Pages

Sunday, February 10, 2013

‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা হলে আমি সাক্ষ্য দেবো’

‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা হলে আমি সাক্ষ্য দেবো’


সব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেছেন, এ বিচারের দাবিতে গণজাগরণ শুরু হয়েছে শাহবাগের প্রতিবাদের মাধ্যমে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রেখে রাজাকারদের ফাঁসি দেয়া যায় না। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রাজাকার উল্লেখ করে আগামীকালের (আজকের) মধ্যে তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। বর্তমান স্বরাষ্টমন্ত্রী যুদ্ধের সময় পাকিস্তান প্রশাসনের পক্ষে কাজ করেছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিচার হলে আমি নিজে সাক্ষ্য দেবো।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিষয় উল্লেখ করে বীরউত্তম খেতাব পাওয়া এ মুক্তিযোদ্ধা বলেন, একজনের অপরাধ কম তাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে আর আরেকজনের অপরাধ বেশি, তাকে দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন। এটা আপস হয়েছে।
গতকাল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলে উদ্বোধনী ও সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট চত্বরে এ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে কাউন্সিলের উদ্বোধন করেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি সাবেক প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, জাতীয় পার্টি (জেপি) মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম, বঙ্গবীরের স্ত্রী বেগম নাসরিন সিদ্দিকী, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বীরপ্রতীক প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টি (জেপি)’র চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, জাতীয় পার্টি (জাপা)’র প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। কাউন্সিলে আওয়ামী লীগকে দাওয়াত দিলেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে কোন প্রতিনিধি উপস্থিত হননি বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেন, জামায়াতে ইসলাম যদি মনে করে তারা পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলাম, তাহলে বাংলাদেশে তাদের ঠাঁই নাই। তারা ঘাতক। আর যদি দলটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হয় তাহলে তাদের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য মাঠে নামতে হবে। এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সব ইসলামী দলই জামায়াত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, শাহবাগের সমাবেশ যদি নিরপেক্ষ হয় আমি সঙ্গে আছি। আর যদি আওয়ামী লীগের হয়, আমি এ সমাবেশকে ঘৃণা করি। আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজাকাদের ফাঁসি আমিও চাই। কিন্তু এক রাজাকারের ফাঁসি আরেক রাজাকার দিতে পারে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে কেউ যোগদান করলে হয় মুক্তিযোদ্ধা আর অন্য দলে যোগ দিলে হয় রাজাকার। বড় দুটি দল দেশের রাজনীতি ধ্বংস করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের যুবকরা শাহবাগে প্রতিবাদ করতে নেমেছে। তাদেরকে দমিয়ে রাখা যাবে না। সরকার প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এটাকে আওয়ামীকরণ করার চেষ্টা চলছে। দলীয়করণ করলে ভবিষ্যতে মুশকিলে পড়তে হবে। ভুল করবেন। তিনি বলেন, যে রায় হয়েছে তাতে জনগণ সন্তুষ্ট নয়। দলীয় সরকারে অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবেন না। জাতীয় নেতৃবৃন্দকে এক সঙ্গে বসে একটা সমাধান করতে হবে।
কাউন্সিলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, মহাজোট সরকারকে বিতাড়িত করতে এখন একটি জাতীয় ঐক্যের দরকার। বৃহৎ জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটাতে হবে। বুলেটে নয়, ব্যালটে এ সরকারকে পরাজিত করতে হবে। আ স ম আবদুর রব বলেন, নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগ্রত হচ্ছে। বিশেষ একটা গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের শক্তি কুক্ষিগত করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। শাহবাগের আন্দোলনের ফসল কেউ নিজের ঘরে নেয়ার চেষ্টা করছেন। এজন্য সচেতন থাকতে হবে ব্যক্তি ও দলের প্রতি। চোরাবালিতে যেন এ আন্দোলন হারিয়ে না যায়। যারা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তাদের বাংলাদেশের ঠাঁই নাই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অবশ্যই বাংলার মাটিতে করতে হবে। তিনি বলেন, বৃটিশ আইন দিয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচার হবে না। নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও আইন পরিবর্তন করতে হবে।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি আমাদের মুক্তি দিতে পারে না। দুটি দল বাদে বাকি সব দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তাদের নিয়ে ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে। বিএনপি খুব হিসাবি দল। হিসাব করে চলে। তারা সাপও মারে না লাঠিও ছাড়ে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগও এদেশে কোন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল নয়। যদি পক্ষের দল হতো তাহলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে হাস্যকর রায় আসতো না।

পাসপোর্টে পুলিশি ভেরিফিকেশন থাকছে না

পাসপোর্টে পুলিশি ভেরিফিকেশন থাকছে না


পাসপোর্ট ইস্যুতে পুলিশি ভেরিফিকেশন থাকছে না। হয়রানি বন্ধে ও সময়ক্ষেপণের কারণে এ শর্ত বাতিল করা হচ্ছে। এর পরিবর্তে এলাকার মেম্বার বা পৌর কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা পৌরসভার মেয়রের প্রত্যয়নপত্র গুরুত্ব পেতে যাচ্ছে। যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে- সঠিক ঠিকানা বা নাগরিকদের প্রত্যয়নের জন্য আবেদন ফরমে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে টিআইএন নম্বর সংযুক্ত করতে হয়। আবেদন ফরমটি সরকার নির্ধারিত দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা কর্মকর্তা দ্বারা ছবিসহ প্রত্যয়ন করতে হয়। এসব তথ্য দেয়ার পর পুলিশ ভেরিফিকেশনের কোনও প্রয়োজনীয়তা থাকতে পারে না। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সংসদে জানানো হয়, পাসপোর্টের জন্য ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। এটা শেষ হলে পুলিশি যাচাইয়ের দরকার হবে না। এদিকে ৩রা ফেব্রুয়ারি পুলিশি যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করতে সংসদ অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উত্থাপন করা হয়। এমপি রফিকুল ইসলাম সংসদে নোটিস দেন। এতে বলা হয়, পুলিশ প্রতিবেদনের বাধ্যবাধকতা থাকায় চাকরি চিকিৎসা, পড়ালেখা ইত্যাদিসহ বিভিন্ন উদ্দেশে বিদেশে গমনেচ্ছুক পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের হয়রানির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অভিযোগ আছে- সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা উপজেলা হেডকোয়ার্টারের বসেই ভেরিফিকেশন রিপোর্ট তৈরি করেন। এ ক্ষেত্রে কিছু অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও আছে। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগী বা বিদেশে চাকরি নিয়ে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা ও লেখাপড়ার জন্য দ্রুত বিদেশে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীদের অনেকেই চরম ভোগান্তির শিকার হন। বহু মানুষ অপূরণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। প্রতি উপজেলায় একজন মাত্র পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষে সত্যিকার ভেরিফিকেশন অসম্ভব হয়ে পড়ে।
মন্ত্রণালয়-কমিটি চিঠি চালাচালি: এর আগে বিষয়টি নিয়ে সংসদীয় কমিটি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চিঠি চালাচলি হয়। উপস্থাপন করা হয় যুক্তি-পাল্টা যুক্তি। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় কমিটি পুলিশি যাচাইয়ে আপত্তি জানিয়ে বলে, পুলিশের তদন্তর চেয়ে স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধির অঙ্গীকারনামা অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য ও শ্রেয়। বর্তমানে অনেক অবৈধ পাসপোর্ট রয়েছে। প্রচলিত ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেই এমনটি সম্ভব হয়েছে। সংসদীয় কমিটির সুপারিশের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে মন্ত্রণালয় একটি প্রতিবেদন দেয়। এতে বলা হয়, পাসপোর্ট সংক্রান্তে পুলিশের ভেরিফিকেশন পদ্ধতি বাতিল করা হলে অবৈধভাবে পাসপোর্ট নেয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষণ্ন হবে। পুলিশ ভেরিফিকেশনের বিধি অনুযায়ী সরজমিন অনুসন্ধান করতে গিয়ে পাসপোর্ট আবেদনকারীর জন্ম তারিখ, পেশা, পিতামাতা সংক্রান্ত তথ্য, বৈবাহিক অবস্থা, আবেদনকারী কালো তালিকাভুক্ত কি না, তার আগের পাসপোর্ট সংক্রান্তে তথ্য গোপন করেছেন কি না ইত্যাদি। এসব তথ্য যাচাই করে আবেদনকারীর অনুকূলে প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট অফিসে পাঠানো হয়। এতে আরও বলা হয়েছে, প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রথমবার একজন নাগরিক পাসপোর্ট আবেদন করলে পুলিশ ভেরিফিকেশন করে। কিন্তু সমর্পণ বা সারেন্ডার পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন হয় না। এতে প্রথমবার পাসপোর্ট ইস্যু করার সময় ভেরিফিকেশন না করা হলে একজন আবেদনকারী ভুয়া তথ্য সরবরাহ করে বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে পাসপোর্ট গ্রহণ করলে এ নিয়ে যাচাই-বাছাই করার সুযোগ থাকে না। পরে তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। মন্ত্রণালয় তাদের সুপারিশে জানিয়েছে, সার্বিক দিক বিবেচনা করে প্রচলিত ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা যেতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের ওই যুক্তি ধোপে টিকছে না।

Saturday, February 9, 2013

খেলোয়াড় বিদ্রোহের প্রায়শ্চিত্ত করলো রাজশাহী: খুলনার সাত উইকেটের জয়

বিদ্রোহের প্রায়শ্চিত্ত করলো রাজশাহী: খুলনার সাত উইকেটের জয়


ক্রিকেটারদের বিদ্রোহের প্রায়শ্চিত্ত করলো দুরন্ত রাজশাহী গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত খেলায় পয়েন্ট টেবিলে সবার নিচে থাকা খুলনা রয়েল বেঙ্গলসের কাছে ৭ উইকেটে হেরে। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিকেলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এ খেলায় হার জিতকে ছাপিয়ে যায় দুরন্ত রাজশাহীর বিদেশিদের খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনা।

