নিউ ইয়র্ক পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন নারী কর্মকর্তার যৌন লালসার শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন তার অধঃস্তন পুরুষ কর্মকর্তা ম্যাথিউ শিন্ডলার (৩৯)। এ বিষয়ে গতকাল মামলা হয়েছে। মামলা করেছেন ম্যাথিউ শিন্ডলারের বিধবা স্ত্রী গিনা শিন্ডলার। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়, গত বছর ১৩ই ফেব্রুয়ারি ম্যাথিউ অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে লং আইল্যান্ড এক্সপ্রেসওয়ে’তে আত্মহত্যা করেন ম্যাথিউ। তার স্ত্রী মামলায় দাবি করেছেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন নারী কর্মকর্তা সার্জেন্ট ক্রিস্টিন হার্টজেল তার স্বামীকে তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক গড়তে বাধ্য করেন। এই চাপ থেকে ম্যাথিউ কোনভাবেই মুক্তি পাচ্ছিলেন না। ম্যাথিউ তিন সন্তানের জনক। কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে করা মামলা অনুযায়ী, যদি ক্রিস্টিনের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ন করে, তার চাহিদা ম্যাথিউ পূরণ না করেন তাহলে তার চাকরির এসাইমেন্ট, কাজের পরিবেশ ও পদোন্নতি কোনটিই শুভ হবে না বলে হুমকি দেয়া হয়। এতে এক পর্যায়ে কোন উপায় না পেয়ে ম্যাথিউ আত্মহত্যা করেন। এ মামলায় গিনা সুনির্দিষ্ট কোন অংকের ক্ষতিপূরণ চান নি।
Friday, February 1, 2013
সিলেটে ছাত্রদলের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, নিহত ১
সিলেটে ছাত্রদলের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, নিহত ১
সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরশহরে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জসিম
নামে এক ছাত্রদল কর্মী নিহত হয়েছেন। গতকাল পৌরশহরের চৌমুহনী এলাকায়
এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গোলাপগঞ্জ পৌর শহরে উত্তেজনা
বিরাজ করায় বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষে গুরুতর
আহত সালাহউদ্দিন ও দেলোয়ারসহ কমপক্ষে ১০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিখোঁজ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস
আলী, মীর্জা ফখরুল ইসলামের মুক্িতর দাবিতে গতকাল গোলাপগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ
মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে স্থানীয় যুবদল। গোলাপগঞ্জ উপজেলা যুবদল সদর
ইউনিয়নে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি পালন করাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের রিপন ও
সালাউদ্দিন গ্রুপের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে
সকাল ১১টায় পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ এক সমঝোতা বৈঠকে বসেন। কিন্তু ওই বৈঠক
নিষ্পত্তি হয়নি। এদিকে, বেলা ২টায় ছাত্রদলের বিবদমান রিপন-সালাহ উদ্দিন
গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় বেশ কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ঘটে। এ
সময় ধারালো অস্ত্র, লোহার পাইপ, রুল-রড দিয়ে ছাত্রদল কর্মী জসিম উদ্দিনসহ
কয়েক জনকে কোপানো হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ব্যাপী সংঘর্ষকালে সিলেট থেকে দাঙ্গা
পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় জসিম
উদ্দিনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে পথিমধ্যেই মারা
যায় জসিম। জসিম উপজেলা ছাত্রদলের মামুন আহমদ রিপন গ্রুপের ছাত্রদল নেতা। সে
ফুলবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি। ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত
আফতাব আলীর পুত্র সে। পরিস্থিতি থমথমে থাকায় গোলাপগঞ্জ উপজেলা সদরে
অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকাল ৫টা থেকে
স্থানীয় লোকজন সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের গোলাপগঞ্জ অংশে ব্যারিকেড দেয়। প্রায় এক
ঘণ্টা পর পুলিশের সহায়তায় ব্যারিকেড তুলে নেয়া হয়।
সক্রিয় আম্মাজান, কৃষ্ণবালা ও সুইসগিয়ার গ্রুপ
আম্মাজান, কৃষ্ণবালা ও সুইসগিয়ার গ্রুপের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে ট্রেনের
যাত্রীরা। প্রতিদিনই দুর্ধর্ষ এই তিন গ্রুপের ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ছেন
যাত্রীরা। তাদের টাকা-পয়সা ও মালামাল লুটে বগি থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে হাওয়া
হয়ে যায় তারা। কেউ বাধা দিলে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেয়া হয়। রেলওয়ে পুলিশ
সূত্র জানায়, ঢাকাগামী ট্রেনের প্রায় সব রুটেই ছিনতাইকারী ও ডাকাত দলের
অবাধ প্রবেশ। তাদের কাছে ট্রেনচালকও জিম্মি। বিশেষ কৌশলে ট্রেন থামিয়ে তারা
ইঞ্জিন বগিতে উঠে পড়ে। কখনও কখনও তাদের লোকজন আগে থেকেই ট্রেনে অবস্থান
করে, নির্ধারিত পয়েন্টে আসার পরপরই চেইন টেনে ট্রেন থামিয়ে ডাকাত দলের
প্রবেশে সুযোগ করে দেয়। এরপর একযোগে ডাকাতি শেষে পালিয়ে যায়। একই কৌশলে
গতকাল ভোরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া থেকে ঢাকাগামী তিতাস কমিউটার
ট্রেনের তিনজন যাত্রীকে ছুরিকাঘাত করে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা
করা হয়েছে। নিহত দু’জনের পরিচয় পাওয়া গেলেও আরেকজনের পরিচয় মেলেনি। এরা
হলেন বিজয়নগর উপজেলার মিরাশানি গ্রামের সুদ মিয়া (৫০) ও তার প্রতিবেশী
সাহানা বেগম (৪০)। আহত হয়েছেন আখাউড়া পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা খোরশেদ আলম।
খোরশেদকে জেলা সদর হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। তার মাথা, পা ও গলার
নিচে ছুরিকাঘাত করেছে ছিনতাইকারীরা। আহত খোরশেদ পুলিশের কাছে বলেন, ভোর
সাড়ে পাঁচটার দিকে ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের কাছে ভাদুঘর
কুরুলিয়া রেলসেতু এলাকায় আসার পরপরই ছিনতাইকারীরা ছুরিকাঘাত করে তাদের ফেলে
দেয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।
তাদের ধারণা এটি ভয়ঙ্কর ‘আম্মাজান’ গ্রুপের কাজ হতে পারে। রেলওয়ে সূত্রমতে,
বিভিন্ন ছিনতাইকারী দলের সক্রিয় সদস্য হয়েও ছদ্মবেশে রেলস্টেশনে সারা দিন
ঘুরে বেড়ায় ছিনতাইকারীরা। তাদের বয়স ১৭ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। কেউ পপকর্ন
বিক্রি করে। কেউ বাদাম কিংবা আমড়া। কিন্তু আসল পেশা তাদের ‘লেডিস কাম’। এর
মানে মহিলাদের স্বর্ণালঙ্কার ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়া। একাজ তারা দিনের বেলায়ই
করতে পারে। রাত হলে উঠে পড়ে চলন্ত ট্রেনে। বগির বাতি নিভিয়ে যাত্রীদের
টাকা ও জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। এ কাজে তাদের মূল অস্ত্র বেল্ট। ছিনতাইয়ের
সময় কোন যাত্রী বাধা দিলে প্রথমে গলায় বেল্ট বেঁধে নির্যাতন এবং পরে চলন্ত
ট্রেন থেকে ফেলে দেয়। এ গ্রুপে আছে শিপন ওরফে বিল্লাল ওরফে বিলাই, জীবন
ওরফে অসহায় জীবন ওরফে দুখু মিয়া। রেলওয়ে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়,
‘আম্মাজান’ গ্রুপের সদস্যরা তাদের ওস্তাদ। নির্ধারিত ট্রেনে তাদের বখরা
দিয়েই তারা কাজ চালায়। ‘আম্মাজান’-এর মূল অস্ত্র বড় ড্যাগার ও ধারালো
অস্ত্র। বগিতে প্রবেশ করে একযোগে সবাইকে জিম্মি করে মালামাল লুটে চলন্ত
ট্রেন থেকেই সটকে পড়ে। এ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য সোহেল, রাকিব, রনি ও জাভেদ।
