Pages

Saturday, January 5, 2013

নীরব প্রতিবাদ

নীরব প্রতিবাদ


জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একজন নারী একটি কাগজে 'নির্বাক আমি প্রতিবাদের ভাষা নেই, শেম শেম' লিখে দাঁড়িয়েছিলেন গত বৃহস্পতিবার। পরের দিন শুক্রবারও তিনি একই জায়গায় দাঁড়ান আর একটি কাগজে 'স্টপ রেপ' লিখে। তবে সেদিন তার সঙ্গে দাঁড়ান বিভিন্ন পেশার আরও দশজন মানুষ। টাঙ্গাইলের ধর্ষণের ঘটনা আমাদের আলোড়িত করেছে। আমরা সবাই এদের মতো করে সমাজ থেকে ধর্ষণ দূর করতে চাই।

প্রতিদিনের মতোই জজ কোর্টে নিজের রুমের পত্রিকা পড়তে শুরু করেন অ্যাডভোকেট শাহনাজ আক্তার শিল্পী। একটি হেড লাইনে তার চোখ আটকে যায় 'নীরব সুধিসমাজ নিশ্চুপ নারীবাদ'। প্রতিবেদনটি পড়ে শাহনাজ শিহরিত হন। পাশেই টাঙ্গাইলে কিশোরী ধর্ষণ নিয়ে আলোচনা করছিলেন অন্যরা। যতই সময় গড়াচ্ছিল ততই নিজে কিছু করার তাগিদ বোধ করছিলেন তিনি। কাজ গুছিয়ে বিবেকের ডাকে সাড়া দিয়ে শাহনাজ একটি কাগজে লিখেন 'নির্বাক আমি প্রতিবাদের ভাষা নেই। শেম শেম' তা নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে। গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা অবধি দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। আশপাশ ঘিরে উত্সুক জনতার সঙ্গে যুক্ত হন অনেকেই এই নীরব প্রতিবাদে।

জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ১০

জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ১০

মনিরামপুরে জামায়াত-শিবির ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের এএসআই শরিফুল ইসলাম ও দুই কনস্টেবলসহ ১০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ দুই শিবিরকর্মীকে আটক করলে শিবিরকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের ছিনিয়ে নিয়েছে। মনিরামপুর থানার ওসি আলী আযম জানান, গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা সদরের গাংড়া মোড় পেট্রল পাম্পের কাছে জামায়াত শিবিরের কর্মীরা বিভিন্ন স্থান থেকে বেশ কয়েকটি নসিমনযোগে এসে মিছিল করার জন্য জড়ো হয়। এ সময় তারা যান চলাচলে বাধার সৃষ্টি ও ভাঙচুরের চেষ্টা চালালে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। জবাবে জামায়াত-শিবির কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুই শিবিরকর্মীকে আটক করলে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে পুলিশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে শিবিরকর্মীরা কয়েকটি ককটেল ফাটিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ইসমাইল ও ফারুক হোসেন নামে দুই জামায়াতকর্মীকে আটক করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত এএসআই শরিফুল বাদী হয়ে পুলিশের উপর হামলাকারী জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

‘জীবনযাত্রায় ব্যয় বাড়বে’

‘জীবনযাত্রায় ব্যয় বাড়বে’


সরকারের হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে প্রায় সব ক্ষেত্রে। এ মূল্যবৃদ্ধি দেশে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। বেড়ে যাবে পরিবহন ব্যয়। যানবাহনের ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টিরও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া বোরো মওসুমে কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সরকারের এ সিদ্ধান্তকে ভালোভাবে দেখছেন না দেশের অর্থনীতিবিদেরা। তাদের প্রশ্ন, তেলের দাম বাড়ানোর ফলে যে অর্থের সাশ্রয় হবে, সেটা কোন খাতে ব্যয় হবে? এদিকে সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রোববার ১৮ দলীয় জোট সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে। তবে সরকার ও বিরোধী দলীয় জোটের এ সিদ্ধান্তকে ভালভাবে নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে চাল, ভোজ্য তেল, কাঁচা-তরকারিসহ যাবতীয় নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাবে। দূরপাল্লার পরিবহন ছাড়াও অভ্যন্তরীণ রুটে এবং রপ্তানি পরিবহনের জন্যও বাড়তি টাকা গুণতে হবে সবাইকে।
যোগাযোগ করা হলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মানবজমিনকে বলেন, জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য, সরকারের বর্তমান রাজস্ব-পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক বিবেচনায় দাম বাড়ানোর দরকার ছিল না। এই মূল্যবৃদ্ধি দেশে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। তিনি বলেন, আশা করেছিলাম বোরো চাষের জন্য সরকার ডিজেলের দাম না বাড়িয়ে কৃষককে রক্ষা করবে। কিন্তু সেটা আর হলো না। তবে এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, তেলের দাম বাড়ানোর ফলে যে অর্থের সাশ্রয় হবে, সেটা কোন খাতে ব্যয় হবে। এ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা থাকলে জনগণের জন্য মূল্যবৃদ্ধি মেনে নেয়া সহজ হতে পারে বলে তিনি জানান।
অর্থনীতিবিদ ও তেল-বিদ্যুৎ-গ্যাস-বন্দর ও খনিজসম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ড. আনু মুহাম্মদ বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে চাল, ডাল, তেল, তরিতরকারি এবং পরিবহন ভাড়া বাড়বে। যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেবে। তিনি বলেন, তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার কারণেই তেলের ওপর চাপ বাড়ছে। যেখানে সরকার কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। যার জন্য সরকার তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তবে এতে সরকারের কিছু লোক লাভবান হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত মেনেই তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত একটি কিস্তির অর্থ পেয়েছে। দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ পেতেই সরকারের এ সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে, তাদেরই মাথায় আবার বাড়ি দিচ্ছে সরকার। আর এতে করে দুর্যোগটা পড়বে দেশের অর্থনীতির ওপরই। বিশেষ করে যারা সিএনজি (সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস) ব্যবহার করছে তারাও ভাড়া বাড়িয়ে দেবে এ অজুহাতে। পূর্বের মতো সরকার এই খাতে সৃষ্ট অস্থিরতাকেও সামাল দিতে পারবে না।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১১ সালের ৩০শে ডিসেম্বর সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। এই সরকারের আমলে এ নিয়ে ৫ বার জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো। এর মধ্যে প্রতি লিটার অকটেন ৫ টাকা বেড়ে হয়েছে ৯৯ টাকা। পেট্রলের দর বেড়েছে লিটারপ্রতি ৫ টাকা। এখন প্রতি লিটার পেট্রল কিনতে হবে ৯৬ টাকায়। আর ডিজেল ও কেরোসিন লিটারে ৭ টাকা করে বেড়ে হয়েছে ৬৮ টাকা। ফার্নেস তেল ও জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানো হয়নি। তবে এ দুটিতে সরকারের কোন ভর্তুকি লাগে না। অকটেন ও পেট্রলেও ভর্তুকি লাগে না। এর পরও এই দুটির দাম বাড়ানো হলো। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত মেনেই তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। ১০০ কোটি ডলারের বর্ধিত ঋণসুবিধার আওতায় (ইএসএফ) বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত একটি কিস্তির অর্থ পেয়েছে। দ্বিতীয় কিস্তির ১৪ কোটি ১০ লাখ ডলার চলতি জানুয়ারি মাসেই পাওয়ার কথা। এই অর্থ পেতেই বাড়ানো হলো জ্বালানি তেলের দাম।

ট্রেনটি এখন কোথায়?

ট্রেনটি এখন কোথায়?

যুতসই জবাবই পেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে তার ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন- আমরা বদলালে পৃথিবীও বদলাবে। তাই চলুন আমাদের প্রত্যেকে প্রথম পদক্ষেপটা করি। আসছে বছরের নতুন সূচনা করি। মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এই বদলানোর ডাক শুনেই তাকে পাল্টা বার্তা ফিরিয়ে দিয়েছেন ফেসবুক জনতা। তারা রাজ্যের কর্ণধারকেই আহ্বান জানিয়েছেন, নিজেকে প্রথমে বদলে দেখানোর জন্যে। পশ্চিমবঙ্গের চিত্র যখন এই তখন আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশেও দিনবদলের প্রশ্ন আজ জ্বলন্ত। চার বছর আগে এ দিনবদলের আওয়াজ তুলেই ক্ষমতার মসনদে আবির্ভূত হয় আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট। জনঅভ্যুত্থানসহ নানা বিশেষণে মহিমান্বিত করা হয়েছে সে জয়কে। কিন্তু দিন কি বদলিয়েছে? নাকি খেলোয়াড়ই শুধু পরিবর্তন হয়েছে? এটা স্পষ্ট তেমন কিছুই বদলায়নি। পুরনো খেলাই চলছে নতুন করে। ওয়ান-ইলেভেনের শিক্ষা কথাটি আদর্শ লিপির পাঠ্য না হয়েও ছড়িয়ে পড়ে সবখানে। সে শিক্ষা যে কেউ নেয়নি চলতি ঘটনাপ্রবাহ তার সাক্ষী। জরুরি জমানার সেনাপ্রধান জেনারেল মইনের একটি উক্তি আলোচনার জন্ম দিয়েছিল সবখানে। তিনি বলেছিলেন, লাইনচ্যুত ট্রেনকে লাইনে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি। সে ট্রেনটি এখন কোথায়? রাজনীতি নিয়ে কথা যত কম বলা যায় ততই ভাল। এটা ঠিক রাজপথে আগের সহিংসতার পরিমাণ অনেক কমেছে। তবে অশ্লীলতা বেড়েছে বহুমাত্রায়। রাজনীতিবিদরা একজন আরেক জনকে কালনাগিনী বলতেও পিছু হটছেন না। তবুও কিছু করার নেই। এদের নিয়েই এগোতে হবে আমাদের। ভবিষ্যতের পথে। মহাজোট জমানায় সবচেয়ে বড় অপরারেশন হয়েছে শেরে বাংলানগরের অপারেশন থিয়েটারে। সংবিধান কাটাছেঁড়া বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। তবে পঞ্চম সংশোধনীতে সংবিধানে যেভাবে কাটাছেঁড়া হয়েছে তা অভিনব। সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কেটে ফেলা হয়েছে। দোহাই দেয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের। অথচ সেই রায়েই বলা হয়েছে, জনগণ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ আইন। যেখানে দুই মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে হালাল করা হয়েছে। যদিও নিশ্চিতভাবেই বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক রাজনীতিকে রাজনীতিবিদদের জন্য কঠিন করে দিয়ে গেছেন। ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া কোন পথে হয় সেটাই হবে এখন সবচেয়ে বড় দেখার বিষয়। শেখ হাসিনা তার এজেন্ডা পূরণের পথে বহু দূর এগিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামিদের মৃত্যুদণ্ড এরই মধ্যে কার্যকর করা হয়েছে। বিরোধীনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তার সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। স্বামীর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে উৎখাত হয়ে নিজের কান্না থামাতে পারেননি তিনি। খালেদা জিয়ার দুই ছেলে কার্যত নির্বাসনেই আছেন। ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর এরই মধ্যে সাজা হয়েছে ঢাকার আদালতে। লন্ডনে থাকা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিচারাধীন রয়েছে এক ডজন মামলা। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও সচল আছে একাধিক মামলা। শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উচ্ছেদ করা হয়েছে তার প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক থেকে। সারা দুনিয়ার মানুষ তার ক্ষুদ্রঋণ মডেলের প্রশংসা করলেও নিজ ভূমে আক্রমণের শিকার হয়েছেন তিনি। যার উদাহরণ দিয়ে আলোচিত মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, বাঘে ধরলে ছাড়ে, হাসিনা ধরলে ছাড়ে না। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতিহারের এক অন্যতম প্রধান এজেন্ডা ছিল যুদ্ধাপরাধের বিচার। নাম পরিবর্তন করে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়েছে প্রায় তিন বিছর আগে। জামায়াত এবং বিএনপি’র এক ডজন নেতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। তবে মাস খানেক আগে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রথম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হকের স্কাইপ আলাপ ফাঁস হয়ে যায়। এর সূত্র ধরে পদত্যাগ করতে হয় তাকে। বৃটেনের বিখ্যাত পত্রিকা দি ইকোনমিস্ট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট জার্নালও এ বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দি ইকোনমিস্টের কাভারে মুদ্রিত হয়েছে, ইনজাস্টিস ইন বাংলাদেশ। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বাইরে এগিয়ে চলছে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার বিচার। পিলখানা হত্যাযজ্ঞের বিচারও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। যদিও এ বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা প্রশ্ন তুলেছে। মহাজোট জমানায় শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে সর্বস্ব হারিয়েছেন ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারী। আত্মহত্যাও করেছেন তাদের কেউ কেউ। ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত রিপোর্ট কার্যকর হয়নি আজও। ছাত্রলীগ চার বছর ধরেই ছিল বেপরোয়া। গত বছরের শেষ মাসে চাপাতি হাতে বিশ্বজিৎ দাস নামের এক নিরীহ পথচারীর ওপর যে নির্মমতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনটি তা হতবাক করেছে প্রত্যেক মানুষকে। ২৮শে অক্টোবর থেকে যে, বাংলাদেশ বেশি দূর এগোয়নি এ যেন তারই প্রমাণ। স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখনও স্বপ্নই থেকে গেছে আবুল কাণ্ডে। শুরুতে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন কোন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা না পেলেও পরে বিশ্বব্যাংকের চাপে পড়ে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। যদিও সে মামলায় পবিত্র সৈয়দ আবুল হোসেনকে আসামি করা হয়নি। হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে সরকারের অনেক রাঘব বোয়াল জড়িত থাকার কথা শোনা গেছে। তবে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো বই পৌঁছে দেয়া, লোডশেডিং কমানোর ক্ষেত্রে সফলতা দেখিয়েছে সরকার।
বিএনপি’র মতো দুর্বল বিরোধী দল পাওয়াকে শেখ হাসিনার সৌভাগ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আবুল মকসুদ। গত চার বছরে বিএনপি চেষ্টা করছে সে দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে অবশ্য বিএনপি সফলই হয়েছে। চীন ও ভারত সফরে উষ্ণ অভ্যর্থনাই পেয়েছেন বিরোধীনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে অনেকটা সফল হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তবে সাংগঠনিক ক্ষেত্রে বিএনপি তেমন বড় কোন সফলতা দেখাতে পারেনি। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর আজ পর্যন্ত একজন মহাসচিবও নিয়োগ দিতে পারেনি দলটি। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কারাগারে থাকলেও এ নিয়ে তেমন রা নেই বিএনপিতে। আন্দোলনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনা হবে বার বার খালেদা জিয়া এ ঘোষণা দিলেও এ আন্দোলনের সামর্থ্য বিএনপি’র আছে কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। সাবেক স্বৈরশাসক এইচএম এরশাদ আবারও এককভাবে নির্বাচন করে ক্ষমতায় যাওয়ার খোয়াবের কথা বলেছেন বার বার। তবে টাঙ্গাইল ও রংপুরের নির্বাচন তার সে স্বপ্ন ধূসর করে দিয়েছে অনেকটাই। জামায়াতে ইসলামী তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। দলটির শীর্ষ সব নেতাই কারাগারে আটক রয়েছেন। তবে জামায়াত-শিবির কর্মীদের পুলিশের ওপর হামলার সমালোচনা করছেন অনেকেই। লক্ষ্যহীন আন্দোলন করছে দলটি এমনই ধারণা পর্যবেক্ষকদের। একটি কথা নিশ্চিত করেই বলা যায়, যতদিন যাবে রাজনীতি ততই কঠিন হবে। মানুষ বিক্ষুব্ধ। নেতাদের হাতে নিয়ন্ত্রণ সব সময় না-ও থাকতে পারে। তবে রাজনীতি জনতার হাতে থাকবে না অন্য কারও হাতে সময়ই সে প্রশ্নের জবাব দিতে পারবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে রাজনীতিবিদরা সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে সমূহ বিপদ অপেক্ষা করছে সবার জন্য। একটি ধর্ষণের ঘটনায় পুরো ভারতবাসীর একতাবদ্ধ প্রতিবাদ কিছুটা লজ্জাতেই ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশকে। প্রায় একই সময়ে বাংলাদেশের টাঙ্গাইলে একই ধরনের ঘটনা ঘটলেও তার প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে না কোথাও। পুরো বাংলাদেশ যেন নীরব। চার বছরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুম সংস্কৃতি চালু হয়েছে। এক রাতে হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর খোঁজ মিলেনি আজও। এমন আরও অনেকেই শিকার হয়েছেন গুমের। রাজনীতির বাইরে ক্রিকেটে গত চার বছরে মাঝে-মধ্যে কিছু সুখবর পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশী তরুণীর হিমালয় চূড়ায় ওঠার ঘটনাও ঘটেছে।
শেষ কথা: রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ। কোথাও কোন সুখবর নেই। দিন বদলের বদলে গাঢ় অন্ধকারের দিকেই যাত্রা করছে বাংলাদেশ। তবে এতকিছুর মধ্যেও আশার কথা রয়েছে বিশ্বাসীদের জন্য। পবিত্র ধর্মগ্রন্থের উদ্ধৃতি অটোরিকশার পেছনে প্রায়ই চোখে পড়ে, ‘তোমরা যদি মুমিন হও, তোমরা হতাশ হয়ো না।’

