Pages

Monday, December 31, 2012

কম বয়সে অবসাদ কমানোর ওষুধ নয়

কম বয়সে অবসাদ কমানোর ওষুধ নয়

আজকাল অনেক পরিবারের কম বয়সী ছেলে-মেয়েরা নানা কারণে চরম হতাশায় ভুগছে। আর এসব হতাশা থেকে জন্ম নিচ্ছে নানা উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা ও জটিলতা। কম বয়সী ছেলে-মেয়েরা জড়িয়ে পড়ছে মাদকাসক্তি, ভায়োলেন্স-এর মত ভয়ংকর সমস্যায়। বেশীরভাগ পরিবার কিশোর-কিশোরীদের সমস্যা যথাযথভাবে অনুধাবন করতে পারছে না। মারধর, বকাবকির ঘটনাও ঘটছে। এতে আরও বিপরীত অবস্থা তৈরী হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অসত্ সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে তারা। ঘটছে আত্মহত্যার মত অপ্রত্যাশিত ঘটনাও। অনেক ক্ষেত্রে পিতা-মাতাগণ তাদের কারণে-অকারণের ব্যস্ততার কারণে এ বয়সী ছেলে-মেয়েদের প্রতি সঠিকভাবে যত্ন নেন না। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারে নানা বঞ্চনা, অবহেলার মধ্যেও তারা বেড়ে উঠে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও শিক্ষকরা এধরনের ছেলে-মেয়েদের অমনোযোগী হিসাবে চিহ্নিত করে বাবা-মার কাছে রিপোর্ট দেন। তবে সব চেয়ে বিপজ্জনক দিক হচ্ছে উঠতি বয়সের এসব ছেলে-মেয়ের সমস্যা না বুঝে, না শুনে অথবা মমত্ব দিয়ে তাদের সমস্যা শোধরানোর চেষ্টা না করে নিয়ে যাওয়া হয় কোন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে। যা ঘটার তাই ঘটে। প্রাকটিস বাণিজ্যের কারণে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার সাহেবরা (২/১ জন ছাড়া) কিশোর-কিশোরীদের সমস্যার গভীরে না যেয়ে ধরিয়ে দেন একগাদা এন্টিডিপ্রেসিভ বা হতাশা কমানোর ওষুধ। কিন্তু পিতা-মাতা বা আমরা ডাক্তাররা কি কখনও ভেবে দেখেছি বিশ্বব্যাপী কিশোর-কিশোরীদের এন্টিডিপ্রেসিভ ওষুধ সেবনে নিরুত্সাহিত করা হচ্ছে। কারণ বিশেষজ্ঞগণ নানা গবেষণায় দেখেছেন এন্টিডিপ্রেসিভ ওষুধে টিনএজারদের ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাছাড়া বিশেষজ্ঞদের মতে এন্টিডিপ্রেসিভ ওষুধে কার্যকারিতা ও ক্ষতিকর দিক নিয়ে গবেষণা হয়েছে শুধু বয়স্কদের ওপর। তাই কোনভাবেই কম বয়সী ছেলে-মেয়েদের এ ধরনের ওষুধ ব্যবহার উচিত নয় এমন অভিমত: হারভার্ড পাবলিক হেলথ গবেষণা তথ্যের । এক্ষেত্রে টিনএজারদের মানসিক সমস্যা, উদ্বেগ, হতাশা, অমনোযোগ, ক্রোধসহ নানা সমস্যায় পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের ভূমিকা রাখার ওপর জোর দেয়া হয় এবং এসব করতে হবে মমত্ববোধ দিয়ে বুদ্ধিমত্তার সাথে।

‘মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন হলে মানুষ শিক্ষা নিতো

‘মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন হলে মানুষ শিক্ষা নিতো


নয়াদিল্লির গণধর্ষণ ভিকটিমের বেদনাদায়ক মৃত্যুর প্রেক্ষিতে এক সময়ের আলোচিত গণধর্ষণ ভিকটিম পাকিস্তানের মুখতারান মাই তার ভুক্তভোগী হিসেবে এ বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন। গালফ নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমন নৃশংস দুর্ঘটনা বন্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বলেন তিনি। ভারতে গণধর্ষণের শিকার ছাত্রীর মৃত্যুতে তিনি নির্বাক বলে জানান মুখতারান। তিনি বলেন, নারীদের প্রতি অন্যায় আচরণ ও নিপীড়নের জন্য সরকার ও আইনি ব্যবস্থা দায়ী। আইন বইতে পরিবর্তন হয় কিন্তু বাস্তবে তার প্রয়োগ হয় না। অপরাধীদের শাস্তির বিষয়টিও বাস্তবায়ন করা হয় না। ফলে কেউই শিক্ষা নেয় না। যদি একটি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেয়া হতো তবে মানুষ শিক্ষা নিতো। যদি একশ’ মানুষ জানতো বিষয়টি অপরাধ তবে তারা এমন কাজ করতো না। কেন আমাদের সরকার, বিচার বিভাগ এমনটি করে না। পুলিশ থেকে আদালত, সরকার থেকে পার্লামেন্ট কেউই এ বিষয়ে যথার্থ উদ্যোগ নেয় না। তার মতে, এক সময় নারীরা চুপ করে থাকতো। তারা ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতো না। মুখ খুলতো না। এখন তেমন অবস্থা নেই। নারীরা এগিয়ে এসেছেন। তারা মুখ খুলতে শুরু করছেন। ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছেন। তবে তারা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না। মুখতারান মাই প্রশ্ন তুলে বলেন, কোথায় একজন নারী চারজন সাক্ষী পাবেন। আমি ৭০ সাক্ষী হাজির করেছিলাম। কিন্তু কেন আমাকে তখন ন্যায়বিচার দেয়া হয়নি। আইন যেহেতু ন্যায়বিচার বাস্তবায়ন করতে পারছে না তাই কিভাবে ধর্ষণ নিপীড়নের মতো সমস্যার সমাধান হবে। তিনি বলেন, কেবল কিছু নারীই পারে এসব সমস্যার সমাধান করতে। আদালত, পুলিশ ও সরকার- সব স্থানে পুরুষের আধিক্য। নারীরা নেই বললেই চলে। এসব স্থানে যদি নারীরা বেশি বেশি থাকতেন তবে নিপীড়ন-নির্যাতন কমে আসতো বলে মনে করেন মুখতারান। ভারতের নৃশংস ওই ঘটনায় ভারতের বিচার ব্যবস্থা ও সরকারের প্রতি তার আহ্বান- মেয়েটি মারা গেলেও তার শোকার্ত পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এতে অন্য অপরাধীরা ভয় পাবে এবং অন্য ভিকটিম নারীরা ন্যায়বিচারের জন্য এগিয়ে আসার সাহস পাবেন। নিজে গণধর্ষণের শিকার হয়ে প্রচণ্ড রকমের কষ্ট ও বেদনা সয়েছিলেন। ফলে দিল্লির মেয়েটির কথা শুনে অনেক রাগ হচ্ছিল বলে জানান তিনি। নিজের ওপর আক্রমণকারীদের প্রাপ্ত সাজার বিষয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন বলে আপিল করেছেন। তবে ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী নন বলে শেষ বিচারের দিনে আল্লাহর সাজার অপেক্ষার কথা বলেন মুখতারান।

ওয়ানডেতেও জয়ে শুরু পাকিস্তানের

ওয়ানডেতেও জয়ে শুরু পাকিস্তানের


ম্যাচের উত্তেজনাটা আসলে মরে গিয়েছিল খেলার প্রথম ১০ ওভারেই। ২৯ রান তুলতেই পটাপট উপড়ে যায় ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের পাঁচ উইকেট। এতে ভারত ব্যাটিংয়ের প্রথম চারজনই বোল্ড আউট। ভারতের ওয়ানডে রেকর্ডে এটি প্রথম ঘটনা আর ইতিহাসে সপ্তম। পাক-ভারত সিরিজের প্রথম ম্যাচের নায়ক দুই সেঞ্চুরিতে দু’দলের দুই ব্যাটসম্যান। এতে ভারত অধিনায়ক এমএস ধোনির কীর্তিকে ম্লান করে ম্যাচ শেষে আলোটা পাক ওপেনার নাসির জামশেদের সেঞ্চুরি আর পেস তারকা জুনায়েদের ৪ উইকেট শিকারে। গতকাল চেন্নাইয়ের চিদাম্বরম মাঠে ভারতকে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করলো পাকিস্তান। পাঁচ বছরে প্রথম ভারত সফরে এতে তিন ম্যাচ সিরিজে পাকিস্তান এগিয়ে রইলো ১-০তে। আগে জয় নিয়ে এবারের দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজও পাকিস্তান শেষ করে ১-১ সমতায়। আগে ব্যাট করে ভারত পাকিস্তানকে ২২৮ রানের টার্গেট দেয়। দলের ব্যাটিং ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে ১১৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে পাকিস্তানের জন্য চ্যালেঞ্জটা ধরে রাখেন ভারত অধিানয়ক এমএস ধোনি। আর এ চ্যালেঞ্জের যোগ্য জবাবে ১০১ রানের অপরাজিত ইনিংসে ম্যাচজয়ী পাকিস্তানের নায়ক ওপেনার নাসির জামশেদ। এতে ৬ উইকেট ও দুই ওভার অক্ষত রেখে জয়ের এ লক্ষ্য পূরণ করে পাকিস্তান। যদিও ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচনে ধোনির ইনিংসটাই মন ভোলায় এদিনের এডজুডিকেটরদের। ধোনির ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার জয় সান্ত্বনা হতে পারে ভারত সমর্থকদের। ২২৮ রানের টার্গেটে ব্যাটে গিয়ে আদতে ঢিলেঢালা ব্যাটিং দেখানোর সুযোগ ছিল না পাক ব্যাটসম্যানদেরও। চিদাম্বরম মাঠের সিক্ত পিচে সুইং বা স্পিনে বল ঘুরছিল খেয়াল খুশি মতো। আর পাকিস্তান ইনিংসের একবারে প্রথম বলেই এতে ছিল ধাক্কা। পাকিস্তান ব্যাটিংয়ের প্রথম ওভারের প্রথম বলেই নিজের উইকেট উপরে যেতে দেখে বিহ্বল পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হাফিজ। ওয়ানডেতে জীবনের প্রথম বলেই ভারতকে উইকেট সাফল্য এনে দিয়ে এর ঘটক পেস তারকা ভুবনেশ্বর কুমার। দলীয় ২১ রানে ওয়ান ডাউন ব্যাটসম্যান আজহার আলীও আউট হয়ে গেলে ততক্ষণে টেনশনও বড় হয়ে গেছে পাকিস্তান শিবিরে। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে ওপেনার জামশেদ ও পরীক্ষিত পাক ব্যাটসম্যান ইউনুস খান তৃতীয় উইকেট জুটিতে স্কোর বোর্ডে যোগ করেন ১১১ রান। পেসার ডিন্ডার বলে অশ্বিনের হাতে ধরা পড়ার আগে ইউনুস পূর্ণ করেন ব্যক্তিগত অর্ধশতকও। তবে অবিচল নাসির জামশেদ জয় নিশ্চিত করার সঙ্গে পূর্ণ করেন নিজের দ্বিতীয় ওডিআই সেঞ্চুরিও। আর এতে ভারতের বিপক্ষে জামশেদের নৈপুণ্যের পরিসংখ্যানটাও হলো আরেকটু ভারি। ঢাকায় এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষেই জামশেদের প্রথম সেঞ্চুরিটি। আর এ নিয়ে ভারতকে তৃতীয়বার মোকাবিলায় দুইবার নটআউট জামশেদের মোট রান ২৬৬। তবে পাকিস্তান ইনিংসের ৪২তম ওভারের শেষ বলে দলীয় ১৭২ রানে আলাদা জীবন পান শোয়েব মালিক। ধোনির হাতে ক্যাচ দিলেও অশ্বিনের নো-বলে উইকেট বাঁচে ভারত জামাতা মালিকের। আর আশা কমে ভারত সমর্থকদের। পাকিস্তান ব্যাটিং ইউনুস খান ও অধিনায়ক মিসবাহকে হারিয়েছিল তার আগেই।
তিন বছর পর সেঞ্চুরি ধোনির
টেস্ট ক্রিকেটে ভারত দলের সামপ্রতিক ব্যর্থতাটা ভক্তদের কাছে স্পষ্টই। একবছরে ওয়ানডেতেও নেই আহামরী সাফল্য। সঙ্গে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ঘাটতি নিয়ে এদিন মহাচাপে ব্যাট হাতে ক্রিজে যান এমএস ধোনি। আর ধোনি দেখান দৃঢ়তাও। কঠিন ম্যাচে তুলে নেন দারুণ সেঞ্চুরি। তিন বছর পর ধোনির ওয়ানডে সেঞ্চুরি দেখা গেলো এতে। আর এতে ধোনির ওয়ানডে রানের সংগ্রহটা পার করলো ম্যাজিক ফিগার ৭০০০।
এদিন ভারতের ইনিংসটা ছিল দুই ভাগে। এতে ভিন্ন দুই রূপ দেখতে পেয়েছেন দর্শকরা। প্রথমভাগে শীর্ষ পাঁচ ব্যাটসম্যানের ব্যর্থতায় স্বাগতিকরা ভারতের সংগ্রহটা দেখেছেন ভীতিকর ২৯/৫ । আর দ্বিতীয় ভাগে দেখা গেছে ভারত দলের পেছনের ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তা। চেন্নাইয়ের সকালটা এদিন ছিল মেঘাচ্ছন্ন-বৃষ্টিভেজা। চেপুকের চিদাম্বরম মাঠে এতে টস জিতে প্রতিপক্ষকে ব্যাটিংয়ে পাঠাতে দু’বার ভাবেননি পাক অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হকও। আর ভেজা সবুজঘাসের পিচে ভারত ব্যাটসম্যানদের শুরুটা হয় নড়বড়ে। পাক পেস তারকা জুনাইদ খান ও মোহাম্মদ ইরফানের মারাত্মক সুইং খেলতে না পেরে ভারত ব্যাটসম্যানদের ৫ উইকেট উপড়ে যায় ইনিংসের ১০ ওভার ফুরানোর আগেই। তবে ভারতের মনোবল ফেরে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে। অধিনায়ক এমএস ধোনি ও সুরেশ রায়না এ জুটিতে যোগ করেন ৭৩ রান। কিন্তু ব্যক্তিগত ৪৩ রানে হাফিজের স্পিনে বোল্ড আউট হয়ে ভক্তদের টেনশনে ফেরান রায়না। তবে অন্যপ্রান্তে ধোনি তখনও ধৈর্যের মূর্তি। ৮৬ বলে পূর্ণ করেন অর্ধশতক। এ সময় এক ছক্কার সঙ্গে ধোনি বাউন্ডারি খেলেন মাত্র দু’টি। তবে ক্রমেই হাতখোলা হয়ে উঠে সপ্তম উইকেট জুটিতে ধোনি-অশ্বিন যোগ করেন ১২৫ রান। সপ্তম উইকেট জুটিতে এটি ভারতের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। ধোনি পরের ৬১ রান করেন ৩৯ বলে । এতে ভারতের শেষ ১০ ওভারে ওঠে ৮১ রান। পাক বোলার ইরফানকে ছক্কা হাঁকিয়ে ধোনি ৯৫ রান থেকে পূর্ণ করেন ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি। ধোনির সেঞ্চুরিতেও ম্যাচ বাঁচেনি ভারতের। তবে ভারত অধিনায়কের দৃঢ়তা ছাড়া এদিন ১০০ ওভারের ম্যাচ প্রয়োজন হতো না, এটাও ঠিক।

স্কোর কার্ড
ভারত-পাকিস্তান ১ম ওয়ানডে
চিদাম্বরাম স্টেডিয়াম, চেন্নাই।
ভারত: ২২৭/৬ (৫০ ওভার)
পাকিস্তান: ২২৮/৪ (৪৮.১ওভার)
ভারত ইনিংস: রান বল ৪ ৬
গম্ভীর ব ইরফান ৮ ১৭ ১ ০
শেওয়াগ ব জুনাইদ ৪ ১১ ১ ০
কোহলি ব জুনাইদ ০ ৫ ০ ০
যুবরাজ ব জুনাইদ ২ ৩ ০ ০
রোহিত ক হাফিজ ব জুনাইদ ৪ ১৪ ০ ০
রায়না ব হাফিজ ৪৩ ৮৮ ২ ০
ধোনি অপরাজিত ১১৩ ১২৫ ৭ ৩
অশ্বিন অপরাজিত ৩১ ৩৯ ২ ০
অতিরিক্ত: (লব ১১, ও ৯, নব ২) ২২
মোট: (৬ উইকেট; ৫০ ওভার) ২২৭
উইকেট পতন: ১-১৭ (শেওয়াগ, ৩.৫ ওভার), ২-১৭ ( গম্ভীর, ৪.৪ ওভার), ৩-১৯ (কোহলি, ৫.৪ ওভার), ৪-২০ (যুবরাজ, ৫.৬ ওভার), ৫-২৯ (শর্মা, ৯.৪ ওভার), ৬-১০২ (রায়না, ৩৩.২ ওভার)
বেলিং: ইরফান ৯-২-৫৮-১, জুনাইদ ৯-১-৪৩-৪, গুল ৮-০-৩৮-০, আজমল ১০-১-৪২-০, হাফিজ ১০-২-২৬-১।
পাকিস্তান ইনিংস: রান বল ৪ ৬
হাফিজ ব কুমার ০ ১ ০ ০
জামশেদ অপরাজিত ১০১ ১৩২ ৫ ১
আজহার আলী ক শর্মা ব কুমার ৯ ৩৮ ০ ০
মিসবাহ ব ইশান্ত ১৬ ২৪ ১ ০
মালিক অপরাজিত ৩৪ ৩৫ ১ ০
অতিরিক্ত: (লব ৬, ও ৩, নব ১) ১০
মোট: (৪ উইকেট, ৪৮.১ওভার) ২২৮
উইকেট পতন: ১-০(হাফিজ০.১ ওভার), ২-২১(আজহার, ১০.২ ওভার), ৩-১৩৩(ইউনিস, ৩০.৩ ওভার), ৪-১৭২(মিসবাহ, ৩৮.২ ওভার)
বোলিং: কুমার ৯-৩-২৭-২, শর্মা ১০-০-৩৯-১, দিন্দা ৯.১-০-৪৫-১, অশ্বিন ১০-০-৩৪-০, যুবরাজ ৫-০-৩৩-০, রায়না ২.১-০-২৩-০, কোহলি ২.৫-০-২১-০
ফল: পাকিস্তান ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্যা ম্যাচ: মহেন্দ্র সিং ধোনি
সিরিজ: ৩-ম্যাচ সিরিজে ১-০।