‘সুইসগিয়ার’ গ্রুপের কাজ ছোট চাকু দিয়ে গলায় পোচ মারা। তারপরও উচ্চবাচ্য
করলে চ্যাংদোলা করে ট্রেন থেকে ফেলে দেয়া। এ গ্রুপে আছে রিপন, তোফাজ্জল,
সিলা মনির, রফিক, আলমগীর ও রানা। ২০১১ সালে গফরগাঁওয়ে জোড়া খুনের মামলায়
তারা এখন কারাগারে। তবে এ গ্রুপের অন্যান্য সদস্য এখনও সক্রিয়। রেলওয়ে
পুলিশ আরও জানায়, ‘লেডিস কাম’ পার্টির পুরনো নাম ‘কৃষ্ণবালা’। এরা যাত্রীর
গলায় গামছা ও বেল্ট পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মালামাল লুট করে। বাধা দিলে ট্রেন
থেকে ফেলে দেয়। এদের সহজ বিচরণ ট্রেনের ছাদ ও বগিতে। প্রথমে ছাদে অবস্থান
নিয়ে কৌশলে খোলা দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছলে
তাদের অপারেশন শুরু করে। গত ২৩শে ডিসেম্বর আন্তঃনগর ট্রেন তুরাগ এক্সপ্রেস
থেকে দুই বস্ত্র প্রকৌশলীকে ফেলে দেয় এ চক্রটি। পুলিশ ওই ঘটনায় পাঁচজনকে
গ্রেপ্তার করেছে। সমপ্রতি তাদের কর্মকাণ্ডের বর্ণনা করেছে আদালতের কাছে।
এরা হচ্ছে মমিন ওরফে সুজন ওরফে কালু (২০), শাহিন (২৪), রাব্বী ওরফে দুর্জয়
(১৭), মহাব্বত (২২) ও আকাশ (১৭)। আদালতে কালু তার জবানিতে দুই বস্ত্র
প্রকৌশলী মাজহারুল ইসলাম রিপন ও গোলাম মোরশেদ নয়নকে ফেলে দেয়ার নৃশংস ঘটনার
বর্ণনা দেয়। সূত্র জানায়, ২০১২ সালে বিভিন্ন রুটের ট্রেনে একের পর এক
ছিনতাই ও ডাকাতির পর দুর্ধর্ষ কৃষ্ণবালা পার্টির নাম জানতে পারে পুলিশ। পরে
ওই গ্রুপের ১১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তাদের বর্ণনায় বের হয়ে
আসে কিভাবে গলায় গামছা পেঁচিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে যাত্রীদের ফেলে হত্যা করা
হয়। পরে পুলিশের সতর্কতা এবং ট্রেনের ছাদে ওঠার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে এহেন
অপরাধ কর্মকাণ্ড কিছুটা কমে আসে। তবে গত বছরের শেষের দিকে আবারও এসব
পার্টি স্বয়ংক্রিয় হয়ে ওঠে। কমলাপুর জিআরপি থানা পুলিশ জানায়, ২৩শে
ডিসেম্বর সকালে তুরাগ এক্সপ্রেসে জয়দেবপুর যাওয়ার সময় তেজগাঁও রেলস্টেশনের
কাছে চলন্ত ট্রেন থেকে দুই প্রকৌশলী মাজহারুল ইসলাম রিপন ও গোলাম মোরশেদ
নয়নকেও ফেলে দেয় ছিনতাইকারীরা। একই বগির যাত্রী রেলের এক সাবেক
পয়েন্টম্যানকেও খিলক্ষেত এলাকায় ট্রেন থেকে ফেলে দেয় একই চক্র। এ ঘটনায়
২৫শে ডিসেম্বর কমলাপুর জিআরপি থানায় মামলা করেন রিপনের বড় ভাই মনিরুল
ইসলাম। গত ১৯শে নভেম্বর সন্ধ্যায় আজিজুর রহমান নামের এক চিকিৎসককে গাজীপুরে
তুরাগ এক্সপ্রেস থেকে ফেলে হত্যা করা হয়। আজিজুর রহমান স্বাস্থ্য
মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক এবং পলমল গার্মেন্টের চিকিৎসক ছিলেন।
গত ১৭ই ডিসেম্বর পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে শারমিন সুলতানা নামে এক নারী
ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। কমলাপুর জিআরপি থানার ওসি আলাউদ্দিন চৌধুরী বলেন,
সমপ্রতি ট্রেন থেকে কয়েকজনকে ফেলে দেয়ার অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বেশির ভাগ
আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এখন আমাদের আওতাবহির্ভূত
এলাকায় কিছু ঘটনা ঘটছে।
আতঙ্কের নাম তিতাস কমিউটার- চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে ৩ যাত্রী হত্যা
আতঙ্কের নাম তিতাস কমিউটার- চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে ৩ যাত্রী হত্যা
এটিই প্রথম ঘটনা নয়। তিতাস কমিউটারের যাত্রী হয়ে এর আগেও মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছেন অনেক যাত্রী। আর গতকাল দুর্বৃত্তরা ট্রেন থেকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে হত্যা করলো ৩ যাত্রীকে। আহত হয়েছেন ২ জন। একটি কামরার ৫ জন যাত্রীকেই চলন্ত ট্রেন থেকে ছুড়ে ফেলা হয় সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়ার পর। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান দুই যাত্রী। যদিও তাদের অবস্থা গুরুতর। গতকালের এ ঘটনার পর এ ট্রেনটিতে দুর্বৃত্তদের নিয়মিত অভিযানের আরও অনেক ঘটনা বেরিয়ে এসেছে। আখাউড়া-ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী তিতাস কমিউটার ট্রেনটি গতকাল সকাল সাড়ে ৫টায় আখাউড়া থেকে ছেড়ে পাঘাচং রেলস্টেশনে পৌঁছলে তাতে ডাকাতরা হানা দেয়। ৭-৮ জনের ডাকাত দলটি ইঞ্জিনের পেছনের বগিটিতে ওঠে। ওই কামরায় যাত্রী ছিলেন ৫ জন। এর মধ্যে একজন মহিলা। ঘটনার শিকার আখাউড়া কালাছড়া গ্রামের রুবেল মিয়া (২২) জানান, ডাকাতরা কামরাতে উঠেই এলোপাতাড়ি মারধর করতে শুরু করে সবাইকে। তার কাছ থেকে নগদ ২ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে দরজা দিয়ে তাকে ছুড়ে বাইরে ফেলে দেয়। সমতল জায়গায় পড়ায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এভাবে একে একে বাকি ৪ যাত্রীকেও ছুড়ে মারা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতলী রেল ব্রিজে ওঠার আগে পরে ডাকাতরা আরও ৩ যাত্রীকে ছুড়ে ফেলে। এই ৩ জনই ঘটনাস্থলে মারা যান। তাদের একজনের লাশ পাওয়া গেছে কুরুলিয়া রেলসেতুর নিচে পাথরের ওপর। এ থেকে আরও কয়েক শ’ গজ দক্ষিণে পাওয়া গেছে বাকি দু’জনের লাশ। ফজরের নামাজ শেষে লোকজনের চলাফেরা শুরু হলে তারা লাশ পড়ে থাকতে দেখে। খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা ও আখাউড়া জিআরপি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশগুলো উদ্ধার করে। নিহত ৩ জনের মধ্যে ২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হচ্ছেন বিজয়নগর উপজেলার মেরাশানী গ্রামের সুদ মিয়া (৫০) এবং একই গ্রামের মুসলিম মিয়ার স্ত্রী শাহানা বেগম (৪০)। তারা দু’জন সম্পর্কে চাচা-ভাইঝি। দুপুরে খবর পেয়ে তাদের স্বজনরা ছুটে আসেন জেলা সদর হাসপাতালে। লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে লাশ বুঝিয়ে দেয়া হয়। আখাউড়া জিআরপি থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ডাকাতরা তাদের ছুড়ে ফেলে দিয়েই হত্যা করেছে। তাদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের কোন আঘাত ছিল না। তিনি জানান, ট্রেনে ঢাকা জিআরপির একটি টহল দল ছিল। তবে ঘটনার সময় তারা কোথায় ছিল তা তিনি জানাতে পারেননি। বলেন, তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে এ ব্যাপারে জানবো। তবে এলাকার লোকজন ট্রেনে জিআরপি দায়িত্ব পালন করা না করা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করেন। সকালে ঘটনাস্থলে গেলে ভাদুঘর ও কাউতলী এলাকার অনেক লোকজন জানান, তারা প্রায়ই এভাবে রেললাইনের পাশে রক্তাক্ত মানুষ পড়ে থাকতে দেখেন। গতকাল এ ট্রেনটিতে মোট ৬টি যাত্রীবাহী বগি ছিল।
