মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ
কটিয়াদী উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং পাকুন্দিয়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-২ আসন। ২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পুনর্বিন্যাসকৃত এই আসনে ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার। নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল মান্নান দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট প্রার্থীরা কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়টি আসনে স্মরণকালের ভোট বিপ্লবে বিপুল ব্যবধানে চারদলীয় জোট প্রার্থীদের পরাজিত করেন। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল মান্নান ১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী চারদলীয় জোট প্রার্থী বিএনপি নেতা ইদ্রিস আলী ভুঁইয়া পেয়েছিলেন ৯৬ হাজার ৪৮৯ ভোট। সরকারের শেষ বছরে এসে দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নির্বাচনমুখী তৎপরতা। স্থানীয়দের মাঝে চলছে চাওয়া-পাওয়ার হিসাব-নিকাশ।
গত চার বছরে এ আসনের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার পর এ আসনের এমপির জনসম্পৃক্ততা কমে গেছে। এলাকার তেমন উন্নয়ন কাজও হয়নি। নেতাকর্মীদের অনেকে টিআর, কাবিখা প্রকল্পের গম-চাল-অর্থ লুটপাট, টেন্ডারবাজি ও দখলবাজিতে লিপ্ত। দলীয় কোন্দল, অন্তর্দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। স্থবির হয়ে পড়েছে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড। নির্বাচনের আগে তার নিজ উপজেলা কটিয়াদীবাসীকে উপজেলা সদরে গ্যাস সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন, নদী খনন, অন্তত একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ, মেডিকেল কলেজ স্থাপন, কর্মসংস্থান, উপজেলার প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ, রাস্তাঘাট পাকাকরণ ও উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ অন্তত এক ডজন প্রতিশ্রুতি দিলেও এর কোনটিরই বাস্তবায়ন সেভাবে মাঠপর্যায়ে দেখা যায়নি। এছাড়া উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার হয়েছে এ আসনের অপর উপজেলা পাকুন্দিয়াও। সেখানে স্থানীয় উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে প্রায় ২০ হাজার ভোট বেশি পান। কিন্তু এমপিদের উন্নয়ন বরাদ্দ ভাগাভাগির ক্ষেত্রেও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী পাকুন্দিয়া উপজেলা।
১৯৭৩ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৮টি জাতীয় নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ জেলায় সাতটি সংসদীয় আসন বহাল ছিল। হোসেনপুর ও পাকুন্দিয়া উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-১, কটিয়াদী উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-২, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৩, করিমগঞ্জ ও তাড়াইল উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৪, ইটনা, অষ্টগ্রাম ও মিঠাইন উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৫, নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৬ এবং ভৈরব ও কুলিয়ারচর উপজেলা নিয়ে ছিল কিশোরগঞ্জ-৭ আসন। কিন্তু বিগত নির্বাচনের আগে জেলার ঐতিহ্যবাহী কিশোরগঞ্জ-১ আসনটি বিলুপ্ত করে দিয়ে ৭টির পরিবর্তে ৬টি সংসদীয় আসনে পুনর্বিন্যাস করা হয়। এতে কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত হয় কিশোরগঞ্জ-২ আসন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল মান্নান। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য ড. আলাউদ্দিন আহমেদ, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস এ আসনের বাসিন্দা হওয়ায় বর্তমান মহাজোট সরকারের নিকট জনসাধারণের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। কিন্তু মহাজোট সরকারের ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এ নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি। তবে অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল মান্নান নিজেকে একজন সফল এমপি দাবি করে বলেন, জনগণের দাবি-দাওয়াগুলো পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়িত না হলেও সব জায়গাতেই পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। কটিয়াদী বাজার এলাকার রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে কটিয়াদীকে একটি মডেল শহরে রূপান্তরিত করা হয়েছে। উপজেলার মসূয়া এবং গচিহাটায় কৃষি ব্যাংকের দুটি শাখা চালু করা হয়েছে। এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও বর্তমানে জেলার মধ্যে সবচেয়ে ভাল। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আধুনিকায়ন করার মাধ্যমে এটিকে একটি রোগীবান্ধব হাসপাতালে পরিণত করা হয়েছে। বড় ধরনের কোন সমস্যা ছাড়া এখানেই প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান সম্ভব হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জন্য জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে এর কাজ শুরু করা হবে। পাকুন্দিয়া উপজেলার অবস্থা এসব ক্ষেত্রে আরও ভালো উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাকুন্দিয়া-কাপাসিয়া রাস্তাটি প্রশস্ত কম। এটিকে প্রশস্ত করে রাস্তাটির উন্নয়ন করার জন্য চেষ্টা চলছে। সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তিনি যথেষ্ট আন্তরিক উল্লেখ করে বলেন, পর্যায়ক্রমে এলাকার প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো সম্পন্ন করা হবে। এ আসনে দলের সাংগঠনিক অবস্থা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ দলীয় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিরোধ এখন চরমে। সরকারের এ সময়ে দলের মধ্যে বিবদমান কোন্দল নিরসনেও তেমন কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি। বরং নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। কটিয়াদীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল আলম গোলাপ ও সম্পাদক আবদুল ওয়াহাব আইনউদ্দীনের নেতৃত্বে ১২ বছর ধরে একই কমিটি দিয়ে চলছে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড। দলীয় কোন্দলের কারণে দীর্ঘদিনেও নতুন কোন কমিটি পায়নি সেখানকার নেতাকর্মীরা। এরই মাঝে ২০১০ সালের ৫ই মে নিজেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দলের মধ্যকার বিভেদ আরও উস্কে দেন এমপি ডা. মান্নান। যদিও নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পরবর্তীতে সে দাবি থেকে সরে আসেন তিনি। অপরদিকে