Pages

Thursday, January 10, 2013

হার্ট সুস্থ রাখবেনকিভাবে

হার্ট সুস্থ রাখবেনকিভাবে


হার্ট মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বা ভাইটাল অরগান। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, মানুষ হার্টের কিভাবে যত্ন নিতে হবে বা হূদরোগ প্রতিরোধ করবে তা নিয়ে একেবারেই ভাবে না। হার্টে যখন নানা রোগ বাসা বাঁধে তখনই সবাই উদ্গ্রীব হয়ে পড়ে। ডাক্তারের কাছে ছুটে যায়। কিন্তু কিছু কিছু নিয়ম মেনে চললে হার্টের নানা সমস্যা রোধ করা যায়। থাকা যায় সুস্থ-সবল। আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশনের মতে, বয়স যখন চল্লিশের কোঠা পার হয় তখন অন্তত বছরে একবার হার্ট চেকআপ করা উচিত। হার্ট চেকআপের মধ্যে রক্তের কোলেস্টেরল এবং একটা নরমাল ইসিজি করা উচিত। পাশাপাশি বাড়তি পরীক্ষা হিসাবে লিভার ফাংশন টেস্ট, কিডনি ফাংশন টেস্ট ও রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করা ভালো। এছাড়া হার্ট সুস্থ রাখতে আরও কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত যেমন:নিয়মিত হাঁটাচলা বা ব্যায়াম করা, চর্বিযুক্ত খাবার কম খাওয়া, রেডমিট কম খাওয়া, খাবারে বাড়তি লবণ না খাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস থাকলে নিয়ন্ত্রণে রাখা, রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান একেবারেই পরিহার করা, মানসিক চাপ কমানো, প্রচুর পরিমাণ সবুজ শাক-সবজি আহার করা এবং নিয়মিত ও পরিমিত ঘুমানো, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো ইত্যাদি।

তবে সবসময় মনে রাখতে হবে, হার্ট একবার অসুস্থ হলে এর চিকিত্সা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। অনেকক্ষেত্রে লাখ লাখ টাকা খরচ করেও আর হার্ট সুস্থ রাখা যায় না। তাই হার্টের জটিল সমস্যা যাতে সৃষ্টি না হয় তার জন্য অবশ্যই পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি হার্টের কোন সমস্যা অনুভূত হলে অবহেলা করা উচিত নয়। বরং যেকোন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

স্ত্রী ও তিন সন্তান আছে, প্রতিবাদ করায় দ্বিতীয় স্ত্রীকে শিকলবন্দি

স্ত্রী ও তিন সন্তান আছে, প্রতিবাদ করায় দ্বিতীয় স্ত্রীকে শিকলবন্দি


স্বামী আগে বিয়ে করেছেন। আছে স্ত্রী ও তিন সন্তান। পরে আবার বিয়ে। দ্বিতীয় স্ত্রী জেনে ফেলেন আগের বিয়ের খবর। দ্বিতীয় স্ত্রীর প্রতিবাদ। প্রতিবাদের শাস্তি ১০ দিন ধরে স্ত্রীকে শিকলবন্দি ও নির্যাতন। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মানিকসার গ্রামে ঘটেছে এ অমানবিক ঘটনাটি। দ্বিতীয় স্ত্রী রাবেয়া বেগমকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করে তার মায়ের হেফাজতে দিয়েছে পুলিশ। আর স্বামী নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। তবে আজ বৃহস্পতিবার উপজেলার পয়ালগাছা ইউনিয়ন পরিষদের অফিসে বিষয়টির 'সুরাহা' করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

রাবেয়ার পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মানিকসার গ্রামের ছায়েদ আলীর ছেলে নাসির উদ্দিন তার স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে-এ তথ্য গোপন রেখে প্রায় এক বছর আগে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের আবদুল হান্নানের মেয়ে রাবেয়া বেগমকে (২০) প্রেমের জালে আটকে বিয়ে করে। বিয়ের পর রাবেয়া স্বামী নাসিরের স্ত্রী-সন্তান থাকার বিষয়টি জেনে গেলে এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে নাসির উদ্দিন রাবেয়াকে যৌতুকের জন্য চাপ দিচ্ছিল। যৌতুক দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় নাসির প্রায়ই শারীরিক নির্যাতন চালাতো রাবেয়ার ওপর। বাধ্য হয়ে রাবেয়া তার বাবার বাড়ি চলে যায় এবং স্বামীর বিরুদ্ধে চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করে। পরে রাবেয়া বাবার বাড়িতে থাকা ও ভরণ-পোষণ দেয়াসহ কিছু শর্তে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে স্বামী নাসিরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি তুলে নেয়।

গত ডিসেম্বরের শেষদিকে রাবেয়া তার মামার বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে বেড়াতে যায়। খবর পেয়ে নাসির উদ্দিন ওই বাড়িতে গিয়ে কৌশলে রাবেয়াকে তার বাড়িতে নিয়ে আসে। শুরু হয় আবারো রাবেয়ার উপর নির্যাতন। কনকনে শীতের মধ্যে ঘরের মাটির মেঝেতে খড় বিছিয়ে রাবেয়াকে থাকতে দেয় নাসির। এ সময় পায়ে শিকল বেঁধে ঘরের খুঁটির সাথে আটকে নির্যাতন চালাতো রাবেয়ার উপর। নির্যাতনের বিষয়টি জানাজানি হলে গত সোমবার দুপুরে বরুড়া থানা পুলিশ রাবেয়া বেগমকে উদ্ধার করে তার মা রহিমা বেগমের হাতে তুলে দেয়।

বরুড়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গতকাল বুধবার বিকালে জানান, বিষয়টি একেবারে পারিবারিক ও স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপার, তাই এ বিষয়ে মামলা না হওয়ায় রাবেয়ার স্বামী নাসিরকে গ্রেফতার করা যায়নি এবং গৃহবধূকে তার মায়ের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার (আজ) পয়ালগাছা ইউপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে চেয়ারম্যান মহিন উদ্দিন মজুমদার বাবুলসহ স্থানীয়রা বসে বিষয়টির সুরাহা করার কথা রয়েছে।

পুলিশের হ্যান্ডকাপ অভিযান :বদনাম থেকে রেহাই পেতে

পুলিশের হ্যান্ডকাপ অভিযান :বদনাম থেকে রেহাই পেতে


বদনাম থেকে রেহাই পেয়ে পুলিশ সারাদেশে হ্যান্ডকাপ অভিযান শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিতকায় রাজধানীর পলওয়েল মার্কেটের বিভিন্ন দোকানে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ৪ শতাধিক হ্যান্ডকাপ। এ দিকে পুলিশের হ্যান্ডকাপ, পোশাক, ওয়ারলেসসহ অন্যান্য ব্যবহার্য সামগ্রী যাতে অবাধে বিক্রি না হয় সেজন্য গঠন করা হচ্ছে উচ্চতর পর্যবেক্ষণ কমিটি। অপরদিকে ভুয়া পুলিশ ও র্যাব সেজে নিরীহ লোকজনকে প্রতারিত করার অভিযোগে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ রাজধানীর কলাবাগান ও উত্তরা থেকে গ্রেফতার করেছে ১১ জনকে। এদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে হ্যান্ডকাপ, ওয়াকিটকি ও ডিবি পুলিশ লেখা জ্যাকেট। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, তারা হ্যান্ডকাপ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পলওয়েল মার্কেট থেকে সংগ্রহ করেছিল।

পুলিশ সদর দফতরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক সময় দৃর্বৃত্তরা আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে অপহরণ, হত্যা, ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। এ জন্য বদনাম হচ্ছে আইন-শৃংখলা বাহিনীর উপর। গত ৬ জানুয়ারি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়নের আমাবাড়িয়া গ্রামের মাঠ থেকে পুলিশ হ্যান্ডকাপ পরা অবস্থায় ঢাকার ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মজুমদারের লাশ উদ্ধার করে। এ নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয় আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের হাতেই তিনি খুন হয়েছেন। কিন্তু এ ঘটনার সঙ্গে আইন-শৃংখলা বাহিনী জড়িত নয়। এ কারণেই হ্যান্ডকাপ অভিযান শুরু করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (উত্তর) নজরুল ইসলাম বলেন, বিভিন্নভাবে অপরাধীদের কাছে পুলিশের হ্যান্ডকাপ চলে যাচ্ছে। এ কারণে গতকাল পলওয়েল মার্কেটের বিভিন্ন দোকানে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে ৪ শতাধিক হ্যান্ডকাপ। পাশাপাশি দোকানদারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে অনুমতি না নিয়ে যেন তারা কোন অবস্থায় হ্যান্ডকাপ বিক্রি না করে।

পুলিশ সদর দফতরের ঐ কর্মকর্তা বলেন, হ্যান্ডকাপ পুলিশ সদর দফতর থেকেই বিভিন্ন ইউনিটে সরবরাহ করা হয়। এটি বাইরে বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যারা বিক্রি করে তারা সম্পূর্ণ অবৈধভাবেই বিক্রি করে। তিনি নিজে লোক পাঠিয়ে পলওয়েল মার্কেট সংলগ্ন দোকান থেকে হ্যান্ডকাপ কিনিয়েছেন। শুধু হ্যান্ডকাপই নয়। পুলিশের ব্যবহার্য অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে অবাধে। এ অবস্থার স্থায়ী সমাধানের জন্যই গঠন করা হচ্ছে উচ্চতর পর্যবেক্ষণ কমিটি।

