Pages

Monday, January 14, 2013

বাজার দখল করে নিচ্ছে স্বল্পমূল্যের স্মার্টফোন

বাজার দখল করে নিচ্ছে স্বল্পমূল্যের স্মার্টফোন


স্মার্টফোনের পথিকৃত্ বলা যায় আইফোনকে। আইফোনের পথ ধরেই স্যামসাং বাজারে এনেছে গ্যালাক্সি এস, গ্যালাক্সি নোট, এইচটিসি এনেছে ওয়ান এক্স। মটোরোলার ড্রয়েড রেজর, এলজি'র অপটিমাস বা নকিয়ার লুমিয়াও বাজারে এসেছে হাই-এন্ড স্মার্টফোন হিসেবেই। অত্যাধুনিক সব সুবিধা নিয়েই এসব স্মার্টফোন বাজারে এসেছে চমকে দিচ্ছে ব্যবহারকারীদের। তবে এসব স্মার্টফোনের মূল্য যখন কয়েকশ ডলার পেরিয়ে যায়, তখন বাজারে একশ ডলারের নিচেও রয়েছে অনেক মডেলের স্মার্টফোন। আর বিক্রিতে এসব স্মার্টফোন এগিয়ে রয়েছে অনেকটাই। ভবিষ্যতের বাজারেও এসব স্বল্পমূল্যের স্মার্টফোনই রাজত্ব করবে বলেই অনুমান করছে প্রযুক্তি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠানগুলো। এ প্রসঙ্গে প্রযুক্তি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা আইএইচএস সাপ্লাইয়ের প্রধান বিশ্লেষক ইয়ান ফগ বিবিসিকে জানিয়েছেন, 'আমরা ধারণা করছি, ২০১৬ সাল নাগাদ হ্যান্ডসেট বাজারের প্রায় ৩১ শতাংই দখল করে নেবে স্বল্পমূল্যের স্মার্টফোনগুলো। মৌলিক সুবিধার স্বল্পমূল্যের স্মার্টফোন এবং হাই-এন্ড সব স্মার্টফোনের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। হাই-এন্ড সব স্মার্টফোনে যেখানে সব ধরনের অত্যাধুনিক সুবিধা মেলে, সেখানে লো-এন্ড স্মার্টফোনে সেই সুবিধাগুলোর সব পাওয়া যায় না। তবে বাজারে এই ধরনের ডিভাইসের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।' বাজার বিশ্লেষকদের এই ধারণা সত্যি প্রমাণ করে নকিয়ার গত বছরের শেষ চতুর্ভাগের হিসাব। সম্প্রতি গত বছরের হিসাব প্রকাশ করেছে নকিয়া। আর তাতে দেখা গেছে, গত বছরের শেষ চতুর্ভাগে তাদের লুমিয়া সিরিজের সব স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে সাকুল্যে ৪.৪ মিলিয়ন ইউনিট। একই সময়ে তাদের স্বল্পমূল্যের আশা সিরিজের স্মার্টফোনগুলোর বিক্রি ছিল ১৪ মিলিয়নেরও বেশি। এদিকে লাস ভেগাসের কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স শোতেও স্বল্পমূল্যের বেশকিছু স্মার্টফোন প্রদর্শিত হয়েছে। সবমিলিয়ে স্বল্পমূল্যের স্মার্টফোনের বাজার বাড়বে, এটা বলাই যায়।

কম্বল বিতরণ করতে গাইবান্ধায় হেলিকপ্টারে উড়ে এলেন অতিথি

কম্বল বিতরণ করতে গাইবান্ধায় হেলিকপ্টারে উড়ে এলেন অতিথি


অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার পর হেলিকপ্টারে উড়ে এলেন অতিথি। তার অপেক্ষায় সকাল থেকে বসে থাকা সহস্রাধিক শীতার্ত মানুষ। আসার কথা সকালে কিন্তু এলেন বেলা আড়াইটায়। তারপর কম্বল হাতে পেয়ে ক্ষুধার্ত, ক্লান্ত আর শীতার্ত মানুষের বাড়ি ফেরা। গতকাল গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালীতে গণফোরাম ও জাতীয় ঐক্য যৌথভাবে শীতার্তদের মধ্যে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ উপলক্ষে রহিমা খাতুন সিদ্দিকীয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ময়দানে আয়োজন করা হয় কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠান। যারা কম্বল পাবেন তাদের হাতে স্লিপ দিয়ে বলা হয় খুব সকালে আসতে হবে, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। কথামতো কাজ। দরিদ্র শীতার্ত মানুষ একটি কম্বলের আশায় কাগজ হাতে নিয়ে হাজির লাইনে। সকাল থেকে অনাহার। বাড়ি থেকে কোনমতে পানি মুখে দিয়ে দৌড়। সেই থেকে বিকাল পর্যন্ত। অনেকেই ক্ষুধায় ছটফট করছিলেন। কিন্তু উপায় নেই। আগে শীতবস্ত্র। তারপর বাড়ি যাওয়া। পার্টির পক্ষে বলা হয় কম্বল বিতরণ করবেন গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেন। সঙ্গে থাকবেন মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান ও মোস্তফা মহসীন মন্টু। ৬ শ’ শীতার্তের মধ্যে কম্বল বিতরণ করতে লাখ টাকা খরচ করে অতিথিরা হেলিকপ্টারে উড়ে আসছেন। হেলিকপ্টার ঢাকা থেকে উড়ে এসে নামবে বাদিয়াখালী হাইস্কুল মাঠে। নিরাপত্তার জন্য আসে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন। শীতবস্ত্র বিতরণের এসব হুলুস্থুল কারবার দেখে হাজার মানুষ ভিড় জমায় বাদিয়াখালী হাইস্কুল মাঠে অতিথিদের দেখতে। সাংবাদিকরাও ক্যামেরা নিয়ে প্রস্তুত। বেলা ১২টার স্থলে বিকাল আড়াইটার দিকে ঢাকা থেকে ঠিকই উড়ে আসে হেলিকপ্টার। হেলিকপ্টার থামলো। ড. কামাল হোসেনের বদলে দরজা খুলে নামলেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু। নেতাকর্মীরা ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়ে সাদা গাড়িতে করে নিয়ে যান অনুষ্ঠানস্থলে। অনুষ্ঠানে মাইকে ঘোষণা করা হয় ড. কামাল হোসেন বিশ্ব ইজতেমার জন্য আসতে পারেন নি। হেলিকপ্টারের পাইলট জানান, এশিয়া এয়ার লাইন্সের এই হেলিকপ্টারের প্রতি ঘণ্টার ভাড়া ৭০ হাজার টাকা। তিনি জানান, ঢাকা থেকে গাইবান্ধায় যাতায়াতের সময় লেগেছে ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট। তাতে শুধু পরিবহন ব্যয় হয়েছে দেড় লাখ টাকার উপড়ে। লোকজন বলাবলি করছিল ৬শ’ কম্বল দিতে এসে এতো টাকা খরচ করে হেলিকপ্টার উড়ে এলো।

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ


কটিয়াদী উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং পাকুন্দিয়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-২ আসন। ২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পুনর্বিন্যাসকৃত এই আসনে ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার। নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল মান্নান দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট প্রার্থীরা কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়টি আসনে স্মরণকালের ভোট বিপ্লবে বিপুল ব্যবধানে চারদলীয় জোট প্রার্থীদের পরাজিত করেন। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল মান্নান ১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী চারদলীয় জোট প্রার্থী বিএনপি নেতা ইদ্রিস আলী ভুঁইয়া পেয়েছিলেন ৯৬ হাজার ৪৮৯ ভোট। সরকারের শেষ বছরে এসে দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নির্বাচনমুখী তৎপরতা। স্থানীয়দের মাঝে চলছে চাওয়া-পাওয়ার হিসাব-নিকাশ।
গত চার বছরে এ আসনের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার পর এ আসনের এমপির জনসম্পৃক্ততা কমে গেছে। এলাকার তেমন উন্নয়ন কাজও হয়নি। নেতাকর্মীদের অনেকে টিআর, কাবিখা প্রকল্পের গম-চাল-অর্থ লুটপাট, টেন্ডারবাজি ও দখলবাজিতে লিপ্ত। দলীয় কোন্দল, অন্তর্দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। স্থবির হয়ে পড়েছে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড। নির্বাচনের আগে তার নিজ উপজেলা কটিয়াদীবাসীকে উপজেলা সদরে গ্যাস সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন, নদী খনন, অন্তত একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ, মেডিকেল কলেজ স্থাপন, কর্মসংস্থান, উপজেলার প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ, রাস্তাঘাট পাকাকরণ ও উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ অন্তত এক ডজন প্রতিশ্রুতি দিলেও এর কোনটিরই বাস্তবায়ন সেভাবে মাঠপর্যায়ে দেখা যায়নি। এছাড়া উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার হয়েছে এ আসনের অপর উপজেলা পাকুন্দিয়াও। সেখানে স্থানীয় উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে প্রায় ২০ হাজার ভোট বেশি পান। কিন্তু এমপিদের উন্নয়ন বরাদ্দ ভাগাভাগির ক্ষেত্রেও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী পাকুন্দিয়া উপজেলা।
১৯৭৩ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৮টি জাতীয় নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ জেলায় সাতটি সংসদীয় আসন বহাল ছিল। হোসেনপুর ও পাকুন্দিয়া উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-১, কটিয়াদী উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-২, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৩, করিমগঞ্জ ও তাড়াইল উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৪, ইটনা, অষ্টগ্রাম ও মিঠাইন উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৫, নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৬ এবং ভৈরব ও কুলিয়ারচর উপজেলা নিয়ে ছিল কিশোরগঞ্জ-৭ আসন। কিন্তু বিগত নির্বাচনের আগে জেলার ঐতিহ্যবাহী কিশোরগঞ্জ-১ আসনটি বিলুপ্ত করে দিয়ে ৭টির পরিবর্তে ৬টি সংসদীয় আসনে পুনর্বিন্যাস করা হয়। এতে কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত হয় কিশোরগঞ্জ-২ আসন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল মান্নান। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য ড. আলাউদ্দিন আহমেদ, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস এ আসনের বাসিন্দা হওয়ায় বর্তমান মহাজোট সরকারের নিকট জনসাধারণের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। কিন্তু মহাজোট সরকারের ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এ নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি। তবে অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল মান্নান নিজেকে একজন সফল এমপি দাবি করে বলেন, জনগণের দাবি-দাওয়াগুলো পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়িত না হলেও সব জায়গাতেই পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। কটিয়াদী বাজার এলাকার রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে কটিয়াদীকে একটি মডেল শহরে রূপান্তরিত করা হয়েছে। উপজেলার মসূয়া এবং গচিহাটায় কৃষি ব্যাংকের দুটি শাখা চালু করা হয়েছে। এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও বর্তমানে জেলার মধ্যে সবচেয়ে ভাল। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আধুনিকায়ন করার মাধ্যমে এটিকে একটি রোগীবান্ধব হাসপাতালে পরিণত করা হয়েছে। বড় ধরনের কোন সমস্যা ছাড়া এখানেই প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান সম্ভব হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জন্য জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে এর কাজ শুরু করা হবে। পাকুন্দিয়া উপজেলার অবস্থা এসব ক্ষেত্রে আরও ভালো উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাকুন্দিয়া-কাপাসিয়া রাস্তাটি প্রশস্ত কম। এটিকে প্রশস্ত করে রাস্তাটির উন্নয়ন করার জন্য চেষ্টা চলছে। সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তিনি যথেষ্ট আন্তরিক উল্লেখ করে বলেন, পর্যায়ক্রমে এলাকার প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো সম্পন্ন করা হবে। এ আসনে দলের সাংগঠনিক অবস্থা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ দলীয় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিরোধ এখন চরমে। সরকারের এ সময়ে দলের মধ্যে বিবদমান কোন্দল নিরসনেও তেমন কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি। বরং নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। কটিয়াদীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল আলম গোলাপ ও সম্পাদক আবদুল ওয়াহাব আইনউদ্দীনের নেতৃত্বে ১২ বছর ধরে একই কমিটি দিয়ে চলছে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড। দলীয় কোন্দলের কারণে দীর্ঘদিনেও নতুন কোন কমিটি পায়নি সেখানকার নেতাকর্মীরা। এরই মাঝে ২০১০ সালের ৫ই মে নিজেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দলের মধ্যকার বিভেদ আরও উস্কে দেন এমপি ডা. মান্নান। যদিও নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পরবর্তীতে সে দাবি থেকে সরে আসেন তিনি। অপরদিকে প্রায় এক দশক ধরে পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড চলছে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে। সেখানে সোহরাব-রেনু দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। সময়ে সময়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট সোহরাব উদ্দিনের সমর্থকের সঙ্গে পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রেনুর সমর্থকদের হাতাহাতি, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা তাদের সে দ্বন্দ্বের বিষয়টি প্রকাশ্যে নিয়ে আসে। এমনকি খোদ এমপির উপস্থিতিতে ২০১১ সালের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান দুই গ্রুপের সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি হামলা, হাতাহাতি ও ভাঙচুরের ঘটনায় পণ্ড হয়ে যায়। এছাড়া দলীয় কোন্দলের কারণে ২০১১ সালের ২৭শে অক্টোবর অনুষ্ঠিত পাকুন্দিয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী থাকায় সেটি তাদের হাতছাড়া হয়- এমনটাই মূল্যায়ন স্থানীয় নেতাকর্মীদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারের শেষ সময়ে এসে এমপি ডা. মান্নান এলাকায় যথেষ্ট কর্মতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘন ঘন এলাকায় এসে গণসংযোগ ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হাজিরা দিচ্ছেন। আগামী নির্বাচনেও তিনি দলের মনোনয়ন পাবেন বলে তার সমর্থকরা আশাবাদী। তবে সাধারণ ভোটার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এ নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন, হিসাব-নিকাশ। কটিয়াদী উপজেলার বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বিগত সংসদ নির্বাচনের আগে এ আসনে প্রার্থী হিসেবে তৃণমূল নেতাকর্মীরা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এম এ আফজলকে নির্বাচিত করেছিলেন। যদিও শেষ মুহূর্তে এসে দলীয় মনোনয়ন পান ডা. মো. আবদুল মান্নান। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা তিনি সেই অর্থে পূরণ করতে না পারায় আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেন। এ অবস্থায় এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে অন্তত হাফ ডজন নেতা দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমএ আফজল, বিশিষ্ট শিল্পপতি মাঈনুজ্জামান অপু, আয়কর আইনজীবী আবুল ফজল আনার, কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লায়ন আলী আকবর, পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট সোহরাব উদ্দিন, পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রেনু প্রমুখ। এছাড়া এ আসন থেকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আলাউদ্দিন আহমেদ প্রার্থী হতে পারেন বলেও এলাকায় আলোচনা রয়েছে।
এদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট আন্দোলনে থাকায় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও এ আসনে বিএনপির অনেক নেতাই জমজমাট নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। এ আসনের দুটি উপজেলাতেই রয়েছে দলটির একক কমিটি। কোন্দলও অনেকটা অপ্রকাশ্য। এ অবস্থায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রার্থীরা তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছেন। গণসংযোগ ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদানের পাশাপাশি বিভিন্ন উপলক্ষে শুভেচ্ছা পোস্টার, বিলবোর্ড, ব্যানার ও তোরণ তৈরির মাধ্যমে এলাকাবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন তারা। ডিজিটাল ব্যানার-প্লাকার্ড আর পোস্টারে ছেয়ে যাচ্ছে বাসাবাড়ির দেয়াল, ছোট-বড় বাজার ও সড়কদ্বীপ। সাবেক কিশোরগঞ্জ-১ (কটিয়াদী) আসন থেকে দু’দুবার নির্বাচিত ও দল থেকে বহিষ্কৃত বহুল আলোচিত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের জায়গায় বিগত সংসদ নির্বাচনে পুনর্বিন্যাসকৃত কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি নেতা ইদ্রিস আলী ভূঁইয়া চারদলীয় জোট প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। দলীয় সূত্রমতে, এরপর থেকেই এ আসনে একজন নতুন প্রার্থীর সন্ধান করছে বিএনপি। ফলে এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন লাভে ইতিমধ্যেই তোড়জোড় শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। আলোচিত এসব প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপি নেতা ও পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইদ্রিস আলী ভূঁইয়া, পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও বর্তমান সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান খোকন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আশফাক আহমেদ জুন, কটিয়াদী পৌরসভার মেয়র ও পৌর বিএনপি সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খান দীলিপ, সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এডভোকেট মাহমুদুল ইসলাম জানু, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সুইডেন প্রবাসী শহীদুজ্জামান কাকন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আরফান উদ্দিন খান, রুহুল আমিন আকিল প্রমুখ। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালামের নামও জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। আবদুস সালাম এ আসনে প্রার্থী হিসেবে সরাসরি গণসংযোগ শুরু না করলেও সমর্থক নেতাকর্মীরা পাকুন্দিয়া ও কটিয়াদী উপজেলার স্থানে স্থানে শুভেচ্ছা জানিয়ে তার ছবি সংবলিত পোস্টার লাগিয়েছে। তবে দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন সমপ্রতি সবাইকে চমকে দিয়ে নিজেকে বিএনপির বিকল্পহীন প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছেন। কটিয়াদী এবং পাকুন্দিয়া উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে মতবিনিময় সভা করে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার কথা বলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় আখতারুজ্জামান রঞ্জনের প্রার্থিতার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নতুন করে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অপরদিকে জাতীয় পার্টির নেতাদের মধ্যে বদরুল আমিন বাচ্চু ও এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম শওকত এ আসনে জনসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া বিগত নির্বাচনে এ আসনে সিপিবি’র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেয়া জেলা সিপিবি সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মজিনা-শরণ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মজিনা-শরণ


