Pages

Friday, January 4, 2013

ইডেনে সিরিজ জয় পাকিস্তানের

ইডেনে সিরিজ জয় পাকিস্তানের


কলকাতায় তিনবারের মোকাবিলায় পরিসংখ্যানে পাকিস্তানের সাফল্যটা ছিল একতরফা। ইডেনে পাকিস্তানের অজেয় রূপটি অমলিনই থাকলো। গতকাল ভারতকে পাকিস্তান হারালো ৮৫ রানে। আর এতে নিশ্চিত হলো, তিন ম্যাচ সিরিজের ট্রফিটি পাকিস্তানের বিমানেই চড়ছে। চেন্নাইয়ে সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান ভারতকে হারায় ৬ উইকেটে। গতকাল ঘোলা আকাশে ইডেনের বৃষ্টিসিক্ত পিচে আগে ব্যাট করে পাকিস্তান থামে ২৫০ রানে। ভারতের বিপক্ষে নিজের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ঝলক আরেকবার দেখান পাক ওপেনার নাসির জামশেদ। সঙ্গে অপর ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজের ৭৬ রানের ইনিংসে পাকিস্তানের আড়াই শ’ রান ম্যাচ শেষে নাগালের বাইরেই থাকে ভারতের। জয়ের টার্গেটে ১৬৫ রান তুলতেই গুটিয়ে যায় ভারতের ইনিংস। এমএস ধোনি অপরাজিত অর্ধশতকে প্রতিরোধ দেখান একলাই। পাঁচ বছরে প্রথম দ্বিপক্ষীয় পাক-ভারত সিরিজটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহটা বেশি ছিল এমনিতেই। আর কলকাতায় ম্যাচের আগে এ উন্মাদনাটা দেখা যাচ্ছিল নানা সাজে। ১৯৮৭ বিশ্বকাপে পাক-ভারত ম্যাচ দিয়ে অভিষেক হয় কলকাতার ইডেন গার্ডেন ভেন্যুর। এর রজত জয়ন্তীতে এবারের ম্যাচের আগে আলাদা আয়োজন রাখে বেঙ্গল ক্রিকেট সংস্থাও। দু’দেশের সাবেক ও বর্তমান তারকাদের দেয়া হয় সম্মাননা। তবে ভারতীয়দের এসবই দেখতে হয় সিরিজ হারানোর বেদনা নিয়ে। সকালে পাকিস্তানের ব্যাটিং দেখে ২৫০ রানের টার্গেট খুব বড় মনে না হওয়ার কথা। কিন্তু আদতে আরেকবার ভঙ্গুরই দেখালো ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন। চেন্নাইয়ে ২৯ রানে উইকেট গিয়েছিল ৫টি। এবার ভারত ৫ উইকেট হারালো ৯৫ রানে, এই যা। এদিন ভারত ব্যাটসম্যানরা পেস-স্পিনে সমান ব্যর্থ । ৯ ওভারের পেস ঝড়ে জুনাইদের এবারও শিকার ৩ উইকেট। আর ১০ ওভারে ২০ রানের কিপটেমি বোলিংয়ে সাঈদ আজমলেরও শিকার ভারতের তিন ব্যাটসম্যান।
ভারতের বিপক্ষে নাসির জামশেদের ব্যাটিং পরিসংখ্যানটা এমনিতেই চোখে পড়ার মতো। নৈপুণ্যে পাওয়া গেল জামশেদকে কলকাতায়ও। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় ম্যাচেও সেঞ্চুরি দেখালেন জামশেদ। মোহাম্মদ হাফিজকে নিয়ে এতে জামশেদের ১৪১ রানের ওপেনিং জুটি। পাকিস্তানের ইনিংস ধরাছোঁয়ার বাইরে যাওয়ার আশঙ্কাটা তখন ভারতীয় শিবিরে। অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির পছন্দে দলে সুযোগ পেয়ে বল হাতে এ সময় আলাদা ছন্দ দেখালেন রবীন্দ্র জাদেজা। ২৪তম ওভারে হাতে বল পেয়ে মোহাম্মদ হাফিজকে সাজঘরে ফিরিয়ে দিয়ে পাকিস্তানের ওপেনিং জুটি ভাঙেন জাদেজা। পরে পাক ইনিংসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তিন বলের ব্যবধানে জাদেজা তুলে নেন জামশেদ ও কামরান আকমলের উইকেট। পাকিস্তানও থামে ২৫০ রানেই। ভারতের বিপক্ষে এ পর্যন্ত চার ম্যাচে দুইবার নট আউট জামশেদের এ নিয়ে মোট রান ৩৭২। জামশেদের ক্যারিয়ারের তিন সেঞ্চুরি এতে। ঢাকায় এশিয়া কাপে প্রথম আর অপরটি চলতি সিরিজে চেন্নাইয়ে। ইডেনের মাঠে টস জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে দেন ভারত অধিনায়ক ধোনি। তবে গতকাল সকালে ভারত পেসাররা পাক ওপেনারদের পরীক্ষায় ফেলতে পেরেছে থোরাই। বৃষ্টিভেজা-মেঘাচ্ছন্ন কলকাতায় ভারতের শুরু বোলিংটা খারাপ ছিল বলা যাবে না। তবে এদিন আলাদা শাণিত ব্যাটিং দেখান দুই পাক ওপেনার। আগের ম্যাচে ইনিংসের প্রথম বলে উইকেট হারানো হাফিজ ও জামশেদ ব্যাট চালান বল ও পরিস্থিতি বুঝে। সচল রাখেন রানের চাকাও। এতে পাকিস্তান ইনিংসের প্রথম ৫০ রান পূর্ণ হয় ৪৯ বলে। প্রথম উইকেট সাফল্য পেতে ভারত অধিনায়ককে অপেক্ষায় কাটাতে হয় লম্বা ২৪ ওভার। পুরনো বলে ইডেনের অসমতল পিচ এ সময় পরিবর্তন দেখাচ্ছিল তার আচরণে। আর এমন সময় জাদেজার স্পিনই ধোনির মুখে ফোটায় সারাদিনের প্রথম হাসি। ব্যক্তিগত ৭৬ রানে হাফিজকে ফিরিয়ে দেন জাদেজা। উজ্জীবিত ভারত বোলাররা পাকিস্তানের পরের ৪১ রানে তুলে নেয় তিন উইকেট। অল্প রানে আউট পাক অধিনায়ক মিসবাহ-উল হক, অভিজ্ঞ ইউনুস খান ও আজহার আলী। পাকিস্তানের রানের চাকা হয়ে পড়ে মন্থর। আর চাপের মুখে ৯ বল বাকি রেখেই পাক ইনিংস শেষ হয় কাঁটায় কাঁটায় আড়াই শ’ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
টস: ভারত, ফিল্ডিং
পাকিস্তান: ৪৮.৩ ওভার; ২৫০ (জামশেদ ১০৬, হাফিজ ৭৬, আজহার ২, ইউনুস ১০, মিসবাহ ২, মালিক ২৪, কামরান ০, গুল ১৭, আজমল ৭, জুনাইদ ০*, ইরফান ০, ইশান্ত ৩/৩৪, জাদেজা ৩/৪১)।
ভারত: ৪৮ ওভার; ১৬৫ ( গম্ভীর ১১, সেওয়াগ ৩১, কোহলি ৬, যুবরাজ ৯, রায়না ১৮, ধোনি ৫৪*, অশ্বিন ৩, জাদেজা ১৩, কুমার ০, ডিন্ডা ০, ইশান্ত ২)।
ফল: পাকিস্তান ৮৫ রানে জয়ী, তিন ম্যাচ সিরিজে পাকিস্তান ২-০তে এগিয়ে
ম্যাচ সেরা: জামশেদ (পাকিস্তান)
৩য় ওডিআই: ৬ই জানুয়ারি দিল্লি

No comments:

Post a Comment