Pages

Friday, January 18, 2013

তৈরী পোশাকের বিদেশী ক্রেতাদের তীব্র সমালোচনায় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট

তৈরী পোশাকের বিদেশী ক্রেতাদের তীব্র সমালোচনায় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট


বাংলাদেশের তৈরী পোশাকের বিদেশী ক্রেতাদের তীব্র সমালোচনা করেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। ক্রেতারা তাদের আচরণবিধি রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার জন্য এ সমালোচনা করা হয়। সমবেদনা জানানো হয় তাজরিন গার্মেন্ট ও ২০০৬ সাল থেকে এ যাবৎ বিভিন্ন অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি। গার্মেন্টে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা না হলে বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি না করতে আহ্বান জানানো হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে। গার্মেন্টে পোশাক তৈরির আগে যেভাবে জিন্স থেকে ধুলাবালি ও ময়লা পরিষ্কার করা হয় তার সব পন্থা বাংলাদেশ সরকারের বন্ধ করা উচিত বলে দাবি করা হয়েছে। আশুলিয়ায় তাজরিন গার্মেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কি পদক্ষেপ নেয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বুধবার এ আলোচনা করা হয় ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে। আলোচনায় অংশ নেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বেশ কয়েকজন সদস্য। এ সময় জিইউই/এনজিএল নামের পার্লামেন্টারি গ্রুপের সদস্য পল মারফি নিজস্ব আচরণবিধি রক্ষায় ইউরোপীয় বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতার নিন্দা জানান। ওই গ্রুপের নিজস্ব ওয়েবপেইজে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বিতর্কের সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশে তাজরিন ফ্যাশন্স লিমিটেডে অযৌক্তিক যে ১১২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা জানাই। একই রকম সমবেদনা জানাই ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত আরও প্রায় ৭০০ নিহত শ্রমিকের পরিবারের প্রতি। তিনি এসব প্রাণহানির জন্য দায়ী করেন কারখানা মালিকদের। পাশাপাশি তিনি ইউরোপীয় বড় বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকেও সমান দায়ী করেন। তিনি বাংলাদেশের এসব কারখানাকে ‘মৃত্যুফাঁদের কারখানা’ বলে অভিহিত করেন। পল মারফি বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ তৈরী পোশাকের রপ্তানিকারক দেশ বাংলাদেশ। শুধু ২০১১ সালে এ দেশ তৈরী পোশাক রপ্তানি করে আয় করেছে ১৯০০ কোটি ডলার। এ দেশ থেকে টমি হিলফিগার, গ্যাপ, কেলভিন ক্লেইন, এইচঅ্যান্ডএম এবং ওয়াল-মার্টের মতো নামী ব্রান্ডের প্রতিষ্ঠান পোশাক কিনেছে। এদেশে শতকরা ৪০ ভাগ মানুষ এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। তাদের দৈনিক আয় ১ দশমিক ২৫ ডলার। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত মোট শ্রমিকের শতকরা ৮৫ ভাগই নারী। তাদের সর্বনিম্ন মাসিক বেতন ৩৭ ডলার। তাদেরকে কোন শ্রমিক ইউনিয়ন করতে দেয়া হয় না।
শ্রমিক ইউনিয়ন করা থেকে তাদেরকে বিরত রাখতে শক্তি প্রয়োগ করা হয়। পল মারফি ডেনিম জিন্স তৈরির সময়কার শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে জিন্সের কাপড় থেকে পোশাক তৈরির সময় তা থেকে যে বালুকণা শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে শ্রমিকরা গ্রহণ করেন তা থেকে তারা সিলিকোসিস ও ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। এসব শ্রমিককে এমন বালুকণা ও কারখানার ধুলোবালি গ্রহণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে পরিবেশগত কারণে। আইরিশ ওই এমপি আরও বলেন, পোশাক তৈরির আগে তা থেকে ধুলোবালি পরিষ্কারের যে পদ্ধতি (স্যান্ডব্লাস্টিং) আছে তার সব রকম প্রক্রিয়া বাংলাদেশ সরকারের বন্ধ করে দেয়া উচিত। যারা সিলিকোসিস (বালু-ধুলোকণা থেকে সৃষ্ট রোগবিশেষ)-এ আক্রান্ত তাদের জন্য সামাজিক ও চিকিৎসা সহায়তার সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা উচিত। তিনি আরও বলেন, যেসব কারখানায় ধুলোবালি বিমুক্ত করার জন্য শ্রমিকরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন সেখান থেকে ধুলোবালিমুক্ত জিন্সের কাপড় রপ্তানি অবশ্যই বাতিল করতে হবে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে। এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এমন একটি প্রস্তাবনা বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠানোর জন্য খসড়া করা হয়েছে। ওই খসড়ার ওপর গতকাল ভোট হওয়ার কথা।

Wednesday, January 16, 2013

নারায়ণগঞ্জে কিশোরী ধর্ষণের শিকার

নারায়ণগঞ্জে কিশোরী ধর্ষণের শিকার


নারায়ণগঞ্জের বন্দরে এক কিশোরী (১৪) ধর্ষণের শিকার হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামে ধর্ষণের ওই ঘটনা ঘটলেও এ ঘটনায় সোমবার রাতে ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে ২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার উদ্বৃতি দিয়ে বন্দর থানার ওসি আক্তারুজ্জামান জানান, সোমবার সন্ধ্যায় ওই কিশোরীর মা-বাবার অনুপস্থিতিতে প্রতিবেশী মাসুদ মিয়ার ছেলে মুন্না (২০) তার বন্ধু একই এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে নিশাতের সহযোগিতায় ওই কিশোরীকে তাদের বাড়িতেই ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ধর্ষিতার পরিবার মামলা করতে চাইলেও স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিচারের কথা বলে সময় ক্ষেপণ করে। পরে স্থানীয়ভাবে বিচার না পেয়ে ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে ধর্ষক ও তার সহযোগীকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ ধর্ষক ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।

প্রভাষককে আটকে নির্যাতন জাবি ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

প্রভাষককে আটকে নির্যাতন জাবি ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার


গাইবান্ধার আলহাজ সেলিমা রহমান কারিগরী মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষককে অপহরণ করে ৪ দিন জাবিতে আটকে রেখে নির্যাতনের পর মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে গতকাল সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় র‌্যাব ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকসহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজের ৫ ছাত্রকে গ্রেপ্তার এবং অপহৃতকে উদ্ধার করেছে।
অপহরণকারীদের দাবিকৃত মুক্তিপণের ১০ লাখ টাকা সোমবার সাভার করতোয়া কুরিয়ার সার্ভিস অফিস থেকে তুলতে আসলে ওঁত পেতে থাকা সদস্যরা তাদের গ্রেপ্তার করে বলে র‌্যাব জানিয়েছে।
গতকাল সকালে র‌্যাব গ্রেপ্তারকৃতদের সাভার মডেল থানায় সোপর্দ করলে দুপুরে প্রভাষক আহসান হাবীব প্রিন্স বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় অপহরণের মামলাটি (নং-২৫) দায়ের করেন।
মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র জাবির হোসেন (২২), ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র শফিক (২২), দর্শন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র শাহেদ শাহ (২৪), ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আনিসুজ্জামান সিদ্দিকী (২২) ও ঢাকা কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রুবেল ইসলাম (২৩) আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে শফিক জাবির অ.ফ.ম কামাল উদ্দিন ও অন্যরা মাওলানা ভাসানী হলের ছাত্র। এছাড়া মামলায় পলাতক দেখিয়ে জাবির ছাত্র নাহিদ, তমালসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনকেও আসামি করা হয়। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে সাভার মডেল থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছে। তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার ৫ ছাত্রকে ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
র‌্যাব-৪ সাভার ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন তাহসিন সালেহীন রানা জানান, গত শুক্রবার গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানার আলহাজ সেলিমা রহমান কারিগরী মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক আহসান হাবীব প্রিন্স জরুরি কাজে ঢাকা আসেন। এ খবর পেয়ে তার পূর্ব পরিচিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র জাবির হোসেন তাকে ফুসলিয়ে সাভারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আলবেরুণী হলের ২য় তলায় একটি রুমের মধ্যে এনে আটকে রেখে তার স্ত্রীর কাছে মোবাইল ফোনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবিকৃত টাকা সাভার করতোয়া কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠাতে বলে। এরই মধ্যে অপহৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি সাভার র‌্যাব-৪ ক্যাম্প কমান্ডারের কাছে অবহিত করা হয়। পরে র‌্যাবের গোয়েন্দা দল নির্দিষ্ট সময়ে কুরিয়ার সার্ভিস অফিসের আশপাশ অবস্থান নেয়। সোমবার বিকাল আনুমানিক ৫টার দিকে অপহরণকারীরা অপহৃত আহসান হাবীব প্রিন্সকে সঙ্গে নিয়ে মুক্তিপণের টাকা তুলতে কুরিয়া সার্ভিসের অফিসে আসলে ওঁত পেতে থাকা র‌্যাবের গোয়েন্দা দল তাদের গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার করে অপহৃত প্রভাষক আহসান হাবীব প্রিন্সকে। রাতভর র‌্যাব হেফাজতে গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার সকালে সাভার মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়। তবে গ্রেপ্তারকৃতরা দাবি করে, প্রিন্সকে তারা অপহরণ করেনি। তাদের পাওনা টাকা আদার করার চেষ্টা করছিল। গ্রেপ্তারকৃত জাবির ছাত্র শফিক জানায়, ঢাকা কলেজের ছাত্র রুবেল ইসলাম তার বন্ধু সুমনের বোন জেসমিন জামালপুরে একটি কলেজে চাকরি করে। এমপিওভুক্ত করে দেয়ার জন্য প্রিন্স ২০১০ সালে ৮৭ হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্তু কোন কাজ করে দিতে পারছে না, শুধু ঘুরাচ্ছে। এদিকে ছাত্র ইউনিয়নের জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে সকালে থানায় আসেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক সৌমিত চন্দ জয়দ্বীপ। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো। জাবির হোসেন দেড় লাখ টাকা পাবে মামলার বাদী প্রিন্সের কাছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়ার নাম করে ওই টাকা নিয়েছে। তিনি দাবি করেন, আলবেরুণী হলের যে কক্ষে তাকে আটকে রাখা হয়েছে মামলায় উল্লেখ করেছে সে কক্ষের জানালার গ্রীল ভাঙা। ইচ্ছে করলে সে পালাতে পারতো। তাছাড়া সে কোন চিৎকার চেঁচামেচিও করেনি।

তবে পুলিশ রহস্যজনক কারণে গ্রেপ্তারকৃত জাবির হোসেনের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা বলতে দেয়নি।
ছাত্র ইউনিয়ন জাবি শাখার সহকারী সাধারণ সম্পাদক মং সিং হাই মারমা সাংবাদিকদের বলেন, মামলায় যেভাবে অপহরণের ঘটনা সাজানো হয়েছে তা মিথ্যা। তিনি দাবি করেন, সোমবার দুপুরেও প্রিন্সকে জাবির ভিতরে হোটেলে খেতে দেখেছি। তাছাড়া প্রিন্স প্রায় দুই বছর যাবত জাবিতে আসা-যাওয়া করছে। ঢাকায় আসলে রাতে সে ক্যাম্পাসে থাকতো বলেও তিনি জানান। তবে মামলার বাদী প্রভাষক আহসান হাবীব প্রিন্স তাদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, জাবির হোসেন গাইবান্ধায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যেত সেখান থেকেই তার সঙ্গে পরিচয়। সেই পরিচয়ের সূত্র থেকেই মাঝেমধ্যে ঢাকায় আসলে তার সঙ্গে দেখা এবং জাবিতে আসা-যাওয়া করতেন বলে তিনি স্বীকার করেছেন। তিনি আরও বলেন, গাইবান্ধায় বিজনেস ম্যানেজম্যান্ট একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সেটার রেজিস্ট্রেশন করানোর জন্য ঢাকায় আসি। ওইদিন রাজধানীর কল্যাণপুরে গাড়ি থেকে নামলে জাবির হোসেন ফোন দেয়। তার ফোন পেয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলেই আটকে রেখে মারধর করে পরিবারের কাছে ফোনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর ড. সোহেল আহমেদ জানান, আমাদের ছাত্ররা যে ওই প্রভাষককে জাবির ভিতরে আটকে রেখেছে তা কিন্তু ওই প্রভাষকের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। তারা সরাসরি র‌্যাবকে অবহিত করেছে। তিনি বলেন, আলবেরুণী হলে তাকে আটকে নির্যাতনের কথা বলা হলেও গ্রেপ্তারকৃতরা কেউ ওই হলের ছাত্র নয়। তাই বিষয়টি জাবির ডিসিপ্লিন বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই ছাত্রদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

Tuesday, January 15, 2013

Boyfriend sued over medical student’s death

Boyfriend sued over medical student’s death


A murder case has been filed against the boyfriend of Jerina Aradin Jerin, a student of a private medical college, over her death.
Jerin’s uncle Harun-ur-Rashid filed the case with the Kamalapur Railway Police Station on Sunday night, Sub-Inspector Alamgir Hossain told.
Apart from Jerin’s friend Kazi Mohiuddin Saran, his parents Kazi Jasimuddin and Shahana Begum have been made accused in the case.
Doctors at the Dhaka Medical College Hospital pronounced Jerin, 23, a first-year student of MBBS programme at the Uttara Women’s Medical College, dead around 8pm on Saturday after she was hit by a train.

Saran told reporters at the hospital that Jerin was hit by a Kamalapur-bound train while they were walking alongside the track-way in Cantonment Rail-crossing area in the evening.

He claimed that he managed to save himself by jumping on the road.

Saran first took Jerin to Kurmitola General Hospital and then to DMCH.

Police at DMCH Police Outpost detained Saran over his suspicious statement.

They said Saran completed his higher education abroad and currently is working for a private organisation.

SI Alamgir Hossain, also the investigation officer of the case, produced Saran before the court of Chief Judicial Magistrate Kazi Shahidul Islam on Monday with a plea to interrogate him in their custody for five days.

The judge approved three days’ remand rejecting Saran’s bail petition.

Hossain told reporters on Sunday that they had gone to the scene of the accident with Saran. “Though the youth claimed that the incident had taken place in Cantonment area, it actually happened in Khilgaon area,” he said.

“During the on-the-spot investigation, it was learnt that Jerin and Saran had an altercation around 5:45pm on Saturday. Eyewitnesses said Saran pushed Jerin at one stage of the argument.”

