Pages

Showing posts with label Jamat-e-islami. Show all posts
Showing posts with label Jamat-e-islami. Show all posts

Monday, March 4, 2013

চাঁদে সাঈদীর মুখ দেখার গুজব

চাঁদে সাঈদীর মুখ দেখার গুজব



রোববার মাঝরাতে চাঁদের গায়ে জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রতিকৃতি দেখা গেছে বলে গতকাল গুজব ছিল দেশের বিভিন্ন স্থানে। সকাল থেকেই মানুষের মুখে মুখে তা ছড়িয়ে পড়ে। মোবাইল ফোনে, মেসেজের মাধ্যমে এবং ফেসবুকেও ছড়ানো হয় এই গুজব। বগুড়ার মসজিদ থেকেও প্রচার করা হয় এই
তথ্য। চাঁদে সাঈদীর ছবি দেখা গেছে- এমন খবর ছড়িয়ে পড়ায় গতকাল বিভিন্ন স্থানে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সহিংসতায় জড়ায়। হরতালের পক্ষে পিকেটিংয়েও অংশ নেয়। এ কারণে বগুড়ায় সকাল থেকে কার্যত যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়ও এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সেখানেও জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামে এমন গুজব শুনে।
এদিকে আলেমরা জানিয়েছেন, এ ধরনের গুজব বা প্রচারণা সত্য বলে মনে করা ইসলাম ধর্মের বিশ্বাসের বিরোধী। যারা এমন গুজব সত্য বলে মনে করবেন তারা বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবেন।

কনডেম সেলে সাঈদীর দিনলিপি


কনডেম সেলে সাঈদীর দিনলিপি


ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে বিমর্ষ জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী দৈনিক পত্রিকাও পড়ছেন না। সারাক্ষণ চিন্তা করেন, তসবিহ জপেন। আদালতে ফাঁসির রায় হওয়ার আগেও তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন, সে সময় পত্রিকা পড়তেন, আচরণও অনেকটা স্বাভাবিক ছিল, নিরাপত্তা প্রহরীদের নাগালে পেলে আলাপ জমাতেন, কথা বলতেন। কিন্তু বদলে গেছেন ২৮শে ফেব্রুয়ারি মামলার রায়ে তার ফাঁসির দণ্ডাদেশ হওয়ার পর থেকে। মামলার রায়ের দিন থেকে তিনি কোন পত্রিকা পড়ছেন না, নিরাপত্তা প্রহরীদের সঙ্গেও কথা বলছেন না।
তিনি খুবই বিমর্ষ, চিন্তিত, সারাক্ষণ চুপচাপ থাকছেন, নিয়মিত নামাজ পড়ছেন, তসবিহ জপছেন। চুল-দাড়িতে নিয়মিত মেহেদি ব্যবহার করলেও এখন সেটাও করছেন না।
কোন আত্মীয়-স্বজনও তার সঙ্গে দেখা করতে আসেননি, পরিবারের কেউ আসেন নি জেলগেটে, সাক্ষাতের অনুমতিও চাননি। কয়েদির পোশাক পরেই কেন্দ্রীয় কারাগারের ৮ ফুট বাই ৮ ফুট কনডেম সেলে বসবাস করছেন তিনি। জেল কোডের বিধান অনুসারে ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত আসামিদের কোন কাজ দেয়া হয় না, সে কারণে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকেও কোন কাজ দেয়া হয়নি। জেলের বাইরে থেকে তার নিত্যব্যবহার্য দ্রব্যাদির মধ্যে ব্রাশ, টুথপেস্ট, তেল, সাবান নেয়ার অনুমতি আছে সে জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে জেল গেটে তার নামে টাকাও জমা আছে। সূত্রমতে মামলার রায়ের পর তিনি নিত্য ব্যবহার্য ওই সব দ্রব্যের কিছু নেননি। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন ২৩ জন ফাঁসির আসামি। তাদের মধ্যে পুরুষ ১৮ জন, মহিলা ৫ জন। ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের খাবার দেয়া হয় অন্যান্য সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মতোই। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকেও সে ভাবেই খাবার দেয়া হচ্ছে। তবে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর খাবার দেয়া হয় চিকিৎসকের পরীক্ষার পর। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী জানান, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রতিদিন খাবারের জন্য বরাদ্দ আছে তিন বেলা ১২ ছটাক চাল ও আটা। সকালে দেয়া হয় আটার রুটি, দুপুর ও রাতে ভাত। প্রতিদিন ডাল এক বেলা, সবজি দুই বেলা, যেদিন দুপুরে মাছ সেদিন রাতে দেয়া হয় মাংস আবার দুপুরে মাংস দেয়া হলে রাতে মাছ। তিনি জানান, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জন্য বাইরের কোন খাবার দেয়ার অনুমতি নেই। জেলের খাবারই তাকে খেতে হয়। সূত্রমতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যে সব দৈনিক পত্রিকা সরবরাহ করা হয় ওই সব পত্রিকার মধ্য থেকে যে কোন একটি পত্রিকা নিজের টাকায় পড়তে পারবেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। মামলার রায় হওয়ার পর তিনি কোন পত্রিকা পড়ছেন না।
যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামিদের মধ্যে একমাত্র দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীই আছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। গোলাম আযম ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অধীনে আছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ আছেন নারায়ণগঞ্জ কারাগারে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী আছেন কাশিমপুরে কেন্দ্রীয় কারাগার ইউনিট ১-এ। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ইউনিট ২-তে আছেন জামায়াত নেতা কামরুজ্জামান ও মীর কাশেম আলী।