একই দিনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন দুই দেশের কূটনীতিকরা। রুটিন বৈঠক হলেও সময়ের কারণে তা বেশ ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, কাকতালীয় কিংবা পরিকল্পিত যা-ই হোক, ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও ভারতীয় হাই কমিশনার একই দিনে কাছাকাছি সময়ে এর আগে কখনও পররাষ্ট্র দপ্তরে যাননি। অন্তত নিকট অতীতে তো নয়ই। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সিডিউলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনার সাক্ষাতের সময় ছিল ১১টায় আর ভারতীয় হাই কমিশনার পঙ্কজ শরণের বৈঠকের সময় নির্ধারিত ছিল ১২টায়। মন্ত্রী ডা. দীপু মনি মন্ত্রণালয়ের বাইরে জনশক্তি সংক্রান্ত জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সেমিনারে আটকে যাওয়ায় দপ্তরে ফিরতে দেরি হওয়ায় তার আগেই বৈঠকের জন্য সেখানে পৌঁছে যান দুই মিশন প্রধান ও তাদের টিম। সংশ্লিষ্ট উইংয়ের কর্মকর্তারা তাদের স্বাগত জানান এবং আলাদা অতিথি কক্ষে সঙ্গ দেন। দীপু-মজিনা বৈঠকের পুরো সময়ই ভারতীয় হাই কমিশনের কূটনীতিকরা মন্ত্রণালয়ের মূল ভবনের নিচতলার অতিথি কক্ষে অপেক্ষায় ছিলেন। এক ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক শেষে মার্কিন দূত বেরিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে মানবজমিন সহ উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সামপ্রতিক বিষয়াদি তো ছিলই, নতুন বছরের কার্যক্রম ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ওবামা প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের রদবদলের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, আমি মন্ত্রীকে জানিয়েছি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির দায়িত্ব পাওয়া ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ কোন পরিবর্তন আসবে না। তবে তার নেতৃত্ব বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও গভীর ও গতিশীল করবে বলে আশা করেন রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা চলমান থাকার বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলেও জানান ড্যান মজিনা। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে প্রশ্ন ছিল- আগামী নির্বাচনে সৃষ্ট সঙ্কটের সমাধানে তিনি মধ্যস্থতা করছেন বলে তার দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তার বরাত দিয়ে যে খবর বেরিয়েছে তার সত্যতা কতটুকু? রাষ্ট্রদূত বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই চায় বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক। এখানে সবদলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও সুন্দর একটি নির্বাচন হোক। তবে এ নির্বাচনের পদ্ধতি কি হবে তা এখানকার জনগণই নির্ধারণ করবেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বিদায়ের পর ভারতীয় হাই কমিশনার পঙ্কজ শরণ মন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক করেন। বৈঠকে ডেপুটি হাই কমিশনার ও রাজনীতি বিভাগের প্রথম সচিবও উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠক নিয়ে ভারতীয় হাই কমিশনার কোন কথা বলেননি। পরে পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত পূর্ব নির্ধারিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী ডা. দীপু মনি বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। বলেন, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল শিনদে’র ঢাকা সফরসহ ভারতের বেশ ক’জন মন্ত্রী-সচিবের সফর এবং জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশন ও জয়েন্ট রিভার কমিশনের পরবর্তী বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তিস্তা বা ল্যান্ড বাউন্ডারির বিষয়ে নতুন কোন আলোচনা বা অগ্রগতি নেই। তবে সীমান্ত হত্যা পুরোপুরি বন্ধে দু’দেশ কিভাবে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সৌজন্য এ বৈঠকে টিকফা’র প্রসঙ্গ আসেনি, জিএসপি’র বিষয়টি এসেছে। বাংলাদেশের জন্য কেন এই সুবিধাটি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন তা যৌক্তিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ ১০০ আসন পাবে কিনা সন্দেহ

আওয়ামী লীগ ১০০ আসন পাবে কিনা সন্দেহ


রংপুর থেকে: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ আমার প্রতি অবিচার করেছে। সুযোগ পেলে আমিও তাদের প্রতি অবিচার করবো। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১০০ আসন পাবে কিনা সন্দেহ। একই অবস্থা বিএনপি’র হবে। গতকাল
মিঠাপুকুরে তিনি এক জনসভায় এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ১৭ বছর আগে আমার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে। যাতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন আমি যেন তাদের বাইরে না যাই। আমাকে একটা চাপের মধ্যে তারা রাখতে চায়। ছাত্রলীগ আর যুবলীগের তাণ্ডব এবং বিরোধীদলীয় নেত্রীর দেশ থেকে টাকা পাচারের যন্ত্রণা থেকে দেশবাসী মুক্তি চায়। এজন্য তারা বিকল্প সরকার খুঁজছে। জনগণ এখন অনেক সচেতন। তারা সব কিছুই বোঝেন। তাদের আর বোঝাতে হবে না। এরশাদ বলেন, আমাকে জেলে রেখে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে বাঁচিয়েছে। তাই তাদের ঋণ কোনদিন শোধ করতে পারবো না। দেশের মানুষ এখন বুঝতে পেরেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র চেয়ে এরশাদ সরকারের আমল অনেক ভাল ছিল। তাই তারা জাতীয় পার্টিকে আবার ক্ষমতায় দেখতে চায়। আর এজন্য আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এককভাবে নির্বাচন করার। জাপা চেয়ারম্যান বলেন, এবারের নির্বাচন হবে আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। এ নির্বাচনে আমাকে জিততে হবে।
এরশাদ বলেন, তাদের বিরুদ্ধে অনেক দুর্নাম। ছাত্রলীগ ও যুবলীগ জমি, বাড়ি দখল, টেন্ডারবাজি- এমন কিছু নেই যা তারা করেনি। তাদের এসব অপকর্মের কারণে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ। আর বিএনপি ক্ষমতায় থেকে দুর্নীতি করে হাজার হাজার কোটি টাকা কামিয়েছে। সে টাকা টাকা বিদেশে পাচার করেছে। বর্তমান সরকার ওই টাকা আবার দেশে ফেরত আনছে। এসব কিছুর অভিযোগ আমাদের বিরুদ্ধে নেই। আমাদের হাত পরিষ্কার। এজন্য দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়।
সভায় জাপা কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মশিউর রহমান রাঙ্গা, জাপা নেতা এডভোকেট সালাহ উদ্দিন কাদেরি, পীরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান প্রমুখ। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান চারদিনের সফরে শনিবার রাতে রংপুরে আসেন।