He said there was injury marks in Jerin’s head, right eye and right leg.

Jerin hailed from Nagarpur, Tangail. She was the eldest of two daughters and a son of their parents, Mir Kaykobad and Afroja Mir Merry, who reached Dhaka from Canada on Monday morning.

মা হতে এসে লাশ হয়ে যায় !

মা হতে এসে লাশ হয়ে যায় !


সোনাদিয়া ও সেন্টমার্টিন সমুদ্র সৈকতে আসতে শুরু করেছে বৃহদাকার সামুদ্রিক মা-কাছিম। টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের সাগর সৈকতে দু-একটি কাছিম চোখে পড়লেও কক্সবাজার, হিমছড়ি, পেঁচার দ্বীপ, ইনানির সাগর সৈকতে সামুদ্রিক কোনো কাছিম ডিম দিতে আসে না। অপরিকল্পিত আবাসন, সৈকতে আলোর ঝিলিক ও পর্যটকের অনিয়ন্ত্রিত পদচারণায় কাছিমের ডিম দেয়ার পরিবেশ গত পাঁচ বছরে পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে।

কক্সবাজার, সোনাদিয়া, সন্দীপ, কুতুবদিয়াসহ বিভিন্ন উপকূল থেকে প্রায় ২০ হাজার ট্রলার মাছ শিকার করছে গভীর সমুদ্রে। জেলেরা ট্রলার থেকে ভাসাজাল, ডুবাজাল, অনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রচালিত ট্রলারসহ ৪০-৬০ ফুট লম্বা বিহুন্দি ও লাক্ষ্যা জাল পেতে রাখে সাগরতলে। অপরদিকে হাজার কিলোমিটার পেরিয়ে সামুদ্রিক কাছিম মা হওয়ার তাড়নায় ছুটে আসে এদেশের সাগর সৈকতে। কাছিমগুলো যখন সৈকতে এসে পৌঁছায়, তখন তারা এক একটি মস্তকবিহীন লাশ। নিথর দেহ নিয়ে ভেসে আসে জোয়ারের পানিতে। শরীরে তাদের আঘাতের দাগ।

বর্তমানে কমপক্ষে ৫০ হাজার বেহুন্দি জাল রয়েছে জেলেদের কাছে। গভীর সমুদ্রে জেলেদের জালে কাছিম আটকা পড়লে, জেলেরা তাদের বৈঠা, বাঁশ, কাঠ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। জাল থেকে ঝামেলা এড়াতে জেলেরা কাছিমগুলো নির্মমভাবে হত্যা করে। সামুদ্রিক কাছিম গবেষক জহিরুল ইসলামের গবেষণায় দেখা যায়, প্রতিবছর উপকূলবর্তী এলাকায় ৬০০ থেকে ৮০০ মৃত কাছিম সৈকতে ভেসে আসে। আগত পর্যটকরা জানতেও পারে না, কেন তারা মারা পড়ে? অথচ উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়ন, হোটেল-মোটেলের আলোর ঝলক, প্রবাল ধ্বংস, সৈকত দূষণ কাছিমের বংশবিস্তারে বড় প্রতিবন্ধকতা। সৈকতে আলো জ্বালালে এরা সহজেই বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং ডিম না দিয়ে ফিরে যায়। আবার কখনও বালুচরে উঠতে না পেরে পানিতে ডিম দেয়। তবে সে ডিম থেকে কখনও বাচ্চা ফোটে না। মা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা অপূরণ রেখে ফিরে যেতে হয় অন্য জায়গায়।

প্রাচীনকালে মানুষ যখন থেকে সমুদ্রে যাতায়াত ও তীরে বসবাস শুরু করে, তখন থেকে সামুদ্রিক কাছিমের সঙ্গে পরিচয় হয়। এরা সরীসৃপ। অতিপ্রাচীন এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যারা ১০-১৫ কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে টিকে আছে। এদের জীবনচক্র বড় জটিল ও রহস্যপূর্ণ। খাদ্যগ্রহণ এক জায়গায় আবার প্রজনন ক্ষেত্র আরেক জায়গায়। এ দূরত্ব প্রায় ১২ হাজার কিলোমিটার হতে পারে। জীবনচক্রে তারা বিভিন্ন সাগর-মহাসাগরে বিচরণ করে, নানাভাবে সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষা করে আসছে।

এখন পর্যন্ত অলিভ রিডলে, সবুজ কাছিম, হকসবিল, লগারহেড, লেদারব্যাক, ফ্লাটব্যাক ও ক্যাম্প রিডলে, এই সাত প্রজাতির সামুদ্রিক কাছিম বিশেজ্ঞরা শনাক্ত করেছেন। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় এখন পর্যন্ত পাঁচ প্রজাতির সামুদ্রিক কাছিমের উপস্থিতির সন্ধান পাওয়ার তথ্য জানায় সামুদ্রিক কাছিম গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মেরিন লাইফ অ্যালাইন্স’। তবে এ সংখ্যা কমে বর্তমানে শুধু ‘অলিভ রিডলে’ বালুচরে আসছে।

সামুদ্রিক কাছিমের সঙ্গে স্থলভাগের কাছিমের অনেক অমিল রয়েছে। যেমন- এরা মাথা লুকাতে পারে না। এদের পা’গুলো সমুদ্রে চলার জন্য সাঁতার উপযোগী। অনেকটা বৈঠার আকারে। একটি সামুদ্রিক কাছিম প্রাপ্তবয়স্ক হতে ২০ থেকে ২৫ বছর সময় লাগে। ওজন ৪০ থেকে ৬০ কেজি হয়।

স্ত্রী কাছিম প্রজাতিভেদে বছরে তিন থেকে সাতবার ডিম পাড়ে। শুকনো বালু সরিয়ে ৫০-৬০ বা ১০০-১১০ সেন্টিমিটার গভীর করসি আকারের গর্ত করে ১০০-১৫০টি গোলাকার সাদা ডিম দেয়। সামুদ্রিক কাছিমের বাচ্চা প্রাকৃতিক নিয়মে ডিম ফুটে বের হয়ে সমুদ্রে চলে যায়। জীবন বাঁচাতে সাগরে নেমেই টানা ৪৮ ঘণ্টার মতো সাঁতরে গভীর সাগরে যায়। বাচ্চা কাছিম যে সৈকতে জন্মে ছিল বয়ঃপ্রাপ্তির পর সে বালুচরেই তারা আবার ডিম দিতে আসে। বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত নন কীভাবে সাগরের কাছিম নির্দিষ্ট সৈকত খুঁজে নিতে পারে। খাদ্য তালিকায় কাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক, জেলিফিশ, সাগর শসা, চিংড়ি, লবস্টার, শ্যাওলা ও সামুদ্রিক ঘাস খেয়ে থাকে।

সামুদ্রিক কাছিম সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে সারা বিশ্বে হুমকিসমূহ কমানোর চেষ্টা চলছে। পরিযায়ী বলে কাছিম সংরক্ষণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমন্বয় প্রয়োজন। ২০০১ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ভারত মহাসাগরীয় দেশগুলো সামুদ্রিক কাছিম সংরক্ষণের জন্য একটি সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে IOSEA, যা ‘Marine Turtle Mou’ হিসেবে পরিচিত। মূলত সাগরের কাছিম বিষয়ে শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সরকার ২০০৪ সালে IOSEA সামুদ্রিক কাছিম সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় এলাকতে সামুদ্রিক কাছিম রক্ষার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত নেই কোনো পর্যবেক্ষণ।

লাকি LIPS

লাকি LIPS


নারী সৌন্দর্যের অন্যতম অংশ হল ওষ্ঠ, যাকে চলতি ভাষায় বলা হয় ঠোঁট।

কবি টেনিসন বলেছিলেন, “আ ম্যান গিভেন আল আদার ব্লিস।আন্ড অল হিজ ওয়র্ল্ডলি ওয়ার্থ ফর দিজ, টু ওয়েস্ট হিজ হার্ট ইন ওয়ান কিস আপন হার পারফেক্ট লিপস…” এরপর নিশ্চয়ই আর নারী সৌন্দর্যে ঠোঁটের গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার মানে হয় না! এখানে বেছে নেয়া হয়েছে ছয় সেলেবকে, যাদের ঠোঁটের জাদুতে বিভিন্ন সময়ে মজেছে তামাম পুরুষকুল।

১. মেরিলিন মনরো: তার সৌন্দর্য নিয়ে কারও মনে কোনও দ্বিধা নেই।তবে মেরিলিনের দিকে দৃষ্টি পড়লে সবচেয়ে প্রথমে নজরে আসে তার রাঙা ঠোঁট দু’টিই।

২. মধুমালা: বলিউডের যদি সুন্দর হাসির প্রতিযোগিতা করা যায়, তা হলে নিঃসন্দেহে প্রথম দিকে জায়গা করে নেবেন মধুমালা। আর এটা সম্ভব তার সুন্দর ঠোঁটের জন্যই।

৩. বিপাশা বসু: বং বিউটি বিপাশার সৌন্দর্যের অন্য্তম অঙ্গ হলো তার ঠোঁট। তার পারফেক্ট ঠোঁটই বিপসের সেক্সি তকমায় বিশেষ পালক যোগ করেছে।

৪.মাধুরী দীক্ষিত: সুন্দর হাসির প্রতিযোগিতায় মধুমালার পাশাপাশি জায়গা করে নেবেন মাধুরীও। শোনা যায়, এম এফ হুসেন নাকি তার ঠোঁটের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন!

৫. আ্যাঞ্জেলিনা জোলি: তার ঠোঁটের পাউট বাকিদের থেকে তাকে আলাদা করেছে। আ্যাঞ্জেলিনা নিজেও জানেন সে কথা। তাই তিনি সৌন্দর্যের প্লাসপয়েন্ট হিসেবে ঠোঁটকেই চিহ্নিত করেন বরাবর।

৬. কারিনা কাপুর: মোস্ট কিসেবল লিপসের তালিকায় প্রথম দিকেই আছেন কারিনা। আর সে জন্য যে তার ঠোঁটই দায়ী তা নিশ্চয় বলার অপেক্ষা রাখে না।সূএ: ওয়েবসাইট।

‘সমরাস্ত্র ক্রয়ের বিষয় জনগণকে জানানো উচিত’

‘সমরাস্ত্র ক্রয়ের বিষয় জনগণকে জানানো উচিত’


সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও কূটনীতিক ফারুক চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর রাশিয়া সফরে যে ৮ হাজার কোটি টাকার সমরাস্ত্র ক্রয় চুক্তি হচ্ছে তা সার্বিক প্রতিরক্ষানীতির অংশ কিনা তা জনগণের জানা প্রয়োজন। বিষয়টি জনগণের সামনে প্রকাশ করা উচিত। প্রধানমন্ত্রীর রাশিয়া সফর সম্পর্কে মানবজমিনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ৪০ বছর পর সরকারপ্রধান পর্যায়ের কেউ রাশিয়া সফর করছেন। এর আগে ১৯৭২ সালের মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাশিয়া (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন) সফর করেছিলেন। তাই এ সফর নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ সফর। ৪০ বছরে পৃথিবী অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ২৪ বছর আগে ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। এখন হয়েছে রাশিয়া। পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্ব আরও বেশি। তাই আমি আশা করি এ সফর দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক নিবিড়তর করবে। সংবাদ মাধ্যমে আমরা যা জানতে পেরেছি তা হলো দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এ সফরের কার্যসূচিতে স্থান পাবে। ৮ হাজার কোটি টাকার সমরাস্ত্র ক্রয় আর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি। প্রথম বিষয়টিতে আমার বক্তব্য হলো এ ব্যাপারে আমরা এখনও বিস্তারিত কিছুই জানি না। যে টাকা ধার করা হবে তার সুদের হার কত তাও জানিনা এবং এটা সার্বিক প্রতিরক্ষানীতির অংশ হিসেবে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কেনা হচ্ছে কিনা তা-ও জানি না। এসব বিষয় আমরা সুস্পষ্টভাবে জানতে চাই। জনগণকেও জানানো উচিত। কারণ, এটা একটা বিরাট বিষয়। এটা দু’দেশের একটা বাণিজ্যিক সম্পর্কের বিষয়। তবে এ সফরের মাধ্যমে দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে উন্নয়ন ঘটবে বলে আমি আশা করছি।
রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের কোন বিচ্যুতির আশঙ্কা থাকে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না। আমরা একটা সার্বভৌম জাতি। কখন কার সঙ্গে কি রকমের সম্পর্ক করবো, এতে কারও কিছু যায় আসে না। এমনটি হওয়ারও কথা না। এগুলো দ্বিপক্ষীয় বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পর তার অর্জন নিয়ে নানা সমালোচনা হয়েছিল। এ সফর নিয়ে তেমন কোন সংশয় আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সফর তো শেষ হয়নি। তাই এখনই এ ধরনের কোন মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, সব বিষয়ে আমাদের ভেবেচিন্তে পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ- অনলাইন বিড়ম্বনা

