Pages

Saturday, November 24, 2012

ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কৌশল বদল: বাহন প্রাইভেট কার, হস্তান্তর হোটেলে

ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কৌশল বদল:
বাহন প্রাইভেট কার, হস্তান্তর হোটেলে 

ইয়াবা বাণিজ্যের কৌশল বদলেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। এখন গাদা বা বাহক ব্যবহার না করে নিজেরাই গাড়িতে করে বড় চালান পৌঁছে দিচ্ছে রাজধানীতে। কক্সবাজারের চিহ্নিত ইয়াবা সিন্ডিকেটের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে ইয়াবা পৌঁছে দিচ্ছে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়। কিছুদিন পরপর হাজার হাজার ইয়াবা একসঙ্গে পাঠাচ্ছে তারা। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ইয়াবার চালান ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ জেলায় যাচ্ছে। আর রাজধানীর আবাসিক হোটেলে বসে এসব ইয়াবার চালান হাতবদল হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে কয়েকটি চালান ধরা পড়ার পর মাদক ব্যবসায়ীদের এ কৌশল ধরা পড়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ নভেম্বর রাতে রাজধানীর কমলাপুর এলাকায় একাটি প্রাইভেট কারে পাওয়া যায় ৪৫ হাজার পিস ইয়াবা। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয় ছয় যুবককে। ইয়াবার এই চালানটি এযাবৎকালে রাজধানীতে পুলিশের হাতে আটক হওয়া সবচেয়ে বড় চালান। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ফকিরাপুলের একটি আবাসিক হোটেল থেকে চার হাজার ইয়াবার চালানসহ গ্রেপ্তার করা হয় ছয়জনকে। গত ৬ অক্টোবর খিলগাঁও উড়াল সড়কের কাছে একটি মাইক্রোবাসে সাত হাজার পিস ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিটি সার্ভিস) মাসুদুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, সাধারণত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা বাহক দিয়ে রাজধানীতে ইয়াবার চালান পাঠায়। অতীতে কক্সবাজার বা টেকনাফ থেকে আসা চালানসহ আটক হওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের বহনকারী বলেই পরিচয় দিয়েছে। তাই ব্যবসায়ী বা পাইকারি বিক্রেতা চক্রের মূলে যেতে পারত না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এসব বহনকারী চতুর না হওয়ার কারণে প্রায়ই ধরা পড়ে। তাই সম্প্রতি কৌশল বদলেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। এখন নিজেরা নিজস্ব গাড়িতে করে ইয়াবা ঢাকায় নিয়ে আসছে। সে কারণে তারা ঝুঁকি নিয়ে একই সঙ্গে অনেক ইয়াবা নিয়ে আসছে। এ তৎপরতার কারণে ঢাকা মহানগর পুলিশ নজরদারি জোরদার করেছে। একের পর এক চালানও ধরা পরছে। ৪৫ হাজার ইয়াবার চালানটি রাজধানীতে পুলিশের হাতে আটক হওয়া সবচেয়ে বড় চালান।
ডিএনসিসির ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের উপপরিচালক আলী আসলাম বলেন, 'মাদক ব্যবসায়ীরা ইয়াবা নিয়ে আসে না নিজেরাই। একবারে অল্প পরিমাণ ইয়াবার চালান পাঠায় তারা, এ প্রবণতা পুরনো। এখন দেখা যাচ্ছে, ঝুঁকি নিয়ে বড় আকারের চালান পাঠাচ্ছে তারা। তাই চট্টগ্রাম রুটের দিকে আমাদের বিশেষ নজরদারি আছে।'
গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ১৯ নভেম্বর রাতে প্রাইভেট কারে করে পাচারের সময় কমলাপুরে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয় শামসুল হুদা, শামছুল আলম, শাহীন ওরফে জুয়েল, সৈয়দ আলম, আবদুল খালেক ও গাড়িচালক আবদুল গফুর। ডিবির মাদক উদ্ধার দল পুলিশ সদর দপ্তরের একটি দলের সহযোগিতায় ওই বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানকালে একটি এক্স করল্লা প্রাইভেট কারে (ঢাকা মেট্রো: গ-২৩-৮৪৭০) রাখা ৪৫ হাজার পিস ইয়াবার চালান আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানায়, কক্সবাজারের টেকনাফ থানার নীলা এলাকার ইয়াবা ব্যবসায়ী নূরুল হুদার কাছ থেকে চালানটি নিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসে তারা। নূরুল হুদা তার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়ই চালানটি পাঠায়। এসব ইয়াবা আজিমপুর এলাকার ইয়াবা ব্যবসায়ী জুয়েল, খিলগাঁও এলাকার রমজান ও বনশ্রী এলাকার আসমার কাছে বিক্রি করার কথা ছিল।
পুলিশ কর্মকর্র্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া শামসুল হুদা ইয়াবা ব্যবসায়ী নূরুল হুদার ছোট ভাই। ঘটনার দুই দিন আগে জেল থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে ছোট ভাইসহ সঙ্গীদের দিয়ে রাজধানীতে ইয়াবার চালানটি পাঠায় নূরুল। আটক করা প্রাইভেট কারটি নূরুলের বলেই প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নূরুল হুদা ও শামসুল হুদা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। গ্রেপ্তার হওয়ার পর শামসুল হুদা জানায়, ইয়াবার চালানটির কিছু অংশ হেলাল ও বোরহান নামের দুই মাদক ব্যবসায়ীর। এদের সহায়তায় রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থেকে ইয়াবা বিক্রি করেন শামসুল।
ডিবির সহকারী কমিশনার (এসি) মাহফুজুল ইসলাম জানান, গত ১৮ অক্টোবর ফকিরাপুল বাজারের হোটেল আলীজার পঞ্চম তলার ৫০১ নম্বর কক্ষে অভিযান চালিয়ে তিন হাজার ৯৩০টি ইয়াবা, ছয় লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ টাকাসহ ছয়জনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সারোয়ার কামাল, মুক্তার হোসেন, মঞ্জুর আলী, নাছিম, কামাল ওরফে হৃদয় নামের পাঁচজনের বাড়ি কক্সবাজারে। আবদুল জব্বার নামের অপর ব্যক্তির বাড়ি বরিশালে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা টেকনাফ থেকে কৌশলে ইয়াবা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে। রাজধানীতে হোটেলে বসে চালান হাতবদল করে তারা।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর খিলগাঁও উড়াল সড়কের কাছে একটি মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালিয়ে সাত হাজার পিস ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আয়েজ, ইলিয়াস ও গাড়িচালক নুর মোহাম্মদের বাড়ি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার নীলাবাজার এলাকায়। আমিনুল ইসলাম ওরফে আমিন নামের অন্যজনের বাড়ি কক্সবাজার সদরে। তারা টেকনাফ থেকে বিভিন্ন কৌশলে ইয়াবা ট্যাবলেট চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি হিসেবে সরবরাহ করত। রাজধানীতে ইয়াবা আনার জন্য তারা মাইক্রোবাস ভাড়া করে। গ্রেপ্তার হওয়া আমিন জানায়, টেকনাফে খালেক নামের একজন তাকে ইয়াবার চালানটি দেয় রাজধানীতে নিয়ে আসার জন্য। গাড়িচালক নুর মোহাম্মদ জানায়, একবার চালান নিয়ে ঢাকায় এলে ৩৫ হাজার টাকা পায় সে। গ্রেপ্তার হওয়ার আগের মাসেও একটি চালান নিয়ে আসে নূর মোহাম্মদ।
ডিএনসিসির পরিদর্শক রাজু আহমেদ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে ফকিরাপুলের আলীজা আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে চারজনকে এক হাজার ৪০০টি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো সেলিনা আক্তার, হাবিবা, মাহবুব আলম ও শাহাবুদ্দিন। তারা কক্সবাজার থেকে মাইক্রোবাসে ইয়াবার চালানটি নিয়ে ঢাকায় আসে। চারজন স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আলীজা হোটেলের ৪০৮ ও ৪০৯ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেয়। তবে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গী ছাড়া তাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। হোটেল থেকেই চালানটি খুচরা বিক্রেতাদের সরবরাহ করার কথা ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া নারী হাবিবা রোহিঙ্গা। তারা সবাই ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম আনোয়ার পাশা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'অভিযানে ইয়াবাসহ ধরা পড়া বেশির ভাগই বাহক। স্থানীয় ভাষায় এদের গাদা বলা হয়। এদের গ্রেপ্তার করা হলেও কারবারি পর্যন্ত যাওয়া যায় না। দু-একজন ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করতে পারলে সিন্ডিকেটের খবর জানা যাবে।'

ঢাকা যেন ডাস্টবিন

ঢাকা যেন ডাস্টবিন

শাহবাগ মোড় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার প্রবেশপথে শাহবাগ থানার পাশেই মূল সড়কের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। পাশের ডাস্টবিন থেকে ময়লা উপচে পড়েছে রাস্তায়। ফুটপাতের ওপর ছড়িয়ে থাকা আবর্জনার দুর্গন্ধে এই পথ দিয়ে চলাফেরা করা রীতিমতো 'শ্বাসরুদ্ধকর'। নাক চেপে ধরে চলতে হয়।
শাহবাগ মোড়ের ভাই ভাই ফ্লাওয়ার মিলের কর্মচারী বিজয় রায় জানান, প্রায়ই ময়লা ফেলে ফেলে রাস্তার অর্ধেকটা বন্ধ করে ফেলা হয়। সব সময়ই আবর্জনার তীব্র গন্ধ থাকে। বাধ্য না হলে এখান দিয়ে কেউ হাঁটে না।
এই পথে যাতায়াতকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ভাস্কর্য বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আহমেদ তারেক জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, শাহবাগ থানা ও জাতীয় জাদুঘর_এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রস্থলে এমন ময়লার ভাগাড় থাকা খুবই দুঃখজনক।
কেবল এখানে নয়, রাজধানীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়কেরই এমন হাল। রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। অলিগলির অবস্থা আরো খারাপ। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি সড়ক ঘুরে যে চিত্র দেখা গেছে তা কোনো রাজধানী শহরের সঙ্গে একেবারেই মানানসই নয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মৌচাক মার্কেট থেকে বসুন্ধরা আবাসিক
এলাকার প্রগতি সরণি যেন সিটি করপোরেশনের ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। সড়কের দুই পাশেই ময়লা-আবর্জনা ফেলার কনটেইনার থাকায় জনসাধারণের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব কনটেইনার থেকে রাতের বেলা ময়লা অপসারণের কথা থাকলেও সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সেগুলো সময়মতো পরিষ্কার করে না। অনেক ক্ষেত্রে দিনের বেলায়ও ময়লা অপসারণ করতে দেখা যায়। ময়লার গাড়িও
দিনের বেলা চলতে দেখা যায় ব্যস্ত রাজপথে। যানজটের ভেতরে পড়লে তখন দুর্গন্ধে ভোগান্তির শেষ থাকে না। মালিবাগ থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা পর্যন্ত অন্তত ১৫টি স্থানের অবস্থা বেশ খারাপ। বিশেষ করে রামপুরা বাজার ও বাড্ডা এলাকার রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখার দৃশ্য নিয়মিতই চোখে পড়ে।
মধ্য বাড্ডা আবুল হোটেলের উত্তর পাশ, মধ্য বাড্ডা রাস্তার পূর্ব পাশে হাজী মার্কেটের সামনে, বাড্ডা উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে ও সুবাস্তু টাওয়ারের পশ্চিম পাশে রাস্তার ওপরে প্রায়ই ময়লা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। এলাকাবাসী জানায়, সিটি করপোরেশনকে বারবার জানানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। এমনকি প্রতিদিন সকাল হওয়ার আগে ময়লা পরিষ্কারের নিয়ম থাকলেও কাজ চলে দুপুর পর্যন্ত। অভিযোগ পাওয়া গেছে, যে সংখ্যক ট্রিপ দিয়ে আবর্জনা পরিষ্কার করার কথা, বর্জ্যবাহী যানবাহনের অসাধু চালকরা ওই সংখ্যক ট্রিপও দেয় না। ফলে আবর্জনা থেকেই যায়।
হাজী মার্কেটের দোকানি আরশাদ আলম জানান, প্রতিদিন সকালে নাক চেপে দোকানে যেতে হয়। দুপুরে বের হওয়ার সময়ও একই অবস্থা। ময়লা যত্রতত্র পড়ে থাকার কারণে রাস্তা সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। এতে সব সময় যানজট লেগেই থাকে।
রোকেয়া সরণির শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে বাজারের সামনের সড়কের অবস্থাও বেহাল। কনটেইনার উপচে আশপাশেও ছড়িয়ে পড়েছে বর্জ্য। তা থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের ঢুকতে হচ্ছে নাক চেপে ধরে। কোলাহলপূর্ণ ওই পয়েন্টে বাসগুলো থামে। ওঠা-নামার সময় যাত্রীদের পড়তে হয় বিপাকে। দিনের পর দিন চলছে এই অবস্থা।
শাহবাগ, প্রগতি সরণি বা শেওড়াপাড়ার মতো ময়লা-আবর্জনায় শ্রীহীন হয়ে পড়েছে নগরীর বেশির ভাগ এলাকা। যত্রতত্র পড়ে থাকা বর্জ্যের উৎকট গন্ধে বিষিয়ে উঠছে নগরজীবন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরান ঢাকার রসুলপুর-কোম্পানীঘাটের সংযোগ সড়কের দুই পাশেই আবর্জনার স্তূপ। প্রতিদিন কয়েক লাখ মানুষকে নাকে রুমাল চেপে এ পথে চলাচল করতে হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দারা ডায়রিয়াসহ জীবাণুবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পাশে বুড়িগঙ্গা শাখা-নদীর তীরঘেঁষে কামরাঙ্গীরচর লোহার ব্রিজ এলাকা পর্যন্ত দুই পার থেকে ময়লা-আবর্জনা নদীতে ফেলা হচ্ছে। কাপ্তানবাজার এলাকায় ময়লার স্তূপের চিত্র সার্বক্ষণিক। এসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শুষ্ক মৌসুমের ধুলোবালি। বর্তমানে নির্মাণকাজের মৌসুম চলায় অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে। অনেকে নির্মাণসামগ্রী রাস্তার ওপরই ফেলে রাখছেন। যানবাহনের চলাচলে তা ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। মোহাম্মদপুর, মিরপুর, শ্যামলী, রামপুরাসহ বিভিন্ন স্থানে চলছে নির্মাণযজ্ঞ। সামান্য বৃষ্টি হলে এসব ময়লা-আবর্জনা একাকার হয়ে অসহনীয় অবস্থার সৃষ্টি হয়। আর রোদ হলে ধুলোবালিতে একাকার হয়ে যায় পুরো এলাকা।