জেরিনের মৃত্যু নানা রহস্য

জেরিনের মৃত্যু নানা রহস্য


মেডিকেল কলেজছাত্রী মুন জেরিনা আরবিন ওরফে জেরিনের মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। জেরিনের স্বজনদের দাবি, জেরিনকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রেমিক স্মরণের হাতেই খুন হয়েছে জেরিন। অন্যদিকে পুলিশের হাতে আটক কাজী স্মরণের দাবি, রেল লাইন ধরে হাঁটার সময় দুর্ঘটনায় জেরিনের মৃত্যু হয়েছে। ট্রেনের ধাক্কায় মাথায় আঘাত পেয়ে মারা গেছে। তদন্তকারী সংস্থা রেলওয়ে থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন বলেন, এ মৃত্যু নানা রহস্যের তৈরি করেছে। প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার হিসাব মিলছে না। এ কারণে জেরিনের প্রেমিক স্মরণকে প্রধান আসামি করে থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। মামলার বাদী জেরিনের খালু হারুনুর রশীদ। রহস্য উদঘাটনের জন্য স্মরণকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে কানাডার নাগরিক জেরিনের এমন মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশস্থ কানাডিয়ান দূতাবাস উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন দূতাবাসের কর্মকর্তারা। মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানে দূতাবাসের তিন সদস্যের একটি টিম গতকাল ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দূতাবাসের এক তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, জেরিন কানাডার নাগরিক। তার পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানার জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ওদিকে মেয়ের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে কানাডাপ্রবাসী পিতা মীর কায়কোবাদ ও মাতা কানাডার ওন্টারিও থেকে বাংলাদেশে রওনা দিয়েছেন। তাদের মেয়ের লাশ শমরিতা হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। এর আগে গতকাল বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে জেরিনের লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
জেরিনের স্বজনরা জানান, দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে জেরিন সবার বড়। পরিবারের সব সদস্য কানাডায় থাকলেও জেরিন ঢাকাতেই পড়াশোনা করছিলেন। রাজধানীর উত্তরা উইমেন মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। থাকতেন ওই কলেজের হোস্টেলে। জেরিনের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, ২০০৬ সালের ২৯শে ডিসেম্বর ফেসবুকের ব্যক্তিগত পেজ খোলেন জেরিন। ওই দিনই বাংলাদেশী যুবক মহীউদ্দীন স্মরণ ওরফে কাজী স্মরণ ইংল্যান্ড প্রবাসী পরিচয়ে জেরিনকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান। জেরিন বন্ধু তালিকায় গ্রহণ করেন তাকে। এরপর প্রায় প্রতিদিনই তাদের মধ্যে কথোপকথন চলে। ব্যক্তিগত আলাপচারিতার ফাঁকে ফাঁকে পারিবারিক খোঁজ-খবর নেন উভয়ে। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। সেই সূত্র ধরে উভয় পরিবারে ঘনিষ্ঠতাও বাড়তে থাকে। স্মরণের মা দাবি করেন, ঘটনার আগে ১১ই জানুয়ারি জেরিন দক্ষিণ খান থানাধীন চালবন এলাকায় তাদের বাসায় গিয়েছিলেন। দুপুরের খাবার খেয়ে দীর্ঘক্ষণ গল্প করেছিলেন। পরে হোস্টেলে চলে যান। তিনি বলেন, আমার ছেলে ইংল্যান্ড থেকে বিবিএ পাস করেছে। বর্তমানে একটি কল সেন্টারে চাকরি করছে। জেরিনের মাতার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। শিগগিরই দেশে ফিরে উনারা পারিবারিকভাবে আংটি পরাবেন বলে জানিয়েছিলেন।
জেরিনকে সন্দেহ করতো: কারণে-অকারণে জেরিনকে সন্দেহ করতো স্মরণ। কোথায় যায়, কার সঙ্গে কথা বলে, এমনকি ফেসবুকে তার বন্ধু তালিকা নিয়েও তাদের মধ্যে একাধিকবার মনোমালিন্য হয়েছে। সর্বশেষ গত ৩১শে ডিসেম্বর থার্টি ফার্স্ট নাইটে তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়েছিল। জেরিনের কলেজ সূত্র জানায়, সমপ্রতি কে বা কারা স্মরণকে বলেছিল, তোর কানাডিয়ান প্রেমিকা (জেরিন) তোকে শুধু ব্যবহার করছে। সিঁড়ি হিসেবে কাজে লাগিয়েছে। পড়াশোনা শেষ হলেই অন্য ছেলে নিয়ে চম্পট দেবে। এরপর থেকেই তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সহপাঠীদের ধারণা, জেরিনকে ডেকে নিয়ে কৌশলে হত্যা করা হয়েছে। পরে রেল লাইনে ট্রেনের ধাক্কার নাটক সাজিয়েছে।
পুলিশের সন্দেহ: এদিকে জেরিনের মাথার পেছনে একটি আঘাত দেখে পুলিশের মনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তদন্ত সূত্র জানায়, জেরিন হেড ইনজুরিতে মারা গেছে। ট্রেনের ধাক্কায় মারা গেলে মৃতের শরীরে আরও আঘাত থাকার কথা। এছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশ টুকরা টুকরা হওয়ার কথা। কিন্তু জেরিনের মাথা ছাড়া অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ওদিকে দুর্ঘটনা ও দুর্ঘটনাস্থল নিয়েও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে স্মরণ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় তারা দু’জন দুই পথে হাঁটছিলেন। একবার বলেছেন, বিশ্বরোড দিয়ে উত্তরা যাচ্ছিলেন। এ সময় তাদের সামনে দিয়ে ঢাকাগামী একটি ট্রেন জেরিনকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। আবার বলেছে, রেডিসন হোটেলের পেছন দিকে রেল লাইনের দু’পাশে দু’জন দাঁড়িয়েছিলেন। তবে কেন দু’পাশে দু’জন ছিলেন সে সম্পর্কে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। এছাড়া ট্রেন ধাক্কা দেয়ার আগে তিনি কেন বাঁচাতে যাননি সে প্রশ্নও এড়িয়ে যান। আহত অবস্থায় কুর্মিটোলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নথিপত্রে স্মরণ নিজেকে জেরিনের স্বামী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বিয়ের কথা অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে জেরিন ও স্মরণের ফেসবুক পেজে উল্লেখ আছে, ‘উই গট মেরিড’। বিয়ের তারিখ ২২শে মে ২০০৮। জেরিনের ফেসবুকের ফ্রেন্ডশিপ অপশনে ২০১২ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর লেখা হয়েছে, ইন রিলেশনশিপ উইথ কাজী স্মরণ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রেলওয়ে থানার এসআই আলমগীর হোসেন বলেন, জেরিনের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার লক্ষণ খুঁজে পাওয়া যায়নি তার শরীরে। এ কারণে গ্রেপ্তারকৃত স্মরণের শনাক্ত করা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে সে একেকবার একেক জায়গা দেখিয়েছে।
রেললাইনে দাঁড়িয়ে ঝগড়া: রেললাইনে দাঁড়িয়ে ঝগড়া করেছিলেন মেডিকেল কলেজের ছাত্রী জেরিন ও তার প্রেমিক স্মরণ। ঝগড়ার এক পর্যায়ে জেরিনকে বিমানবন্দরগামী ট্রেনের নিচে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে এমন তথ্য পেয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জিআরপি থানার এসআই আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী জেরিনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
জেরিনের খালু শামীম পারভেজ বলেন, জন্মসূত্রেই জেরিন কানাডার নাগরিক। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন তার ছোটবেলা থেকেই। তবে কানাডার মেডিকেল কলেজে চান্স না পেয়ে গত বছর সে বাংলাদেশে আসে। ভর্তি হয় উত্তরার উইমেন্স মেডিকেল কলেজে। সে মেডিকেল কলেজের হোস্টেলেই থাকতো। তিনি আরও বলেন, জেরিনের একজন সহপাঠীর চাচাতো ভাই স্মরণ। এই সুবাদেই সম্প্রতি স্মরণের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে স্মরণ মাদকাসক্ত হওয়ার বিষয়টি জানতে পারার পর সম্প্রতি তাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। দু’দিন আগে জেরিন রামপুরাস্থ তার খালুর বাসায় বেড়াতে গিয়েছিল। স্মরণই তাকে চাপ প্রয়োগ করে বাসা থেকে বের করে নিয়ে আসে। পরে সে জেরিনের খালাতো ভাই আদিবকে ফোন করে জানায় জেরিন বাস এক্সিডেন্টে আহত হয়েছে। জন্মের পর জেরিন সর্বপ্রথম বাংলাদেশে আসে ১৯৯৪ সালে। গত বছরই সে দ্বিতীয় বারের মতো বাংলাদেশে এসেছে। কানাডার টরেন্টোর ক্রিসেন্ট টাউন স্কুলেই সে লেখাপড়া করতো। এজন্য এর আগে জেরিনের সঙ্গে তার পরিচয়ের কোন সুযোগই ছিল না। স্মরণ অবশ্যই জেরিনের ফেসবুক আইডি হ্যাক করেছিল। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অবশ্যই সে স্বীকার করবে। গত শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজধানীর বিশ্বরোড এলাকার রেললাইনে ট্রেনের ধাক্কায় জেরিনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়।

Sunday, January 13, 2013

কাগজের মতোই পাতলা, নমনীয় হবে ট্যাবলেট

কাগজের মতোই পাতলা, নমনীয় হবে ট্যাবলেট


সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তি পণ্য হয়ে উঠছে আরও ক্ষুদ্রাকৃতির এবং পাতলা। সাম্প্রতিক সময়ে স্মার্টফোন আকারে বড় হয়ে উঠলেও এর কমতির দিকেই রয়েছে। ট্যাবলেট পিসিগুলোর পুরুত্বও কমে যাচ্ছে সময়ের সাথে সাথে। আবার আল্ট্রাবুকের মাধ্যমে ল্যাপটপের পুরুত্বও দিন দিন কমছেই। প্রযুক্তি পণের পুরুত্ব কমানো নিয়ে গবেষণা করতে করতে এবার এক যুগান্তকারী উদ্ভাবনের ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার একদল গবেষক। তারা এমন এক ধরনের স্ক্রিন বা পর্দা উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন, যা হবে কাগজের মতোই পাতলা এবং নমনীয়। ফলে একে ইচ্ছেমতো মোড়ানো যাবে এবং পড়ে গেলেও কোনো ধরনের ক্ষতি হবে না। প্রাথমিকভাবে ট্যাবলেট পিসির জন্য এই পর্দা তৈরি করা হলেও আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই ল্যাপটপের পর্দাতেও এটি ব্যবহার হবে বলেই আশাবাদ জানিয়েছেন নির্মাতারা। প্লাস্টিক লজিক নামের একটি প্রতিষ্ঠান এবং ইন্টেল ল্যাবের সহায়তায় কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক উদ্ভাবন করেছেন এই পাতলা, নমনীয় ডিসপ্লে যাকে আক্ষরিক অর্থে ভাঙ্গা যায় না। এই পর্দা ব্যবহার করে যে ট্যাবলেট পিসির প্রোটোটাইপ তারা উদ্ভাবন করেছেন, তার নাম দেওয়া হয়েছে পেপারট্যাব। ইন্টেলের দ্বিতীয় প্রজন্মের কোর টিএমআই৫ প্রসেসর ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এটি, যা ডিজাইন করেছে প্লাস্টিক লজিক। এই ট্যাব সম্পর্কে প্লাস্টিক লজিকের সিইও ইন্দ্র মুখার্জি জানিয়েছেন, 'আজকের দিনে যে ধরনের কাঁচের ডিসপ্লে ব্যবহার করা হচ্ছে, তার চাইতে সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে এই ডিসপ্লে। পাতলা, হালকা এবং নমনীয় এই ডিসপ্লে ব্যবহারের অভিজ্ঞতা হবে সম্পূর্ণ আলাদা।' গত পরশু শুরু হয়ে যাওয়া কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক শো'তেও এটি প্রদর্শন করা হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। নতুন এই পর্দা ব্যবহারে নতুন ধরনের ধারণাও প্রদর্শন করেছেন গবেষকরা। প্রচলিত ডিভাইসগুলোতে একটিমাত্র ডিসপ্লেই ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে পেপারট্যাব ব্যবহার করে আলাদা আলাদা ডক্যুমেন্টের জন্য আলাদা আলাদা ডিসপ্লে ব্যবহার করাও সম্ভব। শুধু তাই নয়, একাধিক পেপারট্যাব একসাথে জুড়ে দিয়ে বড় আকারের ডিসপ্লে তৈরি করা সম্ভব হবে বলেও জানিয়েছেন গবেষকরা। আবার এই পর্দাগুলো নমনীয় বলে এর নমনীয়তাকে ব্যবহার করেও বিভিন্ন ধরনের ফাংশন যুক্ত করার সুবিধা থাকবে এতে। ইন্টেল আশা করছে, এই ডিসপ্লে প্রচলিত সব ধরনের ডিসপ্লেকে প্রতিস্থাপন করকে সক্ষম হবে।

সংবিধানে বিপজ্জনক অনুচ্ছেদ

সংবিধানে বিপজ্জনক অনুচ্ছেদ


রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম, ধর্ম নিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র কিংবা এই সংবিধানের কোন বিধান সম্পর্কে নাগরিকের মনে অনাস্থা সৃষ্টি করলে তা রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রদ্রোহিতার এই অপরাধের কথা বর্ণিত রয়েছে। এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছরের কারাদণ্ড। সংবিধান একদিকে নাগরিকের বাক-স্বাধীনতার অধিকার দিয়েছে অন্যদিকে এই অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সংবিধানের বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। যে কথা বলা বা সমালোচনার মাধ্যমে সংবিধানের কোন বিধান সম্পর্কে নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত হতে পারে। আইন বিশেষজ্ঞরা এ সংক্রান্ত ৭(ক) অনুচ্ছেদকে বিপজ্জনক ও মৌলিক অধিকার পরিপন্থি বলে অভিহিত করেছেন। তারা বলেছেন, মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্য আইন আপনা-আপনি বাতিল বলে গণ্য হবে।

জাতীয় সংসদে ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন-২০১১ পাস হয়। বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে বিলটি পাসের পক্ষে ২৯১ ও বিপক্ষে মাত্র একটি ভোট পড়ে। ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে রাখার ঘোরতর বিরোধী জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টিও বিলটি পাসে ভোট দেয়। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত, বিতর্কিত এবং বিপজ্জনক সংশোধনী হচ্ছে ৭(খ) অনুচ্ছেদ।

সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ ইত্যাদি অপরাধের বর্ণনা রয়েছে ৭(১) অনুচ্ছেদের (ক) উপ-অনুচ্ছেদে। এতে বলা হয়েছে, এই সংবিধান বা ইহার কোন অনুচ্ছেদ রদ, রহিত বা বাতিল বা স্থগিত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে; তাহার এই কার্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা হইবে এবং ঐ ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হইবে। এই অনুচ্ছেদে মূলত অবৈধ ক্ষমতা দখলের অপরাধের বর্ণনা রয়েছে। প্রচলিত আইনে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধের বর্ণনা ও শাস্তির কথা উল্লেখ থাকলেও পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এটি এখন সংবিধানের অংশ করা হয়েছে। বাংলাদেশে অবৈধ ক্ষমতা দখলের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের একটি বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করাকে ইতিবাচক বলে অভিহিত করেছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। তবে তারা বলেছেন, এ ধরনের একটি অনুচ্ছেদ ১৯৭৩ সালে জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বে প্রণীত পাকিস্তানের সংবিধানেও ছিলো। কিন্তু এই বিধান পরবর্তীতে জেনারেল জিয়াউল হক ও জেনারেল পারভেজ মোশাররফের সামরিক অভ্যুত্থান ঠেকাতে পারেনি। এই বিধান বুটের তলায় রেখে ভুট্টোকে ফাঁসি দেয়া হয়েছিলো।

এদিকে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা ৭(১) অনুচ্ছেদের (খ) উপ-অনুচ্ছেদের নিন্দা করেছেন। তারা এই উপ-অনুচ্ছেদকে মৌলিক অধিকার ও বাক স্বাধীনতার পরিপন্থি বলে অভিহিত করেছেন। প্রসঙ্গত সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক-স্বাধীনতাকে নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, (১) "চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হইল। " (২) "রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচণা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধানিষেধ সাপেক্ষে"

(ক) " প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের" এবং (খ) "সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।" সংবিধানের বাক-স্বাধীনতার এই নিশ্চয়তাকে অস্বীকার করেছে ৭(১) অনুচ্ছেদের (খ) উপ-অনুচ্ছেদ। এতে বলা হয়েছে, "এই সংবিধান বা ইহার কোন বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্যে উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে তাহার এই কার্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা হইবে এবং ঐ ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হইবে। " এ প্রসঙ্গে ৭(১) অনুচ্ছেদের (৩) উপ-অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, " এই অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধে দোষী ব্যক্তি প্রচলিত আইনে অন্যান্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডিত হইবে। বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১২৪(ক) ধারায় এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছরের কারাদণ্ড ও অর্থ দণ্ডের বিধান রয়েছে।

বাংলাদেশের একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি ৭ (১) অনুচ্ছেদের (খ) উপ-অনুচ্ছেদকে একটি বিপজ্জনক অনুচ্ছেদ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, আদর্শিক কারণে কোন ব্যক্তি বা দল এই সংবিধানের কোন বিধানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে। যেমন ইসলামকে সংবিধানে রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। ভুল হোক শুদ্ধ হোক অনেকেই মনে করেন রাষ্ট্রের কোন ধর্ম হতে পারে না। এর বিরুদ্ধে মাঠে-ময়দানে অনেকেই বক্তৃতা-বিবৃতি দিচ্ছেন। কেউ কেউ সংবাদপত্রে লেখনীর মাধ্যমে বা টক শোর মাধ্যমে এর কঠোর সমালোচনা করছেন। তেমনিভাবে ধর্ম নিরপেক্ষতা বা সমাজতন্ত্রকে রাষ্ট্রের মূল নীতি অন্তর্ভুক্ত করার বিরুদ্ধেও অনেকের অবস্থান রয়েছে। এখন যদি তাদের এই অবস্থানের কারণে বা বক্তৃতা-বিবৃতির কারণে সংবিধানের কোন বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত হয় তাহলে তারা বা ঐ ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে অপরাধী হবেন। তিনি বলেন, কোন আধুনিক বা সভ্য দেশের সংবিধানে এ ধরনের বিধান থাকতে পারে না। এখন হয়ত রাষ্ট্র বিধানটি প্রয়োগ করছে না কিন্তু ভবিষ্যতে এর ব্যবহার হবে না তা কি বলা যায়?

ওই সাবেক প্রধান বিচারপতি বলেন, সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। সংবিধানের ২৬(১) অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে "এই ভাগের বিধানাবলীর (মৌলিক অধিকারের অধ্যায়) সহিত অসামঞ্জস্য সকল প্রচলিত আইন যতখানি অসাঞ্জস্যপূর্ণ, এই সংবিধান-প্রবর্তন হইতে সেই সকল আইনের ততখানি বাতিল হইয়া যাইবে। " (২) "রাষ্ট্র এই ভাগের কোন বিধানের সহিত অসামঞ্জস্য কোন আইন প্রণয়ন করিবেন না এবং অনুরূপ কোন আইন প্রণীত হইলে তাহা এই ভাগের কোন বিধানের সহিত যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইয়া যাইবে।" এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৭(১) অনুচ্ছেদের (খ) উপ-অনুচ্ছেদ মৌলিক অধিকার পরিপন্থি একটি বিধান। সংবিধানের ব্যাখ্য বা কোন কিছু গ্রহণের ক্ষেত্রে আগের অনুচ্ছেদের চেয়ে পরের অনুচ্ছেদ গুরুত্ব পায়। সেক্ষেত্রে ৭(১) অনুচ্ছেদের (খ) উপ-অনুচ্ছেদে যাই থাকুক না কেন ২৬(১) অনুচ্ছেদ এবং চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক-স্বাধীনতা সংক্রান্ত ৩৯ অনুচ্ছেদ গুরুত্ব পাবে। এছাড়া এই দুই অনুচ্ছেদের সঙ্গে ৭(১) অনুচ্ছেদের (খ) উপ-অনুচ্ছেদ সাংঘর্ষিক।