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ- অনলাইন বিড়ম্বনা


অনলাইন বিড়ম্বনায় ২ দিনে শত শত কর্মী মালয়েশিয়া যেতে নাম নিবন্ধন করতে পারেননি। পোহাতে হয়েছে ভোগান্তি। ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলে। আজ এ দুই বিভাগে রেজিস্ট্রেশনের শেষ দিন। তবে যেসব এলাকায় নেটওয়ার্ক সমম্যার কারণে তিন দিনেও নিবন্ধন করতে পারবে না সেখানে আরও একদিন সময় বাড়বে বলে জানিয়েছেন বিএমইটি’র মহাপরিচালক বেগম সামছুন নাহার। তিনি বলেন, বিড়ম্বনা সত্ত্বেও ২ দিনে দেড় লাখ কর্মী রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এদিকে গতকাল সরজমিন ঢাকা বিভাগের কেরানীগঞ্জ উপজেলার দু’টি ইউনিয়নে গিয়ে বেশকিছু অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। বিভিন্ন জেলা থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন ইন্টারনেট-এর ধীরগতি, অদক্ষ অপারেটর এবং তাদের প্রশিক্ষণ না থাকায় রেজিস্ট্রেশন করতে লোকজনকে বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। কোথাও কোথাও নির্ধারিত ৫০ টাকার বেশি ফি নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল বেলা ১২টা ৪৪ মিনিটে ঢাকার সন্নিকটে কেরানীগঞ্জ উপজেলার শাক্তা ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ১০০ ফরমের স্তূপ। বাইরে আগ্রহী প্রার্থীরা ঘুরাফেরা করছেন। কম্পিউটারের দায়িত্বে নিয়োজিত উদ্যোক্তা পরিচয় দিয়ে রাজিউল মাহবুব বললেন, নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে এ পর্যন্ত তিনি মাত্র ১০টি নিবন্ধন করতে পেরেছেন। মাঝে মাঝে সার্ভারে ব্যাপক সমস্যা দেখা দেয়। প্রথম দিন এই কেন্দ্রে তারা ৩৫টি নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পেরেছেন। এখানে উপস্থিত উপজেলা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা রিসোর্স সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টর শামীমা ইয়াসমিন জানান, তিনি এখানে সকাল থেকেই আছেন। কোন অনিয়ম নেই। নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে নিবন্ধনের গতি ধীরে চলছে। তথ্য কেন্দ্র থেকে মূলকপির ফটোকপি দুই টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা দিয়ে কিনছেন- এরকম অভিযোগ করেন প্রার্থী মো. আসাদ। এছাড়া পরিষদের বাইরে টেবিল সাজিয়ে ফরম পূরণ করছেন একদল। যারা ৪০ থেকে ৫০ টাকা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন জসিম। এই অভিযোগের ব্যাপারে শাক্তা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সুলতান খান বলেন, যারা নিজেরা ফরম পূরণ করতে পারেন না তারাই ওদেরকে দিয়ে লেখাচ্ছেন। এখন তাদের না করে দিয়েছি। যার যার ফরম নিজেরাই ফরম করুক। ১০ টাকা প্রসঙ্গে তিনি তাৎক্ষণিক ওই ফরম পরিষদ থেকে ফ্রি দেয়ার ঘোষণা দেন।
একই উপজেলার তারানগর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায় সেখানে তথ্য ও সেবা কেন্দ্র নেই। ওই পরিষদ থেকে ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে এই তথ্য কেন্দ্র। বেলা ২ টা ৫ মিনিটে গিয়ে দেখা গেছে ১০-১২ জনের লাইন। অপেক্ষারত প্রার্থীরা জানান, সকালে একটু লাইন বড় ছিল। সাদ্দাম, ইকবাল ও মিলন নামের তিনজন অভিযোগ করে বলেন, তারা তিন জনে একত্রে ৩টি ফরমের ফটোকপি কিনেছেন ৫০ টাকা দিয়ে। এছাড়াও প্রত্যেককে সরকারি খাতে আরও ৫০ টাকা করে দিতে হবে। এই কেন্দ্রের উদ্যোক্তা আল আমিন বলেন, সার্ভারে ব্যাপক সমস্যা। নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। এই পর্যন্ত ৪৩টা নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। আগের দিন করা হয় ৮৫টি।
এদিকে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) পরিচালক (ট্রেনিং) ড. মো. নূরুল ইসলাম জানান, দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত এক লাখ ৫০ হাজার ৫০৪ জন নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে এক লাখ ২৩ হাজার ৬৪০ জন এবং বরিশাল বিভাগে ২৬ হাজার ৮৬৪ জন অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন। ইন্টারনেটের সমস্যার কথা স্বীকার করেন তিনি। ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের নিবন্ধিত ব্যক্তিদের মধ্যে যারা মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন তাদের লটারি হবে আগামীকাল ১৬ই জানুয়ারি। জেলা সদরে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ লটারি হবে। তবে জনসংখ্যা অনুপাতে বরাদ্দকৃত ইউনিয়নভিত্তিক কোটা অনুযায়ী তালিকা তৈরি করা হবে। একই ভাবে এরপর রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগের লোকজন ১৬ থেকে ১৮ই জানুয়ারি নাম নিবন্ধন করার সুযোগ পাবেন। এখানে ১৯শে জানুয়ারি লটারি হবে। খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯ থেকে ২১শে জানুয়ারি নাম নিবন্ধন করা হবে। এখানে লটারি হবে ২২শে জানুয়ারি। নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে সকাল নয়টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত।
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, কিছু কিছু ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রে আইটি সমস্যার কারণে কিছুটা বিঘ্ন সত্ত্বেও প্রথম দিন রোববার জেলার ১০৮টি ইউনিয়নে মোট ৫ হাজার ৩৫৪ জন মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু কর্মী নিবন্ধন করেছেন। তবে কোন কোন ইউনিয়নে নিবন্ধন ফি বাবদ সরকার নির্ধারিত ৫০ টাকার পরিবর্তে ১০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসনের আইসিটি কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়, সরকার নিবন্ধনের জন্য ১৩, ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি-এই তিনদিন নির্ধারণ করে দিয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিনই ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। তবে ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের কিছু কারিগরি ত্রুটি এবং পর্যাপ্ত দক্ষতার অভাবে নিবন্ধন কাজে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। এদিকে হোসেনপুর উপজেলার পুমদী, সাহেদল, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন তথ্য সেবাকেন্দ্রগুলোতে রেজিস্ট্রেশন প্রার্থীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে নির্ধারিত ৫০ টাকা নিবন্ধনের জন্য ধার্য থাকলেও ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা ১০০ থেকে ১৫০ টাকা আদায় করছেন। এছাড়া নিবন্ধন ফরম বিক্রি করা হচ্ছে ২০ থেকে ৫০ টাকায়। এমন অভিযোগ পেয়ে সোমবার দুপুরে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ পুমদী ইউপি তথ্যসেবা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে এ ঘটনার সত্যতা পান। এ সময় সমবেত উপস্থিত নিবন্ধনের জন্য শত শত কর্মী ইউপি চেয়ারম্যানের এ বাড়তি টাকা আদায়ের অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে পুমদী ইউপি চেয়ারম্যান আরজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জেনারেটর ও আইপিএস বাবদ এ অতিরিক্ত টাকা নেয়া হচ্ছে। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলাই ইউনিয়নে নিবন্ধন করতে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০ টাকার স্থলে ১০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জেনারেটর ভাড়া বাবদ এই টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে লোকজনকে ব্যাখ্যা দেয়া হয়। এছাড়া ইটনা উপজেলার ইউনিয়নের জয়সিদ্ধি ইউনিয়নেও ১০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে জানান, মালয়েশিয়ার কর্মী নিবন্ধন ফরম বাবদ অতিরিক্ত মূল্য গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেছে বিভিন্ন সেবা কেন্দ্র থেকে। কোন কোন কেন্দ্রে ৫০ টাকা ফি’র জায়গায় ৫০০ টাকা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপরদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বেশকিছু এলাকায় গতকালও নিবন্ধন চালু হয়নি এসব এলাকার আগ্রহী শ্রমিকদের বিকল্প পদ্ধতিতে নিবন্ধন চলছে বলে জানা গেছে। ইন্টারনেট ধীরগতির কারণে নিবন্ধন প্রক্রিয়াও শ্লথ হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বরিশাল জেলায় ২ দিনে ৫ হাজারের কিছু বেশি নিবন্ধন হয়েছে বলে জানা গেছে। বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়ন কেন্দ্রের রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন এখানে তার কাছে একটি ফরম ৫০০ টাকা দাবি করা হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট অপারেটর এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। একই অভিযোগ জাগুয়া কড়াপুর ইউনিয়নে। মেহেন্দিগঞ্জে গতকালও বিদ্যুৎ সমস্যার জন্য ৭টি কেন্দ্রে নিবন্ধন শুরু সম্ভব হয়নি। পার্শ্ববর্তী তথ্য সেবা কেন্দ্র এদের নিবন্ধন চলছে। বরিশাল জেলা তথ্য সেবার সহকারী প্রোগ্রামার চৌধুরী মোঃ শওকত জানান, মেহেন্দিগঞ্জের ৭টি তথ্যকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে আগেই বাদ দেয়া হয়েছে। তবে বেশকিছু স্থানে ইন্টারনেট এর শ্লথগতিত কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
বরগুনা প্রতিনিধি জানান, জেলার বেশ কয়েকটি তথ্য সেবা কেন্দ্রে সকাল থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত নিবন্ধন প্রার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। যে সব ইউপিতে বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই সেখানে বিকল্প হিসেবে জেনারেটর দিয়ে কাজ চলছে। সরকার সর্বসাকুল্যে প্রার্থীপ্রতি ৫০ টাকা ফি নির্ধারণ করলেও বেশকিছু কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বরগুনা সদর ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রে গিয়ে নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত ২০ টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে নিবন্ধন প্রার্থীদের কাছে ১০ টাকা মূল্যে ফরম বিক্রি করতে দেখা গেছে। এসময় একজন নিবন্ধন প্রার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় নিয়ে গ্রাম পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকার করায় মনিরুল ইসলাম নামের একেজনকে মারধর করেছে কয়েকজন গ্রাম পুলিশ। পরে ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে এসে ওই গ্রামপুলিশকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সোপর্দ করেছেন। বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নে মালয়েশিয়া গমনেচ্ছুদের নাম নিবন্ধনে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কালমেঘা ইউনিয়নে গতকাল নাম নিবন্ধন করতে আসা আবদুর রহিম নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, প্রত্যেকের কাছ থেকে হাতে লেখা জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে ১৪০-১৫০ টাকা করে আদায় করছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব মোস্তফা কামাল ওই টাকা নিচ্ছেন। একই অভিযোগ করেন, ইউনিয়নের কূপদোন গ্রামের মো. আজাদ, পশ্চিম কালমেঘা গ্রামের মো. জুয়েল ও ঘুটাবাছা গ্রামের আরিফুল ইসলামসহ অনেকে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে মোস্তফা কামাল বলেন, তথ্যসেবা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে ফরম পূরণ করছিলেন। পরে তা বন্ধ করে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।
কালমেঘা ইউপি চেয়ারম্যান নূর আফরোজ বলেন, ফরম পূরণ করার জন্য ২০ টাকা অতিরিক্ত রাখা হচ্ছিল। অভিযোগ পেয়ে তা বন্ধ করে নির্ধারিত ৫০ টাকা করেই নিচ্ছি।

‘সীমান্তে হত্যা গ্রহণযোগ্য নয়’

‘সীমান্তে হত্যা গ্রহণযোগ্য নয়’


বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ পিএসসিজি বলেছেন, সীমান্তে হত্যা কোনভাবেই
গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিএসএফ-এর হাতে কোন বাংলাদেশী নিহত হলে প্রতিবারই আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। এ হত্যা বন্ধে সরকারের পক্ষ থেকেও জোরালে পদক্ষেপ রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে সীমান্তের অধিবাসীদেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সীমারেখার কতগুলো নিয়ম আছে। আইনের প্রতি সকলেরই শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। যে কোন সীমান্তে ১৫০ গজের মধ্যে যাওয়ার নিয়ম নেই। আর সামপ্রতিক (১লা ও ২রা জানুয়ারি) ইন্সিডেন্ট (হত্যাকাণ্ড) যেগুলো ঘটেছে বেশির ভাগই ‘ক্রসিং বর্ডার’-এর কারণে ঘটেছে। তাই এ বিষয়ে সচেতনতা দরকার। রাজধানীর পিলখানার সদর দপ্তরের মিডিয়া কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্ডারের ওই পাড়ে যখন ঘটনা ঘটে আমাদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তারা তখন তাদের মত করে বক্তব্য দেন। তবে এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান সুস্পষ্ট। খুব জোরালোভাবে এর প্রতিবাদও আমরা জানিয়েছি। কিন্তু সেটা (হত্যাকাণ্ড) জিরো লেভেলে আসছে না। এটা দুঃখজনক। তিনি জানান, আত্মরক্ষার্থে উভয় পক্ষই গুলি চালাতে পারে। তবে এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি না হলে সীমান্তের দুঃখজনক ঘটনা বাড়বে। বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, পিলখানায় রক্তাক্ত বিদ্রোহের চার বছর পর সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে এসেছে। ওই বিদ্রোহের পর পিলখানা ও দেশের অন্যান্য স্থানে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দপ্তরে নিরাপত্তার জন্য যে সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছিল, পর্যায়ক্রমে তাদের প্রত্যাহার করে নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার বাসায় যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল সমপ্রতি তাদেরও সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আজিজ আহমেদ বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার পরপর বিভিন্ন জায়গায় আমার সঙ্গে সেনাসদস্যরা গেলেও এখন আর তারা যাচ্ছে না। উল্লেখ্য, গত ৫ই ডিসেম্বর বিজিবির মহাপরিচালকের দায়িত্ব নেন আজিজ আহমেদ। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় পিলখানায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদেরও গত ৩১ ডিসেম্বর প্রত্যাহার করে নেয়া হয় বলে জানান তিনি। মহাপরিচালক বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের যেসব মামলা চলছে সেগুলোতে আমরা শুধু প্রশাসনিক সহায়তা দিচ্ছি। বিচারে খালাসপ্রাপ্তরা আবারও বাহিনীতে ফিরে এসেছে এবং স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালনও করছে। ইতিমধ্যে ওই বিদ্রোহের ঘটনায় সারা দেশে বিজিবি আইনে করা মামলাগুলোর বিচার শেষ হয়েছে। আর বিদ্রোহের সময় হত্যার ঘটনায় প্রচলিত আইনে মামলার কার্যক্রম চলছে। সীমান্তরক্ষা বাহিনীর চারটি আঞ্চলিক সদর দপ্তর খুব শিগগিরই চালু হবে জানিয়ে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, আগামী ২০শে জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী এই আঞ্চলিক সদর দপ্তরগুলো উদ্বোধন করবেন। ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সরাইল, চট্টগ্রাম, রংপুর ও যশোরে এই চারটি আঞ্চলিক সদর দপ্তর করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি’র মহাপরিচালক বলেন, বিজিবিকে আরও আধুনিকায়ন ও শক্তিশালী করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই বাহিনীর সার্বিক উন্নয়নের দিকে লক্ষ্য রেখে ১২টি সেক্টর হেডকোয়ার্টারের জায়গায় ১৬টি সেক্টর হেডকোয়ার্টার করা হবে। মোট ৫৪টি ব্যাটালিয়নের মধ্যে ঢাকায় ২টি ও ঢাকার বাইরে ব্যাটালিয়ন হবে ৫২টি। এগুলো ছাড়াও রাইফেল সিকিউরিটি ইউনিট, ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশন, সিগন্যাল সেক্টর, আইসিটি ব্যাটালিয়নকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। বিজিবি’র মহাপরিচালক বলেন, সীমান্তে কাউন্টার পয়েন্টে যেসব বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করেন তাদের, এক পয়েন্ট থেকে আরেক পয়েন্টে যথাসময়ে ও দ্রুত যাওয়ার জন্য আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ১৭০০ মোটরসাইকেল দেয়া হবে। এতে করে টহলে সুবিধা বাড়বে। তাতে সীমান্তে চোরাচালান রোধ করা যাবে। মহাপরিচালক জানান, বিজিবি বিওপিতে সদস্যদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি, ৬৫টি সোলার সিষ্টেম এবং প্রায় প্রতিটি সীমান্ত এলাকায় ইলেকট্রিসিটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিডিআর বিদ্রোহ, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধের বিচারের বিষয়ে মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, ইতিমধ্যে কোন ধরনের প্রশ্ন ছাড়াই বিজিবির নিজস্ব আইনে বিদ্রোহের বিচার সম্পন্ন করেছি। আমাদের ধারণা এ বিষয়ে কারও বিরূপ ধারণা নেই। জাতির কাছেও তা গ্রহণযোগ্য হয়েছে। যারা এই মামলায় খালাস পেয়েছে তারা ইতিমধ্যে আমাদের সঙ্গে কাজে যোগ দিয়েছে। বিজিবির প্রচলিত সব সুযোগ সুবিধাও তারা পাচ্ছে এবং পাবে। এখন ৮৪৭ জনের বিচার হবে বিদ্রোহে হত্যা সহ অন্যান্য অপরাধের জন্য। এর বিচার হবে প্রচলিত ফৌজদারি আইনে। তিনি বলেন, বিচারিক বিষয় যেহেতু সময় নির্ধারণ করে হয় না, তাই কবে নাগাদ তা শুরু ও শেষ হবে তা বুঝবে দেশের আদালত। কিন্তু এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি কোন নিরপরাধ লোক সাজা পাবে না। বিচারকাজে প্রশাসনিক সহযোগিতা ও তথ্যবহুল প্রমাণ দরকার উল্লেখ করে বিজিবি’র মহাপরিচালক বরাবরের মতো সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিবি’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাইদ খান, উপমহাপরিচালক বিজিবি (যোগাযোগ) কর্নেল খোন্দকার ওবায়দুল আহসান প্রমুখ।

