Pages

Showing posts with label Human-rights. Show all posts
Showing posts with label Human-rights. Show all posts

Wednesday, March 6, 2013

বাংলাদেশে প্রাণহানিতে মর্মাহত যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশে প্রাণহানিতে মর্মাহত যুক্তরাষ্ট্র


বাংলাদেশে প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলাকালে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানিতে মর্মাহত যুক্তরাষ্ট্র। এ অবস্থায় সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বিভিন্ন উপাসনালয় ও বাড়িতে হামলার খবরে। নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের কাছে এসব বিষয়ে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ-মুখপাত্র প্যাট্রিক ভেনট্রেল। ৪ঠা মার্চ সাংবাদিকদের সামনে তিনি বাংলাদেশ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আশা প্রকাশ করেন সরকার সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেবে। সাংবাদিকরা তার কাছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চান। তাদের একজন বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জি। এ নিয়ে কি আপনার কোন মন্তব্য আছে? জবাবে ভেনট্রেল বলেন, আমরা জানতে পেরেছি পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসছে। কিন্তু বাংলাদেশজুড়ে সহিংসতায় ৭০-এর বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এতে আমরা মর্মাহত। হিন্দুদের মন্দিরে ও বাড়িঘরে হামলার খবরেও আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা বিশ্বাস করি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিক্ষোভ করা মৌলিক অধিকার। একই সঙ্গে আমরা বিশ্বাস করি যে, সহিংসতা সমস্যার সমাধান নয়। তিনি বলেন, তাই আমরা সব বাংলাদেশীকে উৎসাহিত করছি শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটাতে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান- বাংলাদেশ সরকার যেভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে তা আপনি কিভাবে দেখছেন? জবাবে প্যাট্রিক ভেনট্রেল বলেন, আমরা দেখছি পরিস্থিতি শান্ত হচ্ছে। এ ছাড়া এ বিষয়টিকে আমি অন্য কোনভাবে ব্যাখ্যা করতে চাই না। পাশাপাশি সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারকে উদ্বুদ্ধ করছি।
তাদের কথোপকথন ছিল এ রকম-
প্রশ্ন- বাংলাদেশ প্রসঙ্গে-
ভেনট্রেল: হ্যাঁ, বলুন।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ পরিস্থিতিতে সেখানকার নিরাপত্তা নিয়ে আপনার কাছে হালনাগাদ তথ্য আছে...
ভেনট্রেল: হ্যাঁ, আছে।
প্রশ্ন: সেখানে তো বিক্ষোভ চলছে? ভারতের প্রেসিডেন্ট-ও বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন। এ নিয়ে কোন মন্তব্য আছে আপনার?
ভেনট্রেল: প্রশ্নের পরের অংশটা কি-
প্রশ্ন: ভারতের প্রেসিডেন্ট-ও বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন-
ভেনট্রেল: ঠিক আছে। আমরা যখন আশান্বিত হয়েছি যে বাংলাদেশে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসছে তখন দেশজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভে কমপক্ষে ৭০ জন নিহত হওয়ায় আমরা মর্মাহত হয়েছি। হিন্দুদের মন্দিরে ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনায়ও আমরা উদ্বিগ্ন। যেহেতু শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিক্ষোভ মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার তাই আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সহিংসতা কোন সমস্যার সমাধান নয়। কাজেই আমরা সব বাংলাদেশীকে তাদের দাবিদাওয়ার প্রকাশ ঘটাতে শান্তিপূর্ণ উপায় অবলম্বনে এবং একই সঙ্গে সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারকে উৎসাহিত করি।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ সরকার পরিস্থিতি যেভাবে মোকাবিলা করছে তা কিভাবে দেখছেন?
ভেনট্রেল: দেখুন, আমরা দেখতে পাচ্ছি পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসছে। এর বাইরে অন্য কিছু ব্যাখ্যা করতে চাই না। একই সঙ্গে অব্যাহতভাবে আমরা বাংলাদেশ সরকারকে উৎসাহিত করছি সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

Monday, February 4, 2013

জীবননগর সীমান্তে বিএসএফ'র গুলিতে আহত ৩, আটক ১

জীবননগর সীমান্তে বিএসএফ'র গুলিতে আহত ৩, আটক ১



জীবননগর উপজেলার হরিহরনগর সীমান্তে গত শনিবার রাতে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বোমা হামলা ও গুলিতে ৩ জন বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী আহত হয়ে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন। একই সময়ে বিএসএফ অপর একজন গরু ব্যবসায়ীকে আটক করেছে। এ সময় ভারতে নিখোঁজ পিতা-পুত্র দুইজন ফিরে এসেছেন বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) পক্ষ হতে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসএফকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, হরিহরনগর সীমান্তের ৬৩ নং মেইন পিলারের নিকট দিয়ে গরু আনতে গত শনিবার রাতে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশ করলে টহলরত ভারতের পুটিখালী ক্যাম্পের বিএসএফ ৩টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় ও গুলি ছোঁড়ে। বোমা আঘাত ও গুলিতে সাইদুর রহমান, কামাল উদ্দিন ও শুকুর আলী মারাত্মকভাবে আহত হয়ে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। এ সময় একই সীমান্তের ভাজনঘাট ফার্ম এলাকা হতে অপর গরু ব্যবসায়ী মুকুলকে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। ভারতের ভাজনঘাট ফার্ম এলাকার লালুপুর মাঠ হতে এলাকাবাসী গুলিবিদ্ধ শুকুর আলীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এদিকে অপর একটি সূত্র জানায়, নিখোঁজ পিতা-পুত্র সলিম ও খায়রুল গতকাল দুপুরে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন। আহতরা পুলিশী ভয়ে ও গ্রেফতার এড়াতে পার্শ্ববর্তী মহেশপুর উপজেলার অজ্ঞাতস্থানে গিয়ে চিকিত্সা নিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। বিজিবি চুয়াডাঙ্গাস্থ ৩৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গাজী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ হতে বিএসএফকে প্রতিবাদ জানিয়ে চিঠি দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

Thursday, January 31, 2013

আ. লীগ নেতা ধর্ষণ করলেন ভাতিজার বিধবা স্ত্রীকে!

আ. লীগ নেতা ধর্ষণ করলেন ভাতিজার বিধবা স্ত্রীকে!

এক বিধবা ধর্ষণের শিকার হয়ে নালিশ করেছিলেন ধর্ষকের চাচার কাছে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার তিন দিন পর ওই চাচাই আবির্ভূত হন ধর্ষকের ভূমিকায়। ওই নারীর অভিযোগ, এবার তাঁকে ধর্ষণ করা হয় তাঁর শিশুসন্তানের সামনেই। ভয়ে তিনি ১০ দিন পালিয়ে ছিলেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় খবর পাওয়া যায় ওই নারীকে নিয়ে থানায় অবস্থান করছেন একটি নারী সংগঠনের এক নেত্রী এবং একজন জনপ্রতিনিধি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। গতকাল সকালে সাংবাদিকরা ওই এলাকায় গিয়ে ঘটনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁর নাম আবু সাঈদ ওরফে লাল মিয়া (৬০)। তিনি শরীফপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার শরীফপুর গ্রামের ওই নারীর স্বামী মারা যান প্রায় আট বছর আগে। তখন পরিবারটির দায়িত্ব নেন ওই নারীর চাচাশ্বশুর তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সাঈদ ওরফে লাল মিয়া। এরপর থেকে ওই নারী সন্তানদের নিয়ে চাচাশ্বশুরের বাড়িতেই থাকেন। এরই মধ্যে তিনি দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এক ছেলে ঢাকায়
চাকরি করেন। ছোট দুই ছেলে ও এক মেয়ে তাঁর সঙ্গে থাকে।
ওই নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লাল মিয়া ও তাঁর ভাতিজা আমীর দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। সপ্তাহ দুয়েক আগে আমীর তাঁর ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করে। ওই সময় তাঁর ঘরে থাকা ছয়-সাত বছরের ছেলেসন্তান ঘুমিয়ে ছিল। বিষয়টি কাউকে জানালে ঢাকায় কর্মরত ছেলেকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয় আমীর। এর পরও ঘটনাটি লাল মিয়াকে অবহিত করেন ওই নারী। তিনি জানান, গত ২০ জানুয়ারি রাতে লাল মিয়া কাজ আছে বলে তাঁকে দরজা খুলতে বলেন। দরজা খোলামাত্রই তিনি তাঁকে জাপটে ধরে ধর্ষণ করেন। ধস্তাধস্তির কারণে দরজায় ধাক্কা লেগে তিনি পিঠে ব্যথাও পান। ওই নারীর অভিযোগ, ১০-১২ বছর বয়সী মেয়ের সামনেই তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। ওই রাতেই তিনি মেয়েকে নিয়ে অন্য বাড়িতে চলে যান। সকালে স্থানীয় কয়েকজনকে জানালে তাঁরা বিষয়টি কেউ বিশ্বাস করবে না বলে বিচার চাইতে কিংবা মামলা করতে নিষেধ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী বলেন, 'ঘটনার রাতেই ওই মহিলা আমাদের বাড়িতে আসেন। এসেই তিনি পানি পান করেন। এরপর থেকে ভয়ে এ-বাড়ি ও-বাড়ি অবস্থান করছিলেন। ভয়ে মামলা করতেও যেতে পারছিলেন না তিনি।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধি বলেন, 'এলাকার অনেকেই ঘটনা সম্পর্কে জানেন। কিন্তু ওই মহিলার কাছের কোনো আত্মীয় না থাকায় কেউ সাহস করে এগিয়ে আসছেন না। এ ছাড়া লাল মিয়া এলাকায় প্রভাবশালী। তাই কেউ মুখ খুলছে না। আমি মহিলার জন্য এগিয়ে এলে আমাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।'
এদিকে আমীর হোসেনের ভাই তকদির হোসেন জানান, এসব কথা একেবারেই মিথ্যা। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে এসব কথা বলে বেড়ানো হচ্ছে। তাঁর ভাই এখন বাড়িতে নেই। তিনি মোবাইল ফোনও ব্যবহার করেন না।
আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাঈদ ওরফে লাল মিয়া মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমীরের বিষয়ে ওই মহিলা আমাকে কিছু বলেনি। আমার মনে হয় সে গ্রাম্য রাজনীতির শিকার। আমিও অনেক দিন চট্টগ্রামে ছিলাম। বাড়িতে এসে শুনি আমার নামে এসব বলা হচ্ছে। যা বলা হচ্ছে সবই মিথ্যা। মেয়েটি আমাকে আব্বা বলে ডাকে। এখন সে বাড়িতে নেই। তাকে পেলে আমি জিজ্ঞেস করব, সে কেন এমন করছে। আমার মনে হয়, আমাকে নিয়েও রাজনীতি হচ্ছে। কেউ আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে চাইছে। তবে কে বা কারা এমন করছে সেটা এখনো বুঝতে পারছি না।'
এ ব্যাপারে শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুদ্দিন চৌধুরী সাফি মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ওই মহিলা আমাকে ঘটনা খুলে বলেছেন। ওনাকে থানায় নিয়ে এসেছি। আমি অভিযুক্তদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা বলছে বিষয়টি ষড়যন্ত্র। এখন সবকিছু না জেনে, খোঁজ না নিয়ে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এর আগেও এ ধরনের অভিযোগ উঠেছিল।'
দুর্বার নারী নেটওয়ার্ক কুমিল্লা অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক শাহানা খায়ের বলেন, 'সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমি ওই গ্রামে যাই। ওই মহিলার কাছ থেকে ঘটনা শুনে বিচার পাওয়ার জন্য তাঁকে থানায় নিয়ে এসেছি।'
আশুগঞ্জ থানার ওসি মো. গোলাম ফারুক বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা ওই মহিলার কাছ থেকে ঘটনা শুনছি। এলাকায় অফিসার পাঠিয়েও খবর নিয়েছি। ঘটনা পুরোপুরি সত্য কি মিথ্যা তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তিনি যেহেতু ওই মহিলার চাচাশ্বশুর ও একজন বয়স্ক লোক, তাই এটি খতিয়ে দেখা হবে। ওই মহিলা মামলা দিলে সেভাবেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

