ছিল। এই সীমাবদ্ধতা দূর করতেই পরবর্তী সময়ে সুইডিশ আবিস্কারক নিলস বোহলিন 'থ্রি-পয়েন্ট' সিটবেল্টের ধারণা নিয়ে আসেন যেটি অনেকটা আধুনিক সময়ের সিটবেল্টের মতোই ছিল। বোহলিনের এই সিটবেল্টে কোমর বা পেটের অংশ ছাড়াও বাড়তি একটি বেল্টের অংশ রাখা হয় আরোহীর কাঁধ বরাবর যা সামনে ঝুঁকে পড়া প্রতিহত করতে সক্ষম। নিলস বোহলিনের আবিষ্কৃত এই ল্যাপ ও সোল্ডার বেল্ট প্রথম ব্যবহূত হয় ১৯৫৯ সালে বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভলভোর কিছু গাড়িতে। কালে কালে বোহলিনের এই সিটবেল্টটিই আরও কিছু সংশোধনের পর একই বেল্টের মাধ্যমে পিঠ ও কাঁধের অংশকে সিটের সাথে আটকে রাখার সুবিধা এনে দেয়। অন্যদিকে ঠিক সিটবেল্টের মতো না হলেও আধুনিক সময়ে গাড়ির মাঝে শিশুদের বসার জন্য যে চাইল্ড সিটের দেখা মেলে সেটির প্রথম প্রচলন দেখা যায় ১৯২১ সালে। সে সময় হেনরি ফোর্ডের জনপ্রিয় মডেল টি কারে প্রথমবারের মতো শিশুদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা সম্বলিত সিটের ব্যবহার লক্ষ করা যায়। যদিও গাড়ির প্রাথমিক যুগের অন্য অনেক অনুষঙ্গের মতো শিশুদের জন্য নিরাপদ এই সিটের ধারণাটিও পরবর্তী সময়ে নানা সংযোজন ও বিয়োজনের মধ্য দিয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে।

অ্যাপল, স্যামসাংকে টেক্কা দিতে গুগল'র 'এক্সফোন'

অ্যাপল, স্যামসাংকে টেক্কা দিতে গুগল'র 'এক্সফোন'

স্মার্টফোনের বাজার যেভাবে বিশ্বব্যাপী বেড়ে চলেছে, তাতে করে প্রযুক্তি বিশ্বের সকলেই ঝুঁকে পড়েছে এই স্মার্টফোন উত্পাদনের দিকে। অনলাইন সার্চ জায়ান্ট গুগলও স্মার্টফোনের রাজ্যে প্রবেশ করেছে আগেই। তাদের 'নেক্সাস' সিরিজ দিয়ে ইতোমধ্যেই বাজারে নিজেদের সরব উপস্থিতির প্রমাণ দিয়েছে। আর স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট পিসির মতো ডিভাইসগুলো তৈরিতে সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতেই তারা সাড়ে ১২ বিলিয়ন ডলারে কিনে নেয় মটোরোলাকে। তবে গুগল তাদের নেক্সাস স্মার্টফোন দিয়েও আইফোন কিংবা গ্যালাক্সি স্মার্টফোনের সাথে পাল্লা দিয়ে উঠতে পারেনি। তবে হতাশ হওয়ার পাত্র নয় গুগল। আর তাই এবারে তারা স্মার্টফোনের বাজারের দুই জায়ান্ট স্যামসাং আর অ্যাপল'র সাথে বাজারের শীর্ষস্থান দখলে নিয়ে আসতে যাচ্ছে নতুন স্মার্টফোন। আর এই ফোনের কোডনাম রাখা হয়েছে 'এক্স ফোন'। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক সংবাদে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। তারা জানিয়েছে, গুগল'র কিছু কর্তাব্যক্তির কাছেই তারা এই খবর লাভ করেছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া খবরে জানা যায়, গুগল তাদের নতুন 'এক্স ফোন'কে বাজারের যেকোনো স্মার্টফোনের চাইতে ভিন্নরূপে নিয়ে আসতে চায়। আর সে কারণেই আপাতত তারা এই ফোনে চমকপ্রদ সব ফিচার যুক্ত করার জন্য গবেষণায় সময় কাটাচ্ছেন। চমকপ্রদ এসব ফিচারের মধ্যে যেমন নমনীয় ডিসপ্লে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে গুগল'র। আবার কিছুদিন আগেই গুগল কিনে নিয়েছে 'ভিউডল' নামের একটি প্রতিষ্ঠান যারা বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসে কোনো ছবি, ইশারা বা নড়াচড়াকে সনাক্ত করতে সক্ষম। 'এক্স ফোনে' তাই জেশচার রিকগনিশনের মতো ফিচার যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। আসলে আমরা যেভাবে স্মার্টফোনকে দেখে এসেছি, স্মার্টফোনে তার থেকে একেবারেই ভিন্ন একটি অভিজ্ঞতা সবাইকে উপহার দিতেই এই ধরনের গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে গুগল এবং মটোরোলা। এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য অবশ্য পাওয়া যায়নি গুগল'র কাছ থেকে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, নেক্সাস ফোন গুগল'র জন্য মূলত ছিল একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। নেক্সাস ফোনের মাধ্যমে তারা হার্ডওয়্যার ডিভাইসে নিজেদের প্রকৃত অবস্থাকে যাচাই করে নিয়েছে। আর এবারে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিয়েই তারা আনবে 'এক্স ফোন'। এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, 'এক্স ফোন' স্মার্টফোনের যাত্রা সফল হলে 'এক্স ট্যাব' কোডনামের ট্যাবলেট পিসি বাজারে নিয়ে আসবে গুগল। গুগল-মটোরোলার এসব যৌথ উদ্যোগ অ্যাপল বা স্যামসাংয়ের জন্য কিছু হলেও চিন্তার কারণ বটে।