Monday, January 14, 2013

বলিউডের ছবিতে অস্ট্রেলিয়ান অভিনেত্রী

বলিউডের ছবিতে অস্ট্রেলিয়ান অভিনেত্রী


বলিউডে অভিষেক হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ান মডেল ও অভিনেত্রী ক্রিস্টিনা আখিভার। ইতিমধ্যে বিষয়টি পাকাপাকি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মডেলিংয়ের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বেশ কিছু চলচ্চিত্র ও ছোটপর্দার নাটকে অভিনয় করে আলোচিত অভিনেত্রীতে পরিণত হয়েছেন ক্রিস্টিনা। এবার অস্ট্রেলিয়া থেকে সোজা বলিউডের ছবিতে প্রথমবারের মতো অভিনয় করতে যাচ্ছেন তিনি। ছবির নাম ‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা-২’। ধরমেন্দ্র প্রোডাকশনের ব্যানারে ছবিটির নির্মাণ কাজ শুরু হতে যাচ্ছে খুব শিগগিরই। স্বনামধন্য অভিনেতা ধরমেন্দ্র এবং তার দুই ছেলে সানি দিওল ও ববি দিওল এই তিনজনই ছিলেন ‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা’ ছবিটিতে। বাপ বেটা অভিনীত এই ছবিটি ২০১১ সালের অন্যতম ব্যবসা সফল ছবিতে পরিণত হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় ধরমেন্দ্র সিদ্ধান্ত নেন এর সিক্যুয়েল তৈরির। মূলত সানি দিওলই এই নতুন ছবির জন্য ক্রিস্টিনাকে নির্বাচন করেছেন। অস্ট্রেলিয়ান এই অভিনেত্রীর বিভিন্ন ছবি দেখেছেন সানি। তার প্রেক্ষিতেই তাকে ‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ান-২’ ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব করেন। স্ক্রিপ্ট পড়ে সঙ্গে সঙ্গেই রাজি হয়ে যান ক্রিস্টিনা। তিনি নিজেও বলিউডের নিয়মিত দর্শক। সুযোগ পেলেই বলিউডের ছবি দেখতে বসে যান। এদিকে বর্তমানে ধরমেন্দ্র প্রোডাকশনের ব্যানারে ছবির শুটিং শুরুর আগে চলছে ক্রিস্টিনার হিন্দি প্রশিক্ষণ। গত দুই সপ্তাহ ধরে হিন্দি ভাষা শিখছেন তিনি। ছবিতে সানি দিওলের প্রেমিকা ও পরবর্তীতে স্ত্রী রুপে দেখানো হবে তাকে।

'খুন করি গাড়িতে লাশ ফেলি রাস্তায়' ফেনীর মাইক্রোবাস চালক হত্যার তিন আসামি

'খুন করি গাড়িতে লাশ ফেলি রাস্তায়'

ফেনীর মাইক্রোবাস চালক হত্যার তিন আসামি


ফেনী থেকে মাইক্রোবাসটি কুমিল্লার উদ্দ্যেশে রওনা হয় তখন সন্ধ্যা সাতটা। এক ঘন্টা পর মাইক্রোবাসটি পৌঁছায় সোয়াগাজির একটি নির্জন স্থানে। প্রস াব করার অজুহাতে থামানো হয় মাইক্রোবাস। আর থামাবার সঙ্গে সঙ্গে চালককে টেনে পেছনের সিটে নিয়ে রশি দিয়ে হাত বেঁধে ফেলা হয়। হত্যা করা হয় শ্বাসরোধ করে। এরপর জীবিত মানুষের মত করে বসানো হয় সিটে। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১২ মাইল দূরে কুমিল্লার (ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক) জগন্নাথপুরের একটি নির্জন জায়গায় রাস্তার পাশে ফেলে দেয়া হয় চালকের লাশটি। ফেনীর স্টার লাইন গ্রুপের মাইক্রোবাস চালক আবুল কালামকে (৫০) এভাবেই হত্যা করে ঘাতকরা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেফতারকৃত তিন তরুণ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বিস্তারিত ঘটনা বর্ননা করে। তারা বলেছে, মাইক্রেবাস ছিনতাইয়ের জন্যই পরিকল্পিতভাবে চালকে হত্যা করে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে ওমর ফারুক (১৯), কবির হোসেন (১৯) ও মেহেদী হাসান (২০)। আর ছিনতাইকৃত মাইক্রোবাসটি বিক্রিকালে ডিবি পুলিশ শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলানগর এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে। তাদেরকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি।

ডিবির এডিসি (পশ্চিম) মশিউর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃতরা মাইক্রোবাসটি ছিনতাইয়ের উদ্দ্যেশে গায়ের হলুদের অনুষ্ঠানের কথা বলে গত ৯ তারিখ বিকালে মাইক্রেবাসটি ভাড়া করে। ভাড়া সাড়ে তিন হাজার টাকা। এ জন্য অগ্রিম প্রদান করে ৫শ' টাকা। পরে পথিমধ্যে চালককে হত্যা করে লাশ রাস্তায় ফেলে দেয়। তাদের সঙ্গে তাজুল ইসলাম নামে আরো একজন ছিল। জহিরুল পলাতক। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারকৃত ওমর ফারুকের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চকবাজার, পেশায় সে ট্রাকের হেলপার। মেহেদী হাসান, জুতা ব্যবসায়ী, কবির হোসেন একজন ইলেক্টিশিয়ান ও পলাতক তাজুল ইসলাম গাড়ি চালক। তাদের তিনজনেরই বাড়ি কুমিল্লার বারপাড়া।

মেহেদী হাসান জানায়, তার বাবা কুমিল্লা সড়ক জনপথ বিভাগের একজন গাড়ি চালক। ঘটনার কয়েকদিন আগে থেকেই তারা চার বন্ধু পরিকল্পনা করে নতুন দেখে মাইক্রোবাস ছিনতাই করার। আর বিক্রি করে পাওয়া যাবে মোটা অংকের টাকা। পরিকল্পনা অনুয়ায়ী গত ৯ জানুয়ারি দুপুরে তারা কুমিল্লা থেকে ফেনীতে পৌঁছে। তবে যাওয়ার আগে মেহেদী হাসান মহল্লার দোকান থেকে দুই টাকায় ( চার টুকরা) পাটের রশি কেনে। এরপর ফেনী এএসকে রোডের স্টার লাইন গ্রুপের মাইক্রোবাসটি সাড়ে তিন হাজার টাকায় ভাড়া করে। এসময় বলা হয় তারা কুমিল্লার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় একটি গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে। রেন্টকার ম্যানেজারকে কবির হোসেন অগ্রিম ৫শ' টাকা প্রদান করে। এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা চারজন মাইক্রোবাসে কুমিল্লার উদ্দ্যেশে রওনা হয়। পথিমধ্যে মাইক্রোবাসের তেলের টাকাও পরিশোধ করে কবির। মাইক্রোবাসের সামনে সিটে চালকের পাশে বসে ওমর ফারুক। আর চালকের পেছনের সিটে বসে তাজুল ইসলাম, মাঝে কবির হোসেন তার পাশে বসে মেহেদী হাসান। সে আরো জানায়, পথিমধ্যে প্রস াবের কথা বলে মাইক্রোবাস থামানো হয়। এ সময় তাজুল তার সঙ্গে থাকা গায়ের চাঁদর চালকের গলায় পেছিয়ে পেছনের সিটে নিয়ে যায়। মেহেদী রশি দিয়ে চালকের হাত বেঁধে ফেলে। বাঁচার জন্য চালক আবুল কালাম বলে ওঠে, 'তোমরা আমার ছেলের বয়সি, আমাকে মেরো না'। তার কাঁকুতি-মিনতির মধ্যেই তাজুল তার চেপে ধরে। বাবা-মা বলে চিত্কার দেয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় মেহেদী সামনের সিটে গিয়ে বসে। আর মৃত চালককে জীবিত মানুষের মত বসানো হয় পেছনের সিটে। মাইক্রোবাস চালায় ওমর ফারুক। পরে জগন্নাথপুরে নির্জন স্থানে চালকের লাশটি রাস্তার পাশে ফেলে দেয়া হয়।

কবির হোসেন জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর তারা কুমিল্লার একটি হোটেলে রাতের খাবার খেয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরের দিন শুক্রবার রাতে মাইক্রোবাসটি বিক্রির চেষ্টাকালে ডিবি পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাজুল পালিয়ে যেতে সমক্ষ হয়।

কেন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে এমন প্রশ্নের জবাবে মেহেদী হাসান জানায়, সে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে। তারা যে এলাকায় বসবাস করে (কুমিল্লার বারপাড়া) সে এলাকাটি অপরাধ প্রবণ এলাকা। রয়েছে জমজমাট মাদক ব্যবসা। ফলে পরিবেশের কারণেই ধারা ধীরে ধীরে অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে।

এডিসি মশিউর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কুমিল্লার কোতয়ালী থানায় মামলা হয়েছে। মামলার বাদী নিহত আবুল কালামের ছেলে জালাল উদ্দিন। তিনি আরো বলেন, গ্রেফতার হওয়া পর্যন্ত তিনি জানতেন যে মাইক্রোবাস চালকে হত্যা করা হয়েছে। তার কাছে তথ্য ছিল একটি চোরাই মাইক্রোবাস বিক্রির চেষ্টা চলছে। এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা কোতয়ালী থানার একজন সাব-ইন্সপেক্টর গতকাল মহানগর গোয়েন্দা দফতরে আসামীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ডিবির রিমান্ড শেষে আসামীদের কুমিল্লায় পাঠানো হবে। নিহত আবুল কালামের বাড়ি ফেনী সদর থানার বারাইপুর।

ফেনীর স্টার লাইন গ্রুপের মালিক আলহাজ্ব আলাউদ্দিন জানান, আবুল কালাম মূলত তার চাচার মাইক্রোবাস চালাতেন। তবে ঘটনা শোনার পর তিনি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি পলাতক অপর আসামীদের গ্রেফতারের দাবী জানান।

বাজার দখল করে নিচ্ছে স্বল্পমূল্যের স্মার্টফোন

বাজার দখল করে নিচ্ছে স্বল্পমূল্যের স্মার্টফোন


স্মার্টফোনের পথিকৃত্ বলা যায় আইফোনকে। আইফোনের পথ ধরেই স্যামসাং বাজারে এনেছে গ্যালাক্সি এস, গ্যালাক্সি নোট, এইচটিসি এনেছে ওয়ান এক্স। মটোরোলার ড্রয়েড রেজর, এলজি'র অপটিমাস বা নকিয়ার লুমিয়াও বাজারে এসেছে হাই-এন্ড স্মার্টফোন হিসেবেই। অত্যাধুনিক সব সুবিধা নিয়েই এসব স্মার্টফোন বাজারে এসেছে চমকে দিচ্ছে ব্যবহারকারীদের। তবে এসব স্মার্টফোনের মূল্য যখন কয়েকশ ডলার পেরিয়ে যায়, তখন বাজারে একশ ডলারের নিচেও রয়েছে অনেক মডেলের স্মার্টফোন। আর বিক্রিতে এসব স্মার্টফোন এগিয়ে রয়েছে অনেকটাই। ভবিষ্যতের বাজারেও এসব স্বল্পমূল্যের স্মার্টফোনই রাজত্ব করবে বলেই অনুমান করছে প্রযুক্তি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠানগুলো। এ প্রসঙ্গে প্রযুক্তি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা আইএইচএস সাপ্লাইয়ের প্রধান বিশ্লেষক ইয়ান ফগ বিবিসিকে জানিয়েছেন, 'আমরা ধারণা করছি, ২০১৬ সাল নাগাদ হ্যান্ডসেট বাজারের প্রায় ৩১ শতাংই দখল করে নেবে স্বল্পমূল্যের স্মার্টফোনগুলো। মৌলিক সুবিধার স্বল্পমূল্যের স্মার্টফোন এবং হাই-এন্ড সব স্মার্টফোনের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। হাই-এন্ড সব স্মার্টফোনে যেখানে সব ধরনের অত্যাধুনিক সুবিধা মেলে, সেখানে লো-এন্ড স্মার্টফোনে সেই সুবিধাগুলোর সব পাওয়া যায় না। তবে বাজারে এই ধরনের ডিভাইসের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।' বাজার বিশ্লেষকদের এই ধারণা সত্যি প্রমাণ করে নকিয়ার গত বছরের শেষ চতুর্ভাগের হিসাব। সম্প্রতি গত বছরের হিসাব প্রকাশ করেছে নকিয়া। আর তাতে দেখা গেছে, গত বছরের শেষ চতুর্ভাগে তাদের লুমিয়া সিরিজের সব স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে সাকুল্যে ৪.৪ মিলিয়ন ইউনিট। একই সময়ে তাদের স্বল্পমূল্যের আশা সিরিজের স্মার্টফোনগুলোর বিক্রি ছিল ১৪ মিলিয়নেরও বেশি। এদিকে লাস ভেগাসের কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স শোতেও স্বল্পমূল্যের বেশকিছু স্মার্টফোন প্রদর্শিত হয়েছে। সবমিলিয়ে স্বল্পমূল্যের স্মার্টফোনের বাজার বাড়বে, এটা বলাই যায়।