৯৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে মেঘনা গোমতী সেতু

৯৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে মেঘনা গোমতী সেতু


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতু মেরামতের জন্য আগামী ৪ঠা থেকে ৮ই জানুয়ারি পর্যন্ত টানা ৯৬ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ রাখা হবে। গতকাল সচিবালয়ে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকের একথা জানান। এতদিন সেতুতে টেম্পোরারি কাজ হয়েছে। এখন কিছু পার্মানেন্ট কাজ হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ৪ঠা জানুয়ারি সকাল ৬টা থেকে
৮ই জানুয়ারি সকাল ৬টা পর্যন্ত এই দুই সেতু বন্ধ থাকবে। এ সময় বিকল্প সড়কে যান চলাচল করবে। এছাড়াও আগামী ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসেও ৬ দিন করে ১২ দিন সেতু দু’টি বন্ধ রাখা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মেরামত কাজের জন্য তিন দফায় মোট ১৬ দিন সেতুতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, সাময়িকভাবে এটা কষ্টের কারণ হবে। অনেকেই সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কিন্তু ব্রিজের যে অবস্থা তাতে সাময়িক কষ্টটুকু মেনে নিতেই হবে। ব্রিজ পড়ে যাবে- এ অবস্থা থেকে ব্রিজ রক্ষায় জন্য এ সাময়িক কষ্ট করতে হবে। এটা আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক ও বাস্তবতা। তিনি বলেন, সেতু দু’টি বন্ধ থাকার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রামে যান চলাচল করবে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর বিকল্প পথে বাড়তি চাপ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
ঢাকা-কুমিল্লা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানবাহন তখন ঢাকা-যাত্রাবাড়ী-কাঁচপুর ব্রিজ-তারাব মোড় (রূপগঞ্জ)-নরসংদী-ভৈরব-আশুগঞ্জ-সরাইল বিশ্বরোডের মোড়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা-চট্টগ্রাম সড়ক দিয়ে চলবে।
সেতুতে যান চলাচল বন্ধ থাকার দিনগুলোতে ওই এলাকার মানুষের জন্য বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করতে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান যোগাযোগমন্ত্রী। এছাড়া সেতুতে যান চলাচল বন্ধ রাখার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচারের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়কে এবং মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে প্রচারের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হবে বলেও মন্ত্রী জানান।

ব্যর্থদের ফর্মুলায় গণতন্ত্রের সুরক্ষা হবে না

ব্যর্থদের ফর্মুলায় গণতন্ত্রের সুরক্ষা হবে না


আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খানের দেয়া ফর্মুলা প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে ড. আকবর আলি নির্বাচনের জন্য চারটি ফর্মুলা তুলে ধরেন। তার এ ফর্মুলার প্রতি ইঙ্গিত করেই প্রধানমন্ত্রী গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেন, কারও দেয়া ফর্মুলায় নয়, আওয়ামী লীগ নিজেস্ব গতিধারায় চলবে। কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, কেউ কেউ আজকাল ফর্মুলা দেন। ব্যর্থ লোকদের ফর্মুলা দিয়ে তো আর গণতন্ত্র সুরক্ষিত হবে না। কারণ, একজন ব্যর্থ মানুষ বার বারই ব্যর্থ হন। আওয়ামী লীগের ১৯তম কাউন্সিলে সপ্তমবারের মতো দলের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় শেখ হাসিনাকে সকালে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, অনেক মোটা-তাজা মানুষই তো দল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। যারা দল করতে পারেনি, আমরা তাদের ফর্মুলা চাই না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মুলা দিচ্ছেন। কিন্তু তারা নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়ে ইয়াজউদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। যে ফর্মুলাই এখন দেয়া হোক না কেন, আমার প্রশ্ন হচ্ছে- ওই সময় তারা ব্যর্থ হয়েছিলেন কেন?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের কিছু সাবেক নেতা যারা দেশের প্রাচীনতম সংগঠনটি ভেঙে ভিন্ন দল গড়তে চেয়েছিলেন তারা এখন আমাদের দলের ব্যাপারে পরামর্শ দিচ্ছেন। যারা দল ভেঙে গিয়ে একটি নতুন দল গড়তে ব্যর্থ হয়েছেন এমন কারও কাছ থেকে আমাদের দলের ব্যাপারে কোন কিছু শুনতে চাই না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নিজস্ব পথনিদের্শনা রয়েছে এবং এর ভিত্তিতে দল এগিয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ তার গণতান্ত্রিক পন্থা ও ঐতিহ্যের মাধ্যমে অগ্রসর হচ্ছে এবং এ পন্থা ও ঐতিহ্য ধারণ করে দলটি এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে ধ্বংস ও নির্মূল করতে অতীতে আইয়ুব, ইয়াহিয়া, জিয়া ও এরশাদের আমলে অপতৎপরতা চালানো হয়েছিল। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। বরং, এ দলটিই জাতির জন্য স্বাধীনতা এনেছে। শেখ হাসিনা দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি তাদের নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের প্রতি মনোযোগী হওয়ার এবং বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয় জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান। তিনি আগামী দু’মাসের মধ্যে দলের সকল স্তরে কাউন্সিল সম্পন্ন করার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করার জন্যও তাদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী সকল জেলায় স্থায়ী দলীয় কার্যালয় প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন এবং এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। শেখ হাসিনা বলেন, যখনই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যায় তখনই দেশের জনগণ কিছু পায়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে জনগণ আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। ফলে তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে এবং সুখী ও সমৃদ্ধ জীবনের পথে এগিয়ে যায়। তিনি বলেন, তাছাড়া জনগণের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের ফিরে আসে এবং তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারে। অনুষ্ঠানে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মিজবাহউদ্দিন সিরাজ, আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ উপস্থিত ছিলেন। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সিটি মেয়র বদরউদ্দিন আহমেদ কামরানের নেতৃত্বে মহানগরের নেতারা ফুল দিয়ে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। এরপর সিলেট জেলা, শ্রমিক লীগ, বগুড়া জেলা, নোয়াখালী জেলা, সৈয়দপুর জেলা, ফেনী জেলাসহ দলের অন্যান্য সাংগঠনিক জেলার নেতৃবৃন্দ একে একে ফুল দিয়ে সভাপতিকে অভিনন্দন জানান।

অস্তিত্বের লড়াইয়ে জামায়াতের বছর পার

অস্তিত্বের লড়াইয়ে জামায়াতের বছর পার


রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করেই বছর পার করেছে জামায়াতে ইসলামী। এক বছরের বেশি সময় ধরে তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বন্ধ। দফায় দফায় শত শত নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার। প্রকাশ্য সভাসমাবেশের ওপর অলিখিত নিষেধাজ্ঞাসহ নানা প্রতিকূলতায় এ বছর তীব্র অস্তিত্বের সঙ্কটে পড়ে ধর্মভিত্তিক দলটি। শুধু তাই নয়- বিভিন্ন সময় চোরগোপ্তা হামলা, ঝটিকা মিছিল সমাবেশে করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকির মুখেও পড়ে বেশ ক’বার। যুদ্ধাপরাধসহ বিভিন্ন ঘটনায় দলের প্রায় ডজন খানেক শীর্ষ নেতা আটক। ভারপ্রাপ্ত আমীরসহ প্রথম ও দ্বিতীয় সারির প্রায় সব নেতা আত্মগোপনে। এ অবস্থায় নেতৃত্ব শূন্যতায় রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যেই বছরজুড়ে ঘুরপাক খায় ১৮ দলীয় জোটের শরিক দলটি। ’৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে ভিন্নমত পোষণ করেছিল জামায়াত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৭ সালে প্রকাশ্য রাজনীতিতে সক্রিয় হয় তারা। তবে এ দীর্ঘ সময়ে ২০১২ সালের মতো এমন কঠিন সঙ্কটের মুখে পড়তে দেখা যায়নি তাদের। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর একের পর এক সঙ্কটের কবলে পড়ে জামায়াত। তবে এবার যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি কোণঠাসা হয়ে পড়ে তারা। দলের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম, নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, প্রভাবশালী নেতা মীর কাসেম আলী মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, এ টি এম আজহারুল ইসলাম, আবদুল কাদের মোল্লা যুদ্ধাপরাধ মামলায় বিচারের মুখোমুখি। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, পুলিশের কাজে বাধা দেয়াসহ অন্য একাধিক মামলায় দলের প্রথম সারির নেতা অধ্যাপক তাসনীম আলম, মিয়া গোলাম পরওয়ার কারাগারে। এ ধরনের মামলায় ফেরার হয়ে আছেন ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ, সদ্য ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুর ইসলাম খান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ঢাকা মহানগর নেতা এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এমপি, মাওলানা আবদুল হালিম, নুরুল ইসলাম বুলবুলসহ প্রথম ও দ্বিতীয় সারির সব নেতা। কারাগারে আটক আছেন জেলা-উপজেলা পর্যায়ের জামায়াত শিবিরের পাঁচ হাজারের বেশি নেতা-কর্মী। এ পর্যায়ে চলতি ডিসেম্বরের মধ্যেই মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ একাধিক শীর্ষ নেতার মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণার দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়। ওই রায়ের ফলাফল নিয়ে নিয়ে উদ্বেগ-উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে জামায়াত-শিবিরের সর্বস্তরে। শীর্ষ নেতাদের মুক্তি দাবি নিয়ে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ৩রা ডিসেম্বর প্রকাশ্য সমাবেশের ঘোষণা দেয় তারা। কিন্তু পুলিশের বাধায় সমাবেশ পণ্ড হয়ে গেলে পর দিন এককভাবে হরতাল পালন করে জামায়াত। বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে প্রথমবারের মতো হরতাল পালনের পর আবারও চরম ক্র্যাকডাউনের কবলে পড়ে জামায়াত। রাজধানীসহ দেশজুড়ে শুরু হয় জামায়াত-শিবির গ্রেপ্তার অভিযান। অপরদিকে চোরাগুপ্তা হামলা, বিক্ষিপ্ত মিছিল-সমাবেশ করে দলীয় কর্মীদের মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা করে তারা। কিন্তু ২১শে ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কৌশলে একসঙ্গে প্রায় অর্ধশত শিবির নেতাকে গ্রেপ্তার করলে সঙ্কটের বোঝা ভারি হয়ে যায় জামায়াতের। মহানগর শিবিরের প্রথম সারির এসব নেতা গ্রেপ্তারের জামায়াতের চলমান আন্দোলনে চরমভাবে ধাক্কা লাগে। তবে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারে আন্দোলন আরও বেগবান হবে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, সরকার বিরোধী দলের আন্দোলন দমন করার জন্যই ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার পরিবর্তে সরকার জুলুম-নির্যাতন ও নিপীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। ফ্যাসিবাদী কায়দায় বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে অতীতে যেমন কোন সরকার রেহাই পায়নি, তেমনি মহাজোট সরকারও রেহাই পাবে না। জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের চালিকা শক্তি শিবির সমপ্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের ওপর বেশ ক’টি হামলার ঘটনায় ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। এতে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে সরকার সমর্থক রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে ময়দানে সোচ্চার হয়। এক পর্যায়ে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে ১৮ই ডিসেম্বর সরকারের নেপথ্য সহযোগিতায় হরতাল পালন করে সিপিবিসহ বাম রাজনৈতিক দলগুলো। একইভাবে জামায়াতের সমর্থনে ইসলামপন্থি ১২ দল ২০শে ডিসেম্বর বাম দলগুলোর কাউন্টার হরতাল পালন করে। তবে এই দুই বিপরীত রাজনৈতিক ধারার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি জাতীয় রাজনীতিতে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। এরপরও জামায়াতবিরোধী তৎপরতার ধারবাহিকতা অব্যাহত আছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার দ্রুত শেষ করার দাবিতে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল ২২শে ডিসেম্বর রাজধানীতে গণমিছিল করে। যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তারা মাঠে থাকার শপথ নেয়। সব মিলিয়ে চরম বৈরিতার মধ্যে বছর কেটেছে জামায়াতের।

Friday, December 28, 2012

দিল্লিতে আরও ধর্ষণ

দিল্লিতে আরও ধর্ষণ

 প্যারামেডিকের ছাত্রী গণধর্ষণ নিয়ে দিল্লিতে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে তখনই ৪২ বছর বয়সী এক নারীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। মধ্যপ্রদেশে সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ১২ দিন আটকে রেখে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করেছে ১৫ জন। টাইমস অব ইন্ডিয়া এ খবর দিয়েছে। এতে বলা হয়, গতকাল পুলিশ বলেছে, উত্তর প্রদেশের ৪২ বছর বয়সী ওই নারীকে ধর্ষণ শেষে কালকাজি নামক এলাকায় ফেলে যায় নরপিশাচরা। এ ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে দিল্লিতে বহুল আলোচিত ধর্ষিত প্যারামেডিকের ছাত্রীকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর পর। বলা হয়েছে, ৪২ বছর বয়সী ওই নারীর প্রজননতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। তাকে নেয়া হয়েছে এআইআইএমএস ট্রমা সেন্টারে। এ ঘটনার নায়ক দীলিপ বর্মাকে শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের তিনটি টিমকে আলাদা আলাদা দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা বিভিন্ন স্থানে ঘেরাও অভিযান চালাচ্ছে। ওদিকে মধ্য প্রদেশে সবিতা (পরিবর্তিত নাম) নামে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ১২ই ডিসেম্বর তুলে নিয়ে যায় একদল লোক। তারা তাকে আটকে রাখে। সেই আটকাবস্থা থেকে সে মঙ্গলবার পালিয়ে বাড়ি ফিরেছে। পরের দিন বুধবার পুলিশ খারগাঁওয়ের খেদা গ্রামের কাশিরামের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা নিয়েছে। তার বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগও আনা হয়েছে। পুলিশ বলেছে, সবিতা নিশ্চয়তা দিয়েছে তাকে আটকে রেখে গণধর্ষণ করা হয়েছে।

অস্ত্রের বিনিময়ে চাল-ডাল

অস্ত্রের বিনিময়ে চাল-ডাল

মধ্যযুগে যখন মুদ্রার প্রচলন ছিল না, তখন প্রয়োজনীয় দ্রব্য সংগ্রহের একমাত্র উপায় ছিল 'বিনিময় প্রথা'। চাল দিয়ে মাছ মিলত, কিংবা ভুট্টার বিনিময়ে রেশম। অস্ত্র-সন্ত্রাস বন্ধে এবার সেই ধরনের প্রাচীন পদ্ধতির শরণাপন্ন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের পুলিশ। সেখানকার বাসিন্দারা এখন অস্ত্র জমা দিয়ে ১০০ থেকে ২০০ ডলারের খাবার বিনা মূল্যে নিতে পারছে।
কানেকটিকাটের একটি স্কুলে গুলিবর্ষণের ঘটনার পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অস্ত্রের ব্যবহারে ঐতিহ্যগতভাবে উদার মনোভাবের শহর লস অ্যাঞ্জেলেসে এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ এই অস্ত্র ফেরত দেওয়ার সময় কোনো প্রশ্ন না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জমাকৃত অস্ত্রের নথি পরীক্ষা করে দেখবে তারা। চুরি কিংবা হারিয়ে যাওয়া অস্ত্রগুলো এভাবে পাওয়া যেতে পারে বলে আশা ব্যক্ত করেছে তারা। এরপর প্রকৃত মালিককেই তার অস্ত্র ফেরত দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
প্রথম দিনে ৪১টি রাইফেলসহ মোট এক হাজার ১৬টি আগ্নেয়াস্ত্র জমা পড়েছে। জমা পড়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে একটি সেমি অটোমেটিক হ্যান্ডগান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালের একটি শটগানও রয়েছে। জমাকারীদের প্রত্যেককে নূ্যনতম ১০০ ডলার এবং স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্রের জন্য ২০০ ডলারের গিফট কার্ড দেওয়া হচ্ছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের সার্জেন্ট রুডি লোপেজ জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর অনুষ্ঠানটি বেশ ভালোই হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক লোক অস্ত্র জমা দিয়েছে। তিনি আরো জানান, প্রকৃত মালিকদের ফেরত দেওয়ার পর বাকি অস্ত্রগুলো গলিয়ে ফেলা হবে।

অন্য রুপে প্রীতি

অন্য রুপে প্রীতি


দীর্ঘ প্রায় তিন বছর পর চলতি বছরের মাঝামাঝিতে ‘ইশক ইন প্যারিস’ এর মাধ্যমে বলিউডে কামব্যাক ঘটে প্রীতি জিনতার। ছবিটি তেমন একটা ব্যবসা সফলতা না পেলেও আলোচনায় ঠিকই আসেন প্রীতি। এদিকে এই ছবির একটি গানে সালমান খানের উপস্থিতিও ছিল। বহুদিন পর প্রীতির বলিউড ছবিতে প্রত্যাবর্তনকে সবাই দেখছেন বেশ সুনজরেই। কারণ অভিনয়ের দিক দিয়ে এ সময়ের অনেক অভিনেত্রীর চেয়ে এগিয়ে প্রীতি। ইতিমধ্যে এই অভিনেত্রী চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন আরও একটি ছবিতে। ছবিটি পরিচালনা করছেন প্রিয়দর্শন। জানুয়ারি থেকে ছবিটির কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বলিউডের বাইরে এর আগে আইপিএলএ নিয়মিতই দেখা গেছে প্রীতিকে। ভারতের এই প্রিমিয়ার লীগে পাঞ্জাব ওয়ারিয়র্স দলের অন্যতম একজন মালিক প্রীতি। এবার এই অভিনেত্রীকে দেখা যাবে একেবারে অন্য এক রুপে। খুব শিগগিরই প্রযোজক হিসেবে আসছেন তিনি। ইতিমধ্যে বিষয়টি পাকাপাকি করে মিডিয়াকে সেটি জানিয়েছেন প্রীতি। আগামী বছরেই অভিনেত্রী থেকে প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন তিনি। সে বিষয়ে এখন থেকেই পরিকল্পনা তৈরি করছেন। প্রথমে একটি বিগ বাজেটের ছবি নির্মাণের কথাও জানিয়েছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রীতির এমন প্রযোজনা সংস্থা খোলার বিষয়টিকে সবাই ইতিবাচক ভাবেই দেখছেন। তবে তার প্রযোজনা সংস্থার নাম এখনও ঠিক হয়নি। কয়েকটি নাম ইতিমধ্যে তার শুভাকাক্সিক্ষরা পাঠিয়েছেন। খুব শিগগিরই সেখান থেকে একটি নাম পাকাপাকি করা হবে। এ বিষয়ে প্রীতি বলেন, অনেক দিন ধরেই ভাবছিলাম ছবি প্রযোজনা করবো। অবশেষে বিষয়টি পাকাপাকি করলাম। সামনের বছরেই একটি বড় বাজেটের ছবি প্রযোজনা করবো। ইতিমধ্যে কাজ গুছিয়ে এনেছি। তবে নাম নির্বাচন নিয়ে একটু বিপাকে পড়েছি। কারণ অনেক সুন্দর সুন্দর নামের প্রস্তাব এসেছে। সেখান থেকে কোনটা রেখে কোনটা পাকাপাকি করবো সেটাই বুঝতে পারছি না। সবার পরামর্শ নিয়েই নাম ঠিক করে সবাইকে বিষয়টি অচিরেই জানাবো।

