| ||||||||||||||||||||||||||||||||
Monday, February 24, 2014
Kazi Md Saiful Islam is still waiting for you to join Twitter...
Wednesday, February 19, 2014
Kazi Md Saiful Islam sent you an invitation
| |||||||||||||||||||||||||||||||||
Wednesday, August 14, 2013
Message from Kazim
Message from Kazim
| Hi there, |
| Kazim has sent you a message |
![]() | ![]() | ![]() | ![]() | ![]() |
| View Message |
Unsubscribe from future mailings in one click: Unsubscribe.
Message from Kazim
Message from Kazim
| Hi there, |
| Kazim has sent you a message |
![]() | ![]() | ![]() | ![]() | ![]() |
| View Message |
Unsubscribe from future mailings in one click: Unsubscribe.
Saturday, March 9, 2013
নিখোঁজের ৪০ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্র ত্বকীর লাশ উদ্ধার- নারায়ণগঞ্জে হরতাল আজ
নিখোঁজের ৪০ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্র ত্বকীর লাশ উদ্ধার- নারায়ণগঞ্জে হরতাল আজ
নিখোঁজের ৪০ ঘণ্টা পর নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ব্যবসায়ী রফিউর রাব্বির পুত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সকাল সোয়া ১০টায় শীতলক্ষ্যা নদীর ৫নং ঘাটের বিপরীত পাশে অবস্থিত শহরের কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের তীর থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বুধবার বিকাল থেকে ত্বকী নিখোঁজ ছিল। ঘটনার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট আজ শহরে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করেছে। হরতালে সিপিবি-বাসদসহ জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন সমর্থণ জানিয়েছেন। রফিউর রাব্বি নারায়ণগঞ্জে চলমান গণজাগরণ মঞ্চ এবং গণআন্দোলনের প্রধান উদ্যোক্তা। বুধবার বিকাল ৪টায় শহরের পুরাতন কোর্ট এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় ত্বকী। নিখোঁজের ৪০ ঘণ্টা পর গতকাল সকাল ৮টায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের করলেও পুলিশ কার্যত কিছুই করতে পারেনি। ত্বকীর লাশ উদ্ধারের পর নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। রফিউর রাব্বি নদীর তীরে ছেলের লাশ সনাক্তের পর শোকে পাথর হয়ে যান। ত্বকীর লাশ দেখে অন্যরা কান্নায় ভেঙে পড়ে। লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে নদীর তীরে ছুটে যান সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সিপিবির জেলা কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলামসহ অন্যরা। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য জেনারেল হাসপাতাল মর্গে নেয়া হলে সেখানেও ছুটে যায় জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে জড়িতরা। মর্গের সামনে ওই সময় জেলা উদীচীর সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া দিপুসহ অনেককেই কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক মনোজ কান্তি বড়ালও মর্গে ছুটে যান।
দুপুর দেড়টায় ময়নাতদন্ত শেষে ত্বকীর লাশ এম্বুলেন্স যোগে শহরের পুরাতন কোর্ট এলাকার বাড়িতে নেয়া হয়। ওই সময় সাংস্কৃতিক জোটের নেতাকর্মীরা শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিল শেষে সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি এডভোকেট প্রদীপ ঘোষ বাবু আজ নারায়ণগঞ্জ শহরে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ঘোষণা দেন।
মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তিনি বলেন, ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি নারায়ণগঞ্জের গণমানুষের পক্ষে তাদের দাবি আদায়ের বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্বে দিয়েছেন। এ ছাড়া বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গঠিত গণজাগরণ মঞ্চেরও প্রধান উদ্যোক্তা। তিনি নাগরিকদের পক্ষে দাবি আদায়ে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এসব কারণে কোন পক্ষ ক্ষোভ মেটাতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে। তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি এডভোকেট প্রদীপ ঘোষ বাবু বলেন, নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের পক্ষে বিভিন্ন দাবি আদায়ে নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। তাই রাব্বি যেমন আমাদের সম্পদ তার ছেলে হিসেবে ত্বকীও আমাদের সম্পদ ছিল। তাকে যারা হত্যা করেছে সেই বিচারের ভার নারায়ণগঞ্জবাসীর ওপর ছেড়ে দিলাম।
শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন: বিকাল ৪টায় নিহত ত্বকীর লাশ শহরের চাষাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সর্বস্থরের সাধারণ মানুষ ত্বকীর লাশে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। এর মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, ব্যবসায়ী সংগঠন বিকেএমইএ, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। ওই সময় আবেগে শহীদ মিনারে উপস্থিত বেশির ভাগ মানুষই চোখের অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি।
দাফন: এদিকে বিকালে সর্ব সাধারণেল শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নিহত ত্বকীর লাশ শহরের চাষাঢ়া শহীদ মিনারে রাখা হয়। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ মাগরিব শহরের আমলাপাড়া বড় মসজিদে জানাজা শেষে বন্দর উপজেলার পুরান বন্দর এলাকায় আধ্যাত্মিক সাধক প্রয়াত সিরাজুল ইসলাম শাহের আস্তানায় দাফন করা হয়।