Monday, January 28, 2013

দুবাইয়ে বাংলাদেশী চক্রের অন্ধকার জগৎ

দুবাইয়ে বাংলাদেশী চক্রের অন্ধকার জগৎ


দুবাইয়ে বাংলাদেশী চক্রের অন্ধকার জগতে বন্দি হয়ে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব বাংলাদেশী এক যুবতী। অভাব-অনটনের সংসারে একটু সুখ আনার জন্য পাড়ি দিয়েছিলেন সুদূর প্রবাসে। কিন্তু সুখ নামের সেই স্বপ্ন তার জীবনকে করে দিয়েছে ছারখার। এখন লোকলজ্জার ভয়ে কোথাও মুখও দেখাতে পারেন না। বলেন, এ জীবন রেখে কি লাভ? মনে হয় আত্মহত্যা করি। কিন্তু পারি না। ভাবি, যারা আমার জীবনকে নিঃশেষ করে দিয়েছে তাদের বিচার দেখতে চাই। এ জন্যই মামলা করেছি। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৪-এ মামলা করেন তিনি। ২৩শে জানুয়ারি আদালত মামলার আসামী ফালি বেগম, রিপন, আসমা বেগম ও জমির আলীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পাশাপাশি বিচারক আরিফুল হক বলেছেন, ঘটনার সত্যতা যেহেতু আছে সেহেতু বিষয়টি আমলে নেয়া হলো।
ঢাকার নবাবগঞ্জ থানার ওই যুবতী বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন। দেখতে সুন্দরী হওয়ায় তার দিকে নজর পড়ে পাচারকারী চক্রের সর্দারনী নবাবগঞ্জের তেলেঙ্গা গ্রামের ফালি বেগমের। সে নানাভাবে ফুঁসলিয়ে সুখের স্বপ্ন দেখিয়ে দুবাইয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করে তার। ফালি বেগমের সহযোগী হিসেবে কাজ করে মো. রিপন, আসমা বেগম ও মূলবক্স গ্রামের জমির আলী। ২০০৭ সালের ৩রা মে তাকে পাঠানো হয় দুবাই। পাঠানোর আগেই আসমা বেগম চলে যায় দুবাই। দুবাই বিমানবন্দরে তাকে গ্রহণ করে আসমা বেগম ও সিলেটি সেলিম বলে একজন। বিমানবন্দর পেরুনোর পরই যুবতীর কাছ থেকে পাসপোর্টসহ সকল কাগজপত্র নিয়ে যায় আসমা। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় আসমা বেগমের পতিতা পল্লীতে। প্রথম দিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে ওই যুবতী বলেন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার চুল ধরে টেনে কিল, ঘুষি, লাথি মারতে মারতে মেঝেতে ফেলে দেয়। এরপর শরীরের ওপর চলতে থাকে উন্মাদ নৃত্য। বাকি রাখেনি কিছুই। ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে খাইয়ে দেয় এক গ্লাস সবুজ শরবত। আর কিছু মনে নেই তার। সংজ্ঞা ফিরে দেখে ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে, শরীরে কোন কাপড় নেই। সম্পূর্ণ উলঙ্গ। খালি গায়ে হাফপ্যান্ট পরা এক লোক ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলছে তার। পাশেই বিবস্ত্র এক বিদেশী। মুচকি হেসে কি যেন বলছে সে। তার ভাষা বুঝতে পারেনি ২২ বছর বয়সী এই যুবতী। এরই মধ্যে অস্ত্র হাতে ৪ জন তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। ভীত-সন্ত্রস্ত যুবতী নিজেকে সামলাতে ব্যস্ত হয়ে উঠলে চারপাশে থাকা লোকগুলো অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে। এদের মধ্যে সেলিম নামের একজন বলে, কোন লাভ নেই। তোর কাপড়-চোপড় পাশের ঘরে। তোকে উলঙ্গ করে, এই যে বিদেশীকে দেখছিস, তাকে দিয়ে ধর্ষণের ছবি তুলে নিলাম। আমাদের প্রস্তাবে রাজি কিনা বল? রাজি না হলে এই ছবি বাংলাদেশে তোর আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীর কাছে পাঠিয়ে দেবো। দেখাবো বিদেশে এসে তুই দেহব্যবসা করে টাকা রোজগার করছিস। এতে তোর পরিবারের মান-সম্মান ধুলায় মিশবে। তোরা সমাজচ্যুত হবি, মুখ দেখাতে পারবি না কোথাও। শেষে আত্মহত্যা করতে হবে তোকে। তার চেয়ে ভাল, আমাদের কথায় রাজি হয়ে যা। দেহব্যবসাকে পেশা হিসাবে নে। প্রচুর টাকা পাবি। বাড়ি-গাড়ি কিনা হবে তোর। দেশে ফিরে রানীর হালে থাকবি।
এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে দু’হাত দিয়ে মুখ ঢাকে যুবতী। কিছু লেখাপড়াও জানেন। ভূমিহীন পরিবারের সহায়-সম্বলহীন যুবতীকে বিয়ের কিছুদিন পরই স্বামী তালাক দেয়। সেই থেকে এলাকার বিভিন্ন লোকজনের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন। একই এলাকায় বসবাস করার সুবাদে তেলেঙ্গা গ্রামের ফালি বেগম, রিপন, আসমা বেগম, জমির আলীর কাছে তার কোন কিছুই অজানা ছিল না।
দুবাইতে আসমার বাসায় আরও তিনটি মেয়ে ছিল। তাদের কাছে প্রতিনিয়ত বেগানা পুরুষরা আসতো। মেয়েদের সঙ্গে ওই সব পুরুষ আমোদ-ফুর্তি করতো। আসর বসতো মদের। এসব দেখে যুবতী পরে গভীর দুশ্চিন্তায়। তাকে কোথায় নিয়ে আসা হয়েছে? এরই মধ্যে আসমা বলে, ওদেরকে দেখছো? জীবন কিভাবে উপভোগ করছে, আনন্দ, ফুর্তি সঙ্গে টাকা আর টাকা। তোমাকেও এ কাজটিই করতে হবে। পুরুষদের সঙ্গে ফূর্তি করতে হবে। তাদের আনন্দ দেবে আর নিজেও আনন্দ পাবে। এটাই তোমার কাজ। তোমার বয়স কম। স্বাস্থ্য শরীর ভাল। খদ্দেররা তোমাকে লুফে নেবে। চিন্তা করো না, তোমার খাওয়া-দাওয়া, থাকা-পরা অসুস্থতা, চিকিৎসা সবই আমি করবো, দেশে যাওয়া-আসার বিমান ভাড়াসহ সব খরচা আমরাই দেবো। একেবারে রাজকীয় হাল তোমার। নাও প্রস্তুতি নাও এবং কাজে লেগে পড়। পাশের রুমে বিদেশী খদ্দের অপেক্ষা করছে। আসমার কথা শুনে হতভম্ব হয়ে পড়ে যুবতীটি। এ কাজ তার দ্বারা সম্ভব নয়। সারা শরীর কাঁপতে থাকে তার। এখন সে কি করবে? কার সাহায্য নেবে? এদের হাত থেকে বাঁচবে কিভাবে? অকস্মাৎ বিদ্রোহী হয়ে ওঠে সে। চিৎকার দিয়ে বলে ওঠে, না। এ কাজ জীবন থাকতে নয়। যুবতীটি মুখ থেকে ‘না’ শব্দটি বের হতে যত দেরি, ততক্ষণে পাশে দাঁড়ানো সিলেটি সেলিম রুমে আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা ক্যাসেট উচ্চ শব্দে ছেড়ে দিয়ে তাকে মারধর শুরু করে। চুল ধরে টেনে কিল, ঘুষি, লাথি মারতে মারতে মেঝেতে ফেলে দেয়। সেলিম তার নেতিয়ে পড়া দেহের ওপর উন্মাদের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। মারের চোটে তার প্রাণ যখন প্রায় ওষ্ঠাগত তখন আসমার সাহায্যে পাশের রুম থেকে আনা সবুজ এক গ্লাস শরবত সেলিম জোর করে তার মুখের ভিতর ঢেলে দেয়। ওই শরবত খাওয়ার পরই যুবতী সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলে। যখন জ্ঞান ফিরে তখনই ঘটনার ভয়াবহতায় সে থর থর করে কাঁপতে থাকে, আর নিজকে দেখতে পায় মেঝের ওপর সম্পূর্ণ উলঙ্গ অবস্থায়। এত কিছুর পরও যুবতী দেহব্যবসায় অসম্মতি জানালে ওরা তাকে দু’দিন দানা-পানি কিছুই খেতে দেয়নি। এক পর্যায়ে যুবতী আত্মহত্যা করার হুমকি দিলে ওরা তার হাত-পা বেঁধে রাখে আর তার ওপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। শেষে নিরুপায় যুবতী কেবল বেঁচে থাকার জন্য ওদের প্রস্তাবে রাজি হয়। শুরু হয় অন্য জীবন। যুবতীর ভাষায়, শরীর ভাল থাকলে প্রতিদিন ১০-১৫ জনকে দেহ দিতে হতো তার। ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, মদখোর, সমাজের উঁচু-নিচু সর্বস্তরের লোকদের মনোরঞ্জন করতে হতো তাকে। এ অত্যাচার চলেছে ৫ বছরেরও বেশি সময়। এ সময়ের মধ্যে কখনওই যুবতীকে ঘরের বাইরে যেতে দেয়া হয়নি। তবে খদ্দেরদের সুবিধার্থে তাকে বিশেষ ব্যবস্থায় হোটেলে নিয়ে যাওয়া হতো। তা-ও রাতের অন্ধকারে। সেই ৫ বছরে যুবতীর দেহ বিক্রি বাবদ আসমারা রোজগার করে নিয়েছে ২ কেটি টাকারও বেশি। ওই টাকা থেকে যুবতীকে তারা দিয়েছে সর্বসাকুল্যে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এক রাতে খদ্দেরদের মনোরঞ্জনের জন্য যুবতীকে নিয়ে যখন তারা হোটেলে যাচ্ছিল, তখন সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে হোটেলের সামনে থেকে পালিয়ে যায় সে। গভীর রাতে পাসপোর্ট ও কাগজপত্র বিহীন পেয়ে সে দেশের পুলিশ তাকে আটক করে। ৩০-৩৫ দিন জেল খাটার পর পুলিশ তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। দেশে এসে পাচারকারী দলের সদস্য ফালি বেগম, রিপন, আসমা, জমির আলী গংয়ের বিরুদ্ধে বিচার চাইলে উল্টা বিপত্তি ঘটে যুবতী ও তার মায়ের। প্রাথমিক তদন্তকালে তার মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তা বাতিল হয়ে যায়। এতে পাচারকারী সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয় যুবতীকে জীবনে শেষ করে দেয়ার হুমকি দেয়। এ পর্যায়ে মান-সম্মান ও কলঙ্কের ভয় ত্যাগ করে তিনি ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৪-এ ফালি বেগম, তার ছেলে মো. রিপন, মেয়ে আসমা বেগম ও একই গ্রামের মৃত রশিদ মোল্লার ছেলে সালাম মোল্লা ও মূলবর্গ গ্রামের মৃত পেয়ার আলীর পুত্র জমির আলীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। যুবতীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট এমদাদুল হক লাল। তিনি বলেন, ঘটে যাওয়া ঘটনার সারাংশ তুলে ধরে মামলা করা হয়েছে। আদালতের বিচারক মো. আরিফুর রহমান বিষয়টি তদন্তের জন্য দিলে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আর সে কারণে ফালি বেগম, রিপন, আসমা বেগম, জমির আলীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

Friday, January 25, 2013

দিল্লিতে ছাত্রী খুন,উঠছে ধর্ষণের অভিযোগ

দিল্লিতে ছাত্রী খুন,উঠছে ধর্ষণের অভিযোগ


দিল্লির ফরিদাবাদে শুক্রবার এক কিশোরীর মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়। তবে মৃতদেহের শারীরিক পরীক্ষার পরই ধর্ষণের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ সূত্রে এও জানা গিয়েছে, তরুণীর দেহে বেশ কয়েকটি গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গলায় ও পেটে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। সে প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় ৩০ বছরের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে টিউশন পড়তে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হয়নি দ্বাদশ শ্রেণীর ওই ছাত্রীর। পুলিশ তার টিউশন ক্লাসে গিয়ে জানতে পারে, এক যুবক তাকে ডেকে নিয়ে যায়। ঘটনার বিস্তারিত তদন্তে শুরু করেছে পুলিশ।

