দেলোয়ারের বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে বলেছিলেন ‘ইউ উইল বি কিল্ড’
ওয়ান ইলেভেনের সময় দলের সংস্কারপন্থিদের স্বীকৃতি দেয়ার বৈঠকে অংশ নিতে মৃত্যুর হুমকি দেয়া হয়েছিল খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে। সামরিক বাহিনীর তৎকালীন ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার আমিন ও ব্রিগেডিয়ার বারী ২০০৭ সালের ২৮শে অক্টোবর তাকে ডেকেছিলেন ধানমণ্ডির একটি বাসায়। পরদিন সাইফুর রহমানের বাসায় অনুষ্ঠেয় বৈঠকে অংশ নিতে চাপ দিয়েছিলেন। তাদের প্রস্তাব ও হুমকিতে ভাবলেশহীন খোন্দকার দেলোয়ারকে একপর্যায়ে মারতে গিয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার আমিন। বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে বলেছিলেন- ‘ইউ উইল বি কিলড, ইউর ফ্যামিলি উইল বি ডেস্ট্রয়েড’। এমনভাবেই সে দুঃসহ দিনের বর্ণনা করেছেন তার মেয়ে ডা. লুনা খোন্দকার। সেদিন ছেলেকে গ্রেপ্তার করে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টাও করা হয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি অনুগত ও বিশ্বস্ত দেলোয়ার চিকিৎসার জন্য বারডেমে ভর্তি হয়ে সেখান থেকে কৌশলে করেছিলেন আত্মগোপন। তার এ অনমনীয় ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে অনিবার্য বিপর্যয় থেকে বেঁচে গিয়েছিল বিএনপি। তার এ সিদ্ধান্ত প্রশংসিত হয়েছে তাকে নিয়ে রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতিচারণে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে দেলোয়ার হোসেনের ভূমিকার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি উল্লেখ করেছেন, বিপরীত ধারার রাজনীতি করেও তারা ক্ষমতা এবং ক্ষমতার বাইরে থাকাকালে পরস্পরের বাড়িতে ছুটে গেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রফেসর হোসনে আরা হোসেন লিখেছেন মুক্তিযুদ্ধের সময় খোন্দকার দেলোয়ার কিভাবে মৃত্যুর ভয় উপেক্ষা করে ছুটে গিয়েছিলেন বড় ভাইয়ের কর্মস্থল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। খোন্দকার দেলোয়ারের মজলিসি চরিত্রের বর্ণনা করেছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়ার স্ত্রী আসমা কিবরিয়া। তার অনাড়ম্বর জীবন, চলাফেরা ও খাদ্যাভাসের স্মৃতি তুলে ধরেছেন সাংবাদিক আতাউস সামাদ, নূরুল কবীর, সাবেক মন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার প্রফেসর ড. আবদুল করিম। ওয়ান ইলেভেনের সময় পরিবারের ওপর চাপ ও ২৯শে অক্টোবরের আত্মগোপন নিয়ে লিখেছেন তার অনুজ রাজনৈতিক সহকর্মী মহিউদ্দিন খান মোহন, জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, ছেলে খোন্দকার আকতার হামিদ পবন ও মেয়ে ডা. লুনা খোন্দকার। জরুরি সরকারের আমলে রাজনৈতিক দুঃসময়ে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের একনিষ্ঠ ও সাহসী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বাণী দিয়েছেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম তার স্মৃতিচারণে লিখেছেন- ‘এরশাদবিরোধী আন্দোলনের উত্তেজনাকর মুহূর্তগুলোতে আমার ধানমণ্ডির বাসায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৫ দল ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৭ দলের লিয়াজোঁ কমিটির অনেক গোপন বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে সব সময় খোন্দকার দেলোয়ার সাহেব উপস্থিত থাকতেন। আন্দোলনকে সফলতার দিকে এগিয়ে নিতে কর্মসূচি নির্ধারণে তার বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা ও আন্তরিকতা ছিলো লক্ষণীয়। ...