আতঙ্কের ট্রেন: শুধু গতকালই ছুড়ে ফেলে দিয়ে ৩ জনকে হত্যা করেনি দুর্বৃত্তরা- এর আগে ঘটেছে এমন আরও অনেক ঘটনা। আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত সীমানায় ট্রেনটিতে দুর্বৃত্তরা নিয়মিতই এমন ঘটনা ঘটিয়ে নেমে পড়ছে। এখানে সেখানে রেললাইনের পাশে আহত-অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকছে মানুষ। ২রা ডিসেম্বর রাতে তিতাস কমিউটার ট্রেনে ছিনতাইয়ের পর চলন্ত ট্রেন থেকে ছুড়ে ফেলে দেয়া হয় এক ব্যবসায়ীকে। ব্যবসায়ীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। ছিনতাইকারীরা তার কাছে থাকা নগদ ২ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন, বেশ কিছু টাইলস এবং আচারের সামগ্রী নিয়ে যায়। আখাউড়া উপজেলা কমপ্লেক্স সংলগ্ন বাসিন্দা, আচার ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম ওই রাতে তিতাস কমিউটার ট্রেনে করে ঢাকা থেকে ফিরছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভাতশালা এলাকায় ট্রেনটি ধীরগতিতে চলতে থাকলে চারজন যুবক ট্রেনের ওই বগিতে ওঠে। তাদের মধ্য থেকে একজন এসে লাভলুর কাছে সিগারেট চায়। একটু পরেই সংঘবদ্ধ হয়ে এসে সবাই মিলে তাকে প্রচণ্ড মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে তাকে ফেলে দেয়া হয়। এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার টহল পুলিশের একটি দল এদিক দিয়ে গেলে একজনকে হাত উঠিয়ে সাহায্য চাইতে দেখে পুলিশের দলটি এগিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সপ্তাহ দুয়েক আগে রাত দেড়টার দিকে এক মহিলা আখাউড়া রেলজংশনে এসে কান্নাকাটি করতে থাকেন। জানান, তার ছেলেকে তালশহরের এখানে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেয়া হয়েছে। পরে ওই ছেলের কি দশা হয়েছে তা আর জানা যায়নি। এ ঘটনার মাস দুয়েক আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে পাঘাচং যাওয়ার পথে কাছাইট গ্রামের আবদুল হান্নানকে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। আবদুল হান্নান দুধ বিক্রেতা। রাতে বাড়ি ফেরার পথে ঘটনার শিকার হন তিনি। তাকে ফেলা হয় কুরুলিয়া রেলব্রিজের কাছে। আহত অবস্থায় সেখান থেকে তিনি কাউতলী এলাকায় এসে লোকজনের সহায়তায় হাসপাতালে ভর্তি হন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অহরহই এমন ঘটনা ঘটছে। ট্রেনটি সকাল ৫টায় ঢাকার পথে ঠিক সময়ে ছাড়লেও রাতে ঢাকা থেকে এর পৌঁছার সময় ঠিক থাকে না। ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে এর পৌঁছার সময় রাত পৌনে ৯টা হলেও কখনও ১১টা-১২টার আগে পৌঁছায় না। এরপর এখান থেকে আখাউড়া পৌঁছতে বেজে যায় সাড়ে ১২টা-১টা। তবে আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত সীমার মধ্যেই দুর্বৃত্তরা সুযোগ বুঝে যাত্রীদের ওপর চড়াও হয়। আখাউড়া জিআরপি থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, তার এমন ঘটনা জানা নেই। তার এখানে যোগদানের পর এমন ঘটনা ঘটেনি।
Thursday, January 31, 2013
আ. লীগ নেতা ধর্ষণ করলেন ভাতিজার বিধবা স্ত্রীকে!
আ. লীগ নেতা ধর্ষণ করলেন ভাতিজার বিধবা স্ত্রীকে!
এক বিধবা ধর্ষণের শিকার হয়ে নালিশ করেছিলেন ধর্ষকের চাচার কাছে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার তিন দিন পর ওই চাচাই আবির্ভূত হন ধর্ষকের ভূমিকায়। ওই নারীর অভিযোগ, এবার তাঁকে ধর্ষণ করা হয় তাঁর শিশুসন্তানের সামনেই। ভয়ে তিনি ১০ দিন পালিয়ে ছিলেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় খবর পাওয়া যায় ওই নারীকে নিয়ে থানায় অবস্থান করছেন একটি নারী সংগঠনের এক নেত্রী এবং একজন জনপ্রতিনিধি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। গতকাল সকালে সাংবাদিকরা ওই এলাকায় গিয়ে ঘটনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁর নাম আবু সাঈদ ওরফে লাল মিয়া (৬০)। তিনি শরীফপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার শরীফপুর গ্রামের ওই নারীর স্বামী মারা যান প্রায় আট বছর আগে। তখন পরিবারটির দায়িত্ব নেন ওই নারীর চাচাশ্বশুর তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সাঈদ ওরফে লাল মিয়া। এরপর থেকে ওই নারী সন্তানদের নিয়ে চাচাশ্বশুরের বাড়িতেই থাকেন। এরই মধ্যে তিনি দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এক ছেলে ঢাকায়
চাকরি করেন। ছোট দুই ছেলে ও এক মেয়ে তাঁর সঙ্গে থাকে।
ওই নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লাল মিয়া ও তাঁর ভাতিজা আমীর দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। সপ্তাহ দুয়েক আগে আমীর তাঁর ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করে। ওই সময় তাঁর ঘরে থাকা ছয়-সাত বছরের ছেলেসন্তান ঘুমিয়ে ছিল। বিষয়টি কাউকে জানালে ঢাকায় কর্মরত ছেলেকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয় আমীর। এর পরও ঘটনাটি লাল মিয়াকে অবহিত করেন ওই নারী। তিনি জানান, গত ২০ জানুয়ারি রাতে লাল মিয়া কাজ আছে বলে তাঁকে দরজা খুলতে বলেন। দরজা খোলামাত্রই তিনি তাঁকে জাপটে ধরে ধর্ষণ করেন। ধস্তাধস্তির কারণে দরজায় ধাক্কা লেগে তিনি পিঠে ব্যথাও পান। ওই নারীর অভিযোগ, ১০-১২ বছর বয়সী মেয়ের সামনেই তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। ওই রাতেই তিনি মেয়েকে নিয়ে অন্য বাড়িতে চলে যান। সকালে স্থানীয় কয়েকজনকে জানালে তাঁরা বিষয়টি কেউ বিশ্বাস করবে না বলে বিচার চাইতে কিংবা মামলা করতে নিষেধ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী বলেন, 'ঘটনার রাতেই ওই মহিলা আমাদের বাড়িতে আসেন। এসেই তিনি পানি পান করেন। এরপর থেকে ভয়ে এ-বাড়ি ও-বাড়ি অবস্থান করছিলেন। ভয়ে মামলা করতেও যেতে পারছিলেন না তিনি।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধি বলেন, 'এলাকার অনেকেই ঘটনা সম্পর্কে জানেন। কিন্তু ওই মহিলার কাছের কোনো আত্মীয় না থাকায় কেউ সাহস করে এগিয়ে আসছেন না। এ ছাড়া লাল মিয়া এলাকায় প্রভাবশালী। তাই কেউ মুখ খুলছে না। আমি মহিলার জন্য এগিয়ে এলে আমাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।'
এদিকে আমীর হোসেনের ভাই তকদির হোসেন জানান, এসব কথা একেবারেই মিথ্যা। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে এসব কথা বলে বেড়ানো হচ্ছে। তাঁর ভাই এখন বাড়িতে নেই। তিনি মোবাইল ফোনও ব্যবহার করেন না।
আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাঈদ ওরফে লাল মিয়া মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমীরের বিষয়ে ওই মহিলা আমাকে কিছু বলেনি। আমার মনে হয় সে গ্রাম্য রাজনীতির শিকার। আমিও অনেক দিন চট্টগ্রামে ছিলাম। বাড়িতে এসে শুনি আমার নামে এসব বলা হচ্ছে। যা বলা হচ্ছে সবই মিথ্যা। মেয়েটি আমাকে আব্বা বলে ডাকে। এখন সে বাড়িতে নেই। তাকে পেলে আমি জিজ্ঞেস করব, সে কেন এমন করছে। আমার মনে হয়, আমাকে নিয়েও রাজনীতি হচ্ছে। কেউ আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে চাইছে। তবে কে বা কারা এমন করছে সেটা এখনো বুঝতে পারছি না।'
এ ব্যাপারে শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুদ্দিন চৌধুরী সাফি মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ওই মহিলা আমাকে ঘটনা খুলে বলেছেন। ওনাকে থানায় নিয়ে এসেছি। আমি অভিযুক্তদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা বলছে বিষয়টি ষড়যন্ত্র। এখন সবকিছু না জেনে, খোঁজ না নিয়ে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এর আগেও এ ধরনের অভিযোগ উঠেছিল।'
দুর্বার নারী নেটওয়ার্ক কুমিল্লা অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক শাহানা খায়ের বলেন, 'সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমি ওই গ্রামে যাই। ওই মহিলার কাছ থেকে ঘটনা শুনে বিচার পাওয়ার জন্য তাঁকে থানায় নিয়ে এসেছি।'
আশুগঞ্জ থানার ওসি মো. গোলাম ফারুক বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা ওই মহিলার কাছ থেকে ঘটনা শুনছি। এলাকায় অফিসার পাঠিয়েও খবর নিয়েছি। ঘটনা পুরোপুরি সত্য কি মিথ্যা তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তিনি যেহেতু ওই মহিলার চাচাশ্বশুর ও একজন বয়স্ক লোক, তাই এটি খতিয়ে দেখা হবে। ওই মহিলা মামলা দিলে সেভাবেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
