Pages

Thursday, January 3, 2013

দিল্লি গণধর্ষণ: 'বাসের চাকায় পিষে মারার চেষ্টা হয়েছিল মেয়েটিকে'

দিল্লি গণধর্ষণ: 'বাসের চাকায় পিষে মারার চেষ্টা হয়েছিল মেয়েটিকে


দিল্লির বাসে মারধর ও গণধর্ষণের পর বাস থেকে ফেলে দিয়ে পিষে মারার চেষ্টা হয়েছিল ২৩ বছর বয়সী সেই মেডিক্যাল শিক্ষার্থীকে। ঘটনার এই বিবরণ ও ছয় আসামির বিরুদ্ধে বিস্তারিত অভিযোগ লিপিবদ্ধ করে বৃহস্পতিবার আদালতে জমা দেয়ার জন্য এক হাজার পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র তৈরি করেছে পুলিশ। এতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা এপি'কে জানায়, গণধর্ষণের ঘটনায় সন্দেহভাজন আসামিদের মধ্যে একজনের বয়স আঠারো বছরের নীচে। এদিকে ভারতের কিশোর অপরাধ আইনানুযায়ী বয়স ১৮ বছরের নীচে হলে হত্যা মামলা চালানো যায় না। তাই তার বয়স নিশ্চিত হতে হাড় পরীক্ষা করা হবে। মঙ্গলবার মেয়েটির ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং তারা যদি অপরাধী হয়ে থাকে তবে অবশ্যই মৃত্যুদন্ডের মত শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এছাড়া এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মেয়েটিকে ব্যাপক মারধর ও ধর্ষণ, তাকে বাঁচাতে আসায় তার বন্ধুকে বেদম পিটুনি, তাদের দুইজনকে বাস থেকে ফেলে দেয়ার পর বাসের চাকায় পিষে মারার চেষ্টাসহ সেই ভয়াবহ ঘটনার বিবরণ থাকছে পুলিশের অভিযোগপত্রে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচতে ছয় আসামির মধ্যে তিনজনকে কামড়ে দিয়েছিল মেয়েটি। তিনজনের দেহে এর চিহ্নও পাওয়া গেছে, যা প্রমাণের অংশ হিসাবে উপস্থাপন করা হতে পারে। ওদিকে এ ধর্ষণের ঘটনায় দেশটির শিক্ষামন্ত্রী শশি থারোর কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ধর্ষিত মেয়েটির নাম প্রকাশ করে তার নামেই ধর্ষণবিরোধী আইন করা হোক। এদিকে ধর্ষণের বিরুদ্ধে নতুন আইন পাস করার জন্য পার্লামেন্টে বিশেষ অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির আন্দোলনকারী এবং রাজনীতিকরা। এছাড়া এ আইনে রাসায়নিকভাবে বন্ধাকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা এবং দ্রুত বিচার আদালতের মাধ্যমে ৯০ দিনের মধ্যে ধর্ষণ মামলাগুলোর নিষ্পত্তির আবেদন জানান তারা। ফিজিওথেরাপির ঐ ছাত্রী গত ১৬ ডিসেম্বর গণধর্ষণের শিকার হবার পর জরুরি চিকিত্সার জন্য সিঙ্গাপুরে একটি হাসপাতালে নেয়া হলে গত সপ্তাহে তার মৃত্যু হয়।

No comments:

Post a Comment