Pages

Showing posts with label INDIA. Show all posts
Showing posts with label INDIA. Show all posts

Friday, March 8, 2013

দিল্লিতে আবারও গণধর্ষণ

দিল্লিতে আবারও গণধর্ষণ


দিল্লিতে গণধর্ষণের প্রতিবাদে উত্তাল ভারতের রাজধানীতে চলন্ত গাড়িতে আবারও দু’টি গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে পূর্ব দিল্লির ওয়েলকাম এলাকাতে চলন্ত গাড়িতে এক নারীকে চার ব্যক্তির ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে শনিবার রাতে গাজিয়াবাদ জেলা থেকে দিল্লি ফেরার পথে দ্বাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রী অটোরিকশাতে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে পূর্ব দিল্লির নিউ জাফরাবাদ এলাকার ডাস্টবিনের কাছে পুলিশ অজ্ঞান অবস্থায় ২৫ বছরের এক নারীকে উদ্ধার করে। হাসপাতালে নেয়ার পর ওই নারী পুলিশকে জানিয়েছেন স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়ার পর তিনি চাকরি খুঁজছিলেন। কয়েক দিন আগে যশদেব নামের এক ব্যক্তিকে তিনি কাজ খুঁজে দেয়ার অনুরোধ করেছিলেন। যশদেব তাকে সোমবার সন্ধ্যায় কাজ দেয়ার কথা বলে জাফরাবাদ পার্কে দেখা করতে বলে। নির্ধারিত স্থানে ওই নারী আসার পর সেখানে থাকা গাড়িতে আগে থেকেই আরও তিন ব্যক্তি উপস্থিত ছিল। যশদেব তাকে চেতনানাশক মিশ্রিত কোমল পানীয় খাইয়ে চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণ করে। পানীয় খাবার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েছিলেন বলে তিনি ঠিক বলতে পারেননি তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এ ব্যাপারে একটি মামলা করা হয়েছে। যশদেবকে পুলিশ আটক করেছে। অন্যদের সন্ধ্যানেও অভিযান চলছে। এদিকে পুলিশ আরও জানিয়েছে ইন্দরাপুরাম শিপরা মল থেকে দিল্লি ফেরার পথে দ্বাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে অটোতে করে গণধর্ষণ করা হয়েছে। পুলিশ দাবি করছে ১৯ বছরের ওই তরুণীকে অটোতে বসার পরপরই অপহরণ করা হয়। এরপর পেছনের সিটে আরও দুই ব্যক্তি তাকে জোর করে ধরে রেখে ২৫ কিলোমিটার দূরে দাসনাতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে একটি মাঠে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। সন্দেহভাজন অভিযুক্ত অনকিত এবং ডুপপনকে ধর্ষণ, অপহরণ এবং ডাকাতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০ কোঠায় বয়স দু’জনই ছিঁচকে অপরাধী। গাজিয়াবাদ থেকে অটোরিকশাটি চুরি করা হয়েছিল।

Monday, February 4, 2013

জীবননগর সীমান্তে বিএসএফ'র গুলিতে আহত ৩, আটক ১

জীবননগর সীমান্তে বিএসএফ'র গুলিতে আহত ৩, আটক ১



জীবননগর উপজেলার হরিহরনগর সীমান্তে গত শনিবার রাতে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বোমা হামলা ও গুলিতে ৩ জন বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী আহত হয়ে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন। একই সময়ে বিএসএফ অপর একজন গরু ব্যবসায়ীকে আটক করেছে। এ সময় ভারতে নিখোঁজ পিতা-পুত্র দুইজন ফিরে এসেছেন বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) পক্ষ হতে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসএফকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, হরিহরনগর সীমান্তের ৬৩ নং মেইন পিলারের নিকট দিয়ে গরু আনতে গত শনিবার রাতে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশ করলে টহলরত ভারতের পুটিখালী ক্যাম্পের বিএসএফ ৩টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় ও গুলি ছোঁড়ে। বোমা আঘাত ও গুলিতে সাইদুর রহমান, কামাল উদ্দিন ও শুকুর আলী মারাত্মকভাবে আহত হয়ে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। এ সময় একই সীমান্তের ভাজনঘাট ফার্ম এলাকা হতে অপর গরু ব্যবসায়ী মুকুলকে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। ভারতের ভাজনঘাট ফার্ম এলাকার লালুপুর মাঠ হতে এলাকাবাসী গুলিবিদ্ধ শুকুর আলীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এদিকে অপর একটি সূত্র জানায়, নিখোঁজ পিতা-পুত্র সলিম ও খায়রুল গতকাল দুপুরে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন। আহতরা পুলিশী ভয়ে ও গ্রেফতার এড়াতে পার্শ্ববর্তী মহেশপুর উপজেলার অজ্ঞাতস্থানে গিয়ে চিকিত্সা নিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। বিজিবি চুয়াডাঙ্গাস্থ ৩৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গাজী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ হতে বিএসএফকে প্রতিবাদ জানিয়ে চিঠি দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

Thursday, January 31, 2013

ভাগ্যবশত আমি সেলিব্রেটি

ভাগ্যবশত আমি সেলিব্রেটি


নিজেকে নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে বাকযুদ্ধে ভীষণ বিরক্ত বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান। তাই তিনি এবার নিজেই মুখ খুললেন। নিঃসংকোচে বললেন, আমি একজন ভারতীয়। আমার পিতা ভারতের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন। ভারতে আমার নিরাপত্তায় কোন সমস্যা নেই। সমপ্রতি একটি ম্যাগাজিনকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারের পর পাকিস্তান ও ভারতের রাজনৈতিক পর্যায়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য শুরু হয়। নেতাদের মধ্যে চলতে থাকে বাকযুদ্ধ। তাতে জড়িয়ে পড়েন দু’ দেশের মন্ত্রীরা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এমনকি পাকিস্তানের জামায়াতুত দাওয়ার প্রধান হাফিজ সাঈদ পর্যন্ত শাহরুখ খানকে ভারতে নিরাপত্তায় সমস্যা হলে পাকিস্তান চলে যেতে আমন্ত্রণ জানান। এর পরেই শাহরুখ খানকে নিরাপত্তা দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানান পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক। এর কড়া জবাব দেন ভারতের স্বরাষ্ট্র সচিব আর কে সিং। তিনি বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের নাক গলানোর কোন অধিকার নেই। তারা যেন তাদের নিজেদের নিয়ে ভাবেন। একই রকম বক্তব্য উঠে আসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে। দু’দেশের নেতাদের মধ্যে যখন এমন বাকযুদ্ধ চলছে তখন ফের মুখ খুললেন শাহরুখ খান। তিনি বললেন, ওই ম্যাগাজিনকে এমন কিছু আমি বলি নি যে, আমি ভারতে নিরাপত্তাহীন। তিনি বলেন, আমি ভারতীয় হয়ে এবং আমার পিতা-মাতার সন্তান হিসেবে গর্বিত। এখানে আমার কোনই সমস্যা হচ্ছে না। এ বিষয়ে তিনি একটি দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছেন। এতে তিনি বলেছেন, আমাদের সবারই তিনটি সুনির্দিষ্ট পরিচয় আছে। এর মধ্যে দু’টি পরিচয় আমরা জন্মসূত্রে অর্জন করি। প্রথমটি হলো- জন্মস্থান। যা আমার মাতৃভূমি। এটাই আমাদের পরিচয়। তাই আমি ভারতীয় পরিচয় দিয়ে গর্ব বোধ করি এ জন্য অনেকেই আমাকে পছন্দ করেন। দ্বিতীয়টি হলো পারিবারিক নাম। যা আমাদের পিতা-মাতা দিয়ে থাকেন। আমার জন্য সেই নাম হলো খান। আমি আমার পিতা-মাতাকে নিয়ে খুব গর্বিত। এখানকার অন্যরাও তাদের পিতা-মাতাকে নিয়ে গর্ব বোধ করেন। শর্তহীনভাবে আমি তাদেরকে ভালবাসি। তৃতীয় পরিচয় হলো- আমাদের পেশা। কোন এক ভাগ্যবশত আমি একজন সেলিব্রিটি হয়ে গিয়েছি। এটি আর্ট ও মিডিয়ার একটি ফিগার। আমার মতো অনেকেই আছেন। তৃতীয় এই পরিচয়টি আমাকে মাঝে মধ্যেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। কখনো তা ভাল। কখনও তা শুভ নয়। কখনও আমাকে নিয়ে বিতর্ক হয়। কেউ আমার নামকে ব্যবহার করেন। তাতে কেউ ইতিবাচক, কেউ নেতিবাচক ফল পান। আমি এসবই মেনে নিই। কারণ এইতো জীবন। আমাকে যারা স্টার বা তারকা বানিয়ে দিয়েছেন তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এখন আসি আমাকে নিয়ে যে বিতর্ক তাতে। আমাকে নিয়ে (ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে) যে বিতর্কের সূচনা তার কোন ভিত্তি আমি দেখি না। ওই বিবৃতিতে শাহরুখ খান আরও বলেন, আমি যে প্রতিবেদনটি লিখেছি তাতে আমি বলতে চেয়েছি, আমি একজন ভারতীয় মুসলিম তারকা হিসেবে কি সব সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। আমি মনে করি (যারা এই বিতর্কে জড়িয়েছেন) তারা এই লেখাটি ঠিকমতো পড়েননি। তাই আমি সবাইকে বলবো- আপনারা আগে লেখাটি পড়ুন। দ্বিতীয়ত বলবো- যদি পড়ে থাকেন তাহলে এতে কোথাও এমন কোন কথা পাবেন না যেখানে আমি প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে বলেছি যে, আমি ভারতে নিরাপদ নই। আমার কোন সমস্যা হচ্ছে, তা-ও বলিনি। এমনকি আমি গত ২০ বছরের ক্যারিয়ারে যাদের ভালবাসায় আজকের শাহরুখ খান হয়েছি তাদের প্রতি কোন অশ্রদ্ধা প্রকাশ করিনি। আমাকে আমার দেশবাসী ও নারীরা খুবই ভালবাসেন। তাই আমি আজকের খান। আমার মধ্যে কোন অহমিকার ধারণা আসে নি। তার পরিবর্তে আমার জীবন লাখ লাখ ভারতীয়ের ভালবাসায় সিক্ত। গত ২০ বছরে আমি যে ভালবাসা পেয়েছি তা সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলতে কোন সমপ্রদায়ের নয়, সবার। আমি শুধু দেশেই নয়, সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের ভালবাসা পেয়েছি। ওই বিবৃতিতে তিনি হাফিজ সাঈদের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, যারা আমাকে অনাকাঙিক্ষত পরামর্শ দিয়েছেন বা দিচ্ছেন তারা যেন বুঝতে পারেন যে, আমরা ভারতীয়রা ভীষণভাবে নিরাপদ ও সুখী। আমাদের চমৎকার গণতন্ত্র আছে। জীবনে রয়েছে মুক্ত ও ধর্মনিরপেক্ষ পথ বেছে নেয়ার সুযোগ। আমরা ভারতে যে পরিবেশে বাস করি এখানে কোন নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই। বিদ্যমান নয় এমন ইস্যু নিয়ে কথা বলা অমূলক। তারপরও যারা আমার দৃষ্টিভঙ্গি অন্যভাবে দেখছেন এবং পরামর্শ দিচ্ছেন তাদেরকে অনুরোধ করবো আপনারা আমার ওই লেখাটি দয়া করে একবার পড়ে দেখুন। বিবৃতির শেষের দিকে তিনি লিখেছেন, আমরা সবাই শিক্ষিত ও দেশপ্রেমিক। আমার নিজের পরিবার ও বন্ধুরা যারা আমার কাছে একটি মিনি ভারত- এই আমাদের সঙ্গে সবার রয়েছে সহনশীলতা, সমঝোতা, ভালবাসা। আমি লাখ লাখ ভারতীয় ও ভারতের বাইরে যেসব দর্শক-ভক্তের ভালবাসা পেয়েছি সেই ভালবাসাই আমার পুঁজি। এটা আমার প্রমাণ করার কিছুই নেই।