সমুদ্রের সাফল্য তিস্তায় ম্লান!

সমুদ্রের সাফল্য তিস্তায় ম্লান!


মহাজোট সরকারের ৪ বছরের বড় কূটনৈতিক সাফল্য মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র বিরোধ মামলায় আদালতের রায়ে নিষ্পত্তির বিষয়টি। একান্তভাবেই এ বিজয়কে ‘কূটনৈতিক সাফল্য’ মনে করছে সরকার। পেশাদার কূটনীতিকরাও এই বিজয়ে উল্লসিত। তবে দিন শেষে তাদের হতাশার বড় অংশ জুড়ে আছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত। মহাজোট সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় ‘আকাশের কাছাকাছি’ পৌঁছে দেয়ার যে প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছিল তা বহু আগেই থেমে গেছে। তিস্তা চুক্তি ও ল্যান্ড বাউন্ডারির রেটিফিকেশন না হওয়াই হতাশার মূল কারণ। কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, মহাজোট সরকারের ‘সমুদ্র সাফল্য’ তিস্তায় ম্লান হয়ে গেছে। তবে এখনই ঢাকা আশা ছাড়ছে না। ভারতের সরকারেও বড় ধরনের রদবদল ঘটেছে। পোড় খাওয়া রাজনীতিক সলমন খুরশিদ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার নবউদ্যোগে ঢাকা-দিল্লি বিদ্যমান দূরত্ব ঘুচিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা আশা করছে আগামী মাসে তিস্তা ও ল্যান্ড বাউন্ডারির রেটিফিকেশনের নতুন কোন বার্তা নিয়ে সফরে আসবেন তিনি। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে শেখ হাসিনা সরকার শুরু থেকেই ছিল তৎপর। বড় ‘ঝুঁকি’ নিয়ে বিদ্রোহী নেতা রাজখোয়াকে দেশটির হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা দিল্লি সফর করেছেন দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় বছরে। তৃতীয় বছরে ফিরতি সফরে ঢাকা এসেছেন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং। তবে সেখানেই সব থেমে গেছে। বহুল প্রত্যাশিত তিস্তা চুক্তি হয়নি মুখ্যমন্ত্রী মমতার বাগড়া দেয়ার অজুহাতে। মনমোহন সিংয়ের হাইপ্রোফাইল সফরে ঢাকা ক’টি প্রতিশ্রুতি ছাড়া প্রত্যাশার তুলনায় তেমন কিছুই পায়নি। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আশা করেছিল, সীমান্তে বিএসএফ’র গুলি, হত্যা, নির্যাতন বন্ধ হবে। মনমোহন সিং সহ ভারতের সরকার ও রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু চার বছরে তাতো বন্ধ হয়নি বরং নতুন বছর শুরুই হলো বিএসএফ’র গুলি দিয়ে। ১লা জানুয়ারি দু’জন ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই আরও ২ জনের প্রাণ কেড়েছে বিএসএফ’র বুলেট। বাংলাদেশে ঢুকে আরও তিন কৃষককে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্ত বাহিনীর সদস্যরা। তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানতে পারেনি ঢাকার পররাষ্ট্র দপ্তর। টিপাইমুখে বাঁধ নিয়ে উদ্বেগ এখনও নিরসন হয়নি। এর মধ্যে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আরও ২টি নদীতে বাঁধ দিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের খবর উদ্বেগ ছড়িয়েছে। ঢাকা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছে, যৌথ সমীক্ষায় দাবি করেছে। বাংলাদেশের কারাগারে দীর্ঘ দিন ধরে আটক রয়েছেন বিদ্রোহী উলফা নেতা অনুপ চেটিয়া। তাকে ফেরত চায় দিল্লি। শীর্ষ বিদ্রোহী রাজখোয়াকে পাওয়ার পর থেকেই অনুপ চেটিয়ার অপেক্ষায় ভারত। বাংলাদেশ বন্দিবিনিময়ে প্রস্তুত। তবে বিষয়টি আটকে আছে আইনি প্রক্রিয়ায়। চলতি মাসে এ নিয়ে বাংলাদেশ আরেক ধাপ অগ্রসর হবে বলে আভাস মিলেছে। ভারতের নয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার সিন্ধের ঢাকা সফরে দ্বিপক্ষীয় বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তিটি সই করতে তৎপরতা শুরু হয়েছে। দিল্লির সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্পর্ক অনেক পুরনো। সেই সুবাদে দেয়া-নেয়ার বিষয়টি অন্য যে কোন সরকারের তুলনায় এ আমলে বেশি হবে, এটাই স্বাভাবিক মনে করেছিলেন কূটনীতিকরা। তাই হয়েছে, তবে একতরফা অবশ্য বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়ার ভারত সফরে দু’দেশের জনগণের পর্যায়ে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার একটি আলো দেখছেন তারা। এর পেছনে অকাট্ট যুক্তিও রয়েছে অনেকের। তাদের মতে, বিরোধী নেতাকে যেভাবে ভারতের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতা সম্ভাষন জানিয়েছেন তা রীতিমতো নজিরবিহীন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি আর বনমন্ত্রী হাসান মাহমুদ সফরটি নিয়ে প্রতিযোগিতা করে তীর্যক মন্তব্য করেছেন। তাদের প্রতিযোগিতায় খোদ সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, প্রভাবশালী আমলা, পেশাদার কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা নাখোশ হয়েছেন। এটাকে অসুস্থ প্রতিযোগিতা হিসেবেই দেখছেন তারা। গত ৪ঠা জানুয়ারি সরকারের চার বছরের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে বিশ্লেষণে বসেছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সেদিন দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জড়ো হয়েছিলেন ঢাকাস্থ মহাপরিচালক ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা। বৈঠক সূত্র মতে, সেখানে মোটা দাগে তিনটি কূটনৈতিক সাফল্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রথমত, মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র বিরোধ নিষ্পত্তি। দ্বিতীয়ত, জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী উত্থাপিত বিশ্বশান্তির মডেল সংস্থাটির রেজুলেশনে অন্তর্ভুক্তি তৃতীয়তঃ বাংলাদেশের তৎপরতায় অটিজমের বিষয়টি জাতিসংঘের রেজুলেশনে স্থান পাওয়া। উল্লিখিত তিনটি বিষয়ে একান্তভাবেই কাজ করেছেন পেশাদার কূটনীতিকরা। তাদের অর্জনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীও পুলকিত। তবে ব্যর্থতার বিষয়টিও মন্ত্রীর বিবেচনায় এনেছেন তারা। সেখানে উঠে এসেছে স্পর্শকাতর সীমান্ত হত্যাসহ ভারতের সঙ্গে অনিষ্পন্ন বিষয়গুলো। এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ‘শীতলতা’, বাংলাদেশে বড় শ্রম বাজার সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন দেশে শ্রমিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সেখানে থাকা শ্রমিকদের হয়রানির বিষয়টি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে সবকিছু আটকে থাকা এবং সংবেদনশীল এ ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ উন্নয়ন সহযোগী অনেক রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের স্থবিরতার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের বিষয়ে সরকারের অতি উৎসাহী কিছু কর্মকাণ্ড নিয়েও বিব্রত তারা। বিষয়টি নিয়ে উন্নত দেশগুলোতে বাংলাদেশের পেশাদার কূটনীতিকরা প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন বলেও জানা গেছে। বিগত চার বছরে প্রতিবেশীসহ পূর্ব দিগন্তের রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশের চেষ্টার প্রশংসা হয়েছে ওই বৈঠকে। মন্ত্রীর তরফে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে সরকারের বাকি মেয়াদে অসম্পূর্ণ এবং প্রতিশ্রুত কর্মগুলো সম্পাদনে। একজন কূটনীতিক মানবজমিনকে বলেন, সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে বাকি মেয়াদে অনেক কিছুই অর্জন করা সম্ভব। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশীদের ভিসা প্রাপ্তিতে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। কাতারসহ অনেক দেশ এখানে বিনিয়োগে আগ্রহী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শীতলভাবও কেটে যাবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকায় পার্টনারশিপ ডায়ালগের দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। মিয়ানমারের সঙ্গে এনার্জি কো-অপারেশন বিষয়ে সংলাপ হবে। সেখানে ভারত, নেপাল, ভূটান সহ অনেকেই আগ্রহী হবে বলে আশা করছে ঢাকা। চীনের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়বে। গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ সহযোগিতায় তাদের আগ্রহের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। সরকারের শেষ বছরে কূটনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটবে। সব মিলেই সামনে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ-প্রত্যাশা পেশাদার কূটনীতিকদের।