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানী দিল্লির চলন্ত বাসে এক ছাত্রীর গণধর্ষণের ঘটনার পর থেকে শহরে মহিলাদের সুরক্ষা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঘটনার এক মাস কাটতে না কাটতেই ফের ধর্ষণের অভিযোগ উঠল রাজধানীতে। ফলে স্বভাবতই আতঙ্ক ছড়িয়েছে শহরবাসীর মধ্যে। সূত্র: জিনিউজ।

ছেলের গলায় চাপাতি ধরে মাকে হত্যা

ছেলের গলায় চাপাতি ধরে মাকে হত্যা

 


সন্তানের গলায় চাপাতি ধরে মাকে হত্যা করে পালিয়ে গেল অতিথিবেশী চার ঘাতক। নিহতের নাম তাসলিমা আক্তার জেসমিন (৩৮)। গতকাল ভোরে রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন টালি অফিস গলির ২৯১/বি, তেতলা ভবনের দোতলা থেকে জেসমিনের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ বাসার দুই গৃহকর্মীকে আটক করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, চার খুনির মধ্যে একজনের নাম আশা। সে নিহত তাসলিমাকে আপা বলে ডাকতো। তার মাধ্যমেই বাকি তিন খুনি ওই বাসায় প্রবেশের সুযোগ পেয়েছিল। পরে শেষ রাতের দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় তাসলিমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ সময় তার আট বছর বয়সী ছেলে প্রিন্স দেখে ফেলে। পরে তার গলায় চাপাতি ধরে চুপ থাকতে বলে ঘাতকরা। হত্যা শেষে বাসার গুরুত্বপূর্ণ মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে তারা। নিহত জেসমিনের স্বামী এনামুল হক পারভেজ গত ছয় মাস ধরে ব্রাজিলে আছেন। হাজারীবাগ থানার এসআই জহিরুল ইসলাম বলেন, বুধবার রাত ১০টার দিকে ‘অতিথি’ বেশে দুই তরুণী ও দুই যুবক জেসমিনের বাসায় রাত কাটায়। পরে কোন এক সময়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। যাওয়ার আগে খুনিরা একটি লাল, হলুদ-সবুজ রঙের লেডিস চাদর ও দুই জোড়া পুরুষের রেক্সিনের স্যান্ডেল রেখে গেছে। ওই আলামতের সূত্র ধরে খুনিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির ক্রাইম সিন বিভাগ ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করেছে। ঘটনার রাতে বাসায় থাকা দুই গৃহকর্মী বৃষ্টি বেগম (২৩) ও কাজল বেগম (২২)কে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। নিহতের মেয়ে রুমানা আফরোজ শান্তা বাদী হয়ে কথিত ‘অতিথি’ আশা নামের এক তরুণী ও অজ্ঞাত তিনজনের বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় হত্যা মামলা করেছেন। বাসায় থাকা দুই গৃহকর্মী জানান, জেসমিনের এক ছেলে এক মেয়ে। মেয়ে শান্তা বিয়ের পর লালবাগে তার স্বামীর বাসায় থাকেন। জেসমিন তার ৮ বছরের ছেলে প্রিন্স ও দুই গৃহকর্মী বৃষ্টি ও কাজলকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় নিহতের পূর্বপরিচিত আশা তার বন্ধু পরিচয়ে আরেক তরুণী ও দুই যুবককে নিয়ে জেসমিনের বাসায় আসেন। আশা ও অপর তরুণী দু’জনে তাদের সঙ্গে আসা দু’যুবকের সঙ্গে জেসমিনের বাসায় গভীর রাতে বিয়ে করবেন বলে জানানো হয়। জেসমিন তার তিন কক্ষের বাসার একটিতে ওই চারজনকে ঘুমানোর ব্যবস্থা করেন। দুই গৃহকর্মী এক কক্ষে ও ছেলে প্রিন্সকে নিয়ে রাত ১২টার দিকে জেসমিন তার শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। প্রিন্সের চিৎকারে ভোরে গৃহকর্মীরা ঘুম থেকে জেগে দেখে জেসমিনের হাত-পা বাঁধা লাশ পড়ে আছে। গৃহকর্মীরা তাৎক্ষণিক বিষয়টি মুঠোফোনে লালবাগে স্বামীর বাড়িতে থাকা তার মেয়ে শান্তাকে জানায়।
শান্তা সাংবাদিকদের জানান, ভোরে ওই চার জন তার মা জেসমিনের ঘরে ঢুকে নগদ টাকা ও স্বর্ণ লুট করতে থাকে। এ সময় জেসমিন ও তার শিশুছেলে প্রিন্স জেগে যায়। তাৎক্ষণিক তারা প্রিন্সের গলায় চাপাতি ধরে বলে ‘চিৎকার করলে গলায় কোপ দিয়ে মেরে ফেলবো।’ ভয়ে প্রিন্স চুপচাপ থাকলেও জেসমিন তাদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা জেসমিনের হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর টাকা ও স্বর্ণ নিয়ে পালিয়ে যায়। হাজারীবাগ থানার ওসি মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, টাকা ও স্বর্ণ লুটের উদ্দেশেই পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে ঘাতকরা। তার ধারণা, টাকা ও স্বর্ণ লুটের সময় জেসমিন বাধা দেয়ায় দুর্বৃত্তরা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। ওসি ইকবাল আরও বলেন, খুনি হিসেবে অভিযুক্ত পূর্বপরিচিত আশা ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। প্রিন্সের খালা শামীমা বলেন, ভোর রাতে ওই চার ‘অতিথি’ তাদের কক্ষে ঢোকে এবং তার গলায় চাপাতি ধরে চিৎকার করতে নিষেধ করে। এরপর তার সামনে তার মায়ের পা বেঁধে গলা চেপে ধরে হত্যা করে। শিশুটি ভয়ে তখন লেপের নিচে মুখ ঢেকে ছিল। তিনি বলেন, ওই চার জন চলে গেলে তার ভাগ্নে পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা বৃষ্টি ও শিল্পীকে জাগিয়ে ঘটনাটি বলে। তখন রনি ও শিল্পী ঘটনা দেখে জেসমিনের মেয়ে রোমানা আফরোজ শান্তার স্বামী সুমনকে টেলিফোন করে সব জানায়। ওই ভবনের নিচতলার এক বাসিন্দা পুলিশকে জানিয়েছেন, সকাল ৮টার দিকে দুই নারীকে দোতলার বাসা থেকে বের হতে দেখেছেন। এসআই জহির বলেন, দোতলার সিঁড়ি ঘরের গ্রিল ভাঙা রয়েছে। ধারণা করছি, দুই ব্যক্তি রাতে ওই পথ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর দুই নারী বেরিয়ে যায়। তিনি বলেন, আশা নামের তরুণী আগেও ওই বাসায় এসেছিল। ময়না তদন্তের জন্য লাশ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Monday, January 21, 2013

‘ও আমার ওপর পশুর মতো হামলে পড়ে’

‘ও আমার ওপর পশুর মতো হামলে পড়ে’

 ‘ও আমার ওপর পশুর মতো হামলে পড়ে। কত অনুনয় করে বললাম, ছেড়ে দিন। কোন কথাই শুনলো না। পশুর মতো আমার মুখে কাপড় বেঁধে নির্যাতন করে। এর আগে ধারালো ছুরি ধরে রাখে গলায়। এতে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি’-এ কথাগুলো বলে বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন সিলেটের নির্যাতিতা তরুণীটি। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নারী নির্যাতিতা কেন্দ্রে তিনি যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে এসব কথা জানান। তরুণীটির অবস্থা ভালো নয়। ঘটনার প্রায় ৮ ঘণ্টা পর তার রক্তক্ষরণ বন্ধ হলেও নির্যাতনের নির্মম দৃশ্য মনে হলেই আঁতকে উঠে। ফুলের মতো এই তরুণীর সঙ্গে নির্মম ও নিষ্ঠুর আচরণ করেছে সিলেটের এক পাষণ্ড। ঘুমন্ত অবস্থায় মুখে কাপড় বেঁধে তার ওপর চালিয়েছে অমানুষিক নির্যাতন। আর এই নির্যাতনে তছনছ হয়ে গেছে একটি জীবন। স্বাভাবিক হতে পারছেন না মেয়েটি। সিলেট শহরতলীর দাউদপুরের মাঝপাড়া গ্রামে শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রায় ১০ ঘণ্টা পর ওই মেয়েকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার আগে বাড়িতে রেখে আপসে বিষয়টির মীমাংসা চালানোর চেষ্টা হয়। কিন্তু স্থানীয়রা কোন মীমাংসা করতে পারেন নি। তার বয়স পনেরো। পিতা রিকশা চালক। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে ওই তরুণী ৩য়। মাঝপাড়া গ্রামের হাওরের পাশে নতুন বাড়ি করেছেন পিতা। প্রতিদিনের মতো ওইদিনও বাড়ি থেকে সকালেই রিকশা নিয়ে বের হয়ে যান পিতা। পরিবারের অন্য সদস্যরাও যে যার কাজে চলে যান। বাড়িতে ছিল তরুণীটি ও তার ভাবী। ভাবী গৃহস্থালি কাজে বাড়ি থেকে প্রায় ৩শ’ ফুট দূরে জমিতে কাজ করছিলেন। আর তরুণীটি দরোজা খোলা রেখে ঘরের মধ্যে ঘুমাচ্ছিলো। এমন সময় ফাঁকা বাড়িতে ঢুকে মাঝপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম শামীম। শামীমের বয়স ২৪। সিলেট নগরীর লামাবাজারের ইউসিবি ব্যাংকের গার্ড। সে একই গ্রামের রিকব আলীর ছেলে। শামীম বাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত তরুণীকে একা পেয়ে মুখ বেঁধে ধর্ষণ করে। ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর তরুণীটির ভাবী ও তার বড় বোন বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় তাদের দেখে ঘরের ভেতর থেকে দৌড়ে পালাতে থাকে শামীম। এ দৃশ্য দেখে ভাবী ও বোন দৌড়ে ঘরে ঢুকে দেখেন তরুণীটির দেহ পড়ে আছে খাটের উপর। গোপনাঙ্গ দিয়ে রক্ত ঝরছে। তার মুখ বাঁধা। অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে সে। এ দৃশ্য দেখে চিৎকার শুরু করে ভাবী ও বোন। তারা মুখের বাঁধন খুলে দিয়ে তার মাথায় পানি দেন। প্রায় ৫ মিনিট পর জ্ঞান ফিরে আসে তার। এরপর সে জানায়, শামীমের নির্যাতনের কথা। এদিকে, ঘটনার পর থেকে বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলো তরুণীটি। বিষয়টি গোটা গ্রাম জানাজানি হলে তোলপাড় শুরু হয়। তরুণীর বড় বোনের স্বামী জানান, পশুও পশুর ওপর এরকম আচরণ করে না। হাসপাতালে ভর্তি করা পর্যন্ত তরুণীটির অবিরাম রক্ত ঝরছিলো বলে জানান তিনি। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে শেষ করতে দাউদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম আলম, স্থানীয় মেম্বার সেলিম আহমদ সহ এলাকার লোকজন চেষ্টা চালান। তারা সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সালিশি বৈঠক ডাকেন। এবং ওই বৈঠকের মাধ্যমে নির্যাতিতা মেয়েটিকে শামীমের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া চালান। মেয়েটির পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় বিয়ের বিষয়টি মেনে নিলেও শামীমের পরিবার বিয়ে মানে নি। মধ্যরাত পর্যন্ত সমঝোতার চেষ্টা বিফলে যায়। স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম আলম জানিয়েছেন, বিষয়টিকে বিয়ের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। এতে স্থানীয় মেম্বার সহ তিনি সমঝোতার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শামীমের পরিবার বিষয়টি মানেনি। পরে রাত ১টার দিকে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা প্রদান করা হলে ভোরের দিকে তার রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে আসে বলে হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তবে মানসিকভাবে বেশ ভেঙে পড়েছে সে। ঘটনার চিত্র তার চোখের সামনে ভেসে এলেই আতঁকে উঠে। তরুণীর স্বজনরা জানিয়েছেন, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সে। ডাক্তাররা বলেছেন, পুরোপুরি সুস্থ হতে বেশ সময় লাগবে। এদিকে, খবর পেয়ে গতকাল সকালে হাসপাতালের ওসিসিতে দেখতে আসেন মোগলাবাজার থানার ওসি মো. মুরছালিন। তিনি জানান, এ ঘটনায় নির্যাতিতার পিতা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলার একমাত্র আসামি শামীম। মামলা দায়েরের পর পুলিশ শামীমকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালালেও তাকে খুঁজে পায়নি। পিতা হাসপাতালের ওসিসি’র বাইরে বসে কাঁদছিলেন। মেয়ের ওপর এ অত্যাচারের বিচার চান তিনি। বলেন, কোন মানুষ ফুলের মতো এতটুকু মেয়ের ওপর এরকম নির্যাতন চালাতে পারে না। এদিকে, সকালে গোটাটিকর এলাকার একটি বস্তিতে শামীম নামের এক যুবক ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ডেকে নেয়। পরে ঘরে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় পুলিশ শামীম ও ধর্ষণে সহযোগিতাকারী অভিনা নামের আরেক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে।