Tuesday, January 29, 2013

সিলেট সীমান্ত থেকে ৪ বাংলাদেশীকে অপহরণ করেছে বিএসএফ

সিলেট সীমান্ত থেকে ৪ বাংলাদেশীকে অপহরণ করেছে বিএসএফ

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট সীমান্ত থেকে চার বাংলাদেশীকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে বিএসএফ। গতকাল বিকালে সীমান্ত এলাকায় পায়চারী করার সময় তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় বিজিবি পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে। বিএসএফ পতাকা বৈঠকে সাড়া দিলেও গতকাল রাত পর্যন্ত তা অনুষ্ঠিত হয়নি। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় লোকজন জানান, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার আলেম মাওলানা হাবিব আল জালাল ওয়াজ মাহফিলে অংশ নিতে সোনারহাট সীমান্তের ভাদেশ্বর গ্রামে আসেন। গতকাল বিকালে স্থানীয় ভাদেশ্বর গ্রামের যুবক সোহেল আহমদ, নাজমুল ইসলাম, মাওলানা হাবিব আল জালালসহ চারজন সোনার হাট ও কলুমছড়া সীমান্ত ফাঁড়ির মধ্যবর্তী স্থানে পায়চারী করছিলেন। এ সময় সীমান্তের ওপার থেকে বিএসএফ জওয়ানরা এসে তাদের অপহরণ করে নিয়ে যায়। বিজিবির ৫ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল শফিউল আযম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আজ বৈঠক হবে। স্থানীয় লোকজন জানান, মাওলানা হাবিব সহ চার জন পায়চারী করার সময় ভুলক্রমে জিরো পয়েন্ট এলাকায় ঢুকে পড়লে তাদের ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ।

জ্যাকুলিন আবারও রগরগে দৃশ্যে

জ্যাকুলিন আবারও রগরগে দৃশ্যে


‘রেস-২’ ছবিতে ‘লাট লাগ গ্যয়ি’ গানটির মাধ্যমে তুমুল আলোচনায় অবস্থান করছেন বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। ‘মার্ডার-২’-এর পর এই গানটি জ্যাকুলিনের ক্যারিয়ারের মোড়ই ঘুরিয়ে দিয়েছে। যার কারণে হঠাৎ করেই দারুণ ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তিনি। যেখানে প্রেমিক চলচ্চিত্র পরিচালক সাজিদ খানের নির্দেশনা অনুযায়ী খুব কম সংখ্যক ছবিতে অভিনয় করছিলেন জ্যাকুলিন, সেখানে ‘রেস-২’-এর প্রমো প্রচার হওয়ার ক’দিনের মধ্যেই সাত সাতটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। এই সাতটি ছবি থেকে তিনটি ছবির কাজ শুরু করেছেন জ্যাকুলিন। এর মধ্যে দুটি ছবিতে জন আব্রাহামের বিপরীতে কাজ করছেন। আর অন্য ছবিটিতে কাজ করেছেন রণবীর সিংয়ের বিপরীতে। এই প্রথম জ্যাকুলিন রণবীরের সঙ্গে কাজ করছেন। ছবিতে রগরগে কিছু দৃশ্যেও দেখা যাবে তাকে। তবে জানা গেছে, অভিনয়ের ক্ষেত্রে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা জ্যাকুলিনের ওপর থেকে তুলে নিয়েছেন সাজিদ। আর সে কারণেই নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী এখন কাজ করছেন জ্যাকুলিন। অনেকেই বলছেন সাজিদের সঙ্গে সম্পর্ক ধীরে ধীরে চুকিয়ে ফেলতে চাচ্ছেন জ্যাকুলিন। তবে এই বিষয়টিতে তাদের দু’জনের কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে রণবীরের সঙ্গে জুটি হয়ে করা ছবিটিতে ব্যাপক খোলামেলাভাবে উপস্থাপিত হচ্ছেন জ্যাকুলিন। ছবিটি চলতি বছরের শেষের দিকে মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। ছবিটি পরিচালনা করছেন আশ্বিন পাটেল।

Friday, January 25, 2013

দিল্লিতে ছাত্রী খুন,উঠছে ধর্ষণের অভিযোগ

দিল্লিতে ছাত্রী খুন,উঠছে ধর্ষণের অভিযোগ


দিল্লির ফরিদাবাদে শুক্রবার এক কিশোরীর মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়। তবে মৃতদেহের শারীরিক পরীক্ষার পরই ধর্ষণের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ সূত্রে এও জানা গিয়েছে, তরুণীর দেহে বেশ কয়েকটি গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গলায় ও পেটে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। সে প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় ৩০ বছরের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে টিউশন পড়তে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হয়নি দ্বাদশ শ্রেণীর ওই ছাত্রীর। পুলিশ তার টিউশন ক্লাসে গিয়ে জানতে পারে, এক যুবক তাকে ডেকে নিয়ে যায়। ঘটনার বিস্তারিত তদন্তে শুরু করেছে পুলিশ।

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানী দিল্লির চলন্ত বাসে এক ছাত্রীর গণধর্ষণের ঘটনার পর থেকে শহরে মহিলাদের সুরক্ষা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঘটনার এক মাস কাটতে না কাটতেই ফের ধর্ষণের অভিযোগ উঠল রাজধানীতে। ফলে স্বভাবতই আতঙ্ক ছড়িয়েছে শহরবাসীর মধ্যে। সূত্র: জিনিউজ।

Saturday, January 19, 2013

সহজ জয়ে এগিয়ে গেল ভারত

সহজ জয়ে এগিয়ে গেল ভারত


ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে ৭ উইকেটের সহজ জয় পেয়েছে স্বাগতিক ভারত। মাত্র ১৫৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বিরাট কোহলির দুর্দান্ত ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সুবাদে ২২ ওভার হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ধোনি বাহিনী। অনায়াস এই জয় দিয়ে এখন পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে ভারত।
জয়ের জন্য ১৫৬ রানের লক্ষ্যে পৌছাতে তেমন কোন কষ্টই করতে হয়নি ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের। তৃতীয় ওভারে ওপেনার আজিনকা রেহানের উইকেট হারিয়ে শুরুটা ভালোভাবে করতে না পারলেও চমত্কার ব্যাটিং করে দলকে জয়ের পথে নিয়ে গেছেন বিরাট কোহলি। দ্বিতীয় উইকেটে গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে ৬৭ রানের জুটি গড়ে জয়টা নাগালের মধ্যে নিয়ে আসেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। দলীয় ৭৮ রানের মাথায় গম্ভীর সাজঘরে ফেরার পর যুবরাজ সিংয়ের সঙ্গে জুটি বাঁধেন কোহলি। তৃতীয় উইকেটের এই জুটি থেকে আসে ৬৬ রান। জয়ের জন্য যখন আর ১২ রান প্রয়োজন, সেসময় সাজঘরমুখী হন যুবরাজ সিং। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৩০ রান। ৭৭ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন কোহলি।
এর আগে আজকের ম্যাচ টস জিতেছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিই। টসে জিতে ফিল্ডিং বেছে নেওয়ার অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে সম্মান দিতেই যেন যার যার মতো জ্বলে উঠলেন ভারতীয় বোলাররা। ভুবনেশ্বর কুমার, সামি আহমেদ, ইশান্ত শর্মা, রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, সুরেশ রায়না—ব্যবহূত ছয় বোলারই ত্রাস হয়ে উঠলেন ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের জন্য। সবাইকে ছাপিয়ে অবশ্য ইংলিশদের জন্য একটু বেশিই ভয়ংকর হয়ে উঠলেন রবীন্দ্র জাদেজা। অসাধারণ বোলিংয়ে ১৯ রানের বিনিময়ে জাদেজার তুলে নেওয়া ৩টি উইকেটই মূলত ইংলিশদের মেরুদণ্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। জাদেজার ৩ উইকেটের পাশাপাশি ইশান্ত শর্মা ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন—উভয়ের দুটি করে উইকেট ইংলিশদের আর মাথা তুলতে দেয়নি। নিজেদের মধ্যে এই তিন বোলার ভাগাভাগি করেন সাতটি উࢇে। ঠকী তিনটর উঃকেट ঝুলিতে पো৐ࣇন বࣁবনেশ্বর কুমার, সাঢ আমেআ ও সুরেশ ࠰া৓নাत0/div>
ব্যাটিয়ে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা হয়েছিল বেশ ধীরগতির। দলীয় ২৪ রানে প্রথম উইকেটের পতনের পর কেভিন পিটারসেন ও ইয়ান বেল ইনিংস মেরামত শুরু করেছিলেন। কিন্তু ইশান্ত শর্মার বলে উইকেটের পেছনে ধোনির বিতর্কিত এক ক্যাচে পরিণত হন তিনি। পিটারসেন আউট হওয়ার পর ইয়ান বেলও প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন স্কোরবোর্ডকে ওই চেহারায় রেখেই।
কুক, পিটারসেন ও বেলের বিদায়ের পরপরই আসা-যাওয়ার মিছিল শুরু হয় ইংলিশ শিবিরে। জো রুটের ব্যাট থেকে এসময় ৩৯ রান আর টিম ব্রেসনান ২৫ রানের এক ইনিংস না খেললে ইংলিশদের স্কোর শতরানের কোটাও পার হয় না। মিডল অর্ডারে ক্রেইগ কিসওয়েটার ও সামিত প্যাটেল শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলে আরও বেড়ে যায় ইংলিশদের দুঃস্বপ্নের মাত্রা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড ১৫৫ (৪২.২ ওভার)
জো রুট ৩৯, পিটারসেন ২৫, ব্রেসনান ২৫
রবীন্দ্র জাদেজা ৩/১৯, ইশান্ত শর্মা ২/২৯. অশ্বিন ২/৩৭
ভারত ১৫৭/৩ (২৮.১ ওভার)
বিরাট কোহলি ৭৭*, যুবরাজ সিং ৩০, গৌতম গম্ভীর ৩৩
জেমস ট্রেডওয়েল ২/২৯, স্টিভেন ফিন ১/৫০