পুলিশের বিরুদ্ধে অর্থ লুটের অভিযোগ

পুলিশের বিরুদ্ধে অর্থ লুটের অভিযোগ

রাজধানীর শাহজাহানপুরের একটি বাড়িতে অভিযানের নামে পুলিশ কর্তৃক অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ উঠেছে। লুটের পর পরিবারের ৭ সদস্যকে মাদক ও চুরির মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে একরাত থানায় আটকে রেখে শুক্রবার সকালে আদালতে চালান করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে শাহজাহানপুর থানার উপ-পরিদর্শক নূরুল ইসলাম পুলিশ নিয়ে তল্লাশির উদ্দেশ্যে শাহজাহানপুরের পার্কওয়ে হাসপাতাল গলির অমিত এ্যাপার্টমেন্টের দ্বিতীয় তলার বি-১ নম্বর ফ্ল্যাটে যায়। পুলিশ ওই বাড়ি থেকে টাকা-পয়সা মালামাল লুণ্ঠন করে বলে পরিবারের তরফ থেকে গ্রেফতারকৃত মাফিয়ার ছেলে রনির অভিযোগ। রনি আরও অভিযোগ করেন, গ্রেফতারকৃতদের ছেড়ে দেয়ার শর্তে ১০ লাখ টাকা দাবি করে পুলিশ কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে থানার এসআই নূরুল ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তাঁদের ছাড়া হবে বলে জানান। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় পুলিশ তাঁদের কোর্টে চালান করে দেয়। সেই ভয়ে থানায় যাচ্ছেনা বলে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন।
পুলিশ লুণ্ঠনের পর মাফিয়া বেগম (৭০), তার দুই বোন সোনিয়া আক্তার ও তানিয়া আক্তার এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্য হালিমা বেগম, ইয়াসিন, মানিক ও কাজের বুয়া নিলাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এর পর শুক্রবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এ ব্যাপারে পুলিশ কর্মকর্তা নূরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জনকণ্ঠের কাছে দাবি করেন, গত ২৮ অক্টোবর শহীদবাগের ৯০৫ নম্বর ডোম ইনোর সি-২ নম্বর ড. আলাউদ্দিনের বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনা তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ১ নবেম্বর মনির নামে একজনকে আটক করা হয়। মনিরের তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ওই বাড়ি থেকে ৭টি চোরাই মোবাইল ফোন, ২ লাখ সাড়ে ৮২ হাজার টাকা, ৯টি ডিজিটাল ক্যামেরা, এক ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, ৪ কেজি ওজনের সিটি গোল্ডের অলঙ্কার উদ্ধার হয়। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে বেশ কিছু মালামাল ড. আলাউদ্দিনের বাড়ি থেকে খোয়া যাওয়া বলে শনাক্ত করা হয়। এ সময় ৭ জনকে আটক করা হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, রনিকেও খোঁজা হচ্ছে। রনির মা মাফিয়া চুন্নী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ৭২টি মামলা রয়েছে। তারা প্রায় এক লাখ টাকা ভাড়ায় বসবাস করে। ঢাকায় মাফিয়া চুন্নীর ৩টি বাড়ি রয়েছে। মূলত সে একজন অপরাধী। অনেক টাকার মালিক বিধায় ছেলের মাধ্যমে মিথ্যা অভিযোগ করে আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে পড়ার চেষ্টা করছে। ১০ লাখ টাকা দাবি করার বিষয়টি মিথ্যা বলেও তিনি দাবি করেন।

সৌদি আরবের নারীরা প্রযুক্তির নজরদারিতে

সৌদি আরবের নারীরা প্রযুক্তির নজরদারিতে

পুরুষ অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ করার অনুমতি নেই সৌদি আরবের নারীদের, গাড়ি চালানোও তাঁদের জন্য নিষিদ্ধ। এবার আরও এক ধাপ নিরাপত্তার জালে আবদ্ধ হয়েছেন ইসলামী শরিয়াভিত্তিক দেশটির নারীরা। নারীদের চলাফেরা নজরদারিতে (মনিটর) রাখার জন্য নতুন এক ইলেকট্রনিক সিস্টেম চালু করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
এর ফলে গত সপ্তাহ থেকে সৌদি নারীদের পুরুষ অভিভাবকরা মোবাইলফোনে এসএমএস পাচ্ছেন তাঁদের নারীদের চলাফেরার ব্যাপারে। মেসেজে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে, তাদের তত্ত্বাবধানে থাকা নারীরা দেশ ছেড়ে যাচ্ছেন কিনা। এমনকি সঙ্গে অভিভাবক থাকলেও তার মোবাইলে এ মেসেজ আসবে।
এক দম্পতির কাছ থেকে এসব তথ্য জানতে পেরে টুইটারে দ্রুত ছড়িয়ে দেন মানাল আল-শেরিফ, যিনি ২০১১ সালে সৌদি নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্ন সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
ঐ স্বামী তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যাওয়ার সময় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্বামীর মোবাইলে একটি এসএমএস আসে, যাতে জানানো হয়, তাঁর স্ত্রী রিয়াদ বিমানবন্দর ত্যাগ করেছেন।
সৌদি আরবের নিয়মানুযায়ী, পুরুষ অভিভাবকের লিখিত অনুমতি ছাড়া সৌদি নারীরা দেশত্যাগ করতে পারেন না।
প্রখ্যাত কলামিস্ট বদ্রিয়া আল-বিশর এ ব্যাপারে বলেছেন, ‘কর্তৃপক্ষ নারীদের মনিটর করার জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।’ তিনি রক্ষণশীল দেশটিতে নারীদের পরিস্থিতিকে দাসত্বের সঙ্গে তুলনা করে এর তীব্র প্রতিবাদ করেন।
নারীদের ওপর নজরদারি করার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ নিন্দার ঝড় তুলেছে সামাজিক যোগাযোগ সাইট টুইটারে। এই সিদ্ধান্তকে ব্যঙ্গ করে আসছে একের পর এক টুইট।
একটি টুইটে লেখা হয়েছে, ‘হ্যালো তালেবান, এখানে তোমরা সৌদি ই-সরকারের কাছ থেকে কিছু টিপস পেতে পারো!’
আরেক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘তোমরা তোমাদের নারীদের পায়ে বেড়ি পরাচ্ছো না কেন?’
হিশাম নামে অপর ব্যক্তি টুইট করেছেন, ‘আমার স্ত্রী সৌদি আরব ছাড়ছে কিনা সেটা জানার জন্য যদি আমার এসএমএস দরকার হয়, তাহলে হয় আমি ভুল নারীকে বিয়ে করেছি কিংবা আমাকে পাগলের ডাক্তার দেখানো দরকার।’
কলামিস্ট বিশর তাঁর টুইটে বলেন, ‘নারীদের বন্দী করে রেখে পেছনে ফিরে যাওয়ার জন্য এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, কঠোরভাবে শরিয়ত আইনের অনুসারী সৌদি আরবই পৃথিবীর একমাত্র দেশ, যেখানে নারীদের গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ।
২০১১ সালে সক্রিয় নারী কর্মীরা এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জন্য সভা-সমাবেশ করেছিলেন, যার ফলে অনেক নারীকে গ্রেফতার করে তাদের দিয়ে ‘আর কখনও গাড়ি চালাব না’ মর্মে একটি প্রার্থনায় সই নেয়া হয়। যদিও নারীদের গাড়ি চালানোর বিষয়ক সরাসরি কোন নিষেধাজ্ঞা সৌদি আইনে নেই, তারপরও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্যোগে ১৯৯০ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ হয়।
২০১১ সালে সৌদি বাদশা আব্দুল্লাহ প্রথমবারের মতো সৌদি নারীদের ভোটাধিকার প্রদান করেন ও ২০১৫ সালে পৌর নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ দেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশটির শরিয়া আইন কার্যকরী করার প্রধান মাধ্যম পুলিশ বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় শেখ আব্দুল্লাতিফ আব্দেল আজিজ আল-শেখকে। তিনি পুলিশ বাহিনীর সৌদি নারীদের হয়রানি করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
এরকম কঠোর বাধা-নিষেধের কারণে দেশটিতে ক্রমে নারী বেকারত্ব বাড়ছে, যা বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।

আগামী বছর থেকে মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষা হবে না:স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিত

আগামী বছর থেকে মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষা হবে না:স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিত

আগামী বছর থেকে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে আর ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে না। এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএর ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়া হবে। এমন সিদ্ধান্তেরই ইঙ্গিত দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আ ফ ম রুহুল হক। শুক্রবার মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনকালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি তাদের এই ঝামেলা (ভর্তি পরীক্ষা) থেকে মুক্তি দিতে চাই। তবে সবার সঙ্গে আলোচনার পরেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দেশের ২৩টি কেন্দ্রে এক ঘণ্টার এমসিকিউ পরীক্ষা হয়। আট হাজার ৪৯৩টি আসনের বিপরীতে ৫৮ হাজার ৭২৩ জন শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেন। এ বছর দেশের ২২টি সরকারী মেডিক্যাল কলেজে দুই হাজার ৮১১টি এবং ৫৩টি বেসরকারী মেডিক্যালে চার হাজার ২৪৫টি আসনে এমবিবিএস কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। আর নয়টি সরকারী ডেন্টাল কলেজ ও মেডিক্যাল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটের ৫৬৭টি আসন এবং ১৪টি বেসরকারী ডেন্টাল ইনস্টিটিউটের ৮৭০টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে বিডিএস কোর্সে। শুক্রবার পরীক্ষা চলাকালে প্রতিটি কেন্দ্রে মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ শতাধিক কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দল তদারকি করেছেন।
ভর্তি পরীক্ষা পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন’ পরিদর্শক দল দেশের প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্র ঘুরে দেখেছেন। কোথাও অনাকাক্সিক্ষত কিছু ঘটার সংবাদ পাওয়া যায়নি বলে জানান মন্ত্রী।
এদিকে, প্রতি বছর মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে সরকারের বাড়তি মনোযোগ থাকলেও এবার ভর্তি পদ্ধতি সংস্কারের উদ্যোগ ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং নকল ঠেকাতে পরীক্ষার হলে ঘড়ি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের কারণে আলোচনা নতুন মাত্রা পায়। পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি পরিবর্তন নিয়েও বেশ আলোচনা হয়। গত ১২ আগস্ট স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএর ভিত্তিতে মেডিকেল ও ডেন্টালে শিক্ষার্থী ভর্তির ঘোষণা দিলে সারা দেশে আন্দোলন শুরু করে মেডিক্যাল ভর্তিচ্ছুরা। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতেও গড়ায়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার। গত ১০ সেপ্টেম্বর আদালত পরীক্ষা নিয়ে মেডিক্যাল ও ডেন্টালে শিক্ষার্থী ভর্তির নির্দেশনা দিলে সরকার ২৩ নবেম্বর পরীক্ষার দিন রাখে।

১৫ কোটি মানুষ জন্ম নিবন্ধনের আওতায়

১৫ কোটি মানুষ জন্ম নিবন্ধনের আওতায়

সরকারের জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম সাফল্যের পথে। ইতিমধ্যে দেশের প্রায় ১৫ কোটি মানুষ জন্মনিবন্ধনের আওতায় চলে এসেছে। আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে দেশের সকল নাগরিক জন্মনিবন্ধনের আওতায় চলে আসবে বলে আশা করছে সরকার।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত দেশে ১৪ কোটি ৯৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৯৭ জন জন্মনিবন্ধনের আওতায় এসেছে। ইতিমধ্যে ১১ কোটি ৫৭ লাখেরও বেশি নাগরিককে জন্মসনদ প্রদান করা হয়েছে। আর আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে দেশের সকল নাগরিক জন্মনিবন্ধনের আওতায় চলে আসবে।
সূত্র মতে, ২০০৫ সালে দেশের মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ, ২০০৬ সালে ১৫ দশমিক ১৬ শতাংশ, ২০০৭ সালে ৪৯ দশমিক ৯০ শতাংশ, ২০০৮ সালে ৮৭ দশমিক ৭০ শতাংশ, ২০০৯ সালে ৯২ দশমিক ৪১ শতাংশ, ২০১০ সালে ৯৪ দশমিক ১১ শতাংশ, ২০১১ সালে ৯৭ দশমিক ৩১ শতাংশ ও ২০১২ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ৯৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ লোক জন্মনিবন্ধনের আওতায় এসেছে।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন অনুযায়ী দেশে মোট ১৬টি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এ সনদ জরুরি। ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি, জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তি, পাসপোর্ট, বিবাহনিবন্ধন, বিদ্যালয়ে ভর্তি, নিয়োগ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ব্যাংক হিসাব খোলা, আমদানি ও রফতানির লাইসেন্স, গ্যাস-পানি-টেলিফোন ও বিদ্যুত সংযোগ, বাড়ির নকশা অনুমোদন, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ইত্যাদি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এ সনদ কাজে লাগবে।
২০০৪ সালে দেশে জš§ ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন প্রণীত হয় ২০০৬ সালের জুলাই থেকে তা কার্যকর হয়। কিন্তু জনসচেতনতার অভাবে এখনও অনেকেই নিয়মানুসারে জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্মনিবন্ধন করেন না। জন্মনিবন্ধন আইন অনুযায়ী কোন শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যেই জন্মনিবন্ধন করতে হবে। এ ছাড়া ১৮ বছরের নিচে বয়সীদের ক্ষেত্রে বিনা ফি’তে জন্মনিবন্ধন করা যাবে। তবে ১৮ বছরের উর্ধে জন্মনিবন্ধন করতে হলে ৫০ টাকা ফি দিতে হবে। দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড অফিস থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ নেয়া যাবে।
বর্তমানে সারাদেশে সরাসরি জন্মনিবন্ধনের পাশাপাশি অনলাইনেও জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। দেশের ৫৫টি জেলা ও বিদেশে ১৭টি দূতাবাসের মাধ্যমে অনলাইনে জš§নিবন্ধন চলছে। ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে জন্মনিবন্ধন করা হচ্ছে। অনলাইন জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম চলমান এলাকাগুলো দেশের ৫৫টি জেলার খুলনা, যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, কক্সবাজার, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, জামালপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, গাজীপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, রাজবাড়ী, চাঁদপুর, ফেনী, মৌলভীবাজার, মাদারীপুর, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, নরসিংদী, শরীয়তপুর, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী, মেহেরপুর ও বগুড়ার সব ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা। অবশিষ্ট ৯ জেলার সব পৌরসভা, দেশের সব কয়টি ক্যান্টনমেন্ট ও সিটি কর্পোরেশনে অনলাইন জš§নিবন্ধন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
অপরদিকে বাংলাদেশের বাইরে কানাডার অটোয়া, গ্রীসের এথেন্স, কুয়েতের কুয়েত সিটি, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, ওমানের মাস্কাট, কাতারের দোহা, সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা, সিঙ্গাপুরের সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই, যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম, লন্ডন ও ম্যানচেস্টার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি ও ওয়শিংটন ডিসি ইত্যাদি শহরে অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে।
সূত্র মতে, ১৮৭৩ সালের ২ জুলাই তদানীন্তন ব্রিটিশ সরকার অবিভক্ত বাংলায় জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত আইন জারি করে। কালের পরিক্রমায় ১১৮ বছরে ভৌগোলিক, রাজনৈতিক ও আইনের নানা পরিবর্তন সত্ত্বেও দেশের সব মানুষ জন্মনিবন্ধনের আওতায় আসেনি। সে কারণে ২০০১-২০০৬ সালে ইউনিসেফ-বাংলাদেশ এর সহায়তায় পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ২৮টি জেলায় ও ৪টি সিটি কর্পোরেশনে জন্মনিবন্ধনের কাজ নতুনভাবে আরম্ভ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮৭৩ সালের আইন রোধ করে সরকার ২০০৪ সালের ৭ ডিসেম্বর জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ প্রবর্তন করে। আইনটি ২০০৬ সালের ৩ জুলাই হতে কার্যকর হয়। ২০০১-২০০৬ সালের পাইলট প্রকল্পের শেষে বর্তমান প্রকল্পটি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়) নামে ২০০৭ সালে শুরু হয়। জানুয়ারি ২০০৭ থেকে ডিসেম্বর ২০১০ মেয়াদি প্রকল্পের আর্থিক সহায়তাকারী ইউনসেফ-বাংলাদেশ যার মোট বরাদ্দ ৫৮৬৩ দশমিক ৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অংশ ২৯৬ দশমিক ৩ লাখ টাকা ও প্রকল্প সাহায্য ৫৫৬৭ দশমিক শূন্য লাখ টাকা। প্রকল্পটির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরে গত ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়া চলছে।