প্রায় এক দশক ধরে পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড চলছে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে। সেখানে সোহরাব-রেনু দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। সময়ে সময়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট সোহরাব উদ্দিনের সমর্থকের সঙ্গে পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রেনুর সমর্থকদের হাতাহাতি, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা তাদের সে দ্বন্দ্বের বিষয়টি প্রকাশ্যে নিয়ে আসে। এমনকি খোদ এমপির উপস্থিতিতে ২০১১ সালের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান দুই গ্রুপের সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি হামলা, হাতাহাতি ও ভাঙচুরের ঘটনায় পণ্ড হয়ে যায়। এছাড়া দলীয় কোন্দলের কারণে ২০১১ সালের ২৭শে অক্টোবর অনুষ্ঠিত পাকুন্দিয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী থাকায় সেটি তাদের হাতছাড়া হয়- এমনটাই মূল্যায়ন স্থানীয় নেতাকর্মীদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারের শেষ সময়ে এসে এমপি ডা. মান্নান এলাকায় যথেষ্ট কর্মতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘন ঘন এলাকায় এসে গণসংযোগ ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হাজিরা দিচ্ছেন। আগামী নির্বাচনেও তিনি দলের মনোনয়ন পাবেন বলে তার সমর্থকরা আশাবাদী। তবে সাধারণ ভোটার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এ নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন, হিসাব-নিকাশ। কটিয়াদী উপজেলার বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বিগত সংসদ নির্বাচনের আগে এ আসনে প্রার্থী হিসেবে তৃণমূল নেতাকর্মীরা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এম এ আফজলকে নির্বাচিত করেছিলেন। যদিও শেষ মুহূর্তে এসে দলীয় মনোনয়ন পান ডা. মো. আবদুল মান্নান। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা তিনি সেই অর্থে পূরণ করতে না পারায় আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেন। এ অবস্থায় এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে অন্তত হাফ ডজন নেতা দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমএ আফজল, বিশিষ্ট শিল্পপতি মাঈনুজ্জামান অপু, আয়কর আইনজীবী আবুল ফজল আনার, কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লায়ন আলী আকবর, পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট সোহরাব উদ্দিন, পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রেনু প্রমুখ। এছাড়া এ আসন থেকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আলাউদ্দিন আহমেদ প্রার্থী হতে পারেন বলেও এলাকায় আলোচনা রয়েছে।
এদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট আন্দোলনে থাকায় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও এ আসনে বিএনপির অনেক নেতাই জমজমাট নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। এ আসনের দুটি উপজেলাতেই রয়েছে দলটির একক কমিটি। কোন্দলও অনেকটা অপ্রকাশ্য। এ অবস্থায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রার্থীরা তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছেন। গণসংযোগ ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদানের পাশাপাশি বিভিন্ন উপলক্ষে শুভেচ্ছা পোস্টার, বিলবোর্ড, ব্যানার ও তোরণ তৈরির মাধ্যমে এলাকাবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন তারা। ডিজিটাল ব্যানার-প্লাকার্ড আর পোস্টারে ছেয়ে যাচ্ছে বাসাবাড়ির দেয়াল, ছোট-বড় বাজার ও সড়কদ্বীপ। সাবেক কিশোরগঞ্জ-১ (কটিয়াদী) আসন থেকে দু’দুবার নির্বাচিত ও দল থেকে বহিষ্কৃত বহুল আলোচিত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের জায়গায় বিগত সংসদ নির্বাচনে পুনর্বিন্যাসকৃত কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি নেতা ইদ্রিস আলী ভূঁইয়া চারদলীয় জোট প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। দলীয় সূত্রমতে, এরপর থেকেই এ আসনে একজন নতুন প্রার্থীর সন্ধান করছে বিএনপি। ফলে এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন লাভে ইতিমধ্যেই তোড়জোড় শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। আলোচিত এসব প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপি নেতা ও পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইদ্রিস আলী ভূঁইয়া, পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও বর্তমান সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান খোকন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আশফাক আহমেদ জুন, কটিয়াদী পৌরসভার মেয়র ও পৌর বিএনপি সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খান দীলিপ, সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এডভোকেট মাহমুদুল ইসলাম জানু, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সুইডেন প্রবাসী শহীদুজ্জামান কাকন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আরফান উদ্দিন খান, রুহুল আমিন আকিল প্রমুখ। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালামের নামও জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। আবদুস সালাম এ আসনে প্রার্থী হিসেবে সরাসরি গণসংযোগ শুরু না করলেও সমর্থক নেতাকর্মীরা পাকুন্দিয়া ও কটিয়াদী উপজেলার স্থানে স্থানে শুভেচ্ছা জানিয়ে তার ছবি সংবলিত পোস্টার লাগিয়েছে। তবে দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন সমপ্রতি সবাইকে চমকে দিয়ে নিজেকে বিএনপির বিকল্পহীন প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছেন। কটিয়াদী এবং পাকুন্দিয়া উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে মতবিনিময় সভা করে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার কথা বলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় আখতারুজ্জামান রঞ্জনের প্রার্থিতার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নতুন করে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অপরদিকে জাতীয় পার্টির নেতাদের মধ্যে বদরুল আমিন বাচ্চু ও এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম শওকত এ আসনে জনসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া বিগত নির্বাচনে এ আসনে সিপিবি’র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেয়া জেলা সিপিবি সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
No comments:
Post a Comment