হলমার্কের দখলে থাকা সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার ৮টি স্থাপনা উচ্ছেদ

হলমার্কের দখলে থাকা সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার ৮টি স্থাপনা উচ্ছেদ


সাভারে হলমার্কের দখলে থাকা প্রায় ১০ একর সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ একর ৬৫ শতাংশ সম্পত্তিতে থাকা বহুতল ভবনসহ ৮টি আধাপাকা ভবন ভেঙে দেয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে।
গতকাল সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেলিম হোসেনের নেতৃত্ব এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কবির হোসেন সরদার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু জাফর রাশেদ, হলমার্ক গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক আবদুল হক, হলমার্ক ডেইরি ফার্মের ব্যবস্থাপক জামাল হোসেন এবং শিল্প ও থানা পুলিশের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেলিম হোসেন জানান, হলমার্কের কম্পাউন্ডের মধ্যে প্রায় ১০ একর সরকারি সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে এক একর ৬৫ শতাংশের ওপর একটি চারতলা ভবন ও সাতটি আধাপাকা ঘর করে সেখানে বিশাল আকৃতির কারখানা ও গুদাম করা হয়েছে। এসব স্থাপনা ধ্বংস করে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার জন্যই এ অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রায় ৭ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে স্টাইল ফ্যাশন ও একটি গুদাম ঘর বুলডোজার ও ভেকু দিয়ে সম্পূর্ণ ভেঙে দেয়া হয়। স্মার্ট স্টাইল ফ্যাশন নামের চার তলা ভবনটি ভেকুর সাহায্যে জানালা ও দেয়ালের সামান্য অংশ এবং অন্যান্য স্থাপনা ভেঙে দেয়া হয়েছে। তাদের দখলে থাকা সরকারি সড়ক থেকে গেটে ভেঙে উন্মুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া হলমার্কের মূল ফটকে সরকারি জমি দখল করে নিরাপত্তারক্ষীদের একটি কক্ষ ভেঙে ফেলা হয়েছে।
হলমার্কের দখলে থাকা সরকারি সম্পত্তি আরও আগে উদ্ধার কেন করেননি- এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, আগে হলমার্কের ভেতরে প্রবেশ অনেক কঠিন ছিল। গত ২৪শে জানুয়ারি সরকারি জমি উদ্ধার করতে এসে এসি (ল্যান্ড)সহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা লাঞ্ছিত হয়েছিলেন।
এদিকে পুলিশের উপস্থিতিতে মাথায় লাল ফিতা বাধা প্রায় ৫০ জনের মতো শ্রমিক স্থাপনা উচ্ছেদে কাজ করেছে। তবে অভিযানে কেউ বাধা দেয়নি বা আপত্তি তোলেনি।
অনিয়মের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখা থেকে হলমার্ক গ্রুপ আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলায় হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তানভীর মাহমুদ, তার স্ত্রী জেসমিন ইসলাম ও ভায়রা তুষার আহমেদ কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা হোটেল শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক একেএম আজিজুর রহমানসহ চার কর্মকর্তাকেও এ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।
হলমার্কে লুটপাট: হলমার্ক কারখানার নিরাপত্তার জন্য সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সাভার থানাকে অনেক আগেই চিঠি দিলেও ভেতরে ভেতরে রাতের আঁধারে লুটপাট চলছে- এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। কারখানার কম্পাউন্ডের ভেতর থেকে রাতের আঁধারে গরু বের করে নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে। সম্প্রতি চারটি গরু বের করে বিক্রি করাকালে স্থানীয় জনতা একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এছাড়া কারখানার ভেতরে বিভিন্ন কক্ষে থাকা কম্পিউটার, প্রিন্টারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতিও সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাভার মডেল থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান হলমার্ক গ্রুপের জন্য ‘যথেষ্ট’ নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন। তবে বিভিন্ন মালামাল লুটপাট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এত বড় প্রতিষ্ঠানে নজরদারি করা কঠিন কাজ। তাছাড়া লুটপাট হয়েছে বলে তার জানা নেই বলে জানান।
এদিকে হলমার্কের মালিক তানভীর মাহমুদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় ১৫টি মামলা ২৪টি সাধারন ডায়েরি রয়েছে। এর আগে ৩রা নভেম্বর হলমার্কের কম্পাউন্ডের ভেতরে ৩৮ শতাংশ সম্পত্তি মেজর জেনারেল (অব.) সাফায়েতুল ইসলাম, মেজর (অব.) খলিল-বিন-ওয়াহিদ ও উইং কমান্ডার (অব.) মো. হাসান দাবি করে স্থানীয় ভূমিদস্যু ওহাব মিয়ার নেতৃত্বে ২৫-৩০ যুবক সীমানা প্রাচীর ভেঙে দখলে নেয়ার চেষ্টা চালায়। তখন পুলিশ তাদের বাধা দিলে তারা চলে যায়।
ওই সম্পত্তির মালিক দাবিদার উইং কমান্ডার (অব.) মো. হাসান জানান, গত দুই বছর আগে তারা তিনজনে মিলে স্থানীয় লাল মিয়ার কাছ থেকে কান্দিবলিয়ারপুর মৌজার এসএ-৩২, আরএস-১২, খতিয়ান এসএ-১০৮ ও আরএস-৭৭ দাগে ৩৮ শতাংশ জমি বায়নানামা করেন। জমিটি এতদিন হলমার্কের কম্পাউন্ডের ভেতরে হলমার্কের দখলে ছিল। ছয় মাস আগে সাভার সাব রেজিস্ট্রি অফিসে তা রেজিস্ট্রি করা হয়।
ভূমি ও সাব রেজিস্ট্রার অফিস জড়িত: হলমার্ক দুর্নীতির সঙ্গে সাভার সাব রেজিস্ট্রার অফিস, ফুলবাড়ীয়া ভূমি অফিস জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আলোচিত হলমার্ক কেলেঙ্কারির সঙ্গে স্থানীয় ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের যোগসাজশ থাকার প্রমাণ পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ তাকে অন্যত্র বদলি করে দেয়। অভিযোগ উঠেছে, এর আগেও সিরাজুল ইসলাম বদলি হলে তা ঠেকাতে প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ করেছে হলমার্ক কর্তৃপক্ষ। তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি এর আগে বলেছিলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার সঙ্গে হলমার্কের মালিকের কখনও দেখা হয়নি। তার সঙ্গে কোন রকম সম্পর্কও আমার নেই। আবার উল্টো হলমার্ক গ্রুপের বিরুদ্ধে জমির খাজনা না দেয়ার কথাও বলেন। তবে হলমার্কের কতটুকু জমি রয়েছে তা-ও তিনি কাগজপত্রে দেখাতে না পারলেও কমপক্ষে ২০০ একর জমি রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, শুধু ৪ শতাংশ জমি হলমার্কের নামে খারিজ রয়েছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সাভার সাব রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক আমজাদ হোসেন সাব রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগসাজশ করে জাল কাগজপত্র তৈরি করে দিতেন হলমার্কের মালিককে। দুদকের মামলায় হলমার্কের মালিক তানভীর গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে দলিল লেখক আমজাদ হোসেন আত্মগোপনে রয়েছে। আতঙ্কে রয়েছে সাভার সাব রেজিস্ট্রার অফিসের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা।
যে ভাবে উত্থান সাভারে: গত ৩০ বছর আগে হেমায়েতপুরের নন্দখালী এলাকায় প্রায় সোয়া ৬শ’ পাখি জমির ওপর জনতা হাউজিং লিমিটেড নামে একটি আবাসিক প্রকল্প গড়ে ওঠে। হাউজিংয়র নকশা বা লে-আউট প্ল্যান অনুসারে ৩, ৫ ও ৮ কাঠার ২১৮৪টি প্লট বিভিন্ন পেশার লোকজনের কাছে বিক্রি করলেও প্রায় সব প্লটই খালি পড়েছিল।
২০০৬ সালে হলমার্র্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ প্রকল্প এলাকার পাশে দু’টি প্লট কিনে একটিতে তৈরি পোশাক কারখানা এবং অন্যটিতে গরুর খামার প্রতিষ্ঠা করেন। জনতা হাউজিং প্রকল্পের ভেতরে ৮ পাখি জমিতে একটি লেক, দু’টি বড় পুকুর, কিছু জলাভূমি, বহু গাছপালা ও খোলা জমি ছিল। সম্প্রতি হলমার্ক গ্রুপ ওই প্রকল্প এলাকায় কয়েকটি প্লট কিনে এবং আশপাশের প্রায় শতাধিক প্লট নানাভাবে প্রভাব সৃষ্টি করে এবং ভয় দেখিয়ে দখল করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত বছর হলমার্ক গ্রুপ পোশাক রপ্তানিতে জাতীয় পদক পাওয়ার পর থেকেই এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এর পরেই হলমার্ক গ্রুপ সরকারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে নিমন্ত্রণ করে এবং প্রায় ২০ হাজার শ্রমিককে ভূরিভোজ করায়। তখন ওই অতিথিদের বরণ করতে ৮-১০টি তোরণ নির্মাণও করা হয়েছিল।

সেরাদের সেরা

সেরাদের সেরা

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় (জেএসসি) ঢাকা বোর্ডের মধ্যে শীর্ষ স্থান দখল করেছে রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানের ৩৯০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩৮৯। জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ৩২৭ জন। রাজশাহী বোর্ডের সেরা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানের ৫৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে সবাই পাস করে ও ৫৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। কুমিল্লা বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছে ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানের ৫৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাস ও জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। যশোর বোর্ডে  প্রথম স্থান অধিকার করেছে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানের ৪৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাস করেছে এবং ৪৪ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম হয়েছে চট্টগ্রাম সদরের খাস্তগীর গভ: গার্লস হাই স্কুল। এখানে ৩৩৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩৩ জন অংশগ্রহণ করেছে। এরমধ্যে শতভাগ ও ২৬৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। বরিশাল বোর্ডের সেরা হয়েছে বরিশাল ক্যাডেট কলেজ। ৫৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাস করেছে। এছাড়া, জিপিএ ৫ পেয়েছে ৫১ জন। সিলেট বিভাগের সেরা হয়েছে সিলেট ক্যাডেট কলেজ। ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে এই কলেজ। দিনাজপুর বিভাগের সেরা স্কুল রংপুর ক্যাডেট কলেজ। এখানে ৫৪ জন অংশ নিয়ে শতভাগ পাস ও ২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।  মাদরাসা বোর্ডে শীর্ষ হয়েছে ডেমরার দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসা। এ প্রতিষ্ঠানের ২৯০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৮০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৮৩ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৭ জন।

ঝরে পড়লো ৬ লাখ শিক্ষার্থী

ঝরে পড়লো ৬ লাখ শিক্ষার্থী

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা, ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় গতকাল। পাসের হার ও জিপিএ’র  জয়জয়কার এ বছর। ৪টি পরীক্ষার ফলের আড়ালে পড়ে গেছে আরেকটি খবর। ৫ম ও ৮ম শ্রেণী থেকেই ঝরে পড়েছে প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থী। এবার ৮টি শিক্ষাবোর্ড ও মাদরাসা বোর্ডে জেএসসি-জেডিজি পরীক্ষার জন্য তালিকাভুক্ত হয় ১৯ লাখ ১০ হাজার ৫০৮ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু পরীক্ষায় অংশ নেয়ার আগেই ঝরে পড়ে ৬৮ হাজার ৭৮২ জন শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। সব মিলে পাস করেছে ১৬ লাখ ১ হাজার ৭৫০ জন। আর ফেল করেছে রেকর্ড সংখ্যক ২ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৬ জন শিক্ষার্থী। জেএসসি-জেডিসিতে অনুপস্থিত ও ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৫৮ জন। বিভিন্ন ধরনের ৯২ হাজার ৩২৮টি বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ২৬ লাখ ৪১ হাজার ৯০৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য তালিকাভুক্ত (ডিআরভুক্ত) হয়। কিন্তু পরীক্ষায় অংশ নেয় ২৪ লাখ ৮১ হাজার ১১৯ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষা থেকে ছিটকে পড়ে ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৮৪ জন। পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৩৪১ জন। ফেল করে ৬৫ হাজার ৭৭৮ জন। ফেল ও অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২  লাখ ২৬ হাজার ৫৬২ জন। আর এবতেদায়িতে পরীক্ষার জন্য তালিকাভুক্ত হয় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৭৬৯ জন। পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭৩ জন। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৩ হাজার ৩৯৬ জন শিক্ষার্থী। সবমিলে পাস করে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৪৯৪ জন। ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ হাজার ৮৭৯ জন। ইবতেদায়িতে অনুপস্থিত ও ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৪ হাজার ২৭৫ জন শিক্ষার্থী। সব মিলে ঝরে পড়া ও ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ লাখ ৯ হাজার ৫৯৫ জন। এবার জেএসসি-জেডিসিতে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা অন্যান্য বছরের চেয়ে বেড়েছে। ২০১১ সালে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬২ হাজার ৯১৮ জন। এ বছর অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৮ হাজার ৭৮২ জন। যা গত বছরের চেয়ে ৫ হাজার ৮৬৪ জন বেশি। বেড়েছে বহিষ্কারের সংখ্যাও। গত বছর বহিষ্কারের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৭৫ জন। এ বছর এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০৯ জনে। যা গত বছরের চেয়ে ২৩৪ জন বেশি। ফলের সন্তুষ্টি প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বিনামূল্যে বই বিতরণ ও উপবৃত্তি দেয়ার সমাপনী পরীক্ষার ফলে ‘ইতিবাচক প্রভাব’ পড়েছে বলেই তিনি মনে করেন। মন্ত্রী আরও বলেন, ফলের সব সূচকেই উন্নতি হয়েছে। এর মূল কারণ হলো স্কুলের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তুলতে পারা। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি বেড়েছে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, আমরা তাদের স্কুলে ধরে রাখতে পেরেছি। এর পেছনে অভিভাবকরাও ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বলেন, নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা হয়েছে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়ায় শিক্ষার্থীরা ভাল পড়তে পারছে। সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ভাল করছে। মেয়েরা এখন ‘অব্যাহতভাবে’ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন- পরিবারে, সমাজে, মানসিকতায় এবং ভবিষ্যতের জন্যও মেয়েদের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা মেয়েদের বিভিন্ন বাধা-প্রতিবন্ধকতা দূর করার চেষ্টা করছি। তিনি স্বীকার করে নিয়ে বলেন, এবার অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা একটু বেশি ছিল। এর কারণ হলো আমরা বিশেষ শিক্ষার্থী ও অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সুযোগ করে দিয়েছিলাম। তাদের অনেকেই সুযোগ নিয়েছে। যারা সুযোগ নিতে পারেনি তাদের আমরা আবারও সুযোগ দেবো। শিক্ষা সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীও মনে করেন, ভর্তির হার বৃদ্ধি ও ঝরে পড়ার হার কমে যাওয়ায় ধারাবাহিকভাবে ভাল ফল হচ্ছে। এবারের সার্বিক ফলে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আমিরুল আলম খান বলেন, এবার ফল ভাল করার পেছনে কারণ হলো গ্রাম ও শহরের মধ্যে একটা ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। গ্রামের স্কুলগুলো অন্যান্য বছরের চেয়ে ভাল করেছে। শিক্ষার্থীদের সংখ্যার পাশাপাশি তাদের গুণগতমান বৃদ্ধি পেয়েছে। মেয়েদের সংখ্যা বাড়ছে।

Wednesday, December 26, 2012

দীপিকার দখলে ২০১৩

দীপিকার দখলে ২০১৩


বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের একটি মাত্র ছবি মুক্তি পেয়েছে এ বছর। আর তাতেই সন্তুষ্ট দীপিকা। সম্প্রতি এক সাক্ষাত্কারে দীপিকা পাড়ুকোন বলেন, 'এ বছর অন্যদের মতো একাধিক ছবি মুক্তি না পেলেও 'ককটেল'-এর মতো একটি ছবি অবশ্যই যথেষ্ট। তবে ভালো লাগত যদি আমি 'রকস্টার'-এর সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারতাম। 'ককটেল' ছবিটি একাধিক পুরস্কার পেয়েছে, সবদিক থেকেই প্রশংসনীয়। এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশের কোনো কারণ নেই। আর আমি তো নতুন অনেকগুলো ছবিতে কাজ করছি। যেমন দীর্ঘদিন ধরে সুপারস্টার রজনীকান্তের সঙ্গে কাজ করছি। ছোটবেলা থেকেই রজনীকান্তকে খুব পছন্দ করতাম। সেই স্বপ্নপুরুষের সঙ্গে আজ আমি অভিনয় করছি। আমি বলব, আসছে বছরে ছবিটি দারুণ ব্যবসা করবে। আমি এ জীবনে রজনীকান্তের মতো কাজের প্রতি আন্তরিক ও মনোযোগী মানুষ আর দেখিনি। তার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অনেক কিছু শিখেছি।' উল্লেখ্য, রজনীকান্তের সঙ্গে দীপিকা পাড়ুকোন 'কচারাইয়ান' ছবিতে অভিনয় করেছেন। এখন ছবিটির পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ চলছে। আসছে বছরের এপ্রিলে ছবিটি মুক্তি পাবে। এটি পরিচালনা করেছেন রজনীকান্তের মেয়ে সৌন্দরিয়া। দীপিকা আরও বলেন, 'শাহরুখের মতো কিং খানের সঙ্গে আমি আবারও কাজের সুযোগ পেয়েছি। শাহরুখের সঙ্গে 'চেন্নাই এক্সপ্রেস'-এর মতো রোমান্টিক ছবিতে কাজ করার সুযোগ হয়েছে আমার। আবার আসছে জানুয়ারিতে 'রেস'-এর সিক্যুয়াল 'রেস ২' মুক্তি পাচ্ছে। সব মিলিয়ে আমি বলব আমার হাতে এখন যেসব চলচ্চিত্র আছে তার সবক'টিই সুপারহিট ফিল্ম হবে, তা আগে থেকেই বলা যায়।'