Sunday, February 17, 2013

নাশকতা ঠেকাতে রাস্তায় সিসি ক্যামেরা আর্চওয়ে ওয়াচ টাওয়ার

নাশকতা ঠেকাতে রাস্তায় সিসি ক্যামেরা আর্চওয়ে ওয়াচ টাওয়ার


জামায়াত-শিবিরের নাশকতা ঠেকাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। শাহবাগ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ রাজধানীজুড়ে বিস্তার করা হয়েছে নিরাপত্তার জাল। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা, আর্চওয়ে, ওয়াচ টাওয়ার। রায়ট কার ও টিয়ারশেল গান নিয়ে রাস্তায় টহল দিচ্ছে র‌্যাব-পুলিশ। প্রস্তুত রাখা
হয়েছে এলিট ফোর্স সোয়াত টিম। বসানো হয়েছে অতিরিক্ত কন্ট্রোল রুম। ঢাকা মোট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত নেতাদের বাঁচাতে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা এখন মরিয়া। অব্যাহতভাবে তারা চালিয়ে যাচ্ছে চোরাগোপ্তা হামলা। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে। তারা শাহবাগ স্কয়ারেও হামলা চালাতে পারে বলে আগাম তথ্য পেয়েছি। এ কারণে শাহবাগসহ রাজধানীজুড়ে নতুন ছক অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা।
ডিএমপি হেড কোয়ার্টার সূত্র জানায়, সম্ভাব্য অনাকাঙিক্ষত ঘটনা এড়াতে রাজধানীতে ১০ হাজার পোশাকধারী এবং ১ হাজার রিজার্ভ ফোর্সসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রায় ১৫ হাজার সদস্য কাজ করছে। টহলে রয়েছে র‌্যাবের প্রায় ২ হাজার সদস্য। দাঙ্গা পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন, ডিবি পুলিশ এবং বোম ডিস্পোজাল টিম রাস্তায় ওয়ার্মআপ করছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে ঘুরে দেখা যায়- নয়া পল্টন, মতিঝিল, কাওরানবাজার, কল্যাণপুর, শ্যামলী, মহাখালী, মিরপুর-১০, ফকিরাপুল, শাহজাহানপুর মোড়, যাত্রাবাড়ী এবং ডেমরাসহ নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অধিকতর তৎপর র‌্যাব-পুলিশের সদস্যদের। স্পটে স্পটে কাজ করছে থাকবে গোয়েন্দা ওয়াচম্যান, ডিবির ভিডিও ও স্টিল ক্যামেরাম্যানরা।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, জামায়াত-শিবিরের প্রধান টার্গেট পুলিশ। তবে নিজ দলের নেতাদের বাঁচাতে তারা যে কোন ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে। শাহবাগে হামলার আশঙ্কাকে আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি না। তাই সেখানে নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুরো রাজধানীকেই আমরা ওয়াচের মধ্যে রেখেছি। চোরাগোপ্তা হামলার কারণে কখনও কখনও আমরা আগে থেকে হামলার বিষয়ে ধারণা পাচ্ছি না। তবে হামলার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, জামায়াতের যে কোন নাশকতা মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত। তারা যাতে ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং শাহবাগে আন্দোলনকারীদের কোন ধরনের ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে পুলিশের বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে।
পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি সৈয়দ নূরুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার থেকে শাহবাগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অধিকতর জোরদার করেছি। বাড়তি ফোর্স নিয়োজিত করেছি। শাহবাগ কেন্দ্রিক পর্যাপ্ত ফোর্স রিজার্ভ রাখা হয়েছে। সেখানে বসানো হয়েছে কন্ট্রোল রুম। টহল বাড়ানো হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে ৩২টি সিসি ক্যামেরা। প্রবেশপথগুলোতে দেয়া হয়েছে আর্চওয়ে। বড় বড় ভবনগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে ওয়াচ টাওয়ার হিসেবে। শাহবাগ ও ট্রাইব্যুনাল এলাকায় ডিবি ও সোয়াতকে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় লেখা স্টিকার থাকছে না

নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় লেখা স্টিকার থাকছে না


জামায়াত-শিবিরের সম্ভাব্য আক্রমণ বা তাণ্ডব থেকে নিরাপদ থাকতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিয়েছে সচিবালয়ের বাইরে অবস্থিত সরকারের কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। তাদের চিঠি পেয়ে নিরাপত্তা দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা। ওদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের গাড়িতে সচিবালয়ের ‘যানবাহন প্রবেশপত্র’ রাখলেও ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়’ লেখা স্টিকার খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজকালের মধ্যে তারা গাড়িতে থাকা ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়’ লেখা স্টিকার খুলে ফেলবেন। এছাড়া অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এ বিষয়ে সতর্ক করে চিঠি দিতে যাচ্ছেন তারা। সচিবালয়ে প্রবেশ করা গাড়িগুলো মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে। সচিবালয়ে প্রবেশকারী গাড়ি নিচে কোন বিস্ফোরক নিয়ে প্রবেশ করছে কিনা তা কম্পিউটারের মাধ্যমে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী অফিস করেন এমন দিনে বা অন্যান্য দিনেও থাকছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ নিজেদের নিরাপত্তা দুর্বলতার কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে গত বৃহস্পতিবার পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় দেশের জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বর্তমানে এর অফিসটি ইস্কাটনের প্রবাসী কল্যাণ ভবনে অবস্থিত। সরকারি পর্যায়ে মালয়েশিয়াতে জনশক্তি পাঠানোর জন্য তৈরী কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের কার্যক্রম এ ভবন থেকেই পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণসহ জনশক্তি বিষয়ক নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যাদি এ ভবন থেকে করা হচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররাফ হোসেন প্রবাসী কল্যাণ ভবনে অফিস করে সব কাজ দেখভাল করছেন। তিনি সরকারের একজন সিনিয়র মন্ত্রীও বটে। এমন অবস্থায় প্রবাসী কল্যাণ ভবন অনেকটা অরক্ষিত। অন্য আর দুই মন্ত্রণালয়ও সচিবালয়ের বাইরে থাকায় তাদের নিরাপত্তা দুর্বলতার কথা তুলে ধরেছে। তারা বলেছেন, সহসাই এসব ভবনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যেসব অধ্যাদেশ অবৈধ হয়ে গেছে ওই সব অধ্যাদেশ পুনরায় আইনে পরিণত করার বিষয়ে বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সি কিউ কে মুসতাক আহমেদের সভাপতিত্বে আইন সংশোধন সংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্টিকার তুলে ফেলা সংক্রান্ত বিষয়টি তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা শাখার এক সিনিয়র কর্মকর্তা। তিনি বলেন, জামায়াত শিবিরের আক্রমণের প্রধান টার্গেট পুলিশ এবং সরকারি গাড়ি। এরই মধ্যে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর এবং কয়েকজন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। এ কারণে এখনই দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। এরপরই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোন গাড়িতে মন্ত্রণালয়ের নাম লেখা সংবলিত স্টিকার রাখা যাবে না। যেসব গাড়িতে ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়’ লেখা স্টিকার রয়েছে তা তুলে ফেলতে হবে। একই সভায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কোথাও আক্রান্ত হলে প্রাথমিক পর্যায়ে পরিচয় গোপন রাখার জন্য বলা হয়েছে। ওদিকে সতর্ক বার্তা যাচ্ছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে। এ সপ্তাহেই সতর্ক বার্তাটি পাঠাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাই জামায়াত শিবিরের তাণ্ডব থেকে সরকারি গাড়ি রক্ষা করতে অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের গাড়িও একই নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চিঠি তৈরির প্রক্রিয়া করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা (কেপিআই) বিবেচনায় সচিবালয়ের নিরাপত্তায় আমূল পরিবর্তন এনেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ম্যানুয়াল নিরাপত্তার বদলে অটোমেটিক (স্বয়ংক্রিয়) হয়েছে। সচিবালয়ের নিরাপত্তা সরঞ্জামের তালিকায় যোগ হয়েছে আন্ডার ভেহিক্যাল সার্ভিলেন্স সিস্টেম, এক্সপ্লোসিভ ডিটেক্টরসহ অনেক আধুনিক মানের যন্ত্রপাতি। গাড়ির মধ্যে কোন আগ্নেয়ান্ত্র বা বোমা থাকলে এসব যন্ত্রপাতি দিয়ে তা সহজেই ধরা যাবে। গাড়ি ছাড়া যেসব দর্শনার্থী সচিবালয়ে প্রবেশ করছেন তাদের ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিসপত্র অটোমেটিক সিস্টেমে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এজন্য বিপুল সংখ্যক ব্যাগ স্ক্যানার, আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর ও এক্সপ্লোসিভ ডিটেক্টর কেনা হয়েছে। এখন নতুন পথে দর্শনার্থী প্রবেশসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রবেশ করছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবেশে ঝামেলা পোহাতে হলেও নিরাপত্তা নিয়ে কোন ছাড় দিচ্ছে না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সিলেটে জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৭, আজ হরতাল


সিলেটে জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৭, আজ হরতাল

 