ভুয়া পুলিশ:মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ রাজধানীর কলাবাগান পান্থপথ সাবাসুন টাওয়ারের সামনে থেকে মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেফতার করে ৫ ভুয়া পুলিশকে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে মামুন, এবাদুল, রাসেল, সালাম ফরায়েজী ও তোতা ওরফে লিটন। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি ওয়ারলেস সেট, একজোড়া হ্যান্ডকাপ, ডিবি পুলিশ লেখা একটি জ্যাকেট ও একটি মোটর সাইকেল। এছাড়া রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেফতার হয় আরো সাত জন। তাদের কাছ থেকেও উদ্ধার করা হয় একটি ওয়ারলেস, একটি হ্যান্ডকাপ। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন গাজী হেলাল উদ্দিন, আবু বক্কর সিদ্দিক, রিপন মিয়া, বারেক, টিটু মিয়া, মকবুল ঢালী ও মারুফ হোসেন।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) কাজী মাহবুবুল আলম বলেন, গ্রেফতারকৃতরা রাজধানীর বিভিন্ন ব্যাংক ও অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে তারা ডিবি পুলিশ অফিসার সেজে নিরীহ লোকজনকে গাড়িতে তুলে তাদের নিকট থাকা টাকা, স্বর্ণালংকার এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নামিয়ে দেয়। তারা পুলিশের মত ওয়ারলেস সেট, হ্যান্ডকাফ, লাঠি ইত্যাদি ব্যবহার করতো।

নসরসিংদী সদর মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, সাম্প্রতিক সময় তিনি পুলিশের পোশাক, হ্যান্ডকাপ ও ওয়ারলেস সেটসহ তিন ভুয়া পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃতরা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সাত লাখ টাকা ছিনতাইয়ের সময় তাদের গ্রেফতার করা হয়।

৯০ বছরের বরকে ১৫ বছর বয়সী স্ত্রীর ডিভোর্স

৯০ বছরের বরকে ১৫ বছর বয়সী স্ত্রীর ডিভোর্স


সৌদি আরবে ৯০ বছরের বৃদ্ধ স্বামীর সঙ্গে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদের রায় দিয়েছে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি আদালত। গত সপ্তাহে এ রায় প্রদান করে আদালত। গত কয়েক মাস যাবৎ ওই বৃদ্ধের সঙ্গে তার স্ত্রীর পরিবারের মধ্যে তিক্ত সম্পর্ক বিরাজ করছিল। ওই বৃদ্ধের প্রথম স্ত্রীর বয়স ৮০ বছরের বেশি। তাকে রেখেই নতুন আরেকটি বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ঘটনার শুরু যখন হবু বর ওই কিশোরীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কনেকে পণ বাবদ ৪৫ হাজার রিয়াল দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান ওই কিশোরীর পিতামাতাকে। একই সঙ্গে বিয়ের অনুষ্ঠানের যাবতীয় খরচের ভার নেন তিনি। কনের পিতা ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধের প্রস্তাবে সম্মত হন। অনুষ্ঠানের পর কনে নিজেকে একটি ঘরে আটকে রাখে। স্বামীকে সেই ঘরে ঢুকতে দেয়নি সে। সারারাত ধরে ওই ঘরেই কান্নাকাটি করে কাটায় সে। তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় কাতর কিশোরী কনে তার বিয়ের পোশাক ছিঁড়ে ফেলেছিল। পরের দিন সকালে বর তার স্ত্রীর পরিবারকে খবর দেয়। কনের আত্মীয়-স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ঘরের দরজা খোলে সে। পরিবারের সদস্যরা কনেকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়। বৃদ্ধের কোন আবেদনে সাড়া দেয়নি তারা। স্ত্রীকে দাবি করতে তার বাড়িতে গেলে তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। সে সময় পণের অর্থ ফেরত চান বৃদ্ধ বর। কনের পরিবার জানায়, তারা পণের সব অর্থ খরচ করে ফেলেছে। তাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার মতো কোন অর্থ নেই। শেষ পর্যন্ত মামলার আশ্রয় নেন ওই বৃদ্ধ। কয়েক দফা শুনানির পর আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদ ও বৃদ্ধকে তার পণের টাকা ফিরিয়ে দেয়ার রায় দেয়া হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গালফ নিউজ। অবশ্য ৯০ বছর বয়সী বর বলছেন, মামলায় এখনও পথ খোলা আছে। কারণ, মামলাটির রায় দিয়েছেন একটি গোষ্ঠীর নেতা। তিনি সরকারি বিচারক নন। তিনি বলেন, তার কাছ থেকে পণের টাকা নেয়াটা ছিল কনের পরিবারের চক্রান্ত। তিনি চান স্ত্রী তার বাড়িতে ফিরে আসুক। এদিকে কনেকে রিয়াদে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। বরের অভিযোগ, তার নাগালের বাইরে পাঠাতেই এটা করা হয়েছে।

এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের রিপোর্ট- সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মানতে ব্যর্থ সরকার

এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের রিপোর্ট- সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মানতে ব্যর্থ সরকার


নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে স্বাধীন করা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দেয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থ হয়েছে। ১৯৯৯ সালের ২রা ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দিয়েছিল। তাতে বিচার বিভাগকে কিভাবে আলাদা করা যায় সে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার তা মানতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে স্বাধীন বিচার বিভাগ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার বাধ্য। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। ৮ই জানুয়ারি এ সংগঠনের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ‘বাংলাদেশ: হোয়াই শুড জুডিশিয়াল ইন্ডিপেন্ডেন্স বি ডিলেইড এনি ফারদার?’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়। এতে বলা হয়, ১৯৮৫ সালে ইতালির মিলানে অনুষ্ঠিত অপরাধ প্রতিরোধ ও অপরাধীদের সঙ্গে আচরণ সম্পর্কিত জাতিসংঘের সপ্তম কংগ্রেসে গৃহীত বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মূল নীতি অনুযায়ী সমস্ত সদস্য রাষ্ট্র তার দেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাধ্য। কিন্তু বাংলাদেশে বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়াতে লড়াই করছে। এ দেশটির জন্মের সময় থেকেই এই লড়াই চলছে। বিশেষ করে মাসদার হোসেনের নেতৃত্বে বিচারিক একটি গ্রুপ ১৯৯৫ সালে এ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে হাইকোর্ট ডিভিশনে তোলেন। সেই থেকে এ বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। মাসদার হোসেন এখন জেলা ও দায়রা জজ। ১৯৯৯ সালের ২রা ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে নির্দেশনা দিয়েছে বিচার বিভাগকে কিভাবে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করা যায় তা নিয়ে। তাতে একে কিভাবে প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক সমর্থন দেয়া যায় তা-ও বলা হয়। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার সুপ্রিম কোর্টের সেই নির্দেশনা মানতে ব্যর্থ হয়েছে। যদি আদালতের ওই ডিক্রি মানা হতো তাহলে তাতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অনেকটাই ফিরে আসতো। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়টি ফের সুপ্রিম কোর্ট আমলে নিয়েছেন। আদালত বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের বেতন বাড়িয়ে ও তাদের অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি করে বিচার বিভাগের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারকে নির্দেশনা দিয়েছেন। দৃশ্যত, নীতিনির্ধারক পর্যায়ের চাপে সরকার আদালতের সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার পথে। এতে বলা হয়, ১৯৮৫ সালে মিলানে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ওই সম্মেলনে প্রথম যে মৌলিক নীতি গৃহীত হয়েছিল তাতে বলা হয়েছে- রাষ্ট্র কর্তৃক বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হতে হবে এবং তা সংবিধান অথবা দেশের আইন দ্বারা সুরক্ষিত হতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখানো ও তা রক্ষা করা সব সরকার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার উন্নয়ন প্রক্রিয়া কিভাবে এগিয়ে গেছে ইতিহাস থেকে সে বিষয়ে অনুপ্রেরণা নিতে পারে বাংলাদেশ সরকার। অবশ্য যদি তারা তা মনে করে। কর্নওয়ালিস কোড অনুযায়ী, ১৭৯৩ সালে তৎকালীন বঙ্গে নির্বাহী বিভাগ থেকে জেলা জজকে স্বাধীন করা হয়। ওই বঙ্গ থেকেই আজকের এই বাংলাদেশের উৎপত্তি। কর্নওয়ালিস কোড যখন অনুসরণ করা হতো তখন জেলা কালেক্টরেট থেকে জেলা জজের কাছে বিচারিক ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশের জাতীয় এনসাইক্লোপেডিয়া, যার নাম বাংলাপিডিয়া- তাতে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক উত্তরাধিকার রীতিতে বেতন ও সম্মান (স্ট্যাটাস)-এর দিক দিয়ে ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টরের চেয়ে জেলা জজদের উঁচুতে স্থান দেয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার গ্যারান্টি দেয় এমন বেশ কিছু ধারা আছে বর্তমান সংবিধানে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয় ২২ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ‘নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ। রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।’ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার বাধ্য তা এই ধারায় পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সংবিধানের ৩৫ (৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ‘ফৌজদারী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচার লাভের অধিকারী হইবেন।’ এখানে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীন বিচার বিভাগ পাওয়ার মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে। সংবিধানের ৯৪ (৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ‘এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারক বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন।’ এখানে চূড়ান্তভাবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ধারণায় অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে অখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে।
আইনের শাসনের অধীনে সত্যিকারের গণতন্ত্রের ক্রমবিকাশ ও তার পরিপক্বতার জন্য স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রয়োজন। বাংলাদেশ গত চার দশক একটি স্বাধীন দেশ। এরই মধ্যে তাদের এই শিক্ষা পাওয়া ও তা অর্জন করা উচিত ছিল। কিন্তু তার পরিবর্তে বিচার বিভাগ রয়েছে ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণে। এর ফলে বিরোধী রাজনীতিকদের হয়রানি করা হয়। সুশীল সমাজের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করা হয় ও দায়মুক্তিকে উৎসাহ দেয়া হয়। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশের পুরো বিচারিক পরিমণ্ডলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠান বলতে যা হওয়ার কথা তা থেকে অনেক দূরে রয়েছে ফৌজদারী বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এর ফলে নিখোঁজ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ব্যাপক নির্যাতন, নিরাপত্তা হেফাজতে অন্যান্য রকম নির্যাতন হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাহী বিভাগের শক্তিশালী অঙ্গ। এসব মানবাধিকার ও সুশীল সমাজ নিপীড়নের বিচারে নির্বাহী বিভাগ থেকে মুক্ত না হওয়ায় বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা যন্ত্র অপারগ, অপ্রস্তুত ও কম শক্তিশালী। এতে আরও বলা হয়েছে, এর ফলে দেশে ন্যায়বিচারের ধারণায় প্রচণ্ড ধস নেমেছে। বিচার বিভাগকে স্বাধীনতা দেয়া না হলে অথবা বিচার বিভাগ আদর্শ মানে না এলে বিচার নিয়ে জনগণের আস্থা শক্তিশালী হবে না। কিন্তু বাংলাদেশে এ চিত্র তার ঠিক উল্টো।