অপরাধ জগতে বেপরোয়া নারী

অপরাধ জগতে বেপরোয়া নারী


রাজধানীতে বেপরোয়াগতিতে বাড়ছে নারী অপরাধীর সংখ্যা। সচিবালয় থেকে শুরু করে বস্তি এলাকা পর্যন্ত অবাধ বিচরণ তাদের। নানা রকম অপরাধ করেও সহজে পার পেয়ে যাচ্ছে এরা। দাপটের সঙ্গে আবার ঘটিয়ে চলছে অঘটন। ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি, অপহরণ, প্রতারণা, অস্ত্র বহন, মাদক বিক্রি, মাদক বহন, মানুষকে অজ্ঞান করে সর্বস্ব কেড়ে নেয়া, তদবির বাণিজ্য, ম্যারেজ মিডিয়ার প্রতারণা, যৌন আবেদন দেখিয়ে প্রতারণা, পকেটমার, জাল টাকা বহন সহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ঙ্কর সব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে নারী। নারীকে দিয়ে অপরাধ সংঘটন অনেকটা সহজ বলে দিনে দিনে বেশি মাত্রায় নারীদের টানা হচ্ছে অপরাধ জগতে। পুলিশের অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে সামপ্রতিক সময়ে রাজধানীতে হাই সোসাইটির সুন্দরী মেয়েদের বেশি করে আগমন ঘটছে অপরাধ জগতে। এদেরকে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রতারণা করে বিত্তবানদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়ার কাজে। তবে ওই সব নারীর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ পুরুষচক্র সক্রিয় আছে।
সামপ্রতিক সময়ে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া বেশ কয়েকটি নারী অপরাধীর কাছ থেকে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে তাদের টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়া সহ খুনের মতো অপরাধে জড়িত ওই সব নারী। তাদের আছে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। অপরাধ করেও ছাড়া পাওয়ার মতো শক্ত খুঁটি আছে তাদের, যোগাযোগ আছে প্রশাসনের প্রভাবশালী কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে। ধরা পড়ার পরও এরা সহজে বেরিয়ে আসে।
ফরিদপুরের গ্রামের মেয়ে লিপি। জেলা শহরের একটি কলেজে পড়ার সময় মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় ঢাকার জুরাইন এলাকার এক যুবকের সঙ্গে। পরিচয় থেকে গভীর প্রেম। পরিবারের অজান্তে গোপনে বিয়ে করে লিপি। শেষে জড়িয়ে পড়ে অপরাধ জগতের জালে। রাজধানীতে স্বামীকে সঙ্গে করে প্রবাসী পাত্রীর জন্য পাত্র যোগাড়ের ম্যারেজ মিডিয়া খুলে শুরু করে প্রতারণার ব্যবসা। প্রবাসী পাত্রী সেজে নিজেই কুড়িখানেক পাত্রের সঙ্গে বিয়ের অভিনয় করে, কোন কোন পাত্রের সঙ্গে অল্পদিনের জন্য সংসারও করে। পাত্রকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দেয় পাত্রের কাছ থেকে। অবশেষে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে আছে। গত আগস্ট মাসে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে রাজধানীর এক নারী অপরাধী চক্রের সদস্য। পুরুষ সহযোগী সহ ওই নারী অপরাধীর মূল টার্গেট ছিল সমাজের বিত্তবান লোকদেরকে ফাঁদে ফেলে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়া। সুন্দরী এ নারীর টিমে দেখা গেছে একাধিক ক্যামেরাম্যান, ভিডিও ক্যামেরা সহ সংলাপ ধারণের জন্য উচ্চমানের ডিজিটাল টেপরেকর্ডার। ওই চক্রটি সমাজের উপর তলার লোকদের মোবাইল ফোন যোগাড় করে তাদের সঙ্গে প্রেমালাপের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ হয়। তারপর যৌন কর্মের প্রস্তাব দিয়ে তাদের আস্তানায় নিয়ে জোর করে পুরুষ লোকটির নানা ধরনের আপত্তিকর ছবি তুলে, ভিডিও চিত্র ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করে। ওই চক্রটির খপ্পরে পড়ে কোটি টাকা খোয়াতে হয়েছে দেশব্যাপী পরিচিত এক ব্যবসায়ী নেতাকে। বিপুল পরিমাণ টাকা খুইয়েও তিনি চেপে গেছেন লোকলজ্জার ভয়ে। দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে নির্বাচিত জাতীয় পার্টির একজন এমপিও পড়েছিলেন ওই নারী চক্রের খপ্পরে। তাকেও গুনতে হয়েছে বড় অঙ্কের টাকা। সামপ্রতিক সময়ে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু বলে পরিচিত স্থানে সরকারের একজন পদস্থ ব্যক্তি এক সুন্দরী নারী তদবিরকারকের খপ্পরে পড়ে তার অনেক অবৈধ কাজ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে গুঞ্জন আছে। ঢাকা শহরের কমপক্ষে আটটি স্পটে নারী ছিনতাইকারীদের দাপটের কথা জানে রাজধানীর মানুষ। প্রকাশ্যে বোরকা পরে ওই সব ছিনতাইকারীকে রুখতে পারছে না পুলিশ। বরং উল্টো পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে তাদেরকে সহযোগিতা করার। তাদের দাপটের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন ডিএমপি’র একজন পুলিশ কর্মকর্তা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত এক বছরে রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে নারী ছিনতাইকারীদের সংখ্যা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ঢাকা শহরে যে পরিমাণ মাদক প্রবেশ করে তার নব্বই ভাগের বহনকারী নারী, একই ভাবে মাদক বিক্রির ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হচ্ছে তাদের। গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত এলাকা গলিয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা আগ্নেয়াস্ত্রের বেশির ভাগের বাহক নারী। অর্থের বিনিময়ে এরা আগ্নেয়াস্ত্র বহন করে পৌঁছে দেয় গন্তব্যে। রাজধানী শহরে পুলিশের গোয়েন্দা তালিকায় আছে কয়েক ডজন মোস্ট ওয়ানটেড সুন্দরীর নাম। এদের আসল কাজ বিয়ে বাণিজ্য। কাঁচা টাকার মালিক বিত্তবানদের ব্ল্যাকমেইল করে বড় অঙ্কের টাকার কাবিন করে শেষে নানা অজুহাতে ঝগড়া বাধিয়ে কাবিননামার টাকা আদায় করা এদের কাজ। ওই চক্রটির একাধিক সুন্দরী কাজ করে শোবিজে। একজনকে ছেড়ে প্রতারণার মাধ্যমে আরেকজনকে বিয়ে করে আবার কাবিননামায় উল্লেখ করা টাকা হাতিয়ে নেয় এরা। সামপ্রতিককালে ইউনিপেটুইউ নামের প্রতারক প্রতিষ্ঠানের এমডি মুনতাসীর ইমন এমনি এক বিয়ে প্রতারক সুন্দরীর খপ্পরে পড়ে খুইয়েছেন প্রায় আট কোটি টাকা।
রাজধানী শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ডাকাতি ও স্বর্ণ চুরির অপরাধী চক্র ব্যবহার করছে বাসা বাড়ির বুয়াদের। ওই সব বুয়া বাসা বাড়িতে কাজ নেয় আসলে বাড়িতে ডাকাতি করার উদ্দেশে। এরা কাজ করার ফাঁকে খোঁজ নেয় বাড়ির কোন কোন স্থানে স্বর্ণ সহ নগদ টাকা রাখা হয়। কাজের বুয়া হিসেবে মালিকের বিশ্বস্ততা অর্জন করে লুকিয়ে বাসার চাবি সাবানের ওপর ছাপ দিয়ে বাইরে এনে তৈরি করে ডুপ্লিকেট চাবি। বাসার মালিক বাইরে গেলে সুযোগ বুঝে পুরুষ সহযোগীদের খবর দিয়ে এনে ডাকাতি করে বাড়িতে। ইতিপূর্বে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে জাল টাকা বহনকারী একাধিক নারী। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি জাল টাকার চক্রের সঙ্গে জড়িত আছে একাধিক নারী সদস্য। এছাড়া পুরুষ পকেটমারের মতোই এখন রাজধানীতে বিচরণ করছে কয়েক ডজন নারী পকেটমার। তবে ঈদ সহ বাজারে বেশি জনসমাগমের পার্বণগুলোতে বেশি মাত্রায় সক্রিয় হয়ে ওঠে নারী পকেটমার।
সামপ্রতিক সময়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নারীদের বেশি মাত্রায় জড়িত হওয়ার বিষয়ে ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন শাখার ডিসি মাসুদুর রহমান বলেন, নারীদেরকে সাধারণত কেউ তেমন সন্দেহ করে না বলেই একটি চক্র নারীদেরকে অপরাধ জগতে টেনে আনছে, যাতে তাদেরকে দিয়ে নির্বিঘ্নে অপরাধ ঘটানো যায়। তবে তিনি নারী অপরাধী বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেননি। তিনি বলেন, জাল টাকার বাহক সহ পকেটমার, মাদক বিক্রি সহ অন্য কিছু অপরাধের ক্ষেত্রে রাজধানীতে নারী সদস্যরা সক্রিয় আছে।

Friday, November 23, 2012

হূদরোগীদের জন্য ব্যায়াম

ব্যায়াম সকলের জন্য করা উচিত। তবে যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং ওজন আধিক্য আছে তাদের ব্যায়াম আরো বেশি জরুরি। তবে অন্যদের মতো কঠিন শারীরিক কসরত করা উচিত নয় হূদরোগীদের। বিশেষ করে শারীরিক পরিশ্রম, হাঁটাচলা, জগিং-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। প্রথমত হূদরোগীদের ব্যায়াম বেশি জরুরি কারণ এতে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং হার্টের রক্তনালীতে চর্বি জমতে দেয় না, ফলে হার্ট এ্যার্টাকের ঝুঁকি অনেক কমে। তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে ঘুম থেকে উঠে সাথে সাথে ব্যায়াম করা উচিত নয়। প্রথমে খানিকটা হালকা হাঁটার অভ্যাস করা এবং এরপর ব্যায়ামের গতি একটু একটু করে বাড়াতে হবে। হূদরোগীরা দু’ভাবে ব্যায়াম করতে পারেন। প্রথমত সপ্তাহে কম করে হলেও পাঁচদিন ৩০ মিনিট করে অথবা সকালে ১৫ মিনিট এবং বিকালে ১৫ মিনিট। যারা ব্যায়াম করতে চান তাদের আর একটা কথা মনে রাখতে হবে কখনও ভরা পেটে ব্যায়াম করবেন না। সব সময় খালি পেটে ব্যায়াম করবেন। কারণ হূদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে ভরা পেটে ব্যায়াম করলে অনেক সময় খাবার উপরের দিকে উঠে বুকে ব্যথা হতে পারে, যা অনেক সময় হার্ট-এর ব্যথার মতো মনে হয়। তাই খালি পেটে ব্যায়াম করা ভালো। আবার অনেকে জানতে চান সকালে না বিকালে ব্যায়াম করবেন। সকালের ব্যায়াম এবং বিকালের ব্যায়ামের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। তবে হঠাত্ ঘুম থেকে উঠে ব্যায়াম করা উচিত নয়, একটু হালকা হাঁটাচলা করে তারপর ব্যায়াম করা ভালো। তবে অপেক্ষাকৃতভাবে সকালের চেয়ে বিকালের ব্যায়াম ভালো।

তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের ব্যায়াম করার সময় দেখতে হবে যদি রক্তের গ্লুকোজ হঠাত্ না কমে যায়, যাকে ডাক্তারি ভাষায় বলা হয় হাইপোগ্লাইসেমিয়া। ডায়াবেটিস রোগীরা ব্যায়াম করার সময় পকেটে ছোট একটা চকলেট রাখতে পারেন। যদি রক্তের সুগার হঠাত্ কমে যায় তাহলে যেন দ্রুত সুস্থ হওয়া যায়। সবশেষে বড় কথা ব্যায়াম-এর কোন বিকল্প নেই। সুস্থ মানুষ অথবা হূদরোগী সকলের অবশ্যই ব্যায়াম করা উচিত। ব্যায়াম অনেক রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক।

ব্ল্যাকহোল

ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণবিবর নিয়ে আমাদের জল্পনা-কল্পনার কোনো শেষ নেই। এমনই রহস্যময় এই কৃষ্ণবিবর। আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব থেকে দেখা যায়, কৃষ্ণবিবর বা ব্ল্যাকহোল হচ্ছে মহাকাশের এমন একটি জায়গা যেখানে পদার্থের ঘনত্ব খুবই বেশি এবং মাধ্যাকর্ষণ বল এতই বেশি যে কোনোকিছুই; এমনকি আলোও, এর আওতা থেকে পালাতে পারে না। এমনই এর শক্তি যে আলোর মতো শক্তিও এর কাছে তুচ্ছ। লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম

ব্ল্যাকহোল থেকে কোনো কিছুই ফিরে আসে না। একবার ঢুকলে তার আর কোনো অস্তিত্ব থাকে না। তবে যে বর্ণনা পাওয়া যায় তাতে বলা হয়, ব্ল্যাকহোল দেখতে পাওয়া যায় না। তবে প্রমাণের মাধ্যমে এর অস্তিত্ত্ব বুঝা যায়। এর প্রচণ্ড রকম ভরের কারণে চারপাশের পদার্থগুলোকে শুষে নেওয়ার ফলে এর চারপাশে ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হয়। তিন দশক ধরে বিভিন্ন তত্ত্ব দেওয়ার পরে আর বিভিন্নভাবে খোঁজাখুঁজির পরে সবচাইতে সন্দেহপ্রবণ জ্যোতির্পদার্থবিদসহ সবাই ব্ল্যাকহোলের অস্তিত্ত্ব নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞানীরা এমনও প্রমাণ পাচ্ছেন যে প্রায় সব গ্যালাক্সির কেন্দ্রভাগেই প্রচণ্ড ভরসম্পন্ন এই কৃষ্ণবিবরগুলো রয়েছে। আর এই কৃষ্ণবিবরগুলোর ভর তাদের গ্যালাক্সিগুলোর ভরের আনুপাতিক। হাবল টেলিস্কোপ এবং হাওয়াইয়ের গ্রাউন্ড বেজড টেলিস্কোপগুলোর পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

