ছাত্রলীগ-সহিংসতা: ২৪ ঘণ্টা পরও জ্ঞান ফেরেনি, জীবন এখন লাইফ সাপোর্টে
কুপিয়ে আহত করার ২৪ ঘণ্টা পরও জ্ঞান ফেরেনি জীবনের। শুক্রবার রাতে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপের ক্যাডাররা জীবনকে এলোপাতাড়ি কোপায়। জীবনকে বর্তমানে রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
এদিকে, শুক্রবার ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফুয়াদ হাসান পল্লব এবং সাধারণ সম্পাদক সাকিব আল হাসান সুইম ’কোপানোর ঘটনাটিকে তুচ্ছ এবং সামান্য’ বললেও শনিবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ১০ কর্মীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে।
জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে জীবন কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে ক্যাম্পাসে আড্ডা দেন। এ সময় সভাপতি গ্রুপের সাউথ হোস্টেল ছাত্রলীগের কর্মীদের সঙ্গে জীবনের কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যার দিকে সাউথ হোস্টেলের কর্মীরা সংগঠিত হয়ে জীবনকে খুঁজতে থাকে। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে তারা জীবনকে ক্যাম্পাসে একা পেয়ে চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। জীবন মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও কোপানো অব্যাহত থাকে। জীবনকে কোপানোর সংবাদ শুনে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুইম এবং কলেজ শাখার সহ-সভাপতি রণির কর্মীরা তাকে কলেজের মূল ভবনের সামনে থেকে উদ্ধার করে। পরে তাকে শ্যামলীর কেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে।
তবে আহত জীবনকে নিয়ে চলে নানা নাটক। প্রথমদিকে তাকে কোপানোর ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলে। জীবনের অবস্থা খারাপ দেখে এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের চোখ ফাঁকি দিতে না পারায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপরও চলে নাটক। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় শ্যামলীর কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু জীবনের জ্ঞান না ফেরায় তাকে পরে এ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হয়। আবার ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি এটিকে একটি ‘তুচ্ছ ঘটনা’ বলায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষেও আশঙ্কা করছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের এক কর্মী জানান, ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে প্রতিদিন অস্ত্রের মহড়া চলে। প্রত্যেক গ্রুপই নিজ নিজ শক্তি বজায় রাখতে এবং ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারে অস্ত্রের মজুদ করছে এবং সাধারণ কর্মীদের ব্যবহার করছে। এ বিষয়ে মিডিয়ায় কয়েক দফায় সংবাদ প্রকাশের পরে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আর বলির শিকার হচ্ছে সাধারণ কর্মীরা।
শনিবার ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃতরা হলেন, ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ থেকে দক্ষিণ ছাত্রাবাসের সুমন(ব্রেট লি), রাজন, মনির, কাওসার, দক্ষিণায়ন ছাত্রাবাস থেকে জেমস, কামাল, মাহাবুব, আবদুল্লাহ, প্রশান্ত এবং আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ছাত্রাবাস থেকে রনি।
আদর (৩য় বর্ষ), অভি (২য় বর্ষ), রাহাত (২য় বর্ষ), কিরন (২য় বর্ষ), পলাশ (২য় বর্ষ), রাকিব (২য় বর্ষ), শুভ (২য় বর্ষ), পিয়ারুলের (২য় বর্ষ) সঙ্গে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক শেখ রাসেল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সম্প্রতি ঢাকা কলেজের এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য সংগঠন থেকে এদের বহিষ্কার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ‘উদাত্ত আহ্বান’ জানানো হয়, বহিষ্কৃত এবং ছাত্রলীগের সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতা নেই তাদের গ্রেফতার করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করার।
No comments:
Post a Comment