Pages

Showing posts with label KHALEDA ZIA. Show all posts
Showing posts with label KHALEDA ZIA. Show all posts

Thursday, January 31, 2013

ওয়াশিংটন টাইমসে খালেদা জিয়া- বাংলাদেশের গণতন্ত্র বাঁচান

ওয়াশিংটন টাইমসে খালেদা জিয়া- বাংলাদেশের গণতন্ত্র বাঁচান


যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কে ২০১৩ সাল কি একটি সন্ধিক্ষণ হবে? আমার দেশ ১৫ কোটি মানুষের। ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যবর্তী অংশে এর অবস্থান। ১৯৭১ সাল থেকে এ দেশটি স্বাধীন। আমাদের নিজেদের গন্তব্য নির্ধারণের জন্য যেসব দেশ প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম। কিন্তু সামপ্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে খাটো করে দেখা হচ্ছে, এর অর্থনৈতিক আনুগত্য বিশ্বের ক্রমবর্ধমান শক্তিগুলোর দিকে ধাবিত তখন যুক্তরাষ্ট্র অলস অবস্থানে আছে বলে অভিযোগ আনা যেতে পারে। এ সময়ে দু’দেশের সম্পর্কে চলে টানাপড়েন।
এর অর্থ এই নয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার, কংগ্রেস বা বিভিন্ন সংস্থা সহায়তার ক্ষেত্রে যে নেতৃত্ব দিয়ে থাকে তার কিছুই করেনি তা নয়। এখন থেকে ৬ মাস আগে, বিশ্বব্যাংক চার মাইল দীর্ঘ একটি সেতু প্রকল্পে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রত্যাহার করে নেয়। গত ৪০ বছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় কোন একক অবকাঠামোর প্রকল্প। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্পে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে দুর্নীতি ও তহবিল তছরূপ নিয়ে তদন্ত দাবি করে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের বাংলাদেশ ককাসের সদস্যরা গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসকে অপসারণের জন্য বাংলাদেশ সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিন্দা জানান। গ্রামীণ ব্যাংকও ওই পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশী ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান। এই ব্যাংক লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়েছে। তাকে অপসারণের কারণ? এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ভুল ব্যক্তিকে সম্মানিত করা হয়েছে: ‘যদি বাংলাদেশে কেউ নোবেল পুরস্কার পাওয়ার দাবি রাখেন, তাহলে তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’
শেখ হাসিনা নোবেল পুরস্কারের কোন দাবি করেছেন এ বিষয়ে বেশির ভাগ বাংলাদেশী একমত হবেন না। বাংলাদেশের আধাসামরিক বাহিনী, শেখ হাসিনার র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের হাতে ২০০৯ সাল থেকে প্রায় ৩০০ মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের এ সংখ্যা নিবন্ধিত। তাদের পরিবারকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করুন। অথবা শ্রমিক অধিকার বিষয়ক নেতা খুন হওয়া আমিনুল ইসলামের পরিবারের কথাই বিবেচনা করুন। তাকে হত্যা করার পর এএফএল-সিআইও যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সুবিধা বাতিল করার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নৃশংসতার অভিযোগে স্থানীয় পর্যায়ে যেসব রাজনৈতিক নেতা ও তার সমর্থকদের স্থানীয় যুদ্ধ অপরাধ আদালতে অভিযুক্ত করা হচ্ছে তারাও শেখ হাসিনার নোবেল পুরস্কার পাওয়ার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন।
শুধু বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে এ বিচার করার জন্য যুদ্ধ অপরাধ বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের দূত শেখ হাসিনা সরকারের নিন্দা জানিয়েছেন। ডিসেম্বরে দি ইকোনমিস্ট ফাঁস করে দেয় ই-মেইল ও ফোন রেকর্ডিং। তাতে প্রকাশ হয়ে পড়ে হাসিনা প্রশাসন কিভাবে এ বিচার নিয়ে হস্তক্ষেপ করছে এবং কিভাবে তারা হাসিনার বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার জন্য বিচারকদের করছে।