ব্ল্যাকহোল এত বেশি সংখ্যায় থাকাটা ডা. রিচস্টোনের তত্ত্বাবধানে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের দলের কাছে এখনো বড় একটা রহস্য। আরেকটা বড় রহস্য হচ্ছে গ্যালাক্সির ভরের সঙ্গে ব্ল্যাকহোলের ভরের আনুপাতিক থাকাটা। তবে এর ব্যাখ্যা যাই হোক না কেন, গ্যালাক্সির গঠন এবং বিবর্তন সম্পর্কে সেটা আমাদের অনেক কিছু জানতে সহায়তা করবে। ব্ল্যাকহোল সম্পর্কে জ্যোতির্পদার্থবিদরা যতই জানতে পারছেন ততই তারা মহাবিশ্বের ইতিহাস সম্পর্কেও জানতে পারছেন। সায়েন্টিফিক আমেরিকান লাইব্রেরি থেকে প্রকাশিত ‘গ্র্যাভিটি’স ফ্যাটাল অ্যাট্রাকশন’ বইটিতে ড. মিশেল বেগেলম্যান (ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো) এবং স্যার মার্টিন রিস (ক্যাম্ব্রিজ ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্পদার্থবিদ এবং রয়্যাল অব ইংল্যান্ডের জ্যোতির্বিজ্ঞানী) ব্ল্যাকহোল সম্পর্কে লিখেন, ‘যেকোনো বলের চেয়ে মাধ্যাকর্ষণ বল যে শক্তিশালী তা ব্ল্যাকহোল প্রমাণ করে।’ তারা এও বলেন যে, সত্যিকারভাবে ব্ল্যাকহোলকে বুঝতে পারলে মহাবিশ্বের সৃষ্টিটাও বুঝা সহজ হবে। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন যে দু’ ধরনের ব্ল্যাকহোল রয়েছে; স্টেলার এবং গ্যালাকটিক। স্টেলারগুলো বেশ ছোটখাটো হয়ে থাকে। যখন সূর্যের চাইতে কয়েক গুণ ভরসম্পন্ন তারাগুলোর পারমাণবিক জ্বালানি ফুরিয়ে যায়, তখন এগুলো ঘণীভূত হয়ে মাত্র কয়েক মাইল ব্যাসে এসে পৌঁছায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এগুলো নিউট্রন নক্ষত্রে পরিণত হয়। কিন্তু সবচাইতে বেশি ভরসম্পন্ন তারাগুলো ঘণীভূত হয়ে কৃষ্ণবিবরে পরিণত হয়। এদের বেশিরভাগগুলো মহাকাশের যে অঞ্চলে নক্ষত্ররা অবস্থান করে সেখানেই থাকে। তবে তাদের চিহ্নিত করা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু কিছু কিছু স্টেলার ব্ল্যাকহোলকে চিহ্নিত করা যায়, কারণ সেগুলো বাইনারি সিস্টেম বা দ্বৈত নক্ষত্র হিসেবে থাকে। যার ফলে এই ব্ল্যাকহোলগুলোর সঙ্গী হিসেবে একটি সাধারণ নক্ষত্র থাকে। আর ব্ল্যাকহোলটি সেই সঙ্গী নক্ষত্রকে গিলতে শুরু করে। তবে গ্যালাক্সির কেন্দ্রভাগে যেসব ব্ল্যাকহোল রয়েছে, সেগুলো জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানীদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সম্ভবত মহাজাগতিক ইতিহাসের প্রায় ৯০ ভাগ সময় ধরে এগুলো রয়েছে। গ্যালাক্সির কেন্দ্রভাগে বিশাল পরিমাণে ভর জমা রয়েছে। সৌরজগতের মতো স্বল্প পরিসরে প্রায় তিন বিলিয়ন সূর্যের সমান ভর জমা থাকে। এখন পর্যন্ত এটি কেন ঘটছে তার কোনো ব্যাখ্যা নেই। অর্থাত্ এই ভরের জন্য যে ব্ল্যাকহোল দায়ী, তা বলাই যায়।

১৯৯৪ সালে হাবল টেলিস্কোপ থেকে তোলা ছবি থেকে এ ধরনের অতিভরসম্পন্ন ব্ল্যাকহোলের প্রমাণ পাওয়া গেছে এম৮৭ নামের বিশাল গ্যালাক্সিতে। ব্ল্যাকহোলটির চারপাশের প্রায় ৫০০ আলোক-বর্ষ পরিমাণ জায়গাজুড়ে ঘূর্ণায়মান গ্যাসের স্রোত দেখা গেছে। হাবল টেলিস্কোপ থেকে এইসব গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণের সময় দেখা যায় এদের কেন্দ্রের কাছাকাছি তারাগুলোর গতি ক্রমশই বাড়ছে। আর এটা সম্ভব হতে পারে একমাত্র ব্ল্যাকহোলের প্রচণ্ড রকম ভরের কারণেই। এইসব তথ্য এবং অন্যান্য আবিষ্কার থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একটি কম্পিউটার মডেল তৈরি করেন যাতে এই গতিবেগ দেখে ব্ল্যাকহোলের উপস্থিতি জানা যায়। এই মডেল ব্যবহার করে তারা কাছাকাছি আরও ১৫টি গ্যালাক্সির ওপর পর্যবেক্ষণ চালান। এতে ১৪টিরই আচরণে বুঝা যায় যে, এদের কেন্দ্রভাগে ব্ল্যাকহোল রয়েছে।

নি উ ট্রি নো ক ণা

নি উ ট্রি নো ক ণা

নিউট্রিনো কণা আলোর চেয়ে দ্রুত গতির বলেই নিশ্চিত করেছেন ইউরোপের অপেরা প্রকল্পের গবেষকরা। ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ (সার্ন)-এর গবেষকরা নিউট্রিনো কণার গতি আলোর চেয়ে বেশি এমন তথ্য দেওয়ার পর তাদের সমর্থন করল অপেরা’র গবেষকরাও। সার্ন-এর গবেষকরা নিউট্রিনো কণার গতি আলোর চেয়ে বেশি এমন তথ্য দেওয়ার পরও সংশয়ে ছিলেন গবেষকরা। অপেরা’র গবেষকরা এ সংশয় দূর করতে গবেষকদের নিয়ে আরেকটি রেপ্লিকা পরীক্ষা করেন। এবং তারাও সার্ন গবেষকদের মতোই ফল পেয়েছেন। অপেরা প্রকল্পের গবেষকরা জানিয়েছেন, তারা সার্ন-এর গবেষকদের সমর্থন করলেও এখনই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে না। বাইরের কোনো স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এ পরীক্ষার ফল যাচাই করে তবেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছে অপেরা’র গবেষকরা। আলোর গতি প্রতি সেকেন্ডে ১ লাখ ৮৬ হাজার মাইল। আইনস্টাইন বলেছিলেন, আলোর চেয়ে দ্রুতগতিতে ভ্রমণ সম্ভব নয়। কিন্তু সার্নের গবেষণার ফল আইনস্টাইনের এ তত্ত্বটিকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। গবেষকরা বলছেন, আলোর চেয়েও বেশি গতিতে যেতে পারে এমন কণার রেকর্ড তাদের হাতে রয়েছে। গবেষকদের তথ্যানুযায়ী, নিউট্রিনো নামের কণার গতি সেকেন্ডে ১ লাখ ৮৬ হাজার ২৮২ মাইল, যা আলোর চেয়ে বেশি।

বিদেশে উচ্চ শিক্ষার্থে ভর্তিইচ্ছুকদের জন্য সুখবর

বিদেশে উচ্চ শিক্ষার্থে ভর্তিইচ্ছুকদের জন্য সুখবর

বিদেশে উচ্চ শিক্ষার্থে ভর্তিইচ্ছুকদের জন্য সুখবর হচ্ছে আইইএলটিএস এবং টোফেলের পরিবর্তে পিয়ারসন  টেস্ট অব ইংলিশ (পিটিই) একাডেমীতে অংশ নেয়ার সুযোগ। আমেরিকা, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ই এ টেস্টকে অনুমোদন দিয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোতেও প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া ইংল্যান্ডের বার স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ড  এ টেস্টকে ইতিমধ্যে অনুমোদন দিয়েছে। এজন্য ৯০ নম্বরের মধ্যে তাদের পেতে হবে কমপক্ষে ৭৩ (স্পিকিং, রাইটিং, রিডিং ও লিসনিং)। এ টেস্টের আগে বার প্রফেসনাল ট্রেনিং কোর্সে আবেদনের জন্য আইইএলটিএস-এ প্রতি অংশে কমপক্ষে ৭.৫ (স্পিকিং, রাইটিং, রিডিং ও লিসনিং) এবং টোফেলে ২৮ পেতে হতো। যা সহজে সম্ভব হয় না শিক্ষার্থীদের জন্য। ফলে অনেকের ব্যারিস্টার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয় না। ওই দু’টি টেস্টের চেয়ে পিয়ারসন টেস্ট সহজ ও কার্যকরী বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ টেস্টকে আইইএলটিএস এবং টোফেলের বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে। বাংলাদেশের ২২টি প্রতিষ্ঠান পিয়ারসন টেস্ট পরিচালনায় সহায়তা করছে। এর মধ্যে রয়েছে- লন্ডন কলেজ লিগ্যাল স্টাডিজ সাউথ (এলসিএলস), গ্লোবাল স্টাডি, আইটি বাংলা, টিপিএনএল, আইসিসি প্রভৃতি। বাংলাদেশে কোন কেন্দ্রে পিয়ারসন টেস্টে অংশগ্রহণ করতে ফি দিতে হয় ১১ হাজার ৬০০ টাকা। তবে পরীক্ষার তারিখের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করলে তা পড়ে ১৪ হাজার ৫০০ টাকা। ৩২ তোপখানা রোডের আইটি বাংলায় পিয়ারসন টেস্টের আগামী পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হবে ৬ ও ২০শে ডিসেম্বর। প্রতিটি পরীক্ষাই অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। পিয়ারসনের ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টিং ডিভিশনের কান্ট্রি ম্যানেজার নাঈমুর রহমান বলেন, এটি অন্যান্য পরীক্ষার চেয়ে সহজ। যার জন্য দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ পরীক্ষাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এ বিষয়ে এলসিএলএস’র (সাউথ) হেড অব ল’জ ব্যারিস্টার খালেদ হামিদ চৌধুরী বলেন, পিয়ারসন টেস্ট ছাত্রদের জন্য খুবই কার্যকরী। এটি অন্যান্য পরীক্ষার চেয়ে সহজ বলে উল্লেখ করেন তিনি। এলসিএলএস’র কোর্স কো-অর্ডিনেটর শাহরিয়ার সাদাত বলেন, এ পরীক্ষাটি বাস্তব ভিত্তিক। একজন শিক্ষার্থী বাস্তবে কি করেন সে প্রেক্ষিতেই এ পরীক্ষা হয়ে থাকে। এ টেস্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে হধুববসঁৎ.ৎধযসধহ@ঢ়বধৎংড়হ.পড়স  ই-মেইল করে।  ২০০৯ সালের শেষের দিকে স্বনামধন্য কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষাদানকারী প্রতিষ্ঠান,  পেশাজীবী সংগঠন কর্তৃক চালু হয় পিয়ারসন টেস্ট অব ইংলিশ (পিটিই) একাডেমিক। পিয়ারসন  টেস্টে ৩ ঘণ্টা মেয়াদি একটি পরীক্ষা যা কয়েকটি অংশে বিভক্ত থাকে। এক সেকশনের সময় শেষ হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য  সেকশনে চলে যায়। এতে রয়েছে স্পিকিং, রাইটিং, রিডিং ও লিসনিং টেস্ট। সাধারণত স্পিকিং এবং রাইটিং অংশের জন্য বরাদ্দ থাকে ৭৭ থেকে ৯৩ মিনিট, রিডিং অংশের জন্য ৩২ থেকে ৪১ মিনিট আর লিসনিং অংশের জন্য ৪৫ থেকে ৫৭ মিনিট। তবে মোট ৩ ঘণ্টার এই পরীক্ষার সময় বিভক্তির পরিবর্তনও হতে পারে। পিয়ারসন টেস্টে অংশগ্রহণের জন্য  অনলাইনে ৪৮ ঘণ্টা আগে  রেজিস্ট্রেশন করা যায়। তবে লেট ফি দিলে মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেও  রেজিস্ট্রেশন করা যায়। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা টেস্ট সেন্টারগুলোর মধ্য থেকে পছন্দেরটি বেছে নিয়ে পছন্দের তারিখে রেজিস্ট্রশন করা যায় অনলাইনে। ফল সাধারণত ৫ কার্যদিবসের মধ্যেই পিয়ারসন  টেস্টের ফল দেয়া হয়। এজন্য পরীক্ষার্থীর একাউন্টে লগইন করতে হবে। তাছাড়া ফল  তৈরি হয়ে গেলে পরীক্ষার্থীকে ই-মেইল করেও স্কোর জানিয়ে দেয়া হয়। ই-মেইলে পাঠানো লিংকটি ক্লিক করলে পরীক্ষার্থীর স্কোর রিপোর্টটি কয়েকটি অংশে পাওয়া যাবে। এতে থাকে পরীক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বিবরণ ও ছবি, মোট স্কোরসহ আলাদা আলাদা স্কোরের বিবরণ। এই পরীক্ষার জন্য কাগজে মুদ্রিত  কোন ফল দেয়া হয় না। স্কোর এই পরীক্ষায় মোট স্কোর হচ্ছে ৯০। বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় আন্ডারগ্র্যাজুয়েট লেভেলে পড়াশোনার জন্য স্কোর চায় কমপক্ষে ৫১ থেকে ৬১,  পোস্টগ্র্যাজুয়েট লেভেলের জন্য ৫৭ থেকে ৬৭ এবং এমবিএ  লেভেলের জন্য ৫৯ থেকে ৬৯। পছন্দের প্রতিষ্ঠানে স্কোর পাঠানো পরীক্ষার্থী ইচ্ছা করলে তার স্কোর নিজের একাউন্ট থেকে যে কোন সংখ্যক পছন্দের প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে পাঠিয়ে দিতে পারেন বিনামূল্যে। এজন্যে পরীক্ষার্থীকে নিজের একাউন্টে লগইন করতে হবে। তারপর সেন্ড স্কোরস লিংকে ক্লিক করে পছন্দের প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করার পর হবীঃ ক্লিক করে পড়হভরৎস ড়ৎফবৎ ক্লিক করতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো পাঠানো স্কোর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই  দেখতে পারবে। তবে একবারে  বেছে নেয়া যাবে সর্বোচ্চ ৭টি প্রতিষ্ঠান। পরীক্ষাটি ইংল্যান্ডের ৯৫ ভাগেরও বেশি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের অনেক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক স্বীকৃত। স্বীকৃতি দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সারা বিশ্বে অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয়, ইউকে বর্ডার এজেন্সির টিয়ার ওয়ান, টু,  ফোর ও স্পাউস ভিসা আবেদন এবং স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের জন্য অস্ট্রেলিয়ান ডিপার্টমেন্ট অব ইমিগ্রেশন অ্যান্ড সিটিজেনশিপ (ডিআইএসি) কর্তৃক ব্যাপকভাবে স্বীকৃত পিয়ারসন টেস্ট। পরীক্ষাটি হাজার হাজার বিষয়ে ইংল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চ শিক্ষায় ভর্তির জন্য ছাড়াও  ৪ শতাধিক  বেশি বিজনেস স্কুল কর্তৃক স্বীকৃত।  যাদের মধ্যে আছে লন্ডন বিজনেস স্কুল, হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল, কলাম্বিয়া বিজনেস স্কুল প্রভৃতি। এই জাতীয় প্রতিষ্ঠাগুলোর একটি সম্পূর্ণ তালিকা পাওয়া যাবে িি.িঢ়বধৎংড়হঢ়ঃব.পড়স/যিড়ধপপবঢ়ঃং ওয়েবসাইটে। তাছাড়া এটি গ্র্যাজুয়েট ম্যানেজমেন্ট এিিমশন টেস্ট (জিএমএটি) পরীক্ষা পরিচালনাকারী গ্র্যাজুয়েট ম্যানেজমেন্ট এডমিশন কাউন্সিল (জিএমএসি) কর্তৃক স্বীকৃত।