পুলিশ ও শিবিরের ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে শনিবার নগরীর মীরবক্সটুলা, নয়া সড়ক ও চৌহাট্টা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ১১ জন পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে ৭ জন গুলিবিদ্ধ। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে শিবিরকর্মী আলী আজকর রাহাতের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দুপুরে তাকে এয়ার কপ্টার যোগে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শতাধিক গুলি, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। এ সময় উত্তেজিত শিবিরকর্মীরা ৫টি যানবাহন ভাঙচুর ছাড়াও দোকানপাটে হামলা চালায়। ঘটনার পর পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৫ জনকে আটক করেছে। ঘটনার প্রতিবাদে আজ সিলেট জেলায় সকাল ৬টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত হরতাল ডেকেছে ছাত্রশিবির। কক্সবাজারে পুলিশ ও জামায়াত সংঘর্ষের পর থেকে সিলেটের ছাত্রশিবিরের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সকাল থেকে শিবিরকর্মীরা নগরীর কয়েকটি এলাকায় মিছিল বের করার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতে নগরীর শিবির অধ্যুষিত এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়। বেলা পৌনে ১১টায় ছাত্রশিবিরের কয়েক শ’ সদস্য নগরীর মীরবক্সটুলা, মানিকপীর রোড, কাজিটুলা এলাকা থেকে একযোগে মিছিল বের করে। এ সময় নয়াসড়ক এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ছিল। মিছিল বের করার পরপরই পুলিশ সদস্য ভাগ হয়ে তিনটি মিছিলে বাধা দেয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিবিরকর্মীরা মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। মীরবক্সটুলা থেকে বের হওয়া শিবিরের মিছিলটি চৌহাট্টা অভিমুখে আসে। একদল পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে পুলিশকে লক্ষ্য করে তারা ইটপাটকেল ছোড়ে। লাঠিসোটা হাতে থাকা শিবিরকর্মীরা চৌহাট্টা এলাকায় পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় শিবির কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে পুলিশের ধাওয়ায় শিবিরকর্মীরা মীরবক্সটুলা এলাকায় যায়। এ সময় তারা ফের পুলিশের মুখোমুখি হলে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন শিবিরকর্মী আহত হয়। ওদিকে, মানিকপীর রোড থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি নগরীর নয়াসড়ক এলাকায় পৌঁছলে তারা পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। ওখানে সংঘর্ষকালে শিবিরকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপ করে। কাজিটুলা থেকে বের হওয়া মিছিলের সঙ্গে নয়াসড়ক এলাকায় পুলিশের সংঘর্ষ হয়। তবে প্রায় আধাঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে সিলেট নগরীর মীরবক্সটুলার উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায়। শতাধিক শিবিরকর্মী পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ সময় তারা পুলিশকে ইটপাটকেল ও ককটেল ছুড়লে পুলিশের ট্রাফিক এসি রাজীব ও কোতোয়ালি থানার ওসি আতাউর রহমানসহ ১১ জন পুলিশ সদস্য আহত। পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার আগ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ টিয়ারশেল, লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছিল। আর পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার পরপরই পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়তে শুরু করে। এ সময় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে ছাত্রশিবির কর্মী আলী আজকর রাহাতসহ ৭ জন। দুপুর ১২টার দিকে সংঘর্ষ করতে করতে শিবিরকর্মীরা নয়াসড়ক এলাকা থেকে কাজিটুলা, মানিকপুর রোড ও জেল রোড দিয়ে চলে যায়। জামায়াতের সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ ৭ শিবিরকর্মীকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজসহ বেশ কয়েকটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে কয়েকজনের অস্ত্রোপচার হয়েছে। এছাড়া অন্য আহতদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। গুরুতর আহত শিবিরকর্মী রাহাতকে প্রথমে উইমেন্সে এবং পরে ইবনে সিনার নেয়া হয়। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওখানে অস্ত্রোপচার করা হলেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। বিকালে এয়ার কপ্টার যোগে তাকে ঢাকায় নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। রাহাত সিলেট মদনমোহন শিবিরের নেতা। সে মহানগর শিবিরের সহকারী ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক। তার বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় বলে জানা গেছে। সংঘর্ষকালে শিবিরকর্মীরা নগরীর চৌহাট্টা, হাওয়াপাড়া গলির মুখ, মীরবক্সটুলা নয়া সড়ক এলাকায় ৫টি যানবাহন ভাঙচুর চালায়। এক পর্যায়ে রাস্তার পাশে থাকা দোকানপাটেও হামলা চালানো হয়। এতে তটস্থ এলাকার মানুষ দোকানপাট বন্ধ করে দেন। সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজসহ তিনটি ক্লিনিকের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয়া হয়। এদিকে, সংঘর্ষের সময় আহত হন পুলিশের এসি ট্রাফিক রাজীব ও কোতোয়ালি পুলিশের ওসি আতাউর রহমানসহ ১১ জন। এর মধ্যে এসি রাজীবসহ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার ওসি আতাউর রহমান জানিয়েছেন, শিবিরকর্মীরা হাতে লাঠিসোটা নিয়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাধা দিলে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি জানান, এ ঘটনায় পুলিশ প্রায় ২৫ জনের মতো আটক করেছে। এর মধ্যে যারা শিবির কর্মী তাদের চিহ্নিত করে অন্যদের ছেড়ে দেয়া হবে। সিলেট পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিকালে মানবজমিনকে জানান, পুলিশ সংঘর্ষকালে শতাধিক রাউন্ড টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ছুড়েছে। আর যাদের আটক করা হয়েছে তাদের ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবদুল্লাহ আজাদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে পুলিশ নয়াসড়ক, চৌহাট্টা ও কাজিটুলা এলাকায় অভিয়ান অব্যাহত রেখেছে। এদিকে, নয়াসড়ক এলাকায় সংঘর্ষকালে শিবিরকর্মীরা নগরীর সুবিদ বাজার এলাকায় মিছিল করেছে। তবে পুলিশ আসার আগেই তারা মিছিল শেষ করে চলে যায়। ওই মিছিলটি রাজারগলি এলাকা থেকে বের হয়েছিল বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। একই সময়ে সিলেট এমসি কলেজের সামনে থেকে শিবিরকর্মীরা অপর আরেকটি মিছিল বের করার চেষ্টা চালায়। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষকালে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় ওই এলাকায় যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে। এদিকে, পুলিশের গুলিতে শিবিরকর্মী রাহাত গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার খবর দক্ষিণ সুরমায় পৌঁছা মাত্র ওখানে শিবিরকর্মীরা বিক্ষোভ করার চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যাওয়ার আগেই বিক্ষোভকারীরা চলে যায়।

Tuesday, January 29, 2013

‘শিবির দেখলেই গুলি’

‘শিবির দেখলেই গুলি’


ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শিবির কর্মীদের দেখা মাত্র পুলিশকে গুলির নির্দেশ দিয়েছেন। আইজিপির সামনেই তিনি এ নির্দেশ দেন। গতকাল দুপুরে শিবিরের হামলায় আহত পুলিশ সদস্যদের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে দেখতে যান পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার। তার সঙ্গে ছিলেন ডিএমপির কমিশনার বেনজির আহমেদ। তিনি হাসপাতালের তিন নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন কনস্টেবল মোকলেছুর রহমানের খোঁজখবর নেয়ার সময় তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘অস্ত্র ছিল না, গুলি করতে পারোনি? এখন থেকে শিবির দেখামাত্র গুলি করবা।’
এরপর চার নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন পায়ে আঘাত পাওয়া কনস্টেবল জিয়াউরকে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পায়ের আঘাত সুস্থ হয়ে উঠে ওদের পা ভেঙে দিবা। উল্লেখ্য, গতকাল সকালে থেকে রাজধানীর দৈনিক বাংলা, মতিঝিল, স্টেডিয়াম এলাকা, জিরো পয়েন্ট ও সচিবালয় এলাকায় শিবিরকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।
এতে মতিঝিল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হায়াতুজ্জামান, পেট্রোল ইন্সপেক্টর সানোয়ার, অপারেশন অফিসার সাজ্জাদ হোসেন, সার্জেন্ট গোলাম সারোয়ারসহ ১৮ পুলিশ সদস্য আহত হন। তাদের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে গিয়ে পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, পুলিশের পর্যাপ্ত প্রস্তুতির কারণে শিবিরকর্মীরা তাদের বেশি ক্ষতি করতে পারেনি। হামলা চালিয়ে যে নাশকতা চালানো হয়েছে, তা ফৌজদারি অপরাধ। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ সময় কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক আবু মুসা মোহম্মাদ ফকরুল ইসলাম, ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন, রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

Monday, January 21, 2013

আবুল কালাম আযাদের ফাঁসির আদেশ

আবুল কালাম আযাদের ফাঁসির আদেশ


স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মাওলানা আবুল কালাম আযাদের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে সাতটি প্রমাণিত হওয়ায় এ আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। মাওলানা আযাদ বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

সোমবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার রায় পাঠ শুরু হয়। ১১২ পৃষ্ঠার ৩৩টি অনুচ্ছেদে বিভক্ত রায়টির সারসংক্ষেপ পাঠ করেন ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহিন।

স্বাধীনতার ৪১ বছর পর কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার এই প্রথম রায় ঘোষণা হলো।

সোমবার সকাল পৌনে ১১টায় কোর্ট বসে। ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীন আদালত শুরুর আগেই সবার সহযোগিতা কামনা করেন। জনাকীর্ণ আদালতকক্ষে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান রায় পাঠ করেন। তার সঙ্গে ছিলেন অপর দুই সদস্য। ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থান সংকুলান না হওয়ায় আজকের আদালত বসে ট্রাইব্যুনাল-১ এ।

২৬ ডিসেম্বর এ মামলায় উভয়পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়। মামলায় আইনি পয়েন্টে যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী। এরপর আসামিরপক্ষের আইনজীবী আবদুশ শুকুর খান তার যুক্তি উপস্থাপন শেষ করলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলার রায় যেকোনো দিন দেয়া হবে মর্মে বিএভি’তে রেখে দেন।

মাওলানা আযাদের পরিচয়: নাম মাওলানা আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু, পিতার নাম মৃত আবদুস সালাম মিয়া, মায়ের নাম মৃত মাগফুরা খাতুন।
স্থায় ঠিকানা: বড়খাড়দিয়া (ছয়আনি), থানা সালথা, জেলা ফরিদপুর। বর্তমান ঠিকানা: আযাদ ভিলা ২৭৯/৬ চানপাড়া, উত্তরখান, ঢাকা।

১৯৪৭ সালের ৫ মার্চ ফরিদপুরের বড়খাড়দিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবুল কালাম আযাদ। তিনি ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজে লেখাপড়া করেছেন।

গত বছরের ৩ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর থেকে তিনি পলাতক।

তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো: আযাদের বিরুদ্ধে ছয় ধরনের আটটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে রাজাকার বাহিনী গঠনের আগ পর্যন্ত আযাদ পাকিস্তানি সেনাদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেন।

পাকিস্তানি হানাদারদের সঙ্গে মিলে আযাদ স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় ও স্বাধীনতাপক্ষের বাঙালি জনগোষ্ঠীর ওপর নৃশংস নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তার বিরুদ্ধে আনা আট অভিযোগের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও অষ্টম অভিযোগে মুক্তিযুদ্ধকালে অপহরণ, আটকে রাখা ও নির্যাতনের কথা বলা হয়েছে। তৃতীয়, চতুর্থ ও ষষ্ঠ অভিযোগ হত্যার, পঞ্চমটি ধর্ষণ আর সপ্তম অভিযোগ হলো গণহত্যার।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে সকাল ১০টার দিকে আযাদ ও তার সহযোগীরা ফরিদপুর শহরের খাবাশপুরের রণজিৎনাথ ওরফে বাবুনাথকে ধরে নির্যাতন করা হয়।
তবে গভীর রাতে রণজিৎ জানালা ভেঙে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগ, ১৯৭১ সালের ২৬ জুলাই সকাল ১১টার দিকে আলফাডাঙ্গা থেকে ধরে আনা আবু ইউসুফকে ফরিদপুর স্টেডিয়ামে আটকে রেখে আযাদ অমানবিক নির্যাতন করেন।

অষ্টম অভিযোগ, ১৯৭১ সালের ১৮ মে সকাল ১০টার দিকে আযাদ সাত-আটজন রাজাকার সদস্যকে নিয়ে সালথা থানার উজিরপুর বাজারপাড়া গ্রাম থেকে হিন্দু এক তরুণীকে অপহরণ করে খাড়দিয়া গ্রামের চান কাজীর বাড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করেন। সাত-আট দিন পর মুক্তি পান ওই তরুণী।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ১৪ মে আযাদ ১০-১২ জন রাজাকার সদস্যসহ বোয়ালমারী থানার কলারন গ্রামের সুধাংশু মোহন রায়কে গুলি করে হত্যা করেন। এ সময় সুধাংশুর বড় ছেলে মনিময় রায় গুলিতে গুরুতর আহত হন।