জাতীয় সংসদে প্রকাশ্য ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি ঐতিহাসিক ঘোষণার মধ্য দিয়ে ’৯১ সালে বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করে। ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংসদীয় গণতন্ত্রের বিল পাস হলেও এর পেছনে অনেকের অবদান ছিল। এদের একজন ছিলেন খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন সাহেব। যা অবশ্যই আজ আমাকে বলতে হবে। ... ’৯২ সালে গোলাম আযমসহ অন্যদের গ্রেপ্তার ও বিচারের ব্যাপারে বিরোধী দল হিসেবে আমরা সংসদ থেকে ওয়াক আউট করি। পরে লাগাতার বর্জন শুরু করি। দীর্ঘ বর্জনের এক পর্যায়ে খোন্দকার দেলোয়ার সাহেব আমার সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে সংসদের একটি কক্ষে আলোচনায় বসেন। এরই ধারাবাহিকতায় আমি তাকে আমার ধানমণ্ডির বাসায় অনানুষ্ঠানিক আলোচনার আমন্ত্রণ জানালে তিনি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে অচলাবস্থা নিরসনে আমার বাসায় আসেন। আমাদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তদানীন্তন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কক্ষে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এ প্রেক্ষিতে সরকারি দলের তদানীন্তন উপনেতা ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী গোলাম আযমের বিচারসহ চারটি বিষয়ে সংসদের উন্মুক্ত অধিবেশনে ঘোষণা দান করেন। আর এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দলের দীর্ঘদিনের সংসদ বর্জনের অবসান ঘটে।’ কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম লিখেছেন- ‘খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর এত প্রশংসা যারা করলেন, তারা তার জীবিতকালে অমন সীমাহীন জঘন্য সমালোচনা না করলেই কি পারতেন না? আজ যারা গলা ফাটিয়ে কথা বলেন তারা কিন্তু ওয়ান ইলেভেনের জরুরি অবস্থার সময় ইঁদুরের গর্তে লুকিয়েছিলেন। সেদিন এই খোন্দকার দেলোয়ারই একজন নির্ভীক রাজনীতিবিদের মতো সিংহের তেজে মাঠে-ময়দানে ছিলেন। তার নিজের দল বিএনপিতেও তিনি কম অপমানিত-লাঞ্ছিত হননি।’
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন লিখেছেন- ‘রাজনীতির বাইরেও তার সাথে আমার একটা আলাদা সম্পর্ক ছিল উভয়ের নামের শুরুতে ‘খোন্দকার’ থাকার কারণে। আমি তাকে সব সময় ‘সিনিয়র খোন্দকার সাহেব’ বলে সম্বোধন করতাম। তিনি সব সময় মিষ্টি হেসে তা উপভোগ করতেন। ... প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর স্বৈরাচারী এরশাদ যখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে শামসুল হুদা ও ডা. মতিনের মাধ্যমে ঢাকা মিরপুরের বিউটি সিনেমা হলে বিএনপি নামে একটি সম্মেলন করে বিভক্ত করতে অপচেষ্টা করেছিল, তখন যে কয়জন নেতা বিএনপি’র মূলধারা শহীদ জিয়ার রাজনীতিকে সমুন্নত রেখেছিলেন তাদের মধ্যে খোন্দকার দেলোয়ারের নাম উল্লেখযোগ্য। ... বিভিন্ন সংস্থা ও মহল তাকে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার জন্য হেন চেষ্টা নেই যা করেনি। এমন চাপের মুখে তিনি সেদিন এক বিবৃতিতে বলেছিলেন যে, তার মৃত্যু হতে পারে তবুও তাকে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে সরানো যাবে না। সেদিন আমরা কারাগারে থেকে উৎসাহিত হয়েছিলাম এবং আশ্বস্ত হয়েছিলাম।’ স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস লিখেছেন- ‘সারাজীবন খোন্দকার দেলোয়ার যেসব বন্ধুর সাথে রাজনীতি করেছেন, চিন্তা-ভাবনা ও মতবিনিময় করেছেন, নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন রাজনৈতিক আলাপচারিতায়- ১/১১ পর সেই বন্ধুরা চক্রান্তকারীদের এজেন্ট হয়ে দলের চেয়ারপারসনের গলায় ছুরি বসাতে তৎপর হয়ে ওঠে সংস্কারপন্থির খোলস পরে। দেলোয়ার ভাই তখন সেই বন্ধুদের সঙ্গ ত্যাগ করে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়েছিলেন অসীম সাহসিকতায়, আদর্শিক চেতনায়, কৃতজ্ঞতাবোধের ঈমানি দায়িত্বে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদ লিখেছেন- ‘এই পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ থাকেন যাদের স্বরূপটা সুস্পষ্ট হয় অসময়ে, সঙ্কটকালে, অনিশ্চিত মুহূর্তে অপ্রত্যাশিত ক্ষণে। তিনি যে আপাদমস্তক রাজনীতিক ছিলেন, তার নিজের দলের প্রতি অত্যন্ত বিশ্বস্ত ছিলেন, দলীয় নেতৃত্বের প্রতি অনুগত থেকে দলীয় আদর্শকে প্রাণপণে ভালবাসতেন তার প্রকাশ অন্য সময়ে যেমন ছিলো, তার হাজার গুণ বেশি প্রকাশিত হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চরম সঙ্কটকালে।... ওই সময়ে তার সাহস, তার আত্মবিশ্বাস, তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ছিলো তুলনাহীন। তিনি ওই সঙ্কটকালে শক্তভাবে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে এবং দুর্ভেদ্য দেয়াল হয়ে না দাঁড়ালে জাতীয়তাবাদী দলের বিপর্যয় ঘটে যাওয়া অসম্ভব ছিলো না।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী লিখেছেন- ‘জাতীয়তাবাদী ঘরানার মধ্যপন্থি, উদার, বাম ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি ছিল তার নিত্যসঙ্গী। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের যে মৌলিক শিক্ষা, শহীদ জিয়ার যে আদর্শিক অনুপ্রেরণা, বেগম খালেদা জিয়ার যে দিক নির্দেশনা-তা ছিল খোন্দকার দেলোয়ারের মূল শক্তি ও প্রেরণা। এই প্রেরণার পথে তিনি চলেছেন সারাজীবন, আমৃত্যু। ... যখন ১/১১ পর একটি বিতর্কিত ও ক্ষতিকর সরকার রাষ্ট্র দখল করে এবং বেগম জিয়া, তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারকে ধ্বংসের সর্বাত্মক আক্রমণ ও ষড়যন্ত্র চালায়- তখনও খোন্দকার দেলোয়ার ছিলেন আপসহীন, অটল। দল ও নেতৃত্বের প্রতি এমন শর্তহীন বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য বর্তমান সময়ে এক বিরল ও অনুকরণীয় উদাহরণ।’ আতাউস সামাদ লিখেছেন- ‘খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন রাজনীতিতে নমনীয়তা এবং সহাবস্থানের পক্ষে ছিলেন। চিফ হুইপ হিসেবেও তিনি সমঝোতার পক্ষে কাজ করতেন বলে শুনেছি। অতি আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই নমনীয় খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনই অত্যন্ত দৃঢ়তা ও দুঃসাহসের সঙ্গে ১/১১’র জরুরি আইনের সরকারের পেছনের সেনাশাসকরা বিএনপি ভাঙার জন্য যে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছিল, যাতে তৎকালীন নির্বাচন কমিশন সরাসরি সহায়তা দিয়েছিল, তা প্রতিহত করেছিলেন। আর তা করেছিলেন বৃদ্ধ বয়সে এবং ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়ে।’ সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার স্ত্রী আসমা কিবরিয়া লিখেছেন- ‘বিচিত্র এই জীবনের চলার পথে চলতে চলতে কত মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়, আবার হঠাৎ কেউ হারিয়ে যায়। কিন্তু আবার কেউ কেউ হারিয়ে গেলেও তাদের কথা ভোলা যায় না। তেমনি দেলোয়ার ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় আমার স্বামী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে। বিয়ের পর থেকে আমার স্বামীর কাছ থেকে দেলোয়ার ভাইয়ের এত কথা, এত গল্প শুনেছি, তাই উনার সঙ্গে আমার স্বামী যখন আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন তখন মনে হয়েছে উনি আমার বহু পরিচিত। প্রথম