পাকিস্তানের নাটকীয় জয়

পাকিস্তানের নাটকীয় জয়


শুরুর ভালতে কিছুই যায় আসে না। শেষ ভাল যার সব ভাল তার। ৭৭ রানে প্রথম উইকেট হারানো ভারত হার মানলো ১২ রানে তিন উইকেট হারানো পাকিস্তানের কাছে। গতকাল ব্যাঙ্গালুরুতে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৫ উইকেটের জয় ছিনিয়ে নিয়েছে পাকিস্তান। দুই বল বাকি থাকতে ছক্কা হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন ভারতের জামাতা (টেনিস তারকা সানিয়া মির্জার স্বামী) শোয়েব মালিক। বর্তমান ও সাবেক দুই অধিনায়কের অসাধারণ দৃঢ়তায় স্তব্ধ হয়ে গেল শত কোটি ভারতীয়’র উল্লাস। ১৩৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে মাত্র ১২ রানে ৩ উইকেট হারায় পাকিস্তান। পাকিস্তান শিবিরে তখন পিনপতন নীরবতা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের খেলা একপেশে হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু ক্রিজে মি. প্রফেসরখ্যাত মোহাম্মদ হাফিজ সঙ্গে শোয়েব মালিক। উইকেটে টিকে থেকে ধীরে ধীরে তারা রান বাড়ানোর চেষ্টা করেন। ১০ ওভারে তাদের সংগ্রহ মাত্র ৪৫। এর পরের ৫ ওভারে তারা ৫৪ রান তুলে খেলা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। যুবরাজের দুই ওভারে দুটি এবং রবিন্দ্র জাদেজার এক ওভারে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে রান আর বলের ব্যবধান নাগালের মধ্যে নিয়ে আসেন তারা। হাফিজ ৪৪ বলে ৬১ রানে আউট হন। ৬টি চার ও দুইটি ছক্কা হাঁকান তিনি। তার আউট হওয়ার পরই খেলায় খানিকটা ফেরে ভারত। ১৮ বলে যেখানে ১৬ রানের দরকার ছিল সেখানে শেষ ওভারে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১০ রান। ইশান্ত শর্মা ১৮তম ওভারে ২ রান ও ডিন্ডা ১৯তম ওভারে চার রান দিয়ে চাপে ফেলে দেয় পাকিস্তানকে। স্পিনার রবিন্দ্র জাদেজা শেষ ওভার করতে এসে প্রথম তিন বলে দেন মাত্র চার রান। রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষায় তখন উপমহাদেশের শত কোটি ক্রিকেট প্রেমী। কিন্তু অনেক দিন পর যেন আস্থার প্রতিদান দিতে তৈরি ছিলেন শোয়েব। শ্বশুর বাড়ির লোকদের মান রাখতেই যেন ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। চতুর্থ বলটি উড়িয়ে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে পাকিস্তানিদের আনন্দে ভাসালেন আর কাঁদালেন তারও ঢের বেশি ভারতীয়কে। ৫০ বলে ৫৭ রান করে অপরাজিত থাকেন শোয়েব। ৩টি চার ৩টি ছক্কা ছিল তার ইনিংসে। এটি ছিল শোয়েবের ৫১তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। আর ৫৭ রানই তার সর্বোচ্চ স্কোর। ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান তিনি।
অভিষিক্ত পেসার ভুবনেশ্বর কুমার মিডল স্টাম্প ভেঙে দিয়ে সাজঘরের পথ দেখান পাক ওপেনার নাসির জামশেদকে। এরপর এই অভিষেক হওয়া বোলার আহমেদ শাহজাদ ও উমর আকমলের উইকেটও নেন। ২ ওভারে ৩ রানে নেন ৩ উইকেট। ৫ বছর পর দু’দেশের মধ্যে এই প্রথম দ্বিপক্ষীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভারতের অভিষেক হওয়া বোলার ভুবনেশ্বর কুমার পাকিস্তানের প্রথম তিন উইকেটের পতন ঘটান। দু’জনকে বোল্ড করেন তিনি।
ব্যাঙ্গালুরে এর আগে টস হেরে ওপেনিং জুটিতে ৭৭ রান সত্ত্বেও পাকিস্তানের সামনে তেমন বড় টার্গেট দিতে পারেনি ভারত। বাকিদের ব্যর্থতায় তিন উইকেটে ১০৮ থেকে ভারত ইনিংস শেষ হয় ১৩৩ রানে। এ সময় ২৫ রান তুলতেই ভারতের উইকেট যায় পুরো হাফ ডজন। ওপেনার গম্ভীরের সংগ্রহ সর্বোচ্চ ৪৩ রান। ওপেনার আজিঙ্কা রাহানে করেন ৪২ রান। উমর গুল ৩ ও আজমল পান দুই উইকেট। আফ্রিদি ও অভিষিক্ত পেসার মোহাম্মদ ইরফান পান একটি করে উইকেট। ৩০ বছর বয়সী ইরফান ৭ ফুট এক ইঞ্চি লম্বা। দুইজন ব্যাটসম্যান রান আউট হন।

রক্তাক্ত বিশ্বজিৎকে রড দিয়ে পিটিয়েছি

রক্তাক্ত বিশ্বজিৎকে রড দিয়ে পিটিয়েছি


দলীয় নেতাদের মন যোগাতেই হাতে রড তুলে নিয়েছিলাম। আঘাত করেছিলাম রক্তাক্ত বিশ্বজিতের শরীরে। যাতে কোনভাবেই চাকরিটা মিস না হয়ে যায়। গতকাল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য দিয়েছে বিশ্বজিতের ওপর হামলাকারী হিসেবে শনাক্ত হওয়া আসামি এমদাদুল হক (২৬)। এর আগে গত সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার টিম (দক্ষিণ) এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের টিম ইনচার্জ মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম চাঁপাই নবাবগঞ্জের সদর উপজেলার আরামবাগ এলাকার স্বপ্নপুরী রেস্টহাউজ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে গতকাল দুপুরে মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে তারা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। গোয়েন্দা দলের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমদাদ জানায়, সে দরিদ্র পরিবারের ছেলে। তার বাবা আকবর আলী মারা গেছেন। মা বেঁচে আছেন। দুই ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে সে ষষ্ঠ। ছেলে হিসেবে পরিবারের বড় সন্তান। বাড়ি যশোর জেলার শার্শা থানার পাঁচকাইবা গ্রামে। ২০১০-২০১১ শিক্ষাবর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করে। দীর্ঘদিন বেকার থাকার পরও ভাল কোন চাকরি পাচ্ছিল না। এজন্য একটি চাকরির জন্য দীর্ঘদিন ধরে নেতাদের পিছে পিছে ঘুরছিল। এরই মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকশন অফিসার পদে দরখাস্ত করেছে। ওই পদের চাকরিটা যাতে কোনভাবেই মিস হয়ে না যায়- এজন্য নেতাদের মন যুগিয়ে চলার চেষ্টা করেছে। যখন যে কাজ করতে বলেছে, তা-ই করেছে। বড় ভাইদের ফুট-ফরমাশ খেটেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৯ই ডিসেম্বরের মিছিলে অংশ নিয়েছে। এক পর্যায়ে রড হাতে বিশ্বজিৎকে ধাওয়া করেছে। এমদাদ আরও জানায়, ঘটনাস্থলে দোতলায় উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত ও চাপাতির কোপে বিশ্বজিতের শরীর যখন রক্তাক্ত, তখন আমি ছিলাম রড হাতে নিচে দাঁড়িয়ে। আশপাশে অনেক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের নজর কাড়তেই দৌড়ে পলায়নরত বিশ্বজিতের শরীরে রড দিয়ে ২-৩টা আঘাত করি। এ সময় বিশ্বজিৎ বারবার বলছিল, আমি কোন দোষ করি নাই। কিছুই করি নাই। আমারে মাফ কইরা দ্যান। কিন্তু বড় ভাইরা সামনে থাকায় বিনা আঘাতে ছেড়ে দিতে সাহস পাই নাই। সূত্র জানায়, বিশ্বজিতের মৃত্যুর খবর শুনে এমদাদ রাজধানীর বাইরে পালিয়ে যায়। পালানোর আগে বিভিন্ন নেতার কাছে আশ্রয়ের জন্য ফোন করেছিল। কিন্তু কোন সহযোগিতা না পেয়ে নিরাশ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে দেশ ছেড়ে পালানোর পরিকল্পনা করে। পরে জবি ছাত্রলীগের এক নেতার পরামর্শে ঘনিষ্ঠ আরেক নেতার তত্ত্বাবধানে চাঁপাই নবাবগঞ্জের স্বপ্নপুরী রেস্ট হাউজে ওঠে। সেখান থেকে গোদাগাড়ী সীমান্তপথ দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছিল। কিন্তু তার আগেই গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। জিজ্ঞাসাবাদে এমদাদ জানায়, স্বপ্নপুরী রেস্টহাউজের রুম ভাড়া নিয়েছিল বস্ত্র ব্যবসায়ী পরিচয়ে। তবে রেস্ট হাউজের রেজিস্টার বুকে তার নাম ছিল না। রেস্ট হাউজ কর্র্তৃপক্ষকে বলেছিল, শীতের গরম কাপড় সংগ্রহের জন্য সে এসেছে। কাপড়ের চালান আসার পর ফিরে যাবে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ছদ্ম পরিচয়ে এমদাদ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
৭ দিনের রিমান্ডে: গ্রেপ্তারের পরপরই এমদাদুল হককে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এর আগে গতকাল দুপুরে মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তিনি। মহানগর হাকিম তানভীর আহমেদ সাত দিন মঞ্জুর করেন।
২১ জন শনাক্ত: গতকাল দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ২০-২১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। পত্রপত্রিকা ও ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ৭ জনকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সর্বশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এমদাদুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিশ্বজিৎ হত্যার কথা সে স্বীকার করেছে। রফিকুল ইসলাম ওরফে শাকিল, জিএম রাশেদুজ্জামান ওরফে শাওন ও মাহফুজুর রহমান ওরফে নাহিদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মনিরুল ইসলাম জানায়, এ মামলায় ফারুক হোসেন, কাজী নাহিদুজ্জামান তুহিন, মোসলেহ উদ্দিন ও মামুনুর রশীদকে গ্রেপ্তার দেখানো (শ্যোন অ্যারেস্ট) হয়েছে। তদন্তে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। যেহেতু সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, তাই এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলা সমীচীন হবে না। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতজন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। সাতজনের মধ্যে পাঁচজনকে বহিষ্কার এবং দু’জনের সনদ বাতিল করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যে দু’জনের সনদ বাতিল করা হয়েছে, তাদের একজন এমদাদুল। এ ছাড়া গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে ছাত্রলীগের কর্মী নয় এমন চারজন এখন কারাগারে। ঘটনার দু’দিন পর এক ব্যক্তির জামিনের ব্যাপারে আদালতে গেলে পুলিশ ‘সন্দেহজনক ঘোরাঘুরি’র অভিযোগে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
স্বপ্নগুলো ওলটপালট হয়ে গেল: গ্রেপ্তারকৃত শাকিল, শাওন, কিবরিয়া, টিপু, সাইফুল ও এমদাদ গোয়েন্দাদের কাছে আক্ষেপ করে বলেছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছাত্রলীগের বড় ভাই, দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা, হাসপাতালের চিকিৎসক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বোকামির কারণেই আমাদের স্বপ্নগুলো ওলটপালট হয়ে গেল। আমরা না হয় ভুল করেই ফেলেছি- তাই বলে হত্যার উদ্দেশ্যে মারিনি। মনে করেছি, হাসপাতালে নেয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠবে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পর এক রিকশাচালক হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকরা ঠিকমতো চিকিৎসা দেয়নি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে সঠিক চিকিৎসায় হয়তো সে সুস্থ হয়ে উঠতো। অন্তত বেঁচে থাকলে আমাদের এমন দশা হতো না।

Tuesday, December 25, 2012

এনএফসি স্মার্টফোনের মাধ্যমে আনলক হবে গাড়ি

এনএফসি স্মার্টফোনের মাধ্যমে আনলক হবে গাড়ি


অনেকেই চাবি হারানোতে প্রায় বিশেষজ্ঞের পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন। ঘরে চাবি থেকে শুরু করে শুরু করে সব ধরনের চাবিই হারিয়ে বসতে পারেন তারা। তবে কেবল তারাই নয়, অসতর্কতার কারণে যে কেউই তার চাবিটি হারিয়ে ফেলতে পারেন। তেমনি গাড়ির চাবি যদি হারিয়ে যায়, তাহলে কী করবেন? অসম্ভব কিছু নয় গাড়ির চাবি হারিয়ে ফেলা। তবে একবার হারিয়ে ফেললে মুশকিলে পড়তে হবে বটে। তবে যারা স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন এবং যাদের স্মার্টফোনে রয়েছে এনএফসি প্রযুক্তি, তাদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে দক্ষিণ কোরিয়ার একদল গবেষক। সেখানকার অটোমোবাইল প্রতিষ্ঠান হিউন্দাইয়ের প্রকৌশলীরা এমন একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যার মাধ্যমে আপনার এনএফসি সমর্থিত স্মার্টফোনটির মাধ্যমে আনলক করা যাবে গাড়ি। ফলে গাড়ির চাবি হারিয়ে ফেললেও আপনার স্মার্টফোনটিই এর চাবি হিসেবে ব্যবহূত করতে পারবেন। আগামী দুই বছরের মধ্যেই এই প্রযুক্তি গ্রাহকদের কাছে সহজলভ্য হয়ে যাবে বলেই জানিয়েছেন তারা। এই প্রযুক্তিতে গাড়ির জানালার পাশে কোনো একটি স্থানে অথবা গাড়ির লকের কাছে একটি বিশেষ ট্যাগ স্থাপন করা হবে। এনএফসি সমর্থিত স্মার্টফোনকে সেই ট্যাগের আশেপাশে প্রদর্শন করলেই এটি গাড়িকে আনলক করে দিবে। তবে গাড়ির সাথে স্মার্টফোনের সম্পর্ক এখানেই শেষ নয়। গাড়ির ভেতরে থাকবে একটি বিশেষ প্যাড। এই বিশেষ প্যাডের উপর স্মার্টফোনকে স্থাপন করলে স্মার্টফোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চার্জ হতে থাকবে। একইসাথে স্মার্টফোনের তথ্যগুলো গাড়ির ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম এবং টাচস্ক্রিনের সাথে সিনক্রোনাইজ হতে থাকবে। শুধু তাই নয়, এই গাড়িতে থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা যার মাধ্যমে গাড়ির বিভিন্ন ড্রাইভার তার পছন্দের সেটিংগুলো সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন। সম্প্রতি জার্মানিতে এক প্রদর্শনীতে হিউন্দাই তাদের এই নতুন প্রযুক্তির ধারণা প্রদর্শন করে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সুলভে এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতেই হিউন্দাই কাজ করছে বলে জানিয়েছে হিউন্দাই কর্তৃপক্ষ। এ প্রসঙ্গে হিউন্দাইয়ের ইউরোপ অঞ্চলের চিফ অপারেটিং অফিসার অ্যালান রাশফোর্থ জানিয়েছেন, 'সময়ের জনপ্রিয় সব স্মার্টফোনে যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, নিত্যদিনের গাড়ির ড্রাইভিংয়ে সেসব সুবিধা যুক্ত করতেই হিউন্দাই কাজ করে যাচ্ছে। এটি সব ধরনের গ্রাহকদের জন্য কাজ করবে।'