চতুর্থ অভিযোগ হচ্ছে, ১৬ মে বেলা ৩টার দিকে আযাদ ১০-১২ জন রাজাকার সদস্যকে নিয়ে সালথা থানার (সাবেক নগরকান্দা) পুরুরা নমপাড়া গ্রামে যান এবং মাধবচন্দ্র বিশ্বাসকে গুলি করে হত্যা করেন।

৩ জুন আযাদের নেতৃত্বে ১০-১২ জন রাজাকার সদস্য সালথার ফুলবাড়িয়া গ্রামে হিন্দুপাড়ায় লুটপাট চালায়। সেখানে তারা চিত্তরঞ্জন দাসকে গুলি করে হত্যা করে বলে ষষ্ঠ অভিযোগে বলা হয়।

পঞ্চম অভিযোগ হচ্ছে, একাত্তরের ৮ জুন দুপুর ১২টার দিকে আযাদ রাজাকার সদস্যদের নিয়ে বোয়ালমারী থানার নতিবদিয়া গ্রামের এক হিন্দু বাড়িতে হামলা চালান। আযাদ ও তার সহযোগীরা ওই বাড়ির দুই নারীকে ধর্ষণ করেন।

সপ্তম অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের ১৭ মে রাজাকার বাহিনীর ৩০-৩৫ সদস্যকে নিয়ে আযাদ বোয়ালমারী থানার হাসামদিয়া গ্রামের হিন্দুপাড়ায় লুটপাট চালান এবং ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন।

পরে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে শরৎচন্দ্র পোদ্দার, সুরেশ পোদ্দার, শ্যামাপদ পোদ্দার, যতীন্দ্র মোহন সাহা, নীল রতন সমাদ্দার, সুবল কয়াল ও মল্লিক চক্রবর্তীকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।

এ মামলায় আযাদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ২২ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এসব সাক্ষীকে রাষ্ট্র নিয়োগ দেয়া আইনজীবী আবদুশ শুকুর খান জেরা করেছেন।

আসামিপক্ষে কোনো সাক্ষী না থাকায় এ মামলার কার্যক্রম অতিদ্রুত শেষ হয়েছে।

গত বছরের ২২ মার্চ চিফ প্রসিকিউটরের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারের আবেদন করা হয়। এর প্রেক্ষিতে ৩ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে তখন থেকে তিনি পলাতক।

গত ৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল আবুল কালাম আযাদের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরুর আদেশ দিয়ে তার পক্ষে আইনি লড়াই করতে সরকারের খরচে মো. আবদুশ শুকুর খানকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

এরপর তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কয়েকদফা শুনানি শেষে গত বছরের ৪ নভেম্বর আযাদের বিরুদ্ধে আটটি সুনির্দিষ্ট ঘটনায় অভিযোগ গঠন করা হয়। এর আগে প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে ১০টি ঘটনায় ২২টি অভিযোগের ভিত্তিতে মোট ৪৪৮ পৃষ্ঠার অভিযোগ দাখিল করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু বলেন, “আমারা গভীর প্রত্যাশা নিয়ে অধীর আগ্রহ ভরে বসেছিলাম। আমাদের প্রত্যয়দীপ্ত বিশ্বাস আগামীকাল মাওলানা আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত রায় ঘোষণা করা হবে।”

এ বিষয়ে মামলার দায়িত্বেরত প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান বলে, “মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কুখ্যাত রাজাকার মাওলানা আবুল কালাম আযাদের রায় ঘোষণা করা হবে।”

২২ ডিসেম্বর থেকে আবুল কালাম আযাদের মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। উভয়পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলে এ মামলার রায়ের জন্য নির্দিষ্ট দিন ধার্য না করে সিএভিতে রেখে দেন।

৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল আবুল কালাম আযাদের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরুর আদেশ দিয়ে তার পক্ষে আইনি লড়াই করতে সরকারের খরচে মো. আবদুশ শুকুর খানকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেয়।

গত ১১ অক্টোবর এ মামলার নথিপত্র (ডকুমেন্ট) ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে বুঝে নেন। ৯ সেপ্টেম্বর বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ২৬ জুলাই তদন্ত সংস্থা বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে তদন্তকাজ শেষ করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেয়। এর আগে গত ৩ এপ্রিল বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর থেকে তিনি পলাতক। পরে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ডেইলি স্টার ও জনকণ্ঠ পত্রিকায় তাকে আদালতে হাজির হওয়ার হুলিয়া জারি করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন ট্রাইব্যুনাল।

Saturday, January 5, 2013

জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ১০

জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ১০

মনিরামপুরে জামায়াত-শিবির ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের এএসআই শরিফুল ইসলাম ও দুই কনস্টেবলসহ ১০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ দুই শিবিরকর্মীকে আটক করলে শিবিরকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের ছিনিয়ে নিয়েছে। মনিরামপুর থানার ওসি আলী আযম জানান, গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা সদরের গাংড়া মোড় পেট্রল পাম্পের কাছে জামায়াত শিবিরের কর্মীরা বিভিন্ন স্থান থেকে বেশ কয়েকটি নসিমনযোগে এসে মিছিল করার জন্য জড়ো হয়। এ সময় তারা যান চলাচলে বাধার সৃষ্টি ও ভাঙচুরের চেষ্টা চালালে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। জবাবে জামায়াত-শিবির কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুই শিবিরকর্মীকে আটক করলে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে পুলিশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে শিবিরকর্মীরা কয়েকটি ককটেল ফাটিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ইসমাইল ও ফারুক হোসেন নামে দুই জামায়াতকর্মীকে আটক করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত এএসআই শরিফুল বাদী হয়ে পুলিশের উপর হামলাকারী জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

Tuesday, January 1, 2013

গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ

গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ


আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। বছর শেষ হয়ে গেলেও এই ইস্যুতে বাংলাদেশ গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। এরই মধ্যে বিরোধী দল হরতাল পালন করেছে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে সৃষ্টি হয়েছে দাঙ্গা। দাবি করা হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বিচার শেষ করতে। লন্ডন থেকে প্রকাশিত অনলাইন টেলিগ্রাফে ‘সাউথ এশিয়া: প্রিভিউ অব ২০১৩’ শীর্ষক রিপোর্টে এসব কথা বলা হয়। এতে বিগত বছরের তুলনায় নতুন বছরে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও নেপাল কেমন যাবে তার একটি পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রাজনীতির পাকে একরকম আটকা পড়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। তিনি আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রচারণায় নামতে পারছেন না প্রেসিডেন্ট থাকার কারণে। আবার প্রেসিডেন্টের পদ ত্যাগ করলে তার বিরুদ্ধে যে সাধারণ ক্ষমা দেয়া হয়েছে তা-ও উঠে যাবে। ফলে নিজেকে রক্ষা করতে ও দলকে বাঁচাতে তিনি ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিকে সামনে নিয়ে এসেছেন। ওদিকে ভারতে রাজনীতির হাল ধরতে খুব ধীর মস্তিষ্কে গান্ধী পরিবারের উত্তরসূরি রাহুল গান্ধীকে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। আফগানিস্তান থেকে ২০১৪ সালে ন্যাটো সেনা প্রত্যাহার করলে এ অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আভাস দেয়া হয়েছে। নেপালের নতুন সংবিধান নিয়েও এতে আলোকপাত করা হয়েছে। ডিন নেলসন লিখেছেন, এপ্রিলে পাকিস্তানে নির্বাচন হতে পারে। তাই ভুট্টো পরিবারকে পাকিস্তানের রাজনীতিতে টিকিয়ে রাখতে বিলাওয়ালকে ব্যবহার করছেন প্রেসিডেন্ট জারদারি। তবে রাজনীতিতে মিশতে হলে তাকে উর্দু রপ্ত করতে হবে ভালভাবে। এজন্য তিনি বাসায় বসে উর্দুর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ওদিকে তার দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) প্রথমবার পাকিস্তানের ইতিহাসে ক্ষমতার পূর্ণ মেয়াদ পূরণ করতে যাচ্ছে। এ সময়ে প্রেসিডেন্ট জারদারি পড়েছেন উভয় সঙ্কটে। ওদিকে ন্যাটো ২০১৪ সালে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। এতে এ অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওই সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে আফগানিস্তান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। ওদিকে আগামী বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালে আফগানিস্তানে নির্বাচন। এর আগে প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই তার শেষ দফা ক্ষমতার মেয়াদ শেষ করছেন। এর ফলে সেখানে চলমান যুদ্ধ ও নির্বাচনে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তাদের বাসনা নতুন এ বছরেই প্রকাশ করতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত নির্বাচনের সামনের সারিতে আছেন হামিদ কারজাইয়ের ভাই কাইয়ুম কারজাই ও তার সাবেক চিফ অব স্টাফ ওমর দাউদজাই। ভারত সম্পর্কে ওই রিপোর্টে বলা হয়, নতুন বছরে ভারত নির্বাচনী ভাবধারায় প্রবেশ করছে। কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, দিল্লি, রাজস্থান ও কয়েকটি ছোট ছোট রাজ্যের ও সাধারণ নির্বাচন এই বসন্তেই হওয়ার কথা। সেখানে কংগ্রেসের নেতৃত্ব দেবেন রাহুল গান্ধী। গত বছর এই দল লোকসভায় অনাস্থা ভোটে টিকে গেছে। তারা এখন দরিদ্রবান্ধব হয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছে বিভিন্ন ভাবে। এই বসন্তে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য ভারত সফরে আসার কথা বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের। এ বছর ভারতে বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বছর বিদেশী বিনিয়োগ অনুৎসাহিত করতে রাজনীতি অনেকটা বিকলাঙ্গ হয়ে পড়েছিল। এ বছরেই ভারত সরকার মঙ্গলগ্রহে অভিযান চালাতে চায়। মে মাসে নেপালে নির্বাচন হওয়ার কথা। সেখানে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নে গত বছর ব্যর্থ হয়েছেন সেখানকার রাজনীতিকরা। বিভিন্ন অঞ্চলকে স্বায়ত্তশাসন দেয়া হবে কিনা তা নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের বরফ অনেকাংশেই কেটে যাবে নতুন বছরে এমনটা আশা করা হচ্ছে।


Monday, December 31, 2012

অস্তিত্বের লড়াইয়ে জামায়াতের বছর পার

অস্তিত্বের লড়াইয়ে জামায়াতের বছর পার


রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করেই বছর পার করেছে জামায়াতে ইসলামী। এক বছরের বেশি সময় ধরে তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় বন্ধ। দফায় দফায় শত শত নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার। প্রকাশ্য সভাসমাবেশের ওপর অলিখিত নিষেধাজ্ঞাসহ নানা প্রতিকূলতায় এ বছর তীব্র অস্তিত্বের সঙ্কটে পড়ে ধর্মভিত্তিক দলটি। শুধু তাই নয়- বিভিন্ন সময় চোরগোপ্তা হামলা, ঝটিকা মিছিল সমাবেশে করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকির মুখেও পড়ে বেশ ক’বার। যুদ্ধাপরাধসহ বিভিন্ন ঘটনায় দলের প্রায় ডজন খানেক শীর্ষ নেতা আটক। ভারপ্রাপ্ত আমীরসহ প্রথম ও দ্বিতীয় সারির প্রায় সব নেতা আত্মগোপনে। এ অবস্থায় নেতৃত্ব শূন্যতায় রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যেই বছরজুড়ে ঘুরপাক খায় ১৮ দলীয় জোটের শরিক দলটি। ’৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে ভিন্নমত পোষণ করেছিল জামায়াত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৭ সালে প্রকাশ্য রাজনীতিতে সক্রিয় হয় তারা। তবে এ দীর্ঘ সময়ে ২০১২ সালের মতো এমন কঠিন সঙ্কটের মুখে পড়তে দেখা যায়নি তাদের। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর একের পর এক সঙ্কটের কবলে পড়ে জামায়াত। তবে এবার যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি কোণঠাসা হয়ে পড়ে তারা। দলের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম, নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, প্রভাবশালী নেতা মীর কাসেম আলী মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, এ টি এম আজহারুল ইসলাম, আবদুল কাদের মোল্লা যুদ্ধাপরাধ মামলায় বিচারের মুখোমুখি। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, পুলিশের কাজে বাধা দেয়াসহ অন্য একাধিক মামলায় দলের প্রথম সারির নেতা অধ্যাপক তাসনীম আলম, মিয়া গোলাম পরওয়ার কারাগারে। এ ধরনের মামলায় ফেরার হয়ে আছেন ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ, সদ্য ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুর ইসলাম খান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ঢাকা মহানগর নেতা এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ এমপি, মাওলানা আবদুল হালিম, নুরুল ইসলাম বুলবুলসহ প্রথম ও দ্বিতীয় সারির সব নেতা। কারাগারে আটক আছেন জেলা-উপজেলা পর্যায়ের জামায়াত শিবিরের পাঁচ হাজারের বেশি নেতা-কর্মী। এ পর্যায়ে চলতি ডিসেম্বরের মধ্যেই মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ একাধিক শীর্ষ নেতার মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণার দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়। ওই রায়ের ফলাফল নিয়ে নিয়ে উদ্বেগ-উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে জামায়াত-শিবিরের সর্বস্তরে। শীর্ষ নেতাদের মুক্তি দাবি নিয়ে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ৩রা ডিসেম্বর প্রকাশ্য সমাবেশের ঘোষণা দেয় তারা। কিন্তু পুলিশের বাধায় সমাবেশ পণ্ড হয়ে গেলে পর দিন এককভাবে হরতাল পালন করে জামায়াত। বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে প্রথমবারের মতো হরতাল পালনের পর আবারও চরম ক্র্যাকডাউনের কবলে পড়ে জামায়াত। রাজধানীসহ দেশজুড়ে শুরু হয় জামায়াত-শিবির গ্রেপ্তার অভিযান। অপরদিকে চোরাগুপ্তা হামলা, বিক্ষিপ্ত মিছিল-সমাবেশ করে দলীয় কর্মীদের মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা করে তারা। কিন্তু ২১শে ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কৌশলে একসঙ্গে প্রায় অর্ধশত শিবির নেতাকে গ্রেপ্তার করলে সঙ্কটের বোঝা ভারি হয়ে যায় জামায়াতের। মহানগর শিবিরের প্রথম সারির এসব নেতা গ্রেপ্তারের জামায়াতের চলমান আন্দোলনে চরমভাবে ধাক্কা লাগে। তবে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারে আন্দোলন আরও বেগবান হবে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, সরকার বিরোধী দলের আন্দোলন দমন করার জন্যই ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার পরিবর্তে সরকার জুলুম-নির্যাতন ও নিপীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। ফ্যাসিবাদী কায়দায় বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে অতীতে যেমন কোন সরকার রেহাই পায়নি, তেমনি মহাজোট সরকারও রেহাই পাবে না। জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের চালিকা শক্তি শিবির সমপ্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের ওপর বেশ ক’টি হামলার ঘটনায় ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। এতে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে সরকার সমর্থক রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে ময়দানে সোচ্চার হয়। এক পর্যায়ে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে ১৮ই ডিসেম্বর সরকারের নেপথ্য সহযোগিতায় হরতাল পালন করে সিপিবিসহ বাম রাজনৈতিক দলগুলো। একইভাবে জামায়াতের সমর্থনে ইসলামপন্থি ১২ দল ২০শে ডিসেম্বর বাম দলগুলোর কাউন্টার হরতাল পালন করে। তবে এই দুই বিপরীত রাজনৈতিক ধারার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি জাতীয় রাজনীতিতে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। এরপরও জামায়াতবিরোধী তৎপরতার ধারবাহিকতা অব্যাহত আছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার দ্রুত শেষ করার দাবিতে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল ২২শে ডিসেম্বর রাজধানীতে গণমিছিল করে। যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তারা মাঠে থাকার শপথ নেয়। সব মিলিয়ে চরম বৈরিতার মধ্যে বছর কেটেছে জামায়াতের।