২৬ হাজার স্কুলের দায়িত্ব নিলো সরকার

২৬ হাজার স্কুলের দায়িত্ব নিলো সরকার

প্রায় দুই দশকের আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লক্ষাধিক বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের এক মহাসমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী ২৬ হাজার ২০০ বিদ্যালয়ের এক লাখ ৩৮৪৫ জন বেসরকারি শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে বলেন, এখন যত্রতত্র  স্কুল গড়ে তুললে হবে না। প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিভাবে হবে। কোথায় প্রাথমিক বিদ্যালয় হবে তা আমরা দেখবো। যেগুলো বেসরকারি আছে সেগুলো থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর ২২ হাজার ৯৮১টি বিদ্যালয়ের ৯১ হাজার ২৪ জন শিক্ষক চলতি বছরের ১লা জানুয়ারি থেকেই সরকারের আওতায় চলে এলেন। এজন্য ২০১২-১৩ অর্থবছরে সরকারের বাড়তি খরচ হবে ১০০ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা চেয়েছিলেন শুধু রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জাতীয়করণ। আমরা যে শুধু রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ করছি তা নয়- আমরা স্থায়ী নিবন্ধনপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অস্থায়ী নিবন্ধনপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঠদানের অনুমতিপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এমপিও-বহির্ভূত কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত এনজিও বিদ্যালয়, পাঠদানের অনুমতির সুপারিশপ্রাপ্ত বিদ্যালয় এবং স্থাপিত কিন্তু চালুর অনুমতির অপেক্ষাধীন বিদ্যালয়সমূহ সরকারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্থায়ী/অস্থায়ী নিবন্ধনপ্রাপ্ত, পাঠদানের অনুমতিপ্রাপ্ত, কমিউনিটি এবং সরকারি অর্থায়নে এনজিও পরিচালিত ২২৫২টি বিদ্যালয়ের ৯০২৫ জন শিক্ষককে ১লা জুলাই থেকে এবং পাঠদানের অনুমতির সুপারিশপ্রাপ্ত এবং পাঠদানের অনুমতির অপেক্ষায় থাকা ৯৬০টি বিদ্যালয়ের ৩৭৯৬ জন শিক্ষককে তৃতীয় ধাপে আগামী বছর ১লা জুলাই জাতীয়করণের আওতায় আনা হবে। দ্বিতীয় ধাপের জাতীয়করণের জন্য ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সরকারের বাড়তি ৩৭১ কোটি টাকা এবং তৃতীয় ধাপে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৬৫১ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই মহাসমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আফসারুল আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এম নিয়াজউদ্দিন এবং সংগঠনের মহাসচিব মনসুর আলী। প্যারেড স্কোয়ারে নির্মিত বিশাল শামিয়ানা ছাড়িয়ে হাজার হাজার শিক্ষক দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনার এই বক্তব্য শোনেন। বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বেশির ভাগ সদস্য এই সমাবেশে অংশ নেন বলে সংগঠনের মহাসচিব মনসুর আলী জানান। বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতীয়করণের এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে এই সমিতি বিলুপ্ত হলো। এই সমিতির সকল সদস্য এখন থেকে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সদস্য। শিক্ষকদের জাতি গড়ার মূল কারিগর অভিহিত করে শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষকরাই একটি জাতিকে গড়ে তুলতে পারেন। স্বাধীনতার পরপরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ লাখ ৫৫ হাজার ২৩ জন শিক্ষক-কর্মচারীসহ ৩৬ হাজার ১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জাতীয়করণ করেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে জাতির পিতা এই সিদ্ধান্ত নিতে পারলে আমরা কেন পারবো না? শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯১ সালে শিক্ষকরা এই দাবিতে অনশন করেন। আন্দোলনে একজন শিক্ষক যখন মারা গেলেন তখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী- যিনি এখনকার বিরোধীদলীয় নেতা তার সুগন্ধা কার্যালয়ে একটি উৎসব করছিলেন। তিনি দাবি করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার স্বাক্ষরতার হার বাড়িয়ে গেলেও পরে বিএনপি আমলে তা কমে যায়। ভর্তির পর ঝরে পড়া রোধ করতে শিশুদের উপবৃত্তি দেয়ার কথাও মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। নিজ উদ্যোগে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা হাত পাততে চাই না, আত্মনির্ভরশীল হতে চাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পড়ালেই হবে না। শিক্ষার মান বাড়াতে হবে। ২০১০ সালে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন এবং ক্রমান্বয়ে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়ার কথাও সমাবেশে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, এ পর্যন্ত ৫৬ হাজার ৭২০টি বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শাখা খোলা হয়েছে। চলতি বছর থেকে শতভাগ বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় আছে। শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা চালু করার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে মূল বেতনের ১০০ শতাংশ দেয়া হচ্ছে। আর ২০১০-১১ অর্থবছরে ২৩৯টি নতুন রেজিস্টার্ড বেসরকারি বিদ্যালয়ের ১৪০৫ জন শিক্ষক এবং কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে এমপিওভুক্তি করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাকরি জাতীয়করণ রেজিস্টার্ড বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বহুদিনের দাবি। আমরা জানি, এর একটা যৌক্তিকতা রয়েছে। তা আমি উপলব্ধি করতে পারি। কিন্তু আপনারা জানেন, এজন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। প্রাথমিক শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন সরকারি হয়ে গেছে বলে স্কুলে না গিয়ে বাসায় বসে থাকবেন- তা হবে না। আপনাদের মনে রাখতে হবে, আপনারা যে টাকা পাচ্ছেন তা জনগণের টাকা। আমি আশা করছি, আপনাদের প্রতি সরকারের এ আন্তরিকতার প্রতিদান দিতে আপনারা আপনাদের সর্বোচ্চ শ্রম ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। গত বছরের ২৭শে মে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষকদের ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্বাস দেন শিগগিরই শিক্ষক মহাসমাবেশ থেকে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জাতীয়করণের ঘোষণা দেয়া হবে।
 

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ


ঐতিহাসিক ১০ই জানুয়ারি, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন দীর্ঘ ১০ মাস পাকিস্তানে কারাবাস শেষে ১৯৭২ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু স্বাধীন জন্মভূমির মাটিতে পা রাখেন। লাখো বাঙালি উৎসবের আনন্দে এদিন প্রিয় নেতাকে বরণ করেন। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালি জাতির স্বাধীনতা আন্দোলন নস্যাৎ করার জন্য গভীর রাতে হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে ওই রাতেই তারা নিরীহ-নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বর হামলা চালায়। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে স্বাধীনতার দাবি থেকে সরে আসতে বলা হয়। তা না হলে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। কিন্তু বাঙালির অধিকার ছাড়া তিনি কোন কিছু মানবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দেন। গ্রেপ্তারের পর পাকিস্তানি বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের নির্জন-অন্ধকার কারাগারে শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর বিচার। এতে তার ফাঁসির আদেশ হয়। কারাগারের যে সেলে বঙ্গবন্ধুকে রাখা হয়েছিল, সেই সেলের পাশে কবরও খোঁড়া হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবি ও প্রহসনের বিচার বন্ধ করতে প্রবল বিশ্ব জনমতের চাপের মুখে স্বৈরাচার পাকিস্তানি সরকার ফাঁসির আদেশ কার্যকর করতে সাহস পায়নি। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ, বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ হানাদারমুক্ত হয়। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক চাপে পাকিস্তান সরকার সদ্য ভূমিষ্ঠ স্বাধীন বাংলাদেশের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ইতিহাসের মহানায়ক লন্ডন ও দিল্লি হয়ে ১০ই জানুয়ারি বিজয়ীর বেশে বিশেষ বিমানে বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন। এ সময় অস্থায়ী সরকার, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধাসহ লাখো মানুষ বিমানবন্দরে পুষ্পবৃষ্টিতে বরণ করে নেয় প্রিয় এই নেতাকে। বঙ্গবন্ধুও তার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে অকৃত্রিম ভালবাসা আর শ্রদ্ধায় আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। বঙ্গবন্ধু নিজেই তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে আখ্যায়িত করেছিলেন ‘অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা’ হিসেবে। দিবসটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু’র প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা, সমাবেশ, র‌্যালি ও রক্তদান।
দিবসটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান তার বাণীতে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর অবদান অবিস্মরণীয়। শত জেল-জুলুম-নির্যাতন এমনকি ফাঁসির মঞ্চকে উপেক্ষা করে তিনি বাঙালি জাতিকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, দেশে আজ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলছে কাঙিক্ষত অগ্রগতির পথে। কোন অপশক্তি যাতে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের এ ধারা ব্যাহত করতে না পারে, জাতির জনকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, সকাল সাড়ে ছয়টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সারা দেশে সংগঠনের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাতটায় বঙ্গবন্ধু ভবনে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন এবং বেলা তিনটায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা। সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এক বিবৃতিতে সংগঠনের সব শাখাকে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

