কাগজের মতোই পাতলা, নমনীয় হবে ট্যাবলেট
সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তি পণ্য হয়ে উঠছে আরও ক্ষুদ্রাকৃতির এবং পাতলা। সাম্প্রতিক সময়ে স্মার্টফোন আকারে বড় হয়ে উঠলেও এর কমতির দিকেই রয়েছে। ট্যাবলেট পিসিগুলোর পুরুত্বও কমে যাচ্ছে সময়ের সাথে সাথে। আবার আল্ট্রাবুকের মাধ্যমে ল্যাপটপের পুরুত্বও দিন দিন কমছেই। প্রযুক্তি পণের পুরুত্ব কমানো নিয়ে গবেষণা করতে করতে এবার এক যুগান্তকারী উদ্ভাবনের ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার একদল গবেষক। তারা এমন এক ধরনের স্ক্রিন বা পর্দা উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন, যা হবে কাগজের মতোই পাতলা এবং নমনীয়। ফলে একে ইচ্ছেমতো মোড়ানো যাবে এবং পড়ে গেলেও কোনো ধরনের ক্ষতি হবে না। প্রাথমিকভাবে ট্যাবলেট পিসির জন্য এই পর্দা তৈরি করা হলেও আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই ল্যাপটপের পর্দাতেও এটি ব্যবহার হবে বলেই আশাবাদ জানিয়েছেন নির্মাতারা। প্লাস্টিক লজিক নামের একটি প্রতিষ্ঠান এবং ইন্টেল ল্যাবের সহায়তায় কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক উদ্ভাবন করেছেন এই পাতলা, নমনীয় ডিসপ্লে যাকে আক্ষরিক অর্থে ভাঙ্গা যায় না। এই পর্দা ব্যবহার করে যে ট্যাবলেট পিসির প্রোটোটাইপ তারা উদ্ভাবন করেছেন, তার নাম দেওয়া হয়েছে পেপারট্যাব। ইন্টেলের দ্বিতীয় প্রজন্মের কোর টিএমআই৫ প্রসেসর ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এটি, যা ডিজাইন করেছে প্লাস্টিক লজিক। এই ট্যাব সম্পর্কে প্লাস্টিক লজিকের সিইও ইন্দ্র মুখার্জি জানিয়েছেন, 'আজকের দিনে যে ধরনের কাঁচের ডিসপ্লে ব্যবহার করা হচ্ছে, তার চাইতে সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে এই ডিসপ্লে। পাতলা, হালকা এবং নমনীয় এই ডিসপ্লে ব্যবহারের অভিজ্ঞতা হবে সম্পূর্ণ আলাদা।' গত পরশু শুরু হয়ে যাওয়া কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক শো'তেও এটি প্রদর্শন করা হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। নতুন এই পর্দা ব্যবহারে নতুন ধরনের ধারণাও প্রদর্শন করেছেন গবেষকরা। প্রচলিত ডিভাইসগুলোতে একটিমাত্র ডিসপ্লেই ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে পেপারট্যাব ব্যবহার করে আলাদা আলাদা ডক্যুমেন্টের জন্য আলাদা আলাদা ডিসপ্লে ব্যবহার করাও সম্ভব। শুধু তাই নয়, একাধিক পেপারট্যাব একসাথে জুড়ে দিয়ে বড় আকারের ডিসপ্লে তৈরি করা সম্ভব হবে বলেও জানিয়েছেন গবেষকরা। আবার এই পর্দাগুলো নমনীয় বলে এর নমনীয়তাকে ব্যবহার করেও বিভিন্ন ধরনের ফাংশন যুক্ত করার সুবিধা থাকবে এতে। ইন্টেল আশা করছে, এই ডিসপ্লে প্রচলিত সব ধরনের ডিসপ্লেকে প্রতিস্থাপন করকে সক্ষম হবে।
No comments:
Post a Comment