রাজশাহী শেষ পর্যন্ত পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামতে সক্ষম হলেও খেলা শুরুর ২০ মিনিট আগে বিদেশিরা খেলতে রাজি হচ্ছিল না। বিদেশি ক্রিকেটাররা পাওনা অর্থ অনাদায়ে খেলতে অসম্মতি জানালেও পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হস্তক্ষেপে মাঠে নামে। এ ঘটনা পুরো বিপিএলের উপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। কেননা বিপিএল শেষের পথে অথচ এখনো বিদেশিরা প্রথম কিস্তির টাকাই পায়নি। তাই কাল রাজশাহী সাত বিদেশি এক প্রকার বেঁকেই বসে। খেলা শেষে দলের নিয়মিত অধিনায়ক চামারা কাপুগেদারা এর ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, 'বিপিএল শেষের পথে অথচ আমরা যারা বিদেশি আছি তারা কোন টাকা-পয়সাই পায়নি। তাই আজ (কাল) আমরা সিদ্ধান্ত নেই টাকা না পেলে মাঠে নামবো না। পরে বিসিবি চেয়ারম্যান আমাদেরকে মূল বিষয়টি জানিয়েছেন। তাই পরে মাঠে নেমেছি'।

খেলোয়াড়দের কিস্তির প্রথম অংশের টাকা বিপিএল শুরুর সময় দেয়ার কথা থাকলেও ফ্রাঞ্চাইজিরা সময়মত বিসিবির কাছে সেই টাকা জমা দেয়নি। ফলে খেলোয়াড়রাও সময়মত টাকা পায়নি। তবে টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকছে- এই আশ্বাসে শেষ পর্যন্ত বিদেশিরা মাঠে নামে। কিন্তু আধ ঘন্টার এই নাটকের জন্য দলের পারফর্মেন্সও খারাপ হয়েছে। যদিও কাপুগেদারা সেটি মানতে নারাজ, 'আমি মনে করি না এই ঘটনা ম্যাচে প্রভাব ফেলেছে। খেলোয়াড়রা চেষ্টা করেছে কিন্তু পারেনি। আশা করছি পরের ম্যাচগুলোতে খেলোয়াড়রা দুর্দান্তভাবে ফিরে আসবে'। ঘটনাবহুল এ খেলায় খুলনার অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফিসও উঠে আসেন আলোচনায়। কেননা কাল তিনি নিয়মিত অধিনায়ক হিসেবে খুলনাকে নেতৃত্ব দেননি। বরং রিকি ওয়েসেলসকে দায়িত্ব দিয়ে অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ান নাফিস এবং ভারমুক্ত এই ব্যাটসম্যান এবারের বিপিএলের তৃতীয় ফিফটি করেন। কাল খেলা শেষে নাফিস বলেন, 'আমি মাঠে আসার সময় টিম ম্যানেজম্যান্টকে ফোনে বলেছি আর অধিনায়কত্ব করতে চাই না। ম্যাচ জিততে হলে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলগত নৈপুণ্য অনেক বেশি দরকার। আমি অধিনায়কত্ব ছেড়ে নিজের মত খেলার চেষ্টা করবো'। এবারের বিপিএলের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান নাফিসের ব্যাট থেকে আসে ৫১ বলে তোলা ৭৭ রানের ইনিংস। ফলে রাজশাহীর ১৩৮ রানের জবাবে নাফিস, শ্রীলংকান জিহান মুবারক (২৭ বলে ৩০) ও ট্রেভিস ব্রিট (২৬ বলে ২৩) মিলে চার বল বাকি থাকতে খুলনাকে জিতিয়ে দেন সাত উইকেটে। নাফিস নিজের ব্যাটিং নিয়ে বলেন, 'আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) প্রথম পর্ব খেলিনি। তখন নাজমুল আবেদিন ফাহিম স্যারের কাছে অনেক কিছু শিখেছি। ওটাই আমার কাজে দিয়েছে। মূলত তখন থেকে আমার ব্যাটিং অনেক উন্নত হয়েছে'।

কালকের এ জয়ের পর খুলনার সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে দশ খেলায় ৬ পয়েন্ট। শেষ চারের স্বপ্ন নষ্ট হয়েছে গত ম্যাচেই। তাই বিপিএলটা জয় দিয়ে শেষ করতে চান নাফিস। এদিকে খুলনার আশা না থাকলেও শেষ চারে যাওয়ার ভালো সুযোগ অপেক্ষা করছে দশ খেলা শেষে সমানসংখ্যক পয়েন্ট পাওয়া রাজশাহীর সামনে। মুক্তার আলির ৩০ বলে ৪১ রান, শেষ পর্যন্ত দলকে ১৩৮ রানের সম্মানজনক স্কোর এনে দিয়েছে। নইলে দলটি এক পর্যায়ে ৮৪ রানে ছয় উইকেট খুইয়ে বসেছিল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

দুরন্ত রাজশাহী- ২০ ওভারে ১৩৮/৯ (মুক্তার অপ: ৪১, আরভিন ২৩, কাপুগদোরা ১৮, সান্তোকি ৩/১৮, সাঞ্জামুল ২/১৫, নুর ২/২১)।

খুলনা রয়েল বেঙ্গলস- ১৯.২ ওভারে ১৪০/৩ (নাফিস ৭১, মুবারক অপ: ৩০, ব্রিট ২৩, এডমন্ডসন ২/২৯)।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শাহরিয়ার নাফিস।

ফল: খুলনা রয়েল বেঙ্গলস জয়ী ৭ উইকেটে।

Friday, February 8, 2013

আবারও রংপুর রাইডার্সকে হারাল সিলেট রয়্যালস

আবারও রংপুর রাইডার্সকে হারাল সিলেট রয়্যালস


বিপিএলের ১৯তম ম্যাচে রংপুর রাইডার্সকে ৫ উইকেটে হারিয়েছিল সিলেট রয়্যালস। আজ দ্বিতীয়বারের মতো এই নবাগত দলটিকে হারের স্বাদ দিয়েছে মুশফিকুর রহিমের দল। ১৯৮ রানের বড় লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ১ ওভার হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় সিলেট। এই জয় দিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থানটা বেশ ভালোমতোই ধরে রাখল তারা।
জয়ের জন্য ১৯৮ রানের বড় লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ঝড়োগতিতেই শুরু করেছিলেন সিলেটের দুই বিদেশী ওপেনার শিবনারায়ন চন্দরপল ও পল স্টার্লিং। প্রথম ২৬ বলে তাঁরা যোগ করেছিলেন ৪৮ রান। পঞ্চম ওভারে ২০ রান করে আউট হন স্টার্লিং। দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে জুটি বেঁধে ঝড়ো ব্যাটিং অব্যাহত রাখেন চন্দরপল। মাত্র ২৩ বলে তাঁরা সংগ্রহ করেন ৪৫ রান। নবম ওভারের প্রথম বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান চন্দরপল যখন সাজঘরে ফেরেন তখন দলীয় স্কোরবোর্ডে জমা হয়ে গিয়েছিল ৯৩ রান। ২৯ বলে ৫১ রানের ঝড়ো এক ইনিংস খেলে আউট হন চন্দরপল। দুই ওভার পরে নাজমুল হক মিলনও সাজঘরে ফিরলে জয়ের আশা খানিকটা কমে যায় সিলেটের। তবে তারপরও দারুণ ব্যাটিং করে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যাচ্ছিলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ১৬তম ওভারে মুশফিক সাজঘরের পথ ধরলে তীরে এসে তরী ডোবার আশঙ্কায় দুলতে থাকে সিলেট শিবির। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৬ রানের ইনিংস খেলেছেন অধিনায়ক মুশফিক। তবে শেষপর্যায়ে মমিনুল হক ও এলটন চিগুম্বুরার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের সুবাদে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় সিলেট। মমিনুল ২৩ ও চিগুম্বুরা ২৭ রান করে অপরাজিত ছিলেন।

Wednesday, February 6, 2013

স্বর্ণের সৃষ্টিতে ব্যাকটেরিয়া!

স্বর্ণের সৃষ্টিতে ব্যাকটেরিয়া!

সেই অনাদিকাল থেকেই মানুষের কাছে অত্যন্ত দামি এক ধাতু হিসেবে কদর রয়েছে স্বর্ণের। কিন্তু ভূগর্ভ থেকে খনিজ সম্পদ হিসেবে উত্তোলিত স্বর্ণ আসলে ঠিক কী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে স্বর্ণ হয়ে ওঠে তা পৃথিবীর মানুষের কাছে এখনও অনেকটা রহস্যের মতোই রয়ে গেছে। আর রহস্যময় এই জগতের মাঝে এবার কিছুটা হলেও আলোর সন্ধান পেয়েছেন কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। মূলত খনিজ হিসেবে আহোরিত স্বর্ণপিণ্ডের মাঝে অতিমাত্রায় ব্যকটেরিয়ার উপস্থিতি নিয়ে গবেষণা করতে যেয়েই ভূগর্ভে স্বর্ণের আয়ন থেকে স্বর্ণপিণ্ডের উদ্ভবে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা খুঁজে পেয়েছেন এই গবেষকরা। তাদের মতে পানিতে দ্রবীভূত স্বর্ণের আয়নকে পরিবর্তিত করতে ডেলফসিয়া অ্যাসিডোভোরানস নামের বিশেষ এক ধরনের ব্যকটেরিয়ার ভূমিকা থাকতে পারে। গবেষণাগারে দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ ও ফলাফল বিশে¬ষণে এই গবেষকরা দেখতে পান, এ ধরনের ব্যাকটেরিয়া ভূগর্ভে স্বর্ণের আয়নের সংস্পর্শে আসার পর বিশেষ এক ধরনের উপাদান নিঃসরণ করে। মূলত স্বর্ণের আয়নে যে বিষাক্ত উপাদান থাকে তা থেকে নিজেদের রক্ষা করতেই ডেলফসিয়া অ্যাসিডোভোরানস জাতের এই ব্যাকটেরিয়ারা বিশেষ এই উপাদানটির নিঃসরণ ঘটায়। এর ফলে এ ধরনের ব্যাকটেরিয়ার চারপাশে এক ধরনের বর্ম তৈরি হয়। এতে একদিকে যেমন ব্যাকটেরিয়াগুলো রক্ষা পায় অন্যদিকে এই একই উপাদান স্বর্ণের বিষাক্ত আয়নকেও স্বর্ণকণায় রূপান্তরিত করে। পরবর্তী সময়ে ভূপৃষ্ঠের চাপ ও অন্যান্য নানা অনুঘটকের প্রভাবে এই স্বর্ণকণা থেকে সৃষ্টি হয় স্বর্ণপিণ্ডের। কাজেই স্রেফ রোগসৃষ্টিকারী জীবাণু ভেবে যারা এতদিন ধরে ব্যাকটেরিয়াকে শুধু আপদ বলেই ভেবেছেন এবার স্বর্ণের সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখার বিষয়টি স্বীকৃত হলে সেই ব্যাকটেরিয়ার কোনো কোনো প্রজাতিকে হয়তো মানুষ সমীহের চোখেও দেখবে।