Wednesday, January 9, 2013

নারায়ণগঞ্জে জাপা নেতার নারী কেলেঙ্কারি, তোলপাড়

নারায়ণগঞ্জে জাপা নেতার নারী কেলেঙ্কারি, তোলপাড়

নারায়ণগঞ্জে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে জাপা নেতা বজলুর রহমান ওরফে হাজী রিপনকে গণপিটুনি দেয়ার ঘটনায় তোলপাড় চলছে। ছেলের যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব থেকে সদস্য পদ বাতিলের রেশ কাটতে না কাটতে তার এই ঘটনা আলোচনার ঝড় বইছে সর্বত্র। হাজী রিপন জেলা জাতীয় শ্রমিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক। সোমবার বিকালে শহরের পাইকপাড়া ভুঁইয়াপাড়া এলাকায় একটি বিউটি পার্লারে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে হাজী রিপনকে এক তরুণীসহ আটক করে এলাকাবাসী। পরে জনতার রোষানল থেকে পুলিশ ও র‌্যাব তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। নারায়ণগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ হাজী রিপন ও লিন্ডা আক্তার বৃষ্টি নামে ওই তরুণীকে ২৯০ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল সকালে আদালতে পাঠায়। বিকালে নারায়ণগঞ্জের চিপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট যাবিদ হোসেন শুনানি শেষে তাদের উভয়ের জামিন মঞ্জুর করেন। শুনানিকালে অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে এলাকাবাসীর রোষানলের শিকার বজলুর রহমান রিপন আদালতে নিজের দোষ স্বীকার না করে বলেন, তিনি নির্দোষ। তার সঙ্গে আটককৃত তরুণীকে আদালতে নিজের পারিবারিক আত্মীয় পরিচয় দেন হাজী রিপন। শুনানিকালে আটককৃত তরুণী লিন্ডা আদালতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তার স্বামী বিদেশে থাকে। আত্মীয়তার সুবাদে রিপন বিভিন্ন প্রয়োজনে তার বাড়িতে যেতো। রিপন ও লিন্ডার পক্ষে আদালতে মামলাটি পরিচালনা করেন এডভোকেট বিদ্যুৎ কুমার সাহা।
ঘটনার সূত্রপাত: সূত্রমতে, সোমবার বিকালে পাইকপাড়া ভূঁইয়াপাড়া এলাকার শাহাবুদ্দিনের বাড়ির দোতলায় ড্রিম ওয়ার্ল্ড নামে পার্লারে ঢুকে বজলুর রহমান রিপন ওরফে হাজী রিপন। পার্লারটির মালিক লিন্ডা আক্তার বৃষ্টি। মহিলাদের পার্লারে একজন পুরুষ প্রবেশ করায় বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। আধা ঘণ্টা পরেও রিপন ওই পার্লার থেকে বের না হওয়ায় স্থানীয়রা পার্লারের বাইরের দরজায় তালা বদ্ধ করে দেয়। পরে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে ওই পার্লার থেকে রিপনকে বের করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে সদর মডেল থানার এসআই আজিজ লস্কর ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতার রোষানল থেকে রিপনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এদিকে লিন্ডাকে বাঁচানোর জন্য স্থানীয় একটি পক্ষ তৎপরতা শুরু করে। কিন্তু অপর পক্ষ তাকেও পুলিশের কাছে সোপর্দের জন্য চাপ দেয়। এ নিয়ে একপর্যায়ে স্থানীয়রা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে র‌্যাব-১১’র একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে র‌্যাবের সহায়তায় সদর থানা পুলিশ অভিযুক্ত পার্লার ব্যবসায়ী লিন্ডাকেও আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পরিবহন সেক্টরের চিহ্নিত চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত হাজী রিপন ও তার সহযোগীরা প্রায় সময়েই লিন্ডার পার্লারে যাতায়াত করতো। রিপনের মদদে ওই পার্লারটিতে নারী ও মাদক ব্যবসা হতো। এ ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় কাউন্সিলর (সিটি করপোরেশনের ১৭নং) আলমগীর ইসলামেরও নেপথ্য মদদ রয়েছে বলেও তারা জানান। হাজী রিপন ও আলমগীর দুজনই ঘনিষ্ট বন্ধু। সম্প্রতি জামায়াত ও শিবিরের আটক নেতাদের থানায় তদবির করে ছাড়াতে এসে ফেঁসে গিয়েছিল আলমগীর ইসলাম। তার বিরুদ্ধে ১৭টি প্রতারণা মামলা ছিল। এদিকে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, রিপনের সঙ্গে সোমবার বিকালে আটককৃত লিন্ডা আক্তার বৃষ্টিকে রিপন বেশ কিছু দিন আগে বিয়ে করেছে। এটি রিপনের দ্বিতীয় বিয়ে। লিন্ডাকে বিয়ের পর রিপন তাকে ফতুল্লার আফাজ নগরের ব্যবসায়ী কলিমুল্লাহ দিপুর বাড়িতে বাসা ভাড়া করে রাখে। ঘটনাটি জানতে পারলে কয়েক মাস আগে বাড়িওয়ালা দিপু তাদের নোটিশ দিয়ে উঠিয়ে দেয়। এরপর রিপন লিন্ডাকে শহরের পাইকপাড়ার ভূঁইয়াপাড়া এলাকার শাহাবুদ্দিনের বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে রাখে। ওই ফ্ল্যাটেই লিন্ডা ড্রিম ওয়ার্ল্ড নামে বিউটি পার্লার চালু করে। ওই পার্লারের ভেতর থেকেই সোমবার বিকালে এলাকাবাসী রিপন ও লিন্ডাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। উল্লেখ্য, গত ২৩শে ডিসেম্বর এলিট শ্রেণীর ক্লাব হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের (সাবেক ইউরোপিয়ান ক্লাব) স্টাফদের বাথরুম থেকে অহনা নামে এক তরুণীসহ রিপনের ছেলে সীমান্তকে আটক করে ক্লাবের সদস্য ও স্টাফরা। এ অভিযোগে বজলুর রহমান রিপনের ক্লাবের সদস্য পদ বাতিল করে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ওই ঘটনার ১৬ দিনের মাথায় বজলুর রহমান রিপন একই অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক হলেন।

আমাদের ছায়াপথে পৃথিবীরআকারের গ্রহ ১৭শ কোটি

আমাদের ছায়াপথে পৃথিবীরআকারের গ্রহ ১৭শ কোটি


আমাদের ছায়াপথে পৃথিবীর সমান অন্তত ১৭শ' কোটি গ্রহ আছে। নাসার কেপলার টেলিস্কোপে ধরা পড়া গ্রহের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য প্রকাশ করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তারা জানান, ছায়াপথের নক্ষত্রগুলোর ১৭ শতাংশ গ্রহ বা প্রতিটি নক্ষত্রের ছয়টি গ্রহের মধ্যে একটি করে পৃথিবীর আকারের গ্রহ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল সোসাইটির বৈঠকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। খবর বিবিসি ও এএফপির।

সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আমাদের ছায়াপথ মিল্কিওয়েতে পৃথিবীর সমান বড় থাকার ফলে পৃথিবীর মত বৈশিষ্ট্যের গ্রহ আবিষ্কারের সম্ভাবনা বেড়ে গেছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেন, তারা নাসার মহাকাশযান ব্যবহার করে দেখতে পেয়েছেন, আমাদের সৌরমন্ডলের অন্তর্গত ১৭ শতাংশ নক্ষত্রেরই কাছাকাছি কক্ষপথে আমাদের পৃথিবীর সমান গ্রহ আছে। বিজ্ঞানীদের মতে ছায়াপথে ১০ হাজার কোটি নক্ষত্র আছে। হার্ভাড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের ফ্রাসোয়া ফ্রেসিন ও তার সহযোগী বিজ্ঞানীরা দেখতে পান যে, ১৭ শতাংশ নক্ষত্রেরই পৃথিবীর দশমিক ৮ থেকে ১.২৫ গুণ আকারের একটি গ্রহ রয়েছে যার আবর্তনকাল ৮৫ দিন বা তার কম। আর চার শতাংশ নক্ষত্রের পৃথিবীর ১.২৫ গুণ থেকে দ্বিগুণ আকৃতির একটি গ্রহ আছে যার আবর্তন কাল ১৫০ দিন বা তার কম।

নাসার কেপলার মিশন পৃথকভাবে ঘোষণা করে, তারা ৪৬১টি সম্ভাব্য নতুন গ্রহ আবিষ্কার করেছেন। এদের মধ্যে ৪টি পৃথিবীর আকারের দ্বিগুণের কম এবং তারা বাসযোগ্য দূরত্বে তাদের নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে থাকে। যেখানে পানি থাকার এবং প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০০৯ সালের মে থেকে ২০১১ সালের মে পর্যন্ত পরিচালিত পর্যবেক্ষণের উপর ভিত্তি করে গবেষকরা এ বিন্যস্ত তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন।

Tuesday, January 8, 2013

৪ আসামির রিমান্ড শেষ, নির্যাতিত ছাত্রীকে দেখতে গেলেন ড. মিজান ও কাদের সিদ্দিকী

৪ আসামির রিমান্ড শেষ, নির্যাতিত ছাত্রীকে দেখতে গেলেন ড. মিজান ও কাদের সিদ্দিকী

 