ঊর্ধ্বমুখী দ্রব্যমূল্য জনগণের নাভিশ্বাস

ঊর্ধ্বমুখী দ্রব্যমূল্য জনগণের নাভিশ্বাস


বিদায়ী বছরজুড়েই নিত্যপণ্যের বাজার ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এ কারণে জনগণের মধ্যে এক ধরনের নাভিশ্বাস উঠেছে। বাজার নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে ছিল এক ধরনের হতাশা। সঙ্গে ছিল সরকারের হতাশাজনক বাজার নিয়ন্ত্রণের তৎপরতা। এটি সফল না হওয়ায় দেশের মানুষের মাঝে পণ্য মূল্য নিয়ে ছিল অব্যাহত চাপা ক্ষোভ। মূলত বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বেসরকারি ভোক্তা অধিকার সংস্থা কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর পরিসংখ্যান অনুসারে বিদায়ী বছরে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির হার ছিল ১৩ শতাংশ। আর যে সকল পণ্যের মূল্য একবার বেড়েছে তা আর কখনও নামেনি। তা হলো- চালের মধ্যে কাটারি ভোগ, চিনিগুঁড়া, কালোজিরা, ডাল জাতীয় পণ্যে, লবণ, ডিম, পিয়াজ, ময়দা, মসলাসহ অন্যান্য পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি এখনও অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে এক বছরে আলু ও পিয়াজের দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। এছাড়া রসুন, ছোলা, মসুর ডাল, লবণ, আদা, সয়াবিন, খেজুর, চাল ও ডিমের দাম ৩ থেকে ৬৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির এক বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের দেয়া প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। কমিটি এসব পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে তদারকি বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। কেবল মাত্র শাক-সবজির বাজার ওঠানামা দুটোই ছিল এ বছর। সাবান জাতীয় পণ্যের দামও ছিল ঊর্ধ্বমুখী। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে চক্রবৃদ্ধি হারে। বেড়েছে বোতাল প্রতি সয়াবিনের ও সরিষার তেলের দামও। চিনি বাজার বছরের শুরুতে ৫৮ টাকা কেজি বিক্রি করলেও এখন তা ৪৮-৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সিন্ডিকেট আর পাইকারি ব্যবসায়ীদের চালবাজির কারণে সাধারণ ক্রেতাদের শুধুই পকেট খালি হয়েছে। এ সময় একাধিক বাজার মনিটরিং কমিটিও ব্যর্থ হয় বাজার নিয়ন্ত্রণে।
বাজার তদারকে ঢিলেঢালা ভাব: বাজার তদারকের জন্য মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় কমিটি থাকলেও প্রকৃত পক্ষে সংশ্লিষ্টদের মাঝে এর খুব একটা উৎসাহ কিংবা প্রচেষ্টা দেখা যায়নি। তবে একাধিকবার বাজার পরিদর্শন করেছে মনিটরিং কমিটিগুলো। পৃথক ও যৌথভাবে নানা সময় তৎপরতা দেখালেও বাজারে এর কোন ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং দেখা গেছে, মনিটরিং কমিটির সামনেই নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে পণ্য বিক্রি হতে। আবার মূল্য তালিকা টাঙানোর বাধ্যবাধকতা বেঁধে দিলেও বাজারে তার কোন প্রমাণ মেলেনি। এমনকি মনিটরিংয়ের সময় কিছু দোকানে তাৎক্ষণিকভাবে তা টাঙানো হয়। তবে পরক্ষণেই সেটা সরিয়ে নেয়া হয়। আইন না মানার অপরাধে তেমন কোন শাস্তি না দেয়ায় ব্যবসায়ীদের মাঝে কোন দায়বোধও জন্মাতে দেখা যায়নি।
বাজার নিয়ন্ত্রণে মরিয়া ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট: সরকার নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে চাইলেও বাজারে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ রেখেছিল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। সরকারের তোড়জোড় আর হুমকি-ধমকি কোন কাজে আসেনি। দাম বেড়েছে সমান তালে। যেভাবে ওই সিন্ডিকেট চেয়েছে। অভিযোগ ছিল সরকারের উপর মহলের অনেকেরই এর সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল এবং তারা সেখান থেকে ফায়দাও নিয়েছে। বছরের প্রায় প্রতিদিন কোন না কোন পণ্যের দাম বেড়েছে। সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শীর্ষ ব্যবসায়ী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেও কোন ইতিবাচক ফল আনতে পারেনি। সাধারণ ক্রেতাদের দুর্ভোগ বাড়লেও শীর্ষ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে কোন পণ্যের দামের লাগাম টেনে ধরতে পারেনি সরকার। তেল-চিনির দাম না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল ব্যবসায়ীরা।
মিলে তেলেসমাতি: চাতাল, তেল পরিশোধন কারখানা, চিনিকল সবখানেই ছিল মিলমালিকদের তেলেসমাতি। তারা গুদামজাত করে রাখেন পণ্য। বাজারে ছাড়েননি। অল্প অল্প ছাড়েন। এভাবে সঙ্কট সৃষ্টি করে ফায়দা নেয়া হয় বাজার থেকে। পণ্য না ছাড়তে তারা নানা অজুহাত দেখান। এলসি খোলার পরও পণ্য আমদানি হচ্ছে না। জাহাজ থেকে খালাস হচ্ছে না। জাহাজে আছে। উৎপাদন কম হচ্ছে ইত্যাদি। কৃষি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আর খাদ্য মন্ত্রণালয় দেশে তাদের পণ্যের যোগান পর্যাপ্ত বললেও ব্যবসায়ীরা সব সময়ই সঙ্কটের নানা অজুহাত দেখিয়েছেন। এখন ধানের ভরা মওসুমেও চালের দাম তেমন কমেনি। কৃষকের কাছ থেকে অল্প দামে ধান কিনে মিল মালিকরা বেশি দামে বিক্রি করছেন। এরকম অভিযোগ অহরহ রয়েছে। পাইকারি বিক্রেতার কাছে চড়া দামে বিক্রি করায় এর প্রভাব পড়ে খুচরা বাজারে। ব্যবসায়ীরা ওই সময় দাবি করেন, কম দামে ধান কিনলেও মিল মালিকদের হাতে এসে তা বেড়ে যায়। কৃষকরা অনেক সময় ন্যায্য মূল্যে গোলার ধান বিক্রি করতে পারেন না। কিন্তু মিলগুলো সব সময়ই লাভের ওপর থাকে। ধানের বাজার মন্দা বলে কৃষকের কাছ থেকে কম দামে কিনলেও তারা সব সময়ই চড়া দামে চাল বিক্রি করেন। আবার চালের যোগান কিংবা উৎপাদন কমের দোহাই দিয়ে বাজার চড়া করেন। মূলত দেশের চাল ও ধানের বাজার এভাবেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে মিলমালিকদের দ্বারা।
ক্যাবের তথ্য অনুযায়ী: কয়েকটি পণ্যের দাম বছরের শুরুর থেকে শেষ পর্যন্ত কি পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে তার ভিত্তিতে তুলে ধরা হলো। ১৮ টাকার দেশী পিয়াজ ৭০ টাকা। বছরে শুরুতে ১৮ টাকা বিক্রি হলেও তা এখন ৭০ টাকা। শতকরা ২৮৯ টাকা বেড়েছে। আমদানিকৃত ১৮ টাকা থেকে ৪৩ টাকা হয়েছে। ডিম-ডিমের হালি লাল ফার্ম ১০ টাকা বেড়ে ২৮ থেকে ৩৮ টাকা হয়েছে। আটা খোলা- বছরের শুরুতে কেজি ছিল ২৯ টাকা। তা বেড়ে এখন ৩৪ টাকা। প্যাকেট প্রতি ৩৪ টাকা থেকে বেড়ে ৩৮ টাকা কেজিতে ১১ শতাংশ বেড়েছে। ময়দা বছর গড়াতে ৪০ টাকা থেকে ৪৮ টাকা হয়েছে। ডাল মসুর ক্যাঙ্গারু বছরের শুরুতে ৭৫ টাকা ছিল। তা এখন বেড়ে ১৪৫ টাকা। দেশী মসুর ডাল ৯০ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা, খেসারি ৪২ টাকা থেকে ৮৪ টাকা, ছোলা (ভাঙা) ৮২ টাকা থেকে ১০০ টাকা। চাল কাটারি ভোগ ৬৪ থেকে ৭৬ টাকা, চিনিগুঁড়া ৭৫ থেকে ১১০ টাকা (৪৭ শতাংশ বেড়েছে), কালোজিরা ৭০ টাকা থেকে ৯৫ টাকা হয়েছে। তবে চালের মধ্যে কিছু আইটেমের দাম অল্প কমেছে এই সময়ে। লবণ কেজিতে মোল্লা সুপার কেজি ২৪ টাকা থেকে ৩৩ টাকা, ব্র্যাক ২৫ থেকে বেড়ে ৩৩ টাকা, কনফিডেন্ট ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, এসিআই ২৫ থেকে ৩২ টাকা, ফ্রেশ ২৪ থেকে ৩৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে কেজিতে। বাজারে লবণের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে চলতি মাসে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
৩ লাখ টন চাল কিনবে সরকার: চলতি আমন মওসুমে প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে ৩ লাখ টন চাল কিনবে সরকার। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। সমপ্রতি খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, এবার প্রতি কেজি চালের উৎপাদন খরচ হয়েছে ২৪ দশমিক ৭৬ টাকা। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, উৎপাদন খরচ কম হয়েছে। সবদিক বিবেচনা করে ২৬ টাকায় চাল কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাজারে চালের সর্বনিম্ন দাম প্রতি কেজি ২২, ২৩ ও ২৪ টাকা। ঢাকা নগরীতে ২৬, ২৭ টাকায় মোটা চাল পাওয়া যাচ্ছে। মিনিকেট চালের মূল্য প্রতি কেজি ৩১ থেকে ৩২ টাকা। তবে নাজিরশাইলের দাম একটু বেশি। এ বছর আমন উৎপাদন হয়েছে এক কোটি ৩০ লাখ টন।
তদারকি বাড়াতে সংসদীয় কমিটির তাগিদ: এক বছরে আলু ও পিয়াজের দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। এছাড়া রসুন, ছোলা, মসুর ডাল, লবণ, আদা, সয়াবিন, খেজুর, চাল ও ডিমের দাম ৩ থেকে ৬৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের দেয়া প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। কমিটি এসব পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে তদারক বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। ১৯শে ডিসেম্বর সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, এক বছরে আলুর দাম বেড়েছে ১২৭ শতাংশ। গত বছরের ১২ই ডিসেম্বর যে আলুর কেজিপ্রতি দাম ছিল ৮ থেকে ১৪ টাকা, চলতি বছরের ১২ই ডিসেম্বর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ থেকে ২৬ টাকায়। একইভাবে এক বছর আগে যে পিয়াজের দাম ছিল ২০ থেকে ২৮ টাকা, এখন সেই পিয়াজের দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকা। আর রসুনের দাম বেড়ে হয়েছে ৪০ থেকে ৯০ টাকা, মসুর ডাল ৩৮ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়ে ৭৫ থেকে ১৪০ টাকা, খেজুর ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে ৯০ থেকে ১৫০ টাকা, লবণ ২৬ দশমিক ৩২ শতাংশ বেড়ে ১৮ থেকে ৩০ টাকা, ছোলা ২১ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়ে ৮০ থেকে ৯০ টাকা, আদা ১০ শতাংশ বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, সয়াবিন ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ বেড়ে ১১৬ থেকে ১১৮ টাকা এবং মাঝারি চাল প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ৩৪ থেকে ৩৬ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ফার্মের ডিম প্রতি হালি ৩৫ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এক বছরে হলুদের দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে। এক বছর আগে যে হলুদের কেজি ছিল ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, এখন তার দাম ৯০ থেকে ১৪০ টাকা। এছাড়া প্রতি কেজি মোটা চাল ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ কমে ২৭ থেকে ৩২ টাকা, সরু চাল ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমে ৩৪ থেকে ৪৮ টাকা, খোলা পাম অয়েল ১৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে ৭৬ থেকে ৭৮ টাকা, চিনি ১৩ দশমিক ২৭ শতাংশ কমে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা এবং শুকনা মরিচ ১০ শতাংশ কমে ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Friday, January 4, 2013