বিপিএলে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ঢাকার

বিপিএলে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ঢাকার


বিপিএলে প্রথম আসরে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের করা ২০৮ রান ছিল সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। দ্বিতীয় আসরে গ্ল্যাডিয়েটর্সের ব্যাটিং আরও দূর্দান্ত। এরই মধ্যে তারা তিনবার ২’শ ছাড়িয়েছে। গতকাল রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স রেকর্ডটাই বদলে দিয়েছে। তাদের চার উইকেটে করা ২১৭ রান শুধু এই আসরে নয়, দুই আসরেরই দলীয় সর্বোচ্চ। এবার খুলনার বিপক্ষে ২০৪/৪ রান, এরপর এই রংপুর বিপক্ষেই তারা করে ২০২/৫ রান। তবে এ আসরে ঢাকার রেকর্ড ভেঙ্গে ২১৩ রান করে দুরন্ত রাজশাহী। ওই ম্যাচে ২০৯ রান করে বরিশাল বার্নার্স। গতকাল ক্রিকেটার আনামুল হক বিজয়ের দ্বিতীয় ফিফটিতে ভর করে ঢাকা ২’শ ছাড়ানো স্কোর গড়ে। বিজয় ৬টি চার ও ৫টি ছয়ের মারে ৮৩ রানে আউট হন। তার সঙ্গে ইনজুরি থেকে ফেরা সাকিব করেন ৪২ রান। সাকিব ২৪ বলে ৪২ রান করে আউট হলেও ২২ বলে ৪২ করে অপরাজিত থাকেন স্টিভেন্স। দু’জনই দু’টি করে ছক্কা হাঁকান।

Tuesday, February 5, 2013

বিপিএলে লড়াইয়ে টিকে থাকল বরিশাল

বিপিএলে লড়াইয়ে টিকে থাকল বরিশাল


পয়েন্ট তালিকার সবচেয়ে নিচের দুইটি দল বরিশাল বার্নার্স ও খুলনা রয়েল বেঙ্গলস আজ মুখোমুখি হয়েছিল একেবারে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে। শেষ চারে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখতে জয়টা খুবই প্রয়োজন ছিল দুই দলেরই। আর এই লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছেন বরিশালের ক্রিকেটারেরা। পাকিস্তানি অলরাউন্ডার আজহার মেহমুদের দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরমেন্সের ওপর ভর করে ৭ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয় বরিশাল। বল হাতে ৩ উইকেট শিকারের পর ব্যাট হাতেও ৫২ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেছেন আজহার। বরিশালের অধিনায়ক ব্রাড হজ করেন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৩ রান।
আজকের এই হারের ফলে বিপিএলের দ্বিতীয় আসরের সেমিফাইনালে যাওয়ার সমীকরণটা জটিল হয়ে গেল খুলনার। ৮ ম্যাচ শেষে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে আছে শাহরীয়ার নাফীসের দল। নিজেদের বাকি চারটি ম্যাচে তো জিততেই হবে, সেই সঙ্গে নির্ভর করতে হবে অনেক রকম যদি-কিন্তুর উপর। অন্যদিকে ৮ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে এখনো লড়াইয়ে টিকে থাকার আশা টিকিয়ে রাখল বরিশাল।
জয়ের জন্য ১৪৬ রানের লক্ষে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোভাবে করতে পারেননি খুলনা রয়েল বেঙ্গলসের ব্যাটসম্যানেরা। প্রথম ছয় ওভারের মধ্যে মাত্র ৩৫ রানের মাথায় সাজঘরে ফিরেছেন জো ডেনলি ও সাব্বির রহমান। তৃতীয় উইকেটে ৯৩ রানের ঝড়ো জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামলে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান আজহার ও ব্রাড হজ। ১৪তম ওভারের শেষ বলে হজ যখন আউট হন তখন জয়ের জন্য প্রয়োজন মাত্র ১৮ রান। ৪৭ বলে ৬৩ রানের চমৎকার এক অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেছেন হজ।

ট্রান্সফরমার চুরির নেপথ্যে ৭৫ চোর

ট্রান্সফরমার চুরির নেপথ্যে ৭৫ চোর

ট্রান্সফরমার চুরির নেপথ্যে সক্রিয় পাঁচ গ্রুপের ৭৫ চোর। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে তাদের বিচরণ। চলে প্রভাবশালী এক নেতার পৃষ্ঠপোষকতায়। ট্রান্সফরমারের খোঁজ পেলেই ওই চোরের দল ট্রাক নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। চুরি শেষে গাজীপুরের চোরাই কারখানায় গলিয়ে তা কেজি দরে বিক্রি করে দেয়। গতকাল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সংঘবদ্ধ ট্রান্সফরমার চোরদের এমন সিন্ডিকেট শনাক্ত করেছে। আবিষ্কার করেছে চোরাই ট্রান্সফরমারের একটি গোপন কারখানা। সেখান থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের ৯টি ট্রান্সফরমার ও বিপুল পরিমাণ ইলেক্ট্রিক সামগ্রী জব্দ করেছে। আটক করেছে ওই কারখানার দুই কর্মচারীকে। তারা হচ্ছে- জুয়েল (২৮) ও আনোয়ার (৩৫)। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (পশ্চিম) মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির সংঘবদ্ধ চোরের দল ধরতে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করছি। হাতেনাতে ধরতে গিয়ে একজন সাহসী অফিসার হারিয়েছি। তা সত্ত্বেও তদন্তে সাফল্য এসেছে। দুর্ধর্ষ চোর সিন্ডিকেট শনাক্ত করতে পেরেছি। এছাড়া, গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ি এলাকায় একটি গোপন কারখানা শনাক্ত করা হয়েছে। ওই কারখানায় ৯টি ট্রান্সফরমারসহ বিপুল পরিমাণ চোরাই ইলেকট্রিক সামগ্রী পাওয়া গেছে। তদন্ত সূত্রমতে রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, টঙ্গী, মুন্সীগঞ্জ, সাভার, মানিকগঞ্জ, কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিনই ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটছে। প্রত্যেকটি চুরির কৌশল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এগুলো একই সিন্ডিকেটের কারসাজি। এ সিন্ডিকেটের মূল হোতা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতা। সংস্কারবাদী হিসেবে সমালোচনা আছে তার নামে। তার নিয়ন্ত্রণেই গাজীপুর ও কোনাবাড়ি এলাকার ওই গোপন ট্রান্সফরমারের কারখানা গড়ে উঠেছে। এ কারখানায় চোরাই ট্রান্সফরমার গলিয়ে বিভিন্ন উপাদান আলাদা করা হয়। পরে চড়া দামে বিক্রি করা হয়। গোয়েন্দারা জানান, ওই গডফাদারের পৃষ্ঠপোষকতায় অন্ততপক্ষে ৭৫ জন চোরের তালিকা পাওয়া গেছে। এরা ৫টি গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রতিদিন ৫টি ট্রাক নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বেরিয়ে পড়ে। কোন এলাকায় ট্রান্সফরমার আছে, কোনটি চুরি করা সহজ হবে- তা আগে থেকেই রেকি করে নেয়। পরে নির্ধারিত সময়ে চুরির অপারেশন শুরু করে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, চুরির আগে চোরের দল ট্রাকে কাঠের গুঁড়া, রড, ইটপাথর ও বিভিন্ন অস্ত্র মজুত রাখে। যে ট্রান্সফরমার চুরি করবে, ঠিক তার নিচেই ট্রাকটি রেখে দেয়। ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই ট্রান্সফরমার খুলে ট্রাকের ওপর বসিয়ে টান মেরে চলে যায়। সূত্রমতে, এই কৌশলে গত তিন মাসে প্রায় তিন শ’ ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগ বিদ্যুৎ অফিসে জমা পড়েছে। গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক জুয়েল ও আনোয়ার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, তারা বেতনভোগী। প্রতিদিনই তাদের কারখানায় ২-৩টি করে ট্রান্সফরমার আসে। সেগুলো তারা হিট দিয়ে বিভিন্ন পার্টস আলাদা করে রাখে। পরে তাদের মালিকের তত্ত্বাবধানে সেগুলো বিভিন্ন ঠিকাদারদের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। সূত্র জানায়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে কারখানার চোরের দল দু’একটি ট্রান্সফরমারের বৈধ কাগজপত্র সঙ্গে রাখে। ধরা পড়লেই ওই কাগজপত্র দেখিয়ে ছাড়া পেয়ে যায়। এছাড়া, ওই প্রভাবশালী নেতার এপিএস ফোন করে অল্প সময়েই সব কিছু ম্যানেজ করে ফেলে। এতে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারাও সন্দেহ করতে পারেন না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোস্তফা বলেন, চোরাই ট্রান্সফরমার সন্দেহে একটি ট্রাক আটক করেছিলাম। পরে কাগজপত্র দেখিয়ে সেগুলো ছাড়া পেয়েছে। উপর থেকে নির্দেশ ছিল- কাগজপত্র থাকলে হয়রানি না করতে। গত ৩রা ফেব্রুয়ারি ভোরে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া এলাকায় সংঘবদ্ধ ট্রান্সফরমার চোরদের ধরতে গিয়ে ডিবি পুলিশের এসআই শরীফুল ইসলাম চোরদের হামলায় নিহত হন। এরপর থেকেই ওই চোর চক্রের বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা শহরে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ ও গোয়েন্দারা। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি মো. মশিউর রহমান বলেন, চোরদের কাউকে ছাড়বো না, সে যে দলেরই হোক। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Monday, February 4, 2013

জীবননগর সীমান্তে বিএসএফ'র গুলিতে আহত ৩, আটক ১

জীবননগর সীমান্তে বিএসএফ'র গুলিতে আহত ৩, আটক ১



জীবননগর উপজেলার হরিহরনগর সীমান্তে গত শনিবার রাতে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বোমা হামলা ও গুলিতে ৩ জন বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী আহত হয়ে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন। একই সময়ে বিএসএফ অপর একজন গরু ব্যবসায়ীকে আটক করেছে। এ সময় ভারতে নিখোঁজ পিতা-পুত্র দুইজন ফিরে এসেছেন বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) পক্ষ হতে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসএফকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, হরিহরনগর সীমান্তের ৬৩ নং মেইন পিলারের নিকট দিয়ে গরু আনতে গত শনিবার রাতে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশ করলে টহলরত ভারতের পুটিখালী ক্যাম্পের বিএসএফ ৩টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় ও গুলি ছোঁড়ে। বোমা আঘাত ও গুলিতে সাইদুর রহমান, কামাল উদ্দিন ও শুকুর আলী মারাত্মকভাবে আহত হয়ে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। এ সময় একই সীমান্তের ভাজনঘাট ফার্ম এলাকা হতে অপর গরু ব্যবসায়ী মুকুলকে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। ভারতের ভাজনঘাট ফার্ম এলাকার লালুপুর মাঠ হতে এলাকাবাসী গুলিবিদ্ধ শুকুর আলীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এদিকে অপর একটি সূত্র জানায়, নিখোঁজ পিতা-পুত্র সলিম ও খায়রুল গতকাল দুপুরে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন। আহতরা পুলিশী ভয়ে ও গ্রেফতার এড়াতে পার্শ্ববর্তী মহেশপুর উপজেলার অজ্ঞাতস্থানে গিয়ে চিকিত্সা নিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। বিজিবি চুয়াডাঙ্গাস্থ ৩৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গাজী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ হতে বিএসএফকে প্রতিবাদ জানিয়ে চিঠি দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

