Pages

Tuesday, January 29, 2013

‘শিবির দেখলেই গুলি’

‘শিবির দেখলেই গুলি’


ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শিবির কর্মীদের দেখা মাত্র পুলিশকে গুলির নির্দেশ দিয়েছেন। আইজিপির সামনেই তিনি এ নির্দেশ দেন। গতকাল দুপুরে শিবিরের হামলায় আহত পুলিশ সদস্যদের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে দেখতে যান পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার। তার সঙ্গে ছিলেন ডিএমপির কমিশনার বেনজির আহমেদ। তিনি হাসপাতালের তিন নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন কনস্টেবল মোকলেছুর রহমানের খোঁজখবর নেয়ার সময় তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘অস্ত্র ছিল না, গুলি করতে পারোনি? এখন থেকে শিবির দেখামাত্র গুলি করবা।’
এরপর চার নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন পায়ে আঘাত পাওয়া কনস্টেবল জিয়াউরকে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পায়ের আঘাত সুস্থ হয়ে উঠে ওদের পা ভেঙে দিবা। উল্লেখ্য, গতকাল সকালে থেকে রাজধানীর দৈনিক বাংলা, মতিঝিল, স্টেডিয়াম এলাকা, জিরো পয়েন্ট ও সচিবালয় এলাকায় শিবিরকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।
এতে মতিঝিল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হায়াতুজ্জামান, পেট্রোল ইন্সপেক্টর সানোয়ার, অপারেশন অফিসার সাজ্জাদ হোসেন, সার্জেন্ট গোলাম সারোয়ারসহ ১৮ পুলিশ সদস্য আহত হন। তাদের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে গিয়ে পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, পুলিশের পর্যাপ্ত প্রস্তুতির কারণে শিবিরকর্মীরা তাদের বেশি ক্ষতি করতে পারেনি। হামলা চালিয়ে যে নাশকতা চালানো হয়েছে, তা ফৌজদারি অপরাধ। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ সময় কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক আবু মুসা মোহম্মাদ ফকরুল ইসলাম, ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন, রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

Monday, January 28, 2013

দুবাইয়ে বাংলাদেশী চক্রের অন্ধকার জগৎ

দুবাইয়ে বাংলাদেশী চক্রের অন্ধকার জগৎ


দুবাইয়ে বাংলাদেশী চক্রের অন্ধকার জগতে বন্দি হয়ে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব বাংলাদেশী এক যুবতী। অভাব-অনটনের সংসারে একটু সুখ আনার জন্য পাড়ি দিয়েছিলেন সুদূর প্রবাসে। কিন্তু সুখ নামের সেই স্বপ্ন তার জীবনকে করে দিয়েছে ছারখার। এখন লোকলজ্জার ভয়ে কোথাও মুখও দেখাতে পারেন না। বলেন, এ জীবন রেখে কি লাভ? মনে হয় আত্মহত্যা করি। কিন্তু পারি না। ভাবি, যারা আমার জীবনকে নিঃশেষ করে দিয়েছে তাদের বিচার দেখতে চাই। এ জন্যই মামলা করেছি। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৪-এ মামলা করেন তিনি। ২৩শে জানুয়ারি আদালত মামলার আসামী ফালি বেগম, রিপন, আসমা বেগম ও জমির আলীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পাশাপাশি বিচারক আরিফুল হক বলেছেন, ঘটনার সত্যতা যেহেতু আছে সেহেতু বিষয়টি আমলে নেয়া হলো।
ঢাকার নবাবগঞ্জ থানার ওই যুবতী বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন। দেখতে সুন্দরী হওয়ায় তার দিকে নজর পড়ে পাচারকারী চক্রের সর্দারনী নবাবগঞ্জের তেলেঙ্গা গ্রামের ফালি বেগমের। সে নানাভাবে ফুঁসলিয়ে সুখের স্বপ্ন দেখিয়ে দুবাইয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করে তার। ফালি বেগমের সহযোগী হিসেবে কাজ করে মো. রিপন, আসমা বেগম ও মূলবক্স গ্রামের জমির আলী। ২০০৭ সালের ৩রা মে তাকে পাঠানো হয় দুবাই। পাঠানোর আগেই আসমা বেগম চলে যায় দুবাই। দুবাই বিমানবন্দরে তাকে গ্রহণ করে আসমা বেগম ও সিলেটি সেলিম বলে একজন। বিমানবন্দর পেরুনোর পরই যুবতীর কাছ থেকে পাসপোর্টসহ সকল কাগজপত্র নিয়ে যায় আসমা। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় আসমা বেগমের পতিতা পল্লীতে। প্রথম দিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে ওই যুবতী বলেন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার চুল ধরে টেনে কিল, ঘুষি, লাথি মারতে মারতে মেঝেতে ফেলে দেয়। এরপর শরীরের ওপর চলতে থাকে উন্মাদ নৃত্য। বাকি রাখেনি কিছুই। ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে খাইয়ে দেয় এক গ্লাস সবুজ শরবত। আর কিছু মনে নেই তার। সংজ্ঞা ফিরে দেখে ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে, শরীরে কোন কাপড় নেই। সম্পূর্ণ উলঙ্গ। খালি গায়ে হাফপ্যান্ট পরা এক লোক ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলছে তার। পাশেই বিবস্ত্র এক বিদেশী। মুচকি হেসে কি যেন বলছে সে। তার ভাষা বুঝতে পারেনি ২২ বছর বয়সী এই যুবতী। এরই মধ্যে অস্ত্র হাতে ৪ জন তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। ভীত-সন্ত্রস্ত যুবতী নিজেকে সামলাতে ব্যস্ত হয়ে উঠলে চারপাশে থাকা লোকগুলো অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে। এদের মধ্যে সেলিম নামের একজন বলে, কোন লাভ নেই। তোর কাপড়-চোপড় পাশের ঘরে। তোকে উলঙ্গ করে, এই যে বিদেশীকে দেখছিস, তাকে দিয়ে ধর্ষণের ছবি তুলে নিলাম। আমাদের প্রস্তাবে রাজি কিনা বল? রাজি না হলে এই ছবি বাংলাদেশে তোর আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীর কাছে পাঠিয়ে দেবো। দেখাবো বিদেশে এসে তুই দেহব্যবসা করে টাকা রোজগার করছিস। এতে তোর পরিবারের মান-সম্মান ধুলায় মিশবে। তোরা সমাজচ্যুত হবি, মুখ দেখাতে পারবি না কোথাও। শেষে আত্মহত্যা করতে হবে তোকে। তার চেয়ে ভাল, আমাদের কথায় রাজি হয়ে যা। দেহব্যবসাকে পেশা হিসাবে নে। প্রচুর টাকা পাবি। বাড়ি-গাড়ি কিনা হবে তোর। দেশে ফিরে রানীর হালে থাকবি।
এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে দু’হাত দিয়ে মুখ ঢাকে যুবতী। কিছু লেখাপড়াও জানেন। ভূমিহীন পরিবারের সহায়-সম্বলহীন যুবতীকে বিয়ের কিছুদিন পরই স্বামী তালাক দেয়। সেই থেকে এলাকার বিভিন্ন লোকজনের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন। একই এলাকায় বসবাস করার সুবাদে তেলেঙ্গা গ্রামের ফালি বেগম, রিপন, আসমা বেগম, জমির আলীর কাছে তার কোন কিছুই অজানা ছিল না।
দুবাইতে আসমার বাসায় আরও তিনটি মেয়ে ছিল। তাদের কাছে প্রতিনিয়ত বেগানা পুরুষরা আসতো। মেয়েদের সঙ্গে ওই সব পুরুষ আমোদ-ফুর্তি করতো। আসর বসতো মদের। এসব দেখে যুবতী পরে গভীর দুশ্চিন্তায়। তাকে কোথায় নিয়ে আসা হয়েছে? এরই মধ্যে আসমা বলে, ওদেরকে দেখছো? জীবন কিভাবে উপভোগ করছে, আনন্দ, ফুর্তি সঙ্গে টাকা আর টাকা। তোমাকেও এ কাজটিই করতে হবে। পুরুষদের সঙ্গে ফূর্তি করতে হবে। তাদের আনন্দ দেবে আর নিজেও আনন্দ পাবে। এটাই তোমার কাজ। তোমার বয়স কম। স্বাস্থ্য শরীর ভাল। খদ্দেররা তোমাকে লুফে নেবে। চিন্তা করো না, তোমার খাওয়া-দাওয়া, থাকা-পরা অসুস্থতা, চিকিৎসা সবই আমি করবো, দেশে যাওয়া-আসার বিমান ভাড়াসহ সব খরচা আমরাই দেবো। একেবারে রাজকীয় হাল তোমার। নাও প্রস্তুতি নাও এবং কাজে লেগে পড়। পাশের রুমে বিদেশী খদ্দের অপেক্ষা করছে। আসমার কথা শুনে হতভম্ব হয়ে পড়ে যুবতীটি। এ কাজ তার দ্বারা সম্ভব নয়। সারা শরীর কাঁপতে থাকে তার। এখন সে কি করবে? কার সাহায্য নেবে? এদের হাত থেকে বাঁচবে কিভাবে? অকস্মাৎ বিদ্রোহী হয়ে ওঠে সে। চিৎকার দিয়ে বলে ওঠে, না। এ কাজ জীবন থাকতে নয়। যুবতীটি মুখ থেকে ‘না’ শব্দটি বের হতে যত দেরি, ততক্ষণে পাশে দাঁড়ানো সিলেটি সেলিম রুমে আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা ক্যাসেট উচ্চ শব্দে ছেড়ে দিয়ে তাকে মারধর শুরু করে। চুল ধরে টেনে কিল, ঘুষি, লাথি মারতে মারতে মেঝেতে ফেলে দেয়। সেলিম তার নেতিয়ে পড়া দেহের ওপর উন্মাদের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। মারের চোটে তার প্রাণ যখন প্রায় ওষ্ঠাগত তখন আসমার সাহায্যে পাশের রুম থেকে আনা সবুজ এক গ্লাস শরবত সেলিম জোর করে তার মুখের ভিতর ঢেলে দেয়। ওই শরবত খাওয়ার পরই যুবতী সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলে। যখন জ্ঞান ফিরে তখনই ঘটনার ভয়াবহতায় সে থর থর করে কাঁপতে থাকে, আর নিজকে দেখতে পায় মেঝের ওপর সম্পূর্ণ উলঙ্গ অবস্থায়। এত কিছুর পরও যুবতী দেহব্যবসায় অসম্মতি জানালে ওরা তাকে দু’দিন দানা-পানি কিছুই খেতে দেয়নি। এক পর্যায়ে যুবতী আত্মহত্যা করার হুমকি দিলে ওরা তার হাত-পা বেঁধে রাখে আর তার ওপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। শেষে নিরুপায় যুবতী কেবল বেঁচে থাকার জন্য ওদের প্রস্তাবে রাজি হয়। শুরু হয় অন্য জীবন। যুবতীর ভাষায়, শরীর ভাল থাকলে প্রতিদিন ১০-১৫ জনকে দেহ দিতে হতো তার। ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, মদখোর, সমাজের উঁচু-নিচু সর্বস্তরের লোকদের মনোরঞ্জন করতে হতো তাকে। এ অত্যাচার চলেছে ৫ বছরেরও বেশি সময়। এ সময়ের মধ্যে কখনওই যুবতীকে ঘরের বাইরে যেতে দেয়া হয়নি। তবে খদ্দেরদের সুবিধার্থে তাকে বিশেষ ব্যবস্থায় হোটেলে নিয়ে যাওয়া হতো। তা-ও রাতের অন্ধকারে। সেই ৫ বছরে যুবতীর দেহ বিক্রি বাবদ আসমারা রোজগার করে নিয়েছে ২ কেটি টাকারও বেশি। ওই টাকা থেকে যুবতীকে তারা দিয়েছে সর্বসাকুল্যে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এক রাতে খদ্দেরদের মনোরঞ্জনের জন্য যুবতীকে নিয়ে যখন তারা হোটেলে যাচ্ছিল, তখন সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে হোটেলের সামনে থেকে পালিয়ে যায় সে। গভীর রাতে পাসপোর্ট ও কাগজপত্র বিহীন পেয়ে সে দেশের পুলিশ তাকে আটক করে। ৩০-৩৫ দিন জেল খাটার পর পুলিশ তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। দেশে এসে পাচারকারী দলের সদস্য ফালি বেগম, রিপন, আসমা, জমির আলী গংয়ের বিরুদ্ধে বিচার চাইলে উল্টা বিপত্তি ঘটে যুবতী ও তার মায়ের। প্রাথমিক তদন্তকালে তার মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তা বাতিল হয়ে যায়। এতে পাচারকারী সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয় যুবতীকে জীবনে শেষ করে দেয়ার হুমকি দেয়। এ পর্যায়ে মান-সম্মান ও কলঙ্কের ভয় ত্যাগ করে তিনি ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৪-এ ফালি বেগম, তার ছেলে মো. রিপন, মেয়ে আসমা বেগম ও একই গ্রামের মৃত রশিদ মোল্লার ছেলে সালাম মোল্লা ও মূলবর্গ গ্রামের মৃত পেয়ার আলীর পুত্র জমির আলীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। যুবতীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট এমদাদুল হক লাল। তিনি বলেন, ঘটে যাওয়া ঘটনার সারাংশ তুলে ধরে মামলা করা হয়েছে। আদালতের বিচারক মো. আরিফুর রহমান বিষয়টি তদন্তের জন্য দিলে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আর সে কারণে ফালি বেগম, রিপন, আসমা বেগম, জমির আলীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