সহজ কথা হলো- গত ৫ বছর ধরে, এশিয়ার অন্যতম উজ্জ্বল গণতন্ত্রের দেশ থেকে কিভাবে দ্রুতগতিতে সরতে সরতে বাংলাদেশ পরিণত হচ্ছে এক পরিবারকেন্দ্রিক ক্ষমতার কেন্দ্রে। এখন নির্বাচনের আগে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রয়োজন মুছে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। বাস্তবে, তিনি নিজেই এই শাসন ব্যবস্থা প্রচলনে সহায়তা করেছিলেন। এ ব্যবস্থায় ক্ষমতা হস্তান্তর ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া দেখভালের জন্য গঠন করা হয় নির্দলীয় সরকার- যাতে ক্ষমতাসীন সরকার কোন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করতে না পারে।
নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকা এক রকম নিশ্চয়তা। যদি ভোটাররা নতুন একটি সরকারের জন্য ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাহলেই ক্ষমতা হাতবদল হয়। এ বছরের শেষের দিকে সাধারণ নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে প্রতিবাদে সমবেত হয়েছেন। তা সত্ত্বেও দৃশ্যত, শেখ হাসিনা সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বিশ্বাস করছেন, জনপ্রিয় বিরোধী দল তার শাসনের বিরোধিতা করলেও এতে তিনি পুনঃনির্বাচিত হবেন।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর পরই মিয়ানমার সফর করেন। বাংলাদেশের প্রতিবেশী এই মিয়ানমার ছিল একঘরে। সে অবস্থা থেকে তারা বেরিয়ে আসছে। বিশ্বের বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতের ক্রমবিকাশ হচ্ছে। বাংলাদেশ যদি এক পরিবারের শাসনে হাল ছেড়ে দেয় তাহলে এ অঞ্চলের জন্য তা হবে এক বড় পশ্চাৎ যাত্রা। এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আশায় ভরা একটি অঞ্চল। কারণ, আমেরিকা স্বাধীনতাকে উৎসাহিত করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে বাংলাদেশের জনগণ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে তাদের মতামত দেয়ার সুযোগ পান।
যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের, যেমন গ্রেট বৃটেন, আছে ভোটারদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সম্মান জানানোর জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করানোর জন্য প্রভাব খাটানোর ক্ষমতা। এটাকে নিশ্চিত করতে, বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের পথ থেকে পিছলে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে তাদের বক্তব্য ও পদক্ষেপ আরও শক্তিশালী হওয়া দরকার। তাই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো ব্যক্তিরা যারা দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য স্বীকৃতি লাভ করেছেন তাদের অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে কংগ্রেস ও বৃটিশ পার্লামেন্টের। অন্যদিকে শেখ হাসিনা কেবলমাত্র স্বীকৃতির লোভ করে যান।
শেখ হাসিনাকে অবশ্যই বোঝাতে হবে যে, যারা শ্রমিক অধিকারকে সমর্থন করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিরোধিতা যারা করেন তাদেরকে যদি মত প্রকাশ করতে দেয়া না হয় তাহলে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে বিশেষ সুবিধা দেয়া হচ্ছে তা প্রত্যাহার করা হবে। এই শাসক গোষ্ঠীর যারা গণতন্ত্র, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারকে খাটো করে দেখে- পশ্চিমা শক্তিগুলোর তাদের বিরুদ্ধে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অবরোধ বিবেচনা করা উচিত। আমাদের জনগণের সামনে এসব কথা তাদের প্রকাশ্যে বলা ও করা উচিত যাতে আমাদের নাগরিকরা তা দেখতে ও শুনতে পান। এভাবেই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে গণতান্ত্রিক মিশন প্রতিষ্ঠায় রত আছে তা নিশ্চিত করতে পারে।
কথায় আছে, আইনের আদালতের চেয়েও বড় আদালত হলো মানুষের বিবেক। পূর্ণ বিবেকবোধ দিয়ে এটা বলা অসম্ভব যে, শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও দারিদ্র্য দূরীকরণ নিরাপদ নয়। এসবই রয়েছে ভয়ানক বিপদের মুখে। এখন আমেরিকার নেতৃত্বে বিশ্বের সামনে সময় বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষায় ও তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেয়ার।