রংপুরের প্রতিশোধ
রংপুরের প্রতিশোধ
মাত্র ১২২ রান করেও ৩৩ রানের বড় জয় তুলে নিলো রংপুর রাইডার্স। গতকাল চট্টগ্রামে দিনের দ্বিতীয় খেলায় রংপুর ১২২ রানে গুটিয়ে গেলেও খুলনাকে অলআউট করে দেয় মাত্র ৮৯ রানে। চলতি আসরে এটি সর্বনিম্ন দলীয় রান। অথচ এর আগে এক ম্যাচে খুলনা বিনা উইকেটে ১৯৭ রান তুলে রেকর্ড গড়েছিল। খুলনাকে ধসিয়ে দেয়ার পেছনে রংপুরের ক্যারিবীয় পেসার ফিডের এডওয়ার্ডস মূল ভূমিকা রাখেন। তিনি নেন ১১ রানে চার উইকেট। আর তাকে যোগ্য সহায়তা দেন অধিনায়ক দেশের অন্যতম সেরা স্পিনার আবদুর রাজ্জাক। তিনি ৩ উইকেট নেন ২১ রানে। খুলনার শেষ ৬ উইকেট পড়ে ৭৯ থেকে ৮৯ রানে। সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন আসিফ। ১৫ রান করেন ডেভ হ্যারিস ও মিজান। এর আগে রংপুরের পক্ষে কেভিন ও’ব্রায়েন সর্বোচ্চ ২৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। ২৩ রান করেন ডেভ হায়াত, ২১ রান করে করেন নাসির ও বরগাস। গত শুক্রবার খুলনায় রংপুর রাইডার্স খুলনার ১৫০ রানের জবাবে ১৪১ রান করে হেরে গিয়েছিল। কাল যেন সেই হারের প্রতিশোধ নিলো তারা। পাঁচ খেলায় রংপুরের এটি তৃতীয় জয় আর ৬ খেলায় খুলনার চতুর্থ হার। ম্যাচসেরা হন চার উইকেট নেয়া এডওয়ার্ডস। পুরো ম্যাচে চক্কা হয় দুটি। একটি মারেন রংপুরের বরগাস আর অপরটি খুলনার ওয়েসেলস।
ভাগ্যবশত আমি সেলিব্রেটি
ভাগ্যবশত আমি সেলিব্রেটি
নিজেকে নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে বাকযুদ্ধে ভীষণ বিরক্ত বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান। তাই তিনি এবার নিজেই মুখ খুললেন। নিঃসংকোচে বললেন, আমি একজন ভারতীয়। আমার পিতা ভারতের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন। ভারতে আমার নিরাপত্তায় কোন সমস্যা নেই। সমপ্রতি একটি ম্যাগাজিনকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারের পর পাকিস্তান ও ভারতের রাজনৈতিক পর্যায়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য শুরু হয়। নেতাদের মধ্যে চলতে থাকে বাকযুদ্ধ। তাতে জড়িয়ে পড়েন দু’ দেশের মন্ত্রীরা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এমনকি পাকিস্তানের জামায়াতুত দাওয়ার প্রধান হাফিজ সাঈদ পর্যন্ত শাহরুখ খানকে ভারতে নিরাপত্তায় সমস্যা হলে পাকিস্তান চলে যেতে আমন্ত্রণ জানান। এর পরেই শাহরুখ খানকে নিরাপত্তা দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানান পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক। এর কড়া জবাব দেন ভারতের স্বরাষ্ট্র সচিব আর কে সিং। তিনি বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের নাক গলানোর কোন অধিকার নেই। তারা যেন তাদের নিজেদের নিয়ে ভাবেন। একই রকম বক্তব্য উঠে আসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে। দু’দেশের নেতাদের মধ্যে যখন এমন বাকযুদ্ধ চলছে তখন ফের মুখ খুললেন শাহরুখ খান। তিনি বললেন, ওই ম্যাগাজিনকে এমন কিছু আমি বলি নি যে, আমি ভারতে নিরাপত্তাহীন। তিনি বলেন, আমি ভারতীয় হয়ে এবং আমার পিতা-মাতার সন্তান হিসেবে গর্বিত। এখানে আমার কোনই সমস্যা হচ্ছে না। এ বিষয়ে তিনি একটি দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছেন। এতে তিনি বলেছেন, আমাদের সবারই তিনটি সুনির্দিষ্ট পরিচয় আছে। এর মধ্যে দু’টি পরিচয় আমরা জন্মসূত্রে অর্জন করি। প্রথমটি হলো- জন্মস্থান। যা আমার মাতৃভূমি। এটাই আমাদের পরিচয়। তাই আমি ভারতীয় পরিচয় দিয়ে গর্ব বোধ করি এ জন্য অনেকেই আমাকে পছন্দ করেন। দ্বিতীয়টি হলো পারিবারিক নাম। যা আমাদের পিতা-মাতা দিয়ে থাকেন। আমার জন্য সেই নাম হলো খান। আমি আমার পিতা-মাতাকে নিয়ে খুব গর্বিত। এখানকার অন্যরাও তাদের পিতা-মাতাকে নিয়ে গর্ব বোধ করেন। শর্তহীনভাবে আমি তাদেরকে ভালবাসি। তৃতীয় পরিচয় হলো- আমাদের পেশা। কোন এক ভাগ্যবশত আমি একজন সেলিব্রিটি হয়ে গিয়েছি। এটি আর্ট ও মিডিয়ার একটি ফিগার। আমার মতো অনেকেই আছেন। তৃতীয় এই পরিচয়টি আমাকে মাঝে মধ্যেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। কখনো তা ভাল। কখনও তা শুভ নয়। কখনও আমাকে নিয়ে বিতর্ক হয়। কেউ আমার নামকে ব্যবহার করেন। তাতে কেউ ইতিবাচক, কেউ নেতিবাচক ফল পান। আমি এসবই মেনে নিই। কারণ এইতো জীবন। আমাকে যারা স্টার বা তারকা বানিয়ে দিয়েছেন তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এখন আসি আমাকে নিয়ে যে বিতর্ক তাতে। আমাকে নিয়ে (ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে) যে বিতর্কের সূচনা তার কোন ভিত্তি আমি দেখি না। ওই বিবৃতিতে শাহরুখ খান আরও বলেন, আমি যে প্রতিবেদনটি লিখেছি তাতে আমি বলতে চেয়েছি, আমি একজন ভারতীয় মুসলিম তারকা হিসেবে কি সব সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। আমি মনে করি (যারা এই বিতর্কে জড়িয়েছেন) তারা এই লেখাটি ঠিকমতো পড়েননি। তাই আমি সবাইকে বলবো- আপনারা আগে লেখাটি পড়ুন। দ্বিতীয়ত বলবো- যদি পড়ে থাকেন তাহলে এতে কোথাও এমন কোন কথা পাবেন না যেখানে আমি প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে বলেছি যে, আমি ভারতে নিরাপদ নই। আমার কোন সমস্যা হচ্ছে, তা-ও বলিনি। এমনকি আমি গত ২০ বছরের ক্যারিয়ারে যাদের ভালবাসায় আজকের শাহরুখ খান হয়েছি তাদের প্রতি কোন অশ্রদ্ধা প্রকাশ করিনি। আমাকে আমার দেশবাসী ও নারীরা খুবই ভালবাসেন। তাই আমি আজকের খান। আমার মধ্যে কোন অহমিকার ধারণা আসে নি। তার পরিবর্তে আমার জীবন লাখ লাখ ভারতীয়ের ভালবাসায় সিক্ত। গত ২০ বছরে আমি যে ভালবাসা পেয়েছি তা সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলতে কোন সমপ্রদায়ের নয়, সবার। আমি শুধু দেশেই নয়, সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের ভালবাসা পেয়েছি। ওই বিবৃতিতে তিনি হাফিজ সাঈদের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, যারা আমাকে অনাকাঙিক্ষত পরামর্শ দিয়েছেন বা দিচ্ছেন তারা যেন বুঝতে পারেন যে, আমরা ভারতীয়রা ভীষণভাবে নিরাপদ ও সুখী। আমাদের চমৎকার গণতন্ত্র আছে। জীবনে রয়েছে মুক্ত ও ধর্মনিরপেক্ষ পথ বেছে নেয়ার সুযোগ। আমরা ভারতে যে পরিবেশে বাস করি এখানে কোন নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই। বিদ্যমান নয় এমন ইস্যু নিয়ে কথা বলা অমূলক। তারপরও যারা আমার দৃষ্টিভঙ্গি অন্যভাবে দেখছেন এবং পরামর্শ দিচ্ছেন তাদেরকে অনুরোধ করবো আপনারা আমার ওই লেখাটি দয়া করে একবার পড়ে দেখুন। বিবৃতির শেষের দিকে তিনি লিখেছেন, আমরা সবাই শিক্ষিত ও দেশপ্রেমিক। আমার নিজের পরিবার ও বন্ধুরা যারা আমার কাছে একটি মিনি ভারত- এই আমাদের সঙ্গে সবার রয়েছে সহনশীলতা, সমঝোতা, ভালবাসা। আমি লাখ লাখ ভারতীয় ও ভারতের বাইরে যেসব দর্শক-ভক্তের ভালবাসা পেয়েছি সেই ভালবাসাই আমার পুঁজি। এটা আমার প্রমাণ করার কিছুই নেই।
ওয়াশিংটন টাইমসে খালেদা জিয়া- বাংলাদেশের গণতন্ত্র বাঁচান
ওয়াশিংটন টাইমসে খালেদা জিয়া- বাংলাদেশের গণতন্ত্র বাঁচান
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কে ২০১৩ সাল কি একটি সন্ধিক্ষণ হবে? আমার দেশ ১৫ কোটি মানুষের। ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যবর্তী অংশে এর অবস্থান। ১৯৭১ সাল থেকে এ দেশটি স্বাধীন। আমাদের নিজেদের গন্তব্য নির্ধারণের জন্য যেসব দেশ প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম। কিন্তু সামপ্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে খাটো করে দেখা হচ্ছে, এর অর্থনৈতিক আনুগত্য বিশ্বের ক্রমবর্ধমান শক্তিগুলোর দিকে ধাবিত তখন যুক্তরাষ্ট্র অলস অবস্থানে আছে বলে অভিযোগ আনা যেতে পারে। এ সময়ে দু’দেশের সম্পর্কে চলে টানাপড়েন।