বিদায় কোডাক

বিদায় কোডাক

বিজ্ঞানের আবিষ্কারের মধ্যে একটি চমকপ্রদ আবিষ্কার হলো কোডাক ফিল্ম। সম্প্রতি শোনা যাচ্ছে এই বিখ্যাত কোডাকের অস্তিত্ব বিলিনের পথে। কোডাক নামটি শুনলেই কানে বাজবে ‘হ্যাভ এ কোডাক মোমেন্ট’ কথাটি। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী কোডাক কোম্পানি নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছে। কোডাক ফিল্ম আর ক্যামেরার সঙ্গে পরিচিত নন এমন মানুষ কিন্তু কমই পাওয়া যাবে। ডিজিটাল ক্যামেরা আসার আগে কোডাক এবং ফুজি ফিল্ম দখল করে রেখেছিল ফটোগ্রাফির যুগকে। পেশাগত হোক আর শৌখিন হোক, প্রতিটি ফটোগ্রাফার কোডাক ফিল্মের সঙ্গে পরিচিত। হ্যান্ড ক্যামেরার যুগে ফিল্ম কিনতে হতো। সেটা হতো হয় ফুজি নয়তো কোডাক। সেই কোডাক কোম্পানি নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছে। বিদায়ের ঘণ্টাধ্বনি বেজেছে কোডাকের। বিংশ শতাব্দীতে কোডাক ফিল্ম ছাড়া ক্যামেরার কথা ভাবাই যেত না। প্রজন্মের পর প্রজন্ম কোডাক ফিল্ম ব্যবহার করেছেন। সারা বিশ্বে কোডাক নামটি পেয়েছে পরিচিতি, কুড়িয়েছে সুখ্যাতি। নিউ ইয়র্কের বি অ্যান্ড এইচ ফটো কোম্পানির যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক হেনরি পসনার আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, ‘কোডাক ফিল্মকে আমরা ভীষণভাবে মিস করব। কোডাক ফিল্ম থাকবে না, এর প্রভাব পড়বে প্রতিটি ফটোগ্রাফারের জীবনে, পেশায়। আপনি প্রফেশনাল বা অ্যামেচার যাই হন না কেন কোডাক ফিল্মের অনুপস্থিতি আপনি অনুভব করবেনই।’ কথাটা সত্যি। ১৮৮০ সালে জর্জ ইস্টম্যান একটি স্পুলের চারপাশে একটি ফিল্ম জড়িয়ে প্রথম পরীক্ষা চালান। ১৮৯২ সালে নিউ ইয়র্কের রচেস্টারের বাজারে তিনি নিয়ে আসেন ইস্টম্যান কোডাক ফিল্ম। এই ফিল্ম বিক্রির জন্য কোম্পানি খুব কম মূল্যে বাজারে ছাড়ে বিশেষ ধরনের ক্যামেরা। নাম কোডাক ব্রাউনি। সাধারণ মানুষের জীবনে শুরু হয় ক্লিক ক্লিক, প্রতিটি আনন্দঘন মুহূর্তকে একটি ক্লিকের মাধ্যমে ধরে ফেলতে থাকে কোডাক ফিল্ম এবং কোডাক ক্যামেরা। কোডাকের বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের মধ্যে অন্যতম হলো, ‘আপনি শুধু শাটার টিপুন, বাকি কাজ আমাদের!’ বিজ্ঞাপনের এই বার্তা লুফে নিয়েছিল গোটা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স


বিজ্ঞানের অবদান আমাদের চারপাশের জগতজুড়েই রয়েছে। সেই সবকিছু আমাদের সামনে তুলে ধরা হয় সায়েন্স ফিকশন হিসেবে। আবার অনেক সময় সেই জগত্ থেকে চিন্তা নিয়ে বাস্তবে আনা হয় সেগুলোকে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। সম্প্রতি বিশেষজ্ঞরা ধারণা পোষণ করেছেন যে, চলতি বছর হবে বিজ্ঞানের এই ধারা, ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’-এর আমূল উন্নতির। এই নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন—

১৯৮৪ সালে মার্কিন চিত্রপরিচালক জেমস ক্যামেরনের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিনির্ভর ছবি ‘টার্মিনেটর’ মুক্তি পেয়েছিল। আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার অভিনীত অসম্ভব জনপ্রিয় সেই ছবিতে ক্যামেরন এমন একটি বিশেষ দৃশ্যকল্পের গল্প তুলে এনেছিলেন যেখানে দেখানো হয়েছিল, ২০১১ সাল হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জয়ের শুরু। সেখানে ২০১১ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বদৌলতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে দেখা গেছে চরিত্রটিকে। বুদ্ধিমান কৃত্রিম প্রাণীরা পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কব্জায় নেওয়ার জন্য পরিকল্পনা করে মানবজাতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার। এমনই এক প্রযুক্তিবিশ্বকে ক্যামেরন তার মুভিতে দেখিয়েছিলেন। কিন্তু ক্যামেরনের সে আশঙ্কা ফলেনি। মানবজাতির ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সেই আশঙ্কাকে দূরে ঠেলে ভালোয় ভালোয় আমরা পার করে এসেছি ২০১১ সাল। গত বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈপ্লবিক উত্থান না ঘটলেও অ্যাপল-এর নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে মানুষের সাফল্য এসেছে। এখন দেখার বিষয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে ২০১২ সালটি আমাদের জন্য কী নিয়ে অপেক্ষা করছে। ৪ অক্টোবর টেক জায়ান্ট অ্যাপল আইফোন ৪এস বাজারে আনে। এই স্মার্টফোনটির সঙ্গে নিয়ে আসে কৃত্রিম বৃদ্ধিমান ভার্চুয়াল সঙ্গী ‘সিরি’। অ্যাপল-এর ‘সিরি’ নামের এই প্রযুক্তি যদিও এখনো যথেষ্ট বুদ্ধিমান হতে পারেনি, তবে সম্ভাবনার এক অপার দুয়ার খুলে দিয়েছে বলেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মনোযোগ দিয়ে কোনোকিছু শেখার কাজটি সিরি বেশ ভালোই পারে। তবে, মানবজাতি ধ্বংস করে দেওয়ার মতো কূটবুদ্ধি আপাতত সিরির ভেতরে নেই। সিরির দেখাদেখি, টেক জায়ান্ট গুগলও ঘোষণা দিয়েছে ‘আলফ্রেড’ নামের ভার্চুয়াল সঙ্গী আনার। দেখার বিষয় ২০১২ সালে কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তার দুনিয়ায় কতদূর এগোতে পারে ভার্চুয়াল সঙ্গীরা। সম্প্রতি, সিরির একটা কাজ সবার মনোযোগ কেড়েছে। খবরে প্রকাশ, সিরিকে অহেতুক বিরক্ত করায়, ১৬ বছরের এক ব্যবহারকারীকে গালাগাল দিয়েছে সে। সিরি মেজাজ খারাপও করে ফেলছে, তার অর্থ, সিরির মধ্যে রাগ-এর সঞ্চার ঘটেছে। এগুলো মানবীয় আবেগ। এই আবেগগুলো এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় যোগ হচ্ছে। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পেয়েছিল ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা ‘এআই’ মুভিটি। এই বিজ্ঞান কল্পকাহিনিমূলক চলচ্চিত্রের পরিচালক ছিলেন স্টিভেন স্পিলবার্গ। এ ছবিতে দেখানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নতি এখনো সম্ভব না হলেও তার শুরুটা কেবল হতে পারে এ বছর। এদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন কম্পিউটার উদ্ভাবনের দাবি করে বসেছেন গবেষকরা। তবে, এ বছর এই কম্পিউটারকে পরীক্ষা দিয়ে উের যেতে হবে টিউরিং টেস্ট। এ পরীক্ষার সফল হলেই সম্ভবত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করবে প্রযুক্তিবিশ্ব। উল্লেখ্য, অ্যালান টিউরিং প্রবর্তিত টিউরিং টেস্টের মাধ্যমে মানবিক বুদ্ধিমত্তা এবং কম্পিউটারের বুদ্ধিমত্তার পার্থক্য করা যায়। মানুষ-এর বুদ্ধিমত্তা আর কম্পিউটারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যে পার্থক্য করতেই টিউরিং টেস্ট করা হয়। টিউরিং টেস্ট চালু হওয়ার পরেই এ টেস্ট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। যে, প্রশ্নটি বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে আর তা হচ্ছে মানুষের মতো বুদ্ধিমান কম্পিউটার কী আদৌ তৈরি করা সম্ভব। আর যদি তা হয়ও, তবে কম্পিউটারের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াবে। এ প্রশ্নটির উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন গবেষকরা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ সম্ভব কি না এ বছরের টিউরিং টেস্টেই হয়তো তার প্রমাণ হয়ে যাবে। কিন্তু কম্পিউটারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এখন কোন পর্যায়ে তার আপাতত একটা উত্তর গবেষকরা দিতে প্রস্তুত। কম্পিউটিং প্রযুক্তটি তৈরি হয়েছিল মানুষেরই স্বার্থে, মনুষের কাজের সুবিধা করতে। তবে এখন কেবল কাজের সুবিধার মধ্যেই কম্পিউটারের ব্যবহার সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমান প্রজন্ম এমন কম্পিউটার চান, যা কাজের পাশাপাশি, তার সঙ্গ দেবে। সমস্যার বিশ্লেষণ করে সমাধান দেবে এবং সার্বক্ষণিক বন্ধুর মতো দেখভাল করবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মানুষের সঙ্গে কম্পিউটারের যে যোগসূত্র তৈরি হয়েছে তাতে মানুষের কম্পিউটার নির্ভরশীলতা বেড়ে গেছে। মানুষ চায় তড়িত্ সমাধান আর কম্পিউটারের স্বাভাবিক জ্ঞান, যা মানুষের মতোই সহজে বুঝতে পারবে এবং শেয়ার করতে পারবে। আর এমন চাহিদা থেকেই রোবটসহ কিছু যন্ত্র তৈরির প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছেন উদ্ভাবকরা। কম্পিউটার প্রযুক্তি এখনো মানুষের ওপর নির্ভরশীল। এখনো কম্পিউটারের যেকোনো কমান্ড কোনো কাজ করার আগে বারবার আমাদেরকে জিজ্ঞেস করে নেয়, ‘আর ইউ শিওর ইউ ওয়ান্ট টু ডু দিস’ তবে, আশার কথা ইনটেল, আইবিএম-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেই নিজের সমস্যার সমাধান করতে পারে এমন চিপ তৈরির কাজ শুরু করেছে। এরপর হয়তো প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় ফাইল বা কমান্ডের কাজ কম্পিউটার নিজে থেকেও করতে সক্ষম হবে। কম্পিউটারে বড় সমস্যা হচ্ছে তথ্য চুরি হওয়া। ইতিমধ্যে টেক জায়ান্টরা পাসওয়ার্ড ব্যবস্থায় বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন অ্যাপ্লিকেশন বা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে বলেও জানা গেছে। কম্পিটারের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, এখনো নিজের সুরক্ষা নিজেকে দিতে পারে না। এই ব্যাপারেও এটি আমাদের ওপরই এখনো নির্ভরশীল। তাই বারবার পাসওয়ার্ডের শেকল পরিয়ে আমাদেরই সেই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা রক্ষা করতে হয়। শুধু কী পাসওয়ার্ড। কানেকশন পাওয়ার, কন্টেন্ট, কমিউনিকেশন—সবকিছুর জন্যই কম্পিউটার আমাদের ওপরই নির্ভরশীল। কিন্তু এ বিষয়গুলো নিয়েও কাজ চলছে। হয়তো একদিন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির মতোই বাস্তবে চলে আসবে বুদ্ধিমান কম্পিউটার।