মুন্সীগঞ্জে দুর্বৃত্তদের হামলায় প্রাণ গেল ডিবি কর্মকর্তার

মুন্সীগঞ্জে দুর্বৃত্তদের হামলায় প্রাণ গেল ডিবি কর্মকর্তার


আগেই তথ্য ছিল দুর্বৃত্তরা বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি করে ট্রাকে করে পালাচ্ছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সদস্যরা তাদের ধরতে মাইক্রোবাসে করে পিছু নেন। বার বার নির্দেশ সংকেত দিয়েও কোনভাবেই ট্রাকটি থামাতে পারছিলেন না তারা। একপর্যায়ে জীবন বাজি রেখে ট্রাকে ওঠার চেষ্টা করেন ডিবি কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর শরিফুল ইসলাম খান (৩৮)। তিনি চালককে ট্রাক থামাতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ট্রাকে থাকা অপর এক দুর্বৃত্ত ভারী লোহার দণ্ড দিয়ে তাকে আঘাত করে। দ্রুতগতিতে ছুটে চলা ট্রাক থেকে রাস্তায় ছিঁটকে পড়েন শরিফুল। মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে দুর্বৃত্তদের ধরার জন্য পিছু নেয়া ডিবি সদস্যরা গুলি চালালে গুলিবিদ্ধ হন ওই ট্রাকের চালক শিপন। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রবিবার ভোররাতে মুন্সিগঞ্জ গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযানে নেতৃত্বদানকারী ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি (পশ্চিম) মশিউর রহমান জানান, তারা আগেই জানতে পারেন দুর্বৃত্তরা ডেমরার সারুলিয়া এলাকা থেকে ভোররাতে বিদ্যুতের একটি চোরাই ট্রান্সফরমার ট্রাকে করে নিয়ে যাবে। এ অবস্থায় ডিবি পুলিশ দুটি মাইক্রোবাসে করে ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। ট্রাকটি দেখা মাত্রই ডিবি পুলিশ সেটিকে থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু দুর্বৃত্তরা ট্রাক না থামিয়ে উপর থেকে ডিবি পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করতে থাকে। এ পর্যায়ে ট্রাকটি সামনে থাকা অপর একটি মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয়। তখন সাব-ইন্সপেক্টর শরিফুল দৌড়ে ট্রাকের বাম পাশের দরজার হ্যান্ডেল ধরে ঝুলে পড়েন এবং চালককে ট্রাক থামাতে বলেন। কিন্তু চালক না থামিয়ে ট্রাকের গতি আরও বাড়িয়ে দেয়। এ অবস্থায় এক দুর্বৃত্ত ভারী লোহার দণ্ড দিয়ে আঘাত করলে ছিঁটকে রাস্তায় পড়ে যান শরিফুল।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার পর ডিবি পুলিশের গুলিতে ট্রাক চালক শিপন গুলিবিদ্ধ হয়। পুলিশ পাহারায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পলাতক অপর দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিন খান জানান, কিছু কাঠের গুঁড়ির বস্তা ও একটি ট্রান্সফরমারসহ ট্রাকটিকে জব্দ করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে শরিফুলের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে। সেখানে যোহরের নামাজের পর তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের আইজি হাছান মাহমুদ খন্দকার, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) শহীদুল হক, ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা । জানাজা শেষে আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, শরিফুল একজন সাহসী পুলিশ অফিসার ছিলেন। সাহসিকতার জন্য তিনি একাধিকবার পুলিশের বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন।

বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, গোয়েন্দা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার চন্দনগাতি গ্রামে। তার পিতা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ খান। স্ত্রী ও দুই মেয়ে নিয়ে রাজধানীর দক্ষিণ গোরানে বসবাস করতেন শরিফুল। শরিফুলের স্ত্রী জেসমিন বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। ১৯৯৯ সালের ৫ আগস্ট কনস্টেবল পদে পুলিশ বাহিনীতে চাকরি নেন শরিফুল। ২০১০ সালে তিনি সাব-ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পান। শরিফুল মারা যাওয়ার খবর পৌঁছালে তার গ্রামের বাড়িতে এক হূদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পুত্র শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তার পিতা। বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তার মা। শেষ খরব পাওয়া পর্যন্ত শরিফুলের লাশ চন্দনগাতি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