Sunday, January 27, 2013

স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ রংপুর রাইডার্সের

স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ রংপুর রাইডার্সের


নানা অব্যবস্থাপনা নিয়ে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএলে)’র দ্বিতীয় আসর। তবে প্রথম আসরে শুরু থেকে ফিক্সিং শব্দটি উঠে এসেছিল এবার আড়ালে ছিল এই ভয়াবহ শব্দটি। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। রংপুর রাইডার্সের মালিক মোস্তফা রফিকুল ইসলাম সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন স্পট ফিক্সিংয়ের। ২৫শে জানুয়ারি খুলনার বিপক্ষে রংপুরের পরাজয়কে তিনি দেখছেন স্পট ফিক্সিং হিসেবেই। ২৫ তারিখ দিবাগত রাতে প্রথম গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানান তিনি। আর গতকাল রফিকুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, ‘খুলনার বিপক্ষে রংপুর স্পট ফিক্সিংয়ের শিকার হয়েছে। ১২.২ ওভারের সময় ক্যামেরন বরগ্যাসের যে রান আউটটি ছিল সেটি হতে পারে না। কারণ সেই সময় তাকে একজন ফিল্ডার আটকে দিয়েছিলেন। আর আম্পায়ার সেই আউটটি কিভাবে দিয়েছে বোঝাই যায়। শুধু তাই না, ম্যাচ চলাকালে স্কোর বোর্ড অচল হওয়া, কম্পিউটার নষ্ট হওয়া সর্বোপরি চ্যানেল-৯ ম্যাচটি রাতে পুনঃপ্রচার না করায় আমার সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। আমি মনে করি এই ফিক্সিংয়ের সঙ্গে আম্পায়ার ও খুলনার কর্মকর্তারা জড়িত। আমি এর মধ্যে বিসিবিকে জানিয়েছি। এখন আইসিসিকেও জানাবো।’ এই বিষয়ে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জেনেছি। এখানে আইসিসির অ্যান্টিকরাপশন টিম (আকসু) আছে তারাও বিষয়টা দেখবেন। আর চ্যানেল নাইন কেন ম্যাচ রিপ্লে করেনি তা ওদের কর্তৃপক্ষই বলতে পারবে।’ শুক্রবার রংপুরের বিপক্ষে আবারও শাহরিয়ার নাফীসের ফিফটিতে ভর করে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রানের টার্গেট ছুড়ে দেয় রংপুরকে। জবাবে নাসির হোসেনের অপরাজিত ৭০ রানও বাঁচাতে পারেনি রংপুর রাইডার্সের দ্বিতীয় হার। আর এখানেই অভিযোগ তুলেছেন রংপুরের মালিক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘তিন ম্যাচ হারার পর খুলনা এমন একটি দুর্বল দলকে নিয়ে পর পর দুই ম্যাচ জিতে যায় কিভাবে? আমার সেখানেও সন্দেহ আছে। আমরা ঢাকার বিপক্ষে চেজ করে ১৬৭ করেছি। চিটাগাং কিংস ও বরিশালের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছি। আর সেখানে এভাবে হেরে যাওয়া মানতে পারি না। আমি মনে করি এটা প্ল্যান করেই আমাদের হারানো হয়েছে।’
এছাড়াও তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘ধামি ভোর পাঁচটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। কিন্তু চ্যানেল নাইন ঢাকার ম্যাচটি পুনঃপ্রচার করলেও আমাদের ম্যাচটি করেনি। আমার সেখানে কিছুটা ‘কিন্তু’ মনে হয়েছে। কি কারণে তারা এমন করলেন?’ তবে ম্যাচের পুনঃপ্রচারের বিষয়টিকে চ্যানেল-৯ এর একান্ত নিজস্ব বিষয় বলেই উল্লেখ করেন মল্লিক। তিনি বলেন, ‘ধামরা তো ব্রডকাস্টার না। তারা কোন ম্যাচ কখন দেখাবেন সেটা তাদের বিষয়।’ এছাড়াও ফিক্সিংয়ের অভিযোগ নিয়ে মল্লিক বলেন, ‘আমরা ফিক্সিং রোধে আইসিসির এন্টি করাপশন টিম আকসুকে ৩ কোটি টাকা খরচ করে বিপিএলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছি। আশা করি বিষয়টি আকসু ভালভাবে অনুসন্ধান করবে। আর তাদের কাছে ভিডিও ফুটেজ আছে, ইচ্ছা করলে তারা যত বার ইচ্ছা সেই ফুটেজ দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। আর রংপুর রাইডর্সের মালিকপক্ষও যে কোন সময় সেই ম্যাচের ফুটেজ সংগ্রহ করতে পারবেন।’ রংপুর রাইডার্সের মালিক রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমি জানি এই অভিযোগের কারণে আমি ও আমার দল আজীবন নিষিদ্ধ হতে পারে। যদি ভুল প্রমাণ হয়। তবুও আমি চাই বিপিএল হোক স্বচ্ছ একটি আসর। কারণ আমার দেশকে আমি ভালবাসি। আর দেশের সবকিছু ভাল হোক তা আমি চাই। অন্যদিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত খুলনা রয়েল বেঙ্গলের ম্যানেজারকে অনেকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। আর তাই বিষয়টি নিয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনার কোন প্রতিক্রিয়াও জানা যায়নি।

‘দাসী বানাতেই আঁখির মাথায় এসিড ঢেলেছি’

‘দাসী বানাতেই আঁখির মাথায় এসিড ঢেলেছি’


পায়ে মাথা ঠুকে মাফ চেয়েছিল আঁখি। কিন্তু ক্ষমা করিনি। তার বদলে এসিড ঢেলে দিয়েছি মাথায়। সারা জীবনের জন্য দাসী বানাতে চেয়েছিলাম। ইডেন কলেজ ছাত্রী শারমিন আখতার আঁখির ওপর এসিড সন্ত্রাসের এমন বর্ণনা দিয়েছে মনির। গতকাল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মনির বলে, দীর্ঘদিন প্রেম করেছে আঁখি। মালিবাগের কাজী অফিসে বিয়ে করে সংসার করেছে। কয়েক মাস পর হঠাৎ মন ঘুরে যায় তার। এক পর্যায়ে বাসা থেকে পালিয়ে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দেয়। এর প্রতিশোধ নিতেই এসিড মেরে তার রূপ পুড়িয়ে দিতে চেয়েছিলাম। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, মেয়েটিকে সারাজীবনের জন্য পঙ্গু করতেই এসিড মেরেছে মনির। তার দাবি, মেয়েটি তার সঙ্গে দীর্ঘদিন প্রেম করেছে। বিয়ে করে সংসারও করেছে। ৬-৭ মাস আগে বনিবনা না হওয়ায় তালাক দিয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়েই তার ওপর এসিড ঢেলে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, মনিরের দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত সূত্র জানায়, গত ১৫ই জানুয়ারি রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় ইডেন কলেজের ছাত্রী আঁখির ওপর এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় সারা দেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। থানা-পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম বিষয়টির ছায়া তদন্ত শুরু করে। গত ২১শে জানুয়ারি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ জানতে পারে যে, এ ঘটনার মূল আসামি মো. মনির উদ্দিন (২৭)। তার পিতার নাম আবু তাহের (মৃত)। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর থানার বড়িশ্বর গ্রামে। সে লুকিয়ে আছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা ও বরকল উপজেলার মধ্যবর্তী কোন এক দুর্গম এলাকায় জনৈক আমলকি বিক্রেতার বাড়িতে। পরে এডিসি মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমানের নেতৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশের দু’টি দল ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২২শে জানুয়ারি চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারের আমলকি ব্যবসায়ী আফতাবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, বরকল এলাকার কুরকুটিছড়ি গ্রাম থেকে রংগু চৌধুরী বিক্রির জন্য আমলকি পাঠায়, কিন্তু সে তার বাড়ি চেনে না। তার বাড়ি চিনতে পারে রাঙ্গামাটির রিজার্ভ বাজার ঘাটের জনৈক বক্কর সরদার। তার সহযোগিতা চাইলে সে জানায়, তার বাড়ির সঠিক ঠিকানা জানতে পারবে রনি ও আতিক নামের দুই ব্যক্তি। রনির কাছে সহযোগিতা চাইলে সে বলে, আমি তার বাড়ি চিনি এবং আপনাদের সহযোগিতা করবো। টিমটি স্পিডবোট নিয়ে কুরকুটিছড়ির দিকে রওনা হয়। আর খাগড়াছড়ির টিমটি একই উদ্দেশে ট্রলার নিয়ে লংগদু থেকে রওনা দেয়। ওইদিন বিকাল সাড়ে চারটার দিকে কুরকুটিছড়ি গ্রামে গোয়েন্দা পুলিশের দু’টি টিম ও বরকল থানার পুলিশের একটি টিম একত্রিত হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামি মনির টিলার পিছনে পাহাড়ে ঢুকে পড়ে। গোয়েন্দা পুলিশ ও স্থানীয় থানা পুলিশ গভীর রাত পর্যন্ত পাহাড়ি বনের ভিতরে আসামিকে খুঁজতে থাকে। সারারাত অভিযান চালিয়েও তাকে খুঁজে পায়নি তারা। পরের দিন সকালে স্থানীয় লোকজনের সহায়তা নিয়ে পাহাড়ি জঙ্গলে দিনভর অভিযান চালানো হয়। রাতের বেলায়ও গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ও স্থানীয় থানা পুলিশ আসামি যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য রাতভর লেকের চারপাশে ট্রলার নিয়ে টহল অব্যাহত রাখে। এছাড়াও শুভলং ক্যাম্প, রাঙ্গামাটি সদর, লংগদু ও মাইনীমুখে স্থানীয় থানা পুলিশের সহায়তায় চেক পোস্ট বসানো হয়। রাতেই গোয়েন্দা পুলিশের দলটি নিশ্চিত হয় যে, আসামি পাহাড়ের ভিতরে লুকিয়ে আছে। এক পর্যায়ে ২৪শে জানুয়ারি স্থানীয় জনগণকে আসামি ধরিয়ে দেয়ার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ১০ হাজারে টাকা পুরস্কার ঘোষণা করলে তাদের সবাই অভিযানে অংশগ্রহণ করে। তাদের একটি দল ১০-১৫টি ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে লেকের ভিতরে আসামীকে খোঁজ করতে থাকে। আসামির আশ্রয়দাতা রঙ্গু চৌধুুরী ও তার স্ত্রীর কাছ থেকে কৌশলে সহযোগিতা নেয়া হয়। পরে দু’দিনের অভিযান শেষে পাহাড়ের একটি গুহা থেকে আসামি মনিরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় গোয়েন্দা পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে তার অপরাধের কথা স্বীকার করে। জানায়, আঁখির সঙ্গে তার ২-৩ বছরের পরিচয়, প্রেম ও বিয়ে হয়। ৬-৭ মাস আগে তাদের ডিভোর্স হয়। পরে আসামি জরুরি কথা আছে বলে তাকে ডেকে কাজি অফিসে নিয়ে যায় ও আবার বিয়ে করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। বিয়েতে রাজি না হওয়ায় ১৫ই জানুয়ারি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজধানীর চাঁনখারপুলের কাজী অফিসের বাথরুমে নিয়ে এসিড মেরে ঝলসে দেয়। পরে ছুরিকাঘাত করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ইন্সপেক্টর তপন চন্দ্র সাহা বলেন, গ্রেপ্তারের পর মনিরকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করা হয়। পরে আদালত ৯ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। গতকাল রিমান্ডের প্রথম দিনে মনির আরও জানায়, আঁখিকে রাস্তা থেকে তুলে কাজী অফিসের বাথরুমে নিয়েছিলাম। সেখানে ছুরি ও এসিড দেখিয়ে ফের বিয়ে করতে বলেছিলাম। কিন্তু আমার কথা মেনে নেয়নি। আঁখি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার ওপর এসিড সন্ত্রাসের প্রতিবাদে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও ইডেন কলেজের ছাত্রীরা আন্দোলন করছে।