খুন, টেন্ডারবাজি, গোলাগুলিতে অচল ছিল শিক্ষাঙ্গন

খুন, টেন্ডারবাজি, গোলাগুলিতে অচল ছিল শিক্ষাঙ্গন


২০১২ বিদায় নিতে চলেছে। বিদায়ী বছরে দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘটেছে নানা অঘটন। চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে হয়েছে রক্তারক্তি। নিজ দলীয় ক্যাডারদের হাতে প্রাণ দিতে হয়েছে কয়েকজন ছাত্রকে। টেন্ডারের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে হয়েছে হুলস্থূল কাণ্ড। ছাত্রকে অবৈধভাবে নম্বর দেয়ার প্রতিবাদে দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান বুয়েট দীর্ঘদিন ছিল অচল। বিদায়ী বছরে খুন, সমকামিতা, সংঘর্ষ, গোলাগুলি, চাপাতি ছিল শিক্ষাঙ্গনের আলোচিত ঘটনা। ২০১২ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শিক্ষাঙ্গন ছিল নানা কারণেই আলোচিত। দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান বুয়েটের ৩ ছাত্রলীগ কর্মীকে বহিষ্কারের দাবিতে ২০১১ সালের ৩১শে ডিসেম্বর মাঠে নামেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অবরুদ্ধ করেন প্রো-ভিসি অধ্যাপক হাবিবুর রহমানকে। প্রো-ভিসিসহ ৫০ জন শিক্ষককে ১৭ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ১৭ ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীদের দাবি মানা হলে তারা অবরোধ তুলে নেন। যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষের কারণে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় ২রা জানুয়ারি। একই দিনে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি হয়। এক ছাত্রকে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠে বুয়েট। ৯ই ডিসেম্বর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ প্রতিহত করতে গিয়ে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা বিশ্বজিৎ দাস নামের এক দর্জি দোকানদারকে দিবালোকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনাটি যেমন বিদায়ী বছরের অন্যতম আলোচিত বিষয় তেমনি অসংখ্য ছোটখাটো ঘটনা ঘটেছে বিদায়ী বছরে। তারমধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সারসংক্ষেপ দেয়া হলো।
‘এই গুলি চালা’: সরকার দলীয় একজন এমপি কর্তৃক সাংবাদিকদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়ার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয় দেশব্যাপী। ৩রা জানুয়ারি রাজধানীর মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভর্তি বাণিজ্যের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতি এমপি কামাল আহমেদ মজুমদারের তোপের মুখে পড়েন বেসরকারি টেলিভিশন আরটিভির সাংবাদিক অপর্ণা সাহা ও ক্যামেরাম্যান সাইদ হায়দার। এমপি দলীয় ক্যাডারদের সাংবাদিকদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদে মাঠে নামেন অভিভাবকরা।
জোবায়ের খুন ও ভিসির পদত্যাগ: ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের গোলাগুলি ও সংঘর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জোবায়ের আহমেদ খুন হন ৯ই জানুয়ারি। ওই ঘটনার প্রতিবাদে ফেটে পড়েন ছাত্র-শিক্ষকরা। টানা কয়েক মাস আন্দোলনের পর ১৭ই মে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির পদত্যাগে বাধ্য হন। পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে জাবির ভিসি নিয়োগ দেয়া হয়।
ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষ: বিদায়ী বছরে বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষ হয়েছে ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে। ১১ই জানুয়ারি সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়।
প্রকাশ্যে চাপাতি নিয়ে জবিতে মিছিল: চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪শে জানুয়ারি ছাত্রলীগের নেতারা প্রকাশ্যে চাপাতি, রাম দা নিয়ে মিছিল ও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে বেশ কয়েকজন ছাত্র মারাত্মকভাবে আহত হন।
কারমাইকেলের সংঘর্ষ: বিদায়ী বছরে সরকারি কলেজগুলোতে যে কয়টি সংঘর্ষ হয়েছে তারমধ্যে রংপুরের সরকারি কারমাইকেল কলেজ ছিল অন্যতম। নিয়োগ বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়।
চবির ২ ছাত্র নিহত: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্র শিবিরের ক্যাডাররা নিয়ন্ত্রণ করছে। দখল নিতে ছাত্রলীগ-শিবিরের মধ্যে বিভিন্ন সময় সংঘর্ষ হলেও ৮ই ফেব্রুয়ারির সংঘর্ষ ছিল বিদায় বছরের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ। ওই সংঘর্ষে শিবির নেতা মাসুদ বিন হাবিব ও মুজাহিদুল ইসলাম প্রাণ হারান। এছাড়া দুই পক্ষের কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চবি বন্ধ ঘোষণা করা হয় অনির্দিষ্টকালের জন্য।
সমকামিতার অভিযোগে রাবি উত্তাল: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্নুজান হলের ২ ছাত্রী তাদেরই এক সহপাঠীর বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ করে প্রভোস্টের কাছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই ছাত্রীর আবাসিকতা বাতিল করেন প্রভোস্ট। কিন্তু ১৮ই ফেব্রুয়ারি রাতে ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানান সাধারণ ছাত্রীরা। তারা প্রভোস্ট ও প্রক্টরকে অবরুদ্ধ করে রেখে ভাঙচুর ও বিক্ষোভ চালান। শেষ পর্যন্ত পিছু হটে কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিক স্কুলে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস: সরকারি প্রাথমিক স্কুলে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা হয় ২৪শে ফেব্রুয়ারি। কিন্তু এর আগেই প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যায়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ২৮ জনকে আটক করে।
বুয়েটে গণপদত্যাগ: ভিসি ও প্রো-ভিসির অপসারণের দাবিতে বুয়েটের ডিন, প্রভোস্ট ও পরিচালকদের পদত্যাগের ঘটনা ছিল অন্যতম আলোচিত বিষয়। একদিনে ২৩ জন পদত্যাগ করেন। শেষ পর্যন্ত সরকার প্রো-ভিসি অধ্যাপক হাবিবুর রহমানকে সরিয়ে দেয়।
পদ্মা সেতুর টাকা ভাগাভাগিতে রাবি ছাত্র খুন: পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংক সরে যাওয়ার ঘোষণার পর সরকার নিজস্ব উদ্যোগে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেয়। সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদা সংগ্রহ শুরু হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নিজ উদ্যোগে চাঁদা সংগ্রহ শুরু করে। সেই চাঁদার টাকা ভাগাভাগি করার ঘটনায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র আবদুল্লাহিল সোহেল নির্মমভাবে প্রাণ হারান।
মেডিকেলে ভর্তিচ্ছুরা রাজপথে: ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার জিপিএ’র ভিত্তিতে মেডিকেলে শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ওই ঘটনার প্রতিবাদে ১৩ই আগস্ট রাজপথে নামেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। টানা কয়েকদিন আন্দোলন চলে। হাইকোর্টে রিট হয়। শেষ পর্যন্ত সরকার পিছু হটে। বহাল থাকে পরীক্ষা।
বাস চাপায় ঢাবি ছাত্র নিহত: ২৮শে আগস্ট বাস চাপায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তৌহিদুজ্জামান প্রাণ হারায়। ওই ঘটনার প্রতিবাদে রাজপথে নেমে আসেন সাধারণ ছাত্ররা। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ। দোকানপাটে চলে লুটপাট।
বিশ্বজিৎ হত্যা: বিদায়ী বছরে পুরান ঢাকার দর্জি দোকানদার বিশ্বজিৎ হত্যা ছিল অন্যতম আলোচিত বিষয়। বিশ্বজিৎকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা। এ ঘটনার প্রতিবাদের ঝড় ওঠে দেশজুড়ে। পুলিশ ইতিমধ্যেই কয়েকজন খুনিকে গ্রেপ্তার করেছে। ৯ই ডিসেম্বর ১৮ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধ কর্মসূচির সমর্থনে সকাল নয়টার দিকে ঢাকার জজকোর্ট এলাকা থেকে বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থিত আইনজীবীরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি ভিক্টোরিয়া পার্কের কাছে গেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আইনজীবীদের ধাওয়া দেন। এ সময় ভিক্টোরিয়া পার্ক-সংলগ্ন একটি তেলের পাম্পের কাছে তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। তখন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পাম্পের দিকে ধাওয়া দিয়ে যেতে থাকলে আতঙ্কে পথচারী বিশ্বজিৎ দৌড়ে সেখানকার ‘ইনটেনসিভ ডেন্টাল কেয়ার’ সেন্টারে আশ্রয় নেন। সেখানে ছাত্রলীগ ক্যাডার শাকিল ওরফে কোপা শাকিলসহ কয়েকজন চাপাতি দিয়ে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে। গুরুত্বর আহত হয়ে পালাতে দৌড়ে দেন বিশ্বজিৎ। দৌড়ে শাঁখারীবাজারের তার দোকানের সামনের গলিতে লুটিয়ে পড়েন। রিকশাচালক রিপন মোল্লা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বিশ্বজিৎকে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যান। ততক্ষণে বিশ্বজিৎ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

আজ শুভ বড়দিন

আজ শুভ বড়দিন


আজ ২৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার খ্রিস্টানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উত্সব বড়দিন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও খ্রিস্টানরা বড়দিন পালনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে। আর্চবিশপের প্রধান গীর্জা কাকরাইল ক্যাথেড্রিল চার্চে গতকাল রাত সাড়ে ৮টায় খ্রিস্টজজ্ঞ বা উপাসনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুভ বড়দিন পালন শুরু হয়েছে।

রাজধানীসহ সারাদেশের প্রতিটি গীর্জার জন্য পুলিশ বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে রাজধানীর কাকরাইল ক্যাথেড্রিল চার্চে প্রবেশপথ ও সামনে গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষিত সোয়াত স্কোয়াড গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে টহল দেয়া শুরু করেছে। আজ বড়দিনের উত্সব শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। বড়দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টি-জেপি'র চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বাণী দিয়েছেন। এদিকে বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জানান, আজ বিকালে বড়দিন উপলক্ষে বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিতব্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। এজন্য বঙ্গভবন কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করেছেন। জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো

বড়দিনের তাত্পর্য বিশ্লেষণ করে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। বিটিভি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে।

অনেক খ্রিস্টান মনে করেন, যীশুর জন্ম আদি বাইবেলের ত্রাণকর্তা সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণীগুলোকে পূর্ণতা দেয়। গীর্জা ছাড়াও খ্রিস্টান সমপ্রদায়ের প্রত্যেকের বাড়িতে সাধ্যমত সাজসজ্জা করা হয়। বিশেষ করে প্রতিটি গীর্জার ভিতর ও বাইরে সাজানো শুরু হয়েছে ২০ ডিসেম্বরের পর থেকে। গতকাল দুপুরের আগেই সাজসজ্জার কাজ শেষ হয়। পাঁচ তারকা হোটেলে খ্রিস্টমাস ট্রি সাজানো হয়েছে। উপহার প্রদানের রীতিসহ বড়দিন উত্সবের নানা অনুষঙ্গ খ্রিস্টান এবং অখ্রিস্টানদের অর্থনীতিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

বড়দিন উপলক্ষে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কেনাবেচার একটি বিশেষ মওসুম চলে। গত কয়েক শতাব্দীতে বিশ্বে বিভিন্ন অঞ্চলে বড়দিনের অর্থনৈতিক প্রভাব ধীরে ধীরে প্রসারিত হতে দেখা গেছে। ভারত ও বাংলাদেশে বড়দিন রাষ্ট্রীয় ছুটির দিন হিসাবে পালিত হয়। অপরদিকে চীন (হংকং ও ম্যাকাও বাদে), জাপান, সৌদি আরব, আলজিরিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, ইরান, তুরস্ক ও উত্তর কোরিয়ার মতো কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দেশে বড়দিন উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকে না।

রাষ্ট্রপতি : রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান বড়দিনের এক বাণীতে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীসহ দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মানবজাতিকে কল্যাণ ও সত্যের পথে পরিচালিত করতে যুগে যুগে যেসব মহামানব পৃথিবীতে এসেছেন তাদের মধ্যে যীশু খ্রিস্ট অন্যতম। তিনি মানুষকে সত্য, ন্যায় ও সমপ্রীতির পথে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্য লাভের পথ দেখিয়েছেন। আবহমানকাল থেকে এদেশের মানুষ পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সমপ্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। এদেশের খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বিগণ শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে যে ভূমিকা রাখছে তা প্রশংসনীয়। আসুন সুখী-সমৃদ্ধ এবং অসামপ্রদাািয়ক দেশ গঠনে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে অব্যাহত প্রয়াস ও চেষ্টা চালিয়ে যাই।

প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীসহ দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বড়দিন খ্রিস্টান সমপ্রদায়সহ সবার জন্য আনন্দময় ও উত্সবমুখর হয়ে উঠুক-এই কামনা করি। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের সহায় হোন। খ্রিস্টান ধর্মের প্রবর্তক যীশুখ্রিস্ট এদিনে বেথেলহেমে জন্মগ্রহণ করেন। শোষণমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য পৃথিবীতে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই ছিল যীশুখ্রিস্টের অন্যতম ব্রত। তার জীবনাচরণ ও দৃঢ় চারিত্রিক গুণাবলীর জন্য মানব ইতিহাসে তিনি অমর হয়ে আছেন। প্রধানমন্ত্রী বাণীতে আরো বলেন, বাংলাদেশ সামপ্রদায়িক সমপ্রীতির দেশ। এখানে রয়েছে সকল ধর্ম ও সমপ্রদায়ের মানুষের নিজস্ব ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা। আমি আশা করি বড়দিন দেশের খ্রিস্টান ও অন্যান্য সমপ্রদায়ের মধ্যকার বিরাজমান সৌহার্দ্য ও সমপ্রীতিকে আরও সুদৃঢ় করবে। আনন্দময় ও উত্সবমুখর বড়দিনে আমি খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী জনসাধারণের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করছি।

বিরোধীদলীয় নেতা : বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বাণীতে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সকল ধর্মের মর্মবাণী শান্তি ও মানবকল্যাণ। যুগে যুগে মহামানবগণ মানুষের সত্ পথে চলার দিশারী হয়েছিলেন। মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন ন্যায় ও কল্যাণের পথে চলতে। বড়দিন একটি সার্বজনীন ধর্মীয় উত্সব। আর প্রতিটি ধর্মীয় উত্সবের অন্তর্লোক হচ্ছে সমপ্রীতি, সহাবস্থান ও শুভেচ্ছা। আমি বড়দিনের সকল কর্মসূচির সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করি।

জাতীয় পার্টি-জেপি : জাতীয় পার্টি-জেপি'র চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম শুভ বড়দিন উপলক্ষে বাংলাদেশ ও সারা বিশ্বের খ্রিস্টান সমপ্রদায়ের সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, বড়দিন খ্রিস্টান সমপ্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উত্সব এবং সারা বিশ্বের জনগণের শান্তি, সৌহার্দ্য এবং সমৃদ্ধি কামনার একটি দিন। এইদিনে আমরা আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করার শপথ গ্রহণ করি। আমরা আশা করি, বড়দিন পালনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সমপ্রীতি বৃদ্ধি পাবে।

বড়দিন সম্পর্কে ওয়েবসাইডে যেসব তথ্য রয়েছে তা হচ্ছে ২৫ ডিসেম্বর দিনটি যীশু খ্রিস্টের জন্মদিন এবং সে উপলক্ষে বড়দিন উত্সব পালিত হয়। আদি যুগের খ্রিস্টানদের বিশ্বাস অনুসারে ২৫ ডিসেম্বরের ঠিক নয় মাস আগে মেরির গর্ভে যীশু প্রবেশ করেন। সম্ভবত এ হিসাব অনুসারেই ২৫ ডিসেম্বর তারিখটিকে যীশুর জন্ম তারিখ ধরা হয়।

গত শতাব্দীর শেষদিক থেকে সবচেয়ে বড়দিনে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে লাল পোশাক পরিহিত পৌরাণিক উপহার প্রদানকারী সান্তাক্লজ। সান্তাক্লজের উত্স একাধিক। সান্তাক্লজ নামটি ডাচ সিন্টারক্লাস নামের অপভ্রংশ, যার সাধারণ অর্থ হচ্ছে সেন্ট নিকোলাস। খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতাব্দীর নিকোলাস ছিলেন অধুনা তুরস্কের মিরার বিশপ। যদিও সান্তাক্লজের আধুনিক রূপকল্পটির সৃষ্টি হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। এই রূপান্তরের নেপথ্যে ছয়জন মুখ্য অবদানকারী ছিলেন। এদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য হলেন ওয়াশিংটন আরভিং এবং জার্মান-আমেরিকান কার্টুনিস্ট টমাস ন্যাস্ট। অনেক দেশেই বড়দিনে বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে উপহার আদান-প্রদান করা হয়। এ প্রথা বাংলাদেশেও দেখা যায়।

সিন্ডিকেটের কবলে পিয়াজ

সিন্ডিকেটের কবলে পিয়াজ


বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠকে ব্যবসায়ীরা জানালেন, সিন্ডিকেটের থাবায় পিয়াজের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। বাজারে পিয়াজের অভাব নেই। তারপরও সিন্ডিকেটের কারণে দাম নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। অবশ্য ব্যবসায়ীরা সচিবকে আশ্বস্ত করেছেন দাম দিনে দিনে কমে যাবে। বাণিজ্য সচিব পিয়াজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং মূল্য যাতে কোনভাবে অস্বাভাবিক পর্যায়ে না ওঠে সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন
। তিনি বলেন, কেউ বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শ্যামবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী নেতা বলেছেন, খুচরা ব্যবসায়ীরাই দ্বিগুণ লাভে বিক্রি করে। সরকারের উচিত তাদের প্রতি আরও কঠোর হওয়া। বর্তমানে আমদানি করা পিয়াজ প্রকৃত মূল্যের চেয়েও দ্বিগুণ দামে বিক্রি করা হচ্ছে খুচরা বাজারে। আমদানি করা পিয়াজের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য কেজি ২৪ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও রাখা হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। বর্তমানে খুচরা প্রতি কেজি পিয়াজের দাম রাখা হচ্ছে দেশী নতুন ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। আর পুরাতন ৭০ থেকে ৮০ টাকা। কাওরান বাজারের একাধিক পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, গত বছর এই সময়ে দেশী নতুন পিয়াজ ১২ থেকে ২০ টাকার মধ্যে ছিল। এ বছর এই পিয়াজের দাম বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তারা বলেন, লেবার খরচ, সার ও ওষুধের দাম বেশি।
পিয়াজের ‘অস্বাভাবিক’ মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বৈঠকের আয়োজন করে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পিয়াজের যৌক্তিক দামের বিষয়টি উপস্থাপন করেন ট্যারিফ কমিশনের নিত্যপণ্য (বাজার মনিটরিং) গবেষণা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। বৈঠকে ব্যবসায়ীদের বক্তব্য অনুযায়ী পিঁয়াজের দাম আস্তে আস্তে কমানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ট্যারিফ কমিশন প্রতিকেজি পিয়াজ আমদানিকৃত ২৪ টাকা নির্ধারণ করার কথা তুলে ধরেছে।

রাজউকের ৫ হাজার কোটি টাকার শতাধিক বাড়ি ও প্লট বেহাত

রাজউকের ৫ হাজার কোটি টাকার শতাধিক বাড়ি ও প্লট বেহাত


রাজধানীতে ৪০ বছরে রাজউকের পাঁচ হাজার কোটি টাকার শতাধিক বাড়ি ও প্লট বেহাত হয়ে গেছে। জালিয়াতির মাধ্যমে রাজউকের আরো ৩৮টি বাড়ি আত্মসাতের চেষ্টা করছে সংঘবদ্ধ সরকারি ভূমি দখলকারী সিন্ডিকেট। চক্রটি অতিসমপ্রতি শত কোটি টাকা মূল্যের ধানমন্ডি ১ নম্বর সড়কের ১৩৯/১(এ) নম্বরের একটি সরকারি বাড়ি হাতিয়ে নিয়েছে। রাজউক এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এসব বাড়ি রক্ষায় তেমন কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজউক ও মন্ত্রণালয়ের এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা বরং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরকারি বাড়ি দখলকারীদের নানাভাবে সহায়তা করছে । কিন্তু রাজউক ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, প্রতিটি বাড়ি রক্ষায় কর্তৃপক্ষ আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ভূমি জালিয়াত চক্র ভুয়া দলিলপত্র বানিয়ে আদালতের শরণাপন্ন নিয়ে আইনি জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নূরুল হুদা ইত্তেফাককে বলেছেন, 'সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে আইনি লড়াই চলছে। ইতিমধ্যে শত কোটি টাকা মূল্যের পাঁচটি সরকারি বাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। বেহাত হওয়া অন্যান্য সরকারি সম্পদ রক্ষার প্রাণপণ চেষ্টা চলছে।'