Tuesday, January 15, 2013

‘সীমান্তে হত্যা গ্রহণযোগ্য নয়’

‘সীমান্তে হত্যা গ্রহণযোগ্য নয়’


বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ পিএসসিজি বলেছেন, সীমান্তে হত্যা কোনভাবেই
গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিএসএফ-এর হাতে কোন বাংলাদেশী নিহত হলে প্রতিবারই আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। এ হত্যা বন্ধে সরকারের পক্ষ থেকেও জোরালে পদক্ষেপ রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে সীমান্তের অধিবাসীদেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সীমারেখার কতগুলো নিয়ম আছে। আইনের প্রতি সকলেরই শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। যে কোন সীমান্তে ১৫০ গজের মধ্যে যাওয়ার নিয়ম নেই। আর সামপ্রতিক (১লা ও ২রা জানুয়ারি) ইন্সিডেন্ট (হত্যাকাণ্ড) যেগুলো ঘটেছে বেশির ভাগই ‘ক্রসিং বর্ডার’-এর কারণে ঘটেছে। তাই এ বিষয়ে সচেতনতা দরকার। রাজধানীর পিলখানার সদর দপ্তরের মিডিয়া কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্ডারের ওই পাড়ে যখন ঘটনা ঘটে আমাদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তারা তখন তাদের মত করে বক্তব্য দেন। তবে এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান সুস্পষ্ট। খুব জোরালোভাবে এর প্রতিবাদও আমরা জানিয়েছি। কিন্তু সেটা (হত্যাকাণ্ড) জিরো লেভেলে আসছে না। এটা দুঃখজনক। তিনি জানান, আত্মরক্ষার্থে উভয় পক্ষই গুলি চালাতে পারে। তবে এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি না হলে সীমান্তের দুঃখজনক ঘটনা বাড়বে। বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, পিলখানায় রক্তাক্ত বিদ্রোহের চার বছর পর সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে এসেছে। ওই বিদ্রোহের পর পিলখানা ও দেশের অন্যান্য স্থানে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দপ্তরে নিরাপত্তার জন্য যে সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছিল, পর্যায়ক্রমে তাদের প্রত্যাহার করে নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার বাসায় যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল সমপ্রতি তাদেরও সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আজিজ আহমেদ বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার পরপর বিভিন্ন জায়গায় আমার সঙ্গে সেনাসদস্যরা গেলেও এখন আর তারা যাচ্ছে না। উল্লেখ্য, গত ৫ই ডিসেম্বর বিজিবির মহাপরিচালকের দায়িত্ব নেন আজিজ আহমেদ। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় পিলখানায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদেরও গত ৩১ ডিসেম্বর প্রত্যাহার করে নেয়া হয় বলে জানান তিনি। মহাপরিচালক বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের যেসব মামলা চলছে সেগুলোতে আমরা শুধু প্রশাসনিক সহায়তা দিচ্ছি। বিচারে খালাসপ্রাপ্তরা আবারও বাহিনীতে ফিরে এসেছে এবং স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালনও করছে। ইতিমধ্যে ওই বিদ্রোহের ঘটনায় সারা দেশে বিজিবি আইনে করা মামলাগুলোর বিচার শেষ হয়েছে। আর বিদ্রোহের সময় হত্যার ঘটনায় প্রচলিত আইনে মামলার কার্যক্রম চলছে। সীমান্তরক্ষা বাহিনীর চারটি আঞ্চলিক সদর দপ্তর খুব শিগগিরই চালু হবে জানিয়ে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, আগামী ২০শে জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী এই আঞ্চলিক সদর দপ্তরগুলো উদ্বোধন করবেন। ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সরাইল, চট্টগ্রাম, রংপুর ও যশোরে এই চারটি আঞ্চলিক সদর দপ্তর করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি’র মহাপরিচালক বলেন, বিজিবিকে আরও আধুনিকায়ন ও শক্তিশালী করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই বাহিনীর সার্বিক উন্নয়নের দিকে লক্ষ্য রেখে ১২টি সেক্টর হেডকোয়ার্টারের জায়গায় ১৬টি সেক্টর হেডকোয়ার্টার করা হবে। মোট ৫৪টি ব্যাটালিয়নের মধ্যে ঢাকায় ২টি ও ঢাকার বাইরে ব্যাটালিয়ন হবে ৫২টি। এগুলো ছাড়াও রাইফেল সিকিউরিটি ইউনিট, ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশন, সিগন্যাল সেক্টর, আইসিটি ব্যাটালিয়নকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। বিজিবি’র মহাপরিচালক বলেন, সীমান্তে কাউন্টার পয়েন্টে যেসব বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করেন তাদের, এক পয়েন্ট থেকে আরেক পয়েন্টে যথাসময়ে ও দ্রুত যাওয়ার জন্য আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ১৭০০ মোটরসাইকেল দেয়া হবে। এতে করে টহলে সুবিধা বাড়বে। তাতে সীমান্তে চোরাচালান রোধ করা যাবে। মহাপরিচালক জানান, বিজিবি বিওপিতে সদস্যদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি, ৬৫টি সোলার সিষ্টেম এবং প্রায় প্রতিটি সীমান্ত এলাকায় ইলেকট্রিসিটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিডিআর বিদ্রোহ, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধের বিচারের বিষয়ে মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, ইতিমধ্যে কোন ধরনের প্রশ্ন ছাড়াই বিজিবির নিজস্ব আইনে বিদ্রোহের বিচার সম্পন্ন করেছি। আমাদের ধারণা এ বিষয়ে কারও বিরূপ ধারণা নেই। জাতির কাছেও তা গ্রহণযোগ্য হয়েছে। যারা এই মামলায় খালাস পেয়েছে তারা ইতিমধ্যে আমাদের সঙ্গে কাজে যোগ দিয়েছে। বিজিবির প্রচলিত সব সুযোগ সুবিধাও তারা পাচ্ছে এবং পাবে। এখন ৮৪৭ জনের বিচার হবে বিদ্রোহে হত্যা সহ অন্যান্য অপরাধের জন্য। এর বিচার হবে প্রচলিত ফৌজদারি আইনে। তিনি বলেন, বিচারিক বিষয় যেহেতু সময় নির্ধারণ করে হয় না, তাই কবে নাগাদ তা শুরু ও শেষ হবে তা বুঝবে দেশের আদালত। কিন্তু এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি কোন নিরপরাধ লোক সাজা পাবে না। বিচারকাজে প্রশাসনিক সহযোগিতা ও তথ্যবহুল প্রমাণ দরকার উল্লেখ করে বিজিবি’র মহাপরিচালক বরাবরের মতো সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিবি’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাইদ খান, উপমহাপরিচালক বিজিবি (যোগাযোগ) কর্নেল খোন্দকার ওবায়দুল আহসান প্রমুখ।

Monday, January 14, 2013

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মজিনা-শরণ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মজিনা-শরণ


একই দিনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন দুই দেশের কূটনীতিকরা। রুটিন বৈঠক হলেও সময়ের কারণে তা বেশ ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, কাকতালীয় কিংবা পরিকল্পিত যা-ই হোক, ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও ভারতীয় হাই কমিশনার একই দিনে কাছাকাছি সময়ে এর আগে কখনও পররাষ্ট্র দপ্তরে যাননি। অন্তত নিকট অতীতে তো নয়ই। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সিডিউলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনার সাক্ষাতের সময় ছিল ১১টায় আর ভারতীয় হাই কমিশনার পঙ্কজ শরণের বৈঠকের সময় নির্ধারিত ছিল ১২টায়। মন্ত্রী ডা. দীপু মনি মন্ত্রণালয়ের বাইরে জনশক্তি সংক্রান্ত জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সেমিনারে আটকে যাওয়ায় দপ্তরে ফিরতে দেরি হওয়ায় তার আগেই বৈঠকের জন্য সেখানে পৌঁছে যান দুই মিশন প্রধান ও তাদের টিম। সংশ্লিষ্ট উইংয়ের কর্মকর্তারা তাদের স্বাগত জানান এবং আলাদা অতিথি কক্ষে সঙ্গ দেন। দীপু-মজিনা বৈঠকের পুরো সময়ই ভারতীয় হাই কমিশনের কূটনীতিকরা মন্ত্রণালয়ের মূল ভবনের নিচতলার অতিথি কক্ষে অপেক্ষায় ছিলেন। এক ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক শেষে মার্কিন দূত বেরিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে মানবজমিন সহ উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সামপ্রতিক বিষয়াদি তো ছিলই, নতুন বছরের কার্যক্রম ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ওবামা প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের রদবদলের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, আমি মন্ত্রীকে জানিয়েছি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির দায়িত্ব পাওয়া ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ কোন পরিবর্তন আসবে না। তবে তার নেতৃত্ব বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও গভীর ও গতিশীল করবে বলে আশা করেন রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা চলমান থাকার বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলেও জানান ড্যান মজিনা। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে প্রশ্ন ছিল- আগামী নির্বাচনে সৃষ্ট সঙ্কটের সমাধানে তিনি মধ্যস্থতা করছেন বলে তার দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তার বরাত দিয়ে যে খবর বেরিয়েছে তার সত্যতা কতটুকু? রাষ্ট্রদূত বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই চায় বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক। এখানে সবদলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও সুন্দর একটি নির্বাচন হোক। তবে এ নির্বাচনের পদ্ধতি কি হবে তা এখানকার জনগণই নির্ধারণ করবেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বিদায়ের পর ভারতীয় হাই কমিশনার পঙ্কজ শরণ মন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক করেন। বৈঠকে ডেপুটি হাই কমিশনার ও রাজনীতি বিভাগের প্রথম সচিবও উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠক নিয়ে ভারতীয় হাই কমিশনার কোন কথা বলেননি। পরে পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত পূর্ব নির্ধারিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী ডা. দীপু মনি বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। বলেন, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল শিনদে’র ঢাকা সফরসহ ভারতের বেশ ক’জন মন্ত্রী-সচিবের সফর এবং জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশন ও জয়েন্ট রিভার কমিশনের পরবর্তী বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তিস্তা বা ল্যান্ড বাউন্ডারির বিষয়ে নতুন কোন আলোচনা বা অগ্রগতি নেই। তবে সীমান্ত হত্যা পুরোপুরি বন্ধে দু’দেশ কিভাবে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সৌজন্য এ বৈঠকে টিকফা’র প্রসঙ্গ আসেনি, জিএসপি’র বিষয়টি এসেছে। বাংলাদেশের জন্য কেন এই সুবিধাটি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন তা যৌক্তিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