কম্বল বিতরণ করতে গাইবান্ধায় হেলিকপ্টারে উড়ে এলেন অতিথি

কম্বল বিতরণ করতে গাইবান্ধায় হেলিকপ্টারে উড়ে এলেন অতিথি


অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার পর হেলিকপ্টারে উড়ে এলেন অতিথি। তার অপেক্ষায় সকাল থেকে বসে থাকা সহস্রাধিক শীতার্ত মানুষ। আসার কথা সকালে কিন্তু এলেন বেলা আড়াইটায়। তারপর কম্বল হাতে পেয়ে ক্ষুধার্ত, ক্লান্ত আর শীতার্ত মানুষের বাড়ি ফেরা। গতকাল গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালীতে গণফোরাম ও জাতীয় ঐক্য যৌথভাবে শীতার্তদের মধ্যে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ উপলক্ষে রহিমা খাতুন সিদ্দিকীয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ময়দানে আয়োজন করা হয় কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠান। যারা কম্বল পাবেন তাদের হাতে স্লিপ দিয়ে বলা হয় খুব সকালে আসতে হবে, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। কথামতো কাজ। দরিদ্র শীতার্ত মানুষ একটি কম্বলের আশায় কাগজ হাতে নিয়ে হাজির লাইনে। সকাল থেকে অনাহার। বাড়ি থেকে কোনমতে পানি মুখে দিয়ে দৌড়। সেই থেকে বিকাল পর্যন্ত। অনেকেই ক্ষুধায় ছটফট করছিলেন। কিন্তু উপায় নেই। আগে শীতবস্ত্র। তারপর বাড়ি যাওয়া। পার্টির পক্ষে বলা হয় কম্বল বিতরণ করবেন গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেন। সঙ্গে থাকবেন মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান ও মোস্তফা মহসীন মন্টু। ৬ শ’ শীতার্তের মধ্যে কম্বল বিতরণ করতে লাখ টাকা খরচ করে অতিথিরা হেলিকপ্টারে উড়ে আসছেন। হেলিকপ্টার ঢাকা থেকে উড়ে এসে নামবে বাদিয়াখালী হাইস্কুল মাঠে। নিরাপত্তার জন্য আসে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন। শীতবস্ত্র বিতরণের এসব হুলুস্থুল কারবার দেখে হাজার মানুষ ভিড় জমায় বাদিয়াখালী হাইস্কুল মাঠে অতিথিদের দেখতে। সাংবাদিকরাও ক্যামেরা নিয়ে প্রস্তুত। বেলা ১২টার স্থলে বিকাল আড়াইটার দিকে ঢাকা থেকে ঠিকই উড়ে আসে হেলিকপ্টার। হেলিকপ্টার থামলো। ড. কামাল হোসেনের বদলে দরজা খুলে নামলেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু। নেতাকর্মীরা ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়ে সাদা গাড়িতে করে নিয়ে যান অনুষ্ঠানস্থলে। অনুষ্ঠানে মাইকে ঘোষণা করা হয় ড. কামাল হোসেন বিশ্ব ইজতেমার জন্য আসতে পারেন নি। হেলিকপ্টারের পাইলট জানান, এশিয়া এয়ার লাইন্সের এই হেলিকপ্টারের প্রতি ঘণ্টার ভাড়া ৭০ হাজার টাকা। তিনি জানান, ঢাকা থেকে গাইবান্ধায় যাতায়াতের সময় লেগেছে ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট। তাতে শুধু পরিবহন ব্যয় হয়েছে দেড় লাখ টাকার উপড়ে। লোকজন বলাবলি করছিল ৬শ’ কম্বল দিতে এসে এতো টাকা খরচ করে হেলিকপ্টার উড়ে এলো।

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ


কটিয়াদী উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং পাকুন্দিয়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-২ আসন। ২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পুনর্বিন্যাসকৃত এই আসনে ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার। নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল মান্নান দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট প্রার্থীরা কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়টি আসনে স্মরণকালের ভোট বিপ্লবে বিপুল ব্যবধানে চারদলীয় জোট প্রার্থীদের পরাজিত করেন। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল মান্নান ১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী চারদলীয় জোট প্রার্থী বিএনপি নেতা ইদ্রিস আলী ভুঁইয়া পেয়েছিলেন ৯৬ হাজার ৪৮৯ ভোট। সরকারের শেষ বছরে এসে দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নির্বাচনমুখী তৎপরতা। স্থানীয়দের মাঝে চলছে চাওয়া-পাওয়ার হিসাব-নিকাশ।
গত চার বছরে এ আসনের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার পর এ আসনের এমপির জনসম্পৃক্ততা কমে গেছে। এলাকার তেমন উন্নয়ন কাজও হয়নি। নেতাকর্মীদের অনেকে টিআর, কাবিখা প্রকল্পের গম-চাল-অর্থ লুটপাট, টেন্ডারবাজি ও দখলবাজিতে লিপ্ত। দলীয় কোন্দল, অন্তর্দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। স্থবির হয়ে পড়েছে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড। নির্বাচনের আগে তার নিজ উপজেলা কটিয়াদীবাসীকে উপজেলা সদরে গ্যাস সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন, নদী খনন, অন্তত একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ, মেডিকেল কলেজ স্থাপন, কর্মসংস্থান, উপজেলার প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ, রাস্তাঘাট পাকাকরণ ও উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ অন্তত এক ডজন প্রতিশ্রুতি দিলেও এর কোনটিরই বাস্তবায়ন সেভাবে মাঠপর্যায়ে দেখা যায়নি। এছাড়া উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার হয়েছে এ আসনের অপর উপজেলা পাকুন্দিয়াও। সেখানে স্থানীয় উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে প্রায় ২০ হাজার ভোট বেশি পান। কিন্তু এমপিদের উন্নয়ন বরাদ্দ ভাগাভাগির ক্ষেত্রেও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী পাকুন্দিয়া উপজেলা।
১৯৭৩ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৮টি জাতীয় নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ জেলায় সাতটি সংসদীয় আসন বহাল ছিল। হোসেনপুর ও পাকুন্দিয়া উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-১, কটিয়াদী উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-২, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৩, করিমগঞ্জ ও তাড়াইল উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৪, ইটনা, অষ্টগ্রাম ও মিঠাইন উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৫, নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৬ এবং ভৈরব ও কুলিয়ারচর উপজেলা নিয়ে ছিল কিশোরগঞ্জ-৭ আসন। কিন্তু বিগত নির্বাচনের আগে জেলার ঐতিহ্যবাহী কিশোরগঞ্জ-১ আসনটি বিলুপ্ত করে দিয়ে ৭টির পরিবর্তে ৬টি সংসদীয় আসনে পুনর্বিন্যাস করা হয়। এতে কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত হয় কিশোরগঞ্জ-২ আসন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল মান্নান। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য ড. আলাউদ্দিন আহমেদ, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস এ আসনের বাসিন্দা হওয়ায় বর্তমান মহাজোট সরকারের নিকট জনসাধারণের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। কিন্তু মহাজোট সরকারের ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এ নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি। তবে অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল মান্নান নিজেকে একজন সফল এমপি দাবি করে বলেন, জনগণের দাবি-দাওয়াগুলো পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়িত না হলেও সব জায়গাতেই পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। কটিয়াদী বাজার এলাকার রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে কটিয়াদীকে একটি মডেল শহরে রূপান্তরিত করা হয়েছে। উপজেলার মসূয়া এবং গচিহাটায় কৃষি ব্যাংকের দুটি শাখা চালু করা হয়েছে। এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও বর্তমানে জেলার মধ্যে সবচেয়ে ভাল। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আধুনিকায়ন করার মাধ্যমে এটিকে একটি রোগীবান্ধব হাসপাতালে পরিণত করা হয়েছে। বড় ধরনের কোন সমস্যা ছাড়া এখানেই প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান সম্ভব হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জন্য জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে এর কাজ শুরু করা হবে। পাকুন্দিয়া উপজেলার অবস্থা এসব ক্ষেত্রে আরও ভালো উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাকুন্দিয়া-কাপাসিয়া রাস্তাটি প্রশস্ত কম। এটিকে প্রশস্ত করে রাস্তাটির উন্নয়ন করার জন্য চেষ্টা চলছে। সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তিনি যথেষ্ট আন্তরিক উল্লেখ করে বলেন, পর্যায়ক্রমে এলাকার প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো সম্পন্ন করা হবে। এ আসনে দলের সাংগঠনিক অবস্থা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ দলীয় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিরোধ এখন চরমে। সরকারের এ সময়ে দলের মধ্যে বিবদমান কোন্দল নিরসনেও তেমন কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি। বরং নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। কটিয়াদীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল আলম গোলাপ ও সম্পাদক আবদুল ওয়াহাব আইনউদ্দীনের নেতৃত্বে ১২ বছর ধরে একই কমিটি দিয়ে চলছে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড। দলীয় কোন্দলের কারণে দীর্ঘদিনেও নতুন কোন কমিটি পায়নি সেখানকার নেতাকর্মীরা। এরই মাঝে ২০১০ সালের ৫ই মে নিজেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দলের মধ্যকার বিভেদ আরও উস্কে দেন এমপি ডা. মান্নান। যদিও নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পরবর্তীতে সে দাবি থেকে সরে আসেন তিনি। অপরদিকে প্রায় এক দশক ধরে পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড চলছে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে। সেখানে সোহরাব-রেনু দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। সময়ে সময়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট সোহরাব উদ্দিনের সমর্থকের সঙ্গে পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রেনুর সমর্থকদের হাতাহাতি, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা তাদের সে দ্বন্দ্বের বিষয়টি প্রকাশ্যে নিয়ে আসে। এমনকি খোদ এমপির উপস্থিতিতে ২০১১ সালের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান দুই গ্রুপের সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি হামলা, হাতাহাতি ও ভাঙচুরের ঘটনায় পণ্ড হয়ে যায়। এছাড়া দলীয় কোন্দলের কারণে ২০১১ সালের ২৭শে অক্টোবর অনুষ্ঠিত পাকুন্দিয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী থাকায় সেটি তাদের হাতছাড়া হয়- এমনটাই মূল্যায়ন স্থানীয় নেতাকর্মীদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারের শেষ সময়ে এসে এমপি ডা. মান্নান এলাকায় যথেষ্ট কর্মতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘন ঘন এলাকায় এসে গণসংযোগ ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হাজিরা দিচ্ছেন। আগামী নির্বাচনেও তিনি দলের মনোনয়ন পাবেন বলে তার সমর্থকরা আশাবাদী। তবে সাধারণ ভোটার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এ নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন, হিসাব-নিকাশ। কটিয়াদী উপজেলার বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বিগত সংসদ নির্বাচনের আগে এ আসনে প্রার্থী হিসেবে তৃণমূল নেতাকর্মীরা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এম এ আফজলকে নির্বাচিত করেছিলেন। যদিও শেষ মুহূর্তে এসে দলীয় মনোনয়ন পান ডা. মো. আবদুল মান্নান। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা তিনি সেই অর্থে পূরণ করতে না পারায় আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেন। এ অবস্থায় এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে অন্তত হাফ ডজন নেতা দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমএ আফজল, বিশিষ্ট শিল্পপতি মাঈনুজ্জামান অপু, আয়কর আইনজীবী আবুল ফজল আনার, কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লায়ন আলী আকবর, পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট সোহরাব উদ্দিন, পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রেনু প্রমুখ। এছাড়া এ আসন থেকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আলাউদ্দিন আহমেদ প্রার্থী হতে পারেন বলেও এলাকায় আলোচনা রয়েছে।
এদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট আন্দোলনে থাকায় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও এ আসনে বিএনপির অনেক নেতাই জমজমাট নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। এ আসনের দুটি উপজেলাতেই রয়েছে দলটির একক কমিটি। কোন্দলও অনেকটা অপ্রকাশ্য। এ অবস্থায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রার্থীরা তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছেন। গণসংযোগ ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদানের পাশাপাশি বিভিন্ন উপলক্ষে শুভেচ্ছা পোস্টার, বিলবোর্ড, ব্যানার ও তোরণ তৈরির মাধ্যমে এলাকাবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন তারা। ডিজিটাল ব্যানার-প্লাকার্ড আর পোস্টারে ছেয়ে যাচ্ছে বাসাবাড়ির দেয়াল, ছোট-বড় বাজার ও সড়কদ্বীপ। সাবেক কিশোরগঞ্জ-১ (কটিয়াদী) আসন থেকে দু’দুবার নির্বাচিত ও দল থেকে বহিষ্কৃত বহুল আলোচিত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের জায়গায় বিগত সংসদ নির্বাচনে পুনর্বিন্যাসকৃত কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি নেতা ইদ্রিস আলী ভূঁইয়া চারদলীয় জোট প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। দলীয় সূত্রমতে, এরপর থেকেই এ আসনে একজন নতুন প্রার্থীর সন্ধান করছে বিএনপি। ফলে এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন লাভে ইতিমধ্যেই তোড়জোড় শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। আলোচিত এসব প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপি নেতা ও পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইদ্রিস আলী ভূঁইয়া, পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও বর্তমান সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান খোকন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আশফাক আহমেদ জুন, কটিয়াদী পৌরসভার মেয়র ও পৌর বিএনপি সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খান দীলিপ, সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এডভোকেট মাহমুদুল ইসলাম জানু, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সুইডেন প্রবাসী শহীদুজ্জামান কাকন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আরফান উদ্দিন খান, রুহুল আমিন আকিল প্রমুখ। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালামের নামও জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। আবদুস সালাম এ আসনে প্রার্থী হিসেবে সরাসরি গণসংযোগ শুরু না করলেও সমর্থক নেতাকর্মীরা পাকুন্দিয়া ও কটিয়াদী উপজেলার স্থানে স্থানে শুভেচ্ছা জানিয়ে তার ছবি সংবলিত পোস্টার লাগিয়েছে। তবে দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন সমপ্রতি সবাইকে চমকে দিয়ে নিজেকে বিএনপির বিকল্পহীন প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছেন। কটিয়াদী এবং পাকুন্দিয়া উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে মতবিনিময় সভা করে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার কথা বলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় আখতারুজ্জামান রঞ্জনের প্রার্থিতার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নতুন করে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অপরদিকে জাতীয় পার্টির নেতাদের মধ্যে বদরুল আমিন বাচ্চু ও এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম শওকত এ আসনে জনসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া বিগত নির্বাচনে এ আসনে সিপিবি’র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেয়া জেলা সিপিবি সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মজিনা-শরণ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মজিনা-শরণ