রেজাল্ট জেনে যেতে পারলো না ত্বকী: নিহত ত্বকী এ বছর শহরের এবিসি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে ‘এ’ লেভেল পরীক্ষায় অংশ নেয়। রেজাল্টের আগের দিন বুধবার বিকালে বাসা থেকে বের হয়ে ত্বকী নিখোঁজ হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার ‘এ’ লেভেল পরীক্ষার ফলাফল ঘোষিত হয়। ঘোষিত ফলাফলে জানা যায়, ত্বকী পদার্থ বিজ্ঞানে রেকর্ড সংখ্যক নম্বর পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়। প্রতিটি বিষয়ে তিনশ’ নম্বরের মধ্যে ত্বকী পদার্থ বিজ্ঞানে ২৯৭, রসায়ন বিজ্ঞানে ২৯৪ এবং গনিতে ২৫৮ নম্বর পায়। স্বল্প ভাষী মেধাবী ত্বকীর স্বল্প সংখ্যক বন্ধু ছিল। এদের দুজন রোবায়েত রহমান ও জোবায়ের হোসেন ইমন। ত্বকী খুনের ঘটনা জানতে পেরে তারা দুজনই হাসপাতাল মর্গে এসেছিলেন। এ প্রতিবেদককে তারা দুজন জানান, ত্বকী খুব মেধাবী ছাত্র ছিল। তাকে হারিয়ে তারাও শোকাহত। চলে যাওয়া ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে উদ্দেশ্য করে তারা দুই বন্ধু আবেগাপ্লুত হয়ে বলে, ত্বকী যেখানেই থাকবে ভাল থাকবে। ত্বকীর স্কুল এবিসি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, তাদের স্কুলে যে কজন ভাল ও মেধাবী ছাত্র আছে তাদের মধ্যে ত্বকী অন্যতম। লেখাপড়া ছাড়া তার অন্য কোন জগত ছিল না।
রফিউর রাব্বি অতীতে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে জোরালো ভূমিকা পালন করেছেন। এর মধ্যে অহেতুক বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদ, শহরের গভীর নলকূপ ব্যবহারকারীদের ওপর ওয়াসা কর্তৃপক্ষের ধার্যকৃত অতিরিক্ত ফি কমাতে তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। এছাড়া ২০১১ সালের ৩০শে অক্টোবর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ সম্মিলিত নাগরিক পরিষদ আইভীর পক্ষে অবস্থান নেয়। এর সদস্য সচিব ছিলেন রফিউর রাব্বি। এসব কারণে তার অজান্তে অনেক শত্রু সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গঠিত গণজাগরণ মঞ্চেরও প্রধান উদ্যোক্তা তিনি।
রফিউর রাব্বি সাংবাদিকদের বলেন, জানা মতে আমার ছেলের কোন শত্রু নেই। আমি অহেতুক বাস ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ করেছি, নাগরিক সমস্যা সমাধানে জরালো ভূমিকা রেখেছি, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরাসরি একটি পক্ষের হয়ে কাজ করেছি এবং সর্বোপরি নারায়ণগঞ্জে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গঠিত গণজাগরণ মঞ্চেরও প্রধান উদ্যোক্তা হওয়ায় কেউ কেউ আমার ওপর ক্ষুব্ধ হতে পারে। আর ওই ক্ষুব্ধ হওয়ার সূত্র ধরে আমার ছেলেকে হত্যা করতে পারে। ঘটনার ব্যাপারে সদর মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের বলেন, এ ব্যাপারে এখনও কোন মামলা দায়ের হয়নি। তবে তারা নিহতের বাবার ব্যক্তিগত এবং সামাজিক আন্দোলনের ফলে কোন শত্রু তৈরি হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট একটি চিত্র পাবেন। এরপর তারা তদন্তে নামবেন।
Friday, March 8, 2013
নতুনদিনের আশায় বাংলাদেশ
নতুনদিনের আশায় বাংলাদেশ
আজ গলে যে সূর্য উঠবে; অনেক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হবে সে। এই স্টেডিয়ামে আজ প্রথমবারের মতো ক্রিকেট খেলতে নামবে বাংলাদেশ, এই স্টেডিয়াম থেকে আজ যাত্রা শুরু হবে শ্রীলঙ্কার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের যুগ, এই স্টেডিয়ামে আজ অভিষেক হবে দু'দলের বেশ কয়েক জন ক্রিকেটারের। তবে এসব 'নতুন' নিয়ে খুব ভাবনায় থাকার কথা নয় বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের। আজ তাদের একটাই ভাবনা থাকার কথা—গল স্টেডিয়ামের নতুন এই পর্বে শ্রীলঙ্কা দলটির বিপক্ষে সব অবমাননার স্মৃতি ভুলে আজ নতুন করে শুরু করতে হবে।
এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই টেস্ট সিরিজের প্রথমটি খেলতে নামবে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজের স্মৃতি একটু হলেও ইতিহাস বদলানোর অনুপ্রেরণা যোগাবে বাংলাদেশকে। সেই সঙ্গে শ্রীলঙ্কার সেরা বেশ কয়েক জন ক্রিকেটারের অনুপস্থিতিও সাহস যোগাবে বাংলাদেশকে। আর শ্রীলঙ্কার জন্য চ্যালেঞ্জ—বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রবল প্রতাপের ইতিহাস ধরে রেখে নতুন যুগের শুরু করা।
বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জটা নিচ্ছে। অন্তত ম্যাচের আগের দিন পর্যন্ত দলের অধিনায়ক পরিষ্কার বলছেন, এবার তাদের লক্ষ্য অতীত রেকর্ডের পরিবর্তন ঘটানো। সেটা শুধু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বলে নয়; টেস্টে ক্রিকেটে নিজেদের সামগ্রিক যে রেকর্ড সেটাই উন্নত করার লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বলছিলেন, ম্যাচের শুরু থেকে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ ধরে রাখার পর শেষ দু'দিন এসে লড়াই থেকে সরে যাওয়ার ব্যাপারটাই বদলাতে চান তারা। বদলাটা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খুবই জরুরি। বড় টেস্ট দল বলতে যাদের বোঝায়; তাদের কারোরই পূর্ণ শক্তির দলের বিপক্ষে জয় নেই বাংলাদেশের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের খর্ব শক্তির দলের বিপক্ষে জয় আছে; ড্র আছে নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে। বাকি দলগুলোর বিপক্ষেও আর কিছু না হোক, লড়াই করে জয়ের কাছাকাছি গিয়ে হারের সান্ত্বনাটা অন্তত আছে। শুধু এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই বাংলাদেশের দুঃখ আর অবমাননা ছাড়া টেস্ট ক্রিকেটে আর কোনো স্মৃতি নেই।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এ পর্যন্ত ১২টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। বলাই বাহুল্য যে, সবগুলোতেই হেরেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৭টি ম্যাচেই ইনিংস ব্যবধানে হার। বাকি ৫টি ম্যাচে যথাক্রমে ২৮৮ রান, ৮ উইকেট, ১০ উইকেট, ১০৭ রান এবং ৪৬৫ রানের পরাজয়! এই পরিসংখ্যানই বোঝাতে পারে যে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কেমন অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয় বাংলাদেশকে। এবার সেই চিত্রটাই বদলাতে চায় বাংলাদেশ।
এই চিত্র বদলানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ ইনজুরির সঙ্গে লড়াই। ইনজুরি আগেই দল থেকে কেড়ে নিয়েছে সাবেক অধিনায়ক, দেশের সেরা ক্রিকেটার এবং পৃথিবীর অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে। এ ছাড়া ইনফর্ম ক্রিকেটার নাঈম ইসলাম, শাহরিয়ার নাফীস, এনামুল হক জুনিয়রও আগেই ছিটকে গেছেন ইনজুরিতে। সমস্যা চলছে শ্রীলঙ্কায় পৌঁছানোর পরও। তামিম ইকবালের ইনজুরির ফলে তার খেলা নিয়ে সংশয় আছে। সংশয় আছে পেসার আবুল হোসেনের খেলা নিয়েও।