টাঙ্গাইলে ছাত্রী নির্যাতন ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ৪ আসামির রিমান্ড শেষ হয়েছে গতকাল। রিমান্ড শেষে আদালতের নির্দেশে তাদের জেলহাজতে রাখা হয়েছে। এদিকে, নির্যাতিত ছাত্রীকে দেখতে গতকাল হাসপাতালে গিয়েছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান। ও বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান ও কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। সোমবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে এসে মেয়েটির খোঁজ-খবর নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের ড. মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনা বলার ভাষা আমার নেই! তিনি বলেন, ছাত্রীটি মানসিক ভারসাম্যহীনভাবে জীবন-যাপন করছে। ঘুমিয়ে থাকার কারণে কিশোরীটির সঙ্গে তার কথা হয়নি উল্লেখ করে ড. মিজান বলেন, মেয়েটির মা আমাকে দুটো বাক্য বলেছেন। তা হলো- আল্লাহর ভরসায় ফেলে রাখলে বিচার হয় না। মানুষের বিচার মানুষকেই করতে হবে। এখন বিচার বিভাগকে নড়েচড়ে বসার সময় এসেছে। তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষের বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা আছে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, এ কথা মুখে নয় কার্যকর করতে হবে। এর আগে সকাল ১১টা ২০ মিনিটে মেয়েটিকে দেখতে হাসপাতালে যান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। এ সময় তিনি বলেন, এখন মানুষের অস্তিত্ব নেই। মানুষ অন্যায়ের বিচার পায় না। এই মেয়েটিও বিচার পাবে না। কাদের সিদ্দিকী বলেন, মেয়েটিকে নির্যাতনের মাধ্যমে সমগ্র জাতিকে নির্যাতন করা হয়েছে। এই সময় বীথিকে এক দিন রিমান্ড নেয়ার পর আর রিমান্ড না চাওয়ায় পুলিশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এই দেশে ছাত্র, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তি, শিক্ষকদের কোন অভিযোগে আটক করা হলে ৭ থেকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। কিন্তু ঘটনার মূল বীথিকে মাত্র এক দিনের রিমান্ড নেয়া হয়েছে। বীথিকে আরও কিছু দিনের রিমান্ডে নিলে হয়তো আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতো।
এদিকে টাঙ্গাইলের নির্যাতিত মেয়েটির অবস্থা এখন উন্নতির দিকে বলে জানালেন ওসিসির করডিনেটর ডা. বিলকিস বেগম। তিনি বলেন, মেয়েটি মানসিকভাবে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছে সে। ডা. বিলকিস আরও জানান, মেয়েটির মুখে খাবার খেতে কষ্ট হচ্ছে তাই তাকে নাক দিয়ে রাইলস টিউব দিয়ে তরল খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। এদিকে গত রোববার মেয়েটির এইচআইভি পারীক্ষা করা হয়েছে। যার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে বলে জানান তিনি। এদিকে সাভারে গণধর্ষণের শিকার ছাত্রী গত রোববার ওসিসি ত্যাগ করেছে বলে ডা. বিলকিস বেগম জানান। তিনি বলেন, ওই মেয়েটির মেডিসিনের প্রয়োজন হয়নি তবে তাকে কাউন্সিলিং করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্টাফ রিপোর্টার, টাঙ্গাইল থেকে জানান, টাঙ্গাইলের মধুপুরে সংগঠিত গণধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কয়েকটি সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশসহ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকার মানুষ ও সংগঠন। গতকাল দুপুরে ব্র্যাক, সেবক, ডেমোক্রেসি ওয়াচ, পেইস, সংযোগ, পল্লী সমাজ, পিডিএস, নিরাপদ সড়ক চাই ও আসকসহ বিভিন্ন সংগঠন শহরের নিরালা মোড় এলাকায় মানববন্ধন করে। পরে তারা মৌন মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে। এ সময় ব্র্যাকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক গোলাম সরোয়ার, সমন্বয়কারী মুনির হোসেন খান, চিত্তরঞ্জন সরকারসহ অনেকেই বক্তব্য রাখেন। একই দাবিতে নিজেরা করি, মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, ভূমিহীন সমিতি ও গালা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপি প্রদানের আগে নিজেরা করি’র ঢাকা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মো. শামছুল আলম, মো. আবদুল ওয়াদুদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। স্মারকলিপি দুটি গ্রহণ করেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাহবুব আলম। এদিকে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় চার আসামিকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে গত রোববার টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তকারী মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান আসামিদের গত রোববার টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করেন। এ সময় জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক আসামিদের জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মজিবর রহমান জানান, আসামিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলার প্রয়োজনে যা দরকার তার সবই করা হবে। উল্লেখ্য, গত ২রা জানুয়ারি টাঙ্গাইলের ‘খ’ অঞ্চল আমলী আদালত আসামি হারুণ অর রশিদ, নুরুজ্জামান, মনিরুজ্জামান মনি ও শাজাহান আলীকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। মামলার অপর আসামি ধর্ষিতার বান্ধবী বীথি আক্তারকে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রবীনা ফিরছেন বড় পর্দায়

রবীনা ফিরছেন বড় পর্দায়


আবার বড় পর্দায় ফিরছেন বলিউড তারকা রবীনা টেন্ডন। ‘শোভানা সেভেন নাইটস’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রত্যাবর্তন ঘটছে নব্বই দশকের জনপ্রিয় এ অভিনেত্রীর। ছবিটির সাফল্য নিয়ে দারুণ আশাবাদী জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া ৩৮ বছর বয়সী রাভিনা টেন্ডনের। এ প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, এরই মধ্যে ছবিটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। পুরস্কার পাওয়ার পাশাপাশি অনেক প্রশংসাও কুড়িয়েছে। এখন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনী সীমাবদ্ধ থাকলেও অচিরেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘শোভানা সেভেন নাইটস’। এক খবরে এমনটিই জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।
নব্বই দশক ও বর্তমান সময়ের বলিউডের মধ্যে তুলনা করতে গিয়ে রাভিনা বলেন, এখন বলিউডে পেশাদারিত্বের বিষয়টি অনেক বেড়েছে। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সব কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু দর্শকরা ছবি দেখার পরপরই তা ভুলে যাচ্ছেন। এদিক থেকে বিবেচনা করলে বর্তমান সময়ের চেয়ে নব্বই দশকই ভাল ছিল। তখন ভাল কোন ছবি মুক্তি পেলে দর্শকরা তা অনেক দিন মনে রাখতেন। রাভিনা আরও বলেন, বর্তমানে বলিউডের ছবির কলাকুশলীরা আগের তুলনায় অনেক বেশি পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। আমরা দশটি ছবিতে কাজ করে যে আয় করতাম, এখন একটি ছবিতেই সেই পারিশ্রমিক পাচ্ছেন তারা।

ভারতে ব্যাংকিং লেনদেনে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে একই ব্র্যাকেটে

ভারতে ব্যাংকিং লেনদেনে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে একই ব্র্যাকেটে

বাংলাদেশে ভারতের এয়ারটেল এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে, টাটা গ্রুপও জুতো ও সাইকেল তৈরির জন্য দুটি কারখানা তৈরির ঘোষণা দিয়েছে, অরবিন্দ মিলসও কুমিল্লায় ডেনিম কারখানা তৈরির জন্য তিন বছরে ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে চলেছে। বাংলাদেশে ভারতের বিনিয়োগ বাড়লেও বাংলাদেশের শিল্পপতিরা ভারতে বিনিয়োগ করতে এসে সমস্যার মুখে পড়ছে। আর এ ক্ষেত্রে ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া বাংলাদেশকে নিরাপত্তার প্রশ্নে পাকিস্তানের সঙ্গে একই ব্র্যাকেটে রেখেছে। এই অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক আহমেদ করিম। তিনি বলেছেন, ভারতের আর্থিক সংস্থার কাছে বাংলাদেশ এখনও নিরাপত্তার ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে। তিনি বলেছেন, ভারতে বাংলাদেশও কারখানা গড়তে চায়। তবে ব্যাংকিং লেনদেনের অসুবিধার বিষয়টি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন। বাংলাদেশের হাইকমিশনার করিম বলেছেন, আমরা শুধু জামদানি আর ইলিশ রপ্তানি করতে চাই না। বাংলাদেশের আরও অনেক কিছু রপ্তানি করার রয়েছে। তিনি বলেন, ভারত সরকার রপ্তানির ক্ষেত্রে অনেক বাধা তুলে দিলেও সেগুলি নিচু স্থরে এখনও বাধা হয়েই রয়েছে। এক বাংলাদেশী কূটনীতিকের মতে, রাজনৈতিক স্তরে দুই দেশ সব সমস্যার সমাধান করে ফেললেও সীমান্তের শুল্ক অফিসাররা লিখিত নির্দেশ না পাওয়ার অজুহাত দিয়ে বাধা সৃষ্টি করছেন। আর এক্ষেত্রে ভারতীয কাস্টমস কর্তাদের পুরানো মনোভাবই সমস্যা বড় হয়ে উঠেছে। দুই দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আরও চেকপোস্ট খুলে দেয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ড সার্টিফিকেটকে মান্যতা দেয়া এবং দ্রুত টেস্টিং করার ব্যবস্থা চালু করা জরুরি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের কূটনীতিকরা। তারা বলেছেন, বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে দুই দেশের ৬০ শতাংশ বাণিজ্য হয়। এই অত্যাধিক চাপ একটি চেকপোস্টে থাকায় নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাই বাস্তব ক্ষেত্রে আরও চেকপোস্ট খুলে দেয়ার আবেদন জানিয়েছেন তারা। সম্প্রতি কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজের এক সেমিনারে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক এ করিম বলেছেন, দুটি সুসংহত চেকপোস্ট ছাড়া আরও এক ডজন চেক পোস্ট রয়েছে। পণ্য চলাচলের জন্য সেগুলি খুলে দেয়া জরুরি। আর তাহলেই কানিকটিভিটি কথাটি প্রকৃত অর্থবহ হয়ে উঠবে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, এখনও যদি কানেকটিভিটি খুলে না দেয়া হয় তাহলে উত্তর-পূর্ব ভারত রুদ্ধ হয়েই থাকবে এবং এর ফলে ব্যবসা মার খাবে। বাংলাদেশের হাইকমিশনার বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারতে বাংলাদেশ তাদের তৈরি সামগ্রী, রেফ্রিজারেটর থেকে টিভি সবই রপ্তানি করতে আগ্রহী। সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, মুক্ত বাণিজ্যনীতি চালু হলে ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশই উপকৃত হবে। অথচ এই বিষয়ে আলোচনা অনেক দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকেও মুখ্য অর্থনীতিবিদ সঞ্জয় কাথুরিয়া জানিয়েছেন, কানেকটিভিটি বৃদ্ধির পাশাপাশি মুক্ত বাণিজ্যনীতি চালু করলে দুই দেশ উইন-উইন অবস্থায় পৌঁছাবে। এর ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্ত এলাকার মানুষের দারিদ্র্যও দূর করা সম্ভব হবে। বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, মুক্তবাণিজ্য নীতি প্রযুক্ত হলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যেও পরিমাণ একশ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