রংপুরে নির্বাচনোত্তর সহিংসতা, নিহত ১

রংপুরে নির্বাচনোত্তর সহিংসতা, নিহত ১

রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে পরাজিত দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ডালিম মিয়া (২৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, রংপুর সিটি করপোরেশনের  ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের পরাজিত দুই কাউন্সিলর প্রার্থী বেলাল হোসেন (বক মার্কা) ও শামছুল আলম (হাতি মার্কা) পরাজয়ের কারণ হিসেবে একে অপরকে দোষারোপ করেন। এ নিয়ে গতকাল বেলা ১২টার দিকে শামছুল আলমের সমর্থকরা কিসামত বিষু নামক স্থানে বেলাল  হোসেনের বাড়িতে হামলা করলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ডালিম মিয়া, আলমগীর হোসেন, সাদ্দাম মিয়া, রাবেয়া বেগম,  মোকলেস মিয়া, সিফাত আলী,  রোসনা বেগম, বাবু মিয়াসহ ১০ জন আহত হয়। আহত ডালিম মিয়াকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। পরে পুলিশ গিয়ে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শামছুল আলম, মোকছেদ আলী, হামিদুল ইসলাম, শাহীন মিয়া,  সেলিম মিয়াসহ ১৪ জনকে আটক করেছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে দাঙ্গা পুলিশ  মোতায়েন করা হয়েছে।
ওদিকে নির্বাচন-উত্তর উত্তাল হয়ে উঠেছে রংপুর নগর। গতকাল রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা ৯ আসনের প্রার্থী মনোয়ারা সুলতানা মলি (কলস) প্রতীকের ছেঁড়া পরিত্যক্ত সিলমারা ব্যালট পেপার উদ্ধারের ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। প্রিজাইডিং অফিসার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে অবৈধভাবে ফলাফল ঘোষণা করে প্রতিপক্ষ প্রার্থী মঞ্জুরী বেগম (ফুটবল) কে জয়ী ঘোষণা বাতিল সহ পুনরায় ভোট গণনার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সহ মানববন্ধন করেছে ২১, ২৬ ও ২৭ নং ওয়ার্ডের এলাকাবাসী। কয়েকশ’ নারী ও পুরুষ রংপুর প্রেস ক্লাব চত্বরে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, বৃহস্পতিবার রসিক নির্বাচনে নির্বাচন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে প্রতিপক্ষ প্রার্থী মঞ্জুরী বেগম (ফুটবল) অবৈধভাবে ৪ ভোটের ব্যবধানে জয়ী ঘোষিত হয়েছে। নাটকীয় ভাবে ভোট গণনার শেষে মধ্যরাতে মঞ্জুরীকে ১০৮২৫ ভোটে জয়ী ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মনোয়ারা সুলতানা মলিকে ১০৮২১ ভোটে পরাজিত  ঘোষণা করা হয়। এদিকে ওই আসনের আদর্শপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রের পাশে গতকাল কলস প্রতীকে ছেঁড়া পরিত্যক্ত সিলমারা ব্যালট পেপার উদ্ধার করে এলাকাবাসী। ফলে ভোটার ও সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মনোয়ারা সুলতানা মলি বলেন, ভোট গণনার সময় তার  পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে এ অপকর্ম করা হয়েছে। এ সময় ফজলুল হক, হারুনুর রশিদ, কাসেম, রোজিনা, সুফিয়াসহ অন্যরা বলেন, অবিলম্বে এ ফলাফল বাতিল সহ বিষয়টি তদন্ত করে পুনরায় ভোট গণনা না হলে এলাকাবাসীকে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলে রংপুর অচল সহ তোলপাড় করা হবে। আর এ পরিস্থিতির জন্য প্রশাসন দায়ী থাকবে বলে ঘোষণা করা হয়। ওদিকে একই দাবিতে নগরে বিক্ষোভ করেছে ২২ নং ওয়ার্ডের হাকিমুজ্জামান, ৯, ১০, ১১ নং ওয়ার্ডের মহিলা প্রার্থী বিভা রানী ও ৩১, ৩২, ৩৩ নং ওয়ার্ডের মহিলা প্রার্থী সহ অন্যরা।
যারা কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন
রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩৩ ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলররা হলেন- ১ নং ওয়ার্ড: রফিকুল ইসলাম, ২ নং ওয়ার্ড: আ. কাদের, ৩ নং ওয়ার্ড: আশেক আলি, ৫ নং ওয়ার্ড: মোখলেছুর রহমান, ৬ নং ওয়ার্ড: ফয়জুল হক, ৮ নং ওয়ার্ড: আবুল মনজুম, ৯ নং ওয়ার্ড: নজরুল ইসলাম নজু, ১৩ নং ওয়ার্ড: রাজু আহমেদ, ১৫ নং ওয়ার্ড: শাফিয়ার রহমান শাফি, ১৭ নং ওয়ার্ড: জহুরুল ইসলাম, ১৮ নং ওয়ার্ড: নিজামুল হাসান বাদল, ১৯ নং ওয়ার্ড: দুলাল, ২০ নং ওয়ার্ড: তৌহিদুল ইসলাম, ২১ নং ওয়ার্ড: মাহাবুবার মনজু, ২২ নং ওয়ার্ড: শাহজালাল করিম বকুল, ২৩ নং ওয়ার্ড: সেকেন্দার আলি, ২৪ নং ওয়ার্ড: হাফিজ আহম্মেদ ছুট্টু, ২৫ নং ওয়ার্ড: নুরুন্নবী ফুলু, ২৬ নং ওয়ার্ড: আ. রাজ্জাক মণ্ডল, ২৭ নং ওয়ার্ড: আকরাম হোসেন, ২৮ নং ওয়ার্ড: ইদ্রিস আলি, ২৯ নং ওয়ার্ড: মোকতার হোসেন, ৩০ নং ওয়ার্ড: জাহাঙ্গীর আলম, ৩১ নং ওয়ার্ড: আকতারুজ্জামান ভুট্টু, ৩২ নং ওয়ার্ড: আবুল কাশেম, ৩৩ নং ওয়ার্ড: সুলতান আলম। এছাড়া, ১১ আসনের সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে ঘোষিত নির্বাচিতরা হলেন- দিলারা বেগম, হাফিজা খাতুন, আঞ্জুআরা গিনি, জাফরিন আরা রিপা, হাসনা বানু, মঞ্জুরী বেগম, ফরিদা কালাম, নাজমুন্নাহার নাজমা।