Friday, January 11, 2013

ইশার নতুন খবর

ইশার নতুন খবর


দীর্ঘদিন ধরে বলিউডে অনুপস্থিত রয়েছেন খাল্লাস গার্ল খ্যাত ইশা কোপিকার। তাই তেমন একটা আলোচনায়ও দীর্ঘ সময় ধরে ছিলেন না তিনি। বিশেষ করে নিজের ব্যবসা নিয়ে দেশ বিদেশ সফরে ব্যস্ত সময় পার করছেন ইশা। পাশাপাশি নিজের সংসারেও সময় দিতে হচ্ছে তাকে। তবে নতুন খবর হলো, সম্প্রতি একটি অন্তর্বাস সামগ্রীর মডেল হয়েছেন ইশা। বিয়ের পর এই প্রথম কোন অন্তর্বাস সামগ্রীর মডেল হলেন এক সময়ের শীর্ষ এই আইটেম গার্ল। শুধু তাই নয়, এর জন্য একটি ফটোশুটেও অংশ নিয়েছেন তিনি। অন্তর্বাস পরেই ব্যাপক খোলামেলা হয়ে তিনি সম্প্রতি এই ফটোশুটটি করেন। তবে অনেকটা হঠাৎ করেই তার এই খোলামেলা পোজের ছবি দেখে অবাক হয়েছেন সবাই। তার এই ফটোশুটের দুটি ছবি ইন্টারনেটে প্রকাশিত হয়ে ব্যাপক আলোচনায়ও এসেছেন তিনি। অনেকের ধারণা, বহুদিন পর নিজেকে আরও একবার আলোচনায় নিয়ে আসার জন্যই এরকম পোজে ছবি তুলেছেন তিনি। তবে জানা গেছে, নতুন এই অন্তর্বাস সামগ্রীর ব্র্যান্ডটি বাজারে ছাড়ছেন ইশার খুব কাছের এক বন্ধু। সেই বন্ধুর অনুরোধ এবং আকাশছোঁয়া সম্মানীর কারণেই এই ব্র্যান্ডটির মডেল হয়েছেন ইশা। অনাড়ম্বর আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন এ ব্র্যান্ডটির লঞ্চিং করা হবে ১৪ই ফেব্রুয়ারি আসছে ভালবাসা দিবসে। তবে ইশার অন্তর্বাস সামগ্রীর মডেল হওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন সামাজিক ওয়েবসাইটে দর্শকদের বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়ার উত্তর নিজের টুইটার একাউন্টে দিয়েছেন ইশা। এ বিষয়ে তিনি টুইটারে লিখেছেন, আসলে সত্যি বলতে দীর্ঘদিন পর এমন একটি উঁচুমানের নতুন ব্র্যান্ডের মডেল হতে পেরে ভাল লাগছে। বিভিন্ন মানুষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ভালই লাগছে। বহুদিন পরে আমাকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিষয়টি খুব উপভোগ করছি আমি। তবে আমি বলিউডে নিয়মিত থাকা অবস্থাতেও বলেছি, কাজের ক্ষেত্রে কোন ছাড় আমি দিতে চাই না। আমার ভেতরে পেশাদারিত্ব ব্যাপারটা অনেক বেশি কাজ করে। সে কারণেই আসলে এখনও অন্তর্বাস পরে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে আমি বিব্রত নইÑ সে যে যাই মনে করুক।

শচীন পুত্রের উত্থান!

শচীন পুত্রের উত্থান!

ভারতের ক্রিকেট দেবতা শচীন টেন্ডুলকারের ছেলে অর্জুন টেন্ডুলকার পশ্চিমাঞ্চলের অনূর্ধ্ব ১৪ ক্রিকেট লিগের জন্য মুম্বাই দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই লিগটি জানুয়ারির মাসের ২০ তারিখে শুরু হয়ে চলবে ফেব্রুয়ারির এক তারিখ পর্যন্ত।

গত ২০১২ সালের জুনে নিজের প্রথম সেঞ্চুরির পরেই তিনি মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের দৃষ্টি কাড়েন। এবং মৌসুম বিরতির সময়ে ট্রেনিং ক্যাম্পের জন্য নির্বাচিত খেলোয়াড়দের মধ্যে দলভুক্ত হন। বিখ্যাত পিতার সন্তান অর্জুন তার বাবার মত ডানহাতি খেলোয়াড় না হলেও এরই মধ্যে শুরু করেছেন আলো ছড়াতে। ২০১১ সালের জুনে পুনেতে অনুষ্ঠিত ক্যাডেন্স কাপে অভিসিক্ত অর্জুন তখন থেকেই আসতে থাকেন খবরে। এই টুর্নামেন্টের এবারের আসরে পিসিএমসি ভেংসরকার সি'র বিরুদ্ধে একটি ম্যাচে ৩৯ বলে করেন ৬৫।

Tuesday, January 8, 2013

রবীনা ফিরছেন বড় পর্দায়

রবীনা ফিরছেন বড় পর্দায়


আবার বড় পর্দায় ফিরছেন বলিউড তারকা রবীনা টেন্ডন। ‘শোভানা সেভেন নাইটস’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রত্যাবর্তন ঘটছে নব্বই দশকের জনপ্রিয় এ অভিনেত্রীর। ছবিটির সাফল্য নিয়ে দারুণ আশাবাদী জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া ৩৮ বছর বয়সী রাভিনা টেন্ডনের। এ প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, এরই মধ্যে ছবিটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। পুরস্কার পাওয়ার পাশাপাশি অনেক প্রশংসাও কুড়িয়েছে। এখন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনী সীমাবদ্ধ থাকলেও অচিরেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘শোভানা সেভেন নাইটস’। এক খবরে এমনটিই জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।
নব্বই দশক ও বর্তমান সময়ের বলিউডের মধ্যে তুলনা করতে গিয়ে রাভিনা বলেন, এখন বলিউডে পেশাদারিত্বের বিষয়টি অনেক বেড়েছে। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সব কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু দর্শকরা ছবি দেখার পরপরই তা ভুলে যাচ্ছেন। এদিক থেকে বিবেচনা করলে বর্তমান সময়ের চেয়ে নব্বই দশকই ভাল ছিল। তখন ভাল কোন ছবি মুক্তি পেলে দর্শকরা তা অনেক দিন মনে রাখতেন। রাভিনা আরও বলেন, বর্তমানে বলিউডের ছবির কলাকুশলীরা আগের তুলনায় অনেক বেশি পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। আমরা দশটি ছবিতে কাজ করে যে আয় করতাম, এখন একটি ছবিতেই সেই পারিশ্রমিক পাচ্ছেন তারা।

ভারতে ব্যাংকিং লেনদেনে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে একই ব্র্যাকেটে

ভারতে ব্যাংকিং লেনদেনে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে একই ব্র্যাকেটে

