৯০ বছরের বরকে ১৫ বছর বয়সী স্ত্রীর ডিভোর্স
সৌদি আরবে ৯০ বছরের বৃদ্ধ স্বামীর সঙ্গে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদের রায় দিয়েছে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি আদালত। গত সপ্তাহে এ রায় প্রদান করে আদালত। গত কয়েক মাস যাবৎ ওই বৃদ্ধের সঙ্গে তার স্ত্রীর পরিবারের মধ্যে তিক্ত সম্পর্ক বিরাজ করছিল। ওই বৃদ্ধের প্রথম স্ত্রীর বয়স ৮০ বছরের বেশি। তাকে রেখেই নতুন আরেকটি বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ঘটনার শুরু যখন হবু বর ওই কিশোরীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কনেকে পণ বাবদ ৪৫ হাজার রিয়াল দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান ওই কিশোরীর পিতামাতাকে। একই সঙ্গে বিয়ের অনুষ্ঠানের যাবতীয় খরচের ভার নেন তিনি। কনের পিতা ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধের প্রস্তাবে সম্মত হন। অনুষ্ঠানের পর কনে নিজেকে একটি ঘরে আটকে রাখে। স্বামীকে সেই ঘরে ঢুকতে দেয়নি সে। সারারাত ধরে ওই ঘরেই কান্নাকাটি করে কাটায় সে। তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় কাতর কিশোরী কনে তার বিয়ের পোশাক ছিঁড়ে ফেলেছিল। পরের দিন সকালে বর তার স্ত্রীর পরিবারকে খবর দেয়। কনের আত্মীয়-স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ঘরের দরজা খোলে সে। পরিবারের সদস্যরা কনেকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়। বৃদ্ধের কোন আবেদনে সাড়া দেয়নি তারা। স্ত্রীকে দাবি করতে তার বাড়িতে গেলে তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। সে সময় পণের অর্থ ফেরত চান বৃদ্ধ বর। কনের পরিবার জানায়, তারা পণের সব অর্থ খরচ করে ফেলেছে। তাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার মতো কোন অর্থ নেই। শেষ পর্যন্ত মামলার আশ্রয় নেন ওই বৃদ্ধ। কয়েক দফা শুনানির পর আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদ ও বৃদ্ধকে তার পণের টাকা ফিরিয়ে দেয়ার রায় দেয়া হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গালফ নিউজ। অবশ্য ৯০ বছর বয়সী বর বলছেন, মামলায় এখনও পথ খোলা আছে। কারণ, মামলাটির রায় দিয়েছেন একটি গোষ্ঠীর নেতা। তিনি সরকারি বিচারক নন। তিনি বলেন, তার কাছ থেকে পণের টাকা নেয়াটা ছিল কনের পরিবারের চক্রান্ত। তিনি চান স্ত্রী তার বাড়িতে ফিরে আসুক। এদিকে কনেকে রিয়াদে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। বরের অভিযোগ, তার নাগালের বাইরে পাঠাতেই এটা করা হয়েছে।
No comments:
Post a Comment