বা থ রু মে ফে সবু ক


এবারে বাথরুমের পর্দায় ব্যবহার করা যাবে ফেসবুক। বাথরুমের পর্দার ডিজাইন যদি সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুকের মতো হয় তবে ডিজিটাল জীবনে আরেকটু বৈচিত্র্য আসে। সম্প্রতি লন্ডনভিত্তিক গিফট ডিজাইন কোম্পানি স্পিনিং হাট বাথরুমের জন্য এক ধরনের পর্দা তৈরি করেছে, যাতে ফেসবুকের পুরোনো ডিজাইনকে পর্দার আদল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। স্পিনিং হাট-এর তৈরি করা এ পর্দার নাম ‘সোশাল শাওয়ার কারটেইন’। এ পর্দা সাধারণ পর্দার মতো হলেও পুরো অংশে ফেসবুকের পুরোনো সংস্করণের থিমটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আর প্রোফাইল ছবির স্থানটি স্বচ্ছ করে রাখা হয়েছে। বাথরুমের ফেসবুক পর্দার দাম ২৩ ডলার।

লাদেনের লাশ যেভাবে সমাহিত হলো

লাদেনের লাশ যেভাবে সমাহিত হলো


পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে গত বছর মার্কিন অভিযানে নিহত আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনের লাশ কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে সাগরে সমাহিত করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকতা সারা হয়েছে ইসলামি রীতি অনুসরণ করে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রকাশ করা ই-মেইল বার্তা থেকে এই প্রথম লাদেনের লাশ দাফনের ব্যাপারটি জানা গেছে বলে রয়টার্সের খবরে জানানো হয়।
২০১১ সালের ১ মে মার্কিন বিশেষ বাহিনী নেভি সিলের অভিযানে নিহত হন লাদেন। তাঁর লাশ তখন তারা নিয়ে যায়। এর পর থেকে লাদেনের লাশ সমাহিত করার বিষয়টি সবার কাছে অজানা ছিল।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, গত বুধবার তথ্য জানার স্বাধীনতাবিষয়ক আইনের বলে বার্তা সংস্থা এপি এসব ই-মেইল বার্তা হস্তগত করে। এর মধ্যে ‘অতিগোপনীয়’ সিলমোহর মারা একটি ই-মেইল বার্তা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। এতে নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা লাদেনের লাশ সমাহিত করার ঘটনা বর্ণনা করেন। লাশ কীভাবে গোসল করিয়ে ও সাদা কাফনে মুড়িয়ে ভারী একটি ব্যাগে ভরা হয়, ওই বার্তায় এর বর্ণনা দিয়েছেন তিনি।
আর এক বার্তায় মার্কিন জাহাজ ইউএসএস কার্ল ভিনসনের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, জাহাজের শীর্ষপর্যায়ের কজন কর্মকর্তা কেবল লাদেনের লাশ সমাহিত হওয়ার বিষয়টি জানেন। ২ মে রিয়ার অ্যাডমিরাল চার্লস গাউয়েটের বার্তায় বলা হয়, লাদেনের লাশ সমাহিত করার বেলায় ইসলামি রীতি অনুসরণ করা হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়, লাদেনের লাশ গোসল করানোর পর কাফনে জড়িয়ে একটি ব্যাগে ভরা হয়। একজন সেনা কর্মকর্তা দোয়া পাঠ করেন। পরে লাশটি একটি ভারী ব্যাগে ভরে কাঠের তক্তার সঙ্গে বেঁধে সাগরে নামিয়ে দেওয়া হয়।

ওরা গুণ্ডা আঙ্কেল পিস্তলের ভয় দেখিয়েছিল

ওরা গুণ্ডা আঙ্কেল পিস্তলের ভয় দেখিয়েছিল


ওরা গুণ্ডা আঙ্কেল। পিস্তল দেখিয়ে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিল। ওদের মোটরসাইকেলে না গেলে মেরে ফেলবে বলেছিল। তখন ভয় পেয়ে আব্বুকে ডাক দেই, সঙ্গে সঙ্গে পিস্তল দিয়ে মাথায় আঘাত করে।’ গতকাল দুপুরে ৬ বছরের ক্ষুদে শিক্ষার্থী পরাগ মণ্ডল এভাবেই তার অপহরণ ঘটনার বর্ণনা করেছে। এদিকে পরাগ অপহরণের নাটের গুরু স্থানীয় যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম ওরফে জুয়েল মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা দল। গতকাল দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা পূর্ব পাড়ার নিজ বাড়ির সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে রাজধানীর মিন্টো রোডস্থ ডিবি পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরাগ বলে, আমাকে মোটরসাইকেলে তুলে নেয়ার পর শুধু ব্যথা পেয়েছি। এরপর কিছু মনে নেই। কখনও কখনও মনে হয়েছে আমি একটি খাটের ওপর শুয়ে আছি। মাঝে-মধ্যে কারা যেন জুস খাইয়েছে। তাদের চোখে দেখিনি। ঘুম ভেঙে গেলে নড়াচড়া করতে পারিনি। হাত ও পা নড়াচড়া করতে পারিনি। কষ্ট পেলেও কাউকে ডাকতে পারিনি। আব্বু ও আম্মুকে ডাকলেও শুনতে পায়নি। আঠার মতো কিছু দিয়ে মুখ বন্ধ করেছিল। পরাগের দাদি সাবিত্রী মণ্ডল বলেন, আমার নাতি বয়সে ছোট হলেও সাহসী। গুণ্ডারা ইনজেকশন পুশ না করলে নিতে পারতো না। ও কিলঘুষি দিয়েই মোটরসাইকেল চালককে ফেলে দিতে পারতো। কিন্তু ওরা মোটরসাইকেলে চড়িয়েই পিস্তল দিয়ে কপালে জোরে আঘাত করে। পুশ করে চেতনানাশক ইনজেকশন। পরে অপহরণস্থল থেকে একটি খালি সিরিঞ্জ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তা পুলিশের কাছে দেয়া হয়। তিনি বলেন, ওই ইনজেকশন দেয়ার কিছুক্ষণ পরেই আমার নাতি অচেতন হয়ে পড়ে। তিনি যখন কথা বলছিলেন তখন পরাগ কেরানীগঞ্জের নিজ বাড়ির আঙিনায় সমবয়সী বন্ধুদের সঙ্গে ছোটাছুটি করছিল। দূর-দূরান্ত থেকে আসা নিকটজনরা নিবিড়ভাবে দেখছিল তার দুরন্তপনা। বারান্দায় দাঁড়িয়ে পরম মমতা জড়ানো নিষ্পলক দৃষ্টিপানে অবুঝ ছেলের দুষ্টুমি উপভোগ করছিলেন মাতা লিপি রানী মণ্ডল। গুলিবিদ্ধ বোন পিনাকী মণ্ডল ব্যান্ডেজ জড়ানো পা নিয়ে ভাইয়ের পিছু পিছু হাঁটছিল। দিদিমা সাবিত্রী মণ্ডল বাড়ির উঠোনে জটলা পাকানো বিভিন্ন বয়সী মহিলাদের নানা ধরনের মানতের কথা শুনছিলেন। কেউ বলছিলেন, পরাগকে উদ্ধারের জন্য মায়ের কাছে মানত করে কথা দিয়েছিলাম। উদ্ধার হলে ‘যা চাইবি মা তাই দেবো’। আরেক বৃদ্ধা বলছিলেন, তোর নাতির জন্য ঠাকুরঘরে রাত কাটিয়েছি। উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত মাথা ঠুকেছি। এসব কথা শুনে পরাগের দাদি সাবিত্রী মণ্ডল বলেন, দুনিয়ার সব মানুষই আমার নাতির জন্য দোয়া করেছেন। অশ্রু বিসর্জন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও পুলিশ থেকে শুরু করে সবাই মিলে আমার নাতিকে উদ্ধার করেছেন। গত ১১ই নভেম্বর স্কুলে যাওয়ার পথে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পশ্চিম শুভাঢ্যা এলাকায় প্রথম শ্রেণীর ছাত্র পরাগকে তুলে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এ সময় তার মা লিপি রানী মণ্ডল (৩৫), বোন পিনাকী মণ্ডল ও গাড়িচালক নজরুল ইসলামকে গুলি করে তারা। ওই রাতেই পরাগের দাদি সাবিত্রী মণ্ডল বাদী হয়ে অপহরণ মামলা করেন। অপহরণের তিনদিন পর আঁটি বাজারে নয়াবাজার এলাকার রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার হয় প্রায় অচেতন পরাগ। চিকিৎসা শেষে বুধবার তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরাগকে উদ্ধারের পরদিন এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মামুন নামে একজনকে মুন্সীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আর র‌্যাব একই দিনে জাহিদুল হাসান, মোহাম্মদ আলী ওরফে রিফাত, কালা চান, আলফাজ, রিজভী আহমেদ অনিক ও আবুল কাশেম নামে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জাহিদুল, কালা চান ও আলী ওরফে রিফাত অপহরণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন। তাদের তিনজনের বক্তব্যেই অপহরণের পরিকল্পনার ‘মূল হোতা’ হিসাবে আমিরের নাম এসেছে। গত ২১শে নভেম্বর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ফেরি ঘাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তার মোটরসাইকেল চালক আলামিন ও সহযোগী শাহিনকে। তাদের দেয়া তথ্য মোতাবেক কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের সাবেক যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম ওরফে জুয়েল মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা দল। সূত্র জানায়, হাই কোর্টের একটি আদেশ জারির পরপরই পূর্ব শুভাঢ্যার নিজের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে জুয়েলকে আটক করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, হাইকোর্টের আদেশ মোতাবেক জুয়েল মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। গত ১১ই নভেম্বর ব্যবসায়ী বিমল মণ্ডলের ছেলে অপহরণের পর এতে জুয়েলের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। তবে সংবাদ সম্মেলন করে ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন শুভাঢ্যা ইউনিয়ন যুবলীগের এই সাবেক সভাপতি।
জাহাজের মতো মোটরসাইকেলে পরাগকে নিয়ে যায়: পরাগের ঠিক দুই বছরের বড় বোন পিয়ালী মণ্ডল বলে, গুণ্ডারা সিনেমার জাহাজের মতো মোটরসাইকেল দিয়ে আমার ভাইকে তুলে নিয়েছিল। পরাগ যেতে চায়নি। বারবার বলেছে, আমি আমাদের গাড়িতে স্কুলে যাবো। তোমাদের সঙ্গে যাবো না। এ সময় ওরা পিস্তল বের করে গুলি করতে থাকে। আমি ভয় পেয়ে দৌড়ে বাড়িতে চলে আসি। পিয়ালীর দাদি সাবিত্রী মণ্ডল বলেন, পরাগ দৌড়ে বাড়ি পর্যন্ত আসতে পারেনি। তার আগেই অচেতন হয়ে রাস্তায় পড়ে গিয়েছিল। তবে তার সবকিছুই মনে আছে। কয়টি মোটরসাইকেল এসেছিল, দেখতে কেমন ছিল- সবই বলেছে আমাদের কাছে। এলাকাবাসী বলেন, অপহরণকারীরা পরাগকে তুলে নিয়ে স্থানীয় যুবলীগ নেতা জুয়েল মোল্লার বাড়ি সংলগ্ন ব্রিজের নিচের রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তা ছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ ওই সরু রাস্তা দিয়ে অপহরণকারীদের পক্ষে পালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করেন তারা। সূত্র জানায়, জমি-জমা নিয়ে বিরোধের সূত্র ধরেই শীর্ষ সন্ত্রাসী আমিরের সহায়তায় এই অপহরণ ঘটিয়েছে ওই যুবলীগ নেতা। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গতকাল পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরা হচ্ছে- স্থানীয় যুবলীগ নেতা জুয়েল মোল্লা, মামুন, আমিরের মোটরসাইকেল চালক আলামিন, শাহিন, আলফাজ, মোহাম্মদ আলী ওরফে রিফাত. কালাচাঁন, রিজভী আহমেদ অনিক, আমিরের ভগ্নিপতি আবুল কাশেম ও জাহিদুল হাসান। এখন পর্যন্ত আমিরের সন্ধান পায়নি পুলিশ ও গোয়েন্দারা। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, পলাতক আমিরের সঙ্গে আটক যুবলীগ নেতার ঘনিষ্ঠতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া আমিরের মোটরসাইকেল চালক আলামিন ও সহযোগী শাহিনের জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে এই অপহরণের নাটের গুরু হিসেবে তার নাম জানতে পারে তদন্ত কর্মকর্তা। এরপরই তাকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ। এখন আমির গ্রেপ্তার হলেই পরাগ অপহরণ রহস্য উদঘাটন হবে বলে জানান তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, অপহরণের আসল মোটিভ উদ্ধার করতেই জুয়েল মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা দল আটক করেছে। তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেলে গ্রেপ্তার করা হবে।