তুরাগ তীরে মুসল্লিদের ঢল, আখেরি মুনাজাত আজ

তুরাগ তীরে মুসল্লিদের ঢল, আখেরি মুনাজাত আজ


লাখো মুসল্লির আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ধ্বনি, জিকির-আসকার ও ইজতেমার মুরব্বিদের বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত হয়েছে। শনিবার বাদ ফজর তাবলীগের মুরব্বি মাওলানা শওকত হোসেনের বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কার্যসূচি। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্‌ ধ্বনিতে তুরাগ নদী তীরবর্তী বিশাল এলাকা যেন পুণ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে। সর্বত্র এক অভূতপূর্ব ভাবগম্ভীর পরিবেশ। দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লির ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আসকার, কোরআন-হাদিস গুরুত্বপূর্ণ বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত হয়। রোববার আখেরি মুনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমার ১ম পর্বের আনুষ্ঠানিকতা। শীতার্ত আবহাওয়া সত্ত্বেও ইজতেমা অভিমুখে মুসল্লিদের আগমন অব্যাহত রয়েছে। বাস-ট্র্রাক, নৌকা ও অন্যান্য যানবাহন ছাড়াও অনেকেই পায়ে হেঁটে ইজতেমাস্থলে পৌঁছেছেন। অগণিত মুসল্লির ভিড়ে অশীতিপর বৃদ্ধ যেমন রয়েছেন তেমনি তরুণ ও কিশোরের সংখ্যাও কম নয়। কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস, তীব্র শীত, ধূলি- সব কিছুই তাদের কাছে সহনীয় হয়ে উঠেছে। এতটুকু বিরক্তি নেই কারও মধ্যে। গোটা টঙ্গী শহর এখন ধর্মীয় উৎসবের নগরে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি বাড়ি ও শিল্প-কারখানা সারা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মেহমানে ভরে গেছে। মহাসড়ক থেকে শুরু করে প্রতিটি অলি-গলিতে এখন শুধুই মুসল্লিদের পদচারণা।
আখেরি মুনাজাত আজ: রোববার বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মুনাজাত। ইজতেমার আয়োজকদের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বেলা ১২টার পর যে কোন সময় ইজতেমার এ মুনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এবারও তাবলীগ জামাতের শূরা সদস্যদের মাশয়ার ভিত্তিতে দিল্লির মারকাজের শূরা সদস্য মাওলানা যোবায়েরুল হাসান আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিজ নিজ গুনাহ্‌ মাফের জন্য মহান আল্লাহতায়ালার রহমত কামনা করে এ মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমার ১ম পর্ব।
প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী: প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আখেরি মুনাজাতে শামিল হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মূল বয়ান ও দোয়া মঞ্চের পাশে বসে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের, বাটা শু ফাক্টরির ছাদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র এবং এটলাস হোন্ডা কারখানার ছাদে বিশেষভাবে তৈরী মঞ্চে বসে বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র আখেরি মুনাজাতে অংশ নেয়ার জন্যে প্রস্তুতি রয়েছে প্রশাসনের। তবে শেষ পর্যন্ত মুসল্লিদের দুর্ভোগ এড়াতে টঙ্গীর বাটা শু ফ্যাক্টরির ভেতরে প্রধানমন্ত্রীর না আসার সম্ভাবনাই রয়েছে। সিভিল এভিয়েশনের ছাদে কিংবা উত্তরার পলওয়েল মার্কেটের ৯ তলার ছাদে বসে কিছুক্ষণ বয়ান শোনা এবং আখেরি মোনাজাতে শরিক হওয়ার জন্যও তার প্রস্তুতি রয়েছে বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে ।
শনিবার বয়ান করেন যারা: বিশ্ব ইজতেমা মাঠে শনিবার সমবেত মুসল্লিদের উদ্দেশে দেশী-বিদেশী ইজতেমার শীর্ষ মুরব্বিরা বয়ান করেছেন। শনিবার বাদ ফজর বয়ান করেন দিল্লির মাওলানা শওকত হোসেন, বাদ জোহর বয়ান পেশ করেন মাওলানা মিয়াজী আজমত। বয়ানে দ্বীন ও দুনিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। বাদ আসর বয়ান করেন দিল্লির মাওলানা যোবায়েরুল হাসান। শুক্রবার বাদ আছর বয়ান করেন দিল্লির মাওলানা যোবায়েরুল হাসান, বাদ মাগরিব দিল্লির মাওলানা সা’দ। আর শুক্রবার রাত ১০টা পর্যন্ত একটানা বয়ান চলে। এরপর এশার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
শতাধিক যৌতুকবিহীন বিয়ে: আখেরি মুনাজাতের আগের দিন বিকালে শতাধিক যৌতুকবিহীন বিয়ে হয় বিশ্ব ইজতেমায়। ইজতেমার রেওয়াজ অনুসারে এখানে প্রতি বছর দ্বিতীয় দিন বাদ আসর বিয়ের আসর বসে। অভিভাবকরা আগেই নবদম্পতিদের নাম তালিকাভুক্ত করেন। প্রতিবারের মতো ইজতেমার দ্বিতীয় দিনে শনিবার বিকালে ইজতেমাস্থলে হযরত ফাতেমা (রাঃ) ও হযরত আলীর (রাঃ) বিয়ের দেনমোহর অনুসারে যৌতুকবিহীন বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের আগে বাদ আসর দিল্লির মাওলানা যোবায়েরুল হাসান বয়ান করেন। বয়ান শেষে এই সব বর-কনের অভিভাবকদের সম্মতিতে বরের উপস্থিতিতে বিয়ে পড়ানো হয়। বিয়ের পর মূল মঞ্চ থেকে মোনাজাতের মাধ্যমে নব দম্পতিদের সুখী সংসার কামনা করা হয়। বিয়ে শেষে উপস্থিত দম্পতিদের স্বজন ও মুসল্লিদের মধ্যে খোরমা-খেজুর বিতরণ করা হয়। বিয়েতে মোহর ধার্য করা হয় ‘মোহর ফাতেমী’র নিয়মানুযায়ী।
আরও এক মুসল্লির মৃত্যু: ইজতেমায় আগত আর এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। শামসুল হক (৬০) নামের ওই মুসল্লির বাড়ি নরসিংদীর বড়চর গ্রামে। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে সামছুল হক হঠাৎ করে ঠাণ্ডায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তার সহকর্মীরা তাকে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ নিয়ে গত দুই দিনে চার মুসল্লি মারা গেলেন। এদিকে ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিবারের ন্যায় এবারও ৪৫টি অস্থায়ী স্বাস্থ্য ক্যাম্প মুসল্লিদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। হামদর্দ, ইব্‌নে সিনাসহ বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মুসল্লিরা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করছেন। বিশ্ব ইজতেমায় এসে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ডায়রিয়া, আমাশয়, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, সর্দিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে ২৯ জন মুসল্লি ভর্তি রয়েছেন। টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ইসমাইল হোসেন সিরাজী জানান, ইজতেমা উপলক্ষে এ পর্যন্ত ৮৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শনিবার নতুন করে আরও ১২জন রোগী ভর্তি হন। তিনি আরও জানান, শনিবার পর্যন্ত ৩৫৮৫ জন রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
ইজতেমা ময়দানে পানির সঙ্কট: বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে আগত মুসল্লিদের ওজু-গোসল, রান্না-বান্নাসহ নানা প্রয়োজন মেটাতে পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে । টয়লেট, ওজুুখানা ও গোসলখানা নির্মাণ করা হয়েছে। এসব সুবিধা বাড়ানো হলেও পানিসহ নানা সঙ্কটে পড়ছেন মুসল্লিরা। তাই তারা বাইরে থেকে পানি কিনে তাদের দৈনন্দিন কাজ-কর্ম সারছেন। অনেকেই গোসল না করে থাকছেন। আবার কেউ বাইরে থেকে টাকা খরচ করে প্রয়োজন মেটাচ্ছেন। অনেকেই ময়লা পানি দিয়েও রান্না-বান্না সারছেন বলে মুসল্লিরা জানান। জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকৌশল বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. নূরুজ্জামান জানান, এবার পানি উৎপাদন ও সরবরাহ আরও বাড়ানো হয়েছে। এক সঙ্গে মুসল্লিরা গোসল করতে গেলে হয়তো চাপ বেড়ে যাচ্ছে। হিসাবের চেয়ে ইজতেমার মুসল্লির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিন ওজুু-গোসলসহ দৈনন্দিন কাজের জন্য যে পরিমাণ পানি উৎপাদন ও সরবরাহ করা হচ্ছে তা দিয়ে তাদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তফা জানান, এবার ইজতেমা মাঠে ১২টি উৎপাদক নলকূপের মাধ্যমে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩ কোটি লিটার পানি উৎপাদন ও সরবরাহ করছে। এছাড়া পানি সরবরাহ বৃদ্ধি ও বিগত বছরে নির্মাণ করা দোতলা টয়লেটগুলো এবার সম্প্রসারণ করে তেতলা করা হয়েছে। বর্তমানে ১৩টি টয়লেট বিল্ডিংএ টয়লেটের সংখ্যা ২৮৩৪টি। বিদেশী মেহমানদের জন্য গোসলখানার সংখ্যা ১২৪টি। প্রতিটিতে একসঙ্গে গোসল করতে পারবে ১০০ জন। ওজুু খানা রয়েছে ৩২টি। যেগুলোতে একসঙ্গে ওযু করতে পারবেন ১০০ জন মুসল্লি। এত সব আয়োজনের পর পানির সঙ্কট রয়েছে তা মানতে নারাজ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: গাজীপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের বিভিন্ন হোটেল রেস্তরাঁ ও হাইওয়েতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। গত দুই দিনে ভ্রাম্যমাণ আদালত ভেজাল বিরোধী আইন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৬টি মামলা ও ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫শ’ টাকা জরিমানা করেন। এতে ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পালাক্রমে দায়িত্বপালন করছেন।
মহিলাদের ভিড়: বিশ্ব ইজতেমায় মহিলাদের অংশগ্রহণ ও অবস্থানের কোন সুযোগ নেই। ইজতেমায় আসার ব্যাপারে আয়োজক কর্তৃপক্ষের নিষেধ রয়েছে। তারপরও আখেরি মুনাজাতে অংশ নিতে ইজতেমা মাঠের বাইরে বিশেষ করে তুরাগ নদীর পশ্চিম পাড়ে দূর-দূরান্ত থেকে এসে হাজার হাজার মহিলা অবস্থান নিয়েছেন। তাদের অনেকেই ঠাঁই নিয়েছেন খোলা আকাশের নিচে ।
অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে ৬ মুসল্লি: টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় এসে অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন ৬ মুসল্লি। নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে ও পান করিয়ে এদের নগদ টাকা ও মোবাইলসহ অন্যান্য মালামাল হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। পথচারীরা এদেরকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল ও উত্তরার বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
অস্থায়ী দোকানপাট: ইজতেমায় আগত বিপুল সংখ্যক মুসল্লির সুবিধার্থে ইজতেমা ময়দান ও আশেপাশের এলাকায় বসেছে অস্থায়ী দোকান। এসব মওসুমি দোকানে বিক্রি হচ্ছে টুপি, জায়নামাজ, তসবিহ্‌সহ নানা ধর্মীয় উপকরণ। রয়েছে সারি সারি ধর্মীয় বইয়ের দোকান। জায়নামাজ ব্যবসায়ী রশিদ জানালেন, বিপুল লোক সমাগমের কারণে তাদের বেচা বিক্রি ভাল। গড়ে প্রতিটি জায়নামাজ ৫৫০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি জানান. ইজতেমায় লোকসমাগম বেশি হওয়ায় তারা পাইকারি দামেই এসব বিক্রি করছেন। এমদাদিয়া লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষসহ বেশ কয়েকটি বইয়ের স্টল বসেছে ইজতেমার আশেপাশে। এখানেও বিভিন্ন বয়সী লোকজনের বেশ ভিড় দেখা গেছে। এছাড়া বদনায় করে বিক্রি হচ্ছে ওজুু ও গোসলের পানি। প্রতি বদনা পানির দাম নেয়া হচ্ছে ২-৩ টাকা।
কম্বলের দাম চড়া: এবারের ইজতেমার মাঠে সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়েছে শীতের কম্বল। এ বছর শীত আর ঘন কুয়াশা বেশি থাকায় এ বেচাকেনা বেশ ভাল হয়েছে। তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে কয়েক গুণ দাম বেশি। মুসল্লিরা জানান, গত বছর যে কম্বলের দাম ছিল ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা সেটি এ বছর ২৮০০ থেকে ৩০০০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে।
গাড়ি পার্কিং: বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে মুসল্লিদের নিরাপদ যাতায়াত এবং সুষ্ঠু যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে ১১ই জানুয়ারি থেকে ১৩ই জানুয়ারি ১ম পর্বের আখেরি মুনাজাতের দিন পর্যন্ত এবং ১৮ই জানুয়ারি থেকে ২০শে জানুয়ারি ২য় পর্বের আখেরি মুনাজাতের দিন পর্যন্ত গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। উল্লিখিত সময়ে সুষ্ঠু যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য ধৌর ব্রিজ হতে আবদুল্লাহপুর হয়ে প্রগতি সরণি ও টঙ্গী ব্রিজ থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত বিমান যাত্রী, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও এম্বুলেন্স ছাড়া সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। এ সময় নরসিংদীর ঘোড়াশাল থেকে কালীগঞ্জ-পুবাইল হয়ে আগত যানবাহন টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশনের পূর্বে মরকুন (কে-২) পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক থেকে ঘোড়াশালগামী যানবাহন ওই রাস্তার পরিবর্তে কাঁচপুর-যাত্রাবাড়ী সড়কে চলাচল করতে পারবে। ইজতেমায় আগত মুসল্লি ও উত্তরার অধিবাসীদের গাড়ি ছাড়া অন্য সকল যানবাহন বিমান বন্দর সড়কের পরিবর্তে মিরপুর-সাভার সড়ক দিয়ে চলাচল করবে। ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের যানবাহন সাধারণ পার্কিংয়ের জন্য নিকুঞ্জ-১ আবাসিক এলাকা, উত্তরা ৬নং সেক্টর ও রাজউক কলেজের আশপাশের খালি জায়গা, বরিশাল বিভাগের গাড়ি ধৌর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ও উত্তরার ১৮নং সেক্টর, সিলেট বিভাগের গাড়ি উত্তরা ১২ নং সেক্টর, ঢাকা বিভাগের গাড়ি সোনারগাঁও সড়ক ও জনপথ সড়কের পূর্ব-পশ্চিম প্রান্ত, খুলনা বিভাগ উত্তরা ১০, ১১ ও ১৮নং সেক্টর, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ প্রত্যাশা হাউজিং, চট্টগ্রাম বিভাগ উত্তরার ১৩ নং সেক্টর, রাজশাহী বিভাগ কামারপাড়া হাউজিং মাঠ এবং উত্তরার ১০ নং সেক্টরের খালি জায়গায় যানবাহন পার্কিং করা যাবে। এছাড়া গাজীপুর জেলায় কে-২ ফ্যাক্টরি, কাদেরিয়া টেক্সটাইল মিল ও সংলগ্ন এলাকা, মেঘনা টেক্সটাইল মিল সংলগ্ন রাস্তা, সফিউদ্দিন সরকার একাডেমী মাঠ, চান্দনা চৌরাস্তা ট্রাক টার্মিনাল, চান্দনা উচ্চ বিদ্যালয় ও ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠ এবং ঢাকা জেলার গাড়ি আশুলিয়া কলেজ ও স্কুল মাঠে পার্কিং করা যাবে।

সালমানকে ছাড়বেন না দীপিকা

সালমানকে ছাড়বেন না দীপিকা


বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন এখন অনেক ব্যস্ত। সঞ্জয় লীলা বানশালীর 'রাম লীলা', আয়ান মুখার্জির 'ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি' এবং রোহিত শেঠির 'চেন্নাই এক্সপ্রেস' নিয়ে। আর সবকটি ছবিই বিগ বাজেটের ছবি। কিছুদিন আগে দীপিকা পাড়ুকোন সালমান খানের বিপরীতে 'কিক' ছবিতেও চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। ছবিটির জন্য শুটিংয়ের সিডিউলও দিয়েছেন দীপিকা। কিন্তু এই সিডিউল নিয়েই নতুন করে বাঁধল ঝামেলা, গত প্রায় কয়েক বছর ধরেই সাজিদ নারিয়ারওয়ালার একটি চলচ্চিত্রে কাজ করার কথা চলছিল। আর এই ছবিটি নিয়েই বেঁধেছে ঝামেলা। সালমানের 'কিক' ছবির শুটিংয়ের সময়েই দীপিকাকে প্রয়োজন সাজিদের। কিন্তু দীপিকা কোনোমতেই সালমানকে ছেড়ে সাজিদের কাজ করবেন না। তাই চেষ্টা করছেন কীভাবে সাজিদের শুটিংয়ের তারিখ পেছানো যায়।

Saturday, January 12, 2013

‘প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ আত্মপ্রশংসার বয়ান’

‘প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ আত্মপ্রশংসার বয়ান’


সরকারের চার বছরে জাতির উদ্দেশে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে নতুন কিছু নেই উল্লেখ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। ভাষণ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তারা একে প্রধানমন্ত্রীর আত্মপ্রশংসার বয়ান বলেছেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি সভাপতি
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে সব সত্য প্রকাশ করেন নি। তিনি কেবল আত্মপ্রশংসার বয়ান দিয়েছেন। উন্নয়নের রূপকল্পের কথা বললেও দ্রব্যমূল্য ও বাজার নিয়ন্ত্রণে তার সরকারের ব্যর্থতার কথা এড়িয়ে গেছেন। তার সরকার জ্বালানি তেলের দাম ৬ দফা বাড়িয়েছেন। বিদ্যুতের দাম ৭ দফা বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। জনগণের লাগামহীন দুর্ভোগ দিন দিন বাড়তে থাকলেও এসব নিয়ে ভাবছেন না সরকার। নির্বাচন কমিশন ও স্বচ্ছ নির্বাচন করার প্রতিশ্রুতি অর্থহীন- এ মন্তব্য করে সেলিম বলেন, গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে সমঝোতার কোন বিকল্প নেই। কিন্তু সে ব্যাপারে তিনি কিছু বলেননি। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিয়ে কথা বলা উচিত। দেশে সন্ত্রাস, গুম, হত্যা, মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। কিন্তু তিনি তার বক্তব্যে এসব প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেছেন। পূর্বের সরকারের ব্যর্থতাকে বড় করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। এ প্রচেষ্টা সফল মানুষের লক্ষণ না। নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, দলীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে কোন দিন সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এছাড়া পরিবার, দলের নয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের চাহিদা বুঝতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। মহাজোট সরকারের শরিক জাতীয় পার্টি নেতা জিয়াউদ্দীন বাবলু বলেন, জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নতুন কিছু বলেননি। নানা অনুষ্ঠানে প্রতিদিন তিনি যা বলেন জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণেও তিনি তা-ই বলেছেন। সব মিলিয়ে তার ভাষণে আমি নতুন কিছু পাইনি।