গুলশান, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল, মহাখালী, দিলকুশা ও উত্তরার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রাজউকের মূল্যবান সম্পত্তি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করে নেয়া হয়েছে। দখলকৃত প্লটে বাড়িঘর করে বসবাসও চলছে। এসব প্লট ও বাড়ির আয়তন দুই বিঘা পর্যন্ত। রাজউক এবং গৃহায়ণ এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন থেকেই এসব তথ্য জানা গেছে। বেহাত হওয়া সরকারি প্লটগুলো উদ্ধারে রাজউকের পক্ষ থেকে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও রাজউকের যৌথ উদ্যোগে উচ্চ পর্যায়ের একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, বেহাত হওয়া প্লটগুলোর অধিকাংশই এককালে পাকিস্তানি নাগরিকদের নামে বরাদ্দ দিয়েছিল তত্কালীন ডিআইটি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা বাংলাদেশ ছেড়ে চলে গেলে প্লটগুলো বেদখল হয়ে যায়। এরকম শতাধিক প্লট ও বাড়ির তালিকা করে রাজউক সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দখলকারীরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় রাজউক তাদের সঙ্গে পেরে উঠছে না। সংঘবদ্ধ ভূমি জালিয়াত চক্র মামলা-মোকদ্দমা ফেঁদে দখল স্থায়ী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজউক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান বাজারে এসব বেহাত হওয়া প্লট ও বাড়ির মূল্য পাঁচ হাজার কোটি টাকারও অধিক।

রাজউকের চলমান উদ্ধার তালিকায় ৩৮টি প্লট ও বাড়ির নাম রয়েছে যার বর্তমান বাজার মূল্য আড়াই হাজার কোটি টাকারও অধিক। গত ৪০ বছরে রাজউকের আরো ১০৮টি বাড়ি ও প্লট হাতছাড়া হয়ে গেছে। সেগুলো উদ্ধারে এক রকম হাল ছেড়েই দিয়েছে রাজউক।

রাজউকের একাধিক সূত্র জানায়, বরাদ্দপ্রাপ্তরা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর একেকটি প্লটের মালিকানা দাবি করে একই নামের একাধিক ব্যক্তি রাজউকের শরণাপন্ন হয়। জাল দলিলপত্র তৈরি করে তারা মালিকানা দাবি করছেন। অনেকে আদালতের একতরফা রায় কিংবা ভুয়া রায়ের কপি দেখিয়েও সরকারি প্লট আত্মসাত্ করেছে। কিন্তু রাজউক তাদের নামে প্লট ও বাড়িগুলোর নামজারি করেনি। এক পর্যায়ে পেশি শক্তির মাধ্যমে প্রভাবশালীরা দখল নিশ্চিত করে। রাজউকের কিছু সংখ্যক অসাধু কর্মকর্তাকে হাত করে রাখায় দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।

রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নূরুল হুদা ইত্তেফাককে বলেন, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। সে মোতাবেক রাজউক সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, গুলশান, বনানী ও বারিধারায় এ ধরনের বেশ কিছু প্লট ও বাড়ি রাজউকের রয়েছে। কিন্তু সেগুলো সম্পূর্ণ রাজউকের দখলে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। আইনি জটিলতার কারণে এসব প্লট ও বাড়ি নিলামে বিক্রি করে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য আপাতত রাজউকের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বাড়িগুলো নিয়ে এমন কিছু না করার জন্য যাতে করে দখলদাররা সুবিধা পায়। তবে বাড়িগুলো উদ্ধারে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। যেকোন মূল্যে সরকারের এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রক্ষা করা হবে।

রাজউক চেয়ারম্যান আরো বলেন, একই নামের একাধিক ব্যক্তি এসে একটি প্লটের মালিকানা দাবি করেন। অথচ আমরা বুঝতে পারি, তাদের কেউই ওই প্লটের মালিক নন। এ ধরনের কিছু প্লট বেহাতও হয়ে গেছে। সেগুলো এখন আর উদ্ধার করা হয়তো সম্ভব নয়। অবশিষ্ট প্লটগুলো কিভাবে রক্ষা করা যায়, সে চেষ্টাই করছে রাজউক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজউকের এক কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এ ধরনের ১৮টি প্লট ও বাড়ি পানির দামে রাজউক বিক্রি করে দেয়। এ ঘটনায় মামলা হলে রাজউকের তত্কালীন চেয়ারম্যান শহিদ আলমসহ ডজনখানেক কর্মকর্তা জেলে যান। এরপরও রাজউকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী জাল দলিলকারীদের সহযোগিতা করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। সরকারের উচ্চ মহল থেকেও এ ব্যাপারে তদবির আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গুলশানের ১৪ নম্বর রোডের ৪ নম্বর বাড়িটি প্রায় দুই বিঘা আয়তনের। এ প্লটের পশ্চিম অংশে রয়েছে একটি তিনতলা আবাসিক ভবন। সামনে এক বিঘার মতো জায়গা ফাঁকা। সেখানে শিশুদের জন্য পার্কের আঙ্গিকে খেলার উপকরণ। আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বাহারি ফুল ও ফলের গাছ। বাড়ির চারপাশে উঁচু সীমানা প্রাচীর। তত্কালীন ডিআইটি এ প্লটটি ফাতেমা জোহরাকে বরাদ্দ দিয়েছিল। রাজউকের নথিতেও জাল দলিল করে দখলদার হিসেবে ফাতেমা জোহরার নামটি আছে। তবে বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী আকরাম জানান, বাড়িটি রংপুর এলাকার জাতীয় পার্টির নেতা করিম উদ্দিন ভরসার। তার পরিবার-পরিজন দীর্ঘদিন ধরে এখানেই বাস করছেন।

গুলশানের ১০৯ নম্বর রোডের ৪ নম্বর বাড়িটি প্রায় দুই বিঘার প্লটে ছিমছাম একটি ডুপ্লেক্স ভবন। সামনে ফুলের বাগান। ফটকের পাশের দেয়ালে লেখা দারুল ইমাম। রাজউকের নথিতে এ প্লটের আগের বরাদ্দপ্রাপ্ত ও দখলকারী হিসাবে মো. শাহাবুদ্দিনের নাম রয়েছে।

গুলশানের ১১ নম্বর রোডের ৩ নম্বর প্লটের আয়তন অন্তত এক বিঘা। ভেতরে কিছু ঘরবাড়ি। আর বেশকিছু প্রাইভেট কার পরিত্যক্ত পড়ে আছে। ঘরবাড়িতে বসবাস করছেন শাহজাহান বেপারীসহ চার-পাঁচজন। শাহজাহান বেপারী ইত্তেফাককে বলেন, বাড়িটি সরকারি। কিন্তু সরকারের দখলে নেই। অন্য লোকেরা দেখাশোনা করার জন্য তাকে চাকরি ও থাকতে দিয়েছেন। আর গুলশান থানায় গাড়ি রাখার জায়গা নেই বলে আটক করা গাড়িগুলো এখানে রাখা হয়েছে। রাজউকের নথিতে জায়গাটির মালিক ও জাল দলিলকারীর নাম সৈয়দ আহমেদ হাসমী।

বনানীর ব্লক জি-৩, রোড-৭, বাড়ি ৩১-এ গিয়ে দেখা যায়, চারপাশে সীমানা প্রাচীর দেয়া বাড়িটির ফটকের একাংশের সামনে ইয়াকুব নামের এক ব্যক্তি পান-চা-সিগারেটের দোকান বসিয়েছেন। ভেতরে টিনশেড একটি ঘরে মমতাজ মিয়া সপরিবারে বসবাস করেন। আরেক অংশ ভাড়া দেয়া হয়েছে একটি পানীয় কোম্পানির কাছে। তারা সেখানে বোতল রাখার গুদাম বানিয়েছে। ইয়াকুব জানান, বাড়ির মালিক একজন সুফি। তিনি এখানে খানকা শরিফ বানাবেন। তার হয়ে দেখাশোনা করেন মমতাজ মিয়া। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, অনেকদিন আগে মাওলানা শামসুল হকের মাধ্যমে জায়গাটা কেনা হয়েছিল খানকা শরিফ নির্মাণের জন্য। শিগগিরই ওই জায়গায় খানকা শরিফের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। রাজউকের তালিকায় এ জায়গাটির মালিক ও জাল দলিলকারী হিসাবে নাম আছে সাইদ নূরুল গনির।

রাজউকের তালিকা

রাজউকের তৈরি গুলশান-বনানী ও বিভিন্ন এলাকার বিতর্কিত নথির তালিকায় আছে গুলশানের ৯৩ রোডের ১৫/সি প্লটটি। এটি জাল দলিল করে দখল করেছেন এম এম জলিল খান, ৯৬/৯৩ রোডের ১৯ নম্বর প্লট দখল করেছেন মো. ওহীদুল নবী। একইভাবে রোড ১০১/১০৩, প্লট ১৩ নেছার মোহাম্মদ খান, রোড ১০৮, প্লট ১৪ টি এ খান, রোড ১০৮/১১২, প্লট ১ আরিফুল হাসান, রোড ১০৯, প্লট ৪ মো. শাহাবুদ্দিন, রোড ১১৫, প্লট ১০ হারুন নেছা, রোড ১১৬, প্লট ৯ বিলকিস বানু, রোড ১১৭/গ, প্লট ৮০ নীঘাত পারভিন, রোড ৪৯/ক প্লট ১ আসাদুজ্জামান ও শওকত আলী চৌধুরী, রোড ৪৯ প্লট ১ এস এম এ তাকী ও শাহীন কোরাইশী, রোড ৪৭/৪৮, প্লট ২ রৌশন আরা বেগম, রোড ৪১, প্লট ৬ হাবিব সুলতানা জায়েদী, রোড ৪৪, প্লট ৩০/এ মোক্তার আহম্মদ আনসারী, রোড ৪৪/গ, প্লট ৩০/এ হোসনে আরা বেগম, রোড ৪৫/গ, প্লট ১১৩ এস কে রেজা চৌধুরী, রোড গ, প্লট ১০৫ মুস্তারী বেগম, রোড গ, প্লট ৭৯ আবদুল্লাহ ভাই, রোড ১৬/২১, প্লট ৬ শামসুল হক, রোড ৩, প্লট ৭২ মো. কেরামত আলী, রোড ৭১/৭৪, প্লট ৯ ইউসুফ আলী খান, রোড ৮৭, প্লট ৪ নম্বর এম এ ছাত্তার, রোড ৫৯, প্লট ১৯ হাফিজা বেগম, রোড ৫৪, প্লট ১৩ আবদুল মালেক, রোড ৫৩, প্লট ১২ মাহবুব আনাম, রোড ৫০, প্লট ১৯ মোস্তফা হায়দার, রোড গ-১১, প্লট ৩৫ আফসার উদ্দিন, রোড ১১, প্লট ৩ সৈয়দ আহমেদ হাসমী, রোড ১৪, প্লট ৪ নম্বর ফাতেমা জোহরা, রোড ২/১, প্লট ২ রওশন আরা বেগম গং ও রোড ৪৬/৫২, প্লট ২৭ নম্বর মো. নাঈম জাল দলিল করে দখল করেছেন।

বনানীর সি-ব্লকের ৬ নম্বর সড়কের ৬ নম্বর বাড়ি জাল দলিল করে দখল করেছেন মো. নেহাল উদ্দিন। ডি-ব্লকের ১৩ নম্বর রোডের ২৫ নম্বর বাড়ি জাল দলিল করে দখল করেছেন আবসার আলম ওসমানী, ই-ব্লকের ১৭/এ, ১২ নম্বর সড়কের ১২ নম্বর বাড়ি মো. আইয়ুব আনসারী, আই-ব্লকের ৩ নম্বর রোডের ২৮ নম্বর বাড়ি ওয়াহিদুর রহমান, জি-ব্লকের ৭ নম্বর রোডের ৩১ নম্বর বাড়ি সাইদ নূরুল গনি।

এছাড়া ২২ দিলকুশার প্লট জাল দলিল করে দখল করেছেন আবদুল জলিল ও ৫৪ মহাখালীর প্লটটি জাল দলিল করে দখলে রেখেছে ইউনাইটেড ট্রেডিং করপোরেশন। একইভাবে দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায় ১ বিঘা ১৭ কাঠা আয়তন বিশিষ্ট ৩৭ নং প্লটটি হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে একটি চক্র। রাজউকের এ তালিকার শেষে বিশেষ দ্রষ্টব্য দিয়ে লেখা উপরোক্ত প্লটগুলোর লিজ গ্রহীতারা পাকিস্তানের নাগরিক। বর্তমানে বিভিন্ন ব্যক্তি উক্ত নাম ধারণ করে প্লটগুলো হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে।

রাজউকের বেহাত হওয়া অন্যান্য প্লট হচ্ছে সিইএন (এ) ১৫/সি, রোড ৯৩, পরিমাণ ৬ কাঠা, সিইএন (বি) ১৭, রোড-৯৯, পরিমাণ ১৮ কাঠা ১২ ছটাক, সিইএন (ডি) ২০, রোড ১০১/১০৩, পরিমাণ ২০ কাঠা ১০ ছটাক, সিইএন (জি) ১৬/বি, রোড-১০৮/১১২, পরিমাণ ১৫ কাঠা ১০ ছটাক, সিইএন (এইচ) ৪, রোড ১০৯, পরিমাণ ১৩ কাঠা ৬ ছটাক, সিইএন (এইচ) ৩২, রোড ১১৫, পরিমাণ-১৪ কাঠা ১ ছটাক, সিইএস (এ) ৪৭, রোড ১১৬, পরিমাণ ১৩ কাঠা ১০ ছটাক, সিইএস (এফ) ২ রোড বি/এ গুলশান এভিনিউ, পরিমাণ ১৯ কাঠা ৮ ছটাক, সিডব্লিউএন (এ) ০১ রোড ৪৯/কেএ পরিমাণ ২৭ কাঠা ৮ ছটাক, সিডব্লিউএন (এ) ২, রোড-৪৯, পরিমাণ ২১ কাঠা ৯ ছটাক, সিডব্লিউএন (এ) ১৮/৬/৫, রোড ৪৭/৪৮, পরিমাণ ১৯ কাঠা ১৩ ছটাক, সিডব্লিউএন (এ) ৪৩, রোড ৪১, পরিমাণ ১৭ কাঠা ১২ ছটাক, সিডব্লিউএন (বি) ৬, রোড ৪৪, পরিমাণ ৯ কাঠা ১৫ ছটাক, সিডব্লিউএন (বি) ২৮, রোড ৪৪, গুলশান এভিনিউ, পরিমাণ ১৩ কাঠা, সিডব্লিউএন (বি) ৩৪, রোড-গুলশান এভিনিউ, পরিমাণ ১৯ কাঠা ৪ ছটাক, সিডব্লিউএন (সি) ৩, রোড-গুলশান এভিনিউ, পরিমাণ ১৮ কাঠা ১২ ছটাক, সিডব্লিউএন (এ) ৮, রোড-গুলশান এভিনিউ, পরিমাণ ১৯ কাঠা ৮ ছটাক, সিডব্লিউএন (সি) ৫, রোড ১৬/২১, পরিমাণ ২৫ কাঠা, এনই (বি) ১/এ, রোড ৭১/৭৪, পরিমাণ ৩৯ কাঠা ৩ ছটাক, এনই (এস) ৪, রোড ৮৭, পরিমাণ ৮ কাঠা ১২ ছটাক, এনডব্লিউ (ই) ২ রোড ৫৯, পরিমাণ ১৭ কাঠা ১২ ছটাক, (এনডব্লিউআই) ৩ রোড ৫৩, পরিমাণ ২৪ কাঠা ৮ ছটাক, এনডব্লিউ (কে) ১১ রোড ৫০, পরিমাণ ১৮ কাঠা ১২ ছটাক, এসডব্লিউ (এ) ২৯, রোড ১১, গুলশান এভিনিউ, পরিমাণ ১৭ কাঠা ৮ ছটাক, এসডব্লিউ (এ) ৩০, রোড-১১, গুলশান এভিনিউ, পরিমাণ ১১ কাঠা ১২ ছটাক, এসডব্লিউ (সি) ১৩, রোড ১৪, পরিমাণ ১২ কাঠা ৩ ছটাক, এসডব্লিউ (এইচ) ৭, রোড ২/১, পরিমাণ ২০ কাঠা ১০ ছটাক, জিএনসি (এ) ৪৫, রোড ৪৬/৫২, পরিমাণ ৬ কাঠা ১৪ ছটাক, সিএনডব্লিউ (বি) ৩৪, পরিমাণ ১৪ কাঠা, এসডব্লিউ (সি) ১৩, পরিমাণ ১২ কাঠা ৯ ছটাক, এনডব্লিউ (স) ১ বিঘা ১ ছটাক, সিডব্লিউএন (বি) ৩, পরিমাণ ১১ কাঠা ২ ছটাক, সিডব্লিউএন (এ) ১, পরিমাণ ১ বিঘা ২ ছটাক, সিইএস (এ) ৪৭, পরিমাণ ১৭ কাঠা ১১ শতাংশ, সিডব্লিউএন (সি) ৩, পরিমাণ ১ বিঘা ২ শতাংশ, সিডব্লিউএন (বি) ১-এ, পরিমাণ ১ বিঘা ১৯ শতাংশ, সিডব্লিউএন (এ) ২, পরিমাণ ১ বিঘা ২ শতাংশ।