Sunday, January 6, 2013

কোন্দল থাকলেই পরাজয়

কোন্দল থাকলেই পরাজয়


ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ-১ আসন। এ আসনে ধোবাউড়ার ৭টি ও হালুয়াঘাট উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন রয়েছে। বর্তমান এমপি সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট প্রমোদ মানকিন। গত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আফজাল এইচ খানকে পরাজিত করে তিনি এমপি নির্বাচিত হন। ’৯০-এর পর শুধু ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আফজাল এইচ খান এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। দলীয় কোন্দলের কারণে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচিত হতে পারেনি। বাকি ৩টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এডভোকেট প্রমোদ মানকিন নির্বাচিত হন। গতবার নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে প্রথমে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী, বর্তমানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী করা হয়। এলাকায় তিনি একজন শান্ত ও ভদ্র মানুষ হিসেবে পরিচিত হলেও গত ৪ বছরে এলাকার প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন করতে পারেননি। তার ছত্রছায়ায় কিছু ব্যক্তি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি, বরং নীরব ভূমিকা পালন করেছেন। এতে আওয়ামী লীগের লোকজন চরম ক্ষুব্ধ তার প্রতি। এতে অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। ফলে বর্তমান এমপি প্রমোদ মানকিনের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে বলে দলের নেতাকর্মীরা জানান। এ আসনে বিএনপি-আওয়ামী লীগ দুই দলেই কোন্দলের কারণে দ্বিধাবিভক্তি রয়েছে। যারা দলীয় কোন্দল নিরসন করতে পারবেন সেই দলের প্রার্থীই বিজয়ী হবেন বলে উভয় দলের নেতকর্মীদের অভিমত।
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য যারা মনোনয়ন চাইবেন তারা হলেন আওয়ামী লীগের বর্তমান জাতীয় সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট প্রমোদ মানকিন, সাবেক ছাত্রনেতা ফারুক আহম্মেদ খান, ধোবাউড়ার বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট ইসলাম উদ্দিন খান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. সি এন সরকার চন্দন, ধোবাউড়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিন। ১৮ দলীয় জোট ও বিএনপি থেকে যারা মনোনয়ন চাইবেন তারা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আফজাল এইচ খান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স ও হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির নেতা আলী আজগর ও ধোবাউড়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিন।
আওয়ামী লীগ: এখানে তিন ভাগে বিভক্ত পড়েছে। প্রমোদ মানকিন গ্রুপ, ফারুক আহমেদ খান গ্রুপ ও তৃতীয় গ্রুপটি দু’জনকে ছেড়ে দিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে। আওয়ামী লীগের কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রমোদ মানকিন দলের অনেক প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাকে বিগত নির্বাচনের আগে হালুয়াঘাট উপজেলা কমিটি থেকে বাদ দেয়ায় দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। প্রমোদ মানকিনের বড় প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায় ফারুক খান। প্রমোদ মানকিনকে মনোনয়ন দিলে চরম বিরোধিতা করে ফারুক খানের সমর্থকরা। পরে গত উপজেলা নির্বাচনের সময় ফারুক খান উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হলে তার বিরোধিতা করেন প্রমোদ মানকিন গ্রুপ। ফলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফারুক খান পরাজিত হন। বিএনপি প্রার্থী আলী আজগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে হালুয়াঘাট আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় রয়েছে। ধোবাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছে ৭ বছর ধরে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইসলাম উদ্দিন খান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ বিশ্বাস বাবুলসহ বেশির ভাগ নেতাকর্মী নীরব ভূমিকা পালন করছেন। তারা বলেন, বর্তমান এমপি প্রবীণ ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোন মূল্যায়ন এবং এলাকার উন্নয়ন করেননি। ফলে দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ তার প্রতি চরম ক্ষুব্ধ।
বিএনপি: হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপি এখন তিন গ্রুপে বিভক্ত। এক গ্রুপে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক মন্ত্রী বিচারপতি টিএইচ খানের পুত্র হালুয়াঘাট থানা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক এমপি আফজাল এইচ খান। আরেক গ্রুপে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা (উত্তর) বিএনপির একাংশের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আজগর। তৃতীয় পক্ষ হচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছের লোক হিসেবে সরকারি বরাদ্দ নিয়ে এসে এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেছিলেন। বর্তমানে প্রিন্স দু’টি উপজেলায় ব্যাপক গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টির সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আজগর বিএনপিতে যোগ দেয়ার পর থেকে গ্রুপের সৃষ্টি হয়। হালুয়াঘাটের ব্যক্তি হিসেবে আলী আজগরের একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। তিনি দু’বার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
বিএনপির নেতা হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আজগর বলেন, বর্তমান সরকারের গত ৪ বছরে ধোবাউড়া-হালুয়াঘাট এলাকার কোন উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারেননি। অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, হালুয়াঘাট বাইপাস সড়ক নির্মাণ, সীমান্ত সড়ক নির্মাণ, হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া সড়ক প্রশস্ত করে সমপ্রসারণ কোনটাই বাস্তবায়ন হয়নি। বরং সন্ত্রাস, খুন, ষাঁড়ের লড়াইয়ের নামে জুয়া, চুরি, ছিনতাই টেন্ডারবাজি বেড়েছে। এলাকায় গেলে উন্নয়ন কারও চোখে পড়বে না। বিএনপির আমলে শুরু হওয়া কাজগুলো শেষ হয়েছে। নতুন কোন উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। বিএনপি নেতাকর্মীরা বলেছেন, বর্তমান এমপি প্রমোদ মানকিন এলাকার উন্নয়ন করতে না পারলেও তিনি হালুয়াঘাটের নিজ গ্রামের বাড়িটিকে সুরম্য অট্টালিকায় উন্নীত করেছেন।

Friday, January 4, 2013

কোকো’র পাচার করা টাকার লভ্যাংশ ফেরত এনেছে দুদক

কোকো’র পাচার করা টাকার লভ্যাংশ ফেরত এনেছে দুদক


বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো’র সিঙ্গাপুরে পাচার করা টাকার লভ্যাংশ ফেরত এনেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। লভ্যাংশের ১৫ লাখ টাকা দুদক একাউন্টে জমা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের একাধিক কর্মকর্তা। টাকা দুদক একাউন্টে জমা হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমানও। তবে তিনি কত টাকা জমা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেননি। তিনি বলেছেন, ‘টাকা জমা হয়েছে কিন্তু কত টাকা জমা হয়েছে তা আমি বলতে পারবো না।’ ২০১২ সালের ২২শে নভেম্বর দুদক কোকো’র পাচার করা ২০ লাখ ৪১ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার দেশে ফেরত আনে। বাংলাদেশী মুদ্রায় ওই টাকার পরিমাণ ১৩ কোটি টাকা। লভ্যাংশের ওই টাকা সোনালী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এসে জমা হয়েছে।
দুদক চেয়ারম্যান আগেই জানিয়েছেন ওই টাকা তারা দুর্নীতি প্রতিরোধের কাজে ব্যয় করবেন।
জোট সরকারের আমলে ২০০৪ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে কোকো অবৈধভাবে সিঙ্গাপুরের ইউনাইটেড ওভারসিজ-এর মাধ্যমে ওই টাকা পাচার করেন।