Tuesday, January 15, 2013

Boyfriend sued over medical student’s death

Boyfriend sued over medical student’s death


A murder case has been filed against the boyfriend of Jerina Aradin Jerin, a student of a private medical college, over her death.
Jerin’s uncle Harun-ur-Rashid filed the case with the Kamalapur Railway Police Station on Sunday night, Sub-Inspector Alamgir Hossain told.
Apart from Jerin’s friend Kazi Mohiuddin Saran, his parents Kazi Jasimuddin and Shahana Begum have been made accused in the case.
Doctors at the Dhaka Medical College Hospital pronounced Jerin, 23, a first-year student of MBBS programme at the Uttara Women’s Medical College, dead around 8pm on Saturday after she was hit by a train.

Saran told reporters at the hospital that Jerin was hit by a Kamalapur-bound train while they were walking alongside the track-way in Cantonment Rail-crossing area in the evening.

He claimed that he managed to save himself by jumping on the road.

Saran first took Jerin to Kurmitola General Hospital and then to DMCH.

Police at DMCH Police Outpost detained Saran over his suspicious statement.

They said Saran completed his higher education abroad and currently is working for a private organisation.

SI Alamgir Hossain, also the investigation officer of the case, produced Saran before the court of Chief Judicial Magistrate Kazi Shahidul Islam on Monday with a plea to interrogate him in their custody for five days.

The judge approved three days’ remand rejecting Saran’s bail petition.

Hossain told reporters on Sunday that they had gone to the scene of the accident with Saran. “Though the youth claimed that the incident had taken place in Cantonment area, it actually happened in Khilgaon area,” he said.

“During the on-the-spot investigation, it was learnt that Jerin and Saran had an altercation around 5:45pm on Saturday. Eyewitnesses said Saran pushed Jerin at one stage of the argument.”

He said there was injury marks in Jerin’s head, right eye and right leg.

Jerin hailed from Nagarpur, Tangail. She was the eldest of two daughters and a son of their parents, Mir Kaykobad and Afroja Mir Merry, who reached Dhaka from Canada on Monday morning.

‘সীমান্তে হত্যা গ্রহণযোগ্য নয়’

‘সীমান্তে হত্যা গ্রহণযোগ্য নয়’


বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ পিএসসিজি বলেছেন, সীমান্তে হত্যা কোনভাবেই
গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিএসএফ-এর হাতে কোন বাংলাদেশী নিহত হলে প্রতিবারই আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। এ হত্যা বন্ধে সরকারের পক্ষ থেকেও জোরালে পদক্ষেপ রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে সীমান্তের অধিবাসীদেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সীমারেখার কতগুলো নিয়ম আছে। আইনের প্রতি সকলেরই শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। যে কোন সীমান্তে ১৫০ গজের মধ্যে যাওয়ার নিয়ম নেই। আর সামপ্রতিক (১লা ও ২রা জানুয়ারি) ইন্সিডেন্ট (হত্যাকাণ্ড) যেগুলো ঘটেছে বেশির ভাগই ‘ক্রসিং বর্ডার’-এর কারণে ঘটেছে। তাই এ বিষয়ে সচেতনতা দরকার। রাজধানীর পিলখানার সদর দপ্তরের মিডিয়া কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্ডারের ওই পাড়ে যখন ঘটনা ঘটে আমাদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তারা তখন তাদের মত করে বক্তব্য দেন। তবে এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান সুস্পষ্ট। খুব জোরালোভাবে এর প্রতিবাদও আমরা জানিয়েছি। কিন্তু সেটা (হত্যাকাণ্ড) জিরো লেভেলে আসছে না। এটা দুঃখজনক। তিনি জানান, আত্মরক্ষার্থে উভয় পক্ষই গুলি চালাতে পারে। তবে এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি না হলে সীমান্তের দুঃখজনক ঘটনা বাড়বে। বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, পিলখানায় রক্তাক্ত বিদ্রোহের চার বছর পর সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে এসেছে। ওই বিদ্রোহের পর পিলখানা ও দেশের অন্যান্য স্থানে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দপ্তরে নিরাপত্তার জন্য যে সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছিল, পর্যায়ক্রমে তাদের প্রত্যাহার করে নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার বাসায় যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল সমপ্রতি তাদেরও সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আজিজ আহমেদ বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার পরপর বিভিন্ন জায়গায় আমার সঙ্গে সেনাসদস্যরা গেলেও এখন আর তারা যাচ্ছে না। উল্লেখ্য, গত ৫ই ডিসেম্বর বিজিবির মহাপরিচালকের দায়িত্ব নেন আজিজ আহমেদ। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় পিলখানায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদেরও গত ৩১ ডিসেম্বর প্রত্যাহার করে নেয়া হয় বলে জানান তিনি। মহাপরিচালক বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের যেসব মামলা চলছে সেগুলোতে আমরা শুধু প্রশাসনিক সহায়তা দিচ্ছি। বিচারে খালাসপ্রাপ্তরা আবারও বাহিনীতে ফিরে এসেছে এবং স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালনও করছে। ইতিমধ্যে ওই বিদ্রোহের ঘটনায় সারা দেশে বিজিবি আইনে করা মামলাগুলোর বিচার শেষ হয়েছে। আর বিদ্রোহের সময় হত্যার ঘটনায় প্রচলিত আইনে মামলার কার্যক্রম চলছে। সীমান্তরক্ষা বাহিনীর চারটি আঞ্চলিক সদর দপ্তর খুব শিগগিরই চালু হবে জানিয়ে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, আগামী ২০শে জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী এই আঞ্চলিক সদর দপ্তরগুলো উদ্বোধন করবেন। ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সরাইল, চট্টগ্রাম, রংপুর ও যশোরে এই চারটি আঞ্চলিক সদর দপ্তর করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি’র মহাপরিচালক বলেন, বিজিবিকে আরও আধুনিকায়ন ও শক্তিশালী করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই বাহিনীর সার্বিক উন্নয়নের দিকে লক্ষ্য রেখে ১২টি সেক্টর হেডকোয়ার্টারের জায়গায় ১৬টি সেক্টর হেডকোয়ার্টার করা হবে। মোট ৫৪টি ব্যাটালিয়নের মধ্যে ঢাকায় ২টি ও ঢাকার বাইরে ব্যাটালিয়ন হবে ৫২টি। এগুলো ছাড়াও রাইফেল সিকিউরিটি ইউনিট, ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশন, সিগন্যাল সেক্টর, আইসিটি ব্যাটালিয়নকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। বিজিবি’র মহাপরিচালক বলেন, সীমান্তে কাউন্টার পয়েন্টে যেসব বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করেন তাদের, এক পয়েন্ট থেকে আরেক পয়েন্টে যথাসময়ে ও দ্রুত যাওয়ার জন্য আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ১৭০০ মোটরসাইকেল দেয়া হবে। এতে করে টহলে সুবিধা বাড়বে। তাতে সীমান্তে চোরাচালান রোধ করা যাবে। মহাপরিচালক জানান, বিজিবি বিওপিতে সদস্যদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি, ৬৫টি সোলার সিষ্টেম এবং প্রায় প্রতিটি সীমান্ত এলাকায় ইলেকট্রিসিটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিডিআর বিদ্রোহ, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধের বিচারের বিষয়ে মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, ইতিমধ্যে কোন ধরনের প্রশ্ন ছাড়াই বিজিবির নিজস্ব আইনে বিদ্রোহের বিচার সম্পন্ন করেছি। আমাদের ধারণা এ বিষয়ে কারও বিরূপ ধারণা নেই। জাতির কাছেও তা গ্রহণযোগ্য হয়েছে। যারা এই মামলায় খালাস পেয়েছে তারা ইতিমধ্যে আমাদের সঙ্গে কাজে যোগ দিয়েছে। বিজিবির প্রচলিত সব সুযোগ সুবিধাও তারা পাচ্ছে এবং পাবে। এখন ৮৪৭ জনের বিচার হবে বিদ্রোহে হত্যা সহ অন্যান্য অপরাধের জন্য। এর বিচার হবে প্রচলিত ফৌজদারি আইনে। তিনি বলেন, বিচারিক বিষয় যেহেতু সময় নির্ধারণ করে হয় না, তাই কবে নাগাদ তা শুরু ও শেষ হবে তা বুঝবে দেশের আদালত। কিন্তু এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি কোন নিরপরাধ লোক সাজা পাবে না। বিচারকাজে প্রশাসনিক সহযোগিতা ও তথ্যবহুল প্রমাণ দরকার উল্লেখ করে বিজিবি’র মহাপরিচালক বরাবরের মতো সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিবি’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাইদ খান, উপমহাপরিচালক বিজিবি (যোগাযোগ) কর্নেল খোন্দকার ওবায়দুল আহসান প্রমুখ।

Monday, January 14, 2013

'খুন করি গাড়িতে লাশ ফেলি রাস্তায়' ফেনীর মাইক্রোবাস চালক হত্যার তিন আসামি

'খুন করি গাড়িতে লাশ ফেলি রাস্তায়'

ফেনীর মাইক্রোবাস চালক হত্যার তিন আসামি


ফেনী থেকে মাইক্রোবাসটি কুমিল্লার উদ্দ্যেশে রওনা হয় তখন সন্ধ্যা সাতটা। এক ঘন্টা পর মাইক্রোবাসটি পৌঁছায় সোয়াগাজির একটি নির্জন স্থানে। প্রস াব করার অজুহাতে থামানো হয় মাইক্রোবাস। আর থামাবার সঙ্গে সঙ্গে চালককে টেনে পেছনের সিটে নিয়ে রশি দিয়ে হাত বেঁধে ফেলা হয়। হত্যা করা হয় শ্বাসরোধ করে। এরপর জীবিত মানুষের মত করে বসানো হয় সিটে। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১২ মাইল দূরে কুমিল্লার (ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক) জগন্নাথপুরের একটি নির্জন জায়গায় রাস্তার পাশে ফেলে দেয়া হয় চালকের লাশটি। ফেনীর স্টার লাইন গ্রুপের মাইক্রোবাস চালক আবুল কালামকে (৫০) এভাবেই হত্যা করে ঘাতকরা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেফতারকৃত তিন তরুণ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বিস্তারিত ঘটনা বর্ননা করে। তারা বলেছে, মাইক্রেবাস ছিনতাইয়ের জন্যই পরিকল্পিতভাবে চালকে হত্যা করে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে ওমর ফারুক (১৯), কবির হোসেন (১৯) ও মেহেদী হাসান (২০)। আর ছিনতাইকৃত মাইক্রোবাসটি বিক্রিকালে ডিবি পুলিশ শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলানগর এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে। তাদেরকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি।

