Pages

Thursday, January 31, 2013

ভাগ্যবশত আমি সেলিব্রেটি

ভাগ্যবশত আমি সেলিব্রেটি


নিজেকে নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে বাকযুদ্ধে ভীষণ বিরক্ত বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান। তাই তিনি এবার নিজেই মুখ খুললেন। নিঃসংকোচে বললেন, আমি একজন ভারতীয়। আমার পিতা ভারতের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন। ভারতে আমার নিরাপত্তায় কোন সমস্যা নেই। সমপ্রতি একটি ম্যাগাজিনকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারের পর পাকিস্তান ও ভারতের রাজনৈতিক পর্যায়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য শুরু হয়। নেতাদের মধ্যে চলতে থাকে বাকযুদ্ধ। তাতে জড়িয়ে পড়েন দু’ দেশের মন্ত্রীরা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এমনকি পাকিস্তানের জামায়াতুত দাওয়ার প্রধান হাফিজ সাঈদ পর্যন্ত শাহরুখ খানকে ভারতে নিরাপত্তায় সমস্যা হলে পাকিস্তান চলে যেতে আমন্ত্রণ জানান। এর পরেই শাহরুখ খানকে নিরাপত্তা দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানান পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক। এর কড়া জবাব দেন ভারতের স্বরাষ্ট্র সচিব আর কে সিং। তিনি বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের নাক গলানোর কোন অধিকার নেই। তারা যেন তাদের নিজেদের নিয়ে ভাবেন। একই রকম বক্তব্য উঠে আসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে। দু’দেশের নেতাদের মধ্যে যখন এমন বাকযুদ্ধ চলছে তখন ফের মুখ খুললেন শাহরুখ খান। তিনি বললেন, ওই ম্যাগাজিনকে এমন কিছু আমি বলি নি যে, আমি ভারতে নিরাপত্তাহীন। তিনি বলেন, আমি ভারতীয় হয়ে এবং আমার পিতা-মাতার সন্তান হিসেবে গর্বিত। এখানে আমার কোনই সমস্যা হচ্ছে না। এ বিষয়ে তিনি একটি দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছেন। এতে তিনি বলেছেন, আমাদের সবারই তিনটি সুনির্দিষ্ট পরিচয় আছে। এর মধ্যে দু’টি পরিচয় আমরা জন্মসূত্রে অর্জন করি। প্রথমটি হলো- জন্মস্থান। যা আমার মাতৃভূমি। এটাই আমাদের পরিচয়। তাই আমি ভারতীয় পরিচয় দিয়ে গর্ব বোধ করি এ জন্য অনেকেই আমাকে পছন্দ করেন। দ্বিতীয়টি হলো পারিবারিক নাম। যা আমাদের পিতা-মাতা দিয়ে থাকেন। আমার জন্য সেই নাম হলো খান। আমি আমার পিতা-মাতাকে নিয়ে খুব গর্বিত। এখানকার অন্যরাও তাদের পিতা-মাতাকে নিয়ে গর্ব বোধ করেন। শর্তহীনভাবে আমি তাদেরকে ভালবাসি। তৃতীয় পরিচয় হলো- আমাদের পেশা। কোন এক ভাগ্যবশত আমি একজন সেলিব্রিটি হয়ে গিয়েছি। এটি আর্ট ও মিডিয়ার একটি ফিগার। আমার মতো অনেকেই আছেন। তৃতীয় এই পরিচয়টি আমাকে মাঝে মধ্যেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। কখনো তা ভাল। কখনও তা শুভ নয়। কখনও আমাকে নিয়ে বিতর্ক হয়। কেউ আমার নামকে ব্যবহার করেন। তাতে কেউ ইতিবাচক, কেউ নেতিবাচক ফল পান। আমি এসবই মেনে নিই। কারণ এইতো জীবন। আমাকে যারা স্টার বা তারকা বানিয়ে দিয়েছেন তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এখন আসি আমাকে নিয়ে যে বিতর্ক তাতে। আমাকে নিয়ে (ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে) যে বিতর্কের সূচনা তার কোন ভিত্তি আমি দেখি না। ওই বিবৃতিতে শাহরুখ খান আরও বলেন, আমি যে প্রতিবেদনটি লিখেছি তাতে আমি বলতে চেয়েছি, আমি একজন ভারতীয় মুসলিম তারকা হিসেবে কি সব সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। আমি মনে করি (যারা এই বিতর্কে জড়িয়েছেন) তারা এই লেখাটি ঠিকমতো পড়েননি। তাই আমি সবাইকে বলবো- আপনারা আগে লেখাটি পড়ুন। দ্বিতীয়ত বলবো- যদি পড়ে থাকেন তাহলে এতে কোথাও এমন কোন কথা পাবেন না যেখানে আমি প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে বলেছি যে, আমি ভারতে নিরাপদ নই। আমার কোন সমস্যা হচ্ছে, তা-ও বলিনি। এমনকি আমি গত ২০ বছরের ক্যারিয়ারে যাদের ভালবাসায় আজকের শাহরুখ খান হয়েছি তাদের প্রতি কোন অশ্রদ্ধা প্রকাশ করিনি। আমাকে আমার দেশবাসী ও নারীরা খুবই ভালবাসেন। তাই আমি আজকের খান। আমার মধ্যে কোন অহমিকার ধারণা আসে নি। তার পরিবর্তে আমার জীবন লাখ লাখ ভারতীয়ের ভালবাসায় সিক্ত। গত ২০ বছরে আমি যে ভালবাসা পেয়েছি তা সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলতে কোন সমপ্রদায়ের নয়, সবার। আমি শুধু দেশেই নয়, সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের ভালবাসা পেয়েছি। ওই বিবৃতিতে তিনি হাফিজ সাঈদের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, যারা আমাকে অনাকাঙিক্ষত পরামর্শ দিয়েছেন বা দিচ্ছেন তারা যেন বুঝতে পারেন যে, আমরা ভারতীয়রা ভীষণভাবে নিরাপদ ও সুখী। আমাদের চমৎকার গণতন্ত্র আছে। জীবনে রয়েছে মুক্ত ও ধর্মনিরপেক্ষ পথ বেছে নেয়ার সুযোগ। আমরা ভারতে যে পরিবেশে বাস করি এখানে কোন নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই। বিদ্যমান নয় এমন ইস্যু নিয়ে কথা বলা অমূলক। তারপরও যারা আমার দৃষ্টিভঙ্গি অন্যভাবে দেখছেন এবং পরামর্শ দিচ্ছেন তাদেরকে অনুরোধ করবো আপনারা আমার ওই লেখাটি দয়া করে একবার পড়ে দেখুন। বিবৃতির শেষের দিকে তিনি লিখেছেন, আমরা সবাই শিক্ষিত ও দেশপ্রেমিক। আমার নিজের পরিবার ও বন্ধুরা যারা আমার কাছে একটি মিনি ভারত- এই আমাদের সঙ্গে সবার রয়েছে সহনশীলতা, সমঝোতা, ভালবাসা। আমি লাখ লাখ ভারতীয় ও ভারতের বাইরে যেসব দর্শক-ভক্তের ভালবাসা পেয়েছি সেই ভালবাসাই আমার পুঁজি। এটা আমার প্রমাণ করার কিছুই নেই।

No comments:

Post a Comment