বিশ্বজিত্ হত্যা: পুলিশের তদন্ত শুরু, ঘটনাস্থল পরিদর্শন

বিশ্বজিত্ হত্যা: পুলিশের তদন্ত শুরু, ঘটনাস্থল পরিদর্শন

পুরান ঢাকায় ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের নির্মম নির্যাতনে দর্জি বিশ্বজিত্ দাস হত্যার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শিগগিরই রিপোর্ট দেয়ার ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মিলি বিশ্বাসকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন:ডিএমপির যুগ্ম-কমিশনার (ডিবি) শেখ মারুফ হাসান ও ডিসি ট্রাফিক (পূর্ব) ইকবাল হোসেন। মিলি বিশ্বাস ইত্তেফাককে বলেন, শনিবার চিঠি পাওয়ার পরই তারা কাজ শুরু করেছেন। গতকাল তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আজ থেকে পুরোদমে কাজ শুরু করবেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিশ্বজিেক নির্মমভাবে পেটানোর সময় পাশেই দুইজন পুলিশ সদস্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারা কোন ভূমিকা রাখেননি। এছাড়া একজন পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাও ঘটনাস্থলের অদূরেই ছিলেন বলে কেউ কেউ জানিয়েছেন। এসব বিষয় খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি।

কমিটির সদস্যরা বলেছেন, কোন কোন পুলিশ ওই দিন ঘটনাস্থলের আশপাশে দায়িত্বে ছিলেন—তাদের সঙ্গে কথা বলা হবে। এছাড়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে আরো কথা বলে যত দ্রুত সম্ভব রিপোর্ট দেয়া হবে বলে তারা জানান।