একই দিনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন দুই দেশের কূটনীতিকরা। রুটিন বৈঠক হলেও সময়ের কারণে তা বেশ ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, কাকতালীয় কিংবা পরিকল্পিত যা-ই হোক, ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও ভারতীয় হাই কমিশনার একই দিনে কাছাকাছি সময়ে এর আগে কখনও পররাষ্ট্র দপ্তরে যাননি। অন্তত নিকট অতীতে তো নয়ই। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সিডিউলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনার সাক্ষাতের সময় ছিল ১১টায় আর ভারতীয় হাই কমিশনার পঙ্কজ শরণের বৈঠকের সময় নির্ধারিত ছিল ১২টায়। মন্ত্রী ডা. দীপু মনি মন্ত্রণালয়ের বাইরে জনশক্তি সংক্রান্ত জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সেমিনারে আটকে যাওয়ায় দপ্তরে ফিরতে দেরি হওয়ায় তার আগেই বৈঠকের জন্য সেখানে পৌঁছে যান দুই মিশন প্রধান ও তাদের টিম। সংশ্লিষ্ট উইংয়ের কর্মকর্তারা তাদের স্বাগত জানান এবং আলাদা অতিথি কক্ষে সঙ্গ দেন। দীপু-মজিনা বৈঠকের পুরো সময়ই ভারতীয় হাই কমিশনের কূটনীতিকরা মন্ত্রণালয়ের মূল ভবনের নিচতলার অতিথি কক্ষে অপেক্ষায় ছিলেন। এক ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক শেষে মার্কিন দূত বেরিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে মানবজমিন সহ উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সামপ্রতিক বিষয়াদি তো ছিলই, নতুন বছরের কার্যক্রম ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ওবামা প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের রদবদলের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, আমি মন্ত্রীকে জানিয়েছি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির দায়িত্ব পাওয়া ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ কোন পরিবর্তন আসবে না। তবে তার নেতৃত্ব বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও গভীর ও গতিশীল করবে বলে আশা করেন রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা চলমান থাকার বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলেও জানান ড্যান মজিনা। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে প্রশ্ন ছিল- আগামী নির্বাচনে সৃষ্ট সঙ্কটের সমাধানে তিনি মধ্যস্থতা করছেন বলে তার দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তার বরাত দিয়ে যে খবর বেরিয়েছে তার সত্যতা কতটুকু? রাষ্ট্রদূত বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই চায় বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক। এখানে সবদলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও সুন্দর একটি নির্বাচন হোক। তবে এ নির্বাচনের পদ্ধতি কি হবে তা এখানকার জনগণই নির্ধারণ করবেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বিদায়ের পর ভারতীয় হাই কমিশনার পঙ্কজ শরণ মন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক করেন। বৈঠকে ডেপুটি হাই কমিশনার ও রাজনীতি বিভাগের প্রথম সচিবও উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠক নিয়ে ভারতীয় হাই কমিশনার কোন কথা বলেননি। পরে পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত পূর্ব নির্ধারিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী ডা. দীপু মনি বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। বলেন, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল শিনদে’র ঢাকা সফরসহ ভারতের বেশ ক’জন মন্ত্রী-সচিবের সফর এবং জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশন ও জয়েন্ট রিভার কমিশনের পরবর্তী বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তিস্তা বা ল্যান্ড বাউন্ডারির বিষয়ে নতুন কোন আলোচনা বা অগ্রগতি নেই। তবে সীমান্ত হত্যা পুরোপুরি বন্ধে দু’দেশ কিভাবে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সৌজন্য এ বৈঠকে টিকফা’র প্রসঙ্গ আসেনি, জিএসপি’র বিষয়টি এসেছে। বাংলাদেশের জন্য কেন এই সুবিধাটি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন তা যৌক্তিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ ১০০ আসন পাবে কিনা সন্দেহ

আওয়ামী লীগ ১০০ আসন পাবে কিনা সন্দেহ


রংপুর থেকে: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ আমার প্রতি অবিচার করেছে। সুযোগ পেলে আমিও তাদের প্রতি অবিচার করবো। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১০০ আসন পাবে কিনা সন্দেহ। একই অবস্থা বিএনপি’র হবে। গতকাল
মিঠাপুকুরে তিনি এক জনসভায় এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ১৭ বছর আগে আমার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে। যাতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন আমি যেন তাদের বাইরে না যাই। আমাকে একটা চাপের মধ্যে তারা রাখতে চায়। ছাত্রলীগ আর যুবলীগের তাণ্ডব এবং বিরোধীদলীয় নেত্রীর দেশ থেকে টাকা পাচারের যন্ত্রণা থেকে দেশবাসী মুক্তি চায়। এজন্য তারা বিকল্প সরকার খুঁজছে। জনগণ এখন অনেক সচেতন। তারা সব কিছুই বোঝেন। তাদের আর বোঝাতে হবে না। এরশাদ বলেন, আমাকে জেলে রেখে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে বাঁচিয়েছে। তাই তাদের ঋণ কোনদিন শোধ করতে পারবো না। দেশের মানুষ এখন বুঝতে পেরেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র চেয়ে এরশাদ সরকারের আমল অনেক ভাল ছিল। তাই তারা জাতীয় পার্টিকে আবার ক্ষমতায় দেখতে চায়। আর এজন্য আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এককভাবে নির্বাচন করার। জাপা চেয়ারম্যান বলেন, এবারের নির্বাচন হবে আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। এ নির্বাচনে আমাকে জিততে হবে।
এরশাদ বলেন, তাদের বিরুদ্ধে অনেক দুর্নাম। ছাত্রলীগ ও যুবলীগ জমি, বাড়ি দখল, টেন্ডারবাজি- এমন কিছু নেই যা তারা করেনি। তাদের এসব অপকর্মের কারণে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ। আর বিএনপি ক্ষমতায় থেকে দুর্নীতি করে হাজার হাজার কোটি টাকা কামিয়েছে। সে টাকা টাকা বিদেশে পাচার করেছে। বর্তমান সরকার ওই টাকা আবার দেশে ফেরত আনছে। এসব কিছুর অভিযোগ আমাদের বিরুদ্ধে নেই। আমাদের হাত পরিষ্কার। এজন্য দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়।
সভায় জাপা কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মশিউর রহমান রাঙ্গা, জাপা নেতা এডভোকেট সালাহ উদ্দিন কাদেরি, পীরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান প্রমুখ। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান চারদিনের সফরে শনিবার রাতে রংপুরে আসেন।

জেরিনের মৃত্যু নানা রহস্য

জেরিনের মৃত্যু নানা রহস্য


মেডিকেল কলেজছাত্রী মুন জেরিনা আরবিন ওরফে জেরিনের মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। জেরিনের স্বজনদের দাবি, জেরিনকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রেমিক স্মরণের হাতেই খুন হয়েছে জেরিন। অন্যদিকে পুলিশের হাতে আটক কাজী স্মরণের দাবি, রেল লাইন ধরে হাঁটার সময় দুর্ঘটনায় জেরিনের মৃত্যু হয়েছে। ট্রেনের ধাক্কায় মাথায় আঘাত পেয়ে মারা গেছে। তদন্তকারী সংস্থা রেলওয়ে থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন বলেন, এ মৃত্যু নানা রহস্যের তৈরি করেছে। প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার হিসাব মিলছে না। এ কারণে জেরিনের প্রেমিক স্মরণকে প্রধান আসামি করে থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। মামলার বাদী জেরিনের খালু হারুনুর রশীদ। রহস্য উদঘাটনের জন্য স্মরণকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে কানাডার নাগরিক জেরিনের এমন মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশস্থ কানাডিয়ান দূতাবাস উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন দূতাবাসের কর্মকর্তারা। মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানে দূতাবাসের তিন সদস্যের একটি টিম গতকাল ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দূতাবাসের এক তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, জেরিন কানাডার নাগরিক। তার পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানার জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ওদিকে মেয়ের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে কানাডাপ্রবাসী পিতা মীর কায়কোবাদ ও মাতা কানাডার ওন্টারিও থেকে বাংলাদেশে রওনা দিয়েছেন। তাদের মেয়ের লাশ শমরিতা হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। এর আগে গতকাল বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে জেরিনের লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
জেরিনের স্বজনরা জানান, দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে জেরিন সবার বড়। পরিবারের সব সদস্য কানাডায় থাকলেও জেরিন ঢাকাতেই পড়াশোনা করছিলেন। রাজধানীর উত্তরা উইমেন মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। থাকতেন ওই কলেজের হোস্টেলে। জেরিনের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, ২০০৬ সালের ২৯শে ডিসেম্বর ফেসবুকের ব্যক্তিগত পেজ খোলেন জেরিন। ওই দিনই বাংলাদেশী যুবক মহীউদ্দীন স্মরণ ওরফে কাজী স্মরণ ইংল্যান্ড প্রবাসী পরিচয়ে জেরিনকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান। জেরিন বন্ধু তালিকায় গ্রহণ করেন তাকে। এরপর প্রায় প্রতিদিনই তাদের মধ্যে কথোপকথন চলে। ব্যক্তিগত আলাপচারিতার ফাঁকে ফাঁকে পারিবারিক খোঁজ-খবর নেন উভয়ে। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। সেই সূত্র ধরে উভয় পরিবারে ঘনিষ্ঠতাও বাড়তে থাকে। স্মরণের মা দাবি করেন, ঘটনার আগে ১১ই জানুয়ারি জেরিন দক্ষিণ খান থানাধীন চালবন এলাকায় তাদের বাসায় গিয়েছিলেন। দুপুরের খাবার খেয়ে দীর্ঘক্ষণ গল্প করেছিলেন। পরে হোস্টেলে চলে যান। তিনি বলেন, আমার ছেলে ইংল্যান্ড থেকে বিবিএ পাস করেছে। বর্তমানে একটি কল সেন্টারে চাকরি করছে। জেরিনের মাতার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। শিগগিরই দেশে ফিরে উনারা পারিবারিকভাবে আংটি পরাবেন বলে জানিয়েছিলেন।
জেরিনকে সন্দেহ করতো: কারণে-অকারণে জেরিনকে সন্দেহ করতো স্মরণ। কোথায় যায়, কার সঙ্গে কথা বলে, এমনকি ফেসবুকে তার বন্ধু তালিকা নিয়েও তাদের মধ্যে একাধিকবার মনোমালিন্য হয়েছে। সর্বশেষ গত ৩১শে ডিসেম্বর থার্টি ফার্স্ট নাইটে তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়েছিল। জেরিনের কলেজ সূত্র জানায়, সমপ্রতি কে বা কারা স্মরণকে বলেছিল, তোর কানাডিয়ান প্রেমিকা (জেরিন) তোকে শুধু ব্যবহার করছে। সিঁড়ি হিসেবে কাজে লাগিয়েছে। পড়াশোনা শেষ হলেই অন্য ছেলে নিয়ে চম্পট দেবে। এরপর থেকেই তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সহপাঠীদের ধারণা, জেরিনকে ডেকে নিয়ে কৌশলে হত্যা করা হয়েছে। পরে রেল লাইনে ট্রেনের ধাক্কার নাটক সাজিয়েছে।
পুলিশের সন্দেহ: এদিকে জেরিনের মাথার পেছনে একটি আঘাত দেখে পুলিশের মনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তদন্ত সূত্র জানায়, জেরিন হেড ইনজুরিতে মারা গেছে। ট্রেনের ধাক্কায় মারা গেলে মৃতের শরীরে আরও আঘাত থাকার কথা। এছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশ টুকরা টুকরা হওয়ার কথা। কিন্তু জেরিনের মাথা ছাড়া অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ওদিকে দুর্ঘটনা ও দুর্ঘটনাস্থল নিয়েও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে স্মরণ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় তারা দু’জন দুই পথে হাঁটছিলেন। একবার বলেছেন, বিশ্বরোড দিয়ে উত্তরা যাচ্ছিলেন। এ সময় তাদের সামনে দিয়ে ঢাকাগামী একটি ট্রেন জেরিনকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। আবার বলেছে, রেডিসন হোটেলের পেছন দিকে রেল লাইনের দু’পাশে দু’জন দাঁড়িয়েছিলেন। তবে কেন দু’পাশে দু’জন ছিলেন সে সম্পর্কে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। এছাড়া ট্রেন ধাক্কা দেয়ার আগে তিনি কেন বাঁচাতে যাননি সে প্রশ্নও এড়িয়ে যান। আহত অবস্থায় কুর্মিটোলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নথিপত্রে স্মরণ নিজেকে জেরিনের স্বামী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বিয়ের কথা অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে জেরিন ও স্মরণের ফেসবুক পেজে উল্লেখ আছে, ‘উই গট মেরিড’। বিয়ের তারিখ ২২শে মে ২০০৮। জেরিনের ফেসবুকের ফ্রেন্ডশিপ অপশনে ২০১২ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর লেখা হয়েছে, ইন রিলেশনশিপ উইথ কাজী স্মরণ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রেলওয়ে থানার এসআই আলমগীর হোসেন বলেন, জেরিনের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার লক্ষণ খুঁজে পাওয়া যায়নি তার শরীরে। এ কারণে গ্রেপ্তারকৃত স্মরণের শনাক্ত করা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে সে একেকবার একেক জায়গা দেখিয়েছে।
রেললাইনে দাঁড়িয়ে ঝগড়া: রেললাইনে দাঁড়িয়ে ঝগড়া করেছিলেন মেডিকেল কলেজের ছাত্রী জেরিন ও তার প্রেমিক স্মরণ। ঝগড়ার এক পর্যায়ে জেরিনকে বিমানবন্দরগামী ট্রেনের নিচে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে এমন তথ্য পেয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জিআরপি থানার এসআই আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী জেরিনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
জেরিনের খালু শামীম পারভেজ বলেন, জন্মসূত্রেই জেরিন কানাডার নাগরিক। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন তার ছোটবেলা থেকেই। তবে কানাডার মেডিকেল কলেজে চান্স না পেয়ে গত বছর সে বাংলাদেশে আসে। ভর্তি হয় উত্তরার উইমেন্স মেডিকেল কলেজে। সে মেডিকেল কলেজের হোস্টেলেই থাকতো। তিনি আরও বলেন, জেরিনের একজন সহপাঠীর চাচাতো ভাই স্মরণ। এই সুবাদেই সম্প্রতি স্মরণের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে স্মরণ মাদকাসক্ত হওয়ার বিষয়টি জানতে পারার পর সম্প্রতি তাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। দু’দিন আগে জেরিন রামপুরাস্থ তার খালুর বাসায় বেড়াতে গিয়েছিল। স্মরণই তাকে চাপ প্রয়োগ করে বাসা থেকে বের করে নিয়ে আসে। পরে সে জেরিনের খালাতো ভাই আদিবকে ফোন করে জানায় জেরিন বাস এক্সিডেন্টে আহত হয়েছে। জন্মের পর জেরিন সর্বপ্রথম বাংলাদেশে আসে ১৯৯৪ সালে। গত বছরই সে দ্বিতীয় বারের মতো বাংলাদেশে এসেছে। কানাডার টরেন্টোর ক্রিসেন্ট টাউন স্কুলেই সে লেখাপড়া করতো। এজন্য এর আগে জেরিনের সঙ্গে তার পরিচয়ের কোন সুযোগই ছিল না। স্মরণ অবশ্যই জেরিনের ফেসবুক আইডি হ্যাক করেছিল। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অবশ্যই সে স্বীকার করবে। গত শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজধানীর বিশ্বরোড এলাকার রেললাইনে ট্রেনের ধাক্কায় জেরিনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়।