বাংলাদেশে ভারতের এয়ারটেল এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে, টাটা গ্রুপও জুতো ও সাইকেল তৈরির জন্য দুটি কারখানা তৈরির ঘোষণা দিয়েছে, অরবিন্দ মিলসও কুমিল্লায় ডেনিম কারখানা তৈরির জন্য তিন বছরে ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে চলেছে। বাংলাদেশে ভারতের বিনিয়োগ বাড়লেও বাংলাদেশের শিল্পপতিরা ভারতে বিনিয়োগ করতে এসে সমস্যার মুখে পড়ছে। আর এ ক্ষেত্রে ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া বাংলাদেশকে নিরাপত্তার প্রশ্নে পাকিস্তানের সঙ্গে একই ব্র্যাকেটে রেখেছে। এই অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক আহমেদ করিম। তিনি বলেছেন, ভারতের আর্থিক সংস্থার কাছে বাংলাদেশ এখনও নিরাপত্তার ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে। তিনি বলেছেন, ভারতে বাংলাদেশও কারখানা গড়তে চায়। তবে ব্যাংকিং লেনদেনের অসুবিধার বিষয়টি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন। বাংলাদেশের হাইকমিশনার করিম বলেছেন, আমরা শুধু জামদানি আর ইলিশ রপ্তানি করতে চাই না। বাংলাদেশের আরও অনেক কিছু রপ্তানি করার রয়েছে। তিনি বলেন, ভারত সরকার রপ্তানির ক্ষেত্রে অনেক বাধা তুলে দিলেও সেগুলি নিচু স্থরে এখনও বাধা হয়েই রয়েছে। এক বাংলাদেশী কূটনীতিকের মতে, রাজনৈতিক স্তরে দুই দেশ সব সমস্যার সমাধান করে ফেললেও সীমান্তের শুল্ক অফিসাররা লিখিত নির্দেশ না পাওয়ার অজুহাত দিয়ে বাধা সৃষ্টি করছেন। আর এক্ষেত্রে ভারতীয কাস্টমস কর্তাদের পুরানো মনোভাবই সমস্যা বড় হয়ে উঠেছে। দুই দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আরও চেকপোস্ট খুলে দেয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ড সার্টিফিকেটকে মান্যতা দেয়া এবং দ্রুত টেস্টিং করার ব্যবস্থা চালু করা জরুরি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের কূটনীতিকরা। তারা বলেছেন, বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে দুই দেশের ৬০ শতাংশ বাণিজ্য হয়। এই অত্যাধিক চাপ একটি চেকপোস্টে থাকায় নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাই বাস্তব ক্ষেত্রে আরও চেকপোস্ট খুলে দেয়ার আবেদন জানিয়েছেন তারা। সম্প্রতি কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজের এক সেমিনারে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক এ করিম বলেছেন, দুটি সুসংহত চেকপোস্ট ছাড়া আরও এক ডজন চেক পোস্ট রয়েছে। পণ্য চলাচলের জন্য সেগুলি খুলে দেয়া জরুরি। আর তাহলেই কানিকটিভিটি কথাটি প্রকৃত অর্থবহ হয়ে উঠবে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, এখনও যদি কানেকটিভিটি খুলে না দেয়া হয় তাহলে উত্তর-পূর্ব ভারত রুদ্ধ হয়েই থাকবে এবং এর ফলে ব্যবসা মার খাবে। বাংলাদেশের হাইকমিশনার বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারতে বাংলাদেশ তাদের তৈরি সামগ্রী, রেফ্রিজারেটর থেকে টিভি সবই রপ্তানি করতে আগ্রহী। সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, মুক্ত বাণিজ্যনীতি চালু হলে ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশই উপকৃত হবে। অথচ এই বিষয়ে আলোচনা অনেক দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকেও মুখ্য অর্থনীতিবিদ সঞ্জয় কাথুরিয়া জানিয়েছেন, কানেকটিভিটি বৃদ্ধির পাশাপাশি মুক্ত বাণিজ্যনীতি চালু করলে দুই দেশ উইন-উইন অবস্থায় পৌঁছাবে। এর ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্ত এলাকার মানুষের দারিদ্র্যও দূর করা সম্ভব হবে। বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, মুক্তবাণিজ্য নীতি প্রযুক্ত হলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যেও পরিমাণ একশ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

Monday, January 7, 2013

ধর্ষণ রোধে মেয়েদের জন্য ওভারকোট

ধর্ষণ রোধে মেয়েদের জন্য ওভারকোট


ভারতের পন্ডিচেরি সরকার এবার মেয়েদের যৌন শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা করতে পর্দা প্রথার দিকে ঝুকে পড়ছে। এ লক্ষ্যে প্রশাসন শনিবার মেয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেসের ডিজাইন নতুন করে করার প্রস্তাব করেছে। এ ডিজাইনের আওতায় ওভারকোর্ট ব্যবহার করা প্রত্যেক মেয়ে শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামুলক করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকার স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারও নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে। রাজ্যের মুখ্যমস্ত্রীর সভাপতিত্বে শনিবার শিক্ষামন্ত্রণালয়ে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নতুন বছরের শুরুতে এক বাস কণ্ট্রাক্টরের হাতে দ্বাদশ শ্রেনীর এক শিক্ষার্থীর ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে বিক্ষোভ শুরু হবার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ধরণের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। সংশ্লিস্ট কর্মকর্তারা টাইমস অব ইনডিয়াকে বলেছেন বৈঠকে মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ওভারকোটের ব্যবহার, তাদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস চালু এবং স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি বলেন আমাদের সরকার নারী বিশেষ করে স্কুলের নারী শিক্ষার্তীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধ পরিকর। সরকারের এ ধরণের সিদ্ধান্ত নারী এবং মানবাধিকার কর্মীদের পক্ষ থেকে তীব্র আপিত্তি জানানো হয়েছে। অল ইনডিয়া ডেমক্রেটিক উইমেন’স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুধা সুন্দররমন বলেছেন আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে পোশাকের সঙ্গে যে ধর্ষণের কোন সম্পর্ক নেই সেটা সম্পর্কে সরকার ওয়াকেবহাল নয়। আসল সমস্যাকে চিহ্নিত না করে এর মাধ্যমে বিষয়টিকে হালকা করে দেখা হচ্ছে। নারী এবং মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এভাবে ওভারকোট ব্যবহারের পরামর্শ কোন সঠিক জবাব নয়। এ ধরণের ওভারকোট ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার এ অপরাধের জন্য নারীদেরকেই দায়ী এবং জবাবদিহি করার সুযোগ করে দিচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Sunday, January 6, 2013

মুখ খুলেছেন ধর্ষিতার সেই পুরুষ বন্ধু

মুখ খুলেছেন ধর্ষিতার সেই পুরুষ বন্ধু


দিল্লিতে বাসে গণধর্ষণের সময় ধর্ষিতার সঙ্গে থাকা পুরুষ বন্ধুটি মুখ খুলেছেন। তিনি বলেছেন, তার ও তার বান্ধবীর সঙ্গে নৃশংস নির্যাতন চালানোর সময় তাদের কাপড়চোপড় কেড়ে নেয়া হয়। এ সময় তিনি গাড়ির জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী লোকজন ও পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশ ও অন্য কেউ তাদের সে ডাকে সাড়া দেয়নি। এর ফলে ওই নরপশুদের নৃশংস নির্যাতনের শিকার হন তার বান্ধবী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ভারতে তোলপাড় চলছে। গতকাল এ খবর দিয়েছে বিবিসি। এতে বলা হয়, তিনি ভারতের একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে বলেছেন, নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেষ্টা চালিয়ে তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। নির্যাতনে তিনিও অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। অন্যদিকে, ভারতে ধর্ষণ রোধে সরকার আইনে পরিবর্তন আনাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে চিন্তা করছে। দিল্লিতে নির্যাতিত তরুণীর ২৮ বছর বয়সী বন্ধুটি প্রথম নির্যাতনকারীদের আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছিল। তাদের আক্রমণে তার পা ভেঙে যায়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে তিনি চেতনা হারিয়ে ফেলেন। এখনও তার সেই ভয়াবহ ঘটনার আতঙ্ক কাটেনি। সেই তরুণ মুখ খুলেছেন দিল্লিতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে। তাতেই এমন সব বিষয় উঠে এসেছে। তিনি বলেছেন, এক পর্যায়ে কৌশলে সেই বাস থেকে তিনি কোনভাবে প্রাণে বেঁচে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন। ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এদিকে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল শিন্দে স্বীকার করেছেন, নারীদের ওপর অপরাধ রুখতে দেশটিতে পুলিশের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতার অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, নারীদের ওপর যেকোন হয়রানি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে বিশেষ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নারীরা যাতে নিরাপদে থাকতে পারেন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারেরই। দিল্লিতে সামপ্রতিক গণধর্ষণের ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেশটির সব রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং পুলিশ প্রধানদের নিয়ে বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই বৈঠকে ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া নিয়ে যেমন আলোচনা হয়েছে, তেমনি নারীদের ওপরে কোন অপ্রাপ্তবয়স্ক যদি নির্যাতন চালায়, তখন কমবয়সীদের বিচারের জন্য বিশেষ আইন বদল করে অপ্রাপ্ত বয়স্কের বয়সসীমা ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। কারণ দিল্লির সামপ্রতিক গণধর্ষণে অভিযুক্তদের একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক। কিন্তু সে-ই দু’বার ধর্ষণ ও তারপরে নির্যাতিতা তরুণীর ওপরে সব চেয়ে বেশি শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রগুলো জানিয়েছে। এদিকে ঘটনার ব্যাপারে আটক পাঁচজনের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

Saturday, January 5, 2013

ট্রেনটি এখন কোথায়?

ট্রেনটি এখন কোথায়?

