ঢাবির প্রবেশপথে রক্ষণাবেক্ষণ নেই, অবাধে চলছে ভারী যানবাহন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথগুলোতে রক্ষণাবেক্ষণের অবহেলায় অবাধে প্রবেশ
করছে বিভিন্ন ধরনের বহিরাগত ভারী ও অন্যান্য যানবাহন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়
অভ্যন্তরের যোগাযোগ ব্যবস্থা সংকটগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। প্রায় দিনই
ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে অবাধে যাতায়াত করছে বহুসংখ্যক বহিরাগত যানবাহন।
এজন্য শিক্ষার্থীরা দায়ী করছেন কর্তৃপক্ষর অবহেলাকেই।
ক্যাম্পাসের প্রবেশপথগুলোতে ‘ভারী যানবাহন প্রবেশ নিষেধ’ লেখা থাকলেও তা
মানা হচ্ছে না। হরহামেশাই ক্যাম্পাসের রাস্তা দিয়ে দ্রুতগতিতে যাতায়াত করছে
বাস-ট্রাকসহ নানা ভারী যানবাহন। এতে করে নানা সময়ে ঘটছে দুর্ঘটনা।
সরোজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কটি প্রবেশপথ সব সময় খোলা থাকায়
এই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশপথ রয়েছে
আটটি। এগুলোর কোনোটিরই নিরাপত্তাকর্মী বেশির ভাগ সময় থাকেন না। বারবার
ক্যাম্পাসের প্রবেশ পথগুলোতে নিরাপত্তা চৌকি বসানের কথা বলা হলেও তা এখনো
বাস্তবায়িত হয়নি। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝেও রয়েছে চাপা ক্ষোভ।
এছাড়া ক্যাম্পাসের ভেতরের রাস্তাগুলোর অধিকাংশই ঝুঁকিপূর্ণ। স্যুয়ারেজ
লাইন সংস্কারের নামে রাস্তা খোঁড়া হলেও এখনো মেরামত করা হয়নি। যেখানে
সেখানে কার্পেট উঠে গেছে। অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকে। ফলে নির্বিঘ্নে
চলাচল করা যায় না। রিকশা, সিএনজি ও ট্যাক্সিক্যাব চালকরা আবাসিক হলগুলোতে
সহজে ভাড়া যেতে চান না। অনেক সময় অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের
শিক্ষার্থী মোশাহিদ বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, ‘‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা
দিয়ে যাতায়াত করলে নিজের জীবন নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন থাকতে হয়।”
ক্যাম্পাসের ভিতর দিয়ে বহিরাগত ভারী যানবাহনসহ নানা ধরনের গাড়ি চলাচলকে এর কারণ হিসেবে জানান তিনি।
এদিকে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাচলের জন্য ক্যাম্পাসের বিভিন্ন
ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে জেবরা ক্রসিং, ওভারবব্রিজ ও আন্ডারপাস না থাকায়
শিক্ষার্থীদের অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পার হন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় যাতায়াতের ফলে গত বিশ বছরে ১১ জন
শিক্ষার্থী অকালে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া গত ২৮ আগস্ট শাহবাগে বাসের
ধাক্কায় নিহত হন তৌহিদ নামের এক মেধাবী শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের
আন্দোলনের মুখে একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনো কোনো
অগ্রগতি নেই।
কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, প্রতিনিয়তই ক্যাম্পাসে দ্রুতগতির যানবাহন চলছে।
ক্যাম্পাসের ভিতর দিয়ে বেপরোয়া গতির মোটরবাইকের যন্ত্রণায়ও অতিষ্ঠ অনেকে।
এসব কারণে শিক্ষার্থীরা প্রায়শই কোনো না কোনো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মোট আটটি প্রবেশপথ রয়েছে। এগুলো হচ্ছে
শাহবাগ, কাঁটাবন, নীলক্ষেত, পলাশী, বংশাল, চাঁনখারপুল, গুলিস্তান ও
হাইকোর্ট সংলগ্ন। এসব প্রবেশপথ হয়ে ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে প্রতিদিন কয়েক
হাজার বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে।
শিক্ষার্থীরা জানান, ‘‘ক্যাম্পাসে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দু-এক দিন এসব
যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। তারপর আবার শুরু হয়। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়
কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না এবং ক্রমাগত দুর্ঘটনা ঘটেই
যাচ্ছে।’’
জানা গেছে, প্রতি ঘণ্টায় রিকশা, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, সিএনজি,
মাইক্রোবাস, ভ্যান, পিকআপ ভ্যান, বাইসাইকেল, ট্যাক্সিক্যাব এবং বাসসহ
বিভিন্ন ধরনের কয়েক হাজার যানবাহন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ
করে। এছাড়া কয়েক হাজার গাড়ি ক্যাম্পাস থেকে বের হয়। এর ফলে ক্যাম্পাসের
মধ্যে যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে নীলক্ষেত এবং শাহবাগ মোড়ে তীব্র
যানজটের সৃষ্টি হয়, যা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি করে।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হল, স্যার এ এফ রহমানসহ বিভিন্ন হলের
সামনে দিয়ে রাত-দিনে সমানে যানবাহন চলাচল করে। ৎ
জানা গেছে, যেসব শিক্ষার্থী মূল ক্যাম্পাসের বাইরে যেমন শাহনেওয়াজ
ছাত্রাবাস, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল ও ফজিলাতুননেছা মুজিব হলে থাকেন এবং
যেসব ছাত্রছাত্রী সমাজকল্যাণ বিভাগে ভর্তি হন, তাদের নীলক্ষেতের দুটি
ক্রসিং রোড পার হওয়ার সময় বেশ ভোগান্তির শিকার হতে হয়। কেননা ওই হল ও
ইনস্টিটিউট পিলখানার ৩ নম্বর গেটে অবস্থিত।
ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে ওই দুই ছাত্রী হলের জন্য দুটি মিনি বাস বরাদ্দ থাকলেও তা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।
যানজটের কারণে ইতোমধ্যে নীলক্ষেত হয়ে নিউমার্কেট দিয়ে বিডিআর গেট পর্যন্ত
রিকশা চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশ। তবে পরিচয়পত্র
দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের যেতে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু পরিচয়পত্র দেখানোর সময়
বিড়ম্বনা পোহাতে হয় বলে অভিযোগ করেন মৈত্রী হল, ফজিলাতুননেছা হল এবং
শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীরা ।
এ বিষয়ে শাহবাগ থানা ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন,
‘‘কর্তৃপক্ষ চাইলে আমরা যে কোনো মুহূর্তে ক্যাম্পাসের ভিতর দিয়ে যান চলাচল
বন্ধ করে দেবো। তবে বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসের ভিতর দিয়ে যান চলাচল
নিয়ন্ত্রণ করা হয় ।’’
ক্যাম্পাসে যানজট এবং প্রবেশপথগুলোর নিরাপত্তার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের
ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আমজাদ আলী বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, ‘‘ক্যাম্পাস দিয়ে
বহিরাগত যান চলাচল করায় নানা ধরনের অসুবিধা হচ্ছে। এ বিষয়ে সিটি
কর্পোরেশনের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’’





