ছাত্রলীগ-সহিংসতা: ২৪ ঘণ্টা পরও জ্ঞান ফেরেনি, জীবন এখন লাইফ সাপোর্টে

ছাত্রলীগ-সহিংসতা: ২৪ ঘণ্টা পরও জ্ঞান ফেরেনি, জীবন এখন লাইফ সাপোর্টে

কুপিয়ে আহত করার ২৪ ঘণ্টা পরও জ্ঞান ফেরেনি জীবনের। শুক্রবার রাতে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপের ক্যাডাররা জীবনকে এলোপাতাড়ি কোপায়। জীবনকে বর্তমানে রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

এদিকে, শুক্রবার ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফুয়াদ হাসান পল্লব এবং সাধারণ সম্পাদক সাকিব আল হাসান সুইম ’কোপানোর ঘটনাটিকে তুচ্ছ এবং সামান্য’ বললেও শনিবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ১০ কর্মীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে।

জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে জীবন কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে ক্যাম্পাসে আড্ডা দেন। এ সময় সভাপতি গ্রুপের সাউথ হোস্টেল ছাত্রলীগের কর্মীদের সঙ্গে জীবনের কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যার দিকে সাউথ হোস্টেলের কর্মীরা সংগঠিত হয়ে জীবনকে খুঁজতে থাকে। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে তারা জীবনকে ক্যাম্পাসে একা পেয়ে চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। জীবন মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও কোপানো অব্যাহত থাকে। জীবনকে কোপানোর সংবাদ শুনে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুইম এবং কলেজ শাখার সহ-সভাপতি রণির কর্মীরা তাকে কলেজের মূল ভবনের সামনে থেকে উদ্ধার করে। পরে তাকে শ্যামলীর কেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে।

তবে আহত জীবনকে নিয়ে চলে নানা নাটক। প্রথমদিকে তাকে কোপানোর ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলে। জীবনের অবস্থা খারাপ দেখে এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের চোখ ফাঁকি দিতে না পারায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপরও চলে নাটক। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় শ্যামলীর কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু জীবনের জ্ঞান না ফেরায় তাকে পরে এ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হয়। আবার ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি এটিকে একটি ‘তুচ্ছ ঘটনা’ বলায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষেও আশঙ্কা করছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের এক কর্মী জানান, ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে প্রতিদিন অস্ত্রের মহড়া চলে। প্রত্যেক গ্রুপই নিজ নিজ শক্তি বজায় রাখতে এবং ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারে অস্ত্রের মজুদ করছে এবং সাধারণ কর্মীদের ব্যবহার করছে। এ বিষয়ে মিডিয়ায় কয়েক দফায় সংবাদ প্রকাশের পরে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আর বলির শিকার হচ্ছে সাধারণ কর্মীরা।

শনিবার ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃতরা হলেন, ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ থেকে দক্ষিণ ছাত্রাবাসের সুমন(ব্রেট লি), রাজন, মনির, কাওসার, দক্ষিণায়ন ছাত্রাবাস থেকে জেমস, কামাল, মাহাবুব, আবদুল্লাহ, প্রশান্ত এবং আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ছাত্রাবাস থেকে রনি।

আদর (৩য় বর্ষ), অভি (২য় বর্ষ), রাহাত (২য় বর্ষ), কিরন (২য় বর্ষ), পলাশ (২য় বর্ষ), রাকিব (২য় বর্ষ), শুভ (২য় বর্ষ), পিয়ারুলের (২য় বর্ষ) সঙ্গে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক শেখ রাসেল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সম্প্রতি ঢাকা কলেজের এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য সংগঠন থেকে এদের বহিষ্কার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ‘উদাত্ত আহ্বান’ জানানো হয়, বহিষ্কৃত এবং ছাত্রলীগের সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতা নেই তাদের গ্রেফতার করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করার।

Friday, January 25, 2013

দিল্লিতে ছাত্রী খুন,উঠছে ধর্ষণের অভিযোগ

দিল্লিতে ছাত্রী খুন,উঠছে ধর্ষণের অভিযোগ


দিল্লির ফরিদাবাদে শুক্রবার এক কিশোরীর মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়। তবে মৃতদেহের শারীরিক পরীক্ষার পরই ধর্ষণের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ সূত্রে এও জানা গিয়েছে, তরুণীর দেহে বেশ কয়েকটি গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গলায় ও পেটে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। সে প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় ৩০ বছরের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে টিউশন পড়তে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হয়নি দ্বাদশ শ্রেণীর ওই ছাত্রীর। পুলিশ তার টিউশন ক্লাসে গিয়ে জানতে পারে, এক যুবক তাকে ডেকে নিয়ে যায়। ঘটনার বিস্তারিত তদন্তে শুরু করেছে পুলিশ।

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানী দিল্লির চলন্ত বাসে এক ছাত্রীর গণধর্ষণের ঘটনার পর থেকে শহরে মহিলাদের সুরক্ষা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঘটনার এক মাস কাটতে না কাটতেই ফের ধর্ষণের অভিযোগ উঠল রাজধানীতে। ফলে স্বভাবতই আতঙ্ক ছড়িয়েছে শহরবাসীর মধ্যে। সূত্র: জিনিউজ।

ডায়াবেটিসে কিডনির প্রতি যত্নবান হোন

ডায়াবেটিসে কিডনির প্রতি যত্নবান হোন


ডায়াবেটিসে কিডনির প্রতি যত্নবান হলে আপনাকে দিতে পারে দীর্ঘজীবন। মার্কিন গবেষকদের বরাত দিয়ে বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে।

আমেরিকার ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের চালানো এক গবেষণার ফলাফলের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, ডায়াবেটিসের কারণে কিডনির রোগে আক্রান্ত হয়ে অল্প বয়সে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি।

গবেষণায় ১০ বছর ধরে ১৫ হাজারেরও বেশি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ও ডায়াবেটিসমুক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর হার পর্যালোচনা করা হয়েছে। গবেষণা-বিষয়ক নিবন্ধটি ‘জার্নাল অব দ্য আমেরিকান সোসাইটি অব নেফ্রোলজি’তে প্রকাশিত হয়েছে।

নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়, গবেষণায় ডায়াবেটিসমুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ কিডনির রোগে আক্রান্ত বলে পাওয়া গেছে। ডায়াবেটিসে ভোগা রোগীদের মধ্যে কিডনিতে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তির হার ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ।

গবেষণায় দেখা গেছে, এক দশকের এই গবেষণা চলাকালে ডায়াবেটিস বা কিনডির জটিলতা নেই এমন ব্যক্তিদের মাত্র ৭ দশমিক ৭ শতাংশ মারা গেছে। এই মৃত্যুর হার ডায়াবেটিসে ভোগা (কিডনির সমস্যা নেই) ব্যক্তিদের ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। উভয় সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার ৩১ দশমিক ১ শতাংশ।

এই গবেষণার ফলাফল নিয়ে শঙ্কিত আমেরিকা। দেশটির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমেরিকার স্বাস্থ্য বিভাগ ডায়াবেটিসের কারণে সৃষ্ট কিডনির জটিলতা শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নিচ্ছে না।

দল এখন অনেক আত্মবিশ্বাসী: শাহরিয়ার

দল এখন অনেক আত্মবিশ্বাসী: শাহরিয়ার


৫০ বলে ৫৩ রান। আর আগের ম্যাচে ১০২ রানে অপরাজিত। শাহরিয়ার নাফীসকে এখন বিপিএলের আইডল বলা যেতেই পারে। নাফীসের ব্যাটে ভর দিয়ে আজ খুলনা নিজেদের ৫ম মাচে ৯ রানে জয় তুলেছে। পর পর দুই ম্যাচে নাফীসের ব্যাটে
চড়ে খুলনা জয়ের ধারায়।

ম্যাচ শেষে তাই নাফীসকে ঘীরেই সকলের আগ্রহ। যাকে কিনা জাতী দল থেকে বাদ রাখা হয়েছে। সেই নাফীস আজ তার খুলনা দল সম্পকে বলেন, “তিন ম্যাচে হেরে যাবার পর টানা দুই ম্যাচে জিতে আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। দল এখন অনেক
আত্মবিশ্বাসী। তিন ম্যাচে হারের পর জয় নিয়ে তো রীতিমতো সন্দেহ ছিল। এখন আমরা জানি আমরা কি পারি। আরো সাতটি ম্যাচ বাকি আছে। আশা করছি জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে সেমি ফাইনাল খেলতে পারব।”

বিপিএলে হারের স্বাদ পেল ঢাকা

বিপিএলে হারের স্বাদ পেল ঢাকা


ঘড়িতে সময় তখন পাঁচটা চার মিনিট। সিলেটের ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন মিলন ঢাকার অলরাউন্ডার সাকিবের বলে ছক্কা মারলে ঢাকার হার নিশ্চিত হয়ে যায়।

খুলনা স্টেডিয়ামের দক্ষিণ দিকে মুল ভবনের দিকে মাঠে বসা সিলেটের অন্য ক্রিকেটাররা মুহূর্তেই মাঠে দৌঁড়ে প্রবেশ করল। তাদের শারিরীক ভঙ্গি বলে দিচ্ছিল ঢাকাকে হারানোটা সিলেটের জন্য কত বড় প্রাপ্তি। ১৫৩ রানের টার্গেট স্পর্শ করতে আট বল হাতে রেখে সাত উইকেটে জয়! তারও আবার ঢাকার মতো দলের বিপক্ষে! আনন্দতো হবে।

প্রথম তিন ম্যাচে টানা টস জিতেছে ঢাকার মাশরাফি। তিন ম্যাচে জিতে আজ ৪র্থ ম্যাচে মুশফিকের সিলেটের বিপক্ষে খুলনার উইকেটে জয়ের দেখা পেল না ঢাকা।
বিপিএলে এই প্রথম ঢাকা হারের স্বাদ গ্রহণ করেছে।

আর জয়টা অভ্যাসে পরিণত করল মুশফিকের সিলেট রয়েলস। যৌথভাবে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকার পর্ব শেষ হল আজ। বোলার-ব্যাটিং কোনো বিভাগেই তারকা সমৃদ্ধ কাগজে কলমে শক্তিশালী দল
ঢাকাকে পাত্তা দেয়নি সিলেট রয়েলস।

পয়েন্ট টেবিলের কথা চিন্তা করলে আর পারফরমেন্স আমলে আনলে, প্রশ্ন উঠতে বাধ্য শক্তির বিচারে আসলে কোন দল এগিয়ে আছে? মাশারাফির ঢাকা নাকি মুশফিকুরের সিলেট? সেই প্রশ্নের উত্তর পাবার জন্য অবশ্য খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হলো না ক্রিকেটপ্রেমিদের। বিপিএলের দ্বিতীয় আসরের ১৩তম ম্যাচেই দেখা হয়ে গেল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দলের।

যতোটা কঠিন লড়াই হবে মনে হয়েছে ততোটা হল না। টস জিতে ঢাকা গ্লাডিয়েটরস আগেই ব্যাট হাতে তুলে নিলেও সিলেটের বোলারদের বিপক্ষে আহামরি কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। যে কারণে ২০ ওভারে তারকা সমৃদ্ধ ঢাকার নামের পাশে জমা হয়েছে আট উইকেটে ১৫২ রান! সাকিব, মাশরাফি, মোশারফ রুবেল, আশরাফুল, সাকলাইন সজিব কেউ সিলেটের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। বিশেষ করে সাকিব ৩.৪ ওভারে দেন ৪৩ রান!