Sunday, February 3, 2013

নয়া লেবাসে এমএলএম ব্যবসা

নয়া লেবাসে এমএলএম ব্যবসা


বাহারি সব নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার আবারও নয়া ফাঁদ পেতেছে বেশ কয়েকটি এমএলএম কোম্পানি। খোদ রাজধানী শহরে বসেই ওই প্রতারণার জাল পাতা হচ্ছে দেশব্যাপী। এবার মাত্র ৫ মাসে দ্বিগুণ টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাঠে কর্মী নামানো হয়েছে। সূত্রমতে ইতিমধ্যে এরাও হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক কোটি টাকা। সরজমিনে অনুসন্ধানকালে দেখা গেছে, রাজধানীর পান্থপথে বসুন্ধরা সিটির রেস্টুরেন্টে বসে কাজ করছে দু’টি কোম্পানি, পুরানা পল্টন কেন্দ্রিক একটি, উত্তরা এলাকায় তিনটি এবং বনানীতে একটি প্রতারক চক্র। গোয়েন্দা সূত্রমতে বিগত তিন বছরে দেশের দেড় কোটি গ্রাহকের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ৬২টি এমএলএম কোম্পানি। গোয়েন্দাদের রিপোর্টে হাতিয়ে নেয়া টাকার পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকা বলা হলেও প্রতারিত গ্রাহকদের মতে হাতিয়ে নেয়া টাকার পরিমাণ কম করে হলেও ২৫ হাজার কোটি টাকা। গত বছর ডিসেম্বর মাসে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা এমএলএম কোম্পানিগুলোর একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করে। ওই প্রতিবেদনে দেখা যায় দেশে ৬২টি এমএলএম কোম্পানি বছরে দ্বিগুণ লাভ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশের প্রায় দেড় কোটি গ্রাহকের কাছ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ওই ৬২টি এমএলএম কোম্পানির মধ্যে একমাত্র ডেসটিনি’র গ্রাহক সংখ্যা ৫০ লাখের বেশি। ওই সব প্রতারক এমএলএম কোম্পানিগুলো হচ্ছে-গ্লোবাল নিউওয়ে প্রাঃ লিমিটেড, ইউনিপেটুইউ, ইউনিগেটওয়ে, ডেসটিনি ২০০০ লিঃ, ভিসার‌্যাব, মানিসুইম, রেভনেক্স, স্পিক এশিয়া, লিনাক্স, টিভিআই, ইউনাইকো, এম স্টার, এমওয়ে, গুগল ইডুকেশন, মিটস আইটি ডেভেলপমেন্ট, ভাইভ মাউন্টেন, জুরতি, স্কাই ল্যান্সর, টাইমটু পেমেন্ট, রিসওডালন্ড, ক্রিয়েশন, ডায়মন্ড ফরেক্স, ইউনি ফরেক্স, ইউনোব্যান, এ্যাসিনিটি গ্রো, মাইকোব্রিফ, পারফেক্ট রিস, গেইনপ্লাস, ডিসিএল, মাইক্রোডেট টেকনোলজি, দি ব্লু, ওসানা, ইউনাইডেট ফরেক্স, ইস্কোপবিডি, সার্ভে ওয়ার্ল্ড, ডোল্যান্‌চার, বিডিএফ, ক্লিকটুপে, পিক এশিয়া অনলাইন, মা, যুবক, রুটস, ফাইন্যান্স, র‌্যাবন এক্স, পলিকম, ইজেন্ট ইন্টারন্যাশনাল, ল’ এ্যাট ভিশন, ইউনি গেটওয়ে।
সরকারি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ৬২টি প্রতারক এমএলএম কোম্পানিকে প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও এ পর্যন্ত সরকারিভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে মাত্র যুবক, ডেসটিনি ও ইউনিপেটুইউ’র কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে দেখা যায় বাহারি সকল নামের ওই সব এমএলএম কোম্পানির বেশির ভাগের উৎপত্তিস্থল দেশের বাইরে। অনলাইন ভিত্তিক প্রতারণার কাজে বাইরের কোন দেশের নিয়ন্ত্রিত সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। দেখা গেছে, প্রতারক প্রতিষ্ঠান ইউনিপেটুইউ’র নিয়ন্ত্রণ ছিল মালয়েশিয়ার কয়েক ব্যক্তির হাতে। গ্লোবাল নিউওয়ে নিয়ন্ত্রণ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক কানাডিয়ান নাগরিক ও এক শ্রীলঙ্কার নাগরিক। বাংলাদেশ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া ওই সব এমএলএম কোম্পানিগুলোর টাকা পাচার হয়েছে বিদেশে। কি পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে সরকারের কাছে তার সঠিক কোন পরিমাণ না থাকলেও গ্রাহকদের সূত্রে জানা গেছে, ইউনিপেটুইউ’র বেশির ভাগ টাকা পাচার করা হয়েছে মালয়েশিয়াতে, গ্লোবাল নিউওয়ের টাকা চলে যাচ্ছে কানাডায়। দুর্নীতি দমন কমিশনের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ডেসিটিনি’র বিপুল অঙ্কের টাকা পাচার করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, কানাডা, হংকং ও সিঙ্গাপুরে। ওই সব দেশের ব্যাংকগুলোতে ডেসটিনি ও ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমিনের নামে একাধিক ব্যাংক একাউন্টের সন্ধান পেয়েছে দুদক। সিঙ্গাপুরে ২টি ব্যাংক একাউন্টের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে রফিকুল আমিনের ব্যাংক একাউন্টে গচ্ছিত আছে ৬৪, ৫৮১ সিঙ্গাপুরি ডলার এবং ডেসটিনি’র নামে একাউন্ট খুলে রাখা হয়েছে ১৩ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার। হংকংয়ের একটি ব্যাংকে ডেসটিনি’র এমডি রফিকুল আমিনের নামে আছে বাংলাদেশের মুদ্রায় ৫০ কোটি টাকা। বেস্ট এভিয়েশনের নামে একাউন্ট খুলে রফিকুল আমিন ফ্রান্সের একটি ব্যাংকে রেখেছেন ৮৪ হাজার ৬শ’ ইউরো। এছাড়াও দুদক কানাডার কনস্কোভশিয়ার ব্যাংক ও যুক্তরাষ্ট্রের জেপি মরগান পেজ ব্যাংকে রফিকুল আমিনের নামে অর্থের সন্ধান পেয়েছে দুদক। দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মনে করছেন ৬২টি এমএলএম কোম্পানির হাতিয়ে নেয়া টাকার পুরোটাই হয়তো বিদেশে পাচার করা হয়েছে, ব্যাপক অনুসন্ধান করলে হয়তো সেটা বের করা সম্ভব।
দেশের দেড় কোটি গ্রাহকের ওই বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরও অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে ওই প্রতারক কোম্পানিগুলোর দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির প্রতারকরা নতুন লেবাসে আবার দেশব্যাপী প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসেছে। নতুন লেবাসে ওই সব এমএলএম কোম্পানিগুলো হচ্ছে ইউনি ফরেক্স, গ্লোবাল নিউওয়ে, টু পার্সেন্ট ইউনি ফরেক্স, পিপি মেঘা, বুলিস ট্রেড ও জাস্ট বিল পেইড ও বি ব্লু। মাত্র ৫ মাসে বিনিয়োগকৃত টাকার দ্বিগুণ লাভ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা নয়া ফাঁদ পেতেছে। রাজধানীর পল্টন এলাকার একটি অভিজাত খাবার হোটেলে দিন-রাত বসে ইউনি ফরেক্স এমএলএম কোম্পানি পরিচালনা করছে জাহিদ নামের এক যুবক। ওই যুবক এক সময়ে কাজ করতো ইউনিপেটুইউ’র দালাল হিসেবে। পুরানা পল্টনে তারা একটি অফিসও ভাড়া নিয়েছে। অফিস ডেকোরেশনের কাজ চলছে। মোবাইল ফোনে সারা দেশের ইউনিপেটুইউ’র কর্মীদের আবার গোছানো হচ্ছে মাত্র ৫ মাসে দ্বিগুণ লাভের প্রতিশ্রুতি দিয়ে। গ্লোবাল নিউওয়ে পরিচালনা করছে এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান ও এক শ্রীলঙ্কার নাগরিক। রাজধানীর বনানীর চেয়ারম্যান বাড়িতে বিশাল আলিশান ভবনের দু’টি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে চলছে তাদের অফিস। রাজধানীর পান্থপথের বসুন্ধরা সিটির দু’টি রেস্টুরেন্টে বসে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে টু পার্সেন্ট ইউনি ফরেক্স ও বি ব্লু নামের দু’টি এমএলএম প্রতারক প্রতিষ্ঠান। বি ব্লু কোম্পানির কর্ণধার হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিচ্ছেন মিঠু নামের এক যুবক এবং টু পার্সেন্ট ইউনি ফরেক্সের দেশীয় প্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিচ্ছে আফিস নামের এক যুবক। তাদের সূত্রে জানা গেছে, মাত্র তিন মাসে দ্বিগুণ লাভ দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে ইতিমধ্যেই তাদের বেশ কিছু গ্রাহক জুটে গেছে। যদিও তারা জানান, অন্য কোম্পানির মতো তারা প্রতারক নন, গ্রাহকের টাকায় ব্যবসা করেই তারা গ্রাহকদের লাভ সহ টাকা ফেরত দিতে পারবেন। নতুন লেবাসে প্রতারক ব্যবসায় নাম লেখানো এমএলএম কোম্পানি বুলিস ট্রেড পিপি মেঘার এমডি বলে পরিচয় দেয়া এমএ মাসুম ও নাকিব হাসান দু’জনই তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় উত্তরা এলাকায় বলে জানান। আপাত অফিসের ঠিকানা প্রকাশ করা নিষেধ বলে জানান। সূত্রমতে নতুন লেবাসে এমএলএম কোম্পানি চালু করা ওই দুই যুবক একসময়ে কাজ করতো জিজিএন নামের একটি এমএলএম কোম্পানিতে। জিজিএন প্রতারণা করে চলে যাওয়ার পর তারা কাজ করতো নিউওয়েতে সেখান থেকে ইউনিপেটুইউতে। এখন তারা নতুন লেবাসে নতুন নামে শুরু করেছে এমএলএম ব্যবসা। সরকারের কোন দপ্তরের অনুমোদনহীন ও সকল প্রতারক প্রতিষ্ঠান যে আবারও সর্বনাশা খেলায় নেমেছে সে খবর রাখে না সরকারের কোন বিভাগ।

মার্চ মাসেই পদ্মা সেতুর টেন্ডার

মার্চ মাসেই পদ্মা সেতুর টেন্ডার


চট্টগ্রামে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অনিশ্চয়তায় পড়া পদ্মা সেতুর কাজ শিগগিরই শুরু করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন। বলেছেন, নিজেদের টাকায় হবে সেতু নির্মাণের কাজ। কেউ আসুক বা না আসুক, তার জন্য আর কোন অপেক্ষা নয়। কোন দাতা সংস্থা আসলে ভালো। না আসলে চলতি বছরের আগামী মার্চ মাসেই পদ্মা সেতু প্রকল্পের দরপত্রের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করা এখন সরকারের চ্যালেঞ্জ। শিগগিরই টেন্ডার আহ্বান করা হবে।’ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গতকাল শনিবার চট্টগ্রামে ১৭তম কাস্টম, এক্সাইজ ও ভ্যাট আন্তঃক্লাব ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ কাস্টম ক্রীড়া পরিষদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠান শেষে মুহিতকে ঘিরে ধরেন বিভিন্ন গণমাধ্যম ও পত্রিকার সাংবাদিকরা। এই সময় তাদের কাছে পদ্মা সেতু নিয়ে সরকারের চিন্তা-ভাবনার কথা জানান তিনি। মিডিয়ার কর্মীরা তার কাছে এই নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে ধরেন।
প্রসঙ্গত, বহু নাটকীয়তার পর গত শুক্রবার বিশ্বব্যাংককে চিঠি দিয়ে পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের প্রস্তাব ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এডিবি তাদের ওয়েবসাইটে এই নিয়ে এক বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে তারা বলেছে, এই মুহূর্তে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়াতে হচ্ছে তাদেরও। এর ফলে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে দেশের আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ। পদ্মা সেতুর কাজের প্রক্রিয়া কখন শুরু হবে- গতকাল এই বিষয়ে জানতে চাইলে কিছুক্ষণ চুপ থাকেন অর্থমন্ত্রী। এরপর ভেবে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য এই মাস শেষে বৈঠকে বসবো। তারপর সেখানেই সব কিছু চূড়ান্ত করবো। বলতে পারেন মার্চ মাসের মধ্যেই টেন্ডার কল করা হবে। এরপর আরও ৪৫ দিন থাকবে যারা আসতে চায়। তাদের কাগজপত্র বাছাইয়ের জন্য নিজেরা ১৫/২০ দিন সময় নেবো। সবকিছু মিলিয়ে বলা যায় পদ্মা সেতুর কাজ ২/৩ মাসের মধ্যে শুরু করতে পারবো।’ ‘পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের আপত্তির পর নতুন করে কি ভাবছে সরকার-এমন এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক নিয়ে আমাদের আর কোন ভাবনা নেই। তারা যেভাবে চেয়েছে সেভাবেই আমরা কাজ করেছি। একবার দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে সেটাও খতিয়ে দেখেছি। এখন তাদেরকে না জানিয়ে দেয়ার পর কেউ যদি আসতে চায় তাহলে ভালো।’ এই বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কাজ করার যে আগ্রহ ছিল তা আপাতত আর নেই। এই বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে বক্তব্য দেয়া হয়েছে। তাছাড়া, আমরা ক্ষমতায় এসে এই সেতুর কাজ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা যেভাবে গড়িমসি করছে তাতে নির্বাচনের আগে তা শুরু করা নিয়ে সবাইকে অনিশ্চয়তায় পড়তে হবে।’
তিনি এডিবি, জাইকাসহ অন্যান্য দাতা সংস্থার দিকে ইঙ্গিত করে আরও বলেন, ‘কেউ যদি আসে তাহলে আমাদের আপত্তি থাকবে না। তবে না এলেও নিজেরাই সেতুর কাজ শুরু করবো। নিজেদের টাকা দিয়ে করবো। আগে কাজটা শুরু করা দরকার। এই সিদ্ধান্ত ভালো হলো না খারাপ তা পরে ভেবে দেখা যাবে।’ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হয়ে বক্তব্য দেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন। তিনি বর্তমান সরকারের আমলে রাজস্ব আদায় অতীতের চেয়ে বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন।