এসব অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে বাংলাদেশের তারুণ্যনির্ভর দল প্রায় 'কিশোর দল'-এ পরিণত হতে যাচ্ছে। দলে মোমিনুল হকের টেস্ট অভিষেক এক রকম নিশ্চিত। শ্রীলঙ্কা থেকে দলের একটা সূত্র জানালো, প্রায় নিশ্চিত মোহাম্মদ আশরাফুলেরও দলে ফেরা। একটু অনিশ্চয়তা আছে এনামুল হক বিজয়ের টেস্ট অভিষেক নিয়ে। বিজয় নাকি জহুরুল; কে ইনিংস শুরু করবেন তামিমের সঙ্গে এ নিয়ে সংশয় আছে। সংশয় আছে আসলে তিন ওপেনারকে নিয়েই।
এসব সংশয় নিয়ে অবশ্য বেশি একটা ভাবতে রাজি নন অধিনায়ক মুশফিক। তার মতে, এখন যে দল তিনি হাতে পাচ্ছেন; সেটিও পিছিয়ে নেই। ইনফর্ম খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া এই দল নিয়ে টানা পাঁচদিন লড়াই ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামতে চান তিনি, 'আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও চারদিন খুব ভালো খেলে শেষ দিনে ম্যাচ হেরেছি। ফলে শুধু ভালো শুরু বা একটা-দুটো সেশন ভালো করাটা লক্ষ্য নয়। আমাদের লক্ষ্য পাঁচদিন ধরে ভালো খেলা ধরে রাখা। সে ক্ষেত্রে আমরা ভালো ফল আশা করতেই পারি।'
দিল্লিতে আবারও গণধর্ষণ
দিল্লিতে আবারও গণধর্ষণ
দিল্লিতে গণধর্ষণের প্রতিবাদে উত্তাল ভারতের রাজধানীতে চলন্ত গাড়িতে আবারও দু’টি গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে পূর্ব দিল্লির ওয়েলকাম এলাকাতে চলন্ত গাড়িতে এক নারীকে চার ব্যক্তির ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে শনিবার রাতে গাজিয়াবাদ জেলা থেকে দিল্লি ফেরার পথে দ্বাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রী অটোরিকশাতে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে পূর্ব দিল্লির নিউ জাফরাবাদ এলাকার ডাস্টবিনের কাছে পুলিশ অজ্ঞান অবস্থায় ২৫ বছরের এক নারীকে উদ্ধার করে। হাসপাতালে নেয়ার পর ওই নারী পুলিশকে জানিয়েছেন স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়ার পর তিনি চাকরি খুঁজছিলেন। কয়েক দিন আগে যশদেব নামের এক ব্যক্তিকে তিনি কাজ খুঁজে দেয়ার অনুরোধ করেছিলেন। যশদেব তাকে সোমবার সন্ধ্যায় কাজ দেয়ার কথা বলে জাফরাবাদ পার্কে দেখা করতে বলে। নির্ধারিত স্থানে ওই নারী আসার পর সেখানে থাকা গাড়িতে আগে থেকেই আরও তিন ব্যক্তি উপস্থিত ছিল। যশদেব তাকে চেতনানাশক মিশ্রিত কোমল পানীয় খাইয়ে চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণ করে। পানীয় খাবার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েছিলেন বলে তিনি ঠিক বলতে পারেননি তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এ ব্যাপারে একটি মামলা করা হয়েছে। যশদেবকে পুলিশ আটক করেছে। অন্যদের সন্ধ্যানেও অভিযান চলছে। এদিকে পুলিশ আরও জানিয়েছে ইন্দরাপুরাম শিপরা মল থেকে দিল্লি ফেরার পথে দ্বাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে অটোতে করে গণধর্ষণ করা হয়েছে। পুলিশ দাবি করছে ১৯ বছরের ওই তরুণীকে অটোতে বসার পরপরই অপহরণ করা হয়। এরপর পেছনের সিটে আরও দুই ব্যক্তি তাকে জোর করে ধরে রেখে ২৫ কিলোমিটার দূরে দাসনাতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে একটি মাঠে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। সন্দেহভাজন অভিযুক্ত অনকিত এবং ডুপপনকে ধর্ষণ, অপহরণ এবং ডাকাতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০ কোঠায় বয়স দু’জনই ছিঁচকে অপরাধী। গাজিয়াবাদ থেকে অটোরিকশাটি চুরি করা হয়েছিল।
স্বপ্ন পূরণের পথে বিজয়
স্বপ্ন পূরণের পথে বিজয়
দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেই অভিষেক। শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতোই। পাঁচ ম্যাচে এক সেঞ্চুরিসহ করেছেন ১৯৫ রান। তবে আনামুল হক বিজয়ের আসল লক্ষ্য টেস্ট ক্রিকেট। আজ শুরু হতে যাওয়া গল টেস্টের আগে এমনটাই জানালেন এই বাংলাদেশি ওপেনার। আর সব ঠিক থাকলে বাংলাদেশের হয়ে আজ টেস্ট অভিষেক হতে যাচ্ছে অনূর্ধ্ব ১৯ দলের এই সাবেক অধিনায়কের; স্বপ্ন পূরণ হবে বিজয়ের।
'আমি বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলেছি। তবে এর পরেও টেস্ট ক্রিকেটই আমার প্রধান লক্ষ্য। যদি সুযোগ পাই তাহলে টেস্ট ক্রিকেট হবে আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গর্ব করার মতো একটি মুহূর্ত।'—বিজয় জানিয়ে দিলেন নিজের স্বপ্নের কথা।
শ্রীলংকার মাটিটাও খুব অপরিচিত নয় বিজয়ের। এর আগে অনূর্ধ্ব ১৯ দলের হয়ে খেলে গেছেন এই দেশে; খেলেছেন তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচেও। তাই কন্ডিশনটা বেশ পরিচিত এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানের। তাই আত্মবিশ্বাস ঝরে পড়লো তার কণ্ঠে, 'অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে আমি এখানে খেলে গেছি। কয়েকটি হাফ সেঞ্চুরিও ছিল। এখানে আমি যতোটুকু খেলার সুযোগ পেয়েছি তার সবটাই ছিল স্পোর্টিং পিচে। প্র্যাকটিস উইকেটও খুব ভালো ছিল। এখানকার আবহাওয়া কিছুটা গরম হলেও আমি সময়টা বেশ উপভোগ করছি।' দলের প্রস্তুতির ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে বিজয় শোনালেন নিজের সন্তোষের কথা, 'আমার মতে শ্রীলংকা ইমার্জিং স্কোয়াডের বিপক্ষে দলের প্রস্তুতি বেশ ভালোই হয়েছে। তবে আমার পারফরম্যান্স ভালো ছিল না। এরপর নেটে আমি অনেক সময় দিয়েছি এবং নিজের সমস্যা কাটিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছি। কয়েকটা ব্যাপার নিয়ে আমি কাজ করেছি এবং এখন বেশ আত্মবিশ্বাসী।' অভিষেক ম্যাচ; নার্ভাসনেস কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে এনামুল জানালেন ভিন্ন কথা। দলের সবাই সাহায্য করছেন বিজয়কে নির্ভার রাখতে। বিজয় বলেন, 'মমিনুল হক, রাজু'র (আবুল হাসান) সাথে আমি অনূর্ধ্ব ১৯ দলে খেলেছি। সোহাগ গাজী আর আমরা তিনজন একসাথে খেলেছি একাডেমি দলে। তাই তাদের সাথে সম্পর্কটা আগে থেকেই ভালো। আর দলের সিনিয়ররা, টিম ম্যানেজমেন্টের সবাই অনেক সহযোগিতা করে। সব মিলিয়ে আমি নির্ভার আছি।'
বিজয়ের নির্ভার থাকাটা আজ বাংলাদেশের জন্যও খুব দরকার!