নিজেদের সেরা প্রমাণের মিশনে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নিয়ে ঢাকারঅধিনায়ক মাশরাফি খুব একটা সুবিধা করতে পারলেন না। টস-এর সাফল্যটা ঢাকার ভাগ্যে জুটলেও বল হাতে উইকেট শিকারের আনন্দটা খুব দ্রুতই আদায় করেছে সিলেট। ইংল্যান্ডের ওপেনার লুক রাইটকে দ্রুত সাঁজঘরের পথ দেখিয়ে সিলেটের সাফল্যের পর্বটা শুরু করেন আরেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার ডার্ক ন্যানেস। আগের
ম্যাচে ৫১ রান করা রাইট এই ম্যাচে যোগ করলেন মাত্র পাঁচ রান।

শুরুতে উইকেট হারানোর ক্ষতিটা পুষিয়ে নিতে দ্বিতীয় উইকেটে মারমুখি স্টাইলে ব্যাটিং শুরু করেন মোহাম্মদ আশরাফুল ও এনামুল হক বিজয়। খুব বেশি মারমুখী না হলেও স্কোর বোর্ডে ঠিকই রান জমা করতে থাকেন দুই জনেই। কিন্তু রান তোলার গতিটা বাড়াতে গিয়ে এই জুটির অপমৃত্যু ডেকে আনলেন এনামুল। ক্যাচ তুলে বিদায় নেবার আগে করলেন ২৩ বলে ৩০ রান।

এনামুল ফিরে গেলেও অন্যপ্রান্তে লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন আশরাফুল। সঙ্গী হিসেবে পেলেন ইংল্যান্ডের ওয়াইজ শাহকে। তবে শাহ’র সঙ্গে জুটি জমাতে পারলেন না আশরাফুল। বাঁহাতি স্পিনার মমিনুল হককে ছক্কার হাঁকানোর পরের বলেই বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে জায়গা করে নেন অ্যাশ।

আশরাফুলকে হারানোর পর পরই ঢাকা হারিয়েছে ওয়াউজ শাহকে। এবার মাত্র ১০ রান করে আউট হন তিনি। দুই সেরা ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে যখন ঘুড়ে দাঁড়ানোর টার্গেট নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল ঢাকা ঠিক তখনই প্রতিপক্ষের পথে বাধা হয়ে দাড়ান আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী। ইংল্যান্ডের জোসুয়া কব ও বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে পরপর দুই ওভারে ফিরিয়ে দেন নবী। আর তাতেই ঢাকার বড় সংগ্রহের পথ বন্ধ হয়ে যায়।

ঢাকার তখন স্কোর ছয় উইকেটে ১১৩ রান। তবে শেষদিকে ইংল্যান্ডের ড্যারেন স্টিভেন মাঝারি আকারের বিধ্বংসী ইনিংসে আট উইকেটে ১৫৩ রান করতে সমর্থ হয় ঢাকা। কটি চার ও দুটিটি ছক্কায় ১৩ বলে ২৯ রান করে অপরাজিত থাকেন স্টিভেনস। সিলেটের পক্ষে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন ডার্ক ন্যানেস ও মোহাম্মদ নবী।

১৫৩ রানের টার্গেট নিয়ে যে সিলেট খুব একটা চিন্তা করেনি তা তো সিলেটের ব্যাটিং দেখেই বোঝা গেছে। তবে ওপেনার মাসাকাদজা দলের দুই রানে থমাসের বলে ক্যাচ দিলে শুরুতে একটা ধাক্কা খায় সিলেট। আর দ্বিতীয় উইকেটে দলীয় ১২৩ রানে আরন নিজের ১৮ রানে ওয়ান ডাউনে নামা স্টির্লিং সেই থমাসের বলে বোল্ড হলে মনে হয়েছিল আজ বুঝি ঢাকা টানা ৪র্থ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে।

কিন্তু তৃতীয় উইকেটে জুটিতে মমিনুল আর মুশফিক জুটি দলের স্কোর ১০২ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যোগ করলেন ৭৯ রান। তাতেই মূলত ঢাকার জয়ের প্রদীপ নিভে গেল। সাকলাইন সজিবের বলে ৩৫ বলে ৩৭ রানে মমিনুল ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিলেন। তখন সিলেটের টানা ৪র্থ জয় পেতে ৪৩ বলে সাত উইকেটে দরকার ৫১ রান। টি-২০ ম্যাচে যা কিনা ডাল-ভাতের মতোই বিষয়।

অন্য কোনো পরিস্থিতি হতে দেননি মুশফিক আর নাজমুল হোসেন মিলন। মুশফিক যখন ফিফটি পূরন করার পর সিলেট ১৭ ওভার শেষে ১৩১ রানে পা রেখেছে। ৭ উইকেটে ১৮ বলে ২২ রান দরকার। মামুলি একটি হিসাব যাকে বলে। ১৮.৪ ওভারে তিন উইকেটই জমা হয় ১৫৭ রান।

দুর্নীতির রাহুগ্রাসে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়- প্রয়োজন ছাড়া ভবন নির্মাণ গাড়ি কেনা, টেন্ডারে অনিয়ম

দুর্নীতির রাহুগ্রাসে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়- প্রয়োজন ছাড়া ভবন নির্মাণ গাড়ি কেনা, টেন্ডারে অনিয়ম


দুর্নীতির রাহুগ্রাসে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। প্রয়োজন ছাড়া ভবন নির্মাণ, গাড়ি কেনা, টেন্ডারে অনিয়মসহ নানা ক্ষেত্রে হচ্ছে দুর্নীতি। দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। কমে যাচ্ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা দুর্নীতির বিষয়ে শিক্ষক সমিতি প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও ইউজিসির কাছে অভিযোগ করেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বলেছেন, এসব অভিযোগের কোন প্রমাণ নেই। মনগড়া অভিযোগ করা হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া ভবন নির্মাণ, কেনাকাটা, ক্যাম্পাসে অডিটরিয়াম-ট্রেনিং সেন্টার ও ২৫০ শয্যার গেস্ট হাউজ নির্মাণ ও মানিকগঞ্জ, জামালপুর ও গোপালগঞ্জে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) আঞ্চলিক ভবন নির্মাণসহ মুদ্রণ কাজে কোটি কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। ২০১০ সালে কোন কারণ ছাড়াই বিভিন্ন প্রোগ্রামে ছাত্র ভর্তি বন্ধ করা হয়। ফলে ওই বছরই ছাত্র ভর্তির সংখ্যা ৯৬ ভাগ কমে যায়। পরে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অব্যাহত চাপে আবার এসএসসি, এইচএসসি, বিএ/বিএসএস, বিএডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রামে ছাত্রভর্তি চালু করা হয়। কিন্তু সময়মতো এসএসসি ও এইচএসসির বইতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংশোধন করার উদ্যোগ না নেয়ায় বছর শেষে তা সেভাবেই পুনঃমুদ্রিত হয়ে ছাত্রছাত্রীদের হাতে চলে যায়।
বাউবি একটি দেশব্যাপী প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়। এই প্রতিষ্ঠানের ১২টি আঞ্চলিক কেন্দ্র এবং ৮০টি স্থানীয় অফিস রয়েছে। সেগুলোতে কয়েক শ’ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বদলি হন। কিন্তু বর্তমান ভিসি বদলির সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে কোন কারণ ছাড়াই প্রায় এক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করেছেন। নিয়ম-নীতি বহির্ভূত এসব বদলির কারণে বাউবির কয়েক কোটি টাকা অপচয় হয়। এতে বাউবি প্রশাসন স্থবির এবং ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বাউবির পরিবহন স্বল্পতা দূর করতে যানবাহন ক্রয়ের জন্য চলতি বাজেটে দুই কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং গত বাজেটে প্রায় ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জন্য কোন যানবাহন কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তবে গত বছর নাভানার মোটরস থেকে ৫৬ লাখ টাকা দিয়ে দু’টি কাভার্ড ভ্যান কেনা হলেও পরে বিভিন্ন অজুহাতে সেগুলো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ফেরত দেয়া হয়। শিক্ষক সমিতির অভিযোগ বাউবি ক্যাম্পাসে ২৫০ শয্যার গেস্ট হাউজ নির্মাণে টেন্ডার প্রক্রিয়ার গোপনীয়তা ভঙ্গ করে ভিসি নিজ হাতে টেন্ডার সিডিউলে ভুল সংশোধনের নামে ঘষামাজা করে সর্বনিম্ন দরদাতা মেসার্স এনাম ট্রেডার্সের দর ১০ কোটি ৯৮ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকাকে ১২ কোটি ৯২ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা বানিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা, টেকনো ইন্টারন্যাশনালের দর ১১ কোটি ৮৮ লাখ ৩৬ হাজার ৭৮২ টাকাকে ১২ কোটি ৮৮ লাখ ৩৬ হাজার ৭৮২ টাকা বানিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজ পাইয়ে দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে।
ভিসির গাড়িবিলাস: ৫৬ লাখ টাকা দিয়ে মাত্র চার বছর আগে একটি নিশান পেট্রল গাড়ি কেনা হয়েছিল বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির জন্য। কিন্তু অধ্যাপক ড. আরআইএম আমিনুর রশীদ নিয়োগ পাওয়ার পরপর নিশান গাড়িটি রেখেই ৭৩ লাখ টাকা দিয়ে একটি এবং ২৫ লাখ টাকা দিয়ে প্রায় একই সময়ে আরেকটি টয়োটা গাড়ি কিনেন। টয়োটা গাড়িটি ভিসির স্ত্রী ব্যবহার করছেন। পরে ৭৩ লাখ টাকা মূল্যের গাড়িটি প্রো-ভিসিকে সাময়িক ব্যবহারের জন্য দিয়ে ভিসির জন্য প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে আরেকটি গাড়ি কেনার প্রক্রিয়া চলছে।
আঞ্চলিক কেন্দ্রের টেন্ডার নিয়েও অনিয়ম: বাউবির ঢাকা আঞ্চলিক কেন্দ্রের ঊর্ধ্বমুখী সমপ্রসারণের কাজে একটি প্রতিষ্ঠান মেসার্স স্টারলাইট সার্ভিসেস দর প্রদান করে। টেন্ডার প্রক্রিয়ার গোপনীয়তা ভঙ্গ করে ভুল সংশোধনের নামে তার সাত কোটি ১৭ লাখ ৫১ হাজার ৩৭৫ টাকার দরকে সাত কোটি ৬৪ লাখ ৮১ হাজার ৫০ টাকায় উন্নীত করে বাড়তি ৪৭ লাখ ২৯ হাজার ৬৭৫ টাকার হাতিয়ে নিয়েছেন কর্মকর্তারা।
অডিটরিয়াম-কাম ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণে দুর্নীতি: অডিটরিয়াম-কাম ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণের প্রাক্কলিত নির্ধারিত ১০ কোটি ৩১ লাখ ৪৪ হাজার টাকার স্থলে নিজস্ব ক্ষমতাবলে পিপিআর-২০০৮ এর অনুসরণ না করে মোট ১৯ কোটি ১৬ লাখ ৫৬ হাজার ২৮৯ টাকা বৃদ্ধি করে ব্যয় অনুমোদন করেছে কর্তৃপক্ষ। বাড়তি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া পরামর্শক নিয়োগ, কো-অর্ডিনেটিং অফিস নির্মাণ, স্বাধীনতা স্মারক ভাস্কর্য নির্মাণ, ক্যাম্পাসের নিচু জমি ভরাট, ভিসির রান্নাঘর বর্ধিতকরণসহ বিভিন্ন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য: এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আরআইএম আমিনুর রশিদ মানবজমিনকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তার কোন ভিত্তি নেই। যারা অভিযোগ করেছে তারা বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত করে চলছে। আমি সবসময় আইনের মধ্যে থেকে কাজ করছি। অতিরিক্ত গাড়ি কেনার বিষয়ে ভিসি বলেন, ভিসি হিসেবে আমি একটি গাড়ি পাই। আগে একটি গাড়ি ছিল এটা সত্য। ওই গাড়ি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়। তার পরিবারের সদস্যরা আইন মেনেই গাড়ি ব্যবহার করেন বলে জানান তিনি। ভিসি বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়ার পরই তারা আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলন আমার বিরুদ্ধে নয়, সরকারের বিরুদ্ধে। তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন কাজ নিয়ে আমি একটি পয়সাও দুর্নীতি করিনি। এসব কাজের জন্য বিভিন্ন কমিটি আছে। আমি শুধু কমিটিগুলোর কাজ অনুমোদন করি। এ বিষয়ে বাউবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. কেএম রেজানুর রহমান বলেছেন, ভিসির বিরুদ্ধে সব জায়গায় অভিযোগ করা হয়েছে। নানা ক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। তিনি বলেন, অবৈধভাবে রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি দিয়ে সর্বকনিষ্ঠ একজন কর্মকর্তাকে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দিয়েছেন।

বিশ্ব সেরা ব্র্যাক

বিশ্ব সেরা ব্র্যাক


সুইজারল্যান্ডের দ্য গ্লোবাল জার্নাল সাময়িকীর বিচারে বিশ্বের সেরা ১০০ এনজিও’র তালিকায় ব্র্যাক প্রথম স্থান লাভ করেছে। প্রভাব, উদ্ভাবন ও স্থায়িত্ব- এ তিন মানদণ্ডের ভিত্তিতে ৪৫০টি এনজিও’র মধ্যে ব্র্যাক তালিকার শীর্ষে স্থান করে নিয়েছে। জার্নালটি এ নিয়ে দ্বিতীয়বার এ তালিকা তৈরি করলো। ২০১২ সালের তালিকায় ব্র্যাকের অবস্থান ছিল চতুর্থ। এবার অক্সফাম, কেয়ার ও সেভ দ্য চিলড্রেনকে পেছনে ফেলে ব্র্যাক শীর্ষস্থান লাভ করেছে। এবারের ঘোষণায় বলা হয়, ব্র্যাকের বিশাল ব্যাপ্তি ও প্রভাব আমাদের মনে বিস্ময় জাগায়। প্রায় ১৩ কোটি জনগণ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এ সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। এ সংস্থা ১০ কোটি জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছে। বর্তমানে তার ১ লাখ ২ হাজার কর্মী রয়েছে। ৫ লাখ ঋণগ্রহীতার কাছে ব্র্যাক প্রায় ১০০০ কোটি ডলার ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করেছে। এ সংস্থা বর্তমানে ৪১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করছে। স্যার ফজলে হাসান আবেদ মুক্তিযুদ্ধের পর ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করেন। বিশ্বের সর্ববৃহৎ এ উন্নয়ন সংস্থাটি বর্তমানে এশিয়া, আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ১১টি দেশে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। দ্য গ্লোবাল জার্নাল-এর তালিকায় শীর্ষস্থান প্রাপ্তিতে স্যার ফজলে হাসান আবেদ বলেন, এ স্বীকৃতি দরিদ্র জনগণের জীবনমান উন্নয়নে আরও উদ্ভাবনী ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে ব্র্যাককে উৎসাহিত করবে। ব্র্যাক কর্মীদের কাজের নিষ্ঠা ও আত্মনিবেদনের ফলেই আজকের এ অবস্থানে উন্নীত হওয়া সম্ভব হয়েছে। আমি ব্র্যাক পরিবারের সকল সদস্যকে ধন্যবাদ জানাই।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ


পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ। ১৪৩৪ বছর আগে এই দিনে ১২ই রবিউল আউয়াল আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) জন্ম নেন। ৬৩ বছর পর একই দিনে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। তাই মুসলিম উম্মাহর জন্য এ দিনটি যেমন আনন্দের তেমনি শোকের। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য এরই মধ্যে ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে পৃথকভাবে বাণী দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
হযরত মুহাম্মদ (সা.) ইতিহাসের এক অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব। অন্য ধর্মাবলম্বী অনেকেই তাঁকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী বিখ্যাত পণ্ডিত মাইকেল এইচ হার্ট তার বহুল আলোচিত ‘দ্য হান্ড্রেড’ গ্রন্থে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে স্থান দিয়েছেন। সাহিত্যিক জর্জ বার্নার্ড শ বলেছেন, এই অশান্ত পৃথিবীতে তার মতো একজন মানুষের প্রয়োজন। তিনি বেঁচে থাকলে পৃথিবীজুড়ে সুখের সুবাতাস বইতো। তাঁর আগমনে যে বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল দুনিয়াজুড়ে তা বিস্তৃত হয়েছে। মহানবী (সা.)-কে বলা হয় সাইয়্যিদুল মুরসালিন। অর্থাৎ, সব নবী ও রাসুলের নেতা। তিনি নিখিল বিশ্বের নবী। তার জন্মের সময় আরব দেশ অশিক্ষা, অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও ঘোর তমসায় নিমজ্জিত ছিল। এ কারণে ওই সময়কে বলা হয় ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত বা অন্ধকারের যুগ’। ওই বর্বর যুগে পৈশাচিক স্বভাবের কালিমাতে মানুষের মানবিক গুণাবলির অপমৃত্যু ঘটেছিল। সে অবস্থা থেকে মানব জাতিকে মুক্তি দিতে মহান আল্লাহ হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে পাঠান। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনের সূরা আম্বিয়ার ১০৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি আপনাকে সারা বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছি।’ মহান আল্লাহ পুরো মানবজাতির জন্য সর্বাপেক্ষা কল্যাণকর, পরিপূর্ণ জীবন বিধান সংবলিত পবিত্রতম আসমানি কিতাব ‘আল কোরআন’ নাযিল করেন মহানবী (সা.)-র ওপর। প্রতি বছর ১২ই রবিউল আউয়ালকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে পালন করে সারা মুসলিম বিশ্ব।

ছেলের গলায় চাপাতি ধরে মাকে হত্যা

ছেলের গলায় চাপাতি ধরে মাকে হত্যা

 


সন্তানের গলায় চাপাতি ধরে মাকে হত্যা করে পালিয়ে গেল অতিথিবেশী চার ঘাতক। নিহতের নাম তাসলিমা আক্তার জেসমিন (৩৮)। গতকাল ভোরে রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন টালি অফিস গলির ২৯১/বি, তেতলা ভবনের দোতলা থেকে জেসমিনের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ বাসার দুই গৃহকর্মীকে আটক করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, চার খুনির মধ্যে একজনের নাম আশা। সে নিহত তাসলিমাকে আপা বলে ডাকতো। তার মাধ্যমেই বাকি তিন খুনি ওই বাসায় প্রবেশের সুযোগ পেয়েছিল। পরে শেষ রাতের দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় তাসলিমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ সময় তার আট বছর বয়সী ছেলে প্রিন্স দেখে ফেলে। পরে তার গলায় চাপাতি ধরে চুপ থাকতে বলে ঘাতকরা। হত্যা শেষে বাসার গুরুত্বপূর্ণ মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে তারা। নিহত জেসমিনের স্বামী এনামুল হক পারভেজ গত ছয় মাস ধরে ব্রাজিলে আছেন। হাজারীবাগ থানার এসআই জহিরুল ইসলাম বলেন, বুধবার রাত ১০টার দিকে ‘অতিথি’ বেশে দুই তরুণী ও দুই যুবক জেসমিনের বাসায় রাত কাটায়। পরে কোন এক সময়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। যাওয়ার আগে খুনিরা একটি লাল, হলুদ-সবুজ রঙের লেডিস চাদর ও দুই জোড়া পুরুষের রেক্সিনের স্যান্ডেল রেখে গেছে। ওই আলামতের সূত্র ধরে খুনিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির ক্রাইম সিন বিভাগ ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করেছে। ঘটনার রাতে বাসায় থাকা দুই গৃহকর্মী বৃষ্টি বেগম (২৩) ও কাজল বেগম (২২)কে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। নিহতের মেয়ে রুমানা আফরোজ শান্তা বাদী হয়ে কথিত ‘অতিথি’ আশা নামের এক তরুণী ও অজ্ঞাত তিনজনের বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় হত্যা মামলা করেছেন। বাসায় থাকা দুই গৃহকর্মী জানান, জেসমিনের এক ছেলে এক মেয়ে। মেয়ে শান্তা বিয়ের পর লালবাগে তার স্বামীর বাসায় থাকেন। জেসমিন তার ৮ বছরের ছেলে প্রিন্স ও দুই গৃহকর্মী বৃষ্টি ও কাজলকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় নিহতের পূর্বপরিচিত আশা তার বন্ধু পরিচয়ে আরেক তরুণী ও দুই যুবককে নিয়ে জেসমিনের বাসায় আসেন। আশা ও অপর তরুণী দু’জনে তাদের সঙ্গে আসা দু’যুবকের সঙ্গে জেসমিনের বাসায় গভীর রাতে বিয়ে করবেন বলে জানানো হয়। জেসমিন তার তিন কক্ষের বাসার একটিতে ওই চারজনকে ঘুমানোর ব্যবস্থা করেন। দুই গৃহকর্মী এক কক্ষে ও ছেলে প্রিন্সকে নিয়ে রাত ১২টার দিকে জেসমিন তার শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। প্রিন্সের চিৎকারে ভোরে গৃহকর্মীরা ঘুম থেকে জেগে দেখে জেসমিনের হাত-পা বাঁধা লাশ পড়ে আছে। গৃহকর্মীরা তাৎক্ষণিক বিষয়টি মুঠোফোনে লালবাগে স্বামীর বাড়িতে থাকা তার মেয়ে শান্তাকে জানায়।
শান্তা সাংবাদিকদের জানান, ভোরে ওই চার জন তার মা জেসমিনের ঘরে ঢুকে নগদ টাকা ও স্বর্ণ লুট করতে থাকে। এ সময় জেসমিন ও তার শিশুছেলে প্রিন্স জেগে যায়। তাৎক্ষণিক তারা প্রিন্সের গলায় চাপাতি ধরে বলে ‘চিৎকার করলে গলায় কোপ দিয়ে মেরে ফেলবো।’ ভয়ে প্রিন্স চুপচাপ থাকলেও জেসমিন তাদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা জেসমিনের হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর টাকা ও স্বর্ণ নিয়ে পালিয়ে যায়। হাজারীবাগ থানার ওসি মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, টাকা ও স্বর্ণ লুটের উদ্দেশেই পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে ঘাতকরা। তার ধারণা, টাকা ও স্বর্ণ লুটের সময় জেসমিন বাধা দেয়ায় দুর্বৃত্তরা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। ওসি ইকবাল আরও বলেন, খুনি হিসেবে অভিযুক্ত পূর্বপরিচিত আশা ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। প্রিন্সের খালা শামীমা বলেন, ভোর রাতে ওই চার ‘অতিথি’ তাদের কক্ষে ঢোকে এবং তার গলায় চাপাতি ধরে চিৎকার করতে নিষেধ করে। এরপর তার সামনে তার মায়ের পা বেঁধে গলা চেপে ধরে হত্যা করে। শিশুটি ভয়ে তখন লেপের নিচে মুখ ঢেকে ছিল। তিনি বলেন, ওই চার জন চলে গেলে তার ভাগ্নে পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা বৃষ্টি ও শিল্পীকে জাগিয়ে ঘটনাটি বলে। তখন রনি ও শিল্পী ঘটনা দেখে জেসমিনের মেয়ে রোমানা আফরোজ শান্তার স্বামী সুমনকে টেলিফোন করে সব জানায়। ওই ভবনের নিচতলার এক বাসিন্দা পুলিশকে জানিয়েছেন, সকাল ৮টার দিকে দুই নারীকে দোতলার বাসা থেকে বের হতে দেখেছেন। এসআই জহির বলেন, দোতলার সিঁড়ি ঘরের গ্রিল ভাঙা রয়েছে। ধারণা করছি, দুই ব্যক্তি রাতে ওই পথ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর দুই নারী বেরিয়ে যায়। তিনি বলেন, আশা নামের তরুণী আগেও ওই বাসায় এসেছিল। ময়না তদন্তের জন্য লাশ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Thursday, January 24, 2013