যুতসই জবাবই পেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে তার ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন- আমরা বদলালে পৃথিবীও বদলাবে। তাই চলুন আমাদের প্রত্যেকে প্রথম পদক্ষেপটা করি। আসছে বছরের নতুন সূচনা করি। মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এই বদলানোর ডাক শুনেই তাকে পাল্টা বার্তা ফিরিয়ে দিয়েছেন ফেসবুক জনতা। তারা রাজ্যের কর্ণধারকেই আহ্বান জানিয়েছেন, নিজেকে প্রথমে বদলে দেখানোর জন্যে। পশ্চিমবঙ্গের চিত্র যখন এই তখন আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশেও দিনবদলের প্রশ্ন আজ জ্বলন্ত। চার বছর আগে এ দিনবদলের আওয়াজ তুলেই ক্ষমতার মসনদে আবির্ভূত হয় আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট। জনঅভ্যুত্থানসহ নানা বিশেষণে মহিমান্বিত করা হয়েছে সে জয়কে। কিন্তু দিন কি বদলিয়েছে? নাকি খেলোয়াড়ই শুধু পরিবর্তন হয়েছে? এটা স্পষ্ট তেমন কিছুই বদলায়নি। পুরনো খেলাই চলছে নতুন করে। ওয়ান-ইলেভেনের শিক্ষা কথাটি আদর্শ লিপির পাঠ্য না হয়েও ছড়িয়ে পড়ে সবখানে। সে শিক্ষা যে কেউ নেয়নি চলতি ঘটনাপ্রবাহ তার সাক্ষী। জরুরি জমানার সেনাপ্রধান জেনারেল মইনের একটি উক্তি আলোচনার জন্ম দিয়েছিল সবখানে। তিনি বলেছিলেন, লাইনচ্যুত ট্রেনকে লাইনে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি। সে ট্রেনটি এখন কোথায়? রাজনীতি নিয়ে কথা যত কম বলা যায় ততই ভাল। এটা ঠিক রাজপথে আগের সহিংসতার পরিমাণ অনেক কমেছে। তবে অশ্লীলতা বেড়েছে বহুমাত্রায়। রাজনীতিবিদরা একজন আরেক জনকে কালনাগিনী বলতেও পিছু হটছেন না। তবুও কিছু করার নেই। এদের নিয়েই এগোতে হবে আমাদের। ভবিষ্যতের পথে। মহাজোট জমানায় সবচেয়ে বড় অপরারেশন হয়েছে শেরে বাংলানগরের অপারেশন থিয়েটারে। সংবিধান কাটাছেঁড়া বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। তবে পঞ্চম সংশোধনীতে সংবিধানে যেভাবে কাটাছেঁড়া হয়েছে তা অভিনব। সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কেটে ফেলা হয়েছে। দোহাই দেয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের। অথচ সেই রায়েই বলা হয়েছে, জনগণ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ আইন। যেখানে দুই মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে হালাল করা হয়েছে। যদিও নিশ্চিতভাবেই বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক রাজনীতিকে রাজনীতিবিদদের জন্য কঠিন করে দিয়ে গেছেন। ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া কোন পথে হয় সেটাই হবে এখন সবচেয়ে বড় দেখার বিষয়। শেখ হাসিনা তার এজেন্ডা পূরণের পথে বহু দূর এগিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামিদের মৃত্যুদণ্ড এরই মধ্যে কার্যকর করা হয়েছে। বিরোধীনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তার সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। স্বামীর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে উৎখাত হয়ে নিজের কান্না থামাতে পারেননি তিনি। খালেদা জিয়ার দুই ছেলে কার্যত নির্বাসনেই আছেন। ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর এরই মধ্যে সাজা হয়েছে ঢাকার আদালতে। লন্ডনে থাকা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিচারাধীন রয়েছে এক ডজন মামলা। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও সচল আছে একাধিক মামলা। শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উচ্ছেদ করা হয়েছে তার প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক থেকে। সারা দুনিয়ার মানুষ তার ক্ষুদ্রঋণ মডেলের প্রশংসা করলেও নিজ ভূমে আক্রমণের শিকার হয়েছেন তিনি। যার উদাহরণ দিয়ে আলোচিত মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, বাঘে ধরলে ছাড়ে, হাসিনা ধরলে ছাড়ে না। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতিহারের এক অন্যতম প্রধান এজেন্ডা ছিল যুদ্ধাপরাধের বিচার। নাম পরিবর্তন করে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়েছে প্রায় তিন বিছর আগে। জামায়াত এবং বিএনপি’র এক ডজন নেতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। তবে মাস খানেক আগে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রথম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হকের স্কাইপ আলাপ ফাঁস হয়ে যায়। এর সূত্র ধরে পদত্যাগ করতে হয় তাকে। বৃটেনের বিখ্যাত পত্রিকা দি ইকোনমিস্ট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট জার্নালও এ বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দি ইকোনমিস্টের কাভারে মুদ্রিত হয়েছে, ইনজাস্টিস ইন বাংলাদেশ। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বাইরে এগিয়ে চলছে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার বিচার। পিলখানা হত্যাযজ্ঞের বিচারও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। যদিও এ বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা প্রশ্ন তুলেছে। মহাজোট জমানায় শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে সর্বস্ব হারিয়েছেন ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারী। আত্মহত্যাও করেছেন তাদের কেউ কেউ। ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত রিপোর্ট কার্যকর হয়নি আজও। ছাত্রলীগ চার বছর ধরেই ছিল বেপরোয়া। গত বছরের শেষ মাসে চাপাতি হাতে বিশ্বজিৎ দাস নামের এক নিরীহ পথচারীর ওপর যে নির্মমতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনটি তা হতবাক করেছে প্রত্যেক মানুষকে। ২৮শে অক্টোবর থেকে যে, বাংলাদেশ বেশি দূর এগোয়নি এ যেন তারই প্রমাণ। স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখনও স্বপ্নই থেকে গেছে আবুল কাণ্ডে। শুরুতে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন কোন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা না পেলেও পরে বিশ্বব্যাংকের চাপে পড়ে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। যদিও সে মামলায় পবিত্র সৈয়দ আবুল হোসেনকে আসামি করা হয়নি। হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে সরকারের অনেক রাঘব বোয়াল জড়িত থাকার কথা শোনা গেছে। তবে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো বই পৌঁছে দেয়া, লোডশেডিং কমানোর ক্ষেত্রে সফলতা দেখিয়েছে সরকার।
বিএনপি’র মতো দুর্বল বিরোধী দল পাওয়াকে শেখ হাসিনার সৌভাগ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আবুল মকসুদ। গত চার বছরে বিএনপি চেষ্টা করছে সে দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে অবশ্য বিএনপি সফলই হয়েছে। চীন ও ভারত সফরে উষ্ণ অভ্যর্থনাই পেয়েছেন বিরোধীনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে অনেকটা সফল হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তবে সাংগঠনিক ক্ষেত্রে বিএনপি তেমন বড় কোন সফলতা দেখাতে পারেনি। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর আজ পর্যন্ত একজন মহাসচিবও নিয়োগ দিতে পারেনি দলটি। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কারাগারে থাকলেও এ নিয়ে তেমন রা নেই বিএনপিতে। আন্দোলনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনা হবে বার বার খালেদা জিয়া এ ঘোষণা দিলেও এ আন্দোলনের সামর্থ্য বিএনপি’র আছে কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। সাবেক স্বৈরশাসক এইচএম এরশাদ আবারও এককভাবে নির্বাচন করে ক্ষমতায় যাওয়ার খোয়াবের কথা বলেছেন বার বার। তবে টাঙ্গাইল ও রংপুরের নির্বাচন তার সে স্বপ্ন ধূসর করে দিয়েছে অনেকটাই। জামায়াতে ইসলামী তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। দলটির শীর্ষ সব নেতাই কারাগারে আটক রয়েছেন। তবে জামায়াত-শিবির কর্মীদের পুলিশের ওপর হামলার সমালোচনা করছেন অনেকেই। লক্ষ্যহীন আন্দোলন করছে দলটি এমনই ধারণা পর্যবেক্ষকদের। একটি কথা নিশ্চিত করেই বলা যায়, যতদিন যাবে রাজনীতি ততই কঠিন হবে। মানুষ বিক্ষুব্ধ। নেতাদের হাতে নিয়ন্ত্রণ সব সময় না-ও থাকতে পারে। তবে রাজনীতি জনতার হাতে থাকবে না অন্য কারও হাতে সময়ই সে প্রশ্নের জবাব দিতে পারবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে রাজনীতিবিদরা সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে সমূহ বিপদ অপেক্ষা করছে সবার জন্য। একটি ধর্ষণের ঘটনায় পুরো ভারতবাসীর একতাবদ্ধ প্রতিবাদ কিছুটা লজ্জাতেই ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশকে। প্রায় একই সময়ে বাংলাদেশের টাঙ্গাইলে একই ধরনের ঘটনা ঘটলেও তার প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে না কোথাও। পুরো বাংলাদেশ যেন নীরব। চার বছরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুম সংস্কৃতি চালু হয়েছে। এক রাতে হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর খোঁজ মিলেনি আজও। এমন আরও অনেকেই শিকার হয়েছেন গুমের। রাজনীতির বাইরে ক্রিকেটে গত চার বছরে মাঝে-মধ্যে কিছু সুখবর পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশী তরুণীর হিমালয় চূড়ায় ওঠার ঘটনাও ঘটেছে।
শেষ কথা: রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ। কোথাও কোন সুখবর নেই। দিন বদলের বদলে গাঢ় অন্ধকারের দিকেই যাত্রা করছে বাংলাদেশ। তবে এতকিছুর মধ্যেও আশার কথা রয়েছে বিশ্বাসীদের জন্য। পবিত্র ধর্মগ্রন্থের উদ্ধৃতি অটোরিকশার পেছনে প্রায়ই চোখে পড়ে, ‘তোমরা যদি মুমিন হও, তোমরা হতাশ হয়ো না।’

সমুদ্রের সাফল্য তিস্তায় ম্লান!

সমুদ্রের সাফল্য তিস্তায় ম্লান!