ফের বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম

ফের বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম

আবারও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশে তেলের দাম কম হওয়ায় এ খাতে সরকারের ভর্তুকি কমাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বিদ্যুৎ ভবনে তিনি
সাংবাদিকদের বলেন, তেলের দাম বাড়ানো হলে বাজেটে ভর্তুকির অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় করা যাবে। চলতি মাসেই তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, এখনও প্রতি লিটার ডিজেলে আমরা ১৮ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছি। বিদ্যুতের দামও আবার বাড়ানো হচ্ছে কি না জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, এটা বিইআরসির বিষয়। তবে সর্বশেষ দাম বাড়ানোর বিষয়ে বিতরণ কোম্পানিগুলো তাদের অভিযোগ বিইআরসিকে জানিয়েছে। তারা এ বিষয়ে গণশুনানি করবে।
এদিকে বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত সেমিনারে তৌফিক-ই-ইলাহী বলেন, ফুলবাড়ীতে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা কিভাবে হবে- সে বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে কোন কোম্পানিকে কয়লা উত্তোলনের কাজ দেয়া হবে না। তিনি বলেন, ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করতে গেলে ভূগর্স্থ পানির ব্যবস্থাপনা কিভাবে হবে সেটা আমরা এখনও জানি না। এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য আইডব্লিউ এম কে (ইনস্টিটিউট অব ওয়ারটার ম্যানেজমেন্ট) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আগে নিজে নিশ্চিত হতে হবে, পরে কাজ দেয়ার সিদ্ধান্ত।
ফুলবাড়ীতে এশিয়া এনার্জি কাজ পাওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে কোন চিঠি দিয়েছে কি না জানতে চাইলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক বলেন, কোন কোম্পানি কাজ করতে চাইবে- এজন্য তারা ব্যক্তিগতভাবে চিঠি দিতে পারে, তাদের সরকারের মাধ্যমেও চিঠি দিতে পারে। কিন্তু কি করা হবে সেটা আমরা বিবেচনা করব। দেশের জন্য যেটা ভাল হবে সেটাই আমরা করব।

শিবির নেতাদের ধরতে ডিবি’র কৌশল

শিবির নেতাদের ধরতে ডিবি’র কৌশল


ছাত্রশিবির নেতাদের গ্রেপ্তার করতে নয়া কৌশল নিয়েছে ডিবি। নয়া কৌশলে সফলও হয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। একই দিনে তারা গ্রেপ্তার করতে পেরেছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ২৮ নেতাকে। এক নেতাকে গ্রেপ্তার করে তার মোবাইল থেকে ফোন করে ও মেসেজ পাঠিয়ে অন্য নেতাদের ডেকে এনে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে বার বার চেষ্টা করেও মহানগর শিবির নেতাদের গ্রেপ্তার করতে সফল হতে পারছিল না গোয়েন্দা পুলিশ। শিবির ধরার নয়া কৌশলে তারা সফল হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা।
গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রশিবিরের ২৮ নেতার মধ্যে ২৭ জনকে ৩ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। পুলিশের তেজগাঁও থানার একটি মামলায় গতকাল তাদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ২৭ জনের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। একজন অসুস্থ থাকায় তার রিমান্ড আবেদন নাকচ করে আদালত। অন্যদিকে আটক জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মুক্তির দাবিতে মিছিলের প্রস্তুতিকালে গতকাল সকাল ১১টায় রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকা থেকে শিবিরের ৯ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল পর্যন্ত তাদেরকে আদালতে নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তারকৃত জামায়াতের প্রচার সম্পাদক তাসনিম আলমকে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেপ্তারে নতুন কৌশলে গোয়েন্দা পুলিশ দুই দিনে শিবিরের কেন্দ্রীয় এক নেতা, মহানগরের বিভিন্ন থানার সভাপতিসহ গুরুত্বপূর্ণ ২৮ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। এই অভিযানে গোয়েন্দা পুলিশের একজন উপ-পুলিশ কমিশনার, দুই অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, একজন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারসহ একদল চৌকস সদস্য অংশ নেন। গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াত নেতাদের সাজা হলে সারাদেশে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাবে শিবির- এমন তথ্যের ভিত্তিতে শিবির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারে নতুন করে অভিযান শুরু হয়েছে। ডিবি’র এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেপ্তার করতে নানা তৎপরতা চালালেও এতদিন বড় ধরনের সফলতা আসেনি। হার মানতে হয়েছে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের। এমন অবস্থায় নতুন করে কৌশল নিয়ে মাঠে নেমে কিছুটা সফলতা পাওয়া গেছে।
ওই কর্মকর্তা জানান, অভিযানে একজন উপ-পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে যোগ হয় ডিবি’র দু’জন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ও পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী সোয়াটের একজন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার। এরা হলেন- মশিউর রহমান, শহিদুল্লাহ ও আশিকুর রহমান। এই টিম কাজ শুরু করে ১৯শে ডিসেম্বর থেকে। ২০শে ডিসেম্বর রাজধানীসহ সারাদেশে ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের হরতালের আগের দিন গেণ্ডারিয়া থেকে তিনজনকে আটক করার পর তাদের তথ্যের ভিত্তিতে শিবিরের কেন্দ্রীয় মাদরাসা বিষয়ক সম্পাদক শাহীনুর রহমান ও নারায়ণগঞ্জ জেলা শিবিরের সভাপতি ইলিয়াস মোল্লাকে আটক করা হয়। তাদের দিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতাদের ফোন করে আনার চেষ্টা করলেও শিবিরের বেশির ভাগ নেতা বিষয়টি বুঝে যান। তাই রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি করে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি ডিবি। তবে শাহীনুর রহমানের গ্রেপ্তারের খবর জানতেন না মহানগর পশ্চিমের সভাপতি সাজ্জাদ হোসাইন। এ অবস্থায় তার মোবাইল থেকে ফোন করে তার অবস্থান শনাক্ত করে ডিবি। পরে সন্ধ্যায় আটক করা হয় সাজ্জাদকে। এরপর ডিবি পুলিশ পুরো কৌশলের প্রয়োগ করতে থাকে। সাজ্জাদের মোবাইল থেকে ফোন করে আনা হয় সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়াকে। দু’জনকে একত্র করে এর পর একে একে ফোন করা হয় পশ্চিমের ১২ থানার সভাপতি ও সেক্রেটারিকে।
ডিবি’র ওই কর্মকর্তা জানান, সাজ্জাদ ও কিবরিয়া প্রথমে অন্য নেতাদের ফোন করতে চাননি। পরে নানা কৌশলে বাধ্য করা হয় তাদের। ‘মিরপুর ১০ নম্বরে আগামীকালের কর্মসূচি নিয়ে জরুরি একটি বৈঠক আছে তাড়াতাড়ি আসো’- এমন একটি বার্তা পাঠানো হয় নেতাদের কাছে। ওই কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি টনিকের মতো কাজ করে। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ১২ থানার সভাপতি ও সেক্রেটারিসহ ২৮ জনকে আটক করে পুলিশ। তাদের নিয়ে আবার গভীর রাতে রাজধানীর বিভিন্ন মেসে তল্লাশি চালানো হয়। ডিবি’র ওই কর্মকর্তা মনে করেন কৌশলী এই ভূমিকার কারণে এক সঙ্গে শিবিরের এত নেতাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই আটকের মধ্য দিয়ে শিবিরের তৎপরতা কিছুটা হলেও কমবে। শিবিরের একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেছেন, ‘গোয়েন্দা পুলিশের কৌশলে কয়েকজন নেতা ধরা পড়েছেন এ কথা সত্য। কিন্তু তাই বলে শিবিরের তৎপরতা কমে যাবে এমনটা আমরা মনে করি না।’
তিনি জানান, রাতেই তাদের কাছে খবর আসে সাজ্জাদ গ্রেপ্তার হয়েছেন। আর বিষয়টি জানাজানি হওয়াতে কর্মীরা সতর্ক হয়ে গেছে। এখন আর ওই কৌশল কাজে লাগবে বলে তিনি মনে করেন না।
ছাত্রশিবিরের এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার এড়াতে নানারকম নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে শিবিরের একাধিক নেতাকে বাসা পাল্টানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কারও কারও মোবাইল ফোন পরিবর্তন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এমনকি পরিচিত কারও নম্বর থেকে ফোন কল এলে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের কথায় কোথাও বের না হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া, বের হওয়ার জন্য বিশেষ একটি সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহারের নির্দেশ রয়েছে। এবিষয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, আমাদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রশিবির নেতারাও গ্রেপ্তার এড়াতে কেন্দ্র সহ জেলা-উপজেলা নেতাদের জন্য বিশেষ সাংকেতিক চিহ্ন পাসওয়ার্ড পদ্ধতি চালু করেছে বলে ছাত্রশিবিরের এক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন।
ফকিরাপুলে শিবিরের ৯ কর্মী আটক
রাজধানীর ফকিরাপুল ও দৈনিক বাংলার মোড় এলাকায় ৯ শিবিরকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতাসহ মহানগরের গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীর মুক্তির দাবিতে গতকাল সকালে শিবির মিছিল বের করলে পুলিশ ওই মিছিল থেকে ওই ৯ জনকে আটক করে। আটককৃতদের থানা হাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সকাল ১১টার দিকে ফকিরাপুল থেকে শতাধিক শিবিরকর্মী একটি মিছিল বের করার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ তাদের ধাওয়া করে আটক করে। পল্টন থানার এসআই আলাউদ্দীন আলী জানান, মতিঝিল থানার ফকিরাপুল ও দৈনিক বাংলার মোড়ে গতকাল সকাল ১১টার দিকে শিবির কর্মীরা একত্রিত হয়। পুলিশ সেখানে গিয়ে জমায়েতের কারণ জানতে চাইলে শিবির কর্মীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ ধাওয়া করে ফকিরাপুল ও দৈনিক বাংলার মোড় থেকে ৯ জনকে আটক করে।

Friday, December 21, 2012

গোয়েন্দা জালে সাবেক দুই মন্ত্রী

গোয়েন্দা জালে সাবেক দুই মন্ত্রী

 পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলা তদন্তে কানাডায় টিম পাঠাচ্ছে দুদক

পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র মামলায় সন্দেহভাজনদের তালিকায় নাম থাকা সাবেক দুই মন্ত্রীর গতিবিধির উপর তীক্ষ্ন নজর রাখছেন গোয়েন্দারা। আসামি না হলেও মামলার তদন্ত চলাকালে তাদের কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখবে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদক কমিশনার বদিউজ্জামান সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, 'মামলার এজাহারে ঘটনার বিবরণে সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাই তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকবেন।'

দুদক কমিশনার আরো বলেন, মামলার অন্যতম তিন আসামি এসএনসি লাভালিনের সাবেক কর্মকর্তা রমেশ, ইসমাইল ও কেভিনের বক্তব্য নিতে তদন্ত টিম শিগগিরই কানাডায় যাবে। রমেশের ডায়েরিতে কেন ৫ ব্যক্তির নাম (ওই দুই মন্ত্রীসহ) লেখা রয়েছে- সেটা খুঁজে বের করা হবে। তবে কানাডায় যাওয়ার দিনক্ষণ সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি। দুদক কমিশনার বলেন, কিছু কাগজপত্রের ওপর নির্ভর করে এটাকে ষড়যন্ত্র মামলা বলা হচ্ছে। কিন্তু ষড়যন্ত্র যে হয়েছে সেটা প্রতিষ্ঠা করতে হলে তদন্ত কর্মকর্তাদের ওই ডায়েরি পেতে হবে। ডায়েরিতে যাদের নাম লেখা হয়েছে, তাদের সঙ্গে আসামিদের যোগাযোগ হয়েছে- এটা প্রতিষ্ঠা করা গেলে মামলা একটি জায়গায় দাঁড়াবে। এদিকে এজাহারভুক্ত বাংলাদেশের চার আসামিকে ধরতে গ্রেফতার অভিযান চলছে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে দুদক কাজ শুরু করেছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাতজনের বিরুদ্ধে গত সোমবার রাজধানীর বনানী থানায় মামলা করে দুদক। তবে এজাহারের বর্ণনায় সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর নাম থাকলেও আসামির তালিকায় তাদের নাম নেই। এই মামলায় বাংলাদেশের চার আসামি হলেন, সাবেক সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগে দরপত্র মূল্যায়নে গঠিত কমিটির সদস্য সচিব কাজী মো. ফেরদৌস, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজ আহমেদ জাবের এবং ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড প্ল্যানিং কনসালট্যান্ট লিমিটেডের (ইপিসি) উপপরিচালক মো.মোস্তফা। এছাড়া কানাডিয়ান তিন আসামি হলেন, এসএনসি লাভালিনের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহ ও কেভিন ওয়ালেস।

১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে ১৪০ কোটি ডলার পাচার

১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে ১৪০ কোটি ডলার পাচার

ঘুষ, দুর্নীতি, কর ফাঁকি, ভুল চালানসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ২০০১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ১৪০ কোটি ডলারেরও বেশি পাচার হয়েছে। এর পরিমাণ ১৪ দশমিক ০৫৯ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের চালানে বেশি-কম দেখিয়ে পাচার করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫৯৭ বিলিয়ন ডলার। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবাহবিষয়ক এক রিপোর্টে এসব কথা বলেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক গ্লোবাল ফাইন্যান্স ইন্টিগ্রিটি। সমপ্রতি ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ অর্থপাচারকারী দেশগুলোর তালিকায় ১৪৩টি উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে ৪৪তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। আর দক্ষিণ এশিয়ায় এক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান এক নম্বরে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। এতে বলা হয়- অপরাধ, দুর্নীতি, কর ফাঁকি সহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলো ২০০১ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে প্রতি বছর মোট ৫ লাখ ৮৬ হাজার কোটি ডলার হারিয়েছে। সবচেয়ে বেশি পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে যথাক্রমে চীন, মেক্সিকো, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব ও রাশিয়া থেকে। এছাড়া, মোট পাচারকৃত অর্থের ৬১ শতাংশই পাচার হয়েছে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে। এমনকি তালিকার প্রথম দশটি দেশের পাঁচটিই এশিয়ার। সেগুলো হলো- চীন, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া। জিএফআই জানায়, এ সময়ে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর গড়ে পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ ১৪০ কোটি ডলারের বেশি। সর্বোচ্চ পাচার হয়েছে ২০০৬-০৭ অর্থবছরে। এর পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি ডলার। তবে ২০১০ সালে এ পাচারের হার উল্লেখযোগ্য হারে নেমে আসে। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ২০০১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর উন্নয়নশীল দেশগুলোর মোট বার্ষিক উন্নতির পরিমাণ প্রায় আট হাজার ৮০০ কোটি ডলার।  মোট বার্ষিক অর্থপাচার এর অন্তত ১০ গুণ। উন্নত দেশগুলোতে এই বিপুল অর্থ পাচারের হার কমানোর জন্য অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার পরামর্শ দিয়েছে জিএফআই।

অতিরিক্ত লবণাক্ততায় মরে যাচ্ছেটেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের গাছ

অতিরিক্ত লবণাক্ততায় মরে যাচ্ছেটেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের গাছ


দীর্ঘদিন সাগরের জোয়ার-ভাটার আওতায় থাকায় লবণাক্ততায় টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ এলাকার গাছপালা মরে যাচ্ছে। মরছে রাস্তার ধারের ও সাগর তীরের নারিকেল ও সুপারি গাছ। এভাবে গাছপালা মরে যাওয়ায় এলাকার লোকজনের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠা দেখা দিয়েছে। মূলত এ এলাকার বেড়িবাঁধের দুই কিলোমিটার অংশ গত জুনের জলোচ্ছ্বাসে ভেঙ্গে যায়। এখান দিয়ে পানি ঢুকে গাছপালার মৃত্যুসহ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।

শাহপরীর দ্বীপের বেড়িবাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত ওই দুই কিলোমিটার অংশ সংস্কারে পানি উন্নয়ন বোর্ড দীর্ঘসূত্রতা করছে। এদিকে গত মাসে শুরু হয়েছে লবণ চাষাবাদের মৌসুম। কিন্তু একটি রিং বাঁধের অভাবে ঠিক সময়ে চাষিরা লবণ চাষাবাদে নামতে পারেনি। প্রতিদিন জোয়ার-ভাটার সময় টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়কে পানি উঠে। লবণ পানিতে রাস্তার পাশের গাছগুলো মরে যাচ্ছে। এছাড়া সমুদ্র তীরবর্তী শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়ার বেশকিছু সুপারি বাগানে লেগেছে মড়ক। কী কারণে মড়ক লেগেছে তা বলতে পারছে না এলাকার লোকজন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ ইছমাইল জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতি বছর অসময়ে কাজ শুরু করে। যথাযথভাবে কাজ না করায় বার বার বাঁধ ভেঙ্গে যায়। আর এ সবের খেসারত দিতে হয় শাহপরীর দ্বীপবাসীকে। চলতি মাসে রিং বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করলেও মূল বাঁধ নির্মাণের কোন খবর নেই। পাউবো কর্মকর্তারা বছরের পর বছর টেকসই বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দিলেও উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নির্মিত বাঁধগুলোও ক্রমান্বয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজারের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় বেড়িবাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত দুই কিলোমিটার অংশ সংস্কারের জন্য ১০৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। ২৪ ডিসেম্বর পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে এটি অনুুমোদিত হলে চলতি শুষ্ক মৌসুমে টেকসই বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।