মিরপুরে আরেক ব্লগারকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা
মিরপুরে আরেক ব্লগারকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা

রাজধানীর পল্লবীতে বৃহস্পতিবার রাতে সামিউর রহমান (২৫) নামে এক তরুণ ব্লগারকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা। তিনি বৃহস্পতিবার রাতে শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চে অংশ গ্রহণ শেষে ফার্মগেট থেকে বাসে বাড়ি ফেরার পথে পূরবী সিনেমা হলের গলিতে ঢুকলে তার ওপর হামলা হয়।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯ টায় শাহবাগ এলাকা থেকে মিরপুরগামী একটি বাসে করে পল্লবীর পূরবী সিনেমা হলের সামনে নামেন। পল্লবীর ইস্টার্ণ হাউজিংয়ে তার বাসা। সিনেমা হলের গলি দিয়ে তার বাসার দিকে হেঁটে যাওয়ার সময় ২ জন পাঞ্জাবি পরিহিত দাঁড়িওয়ালা অজ্ঞাত যুবক তার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এসময় তিনি চিত্কার করলে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। দুর্বৃত্তরা পালিয়ে গেলে তাকে আহত অবস্থায় মিরপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন সামিউর রহমান জানান, তিনি ব্লগে লেখালেখি করতেন। ফার্মগেট থেকে বাসে ওঠার পর অজ্ঞাত যুবকরা তাকে অনুসরণ করে। অজ্ঞাত যুবকরা তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছে। আহত সামিউরের বাবা রবিউর রহমান বাংলাদেশ বিমানে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। মা নিলুফার ইয়াসমিন ছেলেকে দেখতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসেন।
উল্লেখ্য, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পল্লবীর পলাশনগরে নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের হামলায় খুন হন ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার শোভন (৩০)।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে

যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ ছয় দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকারীরা। গতকাল বিকালে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে এ শপথ পাঠ করান গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। সমাবেশ থেকে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে গণজাগরণ সমাবেশ করার ঘোষণা দেন তিনি। আজকের শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের নারী জাগরণ সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এছাড়া ৭ই মার্চের চেতনায় সারা দেশের প্রতিটি পাড়ায়-মহল্লায় জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর দেশব্যাপী জামায়াত-শিবিরের সহিংসতার জন্য গণস্বাক্ষর কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। ফলে আগামী ২২শে মার্চ পর্যন্ত এ কর্মসূচির সময় বাড়ানো হয়। বিকাল সাড়ে চারটায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতসহ অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। এরপর সমবেত কণ্ঠে গাওয়া হয় জাতীয় সংগীত। দুপুরের পর থেকে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্রোতের মতো আসতে থাকে মানুষ। রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, থানা, ওয়ার্ডের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক, চিকিৎসক, পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে প্রবেশ করেন। পূর্ব ও পশ্চিম দিকের গেট দিয়ে আসতে থাকেন নানা শ্রেণী-পেশার লোকজন। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে লোক সমাগম। একসময় পুরো এলাকা লোকারণ্য হয়ে যায়। গণসংগীত, প্রতিবাদী কবিতা আর নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে সমাবেশ এলাকা। বিকাল চারটার দিকে সমাবেশে গান পরিবেশন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী আবদুল জব্বার। তিনি মাইক হাতে নিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন ৭১ সালের ৭ই মার্চের সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন তখন আমি তার পাশে বসে গান পরিবেশন করে জনতাকে উজ্জীবিত করেছিলাম। তিনি পরপর দু’টি গান পরিবেশন করেন। তার গানে উদ্বেল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সমাবেশকে ঘিরে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্ব ও পশ্চিম দিকের গেটের প্রবেশপথে বসানো হয় আর্চওয়ে। শতাধিক র্যাব, পুলিশ ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সতর্ক নজরদারি করেন। অপূর্ব নামের এক ক্ষুদে শিক্ষার্থী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো করে ৭ই মার্চের ভাষণ দেয়। তার ভাষণ শুনে সমবেত জনতা অভিভূত হয়ে যান। এ সময় উপস্থিত সবাই সেই দিনের মতো বারবার আওয়াজ তোলেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পরিণত হয় ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের রেসকোর্স ময়দানে। মুক্তিযুদ্ধ না দেখা তরুণ প্রজন্ম ফিরে যায় একাত্তরে। এরপর ৭১ সালে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার হাতে নির্যাতিত সখিনা খাতুনের হাতে পূর্বঘোষিত ১০ হাজার টাকা তুলে দেয়া হয়। গতকাল ছিল শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনের ৩১তম দিন। আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয় শাহবাগের বাইরে ষষ্ঠ সমাবেশ। এর আগে রায়েরবাজার বধ্যভূমি, মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর, মতিঝিলের শাপলা চত্বর, বাহাদুর শাহ পার্ক ও যাত্রাবাড়ীতে গণজাগরণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আজ বিকালে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে নারী জাগরণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এই সমাবেশ পরিচালনা ও বক্তব্য রাখবেন নারীরা। এর জন্য গার্মেন্ট শ্রমিক ও অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারীদের বিকাল ৩টা থেকে ছুটি দিতে মালিকদের আহ্বান জানানো হয়। এরপর ছাত্রনেতারা বক্তব্য রাখেন। ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, ৫ই মার্চ আমরা যে আন্দোলন শুরু করেছিলাম তা আজ তীব্র গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। আমরা যে ৬ দফা দাবি উত্তোলন করেছি তা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। ইতিমধ্যে আমাদের দাবি পূরণে সংসদে আইন পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণা হওয়ার পর থেকে জামায়াত-শিবির সারা দেশে সহিংসতা চালিয়ে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তারা সামপ্রদায়িক হামলা চালিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সারা দেশে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, আমরা অহিংস আন্দোলন করছি। মনে রাখবেন যাতে কোন ধরনের সহিংস পরিস্থিতি তৈরি না হয়। আমরা জনগণের জানমালের ক্ষতি হয় এমন কিছু করবো না। ৭ই মার্চের চেতনা নিয়ে আমাদের ৬ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো। তিনি বলেন, আজ আমরা এক ঐতিহাসিক মুহূর্তেই উপনীত হয়েছি। এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দিয়েছিলেন। সেদিন তার ভাষণ বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের রক্তকণিকায় মূর্ছনা তুলেছিল। ৭ই মার্চ আমাদের অনুপ্রেরণা। ইমরান বলেন, আমরা ৭ই মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলাম। কিন্তু সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর থেকে জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্যের কারণে সারা দেশে কার্যক্রম চালাতে পারিনি। তাই আগামী ২২শে মার্চে পর্যন্ত এই কর্মসূচির সময় বাড়ানো হলো। মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে আপনারা সবাই গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। এরপর তিনি সমবেত জনতাকে শপথ পাঠ করান। শপথে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের সর্র্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং তা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠন জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ এবং তাদের সকল অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও গণমাধ্যম বয়কট করবো। সমাবেশে ছাত্রলীগ সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ, জাসদ ছাত্রলীগ সভাপতি হোসাইন আহমেদ তাফসির, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি এসএম শুভ, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি আবদুর রউফ, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তমাল, ছাত্র আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মঞ্জুর হোসেন মিঠু, ছাত্রঐক্য ফোরামের আহ্বায়ক সোহান সোবহান, বিপ্লবী ছাত্র সংহতির সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ ও ছাত্র সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালমান খান বক্তব্য রাখেন।