ডিবির এডিসি (পশ্চিম) মশিউর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃতরা মাইক্রোবাসটি ছিনতাইয়ের উদ্দ্যেশে গায়ের হলুদের অনুষ্ঠানের কথা বলে গত ৯ তারিখ বিকালে মাইক্রেবাসটি ভাড়া করে। ভাড়া সাড়ে তিন হাজার টাকা। এ জন্য অগ্রিম প্রদান করে ৫শ' টাকা। পরে পথিমধ্যে চালককে হত্যা করে লাশ রাস্তায় ফেলে দেয়। তাদের সঙ্গে তাজুল ইসলাম নামে আরো একজন ছিল। জহিরুল পলাতক। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারকৃত ওমর ফারুকের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চকবাজার, পেশায় সে ট্রাকের হেলপার। মেহেদী হাসান, জুতা ব্যবসায়ী, কবির হোসেন একজন ইলেক্টিশিয়ান ও পলাতক তাজুল ইসলাম গাড়ি চালক। তাদের তিনজনেরই বাড়ি কুমিল্লার বারপাড়া।

মেহেদী হাসান জানায়, তার বাবা কুমিল্লা সড়ক জনপথ বিভাগের একজন গাড়ি চালক। ঘটনার কয়েকদিন আগে থেকেই তারা চার বন্ধু পরিকল্পনা করে নতুন দেখে মাইক্রোবাস ছিনতাই করার। আর বিক্রি করে পাওয়া যাবে মোটা অংকের টাকা। পরিকল্পনা অনুয়ায়ী গত ৯ জানুয়ারি দুপুরে তারা কুমিল্লা থেকে ফেনীতে পৌঁছে। তবে যাওয়ার আগে মেহেদী হাসান মহল্লার দোকান থেকে দুই টাকায় ( চার টুকরা) পাটের রশি কেনে। এরপর ফেনী এএসকে রোডের স্টার লাইন গ্রুপের মাইক্রোবাসটি সাড়ে তিন হাজার টাকায় ভাড়া করে। এসময় বলা হয় তারা কুমিল্লার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় একটি গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে। রেন্টকার ম্যানেজারকে কবির হোসেন অগ্রিম ৫শ' টাকা প্রদান করে। এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা চারজন মাইক্রোবাসে কুমিল্লার উদ্দ্যেশে রওনা হয়। পথিমধ্যে মাইক্রোবাসের তেলের টাকাও পরিশোধ করে কবির। মাইক্রোবাসের সামনে সিটে চালকের পাশে বসে ওমর ফারুক। আর চালকের পেছনের সিটে বসে তাজুল ইসলাম, মাঝে কবির হোসেন তার পাশে বসে মেহেদী হাসান। সে আরো জানায়, পথিমধ্যে প্রস াবের কথা বলে মাইক্রোবাস থামানো হয়। এ সময় তাজুল তার সঙ্গে থাকা গায়ের চাঁদর চালকের গলায় পেছিয়ে পেছনের সিটে নিয়ে যায়। মেহেদী রশি দিয়ে চালকের হাত বেঁধে ফেলে। বাঁচার জন্য চালক আবুল কালাম বলে ওঠে, 'তোমরা আমার ছেলের বয়সি, আমাকে মেরো না'। তার কাঁকুতি-মিনতির মধ্যেই তাজুল তার চেপে ধরে। বাবা-মা বলে চিত্কার দেয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় মেহেদী সামনের সিটে গিয়ে বসে। আর মৃত চালককে জীবিত মানুষের মত বসানো হয় পেছনের সিটে। মাইক্রোবাস চালায় ওমর ফারুক। পরে জগন্নাথপুরে নির্জন স্থানে চালকের লাশটি রাস্তার পাশে ফেলে দেয়া হয়।

কবির হোসেন জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর তারা কুমিল্লার একটি হোটেলে রাতের খাবার খেয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরের দিন শুক্রবার রাতে মাইক্রোবাসটি বিক্রির চেষ্টাকালে ডিবি পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাজুল পালিয়ে যেতে সমক্ষ হয়।

কেন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে এমন প্রশ্নের জবাবে মেহেদী হাসান জানায়, সে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে। তারা যে এলাকায় বসবাস করে (কুমিল্লার বারপাড়া) সে এলাকাটি অপরাধ প্রবণ এলাকা। রয়েছে জমজমাট মাদক ব্যবসা। ফলে পরিবেশের কারণেই ধারা ধীরে ধীরে অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে।

এডিসি মশিউর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কুমিল্লার কোতয়ালী থানায় মামলা হয়েছে। মামলার বাদী নিহত আবুল কালামের ছেলে জালাল উদ্দিন। তিনি আরো বলেন, গ্রেফতার হওয়া পর্যন্ত তিনি জানতেন যে মাইক্রোবাস চালকে হত্যা করা হয়েছে। তার কাছে তথ্য ছিল একটি চোরাই মাইক্রোবাস বিক্রির চেষ্টা চলছে। এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা কোতয়ালী থানার একজন সাব-ইন্সপেক্টর গতকাল মহানগর গোয়েন্দা দফতরে আসামীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ডিবির রিমান্ড শেষে আসামীদের কুমিল্লায় পাঠানো হবে। নিহত আবুল কালামের বাড়ি ফেনী সদর থানার বারাইপুর।

ফেনীর স্টার লাইন গ্রুপের মালিক আলহাজ্ব আলাউদ্দিন জানান, আবুল কালাম মূলত তার চাচার মাইক্রোবাস চালাতেন। তবে ঘটনা শোনার পর তিনি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি পলাতক অপর আসামীদের গ্রেফতারের দাবী জানান।

জেরিনের মৃত্যু নানা রহস্য

জেরিনের মৃত্যু নানা রহস্য


মেডিকেল কলেজছাত্রী মুন জেরিনা আরবিন ওরফে জেরিনের মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। জেরিনের স্বজনদের দাবি, জেরিনকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রেমিক স্মরণের হাতেই খুন হয়েছে জেরিন। অন্যদিকে পুলিশের হাতে আটক কাজী স্মরণের দাবি, রেল লাইন ধরে হাঁটার সময় দুর্ঘটনায় জেরিনের মৃত্যু হয়েছে। ট্রেনের ধাক্কায় মাথায় আঘাত পেয়ে মারা গেছে। তদন্তকারী সংস্থা রেলওয়ে থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন বলেন, এ মৃত্যু নানা রহস্যের তৈরি করেছে। প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার হিসাব মিলছে না। এ কারণে জেরিনের প্রেমিক স্মরণকে প্রধান আসামি করে থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। মামলার বাদী জেরিনের খালু হারুনুর রশীদ। রহস্য উদঘাটনের জন্য স্মরণকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে কানাডার নাগরিক জেরিনের এমন মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশস্থ কানাডিয়ান দূতাবাস উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন দূতাবাসের কর্মকর্তারা। মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানে দূতাবাসের তিন সদস্যের একটি টিম গতকাল ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দূতাবাসের এক তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, জেরিন কানাডার নাগরিক। তার পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানার জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ওদিকে মেয়ের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে কানাডাপ্রবাসী পিতা মীর কায়কোবাদ ও মাতা কানাডার ওন্টারিও থেকে বাংলাদেশে রওনা দিয়েছেন। তাদের মেয়ের লাশ শমরিতা হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। এর আগে গতকাল বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে জেরিনের লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
জেরিনের স্বজনরা জানান, দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে জেরিন সবার বড়। পরিবারের সব সদস্য কানাডায় থাকলেও জেরিন ঢাকাতেই পড়াশোনা করছিলেন। রাজধানীর উত্তরা উইমেন মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। থাকতেন ওই কলেজের হোস্টেলে। জেরিনের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, ২০০৬ সালের ২৯শে ডিসেম্বর ফেসবুকের ব্যক্তিগত পেজ খোলেন জেরিন। ওই দিনই বাংলাদেশী যুবক মহীউদ্দীন স্মরণ ওরফে কাজী স্মরণ ইংল্যান্ড প্রবাসী পরিচয়ে জেরিনকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান। জেরিন বন্ধু তালিকায় গ্রহণ করেন তাকে। এরপর প্রায় প্রতিদিনই তাদের মধ্যে কথোপকথন চলে। ব্যক্তিগত আলাপচারিতার ফাঁকে ফাঁকে পারিবারিক খোঁজ-খবর নেন উভয়ে। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। সেই সূত্র ধরে উভয় পরিবারে ঘনিষ্ঠতাও বাড়তে থাকে। স্মরণের মা দাবি করেন, ঘটনার আগে ১১ই জানুয়ারি জেরিন দক্ষিণ খান থানাধীন চালবন এলাকায় তাদের বাসায় গিয়েছিলেন। দুপুরের খাবার খেয়ে দীর্ঘক্ষণ গল্প করেছিলেন। পরে হোস্টেলে চলে যান। তিনি বলেন, আমার ছেলে ইংল্যান্ড থেকে বিবিএ পাস করেছে। বর্তমানে একটি কল সেন্টারে চাকরি করছে। জেরিনের মাতার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। শিগগিরই দেশে ফিরে উনারা পারিবারিকভাবে আংটি পরাবেন বলে জানিয়েছিলেন।
জেরিনকে সন্দেহ করতো: কারণে-অকারণে জেরিনকে সন্দেহ করতো স্মরণ। কোথায় যায়, কার সঙ্গে কথা বলে, এমনকি ফেসবুকে তার বন্ধু তালিকা নিয়েও তাদের মধ্যে একাধিকবার মনোমালিন্য হয়েছে। সর্বশেষ গত ৩১শে ডিসেম্বর থার্টি ফার্স্ট নাইটে তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়েছিল। জেরিনের কলেজ সূত্র জানায়, সমপ্রতি কে বা কারা স্মরণকে বলেছিল, তোর কানাডিয়ান প্রেমিকা (জেরিন) তোকে শুধু ব্যবহার করছে। সিঁড়ি হিসেবে কাজে লাগিয়েছে। পড়াশোনা শেষ হলেই অন্য ছেলে নিয়ে চম্পট দেবে। এরপর থেকেই তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সহপাঠীদের ধারণা, জেরিনকে ডেকে নিয়ে কৌশলে হত্যা করা হয়েছে। পরে রেল লাইনে ট্রেনের ধাক্কার নাটক সাজিয়েছে।
পুলিশের সন্দেহ: এদিকে জেরিনের মাথার পেছনে একটি আঘাত দেখে পুলিশের মনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তদন্ত সূত্র জানায়, জেরিন হেড ইনজুরিতে মারা গেছে। ট্রেনের ধাক্কায় মারা গেলে মৃতের শরীরে আরও আঘাত থাকার কথা। এছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশ টুকরা টুকরা হওয়ার কথা। কিন্তু জেরিনের মাথা ছাড়া অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ওদিকে দুর্ঘটনা ও দুর্ঘটনাস্থল নিয়েও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে স্মরণ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় তারা দু’জন দুই পথে হাঁটছিলেন। একবার বলেছেন, বিশ্বরোড দিয়ে উত্তরা যাচ্ছিলেন। এ সময় তাদের সামনে দিয়ে ঢাকাগামী একটি ট্রেন জেরিনকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। আবার বলেছে, রেডিসন হোটেলের পেছন দিকে রেল লাইনের দু’পাশে দু’জন দাঁড়িয়েছিলেন। তবে কেন দু’পাশে দু’জন ছিলেন সে সম্পর্কে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। এছাড়া ট্রেন ধাক্কা দেয়ার আগে তিনি কেন বাঁচাতে যাননি সে প্রশ্নও এড়িয়ে যান। আহত অবস্থায় কুর্মিটোলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নথিপত্রে স্মরণ নিজেকে জেরিনের স্বামী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বিয়ের কথা অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে জেরিন ও স্মরণের ফেসবুক পেজে উল্লেখ আছে, ‘উই গট মেরিড’। বিয়ের তারিখ ২২শে মে ২০০৮। জেরিনের ফেসবুকের ফ্রেন্ডশিপ অপশনে ২০১২ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর লেখা হয়েছে, ইন রিলেশনশিপ উইথ কাজী স্মরণ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রেলওয়ে থানার এসআই আলমগীর হোসেন বলেন, জেরিনের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার লক্ষণ খুঁজে পাওয়া যায়নি তার শরীরে। এ কারণে গ্রেপ্তারকৃত স্মরণের শনাক্ত করা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে সে একেকবার একেক জায়গা দেখিয়েছে।
রেললাইনে দাঁড়িয়ে ঝগড়া: রেললাইনে দাঁড়িয়ে ঝগড়া করেছিলেন মেডিকেল কলেজের ছাত্রী জেরিন ও তার প্রেমিক স্মরণ। ঝগড়ার এক পর্যায়ে জেরিনকে বিমানবন্দরগামী ট্রেনের নিচে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে এমন তথ্য পেয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জিআরপি থানার এসআই আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী জেরিনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
জেরিনের খালু শামীম পারভেজ বলেন, জন্মসূত্রেই জেরিন কানাডার নাগরিক। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন তার ছোটবেলা থেকেই। তবে কানাডার মেডিকেল কলেজে চান্স না পেয়ে গত বছর সে বাংলাদেশে আসে। ভর্তি হয় উত্তরার উইমেন্স মেডিকেল কলেজে। সে মেডিকেল কলেজের হোস্টেলেই থাকতো। তিনি আরও বলেন, জেরিনের একজন সহপাঠীর চাচাতো ভাই স্মরণ। এই সুবাদেই সম্প্রতি স্মরণের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে স্মরণ মাদকাসক্ত হওয়ার বিষয়টি জানতে পারার পর সম্প্রতি তাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। দু’দিন আগে জেরিন রামপুরাস্থ তার খালুর বাসায় বেড়াতে গিয়েছিল। স্মরণই তাকে চাপ প্রয়োগ করে বাসা থেকে বের করে নিয়ে আসে। পরে সে জেরিনের খালাতো ভাই আদিবকে ফোন করে জানায় জেরিন বাস এক্সিডেন্টে আহত হয়েছে। জন্মের পর জেরিন সর্বপ্রথম বাংলাদেশে আসে ১৯৯৪ সালে। গত বছরই সে দ্বিতীয় বারের মতো বাংলাদেশে এসেছে। কানাডার টরেন্টোর ক্রিসেন্ট টাউন স্কুলেই সে লেখাপড়া করতো। এজন্য এর আগে জেরিনের সঙ্গে তার পরিচয়ের কোন সুযোগই ছিল না। স্মরণ অবশ্যই জেরিনের ফেসবুক আইডি হ্যাক করেছিল। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অবশ্যই সে স্বীকার করবে। গত শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজধানীর বিশ্বরোড এলাকার রেললাইনে ট্রেনের ধাক্কায় জেরিনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়।

