Pages

Sunday, February 5, 2012

বিদায়ী কমিশনাররা সুষ্ঠু নির্বাচনে ইভিএমের বিকল্প দেখছেন না

আগামীতে জাতীয় নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকারের অধীনের সব ধরনের নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করে ইভিএম ব্যবহারের বিকল্প নেই বলে মনে করেন বিদায়ী তিন নির্বাচন কমিশনার।

বার্তা২৪ ডটনেটের সঙ্গে আলাপকালে তারা এ মত দেন।

এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এ টি এম শামসুল হুদা বলেন, ‘‘আমার অভিজ্ঞতা বলছে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা সম্ভব হলে নির্বাচনে কারচুপির মাত্রা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা যায়। অন্যদিকে ইভিএম ব্যবহার করলে কোনো ধরনের ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়াই পরিকল্পনা মোতাবেক অল্প সময়ে ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে ফলাফল জানিয়ে দেয়া যায়।’’

তিনি বলেন, ‘‘ভোটগ্রহণের দিন সবচেয়ে বেশি ঝামেলা দেখা দেয়। রাজনৈতিক দলগুলোই অধিকাংশ ঝামেলা পাকায়, ভোটগ্রহণের চেয়ে ভোটগণনার সময় বেশি কারচুপির অভিযোগ পাওয়া যায়। আর ইভিএমে ভোটগ্রহণে অল্প সময়ে ফলাফল দেয়া সম্ভব হওয়ায় কোনো মহল কারচুপিতে খুব একটা সুবিধা করতে পারে না। তাই বারবার ইভিএমে জোর দিচ্ছি।’’

এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘‘নির্বাচনে কারচুপি এদেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। এ সংস্কৃতি বন্ধ করার জন্য জাতির সামনে এই মুহূর্তে ইভিএম ব্যবহারের চেয়ে ভাল কোনো বিকল্প আমার জানা নেই। এ পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ কম ব্যয় ও সময় সাপেক্ষ।’’

তিনি বলেন, ‘‘রাজনৈতিক দলগুলোতো সমস্যা সৃষ্টির চেষ্টা করবেই, কিন্তু কমিশন শক্তিশালী হলে ঝামেলা সৃষ্টিকারীরা সফল হতে পারে না। ইভিএমের মাধ্যমে ভোটের ফলাফলকে একাধিক বার চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব, কিন্তু ব্যালটে এটা করা যায় না। কেননা, ভোটগ্রহণের পরেও আমরা অন্তত একমাস এ ফলাফল সংরক্ষণ করি। কেউ চাইলে প্রয়োজনে একশবার এ ভোট গুণে দেখতে পারে।’’

নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন বলেছেন, ‘‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বর্তমানে ইভিএম নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচনগুলোর ফলাফল দেখলে আমরা তার প্রমাণ পাই। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সবাই চায়। কিন্তু দুই একটি দল ইভিএম বিষয়ে বিরোধীতার জন্যই বিরোধীতা করছে। তাদের এ বিরোধীতা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। বিষয়টি ভালভাবে বোঝার চেষ্টা করলে তারা আর ইভিএমের বিরোধীতা করবেন না।’’

তিনি বলেন, ‘‘সব ধরনের হস্তক্ষেপ বন্ধ করে ইভিএম ব্যবহারের ক্ষেত্র তৈরি করা গেলে আগামীতেও সব নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে অনুষ্ঠান করা সম্ভব হবে। নির্বাচন অনুষ্ঠান কমিশনের কাজ, এখানে রাজনৈতিক দলগুলোর হস্তক্ষেপ নিষ্প্রয়োজন। এ বিষয়টি আমলে নিয়েই দলগুলোর হস্তক্ষেপ বন্ধ করা উচিত। তবেই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।’’

নির্বাচনে কারচুপি বন্ধ করার পেছনে গণমাধ্যমও ভাল ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মত দেন তারা।

No comments:

Post a Comment