সিন্ডিকেটের কবলে চালের বাজার

সিন্ডিকেটের কবলে চালের বাজার


সিন্ডিকেটের কবলে চালের বাজার। হু হু করে বাড়ছে চালের দাম। বছরের শুরুতেই বাজার নিয়ন্ত্রণহীন। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে বাজার বেসামাল হয়ে পড়েছে। দু’সপ্তাহের ব্যবধানে চালের প্রকার ভেদে কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাইকারি বাজারে ব্যবসায়ীরা বেশি বেশি করে চাল মজুদ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কুয়াশার জন্য ধান শুকাতে দেরি লাগে। ফলে উৎপাদন কম। তাছাড়া ধানের দামও বাড়তির দিকে। ক্রেতাদের অভিযোগ চালের ভরা মওসুমেও সরকার দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তাদের প্রশ্ন- কে বড় সরকার না ব্যবসায়ীরা। থেমে নেই সবজি, ডিম ও আদার দাম বৃদ্ধির গতিও। এক কেজি নতুন আলুতে ১৬ টাকা বেড়ে ৩৫-৩৬ টাকা। যা দু সপ্তাহ আগেও ২০ থেকে ২২ টাকায় কিনা গেছে। আর গত বছর এ সময়ে নতুন আলু কেজি ১০-১২ টাকা ছিল। কাওরান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী তারা মিয়া বলেন, পুরান আলুর সময় শেষ। তাই ক্রেতারা নতুন আলু বেশি কিনছেন। এছাড়া উত্তরাঞ্চলে শীতের কারণে চাষিরা ক্ষেত থেকে আলু তুলছেন না। এর সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও বেশি পড়ছে। প্রায় সব প্রকার সবজিতে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৭ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। ২০ টাকা বেড়ে কাঁচা মরিচ আবারও ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে সরবরাহ কম নয়। কিন্তু দাম কমেনি খুচরা বাজারে। পিয়াজ কেজিতে ২-৩ টাকা কমেছে। ডাল জাতীয় পণ্যের দাম কমেনি। খুচরা বাজারে এক কেজি মসুর ডাল উন্নত (ক্যাঙ্গারু) ১৫০ টাকা। দেশী ১৪০ টাকা। পাইকারি বাজারে নেপালী ১৩৫-১৩৬ টাকা, দেশি ১৩০- ১৩১ টাকা, মোটা তুরস্ক থেকে আমদানিকৃক ৫৯-৬৮ টাকা, মুগ ডাল ৭৫-১০০ টাকা, ছোলা (আস্ত) ৭৫-৭৮ টাকা, খেশারি ৭০-৭১ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজার আমদানিকৃত তুরস্ক ৭০-৮০ টাকা, মুগ (সরু) ১১০-১২০ টাকা, মোটা ৯০-১০০ টাকা, ছোলা (আস্ত) ৯০-১০০ টাকা, খেশারি ৭৫-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে চকবাজার রহমতগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী জাহিদ অ্যান্ড বাদ্রার্সের মালিক সাহিদ বলেন, নেপাল ও ভারতে ডালের সিজন শেষ। রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে এই তথ্য জানা গেছে। শিমের প্রকার ভেদে কেজি ১৮ থেকে ২৮ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান পাইকারি ব্যবসায়ী আলী। তিনি জানান, তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। হাতিরপুল বাজারে এক পিচ ফুলকপি দোকানিরা বিক্রি করছেন ৪০ থেকে ৫০ টাকা। কাওরান বাজারের ৫০ টাকার পটোল খুচরা বাজারে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৫০-৬০ টাকার কাঁচা মরিচ ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আড়তে বেগুনের প্রকার ভেদে প্রতি কেজি ১৮-২৮ টাকা বিক্রি হলেও তা খুচরা বাজারে ৪৫-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জিংগা ৪০ টাকা তা খুচরা বাজারে ৬০-৭০ টাকা , বরবটি ১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। বাধা কপি ২০ টাকা, ফুলকপি ২৫-৩৫ টাকা, পেঁপে ১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাতিরপুল সবজি ব্যবসায়ী মামুন বলেন, করলা ৮০ টাকা, বেগুন ৪৫-৬০ টাকায়, টমেটো ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা, শসা ৪০-৫০ টাকায়, নতুন আলু ৩৫-৩৬ টাকা, গাঁজর ৩৫ টাকা, শিম ৪০-৪৫ টাকা দরে প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে। লেবুর হালি ২০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহে ১০০ লাল ডিমে ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৮৭০ টাকা। প্রতিটির দাম গড়ে ৮ টাকা ৭০ পয়সা। সাদা একশ ডিমে ৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে গড়ে ৮ টাকা ৪০ পয়সা। হাঁসের ডিম ৯ টাকা ও দেশি মুরগির ডিম একই দামে বিক্রি হচ্ছে। বললেন তেজগাঁও রেল স্টেশনের পাইকারি ডিমের আড়ৎ সমতা ট্রেডার্সের ম্যানেজার শরিফ। কিন্তু পাড়া-মহল্লায় হালিতে এক সপ্তাহে ৩-৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮-৪০ টাকা বিক্রি করছে। হাঁসের ডিমের হালি ৪৮ টাকা ও দেশি মুরগির ডিম ৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মাছ ব্যবসায়ী ফারুক জানান, রুই কেজি ৩০০-৪০০ টাকা, কৈ চাষের ২৩০-২৬০ টাকা, শিং ৬০০ টাকা, পাঙ্গাস ১৩০ টাকা, তেলাপিয়া ১৩০-১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম দু’সপ্তাহে ২০ টাকা বেড়ে ১৫৫ টাকা, গরুর মাংস ২৭০-২৮০ টাকা, খাসি ৪৫০ টাকা। শ্যামবাজারে বিদেশী রসুন ৭৫-৮০ এবং দেশি ২০-২২ টাকা, আমদানিকৃত আদা গত এক সপ্তাহে ১০ টাকা বেড়ে ৫৮-৫৯ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে মেসার্স সুরমা বাণিজ্যালয়ের কর্ণধার ঝুটন সাহা জানান। বললেন আদা চায়নায় শতকরা ৩০ ভাগ উৎপাদন কম হয়েছে। এজন্য দর বাড়ছে। মালিবাগ কাঁচাবাজার রেলগেটের মেসার্স সামাদ স্টোরের ম্যানেজার সাকিব বলেন, ক্যাঙ্গারো মসুর ডাল ১৪৮-১৫০ টাকা,দেশিটা ১৪০ টাকা, আটা ৭৪ টাকা প্যাকেট, চিনি ৪৮-৫০ টাকা, খেশারি ৮০ টাকা, ছোলা বুট ১০০ টাকা , সোয়াবিন তৈল খোলা ১২৫-১২৭ টাকা, সুপার ৯০-৯২ টাকা, পামওয়েল ৮৫ টাকা, তীর ৫ লিটার ৬৬০ টাকা, রূপচাদা ৬৬৫ টাকা দরে আদা ৭৫ টাকা, চায়না রসুর ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত দু’সপ্তাহে ভোক্তা পর্যায়ে প্রায় সব প্রকারের চালে প্রতিকেজিতে ৫-৭ টাকা বেড়েছে। এক সপ্তাহে বেড়েছে ২-৩ টাকা। মিনিকেট ৪০-৪২ টাকা, মোটা চাল ২৬-২৮ টাকা, নাজিরশাইল (নতুন) ৪০-৪২ টাকা, লতা ৩৫-৩৬ টাকা, বাঁশফুল ৪৪ টাকা, বিআর (২৮) ৩২-৩৪ টাকা, হাসকি ৩৪-৩৬ টাকা, স্বর্ণা ২৮ টাকা বিক্রি হচ্ছে। বাবু বাজারের মেসার্স প্রত্যাশা রাইস এজেন্সির ব্যবসায়ী আলমগীর জানান, মিনিকেট ৪১-৪৫ টাকা, মোটা চাল ২৩-২৪ টাকা, নাজিরশাইল (নতুন) ৩৮-৪১ টাকা, পুরান ৪৪ টাকা, লতা ৩৩-৩৭ টাকা,বাশফুল ৪০-৪১ টাকা, বিআর (২৮) ৩১-৩৩ টাকা, হাসকি ৩০-৩৪ টাকা, স্বর্ণা ২৪-২৬ টাকা বিক্রি হচ্ছে। পোলাওর চালে গত দু’সপ্তাহে ১০ টাকা বেড়ে ৯৫ টাকা পাইকারি এবং তা খুচরা বাজারে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ঘনকুয়াশা ও ধানের দাম বাড়ার কারণে দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। পলাশী বাজারে ক্রেতা কামরুজ্জামান বলেন,নিত্যপণ্যের বেড়েই যাচ্ছে। চালের ভরা মৌসমেও সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। সবজির দামও বেশি।

Friday, January 11, 2013

পক্ষাঘাত সারানোর পিল

পক্ষাঘাত সারানোর পিল


পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে বিছানায় পড়ে থাকার দিন ফুরিয়ে আসছে। পক্ষাঘাত সারাবে একটি পিল বা খাওয়ার বড়ি। যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, তারা একটি বড়ি তৈরি করেছেন, যা সেবনে পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তি আবার হাঁটাচলা করতে পারবেন সহজেই। পক্ষাঘাতগ্রস্ত ইঁদুরকে ওই বড়ি খাইয়ে এরই মধ্যে সুফল পাওয়া গেছে। খবর ডেইলি মেইলের। নিউরোসায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে জানানো হয়,
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফ্রাঙ্ক লঙ্গো 'এলএম১১এ-৩১' নামে ওই ওষুধ তৈরি করেছেন।
গবেষকরা ওষুধটি নিয়ে কয়েকটি ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালান। ইঁদুরগুলো পক্ষাঘাতগ্রস্ত করার পর কয়েকটিকে ওই ওষুধ দেওয়া হয়, কয়েকটি ইঁদুরকে দেখতে একই রকম তবে গুণাগুণহীন ওষুধ খাওয়ানো হয়। ইঁদুরগুলোকে এভাবে ৪২ দিন পর্যন্ত দৈনিক দুটি করে বড়ি খাওয়ানো হয়। পরে গবেষকরা দেখতে পান, আসল ওষুধ খাওয়ানো ইঁদুরগুলো সেরে উঠেছে। এগুলোর শরীরে আর কোনো বিষক্রিয়া নেই। আগের মতোই হাঁটতে পারছে এই ইঁদুরগুলো, এমনকি সাঁতারও কাটতে পারছে।
গবেষক দলের অন্যতম ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সুং ওকে য়ুন বলেন, মেরুদণ্ড বা মেরুরজ্জু ক্ষতিগ্রস্ত বা আঘাতপ্রাপ্ত হলে মস্তিষ্ক দেহের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। নিয়ন্ত্রণ হারানো অংশই পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়। তবে এ ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো কোনো খাওয়ার ওষুধ কার্যকর পরিগণিত হচ্ছে।

ইশার নতুন খবর

ইশার নতুন খবর


দীর্ঘদিন ধরে বলিউডে অনুপস্থিত রয়েছেন খাল্লাস গার্ল খ্যাত ইশা কোপিকার। তাই তেমন একটা আলোচনায়ও দীর্ঘ সময় ধরে ছিলেন না তিনি। বিশেষ করে নিজের ব্যবসা নিয়ে দেশ বিদেশ সফরে ব্যস্ত সময় পার করছেন ইশা। পাশাপাশি নিজের সংসারেও সময় দিতে হচ্ছে তাকে। তবে নতুন খবর হলো, সম্প্রতি একটি অন্তর্বাস সামগ্রীর মডেল হয়েছেন ইশা। বিয়ের পর এই প্রথম কোন অন্তর্বাস সামগ্রীর মডেল হলেন এক সময়ের শীর্ষ এই আইটেম গার্ল। শুধু তাই নয়, এর জন্য একটি ফটোশুটেও অংশ নিয়েছেন তিনি। অন্তর্বাস পরেই ব্যাপক খোলামেলা হয়ে তিনি সম্প্রতি এই ফটোশুটটি করেন। তবে অনেকটা হঠাৎ করেই তার এই খোলামেলা পোজের ছবি দেখে অবাক হয়েছেন সবাই। তার এই ফটোশুটের দুটি ছবি ইন্টারনেটে প্রকাশিত হয়ে ব্যাপক আলোচনায়ও এসেছেন তিনি। অনেকের ধারণা, বহুদিন পর নিজেকে আরও একবার আলোচনায় নিয়ে আসার জন্যই এরকম পোজে ছবি তুলেছেন তিনি। তবে জানা গেছে, নতুন এই অন্তর্বাস সামগ্রীর ব্র্যান্ডটি বাজারে ছাড়ছেন ইশার খুব কাছের এক বন্ধু। সেই বন্ধুর অনুরোধ এবং আকাশছোঁয়া সম্মানীর কারণেই এই ব্র্যান্ডটির মডেল হয়েছেন ইশা। অনাড়ম্বর আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন এ ব্র্যান্ডটির লঞ্চিং করা হবে ১৪ই ফেব্রুয়ারি আসছে ভালবাসা দিবসে। তবে ইশার অন্তর্বাস সামগ্রীর মডেল হওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন সামাজিক ওয়েবসাইটে দর্শকদের বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়ার উত্তর নিজের টুইটার একাউন্টে দিয়েছেন ইশা। এ বিষয়ে তিনি টুইটারে লিখেছেন, আসলে সত্যি বলতে দীর্ঘদিন পর এমন একটি উঁচুমানের নতুন ব্র্যান্ডের মডেল হতে পেরে ভাল লাগছে। বিভিন্ন মানুষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ভালই লাগছে। বহুদিন পরে আমাকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিষয়টি খুব উপভোগ করছি আমি। তবে আমি বলিউডে নিয়মিত থাকা অবস্থাতেও বলেছি, কাজের ক্ষেত্রে কোন ছাড় আমি দিতে চাই না। আমার ভেতরে পেশাদারিত্ব ব্যাপারটা অনেক বেশি কাজ করে। সে কারণেই আসলে এখনও অন্তর্বাস পরে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে আমি বিব্রত নইÑ সে যে যাই মনে করুক।

ধেয়ে আসছে 'মিসরীয় দৈত্য'অ্যাপোফিস

ধেয়ে আসছে 'মিসরীয় দৈত্য'অ্যাপোফিস


অ্যাপোফিস নামে ৯০০ ফুট প্রশস্ত একটি গ্রহাণু পৃথিবীর পাশ দিয়ে ধেয়ে আসছে। তবে ধেয়ে আসলেও পৃথিবীর সঙ্গে অ্যাপোফিসের সংঘর্ষ ঘটার কোনো সম্ভাবনা নেই। বিজ্ঞানীদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার ৯০ লাখ মাইল দূরত্বে পৃথিবীর পাশ চলে গেলেও ২০২৯ সালে পৃথিবীর খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাবে অ্যাপোফিস। তখন পৃথিবী ও গ্রহাণুটির মধ্যবর্তী দূরত্ব ৩০,০০০ কিলোমিটারে চলে আসবে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা। তাদের মতে, ২০৩৬ সালে পৃথিবীর সাথে অ্যাপোফিসের সংঘর্ষের সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না।