এর অর্থ এই নয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার, কংগ্রেস বা বিভিন্ন সংস্থা সহায়তার ক্ষেত্রে যে নেতৃত্ব দিয়ে থাকে তার কিছুই করেনি তা নয়। এখন থেকে ৬ মাস আগে, বিশ্বব্যাংক চার মাইল দীর্ঘ একটি সেতু প্রকল্পে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রত্যাহার করে নেয়। গত ৪০ বছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় কোন একক অবকাঠামোর প্রকল্প। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্পে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে দুর্নীতি ও তহবিল তছরূপ নিয়ে তদন্ত দাবি করে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের বাংলাদেশ ককাসের সদস্যরা গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসকে অপসারণের জন্য বাংলাদেশ সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিন্দা জানান। গ্রামীণ ব্যাংকও ওই পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশী ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান। এই ব্যাংক লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়েছে। তাকে অপসারণের কারণ? এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ভুল ব্যক্তিকে সম্মানিত করা হয়েছে: ‘যদি বাংলাদেশে কেউ নোবেল পুরস্কার পাওয়ার দাবি রাখেন, তাহলে তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’
শেখ হাসিনা নোবেল পুরস্কারের কোন দাবি করেছেন এ বিষয়ে বেশির ভাগ বাংলাদেশী একমত হবেন না। বাংলাদেশের আধাসামরিক বাহিনী, শেখ হাসিনার র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের হাতে ২০০৯ সাল থেকে প্রায় ৩০০ মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের এ সংখ্যা নিবন্ধিত। তাদের পরিবারকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করুন। অথবা শ্রমিক অধিকার বিষয়ক নেতা খুন হওয়া আমিনুল ইসলামের পরিবারের কথাই বিবেচনা করুন। তাকে হত্যা করার পর এএফএল-সিআইও যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সুবিধা বাতিল করার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নৃশংসতার অভিযোগে স্থানীয় পর্যায়ে যেসব রাজনৈতিক নেতা ও তার সমর্থকদের স্থানীয় যুদ্ধ অপরাধ আদালতে অভিযুক্ত করা হচ্ছে তারাও শেখ হাসিনার নোবেল পুরস্কার পাওয়ার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন।
শুধু বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে এ বিচার করার জন্য যুদ্ধ অপরাধ বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের দূত শেখ হাসিনা সরকারের নিন্দা জানিয়েছেন। ডিসেম্বরে দি ইকোনমিস্ট ফাঁস করে দেয় ই-মেইল ও ফোন রেকর্ডিং। তাতে প্রকাশ হয়ে পড়ে হাসিনা প্রশাসন কিভাবে এ বিচার নিয়ে হস্তক্ষেপ করছে এবং কিভাবে তারা হাসিনার বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার জন্য বিচারকদের করছে।
সহজ কথা হলো- গত ৫ বছর ধরে, এশিয়ার অন্যতম উজ্জ্বল গণতন্ত্রের দেশ থেকে কিভাবে দ্রুতগতিতে সরতে সরতে বাংলাদেশ পরিণত হচ্ছে এক পরিবারকেন্দ্রিক ক্ষমতার কেন্দ্রে। এখন নির্বাচনের আগে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রয়োজন মুছে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। বাস্তবে, তিনি নিজেই এই শাসন ব্যবস্থা প্রচলনে সহায়তা করেছিলেন। এ ব্যবস্থায় ক্ষমতা হস্তান্তর ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া দেখভালের জন্য গঠন করা হয় নির্দলীয় সরকার- যাতে ক্ষমতাসীন সরকার কোন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করতে না পারে।
নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকা এক রকম নিশ্চয়তা। যদি ভোটাররা নতুন একটি সরকারের জন্য ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাহলেই ক্ষমতা হাতবদল হয়। এ বছরের শেষের দিকে সাধারণ নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে প্রতিবাদে সমবেত হয়েছেন। তা সত্ত্বেও দৃশ্যত, শেখ হাসিনা সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বিশ্বাস করছেন, জনপ্রিয় বিরোধী দল তার শাসনের বিরোধিতা করলেও এতে তিনি পুনঃনির্বাচিত হবেন।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর পরই মিয়ানমার সফর করেন। বাংলাদেশের প্রতিবেশী এই মিয়ানমার ছিল একঘরে। সে অবস্থা থেকে তারা বেরিয়ে আসছে। বিশ্বের বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতের ক্রমবিকাশ হচ্ছে। বাংলাদেশ যদি এক পরিবারের শাসনে হাল ছেড়ে দেয় তাহলে এ অঞ্চলের জন্য তা হবে এক বড় পশ্চাৎ যাত্রা। এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আশায় ভরা একটি অঞ্চল। কারণ, আমেরিকা স্বাধীনতাকে উৎসাহিত করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে বাংলাদেশের জনগণ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে তাদের মতামত দেয়ার সুযোগ পান।
যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের, যেমন গ্রেট বৃটেন, আছে ভোটারদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সম্মান জানানোর জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করানোর জন্য প্রভাব খাটানোর ক্ষমতা। এটাকে নিশ্চিত করতে, বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের পথ থেকে পিছলে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে তাদের বক্তব্য ও পদক্ষেপ আরও শক্তিশালী হওয়া দরকার। তাই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো ব্যক্তিরা যারা দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য স্বীকৃতি লাভ করেছেন তাদের অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে কংগ্রেস ও বৃটিশ পার্লামেন্টের। অন্যদিকে শেখ হাসিনা কেবলমাত্র স্বীকৃতির লোভ করে যান।
শেখ হাসিনাকে অবশ্যই বোঝাতে হবে যে, যারা শ্রমিক অধিকারকে সমর্থন করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিরোধিতা যারা করেন তাদেরকে যদি মত প্রকাশ করতে দেয়া না হয় তাহলে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে বিশেষ সুবিধা দেয়া হচ্ছে তা প্রত্যাহার করা হবে। এই শাসক গোষ্ঠীর যারা গণতন্ত্র, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারকে খাটো করে দেখে- পশ্চিমা শক্তিগুলোর তাদের বিরুদ্ধে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অবরোধ বিবেচনা করা উচিত। আমাদের জনগণের সামনে এসব কথা তাদের প্রকাশ্যে বলা ও করা উচিত যাতে আমাদের নাগরিকরা তা দেখতে ও শুনতে পান। এভাবেই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে গণতান্ত্রিক মিশন প্রতিষ্ঠায় রত আছে তা নিশ্চিত করতে পারে।
কথায় আছে, আইনের আদালতের চেয়েও বড় আদালত হলো মানুষের বিবেক। পূর্ণ বিবেকবোধ দিয়ে এটা বলা অসম্ভব যে, শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও দারিদ্র্য দূরীকরণ নিরাপদ নয়। এসবই রয়েছে ভয়ানক বিপদের মুখে। এখন আমেরিকার নেতৃত্বে বিশ্বের সামনে সময় বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষায় ও তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেয়ার।
Wednesday, January 30, 2013
মোবাইল হ্যাকিং থেকে সাবধান!