ইডেনে সিরিজ জয় পাকিস্তানের

ইডেনে সিরিজ জয় পাকিস্তানের


কলকাতায় তিনবারের মোকাবিলায় পরিসংখ্যানে পাকিস্তানের সাফল্যটা ছিল একতরফা। ইডেনে পাকিস্তানের অজেয় রূপটি অমলিনই থাকলো। গতকাল ভারতকে পাকিস্তান হারালো ৮৫ রানে। আর এতে নিশ্চিত হলো, তিন ম্যাচ সিরিজের ট্রফিটি পাকিস্তানের বিমানেই চড়ছে। চেন্নাইয়ে সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান ভারতকে হারায় ৬ উইকেটে। গতকাল ঘোলা আকাশে ইডেনের বৃষ্টিসিক্ত পিচে আগে ব্যাট করে পাকিস্তান থামে ২৫০ রানে। ভারতের বিপক্ষে নিজের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ঝলক আরেকবার দেখান পাক ওপেনার নাসির জামশেদ। সঙ্গে অপর ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজের ৭৬ রানের ইনিংসে পাকিস্তানের আড়াই শ’ রান ম্যাচ শেষে নাগালের বাইরেই থাকে ভারতের। জয়ের টার্গেটে ১৬৫ রান তুলতেই গুটিয়ে যায় ভারতের ইনিংস। এমএস ধোনি অপরাজিত অর্ধশতকে প্রতিরোধ দেখান একলাই। পাঁচ বছরে প্রথম দ্বিপক্ষীয় পাক-ভারত সিরিজটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহটা বেশি ছিল এমনিতেই। আর কলকাতায় ম্যাচের আগে এ উন্মাদনাটা দেখা যাচ্ছিল নানা সাজে। ১৯৮৭ বিশ্বকাপে পাক-ভারত ম্যাচ দিয়ে অভিষেক হয় কলকাতার ইডেন গার্ডেন ভেন্যুর। এর রজত জয়ন্তীতে এবারের ম্যাচের আগে আলাদা আয়োজন রাখে বেঙ্গল ক্রিকেট সংস্থাও। দু’দেশের সাবেক ও বর্তমান তারকাদের দেয়া হয় সম্মাননা। তবে ভারতীয়দের এসবই দেখতে হয় সিরিজ হারানোর বেদনা নিয়ে। সকালে পাকিস্তানের ব্যাটিং দেখে ২৫০ রানের টার্গেট খুব বড় মনে না হওয়ার কথা। কিন্তু আদতে আরেকবার ভঙ্গুরই দেখালো ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন। চেন্নাইয়ে ২৯ রানে উইকেট গিয়েছিল ৫টি। এবার ভারত ৫ উইকেট হারালো ৯৫ রানে, এই যা। এদিন ভারত ব্যাটসম্যানরা পেস-স্পিনে সমান ব্যর্থ । ৯ ওভারের পেস ঝড়ে জুনাইদের এবারও শিকার ৩ উইকেট। আর ১০ ওভারে ২০ রানের কিপটেমি বোলিংয়ে সাঈদ আজমলেরও শিকার ভারতের তিন ব্যাটসম্যান।
ভারতের বিপক্ষে নাসির জামশেদের ব্যাটিং পরিসংখ্যানটা এমনিতেই চোখে পড়ার মতো। নৈপুণ্যে পাওয়া গেল জামশেদকে কলকাতায়ও। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় ম্যাচেও সেঞ্চুরি দেখালেন জামশেদ। মোহাম্মদ হাফিজকে নিয়ে এতে জামশেদের ১৪১ রানের ওপেনিং জুটি। পাকিস্তানের ইনিংস ধরাছোঁয়ার বাইরে যাওয়ার আশঙ্কাটা তখন ভারতীয় শিবিরে। অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির পছন্দে দলে সুযোগ পেয়ে বল হাতে এ সময় আলাদা ছন্দ দেখালেন রবীন্দ্র জাদেজা। ২৪তম ওভারে হাতে বল পেয়ে মোহাম্মদ হাফিজকে সাজঘরে ফিরিয়ে দিয়ে পাকিস্তানের ওপেনিং জুটি ভাঙেন জাদেজা। পরে পাক ইনিংসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তিন বলের ব্যবধানে জাদেজা তুলে নেন জামশেদ ও কামরান আকমলের উইকেট। পাকিস্তানও থামে ২৫০ রানেই। ভারতের বিপক্ষে এ পর্যন্ত চার ম্যাচে দুইবার নট আউট জামশেদের এ নিয়ে মোট রান ৩৭২। জামশেদের ক্যারিয়ারের তিন সেঞ্চুরি এতে। ঢাকায় এশিয়া কাপে প্রথম আর অপরটি চলতি সিরিজে চেন্নাইয়ে। ইডেনের মাঠে টস জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে দেন ভারত অধিনায়ক ধোনি। তবে গতকাল সকালে ভারত পেসাররা পাক ওপেনারদের পরীক্ষায় ফেলতে পেরেছে থোরাই। বৃষ্টিভেজা-মেঘাচ্ছন্ন কলকাতায় ভারতের শুরু বোলিংটা খারাপ ছিল বলা যাবে না। তবে এদিন আলাদা শাণিত ব্যাটিং দেখান দুই পাক ওপেনার। আগের ম্যাচে ইনিংসের প্রথম বলে উইকেট হারানো হাফিজ ও জামশেদ ব্যাট চালান বল ও পরিস্থিতি বুঝে। সচল রাখেন রানের চাকাও। এতে পাকিস্তান ইনিংসের প্রথম ৫০ রান পূর্ণ হয় ৪৯ বলে। প্রথম উইকেট সাফল্য পেতে ভারত অধিনায়ককে অপেক্ষায় কাটাতে হয় লম্বা ২৪ ওভার। পুরনো বলে ইডেনের অসমতল পিচ এ সময় পরিবর্তন দেখাচ্ছিল তার আচরণে। আর এমন সময় জাদেজার স্পিনই ধোনির মুখে ফোটায় সারাদিনের প্রথম হাসি। ব্যক্তিগত ৭৬ রানে হাফিজকে ফিরিয়ে দেন জাদেজা। উজ্জীবিত ভারত বোলাররা পাকিস্তানের পরের ৪১ রানে তুলে নেয় তিন উইকেট। অল্প রানে আউট পাক অধিনায়ক মিসবাহ-উল হক, অভিজ্ঞ ইউনুস খান ও আজহার আলী। পাকিস্তানের রানের চাকা হয়ে পড়ে মন্থর। আর চাপের মুখে ৯ বল বাকি রেখেই পাক ইনিংস শেষ হয় কাঁটায় কাঁটায় আড়াই শ’ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
টস: ভারত, ফিল্ডিং
পাকিস্তান: ৪৮.৩ ওভার; ২৫০ (জামশেদ ১০৬, হাফিজ ৭৬, আজহার ২, ইউনুস ১০, মিসবাহ ২, মালিক ২৪, কামরান ০, গুল ১৭, আজমল ৭, জুনাইদ ০*, ইরফান ০, ইশান্ত ৩/৩৪, জাদেজা ৩/৪১)।
ভারত: ৪৮ ওভার; ১৬৫ ( গম্ভীর ১১, সেওয়াগ ৩১, কোহলি ৬, যুবরাজ ৯, রায়না ১৮, ধোনি ৫৪*, অশ্বিন ৩, জাদেজা ১৩, কুমার ০, ডিন্ডা ০, ইশান্ত ২)।
ফল: পাকিস্তান ৮৫ রানে জয়ী, তিন ম্যাচ সিরিজে পাকিস্তান ২-০তে এগিয়ে
ম্যাচ সেরা: জামশেদ (পাকিস্তান)
৩য় ওডিআই: ৬ই জানুয়ারি দিল্লি

হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট নিয়ে দিশাহারা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড

হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট নিয়ে দিশাহারা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড


হাজার কোটি টাকার গ্যাসভিত্তিক ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট প্রজেক্ট নিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। ক্ষমতাশালী ও প্রভাবশালীদের চাপে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে । পাওয়ার প্ল্যান্টের কাজ কোন প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হবে এ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। দু’টি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার চাপে রয়েছেন তারা। আর ওই দুই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েক নেতা। যদিও দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে টেন্ডার শর্ত পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে লিখিত অভিযোগও দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ঘোড়াশাল ৩০০-৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট প্রজেক্ট নিয়ে চলছে রশি টানাটানি। গত বছরের ২৬শে ডিসেম্বর ওই প্রজেক্টের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। চলতি বছরের ২১শে জুন পর্যন্ত ৬টি কোম্পানি টেন্ডার জমা দেয়। এগুলো হচ্ছে শাংহাই ইলেকট্রিক গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড, পি আর চায়না, চায়না ন্যাশনাল টেকনিক্যাল ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিএনটিআইসি), চায়না অ্যান্ড সিএমসি চায়না কনসোর্টিয়াম, সেপকো থ্রি ইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন, চায়না, আলস্টম (সুইজারল্যান্ড) লিমিটেড অ্যান্ড আলস্টোম ইন্ডিয়া লিমিটেড কনসোর্টিয়াম, মারুবেনি কর্পোরেশন অ্যান্ড হুন্দাই ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড কনসোর্টিয়াম ও সিনো হাইড্রো কর্পোরেশন চায়না। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পরিকল্পনা ও উন্নয়নের সদস্য আবদুহু রুহু্‌ল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত ৭ সদস্যর টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সিএনটিআইসিকে কাজ দেয়ার সুপারিশ করে। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৪৪ কোটি ৯৩ লাখ ৭৯৯৪ টাকা দর ডাকে। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন প্রতিষ্ঠান হচ্ছে শাংহাই ইলেকট্রিক গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড (এসইসি)। তাদের দর ১৯৯১ কোটি ৪৮ লাখ ২৭ হাজার ১৩১ টাকা। সংসদীয় কমিটিকে দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল্যায়ন কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের পর এসইসি বেশকিছু শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ আনে সিএনটিআইসির বিরুদ্ধে। এর মধ্যে কিছু কারিগরি ও কিছু বাণিজ্যিক শর্ত ভঙ্গের কথা উল্লেখ করা হয়। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, টেন্ডার শর্তে রয়েছে, প্রজেক্টের অন্তত ৮৫ ভাগ অর্থায়ন করবে কাজ পাওয়া কোম্পানি। এর বিপরীতে ব্যাংকের কনফার্মেশন চিঠি থাকতে হবে। বাকি ১৫ ভাগ ব্যয় করবে সরকার। টেন্ডার জমা দেয়ার সময় ব্যাংকের কাগজ জমা দেয়া হলেও তাতে ৮৫ ভাগ অর্থায়নের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। এটা বড় ধরনের শর্ত ভঙ্গ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চায়না ভিত্তিক ক্রেডিট ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি সাইনোসরের কাছ থেকে ঋণ নিশ্চয়তা সার্টিফিকেট দেয়ার শর্ত থাকলেও টেন্ডার ডকুমেন্টে তা দেয়া হয়নি। এছাড়া অভিযোগে টেন্ডার শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য নয় এমন বেশ কয়েকটি কারিগরি ত্রুটির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে- শর্তে আছে, নেট হিটের আউটপুট হবে ১৫০ ভাগ। অথচ টেন্ডার ডকুমেন্ট সিএনটিআইসি দিয়েছে ১৪১ দশমিক ১২ ভাগ। এটা স্পষ্ট শর্ত লঙ্ঘন। এদিকে সিএনটিআইসির বিরুদ্ধে এসইসির এসব অভিযোগ আমলে নেয় বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এ প্রেক্ষিতে গত ৩০শে অক্টোবর অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি দেয় মন্ত্রণালয়। পরে বোর্ড এ নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেও তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি মন্ত্রণালয়। তারা চলতি মাসের ১১ই ডিসেম্বর আবারও বোর্ডের ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠায়। এখন পর্যন্ত ওই চিঠির কোন উত্তর দেয়নি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। এদিকে টেন্ডারে অংশ নেয়া দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা এসইসির বিরুদ্ধেও শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। টেন্ডার শর্তে ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কস্ট্রাকশনে (ইপিসি) বলা আছে টেন্ডারে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানকে ২৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ প্লান্টের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অথচ এসইসির সে অভিজ্ঞতা নেই। ইপিসির শর্ত পূরণ করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। এটা বড় ধরনের শর্ত ভঙ্গ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া ইপিসি নিয়ে তারা যে সার্টিফিকেট দিয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। সর্বনিম্ন এ দুই দরদাতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ ওঠার পর সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। সংসদীয় কমিটিকে দেয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, দু’টি কোম্পানির সঙ্গে জড়িত আছেন সরকার দলীয় প্রভাবশালী তিন নেতা। তারা বোর্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন কাজ পাইয়ে দেয়ার। এতে বলা হয়েছে, যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও যদি কাজ দেয়া হয় তাহলে বিদ্যুৎ প্লান্টের প্রজেক্ট হয়তো মুখ থুবড়ে পড়বে। এদিকে সংসদীয় কমিটি জানিয়েছে, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। প্রয়োজনে সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

আরও দুই মামলায় গ্রেপ্তার ফখরুল

আরও দুই মামলায় গ্রেপ্তার ফখরুল


আবারও দু’টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। একই সঙ্গে এ দু’টি মামলায় তাকে ১৭ দিনের রিমান্ড দেয়ার আবেদন করা হয়েছে।
গতকাল ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে তাকে গ্রেপ্তারে আবেদন করা হয়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। মতিঝিল থানার একটি মামলায় মির্জা ফখরুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া সূত্রাপুর থানায় মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালত জামিন ও রিমান্ড শুনানির দিন ৮ই জানুয়ারি ধার্য করা হয়েছে। সেদিন ফখরুলের উপস্থিতে এ শুনানি হবে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার পল্টন ও শেরেবাংলা নগর থানার পৃথক দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান মির্জা ফখরুল। জেল থেকে বের হওয়ার আগেই তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কোকো’র পাচার করা টাকার লভ্যাংশ ফেরত এনেছে দুদক

কোকো’র পাচার করা টাকার লভ্যাংশ ফেরত এনেছে দুদক


বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো’র সিঙ্গাপুরে পাচার করা টাকার লভ্যাংশ ফেরত এনেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। লভ্যাংশের ১৫ লাখ টাকা দুদক একাউন্টে জমা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের একাধিক কর্মকর্তা। টাকা দুদক একাউন্টে জমা হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমানও। তবে তিনি কত টাকা জমা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেননি। তিনি বলেছেন, ‘টাকা জমা হয়েছে কিন্তু কত টাকা জমা হয়েছে তা আমি বলতে পারবো না।’ ২০১২ সালের ২২শে নভেম্বর দুদক কোকো’র পাচার করা ২০ লাখ ৪১ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার দেশে ফেরত আনে। বাংলাদেশী মুদ্রায় ওই টাকার পরিমাণ ১৩ কোটি টাকা। লভ্যাংশের ওই টাকা সোনালী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এসে জমা হয়েছে।
দুদক চেয়ারম্যান আগেই জানিয়েছেন ওই টাকা তারা দুর্নীতি প্রতিরোধের কাজে ব্যয় করবেন।
জোট সরকারের আমলে ২০০৪ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে কোকো অবৈধভাবে সিঙ্গাপুরের ইউনাইটেড ওভারসিজ-এর মাধ্যমে ওই টাকা পাচার করেন।