Friday, January 11, 2013

বড় লোক হওয়ার জন্য ৫শ' টাকার চাকু! মিরপুরে নারী আইনজীবীর হত্যা :দুই আসামি গ্রেফতার

বড় লোক হওয়ার জন্য ৫শ' টাকার চাকু!

মিরপুরে নারী আইনজীবীর হত্যা :দুই আসামি গ্রেফতার


স্বপ্ন বড় লোক হবার। এজন্য গার্মেন্টসে চাকরি দিয়ে শুরু। না সেখানেও ফলাফল শূন্য। এরপর গার্মেন্টসের চাকরি ছেড়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসা। এবার চেষ্টা কোন বিত্তবানের বাড়ি দারেয়ান হওয়া অথবা প্রাইভেটকার চালকের চাকরি। সফল হয়নি। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে এমিকন সিকিউরিটি কোম্পানিতে গার্ডের চাকরি জোটে। আর সিকিউরিটি কোম্পানিতেই পরিচয় সমমনা যুবক রবিনের সঙ্গে। তারা কোম্পানি মালিককে অনুরোধ করে একই বাড়িতে দায়িত্ব নেয়। এরপর পরিকল্পনা শুরু করে টার্গেট পূরণে। প্রথম পরিকল্পনা ছিল প্রাইভেট চুরির। ব্যাটে বলে তা মেলেনি। এরপর টার্গেট করে ডাকাতির। ডাকাতির জন্য প্রয়োজন অস্ত্র। কিন্তু আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করাও দুঃসাধ্য। এ অবস্থায় নিরাপত্তা (গার্ড রুম) রুমের সিলিং ফ্যান বিক্রি করে ৫শ টাকা দিয়ে কেনে অত্যাধুনিক চাকু। আর তা দিয়ে প্রথম অভিযান শুরু করে গত ৩১ ডিসেম্বর সকালে। বাড়ির তিন তলার বাসিন্দা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর শিক্ষক মাহবুব-ই-সাত্তারের ফ্ল্যাটে। হত্যা করে তার স্ত্রীকে। লুট করে ২০ হাজার টাকা ও ৫শ ডলারসহ অন্যান্য মালামাল। নিজের সম্পর্কে এভাবে বক্তব্য দেয় আইনজীবী রওশন আক্তার খুনের ঘটনায় জড়িত রাসেল ওরফে সাকিব। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দুইটি টিম বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহ থেকে সাকিব ও তার সহকর্মী সোলায়মান ওরফে রবিন ওরফে তাজুলকে গ্রেফতার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বিস্তারিত বর্ণনা করে। ডিবি পুলিশ গতকাল তাদের ৬ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।

গত ৩১ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের এ ব্লকের ৩ নম্বর সড়কের ৪ নম্বর শেলটেক টিউলিপ ভবনের তিন তলার একটি ফ্ল্যাটে খুন হন আইনজীবী রওশন আক্তার। রবিন ও রাসেল ঐ বাড়ির নিরাপত্তা কর্মী ।

ডিসি ডিবি (উত্তর) মোল্লা নজরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতরা অল্প সময় বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রথমে গাড়ি চুরি করার পরিকল্পনা করেছিল। গাড়ি চুরিতে ব্যর্থ হয়ে তারা স্বর্ণ ও টাকা লুটের জন্য হত্যা করার পরিকল্পনা করে।

তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারকৃতরা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে মৌচাকে সিকিউরিটি নিয়োগকারী একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের কাছে ১০ হাজার টাকা জমা রেখে ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে এমিকন সিকিউরিটি কোম্পানিতে চাকরি নেয়। শেলটেক টিউলিফ ভবন ফ্ল্যাটের ফ্ল্যাট মালিক সমিতি নাম ঠিকানা যাচাই-বাছাই না করে এমিকন সিকিউরিটি কোম্পানি হতে সিকিউরিটি ভাড়া করেছিল।

ডিবি এডিসি মশিউর রহমান বলেন, রবিন ও রাসেল গত ১০ ডিসেম্বর সিকিউরিটি কোম্পানির পক্ষ থেকে শেলটেক টিউলিপ এপার্টমেন্টে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে দায়িত্ব পায়। এরপরই তারা এপার্টমেন্টের কোন ফ্ল্যাটে চুরির পরিকল্পনা করতে থাকে। এরই ধারাবাহিতায় গত ১৮ ডিসেম্বর সিদ্ধান্ত নেয় আইনজীবী রওশন আক্তার ফ্ল্যাটে চুরি করার। পরিকল্পনা মোতাবেক গার্ড রুমের সিলিং ফ্যান বিক্রি করে ৫০০ টাকা দিয়ে চাকু কেনে। ঘটনার দিন সকালেই রওশন আক্তারের স্বামী ও ডাক্তার মেয়ে বাসা থেকে বের হন। এ সুযোগে তারা রওশন আক্তারের ফ্ল্যাটে গিয়ে কলিংবেল টেপে। দরজা খোলেন রওশন আক্তার।

দরজা খোলার পরপরই তারা ভেতরে ঢোকে। রবিন বালিশের কভার দিয়ে রওশনের মুখ চেপে ধরে। আর রাসেল চাকু দিয়ে ভয় দেখায়। এ অবস্থায় তারা দুজনে মিলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর আলমারি ও ওয়ারড্রব ভেঙ্গে ২০ হাজার টাকা, ৫শ মার্কিন ডলার, কয়েকটি ঘড়ি, কয়েকটি স্বাক্ষর করা ব্ল্যাঙ্ক চেক নিয়ে গার্ড রুমে যায়।

তিনি আরও বলেন, হত্যার এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি করতে গিয়ে রাসেলের হাত কেটে যায়। তারা নীচে এসে গার্ড রুম থেকে একটি ছেঁড়া লুঙ্গির অংশ দিয়ে হাত বাঁধার সময় নীচের গাড়ির একজন চালক তা দেখে ফেলে। এ সময় চালক তাদের জিজ্ঞাসা করে, 'কী হয়েছে'? তখন রাসেল ও সোলায়মান জানায়, তারা উপরে খেলতে গিয়ে হাত কেটে ফেলেছে। এর কিছু সময় পর তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ডিবির সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ও আবু তোরাব বুধবার নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন লামা এলাকায় এবং ময়মনসিংহের চরপাড়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে সোলায়মান ওরফে রবিন ওরফে তাজুল (১৯) ও রাসেল ওরফে সাকিবকে গ্রেফতার করেন।

Thursday, January 10, 2013

স্ত্রী ও তিন সন্তান আছে, প্রতিবাদ করায় দ্বিতীয় স্ত্রীকে শিকলবন্দি

স্ত্রী ও তিন সন্তান আছে, প্রতিবাদ করায় দ্বিতীয় স্ত্রীকে শিকলবন্দি


স্বামী আগে বিয়ে করেছেন। আছে স্ত্রী ও তিন সন্তান। পরে আবার বিয়ে। দ্বিতীয় স্ত্রী জেনে ফেলেন আগের বিয়ের খবর। দ্বিতীয় স্ত্রীর প্রতিবাদ। প্রতিবাদের শাস্তি ১০ দিন ধরে স্ত্রীকে শিকলবন্দি ও নির্যাতন। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মানিকসার গ্রামে ঘটেছে এ অমানবিক ঘটনাটি। দ্বিতীয় স্ত্রী রাবেয়া বেগমকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করে তার মায়ের হেফাজতে দিয়েছে পুলিশ। আর স্বামী নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। তবে আজ বৃহস্পতিবার উপজেলার পয়ালগাছা ইউনিয়ন পরিষদের অফিসে বিষয়টির 'সুরাহা' করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

রাবেয়ার পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মানিকসার গ্রামের ছায়েদ আলীর ছেলে নাসির উদ্দিন তার স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে-এ তথ্য গোপন রেখে প্রায় এক বছর আগে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের আবদুল হান্নানের মেয়ে রাবেয়া বেগমকে (২০) প্রেমের জালে আটকে বিয়ে করে। বিয়ের পর রাবেয়া স্বামী নাসিরের স্ত্রী-সন্তান থাকার বিষয়টি জেনে গেলে এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে নাসির উদ্দিন রাবেয়াকে যৌতুকের জন্য চাপ দিচ্ছিল। যৌতুক দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় নাসির প্রায়ই শারীরিক নির্যাতন চালাতো রাবেয়ার ওপর। বাধ্য হয়ে রাবেয়া তার বাবার বাড়ি চলে যায় এবং স্বামীর বিরুদ্ধে চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করে। পরে রাবেয়া বাবার বাড়িতে থাকা ও ভরণ-পোষণ দেয়াসহ কিছু শর্তে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে স্বামী নাসিরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি তুলে নেয়।

গত ডিসেম্বরের শেষদিকে রাবেয়া তার মামার বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে বেড়াতে যায়। খবর পেয়ে নাসির উদ্দিন ওই বাড়িতে গিয়ে কৌশলে রাবেয়াকে তার বাড়িতে নিয়ে আসে। শুরু হয় আবারো রাবেয়ার উপর নির্যাতন। কনকনে শীতের মধ্যে ঘরের মাটির মেঝেতে খড় বিছিয়ে রাবেয়াকে থাকতে দেয় নাসির। এ সময় পায়ে শিকল বেঁধে ঘরের খুঁটির সাথে আটকে নির্যাতন চালাতো রাবেয়ার উপর। নির্যাতনের বিষয়টি জানাজানি হলে গত সোমবার দুপুরে বরুড়া থানা পুলিশ রাবেয়া বেগমকে উদ্ধার করে তার মা রহিমা বেগমের হাতে তুলে দেয়।