Sunday, January 13, 2013

কাগজের মতোই পাতলা, নমনীয় হবে ট্যাবলেট

কাগজের মতোই পাতলা, নমনীয় হবে ট্যাবলেট


সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তি পণ্য হয়ে উঠছে আরও ক্ষুদ্রাকৃতির এবং পাতলা। সাম্প্রতিক সময়ে স্মার্টফোন আকারে বড় হয়ে উঠলেও এর কমতির দিকেই রয়েছে। ট্যাবলেট পিসিগুলোর পুরুত্বও কমে যাচ্ছে সময়ের সাথে সাথে। আবার আল্ট্রাবুকের মাধ্যমে ল্যাপটপের পুরুত্বও দিন দিন কমছেই। প্রযুক্তি পণের পুরুত্ব কমানো নিয়ে গবেষণা করতে করতে এবার এক যুগান্তকারী উদ্ভাবনের ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার একদল গবেষক। তারা এমন এক ধরনের স্ক্রিন বা পর্দা উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন, যা হবে কাগজের মতোই পাতলা এবং নমনীয়। ফলে একে ইচ্ছেমতো মোড়ানো যাবে এবং পড়ে গেলেও কোনো ধরনের ক্ষতি হবে না। প্রাথমিকভাবে ট্যাবলেট পিসির জন্য এই পর্দা তৈরি করা হলেও আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই ল্যাপটপের পর্দাতেও এটি ব্যবহার হবে বলেই আশাবাদ জানিয়েছেন নির্মাতারা। প্লাস্টিক লজিক নামের একটি প্রতিষ্ঠান এবং ইন্টেল ল্যাবের সহায়তায় কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক উদ্ভাবন করেছেন এই পাতলা, নমনীয় ডিসপ্লে যাকে আক্ষরিক অর্থে ভাঙ্গা যায় না। এই পর্দা ব্যবহার করে যে ট্যাবলেট পিসির প্রোটোটাইপ তারা উদ্ভাবন করেছেন, তার নাম দেওয়া হয়েছে পেপারট্যাব। ইন্টেলের দ্বিতীয় প্রজন্মের কোর টিএমআই৫ প্রসেসর ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এটি, যা ডিজাইন করেছে প্লাস্টিক লজিক। এই ট্যাব সম্পর্কে প্লাস্টিক লজিকের সিইও ইন্দ্র মুখার্জি জানিয়েছেন, 'আজকের দিনে যে ধরনের কাঁচের ডিসপ্লে ব্যবহার করা হচ্ছে, তার চাইতে সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে এই ডিসপ্লে। পাতলা, হালকা এবং নমনীয় এই ডিসপ্লে ব্যবহারের অভিজ্ঞতা হবে সম্পূর্ণ আলাদা।' গত পরশু শুরু হয়ে যাওয়া কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক শো'তেও এটি প্রদর্শন করা হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। নতুন এই পর্দা ব্যবহারে নতুন ধরনের ধারণাও প্রদর্শন করেছেন গবেষকরা। প্রচলিত ডিভাইসগুলোতে একটিমাত্র ডিসপ্লেই ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে পেপারট্যাব ব্যবহার করে আলাদা আলাদা ডক্যুমেন্টের জন্য আলাদা আলাদা ডিসপ্লে ব্যবহার করাও সম্ভব। শুধু তাই নয়, একাধিক পেপারট্যাব একসাথে জুড়ে দিয়ে বড় আকারের ডিসপ্লে তৈরি করা সম্ভব হবে বলেও জানিয়েছেন গবেষকরা। আবার এই পর্দাগুলো নমনীয় বলে এর নমনীয়তাকে ব্যবহার করেও বিভিন্ন ধরনের ফাংশন যুক্ত করার সুবিধা থাকবে এতে। ইন্টেল আশা করছে, এই ডিসপ্লে প্রচলিত সব ধরনের ডিসপ্লেকে প্রতিস্থাপন করকে সক্ষম হবে।

সংবিধানে বিপজ্জনক অনুচ্ছেদ

সংবিধানে বিপজ্জনক অনুচ্ছেদ


রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম, ধর্ম নিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র কিংবা এই সংবিধানের কোন বিধান সম্পর্কে নাগরিকের মনে অনাস্থা সৃষ্টি করলে তা রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রদ্রোহিতার এই অপরাধের কথা বর্ণিত রয়েছে। এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছরের কারাদণ্ড। সংবিধান একদিকে নাগরিকের বাক-স্বাধীনতার অধিকার দিয়েছে অন্যদিকে এই অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সংবিধানের বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। যে কথা বলা বা সমালোচনার মাধ্যমে সংবিধানের কোন বিধান সম্পর্কে নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত হতে পারে। আইন বিশেষজ্ঞরা এ সংক্রান্ত ৭(ক) অনুচ্ছেদকে বিপজ্জনক ও মৌলিক অধিকার পরিপন্থি বলে অভিহিত করেছেন। তারা বলেছেন, মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্য আইন আপনা-আপনি বাতিল বলে গণ্য হবে।

জাতীয় সংসদে ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন-২০১১ পাস হয়। বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে বিলটি পাসের পক্ষে ২৯১ ও বিপক্ষে মাত্র একটি ভোট পড়ে। ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে রাখার ঘোরতর বিরোধী জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টিও বিলটি পাসে ভোট দেয়। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত, বিতর্কিত এবং বিপজ্জনক সংশোধনী হচ্ছে ৭(খ) অনুচ্ছেদ।

সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ ইত্যাদি অপরাধের বর্ণনা রয়েছে ৭(১) অনুচ্ছেদের (ক) উপ-অনুচ্ছেদে। এতে বলা হয়েছে, এই সংবিধান বা ইহার কোন অনুচ্ছেদ রদ, রহিত বা বাতিল বা স্থগিত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে; তাহার এই কার্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা হইবে এবং ঐ ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হইবে। এই অনুচ্ছেদে মূলত অবৈধ ক্ষমতা দখলের অপরাধের বর্ণনা রয়েছে। প্রচলিত আইনে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধের বর্ণনা ও শাস্তির কথা উল্লেখ থাকলেও পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এটি এখন সংবিধানের অংশ করা হয়েছে। বাংলাদেশে অবৈধ ক্ষমতা দখলের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের একটি বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করাকে ইতিবাচক বলে অভিহিত করেছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। তবে তারা বলেছেন, এ ধরনের একটি অনুচ্ছেদ ১৯৭৩ সালে জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বে প্রণীত পাকিস্তানের সংবিধানেও ছিলো। কিন্তু এই বিধান পরবর্তীতে জেনারেল জিয়াউল হক ও জেনারেল পারভেজ মোশাররফের সামরিক অভ্যুত্থান ঠেকাতে পারেনি। এই বিধান বুটের তলায় রেখে ভুট্টোকে ফাঁসি দেয়া হয়েছিলো।

এদিকে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা ৭(১) অনুচ্ছেদের (খ) উপ-অনুচ্ছেদের নিন্দা করেছেন। তারা এই উপ-অনুচ্ছেদকে মৌলিক অধিকার ও বাক স্বাধীনতার পরিপন্থি বলে অভিহিত করেছেন। প্রসঙ্গত সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক-স্বাধীনতাকে নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, (১) "চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হইল। " (২) "রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশি রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচণা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধানিষেধ সাপেক্ষে"

(ক) " প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের" এবং (খ) "সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।" সংবিধানের বাক-স্বাধীনতার এই নিশ্চয়তাকে অস্বীকার করেছে ৭(১) অনুচ্ছেদের (খ) উপ-অনুচ্ছেদ। এতে বলা হয়েছে, "এই সংবিধান বা ইহার কোন বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্যে উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে তাহার এই কার্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা হইবে এবং ঐ ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হইবে। " এ প্রসঙ্গে ৭(১) অনুচ্ছেদের (৩) উপ-অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, " এই অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধে দোষী ব্যক্তি প্রচলিত আইনে অন্যান্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডিত হইবে। বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১২৪(ক) ধারায় এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছরের কারাদণ্ড ও অর্থ দণ্ডের বিধান রয়েছে।

বাংলাদেশের একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি ৭ (১) অনুচ্ছেদের (খ) উপ-অনুচ্ছেদকে একটি বিপজ্জনক অনুচ্ছেদ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, আদর্শিক কারণে কোন ব্যক্তি বা দল এই সংবিধানের কোন বিধানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে। যেমন ইসলামকে সংবিধানে রাষ্ট্র ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। ভুল হোক শুদ্ধ হোক অনেকেই মনে করেন রাষ্ট্রের কোন ধর্ম হতে পারে না। এর বিরুদ্ধে মাঠে-ময়দানে অনেকেই বক্তৃতা-বিবৃতি দিচ্ছেন। কেউ কেউ সংবাদপত্রে লেখনীর মাধ্যমে বা টক শোর মাধ্যমে এর কঠোর সমালোচনা করছেন। তেমনিভাবে ধর্ম নিরপেক্ষতা বা সমাজতন্ত্রকে রাষ্ট্রের মূল নীতি অন্তর্ভুক্ত করার বিরুদ্ধেও অনেকের অবস্থান রয়েছে। এখন যদি তাদের এই অবস্থানের কারণে বা বক্তৃতা-বিবৃতির কারণে সংবিধানের কোন বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত হয় তাহলে তারা বা ঐ ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে অপরাধী হবেন। তিনি বলেন, কোন আধুনিক বা সভ্য দেশের সংবিধানে এ ধরনের বিধান থাকতে পারে না। এখন হয়ত রাষ্ট্র বিধানটি প্রয়োগ করছে না কিন্তু ভবিষ্যতে এর ব্যবহার হবে না তা কি বলা যায়?

ওই সাবেক প্রধান বিচারপতি বলেন, সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। সংবিধানের ২৬(১) অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে "এই ভাগের বিধানাবলীর (মৌলিক অধিকারের অধ্যায়) সহিত অসামঞ্জস্য সকল প্রচলিত আইন যতখানি অসাঞ্জস্যপূর্ণ, এই সংবিধান-প্রবর্তন হইতে সেই সকল আইনের ততখানি বাতিল হইয়া যাইবে। " (২) "রাষ্ট্র এই ভাগের কোন বিধানের সহিত অসামঞ্জস্য কোন আইন প্রণয়ন করিবেন না এবং অনুরূপ কোন আইন প্রণীত হইলে তাহা এই ভাগের কোন বিধানের সহিত যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইয়া যাইবে।" এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৭(১) অনুচ্ছেদের (খ) উপ-অনুচ্ছেদ মৌলিক অধিকার পরিপন্থি একটি বিধান। সংবিধানের ব্যাখ্য বা কোন কিছু গ্রহণের ক্ষেত্রে আগের অনুচ্ছেদের চেয়ে পরের অনুচ্ছেদ গুরুত্ব পায়। সেক্ষেত্রে ৭(১) অনুচ্ছেদের (খ) উপ-অনুচ্ছেদে যাই থাকুক না কেন ২৬(১) অনুচ্ছেদ এবং চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক-স্বাধীনতা সংক্রান্ত ৩৯ অনুচ্ছেদ গুরুত্ব পাবে। এছাড়া এই দুই অনুচ্ছেদের সঙ্গে ৭(১) অনুচ্ছেদের (খ) উপ-অনুচ্ছেদ সাংঘর্ষিক।

