নাশকতা ঠেকাতে রাস্তায় সিসি ক্যামেরা আর্চওয়ে ওয়াচ টাওয়ার
জামায়াত-শিবিরের নাশকতা ঠেকাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। শাহবাগ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ রাজধানীজুড়ে বিস্তার করা হয়েছে নিরাপত্তার জাল। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা, আর্চওয়ে, ওয়াচ টাওয়ার। রায়ট কার ও টিয়ারশেল গান নিয়ে রাস্তায় টহল দিচ্ছে র্যাব-পুলিশ। প্রস্তুত রাখা
হয়েছে এলিট ফোর্স সোয়াত টিম। বসানো হয়েছে অতিরিক্ত কন্ট্রোল রুম। ঢাকা মোট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত নেতাদের বাঁচাতে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা এখন মরিয়া। অব্যাহতভাবে তারা চালিয়ে যাচ্ছে চোরাগোপ্তা হামলা। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে। তারা শাহবাগ স্কয়ারেও হামলা চালাতে পারে বলে আগাম তথ্য পেয়েছি। এ কারণে শাহবাগসহ রাজধানীজুড়ে নতুন ছক অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা।
ডিএমপি হেড কোয়ার্টার সূত্র জানায়, সম্ভাব্য অনাকাঙিক্ষত ঘটনা এড়াতে রাজধানীতে ১০ হাজার পোশাকধারী এবং ১ হাজার রিজার্ভ ফোর্সসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রায় ১৫ হাজার সদস্য কাজ করছে। টহলে রয়েছে র্যাবের প্রায় ২ হাজার সদস্য। দাঙ্গা পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন, ডিবি পুলিশ এবং বোম ডিস্পোজাল টিম রাস্তায় ওয়ার্মআপ করছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে ঘুরে দেখা যায়- নয়া পল্টন, মতিঝিল, কাওরানবাজার, কল্যাণপুর, শ্যামলী, মহাখালী, মিরপুর-১০, ফকিরাপুল, শাহজাহানপুর মোড়, যাত্রাবাড়ী এবং ডেমরাসহ নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অধিকতর তৎপর র্যাব-পুলিশের সদস্যদের। স্পটে স্পটে কাজ করছে থাকবে গোয়েন্দা ওয়াচম্যান, ডিবির ভিডিও ও স্টিল ক্যামেরাম্যানরা।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, জামায়াত-শিবিরের প্রধান টার্গেট পুলিশ। তবে নিজ দলের নেতাদের বাঁচাতে তারা যে কোন ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে। শাহবাগে হামলার আশঙ্কাকে আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি না। তাই সেখানে নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুরো রাজধানীকেই আমরা ওয়াচের মধ্যে রেখেছি। চোরাগোপ্তা হামলার কারণে কখনও কখনও আমরা আগে থেকে হামলার বিষয়ে ধারণা পাচ্ছি না। তবে হামলার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, জামায়াতের যে কোন নাশকতা মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত। তারা যাতে ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং শাহবাগে আন্দোলনকারীদের কোন ধরনের ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে পুলিশের বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে।
পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি সৈয়দ নূরুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার থেকে শাহবাগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অধিকতর জোরদার করেছি। বাড়তি ফোর্স নিয়োজিত করেছি। শাহবাগ কেন্দ্রিক পর্যাপ্ত ফোর্স রিজার্ভ রাখা হয়েছে। সেখানে বসানো হয়েছে কন্ট্রোল রুম। টহল বাড়ানো হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে ৩২টি সিসি ক্যামেরা। প্রবেশপথগুলোতে দেয়া হয়েছে আর্চওয়ে। বড় বড় ভবনগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে ওয়াচ টাওয়ার হিসেবে। শাহবাগ ও ট্রাইব্যুনাল এলাকায় ডিবি ও সোয়াতকে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।
No comments:
Post a Comment