পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মজিনা-শরণ
একই দিনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন দুই দেশের কূটনীতিকরা। রুটিন বৈঠক হলেও সময়ের কারণে তা বেশ ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, কাকতালীয় কিংবা পরিকল্পিত যা-ই হোক, ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও ভারতীয় হাই কমিশনার একই দিনে কাছাকাছি সময়ে এর আগে কখনও পররাষ্ট্র দপ্তরে যাননি। অন্তত নিকট অতীতে তো নয়ই। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সিডিউলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনার সাক্ষাতের সময় ছিল ১১টায় আর ভারতীয় হাই কমিশনার পঙ্কজ শরণের বৈঠকের সময় নির্ধারিত ছিল ১২টায়। মন্ত্রী ডা. দীপু মনি মন্ত্রণালয়ের বাইরে জনশক্তি সংক্রান্ত জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সেমিনারে আটকে যাওয়ায় দপ্তরে ফিরতে দেরি হওয়ায় তার আগেই বৈঠকের জন্য সেখানে পৌঁছে যান দুই মিশন প্রধান ও তাদের টিম। সংশ্লিষ্ট উইংয়ের কর্মকর্তারা তাদের স্বাগত জানান এবং আলাদা অতিথি কক্ষে সঙ্গ দেন। দীপু-মজিনা বৈঠকের পুরো সময়ই ভারতীয় হাই কমিশনের কূটনীতিকরা মন্ত্রণালয়ের মূল ভবনের নিচতলার অতিথি কক্ষে অপেক্ষায় ছিলেন। এক ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক শেষে মার্কিন দূত বেরিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে মানবজমিন সহ উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সামপ্রতিক বিষয়াদি তো ছিলই, নতুন বছরের কার্যক্রম ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ওবামা প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের রদবদলের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, আমি মন্ত্রীকে জানিয়েছি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির দায়িত্ব পাওয়া ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ কোন পরিবর্তন আসবে না। তবে তার নেতৃত্ব বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও গভীর ও গতিশীল করবে বলে আশা করেন রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা চলমান থাকার বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলেও জানান ড্যান মজিনা। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে প্রশ্ন ছিল- আগামী নির্বাচনে সৃষ্ট সঙ্কটের সমাধানে তিনি মধ্যস্থতা করছেন বলে তার দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তার বরাত দিয়ে যে খবর বেরিয়েছে তার সত্যতা কতটুকু? রাষ্ট্রদূত বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই চায় বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক। এখানে সবদলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও সুন্দর একটি নির্বাচন হোক। তবে এ নির্বাচনের পদ্ধতি কি হবে তা এখানকার জনগণই নির্ধারণ করবেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বিদায়ের পর ভারতীয় হাই কমিশনার পঙ্কজ শরণ মন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক করেন। বৈঠকে ডেপুটি হাই কমিশনার ও রাজনীতি বিভাগের প্রথম সচিবও উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠক নিয়ে ভারতীয় হাই কমিশনার কোন কথা বলেননি। পরে পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত পূর্ব নির্ধারিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী ডা. দীপু মনি বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। বলেন, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল শিনদে’র ঢাকা সফরসহ ভারতের বেশ ক’জন মন্ত্রী-সচিবের সফর এবং জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশন ও জয়েন্ট রিভার কমিশনের পরবর্তী বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তিস্তা বা ল্যান্ড বাউন্ডারির বিষয়ে নতুন কোন আলোচনা বা অগ্রগতি নেই। তবে সীমান্ত হত্যা পুরোপুরি বন্ধে দু’দেশ কিভাবে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সৌজন্য এ বৈঠকে টিকফা’র প্রসঙ্গ আসেনি, জিএসপি’র বিষয়টি এসেছে। বাংলাদেশের জন্য কেন এই সুবিধাটি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন তা যৌক্তিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
No comments:
Post a Comment