জানা গেছে, মিসরীয় পুরাণের এক দৈত্যের নাম অনুসারে গ্রহাণুটির নাম রাখা রয়েছে অ্যাপোফিস। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা (ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস এজেন্সি) নাসা জানিয়েছে, গ্রহাণুটির সাথে পৃথিবীর সংঘর্ষ হলে তা ৫০০ মেগাটন টিএনটি বিস্ফোরকের চেয়েও বেশি শক্তিতে আঘাত হানার ক্ষমতা রাখে।

জায়গা ফেরত না পেয়ে আবার সুপ্রিম কোর্টে মুন সিনেমা হলের মালিক

জায়গা ফেরত না পেয়ে আবার সুপ্রিম কোর্টে মুন সিনেমা হলের মালিক


একটি সিনেমা হলের মালিকানা নিয়ে দায়ের করা মামলা বাংলাদেশের ইতিহাসের গতি পাল্টে দিলেও ভাগ্য বদল হয়নি সিনেমা হলটির মালিক মাকসুদুল আলমের। পঞ্চম সংশোধনী মামলা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল মুন সিনেমা হলের মালিকানা নিয়ে। এ মামলার রায়ে হাইকোর্ট পঞ্চম সংশোধনীকেই অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেছিল। বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক এ বিখ্যাত রায়টি দিয়েছিলেন। এ রায় পরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগও বহাল রাখে। এ রায় অনুযায়ী এরই মধ্যে সংবিধানে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সংবিধানে ফিরে এসেছে সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। তবে রায়ের প্রায় তিন বছর পরও সিনেমা হলের জায়গাটি ফেরত না পেয়ে আবারও সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছেন মাকসুদুল আলম। সরকার ও মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদালতে গতকাল আবেদনটি উত্থাপন করেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার ছিদ্দিকুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এমকে রহমান। চেম্বার বিচারপতি আবেদনটি নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আগামী ১৪ই জানুয়ারি চেম্বার বিচারপতির আদালতে এ ব্যাপারে শুনানি হবে। আজমালুল হোসেন কিউসি সাংবাদিকদের বলেন, মাকসুদুল আলম সিনেমা হলটির মালিকানা ফেরত পেতে ৪০ বছর ধরে অপেক্ষা করছেন। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এবং আপিল বিভাগের রায়ের পরও তার অপেক্ষার অবসান হয়নি। আবেদনে ভূমি সচিব মোখলেসুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এইচ মাসুদ চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে মোহাম্মদ আলী সিকদারসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও আবেদনকারীর কাছে জমিটি ফেরত না দেয়া সুস্পষ্ট আদালত অবমাননা। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুন সিনেমা হলের সম্পত্তিটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরে মালিকানা দাবি করে মাকসুদুল আলম হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। হাইকোর্ট ২০০৫ সালের ২৯শে আগস্ট এক রায়ে ৬০ দিনের মধ্যে জমি রিট আবেদনকারীকে ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয়। সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে এ রায় দেয়া হয়। সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭৫-এর ১৫ই আগস্ট সামরিক শাসন জারির পর থেকে ৯ই এপ্রিল ১৯৭৯ পর্যন্ত সামরিক শাসনামলের সব আদেশ, ঘোষণা ও দণ্ডাদেশের বৈধতা দিয়েছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এছাড়া খোন্দকার মোশ্‌তাক, বিচারপতি সায়েমের শাসনামলের কর্মকাণ্ডেরও বৈধতা দেয়া হয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২০১০ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি এক রায়ে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। পরে ৯০ দিনের মধ্যে মুন সিনেমা হল বাংলাদেশ ইতালিয়ান মার্বেলস ওয়ার্কস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাকসুদুল আলমকে ফেরত দেয়ারও নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।

শচীন পুত্রের উত্থান!

শচীন পুত্রের উত্থান!

ভারতের ক্রিকেট দেবতা শচীন টেন্ডুলকারের ছেলে অর্জুন টেন্ডুলকার পশ্চিমাঞ্চলের অনূর্ধ্ব ১৪ ক্রিকেট লিগের জন্য মুম্বাই দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই লিগটি জানুয়ারির মাসের ২০ তারিখে শুরু হয়ে চলবে ফেব্রুয়ারির এক তারিখ পর্যন্ত।

গত ২০১২ সালের জুনে নিজের প্রথম সেঞ্চুরির পরেই তিনি মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের দৃষ্টি কাড়েন। এবং মৌসুম বিরতির সময়ে ট্রেনিং ক্যাম্পের জন্য নির্বাচিত খেলোয়াড়দের মধ্যে দলভুক্ত হন। বিখ্যাত পিতার সন্তান অর্জুন তার বাবার মত ডানহাতি খেলোয়াড় না হলেও এরই মধ্যে শুরু করেছেন আলো ছড়াতে। ২০১১ সালের জুনে পুনেতে অনুষ্ঠিত ক্যাডেন্স কাপে অভিসিক্ত অর্জুন তখন থেকেই আসতে থাকেন খবরে। এই টুর্নামেন্টের এবারের আসরে পিসিএমসি ভেংসরকার সি'র বিরুদ্ধে একটি ম্যাচে ৩৯ বলে করেন ৬৫।

বড় লোক হওয়ার জন্য ৫শ' টাকার চাকু! মিরপুরে নারী আইনজীবীর হত্যা :দুই আসামি গ্রেফতার

বড় লোক হওয়ার জন্য ৫শ' টাকার চাকু!

মিরপুরে নারী আইনজীবীর হত্যা :দুই আসামি গ্রেফতার


স্বপ্ন বড় লোক হবার। এজন্য গার্মেন্টসে চাকরি দিয়ে শুরু। না সেখানেও ফলাফল শূন্য। এরপর গার্মেন্টসের চাকরি ছেড়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসা। এবার চেষ্টা কোন বিত্তবানের বাড়ি দারেয়ান হওয়া অথবা প্রাইভেটকার চালকের চাকরি। সফল হয়নি। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে এমিকন সিকিউরিটি কোম্পানিতে গার্ডের চাকরি জোটে। আর সিকিউরিটি কোম্পানিতেই পরিচয় সমমনা যুবক রবিনের সঙ্গে। তারা কোম্পানি মালিককে অনুরোধ করে একই বাড়িতে দায়িত্ব নেয়। এরপর পরিকল্পনা শুরু করে টার্গেট পূরণে। প্রথম পরিকল্পনা ছিল প্রাইভেট চুরির। ব্যাটে বলে তা মেলেনি। এরপর টার্গেট করে ডাকাতির। ডাকাতির জন্য প্রয়োজন অস্ত্র। কিন্তু আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করাও দুঃসাধ্য। এ অবস্থায় নিরাপত্তা (গার্ড রুম) রুমের সিলিং ফ্যান বিক্রি করে ৫শ টাকা দিয়ে কেনে অত্যাধুনিক চাকু। আর তা দিয়ে প্রথম অভিযান শুরু করে গত ৩১ ডিসেম্বর সকালে। বাড়ির তিন তলার বাসিন্দা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর শিক্ষক মাহবুব-ই-সাত্তারের ফ্ল্যাটে। হত্যা করে তার স্ত্রীকে। লুট করে ২০ হাজার টাকা ও ৫শ ডলারসহ অন্যান্য মালামাল। নিজের সম্পর্কে এভাবে বক্তব্য দেয় আইনজীবী রওশন আক্তার খুনের ঘটনায় জড়িত রাসেল ওরফে সাকিব। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দুইটি টিম বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহ থেকে সাকিব ও তার সহকর্মী সোলায়মান ওরফে রবিন ওরফে তাজুলকে গ্রেফতার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বিস্তারিত বর্ণনা করে। ডিবি পুলিশ গতকাল তাদের ৬ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।

গত ৩১ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের এ ব্লকের ৩ নম্বর সড়কের ৪ নম্বর শেলটেক টিউলিপ ভবনের তিন তলার একটি ফ্ল্যাটে খুন হন আইনজীবী রওশন আক্তার। রবিন ও রাসেল ঐ বাড়ির নিরাপত্তা কর্মী ।

ডিসি ডিবি (উত্তর) মোল্লা নজরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতরা অল্প সময় বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রথমে গাড়ি চুরি করার পরিকল্পনা করেছিল। গাড়ি চুরিতে ব্যর্থ হয়ে তারা স্বর্ণ ও টাকা লুটের জন্য হত্যা করার পরিকল্পনা করে।

তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারকৃতরা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে মৌচাকে সিকিউরিটি নিয়োগকারী একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের কাছে ১০ হাজার টাকা জমা রেখে ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে এমিকন সিকিউরিটি কোম্পানিতে চাকরি নেয়। শেলটেক টিউলিফ ভবন ফ্ল্যাটের ফ্ল্যাট মালিক সমিতি নাম ঠিকানা যাচাই-বাছাই না করে এমিকন সিকিউরিটি কোম্পানি হতে সিকিউরিটি ভাড়া করেছিল।

ডিবি এডিসি মশিউর রহমান বলেন, রবিন ও রাসেল গত ১০ ডিসেম্বর সিকিউরিটি কোম্পানির পক্ষ থেকে শেলটেক টিউলিপ এপার্টমেন্টে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে দায়িত্ব পায়। এরপরই তারা এপার্টমেন্টের কোন ফ্ল্যাটে চুরির পরিকল্পনা করতে থাকে। এরই ধারাবাহিতায় গত ১৮ ডিসেম্বর সিদ্ধান্ত নেয় আইনজীবী রওশন আক্তার ফ্ল্যাটে চুরি করার। পরিকল্পনা মোতাবেক গার্ড রুমের সিলিং ফ্যান বিক্রি করে ৫০০ টাকা দিয়ে চাকু কেনে। ঘটনার দিন সকালেই রওশন আক্তারের স্বামী ও ডাক্তার মেয়ে বাসা থেকে বের হন। এ সুযোগে তারা রওশন আক্তারের ফ্ল্যাটে গিয়ে কলিংবেল টেপে। দরজা খোলেন রওশন আক্তার।

দরজা খোলার পরপরই তারা ভেতরে ঢোকে। রবিন বালিশের কভার দিয়ে রওশনের মুখ চেপে ধরে। আর রাসেল চাকু দিয়ে ভয় দেখায়। এ অবস্থায় তারা দুজনে মিলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর আলমারি ও ওয়ারড্রব ভেঙ্গে ২০ হাজার টাকা, ৫শ মার্কিন ডলার, কয়েকটি ঘড়ি, কয়েকটি স্বাক্ষর করা ব্ল্যাঙ্ক চেক নিয়ে গার্ড রুমে যায়।

তিনি আরও বলেন, হত্যার এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি করতে গিয়ে রাসেলের হাত কেটে যায়। তারা নীচে এসে গার্ড রুম থেকে একটি ছেঁড়া লুঙ্গির অংশ দিয়ে হাত বাঁধার সময় নীচের গাড়ির একজন চালক তা দেখে ফেলে। এ সময় চালক তাদের জিজ্ঞাসা করে, 'কী হয়েছে'? তখন রাসেল ও সোলায়মান জানায়, তারা উপরে খেলতে গিয়ে হাত কেটে ফেলেছে। এর কিছু সময় পর তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ডিবির সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ও আবু তোরাব বুধবার নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন লামা এলাকায় এবং ময়মনসিংহের চরপাড়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে সোলায়মান ওরফে রবিন ওরফে তাজুল (১৯) ও রাসেল ওরফে সাকিবকে গ্রেফতার করেন।