তুরাগ তীরে মুসল্লিদের ঢল, আখেরি মুনাজাত আজ

তুরাগ তীরে মুসল্লিদের ঢল, আখেরি মুনাজাত আজ


লাখো মুসল্লির আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ধ্বনি, জিকির-আসকার ও ইজতেমার মুরব্বিদের বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত হয়েছে। শনিবার বাদ ফজর তাবলীগের মুরব্বি মাওলানা শওকত হোসেনের বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কার্যসূচি। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্‌ ধ্বনিতে তুরাগ নদী তীরবর্তী বিশাল এলাকা যেন পুণ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে। সর্বত্র এক অভূতপূর্ব ভাবগম্ভীর পরিবেশ। দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লির ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আসকার, কোরআন-হাদিস গুরুত্বপূর্ণ বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত হয়। রোববার আখেরি মুনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমার ১ম পর্বের আনুষ্ঠানিকতা। শীতার্ত আবহাওয়া সত্ত্বেও ইজতেমা অভিমুখে মুসল্লিদের আগমন অব্যাহত রয়েছে। বাস-ট্র্রাক, নৌকা ও অন্যান্য যানবাহন ছাড়াও অনেকেই পায়ে হেঁটে ইজতেমাস্থলে পৌঁছেছেন। অগণিত মুসল্লির ভিড়ে অশীতিপর বৃদ্ধ যেমন রয়েছেন তেমনি তরুণ ও কিশোরের সংখ্যাও কম নয়। কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস, তীব্র শীত, ধূলি- সব কিছুই তাদের কাছে সহনীয় হয়ে উঠেছে। এতটুকু বিরক্তি নেই কারও মধ্যে। গোটা টঙ্গী শহর এখন ধর্মীয় উৎসবের নগরে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি বাড়ি ও শিল্প-কারখানা সারা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মেহমানে ভরে গেছে। মহাসড়ক থেকে শুরু করে প্রতিটি অলি-গলিতে এখন শুধুই মুসল্লিদের পদচারণা।
আখেরি মুনাজাত আজ: রোববার বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মুনাজাত। ইজতেমার আয়োজকদের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বেলা ১২টার পর যে কোন সময় ইজতেমার এ মুনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এবারও তাবলীগ জামাতের শূরা সদস্যদের মাশয়ার ভিত্তিতে দিল্লির মারকাজের শূরা সদস্য মাওলানা যোবায়েরুল হাসান আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিজ নিজ গুনাহ্‌ মাফের জন্য মহান আল্লাহতায়ালার রহমত কামনা করে এ মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমার ১ম পর্ব।
প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী: প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আখেরি মুনাজাতে শামিল হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মূল বয়ান ও দোয়া মঞ্চের পাশে বসে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের, বাটা শু ফাক্টরির ছাদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র এবং এটলাস হোন্ডা কারখানার ছাদে বিশেষভাবে তৈরী মঞ্চে বসে বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র আখেরি মুনাজাতে অংশ নেয়ার জন্যে প্রস্তুতি রয়েছে প্রশাসনের। তবে শেষ পর্যন্ত মুসল্লিদের দুর্ভোগ এড়াতে টঙ্গীর বাটা শু ফ্যাক্টরির ভেতরে প্রধানমন্ত্রীর না আসার সম্ভাবনাই রয়েছে। সিভিল এভিয়েশনের ছাদে কিংবা উত্তরার পলওয়েল মার্কেটের ৯ তলার ছাদে বসে কিছুক্ষণ বয়ান শোনা এবং আখেরি মোনাজাতে শরিক হওয়ার জন্যও তার প্রস্তুতি রয়েছে বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে ।
শনিবার বয়ান করেন যারা: বিশ্ব ইজতেমা মাঠে শনিবার সমবেত মুসল্লিদের উদ্দেশে দেশী-বিদেশী ইজতেমার শীর্ষ মুরব্বিরা বয়ান করেছেন। শনিবার বাদ ফজর বয়ান করেন দিল্লির মাওলানা শওকত হোসেন, বাদ জোহর বয়ান পেশ করেন মাওলানা মিয়াজী আজমত। বয়ানে দ্বীন ও দুনিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। বাদ আসর বয়ান করেন দিল্লির মাওলানা যোবায়েরুল হাসান। শুক্রবার বাদ আছর বয়ান করেন দিল্লির মাওলানা যোবায়েরুল হাসান, বাদ মাগরিব দিল্লির মাওলানা সা’দ। আর শুক্রবার রাত ১০টা পর্যন্ত একটানা বয়ান চলে। এরপর এশার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
শতাধিক যৌতুকবিহীন বিয়ে: আখেরি মুনাজাতের আগের দিন বিকালে শতাধিক যৌতুকবিহীন বিয়ে হয় বিশ্ব ইজতেমায়। ইজতেমার রেওয়াজ অনুসারে এখানে প্রতি বছর দ্বিতীয় দিন বাদ আসর বিয়ের আসর বসে। অভিভাবকরা আগেই নবদম্পতিদের নাম তালিকাভুক্ত করেন। প্রতিবারের মতো ইজতেমার দ্বিতীয় দিনে শনিবার বিকালে ইজতেমাস্থলে হযরত ফাতেমা (রাঃ) ও হযরত আলীর (রাঃ) বিয়ের দেনমোহর অনুসারে যৌতুকবিহীন বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের আগে বাদ আসর দিল্লির মাওলানা যোবায়েরুল হাসান বয়ান করেন। বয়ান শেষে এই সব বর-কনের অভিভাবকদের সম্মতিতে বরের উপস্থিতিতে বিয়ে পড়ানো হয়। বিয়ের পর মূল মঞ্চ থেকে মোনাজাতের মাধ্যমে নব দম্পতিদের সুখী সংসার কামনা করা হয়। বিয়ে শেষে উপস্থিত দম্পতিদের স্বজন ও মুসল্লিদের মধ্যে খোরমা-খেজুর বিতরণ করা হয়। বিয়েতে মোহর ধার্য করা হয় ‘মোহর ফাতেমী’র নিয়মানুযায়ী।
আরও এক মুসল্লির মৃত্যু: ইজতেমায় আগত আর এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। শামসুল হক (৬০) নামের ওই মুসল্লির বাড়ি নরসিংদীর বড়চর গ্রামে। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে সামছুল হক হঠাৎ করে ঠাণ্ডায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তার সহকর্মীরা তাকে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ নিয়ে গত দুই দিনে চার মুসল্লি মারা গেলেন। এদিকে ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিবারের ন্যায় এবারও ৪৫টি অস্থায়ী স্বাস্থ্য ক্যাম্প মুসল্লিদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। হামদর্দ, ইব্‌নে সিনাসহ বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মুসল্লিরা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করছেন। বিশ্ব ইজতেমায় এসে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ডায়রিয়া, আমাশয়, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, সর্দিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে ২৯ জন মুসল্লি ভর্তি রয়েছেন। টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ইসমাইল হোসেন সিরাজী জানান, ইজতেমা উপলক্ষে এ পর্যন্ত ৮৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শনিবার নতুন করে আরও ১২জন রোগী ভর্তি হন। তিনি আরও জানান, শনিবার পর্যন্ত ৩৫৮৫ জন রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
ইজতেমা ময়দানে পানির সঙ্কট: বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে আগত মুসল্লিদের ওজু-গোসল, রান্না-বান্নাসহ নানা প্রয়োজন মেটাতে পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে । টয়লেট, ওজুুখানা ও গোসলখানা নির্মাণ করা হয়েছে। এসব সুবিধা বাড়ানো হলেও পানিসহ নানা সঙ্কটে পড়ছেন মুসল্লিরা। তাই তারা বাইরে থেকে পানি কিনে তাদের দৈনন্দিন কাজ-কর্ম সারছেন। অনেকেই গোসল না করে থাকছেন। আবার কেউ বাইরে থেকে টাকা খরচ করে প্রয়োজন মেটাচ্ছেন। অনেকেই ময়লা পানি দিয়েও রান্না-বান্না সারছেন বলে মুসল্লিরা জানান। জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকৌশল বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. নূরুজ্জামান জানান, এবার পানি উৎপাদন ও সরবরাহ আরও বাড়ানো হয়েছে। এক সঙ্গে মুসল্লিরা গোসল করতে গেলে হয়তো চাপ বেড়ে যাচ্ছে। হিসাবের চেয়ে ইজতেমার মুসল্লির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিন ওজুু-গোসলসহ দৈনন্দিন কাজের জন্য যে পরিমাণ পানি উৎপাদন ও সরবরাহ করা হচ্ছে তা দিয়ে তাদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তফা জানান, এবার ইজতেমা মাঠে ১২টি উৎপাদক নলকূপের মাধ্যমে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩ কোটি লিটার পানি উৎপাদন ও সরবরাহ করছে। এছাড়া পানি সরবরাহ বৃদ্ধি ও বিগত বছরে নির্মাণ করা দোতলা টয়লেটগুলো এবার সম্প্রসারণ করে তেতলা করা হয়েছে। বর্তমানে ১৩টি টয়লেট বিল্ডিংএ টয়লেটের সংখ্যা ২৮৩৪টি। বিদেশী মেহমানদের জন্য গোসলখানার সংখ্যা ১২৪টি। প্রতিটিতে একসঙ্গে গোসল করতে পারবে ১০০ জন। ওজুু খানা রয়েছে ৩২টি। যেগুলোতে একসঙ্গে ওযু করতে পারবেন ১০০ জন মুসল্লি। এত সব আয়োজনের পর পানির সঙ্কট রয়েছে তা মানতে নারাজ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: গাজীপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের বিভিন্ন হোটেল রেস্তরাঁ ও হাইওয়েতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। গত দুই দিনে ভ্রাম্যমাণ আদালত ভেজাল বিরোধী আইন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৬টি মামলা ও ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫শ’ টাকা জরিমানা করেন। এতে ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পালাক্রমে দায়িত্বপালন করছেন।
মহিলাদের ভিড়: বিশ্ব ইজতেমায় মহিলাদের অংশগ্রহণ ও অবস্থানের কোন সুযোগ নেই। ইজতেমায় আসার ব্যাপারে আয়োজক কর্তৃপক্ষের নিষেধ রয়েছে। তারপরও আখেরি মুনাজাতে অংশ নিতে ইজতেমা মাঠের বাইরে বিশেষ করে তুরাগ নদীর পশ্চিম পাড়ে দূর-দূরান্ত থেকে এসে হাজার হাজার মহিলা অবস্থান নিয়েছেন। তাদের অনেকেই ঠাঁই নিয়েছেন খোলা আকাশের নিচে ।
অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে ৬ মুসল্লি: টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় এসে অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন ৬ মুসল্লি। নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে ও পান করিয়ে এদের নগদ টাকা ও মোবাইলসহ অন্যান্য মালামাল হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। পথচারীরা এদেরকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল ও উত্তরার বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
অস্থায়ী দোকানপাট: ইজতেমায় আগত বিপুল সংখ্যক মুসল্লির সুবিধার্থে ইজতেমা ময়দান ও আশেপাশের এলাকায় বসেছে অস্থায়ী দোকান। এসব মওসুমি দোকানে বিক্রি হচ্ছে টুপি, জায়নামাজ, তসবিহ্‌সহ নানা ধর্মীয় উপকরণ। রয়েছে সারি সারি ধর্মীয় বইয়ের দোকান। জায়নামাজ ব্যবসায়ী রশিদ জানালেন, বিপুল লোক সমাগমের কারণে তাদের বেচা বিক্রি ভাল। গড়ে প্রতিটি জায়নামাজ ৫৫০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি জানান. ইজতেমায় লোকসমাগম বেশি হওয়ায় তারা পাইকারি দামেই এসব বিক্রি করছেন। এমদাদিয়া লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষসহ বেশ কয়েকটি বইয়ের স্টল বসেছে ইজতেমার আশেপাশে। এখানেও বিভিন্ন বয়সী লোকজনের বেশ ভিড় দেখা গেছে। এছাড়া বদনায় করে বিক্রি হচ্ছে ওজুু ও গোসলের পানি। প্রতি বদনা পানির দাম নেয়া হচ্ছে ২-৩ টাকা।
কম্বলের দাম চড়া: এবারের ইজতেমার মাঠে সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়েছে শীতের কম্বল। এ বছর শীত আর ঘন কুয়াশা বেশি থাকায় এ বেচাকেনা বেশ ভাল হয়েছে। তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে কয়েক গুণ দাম বেশি। মুসল্লিরা জানান, গত বছর যে কম্বলের দাম ছিল ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা সেটি এ বছর ২৮০০ থেকে ৩০০০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে।
গাড়ি পার্কিং: বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে মুসল্লিদের নিরাপদ যাতায়াত এবং সুষ্ঠু যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে ১১ই জানুয়ারি থেকে ১৩ই জানুয়ারি ১ম পর্বের আখেরি মুনাজাতের দিন পর্যন্ত এবং ১৮ই জানুয়ারি থেকে ২০শে জানুয়ারি ২য় পর্বের আখেরি মুনাজাতের দিন পর্যন্ত গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। উল্লিখিত সময়ে সুষ্ঠু যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য ধৌর ব্রিজ হতে আবদুল্লাহপুর হয়ে প্রগতি সরণি ও টঙ্গী ব্রিজ থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত বিমান যাত্রী, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও এম্বুলেন্স ছাড়া সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। এ সময় নরসিংদীর ঘোড়াশাল থেকে কালীগঞ্জ-পুবাইল হয়ে আগত যানবাহন টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশনের পূর্বে মরকুন (কে-২) পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক থেকে ঘোড়াশালগামী যানবাহন ওই রাস্তার পরিবর্তে কাঁচপুর-যাত্রাবাড়ী সড়কে চলাচল করতে পারবে। ইজতেমায় আগত মুসল্লি ও উত্তরার অধিবাসীদের গাড়ি ছাড়া অন্য সকল যানবাহন বিমান বন্দর সড়কের পরিবর্তে মিরপুর-সাভার সড়ক দিয়ে চলাচল করবে। ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের যানবাহন সাধারণ পার্কিংয়ের জন্য নিকুঞ্জ-১ আবাসিক এলাকা, উত্তরা ৬নং সেক্টর ও রাজউক কলেজের আশপাশের খালি জায়গা, বরিশাল বিভাগের গাড়ি ধৌর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ও উত্তরার ১৮নং সেক্টর, সিলেট বিভাগের গাড়ি উত্তরা ১২ নং সেক্টর, ঢাকা বিভাগের গাড়ি সোনারগাঁও সড়ক ও জনপথ সড়কের পূর্ব-পশ্চিম প্রান্ত, খুলনা বিভাগ উত্তরা ১০, ১১ ও ১৮নং সেক্টর, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ প্রত্যাশা হাউজিং, চট্টগ্রাম বিভাগ উত্তরার ১৩ নং সেক্টর, রাজশাহী বিভাগ কামারপাড়া হাউজিং মাঠ এবং উত্তরার ১০ নং সেক্টরের খালি জায়গায় যানবাহন পার্কিং করা যাবে। এছাড়া গাজীপুর জেলায় কে-২ ফ্যাক্টরি, কাদেরিয়া টেক্সটাইল মিল ও সংলগ্ন এলাকা, মেঘনা টেক্সটাইল মিল সংলগ্ন রাস্তা, সফিউদ্দিন সরকার একাডেমী মাঠ, চান্দনা চৌরাস্তা ট্রাক টার্মিনাল, চান্দনা উচ্চ বিদ্যালয় ও ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠ এবং ঢাকা জেলার গাড়ি আশুলিয়া কলেজ ও স্কুল মাঠে পার্কিং করা যাবে।