নীতিমালা প্রস্তুত- বৈধ হচ্ছে পুলিশের ডোনেশন বাণিজ্য

নীতিমালা প্রস্তুত- বৈধ হচ্ছে পুলিশের ডোনেশন বাণিজ্য


বৈধ হচ্ছে পুলিশের ডোনেশন বাণিজ্য। এতদিন ডোনেশন নেয়া ছিল রেওয়াজ। এবার আইনি কাঠামোর মধ্যে তা আনা হচ্ছে। এ নিয়ে খসড়া নীতিমালাও তৈরি করা হয়েছে। শিগগিরই তা চূড়ান্ত করা হবে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খসড়াটি তৈরি করেছে। এতে ২টি কমিটির মাধ্যমে ডোনেশন নেয়ার কথা বলা হয়েছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কর্তৃক ৫ সদস্যর কমিটি প্রথমে ডোনেশন দিতে ইচ্ছুক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রতিবেদন দেবে। পরে ডোনেশন গ্রহণ অনুমোদন নামের আরও একটি কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটিতে সমপ্রতি এ নীতিমালা উপস্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পুলিশ ডোনেশন হিসেবে গাড়ি, আসবাবপত্র কিংবা অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে থাকে। এদিকে ডোনেশন নেয়ার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বেশ কিছু যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে- পুলিশ বিভাগে মোট জনবল প্রায় ১ দশমিক ৫ লাখ এর বেশি। বিগত ৪ বছরে বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগে আনুমানিক ৩০ হাজার নতুন জনবল অন্তর্ভুক্ত হলেও সে অনুযায়ী যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধ পায়নি। বাংলাদেশ পুলিশের সব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে গতিশীলতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যে কোন ঘটনা সংঘটনের আগে অথবা ঘটনা পরবর্তী সময়ে ন্যূনতম সময়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি জনমনে আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কে ইতিবাচক নির্দেশক হিসেবে কাজ করে। আর পুলিশ সদস্যদের এ গতিশীলতা নিশ্চিতকরণে যানবাহনের কোন বিকল্প নেই। এতে বলা হয়েছে, যেহেতু বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগে যানবাহনে তীব্র সঙ্কট বিদ্যমান, কাজেই আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখার স্বার্থে বিভিন্ন সময় পুলিশ বিভাগের বিভিন্ন ইউনিট কর্তৃক ডোনেশনের গাড়ি নেয়া হয়। যেহেতু সম্পূর্ণ সরকারি কাজে এবং কেবলমাত্র আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থেই এ রূপ ডোনেশনের গাড়ি ব্যবহার করা হয়, কাজেই এক্ষেত্রে নীতিমালা প্রণয়ন করা যেতে পারে।
ডোনেশন নীতিমালায় যা আছে
নীতিমালায় আটটি ধারার কথা বলা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- ১ম, ডোনেশনের গাড়ি গ্রহণ সংক্রান্তে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কর্তৃক ন্যূনতম ৫ সদস্যদের একটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। ২য়, বাংলাদেশ পুলিশের যে কোন ইউনিট কর্তৃক ডোনেশন গ্রহণের প্রস্তাবনা ওই কমিটি কর্তৃক পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষা করা হবে। ৩য়, গঠিত কমিটি কোন প্রস্তাবনাপ্রাপ্ত হয়ে ওই প্রস্তাবনার গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পেশ করবে। ওই প্রতিবেদনে ডোনেশনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বিশেষ করে ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম, ঋণ সংক্রান্ত তথ্য, ফৌজদারি মামলা সংক্রান্ত তথ্য, স্থানীয় এলাকায় ভাবমূর্তি এবং ডোনেশনের প্রস্তাবনার ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের কার্যক্ষেত্রে কোন নেতিবাচক প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা রয়েছে কিনা এতদ্‌সংক্রান্তে প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণপূর্বক ডোনেশন গ্রহণের পক্ষে বা বিপক্ষে সুস্পষ্ট মতামত প্রদান করবেন। ৪র্থ, ডোনেশন গ্রহণ অনুমোদন সংক্রান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা যেতে পারে। ৫ম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত কমিটি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কর্তৃক একই উদ্দেশ্যে গঠিত কমিটির কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাবনা যাচাই-বাছাই পূর্বক এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। ৬ষ্ঠ, ডোনেশন গ্রহণের পক্ষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রাপ্ত হলে এ জাতীয় যানবাহনের পৃথক তালিকা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কর্তৃক সংরক্ষণ করা হবে। ৭ম, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কর্তৃক প্রেরিত //টিওঅ্যান্ডই-এর প্রস্তাবনা চূড়ান্ত অনুমোদনকালে ডোনেশনকৃত যানবাহনের সঙ্গে টিওঅ্যান্ডই// অন্তর্ভুক্ত নতুন যানবাহন সমন্বয় করা হবে। এবং ৮ম, ডোনেশনকৃত যানবাহন রেজিস্ট্রেশন, ব্যবহার, মেরামত, সংরক্ষণ, দুর্ঘটনা, আর্থিক সংশ্লেষ এবং অকেজোকরণে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হবে।
ডোনেশন বাণিজ্য নিয়ে দ্বন্দ্ব
এর আগে গত বছরের ২৮শে আগস্ট বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটিতে বিরোধ দেখা দেয়। সংসদীয় কমিটি ডোনেশন নেয়ার বিপক্ষে অবস্থান নেয়। ওই বৈঠকে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন ও মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার পক্ষে মত দেন। তাদের যুক্তি ছিল- ডোনেশন নেয়া বন্ধ হলে পুলিশি তৎপরতায় ভাটা পড়বে। একই সঙ্গে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করাও বাধাগ্রস্ত হবে। বৈঠকে কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পুলিশ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের ডোনেশন নিয়ে থাকে। এটা অনুচিত। এতে অনেক আইন ভঙ্গকারী বিনিময়ে পুলিশের কাছ থেকে সুবিধা পেয়ে থাকেন। নামে ডোনেশন হলেও পরে বিষয়টি ঘুষ হিসেবে দেখা দেয়। তাই এখনই এটা বন্ধ করা উচিত। সভাপতির এ বক্তব্যর পরই সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, এখনই এটা বন্ধ করা উচিত হবে না। পুলিশের নানা সমস্যা রয়েছে। সীমাবদ্ধতাও অনেক। ডোনেশন হিসেবে অনেকেই গাড়ি, আসবাবপত্র কিংবা অন্যান্য সরঞ্জাম দিয়ে থাকেন। এগুলো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এ নিয়ে কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্য যুক্তি-পাল্টা যুক্তি দেখান। এ প্রসঙ্গে আইজিপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সমর্থন করেন। পরে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে বিষয়টি একটি আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার পরামর্শ দেয়া হয়। সংসদীয় কমিটি তাদের পরামর্শে বলে, অভিযুক্ত কিংবা অভিযোগকারী কারও কাছ থেকে কোন ধরনের ডোনেশন নেয়া যাবে না। এ প্রসঙ্গে কমিটির সদস্য জাতীয় পার্টি দলীয় এমপি মুজিবুল হক মানবজমিনকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্টমন্ত্রী ভিন্ন মত দিয়েছেন। তবে কমিটির সদস্যরা আলোচনা শেষে আইনি কাঠামোর মধ্যে পুলিশের ডোনেশন নেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। এখন যেভাবে ডোনেশন নেয়া হচ্ছে তা মোটেই আইনসিদ্ধ নয় বলে জানান তিনি।

Saturday, February 2, 2013

পদ্মায় অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়াল এডিবি

পদ্মায় অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়াল এডিবি


বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পে থাকছে না এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। গতকাল শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে তারা জানিয়ে দিয়েছে, যেহেতু এই প্রকল্পে মূল অর্থায়নকারী বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন হচ্ছে না সেজন্য সহ-অর্থায়নকারী এডিবি'র পক্ষেও প্রকল্পে অগ্রসর হওয়া সম্ভব নয়। একই সাথে এই প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ উঠেছে তার সুষ্ঠু তদন্ত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এডিবি। অবশ্য বাংলাদেশের অন্যান্য প্রকল্পে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।

এডিবির বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে এডিবি জানতে পেরেছে যে, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের তদন্ত নিয়ে অর্থায়নের বিষয়টি দৃশ্যত: 'অনির্দিষ্টকালের' জন্য ঝুলে যাওয়ায় বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ আর না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্বব্যাংক এই প্রকল্পে মূল অর্থায়নকারী এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এবং ইসলামিক ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) পাশাপাশি সহযোগী অর্থায়নকারী এডিবি। যেহেতু এটি একটি যৌথ অর্থলগ্নিকারী প্রকল্প, সেহেতু সেখান থেকে বিশ্বব্যাংক সরে যাওয়ায় এডিবির পক্ষে আর অগ্রসর হওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প বাংলাদেশে সবচে' তাত্পর্যপূর্ণ প্রকল্পগুলোর একটি। এটির মূল উদ্দেশ্য ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য অংশের সাথে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ স্থাপন। এই কারণে প্রকল্পটির আঞ্চলিক গুরুত্ব আছে। এর মাধ্যমে অন্তত ৩ কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানে সহায়ক হবে। এডিবি এখনো আশাবাদী যে, এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।

'বিবৃতিতে বলা হয়, এডিবি সর্বোচ্চ সততা, সুশাসন, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানে থাকতে বদ্ধপরিকর। এ কারণে আমরা বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে এই অভিযোগের পূর্ণ এবং স্বচ্ছ তদন্ত করার আহ্বান জানাচ্ছি এবং সরকারের প্রতি পুনর্গঠনমূলক কাজগুলো চালিয়ে যাবার আহ্বান জানাচ্ছি। এসব পদক্ষেপে জনগণ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষেত্রগুলো উপকৃত হবে।'

এডিবি বাংলাদেশে দারিদ্র্য দূরীকরণ প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। এডিবি বাংলাদেশ এবং এর জনগণের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী এবং এর দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে সহযোগী হিসেবে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

১৫ই ফেব্রুয়ারি পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষ হবে গ্রহানুপুঞ্জের!

১৫ই ফেব্রুয়ারি পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষ হবে গ্রহানুপুঞ্জের!