বরুড়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গতকাল বুধবার বিকালে জানান, বিষয়টি একেবারে পারিবারিক ও স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপার, তাই এ বিষয়ে মামলা না হওয়ায় রাবেয়ার স্বামী নাসিরকে গ্রেফতার করা যায়নি এবং গৃহবধূকে তার মায়ের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার (আজ) পয়ালগাছা ইউপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে চেয়ারম্যান মহিন উদ্দিন মজুমদার বাবুলসহ স্থানীয়রা বসে বিষয়টির সুরাহা করার কথা রয়েছে।

৯০ বছরের বরকে ১৫ বছর বয়সী স্ত্রীর ডিভোর্স

৯০ বছরের বরকে ১৫ বছর বয়সী স্ত্রীর ডিভোর্স


সৌদি আরবে ৯০ বছরের বৃদ্ধ স্বামীর সঙ্গে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদের রায় দিয়েছে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি আদালত। গত সপ্তাহে এ রায় প্রদান করে আদালত। গত কয়েক মাস যাবৎ ওই বৃদ্ধের সঙ্গে তার স্ত্রীর পরিবারের মধ্যে তিক্ত সম্পর্ক বিরাজ করছিল। ওই বৃদ্ধের প্রথম স্ত্রীর বয়স ৮০ বছরের বেশি। তাকে রেখেই নতুন আরেকটি বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ঘটনার শুরু যখন হবু বর ওই কিশোরীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কনেকে পণ বাবদ ৪৫ হাজার রিয়াল দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান ওই কিশোরীর পিতামাতাকে। একই সঙ্গে বিয়ের অনুষ্ঠানের যাবতীয় খরচের ভার নেন তিনি। কনের পিতা ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধের প্রস্তাবে সম্মত হন। অনুষ্ঠানের পর কনে নিজেকে একটি ঘরে আটকে রাখে। স্বামীকে সেই ঘরে ঢুকতে দেয়নি সে। সারারাত ধরে ওই ঘরেই কান্নাকাটি করে কাটায় সে। তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় কাতর কিশোরী কনে তার বিয়ের পোশাক ছিঁড়ে ফেলেছিল। পরের দিন সকালে বর তার স্ত্রীর পরিবারকে খবর দেয়। কনের আত্মীয়-স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ঘরের দরজা খোলে সে। পরিবারের সদস্যরা কনেকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়। বৃদ্ধের কোন আবেদনে সাড়া দেয়নি তারা। স্ত্রীকে দাবি করতে তার বাড়িতে গেলে তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। সে সময় পণের অর্থ ফেরত চান বৃদ্ধ বর। কনের পরিবার জানায়, তারা পণের সব অর্থ খরচ করে ফেলেছে। তাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার মতো কোন অর্থ নেই। শেষ পর্যন্ত মামলার আশ্রয় নেন ওই বৃদ্ধ। কয়েক দফা শুনানির পর আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদ ও বৃদ্ধকে তার পণের টাকা ফিরিয়ে দেয়ার রায় দেয়া হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গালফ নিউজ। অবশ্য ৯০ বছর বয়সী বর বলছেন, মামলায় এখনও পথ খোলা আছে। কারণ, মামলাটির রায় দিয়েছেন একটি গোষ্ঠীর নেতা। তিনি সরকারি বিচারক নন। তিনি বলেন, তার কাছ থেকে পণের টাকা নেয়াটা ছিল কনের পরিবারের চক্রান্ত। তিনি চান স্ত্রী তার বাড়িতে ফিরে আসুক। এদিকে কনেকে রিয়াদে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। বরের অভিযোগ, তার নাগালের বাইরে পাঠাতেই এটা করা হয়েছে।

এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের রিপোর্ট- সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মানতে ব্যর্থ সরকার

এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের রিপোর্ট- সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মানতে ব্যর্থ সরকার


নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে স্বাধীন করা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দেয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থ হয়েছে। ১৯৯৯ সালের ২রা ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দিয়েছিল। তাতে বিচার বিভাগকে কিভাবে আলাদা করা যায় সে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার তা মানতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে স্বাধীন বিচার বিভাগ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার বাধ্য। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। ৮ই জানুয়ারি এ সংগঠনের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ‘বাংলাদেশ: হোয়াই শুড জুডিশিয়াল ইন্ডিপেন্ডেন্স বি ডিলেইড এনি ফারদার?’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়। এতে বলা হয়, ১৯৮৫ সালে ইতালির মিলানে অনুষ্ঠিত অপরাধ প্রতিরোধ ও অপরাধীদের সঙ্গে আচরণ সম্পর্কিত জাতিসংঘের সপ্তম কংগ্রেসে গৃহীত বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মূল নীতি অনুযায়ী সমস্ত সদস্য রাষ্ট্র তার দেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাধ্য। কিন্তু বাংলাদেশে বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়াতে লড়াই করছে। এ দেশটির জন্মের সময় থেকেই এই লড়াই চলছে। বিশেষ করে মাসদার হোসেনের নেতৃত্বে বিচারিক একটি গ্রুপ ১৯৯৫ সালে এ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে হাইকোর্ট ডিভিশনে তোলেন। সেই থেকে এ বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। মাসদার হোসেন এখন জেলা ও দায়রা জজ। ১৯৯৯ সালের ২রা ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে নির্দেশনা দিয়েছে বিচার বিভাগকে কিভাবে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করা যায় তা নিয়ে। তাতে একে কিভাবে প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক সমর্থন দেয়া যায় তা-ও বলা হয়। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার সুপ্রিম কোর্টের সেই নির্দেশনা মানতে ব্যর্থ হয়েছে। যদি আদালতের ওই ডিক্রি মানা হতো তাহলে তাতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অনেকটাই ফিরে আসতো। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়টি ফের সুপ্রিম কোর্ট আমলে নিয়েছেন। আদালত বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের বেতন বাড়িয়ে ও তাদের অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি করে বিচার বিভাগের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারকে নির্দেশনা দিয়েছেন। দৃশ্যত, নীতিনির্ধারক পর্যায়ের চাপে সরকার আদালতের সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার পথে। এতে বলা হয়, ১৯৮৫ সালে মিলানে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ওই সম্মেলনে প্রথম যে মৌলিক নীতি গৃহীত হয়েছিল তাতে বলা হয়েছে- রাষ্ট্র কর্তৃক বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হতে হবে এবং তা সংবিধান অথবা দেশের আইন দ্বারা সুরক্ষিত হতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখানো ও তা রক্ষা করা সব সরকার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার উন্নয়ন প্রক্রিয়া কিভাবে এগিয়ে গেছে ইতিহাস থেকে সে বিষয়ে অনুপ্রেরণা নিতে পারে বাংলাদেশ সরকার। অবশ্য যদি তারা তা মনে করে। কর্নওয়ালিস কোড অনুযায়ী, ১৭৯৩ সালে তৎকালীন বঙ্গে নির্বাহী বিভাগ থেকে জেলা জজকে স্বাধীন করা হয়। ওই বঙ্গ থেকেই আজকের এই বাংলাদেশের উৎপত্তি। কর্নওয়ালিস কোড যখন অনুসরণ করা হতো তখন জেলা কালেক্টরেট থেকে জেলা জজের কাছে বিচারিক ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশের জাতীয় এনসাইক্লোপেডিয়া, যার নাম বাংলাপিডিয়া- তাতে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক উত্তরাধিকার রীতিতে বেতন ও সম্মান (স্ট্যাটাস)-এর দিক দিয়ে ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টরের চেয়ে জেলা জজদের উঁচুতে স্থান দেয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার গ্যারান্টি দেয় এমন বেশ কিছু ধারা আছে বর্তমান সংবিধানে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয় ২২ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ‘নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ। রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।’ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার বাধ্য তা এই ধারায় পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সংবিধানের ৩৫ (৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ‘ফৌজদারী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচার লাভের অধিকারী হইবেন।’ এখানে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীন বিচার বিভাগ পাওয়ার মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে। সংবিধানের ৯৪ (৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ‘এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারক বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন।’ এখানে চূড়ান্তভাবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ধারণায় অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে অখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে।
আইনের শাসনের অধীনে সত্যিকারের গণতন্ত্রের ক্রমবিকাশ ও তার পরিপক্বতার জন্য স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রয়োজন। বাংলাদেশ গত চার দশক একটি স্বাধীন দেশ। এরই মধ্যে তাদের এই শিক্ষা পাওয়া ও তা অর্জন করা উচিত ছিল। কিন্তু তার পরিবর্তে বিচার বিভাগ রয়েছে ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণে। এর ফলে বিরোধী রাজনীতিকদের হয়রানি করা হয়। সুশীল সমাজের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করা হয় ও দায়মুক্তিকে উৎসাহ দেয়া হয়। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশের পুরো বিচারিক পরিমণ্ডলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠান বলতে যা হওয়ার কথা তা থেকে অনেক দূরে রয়েছে ফৌজদারী বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এর ফলে নিখোঁজ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ব্যাপক নির্যাতন, নিরাপত্তা হেফাজতে অন্যান্য রকম নির্যাতন হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাহী বিভাগের শক্তিশালী অঙ্গ। এসব মানবাধিকার ও সুশীল সমাজ নিপীড়নের বিচারে নির্বাহী বিভাগ থেকে মুক্ত না হওয়ায় বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা যন্ত্র অপারগ, অপ্রস্তুত ও কম শক্তিশালী। এতে আরও বলা হয়েছে, এর ফলে দেশে ন্যায়বিচারের ধারণায় প্রচণ্ড ধস নেমেছে। বিচার বিভাগকে স্বাধীনতা দেয়া না হলে অথবা বিচার বিভাগ আদর্শ মানে না এলে বিচার নিয়ে জনগণের আস্থা শক্তিশালী হবে না। কিন্তু বাংলাদেশে এ চিত্র তার ঠিক উল্টো।

Tuesday, January 8, 2013

৪ আসামির রিমান্ড শেষ, নির্যাতিত ছাত্রীকে দেখতে গেলেন ড. মিজান ও কাদের সিদ্দিকী

৪ আসামির রিমান্ড শেষ, নির্যাতিত ছাত্রীকে দেখতে গেলেন ড. মিজান ও কাদের সিদ্দিকী

 