Thursday, March 7, 2013
আবদুল জলিল : না ফেরার দেশে
আবদুল জলিল : না ফেরার দেশে

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আবদুল জলিল আর নেই। গতকাল সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয় আবদুল জলিলকে। কিন্তু উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। গত সোমবার বাইপাস সার্জারির পর তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। গতকাল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার এডভোকেট আবদুল হামিদ, বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী,এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ, জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন। সদা অমায়িক দরাজ হৃদয়ের অধিকারী আবদুল জলিল দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। আন্তরিকতাপূর্ণ ব্যবহারের জন্য তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় নেতা। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান জলিল। তার আগে আওয়ামী লীগের বিগত সরকারে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হওয়ার পর একটি চিঠিতে রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন জলিল। ওই সময়ের পর দলের একটি অংশের কাছে বিরাগভাজন হয়ে পড়েন প্রবীণ এ নেতা। মুক্তি পাওয়ার পর তাকে আর দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব ফিরিয়ে দেয়া হয়নি। গত নির্বাচনে নওগাঁ-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৪১ সালের ২১শে জানুয়ারি নওগাঁয় জন্মগ্রহণ করেন। নওগাঁ কে.ডি. সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে ভর্তি হন রাজশাহী কলেজে। সেখানে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। ১৯৬০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ১৯৬৩ সালে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করেন এবং ১৯৬৪ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি আইন বিষয়ে পড়াশোনা করার জন্য লন্ডনে যান। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে তিনি বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আবদুল জলিল স্ত্রী, দুই পুত্র ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। ১৯৭৩ সালে তিনি প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৮৬ সালে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য হন। ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। ছাত্র রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা জলিল একটানা ১৬ বছর নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সংসদে শোক
আবদুল জলিলের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে জাতীয় সংসদে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর স্পিকার এডভোকেট আবদুল হামিদ সংসদে আবদুল জলিলের মৃত্যুর খবরটি জানিয়ে সংসদের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। স্পিকার জানান, নিয়ম অনুযায়ী সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। এরপর শোক প্রস্তাব নিয়ে সংসদে আলোচনা হবে।
Wednesday, March 6, 2013
এবারও...
এবারও...

‘জয়ন্ত ভাই কি লাভ স্টোরি’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন নেহা শর্মা। এ ছবিতে বিবেক ওবেরয়ের বিপরীতে বেশ ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন এ অভিনেত্রী। এই প্রথম ছবিতে নেহা ব্যাপক খোলামেলা হয়েই কাজ করেছেন। কুমার তরুণী পরিচালিত এ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে বেশ আলোচিতও হচ্ছেন নেহা। তবে শুধু আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছেন না তিনি। ইতিমধ্যে বেশ কিছু ছবির প্রস্তাব এসেছে তার কাছে। এ ছবিগুলোর মধ্যে সবক’টিতে কাজ না করলেও দুটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। এ দুটি ছবিতেই প্রধান নারী চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। প্রথম ছবি মুক্তির আগেই এতোটা ব্যস্ত নেহা হয়ে পড়বেন সেটা নিজেও কল্পনা করেননি। এদিকে ছবি দুটির মধ্য থেকে একটির কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছেন তিনি। এ ছবিটিও পরিচালনা করছেন কুমার তরুণী। ছবিতে এবার নেহাকে দেখা যাবে অজয় দেবগানের বিপরীতে। গত সপ্তাহ থেকে এ ছবিটির শুটিং শুরু হয়েছে। এদিকে ‘জয়ন্ত ভাই কি লাভ স্টোরি’ ছবিতে রগরগে দৃশ্যে ক্যামেরাবন্দি হওয়ার পর এবার এ ছবিতেও ব্যাপক খোলামেলা হয়ে পর্দায় আসছেন নেহা। অজয়ের সঙ্গে কিছু ঘনিষ্ঠ দৃশ্যেও তাকে দেখা যাবে। এ ছবিটিতে একজন পতিতার চরিত্রে অভিনয় করছেন নেহা, যে কিনা এক সময় অজয়ের প্রেমে পড়ে অন্ধকার জীবন থেকে বের হওয়ার স্বপ্ন দেখে। দ্বিতীয় এ ছবিতে অজয়ের মতো সুঅভিনেতার সঙ্গে কাজ করছেন বলে বেশ আনন্দিত নেহা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, প্রথমত বলবো এই ছবির কাহিনী অনেক চমৎকার। সে কারণেই মূলত কাজটি করা। আর কুমার তরুণীর হাত ধরেই আমার বলিউডে আসা। তাই তার আরও একটি ছবিতে কাজ করছি বলে ভাল লাগছে। এখানে আমি পতিতার চরিত্রে কাজ করছি। বেশ চ্যালেঞ্জিং একটি চরিত্র। আর ছবিতে অজয় দেবগানের মতো সুঅভিনেতা বিপরীতে কাজ করছি, তার কাছ থেকে প্রতিনিয়তই শিখতে পারছি। তিনি অনেক কো-অপারেটিভ। আশা করছি এ ছবিতে আমাদের জুটি দর্শকরা পছন্দ করবে।
বাংলাদেশে প্রাণহানিতে মর্মাহত যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশে প্রাণহানিতে মর্মাহত যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশে প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলাকালে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানিতে মর্মাহত যুক্তরাষ্ট্র। এ অবস্থায় সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বিভিন্ন উপাসনালয় ও বাড়িতে হামলার খবরে। নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের কাছে এসব বিষয়ে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ-মুখপাত্র প্যাট্রিক ভেনট্রেল। ৪ঠা মার্চ সাংবাদিকদের সামনে তিনি বাংলাদেশ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আশা প্রকাশ করেন সরকার সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেবে। সাংবাদিকরা তার কাছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চান। তাদের একজন বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জি। এ নিয়ে কি আপনার কোন মন্তব্য আছে? জবাবে ভেনট্রেল বলেন, আমরা জানতে পেরেছি পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসছে। কিন্তু বাংলাদেশজুড়ে সহিংসতায় ৭০-এর বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এতে আমরা মর্মাহত। হিন্দুদের মন্দিরে ও বাড়িঘরে হামলার খবরেও আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা বিশ্বাস করি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিক্ষোভ করা মৌলিক অধিকার। একই সঙ্গে আমরা বিশ্বাস করি যে, সহিংসতা সমস্যার সমাধান নয়। তিনি বলেন, তাই আমরা সব বাংলাদেশীকে উৎসাহিত করছি শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটাতে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান- বাংলাদেশ সরকার যেভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে তা আপনি কিভাবে দেখছেন? জবাবে প্যাট্রিক ভেনট্রেল বলেন, আমরা দেখছি পরিস্থিতি শান্ত হচ্ছে। এ ছাড়া এ বিষয়টিকে আমি অন্য কোনভাবে ব্যাখ্যা করতে চাই না। পাশাপাশি সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারকে উদ্বুদ্ধ করছি।
তাদের কথোপকথন ছিল এ রকম-
প্রশ্ন- বাংলাদেশ প্রসঙ্গে-
ভেনট্রেল: হ্যাঁ, বলুন।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ পরিস্থিতিতে সেখানকার নিরাপত্তা নিয়ে আপনার কাছে হালনাগাদ তথ্য আছে...