Thursday, January 3, 2013

বিদ্যার সেরা জন্মদিন

বিদ্যার সেরা জন্মদিন


গেল বছরের ১৪ই ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের প্রেমিক সিদ্ধার্থ রায় কাপুরের সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন বিদ্যা বালান। বিয়ের আগে থেকেই তারা হানিমুনের স্থান ঠিক করে রেখেছিলেন। আর সেই অনুযায়ী বিয়ের পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের পর পরই ২০ ডিসেম্বর তারা হানিমুন করতে চলে যান ক্যারিবিয়ান আইল্যান্ডে। সেখানেই তারা একান্ত সময় কাটান প্রায় সপ্তাহ খানেক। তবে অনেকেই ধারণা করেছিলেন তাদের এই হানিমুনটি হবে আরও দীর্ঘ সময়ের। পরিবারও জানতো কমপক্ষে ১৫ দিন তারা হানিমুনে মধুর সময় কাটাবেন। কিন্তু বিদ্যা ও সিদ্ধার্থ নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেন শর্টকাট হানিমুনের। কারণ হলো মধ্য জানুয়ারি থেকেই বিদ্যা নতুন চলচ্চিত্র এবং সিদ্ধার্থ নিজের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। তার আগে পরিবারের সঙ্গে কয়েকটি দিন কাটাতে চান তারা। আর এ কারণেই শর্টকাট হানিমুন। এদিকে জানুয়ারির ১ তারিখ ছিল বিদ্যার জন্মদিন। তাই ডিসেম্বরের শেষে হানিমুন থেকে ফিরে ৩৫তম জন্মদিনটি পরিবারের সঙ্গেই কাটিয়েছেন বিদ্যা। সঙ্গে ছিলেন সিদ্ধার্থ ও তার পরিবার। এই জন্মদিনটিকে বিদ্যা নিজের জীবনের সেরা জন্মদিন বলেও মন্তব্য করেছেন। এদিকে চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে সিদ্ধার্থের হাউজ থেকেই নির্মাণ হতে যাওয়া একটি ছবির শুটিংয়ে অংশ নেবেন বিদ্যা। এই ছবিতে তার বিপরীতে কাজ করবেন ইমরান হাশমি। দেশে ফিরে নিজের হানিমুন ও জন্মদিন পালন প্রসঙ্গে বিদ্যা মিডিয়াকে জানান, অল্প সময়ের যে কোন কিছুই সবার কাছেই বেশি মূল্যবান। আমি ও সিদ্ধার্থ যে ক’দিন হানিমুনে কাটিয়েছি সেটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আর দেশে ফিরেই নিজের পরিবার ও শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে জন্মদিন কাটালাম। এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে সেরা জন্মদিন। আর নতুন বছরটাও এর মাধ্যমে ভালভাবে শুরু হয়েছে। আশা করছি পুরো বছরটিই ভাল যাবে।

স্বামীর কাছে না যাওয়ায় শিকলে বেঁধে নির্যাতন

স্বামীর কাছে না যাওয়ায় শিকলে বেঁধে নির্যাতন


মাদারীপুর শহরের কালীবাড়ী এলাকায় কুলসুম আক্তার নামের ৫ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে বিয়ে দেয়ার পরে স্বামীর কাছে না যাওয়ায় ঘরের ভেতরে বেঁধে রেখে তিন দিন ধরে নির্যাতন চালিয়েছে মা, মামা, বড় ভাই ও বোন। বিষয়টি জানাজানি হলে সোমবার স্থানীয় সাংবাদিক ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শহরের কালীবাড়ী এলাকায় গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। এ সময় কুলসুমের ভাই বাধা দিলে বিষয়টি পুলিশসহ জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। পরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঝুমুর বালা পুলিশসহ ঘটনাস্থলে এসে কুলসুমকে উদ্ধার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বড় বোন ফাতেমা, মামা আলী আজগর, ঝুমুরের কথিত স্বামী রেজাউল করিমকে আটক ও প্রত্যেককে ১ মাসের কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। অভিযুক্ত কুলসুমের মা ফিরোজা বেগম ও বড় ভাই সোহাগ পলাতক। কুলসুম মাদারীপুর শহরের কালীবাড়ী এলাকার রহমান খানের মেয়ে এবং শহরের উকিলপাড়া রিজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী।
নির্যাতিতা কুলসুম আক্তার জানায়, গত ২২শে ডিসেম্বর মায়ের কথামতো বড় ভাই সোহাগ কালকিনির গোপালপুরের আজিজ শিকদারের ছেলে মাদারীপুরের পাবলিক লাইব্রেরি এলাকার একটি মোটরসাইকেল দোকানের মেকানিক রেজাউল করিমের সঙ্গে তার বিয়ে দেন। সে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় এবং কথিত স্বামীর সঙ্গে সঙ্গ না দেয়ায় তিন দিন আগে তার মা ফিরোজা বেগম, মামা আলী আজগর, বড় ভাই সোহাগ ও বোন ফাতেমা তার পায়ে শিকল পরিয়ে ঘরের খুঁটির সঙ্গে তালা লাগিয়ে রাখে। গত মঙ্গলবার কুলসুমের কথিত স্বামী তার সঙ্গে শারীরিক মিলনের চেষ্টা করলে কুলসুমের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে রেজাউল অপকর্মে ব্যর্থ হয়। এ ঘটনায় কুলসুমের ভাই ও বোন তাকে বেদম মারপিট করে আহত করে। ভাই-বোনের এলাপাতাড়ি মারপিটে কুলসুমের মাথা ফেটে যায় এবং হাত কেটে গেলে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে বাসায় এনে আবারও শিকল দিয়ে আটকে রাখা হয়। এ ব্যাপারে কুলসুমের বড় বোন ফাতেমা বেগম জানায়, তার ছোট বোন প্রাইমারিতে পড়াশোনা করলেও এর আগে সে একাধিকবার অন্য ছেলের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে পুলিশের সহায়তায় ধরে আনা হয়েছে। তার বার বার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিরক্ত হয়েই মা ও ভাই তাকে ওই ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঝুমুর বালা বলেন, মেযেটিকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে সেটা অমানবিক। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে শাস্তি দেয়া হয়েছে।

ব্র্যাক, প্রশিকা ও পদক্ষেপ বাদ ১৭৯ কোটি টাকা পাবে ৯ এনজিও

ব্র্যাক, প্রশিকা ও পদক্ষেপ বাদ ১৭৯ কোটি টাকা পাবে ৯ এনজিও

দেশের নামী এনজিও ব্র্যাক। বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওন, দক্ষিণ সুদান, তানজানিয়া, উগান্ডা ও হাইতিতে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অভিজ্ঞতা নেই এমন অজুহাতে সরকারি দরপত্র থেকে নামী এ
এনজিওটিকে নন-রেসপনসিভ (দরপত্র বাতিল) করা হয়েছে। কাজটি দেয়া হয়েছে খুলনা মুক্তি সেবা সংস্থা (কেএমএসএস) নামের একটি আঞ্চলিক এনজিওকে। আলাদা আরেক লটের দরপত্রে অংশ নিলেও ওই দরপত্র থেকেও ব্র্যাককে বাদ দেয়া হয়েছে। কাজটি দেয়া হয়েছে এসোসিয়েশন ফর প্রিভেনশন অব সেপটিক অ্যাভরশন (বাপসা) নামের একটি এনজিওকে। ব্র্যাক ছাড়াও প্রশিকা, মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র এবং পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের মতো অতি পরিচিত এনজিওগুলোকে নন-রেসপনসিভ করা হয়েছে। তবে মেরি স্টোপস ক্লিনিক সোসাইটি ও ঢাকা আহছানিয়া মিশনের মতো নামী এনজিও রেসপনসিভ হলেও তারা দামে কুলিয়ে উঠতে পারেননি। এসব ঘটনা ঘটেছে আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের এনজিও নির্বাচন দরপত্রে। ১৭৮ কোটি ৫৬ লাখ ৫৪৪১ কোটি টাকার এ দরপত্রে যারা কাজ পেতে যাচ্ছেন তারা আদতে নামীদামি কোন এনজিও নয়। অভিজ্ঞতাও খুব বেশি নেই। এনজিও নির্বাচনের দরপত্রে নামীদামি যেসব এনজিও অংশ নিয়েছিল তাদের নানা কারণ দেখিয়ে বাদ দেয়া হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মোট ৯টি এনজিওকে ২১টি পার্টনারশিপ এলাকার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। যাদের কাজ দেয়া হয়েছে তাদের অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ভাল যোগাযোগের কারণে তারা কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে উতরে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এনজিওগুলোর মধ্যে পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি) চারটি এলাকার ২৬ কোটি ৩০ লাখ ৩১৪৫ টাকা, খুলনা মুক্তি সেবা সংস্থা চারটি এলাকার ৩৯ কোটি ৩৫ লাখ ৯৪ হাজার ৭৭৪ টাকা, নারী মৈত্রী তিনটি এলাকার ২৩ কোটি ২৭ লাখ ৭২৯৮ টাকা, ক্রিশ্চিয়ান সার্ভিস সোসাইটি (সিএসএস) তিনটি এলাকার ১৩ কোটি ৩১ লাখ ১৯ হাজার ২৬২ টাকা, এসোসিয়েশন ফর প্রিভেনশন অব সেপটিক অ্যাভরশন বাংলাদেশ একটি এলাকার ১২ কোটি ৯৩ লাখ ৯৭ হাজার ৬৯৪ টাকা, ইউনিটি থ্রো পপুলেশন সার্ভিস (ইউটিপিএস) একটি এলাকার ১৩ কোটি ৬২ লাখ ৭৫ হাজার ২০৪ টাকা, ঢাকা আহছানিয়া মিশন দু’টি এলাকার ১৯ কোটি ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার ১৬৫ টাকা, সীমান্তিক ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৬ টাকা এবং সৃজনী বাংলাদেশ ১৬ কোটি ১৬ লাখ ৭৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকার দু’টি কাজ পেতে যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার জন্য প্রথম লটে পাঁচটি, দ্বিতীয় লটে পাঁচটি, তৃতীয় লটে দু’টি, চতুর্থ লটে দু’টি এবং পঞ্চম লটে তিনটি এনজিও অংশ নেয়। এসব লটে ব্র্যাক ও ভলান্টারি এসোসিয়েশন ফর রুরাল ডেভেলপমেন্টসহ নামী এনজিওগুলোকে নন-রেসপনসিভ করা হয়। এতে অনেক অল্প পরিচিত এনজিও কাজ পেয়ে যাচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য প্রথম লটে তিনটি, দ্বিতীয় লটে পাঁচটি, তৃতীয় লটে দু’টি, চতুর্থ লটে পাঁচটি এবং পঞ্চম লটে তিনটি এনজিও অংশ নেয়। এসব লটে প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র এবং পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের মতো পরিচিত এনজিওকে নন-রেসপনসিভ করা হয়েছে। এছাড়া অন্য এলাকার জন্য এনজিও নির্বাচনেও নানা দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করেছে। বিভিন্ন এনজিওর ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি) সারা দেশে তাদের ১৮১০ জন স্টাফ রয়েছে বলে দাবি করেছেন। এদের মধ্যে ৬৫০ জন পুরুষ এবং বাকিরা মহিলা বলে ওয়েবসাইটে বলা হয়। খুলনা মুক্তি সেবা সংস্থার কোন ওয়েবসাইট ঠিকানা পাওয়া যায়নি। তবে প্রকল্পের ওয়েবসাইটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এটি আদতে একটি আঞ্চলিক এনজিও। নারী মৈত্রী একটি পরিচিত এনজিও। ঢাকার মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় রয়েছে তাদের অফিস। অন্যগুলোর মধ্যে ক্রিশ্চিয়ান সার্ভিস সোসাইটি (সিএসএস) খুলনা অঞ্চলের একটি এনজিও। স্বাস্থ্যখাতে এই এনজিওর অভিজ্ঞতা খুব বেশি দিনের নয়। এসোসিয়েশন ফর প্রিভেনশন অব সেপটিক অ্যাভরশন বাংলাদেশ মূলত ট্রেনিং কাজ নিয়েই বেশি ব্যস্ত। ইউনিটি থ্রো পপুলেশন সার্ভিস (ইউটিপিএস), ঢাকা আহছানিয়া মিশন, সীমান্তিক এবং সৃজনী বাংলাদেশ এ দেশের পরিচিত এনজিও।
ওদিকে দেশের ১০টি সিটি করপোরেশন (ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ ও রংপুর) এবং ৬টি পৌরসভা (টঙ্গী, গাজীপুর, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, কিশোরগঞ্জ ও গোপালগঞ্জ) এলাকায় আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের আওতায় স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হবে। এজন্য ৩০টি পার্টনারশিপ এলাকায় একটি করে এনজিও নির্বাচনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হবে। এর মধ্যে ৮টি সিটি করপোরেশন (ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও কুমিল্লা) এবং চারটি পৌরসভা (সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, কিশোরগঞ্জ ও গোপালগঞ্জ) এলাকায় আগে থেকে চলমান ২৬টি পার্টনারশিপ এলাকার জন্য জানুয়ারি ২০১৩ থেকে পাঁচ বছর মেয়াদে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য গত মে মাসে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করা হয়। আন্তর্জাতিক দরপত্র জমা দেয়ার শেষ দিনে ৮৬টি দরপত্র পাওয়া যায়। এসব দরপত্র স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক গঠিত তিন সদস্যের দরপত্র উন্মুক্তকরণ কমিটির মাধ্যমে দরপত্রদাতাদের উপস্থিতিতে খোলা হয়। এরপর দরপত্রগুলো মূল্যায়নের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ ৭ সদস্যের জাতীয় দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি এবং তিনটি টেকনিক্যাল সাব-কমিটি গঠন করে। টেকনিক্যাল সাব-কমিটি ৮৬টি দরপত্রের কারিগরি প্রস্তাবগুলো মূল্যায়ন করে। এর ভিত্তিতে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ৪৮টি প্রস্তাবকে টেকনিক্যালি রেসপনসিভ ঘোষণা করে। ওদিকে টেকনিক্যাল ইভাল্যুয়েশন কমিটি প্রস্তাবটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বরাবর পাঠালে তারা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার পাঁচটি প্যাকেজ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য স্থগিত রাখে। বাকি ২১টি প্যাকেজের জন্য সুপারিশ করা ৩৭টি কারিগরি রেসপনসিভ প্রস্তাবের বিষয়ে সম্মতি দেয় তারা। তাই এসব প্যাকেজের সর্বনিম্ন দরদাতাদের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। বর্তমানে প্রস্তাবটি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন মিললেই ৯ এনজিওর সঙ্গে চুক্তি করবে সরকার।