মহাজোট সরকারের ৪ বছরের বড় কূটনৈতিক সাফল্য মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র বিরোধ মামলায় আদালতের রায়ে নিষ্পত্তির বিষয়টি। একান্তভাবেই এ বিজয়কে ‘কূটনৈতিক সাফল্য’ মনে করছে সরকার। পেশাদার কূটনীতিকরাও এই বিজয়ে উল্লসিত। তবে দিন শেষে তাদের হতাশার বড় অংশ জুড়ে আছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত। মহাজোট সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় ‘আকাশের কাছাকাছি’ পৌঁছে দেয়ার যে প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছিল তা বহু আগেই থেমে গেছে। তিস্তা চুক্তি ও ল্যান্ড বাউন্ডারির রেটিফিকেশন না হওয়াই হতাশার মূল কারণ। কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, মহাজোট সরকারের ‘সমুদ্র সাফল্য’ তিস্তায় ম্লান হয়ে গেছে। তবে এখনই ঢাকা আশা ছাড়ছে না। ভারতের সরকারেও বড় ধরনের রদবদল ঘটেছে। পোড় খাওয়া রাজনীতিক সলমন খুরশিদ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার নবউদ্যোগে ঢাকা-দিল্লি বিদ্যমান দূরত্ব ঘুচিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা আশা করছে আগামী মাসে তিস্তা ও ল্যান্ড বাউন্ডারির রেটিফিকেশনের নতুন কোন বার্তা নিয়ে সফরে আসবেন তিনি। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে শেখ হাসিনা সরকার শুরু থেকেই ছিল তৎপর। বড় ‘ঝুঁকি’ নিয়ে বিদ্রোহী নেতা রাজখোয়াকে দেশটির হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা দিল্লি সফর করেছেন দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় বছরে। তৃতীয় বছরে ফিরতি সফরে ঢাকা এসেছেন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং। তবে সেখানেই সব থেমে গেছে। বহুল প্রত্যাশিত তিস্তা চুক্তি হয়নি মুখ্যমন্ত্রী মমতার বাগড়া দেয়ার অজুহাতে। মনমোহন সিংয়ের হাইপ্রোফাইল সফরে ঢাকা ক’টি প্রতিশ্রুতি ছাড়া প্রত্যাশার তুলনায় তেমন কিছুই পায়নি। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আশা করেছিল, সীমান্তে বিএসএফ’র গুলি, হত্যা, নির্যাতন বন্ধ হবে। মনমোহন সিং সহ ভারতের সরকার ও রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু চার বছরে তাতো বন্ধ হয়নি বরং নতুন বছর শুরুই হলো বিএসএফ’র গুলি দিয়ে। ১লা জানুয়ারি দু’জন ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই আরও ২ জনের প্রাণ কেড়েছে বিএসএফ’র বুলেট। বাংলাদেশে ঢুকে আরও তিন কৃষককে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্ত বাহিনীর সদস্যরা। তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানতে পারেনি ঢাকার পররাষ্ট্র দপ্তর। টিপাইমুখে বাঁধ নিয়ে উদ্বেগ এখনও নিরসন হয়নি। এর মধ্যে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আরও ২টি নদীতে বাঁধ দিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের খবর উদ্বেগ ছড়িয়েছে। ঢাকা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছে, যৌথ সমীক্ষায় দাবি করেছে। বাংলাদেশের কারাগারে দীর্ঘ দিন ধরে আটক রয়েছেন বিদ্রোহী উলফা নেতা অনুপ চেটিয়া। তাকে ফেরত চায় দিল্লি। শীর্ষ বিদ্রোহী রাজখোয়াকে পাওয়ার পর থেকেই অনুপ চেটিয়ার অপেক্ষায় ভারত। বাংলাদেশ বন্দিবিনিময়ে প্রস্তুত। তবে বিষয়টি আটকে আছে আইনি প্রক্রিয়ায়। চলতি মাসে এ নিয়ে বাংলাদেশ আরেক ধাপ অগ্রসর হবে বলে আভাস মিলেছে। ভারতের নয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার সিন্ধের ঢাকা সফরে দ্বিপক্ষীয় বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তিটি সই করতে তৎপরতা শুরু হয়েছে। দিল্লির সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্পর্ক অনেক পুরনো। সেই সুবাদে দেয়া-নেয়ার বিষয়টি অন্য যে কোন সরকারের তুলনায় এ আমলে বেশি হবে, এটাই স্বাভাবিক মনে করেছিলেন কূটনীতিকরা। তাই হয়েছে, তবে একতরফা অবশ্য বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়ার ভারত সফরে দু’দেশের জনগণের পর্যায়ে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার একটি আলো দেখছেন তারা। এর পেছনে অকাট্ট যুক্তিও রয়েছে অনেকের। তাদের মতে, বিরোধী নেতাকে যেভাবে ভারতের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতা সম্ভাষন জানিয়েছেন তা রীতিমতো নজিরবিহীন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি আর বনমন্ত্রী হাসান মাহমুদ সফরটি নিয়ে প্রতিযোগিতা করে তীর্যক মন্তব্য করেছেন। তাদের প্রতিযোগিতায় খোদ সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, প্রভাবশালী আমলা, পেশাদার কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা নাখোশ হয়েছেন। এটাকে অসুস্থ প্রতিযোগিতা হিসেবেই দেখছেন তারা। গত ৪ঠা জানুয়ারি সরকারের চার বছরের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে বিশ্লেষণে বসেছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সেদিন দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জড়ো হয়েছিলেন ঢাকাস্থ মহাপরিচালক ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা। বৈঠক সূত্র মতে, সেখানে মোটা দাগে তিনটি কূটনৈতিক সাফল্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রথমত, মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র বিরোধ নিষ্পত্তি। দ্বিতীয়ত, জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী উত্থাপিত বিশ্বশান্তির মডেল সংস্থাটির রেজুলেশনে অন্তর্ভুক্তি তৃতীয়তঃ বাংলাদেশের তৎপরতায় অটিজমের বিষয়টি জাতিসংঘের রেজুলেশনে স্থান পাওয়া। উল্লিখিত তিনটি বিষয়ে একান্তভাবেই কাজ করেছেন পেশাদার কূটনীতিকরা। তাদের অর্জনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীও পুলকিত। তবে ব্যর্থতার বিষয়টিও মন্ত্রীর বিবেচনায় এনেছেন তারা। সেখানে উঠে এসেছে স্পর্শকাতর সীমান্ত হত্যাসহ ভারতের সঙ্গে অনিষ্পন্ন বিষয়গুলো। এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ‘শীতলতা’, বাংলাদেশে বড় শ্রম বাজার সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন দেশে শ্রমিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সেখানে থাকা শ্রমিকদের হয়রানির বিষয়টি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে সবকিছু আটকে থাকা এবং সংবেদনশীল এ ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ উন্নয়ন সহযোগী অনেক রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের স্থবিরতার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের বিষয়ে সরকারের অতি উৎসাহী কিছু কর্মকাণ্ড নিয়েও বিব্রত তারা। বিষয়টি নিয়ে উন্নত দেশগুলোতে বাংলাদেশের পেশাদার কূটনীতিকরা প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন বলেও জানা গেছে। বিগত চার বছরে প্রতিবেশীসহ পূর্ব দিগন্তের রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশের চেষ্টার প্রশংসা হয়েছে ওই বৈঠকে। মন্ত্রীর তরফে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে সরকারের বাকি মেয়াদে অসম্পূর্ণ এবং প্রতিশ্রুত কর্মগুলো সম্পাদনে। একজন কূটনীতিক মানবজমিনকে বলেন, সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে বাকি মেয়াদে অনেক কিছুই অর্জন করা সম্ভব। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশীদের ভিসা প্রাপ্তিতে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। কাতারসহ অনেক দেশ এখানে বিনিয়োগে আগ্রহী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শীতলভাবও কেটে যাবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকায় পার্টনারশিপ ডায়ালগের দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। মিয়ানমারের সঙ্গে এনার্জি কো-অপারেশন বিষয়ে সংলাপ হবে। সেখানে ভারত, নেপাল, ভূটান সহ অনেকেই আগ্রহী হবে বলে আশা করছে ঢাকা। চীনের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়বে। গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ সহযোগিতায় তাদের আগ্রহের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। সরকারের শেষ বছরে কূটনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটবে। সব মিলেই সামনে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ-প্রত্যাশা পেশাদার কূটনীতিকদের।

Friday, January 4, 2013

ইডেনে সিরিজ জয় পাকিস্তানের

ইডেনে সিরিজ জয় পাকিস্তানের


কলকাতায় তিনবারের মোকাবিলায় পরিসংখ্যানে পাকিস্তানের সাফল্যটা ছিল একতরফা। ইডেনে পাকিস্তানের অজেয় রূপটি অমলিনই থাকলো। গতকাল ভারতকে পাকিস্তান হারালো ৮৫ রানে। আর এতে নিশ্চিত হলো, তিন ম্যাচ সিরিজের ট্রফিটি পাকিস্তানের বিমানেই চড়ছে। চেন্নাইয়ে সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান ভারতকে হারায় ৬ উইকেটে। গতকাল ঘোলা আকাশে ইডেনের বৃষ্টিসিক্ত পিচে আগে ব্যাট করে পাকিস্তান থামে ২৫০ রানে। ভারতের বিপক্ষে নিজের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ঝলক আরেকবার দেখান পাক ওপেনার নাসির জামশেদ। সঙ্গে অপর ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজের ৭৬ রানের ইনিংসে পাকিস্তানের আড়াই শ’ রান ম্যাচ শেষে নাগালের বাইরেই থাকে ভারতের। জয়ের টার্গেটে ১৬৫ রান তুলতেই গুটিয়ে যায় ভারতের ইনিংস। এমএস ধোনি অপরাজিত অর্ধশতকে প্রতিরোধ দেখান একলাই। পাঁচ বছরে প্রথম দ্বিপক্ষীয় পাক-ভারত সিরিজটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহটা বেশি ছিল এমনিতেই। আর কলকাতায় ম্যাচের আগে এ উন্মাদনাটা দেখা যাচ্ছিল নানা সাজে। ১৯৮৭ বিশ্বকাপে পাক-ভারত ম্যাচ দিয়ে অভিষেক হয় কলকাতার ইডেন গার্ডেন ভেন্যুর। এর রজত জয়ন্তীতে এবারের ম্যাচের আগে আলাদা আয়োজন রাখে বেঙ্গল ক্রিকেট সংস্থাও। দু’দেশের সাবেক ও বর্তমান তারকাদের দেয়া হয় সম্মাননা। তবে ভারতীয়দের এসবই দেখতে হয় সিরিজ হারানোর বেদনা নিয়ে। সকালে পাকিস্তানের ব্যাটিং দেখে ২৫০ রানের টার্গেট খুব বড় মনে না হওয়ার কথা। কিন্তু আদতে আরেকবার ভঙ্গুরই দেখালো ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন। চেন্নাইয়ে ২৯ রানে উইকেট গিয়েছিল ৫টি। এবার ভারত ৫ উইকেট হারালো ৯৫ রানে, এই যা। এদিন ভারত ব্যাটসম্যানরা পেস-স্পিনে সমান ব্যর্থ । ৯ ওভারের পেস ঝড়ে জুনাইদের এবারও শিকার ৩ উইকেট। আর ১০ ওভারে ২০ রানের কিপটেমি বোলিংয়ে সাঈদ আজমলেরও শিকার ভারতের তিন ব্যাটসম্যান।
ভারতের বিপক্ষে নাসির জামশেদের ব্যাটিং পরিসংখ্যানটা এমনিতেই চোখে পড়ার মতো। নৈপুণ্যে পাওয়া গেল জামশেদকে কলকাতায়ও। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় ম্যাচেও সেঞ্চুরি দেখালেন জামশেদ। মোহাম্মদ হাফিজকে নিয়ে এতে জামশেদের ১৪১ রানের ওপেনিং জুটি। পাকিস্তানের ইনিংস ধরাছোঁয়ার বাইরে যাওয়ার আশঙ্কাটা তখন ভারতীয় শিবিরে। অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির পছন্দে দলে সুযোগ পেয়ে বল হাতে এ সময় আলাদা ছন্দ দেখালেন রবীন্দ্র জাদেজা। ২৪তম ওভারে হাতে বল পেয়ে মোহাম্মদ হাফিজকে সাজঘরে ফিরিয়ে দিয়ে পাকিস্তানের ওপেনিং জুটি ভাঙেন জাদেজা। পরে পাক ইনিংসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তিন বলের ব্যবধানে জাদেজা তুলে নেন জামশেদ ও কামরান আকমলের উইকেট। পাকিস্তানও থামে ২৫০ রানেই। ভারতের বিপক্ষে এ পর্যন্ত চার ম্যাচে দুইবার নট আউট জামশেদের এ নিয়ে মোট রান ৩৭২। জামশেদের ক্যারিয়ারের তিন সেঞ্চুরি এতে। ঢাকায় এশিয়া কাপে প্রথম আর অপরটি চলতি সিরিজে চেন্নাইয়ে। ইডেনের মাঠে টস জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে দেন ভারত অধিনায়ক ধোনি। তবে গতকাল সকালে ভারত পেসাররা পাক ওপেনারদের পরীক্ষায় ফেলতে পেরেছে থোরাই। বৃষ্টিভেজা-মেঘাচ্ছন্ন কলকাতায় ভারতের শুরু বোলিংটা খারাপ ছিল বলা যাবে না। তবে এদিন আলাদা শাণিত ব্যাটিং দেখান দুই পাক ওপেনার। আগের ম্যাচে ইনিংসের প্রথম বলে উইকেট হারানো হাফিজ ও জামশেদ ব্যাট চালান বল ও পরিস্থিতি বুঝে। সচল রাখেন রানের চাকাও। এতে পাকিস্তান ইনিংসের প্রথম ৫০ রান পূর্ণ হয় ৪৯ বলে। প্রথম উইকেট সাফল্য পেতে ভারত অধিনায়ককে অপেক্ষায় কাটাতে হয় লম্বা ২৪ ওভার। পুরনো বলে ইডেনের অসমতল পিচ এ সময় পরিবর্তন দেখাচ্ছিল তার আচরণে। আর এমন সময় জাদেজার স্পিনই ধোনির মুখে ফোটায় সারাদিনের প্রথম হাসি। ব্যক্তিগত ৭৬ রানে হাফিজকে ফিরিয়ে দেন জাদেজা। উজ্জীবিত ভারত বোলাররা পাকিস্তানের পরের ৪১ রানে তুলে নেয় তিন উইকেট। অল্প রানে আউট পাক অধিনায়ক মিসবাহ-উল হক, অভিজ্ঞ ইউনুস খান ও আজহার আলী। পাকিস্তানের রানের চাকা হয়ে পড়ে মন্থর। আর চাপের মুখে ৯ বল বাকি রেখেই পাক ইনিংস শেষ হয় কাঁটায় কাঁটায় আড়াই শ’ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
টস: ভারত, ফিল্ডিং
পাকিস্তান: ৪৮.৩ ওভার; ২৫০ (জামশেদ ১০৬, হাফিজ ৭৬, আজহার ২, ইউনুস ১০, মিসবাহ ২, মালিক ২৪, কামরান ০, গুল ১৭, আজমল ৭, জুনাইদ ০*, ইরফান ০, ইশান্ত ৩/৩৪, জাদেজা ৩/৪১)।
ভারত: ৪৮ ওভার; ১৬৫ ( গম্ভীর ১১, সেওয়াগ ৩১, কোহলি ৬, যুবরাজ ৯, রায়না ১৮, ধোনি ৫৪*, অশ্বিন ৩, জাদেজা ১৩, কুমার ০, ডিন্ডা ০, ইশান্ত ২)।
ফল: পাকিস্তান ৮৫ রানে জয়ী, তিন ম্যাচ সিরিজে পাকিস্তান ২-০তে এগিয়ে
ম্যাচ সেরা: জামশেদ (পাকিস্তান)
৩য় ওডিআই: ৬ই জানুয়ারি দিল্লি

Thursday, January 3, 2013

দিল্লি গণধর্ষণ: 'বাসের চাকায় পিষে মারার চেষ্টা হয়েছিল মেয়েটিকে'

দিল্লি গণধর্ষণ: 'বাসের চাকায় পিষে মারার চেষ্টা হয়েছিল মেয়েটিকে


দিল্লির বাসে মারধর ও গণধর্ষণের পর বাস থেকে ফেলে দিয়ে পিষে মারার চেষ্টা হয়েছিল ২৩ বছর বয়সী সেই মেডিক্যাল শিক্ষার্থীকে। ঘটনার এই বিবরণ ও ছয় আসামির বিরুদ্ধে বিস্তারিত অভিযোগ লিপিবদ্ধ করে বৃহস্পতিবার আদালতে জমা দেয়ার জন্য এক হাজার পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র তৈরি করেছে পুলিশ। এতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা এপি'কে জানায়, গণধর্ষণের ঘটনায় সন্দেহভাজন আসামিদের মধ্যে একজনের বয়স আঠারো বছরের নীচে। এদিকে ভারতের কিশোর অপরাধ আইনানুযায়ী বয়স ১৮ বছরের নীচে হলে হত্যা মামলা চালানো যায় না। তাই তার বয়স নিশ্চিত হতে হাড় পরীক্ষা করা হবে। মঙ্গলবার মেয়েটির ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং তারা যদি অপরাধী হয়ে থাকে তবে অবশ্যই মৃত্যুদন্ডের মত শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এছাড়া এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মেয়েটিকে ব্যাপক মারধর ও ধর্ষণ, তাকে বাঁচাতে আসায় তার বন্ধুকে বেদম পিটুনি, তাদের দুইজনকে বাস থেকে ফেলে দেয়ার পর বাসের চাকায় পিষে মারার চেষ্টাসহ সেই ভয়াবহ ঘটনার বিবরণ থাকছে পুলিশের অভিযোগপত্রে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচতে ছয় আসামির মধ্যে তিনজনকে কামড়ে দিয়েছিল মেয়েটি। তিনজনের দেহে এর চিহ্নও পাওয়া গেছে, যা প্রমাণের অংশ হিসাবে উপস্থাপন করা হতে পারে। ওদিকে এ ধর্ষণের ঘটনায় দেশটির শিক্ষামন্ত্রী শশি থারোর কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ধর্ষিত মেয়েটির নাম প্রকাশ করে তার নামেই ধর্ষণবিরোধী আইন করা হোক। এদিকে ধর্ষণের বিরুদ্ধে নতুন আইন পাস করার জন্য পার্লামেন্টে বিশেষ অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির আন্দোলনকারী এবং রাজনীতিকরা। এছাড়া এ আইনে রাসায়নিকভাবে বন্ধাকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা এবং দ্রুত বিচার আদালতের মাধ্যমে ৯০ দিনের মধ্যে ধর্ষণ মামলাগুলোর নিষ্পত্তির আবেদন জানান তারা। ফিজিওথেরাপির ঐ ছাত্রী গত ১৬ ডিসেম্বর গণধর্ষণের শিকার হবার পর জরুরি চিকিত্সার জন্য সিঙ্গাপুরে একটি হাসপাতালে নেয়া হলে গত সপ্তাহে তার মৃত্যু হয়।

Monday, December 31, 2012

‘মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন হলে মানুষ শিক্ষা নিতো

‘মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন হলে মানুষ শিক্ষা নিতো


নয়াদিল্লির গণধর্ষণ ভিকটিমের বেদনাদায়ক মৃত্যুর প্রেক্ষিতে এক সময়ের আলোচিত গণধর্ষণ ভিকটিম পাকিস্তানের মুখতারান মাই তার ভুক্তভোগী হিসেবে এ বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন। গালফ নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমন নৃশংস দুর্ঘটনা বন্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বলেন তিনি। ভারতে গণধর্ষণের শিকার ছাত্রীর মৃত্যুতে তিনি নির্বাক বলে জানান মুখতারান। তিনি বলেন, নারীদের প্রতি অন্যায় আচরণ ও নিপীড়নের জন্য সরকার ও আইনি ব্যবস্থা দায়ী। আইন বইতে পরিবর্তন হয় কিন্তু বাস্তবে তার প্রয়োগ হয় না। অপরাধীদের শাস্তির বিষয়টিও বাস্তবায়ন করা হয় না। ফলে কেউই শিক্ষা নেয় না। যদি একটি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেয়া হতো তবে মানুষ শিক্ষা নিতো। যদি একশ’ মানুষ জানতো বিষয়টি অপরাধ তবে তারা এমন কাজ করতো না। কেন আমাদের সরকার, বিচার বিভাগ এমনটি করে না। পুলিশ থেকে আদালত, সরকার থেকে পার্লামেন্ট কেউই এ বিষয়ে যথার্থ উদ্যোগ নেয় না। তার মতে, এক সময় নারীরা চুপ করে থাকতো। তারা ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতো না। মুখ খুলতো না। এখন তেমন অবস্থা নেই। নারীরা এগিয়ে এসেছেন। তারা মুখ খুলতে শুরু করছেন। ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছেন। তবে তারা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না। মুখতারান মাই প্রশ্ন তুলে বলেন, কোথায় একজন নারী চারজন সাক্ষী পাবেন। আমি ৭০ সাক্ষী হাজির করেছিলাম। কিন্তু কেন আমাকে তখন ন্যায়বিচার দেয়া হয়নি। আইন যেহেতু ন্যায়বিচার বাস্তবায়ন করতে পারছে না তাই কিভাবে ধর্ষণ নিপীড়নের মতো সমস্যার সমাধান হবে। তিনি বলেন, কেবল কিছু নারীই পারে এসব সমস্যার সমাধান করতে। আদালত, পুলিশ ও সরকার- সব স্থানে পুরুষের আধিক্য। নারীরা নেই বললেই চলে। এসব স্থানে যদি নারীরা বেশি বেশি থাকতেন তবে নিপীড়ন-নির্যাতন কমে আসতো বলে মনে করেন মুখতারান। ভারতের নৃশংস ওই ঘটনায় ভারতের বিচার ব্যবস্থা ও সরকারের প্রতি তার আহ্বান- মেয়েটি মারা গেলেও তার শোকার্ত পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এতে অন্য অপরাধীরা ভয় পাবে এবং অন্য ভিকটিম নারীরা ন্যায়বিচারের জন্য এগিয়ে আসার সাহস পাবেন। নিজে গণধর্ষণের শিকার হয়ে প্রচণ্ড রকমের কষ্ট ও বেদনা সয়েছিলেন। ফলে দিল্লির মেয়েটির কথা শুনে অনেক রাগ হচ্ছিল বলে জানান তিনি। নিজের ওপর আক্রমণকারীদের প্রাপ্ত সাজার বিষয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন বলে আপিল করেছেন। তবে ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী নন বলে শেষ বিচারের দিনে আল্লাহর সাজার অপেক্ষার কথা বলেন মুখতারান।