ভেনট্রেল: হ্যাঁ, আছে।
প্রশ্ন: সেখানে তো বিক্ষোভ চলছে? ভারতের প্রেসিডেন্ট-ও বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন। এ নিয়ে কোন মন্তব্য আছে আপনার?
ভেনট্রেল: প্রশ্নের পরের অংশটা কি-
প্রশ্ন: ভারতের প্রেসিডেন্ট-ও বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন-
ভেনট্রেল: ঠিক আছে। আমরা যখন আশান্বিত হয়েছি যে বাংলাদেশে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসছে তখন দেশজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভে কমপক্ষে ৭০ জন নিহত হওয়ায় আমরা মর্মাহত হয়েছি। হিন্দুদের মন্দিরে ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনায়ও আমরা উদ্বিগ্ন। যেহেতু শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিক্ষোভ মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার তাই আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সহিংসতা কোন সমস্যার সমাধান নয়। কাজেই আমরা সব বাংলাদেশীকে তাদের দাবিদাওয়ার প্রকাশ ঘটাতে শান্তিপূর্ণ উপায় অবলম্বনে এবং একই সঙ্গে সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারকে উৎসাহিত করি।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ সরকার পরিস্থিতি যেভাবে মোকাবিলা করছে তা কিভাবে দেখছেন?
ভেনট্রেল: দেখুন, আমরা দেখতে পাচ্ছি পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসছে। এর বাইরে অন্য কিছু ব্যাখ্যা করতে চাই না। একই সঙ্গে অব্যাহতভাবে আমরা বাংলাদেশ সরকারকে উৎসাহিত করছি সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।
কুমিল্লায় সংঘর্ষ, গুলি আহত অর্ধশতাধিক আজ হরতাল
কুমিল্লায় সংঘর্ষ, গুলি আহত অর্ধশতাধিক আজ হরতাল

কুমিল্লায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। হরতাল পৃষ্ঠা
পালন ও বর্জনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা মহানগর ও জেলার মুরাদনগরে এ ঘটনা ঘটে। হরতাল চলাকালে মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির একাংশ ও আওয়ামী লীগের একাংশের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণে মহানগরীতে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়সহ অন্তত ১৫টি দোকানপাট ভাঙচুর ও ৩টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ বুধবার জেলা সদরে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করেছে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হরতাল চলাকালে গতকাল বেলা ১২টার দিকে নগরীর কান্দিরপাড়ে স্থানীয় এমপি আ.ক.ম বাহাউদ্দিন সমর্থিত আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপ হরতালবিরোধী মিছিল বের করে। এসময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী আমিন-উর রশীদ ইয়াছিন সমর্থিত বিএনপির একটি গ্রুপ হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে। বিকালে জেলা দক্ষিণ বিএনপি’র সভানেত্রী বেগম রাবেয়া চৌধুরী নগরীর বাদুরতলাস্থ তার বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনার জন্য স্থানীয় এমপি আ.ক.ম বাহাউদ্দিনসহ তার সমর্থিত কর্মীদের দায়ী করেন এবং এ ‘অতর্কিত হামলা’র প্রতিবাদে আজ বুধবার জেলা সদরে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফজলুল হক ফজলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, যুবদল সভাপতি আমিরুজ্জামান আমীর, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, ছাত্রদল সভাপতি উৎবাতুল বারী আবুল, সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন কায়সারসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ। এদিকে, গুলিবিদ্ধ নগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনজুরুল আলমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপর আহতরা হচ্ছেন যুবদল নেতা মাকছুদুল আলম মাছুদ, আবদুর রশীদ, আকরাম হোসেন এরশাদ, মহসিন, আউয়াল, সুমন, ছাত্রদল নেতা তুহিন, জনি পাটোয়ারী, মহসিন খন্দকার কাকনসহ ২০ জন এবং অপরপক্ষের যুবলীগ নেতা রাসেল, সানি, তুহিন, সবুজ, ছাত্রলীগ নেতা শরীফ, রাজীবসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ ৪ জনকে আটক করেছে বলে বিএনপি দাবি করেছে।
এমপি আ.ক.ম বাহাউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কুমিল্লা বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে দু’গ্রুপে বিরোধ চলে আসছে। দুপুরে বিএনপির দু’গ্রুপে সংঘর্ষের সময় বিএনপি নেত্রী রাবেয়া চৌধুরী আতঙ্কে একটি দোকানে আশ্রয় নেন। এসময় খবর পেয়ে আমি পুলিশ নিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দেয়ার কারণে তিনি আমাকে অভিযুক্ত করেছেন।
এছাড়া, জেলার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর-শ্রীকাইল সড়কের বিষ্ণুপুরে হরতালের পক্ষে-বিপক্ষে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে বিএনপি সমর্থক মোস্তফা খান, ঝন্টু মিয়া, আওয়ামী লীগ কর্মী আবু কাউছার, মাহমুদ সরকার, আলাউদ্দিনসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
Tuesday, March 5, 2013
এ কি কথা বীণার মুখে!
এ কি কথা বীণার মুখে!