দিল্লি গণধর্ষণ: 'বাসের চাকায় পিষে মারার চেষ্টা হয়েছিল মেয়েটিকে'

দিল্লি গণধর্ষণ: 'বাসের চাকায় পিষে মারার চেষ্টা হয়েছিল মেয়েটিকে


দিল্লির বাসে মারধর ও গণধর্ষণের পর বাস থেকে ফেলে দিয়ে পিষে মারার চেষ্টা হয়েছিল ২৩ বছর বয়সী সেই মেডিক্যাল শিক্ষার্থীকে। ঘটনার এই বিবরণ ও ছয় আসামির বিরুদ্ধে বিস্তারিত অভিযোগ লিপিবদ্ধ করে বৃহস্পতিবার আদালতে জমা দেয়ার জন্য এক হাজার পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র তৈরি করেছে পুলিশ। এতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা এপি'কে জানায়, গণধর্ষণের ঘটনায় সন্দেহভাজন আসামিদের মধ্যে একজনের বয়স আঠারো বছরের নীচে। এদিকে ভারতের কিশোর অপরাধ আইনানুযায়ী বয়স ১৮ বছরের নীচে হলে হত্যা মামলা চালানো যায় না। তাই তার বয়স নিশ্চিত হতে হাড় পরীক্ষা করা হবে। মঙ্গলবার মেয়েটির ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং তারা যদি অপরাধী হয়ে থাকে তবে অবশ্যই মৃত্যুদন্ডের মত শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এছাড়া এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মেয়েটিকে ব্যাপক মারধর ও ধর্ষণ, তাকে বাঁচাতে আসায় তার বন্ধুকে বেদম পিটুনি, তাদের দুইজনকে বাস থেকে ফেলে দেয়ার পর বাসের চাকায় পিষে মারার চেষ্টাসহ সেই ভয়াবহ ঘটনার বিবরণ থাকছে পুলিশের অভিযোগপত্রে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচতে ছয় আসামির মধ্যে তিনজনকে কামড়ে দিয়েছিল মেয়েটি। তিনজনের দেহে এর চিহ্নও পাওয়া গেছে, যা প্রমাণের অংশ হিসাবে উপস্থাপন করা হতে পারে। ওদিকে এ ধর্ষণের ঘটনায় দেশটির শিক্ষামন্ত্রী শশি থারোর কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ধর্ষিত মেয়েটির নাম প্রকাশ করে তার নামেই ধর্ষণবিরোধী আইন করা হোক। এদিকে ধর্ষণের বিরুদ্ধে নতুন আইন পাস করার জন্য পার্লামেন্টে বিশেষ অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির আন্দোলনকারী এবং রাজনীতিকরা। এছাড়া এ আইনে রাসায়নিকভাবে বন্ধাকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা এবং দ্রুত বিচার আদালতের মাধ্যমে ৯০ দিনের মধ্যে ধর্ষণ মামলাগুলোর নিষ্পত্তির আবেদন জানান তারা। ফিজিওথেরাপির ঐ ছাত্রী গত ১৬ ডিসেম্বর গণধর্ষণের শিকার হবার পর জরুরি চিকিত্সার জন্য সিঙ্গাপুরে একটি হাসপাতালে নেয়া হলে গত সপ্তাহে তার মৃত্যু হয়।

Wednesday, January 2, 2013

ক্ষুব্ধ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড

ক্ষুব্ধ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড


যতোটা ভাবা গিয়েছিল, তার চেয়েও ভয়ানক প্রতিক্রিয়া হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পাকিস্তান সফর বাতিল করায় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে তীব্র ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পিসিবি। সেই সঙ্গে পিসিবির চেয়ারম্যান জাকা আশরাফ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশের এই পদক্ষেপের ফলে দু'দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক যে হুমকির মধ্যে পড়েছে, সেটা পরিষ্কার বলে দিয়েছেন।

দেড় বছর ধরে বাংলাদেশের পাকিস্তান সফর নিয়ে চলছে নানা নাটকীয় ঘটনাবলী। দফায় দফায় এই সফরের প্রতিশ্রুতি ও নানা কারণে শেষ পর্যন্ত সেটি বাস্তবায়ন না হওয়ার পালা চলছিল। অবশেষে এই জানুয়ারিতে বিপিএলকে সামনে রেখে পাকিস্তান সফর এক রকম নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। এরই মধ্যে বিদায়ী বছরের শেষ দিনে, চতুর্মুখী প্রতিবাদের মুখে বিসিবির নতুন সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়ে দেন, আপাতত পাকিস্তান সফর হচ্ছে না। কারণ, নিরাপত্তাহীনতা। আর এই কারণকেই 'অনুপযুক্ত' বলে অভিহিত করেছে পিসিবির বিবৃতি। তারা বলেছে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এরকম প্রশ্ন তোলার আগে বিসিবি সভাপতির যথেষ্ট খোঁজ-খবর নিয়ে নেয়া উচিত ছিল, 'এখনও পর্যন্ত আমরা বিসিবির কাছ থেকে অফিসিয়াল কোনো ঘোষণা পাইনি। তবে সংবাদ মাধ্যমে যেমন এসেছে, তেমনভাবে নিরাত্তার প্রশ্ন তোলাটা একেবারেই অনুপযুক্ত কাজ হয়েছে। গত বেশ কিছুদিনে করাচি ও রাওয়ালপিন্ডিতে অত্যন্ত সফলভাবে বেশ কিছু ক্রিকেট ও ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট ব্যাপার হয়েছে, সেখানে অনেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার অংশ নিয়েছেন। সেখানে কোনো সমস্যা হয়নি। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, বিসিবি ও বাংলাদেশ সরকারের একটি যৌথ দল পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দেখে গিয়ে সন্তোষজনক রিপোর্ট দিয়েছে। বিসিবি সভাপতির পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে রিপোর্টটা একবার পড়ে নেয়া উচিত ছিল।' এমন কঠোর ভাষায় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েই ক্ষ্যান্ত হচ্ছে না পিসিবি। বোর্ডের চেয়ারম্যান জাকা আশরাফ ব্যক্তিগতভাবে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে বলার সময়ে আরও কঠোর হয়েছেন। তিনি বলেছেন, জোর করে বাংলাদেশকে সফরে আনা সম্ভব না। তবে এই সফর বাতিল করে বিসিবি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের যে অবনতি ঘটিয়েছে, তার ফলও 'একইরকম' হবে বলেও বলছেন জাকা আশরাফ, 'তারা আসতে না চাইলে না আসতে পারে, এটা তাদের সিদ্ধান্ত। আমরা তো ওদের জোর করে আনতে পারবো না। তিন তিনবার তারা কথা দিল; এখন আবার পিছিয়ে গেল। এখন তো ওদের নিজেদেরই ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তারা যদি কোনো দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সম্মান করতে না পারে; আমরাও সেভাবেই এখন থেকে জবাব দেব।'

এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং প্রতিশ্রুত ব্যাপারটা বার বার ঘুরে-ফিরে আসছে আলোচনায়। ব্যাপার বীজ বুনে রেখে গেছেন সাবেক বিসিবি সভাপতি ও বর্তমান আইসিসি সহ-সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল। তিনি আইসিসির পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হওয়ার শর্তে এই সফরের জন্য লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই দিকে পরিষ্কার ইঙ্গিত দিয়ে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দাবি করেছে পিসিবির বিবৃতি, 'বিসিবি আগেরবার যখন সফরে আসতে চাইল, তখন ঢাকার উচ্চ আদালত সফর স্থগিত করলেন। ক্রীড়া ক্ষেত্রে এমন ঘটনা এর আগে কখনোই ঘটেনি। তারপরও আমরা কিন্তু বিপিএলের জন্য খেলোয়াড়দের ছেড়ে দিয়েছিলাম। এরপর আইসিসি নির্বাচনে আমরা মোস্তফা কামালকে সমর্থন দিয়েছিলাম। এসবই করেছি আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম বলে। প্রতিশ্রুতি আমাদের পক্ষ থেকে যেই দিক; আমরা সেটা রক্ষা করি; বাংলাদেশ করছে না।'

এইসব প্রতিশ্রুত ভঙ্গের অভিযোগে পাকিস্তান ঠিক কি করতে পারে বা করবে; তা পরিষ্কার নয়। তবে এটা ঠিক যে, পিসিবির বিবৃতি ও জাকা আশরাফের কথায় ইঙ্গিত আছে, তারা বিপিএলে পাকিস্তানী খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ আটকে দিতে পারে। তবে এসব বিষয় নয় পাকিস্তান আসলে বাংলাদেশকে জবাব দিতে চায়, নিজেরা আরও ভালো আয়োজন করে। জবাব দেয়ার প্রসঙ্গে আশরাফ বললেন. 'আমরা খুব দ্রুতই বাংলাদেশের চেয়ে অনেক ভালো কোনো একটা দলের পাকিস্তান সফরের ব্যবস্থা করবো।'

থ্রি-জির গাইডলাইন নিয়ে বিরোধ

থ্রি-জির গাইডলাইন নিয়ে বিরোধ


বেসরকারি অপারেটরদের থ্রি-জি প্রযুক্তি দেয়ার গাইডলাইন নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। গাইডলাইন তৈরির আগে অপারেটরদের মতামত না নেয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশন (বিটিআরসি) নিজেদের মতো গাইডলাইন তৈরি করে অপারেটরদের কাছে মতামত চায়। বিষয়টি ভালোভাবে মেনে নেয়নি বেসরকারি অপারেটররা। তাদের বক্তব্য গাইডলাইনে এমন কিছু শর্ত জুড়ে দেয়া আছে যা তাদের ব্যবসার জন্য ইতিবাচক নয়। আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হলে বিষয়টির যৌক্তিক সমাধান হতো। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে চলতি মাসের মধ্যে অপারেটরদের হাতে থ্রি-জি লাইসেন্স দেয়া এখন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়লো। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে এখনও চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কারণ, গত মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানুয়ারির মধ্যে বেসরকারি মোবাইল অপারেটরদের হাতে থ্রি-জির লাইসেন্স তুলে দেয়ার ঘোষণা দেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ওই ঘোষণার সঙ্গে সুর মেলান। এদিকে গত ২৮শে মার্চ থ্রি- জি মোবাইল সার্ভিস লাইসেন্সের খসড়া নীতিমালা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয় বিটিআরসি। এতে পাঁচটি অপারেটরকে লাইসেন্স দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এগুলো হচ্ছে- বাংলালিংক, গ্রামীণফোন, এয়ারটেল, সিটিসেল ও ওয়ারিদ। বর্তমানে এ সুবিধা পাচ্ছে কেবল সরকার নিয়ন্ত্রিত মোবাইল অপারেটর টেলিটক। অক্টোবরের প্রথম দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থ্রিজির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এর আগে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানায়, থ্রি-জিকে জনপ্রিয় করতে অপাটেরগুলোকে বাড়তি সুবিধা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য খসড়া নীতিমালায় প্রস্তাবিত মূল্যের চেয়ে কম দামে থ্রি-জি লাইসেন্স দিতে যাচ্ছে তারা। প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের জন্য ‘বিডি মানি’ ১ কোটি ডলার কমানোর প্রস্তাব রয়েছে খসড়া নীতিমালায়। এর আগে থ্রি-জি খসড়া নীতিমালায় প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের জন্য বিডি মানি (ন্যূনতম দর) ৩ কোটি ডলার নির্ধারণ করা হয়। সমপ্রতি টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে তরঙ্গ মূল্য নির্ধারণের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে তা ২ কোটি ডলার প্রস্তাব করা হয়েছে। এদিকে গাইডলাইনে অন্যতম শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও থ্রি-জি’র সেবা পৌঁছে দিতে হবে। অপরেটররা এ শর্তের সঙ্গে দ্বিমত জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য- থ্রি-জি প্রযুক্তির শুরুর দিকে এটা সম্ভব নয়। কারণ, ওই প্রযুক্তি প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে যেতে ব্যাপক কারিগরি কাজের বিষয় রয়েছে। এটা দ্রুত সম্ভব নয়। আপাতত শহরকেন্দ্রিক থ্রি-জি সেবা পৌঁছানো সম্ভব। অপারেটররা জানান, এখানে ব্যবসারও বিষয় রয়েছে। এভাবে নির্দিষ্ট শর্ত জুড়ে দিলে ব্যবসা করা কঠিন হবে। তারা জানান, ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ পেলে থ্রি-জি সেবাকে ধীরে ধীরে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হবে। এ প্রসঙ্গে বিটিআরসি জানিয়েছে, থ্রি-জির গাইডলাইন ড্রাফট শেষ। বেসরকারি অপারেটররা বেশ কিছু প্রস্তাব ও সুপারিশ করেছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এদিকে গাইডলাইন চূড়ান্ত হওয়ার পর বিটিআরসি নিলামের জন্য প্রস্তুতি নেবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, থ্রি-জি সংযোগ দিয়ে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে ইন্টারনেট ব্যবহারসহ ভিডিও কল করা, মোবাইল ফোনে টেলিভিশন দেখা, ভিডিও স্ট্রিমিং, রিয়েল টাইম গেমিং, অডিও ভিডিও চ্যাটিং সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী হবে। এদিকে টেলিটক এরই মধ্যে তাদের থ্রি-জি সেবার কাজ শুরু করেছে। টেলিটকের এমডি মুজিবুর রহমান জানান, গ্রাহকরা এখন কেবল রাজধানীতে থ্রি-জি সেবা পাচ্ছেন। জানুয়ারিতে পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম ও সিলেটে থ্রি-জি সেবা দেয়া হবে। টেলিটক আশা করছে, প্রাথমিক পর্যায়ে রাজধানীর চার লাখ গ্রাহক পাবেন এ সেবা। যদিও দুই মাসে তারা প্রায় এক লাখ থ্রি-জি সিমকার্ড বিক্রি করেছে।