Tuesday, January 1, 2013

গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ

গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ


আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। বছর শেষ হয়ে গেলেও এই ইস্যুতে বাংলাদেশ গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। এরই মধ্যে বিরোধী দল হরতাল পালন করেছে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে সৃষ্টি হয়েছে দাঙ্গা। দাবি করা হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বিচার শেষ করতে। লন্ডন থেকে প্রকাশিত অনলাইন টেলিগ্রাফে ‘সাউথ এশিয়া: প্রিভিউ অব ২০১৩’ শীর্ষক রিপোর্টে এসব কথা বলা হয়। এতে বিগত বছরের তুলনায় নতুন বছরে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও নেপাল কেমন যাবে তার একটি পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রাজনীতির পাকে একরকম আটকা পড়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। তিনি আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রচারণায় নামতে পারছেন না প্রেসিডেন্ট থাকার কারণে। আবার প্রেসিডেন্টের পদ ত্যাগ করলে তার বিরুদ্ধে যে সাধারণ ক্ষমা দেয়া হয়েছে তা-ও উঠে যাবে। ফলে নিজেকে রক্ষা করতে ও দলকে বাঁচাতে তিনি ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিকে সামনে নিয়ে এসেছেন। ওদিকে ভারতে রাজনীতির হাল ধরতে খুব ধীর মস্তিষ্কে গান্ধী পরিবারের উত্তরসূরি রাহুল গান্ধীকে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। আফগানিস্তান থেকে ২০১৪ সালে ন্যাটো সেনা প্রত্যাহার করলে এ অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আভাস দেয়া হয়েছে। নেপালের নতুন সংবিধান নিয়েও এতে আলোকপাত করা হয়েছে। ডিন নেলসন লিখেছেন, এপ্রিলে পাকিস্তানে নির্বাচন হতে পারে। তাই ভুট্টো পরিবারকে পাকিস্তানের রাজনীতিতে টিকিয়ে রাখতে বিলাওয়ালকে ব্যবহার করছেন প্রেসিডেন্ট জারদারি। তবে রাজনীতিতে মিশতে হলে তাকে উর্দু রপ্ত করতে হবে ভালভাবে। এজন্য তিনি বাসায় বসে উর্দুর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ওদিকে তার দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) প্রথমবার পাকিস্তানের ইতিহাসে ক্ষমতার পূর্ণ মেয়াদ পূরণ করতে যাচ্ছে। এ সময়ে প্রেসিডেন্ট জারদারি পড়েছেন উভয় সঙ্কটে। ওদিকে ন্যাটো ২০১৪ সালে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। এতে এ অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওই সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে আফগানিস্তান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। ওদিকে আগামী বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালে আফগানিস্তানে নির্বাচন। এর আগে প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই তার শেষ দফা ক্ষমতার মেয়াদ শেষ করছেন। এর ফলে সেখানে চলমান যুদ্ধ ও নির্বাচনে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তাদের বাসনা নতুন এ বছরেই প্রকাশ করতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত নির্বাচনের সামনের সারিতে আছেন হামিদ কারজাইয়ের ভাই কাইয়ুম কারজাই ও তার সাবেক চিফ অব স্টাফ ওমর দাউদজাই। ভারত সম্পর্কে ওই রিপোর্টে বলা হয়, নতুন বছরে ভারত নির্বাচনী ভাবধারায় প্রবেশ করছে। কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, দিল্লি, রাজস্থান ও কয়েকটি ছোট ছোট রাজ্যের ও সাধারণ নির্বাচন এই বসন্তেই হওয়ার কথা। সেখানে কংগ্রেসের নেতৃত্ব দেবেন রাহুল গান্ধী। গত বছর এই দল লোকসভায় অনাস্থা ভোটে টিকে গেছে। তারা এখন দরিদ্রবান্ধব হয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছে বিভিন্ন ভাবে। এই বসন্তে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য ভারত সফরে আসার কথা বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের। এ বছর ভারতে বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বছর বিদেশী বিনিয়োগ অনুৎসাহিত করতে রাজনীতি অনেকটা বিকলাঙ্গ হয়ে পড়েছিল। এ বছরেই ভারত সরকার মঙ্গলগ্রহে অভিযান চালাতে চায়। মে মাসে নেপালে নির্বাচন হওয়ার কথা। সেখানে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নে গত বছর ব্যর্থ হয়েছেন সেখানকার রাজনীতিকরা। বিভিন্ন অঞ্চলকে স্বায়ত্তশাসন দেয়া হবে কিনা তা নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের বরফ অনেকাংশেই কেটে যাবে নতুন বছরে এমনটা আশা করা হচ্ছে।


