Pages

Friday, January 11, 2013

জায়গা ফেরত না পেয়ে আবার সুপ্রিম কোর্টে মুন সিনেমা হলের মালিক

জায়গা ফেরত না পেয়ে আবার সুপ্রিম কোর্টে মুন সিনেমা হলের মালিক


একটি সিনেমা হলের মালিকানা নিয়ে দায়ের করা মামলা বাংলাদেশের ইতিহাসের গতি পাল্টে দিলেও ভাগ্য বদল হয়নি সিনেমা হলটির মালিক মাকসুদুল আলমের। পঞ্চম সংশোধনী মামলা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল মুন সিনেমা হলের মালিকানা নিয়ে। এ মামলার রায়ে হাইকোর্ট পঞ্চম সংশোধনীকেই অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেছিল। বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক এ বিখ্যাত রায়টি দিয়েছিলেন। এ রায় পরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগও বহাল রাখে। এ রায় অনুযায়ী এরই মধ্যে সংবিধানে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সংবিধানে ফিরে এসেছে সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। তবে রায়ের প্রায় তিন বছর পরও সিনেমা হলের জায়গাটি ফেরত না পেয়ে আবারও সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছেন মাকসুদুল আলম। সরকার ও মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদালতে গতকাল আবেদনটি উত্থাপন করেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার ছিদ্দিকুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এমকে রহমান। চেম্বার বিচারপতি আবেদনটি নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আগামী ১৪ই জানুয়ারি চেম্বার বিচারপতির আদালতে এ ব্যাপারে শুনানি হবে। আজমালুল হোসেন কিউসি সাংবাদিকদের বলেন, মাকসুদুল আলম সিনেমা হলটির মালিকানা ফেরত পেতে ৪০ বছর ধরে অপেক্ষা করছেন। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এবং আপিল বিভাগের রায়ের পরও তার অপেক্ষার অবসান হয়নি। আবেদনে ভূমি সচিব মোখলেসুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এইচ মাসুদ চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে মোহাম্মদ আলী সিকদারসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও আবেদনকারীর কাছে জমিটি ফেরত না দেয়া সুস্পষ্ট আদালত অবমাননা। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুন সিনেমা হলের সম্পত্তিটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরে মালিকানা দাবি করে মাকসুদুল আলম হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। হাইকোর্ট ২০০৫ সালের ২৯শে আগস্ট এক রায়ে ৬০ দিনের মধ্যে জমি রিট আবেদনকারীকে ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেয়। সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে এ রায় দেয়া হয়। সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭৫-এর ১৫ই আগস্ট সামরিক শাসন জারির পর থেকে ৯ই এপ্রিল ১৯৭৯ পর্যন্ত সামরিক শাসনামলের সব আদেশ, ঘোষণা ও দণ্ডাদেশের বৈধতা দিয়েছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এছাড়া খোন্দকার মোশ্‌তাক, বিচারপতি সায়েমের শাসনামলের কর্মকাণ্ডেরও বৈধতা দেয়া হয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২০১০ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি এক রায়ে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। পরে ৯০ দিনের মধ্যে মুন সিনেমা হল বাংলাদেশ ইতালিয়ান মার্বেলস ওয়ার্কস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাকসুদুল আলমকে ফেরত দেয়ারও নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।

No comments:

Post a Comment