উন্মাতাল থার্টি ফার্স্ট নাইট

উন্মাতাল থার্টি ফার্স্ট নাইট


জিরো আওয়ার, তখনও পাঁচ সেকেন্ড বাকি। হাতে হাতে পানপাত্র পৌঁছে গেছে। যেন এক শ’ পাঁচ ডিগ্রি জ্বরে কাঁপছে পুরো হলরুম, গাছতলা ও পুলপাড়। অপেক্ষায় শ’দুয়েক তরুণ-তরুণীসহ আধা বয়সী, বয়সী নর-নারী। হঠাৎ থেমে গেল ডেক সেটের গান। মাইক বেজে উঠলো। লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলম্যান, ঘোষিত হলো জিরো আওয়ারের শুভ সংবাদ, ওয়েলকাম ২০১৩। বেজে উঠলো ডেক সেট। পুরো ভলিউমে গান, ‘আই লাভ ইউ টু...’। সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে উঠতে থাকে আতশ বাতি, চত্বরের আকাশ ঘিরে গেল লাল-নীল আতশের সুগন্ধি ধোঁয়ায়। তারা বাজি পুড়িয়ে নববর্ষ বরণের আনন্দে মেতে ওঠে। এলাকা জুড়ে তখন বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাস। উন্মাতাল থার্টিফার্স্ট নাইট নাচ গান, হৈ-হুল্লোড়, চিৎকার চেঁচামেচি, আনন্দ প্রকাশের সকল মাধ্যম সক্রিয় করে নেয় আগতরা। হেলেদুলে পড়তে শুরু করে গোটা চত্বর। নাচ, গান, পান, সুরা ওঠে তারুণ্যের উচ্ছলতার সীমানা ছাড়ানো যত কর্ম কি নেই সেখানে? থার্টি ফার্স্ট নাইটে এমন এক রমরমা দৃশ্যের দেখা মিললো রাজধানীর অভিজাত এলাকার একটি অভিজাত ক্লাবে। রাজধানীর গুলশান এলাকায় ইউরোপের একটি দেশের নামের সঙ্গে পরিচিত ওই ক্লাবে বরাবরই প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। থার্টি ফার্স্ট নাইটের আনন্দ উদযাপনে খ্যাতি আছে ক্লাবটির। থার্টি ফার্স্ট নাইটে নির্মল বিনোদন পেতে চান, নিজেকে উজাড় করে মাতোয়ারা হতে চান- এমন অনেকেই আসেন, আসার চেষ্টা করেন ওই ক্লাবটিতে। এ বছরও এমন রসিকদের ভিড় জমেছিল এখানে। প্রবেশ মূল্য মাত্র তিন হাজার টাকা হলেও কোন ভাবেই অতিক্রম করেনি ক্লাবের তিন শ’ অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা। প্রতি বছর এ সংখ্যার ভেতরই সীমিত থাকেন তারা। এখানে দেশীদের অংশগ্রহণ একেবারেই কম, অনুমতি মিলে না। টিকিট পাওয়া যায় না। তারপরও ছিলেন ইউরোপ কানেকশনের বাংলাদেশের কয়েক জোড়া।
রজনী গভীর হওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলাতে থাকে ক্লাব চত্বরের দৃশ্য, সাবাড় হতে থাকে বোতলের পর বোতল, সঙ্গে নানা পদের ইউরোপীয় খাবার। আধো আলো আধো আঁধারের মাঝে কখনও কখনও কাঠের আগুন জ্বালিয়ে সে আগুন ঘিরে পানপাত্র হাতে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস। পুরো এলাকা জুড়ে নাচ চলছে কোথাও মৃদু কোথাও উদ্দাম নৃত্য। নৃত্যের তালে তালে চুম্বন, বুকে বুক মিলিয়ে ভালবাসার প্রকাশ। কেউ প্রকাশ্যে, কেউ একটু আঁধারে আড়ালে, পুল পাড়ে, গাছের তলে। সাদা মানুষ আছেন, আফ্রিকার দীর্ঘাঙ্গী সুঠামদেহী রমণীরা আছেন। সাদা মানুষ সাদা রমণীরা নাচছেন, সাদা মানুষদের সঙ্গে মানিয়ে নাচছেন কালো রমণীরা। প্রায় ঘণ্টাখানেক পুরো ক্লাব নেচে গেয়ে মাতিয়ে রাখেন নাইজেরিয়ান দুই ষোড়শী। তাদের নাচের সঙ্গী ছিলেন ইউরোপের পাঁচ/সাত জন সাদা তরুণ সহ মাঝবয়সী। কালো গায়ের রঙের হরিণ চাহনির ভুবনমোহিনী হাসির দুই ষোড়শীর দিকে চোখ ছিল অনেকের। স্বল্প বসনা, ভরা যৌবনে ঢল ঢল দুই তরুণীকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত নাচের প্রতিযোগিতা ছিল কিছুটা, ওদের সঙ্গে নাচতে, হাতের খানিকটা সংস্পর্শ পেতে তাদের ঘিরে পাত্র হাতে ঘুরেছেন অনেকে, হাই হ্যালোও করেছেন। বাংলাদেশের দু’জোড়া যুবক-যুবতীকে দেখা গেল হলরুমের ঠিক মাঝখানে মেতেছেন আনন্দে, খুব সহসাই ফুরিয়ে যাচ্ছে সুরা, আবার পুরো করে আনছেন, কখনও নিজেরাই গাইছেন, কখনও তালবেতাল নাচছেন ডেক সেটের গানের সঙ্গে পা মিলিয়ে, পুরো শরীর দুলিয়ে, ঢলে ঢলে পড়ছেন একে অন্যের ওপর। চুমায় চুমায় ভরে দিচ্ছেন একজন আরেকজনকে। পুরো বেসামাল। লম্বা সুঠাম দেহের সমবয়সী এক তরুণের সঙ্গী স্বল্প বসনার এক সুদর্শনা। ইউরোপের একই দেশে ঠিকানা হলেও সেখানে থাকতে পরিচয় হয়নি, হাই-হ্যালোও হয়নি। পরিচয় প্রেম ভালবাসা মন দেয়া নেয়া ঘর বাঁধার পাকাপাকি সিদ্ধান্ত হয়েছে বাংলাদেশে এসে একই কর্মক্ষেত্রে কাজ করতে গিয়ে। রাতজুড়ে নাচেগানে, পানে ভরপুর ছিল ওই দুই তরুণী। তাদের উথালপাথাল নৃত্য ছাড়িয়ে গিয়েছিল আনন্দ বিনোদনের সকল সীমানা।
কম যাননি বয়সী, মাঝবয়সীরাও। নির্জন রাতের নীরবতা খোঁজার মতো চুপিসারে পাত্র হাতে সঙ্গীকে জড়িয়ে ধরে ভরে দিয়েছেন চুমায় চুমায়। ঠোঁটে ঠোঁট লাগিয়ে দীর্ঘায়িত করেছেন হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসার চুম্বন। আলোআঁধারির সন্ধিক্ষণে হলরুমের ইটের দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়ানো নারীকে ঘিরে দেখা গেছে পুরুষ সঙ্গীর বন্য সব আচরণ। কেউ হেসেছেন, কেউ পাশ দিয়ে চলে গেছেন, কেউ কেউ দেখেও না দেখার ভান করেছেন। পানে পানে বেসামাল পুরুষের অশ্লীল হাতটি দেখা গেছে কোন কোন রমণীর বেঠিক জায়গায় নড়াচড়া করছে, তবে খুব বেশি বেঠিক মনে করেন নি রমণীটিও। পুরো রাত, বোতলের পর বোতল সাবাড় হলো পানীয়, বেসামাল হলেন অনেকে। তবুও মনভরা, প্রাণ জুড়ানো আনন্দ ফুর্তিতেই পালিত হলো থার্টি ফার্স্ট।
উদ্দাম নাচে কেঁপে ওঠে হোটেল রিজেন্সি
শ’ শ’ তরুণ-তরুণীর উদ্দাম নাচে কেঁপে ওঠে হোটেল রিজেন্সি। শুধু নাচ নয়- সঙ্গে বিয়ার, হুইস্কিসহ নানা রঙের পানীয়। ছিল উচ্চ শব্দের মিউজিক। তাতে হারিয়ে যায় তরুণ-তরুণীরা। র‌্যাব পুলিশের কড়া পাহারা বাইরে। তার ভেতর চলে পাশ্চাত্য ধাঁচের নাচ আর গান। ছিল তরুণ-তরুণীদের ভালবাসা প্রকাশের আরও অনেক অনেক কিছু। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে সোমবার রাতে রাজধানীর খিলক্ষেতের এ অভিজাত হোটেলে সমবেত হয় শ’ শ’ তরুণ-তরুণী। তবে কড়া পানীয় আর হাইভোল্টেজ মিউজিকের মূর্ছনায় রাত ১২টার আগেই বেসামাল হয়ে যায় তারা। পরস্পর বাহু বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ঢলে পড়ে হোটেল কক্ষের এখানে ওখানে। আলো-আঁধারিতে চলে তাদের প্রেম ভালবাসার নানা রকম খেলা। উষ্ণ আলিঙ্গন, খুনসুটি, চুমোচুমি, হাতের স্পর্শ, নানা আকুতি আরও কত কি। কানায় কানায় পূর্ণ হল। কিন্তু কেউ কারও প্রতি নজর দেয়ার সময় নেই। যে যার মতো ব্যস্ত। পৌষের তীব্র শীতের রাত। ঘনকুয়াশায় আচ্ছন্ন চারদিক। কিন্তু রিজেন্সি হোটেলের আনন্দে মাতোয়ারা তরুণ-তরুণীরা ঘর্মাক্ত। হোটেল কক্ষে ঢুকেই শ’ শ’ তরুণী বাইরের পোশাক খুলে ফেলে। দেহে জড়িয়ে নেয় পাশ্চত্য সমাজের আঁটোসাটো স্বল্প বসন। নাচের তালে তালে খসে পড়ে তার বেশির ভাগ অংশ। এতে আরও আবেদনময়ী করে তোলে তাকে। তবে নাচের উত্তাপে অনেক তরুণও খুলে ফেলে ব্লেজার, স্যুয়েটার, গেঞ্জির মতো যাবতীয় গরম পোশাক। ১৪ তলায় নাচের শব্দ ভেসে আসে নিচ তলায়। সব মিলিয়ে এক অন্য রকম পরিবেশ তৈরি হয় হোটেল রিজেন্সির ১৪ নম্বর ফ্লোরে। লেমন ও জামিল নামে দুই তরুণ-তরুণী রিজেন্সি হোটেলের এ অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা। নববর্ষের অনুষ্ঠানের জন্য হোটেলর ১৪ নম্বর ফ্লোর ভাড়া নেয় তারা। দাওয়াত দেয় শহরের পেশাদার ডিজে বয় ও গার্লদের। প্রবেশ মূল্য ১০০০ টাকা করে ১২০০ টিকিট ছাড়ে তারা। কিন্তু ছাত্রলীগ নেতা সোহেলসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ নেতাদের দোহাই দিয়ে সন্ধ্যা রাতেই কয়েক শ’ তরুণ-তরুণী বিনা টিকিটে ঢুকে পড়ে। এতে রাত ১১টার মধ্যেই হল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। অতিরিক্ত লোকের চাপে হোটেলের দু’টি লিফ্‌ট বার বার বন্ধ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে হোটেল কর্র্তপক্ষ রাত ১২টার পর লিফ্‌ট দু’টি বন্ধ করে দেয়। তার পরও পায়ে হেঁটে ১৪ তলায় ওঠে উৎসাহী তরুণ-তরুণীরা। তবে রাত ১২টার পর ১৪ নম্বর ফ্লোর তরুণ-তরুণীদের গায়ে গায়ে ঠাসা হয়ে পড়ে। এ সময় কর্তৃপক্ষ হোটেলের মূল প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়। এতে টিকিটধারী অনেকেই ব্যর্থ মনোরথে ফিরে গেছে। তবে যতই ভিড় হোক আনন্দে মাতোয়ারা তরুণ-তরুণীদের কিঞ্চিৎ নজর ছিল না সেদিকে। দফায় দফায় রঙিন পানীয় পান আর সঙ্গীকে আনন্দ দেয়ার নানা কসরতে সময় কেটেছে তাদের। মদের নেশা আর নৃত্যের তালে তালে কেউ ঢলে পড়েছে সোফায়, কেউ লাল কার্পেটে। ঝিকিমিকি আলো সহায়ক ছিল তাদের। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভালবাসার এ উন্মাদনাও বাড়ে দ্রুতগতিতে। রাত ২টার পর বাহুলগ্না বান্ধবীকে নিয়ে কোন কোন তরুণকে ‘রিজার্ভ’ কক্ষে চলে যেতে দেখা যায়। কেউ চলে যায় অন্য কোন আবাসিক হোটেলে বা বাসাবাড়িতে। এ ফ্লোরের দুটি কক্ষ ধূমপান মুক্ত রাখার ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু মধ্যরাতের পর পুরো ফ্লোর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এদিকে তরুণ-তরুণীদের এই আনন্দ উৎসবকে পুঁজি করে আয়োজকদের অন্য একটি গ্রুপ এখানে গলাকাটা ব্যবসা করে। এক গ্লাস সাদা পানির দাম নেয় ১০০ টাকা। মদ বিয়ার হুইস্কিসহ রঙিন পানির দাম ছিল আকাশছোঁয়া। এজন্য নেশা না জমতে পকেট খালি যায় অনেকের। তাই মধ্যরাতে টাকার জন্য কেউ কেউ ছুটে যান বাসাবাড়িতে। থার্টি ফার্স্ট নাইটের মাতাল করা এই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রবেশ ছিল সমপূর্ণ নিষিদ্ধ। এজন্য সন্ধ্যা থেকেই কড়া চেকিং বসানো হয় গেটে। ক্যামেরা জাতীয় কোন কিছু যেন ভেতরে না যায় এজন্য ব্লেজার, স্যুয়েটার খুলে জনে জনে পরীক্ষা করা হয়। উদ্দেশ্য এ রাতের সব নজর কাড়া দৃশ্য গোপন রাখা ।