Thursday, December 20, 2012

কান টানলে মাথা আসে, তাই আবুলরা বাদ

কান টানলে মাথা আসে, তাই আবুলরা বাদ


কান টানলে মাথা আসে বলেই পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ঘটনায় আবুলদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বলেছেন, আপনারা সরকারের কাছে একবার জানতে চান কেন পদ্মা সেতু হলো না? কেন আবুলদের বিরুদ্ধে মামলা হয় না। আসলে আবুলদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি কারণ কান টানলে মাথা আসে। তাদের টান দিলেই মাথা চলে আসবে। রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা ও সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। খালেদা জিয়া বলেন, পদ্মা সেতুর কাজ শুরুর আগেই সরকারের লোকজন বিদেশে ঘুষ আদান-প্রদান করেছে। তাই দীর্ঘদিন টালবাহানার পর সরকার বিশ্বব্যাংককে শর্ত দিয়েছে টাকা দিলে আবুলদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। সরকারের এ শর্তেই প্রমাণ হয় দুর্নীতি হয়েছে এবং সরকারই তা স্বীকার করে নিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার ব্যস্ত কমিশন নিয়ে ও চোরদের বাঁচাতে। সরকারের ডানে চোর, বাঁয়ে চোর। মন্ত্রী, এমপি, উপদেষ্টা, আত্মীয়-স্বজনসহ সরকার নিজেই চোর। হলমার্ক, সোনালী ব্যাংক লুটপাট করেছে সরকারের লোকজন। আওয়ামী লীগ শেয়ারবাজার লুটের মাধ্যমে দেড় কোটি মানুষকে নিঃস্ব করেছে। প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়-স্বজন ভিওআইপি ব্যবসার মাধ্যমে দেশকে লুটেপুটে খাচ্ছে। বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ২৫ হাজার নেতাকর্মীকে কারাবন্দি করেছে সরকার। কিন্তু মামলা ও গ্রেপ্তার করে আন্দোলন দমানো যাবে না। একদল গ্রেপ্তার হলে আন্দোলনে আরেক দল যোগ হবে। এখন যোগ হওয়ার সময়।
বিরোধী নেতা বলেন, মানচিত্র বদলে দেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তাই সীমান্তে আমাদের ভাইদের হত্যা করা হচ্ছে। ফেলানীদের হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। কিন্তু সরকার প্রতিবাদ করছে না। তিনি বলেন, বিদেশী ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে আমরা সমমর্যাদার ভিত্তিতে বন্ধুত্ব চাই। মাথা উঁচু করে থাকতে চাই। মাথা নিচু করে, হাত জোড় করে নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ দেশের মানুষকে যেভাবে পদানত করে রেখেছে ঠিক তেমনি তারা বিদেশে মাথা নত করে রয়েছে। এর মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় দীর্ঘস্থায়ী হতে চায়। খালেদা জিয়া বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম আওয়ামী লীগের অতীত ইতিহাস সম্পর্কে জানে না। মুক্তিযোদ্ধাদের উচিত তরুণ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধ ও আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের ইতিহাস তুলে ধরা। ’৭১-’৭৩ সালে আওয়ামী লীগ নেতারা লুটপাটে ব্যস্ত ছিল। আওয়ামী লীগের লোকজনই পাকিস্তানিদের ফেলে যাওয়া সম্পত্তি ও হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করেছে। ব্যাংক লুট করেছে। তারা তাদের নেতার কথাও শোনেননি। তাই শেখ মুজিব বলেছিলেন, সবাই পায় সোনার খনি, আমি পেলাম চোরের খনি। চোর কি করে মুক্তিযোদ্ধা হয়? আওয়ামী লীগ হচ্ছে সেই চোরের দল। তিনি বলেন, ’৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ কি জবাব দেবে? যুদ্ধের পর তো প্রচুর বৈদেশিক সাহায্য এসেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের লোকজন সেগুলো বিদেশে পাচার করে পকেট ভারি করেছিল। আওয়ামী লীগ মানেই দুর্ভিক্ষ, খুন, লুটপাট ও চুরির শাসন। তিনি সরকারের কৃষিনীতির সমালোচনা করে বলেন, সরকার কৃষকদের কাছে ধান কিনছে না। তারা কমিশনের জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদনের নিরুৎসাহী করে তুলছে। একই ভাবে কলকারখানায় উৎপাদন নেই। সেখানে সরকার গ্যাস, বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না। বিদেশী বিনিয়োগ তো নেই-ই। কিন্তু বিদ্যুতের কথা বলে সরকার কুইক রেন্টালের নামে নিজেদের পকেট ভারি করেছে।
বিশ্বজিৎ হত্যার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিরোধী নেতা বলেন, বিশ্বজিতের মতো তরুণকে কেন রাজপথে প্রাণ দিতে হলো? তারপরও প্রধানমন্ত্রী কেন মিথ্যা বলছেন? কারণ ছাত্রলীগকে ধরলে তারা বলবে, আমাদের কি দোষ? আমরা তো ওইখান থেকে নির্দেশ পেয়ে কেবল নির্দেশ পালন করেছি। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের পর ৪০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছে। যারা এ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে তাদেরও বিচার হওয়া উচিত। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আমাদের আন্দোলনের দাবি সুনির্দিষ্ট। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। এ দেশের কোন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। আওয়ামী লীগ দেশে গণতন্ত্র আনেনি, তারা বারবার গণতন্ত্র হত্যা করেছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন আপনারা দলমত নির্বিশেষে সকল মুক্তিযোদ্ধা জালিম সরকারের পতন ও দেশ রক্ষার এ সংগ্রামে শরিক হোন।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বিজয়ের মাসে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ করতে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে সরকার। শেষ পর্যন্ত এ হলে অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়েছে। আমরা বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান করতে চাইলেও অনুমতি দেয়া হয়নি। দেখে-শুনে মনে হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে তারা পৈতৃক সম্পত্তি মনে করছে। তবে এদেশকে কারও পৈতৃক সম্পত্তি বানাতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন, আপনাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধ শেষে আপনাদের মতোই নিজের জায়গায় ফিরে গেছেন। আপনারাই সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা। রণাঙ্গনে দেশকে স্বাধীন করেছেন। সীমান্ত পাড়ি দিলেই মুক্তিযোদ্ধা হয় না। খালেদা জিয়া বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে নাম কাটার হুমকি দিয়েছে সরকার। ভাতা বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে। যদি নাম কাটা হয় ভবিষ্যতে সে নাম যোগ হবে, ভাতাও দেয়া হবে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, আমিই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলাম। ভবিষ্যতে সে মন্ত্রণালয়ে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে দায়িত্ব দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক মূল্যায়ন করা হবে। মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের চিকিৎসার জন্য একটি উন্নত হাসপাতাল তৈরি করবো।
মুক্তিযোদ্ধারা কোন দলের সম্পদ নয়
এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে মুক্তিযোদ্ধাদের উচিত খালেদা জিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে দেশরক্ষার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়া। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, জাতিসংঘ নাকি শেখ হাসিনার শান্তির মডেল গ্রহণ করেছে। তারা যদি জানতেন তিনি দেশে কি রকম অশান্তির ও দুর্নীতির মডেল বাস্তবায়ন করছেন তাহলে দুর্নীতির একটি পুরস্কার দিতো। বিএনপি স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধ একটি চলমান প্রক্রিয়া। যখন গুমের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে, খুনে রাজপথ রঞ্জিত হচ্ছে, সরকার লুটপাটে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তখন সে চলমান প্রক্রিয়াকে ফের যুদ্ধে পরিণত করতে হবে। কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মে. জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক বলেন, ২৫শে মার্চ রাতেই জিয়াউর রহমান তার অধীনস্থ সৈন্যদের নিয়ে বিদ্রোহ করেন। সেদিন এত উন্নত গণমাধ্যম ছিল না বলেই তা ইতিহাসে লেখা নেই। তবে সেটাই সত্য। তিনি মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হেলাল মোর্শেদ খানের উদ্দেশে বলেন, ’৯৬ সালে আপনার উল্টাপাল্টা কাজের জন্য অনেক মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছে। এখন উল্টাপাল্টা করবেন না, জবাব দিতে হবে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ৭১-এর ৩রা মার্চ ঢাকায় সংসদ বসলে শেখ মুজিব হতেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনিই শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানিদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠক করেছেন, আপস করেছেন। আমরা ভাসানীর নেতৃত্বে যুদ্ধ করেছি, দেশবাসী জিয়ার ডাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আগে রাজনীতি করেছি আমরা, যুদ্ধও করেছি। কিন্তু এখন তা সম্পদ হয়ে গেল আওয়ামী লীগের। অতীতে অনেক কোয়ার্টার-সেমিফাইনাল খেলেছি, এবার ফাইনাল খেলতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জয়নাল আবেদিন এমপি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নাম কাটার এখতিয়ার হেলাল মোর্শেদ খানদের কে দিয়েছে? ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্যের জন্য তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হবে। সংবর্ধনা সমাবেশের আহ্বায়ক মেজর (অব.) শাহজাহান ওমর বীরউত্তম বলেন, প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া মুক্তিযোদ্ধাদের অভিনন্দন জানাই। সেই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হেলাল মোর্শেদের পদত্যাগ দাবি করছি। ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালামের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, মে. জেনারেল (অব.) আইনউদ্দিন বীরপ্রতীক, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি অধ্যক্ষ সোহবারউদ্দিন, ক্যাপ্টেন (অব.) শাহজাহান মিয়া, ইশতিয়াক আহমেদ উলফাত, প্রজন্ম দলের সভাপতি শামা ওবায়েদ, ইসমাঈল হোসেন বেঙ্গল, মেজর (অব.) ড. রেজা প্রমুখ। বক্তৃতায় মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি হেলাল মোর্শেদ সারা দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের চিঠি দিয়ে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে না আসার অনুরোধ জানান। তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা কোন ব্যক্তি বা দলের নয়, তারা দেশের সম্পদ। ৭১ দেশের স্বাধীনতার জন্য একবার মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। এবার দেশের গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখার জন্য আরেকবার মুক্তিযুদ্ধ করতে হবে।
এর আগে সকাল ১০টা থেকেই সারা দেশের ৭৫টি সাংগঠনিক জেলা থেকে মুক্তিযোদ্ধারা মহানগর নাট্যমঞ্চের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থল কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। বিজয়ের ৪১তম বার্ষিকীতে দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করার জন্য বিরোধী দল বিএনপি মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনার অয়োজন করে।

Wednesday, December 19, 2012

দিল্লি বিরোধিতা কমিয়ে নতুন কৌশল খালেদার

দিল্লি বিরোধিতা কমিয়ে নতুন কৌশল খালেদার


তিস্তার পানি বণ্টন ও সীমান্ত প্রটোকল চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়ায় ভারতের সঙ্গে হাসিনা সরকারের টানাপড়েন স্পষ্ট। একই সময়ে দিল্লির বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার বৈঠক এবং দেশে ফিরে খালেদা জিয়ার ভারত নিয়ে নয়া কৌশল নিয়ে নানা আলোচনা সকল মহলেই। ঢাকা সফরে আসা আনন্দবাজারের দিল্লি প্রতিনিধি অগ্নি রায় আরও লিখেছেন:
জনশ্রুতি আছে, বেগম খালেদা জিয়া যে কোন রাজনৈতিক সমাবেশে এক ঘণ্টা বক্তৃতা দিলে সাধারণত তার মধ্যে ৩০ মিনিট ব্যয় করেন ভারত-বিরোধিতায়!
সেই খালেদা জিয়া গত ১৮ই নভেম্বর ভারত সফর সেরে ফিরে আসার পর এক মাস কেটে গেছে। এখন পর্যন্ত চারটি জনসভা করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। কক্সবাজার, উখিয়া, ঢাকা ও বরিশালে। এ দেশের রাজনীতির কারবারিরা সবিস্ময়ে লক্ষ্য করছেন, ভারত শব্দটাই তার অভিধান থেকে যেন উধাও হয়ে গেছে! বাংলাদেশে ভোটের আগে বিএনপির এই পরিবর্তিত অবস্থান যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিষয়টি এমন নয় যে, খালেদার দল বিএনপি রাতারাতি নিজেদের অবস্থান বদলে মনমোহন সিংহ সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে। বরং দলীয় সূত্রের খবর, ভারত সম্পর্কে খালেদা জিয়ার এ নরম অবস্থান তার নিজের দলের ভিতরেই প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। গত সপ্তাহে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ভারত সম্পর্কে খালেদার এই নয়া নীতি নিয়ে তার দলের অনেক নেতাই দ্বিমত পোষণ করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে, একদিকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে নতুন যুগের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে দলের ভারত নীতিতে কোন পরিবর্তন না আনার কথাও বলা হচ্ছে। বিষয়টি পরস্পরবিরোধী। খালেদা পরিবারের ব্যক্তিগত বন্ধু এবং রাজনৈতিক পরামর্শদাতা মাহমুদুর রহমান এ নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার বক্তব্য, এ পরস্পরবিরোধিতা কি ভোটের আগে দলের হাসিনা-বিরোধিতাকে সর্বাঙ্গীণভাবে লঘু করে দেবে না?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক কারবারিদের মতে, ভারত সম্পর্কে খালেদার এ তুলনামূলক নরম অবস্থান নিছকই কৌশলগত কারণে। সামনাসামনি উগ্র ভারত বিরোধিতা না করে জামায়াতের মতো জোটসঙ্গীদের দিয়ে সেই কাজটা চালিয়ে যাচ্ছেন খালেদা। এটা ঘটনা যে, ভারতের সঙ্গে তিস্তা ও সীমান্ত চুক্তি এখনও রূপায়ণ না করতে পারার প্রশ্নে যথেষ্ট কোণঠাসা হয়ে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রশ্ন উঠছে, তার ভারত-বন্ধুত্বের ফল নিয়ে। আওয়ামী লীগের একটি অংশও মনে করছে, এ দু’টি চুক্তির বিষয় নিয়ে প্রচার এতটা উচ্চগ্রামে নিয়ে যাওয়াটা হয়তো ঠিক হয়নি। আওয়ামী লীগের এক নেতার কথায়, ‘তিস্তা চুক্তি হলে সরাসরি রাজশাহী এলাকা উপকৃত হবে এবং পদ্মায় পলি পড়ার হার কমে তা সচল হবে। একথা ঠিকই। কিন্তু গোটা দেশজুড়ে তিস্তা নিয়ে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তা প্রায় জাতীয় ইস্যুর সমান!’ ফলে প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ বেড়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ওই দুই চুক্তি না হওয়ার ফলে দেশের অভ্যন্তরে যে ভারত-বিরোধী আবেগ তৈরি হয়েছে, তাকে সুকৌশলে কাজে লাগাচ্ছে জামায়াত।
বাংলাদেশের বক্তব্য, মুখে ভারত-বিরোধী কোন বিবৃতি না দিলেও খালেদা জিয়া পেছন থেকে গোটা পরিস্থিতিকে কাজে লাগাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের এমপি আবদুর রহমানের কথায়, ‘পাকিস্তানের হাতে তামাক খেয়ে ভারতকে যতটা সম্ভব চাপে রাখতে জামায়াত প্রবলভাবে সক্রিয়। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ভারতকে সবসময় অস্বস্তিতে রাখতে পারলে বেশ কিছু গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধি হয়। এ কাজে পশ্চিম এশিয়ার কিছু দেশ টাকাও ঢালছে।’ হাসিনা শিবিরের বক্তব্য, বৃহত্তর ভূ-রাজনীতির কথা মাথায় রেখে (মার্কিন-পাকিস্তান সম্পর্ক ইত্যাদি) বেগম জিয়া কৌশলগতভাবে প্রকাশ্যে ভারত বিরোধিতা বন্ধ রেখেছেন ঠিকই- কিন্তু ক্ষমতায় এলেই তিনি ফের পুরনো অবস্থানে ফিরবেন। ভোট যত এগিয়ে আসবে, জামায়াতকে কাজে লাগিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরির কাজটিও এগোবে।
তবে ঘটনা হলো- শুধুমাত্র ভারত-বিরোধিতা দিয়ে যে ভোটের কিস্তিমাত করা যাবে না, তা বিলক্ষণ জানে বিরোধী জোট। তিস্তা বা সীমান্ত চুক্তি রূপায়ণে ব্যর্থতা (যদিও দীপু মনি এখনও বলছেন, তারা আশাবাদী, এই দু’টি চুক্তি সই করেই ভোটে যেতে পারবে হাসিনা সরকার) নির্বাচনী প্রচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি, পদ্মায় সেতু নির্মাণে দুর্নীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশছোঁয়া দামসহ অনেক বিষয়ই গুরুত্ব পাবে বিরোধীদের প্রচারে।
তবে বিরোধীদের ভোট প্রচারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেতে চলেছে ভোটের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গড়তে না-চাওয়া নিয়ে সরকারের যুক্তি- যা উড়িয়ে দিচ্ছে সরকার-পক্ষ। দীপু মনির কথায়, ‘বিএনপির কাছে প্রচারের অন্য কোন হাতিয়ার নেই। তাই তারা এই ধুয়ো তুলেছে। আমরা যেভাবে নির্বাচনী সংস্কার করেছি, তা যথেষ্ট স্বচ্ছ। কমিশনও এখন যথেষ্ট শক্তিশালী।’ তাদের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও শক্তিশালী করার জন্য খালেদা জিয়া যদি কোন প্রস্তাব নিয়ে আসেন, তাহলে অবশ্যই আলোচনায় রাজি সরকার।

Monday, December 17, 2012

৪০ মিনিট আটকে রাখা হয় খালেদাকে

৪০ মিনিট আটকে রাখা হয় খালেদাকে


স্মৃতিসৌধে যাওয়ার আগে কৌশলে ৪০ মিনিট আটকে রাখা হলো বিরোধী নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। শনিবার মধ্যরাত থেকে খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনের সামনে ছিল সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আনাগোনা। ভোরে সেখানে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ। সকালে সাভার স্মৃতিসৌধ যাওয়ার আগ মুহূর্তে ৬টার দিকে তার প্রটোকল গাড়িটি গুলশান থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে ৪৫ মিনিট আটকে রেখে পরে গাড়িটি আবার খালেদার গুলশানের বাসায় নিয়ে আসা হয়। এতে স্মৃতিসৌধে যেতে এক ঘণ্টা দেরি হয় খালেদা জিয়ার। এদিকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সকালে খালেদা জিয়া যাতে সময়মতো স্মৃতিসৌধে পৌঁছতে না পারেন, সেজন্য তার গাড়ি প্রায় ৪০ মিনিট আটকে রাখে পুলিশ। বিরোধী দলীয় নেতাকে গুলশানের বাসা থেকে ভোরে যথাসময়ে বের হতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। বিরোধী দলীয় নেতার প্রোটোকল গাড়ি আটকে রাখা হয়।
জিয়ার কবরে খালেদা: স্মৃতিসৌধ থেকে ফিরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নেতা-কর্মীদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরে যান খালেদা জিয়া। সকাল ৯টায় সেখানে তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও মোনাজাত করেন। এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, এম কে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ বিএনপি ও অঙ্গদলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বিএনপি সমর্থিত অনেক সংগঠন আলাদাভাবে জিয়ার মাজারে ফুল দেন। এর আগে বিজয় দিবস উপলক্ষে জিয়ার কবরে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে সেখানে ভিড় করেন নেতা-কর্মীরা।