মোবাইল হ্যাকিং থেকে সাবধান!
মোবাইলে টাকা রিচার্জ করার পর ব্যালান্স শূন্য। কোন ফোন করা হয়নি এসএমএস দেয়া হয়নি। তাহলে টাকা কোথায় গেল! কাস্টমার কেয়ারে ফোন করায় জানা গেল আপনার মোবাইল হ্যাকিং করা হয়েছে। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে আপনার মোবাইলের টাকা অন্য মোবাইলে নেয়া হয়েছে। কোন মোবাইলে নেয়া হয়েছে কিভাবে করা হয়েছে এর কোন প্রমাণ কাস্টমার কেয়ারে নেই। গতকাল ওয়ান ব্যাংক কর্মকর্তা হাসিব খান এভাবেই বর্ণনা করেন তার মোবাইল হ্যাকিংয়ের কথা। মোবাইল ফোন অপারেটর ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থার তথ্যমতে, কম্পিউটার হ্যাকিংয়ের ইতিহাস পুরনো। এটা প্রায় সকলের জানা। কিন্তু মোবাইল হ্যাক একেবারেই নতুন একটি আতঙ্ক। নিজের মোবাইল কখন হ্যাকাররা হ্যাক করছে তা টেরও পাওয়া যাচ্ছে না। যাদের মোবাইলে ইন্টারনেট ও ব্লুটুথ ব্যবহার হচ্ছে- তাদের মোবাইল হ্যাক করতে হ্যাকারদের খুব বেশি বেগ পেতে হচ্ছে না। যারা ইন্টারনেট ও ব্লুটুথ ব্যবহার করছেন না- তাদের মোবাইলও হ্যাক করছে হ্যাকাররা। এতে ব্যক্তিগত সব তথ্য কপি করে নিয়ে যাচ্ছে তারা। এমনকি আপনার নিজের নাম্বারটি ব্যবহার করে হ্যাকাররা অনায়াসে কথা বলে যাবে আপনি টেরও পাবেন না। সরজমিনে বিভিন্ন মোবাইলের কাস্টমার কেয়ার ঘুরে দেখা যায় প্রায় হরহামেশায় এই ধরনের অভিযোগ আসে। ফার্মগেটের গ্রামীণফোন কাস্টমার সেন্টারের এক কর্মকর্তা বলেন, মাঝে মাঝে আমাদের কাছে কাস্টমাররা অভিযোগ করে মোবাইলে টাকা রিচার্জ করার পর তা শূন্য হয়ে যায়। আমাদের কাছে অভিযোগ এলে আমরা হেড অফিসে জানাই। পরে অভিযোগটি যাচাই করে দেখা যায়, কখনও গ্রাহকের অজান্তেই বিভিন্ন প্যাকেজ চালু করার জন্য টাকা কাটা হয়। আবার অনেক সময় ক্লোনিং -এর মাধ্যমে টাকা তুলে নেয়া হয়। বিটিআরসির সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মোবাইল ফোন হ্যাকিংয়ের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অপরিচিত কোড(+৯) দিয়ে ফোন কল আসার বহু নজির রয়েছে। বাংলাদেশেও মোবাইল ফোন সিম ক্লোনিং -এর ঝুঁকি খুবই বেশি। এমন হতেই পারে ক্লোনিং কিংবা হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু বিষয়টি যাচাই না হওয়া এবং সচেতনতার অভাবের কারণে জানা যাচ্ছে না। আগে থেকে সতর্কতা মহল ব্যবস্থা নিলে দেশের কোটি কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শ্যামল বলেন, আমার নিজের মোবাইল থেকে একবার টাকা রিচার্জ করার পর ব্যালেন্স শূন্য হয়েগিয়েছিল। পরে কাস্টমার কেয়ারে ফোন দেয়ার পর সেখান থেকে কোন সঠিক উত্তর পাওয়া যায়নি। বিটিআরসির এক কর্মকর্তা বলেন, দেশে একই নাম্বারের সিম একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করছে। ক্লোন পদ্ধতিতে এই কাজটি করা হচ্ছে। এটা ধরা কঠিন কাজ না হলেও যন্ত্রপাতির অভাবে কাজটি করা যাচ্ছে না মোবাইল অপারেটরদের কাছে একাধিক অভিযোগ আসে। হ্যাকাররা মোবাইল ফোন সিমকার্ড ক্লোনিংয়ের জন্য ব্যবহার করছেন একটি ইউনিকোড। এই ইউনিকোডটি প্রথমে কলারের হ্যান্ডসেট কিংবা পিসি অথবা সার্ভারে মাদার ফাইল হিসাবে অ্যাকটিভ করা হয়। পরে ওই কোড নাম্বার যে কোন মোবাইল ফোন নাম্বারে প্রবেশ করালেই মোবাইল ফোন নাম্বারটি কপি হয়ে যাচ্ছে। অপরিচিত কোন নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে হ্যাকার নিজের পরিচয় দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট ফোন অপারেটরের গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের কর্মী হিসেবে এবং ফোন ব্যবহারকারীকে নেটওয়ার্ক নির্বিঘ্ন আছে কিনা তা যাচাই করতে বিশেষ কোডটি চাপতে অনুরোধ করছে। যিনি কলটি রিসিভ করেছেন তিনি কলারের কথামতো কোড চাপার সঙ্গে তার ফোন নম্বর ক্লোনিং হবে তেমনি তার ফোনের ডাটা কপি হতে শুরু করবে। এমনকি কলটি কেটে দিলেও কপি চলবে। ফোনের পাওয়ার সুইচ বন্ধ করা ছাড়া এই কপি বন্ধ করা সম্ভব না।
তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার বলেন, মোবাইল নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি। বহুদিন থেকে মোবাইল হ্যাকিং নিয়ে মানুষ ভোগান্তির মধ্যে থাকলেও বিটিআরসির কোন পদক্ষেপ নেই। শুধুমাত্র মোবাইল হ্যাকিংয়ের বিষয় নয় মোবাইল কোম্পানির আরও অনেক অভিযোগ থাকলেও বিটিআরসির পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নেই। মোবাইল অপারেটররা দানবের মতো আচরণ করছে আর বিটিআরসি নীরবে তা সহ্য করছে। তিনি আরও বলেন, আমার কাছে একজন ব্যক্তির অভিযোগ ছিল যার গ্রামীণফোনের সিমের মাধ্যমে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ ডলার সমপরিমাণ টাকা তুলে নিয়েছিল। গ্রামীণফোনের কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করলেও গ্রামীণফোনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নাকচ করে দেন।
হ্যাকররা শুধু ফোন করে গ্রাহকদের কোড নাম্বার চাপতে অনুরোধ করছে তাই নয়, তারা ওই কোড নাম্বার ব্যবহার করে কলও করছে। এক্ষেত্রে বিপদ আরও বেশি। এ ধরনের কল রিসিভ করার সঙ্গে সঙ্গে রিসিভারের হ্যান্ডসেটেরে সব তথ্য চলে যাবে হ্যাকারের কাছে। এ সংক্রান্ত একাধিক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী “#, + কিংবা *” দিয়েই ইউনিকোডের শুরু হয়। এ কারণে এ ধরনের প্রতীক দিয়ে শুরু যে কোন ধরনের কল গ্রহণ না করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। এছাড়া কেউ ফোন করে গ্রাহকসেবা কর্মী পরিচয় দিলেই তার কথা অনুযায়ী কাজ না করা। সম্প্রতি দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত জাতি সংঘের প্রতিষ্ঠান আইটিইউ (ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন)-র কাছে দাবি জানিয়েছে ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে নিতে অনুরোধ জানিয়ে ছিল। বাংলাদেশ, ভারত ও চীনের সঙ্গে আরও কয়েকটি দেশ বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ এই দাবির সঙ্গে একমত ছিল। কিন্তু আইটিইউ ২০১৫ সাল পর্যন্ত ইন্টারনেটের ওপর নিজ নিজ দেশের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে।
দেলোয়ারের বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে বলেছিলেন ‘ইউ উইল বি কিল্ড’
দেলোয়ারের বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে বলেছিলেন ‘ইউ উইল বি কিল্ড’