বিশ্বব্যাংককে প্রধানমন্ত্রীর আলটিমেটাম

বিশ্বব্যাংককে প্রধানমন্ত্রীর আলটিমেটাম


অর্থমন্ত্রীর পর এবার প্রধানমন্ত্রীও সময় বেঁধে দিলেন বিশ্বব্যাংককে। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, জানুয়ারির মধ্যে বিশ্বব্যাংক সিদ্ধান্ত না জানালে বিকল্প অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, আমরা তাদের কাছ থেকে ফাইনাল কথা চাই। না হলে কাজ শুরু করে দেবো। গতকাল দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে সামপ্রতিক রাশিয়া সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অভিজ্ঞতা বর্ণনা করলেও প্রশ্নোত্তরে উঠে আসে পদ্মা সেতু, জাতীয় নির্বাচন, ছাত্রলীগের সামপ্রতিক কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক ইস্যুসহ নানা বিষয়। দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় চলা সংবাদ সম্মেলনে অনেক প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে একজন সিনিয়র সম্পাদকের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের মেয়াদকালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের উদাহরণ দিয়েছেন। বলেছেন, অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন হয় বাংলাদেশেও সেভাবে হবে। আর নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলের আলোচনা থাকলে তাদের সংসদে যেতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হবে। তবে কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যান।
বৈশাখী টিভির সিইও মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল প্রশ্নোত্তর পর্বের শুরুতে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালত একজনের ফাঁসির রায় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে জানতে চান, রাশিয়া থেকে অস্ত্র ক্রয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কোন পরিবর্তন হয়েছে কিনা। এছাড়া, আওয়ামী লীগ এবং সরকারে মস্কোপন্থিদের প্রভাব বাড়ছে বলে আলোচনা আছে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি একেবারে স্পষ্ট। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়। পাল্টা প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, যে সব দেশ আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে তারা কি আমাদের বন্ধু হবে না? তিনি বলেন, আমরা কোন বলয়ে বিশ্বাস করি না। আমাদের একটি মাত্র বলয় আছে। আর সেটি বাংলাদেশ। জনগণের স্বার্থে যার যার সঙ্গে সম্পর্ক রাখা দরকার আমরা তা-ই করবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আগে আরও অনেক দেশ থেকে অস্ত্র কিনেছি। যে দেশ থেকে আমরা সহজভাবে পাই সে দেশ থেকেই তা ক্রয় করি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার মন্ত্রিসভায় সব পন্থি লোকই আছেন। আর আমরা সবাই তো একই পন্থার লোক। সেটি বাংলাদেশ। এপি’র প্রতিনিধি ফরিদ হোসেন প্রশ্ন করেছিলেন রাশিয়া থেকে সমরাস্ত্র ক্রয় চুক্তির সুদের হার নিয়ে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্টেট ক্রেডিট নেয়ার নজির এটিই প্রথম না। এর আগেও এ ধরনের ক্রয়চুক্তি করা হয়েছে। এমন চুক্তির আওতায় চীন থেকেও অস্ত্র আনা হয়েছিল। এটিএন নিউজের মুন্নী সাহার প্রশ্ন ছিল, রাশিয়া থেকে এর আগে মিগ-২৯ কেনার কারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। এবার অস্ত্র ক্রয় চুক্তির আগে সব প্রক্রিয়া সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে কিনা। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতি করি। তাই মামলা নিয়ে চিন্তা করি না। আমরা যখন মিগ কিনেছিলাম তখন সমালোচনা ছিল। আবার এই মিগ যখন আকাশে ওড়ে তখন আবার অনেকে বলে আমাদেরও মিগ আছে। এছাড়া, এই মিগ আমরা কিনেছিলাম একেবারে কম দামে। রাশিয়া কারখানায় এই বিমান তৈরিতে যে খরচ হয় তা-ই নিয়েছিল। একই সময়ে অন্য দেশের কাছে তারা আরও বেশি দামে ওই বিমান বিক্রি করেছে। তিনি বলেন, যারা এসব নিয়ে কথা বলে তারা চায় না সামরিক বাহিনী আধুনিক হোক। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় উপযুক্ত বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠুক। আমাদের শান্তিরক্ষী বাহিনী জাতিসংঘে কাজ করছে। তাদের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও সরঞ্জাম দরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার রাশিয়া থেকে অস্ত্র কেনার আগে চীন থেকে ট্যাংক আনা হলো। তখন তো কেউ কথা বলেনি। সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠলো না। যারা আমাদের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে তিনবার ভেটো দিলো তাদের কাছ থেকে অস্ত্র কিনলে প্রশ্ন ওঠে না কিন্তু যারা সাহায্য করেছে তাদের কাছ থেকে কিনলে প্রশ্ন ওঠে।
শেখ হাসিনা কারও নাম উল্লেখ না করে বলেন, সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় যেতে চাইবেন। তাদের ব্যবহার করবেন। কিন্তু তাদের শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এত অনীহা কেন?
নিউজটুডে’র সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ জানতে চান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ে চুক্তি করার আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কিনা। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার অস্ত্রবাজার সঙ্কুচিত হয়ে আসায় তারা বাংলাদেশের ওপর এই ঋণ চাপিয়েছে কিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ক্রয়ের ক্ষেত্রে অতীতে কেবিনেটে আলোচনা হয়নি। তবে ক্রয় সংক্রান্ত যে কমিটি হয় সেখানে কেবিনেটের প্রতিনিধি থাকেন। ওই কমিটি আলোচনা করেই ক্রয় সংক্রান্ত বিষয় চূড়ান্ত করেন। এসব বিষয়ে অতীতে আলোচনা হয়েছে এরকম একটি দৃষ্টান্ত দেখান?
এসময় রিয়াজ উদ্দিন বলেন, অতীতের খারাপ দৃষ্টান্ত দিয়ে তো লাভ নেই। অতীতে আলোচনা হয়নি, আপনি করেন।
ঋণের সুদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোটেও উচ্চ সুদ না। চীনের কাছ থেকেও এ ধরনের স্টেট ক্রেডিট নেয়া হয়েছিল। সেটির সুদও প্রায় একই রকম ছিল।
’৭১ টিভির প্রধান মোজাম্মেল বাবু বলেন, যারা ক্রয়চুক্তি নিয়ে সমালোচনা করেন তাদের অন্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এটি ষড়যন্ত্রও হতে পারে। তিনি জানতে চান পদ্মা সেতু নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা কি।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী মোজাম্মেল বাবুর বক্তব্য সমর্থন করে বলেন, পদ্মা সেতু- এটিও একটি ষড়যন্ত্র। এ ধরনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগের চুলচেরা বিশ্লেষণ করলে তো কিছুই করা যাবে না। তিনি বলেন, আমরা যে দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিল প্রকল্প করেছি। এর কাজ শুরুর পর কম লেখা হয়নি পত্র-পত্রিকায়।
পদ্মা সেতুর কাজ আমরা শুরু করবোই। কারণ আমরা জানি কোন অপরাধ করিনি। মাঝখানে একটি বছর সময় নষ্ট হলো।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ দল দুর্নীতি দমন কমিশনকে চিঠি দিলো। এই চিঠি দুদকে পৌঁছার আগেই একটি বিশেষ দৈনিকে হুবহু প্রকাশ হয়ে গেল। এর পেছনে আপনারা কোন উদ্দেশ্য দেখতে পান কিনা?
তিনি বলেন, সেতু ইনশাআল্লাহ হবে। বিকল্প ব্যবস্থাও আমাদের করা আছে। এর আগে এই সেতুর জন্য দেশবাসীর কাছে আহ্বান করেছিলাম। তখন অভূতপূর্ব সাড়াও পেয়েছিলাম।
সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া’র প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন রাশিয়া সরকারের সঙ্গে করা ঋণ চুক্তি পরিমাণে বিশাল কিনা। উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করতে যা যা করা দরকার তা-ই করবো। আমাদের সামরিক বাহিনী থাকবে-আর তা ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সর্দার হয়ে থাকবে তা তো হয় না। প্রশ্নকর্তা ড. ইউনূসের রাজনীতিতে আসার আগ্রহের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিলেন। এ বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের সভানেত্রী বলেন, বাংলাদেশ বহুদলীয় গণতন্ত্রের দেশ। কে রাজনীতি করবেন আর কে করবেন না- তা তো আমার দেখার বিষয় না। আমি বলবো-শত ফুল ফুটতে দাও।
সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বিরোধী দলের নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের উদ্ধতি দিয়ে বলেন, তিনি বলেছেন-কমিশন নেয়ার জন্য রাশিয়ার সঙ্গে অস্ত্রচুক্তি হয়েছে। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই চুক্তি অনুযায়ী স্টেট টু স্টেট লেনদেন হবে। এখানে মাঝপথে ধরার উপায় নেই। তবে যাদের কমিশন খাওয়ার অভ্যাস আছে তারা এ বিষয়ে ভাল বোঝে। সমকাল সম্পাদক গোলাম সরওয়ার প্রশ্ন করার সময় যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যার ফাঁসির রায় হয়েছে তিনি যদি কানাডা বা তুরস্কে চলে যান তাহলে তাকে আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। তাই এই ফাঁসি কার্যকরের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া, যারা দেশে আছে তাদের বিচার দ্রুত করতে হবে। তারা তো পালিয়ে যেতে পারবে না। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে অনেকে সন্দেহ, সংশয় প্রকাশ করেন। বিরোধী দল সংসদে যাচ্ছে না। তাদের সংসদে নেয়ার বিষয়ে কোন উদ্যোগ নেয়া হবে কিনা। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল সংসদে যাবে কিনা এটি তাদের বিষয়। আমরা যখন বিরোধী দলে ছিলাম তখন আমি তো কথা বলারই সুযোগ পেতাম না। উনি তো (বিরোধী নেত্রী) টানা কথা বলে যেতে পারেন। এত উদারভাবে সংসদ আগে কেউ চালায়নি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের সময়ে ৫৫০৯টি নির্বাচন হয়েছে। এ নির্বাচনে ৬৩১৯২ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। এত নির্বাচন হলো কিন্তু গণমাধ্যম ভাল করে একটি নিউজও করতে পারলো না। কারণ কোথাও কোন সমস্যা হয়নি। সমস্যা না হলে তো নিউজও হয় না। নির্বাচনে অনেক জায়গায় আমাদের প্রার্থী হেরে গেছে। আমরা কোন হস্তক্ষেপও করিনি।
সংসদীয় গণতন্ত্র যেসব দেশে আছে সেখানে যেভাবে নির্বাচন হয় আমাদের দেশেও সেভাবে হবে। আপনাদের মানসিকতা সেভাবে নিয়ে আসুন। নির্বাচনের বিষয়ে বিরোধী দলের বক্তব্য থাকলে তারা সংসদে আসুক। তিনি বলেন, যে যা-ই বলুক যথাসময়ে নির্বাচন হবে। সংবিধান অনুযায়ী আগামী বছরের ২৫শে জানুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন করতে হবে।
ছাত্রলীগের সামপ্রতিক নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেছিলেন ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার কতটুকু পূরণ হয়েছে এ প্রশ্নটিও ছিল তার।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রত্যেক অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করছি। ক্ষেত্রবিশেষে অঙ্গীকারের চেয়ে বেশি কাজ করেছি।
তিনি বলেন, ছাত্রলীগের নামে যারা এসব করছে তারা ছাত্রলীগে ঢোকার জন্য আবেদন করেছে। তাদের নেয়া হয়নি। এমন ছেলেরা এসব করছে। এছাড়া, এমন না যে আমরা কোলে তুলে তাদের আদর করছি। যেখানেই যা ঘটছে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমাদের স্পষ্ট নীতি- দুষ্ট গুরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভাল। আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগ এত দুর্বল না যে তাদের দলে নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, আপনারা ২০০১ সালে যে সব ঘটনা ঘটেছে, যেভাবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অত্যাচার-নির্যাতন করা হয়েছে তার সব ছবি কি ছাপতে পেরেছেন? তখন তো অনেকে ছাত্রদল-শিবিরকে আহ্লাদ করেছে। আমরা গণমাধ্যমকে স্বাধীনতা দিয়েছি। স্বাধীনতা ভাল। তবে এই স্বাধীনতার সঙ্গে সামাজিক দায়িত্বও তো থাকা উচিত। মিথ্যা সংবাদের জন্য বিবিসি প্রধান পদত্যাগ করেছেন। আমাদের দেশেও তো অনেক মিথ্যা নিউজ হয়। কারও কি পদত্যাগের নজির আছে? সেই গাটস কি কারও আছে? এখন আমাদের অনেকে সবক দেন শুনি। তার আগে আয়নায় নিজেদের চেহারাও তো একটু দেখা উচিত। জনকণ্ঠের সম্পাদক আতিকুল্লাহ খানের সরাসরি প্রশ্ন ছিল আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিতবে কিনা। প্রধানমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, জিতবে না কেন? জনগণ ভোট দিলে জিতবে। না দিলে জিতবে না।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তার রাশিয়া সফরকে সব দিক দিয়ে সফল বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে বন্ধুত্বের যে বন্ধন তৈরি হলো তাতে দীর্ঘমেয়াদি সুফল ভোগ করবেন দেশবাসী। এই বন্ধুত্ব চিরস্থায়ী রূপ নেবে। রাশিয়ার সমর্থনের কারণেই মুক্তিযুদ্ধে বিজয় আরও সহজ হয়েছিল। রাশিয়া আমাদের পরম বন্ধু। দুর্দিনে তারাও আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ করেছে। তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন সংক্রান্ত দু’টি চুক্তি হয়েছে। এর একটি কেন্দ্র স্থাপনে প্রস্তুতিমূলক কাজের অর্থায়নের জন্য ৫০০ মিলিয়ন ডলার ঋণচুক্তি হয়েছে। কিন্তু পারমাণবিক বিদ্যুৎ নিয়ে অনেকের ভয়ও আছে। সেই ভয় দূর করার জন্য আমরা তথ্য কেন্দ্র চালুর ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পারমাণবিক বর্জ্য রাশিয়া নিয়ে যাবে। এটিতে থাকবে ৫ স্তরের নিরাপত্তা।

Wednesday, January 23, 2013

অপহরণের পর হোটেল কক্ষে ব্যবসায়ীর লাশ

অপহরণের পর হোটেল কক্ষে ব্যবসায়ীর লাশ


প্রথমে অপহরণ। তারপর ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি। ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাণভিক্ষা প্রার্থনা। শেষে তিন দিন পর রাজধানীর এক আবাসিক হোটেল থেকে হাত-পা বাঁধা অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা চান মিয়া (৩৮) নামের এক ব্যবসায়ীর। তিনি হোটেল ও জমির ব্যবসা করতেন। গতকাল বিকাল চারটায় বড় মগবাজার হোটেল আল-আকসার ৩৮৬ নম্বর রুমের দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ময়না তদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে রমনা থানা পুলিশ এর মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে তিন জনকে।
নিহত চান মিয়ার বাড়ি রাজধানীর পাশে আশুলিয়া এলাকায়। সেখানে তার দু’টি হোটেল আছে। পাশাপাশি জমির ব্যবসা করেন। গত ১৯শে জানুয়ারি জমির দলিল করার জন্য আশুলিয়া থেকে ঢাকায় আসেন। এরপর থেকেই তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। নিহতের স্ত্রী ডলি বেগম ২০শে জানুয়ারি রমনা থানায় একটি জিডি করেন। নিহতের ভাগ্নিজামাই মিন্টু বলেন, চান মিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার আশঙ্কা জমিজমা ও হোটেল ব্যবসার বিরোধ নিয়ে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা অপহরণ করে হত্যা করেছে তাকে। হোটেল সূত্র জানায়, ১৯শে জানুয়ারি চান মিয়া হোটেল রুম ভাড়া নিয়েছিলেন। তিনি একাই ছিলেন ওই রুমে। তবে তার রুমে আরও কোন লোকজন আসা-যাওয়া করেছে কিনা তা জানতে পারেনি তারা। বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। গতকাল দুপুরের পর থেকেই রুম থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে হোটেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্দেহ হয়। তারা পুলিশকে খবর দিলে রুমের তালা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে তারা। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সিআইডি ও ডিবি পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার মোবাইল ফোন কলের সূত্র ধরে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যা রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিহতের স্বজনরা জানান, চান মিয়াকে অপহরণ করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল সন্ত্রাসীরা। তাদের দাবি মেটাতে গিয়ে দু’দফায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছিল। ২০শে জানুয়ারি পোস্ট অফিসের মাধ্যমে ৩০ হাজার ও ২১শে জানুয়ারি বিকাশ-এর মাধ্যমে এক লাখ টাকা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ওরা চান মিয়াকে বাঁচতে দেয়নি। শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মুখে গেঞ্জি গোঁজা ছিল। চোখ ও মুখে আঘাতের জখম ফোলা ছিল। রমনা থানার ওসি মো. শাহ আলম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ৩ জন হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। বলেছে, তাদের বসের নির্দেশে এ হত্যাকাণ্ড। তবে কি কারণে হত্যা করেছে সে বিষয়ে মুখ খোলেনি।