বন্দুকযুদ্ধে নিহত নোয়াখালীর নিজাম ডাকাত

বন্দুকযুদ্ধে নিহত নোয়াখালীর নিজাম ডাকাত


র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নোয়াখালীর আলোচিত নিজাম ডাকাত নিহত হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৩টায় সুবর্ণচরের সেন্টার বাজারের মানিকের বাড়ির পাশে একটি বাগানে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশী বন্দুক, ইতালির তৈরী পিস্তল ও ছয়টি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে ৮ জনকে। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে জয়নুল বাহিনী (৩৮), ফয়েজ কেরানী (৫০), সিরাজ বাহিনী (৪০), আকবর খাঁ (৪৫)। বাকিদের নাম পাওয়া যায়নি। চর জব্বার থানার ওসি মোশাররফ হোসেন তরফদার ও হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন তরফদার বলেন, নিজাম ডাকাত শুধু হাতিয়া নয়, সে পুরো উপকূলের ত্রাস। তার বিরুদ্ধে হাতিয়া, চরজব্বর, মনপুরা, সন্দ্বীপ, ভোলা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন থানায় প্রায় ৫০টির মতো মামলা আছে। ১৩টি মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব ১১-এর লে. কর্নেল নওরোজ এহসানের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় তাদের উদ্দেশ্য করে পাল্টা গুলি ছোড়ে নিজাম ডাকাত। গুলি বিনিময়ের এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে বন ও জলদস্যু সম্রাট নিজাম ডাকাত নিহত হয়। পরে র‌্যাব সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর থানায় নিয়ে আসে। সেখানে তার সুরতহাল তৈরি করা হয়। এরপর তার লাশ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ সময় তার এক স্ত্রী উপস্থিত ছিল। হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোক্তার হোসেন বলেন, নিজাম ডাকাত হাতিয়ার চরাঞ্চল ও মেঘনার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। সে নদীতে ডাকাতি, চরাঞ্চলের ভূমিহীনদের ভূমি দখল, ধর্ষণ, লুটপাট, অপহরণসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড করে আসছিল দীর্ঘ চার বছর ধরে। তার নিয়ন্ত্রণে ছিল একদল সুসংগঠিত জল ও বনদস্যু বাহিনী। তিনি বলেন, ‘ইতিপূর্বেও তার আস্তানায় র‌্যাব-পুলিশ-কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করেছে। কিন্তু সে সময় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এদিকে হাতিয়ার মাছ ব্যবসায়ী ও জেলেরা জানান, নদীতে মাছ শিকারে গেলে তাদের নিজাম ডাকাত বাহিনীর আতঙ্কে থাকতে হতো। এ বাহিনীর হামলা, লুটপাট, অপহরণসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ ছিলেন তারা। নিজাম ডাকাত লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী গ্রামের মৃত রুহুল আমিনের ছেলে।
ভূমিহীনদের স্বস্তি, আনন্দ মিছিল: এদিকে নিজাম ডাকাতের মৃত্যুতে চরাঞ্চলে স্বস্তি নেমে এসেছে। স্থানীয় ভূমিহীনরা একত্রিত হয়ে নিজাম ডাকাতের দলের লোকজনকে ধাওয়া করে গণধোলাই দিচ্ছে। এ সময় ভূমিহীনরা চরের বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল করেছে।
নিজাম ডাকাতের স্থলাভিষিক্ত বাহার কেরানী: অপরদিকে নিজাম ডাকাত নিহত হওয়ার পর তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দলের সদস্যরা নিজাম ডাকাতের সেকেন্ড-ইন কমান্ড বাহার কেরানীকে নির্বাচিত করেছে। চরাঞ্চলের শীর্ষ জলদস্যু বাশার মাঝি নিহত হওয়ার পর তার স্থান দখল করে নেয় নাসির কেরানী। কিন্তু তার সঙ্গে হাতিয়ার স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার চাঁদা নিয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। পরে ওই নেতার ছত্রচ্ছায়ায় নাসির কেরানীকে হটিয়ে সেই স্থান দখল করে নেয় নিজাম ডাকাত। পরবর্তীকালে নিজাম ডাকাতের রাজত্ব চলাকালে তার একান্ত কর্মকাণ্ডে বিশ্বস্ত হয়ে ওঠে বাহার কেরানী। নিজামের অনুপস্থিতিতে তার বাহিনীর সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ করতো সে। চাঁদাবজি, অপহরণ, মুক্তিপণ, হত্যা, ধর্ষণসহ সকল কাজের নেতৃত্ব দিতো। নিজাম বাহিনী মেঘনা থেকে জেলেদের নৌকাসহ অপহরণ করে তার আস্তানায় নিয়ে গেলে সমঝোতার দায়িত্ব ছিল বাহার কেরানীর ওপর। এসব অপরাধে তার বিরুদ্ধে হাতিয়া, মনপুরা, সুবর্ণচরসহ কয়েকটি থানায় হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণসহ ৬ ডজন মামলা হয়েছে।
কে এই বাহার কেরানী? হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৭নং পশ্চিম সোনাদিয়া গ্রামের মৃত পাটোয়ারী সরদারের ছেলে বাহার কেরানী। বর্তমানে ক্যারিংচরের বাথানখালী গ্রামে তার বাড়ি। সে কখনও লোকালয়ে আসে না। এমনকি নিজ বাড়ি হাতিয়াতেও প্রকাশ্যে তাকে দেখা যায়নি। বাহার কেরানী বাশার মাঝির হিসাব রক্ষকের (কেরানী) দায়িত্ব পালন করতো। একাধিক মামলার পলাতক এ আসামি পরবর্তীকালে চরাঞ্চলের নিজাম ডাকাতের সেকেন্ড ইন-কমান্ড হিসেবে কাজ করে। নিজাম ডাকাতের রেখে যাওয়া ভারি অস্ত্রও তার কাছে রয়েছে। এ ব্যাপারে হাতিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যাপক মো. ওয়ালী উল্লাহ বলেন, নিজাম ডাকাত নিহত হয়েছে। এতে এমন কোন সুসংবাদের কিছুই নেই- যতক্ষণ পর্যন্ত না তার গড়ফাদারকে চিহ্নিত না করে বিচারের আওতায় আনা হবে। এটা না করতে পারলে আরেক নিজামের উত্থান ঘটবে। একই ধরনের কথা বললেন স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম। তিনি বলেন, নিজাম ডাকাত দেশের উপকূলের ত্রাস। বহুবার র‌্যাব-পুলিশ পাঠিয়েও তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। সে স্থানীয় এক নামধারী নেতার ছত্রচ্ছায়ায় থেকে এত দিন দ্বীপের মানুষের ওপর তাণ্ডব চালিয়ে আসছিল। ফজলুল আজিম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যদি নিজাম ডাকাতের গড়ফাদারকে গ্রেপ্তার করা না হয় তাহলে আরেক নিজামের সৃষ্টি হবে।