রাজউকে ২৫ কোটি টাকার টেন্ডার ছিনতাই

রাজউকে ২৫ কোটি টাকার টেন্ডার ছিনতাই


পুলিশের উপস্থিতিতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ভবনে আবদুল মোনেম লিমিটেড নামের এক নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ২৫ কোটি টাকার টেন্ডার ডকুমেন্ট ছিনতাই করা হয়েছে। দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সন্ত্রাসীরা এ কাজটি করেছে বলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েক জন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন। এদের মধ্যে যুবলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের আগের কমিটির সদস্য
আজাদ, মতিঝিল থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল ও ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ধারী শাহীন মোল্লা, সোহাগ আলীম ও রাজের নেতৃত্বে শতাধিক বহিরাগত ছিল। তারা সকাল থেকেই টেন্ডার পাহারা দিয়ে এ কর্মকাণ্ড ঘটায়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, একডি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর ভাগ্নে পরিচয় দিয়ে থাকেন। রাজউক ভবনে তিনিই এখন টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। মোনেম লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এম এ কালাম ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, রাজউকের উত্তরা তৃতীয় পর্ব প্রকল্পে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ব্রিজ নির্মাণের টেন্ডারে অংশ নেয়ার জন্য তারা সকাল ১১টার দিকে রাজউক ভবনে যান। তাদের কাছে টেন্ডারের শিডিউল জমা দেয়ার পুরো ডকুমেন্ট ফাইল আকারে ছিল। রাজউক ভবনের লিফট দিয়ে ওঠার সময় দু’জন অপরিচিত লোক লিফটের ভেতরেই ডকুমেন্ট ফাইল নিয়ে টানাটানি শুরু করেন। তারা তিন তলায় নামতে চাইলেও তাদের জোর করে চার তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। লিফটের ওই দু’জনের সঙ্গে আরও চার-পাঁচ জন যোগ দিয়ে টেন্ডার ডকুমেন্ট ফাইল ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়। পরে তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শাখাকে মৌখিকভাবে অবহিত করেন। তিনি জানান, বিষয়টি চেয়ারম্যানকে অবহিত করার জন্য চেয়ারম্যানের দপ্তরে গিয়ে জানতে পারি রাজউকে বোর্ড মিটিং চলছে। চেয়ারম্যান সহ সব কর্মকর্তা ওই বৈঠকে রয়েছেন। গতকাল ছিল শিডিউল জমা দেওয়ার শেষ দিন। সর্বশেষ সময় ছিল বেলা সাড়ে ১২টা। বোর্ড মিটিং চলে ১২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত। ইঞ্জিনিয়ার এম এ কালাম জানান, বোর্ড সভা শেষে রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য রাজউক ভবনের বাইরে চলে যান। কালাম বলেন, আমরা এ এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করবো এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করে আবার টেন্ডার আহ্বানের আবেদন জানাবে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ঠিকাদার ও রাজউকের কর্মচারীরা জানান, সকাল ১০টা পর থেকেই খোলা জিপে করে একদল যুবক রাজউক ভবনের গেটের বাইরে অবস্থান করছিল। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মোনেম লিমিটেডের কর্মকর্তাদের গাড়ি রাজউক ভবনে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে জিপ থেকে পাঁচ-ছয় জন যুবক নেমে তাদের অনুসরণ করতে থাকে। প্রায় ২০ মিনিট পর ওই পাঁচ-ছয় জন যুবক সেই খোলা জিপে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। রাজউকের একাধিক ঠিকাদার এবং কর্মচারী জানান, রাজউকে কয়েক মাস ধরে ‘খোলা জিপ’ বাহিনী একটি আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে কোন টেন্ডার হলেই তারা এসে হাজির হয়। খোলা জিপ বাহিনী রাজউকে মানিক বাহিনী নামেও পরিচিত। এই ছিনতাই এর ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে মনিকো লিমিটেড নামে অপর একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও ডকুমেন্ট জমা না দিয়ে রাজউক ভবন ত্যাগ করেন বলেও জানান একাধিক ঠিকাদার। ওদিকে বেলা ১২টায় চেয়ারম্যানের দপ্তরে গেলে জানানো হয় বোর্ড মিটিং চলছে। বেলা ১২টা ৪০ মিনিটে বোর্ড মিটিং শেষ হওয়ার পরও দফায় দফায় একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন চেয়ারম্যান। পরে বেলা দেড়টায় চেয়ারম্যান উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে উত্তরা তৃতীয় পর্বের প্রকল্প এলাকায় একটি ব্রিজ নির্মাণের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। তবে টেন্ডার ছিনতাই কোন ঘটনা তারা জানেন না। তখন পর্যন্ত কেউ তার কাছে এ নিয়ে লিখিত অভিযোগও করেননি। তিনি বলেন, রাজউকের টেন্ডার প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হয় এবং কোন ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। টেন্ডার প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে করার জন্য পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয় বলেও তিনি জানান। খোলা জিপ বাহিনী এবং সালাম খান সম্পর্ক জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোন বাহিনী কিংবা ব্যক্তি সম্পর্কে তার জানা নেই। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মোনেম লিমিটেডসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান শিডিউল জমা দিতে ব্যর্থ হলেও বেলা আড়াইটায় টেন্ডার খোলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় বলে জানা যায়।

Monday, December 24, 2012

ব্র্যাড পিটের মতো চাই বিপাশার বর

ব্র্যাড পিটের মতো চাই বিপাশার বর


বলিউডের অন্যতম আবেদনময়ী অভিনেত্রী বিপাশা বসু অনেক আগে থেকেই ফিটনেসের বিষয়ে বেশ সতর্ক। এর আগে একাধিক ফিটনেস বিষয়ক ডিভিডিও বের করেছেন তিনি, এমনকি ইয়োগার জন্য নিজস্ব একটি জিমও খুলেছেন বিপাশা বসু। সম্প্রতি বিপাশা বসু এই ফিটনেস বিষয়ক নতুন আরও একটি ডিভিডি প্রকাশ করে পুনরায় আলোচনা আসেন। এই ডিভিডির পর আরও একটি কথার কারণে ব্যাপক হারে আলোচিত হন বিপাশা। আর তা হলো ব্র্যাড পিট। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বিপাশা জানান, ব্র্যাড পিটের মতো স্মার্ট, হ্যান্ডসাম এবং পারফেক্ট কোনো পুরুষ পেলে জীবনসঙ্গী করতে এক মুহূর্তও দেরি করবেন না তিনি। উল্লেখ্য, জন আব্রাহামের সঙ্গে বিপাশার ছাড়াছাড়ির বয়স প্রায় দেড় বছর হলো। এরপর থেকেই বিপাশা একা আছেন। তবে মাঝে কয়েকজনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের গুঞ্জন উঠলেও আদতে কোনোটাই সত্য ছিল না বলে জানান বিপাশা। আর এসব জানাতে গিয়েই বিপাশা ব্র্যাড পিটের মতো সুদর্শন পুরুষ চাওয়ার কথা জানান। বিপাশা আরও জানান, খুব আকর্ষণীয় না হলেও চলবে, তবে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। ভালোবাসতে জানতে হবে। বিয়ের মণ্ডপে ওয়াদা করে পরে ভুলবে না এমন একজন। ব্র্যাড পিটের মতো হলেই হবে।'

অপমান সইতে না পেরে রাজধানীতে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

অপমান সইতে না পেরে রাজধানীতে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

 বখাটে যুবক রনিকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও তার পরিবারের সদস্যদের অপমান সহ্য করতে না পেরে অপহরণ থেকে উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী সাদিয়া আক্তার পিংকি আত্মহত্যা করেছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মুগদা এলাকার মান্ডায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বাসা থেকে পিংকির লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে।

পিংকি'র বাবা বাবুল মিয়া জানান, তার বাসা মাণ্ডা ছাতা মসজিদের পাশে। পিংকি যাত্রাবাড়ীর ধলপুর সিটি কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী। পিংকি চলতি বছর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। কয়েকমাস যাবত্ তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল স্থানীয় বখাটে যুবক রনি। তার প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় গত ২৮ নভেম্বর স্কুল থেকে ফেরার পথে পিংকিকে অপহরণ করে রনি। পরে এ বিষয়ে তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানা পুলিশের সহায়তায় তার মেয়েকে উদ্ধার করে। গ্রেফতার করে রনিকে। এ ঘটনার পর থেকে রনির পরিবার তাকে ও তার মেয়েকে প্রায়ই হুমকি দিতো। একইসঙ্গে মামলা তুলে না নিলে বাবা-মেয়েকে হত্যার হুমকি দিতো। অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গতকাল দুপুরে আদালতে রনির জামিন নাকচ করে দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

পিংকির পারিবারিকসূত্র জানায়, রনিকে কারাগারে পাঠানোর খবরে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে তার পরিবারের সদস্যরা। গতকাল সন্ধ্যায় রনির বোনসহ কয়েকজন স্বজন পিংকির বাসায় গিয়ে পিংকি এবং তার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। রনির পরিবারের সদস্যদের এ অপমান সইতে না পেরে পিংকি নিজের ঘরে ঢুকে গলায় ফাঁস দেয়। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে পিংকির কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙ্গে পিংকিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।

মুগদা থানা পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে রাত ১০টার দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পিংকির পরিবারের পক্ষ থেকে কোন মামলা হয়নি।

গণধর্ষণ : উত্তাল ভারত

গণধর্ষণ : উত্তাল ভারত


দিল্লিতে ধর্ষণের ঘটনা যে খুব বিরল, তা মোটেই নয়। বরং বেশিরভাগ ধর্ষিতাই মিডিয়ার পাদপ্রদীপের অন্ধকার-তলে কাঁদে নীরবে। তবে গত সপ্তাহে দিল্লির চলন্ত বাসের ভেতরে এক ছাত্রী-ধর্ষণ ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারত। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ত্রিপুরাতেও একটি গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় গত সপ্তাহজুড়েই দেশটির সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে সুশীল সমাজ, সংবাদমাধ্যম, এমন কি রাজনীতিকরাও ফেটে পড়েন প্রতিবাদে। দিল্লির গণধর্ষণ-ঘটনার প্রতিবাদে গত শনিবার রাজধানীর ইন্ডিয়া গেটের সামনে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হলে পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিপেটার শিকার হন আন্দোলনকারীরা।

ছাত্রী-ধর্ষণের এই ঘটনাটি ঘটে গত ১৬ ডিসেম্বর রবিবার রাতে। ভারতের বিভিন্ন সংবাদ সংস্থায় প্রকাশিত ঘটনার আদ্যোপান্ত থেকে জানা যায়, সে রাতে দিল্লিতে বাস নিয়ে বেরনোর আগে ছোটখাটো একটা পার্টি করেছিল বাসের চালক রাম সিং ও তার সঙ্গীরা। তারপর বাস নিয়ে শহর ঘুরতে বেরোয় তারা। পবন আর বিনয় নামে আরো দু'জন যোগ দেয় তাদের সঙ্গে। প্রত্যেকেই তখন মদ্যপ অবস্থায় ছিল। পরিকল্পনা ছিল আরো হৈ-হুল্লোড়ের। এই হৈ-হুল্লোড়ের টাকা জোগাতে তারা সিদ্ধান্ত নেয় যাত্রী তোলার। রাত সোয়া ন'টা নাগাদ ওই বাসে ওঠেন প্যারামেডিক্যালের এক ছাত্রী (২৩) ও তার বন্ধু (২৮)। বাসে ওঠার কিছুক্ষণ পর থেকেই ওই ছাত্রীকে লক্ষ্য করে অশালীন মন্তব্য করতে থাকে তারা। ছাত্রীর বন্ধুর জবানবন্দি থেকে জানা যায়, তারা দু'জন অত রাতে বাড়ির বাইরে কেন, এখানে কী করছিলেন, ইত্যাদি প্রশ্ন করে তাদের বিরক্ত করছিল তারা। স্বাভাবিকভাবেই এর প্রতিবাদ করেন ছাত্রীর বন্ধু। তারপরই কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে লোহার রড দিয়ে ছেলেটিকে পেটাতে শুরু করে বখাটেরা। বাধা দিতে গিয়ে রোষের মুখে পড়েন ওই তরুণী। প্রথমে রড দিয়ে মার, তার পরে পিছনের সিটে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় তাকে। ধর্ষণ করে, জামা-কাপড় ছিঁড়ে তাদের দু'জনকে উড়ালপুলের ওপর বাস থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় তারা। তবে এরপরের ঘটনাও সমান বিস্ময়কর। এমন নৃশংস অপরাধের পরও নিশ্চিন্তে দৈনন্দিন জীবনে ফিরে গিয়েছিল অভিযুক্তরা। তাই সোমবার সকালে প্রতিদিনকার মতোই কাজে বেরোয় পবন ও বিনয়। রাম সিং আর তার ভাই মুকেশ অবশ্য খানিক লুকোচুরির চেষ্টা করেছিল। একপর্যায়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যায় তারা।

ধর্ষণের পরে প্রায় নগ্ন করে মেয়েটি ও তার বন্ধুকে ফেলে দেয়ার পরিকল্পনা রামের ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, রাম জানিয়েছে যে সে প্রমাণ লোপাটের জন্য পুরো বাসটিকে ধুয়ে ফেলে। কোনোভাবেই যাতে অসহায় ওই দু'টি ছেলেমেয়ে কোনো সাহায্য চাইতে না পারে, সেজন্য ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল তাদের মোবাইল ফোনও। সাঙ্গ-পাঙ্গদের নির্দেশ দিয়েছিল, পুরো বিষয়টি নিয়ে কাউকে কিছু না বলতে। কেউ যেন কিছু না জানতে পারে। রাম সিংকে ইতিমধ্যেই পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজতে দেয়া হয়েছে। অন্য আর এক অভিযুক্ত, অক্ষয় ঠাকুরকে এদিন পুলিশ বিহারের ঔরঙ্গাবাদ থেকে আটক করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের কারো মধ্যেই কোনো অনুশোচনা ছিল না। বরং তারা যে সে রাতে মদ্যপ অবস্থায় 'মজা লুটে' বেশ খোশ মেজাজেই ছিল, সে কথাই বেরিয়ে এসেছে।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা অপরাধ স্বীকার করলেও শনাক্তকরণ প্যারেডে যেতে চায়নি পবন ও বিনয়। একমাত্র মুকেশ রাজি। মূল অভিযুক্ত, বাসচালক রাম সিং, প্রথমে অবশ্য দাবি করেছিল, সে কিছুই জানে না। শনাক্তকরণ প্যারেডে যেতে রাজি হয়নি সেও। পরে অবশ্য জেরার মুখে সব স্বীকার করে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সে জানিয়েছে, মেয়েটিকে নাকি 'উচিত শিক্ষা' দিতে চেয়েছিল সে। পুলিশ জানিয়েছে, এর আগে রাম সিংকে ডাক্তারী ছাত্রীটি যেভাবে হোক রুখতে গিয়ে প্রথমে চড় মারেন। হাতে কামড় দেন। তাতেই নাকি মাথায় রক্ত চড়ে যায় রামের। সে তখন তার আরও পাঁচ সঙ্গীকে নিয়ে মেয়েটিকে 'শিক্ষা দেয়ার জন্য' লোহার রড দিয়ে নির্মমভাবে মারতে থাকে। তবে গ্রেফতারের পর আদালতে অকপট স্বীকারোক্তিতে ধর্ষক পবন বলেছে, সে একটা ঘৃণ্য অপরাধ করেছে। আর তার একমাত্র শাস্তি ফাঁসি। কাজেই তার ফাঁসিই হওয়া উচিত। ধর্ষিতা মেয়েটির অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। এ পর্যন্ত মোট পাঁচটি অস্ত্রোপচার হয়েছে। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, মেয়েটির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সারা জীবনের জন্য নষ্ট হয়ে গেছে। বাদ দেয়া হয়েছে অন্ত্রের অধিকাংশ। এখনও রয়েছেন ভেন্টিলেটরে। তরুণী যখন শোনেন যে দুষ্কৃতকারীরা ধরা পড়েছে, তার মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

এ ঘটনা প্রকাশের পর ভারতের সংসদ থেকে রাজপথ, একটাই সুর— অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। ওই রবিবারের গণধর্ষণের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে এতটাই প্রভাব ফেলেছে যে, এদিন দিল্লি হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি মামলা করে। পুলিশকে ভর্ত্সনা করে আদালত দু'দিনের মধ্যে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে। বিচারকের প্রশ্ন, 'সেদিন রাতে ওই বাসটি অন্তত পাঁচটি পুলিশ চেকপোস্ট পেরিয়েছে। এই বর্বর ঘটনা কারো নজরে কেন পড়ল না? পুলিশ কি মজা দেখছিল?' মঙ্গলবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত হাইকোর্টকে অনুরোধ করেছিলেন, ধর্ষণের বিচারের ক্ষেত্রে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের অনুমোদন দিতে। হাইকোর্ট সবমিলিয়ে পাঁচটি কোর্টের অনুমোদন দিয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার শিন্ডে এদিন লোকসভায় এই মামলা সংক্রান্ত অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট পেশ করেন। সেখানে বলা হয়েছে, নারীদের নিরাপত্তার জন্য সরকার বেশ কিছু ব্যবস্থা নিচ্ছে। রাতে পুলিশ প্রহরা বাড়ানো হবে। সব এলাকাতেই চলবে টহলদারি। ধর্ষণ রুখতে এসবের পাশাপাশি বখাটেদের মানসিক বোধোদয় তৈরির ব্যবস্থাও সমান জরুরি বলে মনে করেন মনোবিদরা। অর্থাত্ গলদ রয়েছে অসংখ্য জায়গায়, যার সবটুকু চোখে দেখা যায় না।

উত্তাল ভারতের সংসদ

দিল্লিতে চলন্ত বাসে এক ছাত্রীর গণধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীনভাবে উত্তাল হয়ে ওঠে দেশটির সংসদের দুই কক্ষ। দল নির্বিশেষে নারী সাংসদেরা গত সপ্তাহে এই ঘটনার নিন্দায় ফেটে পড়েন। ট্রেজারি বেঞ্চে বসে বিরোধী সাংসদ তো বটেই, এমনকি নিজের দলের সাংসদদেরও ধিক্কার শুনতে হয় ভারতের কেন্দ ীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীলকুমার শিন্দেকে। ধর্ষণের জন্য ফাঁসির দাবি তোলেন বিরোধী নেত্রী সুষমা স্বরাজ। দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় সামাল দিতে এই ঘটনার তদন্ত ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে হবে বলে সংসদে বিবৃতি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিকে, ওই ঘটনার মূল অভিযুক্ত বাসচালক রাম সিংকে পাঁচদিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও তিনজনকে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার শিন্ডে, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত ও জাতীয় নারী কমিশনের চেয়ারপার্সন মমতা শর্মার সঙ্গে কথা বলেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। রাতে হাসপাতালে গিয়ে আহত তরুণীকে দেখে আসেন তিনি। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর রেকর্ড থেকে জানা যায়, গোটা ভারতেই উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে ধর্ষণের ঘটনা। ভারতে এ মুহূর্তে ধর্ষণের অমীমাংসিত মামলার সংখ্যা ৭৯ হাজার ৪৭৬টি।

ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড দাবি

ধর্ষকদের নির্বীজকরণ করা হোক, এমন দাবি জানাল ভারতের জাতীয় নারী কমিশন। কমিশনের সভাপতি মমতা শর্মা বলেছেন, চরম শাস্তি ধার্য না করা হলে কমানো সম্ভব নয় ধর্ষণের মতো অপরাধ। দিল্লি গণধর্ষণের অপরাধীদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের দাবি তুলেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তাঁর পরামর্শ, শাস্তি হিসাবে নির্বীজকরণ করা হোক ধর্ষকদের। তাঁর কথায়, 'ওই অপরাধীদের নির্বীজকরণ করা হোক। সারাজীবন যেন তারা সেই শাস্তি মনে রাখে, প্রায়শ্চিত্ত করে।' সামগ্রিকভাবে ধর্ষণ ও নারীদের প্রতি অত্যাচারের ক্ষেত্রে আইন কড়া করাটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন মমতা। তাঁর মতে, আইনী পথে সাহায্য না এলে নারীরা নিরাপদ বোধ করবেন না। শুধুমাত্র রঙিন কাঁচে নিষেধাজ্ঞা বসিয়ে আর প্রহরা কড়া করে এই অপরাধের মোকাবিলা করা যাবে না। ধর্ষণ ও নির্যাতনের তদন্তের ক্ষেত্রে পুলিশের কাছ থেকে আরও সংবেদনশীল ব্যবহারেরও দাবি করেন মমতা। 'হত্যার ক্ষেত্রে তো আক্রান্তের সমস্যা থাকে না। তবে একজন ধর্ষিতার জন্য আসল সমস্যা শুরু হয় ঘটনার পর থেকে।' বলছেন মমতা। তাঁর দাবি, রাজনীতি দূরে সরিয়ে রেখে নির্যাতিতাকে প্রকৃত ন্যায় দেয়ার প্রক্রিয়াটা শুরু হওয়া সবার আগে দরকার।

রাষ্ট্রপতিকে চিঠি শিশুদের

ধর্ষণ শব্দের অর্থ বোঝার মতো বয়স হয়নি তাদের অনেকেরই, তবু দিল্লির ধর্ষণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীকে একটি চিঠি লিখেছে শিশুরা। দিল্লির শিশু অধিকার রক্ষাকারী এক বেসরকারি সংস্থার শিশুরা এ চিঠি লেখে। তাদের ছোট্ট মনে ঘটনার প্রভাব এতটাই তীব্র যে তারা চায় না অভিযুক্তদের ফাঁসি হোক। বরং একটা ছোট ঘরে যদি তাদের আজীবন আটকে রাখা হয়, তবেই তারা অনুভব করবে তাদের অন্যায়ের নৃশংসতা। ধর্ষিতা 'দিদি'র সঙ্গে হওয়া অন্যায় ভবিষ্যতে বন্ধ করার জন্য রাতের রাস্তায় বেশি আলো,পুলিশি প্রহরা ও রাতঅবধি সরকারি বাস চালানোর অনুরোধও জানিয়েছে। হিংসা ছড়ানো সিনেমা বা ইন্টারনেট গেমের বিরুদ্ধেও সরব তারা। পরিবর্তন এত সহজে না হলেও আপাতত দোষীদের শাস্তির অপেক্ষায় খুদেরা।

নারী নির্যাতন বেড়েছে

নারী নির্যাতন বেড়েছে


২০১২ সালে নারী নির্যাতনের চিত্র ছিল ভয়াবহ। নারী নির্যাতনের আওতায় ইভটিজিং ছিল অন্যতম আলোচিত বিষয়। আত্মহত্যা, হত্যা, ধর্ষণসহ নানা ঘটনাই ছিল গত ২০১২ সালে।
২০১১ সালে পুলিশ সদর দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী সারা দেশে নারী নির্যাতনের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৩৪৪ জন, যা ২০১২ সালে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত যার সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ১০,০২৯। এর মধ্যে যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৩৪৪৮ জন নারী। এসিড আক্রমণের শিকার হয়েছে ৪৯ জন নারী। অপহরণ হয়েছে ২০৭৭ জন। ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৮৬৯ জন এবং ধর্ষণের পর খুন হয়েছে ১৩ জন। এছাড়া বিভিন্ন কারণে খুন হয়েছে ১১৬ জন নারী এবং অনান্য ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছে ২৩৯৪ জন।
এদিকে, বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের তথ্য অনুযায়ী ২০১২ সালের ১১ মাসে ৭৭১ জন নারী যৌতুকের সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে ২৫৮ জনকে হত্যা করা হয়েছে এবং ৪৮৫ জনকে বিভিন্নভাবে অত্যাচার নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে ।
নারী ও শিশু অধিদপ্তরের আওতাধীন নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের তথ্য মতে, ২০১২ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের ৬টি বিভাগ থেকে নির্যাতিত নারীদের ২৩৩০টি আবেদন জমা হয়েছেন সেলে। এর মধ্যে ২৩০০টি মামলা নিষ্পিত্তি হয়েছে। দেনমোহর ও খোরপোষ বাবদ টাকা আদায় হয়েছে ৯২ লাখ, ৩৫ হাজার ৫০ টাকা। ২০১২ সালের নারী নির্যাতনের মধ্যে আলোচিত ঘটনাগুলো হলো-
প্রেমিকের হাতে ২৬ টুকরা রুমি:
রাজধানীর হাতিরপুলে ১৪তলা নাহার প্লাজার ১৩তলায় সুস্মিতা ওরফে রুমির (১৭) ২৬ টুকরা লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। ২রা জুন নাহার প্লাজার ১৩তলার ১৩০৮ নম্বর কক্ষে রুমির প্রেমিক এবং সোনালী ট্রাভেল্‌সের মালিক সাইদুজ্জামান ওরফে বাচ্চু (৩০) এই নৃশিংসতম হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ঘটনার এক দিন পর এলাকার লোকজনের চোখে খণ্ড খণ্ড মাংস ও হাড়ের টুকরা পাওয়া পর রমনা থানা পুলিশ আসলে প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসে। প্রেমিক বাচ্চুকে আটক করে ৪ দিনের রিমান্ডে নিলে সো মুখ খোলে। বাচ্চু তার জাবানবন্দিতে বলে, রুমির সঙ্গে তার এক বছর আগে পরিচয় হয় ফোনে। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পহেলা জুন শুক্রবার বাচ্চু রুমিকে নাহার প্লাজার ওই অফিসে নিয়ে আসে। এরপর তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক করার পর শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেন। এরপর বঁটি, ছুরি দিয়ে তার শরীরের প্রতিটি অঙ্গের হাড় থেকে মাংস ছাড়িয়ে মাংসগুলো বাথরুমে ফ্লাশ করে দেয়। এবং হাড়গুলো বিভিন্নস্থানে ফেলে দেয়। কিন্তু বাথরুমের ফ্লাশ করা মাংস ও নাড়ী-ভুঁড়ি পাইপে আটকে গেলে পাইপ জ্যোম হয়ে যায়। এছাড়া ওই বিল্ডিংয়ের অন্য কক্ষের বাথরুমেও ভেসে উঠে রক্ত। ঘটনার দিন সকালেই হাড় ও মাংস এলাকার বাসিন্দাদের চোখে পড়লে ধরা পরে বাচ্চু। এরপর উক্ত এলাকা ও কক্ষ থেকে রুমির লাশের ২৬ টুকরা উদ্ধার করে রমনা থানার পুলিশ।
ধর্ষণের পর মুখ থেঁতলিয়ে ড্রেনে লাশ ফেলে দেয় প্রেমিক: প্রেমিকের আসল চেহারা প্রকাশ পাওয়ায় সম্পর্ক ছিন্ন করায় নিশৃংসভাবে হত্যার শিকার হয় পপি আক্তার (১৬)। মিরপুর ১৪ নাম্বার এলাকার কচুক্ষেত বালুর ঘাট এলাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিনের মেয়ে পপি। ২০১২ সালের ১৬ই জুন ওই এলাকার ঝটপট্টি এলাকা থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় ঘাতক প্রেমিক রিপন ও তার সাঙ্গুপাঙ্গরা এরপর ওই এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে গিয়ে রাতভর ধর্ষণ করে রিপন এবং তার বন্ধু গাইট্টা বাবু, সুমন, বিল্লাল, হাসান, শামীম, রুবেল ওরফে চান্দু এবং আরিফ। এরপর শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে পপিকে। পরিচয় গোপন রাখতে ঘাতক দল হাতুড়ি দিয়ে থেঁতলিয়ে দেয় পপির চেহারা। এরপর তার লাশ ঝুট কাপড়ের বস্তায় ভরে পরিত্যক্ত ড্রেনে ফেলে দেয়। পরের দিন পুলিশ বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য হস্তান্তর করে। এরপর আসামিদের গ্রেপ্তার করেন মিরপুর থানা পুলিশ ।
নবীগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূর হাত-পা বেঁধে নির্যাতন: যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ কাকলী আক্তার চৌধুরীর হাত-পা বেঁধে নির্যাতন চালায় স্বামী ইছহাক ও তার পরিবার। ২০১২ এর ২৫শে মে এ নিয়ে তোলপাড় চলে নবীগঞ্জের দিনারপুর পরগনায়। ২০০৯ সালে দীঘলবাগ ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত সিরাজুল ইসলামের মেয়ে কাকলীর সঙ্গে বিয়ে হয় গজনাইপুর ইউনিয়নের সাতাইহাল গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল কাদিরের ছেলে ইছহাকের সঙ্গে। বিয়ের পর বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন চালায় তারা। এক পর্যায়ে কাকলী নির্যাতন সইতে না পেরে বাবার বাড়ি চলে যায় । কিন্তু নানা খেসারত করে স্বামী ইছহাক তাকে বাবার বাড়ি থেকে এনে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন চালায়।উক্ত এলাকার বাসিন্দারা কাকলীর পরিবারকে খবর জানালে তারা কাকলীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। গ্রামের চেয়ারম্যান এ বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে নিষ্পিত্তি করেছেন বলে জানা গিয়েছিল।
ভালবাসায় ধর্ম বাধা হওয়ায় তন্নির আত্মাহুতি: প্রেমিককে বিয়ে না করতে পারায় ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর ছাত্রী বিনা সুলতানা তন্নির আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাএ অম্লান সাহার সঙ্গে ছিল প্রেম। কিন্তু সেই ভালবাসার মাঝে এসে দাঁড়ায় ধর্মের ভিন্নতা। মুসলমান পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করার ক্ষেত্রে রাজি হবে না পরিবার, তাই পিছু হেঁটেছিল অম্লান। কিন্তু ভালবাসার মানুষটিকে ফিরে পেতে অপ্রাণ চেষ্টায় অবশেষে প্রাণ বিসর্জন দিল তন্নি। ২৪শে এপ্রিল রাজধানীর বনানীর বি ব্লকের ৫ নাম্বার বাসার একটি কক্ষ থেকে তন্নির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে রামপুরা থানা পুলিশ। আত্বহত্যার পূর্বে তন্নি দেড় পাতার একটি চিঠি লিখেন, যেখানে তিনি তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কথা লিখেছেন। পুলিশ হত্যার কোন আলামত না পেলেও তন্নির পরিবার ঘটনাটি হত্যা বলে দাবি করেছিলেন। এদিকে প্রেমিক অম্লানকে আটক করে ৩ দিনের রিমান্ডে তন্নির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়ার কথা স্বীকার করে অম্লান। তিনি জানিয়েছিলেন ঘটনার দিন তন্নি তার ওই ফ্লাটে আসলে বিয়ে করা নিয়ে তাদের মধ্যে অনেক ঝগড়া চলে। এক পর্যায়ে তন্নি ওই ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর অম্লান তার বন্ধু টিটুর রুমে গিয়ে পড়াশুনা করতে থাকে। রাত ১০টায় বই নেয়ার উদ্দেশে দরজা খুলতে বললেও তন্নির কোন সাড়া না পেলে অম্লান ও তার বন্ধু টিটু দরজা ভেঙে তন্নির ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায় ।
ধর্ষণে বাধা দেয়ায় কেয়ারটেকারের হাতে ডা. ইভা খুন: ধর্ষণে বাধা দেয়াই শ্বাসরোধে খুন হন ডাক্তার সাদিয়া আফরিন ইভা (২৭)। ২৯শে নভেম্বর রাত ১২টায় দক্ষিণাস্থ আমতলার ব্র্যাক ক্লিনিকের ঘটনা ছিল এটি। কেয়াটেকার ফয়সাল (২৩) আটক হওয়ার পর ডিবি হেডকোয়ার্টারের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সামনে ডা. ইভার হত্যার চিত্র তুলে ধরেন। ওই দিন নাইট ডিউটিতে ছিলেন ডা: ইভা। রাত ১২টায় ফয়সাল তার কক্ষের দরজায় নক করেন। দরজা খোলার পরপর ঘাতক ফয়সাল ঝাঁপিয়ে পড়ে ডা. ইভার ওপর। আত্মরক্ষায় চিৎকার করেন ডা. ইভা। এক পর্যায় লাথি মেরে ফ্লোরে ফেলে দেন তিনি ঘাতক ফয়সালকে। এরপর ফয়সাল আবার উঠে বসে ডা. ইভার বুকের উপর। ডা. ইভা আবার চিৎকার করার চেষ্টা করলে তার মুখ ও গলা চেপে ধরে ফয়সাল। এর পর নিস্তেজ হয়ে পরেন তিনি। ডা. ইভার মৃত্যু নিশ্চিত করার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় ঘাতক। এরপর ফয়সালকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরস্থ তার নানা বাড়ি থেকে আটক করেন পুলিশ।
ডা. ইভা ঘটনার ১৫ দিন আগেই ওই ক্লিনিকে চাকরিতে যোগ দেন। জাবনবন্দিতে ফয়সাল জানায়, ওই ক্লিনিকে ৫ মাস যাবৎ সে কাজ করছিল। এই ঘটনা দক্ষিণখান থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছিল।
ফতোয়ার শিকার চট্টগ্রামের গৃহবধূ আসমা:
চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের যৌন হয়রানির মামলা করায় ফতোয়ার শিকার হয়েছিলেন গৃহবধূ আসমা আক্তার (৩০)। আর তাই তার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেন ওই এলাকার মেম্বার ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হক জুনু। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীর সাথে পারিবারিক কলহ চলছিল প্রবাসী আনোয়ারা ইসলামের স্ত্রী আসমার। ২৭শে জুলাই ওই ওয়ার্ডের আবদুল রশিদ পণ্ডিতের বাড়ির বাসিন্দা নুরুল আফসার (৪৮), আবদুল্লা (৫০),আবুল কাশেম (৩৮) এবং নুর নবী (৪৫) তাকে সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে ওই বাড়ির একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। এরপর প্রায় ১ ঘণ্টা পর অন্য প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করেন। এ সময় জুনু মেম্বারসহ আরও অনেকেই উপস্থিত থাকলেও তারা ছিলেন নীরব। এ ঘটনায় আসমা বাদী হয়ে ২৯শে জুলাই মীরসরাই থানায় ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। দফায় দফায়া আসমা মামলা করলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন জুনু মেম্বার। ২রা অক্টেবর স্থানীয়া ফোরকানিয়া মাদরাসায় দু’ঘণ্টার এক বৈঠকে জুনু মেম্বার আসমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন উস্কানিমূলক ফতোয়া জারি করেন। ফতোয়ায় জুনু মেম্বার বলেছিলেন আসমা আক্তারের সাথে যৌন হয়রানির কথা তিনি নিজেই শিকার করেছেন। এ ধরনের অপরাধে শরিয়তের বিধান রয়েছে বিবাহিত নারীদের বুক পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে রেখে পাথর নিক্ষেপ করার। কিন্তু যদি আসমা গ্রামের সব মুরব্বির কাছে ক্ষমা চায় এবং অপরাধ স্বীকার করে তাহলে তাকে গ্রামে থাকতে দেয়া হবে। মামলা করার অপরাধে ফতোয়া জারির পাশাপাশি আসমাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কুষ্টিয়ায় ৯ দিন আটকিয়ে রেখে মা ও মেয়েকে নির্যাতন: কুষ্টিয়ায় মা আলেয়া বেগমকে ও মেয়েকে ৯ দিন আটক রেখে নির্যাতন চালিয়েছিল পুলিশ। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৯ই সেপ্টেম্বর রাত ৯টায় কুষ্টিয়ার রাজবাড়ি বেড়াডাঙ্গা এলাকায় বাড়ি থেকে চরমপন্থির কানেকশন সন্দেহে কুষ্টিয়া খোকশা কুমারখালী থানা ও ডিবি পুলিশের ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য তাদের আটক করেছিল। এরপর তাদের খোকশা কুমারখালী থানায় দু’দিন রেখে কারেন্ট শক দিয়ে নির্যাতন চালায়। এর দু’দিন পরে রাতে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় পুলিশ লাইনের ডিবি অফিসে। সেখানেও তাদের ওপর চলে নানা নির্যাতন। আলেয়া বেগম জানিয়েছিলেন, তাদের যেখানে আটক করা হয়েছিল সেখান থেকে তার মেয়েকে প্রতি রাতে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালিয়েছে পুলিশ। প্রায় ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর মেয়েকে তারা তার মায়ের কাছে দিয়ে যেত বলে জানিয়েছিলেন তিনি। ডিবির এসআই মাসুদসহ আরও কয়েক জন পুলিশ তাদের আটকে রেখে ক্রসফায়ারে নিহত সন্ত্রাসী মোতালেবের স্ত্রী শীলার সন্ধান চাইতো বলে জানান তিনি। এদিকে নির্যাতন ও লাঞ্ছনার কারণে মানসিকভাবে ভেফু পড়েছিলেন আলেয়া এবং তার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে। আর তাই আটক অবস্থায় থেকেই বহু বার আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছিলেন তারা ।
এদিকে এ ব্যাপারে রাজবাড়ী থানার পুলিশ ইনচার্জ এবং খোকশা থানার অফিসার্স ইনচার্জ হরেন্দ্র নাথ সরকার একে অপরকে দোষারোপ করেন। এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদিন গুরুত্বপূর্ণ ওপারেশনে থাকার অজুহাতে এড়িয়ে যান ঘটনাটি।