বিনিয়োগে সোনা এক নম্বরে

বিনিয়োগে সোনা এক নম্বরে


২০১৩ সালে কোন পণ্যটি বিনিয়োগের জন্য ভালো হবে? বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা অবস্থা বিরাজ করায় এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মাথাব্যথা ক্রমশ: বাড়ছে। তবে তাদের জন্য একমাত্র সমাধান সোনা নামক ধাতুটি। শুধু বিনিয়োগকারীরাই নয়, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও ঝুঁকছে সোনা কেনার দিকে। উন্নত দেশগুলো মন্দার রেশ কাটাতে প্রচুর পরিমাণ কাগুজে মুদ্রা ছাপিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সোনাকেই শক্তিশালী বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সোনার মজুদ কিছুটা বাড়াচ্ছে। এছাড়া ২০১৩ সালে পণ্যখাতে বিনিয়োগে দ্বিতীয় নামটি হচ্ছে গম। তৃতীয় হচ্ছে তামা। চতুর্থ স্থানে আছে পরিশোধিত তেল এবং তুলা। পণ্যবাজার বিশ্লেষণ করে ভারতীয় প্রভাবশালী ইকোনমিক টাইমস্ এ খবর দিয়েছে।

গত কয়েক বছরে বিশ্ববাজারে কাগুজে মুদ্রার দাম ক্রমাগত পড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের শংকা বিরাজ করে আসছে। অনেক বিনিয়োগকারী মুদ্রা কেনাবেচার চাইতে পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন বেশি। যদিও ২০১২ সালে চীনা মুদ্রা ইউয়ান ছিলো বিনিয়োগের বড় খাত। কিন্তু এবার সে ইউয়ানও পেছনে পড়ে গেছে।

সোনা: বিনিয়োগে একনম্বর

বিনিয়োগকারীদের ধারণা ছিলো গতবছর সোনা হবে বিনিয়োগের অন্যতম আকর্ষণীয় পণ্য। বলা হয়েছিলো প্রতি আউন্স সোনার দাম এ সময়ে দুই হাজার মার্কিন ডলারে দাঁড়াবে। কিন্তু তা হয়নি। সোনার দাম আগের বছরের চাইতে মাত্র ৭ শতাংশ বেড়ে সেপ্টেম্বর মাসে ১৯'শ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এজন্য অনেকে সোনা বিক্রি না করে ধরে রেখেছিলেন। বিনিয়োগ বিশ্লেষকরা বলছেন, যারা মজুদ করা সোনা বিক্রি করেননি তারা এবছর লাভবানই হবেন। কারণ উন্নত বিশ্বের দেশগুলো অর্থনৈতিক দুরাবস্থা থেকে মুক্তি পেতে প্রচুর পরিমাণে কাগুজে মুদ্রা ছাপিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবছর ৪৫০ টন সোনা কিনবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

সারাবিশ্বে সোনার যে মজুদ আছে তার বেশিরভাগই ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে। এ মজুদের পরিমাণ সাড়ে ১০ হাজার টনেরও বেশি। আট হাজার টনের বেশি সোনার মজুদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আছে দ্বিতীয় স্থানে-যা তাদের মোট বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের ৭৭ শতাংশ। এর পরের অবস্থানগুলো হচ্ছে- জার্মানি-৩ হাজার ৩৯৬ টন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল- ২ হাজার ৮১৪ টন, ইটালি- ২ হাজার ৪৫১ টন। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সাড়ে ১৩ টন সোনা মজুদ করে রেখেছে। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে- সারাবিশ্বে যে পরিমাণ সোনা রয়েছে তার বেশিরভাগই ব্যবহার হচ্ছে জুয়েলারিতে যার পরিমাণ ৫২ শতাংশ। এর পরের অবস্থানে রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ যার পরিমাণ ১৮ শতাংশ। ব্যক্তিগত বিনিয়োগের আওতায় আছে ১৬ শতাংশ, আর বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহার হচ্ছে ১২ শতাংশ। সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বা অন্যান্য মুদ্র্রার চাইতে বেশি পরিমাণে কিনতে পারে কিনা?—এমন প্রশ্নের জবাবে বিশিষ্ট ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব টিম আছে। তারা পর্যালোচনা করে দেখে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মুদ্রা কেনা লাভবান হবে নাকি সোনায় লাভবান হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিকট অতীতে রিজার্ভ হিসেবে সোনা কিনে লাভবান হয়েছে। বিশ্ব পরিস্থিতি দেখে তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

গম: দ্বিতীয় পছন্দ

২০১৩ সালে গমে বিনিয়োগ দ্বিতীয় পছন্দে থাকবে। এক বছরে এ পণ্যটির দাম ২৪ শতাংশ বেড়েছে। পণ্যটির সরবরাহ কম হলেও চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। তিনটি শীর্ষ গম আমদানিকারক দেশ হচ্ছে-মিশর, ইন্দোনেশিয়া ও জাপান। গম উত্পাদনকারী দেশ যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে বৃষ্টির কারণে এবার ফলন কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাশিয়ার আশপাশের দেশগুলোতে খরা আর যুক্তরাষ্ট্র ও আর্জেন্টিনায় অকালবৃষ্টি এ পণ্যটির ফলন কমিয়ে দেবে। তবে এক্ষেত্রে ভারতীয় কৃষকরা লাভবান হবেন। কারণ এবার ভারতে ফলন হয়েছে সবচেয়ে বেশি। বিনয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগে এটি দ্বিতীয় নম্বরে রাখতে পারেন বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গম উত্পাদন করে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো যার পরিমাণ ১৩ কোটি ১৮ লাখ টন। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে চীন। দেশটি মোট ১১ লাখ ৮০ হাজার টন গম উত্পাদন করে। ভারত উত্পাদন করে ৯ কোটি ৩৯ লাখ, আর যুক্তরাষ্ট্র উত্পাদন করে ৬ কোটি ১৭ লাখ। বিশ্বের গম উত্পাদনকারী দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৪ নম্বরে। বাংলাদেশের মোট গম উত্পাদন ১০ লাখ টনের কাছাকাছি।

তামা: আস্থায় তৃতীয়

২০১৩ সালে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় তৃতীয় নম্বরে আছে তামা। বিশেষ করে হাউজিং এবং বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্রমাগতভাবে বেড়ে যাওয়ায় এ ধাতুটির চাহিদা বাড়ছে প্রতিনিয়ত। সারাবিশ্ব যে তামা ব্যবহার হয় তার ৪০ শতাংশই ব্যবহার করে চীন। বিশ্বে এমনিতেই পরিশোধিত তামার ঘাটতি আছে। বিশ্ব কপার স্টাডি গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী- ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারবিশ্বে মোট এক কোটি ৪০ লাখ টন পরিশোধিত তামা উত্পাদন করা হয়েছে। আর এ সময়ে মোট তামা ব্যবহার করা হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ টন। চাহিদা এবং উত্পাদনে ঘাটতি থাকায় ইতিমধ্যে ব্যবসায়ীরা তামা মজুদে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সারাবিশ্বে প্রতিবছর প্রায় দুই কোটি টন তামা ব্যবহার হয়ে থাকে। এর মধ্যে এশিয়াতে ৪৬ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ২৮ শতাংশ, ইউরোপে ১৯ শতাংশ, আফ্রিকায় ৫ শতাংশ তামা ব্যবহার হয়ে থাকে।

পরিশোধিত জ্বালানির অবস্থান চতুর্থ

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে তেলের উত্পাদন কমে গেছে। আবার চীনসহ বিভিন্ন শিল্পোন্নত দেশের উত্পাদন ক্রমাগত বাড়তে থাকায় জ্বালানি তেলের চাহিদাও বাড়ছে। বিশ্বে গত একবছরে গাড়ী বিক্রির হার ৬ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে এবছর জ্বালানি তেল রয়েছে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় চতুর্থ নম্বরে। সাধারণত: তিনটি কারণে জ্বালানি তেলকে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ তিনটি কারণ হচ্ছে-তেলের উত্পাদন কমে যাওয়া, অন্যতম উত্পাদনকারী দেশ ইরানের ওপর অবরোধ আরোপ এবং উন্নত দেশগুলোতে সুদের হার ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে রাখা। তেল উত্পাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে ওপেকভূক্ত দেশের মজুদের পরিমাণ ১২'শ বিলিয়ন ব্যারেল। আর ওপেকের বাইরের দেশগুলোর মজুদ ২৮২ বিলিয়ন ব্যারেল। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল পরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১১১ মার্কিন ডলারের ওপরে। সরবরাহ ঘাটতির কারণে এবছর জ্বালানি তেলের দাম আরো বাড়বে বলে মনে করছেন বিনিয়োগ সংশ্লিষ্টরা।