Thursday, November 22, 2012

মাত্র ৩ মিনিটের ব্যায়াম ক্যান্সার প্রতিরোধ করে

মাত্র ৩ মিনিটের ব্যায়াম ক্যান্সার প্রতিরোধ করে


মাত্র ৩ মিনিটের ব্যায়াম ক্যান্সার প্রতিরোধে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। কারণ, মানুষের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে দিতে পারে সামান্য একটু শরীরচর্চা। গবেষকরা বলছেন, নিজেকে সুস্থ ও ফিট রাখতে ব্যায়ামের কোন বিকল্প নেই। যারা একবার ক্যান্সারে ভুগেছেন ও সেরে উঠেছেন, তাদের জন্যও একই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। দ্বিতীয়বার ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে না চাইলে, ব্যায়াম করতেই হবে। এটা বাধ্যতামূলক। নেব্রাস্কা ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বলছেন, প্রথমবার যাদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সমূহ ঝুঁকি রয়েছে, তারাও ক্যান্সার থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে, কেমোথেরাপি নিয়ে ক্যান্সার থেকে সেরে ওঠার পর যারা সপ্তাহে ৩ বার করে ১২ সপ্তাহ শরীরচর্চা করেছেন, তাদের শরীরের পুরো রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থাটাই পরিবর্তিত হয়ে গেছে। আগের চেয়ে আরও কার্যকর ও সক্রিয় হয়েছে রোগ-প্রতিরোগ ব্যবস্থা।

মাইক্রোসফটের বায়োগ্যাস প্রকল্প

মাইক্রোসফটের বায়োগ্যাস প্রকল্প


ডেটা সেন্টারে প্রচলিত বিদ্যুত্ ব্যবহারের পরিবর্তে শক্তির উত্স হিসেবে নিজস্ব বায়োগ্যাস প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা করেছে মাইক্রোসফট। যুক্তরাষ্ট্রের ইয়াওমং শহরে ২০১৩ সালের মার্চ মাস থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বায়োগ্যাস ব্যবহার শুরু করবে প্রতিষ্ঠানটি। কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ হিসেবে মাইক্রোসফটের এ প্রকল্প সফল হলে পরবর্তীতে অন্যান্য ডেটা সেন্টারের ক্ষেত্রেও বায়োগ্যাস ব্যবহার করবে মাইক্রোসফট। এক খবরে ইন্দো এশিয়ান নিউজ সার্ভিস এ তথ্য জানিয়েছে।
মাইক্রোসফটের বায়োগ্যাস প্রকল্পের গবেষক সিন জেমস এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, বর্জ্য ব্যবহার করে বায়োগ্যাস থেকে চলবে এ ডেটা সেন্টার যা শূন্য কার্বন নিঃসরণকারী ডেটা সেন্টার হবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী ডেটা সেন্টারের চাহিদা বাড়ছে। ডেটা সেন্টার মূলত কম্পিউটার, টেলিকমিউনিকেশন ও তথ্য সংরক্ষণ কাজে ব্যবহূত একটি কেন্দ্র। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কম কার্বন নিঃসরণ করে এমন ডেটা সেন্টার তৈরিতে বিকল্প শক্তির উত্স সন্ধান করছেন।

দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ

দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ


তুচ্ছ ঘটনায় কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আজ বুধবার কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। এতে এক সাংবাদিক ও ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টার দিকে অগ্রণী ব্যাংকের কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষার্থী টাকা জমা দিতে যান। তখন কবি নজরুল কলেজের কজন শিক্ষার্থী লাইন ভেঙে টাকা জমা দেওয়ার চেষ্টা করলে জগন্নাথের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁদের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক হয়ে কবি নজরুর কলেজের মূল ফটক ভাঙচুর করেন এবং কলেজের শিক্ষকদের ব্যক্তিগত পাঁচটি গাড়ি ও দুটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় উভয় পক্ষে দফায় দফায় সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হন। ছবি তুলতে গিয়ে আহত হন ‘সকালের খবর’ পত্রিকার আলোকচিত্রী খোরশেদ আলম।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অশোক কুমার সাহা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

অনন্য আবুল হাসান

 অনন্য আবুল হাসান



অভিষেক টেস্টে ১০ নম্বরে ব্যাট করে সেঞ্চুরি। সর্বশেষ এই কীর্তিটা গড়েছিলেন অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান রেগি ডাফ, ১৯০২ সালে। দীর্ঘ ১১০ বছর পর খুলনায় আজ বুধবার একই কীর্তির পুনরাবৃত্তি করলেন বাংলাদেশি ক্রিকেটার আবুল হাসান।
অভিষেকে ১০ নম্বরে ব্যাট করা সেঞ্চুরিয়ানদের তালিকায় আবুল হাসান দ্বিতীয়। টেস্ট ক্রিকেটের ১৩৫ বছরের ইতিহাসে ১০ নম্বরে সেঞ্চুরি করা চতুর্থ ব্যাটসম্যান তিনি। এবার এই ১০ নম্বর স্থানের আলোচনাটা বাদ দেওয়া যাক। অভিষেক টেস্টে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এর আগে সেঞ্চুরি পেয়েছেন কেবল দুজন—আমিনুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আশরাফুল। এ দিক থেকে অভিষেকে সেঞ্চুরি পাওয়া বাংলাদেশের তৃতীয় ক্রিকেটার হলেন আবুল হাসান।
খুলনা টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে আবুল ব্যক্তিগত ১০০ রানে অপরাজিত আছেন। কাল আরও বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবেন, এটা প্রত্যাশিত। অবশ্য শুধু সেঞ্চুরি দিয়ে তাঁর অবদান মূল্যায়ন করতে গেলে ভুল হবে। দুঃসাহসী এক ইনিংস খেলে তিনিই তো খুলনায় বাংলাদেশের নায়ক।
বাংলাদেশের ইনিংসটা এবার দেখুন। দলীয় ৫ রানে প্রথম উইকেটের পতন। একপর্যায়ে ১৯৩ রানে অষ্টম উইকেট হারিয়ে বসে মুশফিকুর রহিমের দল। আক্ষরিক অর্থেই খেলা থেকে ছিটকে পড়ার অবস্থায় ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছেন ২০ বছর বয়সী আবুল হাসান।
১০৮ বলে ১০০ রান। অবিস্মরণীয় এই ইনিংসে রয়েছে ১৩টি চার ও তিনটি ছয়ের মার। প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তো বটেই, গোটা ক্রিকেট-বিশ্বই আজ চমকে গেছে এই তরুণের ব্যাটিংয়ে।
আবুলকে যথার্থ সঙ্গ দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। দিন শেষে তিনি অপরাজিত আছেন ব্যক্তিগত ৭২ রানে। আবুল-মাহমুদউল্লাহর অবিচ্ছিন্ন ১৭২ রানের জুটিতে দুর্দান্তভাবে খেলায় ফিরেছে বাংলাদেশ। ৮ উইকেটে ১৯৩ রান থেকে দিনশেষে বাংলাদেশ সেই ৮ উইকেটেই ৩৬৫। নিজেদের এক যুগ পুরোনো টেস্ট ইতিহাসে এমন ঘটনা আর কতবার ঘটাতে পেরেছে বাংলাদেশ?