দেখাতেই পরিচয় পেয়েছি তার উদার ও অমায়িক ব্যবহারের। মুখে তার হাসি লেগেই থাকতো এবং শুনেছি ওরা দু’জন খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। ইউনিভার্সিটিতে একই সঙ্গে পড়াশোনা করেছেন। তারা দু’জন ছাত্রজীবনে একই সঙ্গে গল্প করতেন, ঘুরে বেড়াতেন। আমার স্বামী প্রায়ই বলতেন আমাকে- ‘দেলোয়ারের মনটা খুব পরিষ্কার। দেলোয়ার ভাই খুব ভাল গল্প বলতে পারতেন। আর বন্ধু-বান্ধবের সান্নিধ্য তার খুব প্রিয় ছিল। ... ২৭শে জানুয়ারি সেই কালরাত্রিতে আমার স্বামীকে যখন গ্রেনেডের আঘাতে মৃত্যুবরণ করতে হলো সেদিন দেলোয়ার ভাই ও তার পরিবার ছুটে এসেছিলেন আমাদের সান্ত্বনা দেয়ার জন্য।’ সাংবাদিক শফিক রেহমান ‘জিরো আওয়ার’ অনুষ্ঠানে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন- ‘তিনি ছিলেন একজন ক্লাসিক্যাল পলিটিশিয়ান।’ ...বেগম খালেদা জিয়া খুব স্বল্পভাষী ও মৃদুভাষী। তবুও আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, খোন্দকার দেলোয়ার যে সাহসী এটা আপনি বুঝলেন কি করে? তিনি (খালেদা জিয়া) আমাকে বললেন, এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি জেনেছিলেন যে খোন্দকার দেলোয়ার একজন সাহসী লোক। আমি বায়তুল মোকাররমে তাকে দেখেছি পুলিশ যখন লাঠিপেটা করছিল তখন তিনি পালিয়ে না গিয়ে পুলিশের সামনে গিয়েছিলেন এবং লাঠির বাড়িও খেয়েছিলেন।’ নূরুল কবীর লিখেছেন- ‘এমন মানুষকে, রাজনৈতিক-দার্শনিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও, পছন্দ না করেও পারা যায় না। আমিও দেলোয়ার ভাইকে পছন্দ করতাম। তার সহজ-সরল অনাড়ম্বর জীবন-যাপনের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করতাম।’ কণ্ঠশিল্পী আপেল মাহমুদ লিখেছেন- ‘দেশের জন্য, মানুষের জন্য বিভিন্ন সময়ে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। আজ দলের যে অবস্থান এই বিশাল ব্যাপ্তির জন্য সিংহভাগ কৃতিত্ব আমাদের শ্রদ্ধেয় মরহুম দেলোয়ার ভাইয়ের।’ যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল লিখেছেন- ‘কি এক জাদুকরী ব্যক্তিত্ব! তার সাথে রাগ করা যায় কিন্তু অশ্রদ্ধা করা যাবেই না। ঘৃণার তো প্রশ্নই আসে না। নীতি এবং বিশ্বাসবোধ এর ভিত্তি কতটা দুঃসাহসী এবং অনমনীয় করতে পারে একজন মানুষকে, তার বিরল দৃষ্টান্ত তিনি। যথার্থই এক সংশপ্তক। ... তিনি যেন একটি রাজনৈতিক বিজ্ঞানাগার। কেউ ছাত্র হতে চাইলে সে পরম মমতাময় একজন শিক্ষক পেতেন, রাজনীতি শিখতে চাইলে সে অকৃপণ হাতের ভাণ্ডার নিতে পারতেন, হতাশায় নুয়ে পড়া কেউ কাছে গিয়ে নিষ্কলুষ স্বীকারোক্তি দিলে আশার সঞ্জীবনী সুধা নিয়ে ফিরতে পারতেন।’
খোন্দকার দেলোয়ারের বড় ছেলে ড. খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলুর সম্পাদনায় স্মারকগ্রন্থে স্মৃতিচারণ লিখেছেন- দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, ড. মাহফুজ পারভেজ, বিএনপি ও অঙ্গ দলের নেতা হাবিব-উন নবী খান সোহেল, নুরে আরা সাফা, কবীর মুরাদ, মীর সরফত আলী সপু, আরিফুর রহমান নাদিম, এডভোকেট জিল্লুর রহমান, শাকিল ওয়াহেদ, আবুল কালাম আজাদ, ড. খাজা নাজিমউদ্দীন, খোন্দকার দেলোয়ারের ছেলে এএইচ খোন্দকার জগলু, ডা. আকতারা খাতুন লুনা, খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলু, ডা. দেলোয়ারা বেগম পান্না, ডা. লুনা খন্দকার প্রমুখ। এছাড়াও স্মারকগ্রন্থে দেশে-বিদেশে খোন্দকার দেলোয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তোলা ও পারিবারিক ছবি, তার মৃত্যুতে বিদেশী দূতাবাসের শোকবার্তা এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কাটিং রয়েছে।
No comments:
Post a Comment