এসটেরিওড নামের পাথর আকৃতির একটি গ্রহানুপুঞ্জ (বিজ্ঞানীদের কাছে ২০১২ডিএ১৪ নামে পরিচিত,একটি ফুটবল মাঠের অর্ধেকের সমান) ১৫ই ফেব্রুয়ারি পৃথিবীর খুব কাছে দিয়ে অতিক্রম করে যাবে। নাসার প্রকাশ করা খবরে এ তথ্য দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটা ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১৭ হাজার ২০০ মাইল ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। ফলে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটা পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরি করতে পারে কি না এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এসটেরিওড পৃথিবীর এত বেশি কাছ দিয়ে অতিক্রম করার বিষয়ে নাসার বিজ্ঞানী ডন ইয়োম্যান বলেন, এটা কোন গ্রহের পৃথিবীর এত বেশি নিকট দিয়ে অতিক্রম করার রেকর্ড। তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে মহাকাশ সার্ভে চালু করার পর থেকে পৃথিবীর কাছ ঘেঁষে এতো বড় আর কোন বস্তু অতিক্রম করতে দেখা যায়নি। ডন আশাবাদী হয়ে বলেন, প্রতি ৪০ বছরে একবার এসটেরিওড পৃথিবীর কাছ দিয়ে অতিক্রম করলেও প্রতি ১২শ’ বছরে একবার সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে আশা করা হচ্ছে, এ যাত্রায় এটি পৃথিবীতে আঘাত হানবে না। এসটেরিওডের কক্ষপথ সংঘর্ষ এড়িয়ে চলার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এসটেরিওড বা ২০১২ডিএ১৪ ৫০ মিটারের একটি পাথর খণ্ডের মতো। অন্যান্য গ্রহানুপুঞ্জগুলোর মতো বরফ বা বিভিন্ন মেটারিয়াল দিয়ে গঠিত হয়নি ২০১২ডিএ১৪। এটি পাথর দিয়ে গঠিত।

তিমির বমির দাম দেড় কোটি টাকা

তিমির বমির দাম দেড় কোটি টাকা


‘যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়্যা দেখো তাই, পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন’- না এ প্রবাদটিকে খুব একটা মূল্য দেননি বৃটিশ নাগরিক কেন উইলম্যান। তবে তিনি না দিলেও তার পোষা কুকুরটি কিন্তু ছাই উড়িয়ে ঠিকই খুঁজে বের করেছে অমূল্য রতন। সমুদ্র সৈকতে কুকুর নিয়ে হাঁটতে গিয়ে উইলম্যান কুড়িয়ে পেয়েছেন সুগন্ধযুক্ত শিলাখণ্ড অ্যাম্বারগ্রিস (তিমি মাছের পেটে থাকে এক ধরনের নরম পদার্থ বিশেষ, যা দিয়ে দামি সুগন্ধি তৈরি করা হয়) নামের অমূল্য রতনটি। তিমি বমি করে ফেলে দিলে সাধারণত এটি কুড়িয়ে পাওয়া যায়। এর দাম হাঁকা শুরু হয়েছে ৫০ হাজার ইউরো থেকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন ১ লাখ ১৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত দামে বিক্রি হতে পারে অ্যাম্বারগ্রিসটি। যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় দেড় কোটি টাকা। স্কাই নিউজের খবরে বলা হয়, বৃটেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চিলীয় শহর মোক্যাম্বির সমুদ্র সৈকতে নিজের পোষা কুকুরটি নিয়ে হাঁটতে যান উইলম্যান। এ সময় তার কুকুরটি একটি বড় হলুদ আকারের পাথরে খোঁচাখুঁচি শুরু করে। কিন্তু সে দিকে লক্ষ্য না করে অনেক দূর চলে যান তিনি। পরে আবার কি মনে করে ফিরে এসে সেটি হাতে তুলে নেন। শিলাখণ্ডটি হাতে নিয়েই উইলম্যান বুঝতে পারেন এটি হচ্ছে মহামূলবান অ্যাম্বারগ্রিস। তারপরই দামি রতনটি নিজ হাতে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। সাধারণত তিমির বমি থেকে বেরিয়ে আসে দামি সুগন্ধি অ্যাম্বার গ্রিস। বমির পর এটি পানিতে ভাসতে থাকে। তাজা অ্যাম্বারগ্রিস থেকে বের হয় বাজে গন্ধ। কিন্তু পর্যায়ক্রমে যত পুরান হতে থাকে ততই সুগন্ধযুক্ত হতে থাকে এটি। আস্তে আস্তে বের হয়ে আসে কস্তুরির গন্ধ। তারপর এর থেকে তৈরি হয় দামি দামি সব সুগন্ধি। উইলম্যানের কুড়িয়ে পাওয়া বস্তুটি সত্যিকার অর্থে অ্যাম্বারগ্রিস কি না তা এখনও পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কিন্তু ইতিমধ্যেই এটি বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছে। ফরাসি এক ব্যবসায়ী এরই মধ্যে এর দাম হেঁকে বসেছেন ৫০ হাজার ইউরো। নিশ্চিত হওয়ার পর অ্যাম্বারগ্রিসটির দাম সর্বোচ্চ ১ লাখ ১৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এর দাম বেশি হওয়ার কারণ হচ্ছে এতে বিশেষ গুণ রয়েছে। যা সুগন্ধি তৈরির কাজে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।

‘রাজনৈতিক মনোভঙ্গির কাছে অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা পরাজিত হলো’

‘রাজনৈতিক মনোভঙ্গির কাছে অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা পরাজিত হলো’


সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিকল্প উৎস থেকে পদ্মা সেতুর অর্থ সংস্থান হলে প্রকল্প ব্যয় বাড়বে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, বিশ্বব্যাংকের ঋণই ছিল এ প্রকল্পের সবচেয়ে সহজ অর্থায়ন। বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্ত জানানোর আগে সরকারের পক্ষ থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়াকে খুব বেশি যৌক্তিক হয়নি। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেছেন, বাংলাদেশে ভবিষ্যতে কোন প্রকল্পে সহায়তার আগে তারা দুর্নীতির বিষয়টি আগে খতিয়ে দেখবে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা মীর্জ্জা এবি আজিজুল ইসলাম মনে করেন সরকারের সিদ্ধান্ত খুব একটা যৌক্তিক হয়নি। অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে রাজনৈতিক মনোভঙ্গির কাছে অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা পরাজিত হলো। টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানিয়েছেন, বিকল্প উৎস থেকে অর্থ সংস্থান করে সেতু বাস্তবায়ন হলে তা সাধারণ মানুষ ও দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ ফেলতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন থেকে সরকার নিজে থেকেই সরে আসার বিষয়ে ড. আকবর আলি খান বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ছিল সবচেয়ে উত্তম পথ। আর এটা সরকার জানে বলেই প্রথমে বিশ্বব্যাংকের দ্বারস্থ হয়েছিল। পরে যখন দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক এই প্রকল্পে অর্থায়ন বাতিল করে তখন তাদের খুশি করার জন্য যোগাযোগমন্ত্রী বদল করা হয়। দুর্নীতির তদন্ত করা হয়। তাদের শর্ত পালন করতে গিয়ে মামলা করা হয়েছে। কিন্তু যখন সমাধান হয়নি তখনই সরকার নিজে থেকেই সরে এসেছে। এখন সরকার বিকল্প অর্থায়ন থেকে পদ্মা সেতু করার চিন্তাভাবনা করছে। বিকল্প অর্থায়ন থেকে এই সেতু করা হলে এর ব্যয় বেড়ে যাবে এবং সময় লাগবে বেশি। বিকল্প অর্থায়ন থেকে পদ্মা সেতু করা সম্ভব কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি নির্ভর করবে কোন খাত থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে, ঋণ চুক্তি কি হবে তার ওপর। এটি প্রকাশ করলে বোঝা যাবে পদ্মা সেতুর ভবিষ্যৎ। তবে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নই ছিল সবচেয়ে ভাল ব্যবস্থা। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন থেকে সরে আসায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কোন প্রকল্পে সহায়তায় এর প্রভাব পড়বে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোন প্রকল্পে সহায়তা করার সময় তারা দুর্নীতির বিষয়টি আগে খতিয়ে দেখবে। যদিও বিশ্বব্যাংকের চেয়ারম্যান বলেছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য তারা বাংলাদেশের সহায়তা বন্ধ করবেন না।
সাবেক উপদেষ্টা এবি মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্তকে খুব বেশি যৌক্তিক বলে মনে করি না। কারণ বিশ্বব্যাংক দরজা বন্ধ করেনি। আমরা নিজেরা দরজা বন্ধ করে দিয়েছি। বিশ্বব্যাংকের কিছু প্রশ্ন ছিল। যার জবাব দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। সেই জবাবের প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংকের মতামত আসার আগেই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লাভ-লোকসান পর্যালোচনা না করে এখন নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্পে কাজ করা বাস্তব সম্মত নয়। নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন উচ্চাভিলাষী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ইতিবাচকভাবে দেখলে পদ্মা সেতু নিয়ে যে ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল সরকারের সিদ্ধান্তে তা শেষ হলো। সর্ববৃহৎ এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার এখন ভিন্নভাবে অর্থায়নে মনোযোগী হতে পারে। আশা করি সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ সুষ্ঠুভাবেই নিতে পারবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মনোভঙ্গির কাছে অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা পরাজিত হলো। সহজ শর্তে ঋণ থেকে বঞ্চিত হলো বাংলাদেশ। কিন্তু যে কারণে বৃহৎ এ প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটলো সেই অপবাদ কিভাবে দূর হবে সেই দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পেলাম না, তাই নিলাম না। এমন পরিস্থিতিতেই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর চেয়ে কয়েকজন ব্যক্তিকে প্রমোট করাই সরকারের কাছে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই সরকার একটি বড় সুযোগ হারালো। দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে যেসব ব্যক্তির নাম এসেছিল মামলায় সেসব ব্যক্তিকে আসামি করা হলে বিশ্বব্যাংক অবশ্যই অর্থায়ন করতো। একই ইস্যুতে কারও বিরুদ্ধে মামলা হবে। আবার কারও বিরুদ্ধে মামলা হবে না তা হতে পারে না। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক বৃহস্পতিবার এক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে এ বিষয়ে যা বলেছে তা সরকার ও দেশের জন্য বিব্রতকর। এ কারণে সরকার গতকাল ঘোষণা দিয়েছে- বিশ্বব্যাংক থেকে তারা এ বিষয়ে ঋণ নেবে না। এখন দুদকের তদন্তের ফল কি দাঁড়াবে তা-ও দেখার বিষয়। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিশ্বব্যাংক-এর চ্যাপ্টার ক্লোজড হওয়ার পর সেতু নির্মাণে বিকল্প পন্থা বের করা যুক্তিযুক্ত বিষয়। এ ক্ষেত্রে সুদ কি হবে? শর্ত কি হবে? এসব বড় বিষয়। বিকল্প পন্থা থেকে বিশ্ব ব্যাংক-এর মতো কম সুদে ঋণ পাওয়া সম্ভব নয়। উচ্চ হারে ঋণ নিয়ে সেতু নির্মাণ করলে সাধারণ মানুষ এবং অর্থনীতির ওপর কি প্রভাব পড়বে তা বড় প্রশ্ন। ভবিষ্যতে সরকার কতটুকু দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে সেতু বাস্তবায়ন করতে পারবে সে প্রশ্নও থেকেই যাচ্ছে।