হরতালবিরোধী বিল চূড়ান্ত করতে মতামত নেবে সংসদীয় কমিটি

হরতালবিরোধী বিল চূড়ান্ত করতে মতামত নেবে সংসদীয় কমিটি


সংসদে উত্থাপিত হরতাল বিরোধী বেসরকারি সদস্য বিল ‘জনস্বার্থ বিল-২০১০’ চূড়ান্ত করার আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবীদের মতামত নেবে সংসদীয় কমিটি। গতকাল বিকালে অনুষ্ঠিত বেসরকারি সদস্যদের বিল এবং বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠকে ‘সুপিরিয়র জুডিশিয়াল কমিশন বিল-২০১২’ আইনজীবীদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি আবদুল মতিন খসরু। বৈঠকে কমিটির সদস্য আ স ম ফিরোজ ও জুনাইদ আহমেদ পলক উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দিন খান আলমগীর, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মো. ইসরাফিল আলম ও জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. মুজিবুল হক চুন্নু।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০১০ সালের ২২শে জুলাই ‘জনস্বার্থ বিল-২০১০’ সংসদে উত্থাপন করেন জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু। এ বিলে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির কারণে জনগণের স্বাধীনতা বিঘ্নিত হলে সে দলের প্রধানসহ সর্বোচ্চ কমিটির বিরুদ্ধে মামলার বিধান করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বলা হয়েছে, কোন সংগঠনের রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সময় এ আইনের ধারায় অপরাধ সংঘটিত হলে ওই সংগঠনের নেতৃত্বদানকারী সর্বোচ্চ কমিটির প্রত্যেক সদস্য অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে এবং কৃত অপরাধের জন্য তারা আলাদাভাবে দণ্ডিত হবেন। বিলে নাগরিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রত্যেক জেলায় একটি করে ‘জনস্বার্থ সংরক্ষণ আদালত’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়। ওই আদালত নাগরিকদের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টির অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দিতে পারবে। আর এ সংক্রান্ত অপরাধ অ-জামিনযোগ্য বলে বিবেচিত হবে বলেও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে মুজিবুল হক চুন্নু সাংবাদিকদের বলেন, বিলটি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কমিটির সদস্যরা ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন। তবে এটি চূড়ান্ত করার আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সুশীল সমাজের মতামত গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংসদীয় কমিটি। দেশের রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি পালনকালে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসন এবং কর্মসূচি জনস্বার্থমুখী করার লক্ষ্যে ওই বিলটি আনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে সুপিরিয়র জুডিশিয়াল কমিশন বিল-২০১২ চূড়ান্ত করতে এটর্নি জেনারেল, আইন কমিশনের চেয়ারম্যানসহ বিশিষ্ট আইনজীবীদের মত গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংসদীয় কমিটি। গত ১০ই সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে উত্থাপিত এ বিলে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক পদে নিয়োগের জন্য যোগ্যতা নির্ধারণ করে আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৪২ বছরেও এ নিয়ে কোন আইন হয়নি। এ কারণে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সততা ও যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনা অগ্রাধিকার পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে একদিকে নিয়োগ পাওয়া বিচারকদের যোগ্যতা, সততা, নিরপেক্ষতা, কর্মদক্ষতা ও বিচারের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাই এ বিলটি আনা হয়েছে।
বৈঠকে রাশেদ খান মেনন উত্থাপিত ‘খনিজ সামগ্রী রপ্তানি নিষিদ্ধকরণ বিল-২০১০’ সংসদে উত্থাপনের জন্য প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। আর মো. ইসরাফিল আলম উত্থাপিত ‘বিদেশী নিবন্ধন বিল-২০১২’ পাস না করার সুপারিশ করে প্রতিবেদন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

Monday, January 7, 2013

ধর্ষণ রোধে মেয়েদের জন্য ওভারকোট

ধর্ষণ রোধে মেয়েদের জন্য ওভারকোট


ভারতের পন্ডিচেরি সরকার এবার মেয়েদের যৌন শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা করতে পর্দা প্রথার দিকে ঝুকে পড়ছে। এ লক্ষ্যে প্রশাসন শনিবার মেয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেসের ডিজাইন নতুন করে করার প্রস্তাব করেছে। এ ডিজাইনের আওতায় ওভারকোর্ট ব্যবহার করা প্রত্যেক মেয়ে শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামুলক করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকার স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারও নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে। রাজ্যের মুখ্যমস্ত্রীর সভাপতিত্বে শনিবার শিক্ষামন্ত্রণালয়ে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নতুন বছরের শুরুতে এক বাস কণ্ট্রাক্টরের হাতে দ্বাদশ শ্রেনীর এক শিক্ষার্থীর ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে বিক্ষোভ শুরু হবার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ধরণের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। সংশ্লিস্ট কর্মকর্তারা টাইমস অব ইনডিয়াকে বলেছেন বৈঠকে মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ওভারকোটের ব্যবহার, তাদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস চালু এবং স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি বলেন আমাদের সরকার নারী বিশেষ করে স্কুলের নারী শিক্ষার্তীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধ পরিকর। সরকারের এ ধরণের সিদ্ধান্ত নারী এবং মানবাধিকার কর্মীদের পক্ষ থেকে তীব্র আপিত্তি জানানো হয়েছে। অল ইনডিয়া ডেমক্রেটিক উইমেন’স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুধা সুন্দররমন বলেছেন আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে পোশাকের সঙ্গে যে ধর্ষণের কোন সম্পর্ক নেই সেটা সম্পর্কে সরকার ওয়াকেবহাল নয়। আসল সমস্যাকে চিহ্নিত না করে এর মাধ্যমে বিষয়টিকে হালকা করে দেখা হচ্ছে। নারী এবং মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এভাবে ওভারকোট ব্যবহারের পরামর্শ কোন সঠিক জবাব নয়। এ ধরণের ওভারকোট ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার এ অপরাধের জন্য নারীদেরকেই দায়ী এবং জবাবদিহি করার সুযোগ করে দিচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তামিমের ফিফটিতে জিতল ওয়েলিংটন

তামিমের ফিফটিতে জিতল ওয়েলিংটন দলের হারে এইচআরভি কাপে তাঁর প্রথম ফিফটিটা বিফলেই গিয়েছিল। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসরে টানা দ্বিতীয় ফিফটি করা তামিম ইকবাল এবার শেষ হাসি হাসতে পারলেন। নিজের পঞ্চম ম্যাচে খেললেন ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস। তাঁর ৪৭ বলে ৭৪ রানের বিস্ফোরক ইনিংসে বড় সংগ্রহ দাঁড় করানো ওয়েলিংটন ফায়ারবার্ডসও এক ম্যাচ পর আবার জয়ের মুখ দেখেছে। তারা ৫৭ রানে হারিয়েছে ক্যান্টারবারিকে।
আট ম্যাচে পঞ্চম জয়ে ২০ পয়েন্ট পাওয়া ওয়েলিংটন এখন আছে দুই নম্বরে। সমানসংখ্যক ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়ে নর্দান ডিস্ট্রিক্টের তৃতীয় স্থানে থাকার কারণ তারা রান গড়ে ওয়েলিংটনের চেয়ে পিছিয়ে। তবে এ দুটো দলের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলে ছয় জয়ে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে ওটাগো। যাদের সঙ্গে ওয়েলিংটনের দেখা হচ্ছে ১১ জানুয়ারি। কালকের ম্যাচে জেসি রাইডারকে (২৪ বলে ৩৭) নিয়ে ৭১ রানের সূচনা এনে দেওয়ার পর তামিম আট বাউন্ডারি আর তিন ছক্কায় সাজিয়েছেন তাঁর ইনিংসটি। এ ছাড়া বেন অরটন (৩২ বলে ৩৭*) ও মাইকেল পাপসদের (১৭ বলে ৩২*) অবদানে নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ১৯০ রান তোলে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েলিংটন। এরপর পেসার ইলি টুগাগা (৪/১৮) ও বাঁহাতি স্পিনার লুক উডককের (৩/৩৬) বোলিংয়ে ক্যান্টারবারি শেষ হয়ে যায় ১৩৩ রানেই।