বীণা মালিকের মুখে এ কি কথা! যা দারুণ বিস্ময়েরই সৃষ্টি করেছে সবার মধ্যে। যে বীণা সমপ্রতি এক মিনিটে ১৩৭ বার চুম্বনের বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন তিনি নাকি পর্দায় চুম্বনের দৃশ্য ঘৃণা করেন। বীণার মুখে এমন কথা যেন একেবারেই বেমানান! এর আগে এমন একটি রেকর্ড গড়েছিলেন সালমান খান এক মিনিটে ১০৮ বার চুম্বন করে। কিছুদিন আগে তার উনত্রিশতম জন্মদিন উপলক্ষে শত চুম্বন উপহার পেয়ে রীতিমতো সংবাদ শিরোনামে চলে আসেন বীণা। সতীশ রেড্ডির প্রযোজনা ও হারুন রশীদের পরিচালনায় ‘সিটি দ্যাট নেভার স্লিপ’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য নায়ক খুঁজতে এক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আর সেখানেই ঘটে এ ঘটনা। এ সম্পর্কে বীণা বলেন, আমি আরও তিন-চার বার ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়বো, ইনশাল্লাহ। মজার ব্যাপার হলো, বীণা যে সব তথ্য দিয়েছেন তাতে তার ভক্তরা কিছুটা হলেও বিস্মিত হয়েছেন। বীণা বলেন, আমি সত্যি বলছি, পর্দায় চুম্বনের দৃশ্যে অভিনয় করতে আমার মোটেও ভাল লাগে না। যদিও আমার সামনের চতুর্থতম ছবি ‘ডার্টি পিকচার’-এর দক্ষিণী ভার্সনেও চুম্বনের দৃশ্য আছে। আমি সততার সঙ্গে বলছি, রুপালি পর্দায় চুম্বনের দৃশ্য আমি ঘৃণা করি। চুম্বনের দৃশ্যে অভিনয় করা একেবারে সহজ কথা নয়। এটা তো পপকর্ন বা চকোলেট খাওয়া নয়, ভাগ দিতে হয় অন্যকে। আমি এ বিষয়টা থেকে সরে আসতে চাই।
Monday, March 4, 2013
চাঁদে সাঈদীর মুখ দেখার গুজব
চাঁদে সাঈদীর মুখ দেখার গুজব

রোববার মাঝরাতে চাঁদের গায়ে জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রতিকৃতি দেখা গেছে বলে গতকাল গুজব ছিল দেশের বিভিন্ন স্থানে। সকাল থেকেই মানুষের মুখে মুখে তা ছড়িয়ে পড়ে। মোবাইল ফোনে, মেসেজের মাধ্যমে এবং ফেসবুকেও ছড়ানো হয় এই গুজব। বগুড়ার মসজিদ থেকেও প্রচার করা হয় এই
তথ্য। চাঁদে সাঈদীর ছবি দেখা গেছে- এমন খবর ছড়িয়ে পড়ায় গতকাল বিভিন্ন স্থানে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সহিংসতায় জড়ায়। হরতালের পক্ষে পিকেটিংয়েও অংশ নেয়। এ কারণে বগুড়ায় সকাল থেকে কার্যত যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়ও এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সেখানেও জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামে এমন গুজব শুনে।
এদিকে আলেমরা জানিয়েছেন, এ ধরনের গুজব বা প্রচারণা সত্য বলে মনে করা ইসলাম ধর্মের বিশ্বাসের বিরোধী। যারা এমন গুজব সত্য বলে মনে করবেন তারা বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবেন।
কনডেম সেলে সাঈদীর দিনলিপি
কনডেম সেলে সাঈদীর দিনলিপি
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে বিমর্ষ জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী দৈনিক পত্রিকাও পড়ছেন না। সারাক্ষণ চিন্তা করেন, তসবিহ জপেন। আদালতে ফাঁসির রায় হওয়ার আগেও তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন, সে সময় পত্রিকা পড়তেন, আচরণও অনেকটা স্বাভাবিক ছিল, নিরাপত্তা প্রহরীদের নাগালে পেলে আলাপ জমাতেন, কথা বলতেন। কিন্তু বদলে গেছেন ২৮শে ফেব্রুয়ারি মামলার রায়ে তার ফাঁসির দণ্ডাদেশ হওয়ার পর থেকে। মামলার রায়ের দিন থেকে তিনি কোন পত্রিকা পড়ছেন না, নিরাপত্তা প্রহরীদের সঙ্গেও কথা বলছেন না।
তিনি খুবই বিমর্ষ, চিন্তিত, সারাক্ষণ চুপচাপ থাকছেন, নিয়মিত নামাজ পড়ছেন, তসবিহ জপছেন। চুল-দাড়িতে নিয়মিত মেহেদি ব্যবহার করলেও এখন সেটাও করছেন না।
কোন আত্মীয়-স্বজনও তার সঙ্গে দেখা করতে আসেননি, পরিবারের কেউ আসেন নি জেলগেটে, সাক্ষাতের অনুমতিও চাননি। কয়েদির পোশাক পরেই কেন্দ্রীয় কারাগারের ৮ ফুট বাই ৮ ফুট কনডেম সেলে বসবাস করছেন তিনি। জেল কোডের বিধান অনুসারে ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত আসামিদের কোন কাজ দেয়া হয় না, সে কারণে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকেও কোন কাজ দেয়া হয়নি। জেলের বাইরে থেকে তার নিত্যব্যবহার্য দ্রব্যাদির মধ্যে ব্রাশ, টুথপেস্ট, তেল, সাবান নেয়ার অনুমতি আছে সে জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে জেল গেটে তার নামে টাকাও জমা আছে। সূত্রমতে মামলার রায়ের পর তিনি নিত্য ব্যবহার্য ওই সব দ্রব্যের কিছু নেননি। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন ২৩ জন ফাঁসির আসামি। তাদের মধ্যে পুরুষ ১৮ জন, মহিলা ৫ জন। ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের খাবার দেয়া হয় অন্যান্য সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মতোই। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকেও সে ভাবেই খাবার দেয়া হচ্ছে। তবে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর খাবার দেয়া হয় চিকিৎসকের পরীক্ষার পর। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী জানান, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রতিদিন খাবারের জন্য বরাদ্দ আছে তিন বেলা ১২ ছটাক চাল ও আটা। সকালে দেয়া হয় আটার রুটি, দুপুর ও রাতে ভাত। প্রতিদিন ডাল এক বেলা, সবজি দুই বেলা, যেদিন দুপুরে মাছ সেদিন রাতে দেয়া হয় মাংস আবার দুপুরে মাংস দেয়া হলে রাতে মাছ। তিনি জানান, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জন্য বাইরের কোন খাবার দেয়ার অনুমতি নেই। জেলের খাবারই তাকে খেতে হয়। সূত্রমতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যে সব দৈনিক পত্রিকা সরবরাহ করা হয় ওই সব পত্রিকার মধ্য থেকে যে কোন একটি পত্রিকা নিজের টাকায় পড়তে পারবেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। মামলার রায় হওয়ার পর তিনি কোন পত্রিকা পড়ছেন না।
যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামিদের মধ্যে একমাত্র দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীই আছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। গোলাম আযম ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অধীনে আছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ আছেন নারায়ণগঞ্জ কারাগারে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী আছেন কাশিমপুরে কেন্দ্রীয় কারাগার ইউনিট ১-এ। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ইউনিট ২-তে আছেন জামায়াত নেতা কামরুজ্জামান ও মীর কাশেম আলী।
Sunday, March 3, 2013
পুলিশি প্রতিবেদন আত্মরক্ষার্থেই গুলি
পুলিশি প্রতিবেদন আত্মরক্ষার্থেই গুলি