Tuesday, January 1, 2013

গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ

গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ


আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। বছর শেষ হয়ে গেলেও এই ইস্যুতে বাংলাদেশ গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। এরই মধ্যে বিরোধী দল হরতাল পালন করেছে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে সৃষ্টি হয়েছে দাঙ্গা। দাবি করা হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বিচার শেষ করতে। লন্ডন থেকে প্রকাশিত অনলাইন টেলিগ্রাফে ‘সাউথ এশিয়া: প্রিভিউ অব ২০১৩’ শীর্ষক রিপোর্টে এসব কথা বলা হয়। এতে বিগত বছরের তুলনায় নতুন বছরে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও নেপাল কেমন যাবে তার একটি পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রাজনীতির পাকে একরকম আটকা পড়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। তিনি আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রচারণায় নামতে পারছেন না প্রেসিডেন্ট থাকার কারণে। আবার প্রেসিডেন্টের পদ ত্যাগ করলে তার বিরুদ্ধে যে সাধারণ ক্ষমা দেয়া হয়েছে তা-ও উঠে যাবে। ফলে নিজেকে রক্ষা করতে ও দলকে বাঁচাতে তিনি ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিকে সামনে নিয়ে এসেছেন। ওদিকে ভারতে রাজনীতির হাল ধরতে খুব ধীর মস্তিষ্কে গান্ধী পরিবারের উত্তরসূরি রাহুল গান্ধীকে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। আফগানিস্তান থেকে ২০১৪ সালে ন্যাটো সেনা প্রত্যাহার করলে এ অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আভাস দেয়া হয়েছে। নেপালের নতুন সংবিধান নিয়েও এতে আলোকপাত করা হয়েছে। ডিন নেলসন লিখেছেন, এপ্রিলে পাকিস্তানে নির্বাচন হতে পারে। তাই ভুট্টো পরিবারকে পাকিস্তানের রাজনীতিতে টিকিয়ে রাখতে বিলাওয়ালকে ব্যবহার করছেন প্রেসিডেন্ট জারদারি। তবে রাজনীতিতে মিশতে হলে তাকে উর্দু রপ্ত করতে হবে ভালভাবে। এজন্য তিনি বাসায় বসে উর্দুর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ওদিকে তার দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) প্রথমবার পাকিস্তানের ইতিহাসে ক্ষমতার পূর্ণ মেয়াদ পূরণ করতে যাচ্ছে। এ সময়ে প্রেসিডেন্ট জারদারি পড়েছেন উভয় সঙ্কটে। ওদিকে ন্যাটো ২০১৪ সালে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। এতে এ অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওই সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে আফগানিস্তান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। ওদিকে আগামী বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালে আফগানিস্তানে নির্বাচন। এর আগে প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই তার শেষ দফা ক্ষমতার মেয়াদ শেষ করছেন। এর ফলে সেখানে চলমান যুদ্ধ ও নির্বাচনে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তাদের বাসনা নতুন এ বছরেই প্রকাশ করতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত নির্বাচনের সামনের সারিতে আছেন হামিদ কারজাইয়ের ভাই কাইয়ুম কারজাই ও তার সাবেক চিফ অব স্টাফ ওমর দাউদজাই। ভারত সম্পর্কে ওই রিপোর্টে বলা হয়, নতুন বছরে ভারত নির্বাচনী ভাবধারায় প্রবেশ করছে। কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, দিল্লি, রাজস্থান ও কয়েকটি ছোট ছোট রাজ্যের ও সাধারণ নির্বাচন এই বসন্তেই হওয়ার কথা। সেখানে কংগ্রেসের নেতৃত্ব দেবেন রাহুল গান্ধী। গত বছর এই দল লোকসভায় অনাস্থা ভোটে টিকে গেছে। তারা এখন দরিদ্রবান্ধব হয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছে বিভিন্ন ভাবে। এই বসন্তে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য ভারত সফরে আসার কথা বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের। এ বছর ভারতে বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বছর বিদেশী বিনিয়োগ অনুৎসাহিত করতে রাজনীতি অনেকটা বিকলাঙ্গ হয়ে পড়েছিল। এ বছরেই ভারত সরকার মঙ্গলগ্রহে অভিযান চালাতে চায়। মে মাসে নেপালে নির্বাচন হওয়ার কথা। সেখানে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নে গত বছর ব্যর্থ হয়েছেন সেখানকার রাজনীতিকরা। বিভিন্ন অঞ্চলকে স্বায়ত্তশাসন দেয়া হবে কিনা তা নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের বরফ অনেকাংশেই কেটে যাবে নতুন বছরে এমনটা আশা করা হচ্ছে।


বিজিএমইএ’র তদন্ত- তাজরিনে আগুন অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনায়

বিজিএমইএ’র তদন্ত- তাজরিনে আগুন অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনায়

গত মাসে আশুলিয়ার তাজরিন ফ্যাশনস লিমিটেডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনায় ঘটেছে বলে মনে করছে পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাইরের কোন  ইন্ধন এর তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা। বিজিএমইএ’র গঠিত নিজস্ব তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল বিজিএমইএ সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন সংবাদ সম্মেলন করে এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন, ওই কারখানার কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী ‘পরিকল্পনায়’ জড়িত। তাদের আইনের আওতায় আনার সুপারিশ করছি। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটিও ওই অগ্নিকাণ্ডকে ‘নাশকতা’ উল্লেখ করে, যদিও তারা জড়িতদের চিহ্নিত করতে পারেনি। গত ২৪শে নভেম্বর আশুলিয়ার ওই কারখানায় আগুন লেগে অন্তত ১১১ জন নিহত হন। পরদিন বিজিএমইএর পক্ষ থেকে ১১ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যার দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি (অর্থ) এসএম মান্নান কচি।
বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করে সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ঘটনার সময় উপস্থিত এবং ঘটনায় আহত শ্রমিক কর্মচারীসহ অন্যদের সঙ্গে কথা বলে যে সাক্ষ্য প্রমাণ আমরা নিয়েছি, তা বিশ্লেষণ করে একটি পরিকল্পিত ঘটনার ইংগিত পাওয়া গেছে, যা আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তাজরিন কারখানার নিচতলায় যদি অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত গুদাম না থাকত, অথবা গুদামের চারপাশ যদি দেয়াল দিয়ে ঘেরা থাকত এবং ভবনের প্রতিটি সিঁড়ি যদি কারখানার বাইরে এসে শেষ হতো, তাহলে হতাহতের সংখ্যা এতো বেশি হতো না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটিও ওই ভবনের নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনার জন্য মালিকপক্ষেরও চরম অবহেলা ছিল, যার দায় মালিকপক্ষ কোনভাবেই এড়াতে পারে না।
তাজরিনের ঘটনা খতিয়ে দেখতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, প্রশাসন, ফায়ার ব্রিগেড ও পুলিশের পক্ষ থেকেও আলাদা কমিটি করা হয়।

বছরের আলোচিত ঘটনা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ

বছরের আলোচিত ঘটনা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ


সিলেটের রাজনীতির ইতিহাসে আলোচিত ২০১২ সাল। বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলী নিখোঁজের বছর। ইলিয়াস ফিরবেন নাকি ফিরবেন না- এ অনিশ্চয়তায় কেটে গেছে বছর। তিনি জীবিত না মৃত- তা-ও জানে না কেউ। ২০১২ সালে সিলেটের আলোচিত ঘটনা কোনটি-সিলেটে এসে কাউকে প্রশ্ন করা হলে এক বাক্যে বলবে ইলিয়াস নিখোঁজের ঘটনা। তিনি ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। সিলেট জেলা বিএনপি’র সভাপতি। সাইফুর রহমানের মৃত্যুর পর ইলিয়াস আলী ছিলেন সিলেট বিএনপি’র একচ্ছত্র অধিপতি। তার নেতৃত্বেই চলতো সিলেট বিএনপি’র কার্যক্রম। নিখোঁজের আগে ইলিয়াস আলী সিলেটে টিপাইমুখ বাঁধ বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে সিলেটের রাজপথে আন্দোলন চাঙ্গা করেন। তার আহ্বানে সিলেটে হরতালও পালিত হয়েছে। এরপর রোড মার্চের মাধ্যমে সিলেটে বিশাল জনসভা হয়েছে। ইলিয়াসের নেতৃত্বে সিলেট বিভাগে স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি সাফল্য পেয়েছিল। এই অবস্থা যখন চলছিল তখন ১৭ই এপ্রিল ঢাকার বনানী থেকে নিখোঁজ হন ইলিয়াস আলী। তার সঙ্গে নিখোঁজ হন গাড়িচালক আনসার আলীও। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার আহমদ দিনার ও ছাত্রদল নেতা জুনায়েদ আহমদ। ছাত্রদলকর্মী খুনের ঘটনায় ফেরারি আসামি হয়ে ঢাকায় অবস্থানকালে তারা নিখোঁজ হন। এখন পর্যন্তই দিনার ও জুনায়েদ নিখোঁজ রয়েছে। তাদেরও কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ইফতেখার আহমদ দিনার নিখোঁজের পর ইলিয়াস আলী সিলেটের ফর্চুন গার্ডেনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, সরকারের একটি বাহিনী দিনারকে গুম করেছে। তিনি দিনার ও জুনায়েদকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। ইলিয়াস আলীর দাবির পর সরকারের ভেতরে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। ৩রা এপ্রিল দিনার নিখোঁজ হওয়ার পর ১৭ই এপ্রিল গাড়িচালকসহ এম. ইলিয়াস আলী গুম হন। এ ঘটনার পর সিলেটের মাঠে আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। ১৮ই এপ্রিল গোটা বিভাগকে অচল করে দেয় বিএনপি কর্মীরা। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপি’র আহ্বানে ৫ দিন হরতাল আহ্বান করা হয়। সিলেটের বিশ্বনাথে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি’র সংঘর্ষে যুবদল ও ছাত্রদলের তিন নেতা নিহত হন। এ ঘটনায় আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপি’র শ’ শ’ নেতাকর্মী কারাবরণ করেছেন। এখনও ইলিয়াসের অপেক্ষায় বিশ্বনাথের রামধানা গ্রামের অবস্থানরত মা সূর্যবান বিবি। অবুঝ শিশু নাওয়াল পথ চেয়ে আছে প্রিয় পিতার। অপেক্ষায় স্বজনরা। বিএনপি’র হাজার হাজার নেতাকর্মী ইলিয়াসের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। এভাবে কেটে গেছে ২০১২। বছরের প্রথম দিকে যে ঝড় এসে ইলিয়াসকে উড়িয়ে নিয়ে গেল সেই ঝড় থেমে গেলেও ইলিয়াস ফেরার কোন লক্ষণই নেই। ৮ মাস ধরে নিখোঁজ থাকা এম. ইলিয়াস আলীকে নিয়ে এখনও আশাবাদী তার পরিবার। তারা প্রধানমন্ত্রীর উপর ভরসা রেখে পথ চেয়ে আছেন। প্রধানমন্ত্রী মানবিক। তিনিও স্বজন হারানোর ব্যথা তিনি বোঝেন। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর কথায় ভরসা করেই ইলিয়াসের পথপানে আশায় বুক বেঁধে আছেন পরিবারের সদস্যরা। ইলিয়াস আলীর মায়ের দাবি, তার ছেলেকে তিনি যে কোন মূল্যে চান। সুস্থভাবে ছেলেকে ফিরে চান। তিনি আর কিছু চান না। ছেলের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে সূর্যবান বিবি কাতর হয়ে পড়েছেন। কাঁদছে কাঁদতে শুকিয়ে গেছে তার চোখের পানি। গলার স্বর কমে এসেছে। জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে অশীতিপর সূর্যবান ছেলে ইলিয়াসকে একবার দেখতে চান। ইলিয়াসের ভাই আছকির আলী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর মানবতার দিকে পথ চেয়ে আছেন তারা। তারা ইলিয়াসকে ফিরে পেতে চান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনীতির চেয়ে মানবতাকে ঊর্ধ্বে তুলে প্রধানমন্ত্রী ইলিয়াসকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবেন। এদিকে, ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর থেকে বিএনপি’র পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে সরকারই ইলিয়াস আলীকে গুম করে রেখেছে। বিএনপি নেতারা বিশ্বাস করেন, ইলিয়াস আলী সরকারের হেফাজতে রয়েছে। গুম নামক সেলে ইলিয়াস আলী, ইফতেখার আহমদ দিনার, জুনায়েদ আহমদ, আনছার আলীকে আটকে রাখা হয়েছে। সিলেট জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবদুল গফ্‌ফার জানিয়েছেন, ইলিয়াস আলীকে সুস্থ অবস্থায় ফেরত চান তারা। সরকার ইলিয়াসসহ নিখোঁজ দিনার, জুনায়েদ ও আছকির আলীকে সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে বলে জানান তিনি।