Sunday, January 6, 2013

মুখ খুলেছেন ধর্ষিতার সেই পুরুষ বন্ধু

মুখ খুলেছেন ধর্ষিতার সেই পুরুষ বন্ধু


দিল্লিতে বাসে গণধর্ষণের সময় ধর্ষিতার সঙ্গে থাকা পুরুষ বন্ধুটি মুখ খুলেছেন। তিনি বলেছেন, তার ও তার বান্ধবীর সঙ্গে নৃশংস নির্যাতন চালানোর সময় তাদের কাপড়চোপড় কেড়ে নেয়া হয়। এ সময় তিনি গাড়ির জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী লোকজন ও পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশ ও অন্য কেউ তাদের সে ডাকে সাড়া দেয়নি। এর ফলে ওই নরপশুদের নৃশংস নির্যাতনের শিকার হন তার বান্ধবী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ভারতে তোলপাড় চলছে। গতকাল এ খবর দিয়েছে বিবিসি। এতে বলা হয়, তিনি ভারতের একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে বলেছেন, নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেষ্টা চালিয়ে তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। নির্যাতনে তিনিও অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। অন্যদিকে, ভারতে ধর্ষণ রোধে সরকার আইনে পরিবর্তন আনাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে চিন্তা করছে। দিল্লিতে নির্যাতিত তরুণীর ২৮ বছর বয়সী বন্ধুটি প্রথম নির্যাতনকারীদের আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছিল। তাদের আক্রমণে তার পা ভেঙে যায়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে তিনি চেতনা হারিয়ে ফেলেন। এখনও তার সেই ভয়াবহ ঘটনার আতঙ্ক কাটেনি। সেই তরুণ মুখ খুলেছেন দিল্লিতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে। তাতেই এমন সব বিষয় উঠে এসেছে। তিনি বলেছেন, এক পর্যায়ে কৌশলে সেই বাস থেকে তিনি কোনভাবে প্রাণে বেঁচে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন। ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এদিকে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল শিন্দে স্বীকার করেছেন, নারীদের ওপর অপরাধ রুখতে দেশটিতে পুলিশের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতার অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, নারীদের ওপর যেকোন হয়রানি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে বিশেষ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নারীরা যাতে নিরাপদে থাকতে পারেন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারেরই। দিল্লিতে সামপ্রতিক গণধর্ষণের ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেশটির সব রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং পুলিশ প্রধানদের নিয়ে বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই বৈঠকে ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া নিয়ে যেমন আলোচনা হয়েছে, তেমনি নারীদের ওপরে কোন অপ্রাপ্তবয়স্ক যদি নির্যাতন চালায়, তখন কমবয়সীদের বিচারের জন্য বিশেষ আইন বদল করে অপ্রাপ্ত বয়স্কের বয়সসীমা ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। কারণ দিল্লির সামপ্রতিক গণধর্ষণে অভিযুক্তদের একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক। কিন্তু সে-ই দু’বার ধর্ষণ ও তারপরে নির্যাতিতা তরুণীর ওপরে সব চেয়ে বেশি শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রগুলো জানিয়েছে। এদিকে ঘটনার ব্যাপারে আটক পাঁচজনের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তে ন্যাটোর ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন

তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তে ন্যাটোর ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন

 তুরস্কের সেনাবাহিনীকে পার্শ্ববর্তী সিরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র বা বিমান হামলা প্রতিহত করতে সহায়তার লক্ষ্যে ন্যাটো সেখানে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করতে শুরু করেছে। বিবিসি এক রিপোর্ট জানিয়েছে মার্কিন ইউরোপিয়ান কমান্ড বলেছে এর সেনা এবং সামরিক সরঞ্জাম দক্ষিণ তুরস্কে ইতিমধ্যেই পৌঁছাতে শুরু করেছে। আগামী দিনগুলোতে আরও এ ধরনের সেনা এবং সরঞ্জাম আসবে। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডস তাদের প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি তুরস্কে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। ছয় ব্যাটারির এ ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট জানুয়ারি মাসের শেষের দিকেই কাজ করতে শুরু করবে বলে সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। তুরস্কের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ন্যাটো গত মাসে তুরস্কে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। সিরিয়া থেকে কোন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কথা অস্বীকার করা হলেও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি ন্যাটো মধ্য ডিসেম্বরে নিশ্চিত করেছিল। এদিকে শুক্রবার ফ্রি সিরিয়ান আর্মি সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলের তাফতানাজ বিমান ঘাঁটি দখল নেয়ার জন্য তৃতীয় দিনের মতো চেষ্টা চালিয়েছে। সরকার ও বিরোধী সূত্র জানিয়েছে, বিমান ঘাঁটি দখল নেয়ার হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল নুসরা ফ্রন্ট অংশ নিয়েছে। শুক্রবার সিরিয়াজুড়ে কমপক্ষে ১২৯ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে লোকাল কোঅর্ডিনেশন কমিটি। তবে তাদের এ দাবির সত্যতা বা  নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা যায়নি।

১৪ দলের মানববন্ধন কর্মসূচি স্থগিত, কাল সভা

১৪ দলের মানববন্ধন কর্মসূচি স্থগিত, কাল সভা

ঢাকাসহ দেশব্যাপী মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা এবং বিএনপি-জামায়াত অশুভ জোটের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ১৪ দলের ডাকা মানববন্ধন কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার এ কর্মসূচি পালনের কথা ছিল।
এদিকে আগামী কাল বিকাল ৫টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের এক সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আলোচনা হবে। এ সভায় সংশিষ্ট সকলকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী অনুরোধ জানিয়েছেন।

কোন্দল থাকলেই পরাজয়

কোন্দল থাকলেই পরাজয়


ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ-১ আসন। এ আসনে ধোবাউড়ার ৭টি ও হালুয়াঘাট উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন রয়েছে। বর্তমান এমপি সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট প্রমোদ মানকিন। গত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আফজাল এইচ খানকে পরাজিত করে তিনি এমপি নির্বাচিত হন। ’৯০-এর পর শুধু ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আফজাল এইচ খান এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। দলীয় কোন্দলের কারণে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচিত হতে পারেনি। বাকি ৩টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এডভোকেট প্রমোদ মানকিন নির্বাচিত হন। গতবার নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে প্রথমে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী, বর্তমানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী করা হয়। এলাকায় তিনি একজন শান্ত ও ভদ্র মানুষ হিসেবে পরিচিত হলেও গত ৪ বছরে এলাকার প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন করতে পারেননি। তার ছত্রছায়ায় কিছু ব্যক্তি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি, বরং নীরব ভূমিকা পালন করেছেন। এতে আওয়ামী লীগের লোকজন চরম ক্ষুব্ধ তার প্রতি। এতে অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। ফলে বর্তমান এমপি প্রমোদ মানকিনের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে বলে দলের নেতাকর্মীরা জানান। এ আসনে বিএনপি-আওয়ামী লীগ দুই দলেই কোন্দলের কারণে দ্বিধাবিভক্তি রয়েছে। যারা দলীয় কোন্দল নিরসন করতে পারবেন সেই দলের প্রার্থীই বিজয়ী হবেন বলে উভয় দলের নেতকর্মীদের অভিমত।
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য যারা মনোনয়ন চাইবেন তারা হলেন আওয়ামী লীগের বর্তমান জাতীয় সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট প্রমোদ মানকিন, সাবেক ছাত্রনেতা ফারুক আহম্মেদ খান, ধোবাউড়ার বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট ইসলাম উদ্দিন খান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. সি এন সরকার চন্দন, ধোবাউড়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন। ১৮ দলীয় জোট ও বিএনপি থেকে যারা মনোনয়ন চাইবেন তারা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আফজাল এইচ খান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স ও হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির নেতা আলী আজগর ও ধোবাউড়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন।
আওয়ামী লীগ: এখানে তিন ভাগে বিভক্ত পড়েছে। প্রমোদ মানকিন গ্রুপ, ফারুক আহমেদ খান গ্রুপ ও তৃতীয় গ্রুপটি দু’জনকে ছেড়ে দিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে। আওয়ামী লীগের কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রমোদ মানকিন দলের অনেক প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাকে বিগত নির্বাচনের আগে হালুয়াঘাট উপজেলা কমিটি থেকে বাদ দেয়ায় দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। প্রমোদ মানকিনের বড় প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায় ফারুক খান। প্রমোদ মানকিনকে মনোনয়ন দিলে চরম বিরোধিতা করে ফারুক খানের সমর্থকরা। পরে গত উপজেলা নির্বাচনের সময় ফারুক খান উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হলে তার বিরোধিতা করেন প্রমোদ মানকিন গ্রুপ। ফলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফারুক খান পরাজিত হন। বিএনপি প্রার্থী আলী আজগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে হালুয়াঘাট আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় রয়েছে। ধোবাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছে ৭ বছর ধরে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইসলাম উদ্দিন খান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ বিশ্বাস বাবুলসহ বেশির ভাগ নেতাকর্মী নীরব ভূমিকা পালন করছেন। তারা বলেন, বর্তমান এমপি প্রবীণ ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোন মূল্যায়ন এবং এলাকার উন্নয়ন করেননি। ফলে দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ তার প্রতি চরম ক্ষুব্ধ।
বিএনপি: হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপি এখন তিন গ্রুপে বিভক্ত। এক গ্রুপে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী বিচারপতি টিএইচ খানের পুত্র হালুয়াঘাট থানা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক এমপি আফজাল এইচ খান। আরেক গ্রুপে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা (উত্তর) বিএনপির একাংশের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আজগর। তৃতীয় পক্ষ হচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছের লোক হিসেবে সরকারি বরাদ্দ নিয়ে এসে এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেছিলেন। বর্তমানে প্রিন্স দু’টি উপজেলায় ব্যাপক গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টির সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আজগর বিএনপিতে যোগ দেয়ার পর থেকে গ্রুপের সৃষ্টি হয়। হালুয়াঘাটের ব্যক্তি হিসেবে আলী আজগরের একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। তিনি দু’বার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
বিএনপির নেতা হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আজগর বলেন, বর্তমান সরকারের গত ৪ বছরে ধোবাউড়া-হালুয়াঘাট এলাকার কোন উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেননি। অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, হালুয়াঘাট বাইপাস সড়ক নির্মাণ, সীমান্ত সড়ক নির্মাণ, হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া সড়ক প্রশস্ত করে সমপ্রসারণ কোনটাই বাস্তবায়ন হয়নি। বরং সন্ত্রাস, খুন, ষাঁড়ের লড়াইয়ের নামে জুয়া, চুরি, ছিনতাই টেন্ডারবাজি বেড়েছে। এলাকায় গেলে উন্নয়ন কারও চোখে পড়বে না। বিএনপির আমলে শুরু হওয়া কাজগুলো শেষ হয়েছে। নতুন কোন উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। বিএনপি নেতাকর্মীরা বলেছেন, বর্তমান এমপি প্রমোদ মানকিন এলাকার উন্নয়ন করতে না পারলেও তিনি হালুয়াঘাটের নিজ গ্রামের বাড়িটিকে সুরম্য অট্টালিকায় উন্নীত করেছেন।