পুলিশি প্রতিবেদন আত্মরক্ষার্থেই গুলি

পুলিশের গুলিতে মৃত্যু নিয়ে এখনও পর্যন্ত গঠিত হয়নি কোন তদন্ত কমিটি। পুলিশি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়েছে পুলিশ। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি দেশের ১৬ জেলায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে ৪৬ জন। প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে। নিহতদের মধ্যে জামায়াত-শিবিরের কর্মী ছাড়াও আছে পুলিশসহ দেশের সাধারণ নাগরিক। ওইসব মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে জুডিশিয়াল তদন্ত কমিটি গঠিত হওয়ার খবর এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পুলিশের গুলিবর্ষণের বিষয়ে জেলাগুলোর পুলিশ সুপাররা একটি করে প্রতিবেদন প্রেরণ করেছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে। জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায়ে তাকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেয়ার পর থেকে সারা দেশে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ ও জীবনহানি অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট জেলা থেকে পুলিশ সুপার বিশেষ শাখা স্বাক্ষরিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। গৎবাঁধা ওইসব প্রতিবেদনের আকার, ভাষা ও বিষয়বস্তু একই ধরনের। সূত্রমতে, প্রেরিত ওইসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা সশস্ত্র একতাবদ্ধ হয়ে জনসারণের জানমালের ক্ষতিসাধন করার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা বাধা প্রদান করলে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা পুলিশকে আক্রমণ করে। জনসাধারণের জানমাল রক্ষা পুলিশের আত্মরক্ষা ও পুলিশের অস্ত্র রক্ষার জন্য পুলিশ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্রেটের নির্দেশে গুলিবর্ষণ করে। উল্লিখিত প্রতিবেদনটি গাইবান্ধা থেকে প্রেরিত তবে দেখা গেছে যে সকল জেলায় পুলিশের গুলিতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে সেসব জেলা থেকে প্রেরিত পুলিশি প্রতিবেদনের ভাষা ও বিষয়বস্তু একই ধরনের। কক্সবাজার জেলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও সেখানকার পুলিশ গুলিবর্ষণের কথা অস্বীকার করে বলেছে পুলিশ কোন গুলি ছুড়েনি। পুলিশের গুলিবর্ষণ ও জামায়াত-শিবিরের হামলায় নিহতদের মধ্যে আছে জামায়াত-শিবির কর্মী পুলিশ, আওয়ামী লীগের কর্মী, নিরপরাধ সাধারণ মানুষ, দিনমজুর, ছাত্র, প্রকৌশলী, পথচারী। সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় জেলা প্রশাসকের অধীনে জুডিশিয়াল তদন্ত কমিটি গঠিত হওয়ার বিধান থাকলেও ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত পুলিশের গুলিতে নিহতদের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে কোন জেলাতেই তদন্ত কমিটি গঠিত হয়নি বলে জানা গেছে। রংপুরের ডিসি জানিয়েছেন, এখনও কোন তদন্ত কমিটি হয়নি, তবে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। একই ধরনের কথা বলেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসি, তিনি জানিয়েছেন আজ অফিস খোলার পর হয়তো তদন্ত কমিটি গঠিত হতে পারে।
Saturday, March 2, 2013
বিব্রত পরিনীতি
বিব্রত পরিনীতি

‘ইশকজাদে’-এর পর বর্তমানে তিনটি ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রিয়াংকা চোপড়ার চাচাতো বোন পরিনীতি চোপড়া। তিনটি ছবিতেই ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে দর্শকরা দেখতে পাবেন তাকে। এর মধ্যে একটি ছবির মহরত অনুষ্ঠিত হয় সমপ্রতি। সে মহরত অনুষ্ঠানে মিডিয়াকে প্রিয়াংকা ও নিজেকে নিয়ে বেশ কিছু বক্তব্য নিজে থেকেই প্রদান করেন পরিনীতি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, একটা বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই যে আমি প্রিয়াংকার মাধ্যমে বলিউডে আসিনি। নিজে অনেক কষ্ট করে বলিউডে কাজ শুরু করেছি। কিন্তু বেশ কিছু মিডিয়া এ বিষয়ে কাল্পনিক খবর প্রকাশ করছেন। তারা বলছেন আমি নাকি বলিউডে পথ চলছি প্রিয়াংকার হাত ধরে। এটা একদমই ঠিক নয়। কারণ, এর মাধ্যমে প্রিয়াংকার সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে আমার। বিষয়টি নিয়ে আমি বিব্রত। আমার ক্যারিয়ারে প্রিয়াংকার প্রভাব নেই। এটা প্রিয়াংকা নিজেও ভাল করে জানেন। আমি যে ছবিগুলো করছি নিজের যোগ্যতাতেই করছি। দর্শকরা পছন্দ করলে কাজ করবো, আর না করলে কাজ করবো না। এটাই আমার নীতি।
দেশ গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে
দেশ গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে

দেশ গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে
দেশের সামপ্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতি দেশকে গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। গতকাল এক বিবৃতিতে এরশাদ বলেন, একদিনে প্রায় ৬০ জনের মৃত্যুর ঘটনা দেশের রাজনীতির ইতিহাসে এই প্রথম। জাতীয় জীবনের এ ‘সন্ধিক্ষণে’ ধীরস্থিরভাবে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানান তিনি। এরশাদ বলেন, শাহবাগের আন্দোলন এবং বিচার বিভাগের ‘সমান্তরাল অবস্থান’ পরিস্থিতিকে আরও সংঘাতময় করে তুলেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও বিবেচনাপ্রসূত, দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। বিবৃতিতে এরশাদ বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে আজ গোটা জাতি বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং সৃষ্টি হয়েছে এমন এক সংঘাতময় পরিস্থিতির যা দেশকে একটি গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে আমার এবং আমার দলের বক্তব্য সুস্পষ্ট। আমরা অবশ্যই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। কিন্তু তা হতে হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং সকল প্রভাব ও চাপমুক্ত। কিন্তু সমপ্রতি শাহবাগ স্কয়ার এবং বিচার বিভাগের সমান্তরাল অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও সংঘাতময় করে তুলেছে। আমরা শাহবাগের তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের বিরুদ্ধে নই কিন্তু তাদের কিছু কিছু দাবি ও কর্মসূচি প্রদানের মাধ্যমে পরিস্থিতি যে আরও জটিল হচ্ছে আমি তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এছাড়া ভারতের প্রেসিডেন্টের সফরকালে প্রতিবাদ ও আন্দোলনের ভাষা সংযত রাখারও আহ্বান জানান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।
Subscribe to:
Posts (Atom)








