আ. লীগ নেতা ধর্ষণ করলেন ভাতিজার বিধবা স্ত্রীকে!
এক বিধবা ধর্ষণের শিকার হয়ে নালিশ করেছিলেন ধর্ষকের চাচার কাছে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার তিন দিন পর ওই চাচাই আবির্ভূত হন ধর্ষকের ভূমিকায়। ওই নারীর অভিযোগ, এবার তাঁকে ধর্ষণ করা হয় তাঁর শিশুসন্তানের সামনেই। ভয়ে তিনি ১০ দিন পালিয়ে ছিলেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় খবর পাওয়া যায় ওই নারীকে নিয়ে থানায় অবস্থান করছেন একটি নারী সংগঠনের এক নেত্রী এবং একজন জনপ্রতিনিধি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। গতকাল সকালে সাংবাদিকরা ওই এলাকায় গিয়ে ঘটনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁর নাম আবু সাঈদ ওরফে লাল মিয়া (৬০)। তিনি শরীফপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার শরীফপুর গ্রামের ওই নারীর স্বামী মারা যান প্রায় আট বছর আগে। তখন পরিবারটির দায়িত্ব নেন ওই নারীর চাচাশ্বশুর তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সাঈদ ওরফে লাল মিয়া। এরপর থেকে ওই নারী সন্তানদের নিয়ে চাচাশ্বশুরের বাড়িতেই থাকেন। এরই মধ্যে তিনি দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এক ছেলে ঢাকায়
চাকরি করেন। ছোট দুই ছেলে ও এক মেয়ে তাঁর সঙ্গে থাকে।
ওই নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লাল মিয়া ও তাঁর ভাতিজা আমীর দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। সপ্তাহ দুয়েক আগে আমীর তাঁর ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করে। ওই সময় তাঁর ঘরে থাকা ছয়-সাত বছরের ছেলেসন্তান ঘুমিয়ে ছিল। বিষয়টি কাউকে জানালে ঢাকায় কর্মরত ছেলেকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয় আমীর। এর পরও ঘটনাটি লাল মিয়াকে অবহিত করেন ওই নারী। তিনি জানান, গত ২০ জানুয়ারি রাতে লাল মিয়া কাজ আছে বলে তাঁকে দরজা খুলতে বলেন। দরজা খোলামাত্রই তিনি তাঁকে জাপটে ধরে ধর্ষণ করেন। ধস্তাধস্তির কারণে দরজায় ধাক্কা লেগে তিনি পিঠে ব্যথাও পান। ওই নারীর অভিযোগ, ১০-১২ বছর বয়সী মেয়ের সামনেই তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। ওই রাতেই তিনি মেয়েকে নিয়ে অন্য বাড়িতে চলে যান। সকালে স্থানীয় কয়েকজনকে জানালে তাঁরা বিষয়টি কেউ বিশ্বাস করবে না বলে বিচার চাইতে কিংবা মামলা করতে নিষেধ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী বলেন, 'ঘটনার রাতেই ওই মহিলা আমাদের বাড়িতে আসেন। এসেই তিনি পানি পান করেন। এরপর থেকে ভয়ে এ-বাড়ি ও-বাড়ি অবস্থান করছিলেন। ভয়ে মামলা করতেও যেতে পারছিলেন না তিনি।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধি বলেন, 'এলাকার অনেকেই ঘটনা সম্পর্কে জানেন। কিন্তু ওই মহিলার কাছের কোনো আত্মীয় না থাকায় কেউ সাহস করে এগিয়ে আসছেন না। এ ছাড়া লাল মিয়া এলাকায় প্রভাবশালী। তাই কেউ মুখ খুলছে না। আমি মহিলার জন্য এগিয়ে এলে আমাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।'
এদিকে আমীর হোসেনের ভাই তকদির হোসেন জানান, এসব কথা একেবারেই মিথ্যা। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে এসব কথা বলে বেড়ানো হচ্ছে। তাঁর ভাই এখন বাড়িতে নেই। তিনি মোবাইল ফোনও ব্যবহার করেন না।
আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাঈদ ওরফে লাল মিয়া মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমীরের বিষয়ে ওই মহিলা আমাকে কিছু বলেনি। আমার মনে হয় সে গ্রাম্য রাজনীতির শিকার। আমিও অনেক দিন চট্টগ্রামে ছিলাম। বাড়িতে এসে শুনি আমার নামে এসব বলা হচ্ছে। যা বলা হচ্ছে সবই মিথ্যা। মেয়েটি আমাকে আব্বা বলে ডাকে। এখন সে বাড়িতে নেই। তাকে পেলে আমি জিজ্ঞেস করব, সে কেন এমন করছে। আমার মনে হয়, আমাকে নিয়েও রাজনীতি হচ্ছে। কেউ আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে চাইছে। তবে কে বা কারা এমন করছে সেটা এখনো বুঝতে পারছি না।'
এ ব্যাপারে শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুদ্দিন চৌধুরী সাফি মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ওই মহিলা আমাকে ঘটনা খুলে বলেছেন। ওনাকে থানায় নিয়ে এসেছি। আমি অভিযুক্তদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা বলছে বিষয়টি ষড়যন্ত্র। এখন সবকিছু না জেনে, খোঁজ না নিয়ে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এর আগেও এ ধরনের অভিযোগ উঠেছিল।'
দুর্বার নারী নেটওয়ার্ক কুমিল্লা অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক শাহানা খায়ের বলেন, 'সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমি ওই গ্রামে যাই। ওই মহিলার কাছ থেকে ঘটনা শুনে বিচার পাওয়ার জন্য তাঁকে থানায় নিয়ে এসেছি।'
আশুগঞ্জ থানার ওসি মো. গোলাম ফারুক বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা ওই মহিলার কাছ থেকে ঘটনা শুনছি। এলাকায় অফিসার পাঠিয়েও খবর নিয়েছি। ঘটনা পুরোপুরি সত্য কি মিথ্যা তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তিনি যেহেতু ওই মহিলার চাচাশ্বশুর ও একজন বয়স্ক লোক, তাই এটি খতিয়ে দেখা হবে। ওই মহিলা মামলা দিলে সেভাবেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

No comments:
Post a Comment