শমলার জীবনের মোড় ঘুরেনি এখনও

শমলার জীবনের মোড় ঘুরেনি এখনও


শমলা জানেন না তাকে নিয়ে লেখা ‘ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প’ জাতিসংঘ পুরস্কার পেয়েছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের দুই কর্মকর্তা মাহতাব হায়দার ও নাদের রহমানের লেখা ‘শমলার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প’ বিশ্বের ৬৬টি দেশ থেকে ১২০টি গল্পের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে। কিন্তু শমলার জীবনের মোড় এখনও ঘুরেনি। সাত বছর আগে নিরুদ্দেশ হওয়া স্বামী জালালের ফিরে আসার অপেক্ষায় আছেন আজও। বলেন, আমার স্বামী ফকির মানুষ। মাজারে মাজারে ঘুরে। গান শোনে। কোথায় আছে কি জানি! আজও তার অপেক্ষায় আছি। এই কষ্ট আমার কপালে আছিল। সে যাওয়ার পর আমি খালি কানছি। কথা বলতে পারি নাই। আমার তিন বছরের মেয়েটাও কথা বন্ধ করে দেয়। কতো হাসপাতাল, মর্গে তারে তালাশ করছি। মানসে কইতো, তোমার স্বামী গেছে গা। কান্না কইরা কি হইবো। স্থানীয়রা বলেন, দুইটা মেয়ে জন্ম হওয়ার কারণেই ঘর ছেড়ে পালিয়েছে জালাল। তারপর অনেক সংগ্রাম করে শমলা স্বাবলম্বী হয়েছেন। মেয়েদের রেখে তার বাপ গেছে। মা-ওতো পালিয়ে যেতে পারতেন। পারতেন আত্মহত্যা করতে। তিনি তা করেননি। বলেন, তাইলে ওরা কই যাইতো? ওদের জন্যই আমি সংগ্রাম করেছি। আমার বড় কোন আশা নেই। ওরা যেন আমার চেয়ে একটু ভাল থাকে। সুখ কইরা যেন ওরা খাইতে পারে- এটাই আশা।
১৪ বছর আগে গ্যারেজ শ্রমিক জালালের সঙ্গে বিয়ে হয় শমলার। চার বছর পর প্রথম তার কোলজুড়ে আসে কন্যা সন্তান শাহনাজ আক্তার (১০)। আরও তিন বছর পর শমলা পেটে ধারণ করেন আরেক কন্যা রত্নাকে (৭)। তের দিনের কন্যাসহ সংসার ফেলে ভবঘুরে স্বামী উধাও হয়ে যায় এক সকালে। সাত বছর ধরে নিরুদ্দেশ সে। ঋণ আর বন্ধকের দায়ে জর্জরিত সংসারে কপর্দকহীন শমলা তখন নিরুপায়। তবু হাল ছেড়ে দেননি। একটি চায়ের দোকান তার ভাগ্য বদলে দিয়েছে। শমলা এখন স্বাবলম্বী। দুই কন্যা শাহনাজ আর রত্নাকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন। শমলার জীবন জয়ের এই গল্প এখন বিশ্বজয়ী। নিজের বয়স কত তাও বলতে পারেন না তিনি। কত বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল তাও জানেন না। বিয়ের আগে খেলতেন, বেড়াতেন। বাবা-মা মারা গেছেন স্বামী পালানোর আগেই। দুই ভাই আর দুই বোনের মধ্যে ছোট তিনি। বড়বোনও মারা গেছেন। তার নাম ছিল কমলা। শমলা নামটুকুই শুধু লিখতে পারেন। আর কোন অক্ষরজ্ঞান নেই। মেয়েরা কে কোন ক্লাসে পড়ে তাও জানেন না। জানেন শুধু স্কুলে যায় ওরা। এমনকি তারা অসুস্থ হলে তিনি ডাক্তারের কাছে যান না। পাশের কবিরাজের কাছ থেকে তাবিজ আর পানি পড়া এনে সুস্থ করেন সন্তানদের। শমলা বলেন, ছোট্ট মাইয়াডা রাইতে চিৎকার কইরা ওঠে। এইডাতো আর ডাক্তারে সারাইতে পারব না তাই তাবিজ লাগাইছি। বড় মেয়ে শাহনাজ জানায়, বস্তির এক স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে। ছোট মেয়ে স্কুলে যাচ্ছে বছর খানিক ধরে। ১৪ বছর ধরেই রাজধানীর কড়াইল বস্তির জামাই বাজার মহল্লায় বাস করেন শমলা। সেখান থেকেই স্বামী পালিয়ে যায়। যে ঘরটিতে থাকতেন তা শমলার ভাইয়ের। কিছুদিন ভাইদের সহায়তায় সেখানে থাকলেও এখন ভাড়া দিতে হয় ভাইকে। একটি ছোট্ট খুপরি ঘরের ভাড়া মাসে এক হাজার টাকা। স্থানীয় বস্তিবাসী অধিকার সুরক্ষা কমিটির সদস্য হুমায়ূন কবিরের মাধ্যমেই প্রথম আড়াই হাজার টাকা অনুদান পায় ইউএনডিপির আরবান পার্টনারশিপ ফর পোভার্টি রিডাকশন (ইউপিপিআর) প্রকল্প থেকে। সেই টাকার সঙ্গে ভাইয়ের দেয়া কিছু টাকা এবং মানুষের বাড়িতে কাজ করে জমানো টাকা মিলিয়ে মোট পাঁচ হাজার টাকা পুঁজি সংগ্রহ হয়। সেই পুঁজি নিয়ে থাকার ঘরের অর্ধেক জায়গায় শুরু করেন একটা চায়ের দোকান। দুই মাসের মধ্যেই পুুঁজির চেয়ে বেশি মুনাফা লাভ করেন শমলা। চা আর বিস্কুট দিয়ে শুরু করা দোকানে একে একে এনেছেন ফ্রিজ, টিভি, আরও আনুষঙ্গিক জিনিস। তা দিয়ে এখন ভাল চলছে তার দোকান। অভাব কেবল স্বামীর। সন্তানের বাবার।
পুরস্কার প্রাপ্ত ওই গল্পে উঠে আসে, শমলার মতো আরও প্রায় ৫৫ হাজার হতদরিদ্র পরিবারকে অর্থসহায়তা করেছে ইউএনডিপির ওই প্রকল্প। তরুণ তরুণীদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ওই প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা দেয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে গত এক দশকে বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার অর্ধেকে নেমে এসেছে। জীবনযুদ্ধে সফল সেই সব মানুষেরই একজন শমলা। শমলার এই সাফল্য নিয়ে ইউএনডিপি প্রশাসক হেলেন ক্লার্ক বলেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি সফল হয়েছে। মানবিক উন্নতি ঘটেছে বিভিন্ন স্তরে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখন বাংলাদেশকে বিভিন্নভাবে মডেল হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। গত ২৮শে জানুয়ারি সোমবার বিকালে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর রাত) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। ইউএনডিপি প্রশাসক হেলেন ক্লার্কের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একেএ মোমেন। এ সময় ইউএনডিপির প্রেসিডেন্ট রোবেল ওলহাইয়ে, বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আসাদুল ইসলাম এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের ইকোনমিক মিনিস্টার বরুণ দেব মিত্র উপস্থিত ছিলেন।

Friday, February 1, 2013

নারী বসের লালসার শিকার...পুরুষ ‍নির্যাতন

নারী বসের লালসার শিকার...“পুরুষ ‍নির্যাতন”


নিউ ইয়র্ক পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন নারী কর্মকর্তার যৌন লালসার শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন তার অধঃস্তন পুরুষ কর্মকর্তা ম্যাথিউ শিন্ডলার (৩৯)। এ বিষয়ে গতকাল মামলা হয়েছে। মামলা করেছেন ম্যাথিউ শিন্ডলারের বিধবা স্ত্রী গিনা শিন্ডলার। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়, গত বছর ১৩ই ফেব্রুয়ারি ম্যাথিউ অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে লং আইল্যান্ড এক্সপ্রেসওয়ে’তে আত্মহত্যা করেন ম্যাথিউ। তার স্ত্রী মামলায় দাবি করেছেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন নারী কর্মকর্তা সার্জেন্ট ক্রিস্টিন হার্টজেল তার স্বামীকে তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক গড়তে বাধ্য করেন। এই চাপ থেকে ম্যাথিউ কোনভাবেই মুক্তি পাচ্ছিলেন না। ম্যাথিউ তিন সন্তানের জনক। কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে করা মামলা অনুযায়ী, যদি ক্রিস্টিনের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ন করে, তার চাহিদা ম্যাথিউ পূরণ না করেন তাহলে তার চাকরির এসাইমেন্ট, কাজের পরিবেশ ও পদোন্নতি কোনটিই শুভ হবে না বলে হুমকি দেয়া হয়। এতে এক পর্যায়ে কোন উপায় না পেয়ে ম্যাথিউ আত্মহত্যা করেন। এ মামলায় গিনা সুনির্দিষ্ট কোন অংকের ক্ষতিপূরণ চান নি।

সিলেটে ছাত্রদলের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, নিহত ১

সিলেটে ছাত্রদলের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, নিহত ১

সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরশহরে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জসিম নামে এক ছাত্রদল কর্মী নিহত হয়েছেন। গতকাল পৌরশহরের চৌমুহনী এলাকায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গোলাপগঞ্জ পৌর শহরে উত্তেজনা বিরাজ করায় বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত সালাহউদ্দিন ও দেলোয়ারসহ কমপক্ষে ১০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিখোঁজ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী, মীর্জা ফখরুল ইসলামের মুক্িতর দাবিতে গতকাল গোলাপগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে স্থানীয় যুবদল। গোলাপগঞ্জ উপজেলা যুবদল সদর ইউনিয়নে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি পালন করাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের রিপন ও সালাউদ্দিন গ্রুপের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সকাল ১১টায় পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ এক সমঝোতা বৈঠকে বসেন। কিন্তু ওই বৈঠক নিষ্পত্তি হয়নি। এদিকে, বেলা ২টায় ছাত্রদলের বিবদমান রিপন-সালাহ উদ্দিন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় বেশ কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ঘটে। এ সময় ধারালো অস্ত্র, লোহার পাইপ, রুল-রড দিয়ে ছাত্রদল কর্মী জসিম উদ্দিনসহ কয়েক জনকে  কোপানো হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ব্যাপী সংঘর্ষকালে সিলেট থেকে দাঙ্গা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় জসিম উদ্দিনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে পথিমধ্যেই মারা যায় জসিম। জসিম উপজেলা ছাত্রদলের মামুন আহমদ রিপন গ্রুপের ছাত্রদল নেতা। সে ফুলবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি। ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত আফতাব আলীর পুত্র সে। পরিস্থিতি থমথমে থাকায় গোলাপগঞ্জ উপজেলা সদরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকাল ৫টা থেকে স্থানীয় লোকজন সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের গোলাপগঞ্জ অংশে ব্যারিকেড দেয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশের সহায়তায় ব্যারিকেড তুলে নেয়া হয়।