টাঙ্গাইলে ছাত্রী নির্যাতন ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ৪ আসামির রিমান্ড শেষ হয়েছে গতকাল। রিমান্ড শেষে আদালতের নির্দেশে তাদের জেলহাজতে রাখা হয়েছে। এদিকে, নির্যাতিত ছাত্রীকে দেখতে গতকাল হাসপাতালে গিয়েছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান। ও বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান ও কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। সোমবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে এসে মেয়েটির খোঁজ-খবর নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের ড. মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনা বলার ভাষা আমার নেই! তিনি বলেন, ছাত্রীটি মানসিক ভারসাম্যহীনভাবে জীবন-যাপন করছে। ঘুমিয়ে থাকার কারণে কিশোরীটির সঙ্গে তার কথা হয়নি উল্লেখ করে ড. মিজান বলেন, মেয়েটির মা আমাকে দুটো বাক্য বলেছেন। তা হলো- আল্লাহর ভরসায় ফেলে রাখলে বিচার হয় না। মানুষের বিচার মানুষকেই করতে হবে। এখন বিচার বিভাগকে নড়েচড়ে বসার সময় এসেছে। তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষের বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা আছে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, এ কথা মুখে নয় কার্যকর করতে হবে। এর আগে সকাল ১১টা ২০ মিনিটে মেয়েটিকে দেখতে হাসপাতালে যান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। এ সময় তিনি বলেন, এখন মানুষের অস্তিত্ব নেই। মানুষ অন্যায়ের বিচার পায় না। এই মেয়েটিও বিচার পাবে না। কাদের সিদ্দিকী বলেন, মেয়েটিকে নির্যাতনের মাধ্যমে সমগ্র জাতিকে নির্যাতন করা হয়েছে। এই সময় বীথিকে এক দিন রিমান্ড নেয়ার পর আর রিমান্ড না চাওয়ায় পুলিশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এই দেশে ছাত্র, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তি, শিক্ষকদের কোন অভিযোগে আটক করা হলে ৭ থেকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। কিন্তু ঘটনার মূল বীথিকে মাত্র এক দিনের রিমান্ড নেয়া হয়েছে। বীথিকে আরও কিছু দিনের রিমান্ডে নিলে হয়তো আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতো।
এদিকে টাঙ্গাইলের নির্যাতিত মেয়েটির অবস্থা এখন উন্নতির দিকে বলে জানালেন ওসিসির করডিনেটর ডা. বিলকিস বেগম। তিনি বলেন, মেয়েটি মানসিকভাবে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছে সে। ডা. বিলকিস আরও জানান, মেয়েটির মুখে খাবার খেতে কষ্ট হচ্ছে তাই তাকে নাক দিয়ে রাইলস টিউব দিয়ে তরল খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। এদিকে গত রোববার মেয়েটির এইচআইভি পারীক্ষা করা হয়েছে। যার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে বলে জানান তিনি। এদিকে সাভারে গণধর্ষণের শিকার ছাত্রী গত রোববার ওসিসি ত্যাগ করেছে বলে ডা. বিলকিস বেগম জানান। তিনি বলেন, ওই মেয়েটির মেডিসিনের প্রয়োজন হয়নি তবে তাকে কাউন্সিলিং করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্টাফ রিপোর্টার, টাঙ্গাইল থেকে জানান, টাঙ্গাইলের মধুপুরে সংগঠিত গণধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কয়েকটি সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশসহ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকার মানুষ ও সংগঠন। গতকাল দুপুরে ব্র্যাক, সেবক, ডেমোক্রেসি ওয়াচ, পেইস, সংযোগ, পল্লী সমাজ, পিডিএস, নিরাপদ সড়ক চাই ও আসকসহ বিভিন্ন সংগঠন শহরের নিরালা মোড় এলাকায় মানববন্ধন করে। পরে তারা মৌন মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে। এ সময় ব্র্যাকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক গোলাম সরোয়ার, সমন্বয়কারী মুনির হোসেন খান, চিত্তরঞ্জন সরকারসহ অনেকেই বক্তব্য রাখেন। একই দাবিতে নিজেরা করি, মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, ভূমিহীন সমিতি ও গালা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপি প্রদানের আগে নিজেরা করি’র ঢাকা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মো. শামছুল আলম, মো. আবদুল ওয়াদুদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। স্মারকলিপি দুটি গ্রহণ করেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাহবুব আলম। এদিকে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় চার আসামিকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে গত রোববার টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তকারী মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান আসামিদের গত রোববার টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করেন। এ সময় জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক আসামিদের জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মজিবর রহমান জানান, আসামিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলার প্রয়োজনে যা দরকার তার সবই করা হবে। উল্লেখ্য, গত ২রা জানুয়ারি টাঙ্গাইলের ‘খ’ অঞ্চল আমলী আদালত আসামি হারুণ অর রশিদ, নুরুজ্জামান, মনিরুজ্জামান মনি ও শাজাহান আলীকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। মামলার অপর আসামি ধর্ষিতার বান্ধবী বীথি আক্তারকে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

Sunday, January 6, 2013

মুখ খুলেছেন ধর্ষিতার সেই পুরুষ বন্ধু

মুখ খুলেছেন ধর্ষিতার সেই পুরুষ বন্ধু


দিল্লিতে বাসে গণধর্ষণের সময় ধর্ষিতার সঙ্গে থাকা পুরুষ বন্ধুটি মুখ খুলেছেন। তিনি বলেছেন, তার ও তার বান্ধবীর সঙ্গে নৃশংস নির্যাতন চালানোর সময় তাদের কাপড়চোপড় কেড়ে নেয়া হয়। এ সময় তিনি গাড়ির জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী লোকজন ও পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশ ও অন্য কেউ তাদের সে ডাকে সাড়া দেয়নি। এর ফলে ওই নরপশুদের নৃশংস নির্যাতনের শিকার হন তার বান্ধবী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ভারতে তোলপাড় চলছে। গতকাল এ খবর দিয়েছে বিবিসি। এতে বলা হয়, তিনি ভারতের একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে বলেছেন, নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেষ্টা চালিয়ে তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। নির্যাতনে তিনিও অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। অন্যদিকে, ভারতে ধর্ষণ রোধে সরকার আইনে পরিবর্তন আনাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে চিন্তা করছে। দিল্লিতে নির্যাতিত তরুণীর ২৮ বছর বয়সী বন্ধুটি প্রথম নির্যাতনকারীদের আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছিল। তাদের আক্রমণে তার পা ভেঙে যায়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে তিনি চেতনা হারিয়ে ফেলেন। এখনও তার সেই ভয়াবহ ঘটনার আতঙ্ক কাটেনি। সেই তরুণ মুখ খুলেছেন দিল্লিতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে। তাতেই এমন সব বিষয় উঠে এসেছে। তিনি বলেছেন, এক পর্যায়ে কৌশলে সেই বাস থেকে তিনি কোনভাবে প্রাণে বেঁচে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন। ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এদিকে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল শিন্দে স্বীকার করেছেন, নারীদের ওপর অপরাধ রুখতে দেশটিতে পুলিশের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতার অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, নারীদের ওপর যেকোন হয়রানি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে বিশেষ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নারীরা যাতে নিরাপদে থাকতে পারেন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারেরই। দিল্লিতে সামপ্রতিক গণধর্ষণের ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেশটির সব রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং পুলিশ প্রধানদের নিয়ে বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই বৈঠকে ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া নিয়ে যেমন আলোচনা হয়েছে, তেমনি নারীদের ওপরে কোন অপ্রাপ্তবয়স্ক যদি নির্যাতন চালায়, তখন কমবয়সীদের বিচারের জন্য বিশেষ আইন বদল করে অপ্রাপ্ত বয়স্কের বয়সসীমা ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। কারণ দিল্লির সামপ্রতিক গণধর্ষণে অভিযুক্তদের একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক। কিন্তু সে-ই দু’বার ধর্ষণ ও তারপরে নির্যাতিতা তরুণীর ওপরে সব চেয়ে বেশি শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রগুলো জানিয়েছে। এদিকে ঘটনার ব্যাপারে আটক পাঁচজনের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

Saturday, January 5, 2013

নীরব প্রতিবাদ

নীরব প্রতিবাদ


জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একজন নারী একটি কাগজে 'নির্বাক আমি প্রতিবাদের ভাষা নেই, শেম শেম' লিখে দাঁড়িয়েছিলেন গত বৃহস্পতিবার। পরের দিন শুক্রবারও তিনি একই জায়গায় দাঁড়ান আর একটি কাগজে 'স্টপ রেপ' লিখে। তবে সেদিন তার সঙ্গে দাঁড়ান বিভিন্ন পেশার আরও দশজন মানুষ। টাঙ্গাইলের ধর্ষণের ঘটনা আমাদের আলোড়িত করেছে। আমরা সবাই এদের মতো করে সমাজ থেকে ধর্ষণ দূর করতে চাই।

প্রতিদিনের মতোই জজ কোর্টে নিজের রুমের পত্রিকা পড়তে শুরু করেন অ্যাডভোকেট শাহনাজ আক্তার শিল্পী। একটি হেড লাইনে তার চোখ আটকে যায় 'নীরব সুধিসমাজ নিশ্চুপ নারীবাদ'। প্রতিবেদনটি পড়ে শাহনাজ শিহরিত হন। পাশেই টাঙ্গাইলে কিশোরী ধর্ষণ নিয়ে আলোচনা করছিলেন অন্যরা। যতই সময় গড়াচ্ছিল ততই নিজে কিছু করার তাগিদ বোধ করছিলেন তিনি। কাজ গুছিয়ে বিবেকের ডাকে সাড়া দিয়ে শাহনাজ একটি কাগজে লিখেন 'নির্বাক আমি প্রতিবাদের ভাষা নেই। শেম শেম' তা নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে। গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা অবধি দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। আশপাশ ঘিরে উত্সুক জনতার সঙ্গে যুক্ত হন অনেকেই এই নীরব প্রতিবাদে।

Friday, January 4, 2013

আরও দুই মামলায় গ্রেপ্তার ফখরুল

আরও দুই মামলায় গ্রেপ্তার ফখরুল


আবারও দু’টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। একই সঙ্গে এ দু’টি মামলায় তাকে ১৭ দিনের রিমান্ড দেয়ার আবেদন করা হয়েছে।
গতকাল ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে তাকে গ্রেপ্তারে আবেদন করা হয়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। মতিঝিল থানার একটি মামলায় মির্জা ফখরুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া সূত্রাপুর থানায় মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালত জামিন ও রিমান্ড শুনানির দিন ৮ই জানুয়ারি ধার্য করা হয়েছে। সেদিন ফখরুলের উপস্থিতে এ শুনানি হবে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার পল্টন ও শেরেবাংলা নগর থানার পৃথক দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান মির্জা ফখরুল। জেল থেকে বের হওয়ার আগেই তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Thursday, January 3, 2013

স্বামীর কাছে না যাওয়ায় শিকলে বেঁধে নির্যাতন

স্বামীর কাছে না যাওয়ায় শিকলে বেঁধে নির্যাতন


মাদারীপুর শহরের কালীবাড়ী এলাকায় কুলসুম আক্তার নামের ৫ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে বিয়ে দেয়ার পরে স্বামীর কাছে না যাওয়ায় ঘরের ভেতরে বেঁধে রেখে তিন দিন ধরে নির্যাতন চালিয়েছে মা, মামা, বড় ভাই ও বোন। বিষয়টি জানাজানি হলে সোমবার স্থানীয় সাংবাদিক ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শহরের কালীবাড়ী এলাকায় গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। এ সময় কুলসুমের ভাই বাধা দিলে বিষয়টি পুলিশসহ জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। পরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঝুমুর বালা পুলিশসহ ঘটনাস্থলে এসে কুলসুমকে উদ্ধার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বড় বোন ফাতেমা, মামা আলী আজগর, ঝুমুরের কথিত স্বামী রেজাউল করিমকে আটক ও প্রত্যেককে ১ মাসের কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। অভিযুক্ত কুলসুমের মা ফিরোজা বেগম ও বড় ভাই সোহাগ পলাতক। কুলসুম মাদারীপুর শহরের কালীবাড়ী এলাকার রহমান খানের মেয়ে এবং শহরের উকিলপাড়া রিজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী।
নির্যাতিতা কুলসুম আক্তার জানায়, গত ২২শে ডিসেম্বর মায়ের কথামতো বড় ভাই সোহাগ কালকিনির গোপালপুরের আজিজ শিকদারের ছেলে মাদারীপুরের পাবলিক লাইব্রেরি এলাকার একটি মোটরসাইকেল দোকানের মেকানিক রেজাউল করিমের সঙ্গে তার বিয়ে দেন। সে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় এবং কথিত স্বামীর সঙ্গে সঙ্গ না দেয়ায় তিন দিন আগে তার মা ফিরোজা বেগম, মামা আলী আজগর, বড় ভাই সোহাগ ও বোন ফাতেমা তার পায়ে শিকল পরিয়ে ঘরের খুঁটির সঙ্গে তালা লাগিয়ে রাখে। গত মঙ্গলবার কুলসুমের কথিত স্বামী তার সঙ্গে শারীরিক মিলনের চেষ্টা করলে কুলসুমের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে রেজাউল অপকর্মে ব্যর্থ হয়। এ ঘটনায় কুলসুমের ভাই ও বোন তাকে বেদম মারপিট করে আহত করে। ভাই-বোনের এলাপাতাড়ি মারপিটে কুলসুমের মাথা ফেটে যায় এবং হাত কেটে গেলে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে বাসায় এনে আবারও শিকল দিয়ে আটকে রাখা হয়। এ ব্যাপারে কুলসুমের বড় বোন ফাতেমা বেগম জানায়, তার ছোট বোন প্রাইমারিতে পড়াশোনা করলেও এর আগে সে একাধিকবার অন্য ছেলের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে পুলিশের সহায়তায় ধরে আনা হয়েছে। তার বার বার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিরক্ত হয়েই মা ও ভাই তাকে ওই ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঝুমুর বালা বলেন, মেযেটিকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে সেটা অমানবিক। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে শাস্তি দেয়া হয়েছে।