শীতে কাবু দেশ, ১২০ জনের মৃত্যু

শীতে কাবু দেশ, ১২০ জনের মৃত্যু


শীতে কাবু পুরো দেশ। বাড়ছে শীতের মাত্রা। সেসঙ্গে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। এ পর্যন্ত অন্তত ১২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই বয়স্ক। তারা হার্ট অ্যাটাক, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। গত ১০ দিনে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য থেকে মৃতের এ সংখ্যা পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক খবরে মৃতের এ সংখ্যা বলা হয়েছে ৮৫। তবে সরকারি তরফ থেকে এখনও এ সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। মৃতদের মধ্যে রয়েছে হবিগঞ্জে ২২ জন, রাজারহাটে ৫, মানিকগঞ্জে ৪, বিশ্বনাথে ৩, বেনাপোলে ৬, মনিরামপুরে ৬, কাজীপুরে ৪, গলাচিপায় ২, ভাণ্ডারিয়ায় ৩, রৌমারীতে ৫, বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জে ১৪, রংপুরে ৮, বরিশালে ৫ জন। মৃতের সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি সাহায্যের পরিমাণ। এখনও সরকারি সাহায্য পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন শীর্তাতরা। এমনকি বেসরকারি পর্যায় থেকেও সাহায্যের পরিমাণ একেবারে কম। এদিকে বুধবারের তুলনায় গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও বেশি শীত পড়েছে। কমে গেছে তাপমাত্রা। আগের দিনের চেয়ে গতকাল তাপমাত্রা আরও নিচে নামে। নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে একদিনের মাথায়। আগের দিন দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্র ছিল বরিশালের খেপুপাড়ায় ২০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন- রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটে আজও শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তবে আগামীকাল থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা আছে।
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, শীতে সর্বত্রই মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় শীতবস্ত্র বিতরণের হার বাড়েনি। এখনও খুব সামান্য জায়গায় সরকারি ও বেসরকারি সাহায্য পৌঁছেছে। তবে যেখানে পৌঁছেছে সেখানে সাহায্যের পরিমাণ একেবারেই কম। অনেক জায়গায় শীতবস্ত্রের অভাবে মানুষ চরম কষ্ট পোহাচ্ছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টে থাকছে বিস্তারিত-
স্টাফ রিপোর্টার, হবিগঞ্জ থেকে জানান, বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হবিগঞ্জের ইতিহাসে এটা সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ও শৈত্যপ্রবাহে হবিগঞ্জে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যা বেশি। শুধুমাত্র হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে পহেলা জানুয়ারি থেকে ১০ই জানুয়ারি পর্যন্ত ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২২ শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার মৃত্যুবরণ করেছে ৫ শিশু। ৫৫ শিশু ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে। গত ১০ দিনে সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রোগী ভর্তি হয়েছেন ৫৬০ জন। প্রচণ্ড এ শীত থেকে বাঁচতে সাধারণ ও ছিন্নমূল মানুষেরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন শহরের শায়েস্তানগর, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রাঙ্গণে, কোর্ট স্টেশন, পৌর মার্কেটে ও চৌধুরী বাজারের হকার্স মার্কেটগুলোতে।
রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, গত ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আয়শা নামের (৬৫) এক বৃদ্ধা আগুন পোহাতে গিয়ে পুড়ে মারা গেছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এ টি এম আনোয়ারুল হক প্রামাণিক জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় বৃদ্ধা ও শিশু ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ৩০ জন ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে। গত ৪ দিনের টানা শৈত্যপ্রবাহে বোরো বীজতলা, আলুক্ষেত, বেগুনসহ রবিশস্যের ক্ষেতে কোল্ড ইনজুরি দেখা দিয়েছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে বাজারগুলো মানুষশূন্য হয়ে পড়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষজন শীতের গরম কাপড় কিনতে না পারায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছে।
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ঘিওরে গত রাতে এক শিশুসহ দু’জন মারা গেছেন। এ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেলেন ৪ জন।
বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি জানান, তীব্র শীতে বিশ্বনাথে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৬ই ডিসেম্বর সংসদ সদস্যের নামে ৩২৭টি কম্বল বরাদ্দ পায় পিআইও অফিস। কিন্তু উপজেলার জনসংখ্যার তুলানায় এ কম্বল খুবই কম। উপজেলা নির্বাহী আফিসার সোনামণি চাকমা বলেন, সংসদ সদস্যের বরাদ্দ ছাড়া উপজেলায় সরকারিভাবে আর কোন বরাদ্দ নেই।
বেনাপোল প্রতিনিধি জানান, বেনাপোলে গত কয়েক দিনে মারা গেছেন ৬ জন। এদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ ও ৩ জন মহিলা। কোল্ড ইনজুরিতে সীমান্ত এলাকায় মাঠের পর মাঠ বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে।
মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদিকে তীব্র শীতে শিশুরা নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া গবাদি পশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারাও যাচ্ছে।
কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, তীব্র শৈত্যপ্রবাহে কালকিনি পৌর এলাকার পশ্চিম মিনাজদি গ্রামে বুধবার রাতে আবুল কাশেম ঘরামী (৭৫) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের সংখ্যা বাড়ছে।
নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, পৌষের কনকনে শীতে আরও ১ বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ৩ দিনে জেলায় শীতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৭।
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে তীব্র শীত ও শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। গতকাল ভোরে তীব্র শীতে পাতাজান খাতুন (৭২) নামে আরও একজন বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ২ দিনে তীব্র ও শীতজনিত রোগে দৌলতপুরে ৪ জনের মৃত্যু ঘটেছে।
কাজীপুর প্রতিনিধি জানান, হাড়কাঁপানো শীত, ঘনকুয়াশা আর স্মরণকালের শৈত্যপ্রবাহে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। কাজীপুরের প্রতিটি ইউনিয়নে শীতবস্ত্রের যে সরকারি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাফিউল ইসলাম শাফি জানান, প্রথম পর্যায়ে ৬০০ এবং দ্বিতীয়বার ১০০০ কম্বল এসেছিল।
স্টাফ রিপোর্টার, গাইবান্ধা থেকে জানান, গাইবান্ধায় বিগত দিনের চেয়ে আজ শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। রংপুর আবহাওয়া অফিস জানায় গতকালের চেয়ে বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা আরও নেমে এসেছে। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০ দিনে ২৬ শিশু ও ৬ বৃদ্ধসহ ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ সকালে ৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। ফলে শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে ।
গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, দ্বিতীয় দফা শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ায় গলাচিপা উপজেলার সর্বত্র ঘনকুয়াশা, কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস ও তীব্র শীতের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছে হতদরিদ্র মানুষ। গত ৫ দিনে গলাচিপায় শীতজনিত রোগে ২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ভাণ্ডারিয়া প্রতিনিধি জানান, গত দু’দিনের তীব্র শীতে ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় কমপক্ষে ৩ জন মারা গেছেন। শীতের কারণে ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে সর্দি, কাশি, নিউমনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগ। শীতবস্ত্রের চরম অভাব দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে কয়েক শ’ কম্বল বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল। অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে স্কুল-মাদরাসার শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে।
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, গত তিনদিনে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫ জন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রৌমারী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রতিনিয়ত ভিড় করছে শ’ শ’ রোগী। রৌমারী হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, তীব্র শীতের কারণে বয়স্ক ও শিশুদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, আমাশয়ে আক্রান্ত হচ্ছে ব্যাপকভাবে। অপরদিকে বীজতলা ও রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি জানান, নিজ গড্ডিমারী গ্রামের রওশন হাবীব (৭৫) নামে একবৃদ্ধ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সারওয়ার হোসেন জানান, চাহিদার তুলনায় শীতবস্ত্র বরাদ্দ কম। এরপরেও কয়েক হাজার কম্বল ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি জানান, গত সাতদিনে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন নারীসহ ১৪ জন। সরকারিভাবে দুই উপজেলার লক্ষাধিক হতদরিদ্রের মাঝে এখন পর্যন্ত কম্বল বিতরণ করা হয়েছে ২৬০০টি। বদরগঞ্জ উপজেলার আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা চিকিৎসক ফরিদুল ইসলাম ওরফে পলাশ বলেন, সর্দি-কাশিসহ শীতজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের সীমাহীন কষ্ট হচ্ছে। হাসপাতালে এসব রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে।
স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর জানান, এ পর্যন্ত সেখানে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। শীতজনিত হাঁপানি, নিউমোনিয়া, কাশি, জ্বরসহ বিভিন্ন রোগে শতাধিক লোক হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি রয়েছেন। আবহাওয়া অফিসের সহকারী পরিচালক আতিকুর রহমান জানান, তাপমাত্রা সর্বনিম্নে ৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। এদিকে ২০ লাখ শীতবস্ত্রের প্রয়োজন হলেও রংপুর জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আবদুস সালাম জানান, সরকারিভাবে ৩০ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে।
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে জানান, বরিশালে ইতিহাসের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে বরিশাল আবহাওয়া অফিস। গত ২ দিন ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল হাসপাতালে বুধবার শীতজনিত রোগে মারা গেছেন ৩ জন। গতকাল মারা গেছেন আরও ২ জন।

Thursday, January 10, 2013

৩.২ :দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

৩.২ :দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা


শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে সারাদেশ। দেশের সর্বত্র তাপমাত্রা নেমেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। গতকাল বুধবার দিনাজপুরে তাপমাত্রা ছিল ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা বাংলাদেশের ৪২ বছরের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর চেয়ে কম তাপমাত্রা ছিল স্বাধীনতার আগে, ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সে হিসাবে গত ৪৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের শীতলতম দিন ছিল গতকাল।
দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা জেলার ১৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত সোম ও মঙ্গলবার দিনাজপুরে ৭ দশমিক ২ ও ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
বাংলাদেশে এর আগে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে। ২০০৩ সালে সেখানে ৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। স্বাধীনতার পর সেবারই প্রথম তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রির নিচে নেমে আসে। অথচ গতকাল একদিনে দেশের আরও তিনটি স্থানে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রির নিচে নামে। গতকাল সৈয়দপুরে ৩ দশমিক ৫, চুয়াডাঙ্গা ও ঈশ্বরদীতে ৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন পাঁচটি তাপমাত্রার তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে। রংপুর ও যশোরে ৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ডের পাতায় ঠাঁই পেয়েছে। বুধবার শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪। গতকালের হিসাব বাদ দিলে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন পাঁচ জেলার তাপমাত্রা হলো ২০০৩ সালে রাজশাহীতে ৩ দশমিক ৪, ১৯৯৬ সালে দিনাজপুরে ৩ দশমিক ৮, ১৯৭৮ সালে ময়মনসিংহে ৪ দশমিক ২,
২০০৩ সালে চুয়াডাঙ্গায় ৪ দশমিক ৩ ও ১৯৭৮ সালে কুমিল্লায় ৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাধীনতার আগে ১৯৬৮ সালে শ্রীমঙ্গলে ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি ও ১৯৬৪ সালে ৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
গতকাল ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২, যা গত মঙ্গলবারের তাপমাত্রার চেয়ে ২ দশমিক ৪ ডিগ্রি কম। টাঙ্গাইলে ৫ দশমিক ৫ ও ফরিদপুরে ৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস; চট্টগ্রামে ৯ দশমিক ৬, বরিশালে ৬ দশমিক ৫ ও সিলেটে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গত ডিসেম্বরে কুয়াশায় তীব্র শীত জেঁকে বসে সারাদেশে। কুয়াশা কেটে যাওয়ার পর শীত কমে আসে। মাত্র দেড় সপ্তাহের ব্যবধানে আবার ফিরে এসেছে শীত। শৈত্যপ্রবাহের দাপটে হাড় কাঁপানো শীত পড়েছে দেশের উত্তর, দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে।
আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান জানান, ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। শীতের এই প্রকোপ থাকতে পারে আরও কয়েক দিন। আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান জানান, আরও অন্তত দু'দিন স্থায়ী হতে পারে তীব্রশৈত্যপ্রবাহ। তবে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকলেও চলতি মাসের ২০ তারিখের পর আরও দু'একটি শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে। এসব শৈত্যপ্রবাহ দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে বয়ে যেতে পারে। তাপমাত্রা থাকতে পারে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
তীব্র শীতের জন্য আবহাওয়াবিদরা উত্তর থেকে আসা হিমেল হাওয়াকে দায়ী করেন। আবহাওয়াবিদ শামীম হাসান ভূঁইয়া শীতের কারণ হিসেবে জানান, বায়ুমণ্ডলের জেড প্রবাহ শক্তিশালী হয়েছে। এ সময়ে সূর্যের অবস্থান থাকে দক্ষিণ গোলার্ধের কাছাকাছি। ওই এলাকায় উত্তাপ বেশি থাকায় বায়ু লঘু হয়ে যায়। প্রাকৃতিক নিয়ম অনুযায়ী বাতাস লঘু হলে পাশের এলাকা থেকে ভারী বা শীতল বাতাস সেদিকে প্রবাহিত হয়। তাই এ সময়ে উত্তর দিক থেকে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর দিয়ে দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে প্রবাহিত হয়। উত্তর গোলার্ধ থেকে হিমালয় পর্বতমালা হয়ে আসা এই বাতাস হিমবাহের কারণে তীব্র ঠাণ্ডা থাকে। এই বাতাসের কারণেই শীতের প্রকোপ তীব্র হয়।
অস্বাভাবিক শীতের জন্য মৌসুমি বায়ু নয়, জলবায়ুর বিরূপ পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আইনুন নিশাত। তিনি সমকালকে বলেন, 'সারাবিশ্বেই এমন চরম ভাবাপন্ন জলবায়ুর ঘটনা বাড়ছে।' তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, 'নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় এখন তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিক নয়। বাংলাদেশ ও ভারতে তাপমাত্রা কম। দিলি্লর তাপমাত্রা আজ (বুধবার) ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটাও স্বাভাবিক নয়। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে এসব বাড়তেই থাকবে।'
ড. আইনুন নিশাত বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে বরফ সংকুচিত হচ্ছে, সামুদ্রিক পানির ওপর চাপ বাড়ছে, ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। বিভিন্ন দেশে বৃষ্টিপাত, তাপপ্রবাহ ও দাবানলের ধরন পাল্টে যাচ্ছে। ভারত ও চীনের পর বাংলাদেশেও এবার বৈশ্বিক উষ্ণতার সরাসরি প্রভাব দেখা যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। এসব দেশেও চলতি শীতে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে।