Pages

Tuesday, January 8, 2013

ভারতে ব্যাংকিং লেনদেনে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে একই ব্র্যাকেটে

ভারতে ব্যাংকিং লেনদেনে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে একই ব্র্যাকেটে

বাংলাদেশে ভারতের এয়ারটেল এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে, টাটা গ্রুপও জুতো ও সাইকেল তৈরির জন্য দুটি কারখানা তৈরির ঘোষণা দিয়েছে, অরবিন্দ মিলসও কুমিল্লায় ডেনিম কারখানা তৈরির জন্য তিন বছরে ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে চলেছে। বাংলাদেশে ভারতের বিনিয়োগ বাড়লেও বাংলাদেশের শিল্পপতিরা ভারতে বিনিয়োগ করতে এসে সমস্যার মুখে পড়ছে। আর এ ক্ষেত্রে ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া বাংলাদেশকে নিরাপত্তার প্রশ্নে পাকিস্তানের সঙ্গে একই ব্র্যাকেটে রেখেছে। এই অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক আহমেদ করিম। তিনি বলেছেন, ভারতের আর্থিক সংস্থার কাছে বাংলাদেশ এখনও নিরাপত্তার ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে। তিনি বলেছেন, ভারতে বাংলাদেশও কারখানা গড়তে চায়। তবে ব্যাংকিং লেনদেনের অসুবিধার বিষয়টি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন। বাংলাদেশের হাইকমিশনার করিম বলেছেন, আমরা শুধু জামদানি আর ইলিশ রপ্তানি করতে চাই না। বাংলাদেশের আরও অনেক কিছু রপ্তানি করার রয়েছে। তিনি বলেন, ভারত সরকার রপ্তানির ক্ষেত্রে অনেক বাধা তুলে দিলেও সেগুলি নিচু স্থরে এখনও বাধা হয়েই রয়েছে। এক বাংলাদেশী কূটনীতিকের মতে, রাজনৈতিক স্তরে দুই দেশ সব সমস্যার সমাধান করে ফেললেও সীমান্তের শুল্ক অফিসাররা লিখিত নির্দেশ না পাওয়ার অজুহাত দিয়ে বাধা সৃষ্টি করছেন। আর এক্ষেত্রে ভারতীয কাস্টমস কর্তাদের পুরানো মনোভাবই সমস্যা বড় হয়ে উঠেছে। দুই দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আরও চেকপোস্ট খুলে দেয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ড সার্টিফিকেটকে মান্যতা দেয়া এবং দ্রুত টেস্টিং করার ব্যবস্থা চালু করা জরুরি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের কূটনীতিকরা। তারা বলেছেন, বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে দুই দেশের ৬০ শতাংশ বাণিজ্য হয়। এই অত্যাধিক চাপ একটি চেকপোস্টে থাকায় নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাই বাস্তব ক্ষেত্রে আরও চেকপোস্ট খুলে দেয়ার আবেদন জানিয়েছেন তারা। সম্প্রতি কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজের এক সেমিনারে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক এ করিম বলেছেন, দুটি সুসংহত চেকপোস্ট ছাড়া আরও এক ডজন চেক পোস্ট রয়েছে। পণ্য চলাচলের জন্য সেগুলি খুলে দেয়া জরুরি। আর তাহলেই কানিকটিভিটি কথাটি প্রকৃত অর্থবহ হয়ে উঠবে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, এখনও যদি কানেকটিভিটি খুলে না দেয়া হয় তাহলে উত্তর-পূর্ব ভারত রুদ্ধ হয়েই থাকবে এবং এর ফলে ব্যবসা মার খাবে। বাংলাদেশের হাইকমিশনার বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারতে বাংলাদেশ তাদের তৈরি সামগ্রী, রেফ্রিজারেটর থেকে টিভি সবই রপ্তানি করতে আগ্রহী। সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, মুক্ত বাণিজ্যনীতি চালু হলে ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশই উপকৃত হবে। অথচ এই বিষয়ে আলোচনা অনেক দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকেও মুখ্য অর্থনীতিবিদ সঞ্জয় কাথুরিয়া জানিয়েছেন, কানেকটিভিটি বৃদ্ধির পাশাপাশি মুক্ত বাণিজ্যনীতি চালু করলে দুই দেশ উইন-উইন অবস্থায় পৌঁছাবে। এর ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্ত এলাকার মানুষের দারিদ্র্যও দূর করা সম্ভব হবে। বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, মুক্তবাণিজ্য নীতি প্রযুক্ত হলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যেও পরিমাণ একশ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

No comments:

Post a Comment