‘ফারুককে পেটানোর কারণেই হারুনকে পদক দেয়া হয়েছে’

‘ফারুককে পেটানোর কারণেই হারুনকে পদক দেয়া হয়েছে’

 


বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুককে পেটানোর কারণেই লালবাগের উপ-কমিশনার হারুন-অর-রশীদকে ২০১৩ সালের পুলিশ পদকে ভূষিত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। গতকাল দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগ টেলিকম ভবন অডিটরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওইদিন পুলিশের ওপর নির্দেশ ছিল রাজপথে কোন ধরনের জনসমাবেশ যেন না করতে দেয়া হয়। কারণ তারা সমাবেশের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছিল। ডিসি হারুন নিজের জীবন বাজি রেখে সেদিন ফারুকের নেতৃত্বে রাজপথের বিশৃঙ্খলা রুখে দিয়েছিলেন। চিফ হুইপ ফারুককে পেটানোর ঘটনা ২০১১ সালের। তবে তাকে ২০১২ সালের কার্যক্রম বিবেচনায় ২০১৩ সালে পুলিশ পদক দেয়া হলো এমন জবাবে কোন সদুত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, ২০১২ সালে তার অনেক উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম রয়েছে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শামসুল হক টুকু, পুলিশ মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার ও ডিএমপি কমিশনার বেনজির আহম্মেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Monday, January 21, 2013

আবুল কালাম আযাদের ফাঁসির আদেশ

আবুল কালাম আযাদের ফাঁসির আদেশ


স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মাওলানা আবুল কালাম আযাদের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে সাতটি প্রমাণিত হওয়ায় এ আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। মাওলানা আযাদ বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

সোমবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার রায় পাঠ শুরু হয়। ১১২ পৃষ্ঠার ৩৩টি অনুচ্ছেদে বিভক্ত রায়টির সারসংক্ষেপ পাঠ করেন ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহিন।

স্বাধীনতার ৪১ বছর পর কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার এই প্রথম রায় ঘোষণা হলো।

সোমবার সকাল পৌনে ১১টায় কোর্ট বসে। ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীন আদালত শুরুর আগেই সবার সহযোগিতা কামনা করেন। জনাকীর্ণ আদালতকক্ষে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান রায় পাঠ করেন। তার সঙ্গে ছিলেন অপর দুই সদস্য। ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থান সংকুলান না হওয়ায় আজকের আদালত বসে ট্রাইব্যুনাল-১ এ।

২৬ ডিসেম্বর এ মামলায় উভয়পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়। মামলায় আইনি পয়েন্টে যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী। এরপর আসামিরপক্ষের আইনজীবী আবদুশ শুকুর খান তার যুক্তি উপস্থাপন শেষ করলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলার রায় যেকোনো দিন দেয়া হবে মর্মে বিএভি’তে রেখে দেন।

মাওলানা আযাদের পরিচয়: নাম মাওলানা আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু, পিতার নাম মৃত আবদুস সালাম মিয়া, মায়ের নাম মৃত মাগফুরা খাতুন।
স্থায় ঠিকানা: বড়খাড়দিয়া (ছয়আনি), থানা সালথা, জেলা ফরিদপুর। বর্তমান ঠিকানা: আযাদ ভিলা ২৭৯/৬ চানপাড়া, উত্তরখান, ঢাকা।

১৯৪৭ সালের ৫ মার্চ ফরিদপুরের বড়খাড়দিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবুল কালাম আযাদ। তিনি ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজে লেখাপড়া করেছেন।

গত বছরের ৩ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর থেকে তিনি পলাতক।

তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো: আযাদের বিরুদ্ধে ছয় ধরনের আটটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে রাজাকার বাহিনী গঠনের আগ পর্যন্ত আযাদ পাকিস্তানি সেনাদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেন।

পাকিস্তানি হানাদারদের সঙ্গে মিলে আযাদ স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় ও স্বাধীনতাপক্ষের বাঙালি জনগোষ্ঠীর ওপর নৃশংস নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তার বিরুদ্ধে আনা আট অভিযোগের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও অষ্টম অভিযোগে মুক্তিযুদ্ধকালে অপহরণ, আটকে রাখা ও নির্যাতনের কথা বলা হয়েছে। তৃতীয়, চতুর্থ ও ষষ্ঠ অভিযোগ হত্যার, পঞ্চমটি ধর্ষণ আর সপ্তম অভিযোগ হলো গণহত্যার।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে সকাল ১০টার দিকে আযাদ ও তার সহযোগীরা ফরিদপুর শহরের খাবাশপুরের রণজিৎনাথ ওরফে বাবুনাথকে ধরে নির্যাতন করা হয়।
তবে গভীর রাতে রণজিৎ জানালা ভেঙে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগ, ১৯৭১ সালের ২৬ জুলাই সকাল ১১টার দিকে আলফাডাঙ্গা থেকে ধরে আনা আবু ইউসুফকে ফরিদপুর স্টেডিয়ামে আটকে রেখে আযাদ অমানবিক নির্যাতন করেন।

অষ্টম অভিযোগ, ১৯৭১ সালের ১৮ মে সকাল ১০টার দিকে আযাদ সাত-আটজন রাজাকার সদস্যকে নিয়ে সালথা থানার উজিরপুর বাজারপাড়া গ্রাম থেকে হিন্দু এক তরুণীকে অপহরণ করে খাড়দিয়া গ্রামের চান কাজীর বাড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করেন। সাত-আট দিন পর মুক্তি পান ওই তরুণী।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ১৪ মে আযাদ ১০-১২ জন রাজাকার সদস্যসহ বোয়ালমারী থানার কলারন গ্রামের সুধাংশু মোহন রায়কে গুলি করে হত্যা করেন। এ সময় সুধাংশুর বড় ছেলে মনিময় রায় গুলিতে গুরুতর আহত হন।

চতুর্থ অভিযোগ হচ্ছে, ১৬ মে বেলা ৩টার দিকে আযাদ ১০-১২ জন রাজাকার সদস্যকে নিয়ে সালথা থানার (সাবেক নগরকান্দা) পুরুরা নমপাড়া গ্রামে যান এবং মাধবচন্দ্র বিশ্বাসকে গুলি করে হত্যা করেন।

৩ জুন আযাদের নেতৃত্বে ১০-১২ জন রাজাকার সদস্য সালথার ফুলবাড়িয়া গ্রামে হিন্দুপাড়ায় লুটপাট চালায়। সেখানে তারা চিত্তরঞ্জন দাসকে গুলি করে হত্যা করে বলে ষষ্ঠ অভিযোগে বলা হয়।

পঞ্চম অভিযোগ হচ্ছে, একাত্তরের ৮ জুন দুপুর ১২টার দিকে আযাদ রাজাকার সদস্যদের নিয়ে বোয়ালমারী থানার নতিবদিয়া গ্রামের এক হিন্দু বাড়িতে হামলা চালান। আযাদ ও তার সহযোগীরা ওই বাড়ির দুই নারীকে ধর্ষণ করেন।

সপ্তম অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের ১৭ মে রাজাকার বাহিনীর ৩০-৩৫ সদস্যকে নিয়ে আযাদ বোয়ালমারী থানার হাসামদিয়া গ্রামের হিন্দুপাড়ায় লুটপাট চালান এবং ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন।

পরে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে শরৎচন্দ্র পোদ্দার, সুরেশ পোদ্দার, শ্যামাপদ পোদ্দার, যতীন্দ্র মোহন সাহা, নীল রতন সমাদ্দার, সুবল কয়াল ও মল্লিক চক্রবর্তীকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।

এ মামলায় আযাদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ২২ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এসব সাক্ষীকে রাষ্ট্র নিয়োগ দেয়া আইনজীবী আবদুশ শুকুর খান জেরা করেছেন।

আসামিপক্ষে কোনো সাক্ষী না থাকায় এ মামলার কার্যক্রম অতিদ্রুত শেষ হয়েছে।

গত বছরের ২২ মার্চ চিফ প্রসিকিউটরের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারের আবেদন করা হয়। এর প্রেক্ষিতে ৩ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে তখন থেকে তিনি পলাতক।

গত ৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল আবুল কালাম আযাদের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরুর আদেশ দিয়ে তার পক্ষে আইনি লড়াই করতে সরকারের খরচে মো. আবদুশ শুকুর খানকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

এরপর তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কয়েকদফা শুনানি শেষে গত বছরের ৪ নভেম্বর আযাদের বিরুদ্ধে আটটি সুনির্দিষ্ট ঘটনায় অভিযোগ গঠন করা হয়। এর আগে প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে ১০টি ঘটনায় ২২টি অভিযোগের ভিত্তিতে মোট ৪৪৮ পৃষ্ঠার অভিযোগ দাখিল করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু বলেন, “আমারা গভীর প্রত্যাশা নিয়ে অধীর আগ্রহ ভরে বসেছিলাম। আমাদের প্রত্যয়দীপ্ত বিশ্বাস আগামীকাল মাওলানা আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত রায় ঘোষণা করা হবে।”

এ বিষয়ে মামলার দায়িত্বেরত প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান বলে, “মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কুখ্যাত রাজাকার মাওলানা আবুল কালাম আযাদের রায় ঘোষণা করা হবে।”

২২ ডিসেম্বর থেকে আবুল কালাম আযাদের মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। উভয়পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলে এ মামলার রায়ের জন্য নির্দিষ্ট দিন ধার্য না করে সিএভিতে রেখে দেন।

৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল আবুল কালাম আযাদের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরুর আদেশ দিয়ে তার পক্ষে আইনি লড়াই করতে সরকারের খরচে মো. আবদুশ শুকুর খানকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেয়।

গত ১১ অক্টোবর এ মামলার নথিপত্র (ডকুমেন্ট) ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে বুঝে নেন। ৯ সেপ্টেম্বর বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ২৬ জুলাই তদন্ত সংস্থা বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে তদন্তকাজ শেষ করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেয়। এর আগে গত ৩ এপ্রিল বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর থেকে তিনি পলাতক। পরে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ডেইলি স্টার ও জনকণ্ঠ পত্রিকায় তাকে আদালতে হাজির হওয়ার হুলিয়া জারি করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন ট্রাইব্যুনাল।

ওডিআই র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে উঠল ভারত

ওডিআই র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে উঠল ভারত


মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে আবারো র্যাং কিংয়ের শীর্ষে ফিরল ভারতীয় ক্রিকেট দল। ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে তার নেতৃত্বেই টেস্ট র্যাং কিংয়ের শীর্ষে উঠেছিল ভারত। একই নেতার হাত ধরে এবার ওডিআই র্যাং কিংয়েরও শীর্ষে উঠল তারা।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলতি ওডিআই সিরিজের তৃতীয়টিতে ধোনির নিজের শহর রাঁচিতে সাত উইকেটের জয়ের আগে কোচিতে ১২৭ রানের জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ওডিআই র্যাং কিংয়ে ১১৯ পয়েন্ট অর্জন করে। র্যাং কিংয়ের দুই নম্বর স্থানে নেমে যাওয়া ইংল্যান্ডের পয়েন্ট ১১৮।