ওয়ান ইলেভেনের সময় দলের সংস্কারপন্থিদের স্বীকৃতি দেয়ার বৈঠকে অংশ নিতে মৃত্যুর হুমকি দেয়া হয়েছিল খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে। সামরিক বাহিনীর তৎকালীন ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার আমিন ও ব্রিগেডিয়ার বারী ২০০৭ সালের ২৮শে অক্টোবর তাকে ডেকেছিলেন ধানমণ্ডির একটি বাসায়। পরদিন সাইফুর রহমানের বাসায় অনুষ্ঠেয় বৈঠকে অংশ নিতে চাপ দিয়েছিলেন। তাদের প্রস্তাব ও হুমকিতে ভাবলেশহীন খোন্দকার দেলোয়ারকে একপর্যায়ে মারতে গিয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার আমিন। বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে বলেছিলেন- ‘ইউ উইল বি কিলড, ইউর ফ্যামিলি উইল বি ডেস্ট্রয়েড’। এমনভাবেই সে দুঃসহ দিনের বর্ণনা করেছেন তার মেয়ে ডা. লুনা খোন্দকার। সেদিন ছেলেকে গ্রেপ্তার করে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টাও করা হয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি অনুগত ও বিশ্বস্ত দেলোয়ার চিকিৎসার জন্য বারডেমে ভর্তি হয়ে সেখান থেকে কৌশলে করেছিলেন আত্মগোপন। তার এ অনমনীয় ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে অনিবার্য বিপর্যয় থেকে বেঁচে গিয়েছিল বিএনপি। তার এ সিদ্ধান্ত প্রশংসিত হয়েছে তাকে নিয়ে রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতিচারণে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে দেলোয়ার হোসেনের ভূমিকার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি উল্লেখ করেছেন, বিপরীত ধারার রাজনীতি করেও তারা ক্ষমতা এবং ক্ষমতার বাইরে থাকাকালে পরস্পরের বাড়িতে ছুটে গেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রফেসর হোসনে আরা হোসেন লিখেছেন মুক্তিযুদ্ধের সময় খোন্দকার দেলোয়ার কিভাবে মৃত্যুর ভয় উপেক্ষা করে ছুটে গিয়েছিলেন বড় ভাইয়ের কর্মস্থল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। খোন্দকার দেলোয়ারের মজলিসি চরিত্রের বর্ণনা করেছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়ার স্ত্রী আসমা কিবরিয়া। তার অনাড়ম্বর জীবন, চলাফেরা ও খাদ্যাভাসের স্মৃতি তুলে ধরেছেন সাংবাদিক আতাউস সামাদ, নূরুল কবীর, সাবেক মন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার প্রফেসর ড. আবদুল করিম। ওয়ান ইলেভেনের সময় পরিবারের ওপর চাপ ও ২৯শে অক্টোবরের আত্মগোপন নিয়ে লিখেছেন তার অনুজ রাজনৈতিক সহকর্মী মহিউদ্দিন খান মোহন, জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, ছেলে খোন্দকার আকতার হামিদ পবন ও মেয়ে ডা. লুনা খোন্দকার। জরুরি সরকারের আমলে রাজনৈতিক দুঃসময়ে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের একনিষ্ঠ ও সাহসী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বাণী দিয়েছেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম তার স্মৃতিচারণে লিখেছেন- ‘এরশাদবিরোধী আন্দোলনের উত্তেজনাকর মুহূর্তগুলোতে আমার ধানমণ্ডির বাসায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৫ দল ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৭ দলের লিয়াজোঁ কমিটির অনেক গোপন বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে সব সময় খোন্দকার দেলোয়ার সাহেব উপস্থিত থাকতেন। আন্দোলনকে সফলতার দিকে এগিয়ে নিতে কর্মসূচি নির্ধারণে তার বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা ও আন্তরিকতা ছিলো লক্ষণীয়। ...জাতীয় সংসদে প্রকাশ্য ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি ঐতিহাসিক ঘোষণার মধ্য দিয়ে ’৯১ সালে বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করে। ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংসদীয় গণতন্ত্রের বিল পাস হলেও এর পেছনে অনেকের অবদান ছিল। এদের একজন ছিলেন খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন সাহেব। যা অবশ্যই আজ আমাকে বলতে হবে। ... ’৯২ সালে গোলাম আযমসহ অন্যদের গ্রেপ্তার ও বিচারের ব্যাপারে বিরোধী দল হিসেবে আমরা সংসদ থেকে ওয়াক আউট করি। পরে লাগাতার বর্জন শুরু করি। দীর্ঘ বর্জনের এক পর্যায়ে খোন্দকার দেলোয়ার সাহেব আমার সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে সংসদের একটি কক্ষে আলোচনায় বসেন। এরই ধারাবাহিকতায় আমি তাকে আমার ধানমণ্ডির বাসায় অনানুষ্ঠানিক আলোচনার আমন্ত্রণ জানালে তিনি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে অচলাবস্থা নিরসনে আমার বাসায় আসেন। আমাদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তদানীন্তন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কক্ষে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এ প্রেক্ষিতে সরকারি দলের তদানীন্তন উপনেতা ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী গোলাম আযমের বিচারসহ চারটি বিষয়ে সংসদের উন্মুক্ত অধিবেশনে ঘোষণা দান করেন। আর এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দলের দীর্ঘদিনের সংসদ বর্জনের অবসান ঘটে।’ কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম লিখেছেন- ‘খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর এত প্রশংসা যারা করলেন, তারা তার জীবিতকালে অমন সীমাহীন জঘন্য সমালোচনা না করলেই কি পারতেন না? আজ যারা গলা ফাটিয়ে কথা বলেন তারা কিন্তু ওয়ান ইলেভেনের জরুরি অবস্থার সময় ইঁদুরের গর্তে লুকিয়েছিলেন। সেদিন এই খোন্দকার দেলোয়ারই একজন নির্ভীক রাজনীতিবিদের মতো সিংহের তেজে মাঠে-ময়দানে ছিলেন। তার নিজের দল বিএনপিতেও তিনি কম অপমানিত-লাঞ্ছিত হননি।’
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন লিখেছেন- ‘রাজনীতির বাইরেও তার সাথে আমার একটা আলাদা সম্পর্ক ছিল উভয়ের নামের শুরুতে ‘খোন্দকার’ থাকার কারণে। আমি তাকে সব সময় ‘সিনিয়র খোন্দকার সাহেব’ বলে সম্বোধন করতাম। তিনি সব সময় মিষ্টি হেসে তা উপভোগ করতেন। ... প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর স্বৈরাচারী এরশাদ যখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে শামসুল হুদা ও ডা. মতিনের মাধ্যমে ঢাকা মিরপুরের বিউটি সিনেমা হলে বিএনপি নামে একটি সম্মেলন করে বিভক্ত করতে অপচেষ্টা করেছিল, তখন যে কয়জন নেতা বিএনপি’র মূলধারা শহীদ জিয়ার রাজনীতিকে সমুন্নত রেখেছিলেন তাদের মধ্যে খোন্দকার দেলোয়ারের নাম উল্লেখযোগ্য। ... বিভিন্ন সংস্থা ও মহল তাকে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার জন্য হেন চেষ্টা নেই যা করেনি। এমন চাপের মুখে তিনি সেদিন এক বিবৃতিতে বলেছিলেন যে, তার মৃত্যু হতে পারে তবুও তাকে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে সরানো যাবে না। সেদিন আমরা কারাগারে থেকে উৎসাহিত হয়েছিলাম এবং আশ্বস্ত হয়েছিলাম।’ স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস লিখেছেন- ‘সারাজীবন খোন্দকার দেলোয়ার যেসব বন্ধুর সাথে রাজনীতি করেছেন, চিন্তা-ভাবনা ও মতবিনিময় করেছেন, নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন রাজনৈতিক আলাপচারিতায়- ১/১১ পর সেই বন্ধুরা চক্রান্তকারীদের এজেন্ট হয়ে দলের চেয়ারপারসনের গলায় ছুরি বসাতে তৎপর হয়ে ওঠে সংস্কারপন্থির খোলস পরে। দেলোয়ার ভাই তখন সেই বন্ধুদের সঙ্গ ত্যাগ করে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়েছিলেন অসীম সাহসিকতায়, আদর্শিক চেতনায়, কৃতজ্ঞতাবোধের ঈমানি দায়িত্বে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদ লিখেছেন- ‘এই পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ থাকেন যাদের স্বরূপটা সুস্পষ্ট হয় অসময়ে, সঙ্কটকালে, অনিশ্চিত মুহূর্তে অপ্রত্যাশিত ক্ষণে। তিনি যে আপাদমস্তক রাজনীতিক ছিলেন, তার নিজের দলের প্রতি অত্যন্ত বিশ্বস্ত ছিলেন, দলীয় নেতৃত্বের প্রতি অনুগত থেকে দলীয় আদর্শকে প্রাণপণে ভালবাসতেন তার প্রকাশ অন্য সময়ে যেমন ছিলো, তার হাজার গুণ বেশি প্রকাশিত হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চরম সঙ্কটকালে।... ওই সময়ে তার সাহস, তার আত্মবিশ্বাস, তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ছিলো তুলনাহীন। তিনি ওই সঙ্কটকালে শক্তভাবে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে এবং দুর্ভেদ্য দেয়াল হয়ে না দাঁড়ালে জাতীয়তাবাদী দলের বিপর্যয় ঘটে যাওয়া অসম্ভব ছিলো না।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী লিখেছেন- ‘জাতীয়তাবাদী ঘরানার মধ্যপন্থি, উদার, বাম ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি ছিল তার নিত্যসঙ্গী। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের যে মৌলিক শিক্ষা, শহীদ জিয়ার যে আদর্শিক অনুপ্রেরণা, বেগম খালেদা জিয়ার যে দিক নির্দেশনা-তা ছিল খোন্দকার দেলোয়ারের মূল শক্তি ও প্রেরণা। এই প্রেরণার পথে তিনি চলেছেন সারাজীবন, আমৃত্যু। ... যখন ১/১১ পর একটি বিতর্কিত ও ক্ষতিকর সরকার রাষ্ট্র দখল করে এবং বেগম জিয়া, তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারকে ধ্বংসের সর্বাত্মক আক্রমণ ও ষড়যন্ত্র চালায়- তখনও খোন্দকার দেলোয়ার ছিলেন আপসহীন, অটল। দল ও নেতৃত্বের প্রতি এমন শর্তহীন বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য বর্তমান সময়ে এক বিরল ও অনুকরণীয় উদাহরণ।’ আতাউস সামাদ লিখেছেন- ‘খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন রাজনীতিতে নমনীয়তা এবং সহাবস্থানের পক্ষে ছিলেন। চিফ হুইপ হিসেবেও তিনি সমঝোতার পক্ষে কাজ করতেন বলে শুনেছি। অতি আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই নমনীয় খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনই অত্যন্ত দৃঢ়তা ও দুঃসাহসের সঙ্গে ১/১১’র জরুরি আইনের সরকারের পেছনের সেনাশাসকরা বিএনপি ভাঙার জন্য যে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছিল, যাতে তৎকালীন নির্বাচন কমিশন সরাসরি সহায়তা দিয়েছিল, তা প্রতিহত করেছিলেন। আর তা করেছিলেন বৃদ্ধ বয়সে এবং ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়ে।’ সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার স্ত্রী আসমা কিবরিয়া লিখেছেন- ‘বিচিত্র এই জীবনের চলার পথে চলতে চলতে কত মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়, আবার হঠাৎ কেউ হারিয়ে যায়। কিন্তু আবার কেউ কেউ হারিয়ে গেলেও তাদের কথা ভোলা যায় না। তেমনি দেলোয়ার ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় আমার স্বামী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে। বিয়ের পর থেকে আমার স্বামীর কাছ থেকে দেলোয়ার ভাইয়ের এত কথা, এত গল্প শুনেছি, তাই উনার সঙ্গে আমার স্বামী যখন আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন তখন মনে হয়েছে উনি আমার বহু পরিচিত। প্রথম দেখাতেই পরিচয় পেয়েছি তার উদার ও অমায়িক ব্যবহারের। মুখে তার হাসি লেগেই থাকতো এবং শুনেছি ওরা দু’জন খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। ইউনিভার্সিটিতে একই সঙ্গে পড়াশোনা করেছেন। তারা দু’জন ছাত্রজীবনে একই সঙ্গে গল্প করতেন, ঘুরে বেড়াতেন। আমার স্বামী প্রায়ই বলতেন আমাকে- ‘দেলোয়ারের মনটা খুব পরিষ্কার। দেলোয়ার ভাই খুব ভাল গল্প বলতে পারতেন। আর বন্ধু-বান্ধবের সান্নিধ্য তার খুব প্রিয় ছিল। ... ২৭শে জানুয়ারি সেই কালরাত্রিতে আমার স্বামীকে যখন গ্রেনেডের আঘাতে মৃত্যুবরণ করতে হলো সেদিন দেলোয়ার ভাই ও তার পরিবার ছুটে এসেছিলেন আমাদের সান্ত্বনা দেয়ার জন্য।’ সাংবাদিক শফিক রেহমান ‘জিরো আওয়ার’ অনুষ্ঠানে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন- ‘তিনি ছিলেন একজন ক্লাসিক্যাল পলিটিশিয়ান।’ ...বেগম খালেদা জিয়া খুব স্বল্পভাষী ও মৃদুভাষী। তবুও আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, খোন্দকার দেলোয়ার যে সাহসী এটা আপনি বুঝলেন কি করে? তিনি (খালেদা জিয়া) আমাকে বললেন, এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি জেনেছিলেন যে খোন্দকার দেলোয়ার একজন সাহসী লোক। আমি বায়তুল মোকাররমে তাকে দেখেছি পুলিশ যখন লাঠিপেটা করছিল তখন তিনি পালিয়ে না গিয়ে পুলিশের সামনে গিয়েছিলেন এবং লাঠির বাড়িও খেয়েছিলেন।’ নূরুল কবীর লিখেছেন- ‘এমন মানুষকে, রাজনৈতিক-দার্শনিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও, পছন্দ না করেও পারা যায় না। আমিও দেলোয়ার ভাইকে পছন্দ করতাম। তার সহজ-সরল অনাড়ম্বর জীবন-যাপনের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করতাম।’ কণ্ঠশিল্পী আপেল মাহমুদ লিখেছেন- ‘দেশের জন্য, মানুষের জন্য বিভিন্ন সময়ে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। আজ দলের যে অবস্থান এই বিশাল ব্যাপ্তির জন্য সিংহভাগ কৃতিত্ব আমাদের শ্রদ্ধেয় মরহুম দেলোয়ার ভাইয়ের।’ যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল লিখেছেন- ‘কি এক জাদুকরী ব্যক্তিত্ব! তার সাথে রাগ করা যায় কিন্তু অশ্রদ্ধা করা যাবেই না। ঘৃণার তো প্রশ্নই আসে না। নীতি এবং বিশ্বাসবোধ এর ভিত্তি কতটা দুঃসাহসী এবং অনমনীয় করতে পারে একজন মানুষকে, তার বিরল দৃষ্টান্ত তিনি। যথার্থই এক সংশপ্তক। ... তিনি যেন একটি রাজনৈতিক বিজ্ঞানাগার। কেউ ছাত্র হতে চাইলে সে পরম মমতাময় একজন শিক্ষক পেতেন, রাজনীতি শিখতে চাইলে সে অকৃপণ হাতের ভাণ্ডার নিতে পারতেন, হতাশায় নুয়ে পড়া কেউ কাছে গিয়ে নিষ্কলুষ স্বীকারোক্তি দিলে আশার সঞ্জীবনী সুধা নিয়ে ফিরতে পারতেন।’
খোন্দকার দেলোয়ারের বড় ছেলে ড. খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলুর সম্পাদনায় স্মারকগ্রন্থে স্মৃতিচারণ লিখেছেন- দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, ড. মাহফুজ পারভেজ, বিএনপি ও অঙ্গ দলের নেতা হাবিব-উন নবী খান সোহেল, নুরে আরা সাফা, কবীর মুরাদ, মীর সরফত আলী সপু, আরিফুর রহমান নাদিম, এডভোকেট জিল্লুর রহমান, শাকিল ওয়াহেদ, আবুল কালাম আজাদ, ড. খাজা নাজিমউদ্দীন, খোন্দকার দেলোয়ারের ছেলে এএইচ খোন্দকার জগলু, ডা. আকতারা খাতুন লুনা, খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলু, ডা. দেলোয়ারা বেগম পান্না, ডা. লুনা খন্দকার প্রমুখ। এছাড়াও স্মারকগ্রন্থে দেশে-বিদেশে খোন্দকার দেলোয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তোলা ও পারিবারিক ছবি, তার মৃত্যুতে বিদেশী দূতাবাসের শোকবার্তা এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কাটিং রয়েছে।
Subscribe to:
Posts (Atom)







