Pages

Tuesday, January 1, 2013

গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ

গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ


আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। বছর শেষ হয়ে গেলেও এই ইস্যুতে বাংলাদেশ গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। এরই মধ্যে বিরোধী দল হরতাল পালন করেছে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে সৃষ্টি হয়েছে দাঙ্গা। দাবি করা হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বিচার শেষ করতে। লন্ডন থেকে প্রকাশিত অনলাইন টেলিগ্রাফে ‘সাউথ এশিয়া: প্রিভিউ অব ২০১৩’ শীর্ষক রিপোর্টে এসব কথা বলা হয়। এতে বিগত বছরের তুলনায় নতুন বছরে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও নেপাল কেমন যাবে তার একটি পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রাজনীতির পাকে একরকম আটকা পড়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। তিনি আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রচারণায় নামতে পারছেন না প্রেসিডেন্ট থাকার কারণে। আবার প্রেসিডেন্টের পদ ত্যাগ করলে তার বিরুদ্ধে যে সাধারণ ক্ষমা দেয়া হয়েছে তা-ও উঠে যাবে। ফলে নিজেকে রক্ষা করতে ও দলকে বাঁচাতে তিনি ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিকে সামনে নিয়ে এসেছেন। ওদিকে ভারতে রাজনীতির হাল ধরতে খুব ধীর মস্তিষ্কে গান্ধী পরিবারের উত্তরসূরি রাহুল গান্ধীকে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। আফগানিস্তান থেকে ২০১৪ সালে ন্যাটো সেনা প্রত্যাহার করলে এ অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আভাস দেয়া হয়েছে। নেপালের নতুন সংবিধান নিয়েও এতে আলোকপাত করা হয়েছে। ডিন নেলসন লিখেছেন, এপ্রিলে পাকিস্তানে নির্বাচন হতে পারে। তাই ভুট্টো পরিবারকে পাকিস্তানের রাজনীতিতে টিকিয়ে রাখতে বিলাওয়ালকে ব্যবহার করছেন প্রেসিডেন্ট জারদারি। তবে রাজনীতিতে মিশতে হলে তাকে উর্দু রপ্ত করতে হবে ভালভাবে। এজন্য তিনি বাসায় বসে উর্দুর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ওদিকে তার দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) প্রথমবার পাকিস্তানের ইতিহাসে ক্ষমতার পূর্ণ মেয়াদ পূরণ করতে যাচ্ছে। এ সময়ে প্রেসিডেন্ট জারদারি পড়েছেন উভয় সঙ্কটে। ওদিকে ন্যাটো ২০১৪ সালে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। এতে এ অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওই সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে আফগানিস্তান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। ওদিকে আগামী বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালে আফগানিস্তানে নির্বাচন। এর আগে প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই তার শেষ দফা ক্ষমতার মেয়াদ শেষ করছেন। এর ফলে সেখানে চলমান যুদ্ধ ও নির্বাচনে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তাদের বাসনা নতুন এ বছরেই প্রকাশ করতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত নির্বাচনের সামনের সারিতে আছেন হামিদ কারজাইয়ের ভাই কাইয়ুম কারজাই ও তার সাবেক চিফ অব স্টাফ ওমর দাউদজাই। ভারত সম্পর্কে ওই রিপোর্টে বলা হয়, নতুন বছরে ভারত নির্বাচনী ভাবধারায় প্রবেশ করছে। কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, দিল্লি, রাজস্থান ও কয়েকটি ছোট ছোট রাজ্যের ও সাধারণ নির্বাচন এই বসন্তেই হওয়ার কথা। সেখানে কংগ্রেসের নেতৃত্ব দেবেন রাহুল গান্ধী। গত বছর এই দল লোকসভায় অনাস্থা ভোটে টিকে গেছে। তারা এখন দরিদ্রবান্ধব হয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছে বিভিন্ন ভাবে। এই বসন্তে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য ভারত সফরে আসার কথা বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের। এ বছর ভারতে বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বছর বিদেশী বিনিয়োগ অনুৎসাহিত করতে রাজনীতি অনেকটা বিকলাঙ্গ হয়ে পড়েছিল। এ বছরেই ভারত সরকার মঙ্গলগ্রহে অভিযান চালাতে চায়। মে মাসে নেপালে নির্বাচন হওয়ার কথা। সেখানে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নে গত বছর ব্যর্থ হয়েছেন সেখানকার রাজনীতিকরা। বিভিন্ন অঞ্চলকে স্বায়ত্তশাসন দেয়া হবে কিনা তা নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের বরফ অনেকাংশেই কেটে যাবে নতুন বছরে এমনটা আশা করা হচ্ছে।


No comments:

Post a Comment