সিরিজ শুরুর আগেও দুই দলের মধ্যে র্যাং কিংয়ের শীর্ষে ওঠার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছিল। ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজ শুরুর আগে দক্ষিণ আফ্রিকানরা ছিল শীর্ষে। দুই নম্বর স্থানে থাকা বৃটিশদের পেছনে তিন নম্বরে ছিল ভারত।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে রাজকোটে ভারতকে হারিয়ে ওডিআই র্যাং কিংয়ের শীর্ষে ওঠে ইংল্যান্ড। তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকানদের পরাজয়ের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টানা দুটো জয়ে ভারত উঠে যায় শীর্ষে।

উল্লেখ্য যে, শ্রীলংকার মাটিতে ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত তিনজাতি টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে কিছুদিনের জন্য ওডিআই রর্যাং কিংয়ের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল ভারত। ধোনিদের সমর্থকরা চাইছেন, এবার যেন এই স্থানটা কিছুদিনের জন্য তাদের দখলে থাকে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

অভিনব ছিনতাই

অভিনব ছিনতাই

 

ছোরা নয়, পিস্তল নয়, এবার ছিনতাইকারীদের হাতে সেপ্র মেশিন। ময়লা ছিটিয়ে অভিনব কৌশলে ছিনতাই করছে। ঘটনাটি গত রোববারের। সকালে রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা শাহবাগ বারডেমের সামনে গাড়ি থেকে নামেন এক ভদ্রমহিলা। হাসপাতালে ঢুকতেই কে বা কারা তার চোখে-মুখে দুর্গন্ধযুক্ত মল সেপ্র করে। উৎকট গন্ধে বিব্রত হয়ে পড়েন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে ছদ্মবেশী কয়েকজন মহিলা তার সহায়তায় এগিয়ে আসেন। হাতে থাকা তার ব্যাগ, মোবাইল ফোন ও টাকা পয়সা কৌশলে নিজেদের হেফাজতে রেখে বারডেমের বাথরুমে নিয়ে যান। ময়লা ধুয়ে মুছে বের হয়েই মহিলা দেখতে পান-ওরা আসলে সাহায্যকারী নয়, ছিনতাইকারী। সবকিছু নিয়ে চম্পট দিয়েছে। বারডেমের সিকিউরিটি বিভাগের সিনিয়র সুপারভাইজার মো. মানিক মোল্লা বলেন, এটি ছিনতাইকারীদের কৌশল। যাকে যেভাবে কাবু করতে পারে, সেভাবেই মালামাল লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে পকেটমার, প্রতারক ও ছিনতাইকারীদের হাত থেকে রোগীদের বাঁচাতে প্রতিদিনই মাইকিং করা হচ্ছে। যাতে অপরিচিত কারও সহায়তা নিয়ে মোবাইল ফোন ও টাকা পয়সা না খোয়ান। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রমতে, শাহবাগের ৫টি পয়েন্টে নিয়মিত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। এগুলো হচ্ছে- শাহবাগ থানার বিপরীত পাশে জাদুঘরের সামনে, বিএসএমএমইউ হাসপাতাল, বারডেম, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট ও শাহবাগ মোড়ে। প্রতিদিনই এসব পয়েন্টে পকেটমার ও ছিনতাইকারীদের টার্গেটে পড়ছেন পথচারী, যাত্রী ও রোগীরা। এমনকি হাসাপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরাও ছিনতাইকারীদের দাপটে কোনঠাসা। বিএসএমএমইউ হাসপাতালের এক নিরাপত্তাকর্মী বলেন, শাহবাগের ছিনতাই ও পকেটমার চক্র পুলিশের চেনা। এরা রাত কাটায় বিভিন্ন পার্কে। ঘুরে বেড়ায় পুলিশের গাড়িতে। ভোর হওয়ার আগ থেকেই ওঁতপেতে অপেক্ষা করে বিভিন্ন পয়েন্টে। কাউকে একা পেলেই ছুরি কিংবা পিস্তলের মুখে মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। বারডেমের কর্মচারীরা জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বারডেমের ক্যাশ কালেক্টর মৌসুমী আজিমপুর থেকে রিকশাযোগে হাসপাতালে আসছিলেন। পথে জাদুঘরের সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে পেছন দিক থেকে একটি প্রাইভেটকার রিকশার গতিরোধ করে। ছোঁ মেরে ভ্যানিটি ব্যাগ কেড়ে নেয়। তিনি চিৎকার দেয়ার আগেই ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। শাহবাগ থানা সূত্রমতে, গত দুই সপ্তাহে শাহবাগ থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় ৩৫-৪০টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রেকর্ড করা হয়েছে ১৮টি ছিনতাই ও চুরির ঘটনা। ভুক্তভোগী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর শিক্ষার্থী সোহেল মাহমুদ বলেন, গত বৃহস্পতিবার সকালে ফুলার রোডে তিন ছিনতাইকারী আমার মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ আমলে নেয়নি। থানা থেকে ডিউটি অফিসার বলে দেন, ভাই আপনাকে সত্য পরামর্শ দিচ্ছি। মামলা কিংবা জিডি করতে গেলে আরও এক শ’ টাকা নষ্ট হবে। কিন্তু ওগুলো কখনই উদ্ধার হবে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এসব অভিযোগ সত্য নয়। ময়লা সেপ্র করে ছিনতাইয়ের ঘটনায় কেউ অভিযোগ করতে আসেনি। তবে গত সপ্তাহে দু-একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও এখন ঘটছে না। শাহবাগের এক ফুল ব্যবসায়ী বলেন, বেশির ভাগ ছিনতাইকারী নেশাখোর। তারা পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে সারা রাত কাটায় ছবির হাট ও রমনা পার্কে। ভোর বেলায় ছিনতাই করতে নামে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গ্রুপ মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার নিয়ে ছিনতাই করতে নামে। এদের সঙ্গে প্রভাবশালী লোকজনের যোগাযোগ রয়েছে। এছাড়া একাধিক প্রতারক চক্র রয়েছে, যারা ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন সংগঠনের পরিচয়পত্র পকেটে রেখে চুরি করতে নামে। ধরা পড়লেই ওই পরিচয়পত্র বের করে সাধু সেজে বাঁচার চেষ্টা করে। গতকাল দুপুরে সেগুন বাগিচা রিপোর্টার্স ইউনিটি সংলগ্ন এলাকায় এমন কৌশলে পার্কিং করা গাড়ির গ্লাস চুরি করতে গিয়ে জনতার গণপিটুনি খেয়েছে সুমন ও রকিব নামে দু’জন। পরে পল্টন থানা ছাত্রলীগের কুপন দেখিয়ে ছাড়া পেয়ে যায় তারা।

‘ও আমার ওপর পশুর মতো হামলে পড়ে’

‘ও আমার ওপর পশুর মতো হামলে পড়ে’

 ‘ও আমার ওপর পশুর মতো হামলে পড়ে। কত অনুনয় করে বললাম, ছেড়ে দিন। কোন কথাই শুনলো না। পশুর মতো আমার মুখে কাপড় বেঁধে নির্যাতন করে। এর আগে ধারালো ছুরি ধরে রাখে গলায়। এতে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি’-এ কথাগুলো বলে বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন সিলেটের নির্যাতিতা তরুণীটি। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নারী নির্যাতিতা কেন্দ্রে তিনি যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে এসব কথা জানান। তরুণীটির অবস্থা ভালো নয়। ঘটনার প্রায় ৮ ঘণ্টা পর তার রক্তক্ষরণ বন্ধ হলেও নির্যাতনের নির্মম দৃশ্য মনে হলেই আঁতকে উঠে। ফুলের মতো এই তরুণীর সঙ্গে নির্মম ও নিষ্ঠুর আচরণ করেছে সিলেটের এক পাষণ্ড। ঘুমন্ত অবস্থায় মুখে কাপড় বেঁধে তার ওপর চালিয়েছে অমানুষিক নির্যাতন। আর এই নির্যাতনে তছনছ হয়ে গেছে একটি জীবন। স্বাভাবিক হতে পারছেন না মেয়েটি। সিলেট শহরতলীর দাউদপুরের মাঝপাড়া গ্রামে শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রায় ১০ ঘণ্টা পর ওই মেয়েকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার আগে বাড়িতে রেখে আপসে বিষয়টির মীমাংসা চালানোর চেষ্টা হয়। কিন্তু স্থানীয়রা কোন মীমাংসা করতে পারেন নি। তার বয়স পনেরো। পিতা রিকশা চালক। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে ওই তরুণী ৩য়। মাঝপাড়া গ্রামের হাওরের পাশে নতুন বাড়ি করেছেন পিতা। প্রতিদিনের মতো ওইদিনও বাড়ি থেকে সকালেই রিকশা নিয়ে বের হয়ে যান পিতা। পরিবারের অন্য সদস্যরাও যে যার কাজে চলে যান। বাড়িতে ছিল তরুণীটি ও তার ভাবী। ভাবী গৃহস্থালি কাজে বাড়ি থেকে প্রায় ৩শ’ ফুট দূরে জমিতে কাজ করছিলেন। আর তরুণীটি দরোজা খোলা রেখে ঘরের মধ্যে ঘুমাচ্ছিলো। এমন সময় ফাঁকা বাড়িতে ঢুকে মাঝপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম শামীম। শামীমের বয়স ২৪। সিলেট নগরীর লামাবাজারের ইউসিবি ব্যাংকের গার্ড। সে একই গ্রামের রিকব আলীর ছেলে। শামীম বাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত তরুণীকে একা পেয়ে মুখ বেঁধে ধর্ষণ করে। ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর তরুণীটির ভাবী ও তার বড় বোন বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় তাদের দেখে ঘরের ভেতর থেকে দৌড়ে পালাতে থাকে শামীম। এ দৃশ্য দেখে ভাবী ও বোন দৌড়ে ঘরে ঢুকে দেখেন তরুণীটির দেহ পড়ে আছে খাটের উপর। গোপনাঙ্গ দিয়ে রক্ত ঝরছে। তার মুখ বাঁধা। অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে সে। এ দৃশ্য দেখে চিৎকার শুরু করে ভাবী ও বোন। তারা মুখের বাঁধন খুলে দিয়ে তার মাথায় পানি দেন। প্রায় ৫ মিনিট পর জ্ঞান ফিরে আসে তার। এরপর সে জানায়, শামীমের নির্যাতনের কথা। এদিকে, ঘটনার পর থেকে বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলো তরুণীটি। বিষয়টি গোটা গ্রাম জানাজানি হলে তোলপাড় শুরু হয়। তরুণীর বড় বোনের স্বামী জানান, পশুও পশুর ওপর এরকম আচরণ করে না। হাসপাতালে ভর্তি করা পর্যন্ত তরুণীটির অবিরাম রক্ত ঝরছিলো বলে জানান তিনি। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে শেষ করতে দাউদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম আলম, স্থানীয় মেম্বার সেলিম আহমদ সহ এলাকার লোকজন চেষ্টা চালান। তারা সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সালিশি বৈঠক ডাকেন। এবং ওই বৈঠকের মাধ্যমে নির্যাতিতা মেয়েটিকে শামীমের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া চালান। মেয়েটির পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় বিয়ের বিষয়টি মেনে নিলেও শামীমের পরিবার বিয়ে মানে নি। মধ্যরাত পর্যন্ত সমঝোতার চেষ্টা বিফলে যায়। স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম আলম জানিয়েছেন, বিষয়টিকে বিয়ের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। এতে স্থানীয় মেম্বার সহ তিনি সমঝোতার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শামীমের পরিবার বিষয়টি মানেনি। পরে রাত ১টার দিকে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা প্রদান করা হলে ভোরের দিকে তার রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে আসে বলে হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তবে মানসিকভাবে বেশ ভেঙে পড়েছে সে। ঘটনার চিত্র তার চোখের সামনে ভেসে এলেই আতঁকে উঠে। তরুণীর স্বজনরা জানিয়েছেন, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সে। ডাক্তাররা বলেছেন, পুরোপুরি সুস্থ হতে বেশ সময় লাগবে। এদিকে, খবর পেয়ে গতকাল সকালে হাসপাতালের ওসিসিতে দেখতে আসেন মোগলাবাজার থানার ওসি মো. মুরছালিন। তিনি জানান, এ ঘটনায় নির্যাতিতার পিতা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলার একমাত্র আসামি শামীম। মামলা দায়েরের পর পুলিশ শামীমকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালালেও তাকে খুঁজে পায়নি। পিতা হাসপাতালের ওসিসি’র বাইরে বসে কাঁদছিলেন। মেয়ের ওপর এ অত্যাচারের বিচার চান তিনি। বলেন, কোন মানুষ ফুলের মতো এতটুকু মেয়ের ওপর এরকম নির্যাতন চালাতে পারে না। এদিকে, সকালে গোটাটিকর এলাকার একটি বস্তিতে শামীম নামের এক যুবক ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ডেকে নেয়। পরে ঘরে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় পুলিশ শামীম ও ধর্ষণে সহযোগিতাকারী অভিনা নামের আরেক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে।